, যিনি খুঁটি ছাড়া আসমানসমূহ উঁচু করেছেন যা তোমরা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে উঠেছেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়োজিত করেছেন। এর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে। তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন। আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেন, যাতে তোমাদের রবের সাক্ষাতের ব্যাপার
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমণ্ডলী স্থাপন করিয়াছেন স্তম্ভ ব্যতীত - তোমরা ইহা দেখিতেছ। অতঃপর তিনি আর্শে সমাসীন হইলেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করিলেন; প্রত্যেকে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত আবর্তন করে। তিনি সকল বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাহাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করিতে পার।
আর তিনিই যমীনকে বিস্তৃত করেছেন এবং তাতে সুদৃঢ় পর্বতমালা ও নদ-নদী স্থাপন করেছেন। আর প্রত্যেক প্রকারের ফল তিনি জোড়া জোড়া করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি রাত দ্বারা দিনকে ঢেকে দেন। নিশ্চয় যে কওম চিন্তাভাবনা করে তাদের জন্য এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনিই ভূতলকে বিস্তৃত করিয়াছেন এবং উহাতে পর্বত ও নদী সৃষ্টি করিয়াছেন এবং প্রত্যেক প্রকারের ফল সৃষ্টি করিয়াছেন জোড়ায় জোড়ায়। তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।
আর যমীনে আছে পরস্পর পাশাপাশি ভূখন্ড, আঙ্গুর-বাগান, শস্যক্ষেত, খেজুর গাছ, যেগুলোর মধ্যে কিছু একই মূল থেকে উদগত আর কিছু ভিন্ন ভিন্ন মূল থেকে উদগত, যেগুলো একই পানি দ্বারা সেচ করা হয়, আর আমি খাওয়ার ক্ষেত্রে একটিকে অপরটির তুলনায় উৎকৃষ্ট করে দেই, এতে নিদর্শন রয়
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পৃথিবীতে রহিয়াছে পরস্পর - সংলগ্ন ভূখণ্ড, উহাতে আছে দ্রাক্ষা কানন, শস্যক্ষেত্র, একাধিক শিরবিশিষ্ট অথবা এক শিরবিশিষ্ট খর্জুর - বৃক্ষ সিঞ্চিত একই পানিতে, এবং ফল হিসাবে উহাদের কতককে কতকের উপর আমি শ্রেষ্ঠত্ব দিয়া থাকি। অবশ্যই বোধশক্তিসম্পন্ন সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে রহিয়াছে নিদর্শন।
আর যদি তুমি আশ্চর্য বোধ কর, তাহলে আশ্চর্যজনক হল তাদের এ বক্তব্য, ‘আমরা যখন মাটি হয়ে যাব, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পরিণত হব’? এরাই তারা, যারা তাদের রবের সাথে করেছে, আর ওদের গলায় থাকবে শিকল এবং ওরা অগ্নিবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যদি তুমি বিস্মিত হও, তবে বিস্ময়ের বিষয় উহাদের কথা - ‘মাটিতে পরিণত হওয়ার পরও কি আমরা নূতন জীবন লাভ করিব?’ উহারাই উহাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে এবং উহাদেরই গলদেশে থাকিবে লৌহশৃঙ্খল। উহারাই দোযখবাসী ও সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে।
আর তারা তোমার কাছে ভালোর পূর্বে মন্দের জন্য তাড়াহুড়া করে, অথচ তাদের পূর্বে অনেক (অনুরূপ লোকদের) শাস্তি গত হয়েছে। আর নিশ্চয় তোমার রব মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল তাদের যুলম সত্ত্বেও এবং নিশ্চয় তোমার রব কঠিন শাস্তিদাতা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মঙ্গলের পূর্বে উহারা তোমাকে শাস্তি ত্বরান্বিত করিতে বলে, যদিও উহাদের পূর্বে ইহার বহু দৃষ্টান্ত গত হইয়াছে। মানুষের সীমালংঘন সত্ত্বেও তোমার প্রতিপালক তো মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল এবং তোমার প্রতিপালক শাস্তিদানে তো কঠোর।
আর যারা করেছে, তারা বলে, ‘তার উপর তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন নাযিল হয় না কেন’? তুমি তো কেবল সতর্ককারী, আর প্রত্যেক কওমের জন্য রয়েছে হিদায়াতকারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা করিয়াছে তাহারা বলে, ‘তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহার নিকট কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ তুমি তো কেবল সতর্ককারী এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আছে পথপ্রদর্শক।
له معقبات من بين يديه ومن خلفه يحفظونه من أمر الله ۗ إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم ۗ وإذا أراد الله بقوم سوءا فلا مرد له ۚ وما لهم من دونه من وال
মানুষের জন্য রয়েছে, সামনে ও পেছনে, একের পর এক আগমনকারী প্রহরী, যারা আল্লাহর নির্দেশে তাকে হেফাযত করে। নিশ্চয় কোন কওমের অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আর যখন কোন জাতির মন্দ চান, তখন তা প্রতিহত করা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মানুষের জন্য তাহার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে; উহারা র আদেশে তাহার রক্ষণাবেক্ষণ করে। এবং কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না উহারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে। কোন সম্প্রদায় সম্পর্কে যদি অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তবে তাহা রদ হইবার নহে এবং তিনি ব্যতীত উহাদের কোন অভিভাবক নাই।
আর বজ্র তার সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ করে এবং ফেরেশতারাও তার ভয়ে। আর তিনি গর্জনকারী বজ্র পাঠান। অতঃপর যাকে ইচ্ছা তা দ্বারা আঘাত করেন এবং তারা সম্বন্ধে ঝগড়া করতে থাকে। আর তিনি শক্তিতে প্রবল, শাস্তিতে কঠোর।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বজ্রধ্বনি তাঁহার সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে, ফিরিশ্তাগণও করে তাহার ভয়ে। তিনি বজ্রপাত করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা উহা দ্বারা আঘাত করেন। আর উহারা সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে, অথচ তিনি মহাশক্তিশালী।
সত্যের আহবান তাঁরই, আর যারা তাকে ছাড়া অন্যদেরকে ডাকে, তারা তাদের ডাকে সামান্যও সাড়া দিতে পারে না, বরং (তাদের দৃষ্টান্ত) ঐ ব্যক্তির মত, যে পানির দিকে তার দু’হাত বাড়িয়ে দেয় যেন তা তার মুখে পৌঁছে অথচ তা তার কাছে পৌঁছবার নয়। আর কাফেরদের ডাক তো শুধু ভ্রষ্টতায়
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সত্যের আহ্বান তাঁহারই। যাহারা তাঁহাকে ব্যতীত আহ্বান করে অপরকে, তাহাদেরকে কোনই সাড়া দেয় না উহারা; তাহাদের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির মত, যে তাহার মুখে পানি পৌঁছিবে - এই আশায় তাহার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে পানির দিকে, অথচ উহা তাহার মুখে পৌঁছিবার নয়, কাফিরদের আহ্বান নিষ্ফল।
قل من رب السماوات والأرض قل الله ۚ قل أفاتخذتم من دونه أولياء لا يملكون لأنفسهم نفعا ولا ضرا ۚ قل هل يستوي الأعمى والبصير أم هل تستوي الظلمات والنور ۗ أم جعلوا لله شركاء خلقوا كخلقه فتشابه الخلق عليهم ۚ قل الله خالق كل شيء وهو الواحد القهار
বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনের রব কে’? বল, ‘’। তুমি বল, ‘তোমরা কি তাঁকে ছাড়া এমন কিছুকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছ, যারা তাদের নিজদের কোন উপকার অথবা অপকারের মালিক না’? বল, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? নাকি তা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘কে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক?’ বল, ‘’। বল, ‘তবে কি তোমরা অভিভাবকরূপে গ্রহণ করিয়াছ র পরিবর্তে অপরকে যাহারা নিজেদের লাভ বা ক্ষতি সাধনে সক্ষম নয়?’ বল, ‘অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান অথবা অন্ধকার ও আলো কি এক?’ তবে কী তাহারা র এমন শরীক করিয়াছে, যাহারা র সৃষ্টির মত সৃষ্টি করিয়াছে, যে কারণে সৃষ্টি উহাদের নিকট সদৃশ মনে হইয়াছে? বল, ‘ সকল বস্তুর স্রষ্টা; তিনি এক, পরাক্রমশালী।’
أنزل من السماء ماء فسالت أودية بقدرها فاحتمل السيل زبدا رابيا ۚ ومما يوقدون عليه في النار ابتغاء حلية أو متاع زبد مثله ۚ كذلك يضرب الله الحق والباطل ۚ فأما الزبد فيذهب جفاء ۖ وأما ما ينفع الناس فيمكث في الأرض ۚ كذلك يضرب الله الأمثال
তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন, এতে উপত্যকাগুলো তাদের পরিমাণ অনুসারে প্লাবিত হয়, ফলে প্লাবন উপরস্থিত ফেনা বহন করে নিয়ে যায়। আর অলংকার ও তৈজসপত্র তৈরীর উদ্দেশ্যে তারা আগুনে যা কিছু উত্তপ্ত করে তাতেও অনুরূপ ফেনা হয়। এমনিভাবে হক ও বাতিলের দৃষ্টান্ত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তিনি আকাশ হইতে বৃষ্টিপাত করেন, ফলে উপত্যকাসমূহ উহাদের পরিমাণ অনুযায়ী প্লাবিত হয় এবং প্লাবন তাহার উপরিস্থিত আবর্জনা বহন করে, এইরূপে আবর্জনা উপরিভাগে আসে যখন অলংকার অথবা তৈজসপত্র নির্মাণ উদ্দেশ্যে কিছু অগ্নিতে উত্তপ্ত করা হয়। এইভাবে সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত দিয়া থাকেন। যাহা আবর্জনা তাহা ফেলিয়া দেওয়া হয় এবং যাহা মানুষের উপকারে আসে তাহা জমিতে থাকিয়া যায়। এইভাবে উপমা দিয়ে থাকেন।
যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর যারা তাঁর ডাকে সাড়া দেয়নি, যদি তারা যমীনে যা আছে তার সবকিছু ও এর সমপরিমাণের মালিক হয়ে যায়, তাহলে তারা তা মুক্তিপণস্বরূপ অবশ্যই দিয়ে দিত। তাদের জন্য রয়েছে মন্দ হিসাব এবং তাদের আবাস জাহান্না
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মঙ্গল তাহাদের যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের আহ্বানে সাড়া দেয়। এবং যাহারা তাঁহার ডাকে সাড়া দেয় না, তাহাদের যদি পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা সমস্তই থাকিত এবং তাহার সঙ্গে সমপরিমাণ আরো থাকিত উহারা মুক্তিপণস্বরূপ তাহা দিত। উহাদের হিসাব হইবে কঠোর এবং জাহান্নাম হইবে উহাদের আবাস, উহা কত নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল।
যে ব্যক্তি জানে তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে, তা সত্য, সে কি তার মত, যে অন্ধ? বুদ্ধিমানরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমার প্রতিপালক হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা যে ব্যক্তি সত্য বলিয়া জানে আর যে অন্ধ তাহারা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে শুধু বিবেকশক্তিসম্পন্নগণই,
যারা তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সবর করে, কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিয্ক প্রদান করেছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং ভাল কাজের মাধ্যমে মন্দকে দূর করে, তাদের জন্যই রয়েছে আখিরাতের শুভ পরিণাম।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য ধৈর্য ধারণ করে, কায়েম করে, আমি তাহাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়াছি তাহা হইতে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে এবং যাহারা ভাল দ্বারা মন্দ দূরীভূত করে, ইহাদের জন্য শুভ পরিণাম -
স্থায়ী জান্নাতসমূহ, যাতে তারা এবং তাদের পিতৃপুরুষগণ, তাদের স্ত্রীগণ ও তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ছিল তারা প্রবেশ করবে। আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্থায়ী জান্নাত, উহাতে তাহারা প্রবেশ করিবে এবং তাহাদের পিতা - মাতা, পতি - পত্নী ও সন্তান - সন্ততিদের মধ্যে যাহারা সৎকর্ম করিয়াছে তাহারাও এবং ফিরিশ্তাগণ তাহাদের নিকট উপস্থিত হইবে প্রত্যেক দ্বার দিয়া,
আর যারা আল্লাহর সাথে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং যে সম্পর্ক অটুট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে, তাদের জন্যই লা‘নত আর তাদের জন্যই রয়েছ আখিরাতের মন্দ আবাস।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা র সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হইবার পর উহা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখিতে আদেশ করিয়াছেন, তাহা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করিয়া বেড়ায়, তাহাদের জন্য আছে লা‘নত এবং তাহাদের জন্য আছে মন্দ আবাস।
যার জন্য ইচ্ছা করেন রিযক বাড়িয়ে দেন এবং সঙ্কুচিত করেন। আর তারা দুনিয়ার জীবন নিয়ে উৎফুল্লতায় আছে, অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন খুবই নগণ্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহার জন্য ইচ্ছা তাহার জীবনোপকরণ বর্ধিত করেন এবং সংকুচিত করেন; কিন্তু ইহারা পার্থিব জীবনে উল্লসিত, অথচ দুনিয়ার জীবন তো আখিরাতের তুলনায় ক্ষণস্থায়ী ভোগমাত্র।
আর যারা করেছে, তারা বলে, ‘তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে কোন নিদর্শন কেন নাযিল হয় না’? বল, ‘নিশ্চয় যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয়, তাকে তিনি তাঁর দিকে পথ দেখান’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা কুফ্রী করিয়াছে তাহারা বলে, ‘তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহার নিকট কোন নিদর্শন অবতীর্ণ হয় না কেন?’ বল, ‘ যাহাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং তিনি তাহাদেরকে তাঁহার পথ দেখান যাহারা তাঁহার অভিমুখী,
এমনিভাবে আমি তোমাকে পাঠিয়েছি এমন এক জাতির নিকট, যার পূর্বে অনেক জাতি গত হয়েছে, যেন আমি তোমার প্রতি যে ওহী প্রেরণ করেছি, তা তাদের নিকট তিলাওয়াত কর। অথচ তারা রহমানকে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনি আমার রব, তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে আমি তোমাকে পাঠাইয়াছি এক জাতির প্রতি যাহার পূর্বে বহু জাতি গত হইয়াছে, উহাদের নিকট তিলাওয়াত করিবার জন্য, যাহা আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছি। তথাপি উহারা দয়াময়কে অস্বীকার করে। বল, ‘তিনিই আমার প্রতিপালক; তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ্ নাই। তাঁহারই উপর আমি নির্ভর করি এবং আমার প্রত্যাবর্তন তাঁহারই নিকট।’
ولو أن قرآنا سيرت به الجبال أو قطعت به الأرض أو كلم به الموتى ۗ بل لله الأمر جميعا ۗ أفلم ييأس الذين آمنوا أن لو يشاء الله لهدى الناس جميعا ۗ ولا يزال الذين كفروا تصيبهم بما صنعوا قارعة أو تحل قريبا من دارهم حتى يأتي وعد الله ۚ إن الله لا يخلف الميعاد
আর যদি এমন কোন কুরআন হত, যার দ্বারা পাহাড়সমূহকে চলমান করা যেত অথবা যমীনকে টুকরো-টুকরো করা যেত অথবা তার দ্বারা মৃতকে কথা বলানো যেত (তবে সেটা এই কুরআনই হত, আর তারা ঈমান আনত না)। বরং সব সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। যারা ঈমান এনেছে, তারা কি (ওদের ঈমানের ব্যাপারে) নিরা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যদি কোন কুরআন এমন হইত যদ্দ্বারা পর্বতকে গতিশীল করা যাইত অথবা পৃথিবীকে বিদীর্ণ করা যাইত অথবা মৃতের সঙ্গে কথা বলা যাইত, তবুও উহারা উহাতে বিশ্বাস করিত না। কিন্তু সমস্ত বিষয়ই র ইখ্তিয়ারভুক্ত। তবে কি যাহারা ঈমান আনিয়াছে তাহাদের প্রত্যয় হয় নাই যে, ইচ্ছা করিলে নিশ্চয়ই সকলকে সৎপথে পরিচালিত করিতে পারিতেন? যাহারা করিয়াছে তাহাদের কর্মফলের জন্য তাহাদের বিপর্যয় ঘটিতেই থাকিবে, অথবা বিপর্যয় তাহাদের আশেপাশে আপতিত হইতেই থাকিবে যতক্ষণ পর্যন্ত না র প্রতিশ্রুতি আসিয়া পড়িবে। নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতির ব্যাতিক্রম করেন না।
আর অবশ্যই তোমার পূর্বে রাসূলদের নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা করেছে, আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়েছি, তারপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব, কেমন ছিল আমার আযাব!
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমার পূর্বেও অনেক রাসূলকে ঠাট্টা - বিদ্রূপ করা হইয়াছে এবং যাহারা করিয়াছে তাহাদেরকে আমি কিছু অবকাশ দিয়াছিলাম, তাহার পর উহাদেরকে শাস্তি দিয়াছিলাম। কেমন ছিল আমার শাস্তি!
أفمن هو قائم على كل نفس بما كسبت ۗ وجعلوا لله شركاء قل سموهم ۚ أم تنبئونه بما لا يعلم في الأرض أم بظاهر من القول ۗ بل زين للذين كفروا مكرهم وصدوا عن السبيل ۗ ومن يضلل الله فما له من هاد
তবে কি প্রতিটি নাফ্স যা উপার্জন করে যিনি তার দায়িত্বশীল (তিনিই ইবাদাতের অধিক উপযুক্ত, নাকি এই শরীকগুলো?) এতদসত্ত্বেও তারা আল্লাহর সাথে অনেক শরীক সাব্যস্ত করেছে। বল, ‘তোমরা এদের পরিচয় দাও’। নাকি তোমরা তাকে যমীনের এমন কিছু জানাবে যে ব্যাপারে তিনি জানেন না?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তবে কি প্রত্যেক মানুষ যাহা করে তাহার যিনি পর্যবেক্ষক তিনি ইহাদের অক্ষম ইলাহ্গুলির মত? অথচ উহারা র বহু শরীক করিয়াছে। বল, ‘উহাদের পরিচয় দাও।’ তোমরা কি পৃথিবীর মধ্যে এমন কিছুর সংবাদ দিতে চাও - যাহা তিনি জানেন না? অথবা ইহা বাহ্যিক কথা মাত্র? না, কাফিরদের নিকট উহাদের ছলনা শোভন প্রতীয়মান হইয়াছে এবং উহাদেরকে সৎপথ হইতে নিবৃত্ত করা হইয়াছে, আর যাহাকে বিভ্রান্ত করেন তাহার কোন পথপ্রদর্শক নাই।
মুত্তাকীদের যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, সেটির দৃষ্টান্ত এরূপ, তার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। তার খাদ্যসামগ্রী ও তার ছায়া সার্বক্ষণিক। যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, এটি তাদের শুভ পরিণাম আর কাফিরদের পরিণাম আগুন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুত্তাকীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হইয়াছে, তাহার উপমা এইরূপ : উহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, উহার ফলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী। যাহারা ইহা তাহাদের কর্মফল এবং কাফিরদের কর্মফল দোযখ।
আর আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তোমার উপর যা নাযিল হয়, তাতে তারা উৎফুল্ল হয়। আর দলগুলোর মধ্যে কেউ কেউ এর কিছু অংশকে অস্বীকার করে। বল, ‘আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে শরীক না করি। আমি তাঁরই দিকে দাওয়াত দেই এবং তাঁরই নিকট
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি যাহাদেরকে কিতাব দিয়াছি তাহারা যাহা তোমার প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে আনন্দ পায়, কিন্তু কোন কোন দল উহার কতক অংশ অস্বীকার করে। বল, ‘আমি তো র ‘ইবাদত করিতে ও তাঁহার কোন শরীক না করিতে আদিষ্ট হইয়াছি। আমি তাঁহারই প্রতি আহ্বান করি এবং তাঁহারই নিকট আমার প্রত্যাবর্তন।’
আর এভাবেই আমি কুরআনকে বিধানস্বরূপ আরবীতে নাযিল করেছি। তোমার নিকট জ্ঞান পৌঁছার পরও যদি তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ কর, তবে ছাড়া তোমার কোন অভিভাবক ও রক্ষাকারী নেই।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে আমি কুরআন অবতীর্ণ করিয়াছি বিধানরূপে আরবী ভাষায়। জ্ঞান প্রাপ্তির পর তুমি যদি তাহাদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ কর তবে র বিরুদ্ধে তোমার কোন অভিভাবক ও রক্ষক থাকিবে না।
আর অবশ্যই তোমার পূর্বে আমি রাসূলদের প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি। আর কোন রাসূলের জন্য এটা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন নিয়ে আসবে। প্রতিটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য রয়েছে লিপিবদ্ধ বিধান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমার পূর্বে আমি তো অনেক রাসূল প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং তাহাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান - সন্ততি দিয়াছিলাম। র অনুমতি ব্যতীত কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রাসূলের কাজ নয়। প্রত্যেক বিষয়ের নির্ধারিত কাল লিপিবদ্ধ।
আর যে প্রতিশ্রুতি আমি তাদেরকে দিচ্ছি, যদি তার কিছু তোমাকে দেখাই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই (তাতে কিছুই আসে যায় না)। তবে তোমার কর্তব্য কেবল পৌঁছে দেয়া, আর আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়াছি তাহার কিছু যদি তোমাকে দেখাই অথবা যদি ইহার পূর্বে তোমার কাল পূর্ণ করিয়া দেই - তোমার কর্তব্য তো কেবল প্রচার করা এবং হিসাব - নিকাশ তো আমার কাজ।
তারা কি দেখে না, আমি যমীনকে চতুর্দিক থেকে সংকীর্ণ করে আনছি। আর আল্লাহই হুকুম করেন এবং তাঁর হুকুম প্রত্যাখ্যান করার কেউ নেই এবং তিনিই দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা কি দেখে না যে, আমি উহাদের দেশকে চতুর্দিক হইতে সংকুচিত করিয়া আনিতেছি? আদেশ করেন, তাহার আদেশ রদ করিবার কেহ নাই এবং তিনি হিসাব গ্রহণে তৎপর।
আর তাদের পূর্ববর্তীরাও ষড়যন্ত্র করেছিল, অথচ সকল ষড়যন্ত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। প্রতিটি ব্যক্তি যা অর্জন করে, তিনি তা জানেন। আর কাফিররা অচিরেই জানবে আখিরাতের শুভপরিণতি কাদের জন্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের পূর্বে যাহারা ছিল তাহারাও চক্রান্ত করিয়াছিল; কিন্তু সমস্ত চক্রান্ত র ইখতিয়ারে। প্রত্যেক ব্যক্তি যাহা করে তাহা তিনি জানেন এবং কাফিররা শীঘ্রই জানিবে শুভ পরিণাম কাহাদের জন্য।