الزانية والزاني فاجلدوا كل واحد منهما مائة جلدة ۖ ولا تأخذكم بهما رأفة في دين الله إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر ۖ وليشهد عذابهما طائفة من المؤمنين
জিনাকারী নারী এবং জিনাকারী পুরুষ তাদের প্রত্যেককে বেত্রাঘাত করো একশটি করে।১ আল্লাহর আইন বাস্তবায়নে তাদের প্রতি দয়া যেনো তোমাদের প্রভাবিত না করে যদি তোমরা ঈমান রাখো আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি। আর তাদের শাস্তি দেখার জন্যে একদল যেনো উপস্থিত থাকে।
জহুরুল হক
ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী - - তাদের দুজনের প্রত্যেককে একশ’ বেত্রাঘাতে চাবুক মার, আর র বিধান পালনে তাদের প্রতি অনুকম্পা যেন তোমাদের পাকড়াও না করে, যদি তোমরা তে ও আখেরাতের দিনে বিশ্বাস কর, আর মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি দেখতে পায়।
জিনাকারী বিয়ে করেনা কোনো জিনাকারিনী কিংবা মুশরিক নারী ছাড়া। আর কোনো জিনাকারিনীও বিয়ে করেনা কোনো জিনাকারী কিংবা মুশরিক ছাড়া। এটা হারাম করে দেয়া হলো মুমিনদের জন্যে।
জহুরুল হক
ব্যভিচারী সহবাস করতে পারে না ব্যভিচারিণী অথবা বহুখোদাবাদিনী ব্যতীত, আর ব্যভিচারিণী - - তার সঙ্গে সহবাস করতে পারে না ব্যভিচারী অথবা বহুখোদাবাদী ব্যতীত। আর এটি মুমিনদের জন্য নিষিদ্ধ।
যারা সতী সাধ্বী নারীদের প্রতি (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে, তারপর চারজন সাক্ষী হাজির করতে ব্যর্থ হয় তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করো এবং কখনো তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করবেনা। কারণ, তারা ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী)।
জহুরুল হক
আর যারা সতী - সাধ্বী নারীকে অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী পেশ করে না, তাদের আশি বেত্রাঘাতে চাবুক মার, আর তাদের থেকে কখনও সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না, কেননা তারা নিজেরাই তো সীমালংঘনকারী, - -
আর যারা নিজ স্ত্রীর প্রতি অপবাদ আরোপ করবে, অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের আর কোনো সাক্ষী নেই, তাদের একজনের সাক্ষ্যই চার সাক্ষীর সমতুল্য হবে। এভাবে যে, সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলবে, সে অবশ্যি সত্যবাদী।
জহুরুল হক
আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ দেয় এবং তাদের জন্য তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য সাক্ষী থাকে না, তাহলে তাদের একজনই র নামে চারবার সাক্ষ্যদানে সাক্ষীসাবুত খাড়া করবে যে সে নিশ্চয়ই সত্যবাদীদের মধ্যেকার, - -
যারা এই অপবাদ রচনা করেছে২ তারা তো তোমাদেরই একটি গ্রুপ। এ ঘটনাকে তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর মনে করোনা, বরং ওটা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। এ মিথ্যা ঘটনা রটনাকারী প্রত্যেকের জন্যে তাই রয়েছে, যে যা পাপ কামাই করেছে। আর তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি৩ এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে তার জন্যে রয়েছে বিরাট আযাব।
জহুরুল হক
যারা কুৎসা রটনা করেছিল তারা তো তোমাদেরই মধ্যেকার একটি দল। এটিকে তোমাদের জন্য অনিষ্টকর মনে করো না, বরং এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর। তাদের প্রত্যেক লোকের জন্য রয়েছে পাপের যা সে অর্জন করেছে, আর তদের মধ্যের যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল তার জন্য রইছে কঠোর শাস্তি।
তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না হতো, তাহলে তোমরা যে অন্যায়ে লিপ্ত হয়েছিলে তার জন্যে তোমাদের দুনিয়া এবং আখিরাতে স্পর্শ করতো মহাশাস্তি।
জহুরুল হক
আর র অনুগ্রহ ও তাঁর করুণা যদি তোমাদের উপরে না থাকত এই দুনিয়াতে এবং পরকালে, তাহলে এই ব্যাপারে তোমরা যা রটাচ্ছিলে সেজন্য তোমাদের নিশ্চয়ই স্পর্শ করত এক কঠোর শাস্তি।
তোমরা মুখে মুখে তা ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করে যাচ্ছিলে যার কোনো এলেম তোমাদের ছিলনা। তোমরা এটাকে মনে করছিলে সহজ। অথচ এটা ছিলো এক জঘন্য বিষয় আল্লাহর কাছে।
জহুরুল হক
বাঃ! তোমরা তোমাদের জিব দিয়ে এটি গ্রহণ করেছিলে, আর যে ব্যাপারে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই সেই নিয়ে তোমাদের মুখে মুখে তোমরা বলাবলি করছিলে, আর তোমরা একে ভেবেছিলে এক তুচ্ছ ব্যাপার, অথচ র কাছে এ ছিল গুরুতর বিষয়।
যারা মুমিনদের মাঝে ফাহেশার প্রচার প্রসার পছন্দ করে, তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া এবং আখিরাতে। জানেন, তোমরা জানোনা।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ যারা ভালবাসে যে যারা ঈমান এনেছে তাদের মধ্যে অশ্লীলতা প্রসার করুক তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি এই দুনিয়াতে ও আখেরাতে। আর জানেন, আর তোমরা জান না।
۞ يا أيها الذين آمنوا لا تتبعوا خطوات الشيطان ۚ ومن يتبع خطوات الشيطان فإنه يأمر بالفحشاء والمنكر ۚ ولولا فضل الله عليكم ورحمته ما زكى منكم من أحد أبدا ولكن الله يزكي من يشاء ۗ والله سميع عليم
হে লোকেরা! তোমরা ইত্তেবা (অনুসরণ) করোনা শয়তানের পদাংক। যে কেউ ইত্তেবা করবে শয়তানের পদাংকের, সে জেনে রাখুক, শয়তান নিশ্চয়ই নির্দেশ দেয় ফাহেশা এবং গর্হিত কাজের। তোমাদের প্রতি যদি আল্লাহর অনুগ্রহ এবং রহমত না হতো, তাহলে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র থাকতে পারতোনা। আল্লাহ্ই পবিত্র রাখেন যাকে ইচ্ছা করেন। সব শুনেন, সব জানেন।
জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। আর যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, সে তো তবে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়। আর যদি র অনুগ্রহ ও তাঁর করুণা তোমাদের উপরে না থাকত তবে তোমাদের মধ্যের একজনও কদাপি পবিত্র হতে পারত না। কিন্ত যাকে ইচ্ছা করেন তাকে পবিত্র করেন। আর সর্বশ্রোতা।
ولا يأتل أولو الفضل منكم والسعة أن يؤتوا أولي القربى والمساكين والمهاجرين في سبيل الله ۖ وليعفوا وليصفحوا ۗ ألا تحبون أن يغفر الله لكم ۗ والله غفور رحيم
তোমাদের মধ্যে যারা ধন - মালে প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেনো কসম খেয়ে না বলে যে, তারা আত্মীয় - স্বজন, মিসকিন (অভাবী) এবং আল্লাহর পথে হিজরতকারীদের কিছুই দেবেনা। তারা যেনো তাদের ক্ষমা করে দেয় এবং তাদের দোষ - ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাওনা যে, তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর তো পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
জহুরুল হক
আর তোমাদের মধ্যে যারা করুণাভান্ডারের ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা নিকট - আত্মীয়দের ও মিসকিনদের ও র পথে হিজরতকারীদের দান করার বিরুদ্ধে শপথ গ্রহণ না করুক, আর তারা ক্ষমা করুক ও উপেক্ষা করুক। তোমরা কি ভালবাস না যে তোমাদের পরিত্রাণ করবেন? বস্তুতঃ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
খবিছ নারীরা খবিছ পুরুষদের জন্যে এবং খবিছ পুরুষরা খবিছ নারীদের জন্যে। আর পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্যে এবং পবিত্র পুরুষরা পবিত্র নারীদের জন্যে। লোকেরা যা বলে তা থেকে এরা পবিত্র। তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিযিক।
জহুরুল হক
দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, আর দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য, আর সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য, আর সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্যে, - - তারা যা বলে এরা তা থেকে মুক্ত। তাদের জন্য রয়েছে পরিত্রাণ ও সম্মানজনক জীবিকা।
হে লোকেরা! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য ঘরে অনুমতি না নিয়ে এবং ঘরবাসীদের সালাম না দিয়ে ঢুকে পড়োনা। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম নিয়ম। আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! নিজেদের গৃহ ছাড়া তোমরা গৃহে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নিয়েছ ও তাদের বাসিন্দাদের সালাম করেছ। এইটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যেন তোমরা মনোযোগ দিতে পার।
যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও, তাহলে তোমরা সে ঘরে প্রবেশ করোনা যতোক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেয়া হয়। আর যদি তোমাদের ফিরে যেতে বলা হয়, তবে ফিরে যাও। এটাই তোমাদের জন্যে পবিত্রতম পন্থা। জ্ঞাত তোমরা যা আমল করো।
জহুরুল হক
কিন্ত যদি তোমরা তাতে কাউকে না পাও তবে তাতে প্রবেশ কর না যতক্ষণ না তোমাদের অনুমতি দেওয়া হয়, আর যদি তোমাদের বলা হয় - - 'ফিরে যাও’, তবে ফিরে যেয়ো, - - এটিই তোমাদের জন্য উত্তম। আর তোমরা যা কর সে - বিষয়ে সর্বজ্ঞাতা।
এমন ঘরে প্রবেশ করার মধ্যে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা, যে ঘরে কেউ বসবাস করেনা যদি সেখানে তোমাদের মাল সামগ্রী থাকে। তোমরা কী প্রকাশ করো আর কী গোপন করো তা জানেন।
জহুরুল হক
তোমাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যদি তোমরা এমন ঘরে প্রবেশ কর যেখানে কোনো বাসিন্দা নেই, তোমাদের জন্য সেখানে প্রয়োজন রয়েছে। আর জানেন যা তোমরা প্রকাশ কর ও যা তোমরা গোপন রাখ।
হে নবী! পুরুষদের বলো: তারা যেনো (নারীদের থেকে) নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং হিফাযত করে নিজেদের যৌন জীবনকে। এটা তাদের জন্যে পবিত্রতম পন্থা। তারা যা করে সে বিষয়ে ভালোভাবে অবহিত।
জহুরুল হক
তুমি পুরুষদের বলো যে তারা তাদের দৃষ্টি অবনত করুক এবং তাদের আঙ্গিক কর্তব্যাবলীর হেফাজত করুক। এ তাদের জন্য পবিত্রতর। তারা যা করে সে - বিষয়ে নিশ্চয়ই পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
وقل للمؤمنات يغضضن من أبصارهن ويحفظن فروجهن ولا يبدين زينتهن إلا ما ظهر منها ۖ وليضربن بخمرهن على جيوبهن ۖ ولا يبدين زينتهن إلا لبعولتهن أو آبائهن أو آباء بعولتهن أو أبنائهن أو أبناء بعولتهن أو إخوانهن أو بني إخوانهن أو بني أخواتهن أو نسائهن أو ما ملكت أيمانهن أو التابعين غير أولي الإربة من الرجال أو الطفل الذين لم يظهروا على عورات النساء ۖ ولا يضربن بأرجلهن ليعلم ما يخفين من زينتهن ۚ وتوبوا إلى الله جميعا أيه المؤمنون لعلكم تفلحون
আর নারীদের বলো, তারা যেনো (পুরুষদের থেকে) নিজেদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং হিফাযত করে নিজেদের যৌন জীবন। যা সাধারণত প্রকাশ থাকে, তা ছাড়া নিজেদের যীনত (সৌন্দর্য) যেনো তারা প্রকাশ না করে। তাদের চাদর (বা ওড়না) দিয়ে যেনো তাদের গলা এবং বক্ষ ঢেকে রাখে। তারা যেনো তাদের যীনত (সৌন্দর্য) প্রকাশ না করে এদের সম্মুখে ছাড়া: তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনপুত, আপন নারীকুল, তাদের মালিকানাধীন দাস - দাসী, যৌন কামনাহীন পুরুষ এবং নারীদের গোপন অঙ্গসমূহ সম্পর্কে চেতনাহীন শিশু। তারা যেনো তাদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পা ফেলে না চলে। হে মুমিনরা! তোমরা সবাই অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, যাতে করে তোমরা অর্জন করো সফলতা।
জহুরুল হক
আর নারীদের বলো যে তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে, আর তাদের আঙ্গিক কর্তব্যাবলীর হেফাজত করে, আর তাদের অঙ্গশোভা যেন প্রদর্শন না করে শুধু তার মধ্যে যা প্রকাশ হয়ে থাকে তা ভিন্ন, আর যেন তারা তাদের মাথার কাপড় দিয়ে তাদের বুকের উপরটা ঢেকে রাখে, আর তারা যেন তাদের শোভা - সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না শুধু তাদের স্বামীদের অথবা তাদের পিতাদের অথবা তাদের শ্বশুরদের অথবা তাদের পুত্রদের অথবা তাদের সৎপুত্রদের অথবা তাদের ভাইদের অথবা তাদের ভ্রাতুস্পুত্রদের অথবা তাদের ভাগনেদের অথবা তাদের পরিচারিকাদের অথবা তাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে, অথবা পুরুষ চাকর - নকর যাদের কাম - লালসা নেই, অথবা ছেলেপিলেদের যাদের নারীদের গোপন অঙ্গ সন্বন্ধে জ্ঞানবোধ হয় নি, এমন লোকদের ভিন্ন, আর তাদের পা দিয়ে যেন তারা আঘাত না করে যাতে তাদের অলংকারের যা লুকিয়ে আছে তা জানানো যায়। আর হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে মিলে র দিকে ফেরো যেন তোমাদের সফলতা অর্জন হয়।
তোমাদের মধ্যে যাদের স্বামী নেই এবং যাদের স্ত্রী নেই, তাদের বিয়ে দিয়ে দাও, আর তোমাদের দাস দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরকেও। তারা যদি অভাবী হয়ে থাকে, তবে নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন। উদার, জ্ঞানী।
জহুরুল হক
আর বিয়ে দিয়ে দাও তোমাদের মধ্যের অবিবাহিতদের, আর তোমাদের দাসদের ও তোমাদের দাসীদের মধ্যের সচ্চরিত্রদের। যদি তারা অভাবগ্রস্ত হয় তবে তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের সম্পদ দান করবেন। আর মহাবদান্য, সর্বজ্ঞাতা।
وليستعفف الذين لا يجدون نكاحا حتى يغنيهم الله من فضله ۗ والذين يبتغون الكتاب مما ملكت أيمانكم فكاتبوهم إن علمتم فيهم خيرا ۖ وآتوهم من مال الله الذي آتاكم ۚ ولا تكرهوا فتياتكم على البغاء إن أردن تحصنا لتبتغوا عرض الحياة الدنيا ۚ ومن يكرههن فإن الله من بعد إكراههن غفور رحيم
যাদের বিয়ে করার (আর্থিক) সামর্থ নেই, তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করা পর্যন্ত তারা যেনো সংযম অবলম্বন করে। তোমাদের দাসদাসীদের মধ্যে কেউ তার মুক্তির জন্যে লিখিত চুক্তি করতে চাইলে তোমরা তাদের সাথে লিখিত চুক্তি করে নাও, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাও। আর তোমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন তা থেকে তাদের দান করো। পার্থিব জীবনের (অর্থ) লোভে তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে ব্যভিচারে বাধ্য করোনা যদি তারা তাদের সতীত্ব রক্ষা করতে চায়। আর কেউ তাদেরকে বাধ্য করলে, বাধ্য হওয়াদের ব্যাপারে ক্ষমাশীল, দয়াময়।
জহুরুল হক
আর যারা বিবাহের পাত্রপাত্রী খোঁজে পায় না তারা যেন সংযত হয়ে চলে যতক্ষণ না তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের সম্পদ দান করেন। আর তোমাদের ডানহাতে যাদের ধরে রেখেছে তাদের মধ্যের যারা নিখাপড়া চায় তাদের তবে লিখে দাও যদি তাদের মধ্যে কল্যাণকর কিছু থাকা সন্বন্ধে জানতে পার, আর তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন র সেই ধন থেকে তাদের দান করো। আর তোমাদের দাসী - বাঁদীদের বেশ্যাবৃত্তিতে বাধ্য কর না পার্থিব জীবনের নশ্বর বস্তু কামনা ক’রে যদি তারা সচ্চরিত্র থাকা পছন্দ করে। আর যে কেউ তাদের বাধ্য করে সেক্ষেত্রে তাদের প্রতি জবরদস্তির পরে নিশ্চয়ই ক্ষমাকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
আমরা তোমাদের কাছে নাযিল করেছি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং তোমাদের আগেকার লোকদের উদাহরণ আর সতর্ক সচেতন লোকদের জন্যে উপদেশ।
জহুরুল হক
আর আমরা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী অবতারণ করেছি, আর তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের উদাহরণ, আর ধর্মভীরুদের জন্য দিয়েছি উপদেশ।
۞ الله نور السماوات والأرض ۚ مثل نوره كمشكاة فيها مصباح ۖ المصباح في زجاجة ۖ الزجاجة كأنها كوكب دري يوقد من شجرة مباركة زيتونة لا شرقية ولا غربية يكاد زيتها يضيء ولو لم تمسسه نار ۚ نور على نور ۗ يهدي الله لنوره من يشاء ۚ ويضرب الله الأمثال للناس ۗ والله بكل شيء عليم
মহাকাশ এবং পৃথিবীর নূর। তাঁর নূরের উপমা হলো একটি প্রদীপ ঘর। তাতে আছে প্রদীপ। প্রদীপটি স্থাপিত একটি কাঁচের পরিবেষ্টনীর মধ্যে। কাঁচের পরিবেষ্টনীটি যেনো উজ্জ্বল নক্ষত্র। সেটি জ্বালানো হয় পবিত্র যয়তুন গাছের তেল দিয়ে। সেটি পূর্বেরও নয়, পশ্চিমেরও নয়। আগুন সেটিকে স্পর্শ না করলেও যেনো সেটির তেলই ছড়াচ্ছে উজ্জ্বল আলো। নূরের উপর নূর। যাকে ইচ্ছা পথ দেখান তাঁর নূরের দিকে। মানুষের জন্যে এভাবেই দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন। সব বিষয়ে জ্ঞানী।
জহুরুল হক
হচ্ছেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আলোক। তাঁর আলোকের উপমা হচ্ছে যেন একটি কুলঙ্গী যাতে আছে একটি প্রদীপ। প্রদীপটি রয়েছে একটি কাচের চিমনির ভেতরে। চিমনিটি যেন একটি উজ্জ্বল তারকা, যেটি জ্বালানো হয়েছে পবিত্র জয়তুন গাছ থেকে, - - পূর্বাঞ্চলীয় নয়, পাশ্চাত্যেরও নয়, তার তেলটা যেন প্রজ্জ্বলিত যদিও আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারে না। আলোকের উপরে আলোক! তাঁর আলোকের দিকে যাকে ইচ্ছে করেন পথ দেখিয়ে নেন। আর মানুষের জন্য উপমাগুলো ছোঁড়েন। আর সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।
সেইসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা - বাণিজ্য ও বেচা - কেনা বিরত রাখেনা আল্লাহর যিকির, কায়েম ও যাকাত প্রদান থেকে। তারা ভয় করে সেই দিনটিকে যেদিন মানুষের অন্তর আর চোখ উল্টে যাবে।
জহুরুল হক
ব্যক্তিবর্গ, - - ব্যবসা - বাণিজ্য ও বেচা - কেনা তাদের বিরত করতে পারে না র নাম - কীর্তন থেকে ও কায়েম করা ও যাকাত আদায় করা থেকে, তারা ভয় করে সেই দিনকে যেদিন হৃদয় ও চোখ আন্দোলিত হবে, - -
যাতে করে তাদের আমলের উত্তম পুরস্কার তাদের দিতে পারেন এবং বৃদ্ধি করে দিতে পারেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে। আর যাকে ইচ্ছা রিযিক দিয়ে থাকেন বিনা হিসাবে।
জহুরুল হক
যেন তাদের প্রতিদান দিতে পারেন শ্রেষ্ঠ - সুন্দরভাবে যা তারা করেছে সেজন্য, আর তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের বাড়িয়েও দিতে পারেন। আর বেহিসাব রিযেক দিয়ে থাকেন যাকে তিনি ইচ্ছে করেন।
আর যারা কুফুরি করে, তাদের আমলের উপমা হলো মরুভূমির মরীচিকা, পীপাসার্ত ব্যক্তি যাকে মনে করে পানি। যখন সে সেখানে এসে পৌঁছে, কিছুই পায়না। সে তো সেখানে পায় কেবল আল্লাহকে। তিনি তাকে তার কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিয়ে দেবেন, আর দ্রুত হিসাবগ্রহণকারী।
জহুরুল হক
পক্ষান্তরে যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের ক্রিয়াকর্ম মরুভূমির মরীচিকার ন্যায়, পিপাসার্ত তাকে পানি বলে মনে করে যে পর্যন্ত না সে তার কাছে আসে সে ঐটির কিছুই দেখতে পায় না, বরং সে আল্লাহকে তার সামনে দেখতে পাবে, সুতরাং তিনি তার হিসাব চুকিয়ে দেবেন। আর হিসাব - নিকাশে তৎপর।
অথবা (তাদের আমলের) উপমা হলো গভীর সমুদ্রের অন্ধকাররাশি, যাকে ঢেকে রাখে ঢেউয়ের উপর ঢেউ, তার উপর কালো মেঘপুঞ্জ। অন্ধকার রাশির স্তর একটির উপর একটি। সে যখন তার হাত বের করে, আদৌ দেখতে পায় না। যাকে নূর দান করেন না, তার কোনো নূর নেই।
জহুরুল হক
অথবা গভীর সমুদ্রের তলার ঘোর অন্ধকারের ন্যায়, তাকে ঢেকে রাখে এক ঢেউ, তার উপরে আরেক ঢেউ, তার উপরে আছে মেঘ। ঘোর অন্ধকার - - যার একটি অপরটির উপরে। সে যখন তার হাত বাড়ায় সে তা যেন দেখতেই পায় না। আর যাকে তার নিমিত্তে আলোক দেন নি তার জন্য তবে কোনো আলোক নেই।
তুমি দেখোনা মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে তারা সবাই এবং উড়ন্ত পাখিকুল তসবিহ করছে আল্লাহর। তারা প্রত্যেকেই জেনেছে তার (ইবাদত) ও তসবিহর পদ্ধতি। তারা যা করে তা জ্ঞাত আছেন।
জহুরুল হক
তুমি কি দেখ না যে - - তাঁরই জপতপ করে যারাই আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে, আর পাখা - মেলে - থাকা পাখি? প্রত্যেকেই জেনে রেখেছে তার ও তার নামজপ। আর তারা যা করে সে - সন্বন্ধে সম্যক জ্ঞাতা।
ألم تر أن الله يزجي سحابا ثم يؤلف بينه ثم يجعله ركاما فترى الودق يخرج من خلاله وينزل من السماء من جبال فيها من برد فيصيب به من يشاء ويصرفه عن من يشاء ۖ يكاد سنا برقه يذهب بالأبصار
তুমি কি দেখোনা, আল্লাহ্ই তো পরিচালিত করেন মেঘমালাকে, তারপর সেগুলোকে একত্র করেন, অত:পর পুঞ্জীভুত করেন, তারপর তুমি দেখতে পাও সেগুলোর ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে বৃষ্টির পানি। আকাশের জমে যাওয়া মেঘস্তূপ থেকে তিনি বর্ষণ করেন শিলা, আর তা দিয়ে তিনি যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে রক্ষা করেন উপর থেকে সরিয়ে দিয়ে। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টি প্রায় কেড়ে নেয়।
জহুরুল হক
তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না যে মেঘমালাকে চালিয়ে নিয়ে যান, তারপর তিনি তাদের পরস্পরের মধ্যে জড় করেন, তারপর তাদের তিনি পুঞ্জীভূত করেন, তখন তুমি দেখতে পাও তার ভেতর থেকে বেরুচ্ছে বৃষ্টি? আর তিনি আকাশ থেকে পাহাড়গুলো হতে পাঠান তাতে থাকা শিলার রাশি, আর তা দিয়ে তিনি আঘাত করেন যাকে খুশি, এবং তা ফিরিয়ে রাখেন যাকে ইচ্ছা তার থেকে। তার বিদ্যুতের ঝলক দৃষ্টিশক্তি প্রায় নিয়েই নেয়।
প্রতিটি জীবকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে। তাদের কিছু জীব চলে পেটে ভর দিয়ে, কিছু চলে দুই পায়ে এবং কিছু চলে চার পায়ে। সৃষ্টি করেন যা তিনি চান। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে শক্তিমান।
জহুরুল হক
আর সব জীবন্তজগতকে সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে, সুতরাং তাদের মধ্যে রয়েছে যা তার পেটের উপরে চলে, আর তাদের মধ্যে আছে যা দুই পায়ে হাঁটে, আর তাদের মধ্যে রয়েছে যা চারখানায় চলে। সৃষ্টি করে যান যা তিনি চান। নিঃসন্দেহ সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
মুমিনদেরকে যখন ও আল্লাহর রসূলের দিকে ডাকা হয় তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়ার জন্যে তখন তাদের কথা একটাই হয়ে থাকে যে, ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।’ এসব লোকই হবে ।
জহুরুল হক
নিঃসন্দেহ মুমিনদের কথা হচ্ছে - - যখন তাদের ডাকা হয় ও তাঁর রসূলের প্রতি যেন তিনি তাদের মধ্যে বিচার করতে পারেন, তখন তারা বলে - - ''আমরা শুনি ও পালন করি।’’ আর তারা নিজেরাই হয় ।
তারা (মুনাফিকরা) শক্তভাবে আল্লাহর নামে কসম খেয়ে বলে, তুমি তাদের নির্দেশ দিলে তারা অবশ্যি (যুদ্ধে) বের হবে। বলো: তোমরা কসম খেয়োনা, তোমাদের থেকে প্রচলিত আনুগ্যতই কাম্য। তোমরা যা করো সে বিষয়ে গভীরভাবে অবহিত।
জহুরুল হক
আর তারা তাদের সুদৃঢ় আস্থার সাথে র নামে কসম খায় যে যদি তুমি তাদের আদেশ করতে তাহলে তারা আলবৎ বেরিয়ে পড়ত। তুমি বলো, ''শপথ করো না, আনুগত্য তো জানাই আছে! তোমরা যা কর নিশ্চয়ই সে - বিষয়ে ওয়াকিফহাল।’’
হে নবী! বলো: তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো এই রসূলের। যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তার (রসূলের) প্রতি অর্পিত দায়িত্বের জন্যে সে - ই দায়ী হবে, আর তোমরা দায়ী হবে তোমাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের জন্যে। তোমরা যদি আনুগত্য করো, তবেই সঠিক পথ পাবে। স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া আমাদের রসূলের উপর আর কোনো দায়িত্ব নেই।
জহুরুল হক
বলো - - ''র আনুগত্য কর ও রসূলেরও আজ্ঞাপালন কর।’’ কিন্ত যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে নিঃসন্দেহ তাঁর উপরে রয়েছে শুধু তাঁকে যে ভার দেওয়া হয়েছে, আর তোমাদের উপরে রয়েছে তোমাদের যে ভার দেওয়া হয়েছে। আর যদি তোমরা তাঁর আজ্ঞাপালন কর তবে তোমরা সৎপথ পাবে। আর রসূলের উপরে কোনো দায়িত্ব নেই সুস্পষ্টভাবে পৌঁছানো ছাড়া।
وعد الله الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات ليستخلفنهم في الأرض كما استخلف الذين من قبلهم وليمكنن لهم دينهم الذي ارتضى لهم وليبدلنهم من بعد خوفهم أمنا ۚ يعبدونني لا يشركون بي شيئا ۚ ومن كفر بعد ذلك فأولئك هم الفاسقون
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদেরকে ওয়াদা দিচ্ছেন, তিনি তাদের ভূ - খন্ডে প্রতিনিধিত্ব (রাষ্ট্রক্ষমতা) দান করবেন, যেমন তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের। তিনি তাদের জন্যে প্রতিষ্ঠিতি করে দেবেন তাদের দীনকে, যা তিনি তাদের জন্যে মনোনীত করেছেন এবং তাদেরকে ত্রাস ও ভীতির বদলে দেবেন শান্তি ও নিরাপত্তা। তখন তারা কেবল আমারই দাসত্ব করবে এবং আমার সাথে কাউকেও শরিক করবেনা। তবে এরপরও যারা কুফুরি করবে তারা হবে ফাসিক (সীমালঙ্ঘনকারী পাপিষ্ঠ)।
জহুরুল হক
তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করছে তাদের ওয়াদা করছেন যে, তিনি নিশ্চয়ই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের যারা ছিল এদের পূর্ববর্তী, আর অবশ্যই তিনি তাদের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের ধর্ম যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন, আর নিশ্চয়ই তাদের ভয় - ভীতির পরে তাদের জন্যে বদলে আনবেন নিরাপত্তা। তারা আমারই এবাদত করবে, আমার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করবে না। আর যে কেউ এর পরে অকৃতজ্ঞতা দেখাবে - - তাহলে তারা নিজেরাই হচ্ছে সীমা - লংঘনকারী।
يا أيها الذين آمنوا ليستأذنكم الذين ملكت أيمانكم والذين لم يبلغوا الحلم منكم ثلاث مرات ۚ من قبل صلاة الفجر وحين تضعون ثيابكم من الظهيرة ومن بعد صلاة العشاء ۚ ثلاث عورات لكم ۚ ليس عليكم ولا عليهم جناح بعدهن ۚ طوافون عليكم بعضكم على بعض ۚ كذلك يبين الله لكم الآيات ۗ والله عليم حكيم
হে লোকেরা, তোমাদের মালিকানাধীন দাসদাসীরা এবং তোমাদের যারা এখনো বয়োপ্রাপ্ত হয়নি, তারা যেনো তিনটি সময় তোমাদের কক্ষে প্রবেশ কালে অনুমতি নেয়: ফজর সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমাদের পোশাক খুলে রাখো তখন এবং এশার সালাতের পরে। এই তিনটি তোমাদের গোপনীয়তা অবলম্বনের সময়। এই সময় ছাড়া বাকি সময়ে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে তোমাদেরও এবং তাদেরও কোনো দোষ হবেনা। তোমাদের একে অপরের কাছে তো যাতায়াত করতেই হয়। এভাবেই বয়ান করেন তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াতসমূহ। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।
জহুরুল হক
ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের ডান হাত যাদের ধরে রেখেছে এবং তোমাদের মধ্যের যারা সাবালগত্বে পৌঁছায়নি তারা যেন তোমাদের অনুমতি নেয় তিনটি সময়ে, - - ফজরের নামাযের আগে, আর যখন তোমরা মধ্যাহ্নের গরমে তোমাদের জামাকাপড় ছেড়ে দাও, এবং ঈশার নামাযের পরে। এই তিন হচ্ছে তোমাদের জন্য গোপনীয়তা অবলন্বনের সময়। এইসব বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য কোনো দোষ হবে না এবং তাদের জন্যও নয়। তোমাদের কাউকে অপরের কাছে তো ঘোরাঘুরি করতেই হয়। এইভাবেই তোমাদের জন্য বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।
তোমাদের বাচ্চারা যখন বয়োপ্রাপ্ত হয়, তখন তারাও যেনো অনুমতি চেয়ে নেয় যেভাবে অনুমতি নেয় তাদের বয়োজ্যেষ্ঠরা। এভাবেই বর্ণনা করেন তোমাদের জন্যে তাঁর আয়াত। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
জহুরুল হক
আর তোমাদের মধ্যেকার ছেলেপিলেরা যখন সাবালগত্বে পৌঁছে যায় তখন তারাও যেন অনুমতি চায় যেমন অনুমতি চাইত তারা যারা এদের আগে রয়েছিল। এইভাবেই তোমাদের জন্য তাঁর বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। আর সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।
বৃদ্ধ নারীরা, যারা বিয়ের আশা রাখেনা, তারা যদি তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে বহিরাবরণ খুলে রাখে, তবে তাদের কোনো দোষ হবেনা। তবে সংযত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। সব শুনেন, সব জানেন।
জহুরুল হক
আর নারীদের মধ্যের প্রেঢ়ারা যারা বিয়ের আশা করে না, তাদের জন্যে তবে অপরাধ হবে না যদি তারা তাদের পোশাক খুলে রাখে শোভা - সৌন্দর্য প্রদর্শন না ক’রে। আর যদি তারা সংযত থাকে তবে তাদের জন্য বেশি ভাল। আর সর্বশ্রতা, সর্বজ্ঞাতা।
ليس على الأعمى حرج ولا على الأعرج حرج ولا على المريض حرج ولا على أنفسكم أن تأكلوا من بيوتكم أو بيوت آبائكم أو بيوت أمهاتكم أو بيوت إخوانكم أو بيوت أخواتكم أو بيوت أعمامكم أو بيوت عماتكم أو بيوت أخوالكم أو بيوت خالاتكم أو ما ملكتم مفاتحه أو صديقكم ۚ ليس عليكم جناح أن تأكلوا جميعا أو أشتاتا ۚ فإذا دخلتم بيوتا فسلموا على أنفسكم تحية من عند الله مباركة طيبة ۚ كذلك يبين الله لكم الآيات لعلكم تعقلون
অন্ধদের দোষ নেই, খোড়াদের দোষ নেই এবং রোগীদেরও দোষ নেই (তারা যদি অনুমতি ছাড়া কারো কিছু খেয়ে নেয়), আর তোমাদের নিজেদেরও দোষ হবেনা তোমরা যদি (অনুমতি ছাড়া) খাও তোমাদের নিজেদের ঘরে, তোমাদের পিতাদের ঘরে, তোমাদের মায়েদের ঘরে, তোমাদের ভাইদের ঘরে, তোমাদের বোনদের ঘরে, তোমাদের চাচাদের ঘরে, তোমাদের ফুফুদের ঘরে, তোমাদের মামাদের ঘরে, তোমাদের খালাদের ঘরে, সেইসব ঘরে যেসব ঘরের চাবি তোমাদের অধিকারে থাকে এবং তোমাদের বন্ধুদের ঘরে। তোমরা একত্রে খাও কিংবা আলাদা আলাদা খাও তাতে তোমাদের কোনো দোষ হবেনা। যখনই তোমরা ঘরে দাখিল হবে নিজেদের প্রতি সালাম করবে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেয়া অভিবাদন কল্যাণময় ও উত্তম। এভাবেই তোমাদের জন্যে বয়ান করেন আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে, যাতে করে তোমরা আকল খাটাও।
জহুরুল হক
অন্ধের উপরে কোনো দোষ নেই ও খোঁড়ার উপরেও নয়, যদি তোমরা আহার কর তোমাদের বাড়ি থেকে, অথবা তোমাদের পিতাদের বাড়িতে, কিংবা তোমাদের মায়েদের বাড়িতে, নয়ত তোমাদের ভাইদের বাড়িতে, না হয় তোমাদের বোনদের বাড়িতে, কিংবা তোমাদের চাচাদের বাড়িতে, অথবা তোমাদের ফুফুদের বাড়িতে, নয়ত তোমাদের মামাদের বাড়িতে, অথবা তোমাদের খালাদের বাড়িতে, কিংবা সেইসবে যার চাবি তোমাদের দখলে রয়েছে, অথবা তোমাদের বন্ধুদের। তোমাদের উপরে কোনো অপরাধ হবে না যদি তোমরা একসঙ্গে আহার কর অথবা আলাদাভাবে। সুতরাং যখন তোমরা বাড়িঘরে প্রবেশ কর তখন তোমাদের পরস্পরকে সালাম কর র তরফ থেকে কল্যাণময় পবিত্র সম্ভাষণে। এইভাবেই তোমাদের জন্য বাণীসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন যেন তোমরা বুঝতে পার।
إنما المؤمنون الذين آمنوا بالله ورسوله وإذا كانوا معه على أمر جامع لم يذهبوا حتى يستأذنوه ۚ إن الذين يستأذنونك أولئك الذين يؤمنون بالله ورسوله ۚ فإذا استأذنوك لبعض شأنهم فأذن لمن شئت منهم واستغفر لهم الله ۚ إن الله غفور رحيم
তো তারাই, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি, আর রসূলের সাথে সামষ্টিক বিষয়ে একত্র হলে তারা অনুমতি ছাড়া চলে যায়না। যারা (প্রয়োজনে) তোমার কাছে অনুমতি চায় তারাই ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি। তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে (বৈঠক থেকে) বাইরে যেতে তোমার কাছে অনুমতি চাইলে তুমি যাকে ইচ্ছা অনুমতি দেবে এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করবে। কারণ তো অতীব ক্ষমাশীল দয়াময়।
জহুরুল হক
তারাই কেবল যারা তে ও তাঁর রসূলে ঈমান আনে, আর যখন তারা কোনো সমষ্টিগত ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে থাকে তখন তারা চলে যায় না যতক্ষণ না তারা তাঁর থেকে অনুমতি নিয়েছে। নিঃসন্দেহ যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই হচ্ছে ওরা যারা তে ও তাঁর রসূলে ঈমান এনেছে, সুতরাং তারা যখন তাদের কোনো ব্যাপারের জন্য তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তখন অনুমতি দাও তাদের মধ্যের যাকে তুমি ইচ্ছা কর, আর তাদের জন্য র ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিঃসন্দেহ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
(হে মুমিনরা!) রসূলের আহবানকে তোমাদের পরস্পরকে আহবান করার সমতুল্য মনে করোনা। তোমাদের যারা (রসূলের ডাকা বৈঠক থেকে) অনুমতি ছাড়াই সরে পড়ে, তাদের জানেন। সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচারণ করে তারা যেনো সতর্ক হয় এ জন্যে যে, তাদের উপর ফিতনা এসে পড়তে পারে, কিংবা তাদের উপর আপতিত হতে পারে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
জহুরুল হক
তোমাদের মধ্যে রসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের মধ্যের একে অন্যে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। অবশ্যই তাদের জানেন তোমাদের মধ্যের যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, সেজন্য যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে যায় তারা সাবধান হোক পাছে কোনো বিপর্যয় তাদের উপরে পতিত হয়, অথবা কোনো মর্মন্তদ শাস্তি তাদের উপরে আপতিত হয়।
সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। তোমরা যেসব কাজে নিরত আছো সবই জানেন। যেদিন তাদেরকে তাঁর (আল্লাহর) কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে সেদিন তিনি তাদের অবহিত করবেন তারা কী কাজ করেছিল? প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞাত।
জহুরুল হক
এটি কি নয় যে মহাকাশমন্ডলীতে ও পৃথিবীতে যা - কিছু আছে তা নিশ্চয়ই র? তিনি অবশ্য জানেন তোমরা যা - কিছুতে রয়েছ। আর যেদিন তাদের তাঁর কাছে ফেরত নেওয়া হবে সেদিন তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে যা তারা করত। আর সব - কিছু সন্বন্ধে সর্বজ্ঞাতা।