بسم الله الرحمن الرحيم ق ۚ والقرآن المجيد
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ق ۚ وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ
কাফ, কুরআন মজিদের শপথ।
ক্কাফ। ভেবে দেখো মহিমান্বিত কুরআনখানা।
Chapter 50, 45 verses
بسم الله الرحمن الرحيم ق ۚ والقرآن المجيد
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ ق ۚ وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ
কাফ, কুরআন মজিদের শপথ।
ক্কাফ। ভেবে দেখো মহিমান্বিত কুরআনখানা।
بل عجبوا أن جاءهم منذر منهم فقال الكافرون هذا شيء عجيب
بَلْ عَجِبُوا أَن جَاءَهُم مُّنذِرٌ مِّنْهُمْ فَقَالَ الْكَافِرُونَ هَٰذَا شَيْءٌ عَجِيبٌ
বরং তারা বিস্মিত হচ্ছে এ কারণে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এসেছে একজন সতর্ককারী। কাফিররা বলে: ‘‘এতো এক আজব ব্যাপার!
বস্তুত তারা আশ্চর্য হচ্ছে যে তাদের কাছে তাদেরই মধ্যে থেকে একজন সতর্ককারী এসেছেন, তাই অবিশ্বাসীরা বলছে - - ''এ তো এক আজব ব্যাপার!’’
أإذا متنا وكنا ترابا ۖ ذلك رجع بعيد
أَإِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا ۖ ذَٰلِكَ رَجْعٌ بَعِيدٌ
আমাদের যখন মৃত্যু ঘটবে এবং আমরা যখন মাটিতে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? সেই প্রত্যাবর্তন এক অবাস্তব ব্যাপার।’’
''কী! আমরা যখন মরে যাব এবং ধুলো - মাটি হয়ে যাব? এ তো বহু দূর থেকে ফিরে আসা।’’
قد علمنا ما تنقص الأرض منهم ۖ وعندنا كتاب حفيظ
قَدْ عَلِمْنَا مَا تَنقُصُ الْأَرْضُ مِنْهُمْ ۖ وَعِندَنَا كِتَابٌ حَفِيظٌ
মাটি তাদের কতোটুকু ক্ষয় করে তা আমরা জানি। আমাদের কাছে রয়েছে এক সুরক্ষিত কিতাব।
আমরা আলবৎ জানি তাদের মধ্যের কতটুকু পৃথিবী হ্রাস করে ফেলে, আর আমাদের কাছে রয়েছে সুরক্ষিত গ্রন্থ।
بل كذبوا بالحق لما جاءهم فهم في أمر مريج
بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَّرِيجٍ
তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সন্দেহে দোদুল্যমান।
বস্তুত তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল যখন তাদের কাছে তা এসেছিল, সেজন্য তারা সংশয়াকুল অবস্থায় রয়েছে।
أفلم ينظروا إلى السماء فوقهم كيف بنيناها وزيناها وما لها من فروج
أَفَلَمْ يَنظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِن فُرُوجٍ
তারা কি উপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা, আমরা কিভাবে সেটাকে বানিয়েছি এবং সুশোভিত করেছি। আর তাতে নেই কোনো ফাটল।
তারা কি তবে তাদের উপরকার আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না - - আমরা কেমন ক’রে তা তৈরি করেছি এ বং তাকে সুশোভিত করেছি, আর তাতে কোনো ফাটলও নেই?
والأرض مددناها وألقينا فيها رواسي وأنبتنا فيها من كل زوج بهيج
وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ بَهِيجٍ
আর জমিনকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি এবং তাতে স্থাপন করে দিয়েছি পাহাড় পর্বত আর তাতে উদগত করেছি সব ধরণের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।
আর পৃথিবী - - তাকে আমরা প্রসারিত করেছি আর তাতে স্থাপন করেছি পাহাড় - পর্বত, আর তাতে আমরা জন্মিয়েছি হরেক রকমের মনোরম বস্তু - -
تبصرة وذكرى لكل عبد منيب
تَبْصِرَةً وَذِكْرَىٰ لِكُلِّ عَبْدٍ مُّنِيبٍ
এসবই ভেবে দেখার বিষয় এবং উপদেশ প্রত্যেক অভিমুখী বান্দার জন্যে।
দেখার মতো ও মনোনিবেশ করার মতো বিষয় প্রত্যেক অনুরাগী বান্দার জন্য।
ونزلنا من السماء ماء مباركا فأنبتنا به جنات وحب الحصيد
وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُّبَارَكًا فَأَنبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ
আমরা আসমান থেকে নাযিল করি মুবারক (কল্যাণময়) পানি। অত:পর তা দিয়ে উৎপাদন করি বাগবাগিচা আর পরিপক্ক শস্য সম্ভার,
আর আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি আশীর্বাদসূচক জল, তারপর তার দ্বারা আমরা জন্মাই বাগানসমূহ ও খাদ্যশস্য যা তোলা হয়,
والنخل باسقات لها طلع نضيد
وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَّهَا طَلْعٌ نَّضِيدٌ
আরো উৎপাদন করি সমুন্নত খেজুর গাছ, তাতে থাকে ছড়ায় ছড়ায় খেজুর,
আর লন্বা লন্বা খেজুর গাছ যাতে আছে গোছা গোছা কাঁদি, - -
رزقا للعباد ۖ وأحيينا به بلدة ميتا ۚ كذلك الخروج
رِّزْقًا لِّلْعِبَادِ ۖ وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَّيْتًا ۚ كَذَٰلِكَ الْخُرُوجُ
আমার বান্দাদের জীবিকা হিসেবে। তাছাড়া সেই পানি দিয়ে আমরা জীবিত করি মৃত জমিনকে। এভাবেই ঘটানো হবে (মানুষের) পুনরুত্থান।
দাসদের জন্য জীবিকাস্বরূপ, আর এর দ্বারা আমরা মৃত ভূখন্ডে প্রাণ সঞ্চার করি। এইভাবেই হবে পুনরুত্থান।
كذبت قبلهم قوم نوح وأصحاب الرس وثمود
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَأَصْحَابُ الرَّسِّ وَثَمُودُ
তাদের আগেও নূহের কওম (রসূলদের) প্রত্যাখান করেছিল এবং রাস্ আর সামুদ সম্প্রদায়ও,
এদের আগে নূহ - এর স্বজাতি প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর রস্ - এর অধিবাসীরা ও ছামুদ জাতি,
وعاد وفرعون وإخوان لوط
وَعَادٌ وَفِرْعَوْنُ وَإِخْوَانُ لُوطٍ
আদ, ফেরাউন এবং লুত সম্প্রদায়ও,
আর 'আদ ও ফিরআউন ও লূত - এর ভাই - বন্ধুরা,
وأصحاب الأيكة وقوم تبع ۚ كل كذب الرسل فحق وعيد
وَأَصْحَابُ الْأَيْكَةِ وَقَوْمُ تُبَّعٍ ۚ كُلٌّ كَذَّبَ الرُّسُلَ فَحَقَّ وَعِيدِ
আইকাবাসী আর তুববা সম্প্রদায়ও। এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তাদের উপর অনিবার্য হয়ে পড়েছিল আমার ওয়াদা বাস্তবায়ন।
আর আইকার অধিবাসীরা ও তুব্বার লোকদল; - - সবাই রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, সুতরাং আমার ওয়াদা সত্য বর্তেছিল।
أفعيينا بالخلق الأول ۚ بل هم في لبس من خلق جديد
أَفَعَيِينَا بِالْخَلْقِ الْأَوَّلِ ۚ بَلْ هُمْ فِي لَبْسٍ مِّنْ خَلْقٍ جَدِيدٍ
প্রথমবারের সৃষ্টিই কি আমাদের ক্লান্ত করে ফেলেছে? বরং পুনসৃষ্টির ব্যাপারে তারা রয়েছে সন্দেহে নিমজ্জিত।
আমরা কি তবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি প্রথমবারের সৃষ্টি করেই? না, তারা নতুন সৃষ্টি সন্বন্ধে সন্দেহের মাঝে রয়েছে।
ولقد خلقنا الإنسان ونعلم ما توسوس به نفسه ۖ ونحن أقرب إليه من حبل الوريد
وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ ۖ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ
আমরাই সৃষ্টি করেছি মানুষকে এবং তার প্রবৃত্তি তাকে কী কুমন্ত্রণা দেয় তা আমরা জানি। আমরা তার গলার ধমনীর চেয়েও তার অধিকতর নিকটতর।
আর আমরা তো নিশ্চয় মানুষ সৃষ্টি করেছি, আর আমরা জানি তার অন্তর তাকে কী মন্ত্রণা দেয়, আর আমরা কন্ঠশিরার চেয়েও তার আরো নিকটে রয়েছি।
إذ يتلقى المتلقيان عن اليمين وعن الشمال قعيد
إِذْ يَتَلَقَّى الْمُتَلَقِّيَانِ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ قَعِيدٌ
মনে রেখো, দুই গ্রহণকারী ফেরেশতা তার ডানে এবং বামে বসে রেকর্ড করে।
স্মরণ রেখো, দুইজন গ্রহণকারী গ্রহণ করে চলেছেন ডাইনে ও বাঁয়ে বসে।
ما يلفظ من قول إلا لديه رقيب عتيد
مَّا يَلْفِظُ مِن قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা রেকর্ড করার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন প্রহরী তার কাছেই রয়েছে।
সে কোনো কথাই উচ্চারণ করে না যার জন্য তার নিকটেই এক তৎপর প্রখর প্রহরী নেই।
وجاءت سكرة الموت بالحق ۖ ذلك ما كنت منه تحيد
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ۖ ذَٰلِكَ مَا كُنتَ مِنْهُ تَحِيدُ
মৃত্যু যন্ত্রণা সত্য সত্যি আসবে। এ থেকেই তোমরা অব্যাহতি চেয়ে আসছো।
আর মৃত্যুকালীন মূর্ছা সত্যি - সত্যি আসবে, - - ''এইটিই তো তাই যা থেকে তুমি অব্যাহতি চাও।’’
ونفخ في الصور ۚ ذلك يوم الوعيد
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمُ الْوَعِيدِ
আর শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং সেটাই হবে শাস্তির দিন।
আর শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, ''এইটিই সেই প্রতিশ্রুত দিন।’’
وجاءت كل نفس معها سائق وشهيد
وَجَاءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَائِقٌ وَشَهِيدٌ
সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই উপস্থিত হবে। তার সাথে থাকবে একজন চৌকিদার এবং একজন সাক্ষী।
তখন প্রত্যেক সত্ত্বা চলে আসবে, তার সঙ্গে থাকবে এক চালক ও এক সাক্ষী।
لقد كنت في غفلة من هذا فكشفنا عنك غطاءك فبصرك اليوم حديد
لَّقَدْ كُنتَ فِي غَفْلَةٍ مِّنْ هَٰذَا فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ
(তার সাথি ফেরেশতা বলবে:) এই দিনটি সম্পর্কেই তুমি ছিলে গাফলতির মধ্যে। এখন আমরা তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর ও তীক্ষ্ণ।
''তুমি তো অবশ্য এ সন্বন্ধে গাফিলতিতে ছিলে, কিন্ত এখন আমরা তোমার থেকে তোমার আবরণী সরিয়ে দিয়েছি ফলে তোমার দৃষ্টি আজ তীক্ষ্ণ হয়েছে।
وقال قرينه هذا ما لدي عتيد
وَقَالَ قَرِينُهُ هَٰذَا مَا لَدَيَّ عَتِيدٌ
তার সাথি বলবে: এই তো আমার কাছে তোমার আমলের রেকর্ড প্রস্ত্তত।
আর তার সঙ্গী বলবে - - ''এই তো যা আমার কাছে তৈরি রয়েছে।’’
ألقيا في جهنم كل كفار عنيد
أَلْقِيَا فِي جَهَنَّمَ كُلَّ كَفَّارٍ عَنِيدٍ
নির্দেশ দেয়া হবে: তোমরা দু’জনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক দাম্ভিক কাফিরকে,
''তোমরা দুজনে জাহান্নামে ফেলে দাও প্রত্যেক অবিশ্বাসীকে, বিদ্রোহাচারীকে, - -
مناع للخير معتد مريب
مَّنَّاعٍ لِّلْخَيْرِ مُعْتَدٍ مُّرِيبٍ
যে ভালো কাজে প্রচন্ড বাধাদানকারী এবং সীমালংঘনকারী ও সন্দেহপরায়ণ,
''ভালো কাজে নিষেধকারীকে, সীমালংঘনকারীকে, সন্দেহকারীকে - -
الذي جعل مع الله إلها آخر فألقياه في العذاب الشديد
الَّذِي جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ فَأَلْقِيَاهُ فِي الْعَذَابِ الشَّدِيدِ
যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করতো। তাকে নিক্ষেপ করো কঠোর আযাবে।
''যে র সঙ্গে অন্য উপাস্য দাঁড় করিয়েছিল, অতএব তোমরা উভয়ে তাকে নিক্ষেপ করো ভীষণ শাস্তিতে।’’
۞ قال قرينه ربنا ما أطغيته ولكن كان في ضلال بعيد
۞ قَالَ قَرِينُهُ رَبَّنَا مَا أَطْغَيْتُهُ وَلَٰكِن كَانَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ
তার সাথি (শয়তান) বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমি তাকে অবাধ্য বানাইনি। বরং সে নিজেই ছিলো ঘোরতর গোমরাহিতে নিমজ্জিত।’
আর তার সাঙ্গাত বলবে - - ''আমাদের প্রভু! আমি তো তাকে বিদ্রোহী বানাই নি, কিন্ত সে নিজেই ছিল সুদূর বিভ্রান্তিতে।’’
قال لا تختصموا لدي وقد قدمت إليكم بالوعيد
قَالَ لَا تَخْتَصِمُوا لَدَيَّ وَقَدْ قَدَّمْتُ إِلَيْكُم بِالْوَعِيدِ
বলবেন: ‘তোমরা আমার সামনে বিবাদ বিতর্ক করোনা। আমি তো আগেই তোমাদের সতর্ক করেছি।
তিনি বলবেন - - ''আমার সামনে তোমরা তর্কাতর্কি করো না, আর আমি তো তোমাদের কাছে ইতিপূর্বেই আমার ওয়াদা আগবাড়িয়েছি।
ما يبدل القول لدي وما أنا بظلام للعبيد
مَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ وَمَا أَنَا بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيدِ
আমার কথার রদবদল হয়না, আর আমি বান্দাদের প্রতি যালিমও নই।
''আমার কাছে কথার রদবদল হয় না, এবং আমি আমার বান্দাদের প্রতি আদৌ অন্যায়াচারী নই।’’
يوم نقول لجهنم هل امتلأت وتقول هل من مزيد
يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلَأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِن مَّزِيدٍ
সেদিন আমরা জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো: ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছো?’ সে বলবে: ‘আরো আছে কি?’
সেইদিন আমরা জাহান্নামকে বলব - - ''তুমি কি পূর্ণ হয়ে গিয়েছ?’’ আর সে বলবে - - ''আরো বেশি আছে কি?’’
وأزلفت الجنة للمتقين غير بعيد
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ
আর জান্নাতকে মু্ত্তাকিদের নিকটে আনা হবে, মোটেই দূরে রাখা হবেনা।
আর বেহেশতকে আনা হবে ধর্মভীরুদের নিকটে - - অদূরে।
هذا ما توعدون لكل أواب حفيظ
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٍ
এর ওয়াদাই তোমাদের দেয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহমুখী হিফাযতকারীর জন্যে
''এইটিই তা যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল প্রত্যেক জন বারবার প্রত্যাবর্তনকারী হেফাজতকারীর জন্য - -
من خشي الرحمن بالغيب وجاء بقلب منيب
مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
যারা না দেখেও রহমানকে ভয় করে এবং হাজির হয় বিনয়ী হৃদয় নিয়ে।
''যে পরম করুণাময়কে ভয় করত সংগোপনে, আর উপস্থিত হত বিনয় - নম্র হৃদয় নিয়ে।
ادخلوها بسلام ۖ ذلك يوم الخلود
ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ ۖ ذَٰلِكَ يَوْمُ الْخُلُودِ
তাদের বলা হবে: শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে দাখিল হও (জান্নাতে)। এটা চিরন্তন জীবনের দিন।
''এতে প্রবেশ করো প্রশান্তির সাথে। এই তো চিরস্থায়ী দিন।’’
لهم ما يشاءون فيها ولدينا مزيد
لَهُم مَّا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ
সেখানে তারা সবই পাবে যা তারা চাইবে এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরো অনেক।
এদের জন্য থাকবে তারা সেখানে যা চাইবে তাই, তার আমাদের কাছে রয়েছে আরো বেশি।
وكم أهلكنا قبلهم من قرن هم أشد منهم بطشا فنقبوا في البلاد هل من محيص
وَكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّن قَرْنٍ هُمْ أَشَدُّ مِنْهُم بَطْشًا فَنَقَّبُوا فِي الْبِلَادِ هَلْ مِن مَّحِيصٍ
আমরা তাদের আগে কতো যে মানব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছি, ওরা ছিলো এদের চাইতেও প্রবলতর শক্তিশালী। তারা বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতো। তাদের পালাবার কোনো জাগায়ই ছিলোনা।
আর তাদের আগে আমরা কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি, তারা এদের চাইতে ছিল শক্তিতে বেশি প্রবল, ফলে তারা দেশে - বিদেশে অভিযান চালাত। কোনো আশ্রয়স্থল আছে কি?
إن في ذلك لذكرى لمن كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَذِكْرَىٰ لِمَن كَانَ لَهُ قَلْبٌ أَوْ أَلْقَى السَّمْعَ وَهُوَ شَهِيدٌ
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে উপদেশ তার জন্যে, যে অন্তরের অধিকারী, কিংবা যে মনোযোগ দিয়ে শুনে নিবিষ্ট চিত্তে।
নিঃসন্দেহ এতে নিশ্চয়ই উপদেশ রয়েছে তার জন্য যার হৃদয় আছে, অথবা যে কান দেয়, আর সে সাক্ষ্য বহন কবে ।
ولقد خلقنا السماوات والأرض وما بينهما في ستة أيام وما مسنا من لغوب
وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِن لُّغُوبٍ
আমরা মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছি ছয়টি কালে। কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করেনি।
আর আমরা অবশ্য মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা - কিছু আছে তা সৃষ্টি করেছি ছয় দিনে, আর কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করে নি।
فاصبر على ما يقولون وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس وقبل الغروب
فَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ
ওরা যা বলে তাতে তুমি সবর অবলম্বন করো, আর তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে।
অতএব ওরা যা বলে তা সত্ত্বেও তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও এবং তোমার প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করো সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যাবার আগে,
ومن الليل فسبحه وأدبار السجود
وَمِنَ اللَّيْلِ فَسَبِّحْهُ وَأَدْبَارَ السُّجُودِ
আর রাতের বেলায়ও তাঁর তসবিহ করো এবং সাজদার (সালাতের) পরে।
আর রাতের বেলাতেও তাঁর জপতপ করো, আর এই সিজদাগুলোর পরেও,
واستمع يوم يناد المناد من مكان قريب
وَاسْتَمِعْ يَوْمَ يُنَادِ الْمُنَادِ مِن مَّكَانٍ قَرِيبٍ
মনোযোগ দিয়ে শুনো, যেদিন এক ঘোষণাকারী খুব কাছে থেকে ঘোষণা দেবে,
আর শোনো সেইদিন যখন একজন ঘোষণাকারী আহ্বান করবেন নিকটবর্তী স্থান থেকে, - -
يوم يسمعون الصيحة بالحق ۚ ذلك يوم الخروج
يَوْمَ يَسْمَعُونَ الصَّيْحَةَ بِالْحَقِّ ۚ ذَٰلِكَ يَوْمُ الْخُرُوجِ
সেদিন অবশ্যি মানুষ শুনতে পাবে এক মহাবিকট শব্দ সত্যিকারভাবে। সেটাই হবে মাটির নিচে থেকে বেরিয়ে আসার দিন।
সেইদিন তারা সত্যি - সত্যি মহাগর্জন শুনতে পাবে। এইটিই বেরিয়ে আসার দিন।
إنا نحن نحيي ونميت وإلينا المصير
إِنَّا نَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَإِلَيْنَا الْمَصِيرُ
আমরাই হায়াত দান করি এবং আমরাই মউত ঘটাই, আর আমাদের কাছেই হবে সবার প্রত্যাবর্তন।
নিঃসন্দেহ আমরা স্বয়ং জীবন দান করি এবং আমরাই মৃত্যু ঘটাই, আর আমাদের কাছেই শেষ - আগমন, - -
يوم تشقق الأرض عنهم سراعا ۚ ذلك حشر علينا يسير
يَوْمَ تَشَقَّقُ الْأَرْضُ عَنْهُمْ سِرَاعًا ۚ ذَٰلِكَ حَشْرٌ عَلَيْنَا يَسِيرٌ
সেদিন তাদের উপরস্থ জমিন ফেটে যাবে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসবে। এই হাশর (সমবেত) করা আমাদের জন্যে একেবারেই সহজ।
সেইদিন পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে যাবে তাদের থেকে স্ত্রস্ত - ব্যস্তভাবে, এই হচ্ছে মহাসমাবেশ - - আমাদের জন্য সহজ ব্যাপার।
نحن أعلم بما يقولون ۖ وما أنت عليهم بجبار ۖ فذكر بالقرآن من يخاف وعيد
نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْهِم بِجَبَّارٍ ۖ فَذَكِّرْ بِالْقُرْآنِ مَن يَخَافُ وَعِيدِ
তারা কী বলে, তা আমরা জানি। তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও। যারা আমার শাস্তিকে ভয় করে তাদের উপদেশ দিয়ে যাও এই কুরআনের সাহায্যে।
ওরা যা বলে আমরা তা ভাল জানি, আর তুমি তাদের উপরে জবরদস্তি করার লোক নও। অতএব তুমি কুরআন নিয়ে স্মরণ করিয়ে চলো তার প্রতি যে আমার প্রতিশ্রুতিকে ভয় করে।