মহাকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবাই আল্লাহর তসবিহ করছে এবং তিনি মহাশক্তিধর মহাপ্রজ্ঞাবান।
সমকালীন বাংলা
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবকিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
هو الذي خلق السماوات والأرض في ستة أيام ثم استوى على العرش ۚ يعلم ما يلج في الأرض وما يخرج منها وما ينزل من السماء وما يعرج فيها ۖ وهو معكم أين ما كنتم ۚ والله بما تعملون بصير
তিনি সেই সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী ছয়টি কালে, অত:পর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। তিনি জানেন যা প্রবেশ করে জমিনে এবং যা বের হয় জমিন থেকে, যা নাযিল হয় আসমান থেকে এবং যা মে’রাজ হয় (উঠে যায়) আসমানে। তিনি তোমাদের সাথে থাকেন, তোমরা যেখানেই থাকো। তোমরা যা করো তিনি সবকিছুর দ্রষ্টা।
সমকালীন বাংলা
তিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি জানেন যা পৃথিবীতে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আকাশ থেকে নেমে আসে এবং যা তাতে উঠে যায়। আর তোমরা যেখানেই থাকো, তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন। আর তোমরা যা করো, তা দেখেন।
তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি, আর তোমাদের যা কিছুর উত্তরাধিকারী করেছেন তা থেকে ব্যয় করো (আল্লাহর পথে)। তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনে এবং ব্যয় করে (আল্লাহর পথে) তাদের জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।
সমকালীন বাংলা
ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো এবং তিনি তোমাদেরকে যার উত্তরাধিকারী করেছেন, তা থেকে ব্যয় করো। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে এবং ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।
তোমাদের কী হয়েছে, কেন তোমরা ঈমান আনোনা আল্লাহর প্রতি, অথচ রসূল তোমাদের দাওয়াত দিচ্ছেন ঈমান আনতে তোমাদের প্রভুর প্রতি, আর তো তোমাদের থেকে মজবুত অংগীকার গ্রহণ করেছেনই, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
সমকালীন বাংলা
আর তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো না, অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের পালনকর্তার প্রতি ঈমান আনার জন্য আহ্বান করছেন এবং তিনি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন, যদি তোমরা হও?
তিনিই তাঁর দাসের প্রতি নাযিল করেন সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ যা তোমাদের বের করে আনে অন্ধকাররাশি থেকে আলোতে এবং অবশ্যি তোমাদের প্রতি পরম করুণাময়, পরম দয়াবান।
সমকালীন বাংলা
তিনিই তাঁর বান্দার উপর সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে অন্ধকারসমূহ থেকে আলোতে বের করে আনেন। আর নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু, পরম করুণাময়।
وما لكم ألا تنفقوا في سبيل الله ولله ميراث السماوات والأرض ۚ لا يستوي منكم من أنفق من قبل الفتح وقاتل ۚ أولئك أعظم درجة من الذين أنفقوا من بعد وقاتلوا ۚ وكلا وعد الله الحسنى ۚ والله بما تعملون خبير
তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কেন ব্যয় করবেনা আল্লাহর পথে? অথচ মহাকাশ এবং পৃথিবীর মালিকানা তো আল্লাহরই। তোমাদের যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে, তারা ঐসব লোকদের চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, যারা ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে বিজয়ের পরে। তবে উভয়ের জন্যেই কল্যাণের ওয়াদা দিয়েছেন। তোমরা যা আমল করো সে বিষয়ে খবর রাখেন
সমকালীন বাংলা
আর তোমাদের কী হলো যে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করো না? অথচ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার আল্লাহরই। তোমাদের মধ্যে যারা বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে, তারা সমান নয়। তারা মর্যাদায় তাদের চেয়ে মহান, যারা পরে ব্যয় করেছে এবং যুদ্ধ করেছে। তবে প্রত্যেকের জন্য কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তোমরা যা করো, সে সম্পর্কে অবহিত।
সেদিন তুমি দেখবে, পুরুষ এবং নারীদের, তাদের নূর (আলো) তাদের সামনে এবং ডানে দৌড়াদৌড়ি করছে। তাদের বলা হবে: ‘আজ তোমাদের জন্যে সুসংবাদ জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে জারি থাকবে নদ নদী নহর। সেখানে থাকবে তোমরা চিরকাল। আর এটাই মহাসাফল্য।
সমকালীন বাংলা
যেদিন তুমি পুরুষ ও নারীদের দেখতে পাবে, তাদের আলো তাদের সামনে এবং তাদের ডান দিকে ছুটে চলবে। আজ তোমাদের সুসংবাদ: এমন বেহেস্ত, যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়; সেখানে তোমরা চিরস্থায়ী হবে। এটাই মহাসাফল্য।
يوم يقول المنافقون والمنافقات للذين آمنوا انظرونا نقتبس من نوركم قيل ارجعوا وراءكم فالتمسوا نورا فضرب بينهم بسور له باب باطنه فيه الرحمة وظاهره من قبله العذاب
সেদিন মুনাফিক পুরুষ এবং মুনাফিক নারীরা মুমিনদের বলবে: ‘আপনারা আমাদের জন্যে একটু অপেক্ষা করুন, যাতে আমরা আপনাদের নূর থেকে কিছু (আলো) গ্রহণ করতে পারি।’ তখন তাদের বলা হবে: ‘তোমরা তোমাদের পেছনে ফিরে যাও এবং আলোর সন্ধান করোগিয়ে।’ তখন উভয়ের মাঝখানে স্থাপিত হয়ে যাবে একটি প্রাচীর, যাতে থাকবে একটি দরজা। তার ভেতরভাগে থাকবে রহমত (জান্নাত), আর বহির্ভাগে থাকবে আযাব (জাহান্নাম)।
সমকালীন বাংলা
যেদিন কপট পুরুষ ও কপট নারীরা মুমিনদের বলবে, “আমাদের জন্য অপেক্ষা করো, আমরা তোমাদের আলো থেকে কিছু গ্রহণ করি।” বলা হবে, “তোমরা পিছনে ফিরে যাও এবং আলো অনুসন্ধান করো।” অতঃপর তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে, যার একটি দরজা থাকবে। তার ভেতরের দিকে থাকবে রহমত এবং বাইরের দিকে থাকবে শাস্তি।
তখন মুনাফিকরা মুমিনদের ডেকে বলবে: ‘আমরা কি (পৃথিবীতে) আপনাদের সাথে ছিলাম না?’ তখন তারা বলবে: ‘হাঁ ছিলে, তবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ফিতনায় (পরীক্ষায়) ফেলেছিলে, তোমরা (আমাদের অমঙ্গলের) অপেক্ষা করছিলে, সন্দেহ পোষণ করছিলে এবং অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। এমনি করে আল্লাহর হুকুম (মৃত্যু কিংবা ইসলামের বিজয়) এসে পড়েছিল, আর মহাপ্রতারক (শয়তান) আল্লাহর ব্যাপারে তোমাদের প্রতারিত করে রেখেছিল।
সমকালীন বাংলা
তারা তাদেরকে ডাকবে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?” তারা বলবে, “হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেদেরকে বিপদে ফেলেছিলে, অপেক্ষা করেছিলে, সন্দেহ করেছিলে এবং আকাঙ্ক্ষা তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল, যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ এসে গেল। আর সম্পর্কে সেই প্রতারক তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল।”
সুতরাং আজ তোমাদের থেকে কোনো ফিদিয়া (মুক্তিপণ) গ্রহণ করা হবেনা এবং কাফিরদের থেকেও নয়। জাহান্নামই হবে তোমাদের আবাস এবং সেটাই হবে তোমাদের মাওলা (তত্ত্বাবধায়ক), আর সেটা যে কতো নিকৃষ্ট পরিণাম!
সমকালীন বাংলা
অতএব আজ তোমাদের কাছ থেকে কোনো মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না এবং অবিশ্বাসকারীদের কাছ থেকেও নয়। তোমাদের আবাস আগুন; সেটিই তোমাদের অভিভাবক। আর তা কতই না নিকৃষ্ট পরিণতি!
যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহর যিকির এবং তিনি যে মহাসত্য (আল কুরআন) নাযিল করেছেন তার পাঠে তাদের হৃদয় বিগলিত হবার সময় কি এখনো হয়নি? ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছিল, এরা যেনো তাদের মতো না হয়। (তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে,) একটা দীর্ঘসময় অতিবাহিত হবার পর তাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং তাদের অনেকেই হয়ে পড়েছিল ফাসিক।
সমকালীন বাংলা
যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য কি এখনো সময় আসেনি যে তাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার জন্য নরম হবে এবং তারা তাদের মতো না হয়, যাদেরকে এর আগে কিতাব দেওয়া হয়েছিল? অতঃপর তাদের উপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, ফলে তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। আর তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।
নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ এবং দানশীল নারীদের এবং যারা আল্লাহকে করযে হাসানা (উত্তম ঋণ) দেয়, তাদের (ফেরত) দেয়া হবে বহুগুণ বেশি এবং তাদের জন্যে রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীরা এবং যারা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দিয়েছে, তাদের জন্য তা বহুগুণ করা হবে এবং তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।
যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, তারাই তাদের প্রভুর কাছে সিদ্দিক (সত্যনিষ্ঠ) এবং শহীদ (সত্যের সাক্ষ্য)। তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তাদের পুরস্কার এবং নূর। আর যারা কুফুরি করে এবং অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, তারাই হবে জাহিমের (জাহান্নামের) অধিবাসী।
সমকালীন বাংলা
আর যারা ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই তাদের পালনকর্তার কাছে সত্যবাদী এবং সাক্ষী। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও আলো। আর যারা অবিশ্বাস করেছে এবং আমাদের নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করেছে, তারাই জাহিমের অধিবাসী।
اعلموا أنما الحياة الدنيا لعب ولهو وزينة وتفاخر بينكم وتكاثر في الأموال والأولاد ۖ كمثل غيث أعجب الكفار نباته ثم يهيج فتراه مصفرا ثم يكون حطاما ۖ وفي الآخرة عذاب شديد ومغفرة من الله ورضوان ۚ وما الحياة الدنيا إلا متاع الغرور
জেনে রাখো, দুনিয়ার জীবনটা হলো খেল তামাশা, চাকচিক্য, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধনমাল ও সন্তান - সন্ততির প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা। এর উপমা হলো বৃষ্টি, যার উৎপাদিত শস্য কৃষকদের উৎফুল্ল করে। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে, অবশেষে তা পরিণত হয় খড়কুটায়। আর আখিরাতে রয়েছে কঠোর আযাব, মাগফিরাত (ক্ষমা) এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবনটা প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়।
সমকালীন বাংলা
জেনে রেখো, দুনিয়ার জীবন তো খেলাধুলা, বিনোদন, সাজসজ্জা, তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক গর্ব এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছু নয়। এর দৃষ্টান্ত এমন বৃষ্টির মতো, যার দ্বারা উৎপন্ন শস্য কৃষকদের আনন্দ দেয়; তারপর তা শুকিয়ে যায়, তুমি তা হলুদ দেখতে পাও; তারপর তা খড়কুটো হয়ে যায়। আর পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবন প্রতারণার সামগ্রী ছাড়া আর কিছু নয়।
তোমরা প্রতিযোগিতা করে দৌড়ে এসো তোমাদের প্রভুর ক্ষমার দিকে আর সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান জমিনের প্রশস্ততার মতো। এই জান্নাত প্রস্ত্তত রাখা হয়েছে তাদের জন্যে, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি এবং রসূলদের প্রতি। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। অতীব অনুগ্রহপরায়ণ।
সমকালীন বাংলা
তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং এমন বেহেশতের দিকে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাও, যার বিস্তৃতি আকাশ ও পৃথিবীর বিস্তৃতির মতো, যা প্রস্তুত করা হয়েছে ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের জন্য। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দেন। আর মহা অনুগ্রহের অধিকারী।
যাতে করে তোমরা যা হারাও, তাতে বিমর্ষ না হয়ে পড়ো এবং যা তিনি তোমাদের দেন তাতে অতি উৎফুল্ল না হয়ে পড়ো। তো উদ্ধত দাম্ভিকদের পছন্দ করেন না।
সমকালীন বাংলা
যাতে তোমরা যা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে, তার জন্য দুঃখ না করো এবং তিনি তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তার জন্য আনন্দে আত্মহারা না হও। আর কোনো অহংকারী, গর্বকারীকে ভালোবাসেন না
لقد أرسلنا رسلنا بالبينات وأنزلنا معهم الكتاب والميزان ليقوم الناس بالقسط ۖ وأنزلنا الحديد فيه بأس شديد ومنافع للناس وليعلم الله من ينصره ورسله بالغيب ۚ إن الله قوي عزيز
আমরা আমাদের রসূলদের পাঠিয়েছি সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এবং তাদের সাথে আমরা নাযিল করেছি কিতাব আর মিজান (মানদন্ড), যাতে করে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাছাড়া আমরা নাযিল করেছি ইস্পাত, যাতে রয়েছে প্রচন্ড শক্তি এবং মানুষের জন্যে বহু রকম মুনাফা। এটা এ জন্যে, যাতে বাস্তবে জেনে নেন, না দেখেও কারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলদেরকে সাহায্য করে? নিশ্চয়ই শক্তিমান, পরাক্রমশালী।
সমকালীন বাংলা
নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে কিতাব ও ন্যায়বিচার অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে। আর আমরা লোহা অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে প্রবল শক্তি এবং মানুষের জন্য বহু উপকার। আর যাতে জেনে নেন কে না দেখেও তাঁকে ও তাঁর রাসূলদের সাহায্য করে। নিশ্চয়ই শক্তিশালী, পরাক্রমশালী।
আমরা নূহ এবং ইবরাহিমকে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে দিয়েছিলাম নবুয়্যত এবং কিতাব। কিন্তু তাদের কিছু লোক হিদায়াতের পথ অনুসরণ করলেও অধিকাংশই ছিলো ফাসিক।
সমকালীন বাংলা
আর অবশ্যই আমরা নূহ ও ইবরাহীমকে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে নবুয়ত ও কিতাব স্থাপন করেছিলাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ সঠিক পথে ছিল এবং তাদের অধিকাংশই ছিল অবাধ্য।
ثم قفينا على آثارهم برسلنا وقفينا بعيسى ابن مريم وآتيناه الإنجيل وجعلنا في قلوب الذين اتبعوه رأفة ورحمة ورهبانية ابتدعوها ما كتبناها عليهم إلا ابتغاء رضوان الله فما رعوها حق رعايتها ۖ فآتينا الذين آمنوا منهم أجرهم ۖ وكثير منهم فاسقون
আর আমরা তাদের আদর্শের অনুগামী করেছিলাম আরো অনেক রসূলকে এবং অনুগামী করেছিলাম ঈসা ইবনে মরিয়মকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইনজিল। তার অনুসারীদের অন্তরে দিয়েছিলাম, করুণা এবং দয়া। আর বৈরাগ্য - যা তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যে উদ্ভাবন করে নিয়েছিল, আমরা এই বিধান তাদের দেইনি। অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। ফলে তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমরা তাদের দিয়েছিলাম তাদের পুরস্কার। তবে তাদের অধিকাংশই ছিলো ফাসিক (সত্যত্যাগী)।
সমকালীন বাংলা
তারপর তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়ে আমরা আমাদের রাসূলদের পাঠিয়েছি এবং মরিয়মের পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি। আর আমরা তাকে ইঞ্জিল দিয়েছি এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে তাদের অন্তরে দয়া ও করুণা স্থাপন করেছি। আর সন্ন্যাসবাদ তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছে; আমরা তা তাদের উপর বিধান করিনি, শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা ছাড়া। কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে, আমরা তাদের পুরস্কার দিয়েছি; আর তাদের অধিকাংশই ছিল অবাধ্য।
হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং ঈমান আনো তাঁর রসূলের প্রতি, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদের দেবেন দ্বিগুণ পুরস্কার, আর তোমাদের দেবেন নূর (আলো) যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে (জীবন যাপন করবে) এবং তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াবান।
সমকালীন বাংলা
হে যারা ঈমান এনেছো, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো। তিনি তোমাদেরকে তাঁর দয়ায় দ্বিগুণ অংশ দেবেন এবং তোমাদের জন্য এমন আলো করবেন যার মাধ্যমে তোমরা চলবে এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর ক্ষমাশীল, দয়ালু।
এটা এজন্যে যে, আহলে কিতাবরা যেনো জানতে পারে, আল্লাহর সামান্যতম অনুগ্রহের উপরও তাদের কোনো অধিকার নেই। সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহরই এখতিয়ারে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর মহা অনুগ্রহশীল।
সমকালীন বাংলা
যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা জানতে পারে যে তারা আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো কিছুর উপর ক্ষমতা রাখে না এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতেই; তিনি যাকে ইচ্ছা তা দেন। আর মহা অনুগ্রহের অধিকারী।