সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে সমতুল্য স্থির করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং এই পৃথিবী, যিনি তৈরি করেছেন অন্ধকাররাশি আর আলো। এরপরও কাফিররা তাদের রবের সাথে (তাঁর সৃষ্টিকে) তুলনা করে।
Arabic
هو الذي خلقكم من طين ثم قضى أجلا ۖ وأجل مسمى عنده ۖ ثم أنتم تمترون
তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, তারপর নির্ধারণ করে দিয়েছেন একটি মেয়াদকাল, আর ঠিক করেছেন একটি নির্দিষ্ট সময় (কিয়ামত) যা কেবল তিনিই জানেন। তারপরও তোমরা সন্দেহ করছো।
Arabic
وهو الله في السماوات وفي الأرض ۖ يعلم سركم وجهركم ويعلم ما تكسبون
অতএব, অবশ্য তারা সত্যকে মিথ্যা বলেছে যখন তা তাদের কাছে এসেছে। বস্তুতঃ অচিরেই তাদের কাছে ঐ বিষয়ের সংবাদ আসবে, যার সাথে তারা উপহাস করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কাছে মহাসত্য আসার পর তারা তা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করেছে, অচিরেই তার আসল সংবাদ তাদের কাছে এসে যাবে।
Arabic
ألم يروا كم أهلكنا من قبلهم من قرن مكناهم في الأرض ما لم نمكن لكم وأرسلنا السماء عليهم مدرارا وجعلنا الأنهار تجري من تحتهم فأهلكناهم بذنوبهم وأنشأنا من بعدهم قرنا آخرين
তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা কি দেখেনা, আমরা তাদের আগে কতো জনপদকে হালাক করে দিয়েছি। জমিনে তাদের এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যে রকম প্রতিষ্ঠা তোমাদেরকেও দেইনি। তাদের প্রতি আমরা মুষুলধারে বৃষ্টিপাত করেছিলাম, তাদের জমিনে নদ নদী প্রবাহিত করে দিয়েছিলাম। তারপর তাদের পাপের কারণে আমরা তাদের হালাক করে দিয়েছি এবং তাদের পরে সৃষ্টি করেছি অপর একটি প্রজন্ম।
Arabic
ولو نزلنا عليك كتابا في قرطاس فلمسوه بأيديهم لقال الذين كفروا إن هذا إلا سحر مبين
যদি আমি কাগজে লিখিত কোন বিষয় তাদের প্রতি নাযিল করতাম, অতঃপর তারা তা সহস্তে স্পর্শ করত, তবুও অবিশ্বাসীরা একথাই বলত যে, এটা প্রকাশ্য জাদু বৈ কিছু নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যদি তোমার কাছে কাগজে লেখা একটি কিতাব পাঠিয়ে দিতাম, আর তারা যদি তা নিজেদের হাতেও স্পর্শ করতো, তবু কাফিররা বলতো, এ তো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক ছাড়া আর কিছুই নয়।’
Arabic
وقالوا لولا أنزل عليه ملك ۖ ولو أنزلنا ملكا لقضي الأمر ثم لا ينظرون
তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘তার কাছে কোনো ফেরেশতা পাঠানো হলোনা কেন?’ - আমরা যদি ফেরেশতা পাঠাতাম তবে তো চূড়ান্ত ফায়সালাই হয়ে যেতো, তারপর তাদেরকে আর কোনো অবকাশই দেয়া হতোনা।
Arabic
ولو جعلناه ملكا لجعلناه رجلا وللبسنا عليهم ما يلبسون
যদি আমি কোন ফেরেশতাকে রসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের আকারেই হত। এতেও ঐ সন্দেহই করত, যা এখন করছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাকে যদি আমরা ফেরেশ্তাও বানাতাম, তারপরও তো তাকে একজন মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম। তখনো তো তাদের সেরকম বিভ্রান্তিতেই ফেলতাম, যেরকম বিভ্রান্তিতে এখন তারা আছে।
Arabic
ولقد استهزئ برسل من قبلك فحاق بالذين سخروا منهم ما كانوا به يستهزئون
নিশ্চয়ই আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরগণের সাথেও উপহাস করা হয়েছে। অতঃপর যারা তাঁদের সাথে উপহাস করেছিল, তাদেরকে ঐ শাস্তি বেষ্টন করে নিল, যা নিয়ে তারা উপহাস করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার আগেও বহু রসূলকেই বিদ্রুপ করা হয়েছে। তারা যা নিয়ে বিদ্রুপ করছিল, অবশেষে তা - ই বিদ্রুপকারীদের পরিবেষ্টন করে নেয়।
Arabic
قل سيروا في الأرض ثم انظروا كيف كان عاقبة المكذبين
জিজ্ঞেস করুন, নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে যা আছে, তার মালিক কে? বলে দিনঃআল্লাহ। তিনি অনুকম্পা প্রদর্শনকে নিজ দায়িত্বে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন। তিনি অবশ্যই তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন। এর আগমনে কোন সন্দেহ নেই। যারা নিজেদের কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারাই বিশ্বাস স্থাপন করে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘মহাকাশ আর এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলো কার?’ বলো: ‘আল্লাহর।’ রহম (দয়া) করা তিনি তাঁর দায়িত্ব হিসেবে লিখে নিয়েছেন। অবশ্য অবশ্যি তিনি তোমাদের জমা করবেন কিয়ামতের দিন, এতে কোনোই সন্দেহ্ নেই। যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা আর ঈমান আনবেনা।
আপনি বলে দিনঃ আমি কি ব্যতীত - যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের স্রষ্টা এবং যিনি সবাইকে আহার্য দানকরেন ও তাঁকে কেউ আহার্য দান করে না অপরকে সাহায্যকারী স্থির করব? আপনি বলে দিনঃ আমি আদিষ্ট হয়েছি যে, সর্বাগ্রে আমিই আজ্ঞাবহ হব। আপনি কদাচ অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘আমি কি মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকেও অলি হিসেবে গ্রহণ করবো? অথচ তিনিই আহার যোগান, কিন্তু তাকে তো কেউ আহার দেয়না।’ হে নবী! বলো: ‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আমিই যেনো প্রথম ব্যক্তি হই।’ আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘তুমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল হয়োনা।’
তিনি নিজ বান্দাদের উপর প্রচন্ড ক্ষমতাশালী। তিনি মহাপ্রজ্ঞাবান, সব বিষয়ে খবর রাখেন।
Arabic
قل أي شيء أكبر شهادة ۖ قل الله ۖ شهيد بيني وبينكم ۚ وأوحي إلي هذا القرآن لأنذركم به ومن بلغ ۚ أئنكم لتشهدون أن مع الله آلهة أخرى ۚ قل لا أشهد ۚ قل إنما هو إله واحد وإنني بريء مما تشركون
আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ সর্ববৃহৎ সাক্ষ্যদাতা কে ? বলে দিনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আমার প্রতি এ কোরআন অবর্তীর্ণ হয়েছে - যাতে আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে এ কোরআন পৌঁছে সবাইকে ভীতি প্রদর্শন করি। তোমরা কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্যও রয়েছে ? আপনি বলে দিনঃ আমি এরূপ সাক্ষ্য দেব না। বলে দিনঃ তিনিই একমাত্র উপাস্য; আমি অবশ্যই তোমাদের শিরক থেকে মুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
ওদের জিজ্ঞেস করো: ‘সাক্ষ্য প্রদানে সর্বশ্রেষ্ঠ কে’? বলো: ‘’। তিনিই আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী। আর এ কুরআন আমার কাছে অহি করা হয়েছে যেনো আমি তোমাদেরকে এবং যাদের কাছে তা পৌঁছে তাদেরকে এর মাধ্যমে সতর্ক করি। তোমরা কি এ সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে আরো ইলাহ্ আছে?’ বলো: ‘আমি এ সাক্ষ্য দেইনা।’ বলো: ‘অবশ্যি তিনি একমাত্র ইলাহ্ ; আর তোমরা (তাঁর সাথে) যে শরিক করছো আমি তা থেকে একেবারেই নিঃসম্পর্ক।’
Arabic
الذين آتيناهم الكتاب يعرفونه كما يعرفون أبناءهم ۘ الذين خسروا أنفسهم فهم لا يؤمنون
যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চিনে, যেমন তাদের সন্তানদেরকে চিনে। যারা নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা ইতোপূর্বে, যাদের কিতাব দিয়েছি, তারা (ইহুদি খৃষ্টানরা) তাকে (শেষ নবী মুহাম্মদকে) ঠিক সেরকমই চিনে যেমন চিনে তাদের নিজেদের সন্তানদের। যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে তারা ঈমান আনবেনা।
Arabic
ومن أظلم ممن افترى على الله كذبا أو كذب بآياته ۗ إنه لا يفلح الظالمون
দেখতো, কিভাবে মিথ্যা বলছে নিজেদের বিপক্ষে ? এবং যেসব বিষয় তারা আপনার প্রতি মিছামিছি রচনা করত, তা সবই উধাও হয়ে গেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
দেখো, তারা নিজেদের প্রতি কিভাবে মিথ্যারোপ করছে, আর তারা যে মিথ্যা রচনা করতো, তা (সেসব উপাস্যরা) কিভাবে তাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।
Arabic
ومنهم من يستمع إليك ۖ وجعلنا على قلوبهم أكنة أن يفقهوه وفي آذانهم وقرا ۚ وإن يروا كل آية لا يؤمنوا بها ۚ حتى إذا جاءوك يجادلونك يقول الذين كفروا إن هذا إلا أساطير الأولين
তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কিছু লোক তোমার দিকে কান পেতে রাখে আর আমি কিন্তু তাদের অন্তরের উপর আবরণ ফেলে রেখেছি, যেনো তারা তা বুঝতে না পারে, এছাড়া তাদের কানেও পর্দা লাগিয়ে দিয়েছি। সব নিদর্শন দেখলেও তারা ঈমান আনবেনা। তারা যখন তোমার কাছে আসে, তোমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। যারা কুফুরি করেছে তারা বলে: এতো পূর্ববর্তী লোকদের কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।
Arabic
وهم ينهون عنه وينأون عنه ۖ وإن يهلكون إلا أنفسهم وما يشعرون
আর আপনি যদি দেখেন, যখন তাদেরকে দোযখের উপর দাঁড় করানো হবে! তারা বলবেঃ কতই না ভাল হত, যদি আমরা পুনঃ প্রেরিত হতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যদি দেখতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারে দাঁড় করানো হবে আর তারা বলবে: ‘হায়, যদি আমাদের পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো হতো, তাহলে আমরা আর আমাদের প্রভুর আয়াতকে অস্বীকার করতামনা এবং আমরা মুমিনদের অন্তরভুক্ত হয়ে যেতাম।’
Arabic
بل بدا لهم ما كانوا يخفون من قبل ۖ ولو ردوا لعادوا لما نهوا عنه وإنهم لكاذبون
এবং তারা ইতি পূর্বে যা গোপন করত, তা তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। যদি তারা পুনঃ প্রেরিত হয়, তবুও তাই করবে, যা তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
না, বরং তারা ইতোপূর্বে যা গোপন করতো তা প্রকাশ হয়ে গেছে। তাদেরকে যদি ফেরতও পাঠানো হয়, পুনরায় তারা তাই করবে, যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্যি তারা মিথ্যাবাদী।
আর যদি আপনি দেখেন; যখন তাদেরকে প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে। তিনি বলবেনঃ এটা কি বাস্তব সত্য নয়? তারা বলবেঃ হঁ্যা আমাদের প্রতিপালকের কসম। তিনি বলবেনঃ অতএব, স্বীয় কুফরের কারণে শাস্তি আস্বাদন কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যদি দেখতে তাদেরকে যখন তাদের প্রভুর সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি যখন তাদের বলবেন: ‘এটা (পুনরুত্থান) কি সত্য নয়?’ তারা বলবে: ‘নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর শপথ!’ তখন তিনি তাদের বলবেন: ‘তোমরা যে কুফুরি করতে তার কারণে এখন স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’
Arabic
قد خسر الذين كذبوا بلقاء الله ۖ حتى إذا جاءتهم الساعة بغتة قالوا يا حسرتنا على ما فرطنا فيها وهم يحملون أوزارهم على ظهورهم ۚ ألا ساء ما يزرون
নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে। এমনকি, যখন কিয়ামত তাদের কাছে অকস্মাৎ এসে যাবে, তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এর ব্যাপারে আমরা কতই না ক্রটি করেছি। তার স্বীয় বোঝা স্বীয় পৃষ্ঠে বহন করবে। শুনে রাখ, তারা যে বোঝা বহন করবে, তা নিকৃষ্টতর বোঝা।
আবদুস শহীদ নাসিম
অবশ্যি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা, যারা আল্লাহর সাথে মোলাকাত হওয়ার বিষয়কে অস্বীকার করেছে। হঠাত যখন তাদের সামনে কিয়ামত উপস্থিত হয়ে যাবে তখন তারা বলবে: ‘হায় আক্ষেপ, আমরা কেন এ জিনিসকে অবহেলা করেছিলাম।’ তারা তাদের পিঠে করে পাপের বোঝা বহন করবে। তারা যা বহন করবে তা যে কতো নিকৃষ্ট!
Arabic
وما الحياة الدنيا إلا لعب ولهو ۖ وللدار الآخرة خير للذين يتقون ۗ أفلا تعقلون
আপনার পূর্ববর্তী অনেক পয়গম্বরকে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাঁরা এতে ছবর করেছেন। তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছে পর্যন্ত তারা নির্যাতিত হয়েছেন। আল্লাহর বানী কেউ পরিবর্তন করতে পারে না। আপনার কাছে পয়গম্বরদের কিছু কাহিনী পৌঁছেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার আগে অনেক রসূলকেই মিথ্যাবাদী বলে অস্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে অস্বীকার এবং কষ্ট দেয়া সত্ত্বেও তারা সবর অবলম্বন করেছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছে। আল্লাহর আদেশ বদল হবার নয়। (অতীত) রসূলদের সংবাদ তো তোমার কাছে এসেছেই।
Arabic
وإن كان كبر عليك إعراضهم فإن استطعت أن تبتغي نفقا في الأرض أو سلما في السماء فتأتيهم بآية ۚ ولو شاء الله لجمعهم على الهدى ۚ فلا تكونن من الجاهلين
আর যদি তাদের বিমুখতা আপনার পক্ষে কষ্টকর হয়, তবে আপনি যদি ভূতলে কোন সুড়ঙ্গ অথবা আকাশে কোন সিড়ি অনুসন্ধান করতে সমর্থ হন, অতঃপর তাদের কাছে কোন একটি মোজেযা আনতে পারেন, তবে নিয়ে আসুন। ইচ্ছা করলে সবাইকে সরল পথে সমবেত করতে পারতেন। অতএব, আপনি নির্বোধদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তোমার প্রতি) তাদের উপেক্ষা যদি তোমার কাছে অসহনীয় হয়, তবে যদি তোমার ক্ষমতা থাকে মাটির ভেতরে সুড়ঙ্গ খুঁজে নাও, কিংবা আকাশে উঠার মই খুঁজে নাও এবং তাদের জন্যে কোনো নিদর্শন নিয়ে এসো। আসলে চাইলে অবশ্যি তাদের সবাইকে হিদায়াতের উপর একত্র করে দিতেন। সুতরাং তুমি অজ্ঞদের মধ্যে শামিল হয়োনা।
Arabic
۞ إنما يستجيب الذين يسمعون ۘ والموتى يبعثهم الله ثم إليه يرجعون
আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
পৃথিবীর বুকে বিচরণশীল এমন কোনো প্রাণী নেই এবং ডানার সাহায্যে উড়ে এমন কোনো পাখি নেই, যারা তোমাদের মতোই বিভিন্ন সম্প্রদায় ছাড়া কিছু নয়। আমরা আল কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি। অবশেষে তাদেরকে তাদের প্রভুর কাছে হাশর করা হবে।
Arabic
والذين كذبوا بآياتنا صم وبكم في الظلمات ۗ من يشإ الله يضلله ومن يشأ يجعله على صراط مستقيم
বলুন, বলতো দেখি, যদি তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি পতিত হয় কিংবা তোমাদের কাছে কিয়ামত এসে যায়, তবে তোমরা কি ব্যতীত অন্যকে ডাকবে যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তোমরা চিন্তা করে দেখো, তোমাদের উপর যদি (হঠাৎ) আল্লাহর আযাব এসে পড়ে, কিংবা এসে পড়ে কিয়ামত, তখন কি তোমরা ছাড়া আর কাউকেও ডাকবে? সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো।’
Arabic
بل إياه تدعون فيكشف ما تدعون إليه إن شاء وتنسون ما تشركون
বরং তোমরা তো তাঁকেই ডাকবে। অতঃপর যে বিপদের জন্যে তাঁকে ডাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তা দুরও করে দেন। যাদেরকে অংশীদার করছ, তখন তাদেরকে ভুলে যাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘না, বরং তোমরা তখন কেবল তাঁকেই ডাকবে। তারপর তোমরা যে কষ্টের জন্যে তাঁকে ডাকো তিনি চাইলে তা দূর করে দেন; আর তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করো তখন তাদের কথা ভুলে থাকো।’
Arabic
ولقد أرسلنا إلى أمم من قبلك فأخذناهم بالبأساء والضراء لعلهم يتضرعون
আর আমি আপনার পূর্ববর্তী উম্মতদের প্রতিও পয়গম্বর প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে অভাব - অনটন ও রোগ - ব্যধি দ্বারা পাকড়াও করেছিলাম যাতে তারা কাকুতি মিনতি করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের আগে বহু উম্মতের কাছে আমরা রসূল পাঠিয়েছি, তারপর তাদেরকে আমরা দুর্ভিক্ষ ও দুঃখ কষ্ট দিয়ে সাজা দিয়েছি যাতে করে তারা বিনয়ী হয়।
Arabic
فلولا إذ جاءهم بأسنا تضرعوا ولكن قست قلوبهم وزين لهم الشيطان ما كانوا يعملون
অতঃপর তাদের কাছে যখন আমার আযাব আসল, তখন কেন কাকুতি - মিনতি করল না ? বস্তুতঃ তাদের অন্তর কঠোর হয়ে গেল এবং শয়তান তাদের কাছে সুশোভিত করে দেখাল, যে কাজ তারা করছিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের সাজা তাদের উপর এসে পড়ার প্রাক্কালে কেন তারা বিনয়ী হলোনা? বরঞ্চ তাদের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল আর শয়তান তাদের কর্মকান্ডকে তাদের কাছে মনোহরী করে তুলে ধরেছিল।
Arabic
فلما نسوا ما ذكروا به فتحنا عليهم أبواب كل شيء حتى إذا فرحوا بما أوتوا أخذناهم بغتة فإذا هم مبلسون
অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্যে তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদের জন্যে সবকিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। তাদের যা দেয়া হয়েছিল সেগুলোতে যখন তারা মত্ত হয়ে পড়েছিল, তখন আমরা আকস্মিক তাদের পাকড়াও করেছি, ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়েছিল।
Arabic
فقطع دابر القوم الذين ظلموا ۚ والحمد لله رب العالمين
আপনি বলুনঃ বল তো দেখি, যদি তোমাদের কান ও চোখ নিয়ে যান এবং তোমাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন, তবে এবং তোমাদের ব্যতীত এমন উপাস্য কে আছে, যে তোমাদেরকে এগুলো এনে দেবে? দেখ, আমি কিভাবে ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি। তথাপি তারা বিমুখ হচ্ছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি, যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি নিয়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে সীলগালা করে দেন, তবে ছাড়া কোন্ আছে তোমাদের এগুলো ফিরিয়ে দেবে?’ দেখো, কিভাবে আমরা নিদর্শনসমূহ বিশদ বর্ণনা করছি। তা সত্ত্বেও তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
Arabic
قل أرأيتكم إن أتاكم عذاب الله بغتة أو جهرة هل يهلك إلا القوم الظالمون
আমি পয়গম্বরদেরকে প্রেরণ করি না, কিন্তু সুসংবাদাতা ও ভীতি প্রদর্শকরূপে অতঃপর যে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সংশোধিত হয়, তাদের কোন শঙ্কা নেই এবং তারা দুঃখিত হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা রসূলদের পাঠাই তো সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। অতপর যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তাদের কোনো ভয়ও থাকবেনা, দুঃখও থাকবেনা।
Arabic
والذين كذبوا بآياتنا يمسهم العذاب بما كانوا يفسقون
আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না ?
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘আমি তোমাদের বলছিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে! গায়েবের এলেমও আমার নেই। তাছাড়া আমি তোমাদের একথাও বলছিনা যে, আমি একজন ফেরেশ্তা। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা অহি করা হয় আমার প্রতি।’ বলো: অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান?’ তোমরা কি চিন্তা করে দেখবেনা?
Arabic
وأنذر به الذين يخافون أن يحشروا إلى ربهم ۙ ليس لهم من دونه ولي ولا شفيع لعلهم يتقون
আপনি এ কোরআন দ্বারা তাদেরকে ভয় - প্রদর্শন করুন, যারা আশঙ্কা করে স্বীয় পালনকর্তার কাছে এমতাবস্থায় একত্রিত হওয়ার যে, তাদের কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না - যাতে তারা গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি তা (কুরআন) দিয়ে সেইসব লোকদের সতর্ক করো যারা তাদের প্রভুর কাছে হাশর হবার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত থাকে। তিনি ছাড়া তাদের কোনো অলি কিংবা শাফায়াতকারী নেই। হয়তো তারা সতর্ক হবে।
Arabic
ولا تطرد الذين يدعون ربهم بالغداة والعشي يريدون وجهه ۖ ما عليك من حسابهم من شيء وما من حسابك عليهم من شيء فتطردهم فتكون من الظالمين
আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা সকাল - বিকাল স্বীয় পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের হিসাব বিন্দুমাত্রও আপনার দায়িত্বে নয় এবং আপনার হিসাব বিন্দুমাত্রও তাদের দায়িত্বে নয় যে, আপনি তাদেরকে বিতাড়িত করবেন। নতুবা আপনি অবিচারকারীদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের প্রভুকে ডাকে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায়, তাদের তুমি তাড়িয়ে দিয়োনা। তাদের কাজের জবাবদিহির দায়িত্ব তোমার নয়, আর তোমার কোনো কাজের জবাবদিহির দায়িত্বও তাদের নয় যে, তুমি তাদের বিতাড়িত করবে। তা করলে তুমি যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।
Arabic
وكذلك فتنا بعضهم ببعض ليقولوا أهؤلاء من الله عليهم من بيننا ۗ أليس الله بأعلم بالشاكرين
আর এভাবেই আমি কিছু লোককে কিছু লোক দ্বারা পরীক্ষায় ফেলেছি যাতে তারা বলে যে, এদেরকেই কি আমাদের সবার মধ্য থেকে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেছেন? কি কৃতজ্ঞদের সম্পর্কে সুপরিজ্ঞাত নন ?
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই আমরা তাদের একদল লোককে দিয়ে আরেক দলকে পরীক্ষা করেছি যাতে করে তারা বলে: ‘আমাদের মধ্যে কি এদেরকেই অনুগ্রহ করলেন?’ শোকরগুজার লোক কারা, তা কি অধিক জানেন না?
Arabic
وإذا جاءك الذين يؤمنون بآياتنا فقل سلام عليكم ۖ كتب ربكم على نفسه الرحمة ۖ أنه من عمل منكم سوءا بجهالة ثم تاب من بعده وأصلح فأنه غفور رحيم
আর যখন তারা আপনার কাছে আসবে যারা আমার নিদর্শনসমূহে বিশ্বাস করে, তখন আপনি বলে দিনঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তোমাদের পালনকর্তা রহমত করা নিজ দায়িত্বে লিখে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্যে যে কেউ অজ্ঞতাবশতঃ কোন মন্দ কাজ করে, অনন্তর এরপরে তওবা করে নেয় এবং সৎ হয়ে যায়, তবে তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, করুণাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমাদের আয়াতের প্রতি যারা ঈমান আনে তারা যখন তোমার কাছে আসে, তুমি তাদের বলবে: ‘সালামুন আলাইকুম - তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।’ তোমাদের প্রভু দয়া করাকে নিজের কর্তব্য বলে লিখে নিয়েছেন। তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত বদ আমল করে, তারপর তওবা করে এবং নিজেকে এসলাহ্ (সংশোধন) করে নেয়, তবে (তার প্রতি) পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
আপনি বলে দিনঃ আমাকে তাদের এবাদত করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদের এবাদত কর। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের খুশীমত চলবো না। কেননা, তাহলে আমি পথভ্রান্ত হয়ে যাব এবং সুপথগামীদের অন্তর্ভুক্ত হব না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘তোমরা ছাড়া আর যাদের ডাকো, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে তাদের ইবাদত করতে।’ বলো ‘আমি ইত্তেবা (অনুসরণ) করিনা তোমাদের খেয়াল খুশির, তা করলে তো আমি গোমরাহ হয়ে পড়বো এবং আমি হিদায়াত প্রাপ্ত লোকদের মধ্যে শামিল থাকবোনা।’
Arabic
قل إني على بينة من ربي وكذبتم به ۚ ما عندي ما تستعجلون به ۚ إن الحكم إلا لله ۖ يقص الحق ۖ وهو خير الفاصلين
আপনি বলে দিনঃ আমার কাছে প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি প্রমাণ আছে এবং তোমরা তার প্রতি মিথ্যারোপ করেছ। তোমরা যে বস্তু শীঘ্র দাবী করছ, তা আমার কাছে নেই। ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠতম মীমাংসাকারী।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘অবশ্যি আমি আমার প্রভুর সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি, অথচ তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করছো। তোমরা যা নগদ চাইছো তা আমার কাছে নেই। কারোই কোনো কর্তৃত্ব নেই আল্লাহর ছাড়া। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’
Arabic
قل لو أن عندي ما تستعجلون به لقضي الأمر بيني وبينكم ۗ والله أعلم بالظالمين
আপনি বলে দিনঃ যদি আমার কাছে তা থাকত, যা তোমরা শীঘ্র দাবী করছ, তবে আমার ও তোমাদের পারস্পরিক বিবাদ কবেই চুকে যেত। জালেমদের সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে অবহিত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যে জিনিসটা নগদ চাইছো তা যদি আমার হাতে থাকতো, তাহলে আমার এবং তোমাদের মধ্যকার বিষয়টি ফায়সালাই হয়ে যেতো। আল্লাহ্ই অধিক জানেন যালিমদের।
Arabic
۞ وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو ۚ ويعلم ما في البر والبحر ۚ وما تسقط من ورقة إلا يعلمها ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين
তাঁর কাছেই জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
- এর চাবি তো তাঁরই কাছে। তিনি ছাড়া তা আর কেউই জানেনা। তিনি জানেন যা কিছু আছে স্থলে এবং সমুদ্রে। গাছের একটি পাতাও পড়েনা তাঁর অবগতি ছাড়া। একটি বীজও অংকুরিত হয়না অন্ধকার ভূ - গর্ভে, অথবা রসযুক্ত বা শুকনো কোনো বস্ত্ত নেই যা একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়।
Arabic
وهو الذي يتوفاكم بالليل ويعلم ما جرحتم بالنهار ثم يبعثكم فيه ليقضى أجل مسمى ۖ ثم إليه مرجعكم ثم ينبئكم بما كنتم تعملون
তিনিই রাত্রি বেলায় তোমাদেরকে করায়ত্ত করে নেন এবং যা কিছু তোমরা দিনের বেলায় কর, তা জানেন। অতঃপর তোমাদেরকে দিবসে সম্মুখিত করেন - যাতে নির্দিষ্ট ওয়াদা পূর্ণ হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই রাতের কালে তোমাদের মৃত্যু দেন এবং তিনি জানেন দিনের বেলায় তোমরা যা করো। তারপর তিনি তোমাদের জাগিয়ে তোলেন যাতে করে নির্ধারিত সময় পূর্ণ হয়। এরপর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে এবং তিনি তোমাদের অবগত করবেন তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।
Arabic
وهو القاهر فوق عباده ۖ ويرسل عليكم حفظة حتى إذا جاء أحدكم الموت توفته رسلنا وهم لا يفرطون
অনন্তর তাঁরই দিকে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমাদেরকে বলে দিবেন, যা কিছু তোমরা করছিলে। তিনিই স্বীয় বান্দাদের উপর প্রবল। তিনি প্রেরণ করেন তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার প্রেরিত ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিজ বান্দাদের উপর তিনি দুর্জয় ক্ষমতাধর। তিনি তোমাদের উপর রক্ষক পাঠান। অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় হয়, তখন আমার প্রেরিত (ফেরেশতারা) তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনোই ত্রুটি করেনা।
Arabic
ثم ردوا إلى الله مولاهم الحق ۚ ألا له الحكم وهو أسرع الحاسبين
আপনি বলুনঃ কে তোমাদেরকে স্থল ও জলের অন্ধকার থেকে উদ্ধার করেন, যখন তোমরা তাঁকে বিনীতভাবে ও গোপনে আহবান কর যে, যদি আপনি আমাদের কে এ থেকে উদ্ধার করে নেন, তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘কে তোমাদের নাজাত দেয় ভূ - খন্ড ও সমুদ্রের অন্ধকার (বিপদ) থেকে, যখন তোমরা কেবল তাঁকেই ডাকো বিনত হয়ে এবং গোপনে?’ যখন তোমরা বলো: ‘তিনি যদি এ থেকে আমাদের নাজাত দেন, তবে অবশ্যি আমরা শোকর গোজার হবো।’
আপনি বলুনঃ তিনিই শক্তিমান যে, তোমাদের উপর কোন শাস্তি উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন অথবা তোমাদেরকে দলে - উপদলে বিভক্ত করে সবাইকে মুখোমুখী করে দিবেন এবং এককে অন্যের উপর আক্রমণের স্বাদ আস্বাদন করাবেন। দেখ, আমি কেমন ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি যাতে তারা বুঝে নেয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘তিনি সক্ষম উপর থেকে তোমাদের প্রতি আযাব পাঠাতে, অথবা তোমাদের পদতল থেকে, কিংবা তোমাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করতে এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়ার স্বাদ আস্বাদন করাতে। দেখো, আমরা কিভাবে আয়াত সমূহ বর্ণনা করছি যাতে করে তারা বুঝে।
যখন আপনি তাদেরকে দেখেন, যারা আমার আয়াত সমূহে ছিদ্রান্বেষণ করে, তখন তাদের কাছ থেকে সরে যান যে পর্যন্ত তারা অন্য কথায় প্রবৃত্ত না হয়, যদি শয়তান আপনাকে ভূলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর জালেমদের সাথে উপবেশন করবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি যখন দেখবে, তারা আমার আয়াত সমূহ নিয়ে বিদ্রুপাত্মক আলোচনায় লিপ্ত, তখন তুমি তাদের থেকে সরে যাও, যতোক্ষণ না তারা কথার প্রসঙ্গ পাল্টায়। শয়তান যদি তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণ হবার পর যালিমদের সাথে আর বসবেনা।
Arabic
وما على الذين يتقون من حسابهم من شيء ولكن ذكرى لعلهم يتقون
এদের যখন বিচার করা হবে তখন পরহেযগারদের উপর এর কোন প্রভাব পড়বে না; কিন্তু তাদের দায়িত্ব উপদেশ দান করা যাতে ওরা ভীত হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কোনো কাজের হিসাব দেয়া তাকওয়া অবলম্বনকারীদের দায়িত্ব নয়। তবে তাদের কর্তব্য উপদেশ দেয়া, যাতে করে ওরাও তাকওয়া অবলম্বন করে।
Arabic
وذر الذين اتخذوا دينهم لعبا ولهوا وغرتهم الحياة الدنيا ۚ وذكر به أن تبسل نفس بما كسبت ليس لها من دون الله ولي ولا شفيع وإن تعدل كل عدل لا يؤخذ منها ۗ أولئك الذين أبسلوا بما كسبوا ۖ لهم شراب من حميم وعذاب أليم بما كانوا يكفرون
তাদেরকে পরিত্যাগ করুন, যারা নিজেদের ধর্মকে ক্রীড়া ও কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছে এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে। কোরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিন, যাতে কেউ স্বীয় কর্মে এমন ভাবে গ্রেফতার না হয়ে যায় যে, ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী নেই এবং যদি তারা জগতের বিনিময়ও প্রদান কবে, তবু তাদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না। একাই স্বীয় কর্মে জড়িত হয়ে পড়েছে। তাদের জন্যে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে - কুফরের কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা তাদের দীনকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং যাদেরকে প্রতারিত করে রাখে দুনিয়ার জীবন, তুমি তাদের সংগ ত্যাগ করো এবং এ (কুরআন) নিয়ে তাদের উপদেশ দিতে থাকো, যাতে করে কেউ নিজ কৃতকর্মের কারণে ধ্বংস হয়ে না যায়। তার জন্যে তো ছাড়া কোনো অলি এবং সুপারিশকারী নেই। আর তারা মুক্তির বিনিময়ে সব কিছু দিলেও তা গ্রহণ করা হবেনা। এরা হলো সেইসব লোক যারা নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে ধ্বংস হবে। তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানি আর বেদনাদায়ক আযাব তাদের কুফুরির কারণে।
Arabic
قل أندعو من دون الله ما لا ينفعنا ولا يضرنا ونرد على أعقابنا بعد إذ هدانا الله كالذي استهوته الشياطين في الأرض حيران له أصحاب يدعونه إلى الهدى ائتنا ۗ قل إن هدى الله هو الهدى ۖ وأمرنا لنسلم لرب العالمين
আপনি বলে দিনঃ আমরা কি ব্যতীত এমন বস্তুকে আহবান করব, যে আমাদের উপকার করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারে না এবং আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাব, এরপর যে, আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছেন? ঐ ব্যক্তির মত, যাকে শয়তানরা বনভুমিতে বিপথগামী করে দিয়েছে - সে উদভ্রান্ত হয়ে ঘোরাফেরা করছে। তার সহচররা তাকে পথের দিকে ডেকে বলছেঃ আস, আমাদের কাছে। আপনি বলে দিনঃ নিশ্চয় আল্লাহর পথই সুপথ। আমরা আদিষ্ট হয়েছি যাতে স্বীয় পালনকর্তা আজ্ঞাবহ হয়ে যাই।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: আমরা কি ছাড়া এমন কিছুকে (ইলাহ্ হিসেবে) ডাকবো, যেগুলো আমাদের না কোনো লাভ করতে পারে, আর না ক্ষতি? আমাদের হিদায়াত করার পর আমরা কি আবার ঐ ব্যক্তির মতো পেছনে ফিরে যাবো যাকে শয়তান পৃথিবীতে পথ ভুলিয়ে হয়রান করে ফেলেছে? অথচ তার সাথিরা তাকে সঠিক পথের দিকে ডেকে বলে: ‘এসো আমাদের কাছে।’ বলো: ‘আল্লাহর হিদায়াতই একমাত্র হিদায়াত এবং আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমরা যেনো রাববুল আলামিনের প্রতি আত্মসমর্পণ করি।’
তিনিই সঠিকভাবে নভোমন্ডল সৃষ্টি করেছেন। যেদিন তিনি বলবেনঃ হয়ে যা, অতঃপর হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য। যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার করা হবে, সেদিন তাঁরই আধিপত্য হবে। তিনি বিষয়ে এবং প্রত্যক্ষ বিষয়ে জ্ঞাত। তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ আর পৃথিবী, এ এক মহাসত্য। যখন তিনি বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে হয়ে যায়। তাঁর কথা মহাসত্য। সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব থাকবে তাঁরই হাতে, যেদিন ফু দেয়া হবে শিঙায়। তিনি গায়েবের জ্ঞানী এবং হাজিরেরও। তিনি বিজ্ঞানময় ও সব বিষয়ে অবহিত।
Arabic
۞ وإذ قال إبراهيم لأبيه آزر أتتخذ أصناما آلهة ۖ إني أراك وقومك في ضلال مبين
অনন্তর যখন রজনীর অন্ধকার তার উপর সমাচ্ছন্ন হল, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেল, বললঃ ইহা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হল তখন বললঃ আমি অস্তগামীদেরকে ভালবাসি না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর যখন তার উপর ছেয়ে এলো রাতের আঁধার, সে একটি নক্ষত্র দেখে বললো: ‘এই আমার রব।’ কিন্তু সেটি যখন অস্ত গেলো, সে বললো: ‘অস্ত যাওয়াদের আমি পছন্দ করিনা।’
Arabic
فلما رأى القمر بازغا قال هذا ربي ۖ فلما أفل قال لئن لم يهدني ربي لأكونن من القوم الضالين
অতঃপর যখন চন্দ্রকে ঝলমল করতে দেখল, বললঃ এটি আমার প্রতিপালক। অনন্তর যখন তা হয়ে গেল, তখন বলল যদি আমার প্রতিপালক আমাকে পথ - প্রদর্শন না করেন, তবে অবশ্যই আমি বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
আবদুস শহীদ নাসিম
পরে যখন সে দেখলো উজ্জ্বল চাঁদ উদয় হয়েছে, সে বললো: ‘এ - ই আমার রব।’ অতপর চাঁদও যখন অস্ত গেলো, সে বললো: ‘আমার রবই যদি আমাকে সঠিক পথ না দেখান, তাহলে অবশ্যি আমি বিপথগামী লোকদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’
Arabic
فلما رأى الشمس بازغة قال هذا ربي هذا أكبر ۖ فلما أفلت قال يا قوم إني بريء مما تشركون
অতঃপর যখন সূর্যকে চকচক করতে দেখল, বললঃ এটি আমার পালনকর্তা, এটি বৃহত্তর। অতপর যখন তা ডুবে গেল, তখন বলল হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে শরীক কর, আমি ওসব থেকে মুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর যখন সে দীপ্ত সূর্যকে উদয় হতে দেখলো, বললো: ‘এই হবে আমার রব। এতো সবার বড়।’ কিন্তু যখন সেও অস্ত গেলো, এবার সে (ইবরাহিম) বললো: ‘হে আমার কওম! তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করছো আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম।
Arabic
إني وجهت وجهي للذي فطر السماوات والأرض حنيفا ۖ وما أنا من المشركين
তাঁর সাথে তার সম্প্রদায় বিতর্ক করল। সে বললঃ তোমরা কি আমার সাথে আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বিতর্ক করছ; অথচ তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করেছেন। তোমরা যাদেরকে শরীক কর, আমি তাদেরকে ভয় করি না তবে আমার পালকর্তাই যদি কোন কষ্ট দিতে চান। আমার পালনকর্তাই প্রত্যেক বস্তুকে স্বীয় জ্ঞান দ্বারা বেষ্টন করে আছেন। তোমরা কি চিন্তা কর না ?
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন তার কওম তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে তর্ক করছো? অথচ তিনি আমাকে হিদায়াত দান করেছেন। তোমরা তাঁর সাথে যাদের শরিক করছো আমি তাদের ভয় করিনা, তবে আমার প্রভুই যদি কিছু চান সেটা ভিন্ন কথা। সব কিছুর উপর আমার প্রভুর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত। তোমরা কি বুঝার চেষ্টা করবেনা?’
Arabic
وكيف أخاف ما أشركتم ولا تخافون أنكم أشركتم بالله ما لم ينزل به عليكم سلطانا ۚ فأي الفريقين أحق بالأمن ۖ إن كنتم تعلمون
যাদেরকে তোমরা আল্লাহর সাথে শরীক করে রেখেছ, তাদেরকে কিরূপে ভয় কর, অথচ তোমরা ভয় কর না যে, তোমরা আল্লাহর সাথে এমন বস্তুকে শরীক করছ, যাদের সম্পর্কে তোমাদের প্রতি কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। অতএব, উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শাস্তি লাভের অধিক যোগ্য কে, যদি তোমরা জ্ঞানী হয়ে থাক।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা যাদেরকে (আল্লাহর সাথে) শরিক করছো আমি কী করে তাদের ভয় করতে পারি! তোমরা তো মহান আল্লাহর সাথে শরিক করতে ভয় করছোনা, অথচ তাদেরকে আল্লাহর শরিক বানানোর ব্যাপারে তোমাদেরকে কোনো সার্টিফিকেট দেয়া হয়নি। সুতরাং তোমাদের যদি বুঝ - জ্ঞান থাকে তবে বলো: ‘কোন্ পক্ষ নিরাপত্তা লাভের বেশি হকদার?’
Arabic
الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم أولئك لهم الأمن وهم مهتدون
এটি ছিল আমার যুক্তি, যা আমি ইব্রাহীমকে তাঁর সম্প্রদায়ের বিপক্ষে প্রদান করেছিলাম। আমি যাকে ইচ্ছা মর্যাদায় সমুন্নত করি। আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা ইবরাহিমকে তার কওমের মোকাবেলায় এসব যুক্তি প্রমাণ প্রদান করেছিলাম। আমরা যাকে চাই অনেক উঁচু মর্যাদা দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।
Arabic
ووهبنا له إسحاق ويعقوب ۚ كلا هدينا ۚ ونوحا هدينا من قبل ۖ ومن ذريته داوود وسليمان وأيوب ويوسف وموسى وهارون ۚ وكذلك نجزي المحسنين
আমি তাঁকে দান করেছি ইসহাক এবং এয়াকুব। প্রত্যেককেই আমি পথ প্রদর্শন করেছি এবং পূর্বে আমি নূহকে পথ প্রদর্শন করেছি - তাঁর সন্তানদের মধ্যে দাউদ, সোলায়মান, আইউব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকে। এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর আমরা তাকে দান করেছিলাম (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে। তাদের প্রত্যেককেই আমরা হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছি। এর আগে আমরা নূহকেও হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছি আর তার বংশধর দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ এবং মূসা আর হারূণকেও। এভাবেই আমরা পুরস্কার দিয়ে থাকি কল্যাণ পরায়ণদের।
তাদেরকেই আমি গ্রন্থ, শরীয়ত ও নবুয়ত দান করেছি। অতএব, যদি এরা আপনার নবুয়ত অস্বীকার করে, তবে এর জন্যে এমন সম্প্রদায় নির্দিষ্ট করেছি, যারা এতে অবিশ্বাসী হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এরা ছিলো সেইসব লোক, যাদেরকে আমরা দান করেছিলাম কিতাব, প্রজ্ঞা এবং নবুয়্যত। এখন যদি এরা এগুলোর প্রতি কুফুরিও করে, তবে আমরা তো এগুলোর দায়িত্ব এমন একদল লোকের উপর অর্পণ করেছি যারা এগুলোর প্রতি নয়।
Arabic
أولئك الذين هدى الله ۖ فبهداهم اقتده ۗ قل لا أسألكم عليه أجرا ۖ إن هو إلا ذكرى للعالمين
এরা এমন ছিল, যাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, আপনিও তাদের পথ অনুসরণ করুন। আপনি বলে দিনঃ আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে কোন পারিশ্রমিক চাই না। এটি সারা বিশ্বের জন্যে একটি উপদেশমাত্র।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদেরকে হিদায়াতের উপর পরিচালিত করেছেন, সুতরাং তুমিও তাদের পথের অনুসরণ করো। তুমি বলো: ‘আমি তো একাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। এ (কুরআন)টা তো জগতবাসীর জন্যে উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
Arabic
وما قدروا الله حق قدره إذ قالوا ما أنزل الله على بشر من شيء ۗ قل من أنزل الكتاب الذي جاء به موسى نورا وهدى للناس ۖ تجعلونه قراطيس تبدونها وتخفون كثيرا ۖ وعلمتم ما لم تعلموا أنتم ولا آباؤكم ۖ قل الله ۖ ثم ذرهم في خوضهم يلعبون
তারা আল্লাহকে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারেনি, যখন তারা বললঃ কোন মানুষের প্রতি কোন কিছু অবতীর্ণ করেননি। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ ঐ গ্রন্থ কে নাযিল করেছে, যা মূসা নিয়ে এসেছিল ? যা জ্যোতিবিশেষ এবং মানব মন্ডলীর জন্যে হোদায়েতস্বরূপ, যা তোমরা বিক্ষিপ্তপত্রে রেখে লোকদের জন্যে প্রকাশ করছ এবং বহুলাংশকে গোপন করছ। তোমাদেরকে এমন অনেক বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়েছে, যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতো না। আপনি বলে দিনঃ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহকে তাঁর প্রকৃত মর্যাদাই প্রদান করেনি, যখন তারা বলে: ‘ একজন মানুষের কাছে কিছুই নাযিল করেননি।’ তুমি বলো: ‘তাহলে মূসা যে কিতাব নিয়ে এসেছিল তা কে নাযিল করেছে? যা ছিলো আলো এবং মানুষের জন্যে হিদায়াত। তোমরা যার কিছু অংশ কাগজে লিখে প্রকাশ করো আর অনেকাংশই করো গোপন। আর তোমাদেরকে (সেই কিতাবের মাধ্যমে) তাও শিক্ষা দেয়া হয়েছিল যা তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা জানতেনা?’ বলো ‘আল্লাহ্ই’ (তা নাযিল করেছেন)। ব্যাস্, এখন তাদেরকে তাদের অর্থহীন কথাবার্তার খেলায় নিমগ্ন থাকতে দাও।
Arabic
وهذا كتاب أنزلناه مبارك مصدق الذي بين يديه ولتنذر أم القرى ومن حولها ۚ والذين يؤمنون بالآخرة يؤمنون به ۖ وهم على صلاتهم يحافظون
এ কোরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ন করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তার স্বীয় সংরক্ষণ করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর এই মুবারক কিতাব (আল কুরআন) আমরা নাযিল করেছি। এটি তার পূর্বের কিতাবের সত্যায়নকারী আর এর ভিত্তিতে যেনো তুমি উম্মুল কোরা (মক্কা) এবং তার আশ্ পাশের লোকদের সতর্ক করো। যারা আখিরাতে তারা এর প্রতি ঈমান রাখে এবং তারা তাদের সালাতের হিফাযত করে।
Arabic
ومن أظلم ممن افترى على الله كذبا أو قال أوحي إلي ولم يوح إليه شيء ومن قال سأنزل مثل ما أنزل الله ۗ ولو ترى إذ الظالمون في غمرات الموت والملائكة باسطو أيديهم أخرجوا أنفسكم ۖ اليوم تجزون عذاب الهون بما كنتم تقولون على الله غير الحق وكنتم عن آياته تستكبرون
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা বলেঃ আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ তার প্রতি কোন ওহী আসেনি এবং যে দাবী করে যে, আমিও নাযিল করে দেখাচ্ছি যেমন নাযিল করেছেন। যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তাঁর আয়াত সমূহ থেকে অহংকার করতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, কিংবা বলে, ‘আমার কাছে অহি আসে’, অথচ তার কাছে কোনো অহিই আসেনা, আর ঐ ব্যক্তিও, যে বলে যা নাযিল করেছেন আমিও তা নাযিল করবো?’ তুমি যদি দেখতে এই যালিমরা যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাবে আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবে: ‘বের করো তোমাদের প্রাণ। আজ প্রয়োগ করা হবে তোমাদের উপর অপমানকর আযাব, কারণ তোমরা আল্লাহর উপর আরোপ করতে না হক কথা আর আল্লাহর আয়াত নিয়ে প্রকাশ করতে ঔদ্ধত্য।’
Arabic
ولقد جئتمونا فرادى كما خلقناكم أول مرة وتركتم ما خولناكم وراء ظهوركم ۖ وما نرى معكم شفعاءكم الذين زعمتم أنهم فيكم شركاء ۚ لقد تقطع بينكم وضل عنكم ما كنتم تزعمون
তোমরা আমার কাছে নিঃসঙ্গ হয়ে এসেছ, আমি প্রথমবার তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম। আমি তোদেরকে যা দিয়েছিলাম, তা পশ্চাতেই রেখে এসেছ। আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারীদের কে দেখছি না। যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবী ছিল যে, তারা তোমাদের ব্যাপারে অংশীদার। বাস্তুবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের দাবী উধাও হয়ে গেছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমরা তো আমাদের কাছে একা একাই এসেছো যেমন আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম প্রথমবার, আর তোমাদেরকে যা দিয়েছিলাম সবই তো পেছনে ফেলে এসেছো! কই তোমাদের সাথে তো তোমাদের শাফায়াতকারীদের দেখছিনা, যাদেরকে তোমাদের ব্যাপারে (আল্লাহর) শরিকদার মনে করতে? তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করছিলে সবই হয়ে গেছে উধাও।
Arabic
۞ إن الله فالق الحب والنوى ۖ يخرج الحي من الميت ومخرج الميت من الحي ۚ ذلكم الله ۖ فأنى تؤفكون
নিশ্চয় আল্লাহই বীজ ও আঁটি থেকে অঙ্কুর সৃষ্টিকারী; তিনি জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন ও মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন। তিনি অতঃপর তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?
আবদুস শহীদ নাসিম
আল্লাহ্ই অংকুরিত করেন শস্য - বীজ এবং আঁটি। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করে আনেন এবং মৃতকে বের করে আনেন জীবন্তের থেকে। তিনিই । সুতরাং কোথায় ফিরে যাচ্ছো তোমরা?
Arabic
فالق الإصباح وجعل الليل سكنا والشمس والقمر حسبانا ۚ ذلك تقدير العزيز العليم
তিনি প্রভাত রশ্মির উন্মেষক। তিনি রাত্রিকে আরামদায়ক করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য রেখেছেন। এটি পরাক্রান্ত, মহাজ্ঞানীর নির্ধারণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই (রাতের বুক চিরে) ভোরের উন্মেষ ঘটান। তিনিই বানিয়েছেন তোমাদের বিশ্রামের জন্যে রাত আর হিসাবের জন্যে সূর্য আর চাঁদ। এসবই মহাপরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানীর নির্ধারিত।
Arabic
وهو الذي جعل لكم النجوم لتهتدوا بها في ظلمات البر والبحر ۗ قد فصلنا الآيات لقوم يعلمون
তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই তোমাদের জন্যে নক্ষত্রকে বানিয়েছেন স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ প্রদর্শক। যেসব লোক জ্ঞান রাখে তাদের জন্যে আমরা নিদর্শন বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।
Arabic
وهو الذي أنشأكم من نفس واحدة فمستقر ومستودع ۗ قد فصلنا الآيات لقوم يفقهون
তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে। তারপর তোমাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী ও সাময়িক ঠিকানা। যারা বুঝ ও বোধের অধিকারী তাদের জন্যে আমরা নিদর্শন বর্ণনা করেছি বিশদভাবে।
Arabic
وهو الذي أنزل من السماء ماء فأخرجنا به نبات كل شيء فأخرجنا منه خضرا نخرج منه حبا متراكبا ومن النخل من طلعها قنوان دانية وجنات من أعناب والزيتون والرمان مشتبها وغير متشابه ۗ انظروا إلى ثمره إذا أثمر وينعه ۚ إن في ذلكم لآيات لقوم يؤمنون
তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন অতঃপর আমি এর দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি, অতঃপর আমি এ থেকে সবুজ ফসল নির্গত করেছি, যা থেকে যুগ্ম বীজ উৎপন্ন করি। খেজুরের কাঁদি থেকে গুচ্ছ বের করি, যা নুয়ে থাকে এবং আঙ্গুরের বাগান, যয়তুন, আনার পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত এবং সাদৃশ্যহীন। বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেুগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই আসমান থেকে নাযিল করেন পানি। তা দিয়ে আমরা সব ধরণের উদ্ভিদ উদগত করি। তা থেকে আমরা সবুজ পাতা বের করে আনি। তা থেকে উৎপন্ন করি ঘন নিবিড় শস্যদানা। খেজুর গাছের মাথা থেকে বের করে আনি ঝুলন্ত কাঁদি। উৎপন্ন করি আংগুরের বাগান, যয়তুন ও আনার, একই রকম ও বিভিন্ন রকম। লক্ষ্য করে দেখো, এর ফলের প্রতি, যখন তা ফলবান হয় এবং যখন তা পাকে। যারা ঈমান রাখে তাদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।
Arabic
وجعلوا لله شركاء الجن وخلقهم ۖ وخرقوا له بنين وبنات بغير علم ۚ سبحانه وتعالى عما يصفون
তারা জিনদেরকে আল্লাহর অংশীদার স্থির করে; অথচ তাদেরকে তিনিই সৃস্টি করেছেন। তারা অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহর জন্যে পুত্র ও কন্যা সাব্যস্ত করে নিয়েছে। তিনি পবিত্র ও সমুন্নত, তাদের বর্ননা থেকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা জিনকে আল্লাহর শরিক বানায়, অথচ তিনিই তাদের সৃষ্টি করেছেন। আর না জেনেই তারা আল্লাহর প্রতি পুত্র কন্যা আরোপ করে। তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি মুক্ত - পবিত্র এবং অনেক উর্ধ্বে।
Arabic
بديع السماوات والأرض ۖ أنى يكون له ولد ولم تكن له صاحبة ۖ وخلق كل شيء ۖ وهو بكل شيء عليم
তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আদি স্রষ্টা। কিরূপে আল্লাহর পুত্র হতে পারে, অথচ তাঁর কোন সঙ্গী নেই ? তিনি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব বস্তু সম্পর্কে সুবিজ্ঞ।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি তো মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর স্রষ্টা। কী করে থাকতে পারে তাঁর সন্তান? তাঁর তো স্ত্রীও থাকতে পারেনা। কারণ, সব কিছু তো তিনিই সৃষ্টি করেছেন। প্রতিটি বিষয়ে তিনি জ্ঞাত।
Arabic
ذلكم الله ربكم ۖ لا إله إلا هو ۖ خالق كل شيء فاعبدوه ۚ وهو على كل شيء وكيل
তিনিই তোমাদের পালনকর্তা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনিই সব কিছুর স্রষ্টা। অতএব, তোমরা তাঁরই এবাদত কর। তিনি প্রত্যেক বস্তুর কার্যনির্বাহী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনি , তোমাদের প্রভু। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। প্রতিটি জিনিসের তিনি স্রষ্টা। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো। প্রতিটি জিনিসের উপর তিনি উকিল - তত্ত্বাবধায়ক।
Arabic
لا تدركه الأبصار وهو يدرك الأبصار ۖ وهو اللطيف الخبير
তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী এসে গেছে। অতএব, যে প্রত্যক্ষ করবে, সে নিজেরই উপকার করবে এবং যে অন্ধ হবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে। আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে সুস্পষ্ট প্রমাণ। সুতরাং যে দেখবে, সে নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে অন্ধতার পথ বেছে নেবে সে নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। (হে নবী! তাদের বলো:) ‘আমি তোমাদের উপর হিফাযতকারী নই।’
Arabic
وكذلك نصرف الآيات وليقولوا درست ولنبينه لقوم يعلمون
এমনি ভাবে আমি নিদর্শনাবলী ঘুরিয়ে - ফিরিয়ে বর্ণনা করি যাতে তারা না বলে যে, আপনি তো পড়ে নিয়েছেন এবং যাতে আমি একে সুধীবৃন্দের জন্যে খুব পরিব্যক্ত করে দেই।
আবদুস শহীদ নাসিম
এমনি করেই আমরা বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি নিদর্শন। তারা বলে: ‘তুমি কারো কাছ থেকে পড়ে নিয়েছো।’ আমি জ্ঞানী লোকদের জন্যে (নিদর্শন) বর্ণনা করি স্পষ্টভাবে।
Arabic
اتبع ما أوحي إليك من ربك ۖ لا إله إلا هو ۖ وأعرض عن المشركين
তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে। এমনিভাবে আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে তাদের কাজ কর্ম সুশোভিত করে দিয়েছি। অতঃপর স্বীয় পালনকর্তার কাছে তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তখন তিনি তাদেরকে বলে দেবেন যা কিছু তারা করত।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা ছাড়া যাদেরকে ডাকে তোমরা তাদের গালি দিওনা, তাহলে তারাও না জেনে সীমালংঘন করে আল্লাহকে গালি দিয়ে বসবে। এভাবেই আমরা প্রত্যেক উম্মতের জন্যে সুশোভিত করে দিয়েছি তাদের কর্মকান্ডকে। তারপর তাদের প্রভুর কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন হবে, তখন তিনি তাদের সংবাদ দেবেন - তারা কী আমল করতো।
Arabic
وأقسموا بالله جهد أيمانهم لئن جاءتهم آية ليؤمنن بها ۚ قل إنما الآيات عند الله ۖ وما يشعركم أنها إذا جاءت لا يؤمنون
তারা জোর দিয়ে আল্লাহর কসম খায় যে, যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন আসে, তবে অবশ্যই তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে। আপনি বলে দিনঃ নিদর্শনাবলী তো আল্লাহর কাছেই আছে। হে মুসলমানগণ, তোমাদেরকে কে বলল যে, যখন তাদের কাছে নিদর্শনাবলী আসবে, তখন তারা বিশ্বাস স্থাপন করবেই ?
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলে, তাদের জন্যে যদি কোনো নিদর্শন আসতো, তবে অবশ্যি তারা ঈমান আনতো। বলো: নিদর্শন পাঠানো তো আল্লাহর ব্যাপার। তোমাদের কিভাবে বুঝানো যাবে যে, নিদর্শন এলেও তারা ঈমান আনতোনা।
Arabic
ونقلب أفئدتهم وأبصارهم كما لم يؤمنوا به أول مرة ونذرهم في طغيانهم يعمهون
আমি যদি তাদের কাছে ফেরেশতাদেরকে অবতারণ করতাম এবং তাদের সাথে মৃতরা কথাবার্তা বলত এবং আমি সব বস্তুকে তাদের সামনে জীবিত করে দিতাম, তথাপি তারা কখনও বিশ্বাস স্থাপনকারী নয়; কিন্তু যদি চান। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুর্খ।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা যদি তাদের কাছে ফেরেশতাও নাযিল করি, যদি মৃত লোকেরা এসেও তাদের সাথে কথা বলে এবং তাদের সামনে সব বস্ত্ত এনেও যদি হাজির করি, তবু তারা ঈমান আনবেনা, তবে চাইলে ভিন্ন কথা। কিন্তু তাদের অধিকাংশই জাহেল।
Arabic
وكذلك جعلنا لكل نبي عدوا شياطين الإنس والجن يوحي بعضهم إلى بعض زخرف القول غرورا ۚ ولو شاء ربك ما فعلوه ۖ فذرهم وما يفترون
এমনিভাবে আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে শত্রু করেছি শয়তান, মানব ও জিনকে। তারা ধোঁকা দেয়ার জন্যে একে অপরকে কারুকার্যখচিত কথাবার্তা শিক্ষা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে মানুষ ও জিন শয়তানদের শত্রু বানিয়ে দিয়েছি। তারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে একে অপরের কাছে মুখরোচক কথা অহি (ইংগিত) করে। চাইলে তারা এমনটি করতোনা। সুতরাং তুমি ত্যাগ করো তাদেরকে এবং তারা যে মিথ্যা রচনা করে সেটাকে।
Arabic
ولتصغى إليه أفئدة الذين لا يؤمنون بالآخرة وليرضوه وليقترفوا ما هم مقترفون
অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যাপবাদকে মুক্ত ছেড়ে দিন যাতে কারুকার্যখচিত বাক্যের প্রতি তাদের মন আকৃষ্ট হয় যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং তারা একেও পছন্দ করে নেয় এবং যাতে ঐসব কাজ করে, যা তারা করছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা এ উদ্দেশ্যে (পরস্পরের কাছে অহি করে) যে, যারা আখিরাতে ঈমান রাখেনা, তাদের মন যেনো সেদিকে অনুরাগী হয় এবং এতে করে যেনো তারা খুশি হয়। আর তারা যে দুষ্কর্ম করে তাই যেনো তারা করতে থাকে।
Arabic
أفغير الله أبتغي حكما وهو الذي أنزل إليكم الكتاب مفصلا ۚ والذين آتيناهم الكتاب يعلمون أنه منزل من ربك بالحق ۖ فلا تكونن من الممترين
তবে কি আমি ব্যতীত অন্য কোন বিচারক অনুসন্ধান করব, অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত গ্রন্থ অবতীর্ন করেছেন? আমি যাদেরকে গ্রন্থ প্রদান করেছি, তারা নিশ্চিত জানে যে, এটি আপনার প্রতি পালকের পক্ষ থেকে সত্যসহ অবর্তীর্ন হয়েছে। অতএব, আপনি সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তুমি বলো:) ‘আমি কি ছাড়া আর অন্য কাউকেও সালিস মানবো অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন আল কিতাব (আল কুরআন) তফসিল সহকারে!’ আর ইতোপূর্বে আমরা যাদের কিতাব দিয়েছি তারা ভালোভাবেই জানে এটি (কুরআন) নির্ঘাত তোমার প্রভুর পক্ষ থেকেই নাযিল হয়েছে। সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
Arabic
وتمت كلمت ربك صدقا وعدلا ۚ لا مبدل لكلماته ۚ وهو السميع العليم
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দেবে। তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা বলে থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তুমি বিশ্বের অধিকাংশ লোকের কথা শুনতে গেলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে ফেলবে। তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে এবং আন্দাজ অনুমানে কথা বলে।
Arabic
إن ربك هو أعلم من يضل عن سبيله ۖ وهو أعلم بالمهتدين
কোন কারণে তোমরা এমন জন্তু থেকে ভক্ষণ করবে না, যার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয়, অথচ ঐ সব জন্তুর বিশদ বিবরণ দিয়েছেন, যেগুলোকে তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন; কিন্তু সেগুলোও তোমাদের জন্যে হালাল, যখন তোমরা নিরুপায় হয়ে যাও। অনেক লোক স্বীয় ভ্রান্ত প্রবৃত্তি দ্বারা না জেনে বিপথগামী করতে থাকে। আপনার প্রতিপালক সীমাতিক্রম কারীদেরকে যথার্থই জানেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমাদের কী হয়েছে, যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে কেন তোমরা তা থেকে খাবেনা? অথচ তোমাদের জন্যে যা যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদেরকে বিশদভাবেই বলে দেয়া হয়েছে। তবে তা থেকে কিছু গ্রহণ করতে তোমরা নিরুপায় হয়ে পড়লে ভিন্ন কথা। অনেকেই না জেনে নিজেদের খেয়াল খুশির ভিত্তিতে অন্যদের বিপথগামী করে। তোমার প্রভু সীমালংঘনকারীদের ভালোভাবেই জানেন।
Arabic
وذروا ظاهر الإثم وباطنه ۚ إن الذين يكسبون الإثم سيجزون بما كانوا يقترفون
যেসব জন্তুর উপর আল্লাহর নাম উচ্চারিত হয় না, সেগুলো থেকে ভক্ষণ করো না; এ ভক্ষণ করা গোনাহ। নিশ্চয় শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে প্রত্যাদেশ করে - যেন তারা তোমাদের সাথে তর্ক করে। যদি তোমরা তাদের আনুগত্য কর, তোমরাও মুশরেক হয়ে যাবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাতে আল্লাহর নাম নেয়া হয়নি তা তোমরা খেয়োনা, কারণ তা ফাসেকি (পাপ)। শয়তানরা তাদের অলিদের অহি করে (প্ররোচনা দেয়) তোমাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হতে। তোমরা যদি তাদের কথামতো চলো তবে অবশ্যি মুশরিক হয়ে যাবে।
Arabic
أومن كان ميتا فأحييناه وجعلنا له نورا يمشي به في الناس كمن مثله في الظلمات ليس بخارج منها ۚ كذلك زين للكافرين ما كانوا يعملون
আর যে মৃত ছিল অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন একটি আলো দিয়েছি, যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে, যে অন্ধকারে রয়েছে - সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এমনিভাবে কাফেরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে ছিলো মৃত, তারপর তাকে আমরা জীবন দান করেছি এবং মানুষের মধ্যে চলার জন্যে দিয়েছি আলো, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে রয়েছে অন্ধকাররাশিতে এবং সেখান থেকে সে বের হবার নয়? এভাবেই কাফিরদের জন্যে তাদের কর্মকান্ডকে করে দেয়া হয়েছে চাকচিক্যময়।
Arabic
وكذلك جعلنا في كل قرية أكابر مجرميها ليمكروا فيها ۖ وما يمكرون إلا بأنفسهم وما يشعرون
আর এমনিভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে অপরাধীদের জন্য কিছু সর্দার নিয়োগ করেছি - যেন তারা সেখানে চক্রান্ত করে। তাদের সে চক্রান্ত তাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই; কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করতে পারে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই আমরা প্রত্যেক জনপদে সেখানকার অপরাধীদের প্রধানকে চক্রান্ত করার সুযোগ দিয়েছি। তাদের চক্রান্ত যে তাদেরই বিরুদ্ধে যাবে তা তারা বুঝতে পারেনা।
Arabic
وإذا جاءتهم آية قالوا لن نؤمن حتى نؤتى مثل ما أوتي رسل الله ۘ الله أعلم حيث يجعل رسالته ۗ سيصيب الذين أجرموا صغار عند الله وعذاب شديد بما كانوا يمكرون
যখন তাদের কাছে কোন আয়াত পৌঁছে, তখন বলে, আমরা কখনই মানব না যে, পর্যন্ত না আমরাও তা প্রদত্ত হই, যা আল্লাহর রসূলগণ প্রদত্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সুপারিজ্ঞাত যে, কোথায় স্বীয় পয়গাম প্রেরণ করতে হবে। যারা অপরাধ করছে, তারা অতিসত্বর আল্লাহর কাছে পৌছে লাঞ্ছনা ও কঠোর শাস্তি পাবে, তাদের চক্রান্তের কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
যখনই তাদের কাছে কোনো নিদর্শন এসেছিল তারা বলেছিল: ‘আমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত কিছুতেই ঈমান আনবোনা যতোক্ষণ না আল্লাহর রসূলদের যা দেয়া হয়েছে আমাদেরকেও তা দেয়া হয়।’ আল্লাহ্ই ভালো জানেন তিনি তাঁর রিসালাতের দায়িত্ব কার উপর অর্পণ করবেন। যারা অপরাধ করেছে, তাদের চক্রান্তের জন্যে আল্লাহর কাছে তাদের জন্যে রয়েছে অপমান আর কঠোর আযাব।
Arabic
فمن يرد الله أن يهديه يشرح صدره للإسلام ۖ ومن يرد أن يضله يجعل صدره ضيقا حرجا كأنما يصعد في السماء ۚ كذلك يجعل الله الرجس على الذين لا يؤمنون
অতঃপর যাকে পথ - প্রদর্শন করতে চান, তার বক্ষকে ইসলামের জন্যে উম্মুক্ত করে দেন এবং যাকে বিপথগামী করতে চান, তার বক্ষকে সংকীর্ণ অত্যধিক সংকীর্ণ করে দেন - যেন সে সবেগে আকাশে আরোহণ করছে। এমনি ভাবে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। তাদের উপর আযাব বর্ষন করেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
কাউকেও হিদায়াত দান করতে চাইলে ইসলামের জন্যে তার হৃদয়কে উদার করে দেন। আর যাকে তিনি গোমরাহ্ করতে চান তার অন্তরকে করে দেন অতিশয় সংকীর্ণ। তখন তার কাছে ইসলামে প্রবেশ করাটা সিঁড়ি বেয়ে আকাশে উঠার মতোই কষ্ট সাধ্য মনে হয়। যারা ঈমান আনেনা এভাবেই তাদের লাঞ্ছিত করেন।
Arabic
وهذا صراط ربك مستقيما ۗ قد فصلنا الآيات لقوم يذكرون
তাদের জন্যেই তাদের প্রতিপালকের কাছে নিরাপত্তার গৃহ রয়েছে এবং তিনি তাদের বন্ধু তাদের কর্মের কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে দারুস্ সালাম (শান্তির ঘর) এবং তিনিই তাদের অলি (অভিভাবক) তাদের আমলের কারণে।
Arabic
ويوم يحشرهم جميعا يا معشر الجن قد استكثرتم من الإنس ۖ وقال أولياؤهم من الإنس ربنا استمتع بعضنا ببعض وبلغنا أجلنا الذي أجلت لنا ۚ قال النار مثواكم خالدين فيها إلا ما شاء الله ۗ إن ربك حكيم عليم
যেদিন সবাইকে একত্রিত করবেন, হে জিন সম্প্রদায়, তোমরা মানুষদের মধ্যে অনেককে অনুগামী করে নিয়েছ। তাদের মানব বন্ধুরা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা পরস্পরে পরস্পরের মাধ্যমে ফল লাভ করেছি। আপনি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলেন, আমরা তাতে উপনীত হয়েছি। বলবেনঃ আগুন হল তোমাদের বাসস্থান। তথায় তোমরা চিরকাল অবস্থান করবে; কিন্তু যখন চাইবেন । নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
যেদিন তিনি তাদের সবাইকে হাশর করবেন সেদিন তাদের বলবেন: ‘হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা মানুষের মধ্যে অনেককেই তোমাদের অনুগামী করেছিলে।’ আর মানুষের মধ্যকার তাদের অলিরা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের একে অপরের মাধ্যমে লাভবান হয়েছি, আর তুমি আমাদের জন্যে যে সময় নির্ধারণ করেছিলে, এখন তো আমরা তাতে এসে উপনীত হয়েছি।’ বলবেন: জাহান্নামই তোমাদের আবাস, চিরদিন তোমরা সেখানেই থাকবে, তবে অন্য কিছু চাইলে সেটা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার প্রভু প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।
এমনিভাবে আমি পাপীদেরকে একে অপরের সাথে যুক্ত করে দেব তাদের কাজকর্মের কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবেই আমরা যালিমদের একদলকে আরেকদলের অলি বানিয়ে দেই তাদের কৃতকর্মের কারণে।
Arabic
يا معشر الجن والإنس ألم يأتكم رسل منكم يقصون عليكم آياتي وينذرونكم لقاء يومكم هذا ۚ قالوا شهدنا على أنفسنا ۖ وغرتهم الحياة الدنيا وشهدوا على أنفسهم أنهم كانوا كافرين
হে জ্বিন ও মানব সম্প্রদায়, তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেনি? যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানাবলী বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনের সাক্ষাতের ভীতি প্রদর্শন করতেন? তারা বলবেঃ আমরা স্বীয় গোনাহ স্বীকার করে নিলাম। পার্থিব জীবন তাদেরকে প্রতারিত করেছে। তারা নিজেদের বিরুদ্ধে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা ছিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
(সেদিন বলবেন:) ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রসূলরা আসেনি? তারা কি আমার আয়াত তোমাদের কাছে বয়ান করেনি? তারা কি এই দিনটির সাক্ষাতের ব্যাপারে তোমাদের সতর্ক করেনি?’ তারা বলবে: ‘আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি।’ মূলত দুনিয়ার জীবনটাই তাদের প্রতারিত করে রেখেছিল। তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে আরো সাক্ষ্য দেবে যে, বাস্তবিকই তারা ছিলো ।
আপনার প্রতিপালক অমুখাপেক্ষী, করুণাময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে উচ্ছেদ করে দিবেন এবং তোমাদের পর যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলে অভিষিক্ত করবেন; যেমন তোমাদেরকে অন্য এক সম্প্রদায়ের বংশধর থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তোমার প্রভু অভাবমুক্ত রহমতওয়ালা দয়াময়। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সরিয়ে দিতে পারেন এবং তোমাদের পরে যাকে ইচ্ছা তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করতে পারেন, যেমন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন অপর একটি কওমের বংশধারা থেকে।
আপনি বলে দিনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো ‘হে আমার কওম! তোমরা যেখানে আমল করছো করতে থাকো, আমি আমার কাজ করে যাবো। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার পরিণাম হবে কল্যাণময়। যালিমরা কিছুতেই সফল হবেনা।’
Arabic
وجعلوا لله مما ذرأ من الحرث والأنعام نصيبا فقالوا هذا لله بزعمهم وهذا لشركائنا ۖ فما كان لشركائهم فلا يصل إلى الله ۖ وما كان لله فهو يصل إلى شركائهم ۗ ساء ما يحكمون
যেসব শস্যক্ষেত্র ও জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো থেকে তারা এক অংশ আল্লাহর জন্য নির্ধারণ করে অতঃপর নিজ ধারণা অনুসারে বলে এটা আল্লাহর এবং এটা আমাদের অংশীদারদের। অতঃপর যে অংশ তাদের অংশীদারদের, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছে না এবং যা আল্লাহর তা তাদের উপাস্যদের দিকে পৌছে যায়। তাদের বিচার কতই না মন্দ।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে শস্য এবং গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে তারা আল্লাহর জন্যে একটি অংশ নির্ধারণ করে এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী বলে: ‘এই অংশ আল্লাহর জন্যে এবং এই অংশ আমাদের (বানানো আল্লাহর) শরিকদের (দেবতাদের) জন্যে। তারপর দেবতাদের অংশ আল্লাহর কাছে পৌঁছায়না, অথচ আল্লাহর অংশ দেবতাদের কাছে পৌঁছায়। তাদের ফায়সালা কতো যে নিকৃষ্ট!
Arabic
وكذلك زين لكثير من المشركين قتل أولادهم شركاؤهم ليردوهم وليلبسوا عليهم دينهم ۖ ولو شاء الله ما فعلوه ۖ فذرهم وما يفترون
এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবে তাদের দেবতারা অনেক মুশরিকদের দৃষ্টিতে তাদের সন্তানদের হত্যাকে সুশোভিত করে রেখেছে তাদের ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এবং তাদের ধর্ম সম্পর্কে তাদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্যে। চাইলে তারা এটা করতোনা। সুতরাং তাদেরকে তাদের বানানো মিথ্যার উপর ছেড়ে দাও।
Arabic
وقالوا هذه أنعام وحرث حجر لا يطعمها إلا من نشاء بزعمهم وأنعام حرمت ظهورها وأنعام لا يذكرون اسم الله عليها افتراء عليه ۚ سيجزيهم بما كانوا يفترون
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তু ও শস্যক্ষেত্র নিষিদ্ধ। আমরা যাকে ইচছা করি, সে ছাড়া এগুলো কেউ খেতে পারবে না, তাদের ধারণা অনুসারে। আর কিছুসংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর পিঠে আরোহন হারাম করা হয়েছে এবং কিছু সংখ্যক চতুষ্পদ জন্তুর উপর তারা ভ্রান্ত ধারনা বশতঃ আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, তাদের মনগড়া বুলির কারণে, অচিরেই তিনি তাদের কে শাস্তি দিবেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা (তাদের ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে) বলে: ‘এসব গবাদি পশু এবং এসব শস্যক্ষেত নিষিদ্ধ। আমরা যাকে চাইবো সে ছাড়া আর কেউ এগুলো খেতে পারবেনা।’ তাছাড়া কিছু কিছু গবাদি পশুর পিঠে আরোহণ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে আর কিছু কিছু গবাদি পশু যবেহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম নেয়না। এসব (বিধি নিষেধ মূলত তাদের) আল্লাহর নামে মিথ্যারোপ। তিনি অবশ্যি তাদেরকে তাদের এসব মিথ্যা রচনার শাস্তি প্রদান করবেন।
Arabic
وقالوا ما في بطون هذه الأنعام خالصة لذكورنا ومحرم على أزواجنا ۖ وإن يكن ميتة فهم فيه شركاء ۚ سيجزيهم وصفهم ۚ إنه حكيم عليم
তারা বলেঃ এসব চতুষ্পদ জন্তুর পেটে যা আছে, তা বিশেষ ভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে এবং আমাদের মহিলাদের জন্যে তা হারাম। যদি তা মৃত হয়, তবে তার প্রাপক হিসাবে সবাই সমান। অচিরেই তিনি তাদেরকে তাদের বর্ণনার শাস্তি দিবেন। তিনি প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা আরো বলে: ‘এসব গবাদি পশুর গর্ভে যা আছে তা আমাদের পুরুষদের জন্যে নির্ধারিত এবং আমাদের নারীদের জন্যে হারাম। তবে মরা পশু হলে তারা উভয়েই তাতে শরিকদার।’ এসব বিধিনিষেধ আরোপের শাস্তি তিনি তাদের প্রদান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাবান, জ্ঞানী।
Arabic
قد خسر الذين قتلوا أولادهم سفها بغير علم وحرموا ما رزقهم الله افتراء على الله ۚ قد ضلوا وما كانوا مهتدين
নিশ্চয় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশতঃ কোন প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করেছে এবং তাদেরকে যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি।
আবদুস শহীদ নাসিম
যারা না জেনে বোকামি করে তাদের সন্তানদের হত্যা করে এবং আল্লাহর উপর মিথ্যারোপের মাধ্যমে আল্লাহর দেয়া রিযিক হারাম করে, তারা অবশ্যি বিপথগামী হয়ে গেছে এবং তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত নয়।
Arabic
۞ وهو الذي أنشأ جنات معروشات وغير معروشات والنخل والزرع مختلفا أكله والزيتون والرمان متشابها وغير متشابه ۚ كلوا من ثمره إذا أثمر وآتوا حقه يوم حصاده ۖ ولا تسرفوا ۚ إنه لا يحب المسرفين
তিনিই উদ্যান সমূহ সৃষ্টি করেছে - তাও, যা মাচার উপর তুলে দেয়া হয়, এবং যা মাচার উপর তোলা হয় না এবং খর্জুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যেসবের স্বাদবিশিষ্ট এবং যয়তুন ও আনার সৃষ্টি করেছেন - একে অন্যের সাদৃশ্যশীল এবং সাদৃশ্যহীন। এগুলোর ফল খাও, যখন ফলন্ত হয় এবং হক দান কর কর্তনের সময়ে এবং অপব্যয় করো না। নিশ্চয় তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন নানা রকম গুল্ম - লতা এবং গাছের জান্নাত (বাগান), খেজুর গাছ, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের খাদ্য শস্য, যয়তুন ও আনার - সদৃশ্য ও অসদৃশ্য। ফলন ঘটার পর তোমরা এগুলোর ফল খাও এবং ফল - ফসল সংগ্রহের দিন সেগুলোর হক (যাকাত) দিয়ে দাও। অপচয় করোনা। কারণ, তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
Arabic
ومن الأنعام حمولة وفرشا ۚ كلوا مما رزقكم الله ولا تتبعوا خطوات الشيطان ۚ إنه لكم عدو مبين
তিনি সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে বোঝা বহনকারীকে এবং খর্বাকৃতিকে। তোমাদেরকে যা কিছু দিয়েছেন, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
আবদুস শহীদ নাসিম
গবাদি পশুর মধ্যে (তিনি সৃষ্টি করেছেন) কিছু ভারবাহী আর কিছু ছোট পশু। তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাংক অনুসরণ করোনা। কারণ, সে তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন।
Arabic
ثمانية أزواج ۖ من الضأن اثنين ومن المعز اثنين ۗ قل آلذكرين حرم أم الأنثيين أما اشتملت عليه أرحام الأنثيين ۖ نبئوني بعلم إن كنتم صادقين
সৃষ্টি করেছেন আটটি নর ও মাদী। ভেড়ার মধ্যে দুই প্রকার ও ছাগলের মধ্যে দুই প্রকার। জিজ্ঞেস করুন, তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে ? না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তারা নিজেদের খেয়াল খুশি মতো যেগুলো হারাম করেছে) সেগুলো আট প্রকার। মেষের দুটি এবং ছাগলের দুটি। তাদের জিজ্ঞাসা করো: ‘তিনি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদি দুটি? নাকি মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? তোমরা সত্যবাদী হলে এলেমের ভিত্তিতে অবহিত করো।’
Arabic
ومن الإبل اثنين ومن البقر اثنين ۗ قل آلذكرين حرم أم الأنثيين أما اشتملت عليه أرحام الأنثيين ۖ أم كنتم شهداء إذ وصاكم الله بهذا ۚ فمن أظلم ممن افترى على الله كذبا ليضل الناس بغير علم ۗ إن الله لا يهدي القوم الظالمين
সৃষ্টি করেছেন উটের মধ্যে দুই প্রকার এবং গরুর মধ্যে দুই প্রকার। আপনি জিজ্ঞেস করুনঃ তিনি কি উভয় নর হারাম করেছেন, না উভয় মাদীকে, না যা উভয় মাদীর পেটে আছে? তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন? অতএব সে ব্যক্তি অপেক্ষা বেশী অত্যচারী কে, যে সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা পোষন করে যাতে করে মানুষকে বিনা প্রমাণে পথভ্রষ্ট করতে পারে? নিশ্চয় অত্যাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।
আবদুস শহীদ নাসিম
আর উটের দুটি এবং গরুর দুটি। তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তিনি কি নর দুটি হারাম করেছেন নাকি মাদি দুটি? নাকি মাদি দুটির গর্ভে যা আছে তা? নাকি তিনি যখন এ নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন তোমরা উপস্থিত ছিলে?’ ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মানুষকে বিপথগামী করার জন্যে এলেম ছাড়াই আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে? নিশ্চয়ই যালিম লোকদের হিদায়াত করেন না।
Arabic
قل لا أجد في ما أوحي إلي محرما على طاعم يطعمه إلا أن يكون ميتة أو دما مسفوحا أو لحم خنزير فإنه رجس أو فسقا أهل لغير الله به ۚ فمن اضطر غير باغ ولا عاد فإن ربك غفور رحيم
আপনি বলে দিনঃ যা কিছু বিধান ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে পৌঁছেছে, তন্মধ্যে আমি কোন হারাম খাদ্য পাই না কোন ভক্ষণকারীর জন্যে, যা সে ভক্ষণ করে; কিন্তু মৃত অথবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের মাংস এটা অপবিত্র অথবা অবৈধ; যবেহ করা জন্তু যা ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়। অতপর যে ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় যে অবাধ্যতা করে না এবং সীমালঙ্গন করে না, নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘কেউ যা খেতে চায়, আমার প্রতি প্রেরিত অহিতে তার মধ্যে মৃত (প্রাণী), কিংবা প্রবাহিত রক্ত, অথবা শুয়োরের গোশ্ত ছাড়া আর কিছুই হারাম পাইনা। এগুলো নোংরা এবং (খাওয়া) পাপ। আর যা ছাড়া অন্য কারো নামে যবেহ করা হয়েছে তাও হারাম। কেউ যদি বিদ্রোহ এবং সীমালংঘন না করে নিরূপায় হয়ে পড়ার কারণে এগুলো থেকে কিছু খেয়ে নেয়, (তার ব্যাপারে) অবশ্যি তোমার প্রভু পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।’
Arabic
وعلى الذين هادوا حرمنا كل ذي ظفر ۖ ومن البقر والغنم حرمنا عليهم شحومهما إلا ما حملت ظهورهما أو الحوايا أو ما اختلط بعظم ۚ ذلك جزيناهم ببغيهم ۖ وإنا لصادقون
ইহুদীদের জন্যে আমি প্রত্যেক নখবিশিষ্ট জন্তু হারাম করেছিলাম এবং ছাগল ও গরু থেকে এতদুভয়ের চর্বি আমি তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, কিন্তু ঐ চর্বি, যা পৃষ্টে কিংবা অন্ত্রে সংযুক্ত থাকে অথবা অস্থির সাথে মিলিত থাকে। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমি তাদেরকে এ শাস্তি দিয়েছিলাম। আর আমি অবশ্যই সত্যবাদী।
আবদুস শহীদ নাসিম
আমরা ইহুদিদের জন্যে নখরধারী সব পশুই হারাম করে দিয়েছিলাম। গরু এবং ছাগলের চর্বিও তাদের জন্যে হারাম করেছিলাম, তবে পিঠের, অন্ত্রের কিংবা হাড়ের সাথের চর্বি ছাড়া। তাদের অবাধ্যতার কারণে আমরা তাদের এই শাস্তি দিয়েছিলাম। অবশ্যি আমরা সত্যবাদী।
Arabic
فإن كذبوك فقل ربكم ذو رحمة واسعة ولا يرد بأسه عن القوم المجرمين
যদি তারা আপনাকে মিথ্যবাদী বলে, তবে বলে দিনঃ তোমার প্রতিপালক সুপ্রশস্ত করুণার মালিক। তাঁর শাস্তি অপরাধীদের উপর থেকে টলবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপরও যদি তারা তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি বলো: তোমাদের প্রভু অসীম দয়ার মালিক এবং অপরাধী লোকদের উপর থেকে তাঁর শাস্তি রদ করা হয়না।
Arabic
سيقول الذين أشركوا لو شاء الله ما أشركنا ولا آباؤنا ولا حرمنا من شيء ۚ كذلك كذب الذين من قبلهم حتى ذاقوا بأسنا ۗ قل هل عندكم من علم فتخرجوه لنا ۖ إن تتبعون إلا الظن وإن أنتم إلا تخرصون
এখন মুশরেকরা বলবেঃ যদি ইচ্ছা করতেন, তবে না আমরা শিরক করতাম, না আমাদের বাপ দাদারা এবং না আমরা কোন বস্তুকে হারাম করতাম। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছে, এমন কি তারা আমার শাস্তি আস্বাদন করেছে। আপনি বলুনঃ তোমাদের কাছে কি কোন প্রমাণ আছে যা আমাদেরকে দেখাতে পার। তোমরা শুধুমাত্র আন্দাজের অনুসরণ কর এবং তোমরা শুধু অনুমান করে কথা বল।
আবদুস শহীদ নাসিম
শিরকে লিপ্ত লোকেরা অচিরেই তোমাকে বলবে: ‘ চাইলে আমরা শিরক করতামনা এবং আমাদের পূর্ব পুরুষরাও, আর আমরা কিছু হারামও করতামনা।’ এভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছিল তাদের আগের লোকেরাও, অবশেষে তারা ভোগ করেছিল আমার শাস্তি। হে নবী! বলো: ‘তোমাদের কাছে কোনো এলেম আছে কি? থাকলে বের করো আমাদের সামনে। আসলে তোমরা অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করোনা, আর মনগড়া কথা ছাড়া কোনো কথা বলোনা।’
আপনি বলুনঃ তোমাদের সাক্ষীদেরকে আন, যারা সাক্ষ্য দেয় যে, তা’আলা এগুলো হারাম করেছেন। যদি তারা সাক্ষ্য দেয়, তবে আপনি এ সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন না এবং তাদের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না, যারা আমার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না এবং যারা স্বীয় প্রতিপালকের সমতুল্য অংশীদার করে।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! তাদের বলো এগুলো হারাম হবার ব্যাপারে যারা সাক্ষ্য দেবে তোমাদের সেসব সাক্ষীদের হাজির করো।’ তারপর তারা সাক্ষ্য দিলেও তুমি তাদের সাথে স্বীকার করোনা। যারা আল্লাহর আয়াতকে অস্বীকার করে, যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখেনা এবং যারা তাদের প্রভুর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে, তুমি তাদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করোনা।
Arabic
۞ قل تعالوا أتل ما حرم ربكم عليكم ۖ ألا تشركوا به شيئا ۖ وبالوالدين إحسانا ۖ ولا تقتلوا أولادكم من إملاق ۖ نحن نرزقكم وإياهم ۖ ولا تقربوا الفواحش ما ظهر منها وما بطن ۖ ولا تقتلوا النفس التي حرم الله إلا بالحق ۚ ذلكم وصاكم به لعلكم تعقلون
আপনি বলুনঃ এস, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তাএই যে, আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার করো না, পিতা - মাতার সাথে সদয় ব্যবহার করো স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্রের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘এসো, তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে যা হারাম করেছেন তা তোমাদের তিলাওয়াত করে শুনাই। সেগুলো হলো: তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকেই শরিক করবেনা, পিতা - মাতার প্রতি ইহ্সান করবে, দারিদ্রের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবেনা, কারণ আমরাই তাদের এবং তোমাদেরও রিযিক দেই, প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে অশ্লীল কাজের কাছেও যেয়োনা। যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন তোমরা তাকে হত্যা করোনা, তবে যথার্থ কারণ ও হক পন্থায় হলে ভিন্ন কথা। তোমাদের এসব অসিয়ত (নির্দেশ) করছেন যাতে করে তোমরা আকল খাটাও।
Arabic
ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن حتى يبلغ أشده ۖ وأوفوا الكيل والميزان بالقسط ۖ لا نكلف نفسا إلا وسعها ۖ وإذا قلتم فاعدلوا ولو كان ذا قربى ۖ وبعهد الله أوفوا ۚ ذلكم وصاكم به لعلكم تذكرون
এতীমদের ধনসম্পদের কাছেও যেয়ো না; কিন্তু উত্তম পন্থায় যে পর্যন্ত সে বয়ঃপ্রাপ্ত না হয়। ওজন ও মাপ পূর্ণ কর ন্যায় সহকারে। আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কষ্ট দেই না। যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর, যদিও সে আত্নীয়ও হয়। আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর।
আবদুস শহীদ নাসিম
এতিমরা বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উত্তম পন্থায় ছাড়া তাদের মাল সম্পদের কাছেও যেয়োনা। পরিমাণ ও ওজন নায্যভাবে পূর্ণ করে দাও। আমরা কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের বেশি বোঝা চাপাই না। তোমরা যখন কথা বলবে, নায্য কথা বলবে নিকটজনের বিপক্ষে গেলেও। আল্লাহকে দেয়া অংগীকার পূর্ণ করো। এসব অসিয়ত (নির্দেশ) তোমাদের প্রদান করছেন যাতে করে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো।
Arabic
وأن هذا صراطي مستقيما فاتبعوه ۖ ولا تتبعوا السبل فتفرق بكم عن سبيله ۚ ذلكم وصاكم به لعلكم تتقون
তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি আমার সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্যান্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
এটাই আমার সিরাতুল মুস্তাকিম (সরল সঠিক পথ), সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো। তোমরা বিভিন্ন পথের অনুসরণ করোনা, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তোমাদের এসব অসিয়ত (নির্দেশ) প্রদান করছেন যাতে করে তোমরা সতর্ক হও।
Arabic
ثم آتينا موسى الكتاب تماما على الذي أحسن وتفصيلا لكل شيء وهدى ورحمة لعلهم بلقاء ربهم يؤمنون
অতঃপর আমি মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছি, সৎকর্মীদের প্রতি নেয়ামতপূর্ণ করার জন্যে, প্রত্যেক বস্তুর বিশদ বিবরণের জন্যে, হোদায়াতের জন্যে এবং করুণার জন্যে - যাতে তারা স্বীয় পালনকর্তার সাথে সাক্ষাতে হয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যা ছিলো কল্যাণ পরায়ণদের জন্যে পরিপূর্ণ, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত এবং রহমত, যাতে করে তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের প্রতি ঈমান আনে।
Arabic
وهذا كتاب أنزلناه مبارك فاتبعوه واتقوا لعلكم ترحمون
এটি এমন একটি গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি, খুব মঙ্গলময়, অতএব, এর অনুসরণ কর এবং ভয় কর - যাতে তোমরা করুণাপ্রাপ্ত হও।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর আমরা মূসাকে দিয়েছিলাম কিতাব, যা ছিলো কল্যাণ পরায়ণদের জন্যে পরিপূর্ণ, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত এবং রহমত, যাতে করে তারা তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাতের প্রতি ঈমান আনে।
Arabic
أن تقولوا إنما أنزل الكتاب على طائفتين من قبلنا وإن كنا عن دراستهم لغافلين
এ জন্যে যে, কখনও তোমরা বলতে শুরু করঃ গ্রন্থ তো কেবল আমাদের পূর্ববর্তী দু'সম্প্রদায়ের প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে এবং আমরা সেগুলোর পাঠ ও পঠন সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যাতে তোমরা একথা বলতে না পারো যে, কিতাব তো আমাদের আগে দুটি (ইহুদি খৃষ্টান) সম্প্রদায়ের কাছে নাযিল হয়েছিল। আমরা তো তাদের দরস (পাঠ) সম্পর্কে গাফিল ছিলাম!
Arabic
أو تقولوا لو أنا أنزل علينا الكتاب لكنا أهدى منهم ۚ فقد جاءكم بينة من ربكم وهدى ورحمة ۚ فمن أظلم ممن كذب بآيات الله وصدف عنها ۗ سنجزي الذين يصدفون عن آياتنا سوء العذاب بما كانوا يصدفون
কিংবা বলতে শুরু করঃ যদি আমাদের প্রতি কোন গ্রন্থ অবতীর্ণ হত, আমরা এদের চাইতে অধিক পথপ্রাপ্ত হতাম। অতএব, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়েত ও রহমত এসে গেছে। অতঃপর সে ব্যক্তির চাইতে অধিক অনাচারী কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে এবং গা বাঁচিয়ে চলে। অতি সত্ত্বর আমি তাদেরকে শাস্তি দেব। যারা আমার আয়াত সমূহ থেকে গা বাঁচিয়ে চলে - জঘন্য শাস্তি তাদের গা বাঁচানোর কারণে।
আবদুস শহীদ নাসিম
অথবা একথাও যেনো বলতে না পারো যে, যদি আমাদের কাছে কিতাব নাযিল করা হতো তাহলে আমরা তাদের চাইতে বেশি হিদায়াতপ্রাপ্ত হতাম। এখন তো তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসে গেছে সুষ্পষ্ট প্রমাণ, হিদায়াত এবং রহমত। সুতরাং ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হবে, যে আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। যারা আমার আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তাদের এই মুখ ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে অচিরেই আমরা তাদের নিকৃষ্ট আযাব প্রদান করবো।
Arabic
هل ينظرون إلا أن تأتيهم الملائكة أو يأتي ربك أو يأتي بعض آيات ربك ۗ يوم يأتي بعض آيات ربك لا ينفع نفسا إيمانها لم تكن آمنت من قبل أو كسبت في إيمانها خيرا ۗ قل انتظروا إنا منتظرون
তারা শুধু এ বিষয়ের দিকে চেয়ে আছে যে, তাদের কাছে ফেরেশতা আগমন করবে কিংবা আপনার পালনকর্তা আগমন করবেন অথবা আপনার পালনকর্তার কোন নির্দেশ আসবে। যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্ব থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি। আপনি বলে দিনঃ তোমরা পথের দিকে চেয়ে থাক, আমরাও পথে দিকে তাকিয়ে রইলাম।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা তো শুধু এ জন্যেই অপেক্ষা করছে যেনো তাদের কাছে ফেরেশতা আসে, অথবা স্বয়ং তোমার প্রভু আসেন, অথবা তোমার প্রভুর কোনো নিদর্শন আসে। শুনো, যেদিন তোমার প্রভুর নিদর্শন আসবে সেদিন ঐ ব্যক্তি ঈমান আনলে তাতে তার কোনো ফায়দা হবেনা, যে ব্যক্তি আগে ঈমান আনেনি; কিংবা যে ব্যক্তি ঈমানের ভিত্তিতে কল্যাণ অর্জন করেনি। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো। আমরাও অপেক্ষায় থাকলাম।’
Arabic
إن الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا لست منهم في شيء ۚ إنما أمرهم إلى الله ثم ينبئهم بما كانوا يفعلون
নিশ্চয় যারা স্বীয় ধর্মকে খন্ড - বিখন্ড করেছে এবং অনেক দল হয়ে গেছে, তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপার তা'আয়ালার নিকট সমর্পিত। অতঃপর তিনি বলে দেবেন যা কিছু তারা করে থাকে।
আবদুস শহীদ নাসিম
নিশ্চয়ই যারা তাদের দীনকে নানা মতে বিভক্ত করেছে এবং তারাও বিভিন্ন দল উপদলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোনো দায় দায়িত্ব তোমার নেই। তাদের বিষয়ে ফায়সালার দায়িত্ব আল্লাহর, তিনিই তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তাদের অবহিত করবেন।
Arabic
من جاء بالحسنة فله عشر أمثالها ۖ ومن جاء بالسيئة فلا يجزى إلا مثلها وهم لا يظلمون
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
যে কেউ একটি কল্যাণকর কাজ করবে, সে তার দশগুণ পাবে, আর যে কেউ একটি পাপ কাজ করবে, তাকে কেবল সেটারই প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।’
Arabic
قل إنني هداني ربي إلى صراط مستقيم دينا قيما ملة إبراهيم حنيفا ۚ وما كان من المشركين
আপনি বলে দিনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ প্রদর্শন করেছেন একাগ্রচিত্ত ইব্রাহীমের বিশুদ্ধ ধর্ম। সে অংশীবাদীদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
হে নবী! বলো: ‘আমার প্রভু আমাকে সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন। সেটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সেটা ইবরাহিমের মিল্লাত (আদর্শ)।’ ইবরাহিম ছিলো নিষ্ঠাবান। সে মুশরিকদের অন্তরভুক্ত ছিলনা।
আপনি বলুনঃ আমি কি ব্যতীত অন্য প্রতিপালক খোঁজব, অথচ তিনিই সবকিছুর প্রতিপালক? যে ব্যক্তি কোন গোনাহ করে, তা তারই দায়িত্বে থাকে। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। অতঃপর তোমাদেরকে সবাইকে প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অনন্তর তিনি তোমাদেরকে বলে দিবেন, যেসব বিষয়ে তোমরা বিরোধ করতে।
আবদুস শহীদ নাসিম
বলো: ‘আমি কি আল্লাহকে ছাড়া অন্য কোনো রব খুঁজবো? অথচ তিনিই তো সব কিছুর রব।’ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্যে দায়ী। কেউই অপর কারো বোঝা বহন করবেনা। অতপর তোমাদের প্রভুর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে। তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন যেসব বিষয়ে তোমরা মতভেদ করছিলে।
Arabic
وهو الذي جعلكم خلائف الأرض ورفع بعضكم فوق بعض درجات ليبلوكم في ما آتاكم ۗ إن ربك سريع العقاب وإنه لغفور رحيم
তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।
আবদুস শহীদ নাসিম
তিনিই তোমাদেরকে এই পৃথিবীর প্রতিনিধি বানিয়েছেন এবং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের কতক লোককে অপর কতক লোকের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তোমার প্রভু শাস্তিদানে দ্রুত, আবার তিনি অবশ্যি ক্ষমাশীল দয়াময়ও।