সমস্ত প্রশংসা র, তিনিই যাঁর অধীনে রয়েছে যা - কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যা - কিছু আছে পৃথিবীতে, আর তাঁরই সব প্রশংসা পরলোকে। আর তিনিই পরমজ্ঞানী, পূর্ণ ওয়াকিফহান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সকল প্রশংসা র, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্ত কিছুরই মালিক এবং আখিরাতেও প্রশংসা তাঁহারই। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।
وقال الذين كفروا لا تأتينا الساعة ۖ قل بلى وربي لتأتينكم عالم الغيب ۖ لا يعزب عنه مثقال ذرة في السماوات ولا في الأرض ولا أصغر من ذلك ولا أكبر إلا في كتاب مبين
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে - - ''ঘড়িঘন্টা আমাদের উপরে আসবে না।’’ তুমি বলো - - ''হাঁ, আমার প্রভুর কসম, এটি অবশ্যই তোমাদের উপরে এসে পড়বে, তিনি সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত। এক অণুর ওজন পরিমাণও তাঁর থেকে লুকোনো যাবে না মহাকাশমন্ডলীতে, আর পৃথিবীতেও নয়, আর তার থেকে আরো ছোটও নেই এবং বড়ও নেই, - - বরং তা লিপিবদ্ধ রয়েছে এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে, - -
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিররা বলে, ‘আমাদের নিকট কিয়ামত আসিবে না।’ বল, ‘আসিবেই, শপথ আমার প্রতিপালকের, নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট উহা আসিবে।’ তিনি সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁহার অগোচর নয় অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু ; ইহার প্রত্যেকটি আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।
আর যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তারা দেখতে পায় যে তোমার কাছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে যা অবতারণ করা হয়েছে তাই সত্য, আর তা পরিচালিত করে মহাশক্তিশালী পরম প্রশংসিতের পথে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছে তাহারা জানে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে তোমার প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাই সত্য ; ইহা পরাক্রমশালী প্রশংসার্হ র পথনির্দেশ করে।
আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে - - ''আমরা কি তোমাদের সন্ধান দেব এমন এক ব্যক্তির যে তোমাদের জানায় যে যখন তোমরা চুরমার হয়ে গেছো পুরোপুরি চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থায়, তখনও তোমরা কিন্তু নতুন সৃষ্টি লাভ করবে?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিররা বলে, আমরা কি তোমাদেরকে এমন ব্যক্তির সন্ধান দিব যে তোমাদেরকে বলে, ‘তোমাদের দেহ সম্পূর্ণ ছিন্নভিন্ন হইয়া পড়িলেও তোমরা নূতন সৃষ্টিরূপে উত্থিত হইবেই?’
''সে র বিরুদ্ধে হয় মিথ্যা রচনা করেছে, নয়তো তার মধ্যে রয়েছে জিনভূত।’’ বস্তুতঃ যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা আছে শাস্তিতে ও সুদূরপ্রসারী বিভ্রান্তিতে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে কি সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে অথবা সে কি উন্মাদ ? বস্তুত যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারা শাস্তি ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রহিয়াছে।
তারা কি তবে দেখে না তাদের সামনে কী রয়েছে আর কী রয়েছে তাদের পেছনে - - মহাকাশে ও পৃথিবীতে। আমরা যদি চাইতাম তবে তাদের সঙ্গে পৃথিবীকে ধসিয়ে দিতাম, অথবা তাদের উপরে আকাশ থেকে একটি চাঙড় ফেলে দিতাম। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে প্রত্যাবৃত প্রত্যেক বান্দার জন্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা কি উহাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আসমান ও যমীনে যাহা আছে তাহার প্রতি লক্ষ্য করে না? আমি ইচ্ছা করিলে উহাদেরকেসহ ভূমি ধসাইয়া দিব অথবা উহাদের উপর আকাশখণ্ডের পতন ঘটাইব ; র অভিমুখী প্রতিটি বান্দার জন্য ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে।
আর আমরা নিশ্চয়ই দাউদকে আমাদের কাছ থেকে দিয়েছিলাম করুণাভান্ডার। ''হে পাহাড়গুলো! তাঁর সঙ্গে একমুখো হও, আর পাখীরাও।’’ আর লোহাকেও আমরা তাঁর জন্য গলিয়েছিলাম,
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি নিশ্চয়ই দাঊদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম এবং আদেশ করিয়াছিলাম, ‘হে পর্বতমালা ! তোমরা দাঊদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ঘোষণা কর’ এবং বিহঙ্গকুলকেও, তাহার জন্য নমনীয় করিয়াছিলাম লৌহ -
আর সুলাইমানের জন্য বায়ূপ্রবাহ। এর সকালবেলাকার গতি একমাস এবং এর বিকেলবেলার গতি একমাস, আর আমরা তার জন্য তামার নদী বইয়ে দিয়েছিলাম। আর তাদের মধ্যের যে কেউ আমাদের নির্দেশ থেকে সরে যেত তাকে আমরা আস্বাদন করাতাম জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি থেকে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি সুলায়মানের অধীন করিয়াছিলাম বায়ুকে যাহা প্রভাতে এক মাসের পথ অতিক্রম করিত এবং সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করিত। আমি তাহার জন্য গলিত তাম্রের এক প্রস্রবণ প্রবাহিত করিয়াছিলাম। তাহার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে জিনদের কতক তাহার সম্মুখে কাজ করিত। উহাদের মধ্যে যে আমার নির্দেশ অমান্য করে তাহাকে আমি জ্বলন্ত অগ্নি - শাস্তি আস্বাদন করাইব।
তারা তাঁর জন্য তৈরি করত যা তিনি চাইতেন, যথা দুর্গপ্রাসাদ ও ভাস্কর্য - প্রতিমূর্তি, আর গামলার ন্যায় থালা, আর অনড় - হয়ে - বসা ডেগ। ''হে দাউদের পরিবার! কৃতজ্ঞতার সাথে কাজ করে যাও।’’ আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পকয়জনই কৃতজ্ঞ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্য, হাওযসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করিত। আমি বলিয়াছিলাম, ‘হে দাঊদ - পরিবার! কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করিতে থাক। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ!’
তারপর যখন আমরা তাঁর প্রতি মৃত্যুবিধান করেছিলাম তখন কিছুই তাদের কাছে তাঁর মৃত্যু সন্বন্ধে জানতে দেয় নি শুধু এক মাটির কীট ব্যতীত, সে খেয়ে ফেলেছিল তাঁর শাঁস। তারপর যখন তার পতন ঘটল তখন জিনেরা পরিস্কারভাবে বুঝলো যে যদি তারা অদৃশ্যটা জানতো তাহলে তারা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে অবস্থান করত না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন আমি সুলায়মানের মৃত্যু ঘটাইলাম তখন জিনদেরকে তাহার মৃত্যু বিষয় জানাইল কেবল মাটির পোকা যাহা তাহার লাঠি খাইতেছিল। যখন সে পড়িয়া গেল তখন জিনেরা বুঝিতে পারিল যে, উহারা যদি বিষয় অবগত থাকিত তাহা হইলে উহারা লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তিতে আবদ্ধ থাকিত না।
সাবা’র জন্য তাদের বাসভূমিতে নিশ্চয়ই একটি নিদর্শন ছিল - - দুইটি বাগান, ডান দিকে ও বাঁয়ে। ''তোমাদের প্রভুর রিযেক থেকে আহার করো ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এক উৎকৃষ্ট ভূখন্ড এবং একজন পরিত্রাণকারী প্রভু।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সাবাবাসীদের জন্য তো উহাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন : দুইটি উদ্যান, একটি ডান দিকে, অপরটি বাম দিকে, উহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালক - প্রদত্ত রিযিক ভোগ কর এবং তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। উত্তম নগরী এবং ক্ষমাশীল প্রতিপালক।’
কিন্তু তারা বিমুখ হয়েছিল, তাই আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম আল্ - আরিমের বন্যা, আর তাদের জন্য আমরা বদলে দিয়েছিলাম তাদের দুই বাগানের স্থলে দুই বাগান যাতে ফলে বিস্বাদ ফলমূল আর ঝোপঝাড় ও কিছু - কিছু বন্যফল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরে উহারা অবাধ্য হইল। ফলে আমি উহাদের উপর প্রবাহিত করিলাম বাঁধভাঙ্গা বন্যা এবং উহাদের উদ্যান দুইটিকে পরিবর্তন করিয়া দিলাম এমন দুইটি উদ্যানে যাহাতে উৎপন্ন হয় বিস্বাদ ফলমূল, ঝাউ গাছ এবং কিছু কুল গাছ।
আর তাদের ও সেই শহরগুলোর যাতে আমরা অনুগ্রহ অর্পণ করেছিলাম, তাদের মাঝে আমরা স্থাপন করেছিলাম দৃশ্যমান জনবসতি, আর তাদের মধ্যে ভ্রমণস্তর ঠিক করে দিয়েছিলাম, - - ''তোমরা এসবে রাতে ও দিনে নিরাপদে পরিভ্রমণ কর।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের ও যেসব জনপদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম সেইগুলির মধ্যবর্তী স্থানে দৃশ্যমান বহু জনপদ স্থাপন করিয়াছিলাম এবং ঐসব জনপদে ভ্রমণের যথাযথ ব্যবস্থা করিয়াছিলাম এবং উহাদেরকে বলিয়াছিলাম, ‘তোমরা এইসব জনপদে নিরাপদে ভ্রমণ কর দিবস ও রজনীতে।’
কিন্তু তারা বললে - - ''আমাদের প্রভু! আমাদের পর্যটন - স্তরগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দাও।’’ আর তাদের নিজেদেরই প্রতি তারা অন্যায় করেছিল, ফলে আমরা তাদের বানিয়েছিলাম কাহিনীর বিষয়বস্তু, আর আমরা তাদের ভেঙ্গেচুরে দিয়েছিলাম পুরোপুরি চুরমার করে। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনসমূহ রয়েছে প্রত্যেক অধ্যবসায়ী কৃতজ্ঞের জন্য।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কিন্তু উহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমাদের সফরের মন্যিলের ব্যবধান বর্ধিত কর।’ উহারা নিজেদের প্রতি জুলুম করিয়াছিল। ফলে আমি উহাদেরকে কাহিনীর বিষয়বস্তুতে পরিণত করিলাম এবং উহাদেরকে ছিন্নভিন্ন করিয়া দিলাম। ইহাতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।
কিন্তু তাদের উপরে আধিপত্যের কোনো অস্তিত্ব তার জন্য নেই এই ব্যতীত যে আমরা যেন জানতে পারি তাকে যে পরকালে বিশ্বাস করে তার থেকে যে সে - সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। আর তোমার প্রভু সব - কিছুর উপরে হেফাজতকারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের উপর শয়তানের কোন আধিপত্য ছিল না। কাহারা আখিরাতে এবং কাহারা উহাতে সন্দিহান তাহা প্রকাশ করিয়া দেওয়াই ছিল আমার উদ্দেশ্য। তোমার প্রতিপালক সর্ববিষয়ে হিফাযতকারী।
তুমি বলো - - ''কে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা কল্পনা করেছ তাদের ডাকো, তারা অণুর পরিমাপেও কোনো ক্ষমতা রাখে না মহাকাশমন্ডলীতে আর পৃথিবীতেও নয়, আর তাদের জন্য এই দুইয়ের মধ্যে কোনো একটা শরিকানাও নেই, আর তাদের মধ্যে থেকে তার জন্য কোনো পৃষ্ঠপোষকতাও নেই।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘তোমরা আহ্বান কর উহাদেরকে যাহাদেরকে তোমরা র পরিবর্তে ইলাহ্ মনে করিতে। উহারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এতদুভয়ে উহাদের কোন অংশও নাই এবং উহাদের কেউ তাঁহার সহায়কও নয়।’
আর তাঁর কাছে সুপারিশে কোনো সুফল দেবে না, তার ক্ষেত্রে ব্যতীত যাকে তিনি অনুমতি দিয়েছেন, যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর থেকে ভয় - ভাবনা দূর হয়ে যাবে, তারা বলবে - - ''কি সেটা যা তোমাদের প্রভু বলেছিলেন?’’ তারা বলবে - - ''সত্য। আর তিনিই মহোচ্চ, মহামহিম।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাকে অনুমতি দেওয়া হয় সে ব্যতীত র নিকট কাহারও সুপারিশ ফলপ্রসূ হইবে না। পরে যখন উহাদের অন্তর হইতে ভয় বিদূরিত হইবে তখন উহারা পরস্পরের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করিবে, ‘তোমাদের প্রতিপালক কী বলিলেন?’ তদুত্তরে তাহারা বলিবে, ‘যাহা সত্য তিনি তাহাই বলিয়াছেন।’ তিনি সমুচ্চ, মহান।
বলো - - ''কে তোমাদের রিষেক দান করেন মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী থেকে?’’ তুমি বলে দাও - - ''। আর নিঃসন্দেহ আমরা অথবা তোমরা নিশ্চয়ই সঠিক পথে রয়েছি, নয়তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছি।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী হইতে কে তোমাদেরকে রিযিক প্রদান করেন?’ বল, ‘। হয় আমরা না হয় তোমরা সৎপথে স্থিত অথবা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত।’
তুমি বলো - - ''আমাদের প্রভু আমাদের পরস্পরের সঙ্গে সমবেত করবেন, তারপর তিনি আমাদের মধ্যে মীমাংসা করবেন ন্যায়ের সাথে। আর তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচাকর, পরমজ্ঞানী।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমাদের প্রতিপালক আমাদের সকলকে একত্র করিবেন, অতঃপর তিনি আমাদের মধ্যে সঠিকভাবে ফয়সালা করিয়া দিবেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী, সর্বজ্ঞ।’
وقال الذين كفروا لن نؤمن بهذا القرآن ولا بالذي بين يديه ۗ ولو ترى إذ الظالمون موقوفون عند ربهم يرجع بعضهم إلى بعض القول يقول الذين استضعفوا للذين استكبروا لولا أنتم لكنا مؤمنين
আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে - - ''আমরা কিছুতেই এই কুরআনে বিশ্বাস করব না, আর এর আগে যা রয়েছে তাতেও না।’’ আর তুমি যদি দেখতে যখন অন্যায়াচারীদের দাঁড় করানো হবে তাদের প্রভুর সামনে! তাদের কেউ কেউ অপরদের প্রতি বাক্যবান ফিরিয়ে দিতে থাকবে! যাদের দুর্বল করা হয়েছিল তারা তখন বলবে তাদের যারা মাতব্বরি করেছিল - - ''তোমাদের জন্য না হলে আমরা নিশ্চয়ই হতাম।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
কাফিররা বলে, ‘আমরা এই কুরআনে কখনও বিশ্বাস করিব না, ইহার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও নয়। হায়! তুমি যদি দেখিতে জালিমদেরকে যখন তাহাদের প্রতিপালকের সম্মুখে দণ্ডায়মান করা হইবে তখন উহারা পরস্পর বাদ - প্রতিবাদ করিতে থাকিবে, যাহাদেরকে দুর্বল মনে করা হইত তাহারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলিবে, ‘তোমরা না থাকিলে আমরা অবশ্যই হইতাম।’
যারা মাতব্বরি করেছিল তারা বলবে তাদের যাদের দুর্বল করা হয়েছিল - - ''আমরা কি তোমাদের বাধা দিয়েছিলাম পথনির্দেশ থেকে এটি তোমাদের কাছে আসার পরে? বরং তোমারই তো ছিলে অপরাধী?’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহারা ক্ষমতাদর্পী ছিল তাহারা, যাহাদেরকে দুর্বল মনে করা হইত তাহাদেরকে বলিবে, ‘তোমাদের নিকট সৎপথের দিশা আসিবার পর আমরা কি তোমাদেরকে উহা হইতে নিবৃত্ত করিয়াছিলাম? বস্তুত তোমরাই তো ছিলে অপরাধী ।’
وقال الذين استضعفوا للذين استكبروا بل مكر الليل والنهار إذ تأمروننا أن نكفر بالله ونجعل له أندادا ۚ وأسروا الندامة لما رأوا العذاب وجعلنا الأغلال في أعناق الذين كفروا ۚ هل يجزون إلا ما كانوا يعملون
আর যাদের দুর্বল করা হয়েছিল তারা বলবে তাদের যারা গর্ব করছিল - - ''বস্তুত রাত ও দিনের চক্রান্ত, যখন তোমরা আমাদের হুকুম করতে যেন আমরা কে অবিশ্বাস করি এবং তাঁর সঙ্গে অংশী স্থাপন করি।’’ আর তারা যখন শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা আফসোসে আকুল হবে। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করত তাদের গলায় আমরা শিকল পরাব। তাদের কি প্রতিদান দেওয়া হচ্ছে তারা যা করে চলেছিল তা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাহাদেরকে দুর্বল মনে করা হইত তাহারা ক্ষমতাদর্পীদেরকে বলিবে, ‘প্রকৃতপক্ষে তোমরাই তো দিবারাত্র চক্রান্তে লিপ্ত ছিলে, আমাদেরকে নির্দেশ দিয়াছিলে যেন আমরা কে অমান্য করি এবং তাঁহার শরীক স্থাপন করি।’ যখন তাহারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে তখন তাহারা অনুতাপ গোপন রাখিবে এবং আমি কাফিরদের গলদেশে শৃংখল পরাইব। উহাদেরকে উহারা যাহা করিত তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইবে।
আর না তোমাদের ধনদৌলত ও না তোমাদের সন্তানসন্ততি এমন জিনিস যা আমাদের কাছে তোমাদের মর্যাদায় নৈকট্য দেবে, বরং যে ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে। সুতরাং এরাই - - এদেরই জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার যা তারা করেছে সেজন্য, আর তারা বাগান - বাড়িতে নিরাপদে রইবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি এমন কিছু নয় যাহা তোমাদেরকে আমার নিকটবর্তী করিয়া দিবে ; তবে যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাহারাই তাহাদের কর্মের জন্য পাইবে বহুগুণ পুরস্কার; আর তাহারা প্রাসাদে নিরাপদে থাকিবে।
বলো, ''নিঃসন্দেহ আমার প্রভু জীবিকা বাড়িয়ে দেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন, আর তার জন্য সীমিতও করেন। আর যা - কিছু তোমরা ব্যয় কর তিনি তো তার প্রতিদান দেন, কেননা তিনিই জীবিকাদাতাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমার প্রতিপালক তো তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাহার প্রতি ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন এবং যাহার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যাহা কিছু ব্যয় করিবে তিনি তাহার প্রতিদান দিবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিযিকদাতা।’
সুতরাং সেইদিন তোমাদের কেউ অপর কারোর জন্য উপকার করার ক্ষমতা রাখবে না, অপকার করারও নয়। আর যারা অন্যায়াচরণ করেছিল তাদের আমরা বলব - - ''আগুনের শাস্তি আস্বাদন কর যেটি তোমরা মিথ্যা বলতে!’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আজ তোমাদের একে অন্যের উপকার কিংবা অপকার করিবার ক্ষমতা নাই।’ যাহারা জুলুম করিয়াছিল তাহাদেরকে বলিব, ‘তোমারা যে অগ্নি - শাস্তি অস্বীকার করিতে তাহা আস্বাদন কর।’
وإذا تتلى عليهم آياتنا بينات قالوا ما هذا إلا رجل يريد أن يصدكم عما كان يعبد آباؤكم وقالوا ما هذا إلا إفك مفترى ۚ وقال الذين كفروا للحق لما جاءهم إن هذا إلا سحر مبين
আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট নির্দেশাবলী আবৃত্তি করা হয় তখন তারা বলে - - ''এ তো একজন মানুষ ছাড়া আর কেউ নয় যে তোমাদের ফিরিয়ে রাখতে চায় তা থেকে যার উপাসনা করত তোমাদের পিতৃপুরুষরা।’’ আর তারা বলে - - ''এ একটি বানানো মিথ্যা ব্যতীত আর কিছু নয়।’’ আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা সত্য - সন্বন্ধে, এটি যখন তাদের কাছে আসে তখন, বলে - - ''এ স্পষ্ট জাদু বৈ তো নয়।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহাদের নিকট যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন ইহারা বলে, ‘তোমাদের পূর্বপুরুষ যাহার ‘ইবাদত করিত এই ব্যক্তিই তো তাহার ‘ইবাদতে তোমাদেরকে বাধা দিতে চায়।’ ইহারা আরও বলে, ‘ইহা তো মিথ্যা উদ্ভাবন ব্যতীত কিছু নয়,’ এবং কাফিরদের নিকট যখন সত্য আসে তখন উহারা বলে, ‘ইহা তো এক সুস্পষ্ট জাদু।’
আর এদের পূর্বে যারা ছিল তারাও মিথ্যারোপ করেছিল, আর আমরা তাদের যা দিয়েছিলাম তার এক দশমাংশেও এরা পৌঁছায় নি, তারপর তারা আমার রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে কেমন হয়েছিল আমার বিতৃষ্ণা!
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল। উহাদেরকে আমি যাহা দিয়াছিলাম, ইহারা তাহার এক - দশমাংশও পায় নাই, তবুও উহারা আমার রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলিয়াছিল। ফলে কত ভয়ংকর হইয়াছিল আমার শাস্তি।
তুমি বলো - - ''আমি তো তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি - - তোমরা যেন র উদ্দেশ্যে দুজন করে অথবা একা একা উঠে দাঁড়াও, তারপর ভেবে দেখো - - তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো জিন - ভূত নেই।’’ তিনি তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী বৈ তো নন, আসন্ন কঠোর শাস্তি সম্পর্কে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিতেছি : তোমরা র উদ্দেশ্যে দুই - দুইজন অথবা এক - একজন করিয়া দাঁড়াও, অতঃপর তোমরা চিন্তা করিয়া দেখ - তোমাদের সঙ্গী আদৌ উন্মাদ নয়। সে তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ককারী মাত্র।
তুমি বলো - - ''যা - কিছু পারিশ্রমিক আমি তোমাদের কাছে চেয়েছি, সে তো তোমাদেরই জন্য! আমার পারিশ্রমিক র কাছে বৈ তো নয়, কেননা তিনি সব - কিছুর উপরে প্রত্যক্ষদশ।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি তোমাদের নিকট কোন পারিশ্রমিক চাই না, তাহা তো তোমাদেরই ; আমার পুরস্কার তাে আছে র নিকট এবং তিনি সর্ববিষয়ে দ্রষ্টা।’
তুমি বলো - - ''যদি আমি বিপথে যাই তাহলে আমি তো আমার নিজেরই বিরুদ্ধে বিপথে গেছি, আর আমি যদি সৎপথে চলি তাহলে সেটি আমার প্রভু আমার কাছে যা প্রত্যাদেশ করেছিলেন তার জন্য। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী।’’
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি বিভ্রান্ত হইলে বিভ্রান্তির পরিণাম আমারই এবং যদি আমি সৎপথে থাকি তবে তাহা এইজন্য যে, আমার প্রতি আমার প্রতিপালক ওহী প্রেরণ করেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সন্নিকট।’
আর তাদের মধ্যে ও তারা যা কামনা করে তার মধ্যে এক বেড়া খাড়া করা হবে, - - যেমন করা হয়েছিল ইতিপূর্বে এদের সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহ তারা এক ঘোর সন্দেহে রয়েছে ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহাদের ও ইহাদের বাসনার মধ্যে অন্তরাল করা হইয়াছে, যেমন পূর্বে করা হইয়াছিল ইহাদের সমপন্থীদের ক্ষেত্রে। উহারা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে।