بسم الله الرحمن الرحيم لا أقسم بيوم القيامة
আমি শপথ করছি কিয়ামত কালের।
আমি শপথ করিতেছি কিয়ামত দিবসের,
না, আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের।
Chapter 75, 40 verses
بسم الله الرحمن الرحيم لا أقسم بيوم القيامة
আমি শপথ করছি কিয়ামত কালের।
আমি শপথ করিতেছি কিয়ামত দিবসের,
না, আমি শপথ করছি কিয়ামতের দিনের।
ولا أقسم بالنفس اللوامة
আমি আরো শপথ করছি তিরস্কারকারী নফসের।
আরও শপথ করিতেছি তিরস্কারকারী আত্মার।
আর না, আমি শপথ করছি আত্মসমালোচনাপরায়ণ আত্মার।
أيحسب الإنسان ألن نجمع عظامه
মানুষ কি ধারণা করে নিয়েছে যে, আমরা তার হাড়গোড় জমা (পুনর্গঠিত) করবোনা?
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তাহার অস্থিসমূহ একত্র করিতে পারিব না?
মানুষ কি মনে করে যে আমরা কখনো তার হাড়গোড় একত্রিত করব না?
بلى قادرين على أن نسوي بنانه
হ্যাঁ, আমরা তার আংগুলের জোড়াগুলোও পুনর্গঠন করতে সক্ষম।
বস্তুত আমি উহার অঙ্গুলীর অগ্রভাগ পর্যন্ত পুনবিন্যস্ত করিতে সক্ষম।
হাঁ, আমরা তার আঙুলগুলো পর্যন্ত পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।
بل يريد الإنسان ليفجر أمامه
বরং মানুষ তার সামনের দিনগুলোতেও পাপাচারে লিপ্ত থাকতে চায়।
তবুও মানুষ তাহার ভবিষ্যতেও পাপাচার করিতে চায়।
তবুও মানুষ চায় যা তার সামনে রয়েছে তা অস্বীকার করতে।
يسأل أيان يوم القيامة
সে প্রশ্ন করে, কখন আসবে কিয়ামতকাল?
সে প্রশ্ন করে, ‘কখন কিয়ামত দিবস আসিবে?’
সে প্রশ্ন করে - - ''কখন কিয়ামতের দিন আসবে?’’
فإذا برق البصر
(হাঁ) তখনই আসবে, যখন মানুষের চোখ স্থির হয়ে যাবে,
যখন চক্ষু স্থির হইয়া যাইবে,
কিন্ত যখন দৃষ্টি দিশাহারা হয়ে যাবে,
وخسف القمر
চাঁদ হয়ে পড়বে জ্যোতিহীন,
এবং চন্দ্র হইয়া পড়িবে জ্যোতিহীন,
আর চন্দ্র হবে অন্ধকারাচ্ছন্ন,
وجمع الشمس والقمر
এবং যখন জমা (একত্রিত) করে দেয়া হবে সূর্য ও চাঁদকে।
যখন সূর্য ও চন্দ্রকে একত্র করা হইবে -
আর সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে,
يقول الإنسان يومئذ أين المفر
তখন মানুষ বলবে: পালাবার জায়গা কোথায়?
সেদিন - মানুষ বলিবে, ‘আজ পালাইবার স্থান কোথায়?’
মানুষ সেইদিন বলবে - - ''কোথায় পালানোর স্থান?’’
كلا لا وزر
না, কখনো নয়, পালাবার কোনো জায়গা হবেনা।
না, কোন আশ্রয়স্থল নাই।
কিছুতেই না, কোনো আশ্রয়স্থল নেই।
إلى ربك يومئذ المستقر
সেদিন তো কেবল তোমার প্রভুর কাছেই হবে ঠিকানা।
সেদিন ঠাঁই হইবে তোমার প্রতিপালকেরই নিকট।
সেদিন ঠাই হবে কেবল তোমার প্রভুর নিকটেই।
ينبأ الإنسان يومئذ بما قدم وأخر
সেদিন মানুষকে জানানো হবে, সে কী আগে পাঠিয়েছে, আর কী রেখে এসেছে পেছনে।
সেদিন মানুষকে অবহিত করা হইবে সে কী অগ্রে পাঠাইয়াছে ও কী পশ্চাতে রাখিয়া গিয়াছে।
মানুষকে সেইদিন জানানো হবে কী সে আগবাড়িয়েছে এবং সে ফেলে রেখেছে।
بل الإنسان على نفسه بصيرة
বরং মানুষ নিজেই তার নিজের সম্পর্কে অবহিত।
বস্তুত মানুষ নিজের সম্বন্ধে সম্যক অবগত,
বস্তুত মানুষ তার নিজের সত্ত্বা সন্বন্ধে চক্ষুষ্মান,
ولو ألقى معاذيره
যদিও সে পেশ করে থাকে নানা রকম ওজর।
যদিও সে নানা অজুহাতের অবতারণা করে।
যদিও সে তার অজুহাত দেখায়।
لا تحرك به لسانك لتعجل به
তুমি বারবার জিহ্বা নাড়বেনা তাড়াহুড়া করে অহি আয়ত্ত্ব করার জন্যে।
তাড়াতাড়ি ওহী আয়ত্ত করিবার জন্য তুমি তোমার জিহ্বা উহার সঙ্গে সঞ্চালন করিও না।
এর দ্বারা তোমার জিহবা নাড়াচাড়া করো না একে ত্বরান্বিত করতে।
إن علينا جمعه وقرآنه
এর সংরক্ষণ করা ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের।
ইহা সংরক্ষণ ও পাঠ করাইবার দায়িত্ব আমারই।
নিঃসন্দেহ আমাদের উপরেই রয়েছে এর সংগ্রহের ও এর পাঠ করানোর দায়িত্ব।
فإذا قرأناه فاتبع قرآنه
সুতরাং আমরা যখন তা (কুরআন) পাঠ করি, তুমি তখন সেই পাঠের অনুসরণ করো।
সুতরাং যখন আমি উহা পাঠ করি তুমি সেই পাঠের অনুসরণ কর,
সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি তখন তুমি তার পঠন অনুসরণ করো,
ثم إن علينا بيانه
তারপর তার বিশদ ব্যাখ্যা করে দেয়ার দায়িত্বও আমাদের।
অতঃপর ইহার বিশদ ব্যাখ্যার দায়িত্ব আমারই।
তারপর নিশ্চয় আমাদেরই উপরে রয়েছে এর ব্যাখ্যাকরণ।
كلا بل تحبون العاجلة
কখনো নয়, বরং তোমরা দ্রুত পেতে (অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনকে) পছন্দ করো।
না, তোমরা প্রকৃতপক্ষে পার্থিব জীবনকে ভালবাস;
না, তোমরা কিন্তু ভালবাস ক্ষণস্থায়ী,
وتذرون الآخرة
এবং তোমরা উপেক্ষা করছো আখিরাতকে।
এবং আখিরাতকে উপেক্ষা কর।
আর অবহেলা কর পরকালকে।
وجوه يومئذ ناضرة
সেদিন কিছু চেহারা হবে উজ্জ্বল,
সেদিন কোন কোন মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হইবে,
সেদিন কতকগুলো মুখ হবে উজ্জ্বল, - -
إلى ربها ناظرة
তারা তাকিয়ে থাকবে তাদের প্রভুর দিকে।
তাহারা তাহাদের প্রতিপালকের দিকে তাকাইয়া থাকিবে।
তাদের প্রভুর দিকে চেয়ে থাকবে,
ووجوه يومئذ باسرة
আর কিছু চেহারা হবে মলিন,
কোন কোন মুখমণ্ডল হইয়া পড়িবে বিবর্ণ,
আর কতকগুলো মুখ সেইদিন বিবর্ণ হয়ে যাবে, - -
تظن أن يفعل بها فاقرة
তারা আশংকা করবে তাদের সাথে ধ্বংসকর আচরণের।
আশংকা করিবে যে, এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় তাহাদের উপর আপতিত হইবে।
এই ভেবে যে কোনো বিধ্বংসী বিপর্যয় তাদের উপরে পড়তে যাচ্ছে।
كلا إذا بلغت التراقي
কখনো নয়, যখন প্রাণ হবে কন্ঠাগত,
কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হইবে,
না, যখন এটি গলায় এসে পৌঁছুবে,
وقيل من ۜ راق
এবং বলা হবে, ‘কে রক্ষা করবে তাকে?’
এবং বলা হইবে, ‘কে তাহাকে রক্ষা করিবে?’
এবং বলা হবে - - ''কে সেই জাদুকর?’’
وظن أنه الفراق
তখন সে বিশ্বাস করবে, তার বিদায়ের সময় উপস্থিত
তখন তাহার প্রত্যয় হইবে যে, ইহা বিদায়ক্ষণ।
আর সে বুঝতে পারে যে, এ হচ্ছে বিদায় বেলা,
والتفت الساق بالساق
তখন পায়ের সাথে পা জড়িয়ে যাবে।
এবং পায়ের সঙ্গে পা জড়াইয়া যাইবে।
এবং এক পায়ের হাড় অন্য পায়ের হাড়ে ঠোকর খেতে থাকবে,
إلى ربك يومئذ المساق
সেদিন সব কিছু নিয়ে যাওয়া হবে তোমার প্রভুর কাছে।
সেই দিন তোমার প্রভুর নিকট সমস্ত কিছু প্রত্যানীত হইবে।
তোমার প্রভুর দিকেই সেইদিন হবে চালিয়ে নেওয়া।
فلا صدق ولا صلى
সে সত্য বলে মেনে নেয়নি এবং সালাতও আদায় করেনি।
সে বিশ্বাস করে নাই এবং আদায় করে নাই।
সে তো সত্যনিষ্ঠ ছিল না, আর নামাযও পড়ে নি,
ولكن كذب وتولى
বরং সে সত্যকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছিল ও মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল।
বরং সে সত্যপ্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ফিরে এসেছিল,
ثم ذهب إلى أهله يتمطى
তারপর সে ফিরে গেছে পরিবার পরিজনের কাছে দম্ভভরে।
অতঃপর সে তাহার পরিবার - পরিজনের নিকট ফিরিয়া গিয়াছিল দম্ভভরে,
তারপর সে তার স্বজনগণের কাছে গিয়েছিল গর্ব করতে করতে।
أولى لك فأولى
(হে অবিশ্বাসী!) দুর্ভোগ তোর, দুর্ভোগ,
দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ!
''তুমি নিপাত যাও! তবে নিপাত যাও!
ثم أولى لك فأولى
আবারো দুর্ভোগ তোর, দুর্ভোগ,
আবার দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগ!
''আবার তুমি নিপাত যাও, ফলে নিপাত যাও!’’
أيحسب الإنسان أن يترك سدى
মানুষ কি ধরে নিয়েছে যে, তাকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে?
মানুষ কি মনে করে যে, তাহাকে নিরর্থক ছাড়িয়া দেওয়া হইবে?
মানুষ কি ভাবে যে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বাঁধনছাড়াভাবে?
ألم يك نطفة من مني يمنى
সে কি একটি নিক্ষিপ্ত নোতফা (শুক্রবিন্দু) ছিলনা?
সে কি স্খলিত শুক্রবিন্দু ছিল না?
সে কি ছিল না এক শুক্রকীট এক সবেগে নির্গত স্খলনের মধ্যেকার?
ثم كان علقة فخلق فسوى
তারপর সে পরিণত হয় আলাকায় (একটি আটকানো জিনিসে)। তারপর তিনি তাকে দান করেছেন আকৃতি এবং করেছেন সুগঠিত।
অতঃপর সে ‘আলাকায় পরিণত হয়। তারপর তাহাকে আকৃতি দান করেন ও সুঠাম করেন।
তারপর সে হলো একটি রক্তপিন্ড, তারপর তিনি আকৃতি দান করলেন ও পূর্ণাঙ্গ করলেন।
فجعل منه الزوجين الذكر والأنثى
তারপর তিনি তার থেকে সৃষ্টি করেছেন জোড়া - পুরুষ ও নারী।
অতঃপর তিনি তাহা হইতে সৃষ্টি করেন যুগল - নর ও নারী।
তারপর তিনি তা হতে সৃষ্টি করলেন তার যুগল - - পুরুষ ও নারী।
أليس ذلك بقادر على أن يحيي الموتى
তারপরও কি সেই মহান স্রষ্টা মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন?
তবুও কি সেই স্রষ্টা মৃতকে পুনর্জীবিত করিতে সক্ষম নয়?
তবুও কি তিনি ক্ষমতাবান নন মৃতকে পুনর্জীবিত করতে?