بسم الله الرحمن الرحيم الم
আলিফ লাম মিম।
আলিফ - লাম - মীম,
Chapter 30, 60 verses
بسم الله الرحمن الرحيم الم
আলিফ লাম মিম।
আলিফ - লাম - মীম,
غلبت الروم
রোমানরা পরাজিত হয়েছে
রোমকরা পরাজিত হয়েছে,
في أدنى الأرض وهم من بعد غلبهم سيغلبون
নিকটবর্তী ভূ - খন্ডে, তবে তারা তাদের পরাজয়ের পর অচিরেই আবার বিজয়ী হবে
নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর অতিসত্বর বিজয়ী হবে,
في بضع سنين ۗ لله الأمر من قبل ومن بعد ۚ ويومئذ يفرح المؤمنون
কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই। সব বিষয়ে ফায়সালার এখতিয়ার আল্লাহরই ইতোপূর্বেও এবং পরেও। সেদিন মুমিনরা হবে উৎফুল্ল।
কয়েক বছরের মধ্যে। অগ্র - পশ্চাতের কাজ আল্লাহর হাতেই। সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে।
بنصر الله ۚ ينصر من يشاء ۖ وهو العزيز الرحيم
নিজ সাহায্যে যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। তিনি মহাশক্তিধর, পরম করুণাময়।
আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وعد الله ۖ لا يخلف الله وعده ولكن أكثر الناس لا يعلمون
এটা আল্লাহর ওয়াদা। খেলাফ করেননা তাঁর ওয়াদা। তবে, অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হয়ে গেছে। তার প্রতিশ্রুতি খেলাফ করবেন না। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
يعلمون ظاهرا من الحياة الدنيا وهم عن الآخرة هم غافلون
তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিকটাই জানে, আর সম্পর্কে তারা একেবারেই গাফিল - অজ্ঞ।
তারা পার্থিব জীবনের বাহ্যিক দিক জানে এবং তারা পরকালের খবর রাখে না।
أولم يتفكروا في أنفسهم ۗ ما خلق الله السماوات والأرض وما بينهما إلا بالحق وأجل مسمى ۗ وإن كثيرا من الناس بلقاء ربهم لكافرون
তারা কি নিজেদের মনে মনে ভেবে দেখেনা, মহাকাশ, এই পৃথিবী আর এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে এসবই সৃষ্টি করেছেন সত্য ও বাস্তবতার নিরিখে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে? অনেক মানুষই তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভের বিষয়ে অবিশ্বাসী।
তারা কি তাদের মনে ভেবে দেখে না যে, নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছেন যথাযথরূপে ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য, কিন্তু অনেক মানুষ তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।
أولم يسيروا في الأرض فينظروا كيف كان عاقبة الذين من قبلهم ۚ كانوا أشد منهم قوة وأثاروا الأرض وعمروها أكثر مما عمروها وجاءتهم رسلهم بالبينات ۖ فما كان الله ليظلمهم ولكن كانوا أنفسهم يظلمون
তারা কি পৃথিবী পরিভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কী হয়েছিল? শক্তিতে তারা ছিলো এদের চাইতে দুর্ধর্ষ। তারা জমিন চাষ করতো এবং তা আবাদ করতো এদের আবাদ করার চাইতে অধিক রকম। তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে। তাদের প্রতি যুলুমকারী নন, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না অতঃপর দেখে না যে; তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি কি হয়েছে? তারা তাদের চাইতে শক্তিশালী ছিল, তারা যমীন চাষ করত এবং তাদের চাইতে বেশী আবাদ করত। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিল। বস্তুতঃ তাদের প্রতি জুলুমকারী ছিলেন না। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।
ثم كان عاقبة الذين أساءوا السوأى أن كذبوا بآيات الله وكانوا بها يستهزئون
তারপর যারা মন্দ কাজ করেছিল তাদের পরিণাম মন্দই হয়েছিল, কারণ তারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত এবং তারা তা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল।
অতঃপর যারা মন্দ কর্ম করত, তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা - বিদ্রূপ করত।
الله يبدأ الخلق ثم يعيده ثم إليه ترجعون
আল্লাহ্ই সূচনা করেন সৃষ্টির, তারপর তিনি পুন:সৃষ্টি করেন, তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁরই কাছে।
প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এরপর তোমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
ويوم تقوم الساعة يبلس المجرمون
আর যেদিন কায়েম হবে কিয়ামত, সেদিন হতাশ - হতবাক হয়ে পড়বে অপরাধীরা।
যে দিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে যাবে।
ولم يكن لهم من شركائهم شفعاء وكانوا بشركائهم كافرين
সেদিন তাদের (মনগড়া) দেবদেবীরা তাদের জন্যে সুপারিশকারী হবেনা এবং তারা তাদের দেবদেবীদের সেদিন প্রত্যাখ্যান করবে।
তাদের দেবতা গুলোর মধ্যে কেউ তাদের সুপারিশ করবে না। এবং তারা তাদের দেবতাকে অস্বীকার করবে।
ويوم تقوم الساعة يومئذ يتفرقون
যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন সব মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
فأما الذين آمنوا وعملوا الصالحات فهم في روضة يحبرون
তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তারা থাকবে জান্নাতে আনন্দে উৎফুল্লে।
যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে সমাদৃত হবে;
وأما الذين كفروا وكذبوا بآياتنا ولقاء الآخرة فأولئك في العذاب محضرون
আর যারা কুফুরি করবে এবং প্রত্যাখ্যান করবে আমাদের আয়াত ও আখিরাতের সাক্ষাত, তাদেরই হাজির রাখা হবে আযাবে।
আর যারা এবং আমার আয়াতসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকারকে মিথ্যা বলছে, তাদেরকেই আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।
فسبحان الله حين تمسون وحين تصبحون
সুতরাং সকাল ও সন্ধ্যায় তোমরা ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহর তসবিহ্) ঘোষণা করো।
অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে,
وله الحمد في السماوات والأرض وعشيا وحين تظهرون
সমস্ত প্রশংসা তাঁরই মহাবিশ্বে এবং পৃথিবীতে, আর (সুবহানাল্লাহ ঘোষণা করো) অপরাহ্নে ও যুহরের সময়ও।
এবং অপরাহ্নে ও মধ্যাহ্নে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, তাঁরই প্রসংসা।
يخرج الحي من الميت ويخرج الميت من الحي ويحيي الأرض بعد موتها ۚ وكذلك تخرجون
তিনি বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে। মরে শুকিয়ে যাবার পর তিনিই জমিনকে জীবিত করেন, আর এভাবেই তোমাদের বের করে আনা হবে (মাটির নীচে থেকে)।
তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বহির্গত করেন জীবিত থেকে মৃতকে বহির্গত করেন, এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। এভাবে তোমরা উত্থিত হবে।
ومن آياته أن خلقكم من تراب ثم إذا أنتم بشر تنتشرون
তাঁর একটি নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন তারপর এখন তোমরা সেই মানুষই ছড়িয়ে পড়েছো সবখানে।
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। এখন তোমরা মানুষ, পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছ।
ومن آياته أن خلق لكم من أنفسكم أزواجا لتسكنوا إليها وجعل بينكم مودة ورحمة ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون
তাঁর আরেকটি নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্যে জুড়ি (স্বামী - স্ত্রী), যাতে করে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো। এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন বন্ধুতা - ভালবাসা এবং দয়া - অনুকম্পা। এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
আর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সংগিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ومن آياته خلق السماوات والأرض واختلاف ألسنتكم وألوانكم ۚ إن في ذلك لآيات للعالمين
তাঁর আরেকটি নিদর্শন হলো মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন জ্ঞানী লোকদের জন্যে।
তাঁর আর ও এক নিদর্শন হচ্ছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয় এতে জ্ঞানীদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ومن آياته منامكم بالليل والنهار وابتغاؤكم من فضله ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يسمعون
তাঁর আরো একটি নিদর্শন হলো রাত এবং দিনের বেলায় তোমাদের ঘুম আর আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন মনোযোগী লোকদের জন্য।
তাঁর আরও নিদর্শনঃ রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর কৃপা অন্বেষণ। নিশ্চয় এতে মনোযোগী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ومن آياته يريكم البرق خوفا وطمعا وينزل من السماء ماء فيحيي به الأرض بعد موتها ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يعقلون
তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে, তিনি তোমাদের দেখান বিদ্যুতের চমকানি, তাতে থাকে তোমাদের ভয় এবং আশা, তারপর তিনি নাযিল করেন আসমান থেকে পানি আর তা দিয়ে জীবিত করেন মরা জমিন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন বুঝ - বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।
তাঁর আরও নিদর্শনঃ তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ, ভয় ও ভরসার জন্যে এবং আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তদ্দ্বারা ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
ومن آياته أن تقوم السماء والأرض بأمره ۚ ثم إذا دعاكم دعوة من الأرض إذا أنتم تخرجون
তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে, তাঁর নির্দেশেই কায়েম রয়েছে আসমান ও জমিন। তারপর যখন তোমাদের জমিন থেকে উঠে আসার জন্যে ডাক দেবেন একটিমাত্র ডাক, তখন তোমরা সাথে সাথে উঠে আসবে।
তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর যখন তিনি মৃত্তিকা থেকে উঠার জন্যে তোমাদের ডাক দেবেন, তখন তোমরা উঠে আসবে।
وله من في السماوات والأرض ۖ كل له قانتون
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। প্রত্যেকেই তাঁর প্রতি বিনত।
নভোমন্ডলে ও ভুমন্ডলে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ।
وهو الذي يبدأ الخلق ثم يعيده وهو أهون عليه ۚ وله المثل الأعلى في السماوات والأرض ۚ وهو العزيز الحكيم
তিনি সেই মহান সত্তা যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং সেটা হবে তাঁর জন্যে একেবারেই সহজ। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা কেবল তাঁর। তিনি মহাশক্তিধর, মহাবিজ্ঞানী।
তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি সৃষ্টি করবেন। এটা তাঁর জন্যে সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
ضرب لكم مثلا من أنفسكم ۖ هل لكم من ما ملكت أيمانكم من شركاء في ما رزقناكم فأنتم فيه سواء تخافونهم كخيفتكم أنفسكم ۚ كذلك نفصل الآيات لقوم يعقلون
তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজেদের থেকেই একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: তোমাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের কেউ কি তাতে অংশীদার? এবং তোমরা এই অংশীদারিত্বের ব্যাপারে কি সমান অধিকারী? তোমরা কি তাদেরকে সে রকম ভয় করো যে রকম তোমাদের পরস্পরকে ভয় করো? এভাবেই আমরা আয়াত বর্ণনা করি তফসিলসহ সমুঝদার লোকদের জন্যে।
তোমাদের জন্যে তোমাদেরই মধ্য থেকে একটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেনঃ তোমাদের আমি যে রুযী দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীরা কি তাতে তোমাদের সমান সমান অংশীদার? তোমরা কি তাদেরকে সেরূপ ভয় কর, যেরূপ নিজেদের লোককে ভয় কর? এমনিভাবে আমি সমঝদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করি।
بل اتبع الذين ظلموا أهواءهم بغير علم ۖ فمن يهدي من أضل الله ۖ وما لهم من ناصرين
বরং যালিমরা না জেনে শুনে তাদের খেয়াল খুশিরই অনুগামী হয়ে চলছে। যাকে বিপথগামী করে দেন, কে তাকে সঠিক পথে চালাবে? আর তাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারীই থাকবেনা।
বরং যারা যে - ইনসাফ, তারা অজ্ঞানতাবশতঃ তাদের খেয়াল - খূশীর অনুসরণ করে থাকে। অতএব, যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে কে বোঝাবে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
فأقم وجهك للدين حنيفا ۚ فطرت الله التي فطر الناس عليها ۚ لا تبديل لخلق الله ۚ ذلك الدين القيم ولكن أكثر الناس لا يعلمون
তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের জন্যে কায়েম করো। আল্লাহর ফিতরতের (প্রকৃতির) উপর প্রতিষ্ঠিত হও, যে ফিতরতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টি - প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়না। এটাই সঠিক সুষম দীন। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
তুমি একনিষ্ঠ ভাবে নিজেকে ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ। এটাই আল্লাহর প্রকৃতি, যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
۞ منيبين إليه واتقوه وأقيموا الصلاة ولا تكونوا من المشركين
বিনীত হৃদয়ে তাঁর অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় করো, কায়েম করো আর মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
সবাই তাঁর অভিমুখী হও এবং ভয় কর, কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
من الذين فرقوا دينهم وكانوا شيعا ۖ كل حزب بما لديهم فرحون
যারা নিজেদের দীনের মধ্যে বিভিন্ন মত সৃষ্টি করেছে, তারা বিভিন্ন দলে - উপদলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মত নিয়ে উৎফুল্ল।
যারা তাদের ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করেছে এবং অনেক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত।
وإذا مس الناس ضر دعوا ربهم منيبين إليه ثم إذا أذاقهم منه رحمة إذا فريق منهم بربهم يشركون
মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের প্রভুকে ডাকে তাঁর প্রতি বিনীত হয়ে। আবার যখন তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহের কিছু স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের প্রভুর সাথে শিরক করতে থাকে,
মানুষকে যখন দুঃখ - কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের পালনকর্তাকে আহবান করে তাঁরই অভিমুখী হয়ে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের পালনকর্তার সাথে শিরক করতে থাকে,
ليكفروا بما آتيناهم ۚ فتمتعوا فسوف تعلمون
তাদেরকে আমরা যা দিয়েছি তার প্রতি কুফুরি করার জন্যে। সুতরাং ভোগ বিলাস করে নাও, শীঘ্রি তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)।
যাতে তারা অস্বীকার করে যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব, মজা লুটে নাও, সত্বরই জানতে পারবে।
أم أنزلنا عليهم سلطانا فهو يتكلم بما كانوا به يشركون
নাকি আমরা তাদের কাছে কোনো সনদ পাঠিয়েছি এবং সেটি আল্লাহর সাথে শিরক করার ব্যাপারে তাদের পক্ষে কথা বলে?
আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল নাযিল করেছি, যে তাদেরকে আমার শরীক করতে বলে?
وإذا أذقنا الناس رحمة فرحوا بها ۖ وإن تصبهم سيئة بما قدمت أيديهم إذا هم يقنطون
যখনই আমরা মানুষকে আমাদের অনুগ্রহের কিছু স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে উঠে। আবার তাদেরকে যখন কোনো দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে তাদের কৃতকর্মের কারণে, তখন তারা হয়ে পড়ে নিরাশ।
আর যখন আমি মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তারা তাতে আনন্দিত হয় এবং তাদের কৃতকর্মের ফলে যদি তাদেরকে কোন দুদর্শা পায়, তবে তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
أولم يروا أن الله يبسط الرزق لمن يشاء ويقدر ۚ إن في ذلك لآيات لقوم يؤمنون
তারা কি দেখেনা, যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং (যাকে ইচ্ছা) সীমিত করে দেন? এতেও বিশ্বাসীদের জন্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন।
তারা কি দেখে না যে, যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক বর্ধিত করেন এবং হ্রাস করেন। নিশ্চয় এতে সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
فآت ذا القربى حقه والمسكين وابن السبيل ۚ ذلك خير للذين يريدون وجه الله ۖ وأولئك هم المفلحون
অতএব, আত্মীয়দের দিয়ে দাও তাদের হক এবং মিসকিন (অভাবী) আর পথিকদেরকেও। এটাই কল্যাণকর সেইসব লোকদের জন্যে যারা এরাদা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের, আর তারাই হবে সফলতা অর্জনকারী।
আত্নীয় - স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দিন এবং মিসকীন ও মুসাফিরদেরও। এটা তাদের জন্যে উত্তম, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। তারাই ।
وما آتيتم من ربا ليربو في أموال الناس فلا يربو عند الله ۖ وما آتيتم من زكاة تريدون وجه الله فأولئك هم المضعفون
মানুষের অর্থ - সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা যে সূদ দিয়ে থাকো, আল্লাহর দৃষ্টিতে তা অর্থ - সম্পদ বৃদ্ধি করেনা। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাকো, তাই বৃদ্ধি পায় এবং তারাই বৃদ্ধিকারী।
মানুষের ধন - সম্পদে তোমাদের ধন - সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র অন্তরে যারা দিয়ে থাকে, অতএব, তারাই দ্বিগুণ লাভ করে।
الله الذي خلقكم ثم رزقكم ثم يميتكم ثم يحييكم ۖ هل من شركائكم من يفعل من ذلكم من شيء ۚ سبحانه وتعالى عما يشركون
, তিনিই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদের রিযিক দিয়েছেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর তোমাদের পুনরায় জীবিত করবেন। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিকদার বানিয়েছো, তাদের কেউ কি এসবের কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানায়, তা থেকে পবিত্র, মহান।
আল্লাহই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর রিযিক দিয়েছেন, এরপর তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এরপর তোমাদের জীবিত করবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এসব কাজের মধ্যে কোন একটিও করতে পারবে? তারা যাকে শরীক করে, তা থেকে পবিত্র ও মহান।
ظهر الفساد في البر والبحر بما كسبت أيدي الناس ليذيقهم بعض الذي عملوا لعلهم يرجعون
বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে স্থলে ও সমুদ্রে মানুষের কর্মফলে, এরি মাধ্যমে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি তাদের আস্বাদন করান, যাতে করে তারা ফিরে আসে।
স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।
قل سيروا في الأرض فانظروا كيف كان عاقبة الذين من قبل ۚ كان أكثرهم مشركين
বলো: পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, তোমাদের আগেকার লোকদের কী পরিণতি হয়েছিল? তাদের অধিকাংশই ছিলো মুশরিক।
বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পুর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
فأقم وجهك للدين القيم من قبل أن يأتي يوم لا مرد له من الله ۖ يومئذ يصدعون
তুমি নিজেকে কায়েম করো সঠিক সুষম দীনের উপর সেই দিনটি আসার আগেই, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দিনটির আগমন কেউই রুখতে পারবেনা। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
যে দিবস আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রত্যাহূত হবার নয়, সেই দিবসের পূর্বে আপনি সরল ধর্মে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুন। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
من كفر فعليه كفره ۖ ومن عمل صالحا فلأنفسهم يمهدون
যে কুফুরি করে, তারই উপর পড়বে কুফুরির শাস্তি। আর যারা আমলে সালেহ্ করে তারা নিজেদের জন্যেই রচনা করে সুখশয্যা।
যে করে, তার কফুরের জন্যে সে - ই দায়ী এবং যে সৎকর্ম করে, তারা নিজেদের পথই শুধরে নিচ্ছে।
ليجزي الذين آمنوا وعملوا الصالحات من فضله ۚ إنه لا يحب الكافرين
যাতে করে, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। নিশ্চয়ই কাফিরদের পছন্দ করেন না।
যারা বিশ্বাস করেছে ও সৎকর্ম করেছে যাতে, তা’আলা তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে প্রতিদান দেন। নিশ্চয় তিনি কাফেরদের ভালবাসেন না।
ومن آياته أن يرسل الرياح مبشرات وليذيقكم من رحمته ولتجري الفلك بأمره ولتبتغوا من فضله ولعلكم تشكرون
তাঁর নিদর্শনাবলির একটি হলো, তোমাদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্যে এবং তোমাদেরকে তাঁর রহমত থেকে আস্বাদন করানোর জন্যে তিনি বাতাস পাঠান, এছাড়া তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী যেনো নৌযানগুলো চলাচল করে এবং তোমরা যেনো শোকর আদায় করতে পারো।
তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তিনি সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন, যাতে তিনি তাঁর অনুগ্রহ তোমাদের আস্বাদন করান এবং যাতে তাঁর নির্দেশে জাহাজসমূহ বিচরণ করে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
ولقد أرسلنا من قبلك رسلا إلى قومهم فجاءوهم بالبينات فانتقمنا من الذين أجرموا ۖ وكان حقا علينا نصر المؤمنين
তোমার আগে আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি তাদের নিজ নিজ কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিল। তারপর আমরা অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব।
আপনার পূর্বে আমি রসূলগণকে তাঁদের নিজ নিজ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি। তাঁরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেন। অতঃপর যারা পাপী ছিল, তাদের আমি শাস্তি দিয়েছি। মুমিনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব।
الله الذي يرسل الرياح فتثير سحابا فيبسطه في السماء كيف يشاء ويجعله كسفا فترى الودق يخرج من خلاله ۖ فإذا أصاب به من يشاء من عباده إذا هم يستبشرون
আল্লাহ্ই বাতাস পাঠান, তা মেঘমালাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে, তারপর তিনি এগুলোকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন। পরে এগুলো খন্ড খন্ড করেন এবং তুমি দেখতে পাও সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসে বারিধারা, তখন তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছে তা পৌঁছে দেন, তখন তারা হয়ে উঠে চরম আনন্দিত।
তিনি , যিনি বায়ু প্রেরণ করেন, অতঃপর তা মেঘমালাকে সঞ্চারিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বৃষ্টিধারা। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।
وإن كانوا من قبل أن ينزل عليهم من قبله لمبلسين
যদিও ইতোপূর্বে বৃষ্টি নাযিলের আগে তারা ছিলো হতাশ।
তারা প্রথম থেকেই তাদের প্রতি এই বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার পূর্বে নিরাশ ছিল।
فانظر إلى آثار رحمت الله كيف يحيي الأرض بعد موتها ۚ إن ذلك لمحيي الموتى ۖ وهو على كل شيء قدير
অতএব আল্লাহর রহমতের প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করো, তিনি কিভাবে জমিনকে মরে (শুকিয়ে) যাবার পর আবার জীবিত করেন। এভাবেই তিনি মৃতদের জীবিত করবেন। তিনি প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
ولئن أرسلنا ريحا فرأوه مصفرا لظلوا من بعده يكفرون
আমরা যদি এমন বাতাস পাঠাই যার ফলস্বরূপ তারা দেখে শস্য হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে, তখন তারা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।
আমি যদি এমন বায়ু প্রেরণ করি যার ফলে তারা শস্যকে হলদে হয়ে যেতে দেখে, তখন তো তারা অবশ্যই অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।
فإنك لا تسمع الموتى ولا تسمع الصم الدعاء إذا ولوا مدبرين
তুমি মৃতকে শুনাতে পারবেনা, বধিরকেও পারবেনা তোমার আহবান শুনাতে, যেহেতু তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।
অতএব, আপনি মৃতদেরকে শোনাতে পারবেন না এবং বধিরকেও আহবান শোনাতে পারবেন না, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে।
وما أنت بهاد العمي عن ضلالتهم ۖ إن تسمع إلا من يؤمن بآياتنا فهم مسلمون
তুমি অন্ধদের সঠিক পথে আনতে পারবেনা তাদের বিপথগামিতা থেকে। তুমি তো শুনাতে পারবে তাদেরকেই, যারা ঈমান আনে আমাদের আয়াতের প্রতি, তারপর আত্মসমর্পণ করে দেয়।
আপনি অন্ধদেরও তাদের পথভ্রষ্টতা থেকে পথ দেখাতে পারবেন না। আপনি কেবল তাদেরই শোনাতে পারবেন, যারা আমার আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে। কারন তারা মুসলমান।
۞ الله الذي خلقكم من ضعف ثم جعل من بعد ضعف قوة ثم جعل من بعد قوة ضعفا وشيبة ۚ يخلق ما يشاء ۖ وهو العليم القدير
, তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায়। তারপর দুর্বলতার পরে দেন শক্তি। শক্তির পর পুনরায় দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান।
তিনি দূর্বল অবস্থায় তোমাদের সৃষ্টি করেন অতঃপর দূর্বলতার পর শক্তিদান করেন, অতঃপর শক্তির পর দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
ويوم تقوم الساعة يقسم المجرمون ما لبثوا غير ساعة ۚ كذلك كانوا يؤفكون
যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা ঘণ্টাখানেকের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা (দুনিয়ার জীবনেও) হতো সত্যভ্রষ্ট।
যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, এক মুহুর্তেরও বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবে তারা সত্যবিমুখ হত।
وقال الذين أوتوا العلم والإيمان لقد لبثتم في كتاب الله إلى يوم البعث ۖ فهذا يوم البعث ولكنكم كنتم لا تعلمون
যাদেরকে এলেম এবং ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে: তোমরা আল্লাহর রেকর্ড অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছো। আজ সেই পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে আমরা আল্লাহর কিতাব মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এটাই পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা তা জানতে না।
فيومئذ لا ينفع الذين ظلموا معذرتهم ولا هم يستعتبون
সেদিন যালিমদের ওজর আপত্তি কোনো কাজে আসবেনা এবং তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেরও সুযোগ দেয়া হবেনা।
সেদিন জালেমদের ওযর - আপত্তি তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগও তাদের দেয়া হবে না।
ولقد ضربنا للناس في هذا القرآن من كل مثل ۚ ولئن جئتهم بآية ليقولن الذين كفروا إن أنتم إلا مبطلون
আমরা মানুষের জন্যে এ কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি। তুমি যদি তাদের সামনে কোনো নিদর্শন হাজিরও করো, কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘তোমরা মিথ্যা বাতিল নিয়ে এসেছো।’
আমি এই কোরআনে মানুষের জন্য সর্বপ্রকার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি। আপনি যদি তাদের কাছে কোন নিদর্শন উপস্থিত করেন, তবে কাফেররা অবশ্যই বলবে, তোমরা সবাই মিথ্যাপন্থী।
كذلك يطبع الله على قلوب الذين لا يعلمون
এভাবেই অজ্ঞ লোকদের অন্তরে সীলমোহর মেরে দেন।
এমনিভাবে জ্ঞানহীনদের হৃদয় মোহরাঙ্কিত করে দেন।
فاصبر إن وعد الله حق ۖ ولا يستخفنك الذين لا يوقنون
অতএব, সবর অবলম্বন করো, অবশ্যি আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা একীন রাখেনা, তারা যেনো তোমাকে (আহবান জানানোর কাজ থেকে) টলাতে না পারে।
অতএব, আপনি সবর করুন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।