براءة من الله ورسوله إلى الذين عاهدتم من المشركين
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
Chapter 9, 129 verses
براءة من الله ورسوله إلى الذين عاهدتم من المشركين
এটি সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা এবং তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেইসব মুশরিকদের প্রতি, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।
فسيحوا في الأرض أربعة أشهر واعلموا أنكم غير معجزي الله ۙ وأن الله مخزي الكافرين
অতএব (হে মুশরিকরা) তোমরা এ দেশে আর চারমাস ঘুরে বেড়াতে পারবে, আর জেনে রাখো, আল্লাহকে অতিক্রম করার সাধ্য তোমাদের নেই। নিশ্চয়ই কাফিরদের লাঞ্ছিত করেন।
وأذان من الله ورسوله إلى الناس يوم الحج الأكبر أن الله بريء من المشركين ۙ ورسوله ۚ فإن تبتم فهو خير لكم ۖ وإن توليتم فاعلموا أنكم غير معجزي الله ۗ وبشر الذين كفروا بعذاب أليم
মহান হজ্জের দিনে এবং আল্লাহর রসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের ব্যাপারে দায়মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। এখন (হে মুশরিকরা) তোমরা যদি তওবা করো, তাতেই রয়েছে তোমাদের কল্যাণ, আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অতিক্রম করতে (পালাতে) পারবে না। আর কাফিরদের সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
إلا الذين عاهدتم من المشركين ثم لم ينقصوكم شيئا ولم يظاهروا عليكم أحدا فأتموا إليهم عهدهم إلى مدتهم ۚ إن الله يحب المتقين
তবে মুশরিকদের মধ্যে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিতে আবদ্ধ এবং তারা চুক্তি কোনো প্রকার লংঘন ও ভঙ্গ করেনি এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি, তাদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চুক্তি বহাল রাখবে। কারণ, মুত্তাকিদের (ন্যায়পরায়ণদের) ভালোবাসেন।
فإذا انسلخ الأشهر الحرم فاقتلوا المشركين حيث وجدتموهم وخذوهم واحصروهم واقعدوا لهم كل مرصد ۚ فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فخلوا سبيلهم ۚ إن الله غفور رحيم
তারপর যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো শেষ হয়ে যাবে, তখন মুশরিকদের (দেশের মধ্যে) যেখানে পাবে হত্যা করবে, তাদের বন্দী করবে, অবরোধ করবে এবং প্রতিটি ঘাটিতে তাদের জন্যে ওঁৎ পেতে থাকবে। অবশ্য যদি তারা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে, তবে তাদের রাস্তা খোলা রাখো। কারণ, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়াময়।
وإن أحد من المشركين استجارك فأجره حتى يسمع كلام الله ثم أبلغه مأمنه ۚ ذلك بأنهم قوم لا يعلمون
মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তাকে আশ্রয় দাও, যাতে করে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেবে। কারণ তারা এমন লোক, যারা জানেনা।
كيف يكون للمشركين عهد عند الله وعند رسوله إلا الذين عاهدتم عند المسجد الحرام ۖ فما استقاموا لكم فاستقيموا لهم ۚ إن الله يحب المتقين
ও তাঁর রসূলের কাছে কী করে মুশরিকদের চুক্তি বহাল থাকতে পারে, তাদের ছাড়া যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের কাছে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে (যদি তারা তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম না থাকে)। তবে, তারা যতোদিন তোমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে, ততোদিন তোমরাও তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তির উপর কায়েম থাকবে। অবশ্যি মুত্তাকিদের পছন্দ করেন।
كيف وإن يظهروا عليكم لا يرقبوا فيكم إلا ولا ذمة ۚ يرضونكم بأفواههم وتأبى قلوبهم وأكثرهم فاسقون
কী করে থাকবে? তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তবে তারা তো তোমাদের সাথের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোনোই মর্যাদা দেয়না। তারা মুখে তোমাদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করে, অথচ তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই ফাসিক - সীমালংঘনকারী।
اشتروا بآيات الله ثمنا قليلا فصدوا عن سبيله ۚ إنهم ساء ما كانوا يعملون
তারা তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে আল্লাহর আয়াত এবং বাধা সৃষ্টি করে আল্লাহর পথে। নিশ্চয়ই তাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট।
لا يرقبون في مؤمن إلا ولا ذمة ۚ وأولئك هم المعتدون
তারা কোনো মুমিনের সাথে আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের মর্যাদা রক্ষা করেনা। তারা আসলেই সীমালংঘনকারী।
فإن تابوا وأقاموا الصلاة وآتوا الزكاة فإخوانكم في الدين ۗ ونفصل الآيات لقوم يعلمون
তারা যদি তওবা করে, কায়েম করে এবং যাকাত দেয়, তবে তারা তোমাদের দীনি ভাই। জ্ঞানী লোকদের জন্যে এভাবেই আমরা আমাদের আয়াত সবিস্তারে বর্ণনা করি।
وإن نكثوا أيمانهم من بعد عهدهم وطعنوا في دينكم فقاتلوا أئمة الكفر ۙ إنهم لا أيمان لهم لعلهم ينتهون
চুক্তি সম্পাদনের পর তারা যদি তোমাদের সাথে কৃত চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের দীন নিয়ে বিদ্রুপ করে, তবে কুফরের (পতাকাবাহী) নেতাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যাতে তারা বিরত হয়, কারণ তাদের কোনো অঙ্গীকার নেই।
ألا تقاتلون قوما نكثوا أيمانهم وهموا بإخراج الرسول وهم بدءوكم أول مرة ۚ أتخشونهم ۚ فالله أحق أن تخشوه إن كنتم مؤمنين
তোমরা কি সেই লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেনা, যারা নিজেদের অঙ্গীকার ভেঙ্গে ফেলেছে এবং রসূলকে বহিষ্কারের সংকল্প করেছিল? আর তারাই তো প্রথমে তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় করছো? অথচ আল্লাহই তো সর্বশ্রেষ্ঠ অধিকারী যে তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা হয়ে থাকো।
قاتلوهم يعذبهم الله بأيديكم ويخزهم وينصركم عليهم ويشف صدور قوم مؤمنين
তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দেবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিনদের হৃদয়কে নিরাময় করে দেবেন,
ويذهب غيظ قلوبهم ۗ ويتوب الله على من يشاء ۗ والله عليم حكيم
আর তিনি তাদের (মুমিনদের) অন্তরের ক্ষোভ দূর করে দেবেন। যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। অতীব জ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
أم حسبتم أن تتركوا ولما يعلم الله الذين جاهدوا منكم ولم يتخذوا من دون الله ولا رسوله ولا المؤمنين وليجة ۚ والله خبير بما تعملون
তোমরা কি মনে করেছো যে, তোমাদের এতোটুকুতেই ছেড়ে দেয়া হবে, অথচ এখন পর্যন্ত বাস্তবে জেনে নেননি তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং , তাঁর রসূল ও মুমিনদের ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেনি? ভালোভাবেই জানেন তোমরা যা আমল করো।
ما كان للمشركين أن يعمروا مساجد الله شاهدين على أنفسهم بالكفر ۚ أولئك حبطت أعمالهم وفي النار هم خالدون
আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করা মুশরিকদের কাজ নয়, কারণ তারা নিজেরাই নিজেদের কুফুরির সাক্ষী। তারা এমন লোক যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। জাহান্নামেই তারা স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
إنما يعمر مساجد الله من آمن بالله واليوم الآخر وأقام الصلاة وآتى الزكاة ولم يخش إلا الله ۖ فعسى أولئك أن يكونوا من المهتدين
আল্লাহর মসজিদ রক্ষণাবেক্ষণ করবে তারা, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি, যারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং ছাড়া আর কাউকেও ভয় করেনা। আশা করা যায় এরা হিদায়াতের পথে চলবে।
۞ أجعلتم سقاية الحاج وعمارة المسجد الحرام كمن آمن بالله واليوم الآخر وجاهد في سبيل الله ۚ لا يستوون عند الله ۗ والله لا يهدي القوم الظالمين
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানো আর মসজিদুল হারামের রক্ষণাবেক্ষণ করাকে ঐসব লোকদের কাজের সমান গণ্য করছো, যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং জিহাদ করেছে আল্লাহর পথে? আল্লাহর কাছে এরা উভয়ে সমতুল্য নয়। যালিমদের সঠিক পথ দেখান না।
الذين آمنوا وهاجروا وجاهدوا في سبيل الله بأموالهم وأنفسهم أعظم درجة عند الله ۚ وأولئك هم الفائزون
যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আল্লাহর কাছে তারা শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী এবং তারাই হবে ।
يبشرهم ربهم برحمة منه ورضوان وجنات لهم فيها نعيم مقيم
তাদের প্রভু তাদের সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর রহমতের, তাঁর রেজামন্দির আর সেই জান্নাতের, যেখানে আছে তাদের জন্যে স্থায়ী নিয়ামত।
خالدين فيها أبدا ۚ إن الله عنده أجر عظيم
সেখানে থাকবে তারা চিরকাল। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে রয়েছে মহাপুরস্কার।
يا أيها الذين آمنوا لا تتخذوا آباءكم وإخوانكم أولياء إن استحبوا الكفر على الإيمان ۚ ومن يتولهم منكم فأولئك هم الظالمون
হে লোকেরা! তোমাদের বাবা ও ভাইদের অলি (অভিভাবক ও বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করোনা, যদি তারা ঈমানের উপর কুফুরিকে শ্রেষ্ঠত্ব দেয়। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তাদের অলি বানাবে তারা যালিম হিসেবে গণ্য হবে।
قل إن كان آباؤكم وأبناؤكم وإخوانكم وأزواجكم وعشيرتكم وأموال اقترفتموها وتجارة تخشون كسادها ومساكن ترضونها أحب إليكم من الله ورسوله وجهاد في سبيله فتربصوا حتى يأتي الله بأمره ۗ والله لا يهدي القوم الفاسقين
হে নবী! তাদের বলো: ‘‘যদি তোমাদের কাছে আল্লাহর চাইতে, তাঁর রসূলের চাইতে এবং তাঁর পথে জিহাদের চাইতে বেশি প্রিয় হয় তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয় - স্বজন, তোমাদের উপার্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা - বাণিজ্য যার মন্দাকে তোমরা ভয় পাও এবং তোমাদের প্রিয় বাসস্থান, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর ফায়সালা আসা পর্যন্ত। ফাসিক লোকদের সঠিক পথ দেখান না।’’
لقد نصركم الله في مواطن كثيرة ۙ ويوم حنين ۙ إذ أعجبتكم كثرتكم فلم تغن عنكم شيئا وضاقت عليكم الأرض بما رحبت ثم وليتم مدبرين
তোমাদের সাহায্য করেছেন বহু জায়গায় এবং হোনায়েনের (যুদ্ধের) দিনও, যখন তোমাদের আনন্দিত করেছিল তোমাদের সংখ্যার আধিক্য। কিন্তু তা তোমাদের কোনো কাজে আসেনি। এমন কি, ভূ - খন্ড বিস্তৃত থাকা সত্ত্বেও তোমাদের জন্যে সংকীর্ণ হয়ে আসছিল, অত:পর তোমরা পিছু হটে গিয়েছিলে।
ثم أنزل الله سكينته على رسوله وعلى المؤمنين وأنزل جنودا لم تروها وعذب الذين كفروا ۚ وذلك جزاء الكافرين
অবশেষে তাঁর পক্ষ থেকে তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করেন প্রশান্তি, আরো নাযিল করেন এমন এক বাহিনী, যাদের তোমরা দেখতে পাওনি। পক্ষান্তরে তিনি কঠিন শাস্তি প্রদান করেন কাফিরদের। এটাই কাফিরদের কর্মের প্রতিদান।
ثم يتوب الله من بعد ذلك على من يشاء ۗ والله غفور رحيم
এরপরও যাকে চান তার তওবা কবুল করবেন। পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
يا أيها الذين آمنوا إنما المشركون نجس فلا يقربوا المسجد الحرام بعد عامهم هذا ۚ وإن خفتم عيلة فسوف يغنيكم الله من فضله إن شاء ۚ إن الله عليم حكيم
হে লোকেরা! মুশরিকরা অপবিত্র। সুতরাং এবারের পর তারা যেনো আর মসজিদুল হারামের কাছেও না আসে। তোমরা যদি দারিদ্রের আশংকা করো, তবে চাইলে তাঁর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
قاتلوا الذين لا يؤمنون بالله ولا باليوم الآخر ولا يحرمون ما حرم الله ورسوله ولا يدينون دين الحق من الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون
যাদের প্রতি ইতোপূর্বে কিতাব নাযিল করা হয়েছিল তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনেনা আল্লাহর প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং ও তাঁর রসূল যা কিছু হারাম করেছেন, তা হারাম হিসেবে মানে না, আর সত্য দীনের আনুগত্য অনুসরণ করেনা, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নত হয়ে নিজেদের হাতে জিযিয়া (নিরাপত্তা কর) না দেবে।
وقالت اليهود عزير ابن الله وقالت النصارى المسيح ابن الله ۖ ذلك قولهم بأفواههم ۖ يضاهئون قول الذين كفروا من قبل ۚ قاتلهم الله ۚ أنى يؤفكون
ইহুদিরা বলে, ‘উযায়ের আল্লাহর পুত্র’। নাসারারা বলে : ‘মসিহ্ আল্লাহর পুত্র’। এগুলো তাদের মুখের কথা। এরা তাদের মতোই কথা বলে, যারা ইতোপূর্বে কুফুরি করেছিল। তাদের ধ্বংস করুন! কোন্ দিকে তারা ফিরে যাচ্ছে?
اتخذوا أحبارهم ورهبانهم أربابا من دون الله والمسيح ابن مريم وما أمروا إلا ليعبدوا إلها واحدا ۖ لا إله إلا هو ۚ سبحانه عما يشركون
তারা ছাড়া তাদের পন্ডিত এবং সংসার বিরাগীদেরও রব বানিয়ে নিয়েছে এবং মরিয়মের পুত্র মসিহকেও। অথচ তাদেরকে এক ইলাহ্ (আল্লাহকে) ছাড়া আর কারো ইবাদত করতে আদেশ করা হয়নি। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তারা যাদেরকে তাঁর শরিক বানায় তিনি তাদের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।
يريدون أن يطفئوا نور الله بأفواههم ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون
তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখের ফুৎকারে। অথচ আর কিছুই চান না তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া, যদিও কাফিররা তা পছন্দ করেনা।
هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون
তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত এবং সত্য দীন নিয়ে অন্যসব দীনের উপর সেটিকে বিজয়ী করার জন্যে, যদিও মুশরিকরা তা পছন্দ করেনা।
۞ يا أيها الذين آمنوا إن كثيرا من الأحبار والرهبان ليأكلون أموال الناس بالباطل ويصدون عن سبيل الله ۗ والذين يكنزون الذهب والفضة ولا ينفقونها في سبيل الله فبشرهم بعذاب أليم
হে লোকেরা! জেনে রাখো, পাদ্রী ও সংসার বিরাগীদের অনেকেই অন্যায়ভাবে মানুষের মাল সম্পদ গ্রাস করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে। যারা সোনা রূপা (অর্থ সম্পদ) সঞ্চয় করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করেনা, তাদেরকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
يوم يحمى عليها في نار جهنم فتكوى بها جباههم وجنوبهم وظهورهم ۖ هذا ما كنزتم لأنفسكم فذوقوا ما كنتم تكنزون
যেদিন সেগুলো জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পাঁজরে এবং পিঠে দাগ দেয়া হবে, সেদিন বলা হবে, এ হলো সেই সম্পদ যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমিয়ে রেখেছিলে, এখন স্বাদ গ্রহণ করো তোমাদের সঞ্চয়ের।
إن عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا في كتاب الله يوم خلق السماوات والأرض منها أربعة حرم ۚ ذلك الدين القيم ۚ فلا تظلموا فيهن أنفسكم ۚ وقاتلوا المشركين كافة كما يقاتلونكم كافة ۚ واعلموا أن الله مع المتقين
আল্লাহর কাছে আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে গণনায় মাস বারোটি। এর মধ্যে চারটি পবিত্র। এটাই প্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ সময় তোমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করোনা। আর মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই করো, যেভাবে তারা সর্বাত্মক লড়াই করে তোমাদের বিরুদ্ধে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের সাথে রয়েছেন।
إنما النسيء زيادة في الكفر ۖ يضل به الذين كفروا يحلونه عاما ويحرمونه عاما ليواطئوا عدة ما حرم الله فيحلوا ما حرم الله ۚ زين لهم سوء أعمالهم ۗ والله لا يهدي القوم الكافرين
মাসকে পিছিয়ে দেয়া মূলত কুফুরিকে বৃদ্ধি করা। এর ফলে বিভ্রান্ত করা হয় কাফিরদের। তারা এটাকে কোনো বছর হালাল করে, আবার কোনো বছর করে হারাম। এতে তাদের উদ্দেশ্য হলো যা হারাম করেছেন সেগুলোকে হালাল করা এবং যেনো যেগুলো হারাম করেছেন সেগুলোর গণনা পূর্ণ করতে পারে। তাদের মন্দ কাজ তাদের কাছে লোভনীয় করে দেয়া হয়েছে। কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
يا أيها الذين آمنوا ما لكم إذا قيل لكم انفروا في سبيل الله اثاقلتم إلى الأرض ۚ أرضيتم بالحياة الدنيا من الآخرة ۚ فما متاع الحياة الدنيا في الآخرة إلا قليل
হে লোকেরা! তোমাদের কী হলো, তোমাদের যখন আল্লাহর পথে অভিযানে বের হতে বলা হয়, তোমরা জমিনকে আকড়ে ধরে থাকো? তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে রাজি হয়ে গেছো? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগের সামগ্রী একেবারেই তুচ্ছ।
إلا تنفروا يعذبكم عذابا أليما ويستبدل قوما غيركم ولا تضروه شيئا ۗ والله على كل شيء قدير
তোমরা যদি অভিযানে বের না হও, তোমাদের তিনি আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব। আর তোমাদের বদলে অপর কোনো লোকদের নিয়ে আসবেন এবং তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবেনা। প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
إلا تنصروه فقد نصره الله إذ أخرجه الذين كفروا ثاني اثنين إذ هما في الغار إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا ۖ فأنزل الله سكينته عليه وأيده بجنود لم تروها وجعل كلمة الذين كفروا السفلى ۗ وكلمة الله هي العليا ۗ والله عزيز حكيم
তোমরা যদি তাকে (নবীকে) সাহায্য না করো, তবে জেনে রাখো, ইতোপূর্বেও আল্লাহই তাকে সাহায্য করেছেন, যখন কাফিররা তাকে বের করে দিয়েছিল এবং সে ছিলো দুইজনের দ্বিতীয় জন। যখন তারা দু’জনেই গুহার মধ্যে ছিলো এবং সে তার সাথিকে বলেছিল, ‘চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আমাদের সাথে আছেন।’ ফলে তার উপর নাযিল করলেন নিজের প্রশান্তি এবং তাকে সাহায্য করলেন এমন একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে যাদের তোমরা দেখোনি। এর মাধ্যমে তিনি কাফিরদের কথা হেয় করে দিলেন আর উপরে উঠিয়ে দিলেন আল্লাহর বাণীকে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
انفروا خفافا وثقالا وجاهدوا بأموالكم وأنفسكم في سبيل الله ۚ ذلكم خير لكم إن كنتم تعلمون
তোমরা অভিযানে বেরিয়ে পড়ো হালকা অবস্থায় এবং ভারি অবস্থায় আর আল্লাহর পথে জিহাদ করো তোমাদের মাল ও জান দিয়ে। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম যদি তোমরা জানতে!
لو كان عرضا قريبا وسفرا قاصدا لاتبعوك ولكن بعدت عليهم الشقة ۚ وسيحلفون بالله لو استطعنا لخرجنا معكم يهلكون أنفسهم والله يعلم إنهم لكاذبون
যদি সম্পদ লাভের আশু সম্ভাবনা থাকতো আর সফর যদি হতো সহজ, তাহলে অবশ্যি তারা তোমার অনুসরণ করতো। কিন্তু তাদের কাছে দীর্ঘ পথের যাত্রা কষ্টকর মনে হলো। তারা অচিরেই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, ‘সামর্থ থাকলে অবশ্যি আমরা আপনাদের সাথে বের হতাম।’ তারা নিজেদেরই ধ্বংস করছে। জানেন তারা মিথ্যাবাদী।
عفا الله عنك لم أذنت لهم حتى يتبين لك الذين صدقوا وتعلم الكاذبين
তোমাকে ক্ষমা করুন, তুমি কেন তাদের অব্যাহতি দিলে, যতোক্ষণ না তোমার কাছে প্রমাণিত হয়েছে যে, কারা সত্যবাদী আর কারা মিথ্যাবাদী?
لا يستأذنك الذين يؤمنون بالله واليوم الآخر أن يجاهدوا بأموالهم وأنفسهم ۗ والله عليم بالمتقين
যারা ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদে যাবার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি চায়না। মুত্তাকিদের সম্পর্কে অবহিত।
إنما يستأذنك الذين لا يؤمنون بالله واليوم الآخر وارتابت قلوبهم فهم في ريبهم يترددون
তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে তো তারা, যারা ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখেনা এবং যাদের অন্তরে বিরাজ করছে সন্দেহ। তারা তাদের সংশয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
۞ ولو أرادوا الخروج لأعدوا له عدة ولكن كره الله انبعاثهم فثبطهم وقيل اقعدوا مع القاعدين
তারা যদি বের হতে চাইতোই, তাহলে তারা অবশ্যি এর জন্যে প্রস্ত্ততি নিতো। কিন্তু তাদের (মুনাফিকদের) যুদ্ধ যাত্রা আল্লাহই অপছন্দ করেছেন। ফলে তিনি তাদের বিরত রেখেছেন এবং তাদের বলা হয়েছে, ‘বসে থাকাদের সাথে তোমরাও বসে থাকো।’
لو خرجوا فيكم ما زادوكم إلا خبالا ولأوضعوا خلالكم يبغونكم الفتنة وفيكم سماعون لهم ۗ والله عليم بالظالمين
তারা যদি যুদ্ধে বের হতো এবং তোমাদের সাথে থাকতো, তাহলে তোমাদের মধ্যে তারা কেবল বিভ্রান্তি বাড়াতো এবং তোমাদের মাঝে ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তোমাদের মধ্যেই কেবল ছুটাছুটি করতো। তোমাদের মধ্যেও তাদের কথা শুনার কিছু লোক আছে। যালিমদের ভালোভাবেই জানেন।
لقد ابتغوا الفتنة من قبل وقلبوا لك الأمور حتى جاء الحق وظهر أمر الله وهم كارهون
এর আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তোমার অনেক কাজ ওলট - পালট করে দিতে চেয়েছিল, যতোক্ষণ না তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এসেছে এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হয়েছে।
ومنهم من يقول ائذن لي ولا تفتني ۚ ألا في الفتنة سقطوا ۗ وإن جهنم لمحيطة بالكافرين
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে বলে, ‘আমাকে অব্যাহতি দিন আমাকে ফিতনায় ফেলবেন না।’ সাবধান, তারা আসলে ফিতনার মধ্যেই পড়ে আছে। অবশ্যি জাহান্নাম কাফিরদের পরিবেষ্টন করবে।
إن تصبك حسنة تسؤهم ۖ وإن تصبك مصيبة يقولوا قد أخذنا أمرنا من قبل ويتولوا وهم فرحون
তোমার কোনো কল্যাণ হলে তাদের মনে কষ্ট লাগে। আবার তোমার কোনো মসিবত ঘটলে তারা বলে, ‘আমরা আগেই নিজেদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’ এবং তারা উৎফুল্ল হয়ে কেটে পড়ে।
قل لن يصيبنا إلا ما كتب الله لنا هو مولانا ۚ وعلى الله فليتوكل المؤمنون
বলো : ‘ আমাদের জন্যে যা লিখে রেখেছেন, তা ছাড়া আমাদের আর কিছুই হবেনা। তিনিই আমাদের মাওলা। আর আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করা উচিত মুমিনদের।’
قل هل تربصون بنا إلا إحدى الحسنيين ۖ ونحن نتربص بكم أن يصيبكم الله بعذاب من عنده أو بأيدينا ۖ فتربصوا إنا معكم متربصون
বলো : ‘তোমরা কি আমাদের দুইটি কল্যাণের একটির জন্যে অপেক্ষা করছো? অথচ আমরা অপেক্ষা করছি যেনো তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের শাস্তি দেন। ব্যাস্, অপেক্ষা করো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকবো।’
قل أنفقوا طوعا أو كرها لن يتقبل منكم ۖ إنكم كنتم قوما فاسقين
বলো : ‘তোমরা ইচ্ছায় ব্যয় (দান) করো কিংবা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল করা হবেনা। কারণ তোমরা সত্যত্যাগী ফাসিক গোষ্ঠী।’
وما منعهم أن تقبل منهم نفقاتهم إلا أنهم كفروا بالله وبرسوله ولا يأتون الصلاة إلا وهم كسالى ولا ينفقون إلا وهم كارهون
তাদের অর্থ সাহায্য গ্রহণ করতে নিষেধ করার কারণ হলো, তারা কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি, তাঁর রসূলের প্রতি এবং আলসেমি ছাড়া তারা সালাতে আসেনা, আর অনিচ্ছাকৃত ছাড়া দান করেনা।
فلا تعجبك أموالهم ولا أولادهم ۚ إنما يريد الله ليعذبهم بها في الحياة الدنيا وتزهق أنفسهم وهم كافرون
তাদের মাল - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি যেনো তোমাকে তাজ্জব না করে। এগুলো দিয়ে দুনিয়ার জীবনেই তাদের শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহত্যাগ করবে।
ويحلفون بالله إنهم لمنكم وما هم منكم ولكنهم قوم يفرقون
তারা হলফ করে বলে, তারা তোমাদেরই লোক। আসলে তারা তোমাদের লোক নয়, বরং তারা ভীরু কাপুরুষ।
لو يجدون ملجأ أو مغارات أو مدخلا لولوا إليه وهم يجمحون
তারা কোনো আশ্রয়স্থল, কিংবা গিরিগুহা অথবা প্রবেশস্থল পেলে দৌড়ে গিয়ে সেখানে পালাবে।
ومنهم من يلمزك في الصدقات فإن أعطوا منها رضوا وإن لم يعطوا منها إذا هم يسخطون
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা সাদাকা বন্টনের ব্যাপারে তোমাকে দোষারোপ করে। অত:পর সেখান থেকে তাদের কিছু দিলে তুষ্ট হয়ে যায়, আর সেখান থেকে কিছু না দিলে সাথে সাথে বিক্ষুব্ধ হয়ে যায়।
ولو أنهم رضوا ما آتاهم الله ورسوله وقالوا حسبنا الله سيؤتينا الله من فضله ورسوله إنا إلى الله راغبون
ভালো হতো, এবং আল্লাহর রসূল তাদের যা দিয়েছেন তাতেই যদি তারা সন্তুষ্ট থাকতো এবং বলতো: ‘আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট, অচিরেই আমাদের দেবেন তাঁর অনুগ্রহ থেকে এবং তাঁর রসূলও। আমরা আল্লাহর প্রতি অনুরাগী।’
۞ إنما الصدقات للفقراء والمساكين والعاملين عليها والمؤلفة قلوبهم وفي الرقاب والغارمين وفي سبيل الله وابن السبيل ۖ فريضة من الله ۗ والله عليم حكيم
সাদাকা (যাকাত) পাবে ফকিররা (নিঃস্ব লোকেরা), মিসকিনরা (অভাবীরা), যাকাত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা, যাদের মনজয় করা উদ্দেশ্য তারা, দাসমুক্তির জন্যে, ঋণ ভারাক্রান্ত - দেউলিয়ারা, আল্লাহর পথে এবং পথিকরা। এটা আল্লাহর দেয়া বিধান। জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
ومنهم الذين يؤذون النبي ويقولون هو أذن ۚ قل أذن خير لكم يؤمن بالله ويؤمن للمؤمنين ورحمة للذين آمنوا منكم ۚ والذين يؤذون رسول الله لهم عذاب أليم
তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে, ‘তিনি তো কর্ণপাতকারী।’ হে নবী! বলো, ‘তার কান তোমাদের জন্য কল্যাণকর, তাই শুনে। সে তো আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে এবং মুমিনদেরকে বিশ্বাস করে। তোমাদের মধ্যে যারা সে তাদের জন্যে রহমত।’ যারা আল্লাহর রসূলকে কষ্ট দেয় তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।
يحلفون بالله لكم ليرضوكم والله ورسوله أحق أن يرضوه إن كانوا مؤمنين
তারা তোমাদের সন্তুষ্ট করার জন্যে তোমাদের কাছে আল্লাহর নাম নিয়ে হলফ করে। সন্তুষ্ট করার জন্যে তো এবং তাঁর রসূলই অধিক হকদার যদি তারা হয়ে থাকে।
ألم يعلموا أنه من يحادد الله ورسوله فأن له نار جهنم خالدا فيها ۚ ذلك الخزي العظيم
তারা কি জানেনা যে, ও তাঁর রসূলের যারা বিরোধিতা করে, তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন। চিরকাল সেখানেই থাকবে তারা। এটা হবে এক মহা লাঞ্ছনা।
يحذر المنافقون أن تنزل عليهم سورة تنبئهم بما في قلوبهم ۚ قل استهزئوا إن الله مخرج ما تحذرون
মুনাফিকরা ভয় পায়, তাদের সম্পর্কে কোনো সূরা নাযিল না হয়, যাতে তাদের মনের খবর প্রকাশ করা হবে। হে নবী! বলো, বিদ্রুপ করতে থাকো। তোমরা যা ভয় পাচ্ছো, তা প্রকাশ করেই ছাড়বেন।
ولئن سألتهم ليقولن إنما كنا نخوض ونلعب ۚ قل أبالله وآياته ورسوله كنتم تستهزئون
তুমি তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা অবশ্যি বলবে, ‘আমরা তো খেল তামাশা করছিলাম।’ বলো, ‘তোমরা কি আল্লাহর পথে, আল্লাহর আয়াতের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে বিদ্রুপ করছিলে?
لا تعتذروا قد كفرتم بعد إيمانكم ۚ إن نعف عن طائفة منكم نعذب طائفة بأنهم كانوا مجرمين
তোমরা ওযর পেশ করার চেষ্টা করোনা। তোমরা ঈমান আনার পর কুফুরি করেছো। তোমাদের মধ্যে একটি গ্রুপকে ক্ষমা করলেও অন্য গ্রুপকে শাস্তি দেবো, কারণ তারা অপরাধী।
المنافقون والمنافقات بعضهم من بعض ۚ يأمرون بالمنكر وينهون عن المعروف ويقبضون أيديهم ۚ نسوا الله فنسيهم ۗ إن المنافقين هم الفاسقون
মুনাফিক পুরুষ আর মুনাফিক নারী তারা একজন আরেকজনের দোসর। তারা মন্দ কাজের আদেশ করে, ভালো কাজে নিষেধ করে এবং (দান করা থেকে) তাদের হাত গুটিয়ে রাখে। তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের উপেক্ষা করে আছেন। নিশ্চয়ই মুনাফিকরা ফাসিক - পাপাচারী।
وعد الله المنافقين والمنافقات والكفار نار جهنم خالدين فيها ۚ هي حسبهم ۚ ولعنهم الله ۖ ولهم عذاب مقيم
মুনাফিক পুরুষ, মুনাফিক নারী আর কাফিরদের ওয়াদা দিয়েছেন জাহান্নামের আগুনের, সেখানেই তারা থাকবে চিরকাল। সেটাই তাদের জন্যে যথেষ্ট। তাদের লানত দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী আযাব।
كالذين من قبلكم كانوا أشد منكم قوة وأكثر أموالا وأولادا فاستمتعوا بخلاقهم فاستمتعتم بخلاقكم كما استمتع الذين من قبلكم بخلاقهم وخضتم كالذي خاضوا ۚ أولئك حبطت أعمالهم في الدنيا والآخرة ۖ وأولئك هم الخاسرون
(হে মুনাফিকরা!) তোমাদের অবস্থা তোমাদের আগেকার (মুনাফিকদের) মতোই। তবে তারা ছিলো তোমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী আর তাদের ধন - সম্পদ এবং সন্তান - সন্তুতিও ছিলো তোমাদের চাইতে বেশি। তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তারা তা ভোগ করেছে। আর তোমাদের ভাগ্যে যা ছিলো তোমরাও তা ভোগ করলে যেমন - তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের ভাগ্যে যা ছিলো তা ভোগ করেছে। তারা যেমন বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত থাকতো, তোমরাও সে রকম বাহুল্য কথা - বার্তায় লিপ্ত রয়েছো। এরাই সেইসব লোক, দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। আর এরাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত।
ألم يأتهم نبأ الذين من قبلهم قوم نوح وعاد وثمود وقوم إبراهيم وأصحاب مدين والمؤتفكات ۚ أتتهم رسلهم بالبينات ۖ فما كان الله ليظلمهم ولكن كانوا أنفسهم يظلمون
এদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী লোকদের খবর পৌঁছেনি? নূহ, আদ ও সামুদ জাতির, ইবরাহিমের কওম, মাদায়েনবাসী আর বিধ্বস্ত জাতির সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের রসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ এসেছিল। তাদের প্রতি যুলুম করা আল্লাহর নীতি নয়, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল।
والمؤمنون والمؤمنات بعضهم أولياء بعض ۚ يأمرون بالمعروف وينهون عن المنكر ويقيمون الصلاة ويؤتون الزكاة ويطيعون الله ورسوله ۚ أولئك سيرحمهم الله ۗ إن الله عزيز حكيم
পুরুষ আর নারী পরস্পরের অলি (বন্ধু, অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষক)। তারা ভালো কাজে আদেশ করে, মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে, কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের প্রতি অচিরেই রহম করবেন। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময়।
وعد الله المؤمنين والمؤمنات جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ومساكن طيبة في جنات عدن ۚ ورضوان من الله أكبر ۚ ذلك هو الفوز العظيم
পুরুষ ও নারীদের ওয়াদা দিয়েছেন সেই জান্নাতের, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। তারা সেখানে থাকবে অনন্তকাল। সেই চিরস্থায়ী জান্নাতে থাকবে মনোরম বাসস্থান। আর তাদের জন্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার থাকবে আল্লাহর রেজামন্দি। এটাই প্রকৃতপক্ষে মহাসাফল্য।
يا أيها النبي جاهد الكفار والمنافقين واغلظ عليهم ۚ ومأواهم جهنم ۖ وبئس المصير
হে নবী! জিহাদ করো এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে আর কঠোর হও তাদের প্রতি। তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর সেটা খুবই নিকৃষ্ট ফিরে যাবার জায়গা।
يحلفون بالله ما قالوا ولقد قالوا كلمة الكفر وكفروا بعد إسلامهم وهموا بما لم ينالوا ۚ وما نقموا إلا أن أغناهم الله ورسوله من فضله ۚ فإن يتوبوا يك خيرا لهم ۖ وإن يتولوا يعذبهم الله عذابا أليما في الدنيا والآخرة ۚ وما لهم في الأرض من ولي ولا نصير
তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে, তারা কিছু বলেনি। অথচ তারা কুফুরি কালাম উচ্চারণ করেছে এবং ইসলামে প্রবেশ করার পর কুফুরি করেছে। তারা এমন জিনিসের সংকল্প করেছিল যা তারা পায়নি। তাঁর অনুগ্রহে এবং তাঁর রসূল তাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন বলেই তারা বিরোধিতা করছে। এখন যদি তারা তওবা করে, এটাই হবে তাদের জন্যে উত্তম। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব দুনিয়া ও আখিরাতে। আর পৃথিবীতে তাদের কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না।
۞ ومنهم من عاهد الله لئن آتانا من فضله لنصدقن ولنكونن من الصالحين
তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে এই অঙ্গীকার করেছিল: ‘ যদি তাঁর অনুগ্রহ থেকে আমাদের দান করেন, তবে অবশ্যি আমরা সাদাকা দেবো এবং সৎকর্মশীলদের অন্তরভুক্ত হয়ে যাবো।’
فلما آتاهم من فضله بخلوا به وتولوا وهم معرضون
অত:পর যখন তাঁর অনুগ্রহ থেকে তাদের দান করলেন, তারা কৃপণতা প্রদর্শন করলো, বিরোধিতা করলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো।
فأعقبهم نفاقا في قلوبهم إلى يوم يلقونه بما أخلفوا الله ما وعدوه وبما كانوا يكذبون
ফলে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফিকি স্থায়ী করে দিলেন তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাত হবার দিন পর্যন্ত। কারণ তারা আল্লাহকে দেয়া তাদের ওয়াদা খেলাফ করেছে এবং মিথ্যাচার করেছে।
ألم يعلموا أن الله يعلم سرهم ونجواهم وأن الله علام الغيوب
তারা কি জানেনা, তাদের মনের গোপন কথা এবং গোপন পরামর্শ অবগত আছেন এবং অবশ্যি জান্তা?
الذين يلمزون المطوعين من المؤمنين في الصدقات والذين لا يجدون إلا جهدهم فيسخرون منهم ۙ سخر الله منهم ولهم عذاب أليم
মুমিনদের মধ্যে যারা সন্তুষ্টচিত্তে সাদাকা (দান ও যাকাত) দেয়, আর যারা শ্রম খাটানো ছাড়া কিছুই পায়না, তাদেরকে যারা দোষারোপ ও বিদ্রুপ করে, তাদেরকেও বিদ্রুপ করেন আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
استغفر لهم أو لا تستغفر لهم إن تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم ۚ ذلك بأنهم كفروا بالله ورسوله ۗ والله لا يهدي القوم الفاسقين
তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করো, কিংবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না - ই করো, একই কথা। তুমি তাদের জন্যে সত্তরবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাদের কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের প্রতি কুফুরি করেছে। ফাসিক - পাপাচারী লোকদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
فرح المخلفون بمقعدهم خلاف رسول الله وكرهوا أن يجاهدوا بأموالهم وأنفسهم في سبيل الله وقالوا لا تنفروا في الحر ۗ قل نار جهنم أشد حرا ۚ لو كانوا يفقهون
যারা পেছনে রয়ে গেছে তারা আল্লাহর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে ঘরে বসে থাকার মধ্যেই আনন্দবোধ করে এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে অপছন্দ করে। তারা (তবুক যাত্রার প্রাক্কালে) বলেছিল : ‘গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়োনা।’ তাদের বলো, ‘জাহান্নামের আগুন এর চাইতেও অনেক বেশি গরম’, যদি তারা বুঝতো!
فليضحكوا قليلا وليبكوا كثيرا جزاء بما كانوا يكسبون
সুতরাং তারা কিছুটা হেসে নিক, তারা তো প্রচুর কাঁদবে তাদের কৃতকর্মের কারণে।
فإن رجعك الله إلى طائفة منهم فاستأذنوك للخروج فقل لن تخرجوا معي أبدا ولن تقاتلوا معي عدوا ۖ إنكم رضيتم بالقعود أول مرة فاقعدوا مع الخالفين
যদি তোমাকে তাদের কোনো দলের কাছে ফেরত আনেন এবং তারা যদি তোমার কাছে বের হবার জন্যে অনুমতি প্রার্থনা করে, তুমি তাদের বলবে : ‘তোমরা আমার সাথে কখনো বের হবেনা এবং আমার সাথি হয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে কখনো যুদ্ধ করবে না। তোমরা তো প্রথমবার বসে থাকাকেই পছন্দ করেছিলে, সুতরাং বসে থাকো পেছনে পড়ে থাকাদের সাথে।’
ولا تصل على أحد منهم مات أبدا ولا تقم على قبره ۖ إنهم كفروا بالله ورسوله وماتوا وهم فاسقون
তাদের কেউ মরলে তুমি তার জন্যে (জানাযার) আদায় করবে না এবং তার কবরেও দাঁড়াবে না। তারা তো কুফুরি করেছে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রসূলের প্রতি, আর তাদের মরণ হয়েছে ফাসিক - পাপিষ্ঠ অবস্থায়।
ولا تعجبك أموالهم وأولادهم ۚ إنما يريد الله أن يعذبهم بها في الدنيا وتزهق أنفسهم وهم كافرون
তাদের ধন - মাল আর আওলাদ সংখ্যা যেনো তোমাকে মুগ্ধ না করে। তো এর মাধ্যমে তাদেরকে দুনিয়ায় শাস্তি দিতে চান। তারা থাকা অবস্থায়ই তাদের আত্মা দেহ ত্যাগ করবে।
وإذا أنزلت سورة أن آمنوا بالله وجاهدوا مع رسوله استأذنك أولو الطول منهم وقالوا ذرنا نكن مع القاعدين
যখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার এবং তাঁর রসূলের সাথি হয়ে জিহাদ করার নির্দেশ নিয়ে কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের (মুনাফিকদের) মধ্যে যাদের শক্তি - সামর্থ আছে, তারা তোমার কাছে এসে (যুদ্ধে যাওয়া থেকে) অব্যাহতি চায়। তারা বলে, ‘আমাদের অব্যাহতি দিন, যারা (যুদ্ধে না গিয়ে) বসে থাকে আমরা তাদের সাথেই থাকবো।’
رضوا بأن يكونوا مع الخوالف وطبع على قلوبهم فهم لا يفقهون
তারা ঘরবাসিনীদের সাথে অবস্থান করাকেই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, ফলে তারা (সত্যকে) বুঝতে পারেনা।
لكن الرسول والذين آمنوا معه جاهدوا بأموالهم وأنفسهم ۚ وأولئك لهم الخيرات ۖ وأولئك هم المفلحون
আর রসূল এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছে, তারা নিজেদের মাল ও জান দিয়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের জন্যেই রয়েছে সমস্ত কল্যাণ এবং তারাই হবে ।
أعد الله لهم جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ۚ ذلك الفوز العظيم
তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই মহাসাফল্য।
وجاء المعذرون من الأعراب ليؤذن لهم وقعد الذين كذبوا الله ورسوله ۚ سيصيب الذين كفروا منهم عذاب أليم
বেদুঈনদের মধ্যে কিছু লোক এসেছিল যেনো তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়, আর যারা পেছনে বসেছিল তারা ও তাঁর রসূলের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল। তাদের মধ্যে যারা কুফুরি করেছে, অচিরেই তাদের স্পর্শ করবে বেদনাদায়ক আযাব।
ليس على الضعفاء ولا على المرضى ولا على الذين لا يجدون ما ينفقون حرج إذا نصحوا لله ورسوله ۚ ما على المحسنين من سبيل ۚ والله غفور رحيم
যারা দুর্বল, যারা রোগাক্রান্ত এবং যারা অর্থ খরচে অসমর্থ (যুদ্ধে না গেলে) তাদের কোনো দোষ হবেনা যদি তারা হয়ে থাকে ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ও আন্তরিক। যারা কল্যাণকামী তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো কারণ নেই। তো অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।
ولا على الذين إذا ما أتوك لتحملهم قلت لا أجد ما أحملكم عليه تولوا وأعينهم تفيض من الدمع حزنا ألا يجدوا ما ينفقون
তাদেরও কোনো দোষ হবেনা, যারা যুদ্ধে যাবার জন্যে এসেছিল আর তুমি তাদের বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্যে আমি কোনো বাহন পাচ্ছি না।’ তারা অর্থ ব্যয়ে অসামর্থের দু:খে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গিয়েছিল।
۞ إنما السبيل على الذين يستأذنونك وهم أغنياء ۚ رضوا بأن يكونوا مع الخوالف وطبع الله على قلوبهم فهم لا يعلمون
যারা অভাবমুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অব্যাহতি চেয়েছে, অবশ্যি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা ঘরবাসিনীদের সাথে ঘরে বসে থাকাকেই পছন্দ করেছে। তাদের অন্তরে সীল মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তারা কিছুই বুঝতে পারেনা।
يعتذرون إليكم إذا رجعتم إليهم ۚ قل لا تعتذروا لن نؤمن لكم قد نبأنا الله من أخباركم ۚ وسيرى الله عملكم ورسوله ثم تردون إلى عالم الغيب والشهادة فينبئكم بما كنتم تعملون
তোমরা যখন ফিরে আসবে, তখন এসে তারা তোমাদের কাছে ওজর (অজুহাত) পেশ করবে। তুমি বলবে, ‘অজুহাত পেশ করোনা, আমরা তোমাদের কখনো বিশ্বাস করবোনা, তোমাদের খবর আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের কার্যকলাপ দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমাদের পাঠানো হবে তাঁর কাছে যিনি ও দৃশ্য সবকিছু জানেন। তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে তিনিই তোমাদের অবহিত করবেন।
سيحلفون بالله لكم إذا انقلبتم إليهم لتعرضوا عنهم ۖ فأعرضوا عنهم ۖ إنهم رجس ۖ ومأواهم جهنم جزاء بما كانوا يكسبون
তোমরা (যুদ্ধ থেকে মদিনায়) তাদের কাছে ফিরে এলে তারা আল্লাহর নামে হলফ করবে, যেনো তোমরা তাদের (যুদ্ধে না যাওয়ার) বিষয়টা উপেক্ষা করো। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করবে। কারণ, তারা অপবিত্র এবং তাদের (মন্দ) অর্জনের কারণে জাহান্নামই হবে তাদের আবাস।
يحلفون لكم لترضوا عنهم ۖ فإن ترضوا عنهم فإن الله لا يرضى عن القوم الفاسقين
তারা তোমাদের কাছে হলফ করে, যাতে করে তোমরা তাদের প্রতি রাজি থাকো। তোমরা তাদের প্রতি রাজি হলেও ফাসিক সম্প্রদায়ের প্রতি রাজি হবেন না।
الأعراب أشد كفرا ونفاقا وأجدر ألا يعلموا حدود ما أنزل الله على رسوله ۗ والله عليم حكيم
বেদুঈনরা কুফুরি এবং মুনাফিকিতে কঠোর। তাঁর রসূলের প্রতি যা নাযিল করেছেন, তার সীমারেখা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার যোগ্যতা তাদের অনেক বেশি। সর্বজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।
ومن الأعراب من يتخذ ما ينفق مغرما ويتربص بكم الدوائر ۚ عليهم دائرة السوء ۗ والله سميع عليم
মরুবাসী বেদুঈনদের কেউ কেউ আল্লাহর পথে ব্যয় করাকে অর্থদন্ড বলে মনে করে এবং তারা তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের অপেক্ষা করে। দুর্ভাগ্য তাদেরই! সব শুনেন, সব জানেন।
ومن الأعراب من يؤمن بالله واليوم الآخر ويتخذ ما ينفق قربات عند الله وصلوات الرسول ۚ ألا إنها قربة لهم ۚ سيدخلهم الله في رحمته ۗ إن الله غفور رحيم
মরুবাসী বেদুঈনদের কিছু লোক ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি এবং তারা যা ব্যয় করে, সেটাকে আল্লাহর নৈকট্য ও রসূলের দয়া লাভের উপায় মনে করে। আসলেই তা তাদের জন্যে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়। অচিরেই তাদের দাখিল করবেন তাঁর রহমতের মধ্যে। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان رضي الله عنهم ورضوا عنه وأعد لهم جنات تجري تحتها الأنهار خالدين فيها أبدا ۚ ذلك الفوز العظيم
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা (ঈমানের দাওয়াত গ্রহণে) প্রথম ও অগ্রগামী আর যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করছে, তাদের সবার প্রতি রাজি হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি রাজি। তিনি তাদের জন্যে প্রস্ত্তত রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
وممن حولكم من الأعراب منافقون ۖ ومن أهل المدينة ۖ مردوا على النفاق لا تعلمهم ۖ نحن نعلمهم ۚ سنعذبهم مرتين ثم يردون إلى عذاب عظيم
বেদুঈনদের যারা তোমাদের আশপাশে থাকে, তাদের মধ্যে মুনাফিক রয়েছে এবং মদিনাবাসীদের মধ্যেও রয়েছে। তারা মুনাফিকিতে পাকা। তুমি তাদের জানো না। আমরা তাদের জানি। আমরা তাদের দুইবার শাস্তি দেবো। তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হবে বড় আযাবের (জাহান্নামের) দিকে।
وآخرون اعترفوا بذنوبهم خلطوا عملا صالحا وآخر سيئا عسى الله أن يتوب عليهم ۚ إن الله غفور رحيم
এছাড়াও কিছু লোক আছে যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তাদের আমল শংকর (মিশ্র), কিছু ভালো, কিছু মন্দ। হয়তো তাদের ক্ষমা করবেন। কারণ, পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।
خذ من أموالهم صدقة تطهرهم وتزكيهم بها وصل عليهم ۖ إن صلاتك سكن لهم ۗ والله سميع عليم
তাদের মাল - সম্পদ থেকে সাদাকা (যাকাত) গ্রহণ করো। এর ফলে তুমি তাদের পবিত্র পরিশুদ্ধ ও উন্নত করবে। তুমি তাদের দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের জন্যে হবে প্রশান্তির কারণ। সব শুনেন, সব জানেন।
ألم يعلموا أن الله هو يقبل التوبة عن عباده ويأخذ الصدقات وأن الله هو التواب الرحيم
তারা কি জানেনা, তাঁর বান্দাদের থেকে তওবা কবুল করেন এবং সাদাকা (দান) গ্রহণ করেন? নিশ্চয়ই তওবা কবুলকারী পরম দয়াময়।
وقل اعملوا فسيرى الله عملكم ورسوله والمؤمنون ۖ وستردون إلى عالم الغيب والشهادة فينبئكم بما كنتم تعملون
বলো, তোমরা আমল করতে থাকো, তোমাদের আমল দেখছেন আর তাঁর রসূল ও মুমিনরা। অচিরেই তোমাদের ফেরত দেয়া হবে ও দৃশ্যের জ্ঞানী মহান আল্লাহর দিকে, তারপর তিনিই তোমাদের সংবাদ দেবেন তোমাদের কর্মকান্ড (কেমন ছিলো সে) সম্পর্কে।
وآخرون مرجون لأمر الله إما يعذبهم وإما يتوب عليهم ۗ والله عليم حكيم
আর আল্লাহর নির্দেশ আসার অপেক্ষায় অপর কিছু লোকের বিষয়ে ফয়সালা স্থগিত রইলো। তিনি হয় তাদের শাস্তি দেবেন, নয়তো তাদের তওবা কবুল করবেন। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
والذين اتخذوا مسجدا ضرارا وكفرا وتفريقا بين المؤمنين وإرصادا لمن حارب الله ورسوله من قبل ۚ وليحلفن إن أردنا إلا الحسنى ۖ والله يشهد إنهم لكاذبون
যারা একটি মসজিদ তৈরি করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরি ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতোপূর্বে যে ব্যক্তি ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে তার গোপন ঘাটি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে, তারা অবশ্যি হলফ করে বলবে, ‘আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি।’ সাক্ষী, তারা মিথ্যাবাদী।
لا تقم فيه أبدا ۚ لمسجد أسس على التقوى من أول يوم أحق أن تقوم فيه ۚ فيه رجال يحبون أن يتطهروا ۚ والله يحب المطهرين
তুমি কখনো ঐ মসজিদে দাঁড়াবে না। প্রথম দিন থেকেই যে মসজিদের ভিত স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর, সেটাই তোমার সালাতের জন্যে অধিক উপযুক্ত। তাতে এমন লোকেরা আছে যারা পবিত্রতা অর্জন পছন্দ করে আর পবিত্রতা অজর্নকারীদের পছন্দ করেন।
أفمن أسس بنيانه على تقوى من الله ورضوان خير أم من أسس بنيانه على شفا جرف هار فانهار به في نار جهنم ۗ والله لا يهدي القوم الظالمين
যে ব্যক্তি তার ঘরের ভিত স্থাপন করে ভীতি ও আল্লাহর রেজামন্দির উপর সে উত্তম, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে তার ঘরের ভিত স্থাপন করে কোনো গর্তের ধ্বংসোন্মুখ কিনারে, ফলে তা সেটাকে নিয়েই পড়ে যায় জাহান্নামের আগুনে। যালিম লোকদের সঠিক পথ দেখান না।
لا يزال بنيانهم الذي بنوا ريبة في قلوبهم إلا أن تقطع قلوبهم ۗ والله عليم حكيم
তাদের নির্মিত ঘর তাদের অন্তরে সন্দেহের কারণ হয়ে থাকবে, যতোক্ষণ না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অতীব জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
۞ إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة ۚ يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون ۖ وعدا عليه حقا في التوراة والإنجيل والقرآن ۚ ومن أوفى بعهده من الله ۚ فاستبشروا ببيعكم الذي بايعتم به ۚ وذلك هو الفوز العظيم
নিশ্চয়ই মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল কিনে নিয়েছেন, বিনিময়ে তারা লাভ করবে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে, মরবে এবং মারবে। তাওরাত, ইনজিল এবং কুরআনে এ সম্পর্কে হক ওয়াদা রয়েছে। প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চাইতে শ্রেষ্ঠ আর কে আছে? তোমরা যে সওদা করেছো তার জন্যে সুসংবাদ গ্রহণ করো। এটাই মহাসাফল্য।
التائبون العابدون الحامدون السائحون الراكعون الساجدون الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر والحافظون لحدود الله ۗ وبشر المؤمنين
তারা হয়ে থাকে তওবাকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকুকারী, সাজদাকারী, ভালো কাজের আদেশ দানকারী, মন্দ কাজে বাধাদানকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত হুদুদ (সীমারেখা) হিফাযতকারী। এসব (গুণের অধিকারী) মুমিনদের সুসংবাদ দাও।
ما كان للنبي والذين آمنوا أن يستغفروا للمشركين ولو كانوا أولي قربى من بعد ما تبين لهم أنهم أصحاب الجحيم
নিকটাত্মীয় হলেও মুশরিকদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী এবং মুমিনদের জন্যে সঙ্গত নয়, যখন এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা নিশ্চিতই জাহান্নামি।
وما كان استغفار إبراهيم لأبيه إلا عن موعدة وعدها إياه فلما تبين له أنه عدو لله تبرأ منه ۚ إن إبراهيم لأواه حليم
ইবরাহিম যে তার পিতার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল তার কারণ, সে তাকে এর জন্যে বিশেষভাবে ওয়াদা দিয়েছিল। কিন্তু যখন তার কাছে একথা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে, সে আল্লাহর দুশমন, তখন সে তার (পিতার) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে। ইবরাহিম তো অতিশয় কোমল হৃদয় এবং সহনশীল।
وما كان الله ليضل قوما بعد إذ هداهم حتى يبين لهم ما يتقون ۚ إن الله بكل شيء عليم
আল্লাহর নিয়ম এটা নয় যে, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথ দেখানোর পর আবার বিপথগামী করে দেবেন, যতোক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, কী কী বিষয়ে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নিশ্চয়ই সব বিষয়ে জ্ঞানী।
إن الله له ملك السماوات والأرض ۖ يحيي ويميت ۚ وما لكم من دون الله من ولي ولا نصير
মহাকাশ ও পৃথিবীর সার্বভৌম কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্যে আর কোনো অলিও নেই, সাহায্যকারীও নেই।
لقد تاب الله على النبي والمهاجرين والأنصار الذين اتبعوه في ساعة العسرة من بعد ما كاد يزيغ قلوب فريق منهم ثم تاب عليهم ۚ إنه بهم رءوف رحيم
অনুগ্রহের দৃষ্টি দিয়েছেন নবীর প্রতি, মুহাজিরদের প্রতি এবং আনসারদের প্রতি, যারা তার (নবীর) অনুসরণ করেছে কঠিন সংকটকালে, যদিও তাদের কিছু লোকের অন্তর বাঁকা হবার উপক্রম হয়েছিল। অত:পর তাদের তওবা কবুল করেন। অবশ্যি তাদের প্রতি অতীব কোমল, পরম দয়াময়।
وعلى الثلاثة الذين خلفوا حتى إذا ضاقت عليهم الأرض بما رحبت وضاقت عليهم أنفسهم وظنوا أن لا ملجأ من الله إلا إليه ثم تاب عليهم ليتوبوا ۚ إن الله هو التواب الرحيم
তিনি ঐ তিনজনকেও ক্ষমা করে দিয়েছেন, যাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যে প্রশস্ত পৃথিবীও সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং তাদের জীবনও তাদের জন্যে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছিল, আর তারা উপলব্ধি করতে পেরেছিল যে, ছাড়া তাদের কোনো আশ্রয়স্থল নেই। তখন তিনি তাদের তওবা কবুল করলেন, যাতে করে তারা ফিরে আসে তাঁর দিকে। নিশ্চয়ই অতিশয় তওবা কবুলকারী, পরম দয়াবান।
يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وكونوا مع الصادقين
হে লোকেরা! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদী - সত্যপন্থীদের সঙ্গী হয়ে যাও।
ما كان لأهل المدينة ومن حولهم من الأعراب أن يتخلفوا عن رسول الله ولا يرغبوا بأنفسهم عن نفسه ۚ ذلك بأنهم لا يصيبهم ظمأ ولا نصب ولا مخمصة في سبيل الله ولا يطئون موطئا يغيظ الكفار ولا ينالون من عدو نيلا إلا كتب لهم به عمل صالح ۚ إن الله لا يضيع أجر المحسنين
মদিনাবাসী এবং আশেপাশের মরু বেদুঈনদের উচিত হয়নি, আল্লাহর রসূলের সহগামী না হয়ে পেছনে পড়ে থাকা এবং তার জীবন অপেক্ষা নিজেদের জীবনের প্রতি অধিক অনুরাগী হওয়া। কারণ, আল্লাহর পথে তাদের পিপাসা, ক্লান্তি, ক্ষুধা, কাফিরদের ক্রোধ জাগিয়ে তোলে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং শত্রুদের পক্ষ থেকে কোনো আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া, এসবই তাদের আমলে সালেহ্ (নেক আমল)। নিশ্চয়ই কল্যাণপরায়নদের কর্মফল বিনষ্ট করেন না।
ولا ينفقون نفقة صغيرة ولا كبيرة ولا يقطعون واديا إلا كتب لهم ليجزيهم الله أحسن ما كانوا يعملون
আর তারা কম ও বেশি যা - ই ব্যয় করে এবং যে কোনো প্রান্তরই অতিক্রম করে, তা তাদের জন্যে পুণ্য হিসাবে লেখা হয়, যাতে করে তারা যা করে তাদেরকে তার চাইতে উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন।
۞ وما كان المؤمنون لينفروا كافة ۚ فلولا نفر من كل فرقة منهم طائفة ليتفقهوا في الدين ولينذروا قومهم إذا رجعوا إليهم لعلهم يحذرون
সব মুমিনদের একই সাথে অভিযানে বের হওয়া উচিত নয়। তাদের প্রত্যেক দল বা গোত্র থেকে একটি অংশ বের হয়না কেন, যেনো তারা দীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে এবং তাদের জাতিকে সতর্ক করে যখন তারা তাদের কাছে ফিরে যাবে, যাতে করে তারা সতর্ক হয়।
يا أيها الذين آمنوا قاتلوا الذين يلونكم من الكفار وليجدوا فيكم غلظة ۚ واعلموا أن الله مع المتقين
হে লোকেরা! কাফিরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো এবং তারা যেনো তোমাদের মধ্যে দৃঢ়তা দেখতে পায়। জেনে রাখো, মুত্তাকিদের সাথেই আছেন।
وإذا ما أنزلت سورة فمنهم من يقول أيكم زادته هذه إيمانا ۚ فأما الذين آمنوا فزادتهم إيمانا وهم يستبشرون
যখন কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলে : ‘এটি তোমাদের কার ঈমান বাড়িয়ে দিয়েছে?’ যারা এটি কেবল তাদেরই ঈমান বাড়িয়ে দেয় এবং তারাই আনন্দিত হয়।
وأما الذين في قلوبهم مرض فزادتهم رجسا إلى رجسهم وماتوا وهم كافرون
আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তাদের কলুষতার সাথে আরো কলুষতা যোগ করে এবং তাদের মরণ হয় অবস্থায়।
أولا يرون أنهم يفتنون في كل عام مرة أو مرتين ثم لا يتوبون ولا هم يذكرون
তারা কি দেখেনা, তারা হরেক বছর একবার বা দুইবার ফিতনাগ্রস্ত হয়? তারপরও তারা তওবা করেনা এবং উপদেশ গ্রহণ করেনা।
وإذا ما أنزلت سورة نظر بعضهم إلى بعض هل يراكم من أحد ثم انصرفوا ۚ صرف الله قلوبهم بأنهم قوم لا يفقهون
যখনই কোনো সূরা নাযিল হয়, তখন তারা একে অপরের দিকে তাকায় এবং ইশারায় জানতে চায় ‘কেউ তোমাদের দেখছে কি?’ অত:পর তারা সরে পড়ে। তাদের অন্তরকে সত্য থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন, কারণ তাদের কোনো বুঝ জ্ঞান নেই।
لقد جاءكم رسول من أنفسكم عزيز عليه ما عنتم حريص عليكم بالمؤمنين رءوف رحيم
তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকেই এসেছে একজন রসূল। তোমাদের যা কিছু বিপর্যস্ত করে তা তার জন্যে কষ্টদায়ক। সে তোমাদের কল্যাণকামী, মুমিনদের প্রতি অতীব দয়ালু, পরম করুণাময়।
فإن تولوا فقل حسبي الله لا إله إلا هو ۖ عليه توكلت ۖ وهو رب العرش العظيم
তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তুমি বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই, তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করলাম, তিনিই মহান আরশের প্রভু।’