بسم الله الرحمن الرحيم سأل سائل بعذاب واقع
একব্যক্তি চাইল, সেই আযাব সংঘটিত হোক যা অবধারিত -
এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করলো অবধারিত আযাব সম্পর্কে,
এক ব্যক্তি চাহিল সংঘটিত হউক শাস্তি, যাহা অবধারিত -
Chapter 70, 44 verses
بسم الله الرحمن الرحيم سأل سائل بعذاب واقع
একব্যক্তি চাইল, সেই আযাব সংঘটিত হোক যা অবধারিত -
এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করলো অবধারিত আযাব সম্পর্কে,
এক ব্যক্তি চাহিল সংঘটিত হউক শাস্তি, যাহা অবধারিত -
للكافرين ليس له دافع
কাফেরদের জন্যে, যার প্রতিরোধকারী কেউ নেই।
(যা অবধারিত) কাফিরদের জন্যে, যা প্রতিরোধ করার কেউ নেই,
কাফিরদের জন্য, ইহা প্রতিরোধ করিবার কেহ নাই।
من الله ذي المعارج
তা আসবে তা’আলার পক্ষ থেকে, যিনি সমুন্নত মর্তবার অধিকারী।
যা আসবে আল্লাহর পক্ষ থেকে, যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
ইহা আসিবে র নিকট হইতে, তিনি সুমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
تعرج الملائكة والروح إليه في يوم كان مقداره خمسين ألف سنة
ফেরেশতাগণ এবং রূহ তা’আলার দিকে উর্ধ্বগামী হয় এমন একদিনে, যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
ফেরেশতারা এবং রূহ (জিবরিল) তাঁর দিকে উঠে এমন একটি ক্ষুদ্র সময়ের মধ্যে (পৃথিবীর সময় অনুযায়ী) যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছর।
ফিরিশ্তা এবং রূহ্ র দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এমন এক দিনে, যাহার পরিমাণ পার্থিব পঞ্চাশ হাযার বৎসর।
فاصبر صبرا جميلا
অতএব, আপনি উত্তম সবর করুন।
সুতরাং তুমি সবর করো সব্রে জামিল (সুন্দর সবর)।
সুতরাং তুমি ধৈর্যধারণ কর, পরম ধৈর্য।
إنهم يرونه بعيدا
তারা এই আযাবকে সুদূরপরাহত মনে করে,
তারা সেই (দিনটিকে) দেখে সুদূর,
উহারা ঐ দিনকে মনে করে সুদূর,
ونراه قريبا
আর আমি একে আসন্ন দেখছি।
আর আমরা দেখছি একেবারে অদূর।
কিন্তু আমি দেখিতেছি ইহা আসন্ন।
يوم تكون السماء كالمهل
সেদিন আকাশ হবে গলিত তামার মত।
সেদিন আসমান হবে গলিত ধাতুর মতো,
সেদিন আকাশ হইবে গলিত ধাতুর মত
وتكون الجبال كالعهن
এবং পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মত,
পর্বতসমূহ হবে রঙ্গীন পশমের মতো।
এবং পর্বতসমূহ হইবে রঙ্গীন পশমের মত,
ولا يسأل حميم حميما
বন্ধু বন্ধুর খবর নিবে না।
সেদিন কোনো সহমর্মী বন্ধু কোনো খোঁজ খবর নেবেনা অপর সহমর্মী বন্ধুর।
এবং সুহৃদ সুহৃদের তত্ত্ব লইবে না,
يبصرونهم ۚ يود المجرم لو يفتدي من عذاب يومئذ ببنيه
যদিও একে অপরকে দেখতে পাবে। সেদিন গোনাহগার ব্যক্তি পনস্বরূপ দিতে চাইবে তার সন্তান - সন্ততিকে,
তাদেরকে পরস্পরের চোখের সামনেই রাখা হবে। অপরাধীরা সেদিনকার আযাবের বিনিময়ে দিয়ে দিতে চাইবে তার সন্তানদের,
উহাদেরকে করা হইবে একে অপরের দৃষ্টিগোচর। অপরাধী সেই দিনের শাস্তির বদলে দিতে চাইবে তাহার সন্তান - সন্ততিকে,
وصاحبته وأخيه
তার স্ত্রীকে, তার ভ্রাতাকে,
তার স্ত্রীকে, তার ভাইকে,
তাহার স্ত্রী ও ভ্রাতাকে,
وفصيلته التي تؤويه
তার গোষ্ঠীকে, যারা তাকে আশ্রয় দিত।
তার জ্ঞাতি - গোষ্ঠীকে যারা তাকে দিতো আশ্রয় ও নিরাপত্তা,
তাহার জ্ঞাতি - গোষ্ঠীকে, যাহারা তাহাকে আশ্রয় দিত
ومن في الأرض جميعا ثم ينجيه
এবং পৃথিবীর সবকিছুকে, অতঃপর নিজেকে রক্ষা করতে চাইবে।
এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের সবাইকে, যাতে করে তাকে নাজাত দেয় এসব মুক্তিপণ।
এবং পৃথিবীর সকলকে, যাহাতে এই মুক্তিপণ তাহাকে মুক্তি দেয়।
كلا ۖ إنها لظى
কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি।
কখনো নয়, অবশ্যি তার জন্যে রয়েছে আগুনের লেলিহান শিখা,
না, কখনই নয়, ইহা তো লেলিহান অগ্নি,
نزاعة للشوى
যা চামড়া তুলে দিবে।
যা খসিয়ে দেবে গায়ের চামড়া।
যাহা গাত্র হইতে চামড়া খসাইয়া দিবে।
تدعو من أدبر وتولى
সে সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল।
জাহান্নাম ডাকবে ঐ ব্যক্তিকে, যে সত্যের আহবান থেকে পিছু হটে যায় এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়,
জাহান্নাম সেই ব্যক্তিকে ডাকিবে, যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিয়াছিল ও মুখ ফিরাইয়া লইয়াছিল।
وجمع فأوعى
সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছিল, অতঃপর আগলিয়ে রেখেছিল।
যে (অর্থ সম্পদ) জমা করে রেখেছিল এবং সংরক্ষণ করেছিল।
যে সম্পদ পুঞ্জীভূত এবং সংরক্ষিত করিয়া রাখিয়াছিল।
۞ إن الإنسان خلق هلوعا
মানুষ তো সৃজিত হয়েছে ভীরুরূপে।
নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির স্বভাবের করে,
মানুষ তো সৃজিত হইয়াছে অতিশয় অস্থিরচিত্তরূপে।
إذا مسه الشر جزوعا
যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে হা - হুতাশ করে।
যখন কোনো মন্দ তাকে স্পর্শ করে, সে হা - হুতাশ করে।
যখন বিপদ তাহাকে স্পর্শ করে সে হয় হা - হুতাশকারী।
وإذا مسه الخير منوعا
আর যখন কল্যাণপ্রাপ্ত হয়, তখন কৃপণ হয়ে যায়।
যখন সে লাভ করে কোনো কল্যাণ, তখন সে হয় কৃপণ।
আর যখন কল্যাণ তাহাকে স্পর্শ করে সে হয় অতি কৃপণ ;
إلا المصلين
তবে তারা স্বতন্ত্র, যারা আদায় কারী।
তবে, মুসল্লিরা এর ব্যতিক্রম
তবে আদায়কারীগণ ব্যতীত,
الذين هم على صلاتهم دائمون
যারা তাদের নামাযে সার্বক্ষণিক কায়েম থাকে।
যারা স্থায়ীভাবে নিয়মিত আদায়কারী,
যাহারা তাহাদের সালাতে সদা প্রতিষ্ঠিত,
والذين في أموالهم حق معلوم
এবং যাদের ধন - সম্পদে নির্ধারিত হক আছে
যাদের মাল সম্পদে নির্ধারিত হক থাকে
আর যাহাদের সম্পদে নির্ধারিত হক রহিয়াছে
للسائل والمحروم
যাঞ্ছাকারী ও বঞ্চিতের
ভিক্ষুক এবং মাহরুমদের (বঞ্চিতদের) জন্যে,
যাচ্ঞাকারী ও বঞ্চিতের,
والذين يصدقون بيوم الدين
এবং যারা প্রতিফল দিবসকে সত্য বলে বিশ্বাস করে।
যারা সত্য বলে স্বীকার করে প্রতিদান দিবসকে,
এবং যাহারা কর্মফল দিবসকে সত্য বলিয়া জানে।
والذين هم من عذاب ربهم مشفقون
এবং যারা তাদের পালনকর্তার শাস্তির সম্পর্কে ভীত - কম্পিত।
এবং যারা তাদের প্রভুর আযাব সম্পর্কে থাকে সব সময় ভীত - সন্ত্রস্ত।
আর যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের শাস্তি সম্পর্কে ভীতসন্ত্রস্ত -
إن عذاب ربهم غير مأمون
নিশ্চয় তাদের পালনকর্তার শাস্তি থেকে নিঃশঙ্কা থাকা যায় না।
নিশ্চয়ই তাদের প্রভুর আযাব নিরাপদ নয়।
নিশ্চয়ই তাহাদের প্রতিপালকের শাস্তি হইতে নিঃশংক থাকা যায় না -
والذين هم لفروجهم حافظون
এবং যারা তাদের যৌন - অঙ্গকে সংযত রাখে
তারা হিফাযতকারী তাদের যৌনাংগ।
এবং যাহারা নিজেদের যৌন অঙ্গকে সংযত রাখে,
إلا على أزواجهم أو ما ملكت أيمانهم فإنهم غير ملومين
কিন্তু তাদের স্ত্রী অথবা মালিকানাভূক্ত দাসীদের বেলায় তিরস্কৃত হবে না।
তবে নিজেদের স্ত্রী (এবং স্বামী) এবং অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া, কারণ তারা নিন্দনীয় নয়।
তাহাদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত, ইহাতে তাহারা নিন্দনীয় হইবে না -
فمن ابتغى وراء ذلك فأولئك هم العادون
অতএব, যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে, তারাই সীমালংঘনকারী।
কিন্তু কেউ এর বাইরে অন্য কাউকেও কামনা করলে তারা হবে সীমালংঘনকারী।
তবে কেহ ইহাদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করিলে তাহারা হইবে সীমালংঘনকারী -
والذين هم لأماناتهم وعهدهم راعون
এবং যারা তাদের আমানত ও অঙ্গীকার রক্ষা করে
(তাদের আরো বৈশিষ্ট্য হলো,) তারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী।
এবং যাহারা আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে,
والذين هم بشهاداتهم قائمون
এবং যারা তাদের সাক্ষ্যদানে সরল - নিষ্ঠাবান
তারা মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত তাদের সাক্ষ্যদানের উপর,
আর যাহারা তাহাদের সাক্ষ্যদানে অটল,
والذين هم على صلاتهم يحافظون
এবং যারা তাদের নামাযে যত্নবান,
এবং তারা হিফাযতকারী তাদের সালাতের,
এবং নিজেদের সালাতে যত্নবান -
أولئك في جنات مكرمون
তারাই জান্নাতে সম্মানিত হবে।
তারাই হবে জান্নাতে সম্মানিত।
তাহারাই সম্মানিত হইবে জান্নাতে।
فمال الذين كفروا قبلك مهطعين
অতএব, কাফেরদের কি হল যে, তারা আপনার দিকে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসছে।
যারা কুফুরি করেছে তাদের কী হলো যে, (তুমি কুরআন পাঠ করলেই) তারা তোমার দিকে তেড়ে আসে
কাফিরদের হইল কি যে, উহারা তোমার দিকে ছুটিয়া আসিতেছে
عن اليمين وعن الشمال عزين
ডান ও বামদিক থেকে দলে দলে।
ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে দলে দলে?
দক্ষিণ ও বাম দিক হইতে, দলে দলে।
أيطمع كل امرئ منهم أن يدخل جنة نعيم
তাদের প্রত্যেকেই কি আশা করে যে, তাকে নেয়ামতের জান্নাতে দাখিল করা হবে?
তাদের প্রত্যেকেই কি আশা করে যে, তাকে নিয়ামতে ভরা জান্নাতে দাখিল করা হবে?
উহাদের প্রত্যেকে কি এই প্রত্যাশা করে যে, তাহাকে দাখিল করা হইবে প্রাচুর্যময় জান্নাতে?
كلا ۖ إنا خلقناهم مما يعلمون
কখনই নয়, আমি তাদেরকে এমন বস্তু দ্বারা সৃষ্টি করেছি, যা তারা জানে।
কখনো নয়, আমরা তাদেরকে যা দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তা তারা জানে।
কখনো না, আমি উহাদেরকে যাহা হইতে সৃষ্টি করিয়াছি তাহা উহারা জানে।
فلا أقسم برب المشارق والمغارب إنا لقادرون
আমি শপথ করছি উদয়াচল ও অস্তাচলসমূহের পালনকর্তার, নিশ্চয়ই আমি সক্ষম!
না, আমি উদয়াচল এবং অস্তাচলসমূহের প্রভুর কসম খেয়ে বলছি, অবশ্যি আমরা সক্ষম,
আমি শপথ করিতেছি উদয়াচলসমূহ ও অস্তাচলসমূহের অধিপতির - নিশ্চয়ই আমি সক্ষম,
على أن نبدل خيرا منهم وما نحن بمسبوقين
তাদের পরিবর্তে উৎকৃষ্টতর মানুষ সৃষ্টি করতে এবং এটা আমার সাধ্যের অতীত নয়।
তাদের বদলে তাদের চেয়ে উত্তম (মানব দলকে) তাদের স্থলাভিষিক্ত করতে এবং একাজে কেউ পারবেনা আমাদের পরাস্ত করতে।
উহাদের অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর মানবগোষ্ঠীকে উহাদের স্থলবর্তী করিতে এবং ইহাতে আমি অক্ষম নই।
فذرهم يخوضوا ويلعبوا حتى يلاقوا يومهم الذي يوعدون
অতএব, আপনি তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা বাকবিতন্ডা ও ক্রীড়া - কৌতুক করুক সেই দিবসের সম্মুখীন হওয়া পর্যন্ত, যে দিবসের ওয়াদা তাদের সাথে করা হচ্ছে।
সুতরাং তাদেরকে বাক - বিতর্ক আর খেলতামাশায় মত্ত থাকতে দাও যেদিনটি সম্পর্কে তাদের সতর্ক করা হয়েছিল সেই দিনটি আসার আগ পর্যন্ত।
অতএব উহাদেরকে বাকবিতণ্ডা ও ক্রীড়া - কৌতুকে মত্ত থাকিতে দাও, যে দিবস সম্পর্কে তাহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছিল, তাহার সম্মুখীন হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
يوم يخرجون من الأجداث سراعا كأنهم إلى نصب يوفضون
সে দিন তারা কবর থেকে দ্রুতবেগে বের হবে, যেন তারা কোন এক লক্ষ্যস্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
সেদিন তারা দ্রুত বেরিয়ে আসবে কবর থেকে, মনে হবে যেনো তারা উপাসনালয়ের দিকে দৌড়াচ্ছে।
সেদিন উহারা কবর হইতে বাহির হইবে দ্রুতবেগে, মনে হইবে উহারা কোন উপাসনালয়ের দিকে ধাবিত হইতেছে,
خاشعة أبصارهم ترهقهم ذلة ۚ ذلك اليوم الذي كانوا يوعدون
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনমিত; তারা হবে হীনতাগ্রস্ত। এটাই সেইদিন, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হত।
তাদের দৃষ্টি থাকবে অবনত, তাদের আচ্ছন্ন করে রাখবে যিল্লতি। এটাই সেই দিন যার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের।
অবনত নেত্রে। হীনতা উহাদেরকে আচ্ছন্ন করিবে; ইহাই সেই দিন, যাহার বিষয়ে সতর্ক করা হইয়াছিল উহাদেরকে।