بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
ত্বা, সীন, মীম।
তোয়া সিন মিম।
Chapter 26, 227 verses
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
ত্বা, সীন, মীম।
তোয়া সিন মিম।
تلك آيات الكتاب المبين
এসব হচ্ছে সুস্পষ্ট গ্রন্থের বাণীসমূহ।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
তুমি হয়ত তোমার নিজেকে মেরেই ফেলবে যেহেতু তারা হচ্ছে না।
তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
যদি আমরা ইচ্ছা করতাম তাহলে আমরা তাদের উপরে আকাশ থেকে একটি নিদর্শন পাঠাতে পারতাম, তখন এর কারণে তাদের ঘাড় নুইয়ে হেটঁ করে দেয়া হত।
আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
আর তাদের নিকট পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো নতুন স্মরণীয় - বার্তা আসতে না আসতেই তারা তা থেকে বিমুখ হয়ে যায়।
যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
তাহলে তারা প্রত্যাখ্যান করেই ফেলেছে, সুতরাং যা নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রপ করত তার সংবাদ তাদের কাছে শীঘ্রই আসছে।
অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
তারা কি পৃথিবীর দিকে চেয়ে দেখে না - - এতে আমরা প্রত্যেক উৎকৃষ্ট কল্পতরু কত যে জন্নিয়েছি?
তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ - বস্তু কত উদগত করেছি।
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়!
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বললেন - - ''তুমি অত্যাচারী লোকদের কাছে যাও, - -
যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
ফিরআউনের লোকদের কাছে। তারা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?’’
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
قال رب إني أخاف أن يكذبون
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমি অবশ্যই আশংকা করি যে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
''আমার বুক সংকুচিত হয়ে পড়েছে, আর আমার জিহ্বা বাক্পটু নয়, সেজন্য হারূনের প্রতিও ডাক পাঠাও।
এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
''আর আমার বিরুদ্ধে এক অপরাধ তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে, সেজন্য আমি ভয় করি যে তারা আমাকে কাতল করবে।’’
আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
তিনি বললেন - - ''কখনো না! অতএব তোমরা দুজনেই আমাদের নিদর্শন সমূহ নিয়ে যাও, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সঙ্গে রয়েছি শুনতে থাকা অবস্থায়।
বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
''সুতরাং তোমরা ফিরআউনের নিকট যাও আর বলো - - 'আমরা আলবৎ বিশ্বজগতের প্রভুর রসূল - -
অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
أن أرسل معنا بني إسرائيل
''যে ইসরাইলের বংশধরদের আমাদের সঙ্গে পাঠিয়ে দাও’।’’
যাতে তুমি বনী - ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
সে বললে - - ''তোমাকে কি ছেলেবেলায় আমাদের কাছেই লালনপালন করি নি, এবং তুমি কি আমাদেরই মধ্যে তোমার জীবনের বহু বৎসর কাটাও নি?
ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন - পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
''আর তোমার কাজ যা তুমি করেছ তা তো করেইছ, তথাপি তুমি অকৃতজ্ঞদের মধ্যেকার!’’
তুমি সেই - তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
তিনি বললেন - - ''আমি এটি করেছিলাম যখন আমি পথভ্রষ্টদের মধ্যে ছিলাম।
মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
''এরপর যখন আমি তোমাদের ভয় করেছিলাম তখন আমি তোমাদের থেকে ফেরার হলাম, তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান দান করেছেন, আর তিনি আমাকে বানিয়েছেন রসূলদের অন্যতম।
অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
''আর এই তো হচ্ছে সেই অনুগ্রহ যা তুমি আমার কাছে উল্লেখ করছ যার জন্যে তুমি ইসরাইলের বংশধরদের দাস বানিয়েছ!’’
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী - ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
قال فرعون وما رب العالمين
ফিরআউন বললে - - ''বিশ্বজগতের প্রভু আবার কি হয়?’’
ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
তিনি বললেন - - ''মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং তাদের মধ্যে যা - কিছু আছে তার প্রভু, - - যদি তোমরা দৃঢ়প্রত্যয়িত হও।’’
মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা হও।
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
قال لمن حوله ألا تستمعون
সে তার আশপাশে যারা আছে তাদের বললে - - ''তোমরা কি শুনছ না?’’
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
তিনি বললেন - - ''তোমাদের প্রভু এবং পূর্বকালের তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও প্রভু।’’
মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
সে বললে - - ''তোমাদের রসূলটি যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে সে তো বদ্ধ পাগল।’’
ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
তিনি বললেন - - ''তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা আছে তারও প্রভু, যদি তোমরা বুঝতে পারতে।’’
মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
সে বললে - - ''তুমি যদি আমাকে ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ কর তবে আমি আলবৎ তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব।’’
ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
قال أولو جئتك بشيء مبين
তিনি বললেন - - ''কী! আমি তোমার কাছে সুস্পষ্ট কিছু আনলেও?’’
মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
قال فأت به إن كنت من الصادقين
সে বললে - - ''তবে তা নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের একজন হও।’’
ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
সুতরাং তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন আশ্চর্য! এটি এক স্পষ্ট সাপ হয়ে গেল।
অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
আর তিনি তাঁর হাত বের করেলন, তখন দেখো! দর্শকদের কাছে তা সাদা হয়ে গেল।
আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
সে তার আশপাশের প্রধানদের বললে - - ''এ তো নিশ্চয়ই এক ওস্তাদ জাদুকর, - -
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
''সে চাইছে তার জাদুর দ্বারা তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে, কাজেই কী তোমরা উপদেশ দাও?’’
সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
তারা বললে - - ''তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দাও, আর শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠাও, - -
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
يأتوك بكل سحار عليم
''যেন তারা প্রত্যেক জ্ঞানী জাদুকরদের তোমার কাছে নিয়ে আছে।’’
তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
সুতরাং জাদুকরদের একত্র করা হ’ল নির্দিষ্ট স্থানে বিজ্ঞাপিত দিনে,
অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
আর লোকদের বলা হ’ল - - ''তোমরা কি জমায়েৎ হচ্ছ, - -
এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
''যেন আমরা জাদুকরদের অনুগমন করতে পারি যদি তারা নিজেরা বিজয়ী হয়?’’
যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি - যদি তারাই বিজয়ী হয়।
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
তারপর যখন জদুকররা এল তারা ফিরআউনকে বললে - - ''আমাদের জন্য কি বিশেষ পুরস্কার থাকবে যদি আমরা খোদ বিজয়ী হই?’’
যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
সে বললে - - ''হাঁ, আর সেক্ষেত্রে তোমরা নিশ্চয়ই অন্তরঙ্গ হবে।’’
ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
মূসা তাদের বললেন - - ''ছোড়ো যা তোমরা ছুড়ঁতে যাচ্ছ।’’
মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
সুতরাং তাদের দড়িদড়া ও তাদের লাঠি - লগুড় তারা ছুড়ঁলো এবং বললে - - ''ফিরআউনের প্রভাবে আমরা তো নিজেরাই বিজয়ী হব।’’
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
তারপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন দেখো! এটি গিলে ফেলল যা তারা বুনেছিল।
অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
فألقي السحرة ساجدين
তখন জাদুকররা লুটিয়ে পড়ল সিজদাবনত হয়ে,
তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
قالوا آمنا برب العالمين
তারা বললে, ''আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি, - -
তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
رب موسى وهارون
''যিনি মূসা ও হারুনেরও প্রভু।’’
যিনি মূসা ও হারুনের রব।
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
সে বললে - - ''তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই? সে - ই নিশ্চয় তোমাদের গুরু যে তোমাদের জাদুবিদ্যা শিখিয়েছে। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা টের পাবে। আমি নিশ্চয় তোমাদের হাত ও তোমাদের পা আড়াআড়ি - ভাবে কেটে ফেলবই, আর তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।’’
ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
তারা বললে - - ''কোনো ক্ষতি নেই, নিঃসন্দেহ আমরা আমাদের প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তনশীল।
তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
''আমরা নিশ্চয়ই আশা করি যে আমাদের প্রভু আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, যেহেতু আমরা মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’’
আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি - বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
আর আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমার বান্দাদের নিয়ে রাতের মধ্যে রওয়ানা হয়ে যাও, তোমাদের অবশ্য পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’’
আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
তখন ফিরআউন শহরে - নগরে সংগ্রাহকদের পাঠাল - -
অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
''নিঃসন্দেহ তারা একটি ছোটখাট দল,
নিশ্চয় এরা (বনী - ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
وإنهم لنا لغائظون
''আর নিঃসন্দেহ আমাদের জন্য তারা তো ক্রোধ উদ্রেককারী,
এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
وإنا لجميع حاذرون
''আর আমরা তো নিশ্চয় সজাগ - সশস্ত্র জনতা।’’
এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
فأخرجناهم من جنات وعيون
কাজেই আমরা তাদের বের ক’রে আনলাম বাগানসমূহ ও ঝরনারাজি থেকে,
অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ - বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
وكنوز ومقام كريم
আর ধনভান্ডার ও জমকালো বাড়িঘর থেকে, - -
এবং ধন - ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
এইভাবেই। আর এইগুলো আমরা ইসরাইলের বংশধরদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছিলাম।
এরূপই হয়েছিল এবং বনী - ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
فأتبعوهم مشرقين
তারপর তারা এদের পশ্চাদ্ধাবন করেছিল সূর্যোদয়কালে।
অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখল তখন মূসার সঙ্গীরা বললে - - ''আমরা তো নিঃসন্দেহ ধরা পড়ে গেলাম।’’
যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
তিনি বললেন - - ''নিশ্চয়ই না, আমার সঙ্গে আলবৎ আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে অচিরেই পথ দেখাবেন।’’
মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
তখন আমরা মূসার নিকট প্রত্যাদেশ দিলাম এই বলে - - ''তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।’’ ফলে এটি বিভক্ত হয়ে গেল, সুতরাং প্রত্যেক দল এক - একটি বিরাট পাহাড়ের মতো হয়েছিল।
অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
وأزلفنا ثم الآخرين
আর অন্যদেরকেও আমরা নিয়ে এলাম সেই অঞ্চলে।
আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
আর মূসাকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল সে - সবাইকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম।
এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
ثم أغرقنا الآخرين
তারপর অন্যদেরকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো একটি নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল না।
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
واتل عليهم نبأ إبراهيم
আর তুমি তাদের কাছে ইব্রাহীমের কাহিনী বর্ণনা করো।
আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
স্মরণ করো! তিনি তাঁর পিতৃপুরুষকে ও তাঁর স্বজাতিকে বললেন - - ''তোমরা কিসের উপাসনা কর?’’
যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
তারা বললে - - ''আমরা প্রতিমাদের পূজা করি, আর আমরা তাদের আরাধনায় নিষ্ঠাবান থাকব।’’
তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
তিনি বললেন, ''তারা কি তোমাদের শোনে যখন তোমরা ডাকো?
ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
أو ينفعونكم أو يضرون
''অথবা তারা কি তোমাদের উপকার করতে পারে কিংবা অপকার করতে পারে?’’
অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
তারা বললে - - ''না, আমাদের পিতৃপুরুষদের আমরা দেখতে পেয়েছি এইভাবে তারা করছে ।’’
তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
তিনি বললেন - - ''তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ তোমরা কিসের উপাসনা করছ, - -
ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
أنتم وآباؤكم الأقدمون
''তোমরা ও তোমাদের পূর্বগামী পিতৃপুরুষরা?
তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
''অতএব তারা আলবৎ আমার শত্রু, কিন্ত ভূ - বিশ্বের প্রভু নন,
বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
الذي خلقني فهو يهدين
''যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন,
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
والذي هو يطعمني ويسقين
''আর যিনি আমাকে আহার করান এবং পান করতে দেন,
যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
وإذا مرضت فهو يشفين
''আর যখন আমি রোগে ভোগি তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য করেন,
যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
والذي يميتني ثم يحيين
''আর যিনি, আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপরে আমাকে পুনর্জীবন দেবেন,
যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
''আর যিনি, আমি আশা করি, বিচারের দিনে আমার ভুলভ্রান্তিগুলো আমার জন্য ক্ষমা করে দেবেন।
আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি - বিচ্যুতি মাফ করবেন।
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
''আমার প্রভু! আমাকে জ্ঞান দান করো, আর আমাকে সৎকর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করো।
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
''আর আমার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সদালাপন সৃষ্টি করো।
এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
واجعلني من ورثة جنة النعيم
''আর আমাকে আনন্দময় উদ্যানের ওয়ারিশানের অন্তর্ভুক্ত করো।
এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
''আর আমার পিতৃপুরুষকে পরিত্রাণ করো, কেননা সে তো পথভ্রান্তদের মধ্যেকার হয়ে গেছে।
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
ولا تخزني يوم يبعثون
''আর আমাকে লাঞ্ছিত করো না তখন যেইদিন তাদের পুরুত্থিত করা হবে, - -
এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
يوم لا ينفع مال ولا بنون
''যেদিন ধনসম্পদে কোনো কাজ দেবে না, সন্তানাদিতেও নয়,
যে দিবসে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
إلا من أتى الله بقلب سليم
''শুধু সে ব্যতীত যে নির্মল - নিস্পাপ অন্তর নিয়ে র কাছে আসবে।’’
কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
وأزلفت الجنة للمتقين
আর স্বর্গোদ্যানকে ধর্মভীরুদের জন্য সন্নিকটে আনা হবে,
জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
وبرزت الجحيم للغاوين
আর দুযখকে খোলে দেওয়া হবে পথভ্রষ্টদের জন্য।
এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
আর তাদের বলা হবে - - ''কোথায় তারা যাদের তোমরা উপাসনা করতে - -
তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
''কে বাদ দিয়ে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করছে, না তারা নিজেদেরই সাহায্য করতে পারছে?’’
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
فكبكبوا فيها هم والغاوون
সুতরাং তাদের এর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে - - তাদের এবং পথভ্রান্তদের,
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
وجنود إبليس أجمعون
আর ইবলীসের দলবল সকলকেও।
এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
قالوا وهم فيها يختصمون
তারা সেখানে তর্ক - বিতর্ক করতে করতে বলবে - -
তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
''র দিব্য, আমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিলাম, - -
আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
إذ نسويكم برب العالمين
''যখন আমরা বিশ্বজগতের প্রভুর সঙ্গে তোমাদের এক - সমান গণ্য করেছিলাম।
যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব - পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
وما أضلنا إلا المجرمون
''আর অপরাধীরা ছাড়া অন্য কেউ আমাদের বিপথে নেয় নি।
আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
فما لنا من شافعين
''সেজন্যে আমাদের জন্য সুপারিশকারীদের কেউ নেই,
অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
ولا صديق حميم
''আর কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই।
এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
''হায়! আমাদের জন্য যদি আকেরবার উপায় থাকত তাহলে আমরা মুমিনদের মধ্যেকার হতাম।’’
হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
كذبت قوم نوح المرسلين
নূহের স্বজাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
দেখো! তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إني لكم رسول أمين
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।’’
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
তারা বললে - - ''আমরা কি তোমার প্রতি ঈমান আনব যখন তোমাকে অনুসরণ করছে ইতরগোষ্ঠী?’’
তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
قال وما علمي بما كانوا يعملون
তিনি বললেন - - ''তারা কী করত সে সন্বন্ধে আর আমার জ্ঞান থাকবার নয়।
নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা আমার কি দরকার?
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
''তাদের হিসাবপত্র আমার প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়, যদি তোমরা বুঝতে!
তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
وما أنا بطارد المؤمنين
''আর আমি তো মুমিনদের তাড়িয়ে দেবার পাত্র নই।
আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
إن أنا إلا نذير مبين
''আমি একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ভিন্ন নই।’’
আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
তারা বললে - - ''হে নূহ! তুমি যদি না থামো তাহলে তোমাকে অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে - নিহতদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’’
তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
قال رب إن قومي كذبون
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার স্বজাতি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
''অতএব আমার মধ্যে ও তাদের মধ্যে একটি সিদ্ধান্ত এনে মীমাংসা করে দাও, আর আমাকে ও আমার সাথে মুমিনদের যারা রয়েছে তাদের উদ্ধার করে দাও।’’
অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর সাথে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করলাম বোঝাই করা জাহাজে।
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
ثم أغرقنا بعد الباقين
তারপর আমরা ডুবিয়ে দিলাম পরবর্তী অবশিষ্টদের।
এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
كذبت عاد المرسلين
আর 'আদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
দেখো, তাদের ভাই হূদ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إني لكم رسول أمين
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভয় কর ও আমাকে মেনে চল।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
''আর আমি এ - জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার নজুরি তো ভূ - বিশ্বের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
''তোমরা কি প্রত্যেক পাহাড়ে অযথা স্তম্ভ নির্মাণ করছ,
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
''আর দুর্গ তৈরি করছ যেন তোমরা চিরস্থায়ী হবে?’’
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
''আর যখন তোমরা পাকড়াও কর তখন জবরদস্তভাবে পাকড়াও করে থাক।
যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
فاتقوا الله وأطيعون
''সুতরাং তোমরা কে ভক্তিশ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
''আর ভয় - ভক্তি কর তাঁকে যিনি তোমাদের মদদ করেছেন যা তোমরা শিখেছ তা দিয়ে, - -
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
أمدكم بأنعام وبنين
''আর তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন গবাদি - পশু ও সন্তান - সন্ততি দিয়ে,
তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র - সন্তান,
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
وجنات وعيون
''আর বাগানসমূহ ও ফোয়ারাগুলো দিয়ে।
এবং উদ্যান ও ঝরণা।
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
''নিঃসন্দেহ আমি আশংকা করছি তোমাদের উপরে এক মহাদিনের শাস্তির।’’
আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
তারা বললে - - ''তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশদাতাদের মধ্যে তুমি নাই - বা হও আমাদের কাছে সবই সমান।
তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
إن هذا إلا خلق الأولين
''এ তো সেকেলে আচরণ ছাড়া কিছুই নয়,
এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
وما نحن بمعذبين
''আর আমরা শাস্তি পাবার নই।’’
আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
কাজেই তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সুতরাং আমরা তাদের ধ্বংস করেছিলাম। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
كذبت ثمود المرسلين
আর ছামূদ জাতি রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
দেখো, তাদের ভাই সালিহ্ তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?
যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إني لكم رسول أمين
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভয় - ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল!
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
أتتركون في ما هاهنا آمنين
''এখানে যা আছে তাতে কি তোমাদের নিরাপদে রেখে দেওয়া হবে, - -
তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ - বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
في جنات وعيون
''বাগানসমূহে ও ফোয়ারাগুলোয়,
উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
وزروع ونخل طلعها هضيم
''আর শস্যক্ষেত্রে ও খেজুর - বাগানে যার ছড়িগুলো ভারী?
শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
''তোমরা তো পাহাড় খুদে বাড়িঘর তৈরি কর নিপুণভাবে।
তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
فاتقوا الله وأطيعون
''সুতরাং তোমরা কে ভক্তি - শ্রদ্ধা কর ও আমার আজ্ঞাপালন কর।
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
ولا تطيعوا أمر المسرفين
''আর সীমালংঘনকারীদের নির্দেশ মেনে চল না, - -
এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
''যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করে আর শান্তিস্থাপন করে না।’’
যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বললে - - ''তুমি তো নিঃসন্দেহ জাদুগ্রস্তদেরই একজন।
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
''তুমি আমাদের মতো মানুষ ছাড়া আর কিছু নও, অতএব কোনো এক নিদর্শন নিয়ে এস যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’
তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
তিনি বললেন - - ''এই একটি উষ্টী, তার জন্য পানীয় থাকবে আর তোমাদের জন্যও পানীয় থাকবে নির্ধারিত সময়ে।
সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক - এক দিনের।
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
''আর তোমরা অনিষ্ট দিয়ে ওকে স্পর্শ করো না, পাছে এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।’’
তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
فعقروها فأصبحوا نادمين
কিন্ত তারা এটিকে হত্যা করলে, পরিণামে সকাল - সকালই তারা পরিতাপকারী হল।
তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
সেজন্য শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয় ।
এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
كذبت قوم لوط المرسلين
আর লূতের লোকদল রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
দেখো! তাদের ভাই লূত তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إني لكم رسول أمين
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তা দেবেন।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
أتأتون الذكران من العالمين
''তোমরা কি মানুষজাতীর মধ্যে পুরুষদের কাছেই এসে থাক,
সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
''আর পরিত্যাগ করছ তোমাদের স্ত্রীদের যাদের তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন? না, তোমরা তো সীমালংঘনকারী জাতি।’’
এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
তারা বললে - - ''হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও তাহলে তুমি নিশ্চয়ই নির্বাসিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’
তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
قال إني لعملكم من القالين
তিনি বললেন - - ''আমি অবশ্যই তোমাদের আচরণকে ঘৃণাকারীদেরই একজন।
লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
رب نجني وأهلي مما يعملون
''আমার প্রভু! তারা যা করে তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার পরিজনকে উদ্ধার করো।’’
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
فنجيناه وأهله أجمعين
সুতরাং আমরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে একই সঙ্গে উদ্ধার করলাম, - -
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
إلا عجوزا في الغابرين
এক বুড়ীকে ছাড়া, যে পেছনে - পড়ে - থাকাদের মধ্যে রয়েছিল।
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
ثم دمرنا الآخرين
তারপর আমরা অন্যান্যদের বিধ্বংস করেছিলাম।
এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বৃষ্টি, - - সুতরাং কত মন্দ এই বৃষ্টি সতককৃতদের জন্য।
তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি - প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
আইকার অধিবাসীরা রসূলগণকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
দেখো, শোআইব তাদের বলেছিলেন - - ''তোমরা কি ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করবে না?
যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إني لكم رسول أمين
''আমি নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রসূল,
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
فاتقوا الله وأطيعون
''অতএব তোমরা কে ভয়ভক্তি কর ও আমাকে মেনে চল।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
''আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
''মাপে পুরোমাত্রায় দেবে, আর তোমরা মাপে - কম - করা লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
''সঠিক পাল্লায় ওজন করো।
সোজা দাঁড়ি - পাল্লায় ওজন কর।
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
''আর লোকজনের ক্ষতিসাধন করো না তাদের বিষয়বস্তু সন্বন্ধে, আর দুনিয়াতে বিপর্যয় ঘটিয়ো না অনিষ্টাচরণ ক’রে।
মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
''আর ভয় - ভক্তি করো তাঁকে যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পূর্ববর্তী লোকদেরও।’’
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক - সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বললে - - ''তুমি তো আলবৎ জাদুগ্রস্তদের মধ্যেকার,’’
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
''আর তুমি আমাদের ন্যায় একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও, আর আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন বলেই তো গণনা করি।
তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা - তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
''অতএব আকাশের একটি টুকরো আমাদের উপরে ফেলে দাও, যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’
অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
قال ربي أعلم بما تعملون
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু ভাল জানেন কী তোমরা কর।’’
শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
কিন্ত তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে এক অন্ধকার দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল। নিঃসন্দেহ এটি ছিল এক ভীষণ দিনে শাস্তি।
অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিঃসন্দেহ এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু, - - তিনিই তো মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা।
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
وإنه لتنزيل رب العالمين
আর নিঃসন্দেহ এটি নিশ্চয়ই বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে এক অবতারণ।
এই কোরআন তো বিশ্ব - জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
نزل به الروح الأمين
রুহুল আমীন এটি নিয়ে অবতরণ করেছেন - -
বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
على قلبك لتكون من المنذرين
তোমার হৃদয়ের উপরে, যেন তুমি সতর্ককারীদের অন্যতম হতে পার, - -
আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
بلسان عربي مبين
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
وإنه لفي زبر الأولين
আর নিঃসন্দেহ এটি পূর্ববর্তীদের ধর্মগ্রন্থে রয়েছে ।
নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
একি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে ইসরাইলের বংশধরদের পন্ডিতগণ এটি জানে?
তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী - ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
আর আমরা যদি এটি অবতারণ করতাম কোনো ভিন্ন দেশীয়ের কাছে,
যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
আর সে এটি তাদের কাছে পাঠ করত, তাহলে তারা তাতে বিশ্বাসভাজন হতো না।
অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
এইভাবেই আমরা এটিকে প্রবেশ করিয়েছি অপরাধীদের অন্তরে।
এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
তারা এতে বিশ্বাস করবে না যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
সুতরাং এ তাদের কাছে আসবে আকস্মিকভাবে, আর তারা টের পাবে না।
অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
فيقولوا هل نحن منظرون
তখন তারা বলবে - - ''আমরা কি অবকাশ প্রাপ্ত হব?’’
তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
أفبعذابنا يستعجلون
কী, তারা কি এখনও আমাদের শাস্তি সন্বন্ধে তাড়াতাড়ি করতে চায়?
তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
أفرأيت إن متعناهم سنين
তুমি কি তবে লক্ষ্য করেছ - - যদি আমরা তাদের বহু বছর ভোগ - বিলাস করতে দিই।
আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ - বিলাস করতে দেই,
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
তারপর তাদের কাছে এসে পড়ে যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল - -
অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
তবু যা তাদের উপভোগ করতে দেওয়া হয়েছিল তা তাদের কোনো কাজে আসবে না?
তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
আর আমরা কোনো জনপদ ধ্বংস করি নি যার সতর্ককারী ছিল না।
আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
ذكرى وما كنا ظالمين
স্মারকগ্রন্থ, আর আমরা কখনও অন্যায়কারী নই।
স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
وما تنزلت به الشياطين
আর শয়তানরা এ নিয়ে অবতরণ করে নি,
এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
আর তাদের পক্ষে এ সমীচীন নয়, আর তারা সামর্থ্যও রাখে না।
তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
إنهم عن السمع لمعزولون
নিঃসন্দেহ শুনবার ক্ষেত্রে তারা তো অপারগ।
তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
সুতরাং তুমি র সাথে অন্য উপাস্যকে ডেকো না, পাছে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যেকার হয়ে যাও।
অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
وأنذر عشيرتك الأقربين
আর তোমার নিকটতম আত্মীয়দের সাবধান করে দাও,
আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
আর তোমার ডানা আনত করো মুমিনদের যারা তোমাকে অনুসরণ করে তাদের প্রতি।
এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
কিন্ত তারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে তবে বলো - - ''আমি আলবৎ দায়মুক্ত তোমরা যা কর সে সন্বন্ধে।’’
যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
وتوكل على العزيز الرحيم
আর তুমি নির্ভর কর মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতার উপরে, - -
আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
الذي يراك حين تقوم
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও,
যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
وتقلبك في الساجدين
এবং সিজদাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠা - বসা করতে।
এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
إنه هو السميع العليم
নিঃসন্দেহ তিনি - - তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
আমি কি তোমাদের জানাব কাদের উপরে শয়তানরা অবতরণ করে?
আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
تنزل على كل أفاك أثيم
তারা অবতরণ করে প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর উপরে,
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
তারা কান পাতে, আর তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
والشعراء يتبعهم الغاوون
আর কবিগণ, - - তাদের অনুসরণ করে ভ্রান্তপথগামীরা।
বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
তুমি কি দেখ না যে তারা নিঃসন্দেহ প্রত্যেক উপত্যকায় লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ায়,
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
আর তারা নিশ্চয়ই তাই বলে যা তারা করে না? - -
এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون
তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, এবং কে খুব ক’রে স্মরণ করে, আর অত্যাচারিত হবার পরে প্রতিরক্ষা করে। আর যারা অন্যায় করে তারা অচিরেই জানতে পারবে কোন বিপর্যয়ের মধ্যে তারা প্রত্যাবর্তন করছে।
তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?