بسم الله الرحمن الرحيم طسم
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - সীন - মীম।
ত্ব-সীন-মীম।
Chapter 26, 227 verses
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - সীন - মীম।
ত্ব-সীন-মীম।
تلك آيات الكتاب المبين
এইগুলি সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
উহারা হইতেছে না বলিয়া তুমি হয়ত মনোকষ্টে আত্মবিনাশী হইয়া পড়িবে।
তারা হবে না বলে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
আমি ইচ্ছা করিলে আকাশ হইতে উহাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করিতাম, ফলে উহাদের গ্রীবা বিনত হইয়া পড়িত উহার প্রতি।
আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের উপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেত।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
যখনই উহাদের কাছে দয়াময়ের নিকট হইতে কোন নূতন উপদেশ আসে, তখনই উহারা উহা হইতে মুখ ফিরাইয়া নেয়।
আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
উহারা তো অস্বীকার করিয়াছে। সুতরাং উহারা যাহা লইয়া ঠাট্টা - বিদ্রপ করিত তাহার প্রকৃত বার্তা তাহাদের নিকট শীঘ্রই আসিয়া পড়িবে।
অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
উহারা কি যমীনের দিকে লক্ষ্য করে না? আমি উহাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করিয়াছি।
তারা কি যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় ইহাতে আছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই নয়।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মূসাকে ডাকিয়া বলিলেন, ‘তুমি সম্প্রদায়ের নিকট যাও,
আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও’।
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
‘ফির‘আওনের সম্প্রদায়ের নিকট; উহারা কি ভয় করে না?’
‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করবে না’?
قال رب إني أخاف أن يكذبون
তখন সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমি আশংকা করি যে, উহারা আমাকে অস্বীকার করিবে,
মূসা বলল, ‘হে আমার রব, আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে’।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
‘এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই ! সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও।
‘আর আমার বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমার জিহবা চলছে না। সুতরাং আপনি হারুনের প্রতি ওহী পাঠান’।
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
‘আমার বিরুদ্ধে তো উহাদের এক অভিযোগ আছে, আমি আশংকা করি উহারা আমাকে হত্যা করিবে।’
‘আর আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে’।
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
বলিলেন, ‘না, কখনই নহে, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, শ্রবণকারী।
বললেন, ‘কখনো নয়। তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনাদিসহ যাও। অবশ্যই আমি আছি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী’।
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
‘অতএব তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল,
‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বল, নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল’।
أن أرسل معنا بني إسرائيل
‘আমাদের সঙ্গে যাইতে দাও বনী ইসরাঈলকে।’
‘যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও’।
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
ফির‘আওন বলিল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন - পালন করি নাই? আর তুমি তো তোমার জীবনের বহু বৎসর আমাদের মধ্যে কাটাইয়াছ,
ফির‘আউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছ’।
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
‘এবং তুমি তোমার কর্ম যাহা করিবার তাহা তো করিয়াছ ; তুমি অকৃতজ্ঞ।’
‘আর তুমি তোমার কর্ম যা করার তা করেছ এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত’।
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
মূসা বলিল, ‘আমি তো ইহা করিয়াছিলাম তখন, যখন ছিলাম অনবধান।
মূসা বলল, ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি ছিলাম বিভ্রান্ত’।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
‘অতঃপর আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হইলাম তখন আমি তোমাদের নিকট হইতে পলাইয়া গিয়াছিলাম। তৎপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করিয়াছেন এবং আমাকে রাসূল করিয়াছেন।
‘অতঃপর যখন আমি তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন’।
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
‘আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বর্ননা করিতেছ, তাহা তো এই যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করিয়াছ।’
‘আর এই তো সে অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ’।
قال فرعون وما رب العالمين
ফির‘আওন বলিল, ‘জগতসমূহের প্রতিপালক আবার কী?’
ফির‘আউন বলল, ‘সৃষ্টিকুলের রব কে?’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
মূসা বলিল, ‘তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্তকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত হও।’
মূসা বলল, ‘আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত হয়ে থাক।’
قال لمن حوله ألا تستمعون
ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, ‘তোমরা শুনিতেছ তো !’
ফির‘আউন তার আশেপাশে যারা ছিল তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি মনোযোগসহ শুনছ না’?
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
মূসা বলিল, ‘তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষগণেরও প্রতিপালক।’
মূসা বলল, ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব’।
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
ফির‘আওন বলিল, ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল তো নিশ্চয়ই পাগল।’
ফির‘আউন বলল, ‘তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল নিশ্চয়ই পাগল’।
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
মূসা বলিল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং উহাদের মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর প্রতিপালক; যদি তোমরা বুঝিতে !’
মূসা বলল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা বুঝে থাক’।
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করিব।’
ফির‘আউন বলল, ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব’।
قال أولو جئتك بشيء مبين
মূসা বলিল, ‘আমি যদি তোমার নিকট কোন স্পষ্ট নিদর্শন আনয়ন করি, তবুও?’
মূসা বলল, ‘যদি আমি তোমার কাছে স্পষ্ট কোন বিষয় নিয়ে আসি, তবুও’?
قال فأت به إن كنت من الصادقين
ফির‘আওন বলিল, ‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে উহা উপস্থিত কর।’
ফির‘আউন বলল, ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা নিয়ে এসো’।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিলে তৎক্ষণাৎ উহা এক সাক্ষাৎ অজগর হইল।
অতঃপর সে তার লাঠি ফেলে দিল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
এবং মূসা হাত বাহির করিল আর তৎক্ষণাৎ উহা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হইল।
আর সে তার হাত বের করল, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা হয়ে দেখা দিল।
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
ফির‘আওন তাহার পারিষদবর্গকে বলিল, ‘এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর !
ফির‘আউন তার আশপাশের পারিষদদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এ তো এক বিজ্ঞ যাদুকর।’
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
‘এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে তাহার জাদুবলে বহিষ্কার করিতে চায়। এখন তোমরা কী করিতে বল?’
‘সে তোমাদেরকে তার যাদুর মাধ্যমে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়। অতএব, তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?’
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
উহারা বলিল, ‘তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে কিছু অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদেরকে পাঠাও,
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আর সংগ্রহকারীদেরকে নগরে-নগরে পাঠিয়ে দাও।’
يأتوك بكل سحار عليم
‘যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি অভিজ্ঞ জাদুকর উপস্থিত করে।’
‘তারা তোমার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসুক’।
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে জাদুকরদেরকে একত্র করা হইল,
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
এবং লোকদেরকে বলা হইল, ‘তোমরাও সমবেত হইতেছ কি?
আর লোকদের বলা হল, ‘তোমরা কি সমবেত হবে?’
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
যেন আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করিতে পারি, যদি উহারা বিজয়ী হয়।’
‘যাতে আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়’।
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
অতঃপর জাদুকরেরা আসিয়া ফিরা‘আওনকে বলিল, ‘আমরা যদি বিজয়ী হই আমাদের জন্য পুরস্কার থাকিবে তো?
অতঃপর যখন যাদুকররা আসল,তারা ফির‘আউনকে বলল,‘যদি আমরাই বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি সত্যিই পুরস্কার আছে?’
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
ফিরা‘আওন বলিল, ‘হ্যাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের শামিল হইবে।’
সে বলল, ‘হ্যাঁ এবং নিশ্চয় তোমরা তখন আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
মূসা উহাদেরকে বলিল, ‘তোমাদের যাহা নিক্ষেপ করিবার তাহা নিক্ষেপ কর।’
মূসা তাদের বলল, ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর’।
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
অতঃপর উহারা উহাদের রজ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করিল এবং উহারা বলিল, ‘ফির‘আওনের ইয্যতের শপথ! আমরাই বিজয়ী হইব।’
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ‘ফির‘আউনের মর্যাদার কসম! অবশ্যই আমরা বিজয়ী হব।’
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
অতঃপর মূসা তাহার লাঠি নিক্ষেপ করিল, সহসা উহা উহাদের অলীক সৃষ্টিগুলিকে গ্রাস করিতে লাগিল।
তারপর মূসা তার লাঠি ফেলল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা তাদের মিথ্যা প্রদর্শনীগুলো গ্রাস করে ফেলল।
فألقي السحرة ساجدين
তখন জাদুকরেরা সিজ্দাবনত হইয়া পড়িল।
ফলে যাদুকররা সিজদাবনত হয়ে পড়ল।
قالوا آمنا برب العالمين
এবং বলিল, ‘আমরা ঈমান আনয়ন করিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি -
তারা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম সকল সৃষ্টির রবের প্রতি’।
رب موسى وهارون
‘যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক।’
‘মূসা ও হারুনের রব’।
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
ফির‘আওন বলিল, ‘কী ! আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা উহাতে বিশ্বাস করিলে? সে - ই তো তোমাদের প্রধান যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়াছে। শীঘ্রই তোমরা ইহার পরিণাম জানিবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিব এবং তোমাদের সকলকে শূলবিদ্ধ করিবই।’
ফির‘আউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের গুরু যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব অচিরেই তোমরা জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাতসমূহ ও তোমাদের পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং অবশ্যই তোমাদের সকলকে
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
উহারা বলিল, ‘কোন ক্ষতি নাই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকটই প্রত্যাবর্তন করিব।
তারা বলল, ‘কোন ক্ষতি নেই তাতে। অবশ্যই আমরা তো আমাদের রবের দিকেই ফিরে যাব।’
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
‘আমরা তো আশা করি, আমাদের প্রতিপালক আমাদের অপরাধ মার্জনা করিবেন, কারণ আমরা মু’মিনদের মধ্যে অগ্রণী।’
‘আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা মুমিনদের মধ্যে প্রথম।’
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
আমি মূসার প্রতি ওহী করিয়াছিলাম এই মর্মে : ‘আমার বান্দাদেরকে লইয়া রাত্রিকালে বাহির হও, তোমাদের তো পশ্চাদ্ধাবন করা হইবে।’
আর আমি মূসার প্রতি এ মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা শুরু কর, নিশ্চয়ই তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
অতঃপর ফির‘আওন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠাইল,
অতঃপর ফির‘আউন নগরে- নগরে একত্রকারীদেরকে পাঠাল।
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
এই বলিয়া, ‘ইহারা তো ক্ষুদ্র একটি দল
‘নিশ্চয়ই এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল।’
وإنهم لنا لغائظون
এবং ‘উহারা তো আমাদের ক্রোধ উদ্রেক করিয়াছে ;
‘আর এরা অবশ্যই আমাদের ক্রোধের উদ্রেক ঘটিয়েছে।’
وإنا لجميع حاذرون
এবং আমরা তো সকলেই সদাশংকিত।’
‘আর আমরা সবাই তো যথেষ্ট সতর্ক।’
فأخرجناهم من جنات وعيون
পরিণামে আমি ফির‘আওন গোষ্ঠীকে বহিষ্কার করিলাম উহাদের উদ্যানরাজি ও প্রস্রবণ হইতে
তারপর আমি তাদেরকে উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমূহ থেকে বের করে আনলাম।
وكنوز ومقام كريم
এবং ধনভাণ্ডার ও সুরম্য সৌধমালা হইতে।
আর ধনভান্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান থেকে।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
এইরূপই ঘটিয়াছিল এবং বনী ইসরাঈলকে করিয়াছিলাম এই সমুদয়ের অধিকারী।
এরূপই এবং আমি বনী ইসরাঈলকে এসবের ওয়ারিস বানিয়েছিলাম।
فأتبعوهم مشرقين
উহারা সূর্যোদয়কালে তাহাদের পশ্চাতে আসিয়া পড়িল।
তারপর তারা সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে তাদের পিছু নিল।
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
অতঃপর যখন দুই দল পরস্পরকে দেখিল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলিল, ‘আমরা তো ধরা পড়িয়া গেলাম।’
অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সাথীরা বলল, অবশ্যই ‘আমরা ধরা পড়ে গেলাম!’
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
মূসা বলিল, ‘কখনই নহে ! আমার সঙ্গে আছেন আমার প্রতিপালক ; সত্বর তিনি আমাকে পথনির্দেশ করিবেন।’
মূসা বলল, ‘কক্ষনো নয়; আমার সাথে আমার রব রয়েছেন। নিশ্চয় অচিরেই তিনি আমাকে পথনির্দেশ দেবেন’।
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
অতঃপর মূসার প্রতি ওহী করিলাম, ‘তোমার যষ্টি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে উহা বিভক্ত হইয়া প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হইয়া গেল ;
অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়সদৃশ হয়ে গেল।
وأزلفنا ثم الآخرين
আমি সেখানে উপনীত করিলাম অপর দলটিকে,
আর আমি অপর দলটিকে সেই জায়গায় নিকটবর্তী করলাম,
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
এবং আমি উদ্ধার করিলাম মূসা ও তাহার সঙ্গী সকলকে,
আর আমি মূসা ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে উদ্ধার করলাম,
ثم أغرقنا الآخرين
তৎপর নিমজ্জিত করিলাম অপর দলটিকে।
তারপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে দিলাম।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই নয়।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
واتل عليهم نبأ إبراهيم
উহাদের নিকট ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত বর্ণনা কর।
আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা কর,
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
সে যখন তাহার পিতা ও তাহার সম্প্রদায়কে বলিয়াছিল, ‘তোমরা কিসের ‘ইবাদত কর?’
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদাত কর?’
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
উহারা বলিল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে উহাদের পূজায় নিরত থাকিব।’
তারা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে রত থাকি’।
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
সে বলিল, ‘তোমরা প্রার্থনা করিলে উহারা কি শুনে?’
সে বলল, ‘যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?’
أو ينفعونكم أو يضرون
‘অথবা উহারা কি তোমাদের উপকার কিংবা অপকার করিতে পারে?’
‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে’?
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
উহারা বলিল, ‘না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এইরূপই করিতে দেখিয়াছি।’
তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’।
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
সে বলিল, ‘তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ, কিসের পূজা করিতেছ,
ইবরাহীম বলল, ‘তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, তোমরা যাদের পূজা কর’।
أنتم وآباؤكم الأقدمون
‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?
‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?’
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
‘উহারা সকলেই আমার শত্রু, জগতসমূহের প্রতিপালক ব্যতীত;
‘সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা আমার শত্রু’।
الذي خلقني فهو يهدين
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন, তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন।
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন।’
والذي هو يطعمني ويسقين
‘তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয়।
‘আর যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান’।
وإذا مرضت فهو يشفين
‘এবং রোগ আক্রন্ত হইলে তিনিই আমাকে রোগমুক্ত করেন ;
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন যিনি আমাকে আরোগ্য করেন’।
والذي يميتني ثم يحيين
‘এবং তিনিই আমার মৃত্যু ঘটাইবেন, অতঃপর পুনর্জীবিত করিবেন।
‘আর যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপর আমাকে জীবিত করবেন’।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
‘এবং আশা করি, তিনি কিয়ামত দিবসে আমার অপরাধ মার্জনা করিয়া দিবেন।
‘আর যিনি আশা করি, বিচার দিবসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেবেন’।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে জ্ঞান দান কর এবং সৎকর্মপরায়ণদের শামিল কর।
‘হে আমার রব, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন’।
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
‘আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী কর,
‘এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুনাম-সুখ্যাতি অব্যাহত রাখুন’,
واجعلني من ورثة جنة النعيم
‘এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত কর,
‘আর আপনি আমাকে সুখময় জান্নাতের ওয়ারিসদের অন্তর্ভুক্ত করুন’।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা কর, তিনি তো পথভ্রষ্টদের শামিল ছিলেন।
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল’।
ولا تخزني يوم يبعثون
‘এবং আমাকে লাঞ্ছিত করিও না পুনরুত্থান দিবসে
‘আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না’।
يوم لا ينفع مال ولا بنون
‘যেদিন ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি কোন কাজে আসিবে না ;
‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না’।
إلا من أتى الله بقلب سليم
সেদিন উপকৃত হইবে কেবল সে, যে আল্লাহর নিকট আসিবে বিশুদ্ধকরণ অন্তর লইয়া।
‘তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে’।
وأزلفت الجنة للمتقين
মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হইবে জান্নাত,
আর মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে,
وبرزت الجحيم للغاوين
এবং পথভ্রষ্টদের জন্য উন্মোচিত করা হইবে জাহান্নাম ;
এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে।
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
উহাদেরকে বলা হইবে, ‘তাহারা কোথায়, তোমরা যাহাদের ‘ইবাদত করিতে -
আর তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায় যাদের তোমরা ইবাদাত করতে’?
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
আল্লাহর পরিবর্তে? উহারা কি তোমাদের সাহায্য করিতে পারে অথবা উহারা কি আত্মরক্ষার করিতে সক্ষম?
ছাড়া? তারা কি তোমাদেরকে সাহায্য করছে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারছে?
فكبكبوا فيها هم والغاوون
অতঃপর উহাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে অধোমুখী করিয়া,
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে,
وجنود إبليس أجمعون
এবং ইব্লীসের বাহিনীর সকলকেও।
আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকে।
قالوا وهم فيها يختصمون
উহারা সেখানে বিতর্কে লিপ্ত হইয়া বলিবে,
সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে,
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বভ্রিান্ততিে লপ্তি ছলিাম।
আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম',
إذ نسويكم برب العالمين
‘যখন আমরা তোমাদেরকে জগতসমূহের প্রতিপালকের সমকক্ষ গণ্য করিতাম।
‘যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম’।
وما أضلنا إلا المجرمون
‘আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারীরাই বিভ্রান্ত করিয়াছিল।
‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল’;
فما لنا من شافعين
‘পরিণামে আমাদের কোন সুপারিশকারী নাই।
‘অতএব, আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই’।
ولا صديق حميم
‘এবং কোন সহৃদয় বন্ধুও নাই।
‘এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই’।
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
‘হায়, যদি আমাদের একবার প্রত্যাবর্তনের সুযোগ ঘটিত, তাহা হইলে আমরা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত হইয়া যাইতাম!
‘হায়, আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম’।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশ নহে।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশ নয়।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كذبت قوم نوح المرسلين
নূহের সম্প্রদায় রাসূলগণের প্রতি মিথ্যা আরোপ করিয়াছিল।
নূহ-এর কওম রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
যখন উহাদের ভ্রাতা নূহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إني لكم رسول أمين
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তােমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না ; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান শুধু সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তােমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
উহারা বলিল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিব অথচ ইতরজনেরা তোমার অনুসরণ করিতেছে?’
‘তারা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে’?
قال وما علمي بما كانوا يعملون
নূহ্ বলিল, ‘উহারা কী করিত তাহা আমার নাই।’
নূহ বলল, ‘তারা কি করে তা আমার কী প্রয়োজন’?
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
উহাদের হিসাব গ্রহণ তো আমার প্রতিপালকেরই কাজ; যদি তোমরা বুঝিতে!
‘তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা জানতে’।
وما أنا بطارد المؤمنين
‘মু’মিনদেরকে তাড়াইয়া দেওয়া আমার কাজ নহে।
‘আর আমি তো মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার নই’।
إن أنا إلا نذير مبين
‘আমি তো কেবল একজন স্পষ্ট সতর্ককারী।’
‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী’।
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
উহারা বলিল, ‘হে নূহ্ ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও তবে তুমি অবশ্যই প্রস্তরাঘাতে নিহতদের শামিল হইবে।’
তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি যদি বিরত না হও তবে অবশ্যই তুমি প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قال رب إن قومي كذبون
নূহ্ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক ! আমার সম্প্রদায়ই তো আমাকে অস্বীকার করিতেছে।
নূহ বলল, ‘হে আমার রব, আমার কওম আমাকে অস্বীকার করেছে’;
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
‘সুতরাং তুমি আমার ও উহাদের মধ্যে স্পষ্ট মীমাংসা করিয়া দাও এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে যেসব আছে, তাহাদেরকে রক্ষা কর।’
‘সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন আর আমাকে ও আমার সাথে যেসব , আছে তাদেরকে রক্ষা করুন’।
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
অতঃপর আমি তাহাকে ও তাহার সঙ্গে যাহারা ছিল, তাহাদেরকে রক্ষা করিলাম বোঝাই নৌযানে।
অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে যারা বোঝাই নৌকায় ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম।
ثم أغرقنا بعد الباقين
তৎপর অবশিষ্ট সকলকে নিমজ্জিত করিলাম।
তারপর বাকীদের ডুবিয়ে দিলাম।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের বেশীর ভাগ ছিল না।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كذبت عاد المرسلين
‘আদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।
‘আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
যখন উহাদের ভ্রাতা হূদ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إني لكم رسول أمين
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তােমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট আছে।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
‘তোমরা কি প্রতিটি উচ্চ স্থানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করিতেছ নিরর্থক?
‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে বেহুদা স্তম্ভ নির্মাণ করছ’?
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
‘আর তোমরা প্রাসাদ নির্মাণ করিতেছ এই মনে করিয়া যে, তোমরা চিরস্থায়ী হইবে।
‘আর তোমরা সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা স্থায়ী হবে’।
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
‘এবং যখন তোমরা আঘাত হান তখন আঘাত হানিয়া থাক কঠোরভাবে।
‘আর তোমরা যখন কাউকে পাকড়াও কর, পাকড়াও কর স্বেচ্ছাচারী হয়ে’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
‘সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অনুসরণ কর’।
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
‘ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন সেই সমুদয়, যাহা তোমরা জান।
আর তাঁকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন এমন কিছু দিয়ে, যা তোমরা জান'।
أمدكم بأنعام وبنين
‘তিনি তোমাদেরকে দান করিয়াছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান - সন্ততি।
‘তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা’,
وجنات وعيون
‘উদ্যান ও প্রস্রবণ;
‘আর উদ্যান ও ঝর্ণা দ্বারা’।
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
‘আমি তো তোমাদের জন্য আশংকা করি মহাদিবসের শাস্তির।’
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক মহাদিবসের আযাবের ভয় করছি’।
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
উহারা বলিল, ‘তুমি উপদেশ দাও অথবা না - ই দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান।
তারা বলল, ‘তুমি আমাদের উপদেশ দাও অথবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান’।
إن هذا إلا خلق الأولين
ইহা তো পূর্ববর্তীদেরই স্বভাব।
‘এটি তো পূর্ববর্তীদেরই চরিত্র,।
وما نحن بمعذبين
‘আমরা শাস্তিপ্রাপ্তদের শামিল নই।’
‘আর আমরা আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না’।
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল এবং আমি উহাদেরকে ধ্বংস করিলাম। ইহাতে অবশ্যই আছে নিদর্শন ; কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম; নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كذبت ثمود المرسلين
সামূদ সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল।
সামূদ জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল,
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
যখন উহাদের ভ্রাতা সালিহ্ উহাদেরকে বলিল, ‘তোমরা কি সাবধান হইবে না?
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إني لكم رسول أمين
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’;
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
‘তোমাদেরকে কি নিরাপদ অবস্থায় ছাড়িয়া রাখা হইবে, যাহা এইখানে আছে উহাতে -
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
أتتركون في ما هاهنا آمنين
‘উদ্যানে, প্রস্রবণে
‘তোমাদেরকে কি এখানে যা আছে তাতে নিরাপদে ছেড়ে দেয়া হবে’?
في جنات وعيون
‘উদ্যানে, প্রস্রবণে
‘উদ্যান ও ঝর্ণায়’,
وزروع ونخل طلعها هضيم
‘ও শস্যক্ষেত্রে এবং সুকোমল গুচ্ছবিশিষ্ট খর্জুর বাগানে?
‘আর ক্ষেত-খামার ও কোমল শীষবিশিষ্ট খেজুর বাগানে’?
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
‘তোমরা তো নৈপুণ্যের সঙ্গে পাহাড় কাটিয়া গৃহ নির্মাণ করিতেছ।
‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মাণ করছ’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
ولا تطيعوا أمر المسرفين
‘এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য করিও না ;
‘এবং সীমালংঘনকারীদের নির্দেশের আনুগত্য করো না’-
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
‘যাহারা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, শান্তি স্থাপন করে না।’
‘যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না’।
قالوا إنما أنت من المسحرين
উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
তারা বলল, ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
‘তুমি তো আমাদের মত একজন মানুষ, কাজেই তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে একটি নিদর্শন উপস্থিত কর।’
‘তুমি তো কেবল আমাদের মত মানুষ, সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে কোন নিদর্শন নিয়ে এসো’।
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
সালিহ্ বলিল, ‘এই একটি উষ্ট্রী, ইহার জন্য আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্য আছে নির্ধারিত দিনে পানি পানের পালা ;
সালিহ বলল, ‘এটি একটি উষ্ট্রী; তার জন্য পানি পানের পালা একদিন আর তোমাদের পানি পানের পালা আরেক নির্দিষ্ট দিনে’।
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
‘এবং উহার কোন অনিষ্ট সাধন করিও না; করিলে মহাদিবসের শাস্তিতোমাদের উপর আপতিত হইবে।’
‘আর তোমরা তাকে কোন অনিষ্ট কিছু করো না; যদি কর তবে এক মহাদিবসের আযাব তোমাদেরকে পেয়ে বসবে’।
فعقروها فأصبحوا نادمين
কিন্তু উহারা উহাকে বধ করিল, পরিণামে উহারা অনুতপ্ত হইল।
অতঃপর তারা সেটি জবেহ করল; ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
অতঃপর শাস্তি উহাদেরকে গ্রাস করিল। ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
অতএব আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল, নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু্।
كذبت قوم لوط المرسلين
লূতের সম্প্রদায় রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,
লূতের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
যখন উহাদের ভ্রাতা লূত উহাদেরকে বলিল, তোমারা কি সাবধান হইবে না?
যখন তাদেরকে তাদের ভাই লূত বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إني لكم رسول أمين
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তােমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
‘আমি ইহার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহি না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
أتأتون الذكران من العالمين
‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সঙ্গে উপগত হও,
‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে তোমরা কি কেবল পুরুষদের সাথে উপগত হও’?
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
‘এবং তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য যে স্ত্রীগণকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাহাদেরকে তোমরা বর্জন করিয়া থাক। তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’
‘আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা ত্যাগ কর, বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়’।
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
উহারা বলিল, ‘হে লূত ! তুমি যদি নিবৃত্ত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হইবে।’
তারা বলল, ‘হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই বহিস্কৃতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قال إني لعملكم من القالين
লূত বলিল, ‘আমি তো তোমাদের এই কর্মকে ঘৃণা করি।
লূত বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি’।
رب نجني وأهلي مما يعملون
‘হে আমার প্রতিপালক ! আমাকে এবং আমার পরিবার - পরিজনকে, উহারা যাহা করে, তাহা হইতে রক্ষা কর।
‘হে আমার রব, তারা যা করছে, তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে তুমি রক্ষা কর’।
فنجيناه وأهله أجمعين
অতঃপর আমি তাহাকে এবং তাহার পরিবার - পরিজন সকলকে রক্ষা করিলাম
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজন সবাইকে রক্ষা করলাম।
إلا عجوزا في الغابرين
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
পেছনে অবস্থানকারিণী এক বৃদ্ধা ছাড়া।
ثم دمرنا الآخرين
অতঃপর অপর সকলকে ধ্বংস করিলাম।
তারপর অন্যদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
তাহাদের উপর শাস্তিমূলক বৃষ্টি বর্ষণ করিয়াছিলাম, ভীতি প্রদর্শিতদের জন্য এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
আর আমি তাদের উপর শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সেই বৃষ্টি ভয় প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা মন্দ ছিল!
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
ইহাতে অবশ্যই নিদর্শন রহিয়াছে, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
নিশ্চয় এতে এক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
আয়কাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করিয়াছিল,
আইকার অধিবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
যখন শু‘আয়ব উহাদেরকে বলিয়াছিল, তোমরা কি সাবধান হইবে না?
যখন শু‘আইব তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إني لكم رسول أمين
‘আমি তো তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তােমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্য কোন প্রতিদান চাহি না। আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
‘তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে ; যাহারা মাপে ঘাটতি করে তোমরা তাহাদের অন্তর্ভুক্ত হইও না।
‘মাপ পূর্ণ করে দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
সােজা দাঁড় - িপাল্লায় ওজন কর।
‘আর সঠিক দাঁড়ি পাল্লায় ওজন কর’।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
‘লোকদেরকে তাহাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাইবে না।
আর লোকদেরকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিও না এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না'।
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
‘এবং ভয় কর তাঁহাকে যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্বে যাহারা গত হইয়াছে তাহাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন।’
‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর’।
قالوا إنما أنت من المسحرين
উহারা বলিল, ‘তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত ;
তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
‘তুমি আমাদের মতই একজন মানুষ। আমরা মনে করি, তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্যতম।
‘তুমি কেবল আমাদের মত একজন মানুষ। আর আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি’।
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
‘তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলিয়া দাও।’
‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আসমান থেকে এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও’।
قال ربي أعلم بما تعملون
সে বলিল, ‘আমার প্রতিপালক ভাল জানেন তোমরা যাহা কর।’
সে বলল, ‘তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার রব অধিক জ্ঞাত’।
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
অতঃপর উহারা তাহাকে প্রত্যাখ্যান করিল, পরে উহাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের শাস্তি গ্রাস করিল। ইহা তো ছিল এক ভীষণ দিবসের শাস্তি !
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। অবশ্যই তা ছিল এক মহা দিবসের আযাব।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
ইহাতে অবশ্যই রহিয়াছে নিদর্শন, কিন্তু উহাদের অধিকাংশই নহে।
নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
এবং তোমার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإنه لتنزيل رب العالمين
নিশ্চয়ই আল - কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হইতে অবতীর্ণ।
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।
نزل به الروح الأمين
জিব্রাঈল ইহা লইয়া অবতরণ করিয়াছে
বিশ্বস্ত আত্মা* এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। * এখানে 'বিশ্বস্ত আত্মা'দ্বারা জিবরীল (আ:) কে বুঝানো হয়েছে।
على قلبك لتكون من المنذرين
তোমার হৃদয়ে, যাহাতে তুমি সতর্ককারী হইতে পার।
তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
بلسان عربي مبين
অবতীর্ণ করা হইয়াছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
وإنه لفي زبر الأولين
র্পূবর্বতী কতিাবসমূহে অবিশ্যই ইহার উল্লখে আছে
আর অবশ্যই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
বনী ইস্রাঈলের পণ্ডিতগণ ইহা অবগত আছে - ইহা কি উহাদের জন্য নিদর্শন নহে?
এটা কি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানে?
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
আমি যদি ইহা কোন আ‘জামীর প্রতি অবতীর্ণ করিতাম
আর আমি যদি এটাকে কোন অনারবের প্রতি নাযিল করতাম।
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
এবং উহা সে উহাদের নিকট পাঠ করিত, তবে উহারা উহাতে ঈমান আনিত না ;
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত। তবুও তারা এতে হত না।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
এইভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করিয়াছি।
এভাবেই আমি বিষয়টি অপরাধীদের অন্তরে সঞ্চার করেছি।
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
উহারা ইহাতে ঈমান আনিবে না যতক্ষণ না উহারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে;
যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
ফলে তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়িবে আকস্মিকভাবে ; উহারা কিছুই বুঝিতে পারিবে না।
সুতরাং তা আকস্মিকভাবে তাদের নিকট এসে পড়বে, অথচ তারা উপলদ্ধি করতে পারবে না।
فيقولوا هل نحن منظرون
তখন উহারা বলিবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেওয়া হইবে?’
তখন তারা বলবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
أفبعذابنا يستعجلون
উহারা কি তবে আমার শাস্তি ত্বরান্নিত করিতে চায়?
তাহলে কি তারা আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
أفرأيت إن متعناهم سنين
তুমি ভাবিয়া দেখ যদি আমি তাহাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ - বিলাস করিতে দেই,
তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিতাম।
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
এবং পরে উহাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হইয়াছিল তাহা উহাদের নিকট আসিয়া পড়ে,
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা করা হয়েছে, তা তাদের নিকট এসে পড়ত,
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
তখন উহাদের ভোগ - বিলাসের উপকরণ উহাদের কোন কাজে আসিবে কি?
তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য দেয়া হয়েছিল, তা তাদের কোনই কাজে আসত না।
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
আমি এমন কোন জনপদ ধ্বংস করি নাই যাহার জন্য সতর্ককারী ছিল না ;
আর আমি এমন কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, যাতে কোন সতর্ককারী আসেনি।
ذكرى وما كنا ظالمين
ইহা উপদেশস্বরূপ, আর আমি অন্যায়াচারী নই,
এটা উপদেশস্বরূপ; আর আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।
وما تنزلت به الشياطين
শয়তানেরা উহাসহ অবতীর্ণ হয় নাই।
আর শয়তানরা তা নিয়ে অবতরণ করেনি।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
উহারা এই কাজের যোগ্য নয় এবং উহারা ইহার সামর্থ্যও রাখে না।
আর এটা তাদের জন্য উচিৎ নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
إنهم عن السمع لمعزولون
উহাদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হইতে দূরে রাখা হইয়াছে।
নিশ্চয়ই তাদেরকে এর শ্রবণ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
অতএব তুমি অন্য কোন ইলাহকে আল্লাহর সঙ্গে ডাকিও না, ডাকিলে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
অতএব, তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
وأنذر عشيرتك الأقربين
তোমার নিকট - আত্মীয়বর্গকে সতর্ক করিয়া দাও।
আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
এবং যাহারা তোমার অনুসরণ করে সেই সমস্ত মু’মিনদের প্রতি বিনয়ী হও।
আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে অবনত কর।
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
উহারা যদি তোমার অবাধ্যতা করে, তুমি বলিও, ‘তোমরা যাহা কর তাহা হইতে আমি দায়মুক্ত।’
তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, ‘তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত’।
وتوكل على العزيز الرحيم
আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
‘আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর উপর তাওয়াক্কুল কর,
الذي يراك حين تقوم
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দণ্ডায়মান হও,
‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দন্ডায়মান হও’
وتقلبك في الساجدين
এবং দেখেন সিজ্দাকারীদের সঙ্গে তোমার উঠাবসা।
‘এবং সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা’।
إنه هو السميع العليم
তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
‘নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’।
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
তোমাদেরকে কি আমি জানাইব কাহার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়?
‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব, কার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়’?
تنزل على كل أفاك أثيم
উহারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেকটি ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
উহারা কান পাতিয়া থাকে এবং উহাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
والشعراء يتبعهم الغاوون
এবং কবিদেরকে অনুসরণ করে বিভ্রান্তরাই।
আর বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে।
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
তুমি কি দেখ না উহারা উদ্ভ্রান্ত হইয়া প্রত্যেক উপত্যকায় ঘুরিয়া বেড়ায়?
তুমি কি লক্ষ্য করো নি যে, তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
এবং তাহারা তো বলে যাহা তাহারা করে না।
আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون
কিন্তু উহারা ব্যতীত, যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং অধিক স্মরণ করে ও অত্যাচারিত হইবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শীঘ্রই জানিবে কোন্ স্থলে উহারা প্রত্যাবর্তন করিবে।
তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আর আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে। আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।