بسم الله الرحمن الرحيم والطور
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ তূরের।
Note
শপথ তূর পর্বতের,
ভাবো পাহাড়ের কথা,
Chapter 52, 49 verses
بسم الله الرحمن الرحيم والطور
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ তূরের।
শপথ তূর পর্বতের,
ভাবো পাহাড়ের কথা,
وكتاب مسطور
শপথ লিখিত কিতাবের।
শপথ কিতাবের, যাহা লিখিত আছে
আর লিখিত গ্রন্থের,
في رق منشور
খোলা পাতায়।
উন্মুক্ত পত্রে,
এক খোলামেলা পাতায়,
والبيت المعمور
শপথ বায়তুল মা‘মূরের,
শপথ বায়তুল মা‘মূরের,
আর ভাবো ঘনঘন গমনাগমনের গৃহের কথা,
والسقف المرفوع
শপথ সুউচ্চ ছাদের।
শপথ সম্মুন্নত আকাশের,
আর সমুন্নত ছাদের,
والبحر المسجور
শপথ উত্তাল সমুদ্রের।
এবং শপথ উদ্বেলিত সমুদ্রের -
আর উচ্ছলিত সমুদ্রের কথা,
إن عذاب ربك لواقع
নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যই ঘটবে।
তোমার প্রতিপালকের শাস্তি তো অবশ্যম্ভাবী,
নিঃসন্দেহ তোমার প্রভুর শাস্তি অবশ্যাবী - -
ما له من دافع
তা প্রতিহত করার কেউ নেই।
ইহার নিবারণকারী কেহ নাই।
এটির জন্য কোনো প্রতিরোধকারী নেই;
يوم تمور السماء مورا
যেদিন আকাশ প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে।
যেদিন আকাশ আন্দোলিত হইবে প্রবলভাবে
যেদিন আকাশ আলোড়ন করবে আলোড়নে,
وتسير الجبال سيرا
আর পাহাড়গুলো চলতে থাকবে।
এবং পর্বত চলিবে দ্রুত ;
আর পাহাড়গুলো চলে যাবে চলে যাওয়ায়।
فويل يومئذ للمكذبين
সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।
দুর্ভোগ সেই দিন সত্য অস্বীকারকারীদের,
অতএব ধিক্ সেইদিন প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য - -
الذين هم في خوض يلعبون
যারা অর্থহীন কথায় মেতে থেকে খেলাধুলা করে।
যাহারা ক্রীড়াচ্ছলে অসার কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে।
যারা বৃথা তর্কবিতর্কে খেলা খেলছে।
يوم يدعون إلى نار جهنم دعا
যেদিন উহাদেরকে ধাক্কা মারিতে মারিতে লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে
যেদিন উহাদেরকে ধাক্কা মারিতে মারিতে লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে
সেইদিন তাদের ধাক্কা দিয়ে নেওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে ধাক্কা দিতে দিতে।
هذه النار التي كنتم بها تكذبون
এটাই সেই আগুন, যা তোমরা অস্বীকার করতে।
‘ইহাই সেই অগ্নি যাহাকে তোমরা মিথ্যা মনে করিতে।’
''এইটিই সেই আগুন যেটিকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
أفسحر هذا أم أنتم لا تبصرون
তবে কি এটি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছো না?
ইহা কি জাদু? না কি তোমরা দেখিতে পাইতেছ না?
''এটি কি তবে জাদু? না কি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না?
اصلوها فاصبروا أو لا تصبروا سواء عليكم ۖ إنما تجزون ما كنتم تعملون
এতে প্রবেশ করো। অতঃপর ধৈর্য ধরো বা ধৈর্য না ধরো, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে।
তোমরা ইহাতে প্রবেশ কর, অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা ধৈর্য ধারণ না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান। তোমরা যাহা করিতে তাহারই প্রতিফল তোমাদেরকে দেওয়া হইতেছে।
''ঢুকে পড় এতে! অতঃপর তোমরা ধৈর্য ধর অথবা ধৈর্য না - ধর, তোমাদের জন্য একসমান। তোমাদের প্রতিফল দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র তোমরা যা করতে তারই।’’
إن المتقين في جنات ونعيم
নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা বেহেশতসমূহে ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে থাকবে।
মুত্তাকীরা তো থাকিবে জান্নাতে ও আরাম - আয়েশে,
নিঃসন্দেহ মুত্তকীরা থাকবে জান্নাতে ও পরমানন্দে, - -
فاكهين بما آتاهم ربهم ووقاهم ربهم عذاب الجحيم
তাদের পালনকর্তা তাদের যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত থাকবে; আর তাদের পালনকর্তা তাদের জাহিমের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে যাহা দিবেন তাহারা তাহা উপভোগ করিবে এবং তাহাদের রব তাহাদেরকে রক্ষা করিবেন জাহান্নামের আযাব হইতে,
তাদের প্রভু যা তাদের দিয়েছেন সেজন্য তারা সুখভোগ করতে থাকবে, আর তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন ভয়ংকর আগুনের শাস্তি থেকে।
كلوا واشربوا هنيئا بما كنتم تعملون
তোমরা যা করতে, তার কারণে তৃপ্তিসহ খাও এবং পান করো।
‘তোমরা যাহা করিতে তাহার প্রতিফলস্বরূপ তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে পানাহার করিতে থাক।’
''তোমরা যা করে থাকতে সেজন্য তৃপ্তির সাথে খাওদাও ও পান করো।’’
متكئين على سرر مصفوفة ۖ وزوجناهم بحور عين
সারিবদ্ধ আসনসমূহে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর আমরা তাদের বিয়ে দিবো আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।
আয়তলোচনা = বড়ো চোখের মেয়ে
তাহারা বসিবে শ্রেণীবদ্ধভাবে সজ্জিত আসনে হেলান দিয়া ; আমি তাহাদের মিলন ঘটাইব আয়তলোচনা হূরের সঙ্গে;
তারা হেলান দিয়ে বসবে সারি - সারি সিংহাসনের উপরে, আর আমরা তাদের জোড় মিলিয়ে দেব আয়তলোচন হূরদের সাথে।
والذين آمنوا واتبعتهم ذريتهم بإيمان ألحقنا بهم ذريتهم وما ألتناهم من عملهم من شيء ۚ كل امرئ بما كسب رهين
আর যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বংশধররা বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমরা তাদের বংশধরদের তাদের সঙ্গে মিলিত করব। আর তাদের কাজের প্রতিদান থেকে কোনো কিছুই আমরা কমাবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ।
এবং যাহারা ঈমান আনে আর তাহাদের সন্তান - সন্ততি ঈমানে তাহাদের অনুগামী হয়, তাহাদের সঙ্গে মিলিত করিব তাহাদের সন্তান - সন্ততিকে এবং তাহাদের কর্মফল আমি কিছুমাত্র হ্রাস করিব না; প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
আর যারা ঈমান আনে, এবং যাদের সন্তানসন্ততি ধর্মবিশ্বাসে তাদের অনুসরণ করে - - আমরা তাদের সঙ্গে মিলন ঘটাব তাদের ছেলেমেয়েদের, আর আমরা তাদের ক্রিয়াকর্ম থেকে কোনো কিছুই তাদের জন্য কমিয়ে দেব না। প্রত্যেক ব্যক্তিই সে যা অর্জন করেছে সেজন্য দায়ী।
وأمددناهم بفاكهة ولحم مما يشتهون
আর তারা যা কামনা করবে, তা থেকে ফলমূল ও মাংস দিয়ে, আমরা তাদের আরও দেবো।
আমি তাহাদেরকে দিব ফলমূল এবং গোশ্ত যাহা তাহারা পসন্দ করে।
আর আমরা তাদের প্রচুর পরিমাণে প্রদান করব ফলফসল ও মাছমাংস - - যা তারা পছন্দ করে তা থেকে।
يتنازعون فيها كأسا لا لغو فيها ولا تأثيم
তারা একে অপরের কাছ থেকে পানপাত্র গ্রহণ করবে, সেখানে কোনো মন্দ কথা থাকবে না এবং কোনো পাপও নয়।
সেখানে তাহারা পরস্পরের মধ্যে আদান - প্রদান করিতে থাকিবে পানপাত্র, যাহা হইতে পান করিলে কেহ অসার কথা বলিবে না এবং পাপ কর্মেও লিপ্ত হইবে না।
তারা সেখানে একটি পানপাত্র পরস্পরের মধ্যে আদান - প্রদান করবে, তাতে থাকবে না কোনো খেলো আচরণ, না কোনো পাপ।
۞ ويطوف عليهم غلمان لهم كأنهم لؤلؤ مكنون
আর তাদের সেবায় ঘুরে বেড়াবে তাদের জন্য নিয়োজিত কিশোরেরা, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা।
তাহাদের সেবায় নিয়োজিত থাকিবে কিশোরেরা, সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ।
আর তাদের চারিদিকে ঘুরবে তাদের কিশোররা, - - তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তো!
وأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
আর তারা মুখোমুখি হয়ে একে অপরের কথা জানতে চাইবে।
তাহারা একে অপরের দিকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিবে,
আর তাদের কেউ - কেউ অপরের দিকে জিজ্ঞাসাবাদ ক’রে এগিয়ে যাবে - -
قالوا إنا كنا قبل في أهلنا مشفقين
তারা বলবে, “নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বিগ্ন ছিলাম।”
এবং বলিবে, ‘পূর্বে আমরা পরিবার - পরিজনের মধ্যে শঙ্কিত অবস্থায় ছিলাম।
তারা বলবে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা ইতিপূর্বে আমাদের পরিজনদের সম্পর্কে ভীত ছিলাম।
فمن الله علينا ووقانا عذاب السموم
অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
‘অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন এবং আমাদেরকে অগ্নিশাস্তি হইতে রক্ষা করিয়াছেন।
''তবে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, আর আমাদের রক্ষা করেছেন তাপপীড়িত বায়ুপ্রবাহের শাস্তি থেকে।
إنا كنا من قبل ندعوه ۖ إنه هو البر الرحيم
নিশ্চয়ই আমরা এর আগে তাঁকে ডাকতাম। নিশ্চয়ই তিনিই পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।
‘আমরা পূর্বেও কে আহ্বান করিতাম, তিনি তো কৃপাময়, পরম দয়ালু।’
''আমরা অবশ্য এর আগেও তাঁকে ডাকতে থাকতাম। নিঃসন্দেহ তিনি খোদ অতি সদাশয়, অফুরন্ত ফলদাতা।
فذكر فما أنت بنعمت ربك بكاهن ولا مجنون
অতএব তুমি স্মরণ করিয়ে দাও। তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহে তুমি কোনো গণক নও এবং পাগলও নও।
অতএব তুমি উপদেশ দান করিতে থাক, তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি গণক নও, উন্মাদও নও।
অতএব তুমি উপদেশ দান করতে থাকো, কেননা তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি তো গনৎকার নও এবং মাথা - পাগলাও নও।
أم يقولون شاعر نتربص به ريب المنون
নাকি তারা বলে, “সে একজন কবি; আমরা তার ব্যাপারে সময়ের বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছি”?
উহারা কি বলিতে চাহে সে একজন কবি? আমরা তাহার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করিতেছি।’
অথবা তারা কি বলে - - ''একজন কবি, আমরা বরং তার জন্য অপেক্ষা করি কালের কবলে পড়ার দরুন?
قل تربصوا فإني معكم من المتربصين
বলো, “তোমরা অপেক্ষা করো; আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের একজন।”
বল, ‘তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষা করিতেছি।’
তুমি বলো - - ''তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো, আমিও তবে অবশ্য তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের মধ্যে রয়েছি।’’
أم تأمرهم أحلامهم بهذا ۚ أم هم قوم طاغون
নাকি তাদের বুদ্ধি তাদের এসবের নির্দেশ দেয়, নাকি তারা সীমালঙ্ঘনকারী এক সম্প্রদায়?
তবে কি উহাদের বুদ্ধি উহাদেরকে এই বিষয়ে প্ররোচিত করে, না উহারা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
অথবা তাদের বোধশক্তি কি এ - বিষয়ে তাদের নির্দেশ দিয়ে থাকে? অথবা তারা কি এক সীমালংঘনকারী জাতি?
أم يقولون تقوله ۚ بل لا يؤمنون
নাকি তারা বলে, “সে এটি নিজে বানিয়ে নিয়েছে”? বরং তারা বিশ্বাস করে না।
উহারা কি বলে, ‘এই কুরআন তাহার নিজের রচনা?’ বরং উহারা অবিশ্বাসী।
অথবা তারা কি বলে যে এটি সে বর্ণনা করেছে? না, তারা বিশ্বাস করে না।
فليأتوا بحديث مثله إن كانوا صادقين
তাহলে তারা এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।
উহারা যদি সত্যবাদী হয় তবে ইহার সদৃশ কোন রচনা উপস্থিত করুক না!
তাহলে তারা এর সমতুল্য এক রচনা নিয়ে আসুক, - - যদি তারা সত্যবাদী হয়।
أم خلقوا من غير شيء أم هم الخالقون
তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারাই স্রষ্টা?
উহারা কি স্রষ্টা ব্যতীত সৃষ্টি হইয়াছে, না উহারা নিজেরাই স্রষ্টা?
অথবা তাদের কি সৃষ্টি করা হয়েছে কেউ না - থাকা থেকে, না তারাই সৃষ্টিকর্তা?
أم خلقوا السماوات والأرض ۚ بل لا يوقنون
নাকি তারা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।
না কি উহারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছে? বরং উহারা তো অবিশ্বাসী।
অথবা তারা কি সৃষ্টি করেছিল মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী? না, তারা দৃঢ়বিশ্বাস রাখে না।
أم عندهم خزائن ربك أم هم المصيطرون
নাকি তোমার পালনকর্তার ভাণ্ডারসমূহ তাদের কাছে আছে, নাকি তারাই নিয়ন্ত্রণকারী?
তোমার প্রতিপালকের ভাণ্ডার কি উহাদের নিকট রহিয়াছে, না উহারা এই সমুদয়ের নিয়ন্তা?
অথবা তাদের কাছেই কি রয়েছে তোমার প্রভুর ধনভান্ডার, না তারাই নিয়ন্তা?
أم لهم سلم يستمعون فيه ۖ فليأت مستمعهم بسلطان مبين
নাকি তাদের কোনো সিঁড়ি আছে, যাতে তারা উঠে শোনে? তাহলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক।
না কি উহাদের কোন সিঁড়ি আছে যাহাতে আরোহণ করিয়া উহারা শ্রবণ করে? থাকিলে উহাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করুক!
অথবা তাদের কাছে কি রয়েছে সিড়ি যাঁর সাহায্যে তারা শোনে নেয়? তাহলে তাদের শ্রবণকারী নিয়ে আসুক এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।
أم له البنات ولكم البنون
নাকি তাঁর জন্য কন্যাসন্তান, আর তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান?
তবে কি কন্যা সন্তান তাঁহার জন্য এবং পুত্র সন্তান তোমাদের জন্য?
অথবা তাঁর কারণে কি রয়েছে কন্যারাসব, আর তোমাদের জন্য রয়েছে পুত্ররা?
أم تسألهم أجرا فهم من مغرم مثقلون
নাকি তুমি তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাও, ফলে তারা ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত?
তবে কি তুমি উহাদের নিকট পারিশ্রমিক চাহিতেছ যে, উহারা ইহাকে একটি দুর্বহ বোঝা মনে করে?
অথবা তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছ, যার ফলে তারা দেনায় ভারাক্রান্ত হয়ে গেছে?
أم عندهم الغيب فهم يكتبون
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, ফলে তারা তা লিখে রাখে?
না কি বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান আছে যে, উহারা এই বিষয়ে কিছু লিখে?
অথবা কি তাদের কাছে রয়েছে যার ফলে তারা লিখে ফেলতে পারে?
أم يريدون كيدا ۖ فالذين كفروا هم المكيدون
নাকি তারা কোনো ষড়যন্ত্র করতে চায়? অথচ যারা অবিশ্বাস করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের শিকার হবে।
অথবা উহারা কি কোন ষড়যন্ত্র করিতে চাহে? পরিণামে কাফিররাই হইবে ষড়যন্ত্রের শিকার।
অথবা তারা কি ষড়যন্ত্র করতে চায়? কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা নিজেরাই ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে পড়বে।
أم لهم إله غير الله ۚ سبحان الله عما يشركون
নাকি ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপাস্য আছে? তারা যাদের শরিক করে, তা থেকে পবিত্র।
না কি ব্যতীত উহাদের অন্য কোন ইলাহ্ আছে ? উহারা যাহাকে শরীক স্থির করে তাহা হইতে পবিত্র।
অথবা ছাড়া তাদের কি অন্য উপাস্য রয়েছে? রই সব মহিমা - - তারা যা শরিক করে তিনি তার বাইরে।
وإن يروا كسفا من السماء ساقطا يقولوا سحاب مركوم
উহারা আকাশের কোন খণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ।’
উহারা আকাশের কোন খণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ।’
আর যদি তারা দেখে আকাশের এক টুকরো ভেঙ্গে পড়ছে, তাহলে তারা বলবে - - ''এক পুঞ্জীভূত মেঘমালা।’’
فذرهم حتى يلاقوا يومهم الذي فيه يصعقون
উহাদের উপেক্ষা করিয়া চল সেই দিন পর্যন্ত যেদিন উহারা বজ্রাঘাতে হতচেতন হইবে।
উহাদের উপেক্ষা করিয়া চল সেই দিন পর্যন্ত যেদিন উহারা বজ্রাঘাতে হতচেতন হইবে।
অতএব তাদের ছেড়ে দাও যে পর্যন্ত না তারা তাদের সেই দিনটির সাক্ষাৎ পায় যখন তারা হতভন্ব হয়ে যাবে, - -
يوم لا يغني عنهم كيدهم شيئا ولا هم ينصرون
সেদিন উহাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে সাহায্যও করা হইবে না।
সেদিন উহাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে সাহায্যও করা হইবে না।
সেইদিন তাদের চাল - চক্রান্ত তাদের কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সাহায্যও করা হবে না।
وإن للذين ظلموا عذابا دون ذلك ولكن أكثرهم لا يعلمون
ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে জালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।
ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে জালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।
আর যারা অন্যায়াচার করেছে তাদের জন্য এ ছাড়া আরো শাস্তি রয়েছে, কিন্ত তাদের অধিকাংশই জানে না।
واصبر لحكم ربك فإنك بأعيننا ۖ وسبح بحمد ربك حين تقوم
ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছ। তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,
ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছ। তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,
অতএব তোমার প্রভুর বিচারের জন্য ধৈর্য ধরে থেকো, বস্তুত তুমি নিশ্চয়ই আমাদের চোখের সামনে রয়েছ। কাজেই তোমার প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করো যখন তুমি উঠে দাঁড়াও,
ومن الليل فسبحه وإدبار النجوم
এবং তাঁহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।
এবং তাঁহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।
আর রাতের বেলায়ও তবে তাঁর জপতপ করো এবং তারাগুলো ঝিমিয়ে যাবার সময়েও।