বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম কা-ফ্ হা-ইয়া-'আই-ন্ ছোয়া-দ্।
কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।
কাফ হা ইয়া আঈন সোয়াদ।
Chapter 19, 98 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম কা-ফ্ হা-ইয়া-'আই-ন্ ছোয়া-দ্।
কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।
কাফ হা ইয়া আঈন সোয়াদ।
যিক্রু রহমাতি রব্বিকা 'আব্দাহূ যাকারিয়্যা-।
এটা তোমার রবের রহমতের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি।
এটা তোমার প্রভুর রহমতের যিকির (বিবরণ), যা তিনি করেছিলেন তাঁর দাস যাকারিয়ার প্রতি।
ইয্ না-দা- রব্বাহূ নিদা-য়ান্ খফিয়্যা-।
যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।
যখন সে ফরিয়াদ করেছিল তার প্রভুর কাছে নীরবে নিভৃতে।
ক্ব-লা রব্বি ইন্নী অহানাল্ 'আজ্মু মিন্নী অশ্তা'আর্লা রাসু শাইবাঁও অলাম্ আকুম্ বিদু'আ-য়িকা রব্বি শাক্বিয়্যা-।
সে বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যবশতঃ আমার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে। হে আমার রব, আপনার নিকট দো‘আ করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি’।
সে বলেছিল: ‘‘আমার প্রভু! আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে, বার্ধক্যে আমার মাথার চুল শুভ্র - সাদা হয়ে গেছে। আমার প্রভু! তোমার কাছে ফরিয়াদ করে আমি কখনো খালি হাতে ফিরিনি।
অইন্নী খিফ্তুল্ মাওয়া-লিয়া মিঁও অর-য়ী অকা-নাতিম্ রায়াতী 'আ-ক্বিরন্ ফাহাব্লী মিল্লাদুন্কা অলিয়্যা-।
‘আর আমার পরে স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে আমি আশংকাবোধ করছি। আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন’।
আমি আমার পরে আমার উত্তরাধিকারী সম্পর্কে আশংকা করছি। এ দিকে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। অতএব, তোমার পক্ষ থেকে তুমি আমাকে এমন একজন উত্তরাধিকারী দান করো,
ইয়ারিছুনী অইয়ারিছু মিন্ আ-লি ইয়া'কুবা-অজ্ব'আল্হু রব্বি রদ্বিয়্যা-।
‘যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব, আপনি তাকে পছন্দনীয় বানিয়ে দিন’।
যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে এবং ইয়াকুবের বংশেরও উত্তরাধিকারিত্ব করবে, আর হে প্রভু! তুমি তাকে বানাবে সন্তোষভাজন।’’
ইয়া-যাকারিয়্যা য় ইন্না-নুবাশ্শিরুকা বিগুলা-মিনিস্মুহূ ইয়াহ্ইয়া-লাম্ নাজ্ব'আল্লাহূ মিন্ ক্বব্লু সামিয়্যা-।
( বললেন) ‘হে যাকারিয়্যা, আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে কাউকে আমি এ নাম দেইনি’।
(তার দোয়া কবুল করে বললেন:) ‘হে যাকারিয়া! আমরা তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহিয়া। আগে আমরা এই নামে কারো নামকরণ করিনি।’
ক্ব-লা রব্বি আন্না-ইয়াকূনুলী গুলামুঁও অ কা-নাতিম্ রায়াতী 'আ-ক্বিরঁও অক্বদ্ বালাগ্তু মিনাল্ কিবারি ইতিয়্যা-।
সে বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি’।
সে বললো: ‘প্রভু! কেমন করে হবে আমার পুত্র, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’
ক্ব-লা কাযা-লিকা ক্বা-লা রাব্বুকা হুঅ 'আলাইয়্যা হাইয়্যিনুঁও অ ক্বদ্ খলাক্ব ্তুকা মিন্ ক্বব্লু অলাম্ তাকু শাইয়্যা-।
সে (ফেরেশতা) বলল, ‘এভাবেই’। তোমার রব বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না’।
তিনি (দূতের মাধ্যমে) বললেন: তুমি ঠিকই বলেছো। তবে তোমার প্রভু বলছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে একেবারেই সহজ। ইতোপূর্বে তো আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি, অথচ তোমার কোনো অস্তিত্বই ছিলনা।’
ক্ব -লা রব্বিজ্ব 'আল্ লী য় আ-ইয়াহ্ ক্ব -লা আ-ইয়াতুকা আল্লা-তুকাল্লিমান্না-সা ছালা-ছা লাইয়া-লিন্ সাওয়্যিা-।
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার জন্য একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন’। তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিন রাত কারো সাথে কথা বলবে না’।
সে বললো: ‘প্রভু! (এর জন্যে) আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হলো: ‘তুমি শারীরিক সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন দিন কারো সাথে কোনো কথা বলবেনা।’
ফাখরজ্বা 'আলা-ক্বওমিহী মিনাল্ মিহ্রা-বি ফাআওহা য় ইলাইহিম্ আন্ সাব্বিহূ বুক্রাতাঁও অ'আশিয়্যা-।
অতঃপর সে মিহরাব হতে বেরিয়ে তার লোকদের সামনে আসল এবং ইশারায় তাদেরকে বলল যে, ‘তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ কর’।
অত:পর সে মেহরাব (কক্ষ) থেকে বের হয়ে তার কওমের কাছে এলো এবং ইশারা করে তাদের বললো: ‘তোমরা সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তসবিহ্ করো।’
ইয়া-ইয়াহ্ইয়া-খুযিল্ কিতা-বা বিকুওয়্যাহ্ অ আ-তাইনা-হুল্ হুক্মা ছোয়াবিয়্যা-।
‘হে ইয়াহইয়া, তুমি কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর’। আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা* দান করেছি। * এখানে ‘হুকম’ বলতে হিকমাত বা প্রজ্ঞা বুঝানো হয়েছে। কারো মতে, তা হল ইলম ও আমল। কেউ বলেছেন, নবুওয়াত বা আকল। ইমাম শওকানী বলেন, উল্লেখিত প্রতিটি বিষয় ‘হুকম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হ
(বলা হলো:) ‘হে ইয়াহিয়া! এই (তাওরাত) কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।’ আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা,
অহানা-নাম্ মিল্লাদুন্না- অযাকা-হ্ অকা-না তাক্বিয়্যা-।
আর আমার পক্ষ থেকে তাকে স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি এবং সে ছিল।
আর আমরা তাকে দিয়েছিলাম আমাদের পক্ষ থেকে কোমলতা - নম্রতা আর পবিত্রতা এবং সে ছিলো তাকওয়ার অধিকারী।
অর্বারম্ বিওয়া-লিদাইহি অলাম্ ইয়াকুন্ জ্বাব্বা-রন্ 'আছিয়্যা-।
আর সে ছিল তার পিতা-মাতার সাথে সদাচারী, আর ছিল না অহংকারী, অবাধ্য।
সে ছিলো পিতা - মাতার প্রতি অনুগত। সে উদ্ধতও ছিলনা, অবাধ্যও ছিলনা।
অসালা-মুন্ 'আলাইহি ইয়াওমা উলিদা অইয়াওমা ইয়ামূতু অইয়াওমা ইয়ুব্'আছু হাইয়্যা-।
আর তার উপর শান্তি, যেদিন সে জন্মেছে এবং যেদিন সে মারা যাবে আর যেদিন তাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।
তার প্রতি সালাম যেদিন তার জন্ম হয়েছিল, যেদিন তার মৃত্যু হবে এবং যেদিন সে পুনরুত্থিত হবে।
অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি র্মাইয়া-ম্' ইযিন্ তাবাযাত্ মিন্ আহ্লিহা-মাকা-নান্ র্শাক্বিয়্যা-।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে মারইয়ামকে যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের কোন এক স্থানে চলে গেল।
এই কিতাবের বর্ণনা অনুসারে মরিয়মের কথা যিকির (আলোচনা) করো। সে যখন তার পরিবার পরিজন থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিলো,
ফাত্তাখযাত্ মিন্ দূনিহিম্ হিজ্বা-বান্ ফার্আসাল্না য় ইলাইহা-রূহানা-ফাতামাছ্ছালা লাহা-বাশারন্ সাওয়িয়্যা-।
আর সে তাদের নিকট থেকে (নিজকে) আড়াল করল। তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল।
এবং তাদের থেকে সে হিজাব (আড়াল) গ্রহণ করলো, তখন আমরা তার কাছে পাঠালাম আমাদের রূহকে (জিবরিলকে)। সে এসে তার কাছে পূর্ণ মানব আকৃতিতে নিজেকে প্রকাশ করলো।
ক্ব-লাত্ ইন্নী য় আ'ঊযু র্বিরহ্মা-নি মিন্কা ইন্ কুন্তা তাক্বিয়্যা-।
মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি হও’।
সে (মরিয়ম) বললো: ‘আমি তোমার থেকে - রহমানের আশ্রয় চাচ্ছি যদি তুমি হয়ে থাকো।’
ক্ব-লা ইন্নামা য় আনা রাসূলু রব্বিকি লিআহাবা লাকি গুলা-মান্ যাকিয়্যা-।
সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি’।
সে বললো: ‘(তোমার ভয়ের কোনো কারণ নেই) আমি তোমার প্রভুর রসূল (বার্তা বাহক), তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করার (সংবাদ দেয়ার) জন্যে এসেছি।’
ক্ব-লাত্ আন্না- ইয়াকূনুলী গুলা-মুঁও অলাম্ ইয়াম্সাস্নী বাশারুঁও অলাম্ আকু বাগিয়্যা-।
মারইয়াম বলল, ‘কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই’।
সে বললো: ‘কী করে পুত্র হবে আমার, আমাকে তো কখনো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?
ক্ব-লা কাযা-লিকি ক্ব-লা রব্বুকি হুঅ 'আলাইয়্যা হাইয়্যিনুন্ অলিনাজ্ব'আলাহূ য় আ-ইয়াতাল্লিন্না-সি অরহ্মাতাম্ মিন্না-অকা-না আম্রম্ মাক্ব্দ্বিয়্যা-।
সে বলল, ‘এভাবেই। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়’।
সে বললো: ‘তুমি ঠিকই বলেছো।’ তবে তোমার প্রভু বলেছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে খুবই সহজ এবং তাকে আমরা এ জন্যে সৃষ্টি করবো যেনো সে হয় মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন, আর সে হবে আমাদের পক্ষ থেকে একটি রহমত, আর এ বিষয়টির ফায়সালা হয়েই আছে।’
ফাহামালাত্হু ফান্তাবাযাত্ বিহী মাকা-নান্ ক্বছিয়্যা।
তারপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে চলে গেল।
তখন সে তাকে গর্ভ ধারণ করে। পরে তাকে গর্ভে নিয়ে সে একটি দূরবর্তী স্থানে চলে যায়।
ফাআজ্বা-য়া হাল্ মাখ-দ্বু ইলা-জ্বিয্ইন্নাখ্ লাতি ক্ব-লাত্ ইয়া-লাইতানী মিত্তু ক্বব্লা হা-যা-অকুন্তু নাস্ইয়াম্ মান্সিয়্যা-।
অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কান্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম’!
প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের নীচে নিয়ে আসে। এ সময় (অপবাদের ভয়ে) সে বলে: ‘হায়, এর আগেই যদি আমার মৃত্যু হতো এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যেতাম!’
ফানা-দা হা- মিন্ তাহ্তিহা য় আল্লা-তাহ্যানী ক্বদ্ জ্বা'আলা রব্বুকি তাহ্তাকি সারিয়্যা-।
তখন তার নিচ থেকে সে তাকে ডেকে বলল যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন’।
তখন সে তাকে নীচ থেকে ডেকে বললো: ‘‘দুঃখ করোনা, তোমার নীচে দিয়ে তোমার প্রভু একটি নহর সৃষ্টি করে দিয়েছেন।
অহুয্যী য় ইলাইকি বিজ্বিয্ ইন্নাখ্লাতি তুসা-ক্বিত্ব 'আলাইকি রুত্বোয়াবান্ জ্বানিয়্যা-।
‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে’।
আর তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কান্ড নাড়া দাও, সেটি তোমার জন্যে তাজা পাকা খেজুর ফেলবে।
ফাকুলী অশ্রবী অর্ক্বরী 'আইনান্ ফাইম্মা-তারয়িন্না মিনাল্ বাশারি আহাদান্ ফাকু লী য় ইন্নী নার্যাতু র্লিরাহ্মা-নি ছোয়াওমান্ ফালান্ উকাল্লিমাল্ ইয়াওমা ইন্সিয়্যা-।
‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’।
তা খাও আর পান করো এবং তোমার চক্ষু শীতল করো। কোনো মানুষ দেখতে পেলে বলবে: ‘আমি আজ রহমানের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার সাওম পালনের মানত করেছি, তাই আজ আমি কারো সাথে কথা বলবোনা।’’
ফাআতাত্ বিহী ক্বওমাহা-তাহ্মিলুহূ ক্ব-লূ ইয়া-র্মাইয়ামু লাক্বদ্ জ্বি'তি শাইয়ান্ ফারিয়্যা-।
তারপর সে তাকে কোলে নিয়ে নিজ কওমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভূত বিষয় নিয়ে এসেছ’!
অত:পর সে (মরিয়ম) তাকে (ছেলেটিকে) কোলে নিয়ে তার কওমের কাছে এলো। তারা বললো: ‘‘হে মরিয়ম। তুমি তো এক মহাকান্ড ঘটিয়ে এসেছো।
ইয়া য় উখ্তা হা-রূনা মা-কা-না আবূ কিম্রায়া সাওয়িঁও অমা-কা-নাত্ উম্মুকি বাগিয়্যা-।
‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’।
হে হারূণের বোন, তোমার পিতা তো কোনো খারাপ লোক ছিলেন না, তোমার মাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।’’
ফাআশা-রত্ ইলাইহি ক্ব-লূ কাইফা নুকাল্লিমু মান্ কা-না ফিল্ মাহ্দি ছোয়াবিয়্যা-।
তখন সে শিশুটির দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘যে কোলের শিশু আমরা কিভাবে তার সাথে কথা বলব’?
মরিয়ম ছেলের প্রতি ইঙ্গিত করে (তাদেরকে ছেলের সাথে কথা বলতে বললো)। তারা বললো: ‘আমরা এতোটুকুন কোলের বাচ্চার সাথে কথা বলবো কিভাবে?’
ক্ব-লা ইন্নী 'আবদুল্লা-হ্ আ-তা-নিয়াল্ কিতা-বা অজ্বা'আলানী নাবিয়্যা-।
শিশুটি বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন’।
সে (কোলের শিশু ঈসা) বললো: ‘‘আমি আল্লাহর দাস, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন,
অ জ্বা'আলানী মুবা-রকান্ আইনা মা-কুন্তু অআওছোয়া-নী বিছ্ছলা-তি অয্যাকা-তি মা-দুম্তু হাইয়্যা-।
‘আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন’।
আমি যেখানেই থাকিনা কেন, তিনি আমাকে কল্যাণময় বানিয়েছেন এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন বেঁচে থাকি, আমি যেনো আদায় করি এবং যাকাত প্রদান করি।
অর্বারম্ বিওয়া-লিদাতী অলাম্ ইয়াজ্ব্'আল্নী জ্বাব্বা-রন্ শাক্বিয়্যা-।
‘আর আমাকে মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে অহঙ্কারী, অবাধ্য করেননি’।
তিনি আমাকে আরো নির্দেশ দিয়েছেন আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে। তিনি আমাকে স্বৈরাচারি এবং হতভাগা বানাননি।
অস্সালা-মু 'আলাইয়্যা ইয়াওমা উলিত্তু অইয়াওমা আমূতু অইয়াওমা উব্'আছূ হাইয়্যা-।
‘আর আমার উপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে’।
আমার প্রতি সালাম, যেদিন আমি জন্ম নিয়েছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে।’’
যা-লিকা 'ঈসাব্নু র্মাইয়ামা ক্বওলাল্ হাক্ব ক্বিল্লাযী ফীহি ইয়াম্তারূন্।
এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।
এ - ই হলো ঈসা ইবনে মরিয়ম। তার বিষয়ে এই হলো সত্য কথা, যা নিয়ে তোমরা সন্দেহ করছো
মা-কা-না লিল্লা-হি আইঁ ইয়াত্তাখিযা মিঁও অলাদিন্ সুব্হা-নাহ্ ইযা- ক্বদ্বোয়া য় আম্রন্ ফাইন্নামা- ইয়াকুলু লাহূ কুন্ ফাইয়াকূন্।
সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র-মহান। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন, ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।
সন্তান গ্রহণ করা তো আল্লাহর কাজ নয়, এ থেকে তিনি মুক্ত পবিত্র। তিনি যখন কোনো বিষয়ের ফায়সালা করেন, তখন বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।
অইন্নাল্লা-হা রব্বী অরব্বুকুম্ ফা'বুদূহ্ হা-যা-ছির-তুম্ মুস্তাক্বীম্।
আর নিশ্চয় আমার রব এবং তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। এটাই সরল পথ।
(ঈসা তাদের আরো বলেছিল:) ‘আল্লাহ্ই আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম - সরল সঠিক পথ।’
ফাখ্ তালাফাল্ আহ্যা-বু মিম্ বাইনিহিম্ ফাওয়াইলুল্ লিল্লাযীনা কাফারূ মিম্ মাশ্হাদি ইয়াওমিন্ 'আজীম্।
এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য।
তারপর বিভিন্ন দল (ঈসার বিষয়ে) মতানৈক্য সৃষ্টি করে। সুতরাং কাফিরদের জন্যে দুর্ভোগ মহাদিবসে উপস্থিতির দিন।
আস্মি' বিহিম্ অআর্ব্ছি ইয়াওমা ইয়াতূনানা- লা-কিনিজ্জোয়া- লিমূনাল্ ইয়াওমা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।
তারা যেদিন আমাদের কাছে উপস্থিত হবে, সেদিন সব কিছুই ঠিকভাবে শুনবে এবং দেখবে। কিন্তু আজ যালিমরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।
ওয়াআর্ন্যিহুম্ ইয়াওমাল্ হাস্রতি ইয্ কুদ্বিয়াল্ আর্ম। অহুম্ ফী গাফ্লাতিঁও অহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।
আর তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, অথচ তারা রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না।
তাদেরকে দুঃখ ও অনুতাপের দিনটি সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, সেদিন সব বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যাবে। অথচ আজ তারা গাফলতির মধ্যে পড়ে আছে এবং ঈমান আনেনা।
ইন্না-নাহ্নু নারিছুল্ র্আদ্বোয়া অ মান্ 'আলাইহা-অইলাইনা-ইর্য়ুজ্বা'ঊন্।
নিশ্চয় আমি যমীন ও এর উপরে যা রয়েছে তার চূড়ান্ত মালিক হব* এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। * চূড়ান্ত ওয়ারিস বলতে বুঝানো হয়েছে চূড়ান্ত মালিক অর্থাৎ সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র আল্লাহই থাকবেন এবং সবকিছু থাকবে তাঁর মালিকানাধীন।
আমরাই মালিক পৃথিবীর এবং পৃথিবীর উপর যারা আছে সবার এবং আমাদের কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইব্রা-হীম্ ইন্নাহূ কা-না ছিদ্দীকা ন্নাবিয়্যা।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইবরাহীমকে। নিশ্চয় সে ছিল পরম সত্যবাদী, নবী।
এই কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী ইবরাহিমের কথা আলোচনা করো। সে ছিলো একজন সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।
ইয্ ক্ব-লা লিআবীহি ইয়া য় আবাতি লিমা তা'বুদু মা-লা-ইয়াস্মা'উঅলা-ইয়ুব্ছিরু অলা-ইয়ুগ্নী 'আন্কা শাইয়া-।
যখন সে তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, তুমি কেন তার ইবাদাত কর যে না শুনতে পায়, না দেখতে পায় এবং না তোমার কোন উপকারে আসতে পারে’?
সে তার পিতাকে বলেছিল: ‘‘বাবা! আপনি কেন এমন জিনিসের ইবাদত করেন যেগুলো দেখেওনা, শুনেওনা এবং আপনার কোনো উপকারেও আসেনা?
ইয়া য় আবাতি ইন্নী ক্বদ্ জ্বা-য়ানী মিনাল্ 'ইল্মি মা-লাম্ ইয়াতিকা ফাত্তাবি'নী য় আহ্দিকা ছিরা-ত্বোয়ান্ সাওয়িয়্যা-।
‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব’।
বাবা! আমার কাছে প্রকৃত জ্ঞান এসেছে, যা আপনার কাছে আসেনি। সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাবো।
ইয়া য় আবাতি লা-তা'বুদিশ্ শাইত্বোয়া-ন্ ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না কা-না র্লিরহ্মা-নি 'আছিয়্যা-।
‘হে আমার পিতা, তুমি শয়তানের ইবাদাত করো না। নিশ্চয় শয়তান হল পরম করুণাময়ের অবাধ্য’।
বাবা! শয়তানের ইবাদত করবেন না। শয়তান তো রহমানের চরম অবাধ্য।
ইয়া য় আবাতি ইন্নী য় আখ-ফু আইঁ ইয়ামাস্ সাকা 'আযা-বুম্ মির্না রহমা-নি ফাতাকূনা লিশ্শাইত্বোয়া-নি অলিয়্যা-।
‘হে আমার পিতা, আমি আশংকা করছি যে, পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে আযাব স্পর্শ করবে, ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’
বাবা! আমি আশংকা করছি, আপনাকে রহমানের আযাব স্পর্শ করবে, তাতে আপনি শয়তানের অলি হয়ে পড়বেন।’’
ক্ব-লা আর-গিবুন্ আন্তা 'আন্ আ-লিহাতী ইয়া য় ইব্রা-হীমু লায়িল্লাম্ তান্তাহি লার্আজুমান্নাকা অহ্জ্বরুনী মালিয়্যা-।
সে বলল, ‘হে ইবরাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে যাও’।* * ইবনে আব্বাসের মতে এ আয়াতের অর্থ হল তুমি আমার কাছ থেকে নিরাপদে সরে যাও। কেউ কেউ এ আয়াতের অর্থে বলেছে
সে (ইবরাহিমের পিতা) বললো: ‘ইবরাহিম! তুমি কি আমার ইলাহ্দের (দেব দেবীদের) থেকে বিমুখ? তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে আমি পাথর মেরে তোমাকে হত্যা করবো। তুমি চিরদিনের জন্যে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাও।’
ক্ব-লা সালা-মুন্ 'আলাইকা সাআস্তাগ্ফিরু লাকা রব্বী ইন্নাহূ কা-না বী হাফিয়্যা-।
ইবরাহীম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল’।
ইবরাহিম বললো: ‘‘আপনার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রভুর কাছে আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহশীল।
অ 'আতাযিলুকুম্ অমা-তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি অআদ্'ঊ রব্বী 'আসা য় আল্লা য় আকূ না বিদু'আ-য়ি রব্বী শাক্বিয়্যা-।
‘আর আমি তোমাদের ও ছাড়া যাদের ইবাদাত তোমরা কর তাদের পরিত্যাগ করছি এবং আমি আমার রবের ইবাদাত করছি। আশা করি আমার রবের ইবাদাত করে আমি ব্যর্থ হব না’।
আমি আপনাদের থেকে এবং আপনারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকেন তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু আমার প্রভুকেই ডাকবো। আমি আশা করি আমার প্রভুকে ডেকে আমি ব্যর্থকাম হবোনা।’’
ফালাম্মা' তাযালাহুম্ অমা-ইয়া'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি অহাব্না লাহূ য় ইস্হা-ক্ব অ ইয়া'কুব্্ অকুল্লান্ জ্বা'আল্না-নাবিয়্যা-।
অতঃপর যখন সে তাদেরকে এবং ছাড়া যাদের তারা ইবাদাত করত তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।
সে যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করতো তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলো, তখন আমি তাকে দান করলাম (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে। আর তাদের প্রত্যেককেই বানিয়েছিলাম নবী।
অওয়াহাব্না-লাহুম্ র্মি রহমাতিনা-অজ্বা'আল্না- লাহুম্ লিসা-না ছিদ্ক্বিন্ 'আলিয়্যা-।
আর আমি তাদেরকে আমার অনুগ্রহ দান করলাম আর তাদের সুনাম সুখ্যাতিকে সমুচ্চ করলাম।
আর আমি তাদের দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং উঁচু করে দিলাম তাদের প্রশংসনীয় যশ - খ্যাতি।
অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি মূসা য় ইন্নাহূ কা-না মুখ্লাছোঁয়াও অকা-না রাসূলান্ নাবিয়্যা-।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসাকে। অবশ্যই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী।
এই কিতাবে মূসার কথা আলোচনা করো। সে ছিলো বিশেষভাবে মনোনীত এবং ছিলো একজন রসূল নবী।
অনা-দাইনা-হু মিন্ জ্বা-নিবিত্বত্ব ূরিল্ আইমানি অর্ক্বারব্না-হু নাজ্বিয়্যা-।
আমি তাকে তূর পর্বতের ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং অন্তরঙ্গ আলাপের উদ্দেশ্যে তাকে আমার নিকটবর্তী করেছিলাম।
আমরা তাকে ডেকেছিলাম তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পাশ থেকে এবং নিভৃত আলোচনায় আমরা তাকে দিয়েছিলাম নৈকট্য।
অ ওয়াহাব্না-লাহূ র্মি রহ্মাতিনা য় আখা-হু হা-রূনা নাবিয়্যা-।
আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তার জন্য তার ভাই হারূনকে নবীরূপে দান করলাম।
আমাদের অনুগ্রহে আমরা তাকে (সাহায্যকারী) দিয়েছিলাম তার ভাই হারূণকে নবী হিসেবে।
অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইস্মা'ঈলা ইন্নাহূ কা-না ছোয়া-দিক্বল্ অ'দি অ কা-না রাসূলান্নাবিয়্যা-।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইসমাঈলকে। সে ছিল সত্যিকারের ওয়াদা পালনকারী এবং সে ছিল রাসূল, নবী।
এই কিতাবে স্মরণ করো ইসমাঈলের কথা। সে ছিলো প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যনিষ্ঠ এবং ছিলো একজন রসূল নবী।
অকা-না ইয়ামুরু আহ্লাহূ বিছ্ছলা-তি অয্যাকা-তি অকা-না 'ইন্দা রব্বিহী র্মাদ্বিয়্যা-।
আর সে তার পরিবার-পরিজনকে ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার রবের সন্তোষপ্রাপ্ত।
সে তার পরিবার - পরিজনকে নির্দেশ দিতো কায়েম এবং যাকাত প্রদানের আর সে তার প্রভুর কাছে ছিলো সন্তোষভাজন।
অর্য্কু ফিল্ কিতা-বি ইদ্রীসা ইন্নাহূ কা-না ছিদ্দীক্বান্ নাবিয়্যা-।
আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইদরীসকে। সে ছিল পরম সত্যনিষ্ঠ নবী।
এই কিতাবে আলোচনা করো ইদরিসের কথা। সে ছিলো সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।
অ রফা'না-হু মাকা-নান্ 'আলিয়্যা-।
আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।
আমরা তাকে উঠিয়ে ছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।
উলা-য়িকাল্লাযীনা আন্'আমাল্লা-হু 'আলাইহিম্ মিনান্নাবিয়্যীনা মিন্ র্যুরিয়্যাতি আ-দামা অ মিম্মান্ হামাল্না- মা'আ নূহিঁও অমিন্ র্যুরিয়্যাতি ইব্রা-হীমা অইস্র-ঈলা-অ মিম্মান্ হাদাইনা- অজ্বতাবাইনা- ইযা-তুত্লা- 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-র্তু রহ্মা-নি র্খরূ সুজ্জাদাঁও অবুকিয়্যা-।
এরাই সে সব নবী, আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হ
এরা হলো সেইসব লোক, যাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেছেন আদমের বংশধর নবীদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা আরোহন করিয়েছিলাম নূহের সাথে। এছাড়া ইবরাহিম ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা হিদায়াত করেছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম। তাদের প্রতি যখন রহমানের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো তারা কাঁদতে কাঁদতে সাজদায় লুটিয়ে পড়তো। (সাজাদা)
ফাখলাফা মিম্ বা'দিহিম্ খল্ফুন্ আদ্বোয়া-উছ্ ছলা-তা অত্তাবা'উশ্ শাহাওয়া-তিফাসাওফা ইয়াল্ক্বওনা গইয়্যা-।
তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।
তাদের পরে আসলো এমন একটি উত্তর প্রজন্ম যারা বিনষ্ট করে দেয় এবং অনুগামী হয় কামনা - লালসার। তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে।
ইল্লা- মান্ তা-বা অ আ-মানা অ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফাউলা-য়িকা ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা অলা-ইয়ুজ্লামূনা শাইয়া-।
তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।
তবে যারা তওবা করেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, তাদেরকে দাখিল করা হবে জান্নাতে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো যুলুম।
জ্বান্না-তি 'আদ্নি নিল্লাতী অ'আর্দা রাহ্মানু 'ইবা-দাহূ বিল্গইব্ ইন্নাহূ কা-না অ'দুহূ মাতিয়্যা।
তা চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন গায়েবের সাথে। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদাকৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।
তাদের দেয়া হবে সেই স্থায়ী জান্নাত, যে (জান্নাতের) ওয়াদা দয়াময় রহমান তাঁর দাসদের দিয়েছেন। তাঁর ওয়াদা অবশ্যি বাস্তবায়িত হবে।
লা-ইয়াস্মা'ঊনা ফীহা- লাগ্ওয়ান্ ইল্লা-সালা-মা- অলাহুম্ রিয্ক্ব ুহুম্ ফীহা-বুক্রাতাঁও অ'আশিয়্যা-।
তারা সেখানে ‘শান্তি’ ছাড়া কোন অর্থহীন কথা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে তাদের রিয্ক।
সেখানে ‘সালাম’ ছাড়া কোনো অর্থহীন কথাই তারা শুনবেনা। সেখানে সকাল সন্ধ্যাব্যাপী (অর্থাৎ সর্বক্ষণ) তারা পেতে থাকবে তাদের জীবিকা।
তিল্কাল্ জ্বান্নাতুল্লাতী নূরুছু মিন্ 'ইবা-দিনা- মান্ কা-না তাক্বিয়্যা-।
সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যারা ।
ওটা হলো সেই জান্নাত, আমরা যার ওয়ারিশ বানাবো আমাদের সেইসব দাসকে, যারা অবলম্বন করে তাকওয়া।
অমা-নাতানায্যালু ইল্লা-বিআম্রি রব্বিকা লাহূ মা-বাইনা আইদীনা-অমা-খল্ফানা-অমা-বাইনা যা-লিকা অমা কা-না রব্বুকা নাসিয়্যা-।
(জিবরীল বলল) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে এবং যা রয়েছে এতদোভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর আপনার রব ভুলে যান না।
‘‘আমরা আপনার প্রভুর নির্দেশ ছাড়া নাযিল হইনা। আমাদের সামনে ও পেছনে যা আছে এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে সবই তাঁর। আপনার প্রভু কখনো ভুলেন না।
রব্বুস্ সামা-অ-তি অল্ র্আদ্বি অমা-বাইনাহুমা-ফা'বুদ্হু অছ্ত্বোয়ার্বি লি'ইবা-দাতিহ্ হাল্ তা'লামু লাহূ সামিয়্যা-।
তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা আছে তার রব। সুতরাং তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁরই ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান?
তিনি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু রব (মালিক)। সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে জমে থাকুন। আপনি কি তাঁর সমান গুণাবলি সম্পন্ন কাউকে জানেন?’’
অ ইয়াকু লুল্ ইন্সা-নু আ ইযা-মা-মিত্তু লাসাওফা উখ্রাজু হাইয়্যা-।
আর মানুষ বলে, ‘আমার মৃত্যু হলে আমাকে কি জীবিত অবস্থায় উত্থিত করা হবে?’
মানুষ বলে: ‘আমি যখন মরে যাবো, তখন কি আমি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবো?’
আওয়ালা- ইয়ায্কুরুল্ ইন্সা-নু আন্না-খলাক্ব না-হু মিন্ ক্বব্লু অলাম্ ইয়াকু শাইয়া-।
মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি অথচ সে কিছুই ছিল না?
মানুষ কি স্মরণ করেনা, আমরা তো ইতোপূর্বেও তাকে সৃষ্টি করেছি, যখন সে কিছুই ছিলনা।
ফাওয়া রব্বিকা লানাহ্শুরন্নহুম্ অশ্শাইয়াত্বীনা ছুম্মা লানুহ্দ্বিরন্নাহুম্ হাওলা জ্বাহান্নামা জ্বিছিয়্যা-।
অতএব তোমার রবের কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করব, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে নতজানু অবস্থায় তাদেরকে হাযির করব।
তোমার প্রভুর শপথ! আমরা অবশ্যি তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে হাশর করবো, তারপর নতজানু করে জাহান্নামের চারদিকে হাজির করবোই।
ছুম্মা লানান্যি'আন্না মিন্ কুল্লি শী'আতিন্ আইয়্যুহুম্ আশাদ্দু 'আর্লা রহ্মা-নি 'ই'তয়্যা-।
তারপর প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সর্বাধিক অবাধ্যকে আমি টেনে বের করবই।
তারপর প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে যে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য ছিলো, তাকে খুঁজে বের করবোই।
ছুম্মা লানাহ্নু আ'লামু বিল্লাযীনা হুম্ আওলা বিহা-ছিলিয়্যা-।
উপরন্তু আমি সর্বাধিক ভাল জানি তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে দগ্ধীভূত হবার অধিকতর যোগ্য।
তারপর তাদের মধ্যে জাহান্নামে প্রবেশের কে বেশি উপযুক্ত, তাকে তো আমরা জানিই।
অ ইম্মিন্কুম্ ইল্লা-ওয়া-রিদুহা-কা-না 'আলা-রব্বিকা হাত্মাম্ মাক্ব ্দিয়্যা-।
আর তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে, এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
তোমাদের প্রত্যেককেই তা (জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত) অতিক্রম করতে হবে। এটা তোমার প্রভুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ছুম্মা নুনাজ্জ্বিল্লাযী নাত্তাক্বও অ নাযারুজ্ জোয়া-লিমীনা ফীহা-জ্বিছিয়্যা-।
তারপর আমি এদেরকে মুক্তি দেব যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর যালিমদেরকে আমি সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।
পরে আমরা মুত্তাকিদের নাজাত দেবো এবং যালিমদের সেখানে (জাহান্নামে) নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেবো।
অইযা-তুত্লা-'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা-বাইয়িনা-তিন্ ক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আ-মানূ য় আইয়্যুল্ ফারীক্বইনি খইরুম্ মাক্ব-মাঁও অআহ্সানু নাদিয়্যা-।
আর যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উত্তম?’
যখন তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদের বলে: ‘উভয় দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং মজলিসের দিক থেকে উত্তম?’
আ কাম্ আহ্লাক্না-ক্বব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বনিন্ হুম্ আহ্সানু আছা ছাঁও- অরিইয়া-।
আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্ম ধ্বংস করে দিয়েছি যারা সাজ-সরঞ্জাম ও বাহ্যদৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ছিল!
তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, অথচ তারা ছিলো সম্পদে এবং বাহ্য দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ।
কুল্ মান্ কা-না ফিদ্ব্ দ্বোয়ালা-লাতি ফাল্ ইয়াম্দুদ্ লার্হু রহ্মা-নু মাদ্দা-হাত্তা য় ইযা-রায়াও মা-ইয়ূ'আদূনা ইম্মাল্ 'আযা-বা অ ইম্মাস্ সা-'আহ্ ফাসাইয়া'লামূনা মান্ হুওয়া র্শারুম্ মাকা-নাঁও অআদ্ব'আফু জুন্দা-।
বল, ‘যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দেবেন, যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা আযাব হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।
হে নবী! বলো: যারা গোমরাহিতে আছে, দয়াময় রহমান তাদের অনেক অনেক ঢিল দিয়ে রাখেন, এমনকি তাদের যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা আসা পর্যন্ত, চাই তা শাস্তি হোক, কিংবা কিয়ামত। তখনই তারা জানতে পারবে কার মর্যাদা নিকৃষ্ট, আর কার দলবল অতিশয় দুর্বল?
অইয়াযীদুল্লা-হু ল্লাযী নাহ্তাদাও হুদা- অল্বা-ক্বিয়া-তুছ্ ছোয়া-লি হা-তু খইরুন্ 'ইন্দা রব্বিকা ছাওয়া-বাঁও অ খাইরুম্ মারাদ্দা-।
আর যারা সঠিক পথে চলে তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং পরিণতি হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।
আর যারা হিদায়াতের পথে চলে, তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন। আর স্থায়ী পুণ্যের কাজই তোমার প্রভুর সওয়াব (পুরস্কার) লাভের জন্যে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।
আফারয়াইতাল্ লাযী কাফার বিআ-ইয়া-তিনা-অক্ব-লা লাঊতাইয়ান্না মা-লাঁও অ অলাদা-।
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ* যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, ‘আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে।’ * উল্লিখিত আয়াত ক’টি ‘আস ইবন ওয়ায়েল সম্পর্কে নাযিল হয়। তাঁর কাছে খাববাব ইবনুল আরাত (রা.)এর কিছু ঋণ পাওনা ছিল। তা চাইতে গেলে সে তা প্রত্য
তুমি কি ঐ ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছো, যে আমাদের আয়াতের প্রতি কুফুরি করেছে এবং সে বলে: ‘অবশ্য অবশ্যি আমাকে অনেক অনেক মাল সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেয়া হবে (যদি আমাকে পুনরুত্থিত করা হয়)।’
আত্ত্বোয়ালা'আল্ গইবা আমিত্তাখযা 'ইর্ন্দা রহ্মা-নি 'আহ্দা-।
সে কি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, না পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?
সে কি অবগত হয়েছে, নাকি সে রহমানের নিকট থেকে অঙ্গীকার লাভ করেছে?
কাল্লা- সানাক্তুবু মা-ইয়াকুলু অনামুদ্দু লাহূ মিনাল্ 'আযা-বি মাদ্দা-।
কখনো নয়, সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার আযাব বাড়াতেই থাকব।
কখনো নয়, সে যা বলে তা তো আমরা লিখেই রাখছি এবং আমরা তার আযাব দীর্ঘ করতেই থাকবো।
অ নারিছুহূ মা-ইয়াকুলু অ ইয়াতীনা-র্ফাদা-।
আর সে যা বলে আমি তার অধিকারী হব এবং আমার কাছে সে একাকী আসবে।
সে যে বিষয়ের কথা বলে তার মালিক তো আমরা। সে আমাদের কাছে আসবে সম্পূর্ণ একাকী।
অত্তাখাযূ মিন্ দূ নিল্লা-হি আ-লিহাতাল্ লিইয়াকূনূ লাহুম্ ই'য্যা-।
আর তারা ছাড়া বহু ‘’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।
সে ছাড়া অন্যদেরকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করে, যাতে করে তারা তাদের জন্যে মর্যাদার কারণ হয়।
কাল্লা- সাইয়াক্ফুরূনা বি'ইবা-দাতিহিম্ অইয়াকূনূনা 'আলাইহিম্ দ্বিদ্দা-।
কখনো নয়, এরা তাদের ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষ হয়ে যাবে।
কখনো নয়, বরং তারা তাদের ইবাদত করেছে বলে অস্বীকার করবে, আর (সেদিন) তারা তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।
আলাম্তার আন্না য় র্আসাল্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা 'আলাল্ কা-ফিরীনা তায়ুয্যুহুম্ আয্যা-।
তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি; ওরা তাদেরকে বিশেষভাবে প্ররোচিত করে?
তুমি কি লক্ষ্য করছোনা, আমরা কাফিরদের কাছে শয়তানদের পাঠিয়ে থাকি তাদেরকে মন্দ কাজে সুড়সুড়ি দেয়ার জন্যে।
ফালা-তা'জ্বাল্ 'আলাইহিম্ ইন্নামা-না'উদ্দু লাহুম্ 'আদ্দা-।
সুতরাং তাদের ব্যাপারে তুমি তাড়াহুড়া করো না; আমি তো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত কাল গণনা করছি,
সুতরাং তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করোনা। আমরা তো তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল (বা সংখ্যা) গুণে রাখছি।
ইয়াওমা নাহ্শুরুল্ মুত্তাক্বীনা ইর্লা রহমা-নি অফ্দা-।
যেদিন পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করব,
যেদিন আমরা দয়াময় রহমানের কাছে মুত্তাকিদের হাশর করবো মেহমান হিসেবে,
অ নাসূ কুল্ মুজ্বরিমীনা ইলা-জ্বাহান্নামা ওর্য়িদা-
আর অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।
আর অপরাধীদের পিপাসার্ত অবস্থায় তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে।
লা-ইয়াম্লিকূনাশ্ শাফা-'আতা ইল্লা-মানিত্তাখযা 'ইর্ন্দা রহমা- নি 'আহ্দা-।
যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না।
সেদিন সুপারিশে কোনো কাজ হবেনা, তবে যে রহমানের নিকট অঙ্গীকার লাভ করেছে, তার কথা আলাদা।
অ ক্ব-লুত্তাখর্যা রহ্মা-নু অলাদা-।
আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
তারা বলে: ‘রহমান সন্তান গ্রহণ করেছেন।’
লাক্বদ্ জ্বিতুম্ শাইয়ান্ ইদ্দা-।
অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ।
তোমরা এক জঘন্য বিষয় (রচনা করে) নিয়ে এসেছো।
তাকা-দুস্ সামা-ওয়া-তু ইয়াতাফাত্ত্বোর্য়ানা মিন্হু অতান্শাক্ব্ক্বুল্ র্আদ্বু অতার্খিরুল্ জ্বিবা-লু হাদ্দা।
এতে আসমানসমূহ ফেটে পড়ার, যমীন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।
এর ফলে মহাকাশ বিদীর্ণ হযে যাবে, পৃথিবী খন্ড বিখন্ড হয়ে পড়বে এবং পাহাড় পর্বত চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পতিত হবে,
আন্ দা'আও র্লিরহ্মা-নি অলাদা-।
কারণ তারা পরম করুণাময়ের সন্তান আছে বলে দাবী করে।
কারণ তারা রহমানের প্রতি সন্তান আরোপ করে।
অমা-ইয়াম্বাগী র্লিরহ্মা-নি আইঁ ইয়াত্তাখিযা অলাদা-।
অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।
সন্তান গ্রহণ করা রহমানের জন্যে শোভনীয় নয়।
ইন্ কুল্লু মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি ইল্লা য় আ-র্তি রহ্মা-নি 'আব্দা-।
আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে বান্দা হিসেবে পরম করুণাময়ের কাছে হাযির হবে না।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে, তারা রহমানের কাছে দাস হিসেবেই উপস্থিত হবে।
লাক্বদ্ আহ্ছোয়া-হুম্ অ 'আদ্দাহুম্ 'আদ্দা-।
তিনি তাদের সংখ্যা জানেন এবং তাদেরকে যথাযথভাবে গণনা করে রেখেছেন।
তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং নিখুঁতভাবে গুণে রাখছেন।
অ কুল্লুহুম্ আ-তীহি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি র্ফাদা-।
আর কিয়ামতের দিন তাদের সকলেই তাঁর কাছে আসবে একাকী।
কিয়ামতের দিন তারা সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হবে একা একা।
ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি সাইয়াজ্ব্'আলু লাহুর্মু রহ্মা-নু উদ্দা-।
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য (বান্দাদের হৃদয়ে) ভালবাসা সৃষ্টি করবেন।
যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, দয়াময় রহমান অচিরেই জনগণের মনে তাদের জন্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।
ফাইন্নামা-ইয়ার্স্সানা-হু বিলিসা-নিকা লিতুবাশ্শির বিহিল্ মুত্তাক্বীনা অতুন্যির বিহী ক্বওমাল্ লুদ্দা।
আর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহপ্রিয় কওমকে তদ্বারা সতর্ক করতে পার।
আমরা তোমার যবানে কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি এ উদ্দেশ্যে যে, তুমি এর মাধ্যমে সচেতন লোকদের সুসংবাদ দেবে এবং বিবাদপ্রিয় লোকদের সতর্ক করবে।
অকাম্ আহ্লাক্না- ক্বব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বন্ হাল্ তুহিস্সু মিন্হুম্ মিন্ আহাদিন আও তাস্মা'উ লাহুম্ রিক্যা-।
আর তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে আমি ধ্বংস করেছি! তুমি কি তাদের কাউকে দেখতে পাও, কিংবা শুনতে পাও তাদের কোন ক্ষীণ আওয়াজ?
তাদের আগে আমরা বহু মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি। তুমি কি তাদের কাউকেও দেখতে পাচ্ছো, কিংবা তাদের কোনো ক্ষীণতম আওয়াযও শুনতে পাচ্ছো?