বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বাদ্ আফ্লাহাল্ মুমিনূন্।
অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে,
সফল হয়েছে মুমিনরা,
Chapter 23, 118 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বাদ্ আফ্লাহাল্ মুমিনূন্।
অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে,
সফল হয়েছে মুমিনরা,
আল্লাযীনা হুম্ ফী ছলা-তিহিম্ খা-শি'ঊন্।
যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত।
যারা তাদের সালাতে হয় বিনীত,
অল্লাযীনা হুম্ 'আনিল্লাগ্ওয়ি মু'রিদ্বূন্।
আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ।
যারা অর্থহীন কথাবার্তা থেকে থাকে বিরত,
অল্লাযীনা হুম্ লিয্যাকা-তি ফা-'ইলূন্।
আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়।
যারা আত্মোন্নয়নে থাকে সক্রিয়,
অল্লাযীনা হুম্ লিফুরূজ্বিহিম্ হা-ফিজূন্।
আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী।
যারা নিজেদের যৌন জীবনকে করে হিফাযত,
ইল্লা 'আলায় আয্ওয়া-জ্বিহিম্ আও মা- মালাকাত্ আইমা-নু হুম্ ফাইন্নাহুম্ গইরু মালূমীন্।
তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে তারা ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না।
নিজেদের স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া, তাতে তারা হবেনা তিরস্কৃত।
ফামানিব্তাগ- অর-য়া যা-লিকা ফাউলা-য়িকা হুমুল্ আ'দূন্।
অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।
কিন্তু যারা এ ছাড়া অন্য কাউকেও কামনা করবে, তারা অবশ্যি গণ্য হবে সীমালঙ্ঘনকারী বলে।
অল্লাযীনা হুম্ লিআমা-না-তি হিম্ অ'আহ্দিহিম্ র-'ঊন্।
আর যারা নিজদের আমানতসমূহ ও অঙ্গীকারে যত্নবান।
আর তারা রক্ষা করে নিজেদের আমানত ও অংগীকার,
অল্লাযীনা হুম্ 'আলা-ছলাওয়া-তিহিম্ ইয়ুহা-ফিজূন্।
আর যারা নিজদের সালাতসমূহ হিফাযত করে।
তাছাড়া তারা যত্নবান থাকে তাদের সালাতের প্রতি,
উলা-য়িকা হুমুল্ ওয়া-রিছূন্।
তারাই হবে ওয়ারিস।
এরাই হবে ওয়ারিশ।
আল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল্ র্ফিদাউস্ হুম্ ফীহা-খ-লিদূন্।
যারা ফিরদাউসের অধিকারী হবে। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।
তারা ওয়ারিশ হবে ফেরদাউসের এবং সেখানেই হবে তারা চিরস্থায়ী।
অলাক্বদ্ খলাক্বনাল্ ইন্সা-না মিন্ সুলা-লাতিম্ মিন্ ত্বীন্।
আর অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি।
আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে,
ছুম্মা জ্বা'আল্না- হু নুত্ব্ ফাতান্ ফী ক্বর-রিম্ মাকীন্।
তারপর আমি তাকে শুক্ররূপে সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি।
তারপর তাকে আমরা নোতফা (শুক্রবিন্দু) হিসেবে স্থাপন করি এক নিরাপদ দুর্গে।
ছুম্মা খলাক্বনান্ নুত্বফাতা 'আলাক্বতান্ ফাখলাক্বনাল্ 'আলাক্বতা মুদ্ব্গতান্ ফাখলাক্বনাল্ মুদ্ব্গতা 'ইজোয়া- মান্ ফাকাসাওনাল্ 'ইজোয়া-মা লাহ্মান্ ছুম্মা আন্শানা-হু খল্ক্বন্ আ-র্খ ফাতাবা-রকাল্লা-হু আহ্সানুল্ খ-লিক্বীন্।
তারপর শুক্রকে আমি ‘আলাকায় পরিণত করি। তারপর ‘আলাকাকে গোশতপিন্ডে পরিণত করি। তারপর গোশতপিন্ডকে হাড়ে পরিণত করি। তারপর হাড়কে গোশ্ত দিয়ে আবৃত করি। অতঃপর তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুলি। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা কত বরকতময়!
তারপর আমরা নোতফাকে রূপান্তরিত করি আলাকা - তে (শক্তভাবে আঁটকে থাকা জিনিসে), তারপর আলাকা - কে রূপান্তরিত করি মুদগায় (পিন্ডতে), তারপর মুদগাকে রূপান্তরিত করি হাড় - অস্থিতে, তারপর হাড় - অস্থিকে ঢেকে দেই গোশ্ত দিয়ে, তারপর আমরা তাকে বানিয়ে নিই অন্য এক সৃষ্টি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা কতো যে বরকতওয়ালা!
ছুম্মা ইন্নাকুম্ বা'দা যা-লিকা লামাইয়্যিতূন্।
এরপর অবশ্যই তোমরা মরবে।
এরপর অবশ্যি তোমাদের মৃত্যু হবে।
ছুম্মা ইন্নাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি তুব্'আছূ ন্।
তারপর কিয়ামতের দিন অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে।
তারপর তোমরা পুনরুত্থিত হবে কিয়ামতের দিন।
অ লাক্বদ্ খলাক্বনা-ফাওক্বকুম্ সাব্'আ ত্বোয়া-রইকা-অমা-কুন্না- 'আনিল্ খল্ক্বি গফিলীন্।
আর অবশ্যই আমি তোমাদের উপর সাতটি স্তর সৃষ্টি করেছি। আর আমি সৃষ্টি সম্পর্কে উদাসীন ছিলাম না।
আমরা তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সাতটি স্তর (আকাশ), সৃষ্টি সম্পর্কে আমরা গাফিল নই।
অ আন্যালনা- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়াম্ বিক্বদারিন্ ফাআস্কান্না-হু ফিল্ র্আদ্বি অইন্না-আলা যাহা- বিম্ বিহী লাক্ব-দিরূন্।
আর আমি আকাশ থেকে পরিমিতভাবে পানি বর্ষণ করেছি। অতঃপর আমি তা যমীনে সংরক্ষণ করেছি। আর অবশ্যই আমি সেটাকে অপসারণ করতেও সক্ষম।
আর আমরা নাযিল করেছি আসমান থেকে পানি পরিমাণ মাফিক। সেই পানিকে আমরা সংরক্ষণ করেছি মাটিতে। আবার সে পানি আমরা নিয়ে যেতেও সক্ষম।
ফাআন্শানা লাকুম্ বিহী জ্বান্না-তিম্ মিন্ নাখীলিওঁ অ আ'নাব্। লাকুম্ ফীহা-ফাওয়া-কিহু কাছীরাতুওঁ অমিন্হা-তাকুলূন্।
তারপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্য খেজুর ও আঙ্গুরের বাগানসমূহ সৃষ্টি করেছি। তাতে তোমাদের জন্য প্রচুর ফল থাকে। আর তা থেকেই তোমরা খাও।
অত:পর সেই পানি দিয়ে আমরা তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান, তাতে তোমাদের জন্যে হয় প্রচুর ফলন। তা থেকেই তোমরা খাও।
অ শাজ্বারাতান্ তাখ্রুজু মিন্ তুরি সাইনা-য়া তাম্বুতু বিদ্দুহ্নি অ ছিব্গিল্লিল্ আ-কিলীন্।
আর এক বৃক্ষ যা সিনাই পাহাড় হতে উদগত হয়, যা আহারকারীদের জন্য তেল ও তরকারী উৎপন্ন করে।
আমরা এক ধরনের গাছ সৃষ্টি করেছি, তা জন্মায় সিনাই পর্বতে। তাতে উৎপন্ন হয় তেল এবং ভোক্তাদের জন্যে ব্যঞ্জন।
অ ইন্না লাকুম্ ফিল্ আন্'আ-মি লা'ইব্রহ্ নুস্ক্বীকুম্ মিম্মা-ফী বুতুনিহা-অলাকুম্ ফীহা-মানা-ফি'উ কাছীরাতুঁও অ মিন্হা- তাকুলূন্।
আর নিশ্চয় গবাদিপশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। তাদের পেটে যা আছে তা থেকে আমি তোমাদেরকে পান করাই। আর এতে তোমাদের জন্য প্রচুর উপকারিতা রয়েছে এবং তা থেকে তোমরা খাও।
তোমাদের জন্যে গবাদি পশুতে রয়েছে শিক্ষার বিষয়। তাদের পেটে যা (যে দুধ) আছে তা থেকে আমরা তোমাদের পান করাই। তা ছাড়া সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক রকম উপকারিতা। আর তোমরা খেয়ে থাকো সেগুলো থেকে (সেগুলোর গোশত)।
অ 'আলাইহা-অ'আলাল্ ফুল্কি তুহ্মালূন্।
আর এসব পশু ও নৌকায় তোমাদেরকে আরোহণ করানো হয়।
সেগুলোতে এবং নৌযানে তোমরা আরোহন করে থাকো।
অ লাক্বদ্ র্আসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বওমিহী ফাক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি' বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ আফালা-তাত্তাকুন্।
আর অবশ্যই আমি নূহকে তার কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর সে বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন নেই। তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
ফাক্বা-লাল্ মালায়ুল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বাওমিহী মা-হাযা য় ইল্লা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ুরীদু আইঁ ইয়াতাফাদ্দোয়ালা 'আলাইকুম্ অলাও শা-য়াল্লা-হু লাআন্যালা মালা-য়িকাতাম্ মা- সামি'না বিহা-যা-ফী য় আ-বা-য়িনাল্ আউয়ালীন্।
তারপর তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়গণ, যারা করেছিল- তারা বলল, ‘এতো তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আর ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। এ কথাতো আমরা আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের সময়েও শুনিনি’।
তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘‘এ তো তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া কিছু নয়। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পেতে চায়। (রসূল পাঠাতে) চাইলে অবশ্যি ফেরেশতা পাঠাতেন। আমাদের আগেকার লোকদের সময় এ রকম ঘটনা ঘটেছে বলে তো আমরা শুনিনি।
ইন্ হুঅ ইল্লা-রাজুলুম্ বিহী জিন্নাতুন্ ফাতারব্বাছূ বিহী হাত্তা-হীন্।
‘সে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর’।
সে আসলে একজন জিনে ধরা লোক। তোমরা এ ব্যাপারে কিছুদিন অপেক্ষা করো।’’
ক্ব-লা রব্বিন্ র্ছুনী বিমা-কায্যাবূন্।
নূহ বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন। কেননা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে’।
তখন সে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, কারণ তারা তো আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ফাআওহাইনা য় ইলাইহি আনিছ্ না'ঈল্ ফুল্কা বি-আ'ইয়ুনিনা-অ ওয়াহ্য়িয়েনা- ফাইযা-জ্বা-য়া আম্রুনা-অফা-রত্তান্ নূরু ফাস্লুক্ ফীহা-মিন্ কুল্লিন্ যাওজ্বাইনিছ্ নাইনি অ আহ্লাকা ইল্লা-মান্ সাবাক্ব 'আলাইহিল্ ক্বওলু মিন্হুম্ অলা-তুখা-ত্বিব্নী ফিল্লাযীনা জোয়ালামূ ইন্নাহুম্ মুগ্রাকুন্।
তারপর আমি তার কাছে ওহী প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার ওহী অনুযায়ী নৌকা তৈরী কর। তারপর যখন আমার আদেশ আসবে এবং চুলা (পানিতে) উথলে উঠবে তখন প্রত্যেক জীবের এক জোড়া ও তোমার পরিবারবর্গকে নৌযানে তুলে নিও; তবে তাদের মধ্যে যাদের ব্যাপারে পূর্বে সিদ্
তখন আমরা তাকে অহি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমাদের তত্ত্বাবধানে আমাদের অহি অনুযায়ী একটি নৌযান তৈরি করো। যখন আমাদের নির্দেশ এসে যাবে এবং চুলা উথলে পানি উঠবে, তখন প্রত্যেক ধরনের জীব জানোয়ার একেক জোড়া উঠিয়ে নিয়ো এবং তোমার পরিবার পরিজনকেও নিয়ো, তাদেরকে ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে। যারা যুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করোনা, কারণ তারা নিমজ্জিত হবেই।
ফাইযাস্ তাওয়াইতা আন্তা অমাম্ মা'আকা 'আলাল্ ফুল্কি ফাকুলিল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী নাজ্জ্বানা-মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
অতঃপর যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আরোহণ করবে তখন বলবে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে যালিম কওম থেকে মুক্তি দিয়েছেন’।
অত:পর তুমি এবং তোমার সাথিরা যখন নৌযানে উঠে আসন গ্রহণ করবে, তখন বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের নাজাত দিয়েছেন যালিম কওম থেকে!’
অক্বর রব্বি আন্যিল্নী মুন্যালাম্ মুবা-রকাঁও অআন্তা খইরুল মুন্যিলীন্।
তুমি আরও বলবে, ‘হে আমার রব, আমাকে বরকতময় অবতরণস্থলে অবতরণ করান। আর আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ অবতরণকারী’।
আরো বলবে: ‘আমার প্রভু! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতরণের স্থানে, তুমিই তো অবতরণের জন্যে সর্বোত্তম স্থানদানকারী।’
ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-ইয়া-তিঁও অইন্ কুন্না-। লামুব্তালীন্।
নিশ্চয় এর মধ্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর নিশ্চয় আমি পরীক্ষাকারী ছিলাম।
এর মধ্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন। আমরা তো কেবল তাদের পরীক্ষা করেছিলাম।
ছুম্মা আন্শানা-মিম্ বা'দিহিম র্ক্বনান্ আ-খরীন্।
তারপর তাদের পরে আমি অন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি।
তাদের পর আমরা অন্য একটি প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছিলাম।
ফার্আসাল্না-ফীহিম্ রাসূ লাম্ মিন্হুম্ আনি' বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ আফালা- তাত্তাকুন্।
অতঃপর তাদের মধ্যে তাদেরই একজনকে আমি রাসূলরূপে প্রেরণ করেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন (সত্য) নেই। তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না।
আমরা তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম একজন রসূল। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
অক্ব-লাল্ মালায়ূ মিন্ ক্বওমিহিল্ লাযীনা কাফারূ অ কায্যাবূ বিলিক্ব-য়িল্ আ-খিরতি অ আত্রফ্না-হুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তি দ্দুন্ইয়া-মা-হা-যা য় ইল্লা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়াকুলু মিম্মা-তাকুলূনা মিন্হু অইয়াশ্রাবু মিম্মা-তাশ্রাবূন্।
আর তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ যারা করেছে, আখেরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে এবং আমি দুনিয়ার জীবনে যাদের ভোগ বিলাসিতা দিয়েছিলাম, তারা বলল, ‘সে কেবল তোমাদের মত একজন মানুষ, সে তাই খায় যা থেকে তোমরা খাও এবং সে তাই পান করে যা থেকে তোমরা পান কর
তখন তার কওমের সেইসব প্রধানরা বলেছিল যারা আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমরা দিয়েছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগের সামগ্রী: ‘‘এতো তোমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। সে তো তাই খায়, তোমরা যা খাও এবং তাই পান করে, তোমরা যা পান করো।
অলায়িন্ আত্বোয়া'তুম্ বাশারম্ মিছ্লাকুম্ ইন্নাকুম্ ইযা ল্লাখা-সিরূন্।
‘আর যদি তোমরা তোমাদের মতই একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে’।
তোমরা যদি তোমাদের মতো মানুষের আনুগত্য করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আ ইয়া'ঈদুকুম্ আন্নাকুম্ ইযা- মিত্তুম্ অকুন্তুম্ তুর-বাঁও অঈ'জোয়া-মান্ আন্নাকুম্ মুখ্রজ্বুন্।
‘সে কি তোমাদের ওয়াদা দেয় যে, তোমরা যখন মারা যাবে এবং তোমরা মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাবে। তোমাদেরকে অবশ্যই বের করা হবে?’
সে কি তোমাদের এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা যখন মরে যাবে এবং মাটি ও হাড় - অস্থিতে পরিণত হবে তখনো তোমাদের বের করে আনা হবে?
হাইহা-তা হাইহা-তা লিমা-তূ'আদূন্।
অনেক দূর, তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অনেক দূর।
অবসম্ভব, তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব।
ইন্ হিয়া ইল্লা-হাইয়া-তুনাদ্ দুন্ইয়া-নামূতু অ নাহ্ইয়া-অমা-নাহ্নু বিমাব্'ঊছীন্।
‘এ শুধু আমাদের দুনিয়ার জীবন। আমরা মরে যাই এবং বেঁচে থাকি। আর আমরা পুনরুত্থিত হবার নই’।
আমাদের দুনিয়ার হায়াতই একমাত্র হায়াত, এখানেই আমরা মরি এবং বাঁচি এবং আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবোনা।
ইন্ হুওয়া ইল্লারাজুলু নিফ্তারা-'আলাল্ল-হি কাযিবাঁও অমা-নাহ্নু লাহূ বিমু'মিনীন্।
‘সে শুধু এক ব্যক্তি যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করেছে; আর আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী নই’।
সে তো এমন একজন ব্যক্তি, যে মিথ্যা রচনা করে নিয়ে আল্লাহর নামে চালায়। আমরা তাকে বিশ্বাস করবোনা।’’
ক্ব-লা রব্বিন্ র্ছুনী বিমা-কায্যাবূন্।
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে সাহায্য করুন, কারণ তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে’।
(তখন) সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, তারা আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ক্ব-লা 'আম্মা -ক্বলীলিল্ লাইয়ুছ্বিহুন্না না-দিমীন্।
বললেন, ‘কিছু সময়ের মধ্যেই তারা নিশ্চিতরূপে অনুতপ্ত হবে’।
() বললেন: ‘অল্প কিছুদিন পরেই তারা অনুতপ্ত হবে।’
ফাআখযাত্ হুমুছ্ ছোয়াইহাতু বিল্হাক্বক্বি ফাজ্বা'আল্না-হুম্ গুছা-য়ান্ ফাবু'দাল্লিল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
অতঃপর যথার্থই তাদেরকে এক বিকট আওয়াজ পেয়ে বসল, তারপর আমি তাদেরকে খড়কুটায় পরিণত করলাম। সুতরাং যালিম কওমের জন্য ধ্বংস।
পরে বাস্তবিকই এক প্রচন্ড শব্দ আঘাত হানে তাদের উপর। ফলে আমরা তাদের বানিয়ে দিলাম তরঙ্গ বিধ্বস্ত আবর্জনার স্তূপের মতো। এভাবেই দূর হয়ে গেলো যালিম কওম।
ছুম্মা আন্শানা-মিম্ বা'দিহিম্ কুরূনান্ আ-খরীন্।
তারপর তাদের পরে আমি অন্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি।
তাদের পরে আমরা সৃষ্টি করেছি আরো অনেক প্রজন্ম।
মা-তাস্বিকু মিন্ উম্মাতিন্ আজ্বালাহা-অমা-ইয়াস্ তাখিরূন্।
কোন জাতি থেকে তার নির্দিষ্ট মেয়াদ এগিয়ে আসে না এবং বিলম্বিতও হয় না।
কোনো উম্মতই তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কে ত্বরান্বিতও করতে পারেনা এবং অতিক্রমও করতে পারেনা।
ছুম্মা র্আসাল্না-রুসুলানা-তাত্র- কুল্লামা- জ্বা-য়া উম্মার্তা রসূলুহা-কায্যাবূহু ফাআত্বা'না-বা'দ্বোয়াহুম্ বা'দ্বোয়াঁও অজ্বা'আল্না-হুম্ আহা-দীছা ফাবু'দাল্ লিক্বাওমিল্লা-ইয়ুমিনূন্।
এরপর আমি আমাদের রাসূলদেরকে ধারাবাহিকভাবে প্রেরণ করেছি, যখনই কোন জাতির কাছে তাদের রাসূল আসত, তখনই তারা তাকে অস্বীকার করত। অতঃপর আমি এদের এককে অপরের অনুসরণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদেরকে কাহিনীতে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক সে কওম যারা ঈমান আনে না।
তারপর আমরা একের পর এক রসূল পাঠিয়েছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তারা তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি একের পর এক এবং তাদের বানিয়ে দিয়েছি ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। ধ্বংস হোক সেইসব লোক যারা ঈমান আনেনা।
ছুম্মা র্আসাল্না-মূসা-অআখ-হু হা-রূনা বিআ-ইয়া-তিনা-অসুল্ত্বোয়া-নিম্ মুবীন্।
তারপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি।
এর পরে পাঠিয়েছি আমরা মূসা এবং তার ভাই হারূণকে আমাদের আয়াত এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,
ইলা-র্ফি'আওনা অমালায়িহী ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বওমান্ 'আ-লীন্।
ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে; কিন্তু তারা অহঙ্কার করল এবং তারা ছিল উদ্ধত কওম।
ফেরাউন এবং তার (জাতির) নেতাদের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করে। আর তারা ছিলো একটি উদ্ধত কওম।
ফাক্ব-লূ য় আনুমিনু লিবাশারইনি মিছ্লিনা-অক্বও মুহুমা-লানা 'আ-বিদূন্।
অতঃপর তারা বলল, আমরা কি আমাদের মতই দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনব অথচ তাদের কওম আমাদের সেবাদাস।
তারা বলেছিল: ‘আমরা কি আমাদের মতোই দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনবো যেখানে তাদের সম্প্রদায় (বনি ইসরাঈল) আমাদেরই দাসত্ব করে?’
ফাকায্ যাবূ হুমা-ফাকা-নূ মিনাল্ মুহ্লাকীন্।
অতএব তারা তাদের উভয়কে মিথ্যাবাদী বলল। ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
তারা তাদের দু’জনকেই প্রত্যাখ্যান করে, ফলে তারা হয়ে গেলো ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-মূসাল্ কিতা-বা লা'আল্লাহুম্ ইয়াহ্তাদূন্।
আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব প্রদান করেছিলাম যাতে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়।
আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে করে তারা সঠিক পথ পায়।
অ জ্বা'আল্নাব্না র্মাইয়ামা অ উম্মাহূ য় আ-ইয়াতাঁও অ আ-অইনা-হুমা য় ইলা-রবওয়াতিন্ যা-তি ক্বর-রিঁও অ মা'ঈন্।
আর আমি মারইয়াম-পুত্র ও তার মাকে নিদর্শন বানালাম এবং তাদেরকে আবাসযোগ্য ও ঝর্নাবিশিষ্ট এক উঁচু ভূমিতে আশ্রয় দিলাম।
আমরা মরিয়মের পুত্র (ঈসা) এবং তার মাকে বানিয়েছিলাম একটি নিদর্শন। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও ঝরণা বিশিষ্ট টিলায়।
ইয়া য় আইয়ুর্হা রুসুলু কুলূ মিনাত্ব ত্বোয়াইয়্যিবা-তি ওয়া'মালূ ছোয়া-লিহা- ইন্নী বিমা-তা'মালূনা 'আলীম্।
‘হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভাল বস্ত্ত থেকে খাও এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর সে সর্ম্পকে আমি সম্যক জ্ঞাত।
হে রসূলরা! তোমরা উত্তম - পবিত্র জিনিস খাও এবং আমলে সালেহ্ করো। তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি জ্ঞাত।
অ ইন্না হা-যিহী য় উম্মাতুকুম্ উম্মাতাঁও ওয়া-হিদাতাঁও অআনা রব্বুকুম্ ফাত্তাকুন্।
তোমাদের এই দীন তো একই দীন। আর আমি তোমাদের রব, অতএব তোমরা আমাকে ভয় কর।
তোমাদের এই উম্মত মূলত একটিই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।
ফাতাক্ব্ত্ত্বোয়াঊ'য় আম্রহুম্ বাইনাহুম্ যুবুর- কুল্লু হিয্বিম্ বিমা-লাদাইহিম্ ফারিহূন্।
তারপর লোকেরা তাদের মাঝে তাদের দীনকে বহুভাগে বিভক্ত করেছে। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে উৎফুল্ল।
কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, প্রত্যেক উপদলই তাদের কাছে যা আছে, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট।
ফার্যাহুম্ ফী গম্রতিহিম্ হাত্তা- হীন্।
সুতরাং কিছু সময়ের জন্য তাদেরকে স্বীয় বিভ্রান্তিতে থাকতে দাও।
সুতরাং কিছুকালের জন্যে তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকতে দাও।
আইয়াহ্সাবূনা আন্নামা-নুমিদ্দুহুম্ বিহী মিম্ মা-লিওঁ অবানীন্।
তারা কি মনে করছে যে, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি থেকে যা আমি তাদেরকে দেই।
তারা কি মনে করে যে, আমরা তাদের যে ধনমাল ও সন্তান সন্ততি দিয়ে সাহায্য করছি,
নুসা-রিউ' লাহুম্ ফিল্ খইর-ত্ বাল্ লা-ইয়াশ্'ঊরূন্।
(তা দ্বারা) আমি তাদের কল্যাণে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি; বরং তারা উপলদ্ধি করতে পারছে না।
তা দিয়ে তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝেনা।
ইন্নাল্লাযীনা হুম্ মিন্ খশ্ইয়াতি রব্বিহিম্ মুশ্ফিকুন্।
নিশ্চয় যারা তাদের রবের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত,
নিশ্চয়ই যারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে তাদের প্রভুর ভয়ে,
অল্লাযীনা হুম্ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ ইয়ুমিনূন্।
আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহে ঈমান আনে।
যারা ঈমান রাখে তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি,
অল্লাযীনা হুম্ বিরব্বিহিম্ লা- ইয়ুশ্রিকূন্।
আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না,
যারা শিরক করেনা তাদের প্রভুর সাথে,
অল্লাযীনা ইয়ুতূনা মা য় আ-তাও অকুলূবুহুম্ অজ্বিলাতুন্ আন্নাহুম্ ইলা-রব্বিহিম্ রা-জ্বি'ঊন্।
আর যারা যা দান করে তা ভীত-কম্পিত হৃদয়ে করে থাকে এজন্য যে, তারা তাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তনশীল।
এবং তাদেরকে যা দান করা হয়েছে, তাদের প্রভুর কাছে ফিরে আসতে হবে এই বিশ্বাসে তা থেকে দান করে ভীত কম্পিত মনে,
উলা-য়িকা ইয়ুসা-রি'ঊনা ফীল্ খইর-তি অহুম্ লাহা-সা-বিকুন্।
তারাই কল্যাণসমূহের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এবং তাতে তারা অগ্রগামী।
এরাই তৎপর কল্যাণকর কাজে এবং এরাই তাতে অগ্রগামী।
অলা-নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্'আহা-অ লাদাইনা-কিতা-বুঁই ইয়ান্ত্বিকু বিল্হাক্বক্বি অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
আর আমি কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোন দায়িত্ব দেই না। আমার নিকট আছে এমন কিতাব যা সত্য কথা বলে এবং তারা অত্যাচারিত হবে না।
আমরা কোনো ব্যক্তির উপরই তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্বের বোঝা চাপাইনা। আমাদের কাছে রয়েছে একটি কিতাব যা সত্য বলে দেয়। আর তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
বাল্ কুলূবুহুম্ ফী গম্রতিম্ মিন্ হা-যা-অলাহুম্ আ'মালুম্ মিন্ দূনি যা-লিকা হুম্ লাহা-'আ-মিলূন্।
বরং তাদের অন্তরসমূহ এ বিষয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছে। এছাড়া তাদের আরও আনেক আমল রয়েছে, যা তারা করছে।
বরং এ বিষয়ে তাদের কলবগুলো হয়ে রয়েছে অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন। এ ছাড়া তাদের আরো অনেক (মন্দ) কাজ আছে, সেগুলো তারা করে থাকে,
হাত্তা য় ইযায় আখয্না-মুত্রফীহিম্ বিল্'আযা-বি ইযা-হুম্ ইয়াজ্ব ্য়ারূন্।
অবশেষে যখন আমি তাদের ভোগবিলাসপূর্ণ জীবনধারীদের আযাব দ্বারা পাকড়াও করব, তখন তারা সজোরে আর্তনাদ করে উঠবে।
যতোদিন না আমরা তাদের বিলাসী প্রতিপত্তিশালীদেরকে আযাবের আঘাতে পাকড়াও করি। যখন তা করি তখন তারা আর্তনাদ করতে থাকে।
লা- তাজ্ব য়ারুল্ ইয়াওমা ইন্নাকুম্ মিন্না-লা-তুন্ছোয়ারূন্।
আজ তোমরা সজোরে আর্তনাদ করো না। নিশ্চয় তোমরা আমার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।
(কিয়ামতের দিন তাদের বলা হবে:) আজ আর্তনাদ করোনা। তোমরা কিছুতেই আজ আমাদের সাহায্য পাবেনা।
ক্বদ্ কা-নাত্ আ-ইয়া-তী তুত্লা-'আলাইকুম্ ফাকুন্তুম্ 'আলা য় আ'ক্ব-বিকুম্ তান্কিছূন্।
আমার আয়াতসমূহ তোমাদের সামনে অবশ্যই তিলাওয়াত করা হত, তারপর তোমরা তোমাদের পেছন ফিরে চলে যেতে,
তোমাদের কাছে তো আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো, তখন তোমরা পেছনে ফিরে কেটে পড়তে,
মুস্তাক্বিরীনা বিহী সা-মিরান্ তাহ্জুরূন্।
এর উপর অহঙ্কারবশে, রাত জেগে অর্থহীন গল্প-গুজব করতে।
দাম্ভিকের মতো - এ সম্পর্কে রাত্রে নিরর্থক কল্পকথা বলতে বলতে।
আফালাম্ ইয়াদ্দাব্বারুল্ ক্বওলা আম্ জ্বা-য়াহুম্ মা-লাম্ ইয়াতি আ-বা-য়াহুমুল্ আউওয়ালীন্।
তারা কি এ বাণী সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে না? নাকি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের কাছে আসেনি?
তারা কি এ বাণী অনুধাবন করার চেষ্টা করেনা, না কি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
আম্ লাম্ ইয়া'রিফূ রসূলাহুম্ ফাহুম্ লাহূ মুন্কিরূন্।
নাকি তারা তাদের রাসূলকে চিনতে পারেনি, ফলে তারা তাকে অস্বীকার করছে?
না কি তারা তাদের রসূলকে চিনতে পারেনা বলে তাকে অস্বীকার করে?
আম্ ইয়াকুলূনা বিহী জ্বিন্নাহ্ বাল্ জ্বা-য়া হুম্ বিল্হাকুকি অআক্ছারুহুম্ লিল্হাক্বক্বি কা-রিহূন্।
নাকি তারা বলছে যে, তার মধ্যে কোন পাগলামী রয়েছে? না, বরং সে তাদের কাছে সত্য নিয়েই এসেছিল। আর তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দকারী।
না কি তারা বলে: ‘সে তো একজন জিনে ধরা লোক?’ না, বরং সে তাদের কাছে ‘হক’ (মহাসত্য) নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দ করে।
অলা ওয়িত্তাবা'আল্ হাককু আহ্ওয়া-য়াহুম্ লাফাসাদাতিস্ সামাওয়া-তু অল্ র্আদু অমান্ ফীহিন্ বাল্ আতাইনা-হুম্ বিযিক্রি হিম্ ফাহুম্ 'আন্ যিক্রি হিম্ মু'রিদ্বুন্।
আর যদি সত্য তাদের কামনা-বাসনার অনুগামী হত, তবে আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যস্থিত সব কিছু বিপর্যস্ত হয়ে যেত; বরং আমি তাদেরকে দিয়েছি তাদের উপদেশবাণী (কুরআন)। অথচ তারা তাদের উপদেশ হতে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো, তাহলে মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সর্বত্র ফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যেতো। বরং আমরা তাদের কাছে পাঠিয়েছি তাদের উপদেশ, আর তারা তাদের উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
আম্ তাস্য়ালুহুম্ র্খাজ্বান্ ফাখর-জু রব্বিকা খাইরুঁও অ হুঅ খাইর্রু র-যিক্বীন্।
নাকি তুমি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তবে তোমার রবের প্রতিদান সর্বোত্তম। আর তিনিই সর্বোত্তম রিয্কদাতা।
তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছো? তোমার প্রভুর প্রতিদানই তোমার জন্যে উত্তম। তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
অ ইন্নাকা লাতাদ্'ঊহুম্ ইলা-সির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
আর নিশ্চয় তুমি তাদের সরল-সঠিক পথের দাওয়াত দিচ্ছ।
তুমি তো তাদের আহবান করছো সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে।
অ ইন্নাল্ লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্আ-খিরতি 'আনিছ্ ছির-ত্বি লানাকিবূন্।
আর নিশ্চয় যারা আখেরাতের প্রতি ঈমান আনে না, তারাই এই পথ থেকে বিচ্যুত।
যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা তারা সেই সিরাত (পথ) থেকে বিচ্যুত।
অলাও রহিম্না-হুম্ অ কাশাফ্না-মা-বিহিম্ মিন্ দ্বররিল্লালাজ্জু ফী তুগইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।
আর যদি আমি তাদের দয়া করতাম এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্ত করতাম, তবুও তারা অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াত।
আমরা যদি তাদের প্রতি রহমত করতাম এবং তাদের দুঃখ দুর্দশাও দূর করে দিতাম, তবু তারা তাদের অবাধ্যতা নিয়েই বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতো।
অলাক্বদ্ আখয্না-হুম্ বিল্'আযা-বি ফামাস্ তাকা-নূ লিববিহিম্ অমা-ইয়াতাদ্বোর্য়ারা'ঊ।
আর অবশ্যই আমি তাদেরকে আযাব দ্বারা পাকড়াও করলাম, তবুও তারা তাদের রবের কাছে নত হয়নি এবং বিনীত প্রার্থনাও করে না।
আমরা তাদের আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছি, কিন্তু তখনো তারা তাদের প্রভুর প্রতি বিনত হয়নি এবং বিনয়ের সাথে ফরিয়াদও করেনি তাঁর কাছে।
হাত্তা য় ইযা- ফাতাহ্না-'আলাইহিম্ বা-বান্ যা-'আযা-বিন্ শাদীদিন্ ইযা-হুম্ ফীহি মুব্লিসূন্।
অবশেষে আমি যখন তাদের জন্য কঠিন আযাবের দুয়ার খুলে দেই তখনই তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
অবশেষে যখন আমরা তাদের জন্যে কঠিন আযাবের দুয়ার খুলে দেই, তখন তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে থাকে।
অ হুওয়াল্লাযী আন্শায়ালাকুমুস্ সাম'আ অল্ আব্ছোয়া-রা অল্ আফ্য়িদাহ্ ক্বলীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।
আর তিনিই তোমাদের জন্য কান, চোখসমূহ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন; তোমরা কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
তিনিই তো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন কান, চোখ এবং হৃদয়। কিন্তু তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করো।
অ হুওয়াল্লাযী যারায়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি অ ইলাইহি তুহ্শারূন্।
আর তিনিই পৃথিবীতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে তাঁরই কাছে একত্র করা হবে।
তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের বংশ বিস্তার করে দিয়েছেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদের হাশর (সমবেত) করা হবে।
অহুওয়াল্লাযী ইয়ুহয়ী অইয়ুমীতু অলাহুখ্তিলা-ফুল্ লাইলি অন্নাহার্- আফালা-তা'ক্বিলূন্।
আর তিনিই জীবন দেন ও মৃত্যু দেন এবং রাত ও দিনের পরিবর্তন তাঁরই অধিকারে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
তিনিই তো হায়াত দান করেন এবং মউত ঘটান। রাত এবং দিনের আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বে। তবু কি তোমরা আকল খাটাবেনা?
বাল্ ক্ব-লূ মিছ্লা মা-ক্ব-লাল্ আউওয়ালূন্।
বরং তারা তাই বলে যেমনটি পূর্ববর্তীরা বলত।
বরং তারা সে রকমই বলে, যে রকম বলেছে তাদের আগেকার লোকেরা।
ক্ব-লূ-আইযা-মিত্না-অকুন্না-তুর-বাঁও অ 'ইজোয়া-মান্ আইন্না-লামাব্'ঊছূন্।
তারা বলে, যখন আমরা মরে যাব এবং আমরা মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
তারা বলে: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনর্জীবিত করা হবে?
লাক্বদ্ উ'ইদ্না-নাহ্নু অ আ-বা-য়ুনা-হা-যা-মিন্ ক্বব্লু ইন্ হা-যা য় ইল্লা য় আসা-ত্বীরুল্ আউওয়ালীন্।
অবশ্যই আমাদেরকে ও ইতঃপূর্বে আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এই ওয়াদা দেয়া হয়েছিল। এসব কেবল পুরান কালের উপাখ্যান ছাড়া আর কিছু না।
আমাদেরকে তো এর ওয়াদা দেয়া হয়েছে এবং এর আগে দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। আসলে এতো সেকালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
কুল্ লিমানিল্ র্আদু অমান্ ফীহা য় ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
বল, ‘তোমরা যদি জান তবে বল, ‘এ যমীন ও এতে যারা আছে তারা কার?’
হে নবী! তাদের জিজ্ঞাসা করো! পৃথিবী এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলো কার, যদি তোমরা জানো, তবে বলো?
সাইয়াকুলূ না লিল্লা-হ্ কুল্ আফালা-তাযাক্কারূন্।
অচিরেই তারা বলবে, ‘আল্লাহর’। বল, ‘তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?’
অবশ্যি তারা বলবে: ‘আল্লাহর।’ বলো: ‘তবে কেন শিক্ষা গ্রহণ করোনা?’
কুল্ র্মা রব্বুস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব্'ঈ অ রব্বুল্ 'র্আশিল্ 'আজ্বীম্।
বল, ‘কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব’?
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘সাত আকাশ এবং আরশে আযিমের রব কে?’
সাইয়াকুলূনা লিল্লা-হ্ কুল্ আফালা তাত্তাকুন্।
তারা বলবে, ‘।’ বল, ‘তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না?’
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘ ।’ বলো: ‘তবে কেন তোমরা সতর্ক হওনা?’
কুল্ মাম্ বিইয়াদিহী মালাকূতু কুল্লি শাইয়িঁও অহুঅ ইয়ুজ্বীরু অলা-ইয়ুজ্বা-রু 'আলাইহি ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
বল, ‘তিনি কে যার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর কোন আশ্রয়দাতা নেই?’ যদি তোমরা জান।
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: কার মুষ্টিবদ্ধ রয়েছে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি সবাইকে আশ্রয় দেন এবং যাঁর উপর কোনো আশ্রয়দাতা নেই? যদি তোমরা জানো, বলো।
সাইয়াকুলূনা লিল্লা-হ্ কুল্ ফাআন্না-তুস্হারূন্।
তারা বলবে, ‘।’ বল, ‘তবুও কীভাবে তোমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ?’
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘।’ বলো: ‘তবে কোন্ দিকে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছো?’
বাল্ আতাইনা-হুম্ বিল্হাক্বক্বি অইন্নাহুম্ লাকা-যিবূন্।
বরং আমি তাদের কাছে সত্য পৌঁছিয়েছি, আর নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
বরং আমরা তাদের কাছে সত্য পৌঁছে দিয়েছি, কিন্তু তারা অবশ্য অবশ্যি মিথ্যাবাদী।
মাত্ তাখযাল্লা-হু মিওঁ অলাদিঁও অমা-কা-না মা'আহূ মিন্ ইলা-হিন্ ইযাল্লা যাহাবা কুল্লু ইলা-হিম্ বিমা-খলাক্ব অ লা'আলা-বা'দুহুম্ 'আলা-বা'দ্ব্ সুব্হা-না ল্লা-হি 'আম্মা-ইয়াছিফূন্।
কোন সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহও নেই। (যদি থাকত) তবে প্রত্যেক নিজের সৃষ্টিকে নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত; তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে কত পবিত্র!
কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সাথে আর কোনো ইলাহ্ও নেই। যদি থাকতোই, তবে তো প্রত্যেক ইলাহ্ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেতো এবং তারা একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তারে উঠে পড়ে লাগতো। তারা যা আরোপ করে, তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহান।
'আলিমিল্ গইবি অশ্শাহা-দাতি ফাতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।
তিনি ও উপস্থিতের জ্ঞানী, তারা যা শরীক করে তিনি তার ঊর্ধ্বে।
তিনি গায়েবের জ্ঞানী এবং দৃশ্যেরও। তারা তাঁর সাথে যা শরিক করে তিনি তা থেকে অনেক উপরে।
ক্বর রব্বি ইম্মা-তুরিয়ান্নী মা-ইয়ূ'আদূ ন্।
বল, ‘হে আমার রব, যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হচ্ছে তা যদি আমাকে দেখাতে চান,
(হে নবী!) বলো: ‘‘আমার প্রভু! যে (আযাবের) বিষয়ে তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা যদি তুমি আমার জীবদ্দশায় সংঘটিত করো,
রব্বি ফালা-তাজ্ব্'আল্নী ফিল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
‘হে আমার রব, তাহলে আমাকে যালিম সম্প্রদায়ভুক্ত করবেন না।’
তবে, হে প্রভু! আমাকে যালিম লোকদের অন্তরভুক্ত করোনা।’’
অইন্না-'আলা য় আন্ নুরিয়াকা মা -না'ঈদুহুম্ লাক্ব-দিরূন্।
আর যে বিষয়ে আমি তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছি, অবশ্যই আমি তা তোমাকে দেখাতে সক্ষম।
আমরা তাদের যে বিষয়ের ওয়াদা দিচ্ছি, তা (তোমার জীবদ্দশায়ই) তোমাকে দেখাতে অবশ্যি আমরা সক্ষম।
ইদ্ফা বিল্লাতী হিয়া আহ্সানুস্ সাইয়িয়াহ্ নাহ্নু আ'লামু বিমা-ইয়াছিফূন্।
যা উত্তম তা দিয়ে মন্দ প্রতিহত কর; তারা যা বলে আমি তা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী।
মন্দের মুকাবেলায় তাই করো যা সর্বোত্তম। তারা যা আরোপ করে সে বিষয়ে আমরা অধিক জানি।
অক্বর রব্বি আ'ঊযুবিকা মিন্ হামাযা -তিশ্ শাইয়া-ত্বীন্।
আর বল, ‘হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই’।
হে নবী! বলো: ‘‘আমার প্রভু! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে।
অ আ'ঊ যুবিকা রব্বি আইঁ ইয়াহ্দ্বুরূন্।
আর হে আমার রব, আমার কাছে তাদের উপস্থিতি হতে আপনার কাছে পানাহ চাই।’
আমি তোমার কাছে আরো পানাহ্ চাই আমার কাছে তাদের (শয়তানদের) হাজির হওয়া থেকে।’’
হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়া আহাদাহুমুল্ মাওতু ক্ব-লা রর্ব্বি জ্বি'ঊন্।
অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে, সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে ফেরত পাঠান,
যখন তাদের কারো মউতের সময় এসে পড়ে, তখন সে বলে: ‘‘প্রভু! আমাকে পুনরায় (পৃথিবীতে) পাঠাও।
লা'আল্লী য় আ'মালু ছোয়া-লিহান্ ফীমা-তারাক্তু কাল্লা-ইন্নাহা-কালিমাতুন্
যেন আমি সৎকাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম।’ কখনো নয়, এটি একটি বাক্য যা সে বলবে। যেদিন তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন পর্যন্ত তাদের সামনে থাকবে বরযখ।
যাতে আমি ভালো কাজ করতে পারি, যা আমি আগে করিনি।’’ কখনো নয়, এতো কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনেই আছে বরযখ পুনরুত্থান কাল পর্যন্ত।
ফাইযা-নুফিখ ফিছ্ ছূরি ফালা য় আন্সা-বা বাইনাহুম্ ইয়াওমায়িযিঁও অলা-ইয়াতাসা-য়ালূন্।
অতঃপর যেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে সেদিন তাদের মাঝে কোন আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না, কেউ কারো বিষয়ে জানতে চাইবে না।
যখন ফুঁ দেয়া হবে শিঙ্গায়, সেদিন তাদের মাঝে আর কোনো বংশীয় বন্ধন থাকবেনা এবং কেউ কারো কথা জিজ্ঞাসাও করবেনা।
ফামান্ ছাকুলাত্ মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
অতঃপর যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে ।
তখন ভারি হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারাই হবে সাফল্য অর্জনকারী।
অমান্ খফ্ফাত্ মাওয়াযীনুহূ ফাউলা-য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ ফী জ্বাহান্নামা খ-লিদূন্।
আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজদের ক্ষতি করল; জাহান্নামে তারা হবে স্থায়ী।
এবং হালকা হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারা হলো সেইসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে, চিরকাল থাকবে তারা জাহান্নামে।
তাল্ফাখু উজ্বূ হাহুমুন্না-রু অহুম্ ফীহা-কা-লিহূন।
আগুন তাদের চেহারা দগ্ধ করবে, সেখানে তারা হবে বীভৎস চেহারাবিশিষ্ট।
আগুন দগ্ধ করতে থাকবে তাদের চেহারা এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা নিয়ে।
আলাম্ তাকুন আ-ইয়া-তী তুত্লা- 'আলাইকুম ফাকুন্তুম্ তুকায্যিবূন্।
‘আমার আয়াতসমূহ কি তোমাদের কাছে পাঠ করা হত না?’ তারপর তোমরা তা অস্বীকার করতে’।
(তাদের বলা হবে:) ‘তোমাদের কাছে কি আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতোনা? এবং তোমরা সেটাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতে না?’
ক্ব-লূ রব্বানা-গলাবাত্ 'আলাইনা শিক্বওয়াতুনা-অকুন্না- ক্বওমান্ দ্বোয়া-য়ালীন্।
তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, দুর্ভাগ্য আমাদেরকে পেয়ে বসেছিল, আর আমরা ছিলাম পথভ্রষ্ট’।
তারা বলবে: ‘‘আমাদের প্রভু! আমাদের বদ নসিব আমাদের উপর বিজয়ী হয়েছে আর মূলতই আমরা ছিলাম একটি বিপথগামী কওম।
রব্বানা য় আখ্রিজ্ব না-মিন্হা-ফাইন্ 'উদ্না- ফাইন্না-জোয়া-লিমূন্।
‘হে আমাদের রব, এ থেকে আমাদেরকে বের করে দিন, তারপর যদি আমরা আবার তা করি তবে অবশ্যই আমরা হব যালিম।’
আমাদের প্রভু! এখন আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দাও। এরপরও যদি আমরা কুফুরিতে ফিরে যাই, তবে অবশ্যি আমরা যালিম হিসেবেই গণ্য হবো।’’
ক্ব-লাখ্ সায়ূ ফীহা-অলা-তুকাল্লিমূন্।
বলবেন, ‘তোমরা ধিকৃত অবস্থায় এখানেই থাক, আর আমার সাথে কথা বলো না।’
তিনি বলবেন: ‘তোমরা এখানেই নিকৃষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকো এবং আমার সাথে তোমরা আর কথা বলোনা।’
ইন্নাহূ কা-না ফারীকুম্ মিন্ ই'বা-দী ইয়াকুলূনা রব্বানা য় আ-মান্না- ফার্গ্ফিলানা-র্অহাম্না-অআন্তা খইর্রু র-হিমীন্।
আমার বান্দাদের একদল ছিল যারা বলত, ‘হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদেরকে ক্ষমা ও দয়া করুন, আর আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
আমার একদল বান্দা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, তাই তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের প্রতি রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’
ফাত্তাখয্তুমূহুম্ সিখ্রিয়্যান্ হাত্তা য় আন্সাওকুম্ যিক্রী অকুন্তুম্ মিন্হুম্ তাদ্ব্হাকূন্।
‘তারপর তাদেরকে নিয়ে তোমরা ঠাট্টা করতে। অবশেষে তা তোমাদেরকে আমার স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছিল। আর তোমরা তাদের নিয়ে হাসি-তামাশা করতে।’
কিন্তু তোমরা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করতে আর সেই বিদ্রুপ তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদের নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করছিলে।
ইন্নী জ্বাযাইতুহুমুল্ ইয়াওমা বিমা-ছবারূ য় আন্নাহুম্ হুমুল্ ফা-য়িযূন্।
নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদেরকে পুরস্কৃত করলাম; নিশ্চয় তারাই হল ।
তাদের সবর অবলম্বনের কারণে আমি তাদের এমন জেযা (প্রতিদান) দিয়েছি যে, আজ তারাই ।
ক্ব-লা কাম্ লাবিছ্তুম্ ফীল্ র্আদ্বি 'আদাদা সিনীন্।
বলবেন, ‘বছরের হিসাবে তোমরা যমীনে কত সময় অবস্থান করেছিলে?’
তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তোমরা পৃথিবীতে কয় বছর অবস্থান করেছিলে?’
ক্ব-লূ লাবিছ্না- ইয়াওমান্ আও বা'দ্বোয়া ইয়াওমিন্ ফাস্য়ালিল্ 'আ-দ্দীন্।
তারা বলবে, ‘আমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি; সুতরাং আপনি গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞাসা করুন।’
তারা বলবে: ‘আমরা সেখানে অবস্থান করেছিলাম একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ। গণনাকারীদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন।’
ক্ব-লা ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা-ক্বলীলা ল্লাওঁ আন্নাকুম্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
তিনি বলবেন, ‘তোমরা কেবল অল্পকালই অবস্থান করেছিলে, তোমরা যদি নিশ্চিত জানতে!’
তিনি বলবেন: তোমরা অল্পকালই সেখানে অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে!
আফাহাসিব্তুম্ আন্নামা-খলাক্বনা-কুম্ 'আবাছাঁও অআন্নাকুম্ ইলাইনা-লা-র্তুজ্বা'ঊন্।
‘তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে না’?
তোমরা কি ধরে নিয়েছিলে যে, আমরা বিনা কারণেই তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম? আর তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবেনা ?
ফাতা'আ-লাল্লা-হুল্ মালিকুল্ হাককুলা য় ইলা-হা ইল্লা-হু অ রব্বুল্ 'আরশিল্ ক্বরীম্।
সুতরাং সত্যিকারের মালিক মহিমান্বিত, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই; তিনি সম্মানিত ‘আরশের রব।
অতীব মহান প্রকৃত সম্রাট, কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সম্মানিত আরশের তিনি মালিক।
অ মাইঁ ইয়াদ্'উ মা'আল্লা-হি ইলা-হান্ আ-খর লা-র্বুহা-না লাহূ বিহী ফাইন্নামা-হিসা-বু-হূ 'ইন্দা রব্বিহ্' ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ কা-ফিরূন্।
আর যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহকে ডাকে, যে বিষয়ে তার কাছে প্রমাণ নেই; তার হিসাব কেবল তার রবের কাছে। নিশ্চয় কাফিররা হবে না।
যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ্ ডাকে, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো সত্যায়নপত্র নেই। তার হিসাব হবে তার প্রভুর কাছে। কাফিররা কখনো সফলতা অর্জন করেনা।
অক্বর রব্বিগ্ র্ফি র্অহাম্ অআন্তা খইর্রু র-হিমীন্।
আর বল, ‘হে আমাদের রব, আপনি ক্ষমা করুন, দয়া করুন এবং আপনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
হে নবী! তুমি বলো: ‘আমার প্রভু!, ক্ষমা করো এবং রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’