বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্ ।
আলিফ-লাম-মীম।
আলিফ লাম মিম।
Chapter 30, 60 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্ ।
আলিফ-লাম-মীম।
আলিফ লাম মিম।
গুলিবার্তি রূম্।
রোমানরা পরাজিত হয়েছে।* * ৩৯৫ খৃস্টাব্দে রোমক সাম্রাজ্য থেকে পৃথক হয়ে বায়যানটাইন নামে যে সাম্রাজ্যটি পরিচিত হয়েছিল, এখানে الرومবলতে তাকে বুঝানো হয়েছে। সিরিয়া ও প্যালেস্টাইন এ সাম্রাজ্যের অধীন ছিল।
রোমানরা পরাজিত হয়েছে
ফী য়আদ্নাল্ র্আদ্বি অহুম্ মিম্ বা'দি গলাবিহিম্ সাইয়াগ্লিবূন্।
নিকটবর্তী অঞ্চলে*, আর তারা তাদের এ পরাজয়ের পর অচিরেই বিজয়ী হবে, * হিজাযের উত্তর পশ্চিম সীমানা সংলগ্ন আযরুয়াত ও বুসরার মধ্যবর্তী স্থান। সম্রাট হিরাক্লিয়াস ও খসরু পারভেজের মধ্যে এখানে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে খসরু পারভেজ বিজয় লাভ করে। ফলে মক্কার পৌত্তলিকরা খুশি হয়
নিকটবর্তী ভূ - খন্ডে, তবে তারা তাদের পরাজয়ের পর অচিরেই আবার বিজয়ী হবে
ফী বিদ্ব্'ই সিনীন্ লিল্লা-হিল্ আম্রু মিন্ ক্বব্লু অমিম্ বা'দ্ অ ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াফ্রহুল্ মু'মিনূন্।
কয়েক বছরের মধ্যেই*। পূর্বের ও পরের সব ফয়সালা আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনরা আনন্দিত হবে, * بضع سنين তিন থেকে দশ বছর। এ আয়াতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় যে, অনধিক নয় বছরের মধ্যে রোমানরা পারসিকদের উপর বিজয় লাভ করবে। ৬২৩-২৪ খৃ এ ভবিষ্যদ্বাণী সত্যে পরিণত হয়। আর সে বছরই
কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই। সব বিষয়ে ফায়সালার এখতিয়ার আল্লাহরই ইতোপূর্বেও এবং পরেও। সেদিন মুমিনরা হবে উৎফুল্ল।
বিনাছ্রিল্লা-হ্ ইয়ান্ছুরু মাইঁ ইয়াশা-য়্ অহুওয়াল্ 'আযীর্যু রহীম্।
আল্লাহর সাহায্যে। তিনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নিজ সাহায্যে যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন। তিনি মহাশক্তিধর, পরম করুণাময়।
অ'দাল্লা-হ্ লা-ইয়ুখ্লিফু ল্লা-হু অ'দাহূ অলা-কিন্না আক্ছারান্না-সি লা-ইয়া'লামূন্।
আল্লাহর ওয়াদা। তাঁর ওয়াদা খেলাফ করেন না। কিন্তু অধিকাংশ লোক জানে না।
এটা আল্লাহর ওয়াদা। খেলাফ করেননা তাঁর ওয়াদা। তবে, অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
ইয়া'লামূনা জ্বোয়া-হিরম্ মিনাল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অহুম্ 'আনিল্ আ-খিরতি হুম্ গ-ফিলূন্।
তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিক সম্পর্কে জানে, আর সম্পর্কে তারা গাফিল।
তারা দুনিয়ার জীবনের বাহ্যিক দিকটাই জানে, আর সম্পর্কে তারা একেবারেই গাফিল - অজ্ঞ।
আঅলাম্ ইয়াতাফাক্কারূ ফী য় আন্ফুসিহিম্ মা-খলাক্বল্লা-হুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া অমা-বাইনা হুমা য় ইল্লা-বিল্ হাক্ব ক্বি অআজ্বালিম্ মুসাম্মা-অইন্না কাছীরাম্ মিনান্না-সি বিলিক্ব-য়ি রব্বিহিম্ লাকা-ফিরূন্।
তারা কি নিজদের অন্তরে ভেবে দেখে না, আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যবর্তী সব কিছুই যথাযথভাবে ও এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সৃষ্টি করেছেন? আর নিশ্চয় বহু লোক তাদের রবের সাক্ষাতে অবিশ্বাসী।
তারা কি নিজেদের মনে মনে ভেবে দেখেনা, মহাকাশ, এই পৃথিবী আর এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে এসবই সৃষ্টি করেছেন সত্য ও বাস্তবতার নিরিখে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে? অনেক মানুষই তাদের প্রভুর সাক্ষাত লাভের বিষয়ে অবিশ্বাসী।
আওয়ালাম্ ইয়াসীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ কা-নূ য় আশাদ্দা মিন্হুম্ কুওয়্যাতাঁও অআছারুল্ র্আদ্বোয়া অ 'আমারূহা য় আক্ছার মিম্মা-'আমারূহা-অজ্বা-য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-ত্ ফামা-কা-নাল্লা-হুলিইয়াজ্ লিমাহুম্ অলা-কিন্ কা-নূ য় আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।
তারা কি যমীনে ভ্রমণ করে না? তাহলে তারা দেখত যে, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। তারা শক্তিতে তাদের চেয়েও প্রবল ছিল। আর তারা জমি চাষ করত এবং তারা এদের আবাদ করার চেয়েও বেশী আবাদ করত। আর তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিল। বস্তুতঃ আ
তারা কি পৃথিবী পরিভ্রমণ করে দেখেনা, তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণতি কী হয়েছিল? শক্তিতে তারা ছিলো এদের চাইতে দুর্ধর্ষ। তারা জমিন চাষ করতো এবং তা আবাদ করতো এদের আবাদ করার চাইতে অধিক রকম। তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে। তাদের প্রতি যুলুমকারী নন, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছে।
ছুম্মা কা-না 'আ-ক্বিবাতাল্লাযীনা আসা-য়ুস্ সূ-য়া য় আন্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অকা-নূ বিহা-ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
তারপর যারা মন্দ কাজ করেছিল তাদের পরিণাম মন্দ হয়েছিল। কারণ তারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করেছিল এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত।
তারপর যারা মন্দ কাজ করেছিল তাদের পরিণাম মন্দই হয়েছিল, কারণ তারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত এবং তারা তা নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছিল।
আল্লা-হু ইয়াব্দায়ুল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ ছুম্মা ইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।
সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনিই তার পুনরাবৃত্তি করবেন। তারপর তাঁর কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
আল্লাহ্ই সূচনা করেন সৃষ্টির, তারপর তিনি পুন:সৃষ্টি করেন, তারপর তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁরই কাছে।
অইয়াওমা তাকুমুস্ সা-'আতু ইয়ুব্লিসুল্ মুজরিমূন্।
আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা হতাশ হয়ে পড়বে।
আর যেদিন কায়েম হবে কিয়ামত, সেদিন হতাশ - হতবাক হয়ে পড়বে অপরাধীরা।
অলাম্ ইয়াকুল্লাহুম্ মিন্ শুরাকা-য়িহিম্ শুফা'আ-য়ু অকা-নূ বিশুরকা-য়িহিম্ কা-ফিরীন্।
আর তাদের শরীকরা তাদের জন্য সুপারিশকারী হবে না এবং তারা তাদের শরীকদেরকে অস্বীকার করবে।
সেদিন তাদের (মনগড়া) দেবদেবীরা তাদের জন্যে সুপারিশকারী হবেনা এবং তারা তাদের দেবদেবীদের সেদিন প্রত্যাখ্যান করবে।
অইয়াওমা তাকুমুস্ সা- 'আতু ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াতার্ফারকুন্।
আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে।
যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন সব মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা- তি ফাহুম্ ফী রাওদ্বোয়াতিঁই ইয়ুহ্বারূন্।
অতএব যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে জান্নাতে পরিতুষ্ট করা হবে।
তবে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তারা থাকবে জান্নাতে আনন্দে উৎফুল্লে।
অআম্মাল্লাযীনা কাফারূ অকায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অ লিক্ব-য়িল্ আ-খিরতি ফাউলা-য়িকা ফীল্ 'আযা-বি মুহ্দ্বোয়ারূন্।
আর যারা করেছে এবং আমার আয়াত ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে আযাবের মধ্যে উপস্থিত করা হবে।
আর যারা কুফুরি করবে এবং প্রত্যাখ্যান করবে আমাদের আয়াত ও আখিরাতের সাক্ষাত, তাদেরই হাজির রাখা হবে আযাবে।
ফাসুব্হা-না ল্লা-হি হীনা তুম্সূনা অহীনা তুছ্বিহূন্।
অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবীহ কর, যখন সন্ধ্যায় উপনীত হবে এবং সকালে উঠবে ।
সুতরাং সকাল ও সন্ধ্যায় তোমরা ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহর তসবিহ্) ঘোষণা করো।
অলাহুল্ হাম্দু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অ'আশিয়্যাঁও অহীনা তুজ্হিরূন্।
আর অপরাহ্নে ও যুহরের সময়ে; আর আসমান ও যমীনে সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই।
সমস্ত প্রশংসা তাঁরই মহাবিশ্বে এবং পৃথিবীতে, আর (সুবহানাল্লাহ ঘোষণা করো) অপরাহ্নে ও যুহরের সময়ও।
ইয়ুখ্রিজুল্ হাইয়্যা মিনাল্ মাইয়্যিতি অ ইয়ুখ্রিজুল্ মাইয়্যিতা মিনাল্ হাইয়্যি অইয়ুহ্য়িল্ র্আদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা-অকাযা-লিকা তুখ্রাজুন্।
তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন এবং জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন। আর তিনি যমীনকে জীবিত করেন তার মৃত্যুর পর। আর এভাবেই তোমরা উত্থিত হবে।
তিনি বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে এবং জীবিত থেকে মৃতকে। মরে শুকিয়ে যাবার পর তিনিই জমিনকে জীবিত করেন, আর এভাবেই তোমাদের বের করে আনা হবে (মাটির নীচে থেকে)।
অ মিন্ আ-ইয়াতিহী য় আন্ খলাক্বকুম্ মিন্ তুরা-বিন্ ছুম্মা ইযা য়আন্তুম্ বাশারুন্ তান্তাশিরূন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমরা মানুষ হয়ে ছড়িয়ে পড়ছ।
তাঁর একটি নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন তারপর এখন তোমরা সেই মানুষই ছড়িয়ে পড়েছো সবখানে।
অ মিন্ আ-ইয়া-তিহী য় আন্ খলাক্ব লাকুম্ মিন্ আন্ফুসিকুম্ আয্ওয়াজ্বাল লিতাসুকুনূ য় ইলাইহা-অজ্বা'আলা বাইনাকুম্ মাওয়াদ্দাতাঁও অরহ্মাহ্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।
তাঁর আরেকটি নিদর্শন হলো, তিনি তোমাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্যে জুড়ি (স্বামী - স্ত্রী), যাতে করে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো। এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মাঝে সৃষ্টি করে দিয়েছেন বন্ধুতা - ভালবাসা এবং দয়া - অনুকম্পা। এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
অ মিন্ আ-ইয়াতিহী খল্ক্ব স্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি অখ্তিলা-ফু আল্সিনাতিকুম্ অ আল্ওয়া-নিকুম্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিল্'আ-লিমীন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমান ও যমীনের সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও তোমাদের বর্ণের ভিন্নতা। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য ।
তাঁর আরেকটি নিদর্শন হলো মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন জ্ঞানী লোকদের জন্যে।
অমিন্ আ-ইয়া-তিহী মানা-মুকুম্ বিল্লাইলি অন্নাহা-রি অব্তিগ-য়ুকুম্ মিন্ ফাদ্ব্লিহ্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিঁ ইয়াস্মা'ঊন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাতে ও দিনে তোমাদের নিদ্রা এবং তাঁর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা শোনে।
তাঁর আরো একটি নিদর্শন হলো রাত এবং দিনের বেলায় তোমাদের ঘুম আর আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে তোমাদের (জীবিকা) অন্বেষণ। এতেও রয়েছে অনেক নিদর্শন মনোযোগী লোকদের জন্য।
অ মিন্ আ-ইয়া-তিহী ইয়ুরীকুমুল্ র্বাক্ব খওফাঁও অত্বোয়ামা'আঁও অ ইয়ুনায্যিলু মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাইয়ুহ্য়ী বিহিল্ র্আদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তি ল্লিক্বওমি ইয়া'ক্বিলূন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তিনি তোমাদেরকে ভয় ও ভরসাস্বরূপ বিদ্যুৎ দেখান, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেন। অতঃপর তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন। নিশ্চয় এর মধ্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা অনুধাবন করে।
তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে, তিনি তোমাদের দেখান বিদ্যুতের চমকানি, তাতে থাকে তোমাদের ভয় এবং আশা, তারপর তিনি নাযিল করেন আসমান থেকে পানি আর তা দিয়ে জীবিত করেন মরা জমিন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন বুঝ - বুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।
অ মিন্ আ-ইয়া-তিহী য় আন্ তাকুমাস্ সামা-য়ু অল্ র্আদ্ব ু বিআম্রিহ্ ছুম্মা ইযা-দা'আ-কুম্ দা'ওয়াতাম্ মিনাল্ র্আদ্বি ইযা য় আন্তুম্ তাখ্রুজুন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে, তাঁরই নির্দেশে আসমান ও যমীন স্থিতিশীল থাকে। তারপর তিনি যখন তোমাদেরকে যমীন থেকে বের হয়ে আসার জন্য একবার আহবান করবেন তখনই তোমরা বের হয়ে আসবে।
তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে আরো রয়েছে, তাঁর নির্দেশেই কায়েম রয়েছে আসমান ও জমিন। তারপর যখন তোমাদের জমিন থেকে উঠে আসার জন্যে ডাক দেবেন একটিমাত্র ডাক, তখন তোমরা সাথে সাথে উঠে আসবে।
অ লাহূ মান্ ফিস্সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ কুল্লুল্লাহূ ক্ব-নিতূন্।
আর আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। সব কিছুই তাঁর অনুগত।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। প্রত্যেকেই তাঁর প্রতি বিনত।
অহুওয়াল লাযী ইয়াব্দায়ুল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ অহুওয়া আহ্ওয়ানু 'আলাইহ্ অলাহুল্ মাছালুল্ আ'লা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অহুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন তারপর তিনিই এর পুনরাবৃত্তি করবেন। আর এটা তো তাঁর জন্য অধিকতর সহজ। আসমান ও যমীনে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাঁরই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
তিনি সেই মহান সত্তা যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন এবং সেটা হবে তাঁর জন্যে একেবারেই সহজ। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা কেবল তাঁর। তিনি মহাশক্তিধর, মহাবিজ্ঞানী।
দ্বোয়ারবা লাকুম্ মাছালাম্ মিন্ আন্ফুসিকুম্ হাল্ লাকুম্ মিম্মা- মালাকাত্ আইমা-নুকুম্ মিন্ শুরাকা-য়া ফী মা-রযাক্ব্ না-কুম্ ফাআন্তুম্ ফীহি সাওয়া-য়ুন্ তাখ-ফূ নাহুম্ কাখীফাতিকুম্ আন্ফুসাকুম্ কাযা-লিকা নুফাছ্ ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিঁ ইয়া'ক্বিলূন্।
তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে একটি উপমা বর্ণনা করেছেন; আমি তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তাতে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীরা কি অংশীদার? ফলে তোমরা কি এ বিষয়ে সমান? তোমরা কি তাদেরকে তেমনভাবে ভয় কর যেমনভাবে ভয় কর তোমাদের পরস্পরকে*? এভাবেই আমি নিদর্শনাবলী
তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের নিজেদের থেকেই একটি দৃষ্টান্ত পেশ করছেন: তোমাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি, তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস - দাসীদের কেউ কি তাতে অংশীদার? এবং তোমরা এই অংশীদারিত্বের ব্যাপারে কি সমান অধিকারী? তোমরা কি তাদেরকে সে রকম ভয় করো যে রকম তোমাদের পরস্পরকে ভয় করো? এভাবেই আমরা আয়াত বর্ণনা করি তফসিলসহ সমুঝদার লোকদের জন্যে।
বালিত্ তাবা'আল্লাযীনা জোয়ালামূ য় আহ্ওয়া-য়াহুম্ বিগইরি 'ইল্মিন্ ফামাইঁ ইয়াহ্দী মান্ অদ্বোয়ায়াল্লাল্লা-হ্ অমা-লাহুম্ মিন্ না-ছিরীন্।
বরং যালিমরা জ্ঞান ছাড়াই তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে। সুতরাং যাকে পথভ্রষ্ট করেন কে তাকে হিদায়াত করবে? আর তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
বরং যালিমরা না জেনে শুনে তাদের খেয়াল খুশিরই অনুগামী হয়ে চলছে। যাকে বিপথগামী করে দেন, কে তাকে সঠিক পথে চালাবে? আর তাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারীই থাকবেনা।
ফাআক্বিম্ অজ্বহাকা লিদ্দীনি হানীফা- ফিত্বরতা ল্লা-হি ল্লাতী ফাত্বোয়ারন্ না-সা 'আলাইহা- লা-তাব্দীলা লিখল্ক্বিল্লা-হ্ যা-লিকাদ্দীনুল্ ক্বাইয়্যিমু অলা-কিন্না আক্ছারন্ না-সি লা ইয়া'লামূন্।
অতএব তুমি একনিষ্ঠ হয়ে দীনের জন্য নিজকে প্রতিষ্ঠিত রাখ। আল্লাহর প্রকৃতি*, যে প্রকৃতির উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। * فطرة স্বভাব, প্রকৃতি। মহান মানুষকে যে সহজাত প
তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের জন্যে কায়েম করো। আল্লাহর ফিতরতের (প্রকৃতির) উপর প্রতিষ্ঠিত হও, যে ফিতরতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টি - প্রকৃতির কোনো পরিবর্তন হয়না। এটাই সঠিক সুষম দীন। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।
মুনীবীনা ইলাইহি অত্তাকুহু অআক্বীমুছ্ ছলা-তা অলা-তাকূনূ মিনাল্ মুশ্রিকীন্।
তাঁর অভিমুখী হয়ে তাঁকে ভয় কর, কায়েম কর, আর মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
বিনীত হৃদয়ে তাঁর অভিমুখী হও এবং তাঁকে ভয় করো, কায়েম করো আর মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
মিনাল্ লাযীনা র্ফারকু দীনাহুম্ অকা-নূ শিয়া'আ- কুল্লু হিয্বিম্ বিমা-লাদাইহিম্ ফারিহূন্।
যারা নিজদের দীনকে বিভক্ত করেছে এবং যারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে (তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না)। প্রত্যেক দলই নিজদের যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।
যারা নিজেদের দীনের মধ্যে বিভিন্ন মত সৃষ্টি করেছে, তারা বিভিন্ন দলে - উপদলে বিভক্ত হয়েছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মত নিয়ে উৎফুল্ল।
অ ইযা-মাস্সান্না-সা র্দুরুন্ দাআঁও রব্বাহুম্ মুনীবীনা ইলাইহি ছুম্মা ইযা য় আযা-ক্বহুম্ মিন্হু রহ্মাতান্ ইযা-ফারীকুম্ মিন্হুম্ বিরব্বিহিম্ ইয়ুশ্রিকূন্।
আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরীক করে;
মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের প্রভুকে ডাকে তাঁর প্রতি বিনীত হয়ে। আবার যখন তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহের কিছু স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের প্রভুর সাথে শিরক করতে থাকে,
লিইয়াক্ফুরূ বিমা য় আ-তাইনা-হুম্ ফাতামাত্তা'ঊ ফাসাওফা তা'লামূন্।
ফলে আমি তাদের যা দিয়েছি তার প্রতি তারা অকৃতজ্ঞ হয়। সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
তাদেরকে আমরা যা দিয়েছি তার প্রতি কুফুরি করার জন্যে। সুতরাং ভোগ বিলাস করে নাও, শীঘ্রি তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)।
আম্ আন্যাল্না 'আলাইহিম্ সুল্ত্বোয়ানান্ ফাহুওয়া ইয়াতাকাল্লামু বিমা-কা-নূ বিহী ইয়ুশ্রিকূন্।
আমি কি তাদের প্রতি এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি, যা তাদের শরীক করতে বলে?
নাকি আমরা তাদের কাছে কোনো সনদ পাঠিয়েছি এবং সেটি আল্লাহর সাথে শিরক করার ব্যাপারে তাদের পক্ষে কথা বলে?
অইযা য় আযাক্ব নান্ না-সা রহ্মাতান্ ফারিহূ বিহা- অইন্ তুছিব্হুম্ সাইয়িয়াতুম্ বিমা-ক্বদ্দামাত্ আইদীহিম্ ইযা-হুম্ ইয়াক্ব্ নাত্ব ন্।
আর আমি যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়। আর যদি তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের উপর অকল্যাণ পৌঁছে তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
যখনই আমরা মানুষকে আমাদের অনুগ্রহের কিছু স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা উৎফুল্ল হয়ে উঠে। আবার তাদেরকে যখন কোনো দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে তাদের কৃতকর্মের কারণে, তখন তারা হয়ে পড়ে নিরাশ।
আওয়ালাম্ ইয়ারও আন্নাল্লা-হা ইয়াব্সুত্বর্ রিয্ক লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অ ইয়াক্বদি ইন্না ফী যা-লিকা লা-আ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিঁ ইয়ুমিনূন্।
তারা কি দেখেনি, নিশ্চয় যার জন্য ইচ্ছা রিয্ক প্রশস্ত করেন এবং সঙ্কুচিত করেন। নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য, যারা ঈমান আনে।
তারা কি দেখেনা, যার জন্যে ইচ্ছা রিযিক প্রশস্ত করে দেন এবং (যাকে ইচ্ছা) সীমিত করে দেন? এতেও বিশ্বাসীদের জন্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন।
ফাআ-তি যাল্ ক্বর্ বা হাক্ব্ ক্বহূ অল্মিস্কীনা অব্নাস্ সাবীল্ যা-লিকা খইরুল্ লিল্ লাযীনা ইয়ুরীদূনা অজ্ব হাল্লা-হি অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
অতএব আত্মীয়-স্বজনকে তাদের হক দিয়ে দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও। এটি উত্তম তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি চায় এবং তারাই ।
অতএব, আত্মীয়দের দিয়ে দাও তাদের হক এবং মিসকিন (অভাবী) আর পথিকদেরকেও। এটাই কল্যাণকর সেইসব লোকদের জন্যে যারা এরাদা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের, আর তারাই হবে সফলতা অর্জনকারী।
অমা য় আ-তাইতুম্ র্মি রিবাল্লিইর্য়াবুওয়া ফী য় আম্ওয়া-লিন্না-সি ফালা-ইর্য়াবূ 'ইন্দাল্লা-হি অমা য় আ-তাইতুম্ মিন্ যাকা-তিন্ তুরীদূনা অজহাল্লা-হি ফাউলা য় য়িকা হুমুল্ মুদ্ব্'ইফূন্।
আর তোমরা যে সূদ দিয়ে থাক, মানুষের সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য তা মূলতঃ আল্লাহর কাছে বৃদ্ধি পায় না। আর তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে (তাই বৃদ্ধি পায়) এবং তারাই বহুগুণ সম্পদ প্রাপ্ত।
মানুষের অর্থ - সম্পদে বৃদ্ধি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তোমরা যে সূদ দিয়ে থাকো, আল্লাহর দৃষ্টিতে তা অর্থ - সম্পদ বৃদ্ধি করেনা। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দিয়ে থাকো, তাই বৃদ্ধি পায় এবং তারাই বৃদ্ধিকারী।
আল্লা-হুল্ লাযী খলাক্বকুম্ ছুম্মা রযাক্বকুম্ ছুম্মা ইয়ুমীতুকুম্ ছুম্মা ইয়ুহ্য়ীকুম্ হাল্ মিন্ শুরাকা-য়িকুম্ মাইঁ ইয়াফ্'আলু মিন্ যা-লিকুম্ মিন্ শাইয়িন্ সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা- 'আম্মা- ইয়ুশ্রিকূন্।
সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদেরকে রিয্ক দিয়েছেন। এরপর তিনি তোমাদের মৃত্যু দেবেন, পরে আবার তোমাদের জীবন দেবেন। তোমাদের শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এ থেকে কোন কিছু করতে পারবে? তিনি পবিত্র এবং তারা যাদের শরীক করে তা থেকে তিন
, তিনিই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, তারপর তোমাদের রিযিক দিয়েছেন, তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর তোমাদের পুনরায় জীবিত করবেন। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিকদার বানিয়েছো, তাদের কেউ কি এসবের কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানায়, তা থেকে পবিত্র, মহান।
জোয়াহারাল্ ফাসাদু ফিল্ র্বারি অল্বাহ্রি বিমা-কাসাবাত্ আইদিন্না-সি লিইয়ুযীক্বহুম্ বা'দ্বোয়াল্লাযী 'আমিলূ লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।
মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।
বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে স্থলে ও সমুদ্রে মানুষের কর্মফলে, এরি মাধ্যমে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি তাদের আস্বাদন করান, যাতে করে তারা ফিরে আসে।
কুল্ সীরূ ফিল্ র্আদ্বি ফান্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্লাযীনা মিন্ ক্বব্ল্ কা-না আক্ছারুহুম্ মুশ্রিকীন্।
বল, ‘তোমরা যমীনে ভ্রমণ কর। অতঃপর দেখ পূর্ববর্তীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল’। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক।
বলো: পৃথিবীতে ভ্রমণ করে দেখো, তোমাদের আগেকার লোকদের কী পরিণতি হয়েছিল? তাদের অধিকাংশই ছিলো মুশরিক।
ফাআক্বিম্ অজ্বহাকা লিদ্দীনিল্ ক্বাইয়্যিমি মিন্ কব্লি আইঁ ইয়াতিয়া ইয়াওমুল্ লা-মারদ্দা-লাহূ মিনাল্লা-হি ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াছ্ ছোয়াদ্দা'ঊন্।
তাই তুমি তোমার নিজকে সরল-সঠিক দীনের উপর কায়েম রাখ, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেদিন আসার পূর্বে, যা ফেরানো যাবে না। সেদিন তারা বিভক্ত হয়ে পড়বে।
তুমি নিজেকে কায়েম করো সঠিক সুষম দীনের উপর সেই দিনটি আসার আগেই, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দিনটির আগমন কেউই রুখতে পারবেনা। সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে।
মান্ কাফার ফা'আলাইহি কুফ্রুহূ অমান্ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফালিআন্ফুসিহিম্ ইয়াম্হাদূন্।
যে করে তার কুফরীর পরিণাম তার উপরই। আর যারা সৎকর্ম করে তারা তাদের নিজদের জন্য শয্যা রচনা করে।
যে কুফুরি করে, তারই উপর পড়বে কুফুরির শাস্তি। আর যারা আমলে সালেহ্ করে তারা নিজেদের জন্যেই রচনা করে সুখশয্যা।
লিইয়াজ্ব যিয়াল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি মিন্ ফাদ্ব্লিহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুহিব্বুল্ কা-ফিরীন্।
যেন তিনি স্বীয় অনুগ্রহে প্রতিদান দেন, যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদেরকে। নিশ্চয় তিনি কাফিরদের ভালবাসেন না।
যাতে করে, যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে পুরস্কৃত করেন। নিশ্চয়ই কাফিরদের পছন্দ করেন না।
অমিন্ আ-ইয়া-তিহী য় আইঁ ইর্য়ুসির্লা রিয়া-হা মুবাশ্শির-তিঁও অলিইয়ুযীক্বকুম্ র্মি রহমাতিহী অলিতাজ্ব রিয়াল্ ফুল্কু বিআম্রিহী অলিতাব্তাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিহী অলা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।
আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি বাতাস প্রেরণ করেন [বৃষ্টির] সুসংবাদ বহনকারী হিসেবে এবং যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমত আস্বাদন করাতে পারেন এবং যাতে তাঁর নির্দেশে নৌযানগুলো চলাচল করে, আর যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ থেকে কিছু সন্ধান করতে পার। আর যাতে তোমর
তাঁর নিদর্শনাবলির একটি হলো, তোমাদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্যে এবং তোমাদেরকে তাঁর রহমত থেকে আস্বাদন করানোর জন্যে তিনি বাতাস পাঠান, এছাড়া তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী যেনো নৌযানগুলো চলাচল করে এবং তোমরা যেনো শোকর আদায় করতে পারো।
অলাক্বদ্ র্আসাল্না-মিন্ ক্বব্লিকা রুসুলান্ ইলা- ক্বওমিহিম্ ফাজ্বা-য়ুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফান্তাক্বম্না-মিনাল্লাযীনা আজরমূ অকা-না হাক্ব্ ক্বান্ 'আলাইনা- নাছ্রুল্ মুমিনীন্।
আর অবশ্যই আমি তোমার পূর্বে রাসূলগণকে তাদের কওমের নিকট পাঠিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল। অতঃপর যারা অপরাধ করেছিল আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করলাম। আর মুমিনদেরকে সাহায্য করা তো আমার কর্তব্য।
তোমার আগে আমরা বহু রসূল পাঠিয়েছি তাদের নিজ নিজ কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি নিয়ে এসেছিল। তারপর আমরা অপরাধীদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিলাম। আর মুমিনদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব।
আল্লা-হুল্লাযী ইর্য়ুসির্লু রিয়া-হা ফাতুছীরু সাহা-বান্ ফাইয়াব্সুত্ব হূ ফিস্ সামা-য়ি কাইফা ইয়াশা-য়ু অইয়াজ্ব 'আলুহূ কিসাফান্ ফাতারল্ অদ্ক্ব ইয়াখ্রুজু মিন্ খিলা-লিহী ফাইযা য় আছোয়া-বা বিহী মাইঁ ইয়াশা-য়ু মিন্ 'ইবাদিহী য় ইযা-হুম্ ইয়াস্তাব্শিরূন্।
, যিনি বাতাস প্রেরণ করেন ফলে তা মেঘমালাকে ধাওয়া করে; অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেমন ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে খন্ড- বিখন্ড করে দেন, ফলে তুমি দেখতে পাও, তার মধ্য থেকে নির্গত হয় বারিধারা। অতঃপর যখন তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের উপর ইচ্ছা বারি বর্ষণ
আল্লাহ্ই বাতাস পাঠান, তা মেঘমালাকে উড়িয়ে নিয়ে চলে, তারপর তিনি এগুলোকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন। পরে এগুলো খন্ড খন্ড করেন এবং তুমি দেখতে পাও সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসে বারিধারা, তখন তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাদের ইচ্ছে তা পৌঁছে দেন, তখন তারা হয়ে উঠে চরম আনন্দিত।
অইন্ কা-নূ মিন্ ক্বব্লি আইঁ ইয়ুনায্যালা 'আলাইহিম্ মিন্ ক্বব্লিহী লামুব্লিসীন্।
যদিও এর আগে তাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণের পূর্বে তারা ছিল নিরাশ।
যদিও ইতোপূর্বে বৃষ্টি নাযিলের আগে তারা ছিলো হতাশ।
ফার্ন্জু ইলা য় আ-ছা-রি রহ্মাতিল্লা-হি কাইফা ইয়ুহ্য়িল্ র্আদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা- ইন্না যা-লিকা লামুহ্য়িল্ মাওতা- অহুওয়া 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।
অতএব তুমি আল্লাহর রহমতের চিহ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দাও। কিভাবে তিনি যমীনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
অতএব আল্লাহর রহমতের প্রভাব সম্পর্কে চিন্তা করো, তিনি কিভাবে জমিনকে মরে (শুকিয়ে) যাবার পর আবার জীবিত করেন। এভাবেই তিনি মৃতদের জীবিত করবেন। তিনি প্রতিটি বিষয়ে শক্তিমান।
অলায়িন্ র্আসাল্না-রীহান্ ফারয়াওহু মুর্ছ্ফারল্ লাজোয়াল্লু মিম্ বা'দিহী ইয়াক্ফুরূন্।
আর যদি আমি এমন বাতাস প্রেরণ করি যার ফলে তারা শস্যকে হলুদ রঙের দেখতে পায়। তখন তো তারা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।
আমরা যদি এমন বাতাস পাঠাই যার ফলস্বরূপ তারা দেখে শস্য হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে, তখন তারা অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।
ফাইন্নাকা লা-তুস্মি'উল্ মাওতা- অলা- তুস্মি'উছ্ ছুম্মাদ্ দু'আ-য়া ইযা-অল্লাও মুদ্বিরীন্।
নিশ্চয় তুমি মৃতকে শুনাতে পারবে না, না পারবে বধিরকে আহবান শুনাতে, যখন তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে ফিরে যায়।
তুমি মৃতকে শুনাতে পারবেনা, বধিরকেও পারবেনা তোমার আহবান শুনাতে, যেহেতু তারা মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।
অমা য় আন্তা বিহা-দিল্ 'উম্য়ি 'আন্ দ্বোলা-লাতিহিম্ ইন্ তুস্মি'উ ইল্লা-মাইঁ ইয়ুমিনু বিআ-ইয়া-তিনা- ফাহুম্ মুস্লিমূন্।
আর তুমি অন্ধদেরকেও তাদের ভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াতে আনতে পারবে না, তুমি শুধু তাদেরই শুনাতে পারবে যারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে, কারণ তারা আত্মসমর্পনকারী।
তুমি অন্ধদের সঠিক পথে আনতে পারবেনা তাদের বিপথগামিতা থেকে। তুমি তো শুনাতে পারবে তাদেরকেই, যারা ঈমান আনে আমাদের আয়াতের প্রতি, তারপর আত্মসমর্পণ করে দেয়।
আল্লা-হুল্ লাযী খলাক্বকুম্ মিন্ দ্বু'ফিন্ ছুম্মা জ্বা'আলা মিম্ বা'দি দ্বু'ফিন্ কুওয়্যাতান্ ছুম্মা জ্বা'আলা মিম্ বা'দি কুওয়্যাতিন্ দ্বু'ফাঁও অশাইবাহ্ ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু অহুওয়াল্ 'আলীমুল্ ক্বর্দী।
, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন দুর্বল বস্তু থেকে এবং দুর্বলতার পর তিনি শক্তি দান করেন। আর শক্তির পর তিনি আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
, তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায়। তারপর দুর্বলতার পরে দেন শক্তি। শক্তির পর পুনরায় দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য। তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান।
অইয়াওমা তাকু মুস্ সা- 'আতু ইয়ুক্বসিমুল্ মুজরিমূন মা-লাবিছূ গইরা সা-'আহ্ কাযা-লিকা কা-নূ ইয়ুফাকূন্।
আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ থেকেছে।
যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে: তারা ঘণ্টাখানেকের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা (দুনিয়ার জীবনেও) হতো সত্যভ্রষ্ট।
অক্বা-লাল্ লাযীনা ঊতুল্ 'ইল্মা অল্ ঈমা-না লাক্বদ্ লাবিছ্তুম্ ফী কিতা-বিল্লা-হি ইলা-ইয়াওমিল্ বাছি ফাহা-যা- ইয়াওমুল্ বাছি অলা-কিন্নাকুম্ কুন্তুম লা-তা'লামূন্।
আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহর বিধান মত পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। আর এটি পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা জানতে না।’
যাদেরকে এলেম এবং ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে: তোমরা আল্লাহর রেকর্ড অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছো। আজ সেই পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা ছিলে অজ্ঞ।
ফাইয়াওমায়িযিল্ লা-ইয়ান্ফা'উ ল্লাযীনা জোয়ালামূ মা'যিরাতুহুম্ অলা-হুম্ ইয়ুস্তা'তাবূন্।
অতঃপর যারা যুলম করেছে, সেদিন তাদের কোন ওযর-আপত্তি উপকারে আসবে না এবং (আল্লাহকে) সন্তুষ্ট করতেও তাদেরকে বলা হবে না।
সেদিন যালিমদের ওজর আপত্তি কোনো কাজে আসবেনা এবং তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেরও সুযোগ দেয়া হবেনা।
অ লাক্বদ্ দ্বোয়ারাব্না-লিন্না-সি ফী হা-যাল্ ক্বর্ আ-নি মিন্ কুল্লি মাছাল্ অলায়িন্ জ্বি''তাহুম্ বিআ-ইয়া-তিল্ লাইয়াকুলান্নাল্ লাযীনা কাফারূ য় ইন্ আন্তুম্ ইল্লা-মুব্ত্বিলূন্।
আর আমি তো মানুষের জন্য এই কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত পেশ করেছি। আর যদি তুমি তাদের কাছে কোন আয়াত নিয়ে আস, তবে অবশ্যই কাফিররা বলবে, ‘তোমরা তো বাতিলপন্থী’।
আমরা মানুষের জন্যে এ কুরআনে সব ধরনের দৃষ্টান্ত দিয়েছি। তুমি যদি তাদের সামনে কোনো নিদর্শন হাজিরও করো, কাফিররা অবশ্যি বলবে: ‘তোমরা মিথ্যা বাতিল নিয়ে এসেছো।’
কাযা-লিকা ইয়াত্ববা'উল্লা-হু 'আলা-কুলূবিল্ লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্।
এমনিভাবে মোহর মেরে দেন তাদের হৃদয়সমূহে যারা জানে না।
এভাবেই অজ্ঞ লোকদের অন্তরে সীলমোহর মেরে দেন।
ফার্ছ্বি ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাক্বকুঁও অলা-ইয়াস্তাখিফ্ফান্নাকাল্ লাযীনা লা-ইয়ূক্বিনূন্।
অতএব, তুমি সবর কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা হক। আর যারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে না তারা যেন তোমাকে অস্থির করতে না পারে ।
অতএব, সবর অবলম্বন করো, অবশ্যি আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা একীন রাখেনা, তারা যেনো তোমাকে (আহবান জানানোর কাজ থেকে) টলাতে না পারে।