বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্।
হা-মীম।
হা - মীম।
Chapter 45, 37 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্।
হা-মীম।
হা - মীম।
তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এ কিতাব নাযিলকৃত।
এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় র নিকট হইতে অবতীর্ণ।
ইন্না ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লাআ-ইয়া-তিল্লিল্ মু'মিনীন্।
নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনে মুমিনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।
নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে নিদর্শন রহিয়াছে মু’মিনদের জন্য।
অফী খল্ক্বিকুম্ অমা-ইয়াবুছ্ছু মিন্ দা-ব্বাতিন্ আ-ইয়া-তুল্ লিক্বওমিঁ ইয়ূক্বিনূন্।
আর তোমাদের সৃষ্টিতে এবং যে জীব জন্তু ছড়িয়ে রয়েছে তাতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সে কওমের জন্য যারা নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করে।
তোমাদের সৃজনে এবং জীবজন্তুর বিস্তারে নিদর্শন রহিয়াছে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য;
অখ্তিলা-ফিল্লাইলি ওয়া ন্নাহা-রি অমা য় আন্যালা ল্লা-হু মিনাস্ সামা-য়ি র্মি রিয্ক্বিন্ ফাআহ্ইয়া-বিহিল্ র্আদ্বোয়া বা'দা মাওতিহা-অ তাছ্রী র্ফি রিয়া-হি আ-ইয়া-তু ল্লিক্বাওমিঁই ইয়া'ক্বিলূন্।
আর রাত ও দিনের পরিবর্তনে, আসমান থেকে যে পানি বর্ষণ করেন তারপর তা দ্বারা যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং বাতাসের পরিবর্তনে সে কওমের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে যারা বোঝে।
নিদর্শন রহিয়াছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য, রাত্রি ও দিবসের পরিবর্তনে এবং আকাশ হইতে যে বারি বর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে উহার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাহাতে ও বায়ুর পরিবর্তনে।
তিল্কা আ-ইয়া-তু ল্লা-হি নাত্লূহা-'আলাইকা বিল্ হাক্ব ক্বি ফাবি আইয়্যি হাদীছিম্ বা'দা ল্লা-হি আ-ইয়া -তিহী ইয়ুমিনূন্।
এগুলো আল্লাহর আয়াত, আমি তা যথাযথভাবেই তোমার কাছে তিলাওয়াত করছি। অতএব তারা ও তাঁর আয়াতের পর আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে?
এইগুলি র আয়াত, যাহা আমি তোমার নিকট তিলাওয়াত করিতেছি যথাযথভাবে। সুতরাং র ও তাঁহার আয়াতের পরিবর্তে উহারা আর কােন্ বাণীতে বিশ্বাস করিবে ?
অইলুল্লিকুল্লি আফ্ফা-কিন্ আছীম্।
দুর্ভোগ প্রত্যেক চরম মিথ্যুক পাপাচারীর জন্য!
দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর,
ইয়াস্মা'উ আ-ইয়া-তি ল্লা-হি তুত্লা- 'আলাইহি ছুম্মা ইয়ুর্ছিরু মুস্তাক্বিরন্ কায়াল্লাম্ ইয়াস্মা'হা-ফাবার্শ্শিহু বি'আযা-বিন্ আলীম্।
সে শোনে আল্লাহর আয়াতসমূহ যা তার সামনে তিলাওয়াত করা হচ্ছে, তারপর সে ঔদ্ধত্যের সাথে অবিচল থাকে, যেন সে তা শুনতে পায়নি। অতএব তুমি তাকে এক যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।
যে র আয়াতসমূহের তিলাওয়াত শুনে অথচ ঔদ্ধত্যের সঙ্গে অটল থাকে যেন সে উহা শুনে নাই। উহাকে সংবাদ দাও মর্মন্তুদ শাস্তির;
অ ইযা-'আলিমা মিন্ আ-ইয়া-তিনা-শাইয়া খযাহা- হুযুওয়া- উলা-য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুম্ মুহীন্।
আর যখন সে আমার আয়াতসমূহের কিছু জানতে পারে, তখন সে এটাকে পরিহাসের পাত্ররূপে গ্রহণ করে। এদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব।
যখন আমার কোন আয়াত সে অবগত হয় তখন উহা লইয়া পরিহাস করে। উহাদের জন্য রহিয়াছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
মিওঁ অরা-য়িহিম্ জ্বাহান্নামু অলা-ইয়ুগ্নী আ'ন্হুম্ মা-কাসাবূ শাইয়াঁও অলা-মাত্তাখাযূ মিন্ দূনিল্লা-হি আওলিয়া-য়া অলাহুম্ 'আযা-বুন্ 'আজীম্।
তাদের সামনে রয়েছে জাহান্নাম। তারা যা উপার্জন করেছে অথবা আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদের অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে, এসব তাদের কোন কাজে আসবে না। তাদের জন্য রয়েছে মহাআযাব।
উহাদের পশ্চাতে রহিয়াছে জাহান্নাম; উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসিবে না, উহারা র পরিবর্তে যাহাদেরকে অভিভাবক স্থির করিয়াছে উহারাও নহে। উহাদের জন্য রহিয়াছে মহাশাস্তি।
হা-যা-হুদান্ অল্লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ লাহুম্ 'আযা-বুম্ র্মি রিজ্ব্যিন্ আলীম্।
এই (কুরআন) হিদায়াত দানকারী। আর যারা তাদের রবের আয়াতসমূহের সাথে করে তাদের জন্য রয়েছে অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
এই কুরআন সৎপথের দিশারী; যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করে, উহাদের জন্য রহিয়াছে অতিশয় মর্মন্তুদ শাস্তি।
আল্লা-হুল্লাযী সাখ্খর লাকুমুল্ বাহ্র লিতাজ্ব রিয়াল্ ফুল্কু ফীহি বিআম্রিহী অলিতাব্তাগূ মিন্ ফাদ্ব্লিহী অলা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।
, যিনি সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন যাতে তাঁরই আদেশক্রমে তাতে নৌযানসমূহ চলাচল করতে পারে এবং যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করে বেড়াতে পার এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় করতে পার।
ই তো সমুদ্রকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন, যাহাতে তাঁহার আদেশে উহাতে নৌযানসমূহ চলাচল করিতে পারে ও যাহাতে তোমরা তাঁহার অনুগ্রহ অনুসন্ধান করিতে পার এবং যেন তোমরা তাঁহার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
অসাখ্খর লাকুম্ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আম্ মিন্হ্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তি ল্লিক্বওমিঁই ইয়াতাফাক্কারূন্।
আর যা কিছু রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা কিছু রয়েছে যমীনে, তার সবই তিনি তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন। চিন্তাশীল কওমের জন্য নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
আর তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করিয়াছেন আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত কিছু নিজ অনুগ্রহে, চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে তো রহিয়াছে নিদর্শন।
কুল্ লিল্লাযীনা আ-মানূ ইয়াগ্ফিরূ লিল্লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা আইয়্যামা ল্লা -হি লিইয়াজ্ব্যিয়া ক্বওমাম্ বিমা- কা-নূ ইয়াক্সিবূ ন্।
যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে বল, ‘যারা আল্লাহর দিবসসমূহ প্রত্যাশা করে না, এরা যেন তাদের ক্ষমা করে দেয়, যাতে প্রত্যেক কওমকে তাদের কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিতে পারেন।
মু’মিনদেরকে বল, ‘তাহারা যেন ক্ষমা করে উহাদেরকে, যাহারা র দিবসগুলির প্রত্যাশা করে না। ইহা এইজন্য যে, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাহার কৃতকর্মের জন্য প্রতিদান দিবেন।’
মান্ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফালিনাফ্সিহী অমান্ আসা-য়া ফা 'আলাইহা ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্তুজ্বা'ঊন্
যে সৎকর্ম করে, সে তার নিজের জন্যই তা করে এবং যে মন্দকর্ম করে তা তার উপর বর্তাবে। তারপর তোমরা তোমাদের রবের প্রতি প্রত্যাবর্তিত হবে।
যে সৎকর্ম করে সে তাহার কল্যাণের জন্যই উহা করে এবং কেহ মন্দ কর্ম করিলে উহার প্রতিফল সে - ই ভোগ করিবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হইবে।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-বানী য় ইসর-ঈ লাল্ কিতা-বা অল্ হুক্মা অ ন্নুবুওয়্যাতা অ রাযাক্ব ্না-হুম্ মিনাত্ব ত্বোয়াইয়্যিবা -তি অফাদ্ব্দ্বোয়াল্না-হুম্ 'আলাল্ 'আ-লামীন্ ।
আর আমি বনী ইসরাঈলকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদের রিয্ক প্রদান করেছিলাম উত্তম বস্তু থেকে এবং দিয়েছিলাম তাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব।
আমি তো বনী ইসরাঈলকে কিতাব, কর্তৃত্ব ও নবুওয়াত দান করিয়াছিলাম এবং উহাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দিয়াছিলাম এবং দিয়াছিলাম শ্রেষ্ঠত্ব বিশ্বজগতের উপর।
অ আ-তাইনা-হুম্ বাইয়্যিনা-তিম্ মিনাল্ আম্রি ফামাখ্ তালাফূ য় ইল্লা-মিম্ বা'দি মা-জ্বা-য়া হুমুল্ 'ইল্মু বাগ্ইয়াম্ বাইনাহুম্ ইন্না রব্বাকা ইয়াক্ব দ্বী বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।
আর আমি তাদেরকে দীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও কেবল পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষবশত তারা মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত তোমার রব কিয়ামতের দিনে সে সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন।
আমি উহাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করিয়াছিলাম দীন সম্পর্কে। উহাদের নিকট জ্ঞান আসিবার পর উহারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশত বিরোধিতা করিয়াছিল। উহারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করিত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন উহাদের মধ্যে সে বিষয়ে ফয়সালা করিয়া দিবেন।
ছুম্মা জ্বা'আল্না-কা 'আলা-শারী 'আতিম্ মিনাল্ আম্রি ফাত্তাবি'হা-অলা-তাত্তাবি 'আহ্ওয়া-য়াল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূ ন্ ।
তারপর আমি তোমাকে দীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করো না।
ইহার পর আমি তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি দীনের বিশেষ বিধানের উপর; সুতরাং তুমি উহার অনুসরণ কর, অজ্ঞদের খেয়াল - খুশির অনুসরণ করিও না।
ইন্নাহুম্ লাইঁ ইয়ুগ্নূ 'আন্কা মিনাল্লা-হি শাইয়া- অ ইন্নাজ্ জোয়া-লিমীনা বা'দ্বুহুম্ আওলিয়া-য়ু বা'দ্বিন্ অল্লা-হু অলিয়্যুল্ মুত্তাক্বীন্।
তারা আল্লাহর মুকাবিলায় তোমার কোন কাজে আসবে না। আর নিশ্চয় যালিমরা মূলত একে অপরের বন্ধু এবং মুত্তাকীদের বন্ধু।
র মুকাবিলায় উহারা তোমার কোনই উপকার করিতে পারিবে না ; জালিমরা তো একে অপররে বন্ধু। আর মুত্তাকীদের বন্ধু।
হা-যা-বাছোয়া-য়িরু লিন্না-সি অ হুদাঁও অ রহ্মাতুল লিক্বওমিঁই ইয়ূক্বিনূন্।
এ কুরআন মানবজাতির জন্য আলোকবর্তিকা এবং নিশ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য হিদায়াত ও রহমত।
এই কুরআন মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট দলীল এবং নিশ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত।
আম্ হাসিবাল্ লাযী নাজ্ব তারহুস্ সাইয়িয়া-তি আন্ নাজ্ব 'আলাহুম্ কাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি সাওয়া-য়াম্ মাহ্ইয়া-হুম্ অ মামা-তুহুম্ সা-য়া মা-ইয়াহ্কুমূন্।
যারা দুষ্কর্ম করেছে তারা কি মনে করে যে, জীবন ও মৃত্যুর ক্ষেত্রে আমি তাদেরকে এ সব লোকের সমান গণ্য করব, যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে? তাদের বিচার কতইনা মন্দ!
দুষ্কৃতিকারীরা কি মনে করে যে, আমি জীবন ও মৃত্যুর দিক দিয়া উহাদেরকে তাহাদের সমান গণ্য করিব, যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে? উহাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ !
অ খলাক্ব ল্লা-হুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া বিল্ হাক্ব ক্বি অলিতুজ্ব যা -কুল্লু নাফ্সিম্ বিমা-কাসাবাত্ অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
আর আসমানসমূহ ও যমীনকে যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে প্রত্যেক ব্যক্তি সে যা উপার্জন করেছে তদনুযায়ী প্রতিদানপ্রাপ্ত হয়, আর তারা সামান্যতমও যুলমের শিকার না হয়।
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করিয়াছেন যথাযথভাবে এবং যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাহার কর্মানুযায়ী ফল দেওয়া যাইতে পারে আর তাহাদের প্রতি জুলুম করা হইবে না।
আফারয়াইতা মানিত্তাখযা ইলা-হাহূ হাওয়া-হু অআদ্বোয়াল্লাহু ল্লা-হু 'আলা-'ইল্মিঁও অখতামা 'আলা-সাম্'ইহী অ ক্বাল্বিহী অ জ্বা'আলা 'আলা-বাছোয়ারিহী গিশা-ওয়াহ্ ফামাইঁইয়াহ্দীহি মিম্ বা'দিল্লা-হ্ আফালা- তাযাক্কারূন্।
তবে তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে আপন বানিয়ে নিয়েছে? তার কাছে জ্ঞান আসার পর তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তিনি তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। আর তার চোখের উপর স্থাপন করেছেন আবরণ। অতএব আল্লাহর পর কে তাকে হিদায়াত করবে? তারপরও কি ত
তুমি কি লক্ষ্য করিয়াছ তাহাকে, যে তাহার খেয়াল - খুশিকে নিজ ইলাহ্ বানাইয়া লইয়াছে? জানিয়া - শুনিয়াই উহাকে বিভ্রান্ত করিয়াছেন এবং উহার কর্ণ ও হৃদয় মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহার চক্ষুর উপর রাখিয়াছেন আবরণ। অতএব র পরে কে তাহাকে পথনির্দেশ করিবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?
অ ক্ব-লূ মা-হিয়া ইল্লা- হাইয়া-তুনাদ্ দুন্ইয়া-নামূতু অনাহ্ইয়া-অমা-ইয়ুহ্লিকুনা য় ইল্লাদ্ দাহ্রু অমা-লাহুম্ বিযা-লিকা মিন্ 'ইল্মিন্ ইন্ হুম্ ইল্লা-ইয়াজুন্নুন্।
আর তারা বলে, ‘দুনিয়ার জীবনই আমাদের একমাত্র জীবন। আমরা মরি ও বাঁচি এখানেই। আর কাল-ই কেবল আমাদেরকে ধ্বংস করে।’ বস্তুত এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধু ধারণাই করে।
উহারা বলে, ‘একমাত্র পার্থিব জীবনই আমাদের জীবন, আমরা মরি ও বাঁচি আর কালই আমাদেরকে ধ্বংস করে।’ বস্তুত এই ব্যাপারে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল মনগড়া কথা বলে।
অ ইযা-তুত্লা-'আলাইহিম্ আ -ইয়া-তুনা- বাইয়্যিনা-তিম্ মা-কা-না হুজ্জ্বাতাহুম্ ইল্লা য় আন্ ক্বা-লু'তূ বিআ-বা-য়িনা য় ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
আর তাদের কাছে যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের এ কথা বলা ছাড়া আর কোন যুক্তি থাকে না যে, ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে আমাদের পিতৃপুরুষদের জীবিত করে নিয়ে এসো’।
উহাদের নিকট যখন আমার সুস্পষ্ট আয়াত আবৃত্তি করা হয় তখন উহাদের কোন যুক্তি থাকে না কেবল এই উক্তি ছাড়া যে, তোমরা সত্যবাদী হইলে আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে উপস্থিত কর।
ক্বুলিল্লা- হু ইয়ুহ্য়ীকুম্ ছুম্মা ইয়ুমীতুকুম্ ছুম্মা ইয়াজ্ব মাউ'কুম্ ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি লা-রইবা ফীহি অলা-কিন্না আক্ছারা ন্না-সি লা-ইয়া'লামূন্।
বল, ‘আল্লাহই তোমাদের জীবন দেন তারপর তোমাদের মৃত্যু ঘটান। তারপর তিনি তোমাদেরকে কিয়ামতের দিনে একত্র করবেন, যাতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।
বল, ‘ই তোমাদেরকে জীবন দান করেন ও তোমাদের মৃত্যু ঘটান। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে কিয়ামত দিবসে একত্র করিবেন, যাহাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাহা জানে না।’
অলিল্লা- হি মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্ব্ অ ইয়াওমা তাক্বুমুস্ সা-'আতু ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াখ্সারুল্ মুব্ত্বিলূন্।
আর আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা আল্লাহরই এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন বাতিলপন্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর আধিপত্য রই, যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হইবে সেদিন মিথ্যাশ্রয়ীরা হইবে ক্ষতিগ্রস্ত,
অতারা- কুল্লা উম্মাতিন্ জ্বা-ছিয়াতান্ কুল্লু উম্মাতিন্ তুদ্'আ য় ইলা-কিতা-বিহা- আল্ইওয়ামা তুজ্ব যাওনা মা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।
আর তুমি প্রতিটি জাতিকে দেখবে ভয়ে নতজানু; প্রত্যেক জাতিকে স্বীয় আমলনামার দিকে আহবান করা হবে। (এবং বলা হবে) ‘তোমরা যে আমল করতে আজ তার প্রতিদান দেয়া হবে’।
এবং তুমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে দেখিবে ভয়ে নতজানু, প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাহার আমলনামার প্রতি আহ্বান করা হইবে ও বলা হইবে, ‘আজ তোমাদেরকে তাহারই প্রতিফল দেওয়া হইবে যাহা তোমরা করিতে।
হা-যা- কিতা-বুনা-ইয়ান্ ত্বিক্ব 'আলাইকুম্ বিল্ হাক্ব ইন্না কুন্না-নাস্তান্সিখু মা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।
‘এটি আমার লেখনী, যা তোমাদের ব্যাপারে সত্য সহকারে কথা বলবে; নিশ্চয় তোমরা যা করতে আমি তা লিখে রাখতাম’।
‘এই আমার লিপি, ইহা তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে সত্যভাবে। তোমরা যাহা করিতে তাহা আমি লিপিবদ্ধ করিয়াছিলাম।’
ফাআম্মাল্লাযীনা আ-মানূ অ আ'মিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফাইয়ুদ্খিলুহুম্ রব্বুহুম্ ফী রহ্মাতিহ্ যা- লিকা হুওয়াল্ ফাওযুল্ মুবীন্ ।
অতঃপর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের রব পরিণামে তাদেরকে স্বীয় রহমতে প্রবেশ করাবেন। এটিই সুস্পষ্ট সাফল্য।
যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে দাখিল করিবেন স্বীয় রহমতে। ইহাই মহাসাফল্য।
অ আম্মাল্ লাযীনা কাফারূ আফালাম্ তাকুন্ আ-ইয়া-তী তুত্লা 'আলাইকুম্ ফাস্তার্ক্বা তুম্ অকুন্তুম্ ক্বওমাম্ মুজ্ব রিমীন্।
আর যারা করেছে (তাদেরকে বলা হবে), ‘তোমাদের কাছে কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়নি? অতঃপর তোমরা অহঙ্কার করেছিলে। আর তোমরা ছিলে এক অপরাধী কওম’।
পক্ষান্তরে, যাহারা করে তাহাদেরকে বলা হইবে, ‘তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় নাই? কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।’
অ ইযা-ক্বীলা ইন্না ওয়া'দা ল্লা-হি হাক্ব ক্বঁ ও অস্সা-'আতু লা-রইবা ফীহা-ক্ব ল্তুম্ মা-নাদ্রী মাস্সা- 'আতু ইন্ নাজুন্নু ইল্লা-জোয়ায়ান্নাঁও অমা-নাহ্নু বিমুস্তাইক্বিনীন্।
আর যখন বলা হয়, ‘আল্লাহর ওয়াদা সত্য, আর কিয়ামতে কোন সন্দেহ নেই’। তখন তোমরা বলে থাক, ‘আমরা জানি না কিয়ামত কী? আমরা কেবল অনুমান করি এবং আমরা তো দৃঢ় নই।’
যখন বলা হয়, র প্রতিশ্রুতি তো সত্য, এবং কিয়ামত - ইহাতে কোন সন্দেহ নাই, তখন তোমরা বলিয়া থাক, ‘আমরা জানি না কিয়ামত কী ; আমরা মনে করি ইহা একটি ধারণা মাত্র এবং আমরা এই বিষয়ে নিশ্চিত নই।’
অবাদা লাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-'আমিলূ অ হা-ক্ব বিহিম্ মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
আর তাদের কৃতকর্মের কুফল তাদের জন্য প্রকাশিত হবে, আর তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করত তা তাদেরকে ঘিরে রাখবে।
উহাদের মন্দ কর্মগুলি উহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িবে এবং যাহা লইয়া উহারা ঠাট্টা - বিদ্রূপ করিত তাহা উহাদেরকে পরিবেষ্টন করিবে।
অক্বীলাল্ ইয়াওমা নান্সা-কুম্ কামা-নাসীতুম্ লিক্ব-য়া ইয়াওমিকুম্ হা-যা- অমাওয়া কুমুন্না-রু অমা-লাকুম্ মিন না-ছিরীন্।
আর বলা হবে, ‘আজ আমি তোমাদেরকে ছেড়ে যাব যেমন তোমরা তোমাদের এ দিনের সাক্ষাতের বিষয়টি ছেড়ে গিয়েছিলে। আর তোমাদের নিবাস হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না’।
আর বলা হইবে, ‘আজ আমি তোমাদেরকে বিস্মৃত হইব যেমন তোমরা এই দিবসের সাক্ষাতকারকে বিস্মৃত হইয়াছিলে। তোমাদের আবাসস্থল হইবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকিবে না।
যা -লিকুম্ বিআন্নাকু মুত্তাখায্তুম্ আ-ইয়া-তিল্ লা-হি হুযুওয়াওঁ ওয়া র্গরত্কুমুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-ফাল্ইয়াওমা লা-ইয়ুখ্রজ্ব না মিন্হা-অলা-হুম্ ইয়ুস্তা'তাবূন্।
এটা এজন্যই যে, তোমরা আল্লাহর আয়াতকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের পাত্র বানিয়েছিলে এবং দুনিয়ার জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করেছিল’। সুতরাং আজ তাদেরকে তা (জাহান্নাম) থেকে বের করা হবে না এবং তাদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দেয়া হবে না।
‘ইহা এইজন্য যে, তোমরা র নিদর্শনাবলীকে বিদ্রুপ করিয়াছিলে এবং পার্থিব জীবন তোমাদেরকে প্রতারিত করিয়াছিল।’ সুতরাং সেই দিন উহাদেরকে জাহান্নাম হইতে বাহির করা না এবং র সন্তুষ্টি লাভের সুযোগ দেওয়া হইবে না।
ফালিল্লা-হিল্ হাম্দু রব্বিস্ সামা-ওয়া-তি অরব্বিল্ র্আদ্বি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
অতএব আল্লাহরই জন্য সকল প্রশংসা, যিনি আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও সকল সৃষ্টির রব।
সমস্ত প্রশংসা রই যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রতিপালক, পৃথিবীর প্রতিপালক এবং জগতসমূহের প্রতিপালক।
অলাহুল্ কিব্রিয়া-য়ু ফিস্ সামা-অ-তি অল্ র্আদ্বি অহুঅল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
আর আসমানসমূহ ও যমীনের সকল অহঙ্কার তাঁর; তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে গৌরব - গরিমা তাঁহারই এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।