বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম অন্না-যি'আ-তি র্গাক্বঁও।
শপথ সেই (ফেরেশতাদের), যারা অত্যন্ত কঠোর ও নির্মমভাবে টেনে হিচঁড়ে বের করে নেয় ( ও দুষ্কৃতকারীদের প্রাণ)।
بسم الله الرحمن الرحيم والنازعات غرقا
শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,
Chapter 79, 46 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম অন্না-যি'আ-তি র্গাক্বঁও।
শপথ সেই (ফেরেশতাদের), যারা অত্যন্ত কঠোর ও নির্মমভাবে টেনে হিচঁড়ে বের করে নেয় ( ও দুষ্কৃতকারীদের প্রাণ)।
بسم الله الرحمن الرحيم والنازعات غرقا
শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,
অন্না-শিত্বোয়া-তি নাশ্ত্বোয়াঁও।
আর শপথ সেই (ফেরেশতাদের) যারা অত্যন্ত কোমলভাবে বের করে আনে (মুমিনদের আত্মা)।
والناشطات نشطا
শপথ তাদের, যারা আত্মার বাঁধন খুলে দেয় মৃদুভাবে;
অস্সা-বিহা-তি সাব্হান্।
এবং শপথ সেইসব (ফেরেশতা, কিংবা গ্রহের) যারা সাঁতরে চলে।
والسابحات سبحا
শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে দ্রুতগতিতে,
ফাস্সা-বিক্ব-তি সাব্ক্বান্।
আর শপথ সেইসব (ফেরেশতা, নক্ষত্র, কিংবা ঘোড়ার) যারা নির্দেশক্রমে সবেগে ধাবিত হয়।
فالسابقات سبقا
শপথ তাদের, যারা দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয় এবং
ফাল্মুদাব্বির-তি আম্র-।
আর শপথ সেই (ফেরেশতাদের) যারা তাদের প্রভুর নির্দেশক্রমে কার্য সম্পাদন করে থাকে।
فالمدبرات أمرا
শপথ তাদের, যারা সকল কর্মনির্বাহ করে, কেয়ামত অবশ্যই হবে।
ইয়াওমা র্তাজুর্ফু র-জ্বিফাতু
সেদিন যখন (প্রথমবার শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে), তখন (পৃথিবী, পাহাড় সবই) প্রবল ধাক্কায় বিশৃংখল হয়ে পড়বে।
يوم ترجف الراجفة
যেদিন প্রকম্পিত করবে প্রকম্পিতকারী,
তাত্বা'ঊর্হা র-দিফাতু
প্রথমটিকে অনুসরণ করবে আরেকটি শিংগাধবনি (তখন পুনরুত্থিত হবে সব মানুষ)।
تتبعها الرادفة
অতঃপর পশ্চাতে আসবে পশ্চাদগামী;
কুলূবুঁই ইয়াও মায়িযিঁও ওয়া- জ্বিফাতুন্।
কতো হৃদয় সেদিন কম্পমান হবে ভয়ে।
قلوب يومئذ واجفة
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত - বিহবল হবে।
আব্ছোয়া-রুহা-খ-শি'আহ্।
তাদের দৃষ্টি হবে (অপমানে) অবনমিত।
أبصارها خاشعة
তাদের দৃষ্টি নত হবে।
ইয়াকুলূনা আইন্না- লার্মাদূদূনা ফিল্ হা-ফিরহ্।
এরা বলে: ‘‘(মরার পর) আমাদের কি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে (জীবিত করে) আনা হবে?
يقولون أإنا لمردودون في الحافرة
তারা বলেঃ আমরা কি উলটো পায়ে প্রত্যাবর্তিত হবই -
আইযা-কুন্না-ই'জোয়া-মান্ নাখিরহ্।
আমাদের হাড় - গোড় পঁচে গলে (বিনাশ হয়ে) যাবার পরও?’’
أإذا كنا عظاما نخرة
গলিত অস্থি হয়ে যাওয়ার পরও?
ক্ব-লূ তিল্কা ইযান্ র্কারতুন্ খ-সিরহ্।
তারা বলে: ‘তবে তো সেটা হবে এক বড় ক্ষতিকর ফিরে আসা।’
قالوا تلك إذا كرة خاسرة
তবে তো এ প্রত্যাবর্তন সর্বনাশা হবে!
ফাইন্নামা-হিয়া যাজরতুঁও ওয়া-হিদাতুন্।
আসল ব্যাপার হলো, ওটা হবে এক বিকট আওয়ায (দ্বিতীয় শিংগা ধ্বনি)।
فإنما هي زجرة واحدة
অতএব, এটা তো কেবল এক মহা - নাদ,
ফা ইযা-হুম্ বিস্সা-হিরহ্।
(সেই বিকট ধ্বনির) সাথে সাথেই তারা নিজেদেরকে জীবিত হাজির দেখতে পাবে এক উন্মুক্ত ময়দানে।
فإذا هم بالساهرة
তখনই তারা ময়দানে আবির্ভূত হবে।
হাল্ আতা-কা হাদীছু মূসা-
তোমার কাছে মূসার হাদিস (ইতিহাস, ঘটনাবলি) পৌছেছে কি?
هل أتاك حديث موسى
মূসার বৃত্তান্ত আপনার কাছে পৌছেছে কি?
ইয্ না-দা-হু রব্বুহু বিল্ওয়া-দিল্ মুক্বাদ্দাসি তুওয়া-।
যখন তার প্রভু তাকে পবিত্র তোয়া উপত্যকায় ডেকে বলেছিলেন:
إذ ناداه ربه بالواد المقدس طوى
যখন তার পালনকর্তা তাকে পবিত্র তুয়া উপ্যকায় আহবান করেছিলেন,
ইয্হাব্ ইলা- ফির 'আঊনা ইন্নাহূ ত্বগা-।
ফেরাউনের কাছে যাও, সে লংঘন করেছে সমস্ত সীমা।
اذهب إلى فرعون إنه طغى
ফেরাউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে।
ফাকুল্ হাল্ লাকা ইলা য় আন্ তাযাক্কা-।
তুমি গিয়ে তাকে বলো: তুমি কি (কুফর, শিরক ও সীমালংঘন থেকে) পবিত্র হবে?
فقل هل لك إلى أن تزكى
অতঃপর বলঃ তোমার পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে কি?
অআহ্দিয়াকা ইলা-রব্বিকা ফাতাখ্শা-।
আর আমি কি তোমাকে সঠিক পথ দেখাবো তোমার মালিকের দিকে, যাতে করে তোমার মধ্যে জাগ্রত হয় তাঁর ভয়?
وأهديك إلى ربك فتخشى
আমি তোমাকে তোমার পালনকর্তার দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাকে ভয় কর।
ফাআর-হুল্ আ-ইয়াতাল্ কুব্র-।
তারপর সে (মূসা) তার (ফেরাউনের) কাছে গিয়ে তাকে অনেক বড় নিদর্শন দেখালো।
فأراه الآية الكبرى
অতঃপর সে তাকে মহা - নিদর্শন দেখাল।
ফাকায্যাবা অ'আছোয়া-।
কিন্তু সে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করলো এবং অমান্য করলো।
فكذب وعصى
কিন্তু সে মিথ্যারোপ করল এবং অমান্য করল।
ছুম্মা আদ্বার ইয়াস্'আ-।
তারপর সে ষড়যন্ত্র অাঁটার প্রচেষ্টায় পিছু হটলো।
ثم أدبر يسعى
অতঃপর সে প্রতিকার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
ফাহাশার ফানা-দা-।
অতপর (জনতাকে) সমবেত করে ঘোষণা দিলো।
فحشر فنادى
সে সকলকে সমবেত করল এবং সজোরে আহবান করল,
ফাক্ব-লা আনা রব্বুকুমুল্ আ'লা-।
বললো: ‘আমিই তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু।’
فقال أنا ربكم الأعلى
এবং বললঃ আমিই তোমাদের সেরা পালনকর্তা।
ফাআখাযাহুল্লা-হু নাকা-লাল্ আ-খিরতি অল্ ঊলা-।
সুতরাং তাকে কঠিন শাস্তিতে পাকড়াও করলেন তার শেষ ও প্রথম সীমা লংঘনের জন্যে।
فأخذه الله نكال الآخرة والأولى
অতঃপর তাকে পরকালের ও ইহকালের শাস্তি দিলেন।
ইন্না ফী যা-লিকা লা-'ইব্রতাল্ লিমাইঁ ইয়াখ্শা-।
অবশ্যি এ ঘটনার মধ্যে শিক্ষামূলক উপদেশ রয়েছে ঐ ব্যক্তির জন্যে, যে ভয় করে (আল্লাহকে)।
إن في ذلك لعبرة لمن يخشى
যে ভয় করে তার জন্যে অবশ্যই এতে শিক্ষা রয়েছে।
আআন্তুম্ আশাদ্দু খল্ক্বন্ আমিস্ সামা-য়্ বানা-হা-।
তোমাদের সৃষ্টি করা বেশি কঠিন কাজ, না মহাকাশ সৃষ্টি করা? তিনিই তো সৃষ্টি করেছেন এই (মহাকাশ)।
أأنتم أشد خلقا أم السماء ۚ بناها
তোমাদের সৃষ্টি অধিক কঠিন না আকাশের, যা তিনি নির্মাণ করেছেন?
রফা'আ সাম্কাহা-ফাসাওয়্যা-হা-।
তিনিই অনেক উপরে উঠিয়েছেন এর উচ্চতা, অতপর তাকে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
رفع سمكها فسواها
তিনি একে উচ্চ করেছেন ও সুবিন্যস্ত করেছেন।
অআগ্ত্বোয়াশা লাইলাহা-অআখ্রজ্বা দুহা-হা-।
আর রাতকে তিনি ঢেকে দেন অন্ধকার দিয়ে, আর দিনকে বের করে আনেন আলোকিত করে।
وأغطش ليلها وأخرج ضحاها
তিনি এর রাত্রিকে করেছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং এর সূর্যোলোক প্রকাশ করেছেন।
অল্ র্আদ্বোয়া বা'দা যা-লিকা দাহা-হা।
এরপর তিনি বিছিয়ে দিয়েছেন পৃথিবীকে।
والأرض بعد ذلك دحاها
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন।
আখ্রজা মিন্হা-মা-য়াহা-অর্মা'আ-হা-।
তার (পৃথিবীর) মধ্য থেকেই বের করেছেন তার পানি ও তৃণ - লতা (উদ্ভিদ)।
أخرج منها ماءها ومرعاها
তিনি এর মধ্য থেকে এর পানি ও ঘাম নির্গত করেছেন,
অল্জ্বিবা-লা র্আসা-হা-।
এবং তার মধ্যে মজবুতভাবে গেড়ে দিয়েছেন পাহাড় - পর্বত।
والجبال أرساها
পর্বতকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন,
মাতা'আল্লাকুম্ অলিআন্'আ-মিকুম্।
(এসবই করেছেন) তোমাদের ও তোমাদের পশুদের কল্যাণার্থে।
متاعا لكم ولأنعامكم
তোমাদের ও তোমাদের চতুস্পদ জন্তুদের উপকারার্থে।
ফাইযা-জ্বা-য়াতিত্ ত্বোয়া-ম্মাতুল্ কুব্র-।
অতপর যেদিন ঘটে যাবে মহাবিপর্যয়,
فإذا جاءت الطامة الكبرى
অতঃপর যখন মহাসংকট এসে যাবে।
ইয়াওমা ইয়াতাযাক্কারুল্ ইন্সা-নু মা-সা'আ-।
যেদিন মানুষ খুব করে স্মরণ করবে তার (পৃথিবীর জীবনের) সা’য়ীর (ব্যস্ততা ও কৃতকর্মের) কথা,
يوم يتذكر الإنسان ما سعى
অর্থাৎ যেদিন মানুষ তার কৃতকর্ম স্মরণ করবে
অর্বুরিযাতিল্ জ্বাহীমু লিমাইঁ ইয়ার-।
এবং যেদিন দর্শকদের সামনে খুলে ধরা হবে জাহিম (দোযখ),
وبرزت الجحيم لمن يرى
এবং দর্শকদের জন্যে জাহান্নাম প্রকাশ করা হবে,
ফাআম্মা-মান্ ত্বোয়াগ-।
সেদিন (এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে যে,) পৃথিবীর জীবনে যারা সীমালংঘন করেছিল,
فأما من طغى
তখন যে ব্যক্তি সীমালংঘন করেছে;
অআ-ছারল্ হা-ইয়া-তাদ্ দুন্ইয়া-।
এবং (আখিরাতের চাইতে) অগ্রাধিকার দিয়েছিল দুনিয়ার জীবনকে,
وآثر الحياة الدنيا
এবং পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে,
ফাইন্নাল্ জ্বাহীমা হিয়াল্ মা”ওয়া-।
তাদের আবাস হবে জাহিম (দোযখ)।
فإن الجحيم هي المأوى
তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম।
অআম্মা-মান্ খ-ফা মাক্ব-মা রব্বিহী অনাহান্ নাফ্সা 'আনিল্ হাওয়া-।
আর যে তার মহান প্রভুর সামনে দাঁড়াবার ভয়ে ভীত ছিলো এবং নিজেকে আত্মার দাসত্ব ও মন্দ কামনা - বাসনা থেকে বিরত রেখেছিল,
وأما من خاف مقام ربه ونهى النفس عن الهوى
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল - খুশী থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে,
ফাইন্নাল্ জ্বান্নাতা হিয়াল্ মাওয়া-।
জান্নাতই হবে তাদের আবাস।
فإن الجنة هي المأوى
তার ঠিকানা হবে জান্নাত।
ইয়াস্য়ালূনাকা 'আনিস্ সা- 'আতি আইয়্যা-না র্মুসা-হা-
(হে মুহাম্মদ!) এরা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে সেই সময়টি সম্পর্কে - তা কখন অনুষ্ঠিত হবে?
يسألونك عن الساعة أيان مرساها
তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কখন হবে?
ফীমা আন্তা মিন্ যিক্র-হা-।
(কিন্তু) এ ব্যাপারে বলার কী জ্ঞান তোমার আছে?
فيم أنت من ذكراها
এর বর্ণনার সাথে আপনার কি সম্পর্ক ?
ইলা-রব্বিকা মুন্তাহা-হা-।
এর জ্ঞান তো শুধুমাত্র তোমার প্রভুর নিকটই সীমাবদ্ধ।
إلى ربك منتهاها
এর চরম জ্ঞান আপনার পালনকর্তার কাছে।
ইন্নামা য় আন্তা মুন্যিরু মাইঁ ইয়াখ্শা-হা-।
তুমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র, তাদের জন্যে যারা তাকে (কিয়ামতকে) ভয় করে।
إنما أنت منذر من يخشاها
যে একে ভয় করে, আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করবেন।
কায়ান্নাহুম ইয়াওমা ইয়ারওনাহা-লাম্ ইয়াল্বাছূ য় ইল্লা 'আশিইয়াতান্ আও দুহা-হা-।
যেদিন তারা সে দিনটিকে দেখতে পাবে, তারা অনুভব করবে, পৃথিবীতে তারা কাটিয়েছে একটি সন্ধ্যা, কিংবা একটি সকাল মাত্র।
كأنهم يوم يرونها لم يلبثوا إلا عشية أو ضحاها
যেদিন তারা একে দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছে।