বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্ ।
হা মিম।
হা - মীম।
Chapter 46, 35 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্ ।
হা মিম।
হা - মীম।
তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এ কিতাব নাযিল হচ্ছে মহাশক্তিধর মহাপ্রজ্ঞাবান আল্লাহর পক্ষ থেকে।
এই কিতাব পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
মা-খলাক্ব নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া অমা- বাইনাহুমা য় ইল্লা-বিল্ হাকক্বি অআজ্বালিম্ মুছাম্মান্ অল্লাযীনা কাফারূ 'আম্মা য় উন্যিরূ মু'রিদ্বূন্।
মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সবই আমরা বাস্তবভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে সৃষ্টি করেছি। কিন্তু কাফিররা উপেক্ষা করে চলছে, যে বিষয়ে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।
নভোমন্ডল, ভূ - মন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু আমি যথাযথভাবেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেই সৃষ্টি করেছি। আর কাফেররা যে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে, তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
কুল্ আরয়াইতুম্ মা- তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি আরূনী মা-যা-খলাকু মিনাল্ র্আদ্বি আম্ লাহুম্ শিরকুন্ ফিস্ সামা-ওয়া-ত্ ঈতূনী বিকিতা-বিম্ মিন্ ক্বব্লি হা-যা য় আও আছা-রাতিম্ মিন্ 'ইল্মিন্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
হে নবী! বলো: ‘তোমরা ভেবে দেখেছো কি, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে? আমাকে দেখাও। নাকি আকাশ সৃষ্টিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? পূর্বের কোনো কিতাব কিংবা সূত্রভিত্তিক কোনো জ্ঞান এ বিষয়ের থাকলে তোমরা তা হাজির করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।’
বলুন, তোমরা ব্যতীত যাদের পূজা কর, তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? দেখাও আমাকে তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে? অথবা নভোমন্ডল সৃজনে তাদের কি কোন অংশ আছে? এর পূর্ববর্তী কোন কিতাব অথবা পরস্পরাগত কোন জ্ঞান আমার কাছে উপস্থিত কর, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
অমান্ আদ্বোয়াল্লু মিম্মাইঁ ইয়াদ্'ঊমিন্ দূনিল্লা-হি মাল্ লা-ইয়াস্তাজ্বীবু লাহূ য় ইলা-ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি অহুম্ 'আন্ দু'আ-য়িহিম্ গাফিলূন্।
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় বিভ্রান্ত আর কে, যে আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকে, তারা কিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দেবে না? তারা তার ডাক শুনবে কী করে? তারা তো অচেতন।
যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর।
অ ইযা-হুশিরান্না-সু কা-নূ লাহুম্ আ'দা-য়াঁও অকা-নূ বি'ইবা-দাতিহিম্ কা-ফিরীন্।
যেদিন মানুষকে হাশর করা হবে (বিচারের জন্যে), সেদিন তারা এদের শত্রু হয়ে যাবে এবং এরা তাদের ইবাদত (পূজা উপাসনা) করেছে বলে তারা অস্বীকার করবে।
যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রু হবে এবং তাদের এবাদত অস্বীকার করবে।
অ ইযা-তুত্লা-'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা- বাইয়ি-না-তিন্ ক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্হাকক্বি লাম্মা-জ্বা-য়াহুম্ হা-যা-সিহ্রুম্ মুবীন্।
আমাদের স্পষ্ট আয়াতসমূহ যখন তাদের সামনে তিলাওয়াত করা হয়, তখন মহাসত্য তাদের কাছে পৌঁছার পর কাফিররা বলে: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’
যখন তাদেরকে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনানো হয়, তখন সত্য আগমন করার পর কাফেররা বলে, এ তো প্রকাশ্য জাদু।
আম্ ইয়াকু লূনাফ্তার-হ্ কুল্ ইনিফ্ তারইতুহূ ফালা- তাম্লিকূনা লী মিনাল্লা-হি শাইয়া- হুওয়া আ'লামু বিমা-তুফীদুনা ফীহ্ কাফা-বিহী শাহীদাম্ বাইনী অ-বাইনাকুম্ অহুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।
নাকি তারা বলে: ‘মুহাম্মদ এ কুরআন রচনা করেছে?’ তুমি বলো: ‘আমি যদি এটি রচনা করে আল্লাহর নামে চালাতাম, তবে তোমরা সবাই মিলেও কিছুতেই আমাকে আল্লাহর শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারতেনা। তোমরা যে বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছো সে বিষয়ে আল্লাহ্ই অধিক জানেন। এ বিষয়ে আমার এবং তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে তিনিই যথেষ্ট। আর তিনি মহাক্ষমাশীল মহাদয়াবান।
তারা কি বলে যে, রসূল একে রচনা করেছে? বলুন, যদি আমি রচনা করে থাকি, তবে তোমরা আল্লাহর শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করার অধিকারী নও। তোমরা এ সম্পর্কে যা আলোচনা কর, সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আমার ও তোমাদের মধ্যে তিনি সাক্ষী হিসাবে যথেষ্ট। তিনি ক্ষমাশীল, দয়াময়।
কুল্ মা-কুন্তু বিদ্আ'ম্ মির্না রুসুলি অমা য় আদ্রী মা-ইয়ুফ্'আলু বী অলা-বিকুম্ ইন্ আত্তাবি'উ ইল্লা-মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা অমা য় আনা ইল্লা-নাযীরুম্ মুবীন্ ।
বলো: ‘আমি কোনো নতুন - অভিনব রসূল নই। আমার ও তোমাদের ব্যাপারে কী করা হবে তা আমি জানি না। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা অহি করা হয় আমার কাছে। আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছুই নই।
বলুন, আমি তো কোন নতুন রসূল নই। আমি জানি না, আমার ও তোমাদের সাথে কি ব্যবহার করা হবে। আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রতি ওহী করা হয়। আমি স্পষ্ট সতর্ক কারী বৈ নই।
কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ কা-না মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি অকার্ফাতুম্ বিহী অশাহিদা শা-হিদুম্ মিম্ বানী য় ইস্র-ঈলা 'আলা-মিছ্লিহী ফাআ-মানা অস্তার্ক্বাতুম্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দিল্ ক্বওমাজ্ জোয়া-লিমীন্।
বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, এ কুরআন যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার করো, অথচ বনি ইসরাঈলের একজন (আবদুল্লাহ ইবনে সালাম) এ কিতাবের প্রতি সাক্ষ্য দিয়েছে যে, এটি (তাওয়াতেরই অনুরূপ) এবং সে ঈমান এনেছে, আর তোমরা হঠকারিতা প্রদর্শন করো, তাহলে তোমাদের পরিণাম কী হবে? নিশ্চয়ই কখনো যালিমদের সঠিক পথ দেখান না।
বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয় এবং তোমরা একে অমান্য কর এবং বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে এতে বিশ্বাস স্থাপন করে; আর তোমরা অহংকার কর, তবে তোমাদের চেয়ে অবিবেচক আর কে হবে? নিশ্চয় অবিবেচকদেরকে পথ দেখান না।
অক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আ-মানূ লাও কা-না খাইরাম্ মা-সাবাকুনা য় ইলাইহ্অ ইয্ লাম্ ইয়াহ্তাদূ বিহী ফাসাইয়াকু লূনা হা-যা য় ইফ্কুন্ ক্বদীম্।
কাফিররা মুমিনদের বলে: ‘এটা (এই কুরআন) যদি ভালো হতো, তবে তারা আমাদের আগে তা গ্রহণ করতে পারতো না।’ আর যেহেতু তারা এর দ্বারা সঠিক পথ লাভ করেনি, তাই তারা বলে, ‘এটা পুরানো মিথ্যা।’
আর কাফেররা মুমিনদের বলতে লাগল যে, যদি এ ভাল হত তবে এরা আমাদেরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পারত না। তারা যখন এর মাধ্যমে সুপথ পায়নি, তখন শীঘ্রই বলবে, এ তো এক পুরাতন মিথ্যা।
অমিন্ ক্বব্লিহী কিতা-বু মূসা য় ইমা-মাওঁ অরহ্মাহ্ অহা-যা-কিতা-বুম্ মুছোয়াদ্দিকুল্ লিসা-নান্ আ'রাবিয়্যাল্ লিইয়ুন্যিরাল্ লাযীনা জোয়ালামূ অবুশ্রা-লিল্মুহ্সিনীন।
এর আগে ছিলো মূসার কিতাব পথ প্রদর্শক ও রহমত। আর এই কিতাব (কুরআন) সেটার সত্যায়নকারী, আরবি ভাষায়। এটি নাযিল করা হয়েছে যালিমদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যে এবং কল্যাণপরায়ণদের জন্যে এটি সুসংবাদ।
এর আগে মূসার কিতাব ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমতস্বরূপ। আর এই কিতাব তার সমর্থক আরবী ভাষায়, যাতে যালেমদেরকে সতর্ক করে এবং সৎকর্মপরায়ণদেরকে সুসংবাদ দেয়।
ইন্নাল্লাযীনা ক্ব-লূ রব্বুনাল্লা-হু ছুম্মাস তাক্ব-মূ ফালা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
নিশ্চয়ই যারা বলে: ‘ আমাদের রব’, তারপর একথার উপর অটল অবিচল হয়ে থাকে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবেনা।
নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা অতঃপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।
উলা-য়িকা আছ্হা-বুল্ জান্নাতি খ-লিদীনা ফী হা জ্বাযা-য়াম্ বিমা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।
তারা হবে জান্নাতের অধিবাসী, চিরদিন থাকবে তারা সেখানে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান হিসেবে।
তারাই জান্নাতের অধিকারী! তারা তথায় চিরকাল থাকবে। তারা যে কর্ম করত, এটা তারই প্রতিফল।
অ ওয়াছ্ছোয়াইনাল্ ইন্সা-না বিওয়া-লিদাইহি ইহ্সা-না- হামালাত্হু উম্মুহূ র্কুহাঁও অ অদ্বোয়া আ'ত্হু র্কুহা অ হাম্লুহূ অফিছোয়া-লুহূ ছালা-ছূনা শাহ্রা- হাত্তা য় ইযা-বালাগা আশুদ্দাহূ অ বালাগা র্আবা'ঈনা সানাতান্ ক্ব-লা রব্বি আওযি'নী য় আন্ আশ্কুরা নি'মাতাকাল্লাতী য় আন্'আম্তা 'আলাইয়্যা অ'আলা-ওয়া-লিদাইয়্যা অআন্ 'আমালা ছোয়া-লিহান র্তাদ্বোয়া-হু অআছ্লিহ্ লী ফী র্যুরিয়্যাতী ইন্নী তুব্তু ইলাইকা অইন্নী মিনাল্ মুস্লিমীন্।
আমরা মানুষকে অসিয়ত (নির্দেশ) করেছি তার মাতা - পিতার প্রতি সদয় আচরণ করতে। তার মা তাকে গর্ভে ধারণ করেছে কষ্টের সাথে, প্রসব করেছে কষ্টের সাথে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে এবং তার বুকের দুধ ছাড়াতে লেগেছে ত্রিশ মাস। তারপর সে যখন সুঠাম দেহে পৌঁছে এবং উপনীত হয় চল্লিশ বছরে, তখন সে বলে: ‘আমার প্রভু! আমাকে তৌফিক দাও, আমি যেনো তোমার অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি, যে অনুগ্রহ তুমি করেছো আমার প্রতি এবং আমার পিতা - মাতার প্রতি। আমাকে এমন আমলে সালেহ্ করার তৌফিক দাও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে, আর আমার জন্যে আমার সন্তানদের সৎ ও যোগ্য করে গড়ে তোলো। আমি তোমার দিকে মুখ ফেরালাম এবং অবশ্যি আমি আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হলাম।’
আমি মানুষকে তার পিতা - মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি। তার জননী তাকে কষ্টসহকারে গর্ভে ধারণ করেছে এবং কষ্টসহকারে প্রসব করেছে। তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও তার স্তন্য ছাড়তে লেগেছে ত্রিশ মাস। অবশেষে সে যখন শক্ত - সামর্থ্য ও বয়সে চল্লিশ বছরে পৌছেছে, তখন বলতে লাগল, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা - মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার সন্তানদেরকে সৎকর্মপরায়ণ কর, আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।
উলা-য়িকাল্লাযীনা নাতাক্বাব্বালু 'আন্হুম্ আহ্সানা মা-'আমিলূ অ নাতাজ্বা-ওয়াযু 'আন্ সায়িয়া-তিহিম্ ফী আছ্হা-বিল্ জ্বান্নাহ্ ওয়া'দাছ্ ছিদ্ক্বিল্ লাযী কা-নূ ইয়ূ'আদূন্।
এরাই সেইসব লোক আমরা যাদের উত্তম আমলসমূহ কবুল করবো এবং তাদের মন্দ কাজগুলো ক্ষমা করে দেবো এবং তাদের অন্তরভুক্ত করবো জান্নাতের অধিবাসীদের। তাদের যে ওয়াদা দেয়া হলো তা সত্য ওয়াদা।
আমি এমন লোকদের সুকর্মগুলো কবুল করি এবং মন্দকর্মগুলো মার্জনা করি। তারা জান্নাতীদের তালিকাভুক্ত সেই সত্য ওয়াদার কারণে যা তাদেরকে দেওয়া হত।
অল্লাযী ক্ব-লা লিওয়া-লিদাইহি উফ্ফিল্ লাকুমা য় আতাই'দা-নিনী য় আন্ উখ্রজ্বা অক্বদ্ খলাতিল্ কুরূনু মিন্ ক্বব্লী অহুমা-ইয়াস্তাগীছানি ল্লা-হা অইলাকা আ-মিন্ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাককুন্ ফাইয়াকুলু মা- হা-যা য় ইল্লা য় আসা-ত্বীরুল্ আউয়্যালীন্।
আর এমন লোকও আছে, যে তার মাতা - পিতাকে বলে: ‘উহ্, তোমাদের জ্বালাতনে আর বাঁচলাম না। তোমরা কি আমাকে এই ভয় দেখাতে চাও যে, আমি পুনরুত্থিত হবো, যদিও আমার আগে বহু প্রজন্ম গত হয়েছে?’ তখন তার মাতা - পিতা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে: ‘দুর্ভোগ তোমার! তুমি ঈমান আনো। আল্লাহর ওয়াদা সত্য।’ তখন সে বলে: ‘এতো আগেকার কালের কাহিনী ছাড়া কিছু নয়।’
আর যে ব্যক্তি তার পিতা - মাতাকে বলে, ধিক তোমাদেরকে, তোমরা কি আমাকে খবর দাও যে, আমি পুনরুত্থিত হব, অথচ আমার পূর্বে বহু লোক গত হয়ে গেছে? আর পিতা - মাতা আল্লাহর কাছে ফরিযাদ করে বলে, দুর্ভোগ তোমার তুমি বিশ্বাস স্থাপন কর। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তখন সে বলে, এটা তো পূর্ববর্তীদের উপকথা বৈ নয়।
উলা-য়িকাল্ লাযীনা হাক্বক্বা 'আলাইহিমুল্ ক্বওলু ফী য় উমামিন্ ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহিম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্স্ইন্নাহুম্ কা-নূ খ-সিরীন্।
এদের আগে যে জিন ও মানবগোষ্ঠী গত হয়েছে তাদের মতো এদের প্রতিও আল্লাহর বাণী সত্য হয়েছে, নিশ্চয়ই এরা হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
তাদের পূর্বে যে সব জ্বিন ও মানুষ গত হয়েছে, তাদের মধ্যে এ ধরনের লোকদের প্রতিও শাস্তিবানী অবধারিত হয়ে গেছে। নিশ্চয় তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্থ।
অলিকুল্লিন্ দারজ্বা-তুম্ মিম্মা- 'আমিলূ অলিইয়ুওয়াফ্ফিয়াহুম্ 'আমা-লাহুম্ অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
প্রত্যেকের মর্যাদা নির্ধারিত হবে তার আমল অনুযায়ী। প্রত্যেকের আমলেরই পূর্ণ প্রতিফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো প্রকার যুলুম।
প্রত্যেকের জন্যে তাদের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যাতে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেন। বস্তুতঃ তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
অইয়াওমা ইয়ু'রাদুল্লাযীনা কাফারূ 'আলা ন্নার্- আয্হাব্তুম্ ত্বোয়াইয়িবা- তিকুম্ ফী হা-ইয়া-তিকুমুদ্ দুন্ইয়া-অস্তাম্তা'তুম্ বিহা-ফাল্ইয়াওমা তুজযাওনা 'আযা-বাল্ হূনি বিমা- কুন্তুম্ তাস্তাক্বিরূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক্ক্বি অ বিমা- কুন্তুম্ তাফ্সুকুন্।
যেদিন কাফিরদের উপস্থিত করা হবে জাহান্নামের কিনারে, সেদিন তাদের বলা হবে: তোমরা তোমাদের পৃথিবীর জীবনেই যাবতীয় সুখ সম্ভোগ করে নিয়েছো। সুতরাং আজ তোমাদের প্রতিদান দেয়া হবে অপমানকর আযাব, কারণ তোমরা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছিলে এবং সীমালংঘন করেছিলে।
যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের কাছে উপস্থিত করা হবে সেদিন বলা হবে, তোমরা তোমাদের সুখ পার্থিব জীবনেই নিঃশেষ করেছ এবং সেগুলো ভোগ করেছ সুতরাং আজ তোমাদেরকে অপমানকর আযাবের শাস্তি দেয়া হবে; কারণ, তোমরা পৃথিবীতে অন্যায় ভাবে অহংকার করতে এবং তোমরা পাপাচার করতে।
অর্য্কু অখ-'আদ্-ইয্ আন্যার ক্বওমাহূ বিল্আহ্ক্ব-ফি অ ক্বদ্ খলাতিননুযুরু মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অমিন্ খল্ফিহী য় আল্লা-তা'বুদূ য় ইল্লাল্লা-হ্ ইন্নী য় আখ-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।
স্মরণ করো, আদ জাতির ভাই (হুদের) কথা, সে তার আহকাফবাসী জাতিকে সতর্ক করেছিল। তার আগে পরেও সতর্ককারীরা বিগত হয়েছিল। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা ছাড়া আর কারো ইবাদত করোনা। আমি তোমাদের উপর এক কঠিন দিনের আযাবের আশংকা করছি।’
আ’দ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের কথা স্মরণ করুন, তার পূর্বে ও পরে অনেক সতর্ককারী গত হয়েছিল সে তার সম্প্রদায়কে বালুকাময় উচ্চ উপত্যকায় এ মর্মে সতর্ক করেছিল যে, তোমরা ব্যতীত কারও এবাদত করো না। আমি তোমাদের জন্যে এক মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।
ক্ব-লূ য় আজ্বিতানা- লিতা'ফিকানা-'আন্ আ-লিহাতিনা-ফাতিনা-বিমা-তা'ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।
তারা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদেরকে আমাদের ইলাহ্দের (দেব - দেবীর) পূজা উপাসনা থেকে বারণ করতে এসেছো? তুমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তাহলে আমাদেরকে যে জিনিসের ভয় দেখাচ্ছো, তা এনে দেখাও।’
তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্য দেব - দেবী থেকে নিবৃত্ত করতে আগমন করেছ? তুমি সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে বিষয়ের ওয়াদা দাও, তা নিয়ে আস।
ক্ব-লা ইন্নামাল্ 'ইল্মু 'ইন্দা ল্লা-হি অ উবাল্লিগুকুম্ মা য় র্উসিল্তু বিহী অলা-কিন্নী য় অর-কুম্ ক্বওমান্ তাজহালূন্।
সে বলেছিল: ‘সে জিনিসের এলেম তো কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমাকে যে জিনিস নিয়ে পাঠানো হয়েছে আমি তোমাদেরকে কেবল সেই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছি। কিন্তু আমি দেখছি, তোমরা তো একটি জাহেল কওম।
সে বলল, এ জ্ঞান তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছি, তা তোমাদের কাছে পৌঁছাই। কিন্তু আমি দেখছি তোমরা এক মুর্খ সম্প্রদায়।
ফালাম্মা রয়াওহু 'আ-রিদোয়াম্ মুস্তাক্বিবলা আও দিয়াতিহিম্ ক্ব-লূ হা-যা 'আ-রিদুম্ মুম্ত্বিরুনা- বাল্ হুওয়া মাস্তা'জ্বাল্তুম্ বিহ্ রীহুন্ ফীহা-'আযা-বুন্ আলীম্।
তারপর তারা যখন তাদের উপত্যকাসমূহের দিক থেকে মেঘ আসতে দেখলো, তখন তারা বললো: ‘এতো মেঘ, এখন আমাদের এখানে বৃষ্টিপাত হবে।’ হুদ বললো: ‘না, বরং এই তো সেই জিনিস, তোমরা যার ব্যাপারে তাড়াহুড়া করছিলে। এ হলো সেই ঝড় যাতে রয়েছে বেদনাদায়ক আযাব।’
(অতঃপর) তারা যখন শাস্তিকে মেঘরূপে তাদের উপত্যকা অভিমুখী দেখল, তখন বলল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।
তুদাম্মিরু কুল্লা শাইয়িম্ বিআম্রি রব্বিহা-ফাআছ্বাহূ লা-ইয়ূর য় ইল্লা-মাসা-কিনুহুম্ কাযা-লিকা নাজযিল্ ক্বওমাল্ মুজুরিমীন্।
এ ঝড় আল্লাহর নির্দেশে ধ্বংস করে দেবে সবকিছুই। তারপর যখন সকাল হলো, তখন বসতি ছাড়া সেখানে আর কিছুই ছিলনা। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি অপরাধীদের।
তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে। অতঃপর তারা ভোর বেলায় এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতিগুলো ছাড়া কিছুই দৃষ্টিগোচর হল না। আমি অপরাধী সম্প্রদায়কে এমনিভাবে শাস্তি দিয়ে থাকি।
অলাক্বদ্ মাক্কান্না-হুম্ ফীমা য় ইঁম্মাক্কান্না-কুম্ ফীহি অজ্বা'আল্না-লাহুম্ সাম্'আওঁ অ আব্ছোয়া-রঁও অআফ্য়িদাতান্ ফামা য় আগ্না 'আন্হুম্ সাম্উ'হুম্ অলা য় আব্ছোয়া-রুহুম্ অলা য় আফ্য়িদাতুহুম্ মিন্ শাইয়িন্ ইয্ কা-নূ ইয়াজহাদূনা বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি অহা-ক্বা বিহিম্ মা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
আমরা তাদেরকে যতোটা প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, তোমাদের ততোটা প্রতিষ্ঠা দেইনি। আমরা তাদের দিয়েছিলাম শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তর। কিন্তু তাদের শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তর তাদের কোনো কাজেই আসেনি, যেহেতু তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে করেছিল অস্বীকার। ফলে তাদের পরিবেষ্টন করে নিয়েছিল সেই জিনিস, যা নিয়ে তারা করতো বিদ্রুপ।
আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে ক্ষমতা দিয়েছিলাম, যে বিষয়ে তোমাদেরকে ক্ষমতা দেইনি। আমি তাদের দিয়েছিলাম, কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয়, কিন্তু তাদের কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় তাদের কোন কাজে আসল না, যখন তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করল এবং তাদেরকে সেই শাস্তি গ্রাস করে নিল, যা নিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করত।
অ লাক্বদ্ আহ্লাক্না-মা-হাওলাকুম্ মিনাল্ কুরা-অছোর্য়ারফ্নাল্ আ-ইয়া-তি লা'আল্লাহুম্ ইয়ারজ্বি'ঊন্।
আমরা তোমাদের চারপাশের জনপদসমূহ ধ্বংস করে দিয়েছিলাম এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে আমাদের নিদর্শনাবলি বর্ণনা করেছিলাম, যাতে করে তারা ফিরে আসে।
আমি তোমাদের আশপাশের জনপদ সমূহ ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বার বার আয়াতসমূহ শুনিয়েছি, যাতে তারা ফিরে আসে।
ফালাওলা নাছোয়ার হুমুল্লাযী নাত্ তাখাযূ মিন্ দূনিল্লা-হি কুরবা-নান্ আ-লিহাহ্ বাল্ দ্বোয়াল্লূ 'আন্হুম্ অযা-লিকা ইফ্কুহুম্ অমা- কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।
তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উদ্দেশ্যে, আল্লাহর পরিবর্তে যেসব ইলাহ্ গ্রহণ করেছিল, তারা (সেসব ইলাহ্) তাদের সাহায্য করলোনা কেন? বরং তখন তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। তাদের মিথ্যা ও মনগড়া খোদাদের অবস্থা এ রকমই।
অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়।
অইয্ ছোয়ারফ্না য় ইলাইকা নাফারম্ মিনাল্ জ্বিন্নি ইয়াস্ তামি'ঊনাল্ কুরআ-না ফালাম্মা- হাদ্বোয়ারূহু ক্ব-লূ য় আন্ছিতূ ফালাম্মা-কুদ্বিয়া অল্লাওঁ ইলা-ক্বওমিহিম্ মুন্যিরীন্।
স্মরণ করো, আমরা একদল জিনকে তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম। তারা কুরআন শুনছিল। যখন তারা সেখানে হাজির হয়েছিল, তারা বলেছিল: ‘নীরব থাকো, শুনো।’ যখন কুরআন পাঠ শেষ হলো, তখন তারা ফিরে গেলো তাদের কওমের কাছে সতর্ককারী হিসেবে।
যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কোরআন পাঠ শুনছিল,। তারা যখন কোরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল।
ক্ব-লূ ইয়া-ক্বওমানা য় ইন্না-সামি'না-কিতা-বান্ উন্যিলা মিম্ বা'দি মূসা- মুছোয়াদ্দিক্বাল্ লিমা-বাইনা ইয়াদাইহি ইয়াহ্দী য় ইলাল্ হাকক্বি অইলা-ত্বোয়ারী ক্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
তারা গিয়ে বলেছিল: ‘‘হে আমাদের কওম! আমরা এমন একটি কিতাবের (কুরআনের) পাঠ শুনেছি, যা নাযিল হয়েছে মূসার পরে, এ কিতাব তার পূর্ববর্তী কিতাবকে সত্যায়ন করে এবং পথ দেখায় সত্যের দিকে ও সরল সঠিক পথের দিকে।
তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত করে।
ইয়া-ক্বওমানা য় আজ্বীবূ দা-ইয়াল্লা-হি অ আ-মিনূ বিহী ইয়াগ্ফিরলাকুম্ মিন্ যুনূবিকুম্ অ ইয়ুর্জ্বিকুম্ মিন্ আযা-বিন্ আলীম্।
হে আমাদের কওম! আল্লাহর দিকে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দাও এবং ঈমান আনো তার প্রতি, তিনি ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের পাপসমূহ এবং তোমাদের রক্ষা করবেন বেদনাদায়ক আযাব থেকে।’’
হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন।
অ মাল্ লা-ইয়ুজ্বিদা-'ইয়াল্লা-হি ফালাইসা বিমু'জ্বিযিন্ ফিল্ র্আদ্বি অলাইসা লাহূ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া-য়্ উলা য় য়িকা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
যে আল্লাহর দিকে আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহর সিদ্ধান্ত ব্যর্থ করতে পারবে না। তার জন্যে আল্লাহর পরিবর্তে কোনো সাহায্যকারীও থাকবে না। এরাই রয়েছে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।
আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মানবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারক করতে পারবে না এবং ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরনের লোকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
আওয়ালাম্ ইয়ারও আন্না ল্লা-হাল্ লাযী খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া অলাম্ ইয়া'ইয়া বিখল্ক্বিহিন্না বিক্ব-দিরিন্ 'আলা য় আইঁ ইয়ুহ্ ইয়িইয়াল্ মাউতা- বালা য় ইন্নাহূ 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।
তারা কি দেখেনা যে, আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী এবং এসবের সৃষ্টিতে তিনি কোনো প্রকার ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতকে জীবিত করতেও সক্ষম। হাঁ, তিনি প্রতিটি বিষয়েই সর্বশক্তিমান।
তারা কি জানে না যে, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তিবোধ করেননি, তিনি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম? কেন নয়, নিশ্চয় তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
অইয়াওমা ইয়ু'রাদুল্ লাযীনা কাফারূ 'আলান্নার্- আলাইসা হা-যা-বিল্হাক্ব্ ক্ব-লূ বালা-অ রব্বিনা- ক্ব-লা ফাযূ কুল্ 'আযা-বা বিমা-কুন্তুম্ তাক্ফুরূন্।
যেদিন কাফিরদের উপস্থিত করা হবে জাহান্নামের কিনারে, তখন তাদের বলা হবে: ‘এ (জাহান্নাম) কি সত্য নয়?’ তারা বলবে: ‘হাঁ, আমাদের প্রভুর শপথ, এটা সত্য।’ বলবেন: ‘তোমাদের কুফুরি করার কারণে তোমরা আস্বাদন করো আযাব।’
যেদিন কাফেরদেরকে জাহান্নামের সামনে পেশ করা হবে, সেদিন বলা হবে, এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হঁ্যা আমাদের পালনকর্তার শপথ। বলবেন, আযাব আস্বাদন কর। কারণ, তোমরা করতে।
ফার্ছ্বি কামা-ছোয়াবারা উলুল্ 'আয্মি মির্না রুসুলি অলা-তাস্তা'জ্বিল্ লাহুম্ কায়ান্নাহুম্ ইয়াওমা ইয়ারওনা মা-ইয়ূ'আদূনা লাম্ ইয়াল্বাছূ য় ইল্লা-সা-'আতাম্ মিন্ নাহার্- বালা-গুন্ ফাহাল্ ইয়ুহ্লাকু ইল্লাল্ ক্বওমুল্ ফা-সিকুন্।
তুমি সবর অবলম্বন করো, যেমন সবর অবলম্বন করেছিল দৃঢ়তা অবলম্বনকারী রসূলরা। তুমি তাদের (কাফিরদের) ব্যাপারে তাড়াহুড়া করোনা। তাদেরকে যে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে সে জিনিসটা যেদিন তারা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে, তারা যেনো দিনের ঘণ্টাখানেকের বেশি পৃথিবীতে অবস্থান করেনি। এটি (এই কুরআন) একটি সুস্পষ্ট বার্তা। ফাসিকদের (সীমালংঘনকারীদের) ছাড়া কাউকেও কি ধ্বংস করা হবে?
অতএব, আপনি সবর করুন, যেমন উচ্চ সাহসী পয়গম্বরগণ সবর করেছেন এবং ওদের বিষয়ে তড়িঘড়ি করবেন না। ওদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হত, তা যেদিন তারা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা দিনের এক মুহুর্তের বেশী পৃথিবীতে অবস্থান করেনি। এটা সুস্পষ্ট অবগতি। এখন তারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে, যারা পাপাচারী সম্প্রদায়।