বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বাদ্ আফ্লাহাল্ মুমিনূন্।
সফল হয়েছে মুমিনরা,
মুমিনরা অবশ্য সাফল্যলাভ করেই চলছে, - -
Chapter 23, 118 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বাদ্ আফ্লাহাল্ মুমিনূন্।
সফল হয়েছে মুমিনরা,
মুমিনরা অবশ্য সাফল্যলাভ করেই চলছে, - -
আল্লাযীনা হুম্ ফী ছলা-তিহিম্ খা-শি'ঊন্।
যারা তাদের সালাতে হয় বিনীত,
যারা স্বয়ং তাদের নামাযে বিনয় - নম্র হয়,
অল্লাযীনা হুম্ 'আনিল্লাগ্ওয়ি মু'রিদ্বূন্।
যারা অর্থহীন কথাবার্তা থেকে থাকে বিরত,
আর যারা অসার ক্রিয়াকলাপ থেকে নিজেরাই সরে থাকে,
অল্লাযীনা হুম্ লিয্যাকা-তি ফা-'ইলূন্।
যারা আত্মোন্নয়নে থাকে সক্রিয়,
আর যারা স্বয়ং যাকাতদানে করিতকর্মা,
অল্লাযীনা হুম্ লিফুরূজ্বিহিম্ হা-ফিজূন্।
যারা নিজেদের যৌন জীবনকে করে হিফাযত,
আর যারা নিজেরাই তাদের আঙ্গিক কর্তব্যাবলী সম্পর্কে যত্নবান, - -
ইল্লা 'আলায় আয্ওয়া-জ্বিহিম্ আও মা- মালাকাত্ আইমা-নু হুম্ ফাইন্নাহুম্ গইরু মালূমীন্।
নিজেদের স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত দাসীদের ছাড়া, তাতে তারা হবেনা তিরস্কৃত।
তবে নিজেদের দম্পতি অথবা তাদের ডানহাতে যাদের ধরে রেখেছে তাদের ছাড়া, কেননা সেক্ষেত্রে তারা নিন্দনীয় নহে,
ফামানিব্তাগ- অর-য়া যা-লিকা ফাউলা-য়িকা হুমুল্ আ'দূন্।
কিন্তু যারা এ ছাড়া অন্য কাউকেও কামনা করবে, তারা অবশ্যি গণ্য হবে সীমালঙ্ঘনকারী বলে।
কিন্ত যে এর বাইরে যাওয়া কামনা করে তাহলে তারা নিজেরাই হবে সীমালংঘনকারী।
অল্লাযীনা হুম্ লিআমা-না-তি হিম্ অ'আহ্দিহিম্ র-'ঊন্।
আর তারা রক্ষা করে নিজেদের আমানত ও অংগীকার,
আর যারা স্বয়ং তাদের আমানত সন্বন্ধে ও তাদের অংগীকার সন্বন্ধে সজাগ থাকে,
অল্লাযীনা হুম্ 'আলা-ছলাওয়া-তিহিম্ ইয়ুহা-ফিজূন্।
তাছাড়া তারা যত্নবান থাকে তাদের সালাতের প্রতি,
আর যারা নিজেরা তাদের সন্বন্ধে সদা - যত্নবান।
উলা-য়িকা হুমুল্ ওয়া-রিছূন্।
এরাই হবে ওয়ারিশ।
তারা নিজেরাই হবে পরম সেভাগ্যের অধিকারী, - -
আল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল্ র্ফিদাউস্ হুম্ ফীহা-খ-লিদূন্।
তারা ওয়ারিশ হবে ফেরদাউসের এবং সেখানেই হবে তারা চিরস্থায়ী।
যারা উত্তরাধিকার করবে বেহেশত, তাতে তারা থাকবে স্থায়ীভাবে।
অলাক্বদ্ খলাক্বনাল্ ইন্সা-না মিন্ সুলা-লাতিম্ মিন্ ত্বীন্।
আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি মাটির উপাদান থেকে,
আর আমরা নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করেছি কাদার নির্যাস থেকে,
ছুম্মা জ্বা'আল্না- হু নুত্ব্ ফাতান্ ফী ক্বর-রিম্ মাকীন্।
তারপর তাকে আমরা নোতফা (শুক্রবিন্দু) হিসেবে স্থাপন করি এক নিরাপদ দুর্গে।
তারপর আমরা তাকে বানাই শুক্রকীট এক নিরাপদ অবস্থান স্থলে,
ছুম্মা খলাক্বনান্ নুত্বফাতা 'আলাক্বতান্ ফাখলাক্বনাল্ 'আলাক্বতা মুদ্ব্গতান্ ফাখলাক্বনাল্ মুদ্ব্গতা 'ইজোয়া- মান্ ফাকাসাওনাল্ 'ইজোয়া-মা লাহ্মান্ ছুম্মা আন্শানা-হু খল্ক্বন্ আ-র্খ ফাতাবা-রকাল্লা-হু আহ্সানুল্ খ-লিক্বীন্।
তারপর আমরা নোতফাকে রূপান্তরিত করি আলাকা - তে (শক্তভাবে আঁটকে থাকা জিনিসে), তারপর আলাকা - কে রূপান্তরিত করি মুদগায় (পিন্ডতে), তারপর মুদগাকে রূপান্তরিত করি হাড় - অস্থিতে, তারপর হাড় - অস্থিকে ঢেকে দেই গোশ্ত দিয়ে, তারপর আমরা তাকে বানিয়ে নিই অন্য এক সৃষ্টি। সুতরাং সর্বোত্তম স্রষ্টা কতো যে বরকতওয়ালা!
তারপর আমরা শুক্রকীটটিকে বানাই একটি রক্তপিন্ড, তারপর রক্তপিন্ডকে আমরা বানাই একটি মাংসের তাল, তারপর মাংসের তালে আমরা সৃষ্টি করি হাড়গোড়, তারপর হাড়গোড়কে আমরা ঢেকে দিই মাংসপেশী দিয়ে, তারপরে আমরা তাকে পরিণত করি অন্য এক সৃষ্টিতে। সেইজন্য রই অপার মহিমা, কত শ্রেষ্ঠ এই স্রষ্টা!
ছুম্মা ইন্নাকুম্ বা'দা যা-লিকা লামাইয়্যিতূন্।
এরপর অবশ্যি তোমাদের মৃত্যু হবে।
তারপর নিঃসন্দেহ তোমরা এর পরে তো মৃত্যু বরণ করবে।
ছুম্মা ইন্নাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি তুব্'আছূ ন্।
তারপর তোমরা পুনরুত্থিত হবে কিয়ামতের দিন।
তারপর তোমাদের অবশ্যই কিয়ামতের দিনে পুনরুত্থিত করা হবে।
অ লাক্বদ্ খলাক্বনা-ফাওক্বকুম্ সাব্'আ ত্বোয়া-রইকা-অমা-কুন্না- 'আনিল্ খল্ক্বি গফিলীন্।
আমরা তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সাতটি স্তর (আকাশ), সৃষ্টি সম্পর্কে আমরা গাফিল নই।
আর আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের উপরে সৃষ্টি করেছি সাতটি পথ, আর সৃষ্টি সন্বন্ধে আমরা কখনও উদাসীন নই।
অ আন্যালনা- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়াম্ বিক্বদারিন্ ফাআস্কান্না-হু ফিল্ র্আদ্বি অইন্না-আলা যাহা- বিম্ বিহী লাক্ব-দিরূন্।
আর আমরা নাযিল করেছি আসমান থেকে পানি পরিমাণ মাফিক। সেই পানিকে আমরা সংরক্ষণ করেছি মাটিতে। আবার সে পানি আমরা নিয়ে যেতেও সক্ষম।
আর আমরা আকাশ থেকে বর্ষণ করি পানি একটি পরিমাপ মতো, তারপর আমরা তাকে মাটিতে সংরক্ষিত করি, আর নিঃসন্দেহ আমরা তা সরিয়ে নিতেও সক্ষম।
ফাআন্শানা লাকুম্ বিহী জ্বান্না-তিম্ মিন্ নাখীলিওঁ অ আ'নাব্। লাকুম্ ফীহা-ফাওয়া-কিহু কাছীরাতুওঁ অমিন্হা-তাকুলূন্।
অত:পর সেই পানি দিয়ে আমরা তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান, তাতে তোমাদের জন্যে হয় প্রচুর ফলন। তা থেকেই তোমরা খাও।
তারপর তার দ্বারা আমরা তোমাদের জন্য সৃষ্টি করি খেজুরের ও আঙুরের বাগানসমূহ। তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে প্রচুর ফলফসল, আর তা থেকে তোমরা খাওয়া - দাওয়া করো।
অ শাজ্বারাতান্ তাখ্রুজু মিন্ তুরি সাইনা-য়া তাম্বুতু বিদ্দুহ্নি অ ছিব্গিল্লিল্ আ-কিলীন্।
আমরা এক ধরনের গাছ সৃষ্টি করেছি, তা জন্মায় সিনাই পর্বতে। তাতে উৎপন্ন হয় তেল এবং ভোক্তাদের জন্যে ব্যঞ্জন।
আর গাছ যা জন্মে সিনাই পাহাড়ে, তা উৎপাদন করে তেল ও জেলি আহারকারীদের জন্য।
অ ইন্না লাকুম্ ফিল্ আন্'আ-মি লা'ইব্রহ্ নুস্ক্বীকুম্ মিম্মা-ফী বুতুনিহা-অলাকুম্ ফীহা-মানা-ফি'উ কাছীরাতুঁও অ মিন্হা- তাকুলূন্।
তোমাদের জন্যে গবাদি পশুতে রয়েছে শিক্ষার বিষয়। তাদের পেটে যা (যে দুধ) আছে তা থেকে আমরা তোমাদের পান করাই। তা ছাড়া সেগুলোর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্যে অনেক রকম উপকারিতা। আর তোমরা খেয়ে থাকো সেগুলো থেকে (সেগুলোর গোশত)।
আর নিঃসন্দেহ গবাদি - পশুতে তোমাদের জন্য রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়। আমরা তোমাদের পান করতে দিই তাদের পেটের মধ্যে যা আছে তা থেকে, আর তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য আছে প্রচুর উপকারিতা, আর তাদের থেকে তোমরা খাও,
অ 'আলাইহা-অ'আলাল্ ফুল্কি তুহ্মালূন্।
সেগুলোতে এবং নৌযানে তোমরা আরোহন করে থাকো।
আর তাদের উপরে এবং জাহাজে তোমাদের বহন করা হয়।
অ লাক্বদ্ র্আসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বওমিহী ফাক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি' বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ আফালা-তাত্তাকুন্।
আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
আর আমরা অবশ্যই নূহকে তাঁর স্বজাতিক কাছে পাঠিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ''হে আমার স্বজাতি! তোমরা র উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য নেই। তোমরা কি তবুও ভক্তি - শ্রদ্ধা করবে না?’’
ফাক্বা-লাল্ মালায়ুল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বাওমিহী মা-হাযা য় ইল্লা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ুরীদু আইঁ ইয়াতাফাদ্দোয়ালা 'আলাইকুম্ অলাও শা-য়াল্লা-হু লাআন্যালা মালা-য়িকাতাম্ মা- সামি'না বিহা-যা-ফী য় আ-বা-য়িনাল্ আউয়ালীন্।
তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘‘এ তো তোমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া কিছু নয়। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব পেতে চায়। (রসূল পাঠাতে) চাইলে অবশ্যি ফেরেশতা পাঠাতেন। আমাদের আগেকার লোকদের সময় এ রকম ঘটনা ঘটেছে বলে তো আমরা শুনিনি।
তখন তাঁর স্বজাতির মধ্যে যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের প্রধানরা বললে - - ''সে তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়, সে তোমাদের উপরে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বস্তুতঃ যদি চাইতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্তাদের পাঠাতে পারতেন। আমরা তো পূর্ববর্তীকালের আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যে এমনটা শুনি নি।
ইন্ হুঅ ইল্লা-রাজুলুম্ বিহী জিন্নাতুন্ ফাতারব্বাছূ বিহী হাত্তা-হীন্।
সে আসলে একজন জিনে ধরা লোক। তোমরা এ ব্যাপারে কিছুদিন অপেক্ষা করো।’’
''সে তো একজন মানুষ মাত্র যাকে ভূতে ধরেছে, কাজেই কিছুকাল তাকে সহ্য ক’রে চল।’’
ক্ব-লা রব্বিন্ র্ছুনী বিমা-কায্যাবূন্।
তখন সে বলেছিল: ‘আমার প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, কারণ তারা তো আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে সাহায্য করো তারা আমার প্রতি যা মিথ্যারোপ করছে সেজন্য।’’
ফাআওহাইনা য় ইলাইহি আনিছ্ না'ঈল্ ফুল্কা বি-আ'ইয়ুনিনা-অ ওয়াহ্য়িয়েনা- ফাইযা-জ্বা-য়া আম্রুনা-অফা-রত্তান্ নূরু ফাস্লুক্ ফীহা-মিন্ কুল্লিন্ যাওজ্বাইনিছ্ নাইনি অ আহ্লাকা ইল্লা-মান্ সাবাক্ব 'আলাইহিল্ ক্বওলু মিন্হুম্ অলা-তুখা-ত্বিব্নী ফিল্লাযীনা জোয়ালামূ ইন্নাহুম্ মুগ্রাকুন্।
তখন আমরা তাকে অহি পাঠিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমাদের তত্ত্বাবধানে আমাদের অহি অনুযায়ী একটি নৌযান তৈরি করো। যখন আমাদের নির্দেশ এসে যাবে এবং চুলা উথলে পানি উঠবে, তখন প্রত্যেক ধরনের জীব জানোয়ার একেক জোড়া উঠিয়ে নিয়ো এবং তোমার পরিবার পরিজনকেও নিয়ো, তাদেরকে ছাড়া, যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব সিদ্ধান্ত রয়েছে। যারা যুলুম করেছে তাদের ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করোনা, কারণ তারা নিমজ্জিত হবেই।
কাজেকাজেই আমরা তাঁর কাছে প্রত্যাদেশ পাঠালাম এই বলে - - ''আমাদের চোখের সামনে এবং আমাদের প্রত্যাদেশ মোতাবেক জাহাজটি তৈরি কর, তারপর আমাদের নির্দেশ যখন আসবে ও পানি উথলে উঠবে তখন তাতে উঠিয়ে নাও হরেক রকমের জোড়ায় - জোড়ায়, দুটি ক’রে, আর তোমার পরিবার পরিজনকে, - - তাদের মধ্যের যার বিরুদ্ধে বক্তব্য ঘোষিত হয়েছে তাকে ব্যতীত আর যারা অন্যায়াচরণ করেছে তাদের সন্বন্ধে তুমি আমার কাছে বলাবলি করো না। তারা তো নিমজ্জিত হবেই।
ফাইযাস্ তাওয়াইতা আন্তা অমাম্ মা'আকা 'আলাল্ ফুল্কি ফাকুলিল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্লাযী নাজ্জ্বানা-মিনাল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
অত:পর তুমি এবং তোমার সাথিরা যখন নৌযানে উঠে আসন গ্রহণ করবে, তখন বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের নাজাত দিয়েছেন যালিম কওম থেকে!’
''আর যখন তুমি জাহাজে আরোহণ করবে, তুমি ও যারা তোমার সাথে রয়েছে তারা তখন বলো - - 'সকল প্রশংসা র যিনি আমাদের উদ্ধার করেছেন অত্যাচারী জাতির থেকে।’
অক্বর রব্বি আন্যিল্নী মুন্যালাম্ মুবা-রকাঁও অআন্তা খইরুল মুন্যিলীন্।
আরো বলবে: ‘আমার প্রভু! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতরণের স্থানে, তুমিই তো অবতরণের জন্যে সর্বোত্তম স্থানদানকারী।’
''আর বলো - - 'আমার প্রভু! আমাকে পুণ্যময় অবতরণ করতে দাও, কেননা অবতরণকারকদের মধ্যে তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ’।’’
ইন্না ফী যা-লিকা লা আ-ইয়া-তিঁও অইন্ কুন্না-। লামুব্তালীন্।
এর মধ্যে রয়েছে অনেক নিদর্শন। আমরা তো কেবল তাদের পরীক্ষা করেছিলাম।
নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শন রয়েছে, আর আমরা তো শৃঙ্খলাবদ্ধ করছিলাম।
ছুম্মা আন্শানা-মিম্ বা'দিহিম র্ক্বনান্ আ-খরীন্।
তাদের পর আমরা অন্য একটি প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছিলাম।
তারপর আমরা তাদের পরে পত্তন করেছিলাম অন্য এক বংশকে।
ফার্আসাল্না-ফীহিম্ রাসূ লাম্ মিন্হুম্ আনি' বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গইরুহ্ আফালা- তাত্তাকুন্।
আমরা তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম একজন রসূল। সে তাদের বলেছিল: ‘তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তবু কি তোমরা সতর্ক হবেনা?’
তখন আমরা তাদের মধ্যে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই মধ্যে থেকে একজন রসূল এই বলে - - ''র উপাসনা করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য নেই। তোমরা কি তবে ভক্তি - শ্রদ্ধা করবে না?’’
অক্ব-লাল্ মালায়ূ মিন্ ক্বওমিহিল্ লাযীনা কাফারূ অ কায্যাবূ বিলিক্ব-য়িল্ আ-খিরতি অ আত্রফ্না-হুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তি দ্দুন্ইয়া-মা-হা-যা য় ইল্লা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়াকুলু মিম্মা-তাকুলূনা মিন্হু অইয়াশ্রাবু মিম্মা-তাশ্রাবূন্।
তখন তার কওমের সেইসব প্রধানরা বলেছিল যারা আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছিল এবং যাদেরকে আমরা দিয়েছিলাম পার্থিব জীবনে প্রচুর ভোগের সামগ্রী: ‘‘এতো তোমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়। সে তো তাই খায়, তোমরা যা খাও এবং তাই পান করে, তোমরা যা পান করো।
আর তাঁর স্বজাতির মধ্যের প্রধানরা যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল ও পরকালের মুলাকাতকে অস্বীকার করেছিল এবং এই দুনিয়ার জীবনে আমরা যাদের ভোগ - সার দিয়েছিলাম তারা বললে - - ''এ তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়, তোমরা যা থেকে খাও সেও তা থেকেই খায় এবং তোমরা যা পান কর সেও তা থেকেই পান করে।
অলায়িন্ আত্বোয়া'তুম্ বাশারম্ মিছ্লাকুম্ ইন্নাকুম্ ইযা ল্লাখা-সিরূন্।
তোমরা যদি তোমাদের মতো মানুষের আনুগত্য করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
''আর তোমরা যদি তোমাদের ন্যায় একজন মানুষেরই আজ্ঞা - পালন কর তাহলে তো তোমরা সেই মুহূর্তেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আ ইয়া'ঈদুকুম্ আন্নাকুম্ ইযা- মিত্তুম্ অকুন্তুম্ তুর-বাঁও অঈ'জোয়া-মান্ আন্নাকুম্ মুখ্রজ্বুন্।
সে কি তোমাদের এই ওয়াদা দেয় যে, তোমরা যখন মরে যাবে এবং মাটি ও হাড় - অস্থিতে পরিণত হবে তখনো তোমাদের বের করে আনা হবে?
''সে কি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয় যে যখন তোমরা মারা যাবে এবং তোমরা ধুলোমাটি ও হাড়পাঁজরাতে পরিণত হবে তখন তোমরা বহির্গত হবে?
হাইহা-তা হাইহা-তা লিমা-তূ'আদূন্।
অবসম্ভব, তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অসম্ভব।
''বহুদূর! তোমাদের যা ওয়াদা করা হচ্ছে তা বহুদূর।
ইন্ হিয়া ইল্লা-হাইয়া-তুনাদ্ দুন্ইয়া-নামূতু অ নাহ্ইয়া-অমা-নাহ্নু বিমাব্'ঊছীন্।
আমাদের দুনিয়ার হায়াতই একমাত্র হায়াত, এখানেই আমরা মরি এবং বাঁচি এবং আমরা কখনো পুনরুত্থিত হবোনা।
''আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছুই তো নেই, আমরা মরব আর আমরা বেঁচে আছি, আর আমরা তো পুনরুত্থিত হব না।
ইন্ হুওয়া ইল্লারাজুলু নিফ্তারা-'আলাল্ল-হি কাযিবাঁও অমা-নাহ্নু লাহূ বিমু'মিনীন্।
সে তো এমন একজন ব্যক্তি, যে মিথ্যা রচনা করে নিয়ে আল্লাহর নামে চালায়। আমরা তাকে বিশ্বাস করবোনা।’’
''সে একজন মানুষ বৈ তো নয় যে সন্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে, আর আমরা তো তার প্রতি আস্থাবান হতে পারছি না।’’
ক্ব-লা রব্বিন্ র্ছুনী বিমা-কায্যাবূন্।
(তখন) সে বললো: ‘প্রভু! আমাকে সাহায্য করো, তারা আমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে তুমি সাহায্য করো যেহেতু তারা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করছে।’’
ক্ব-লা 'আম্মা -ক্বলীলিল্ লাইয়ুছ্বিহুন্না না-দিমীন্।
() বললেন: ‘অল্প কিছুদিন পরেই তারা অনুতপ্ত হবে।’
তিনি বললেন - - ''অল্পক্ষণের মধ্যেই তারা আলবৎ অনুতাপ করতে থাকবে।’’
ফাআখযাত্ হুমুছ্ ছোয়াইহাতু বিল্হাক্বক্বি ফাজ্বা'আল্না-হুম্ গুছা-য়ান্ ফাবু'দাল্লিল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
পরে বাস্তবিকই এক প্রচন্ড শব্দ আঘাত হানে তাদের উপর। ফলে আমরা তাদের বানিয়ে দিলাম তরঙ্গ বিধ্বস্ত আবর্জনার স্তূপের মতো। এভাবেই দূর হয়ে গেলো যালিম কওম।
কাজেই এক মহাগর্জন তাদের পাকড়াও করল সঙ্গতভাবেই, আর আমরা তাদের বানিয়ে দিলাম আবর্জনা, তাই দূর হ’ল অত্যাচারী জাতি!
ছুম্মা আন্শানা-মিম্ বা'দিহিম্ কুরূনান্ আ-খরীন্।
তাদের পরে আমরা সৃষ্টি করেছি আরো অনেক প্রজন্ম।
তারপর আমরা তাদের পরে পত্তন করলাম অন্যান্য বংশদের।
মা-তাস্বিকু মিন্ উম্মাতিন্ আজ্বালাহা-অমা-ইয়াস্ তাখিরূন্।
কোনো উম্মতই তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কে ত্বরান্বিতও করতে পারেনা এবং অতিক্রমও করতে পারেনা।
কোনো সম্প্রদায়ই তার নির্ধারিত কাল ত্বরান্বিত করতে পারবে না, আর তা বিলন্বিত করতেও পারবে না।
ছুম্মা র্আসাল্না-রুসুলানা-তাত্র- কুল্লামা- জ্বা-য়া উম্মার্তা রসূলুহা-কায্যাবূহু ফাআত্বা'না-বা'দ্বোয়াহুম্ বা'দ্বোয়াঁও অজ্বা'আল্না-হুম্ আহা-দীছা ফাবু'দাল্ লিক্বাওমিল্লা-ইয়ুমিনূন্।
তারপর আমরা একের পর এক রসূল পাঠিয়েছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তারা তাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আমরা তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি একের পর এক এবং তাদের বানিয়ে দিয়েছি ইতিহাসের আলোচ্য বিষয়। ধ্বংস হোক সেইসব লোক যারা ঈমান আনেনা।
তারপর আমরা একের পর এক আমাদের রসূলগণকে পাঠিয়েছিলাম। যখনই কোনো সম্প্রদায়ের কাছে তার রসূল এসেছিলেন, তাঁকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই আমরা তাদের একদলকে অন্য দলের পশ্চাদ্ধাবন করিয়েছিলাম, আর তাদের বানিয়েছিলাম কাহিনী। সুতরাং দূর হ’ তেমন জাতি যারা ঈমান আনে না!
ছুম্মা র্আসাল্না-মূসা-অআখ-হু হা-রূনা বিআ-ইয়া-তিনা-অসুল্ত্বোয়া-নিম্ মুবীন্।
এর পরে পাঠিয়েছি আমরা মূসা এবং তার ভাই হারূণকে আমাদের আয়াত এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে,
তারপর আমরা পাঠালাম মূসা ও তাঁর ভাই হারূনকে আমাদের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট বিধান দিয়ে, - -
ইলা-র্ফি'আওনা অমালায়িহী ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বওমান্ 'আ-লীন্।
ফেরাউন এবং তার (জাতির) নেতাদের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করে। আর তারা ছিলো একটি উদ্ধত কওম।
ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে, কিন্ত তারা অহংকার দেখিয়েছিল এবং তারা ছিল এক উদ্ধত জাতি।
ফাক্ব-লূ য় আনুমিনু লিবাশারইনি মিছ্লিনা-অক্বও মুহুমা-লানা 'আ-বিদূন্।
তারা বলেছিল: ‘আমরা কি আমাদের মতোই দু’জন মানুষের প্রতি ঈমান আনবো যেখানে তাদের সম্প্রদায় (বনি ইসরাঈল) আমাদেরই দাসত্ব করে?’
কাজেই তারা বললে - - ''আমরা কি বিশ্বাস করব আমাদের ন্যায় দুজন মানুষকে, অথচ তাদের স্বজাতি আমাদেরই সেবারত?’’
ফাকায্ যাবূ হুমা-ফাকা-নূ মিনাল্ মুহ্লাকীন্।
তারা তাদের দু’জনকেই প্রত্যাখ্যান করে, ফলে তারা হয়ে গেলো ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।
সেজন্য তারা এদের দুজনকে প্রত্যাখ্যান করল, তার ফলে তারা ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হ’ল।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-মূসাল্ কিতা-বা লা'আল্লাহুম্ ইয়াহ্তাদূন্।
আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, যাতে করে তারা সঠিক পথ পায়।
আর আমরা অবশ্যই মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম যেন তারা সৎপথ অবলন্বন করতে পারে।
অ জ্বা'আল্নাব্না র্মাইয়ামা অ উম্মাহূ য় আ-ইয়াতাঁও অ আ-অইনা-হুমা য় ইলা-রবওয়াতিন্ যা-তি ক্বর-রিঁও অ মা'ঈন্।
আমরা মরিয়মের পুত্র (ঈসা) এবং তার মাকে বানিয়েছিলাম একটি নিদর্শন। আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম এক নিরাপদ ও ঝরণা বিশিষ্ট টিলায়।
আর আমরা মরিয়ম - পুত্র ও তাঁর মাতাকে করেছিলাম এক নিদর্শন, এবং তাঁদের উভয়কে আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম তৃণাচ্ছাদিত ও ঝরনা - রাজিতে ভরা এক পার্বত্য - উপত্যকায়।
ইয়া য় আইয়ুর্হা রুসুলু কুলূ মিনাত্ব ত্বোয়াইয়্যিবা-তি ওয়া'মালূ ছোয়া-লিহা- ইন্নী বিমা-তা'মালূনা 'আলীম্।
হে রসূলরা! তোমরা উত্তম - পবিত্র জিনিস খাও এবং আমলে সালেহ্ করো। তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি জ্ঞাত।
হে প্রিয় রসূলগণ! পবিত্র বস্তু থেকে তোমরা খাওয়া - দাওয়া করো আর ভাল কাজ করো। তোমরা যা করছ সে সন্বন্ধে আমি নিশ্চয়ই সর্বজ্ঞাতা।
অ ইন্না হা-যিহী য় উম্মাতুকুম্ উম্মাতাঁও ওয়া-হিদাতাঁও অআনা রব্বুকুম্ ফাত্তাকুন্।
তোমাদের এই উম্মত মূলত একটিই উম্মত এবং আমিই তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।
আর - - ''নিঃসন্দেহ তোমাদের এই সম্প্রদায় একই সম্প্রদায়, আর আমিই তোমাদের প্রভু, অতএব আমাকেই তোম রা ভক্তিশ্রদ্ধা করো।’’
ফাতাক্ব্ত্ত্বোয়াঊ'য় আম্রহুম্ বাইনাহুম্ যুবুর- কুল্লু হিয্বিম্ বিমা-লাদাইহিম্ ফারিহূন্।
কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের দীনকে বহুধা বিভক্ত করে ফেলেছে, প্রত্যেক উপদলই তাদের কাছে যা আছে, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট।
কিন্ত তারা নিজেদের মধ্যে তাদের অনুশাসন টুকরো - টুকরো ক’রে কেটে ফেলল। প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যেসব রয়েছে তাতেই সন্তষ্ট।
ফার্যাহুম্ ফী গম্রতিহিম্ হাত্তা- হীন্।
সুতরাং কিছুকালের জন্যে তাদেরকে তাদের বিভ্রান্তিতে পড়ে থাকতে দাও।
সেজন্য তাদের থাকতে দাও তাদের বিভ্রান্তিতে কিছুকালের জন্য।
আইয়াহ্সাবূনা আন্নামা-নুমিদ্দুহুম্ বিহী মিম্ মা-লিওঁ অবানীন্।
তারা কি মনে করে যে, আমরা তাদের যে ধনমাল ও সন্তান সন্ততি দিয়ে সাহায্য করছি,
তারা কি ভাবে যে যেহেতু আমরা তাদের মাল - আসবাব ও সন্তান - সন্ততি দিয়ে যাচ্ছি, - -
নুসা-রিউ' লাহুম্ ফিল্ খইর-ত্ বাল্ লা-ইয়াশ্'ঊরূন্।
তা দিয়ে তাদের কল্যাণ ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝেনা।
আমরা তাদের জন্য মঙ্গলময় বস্তু ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝতে পারছে না।
ইন্নাল্লাযীনা হুম্ মিন্ খশ্ইয়াতি রব্বিহিম্ মুশ্ফিকুন্।
নিশ্চয়ই যারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকে তাদের প্রভুর ভয়ে,
নিঃসন্দেহ যারা খোদ তাদের প্রভুর ভয়ে ভীত - সন্ত্রস্ত,
অল্লাযীনা হুম্ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ ইয়ুমিনূন্।
যারা ঈমান রাখে তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি,
আর যারা স্বয়ং তাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে,
অল্লাযীনা হুম্ বিরব্বিহিম্ লা- ইয়ুশ্রিকূন্।
যারা শিরক করেনা তাদের প্রভুর সাথে,
আর যারা তাদের প্রভুর সঙ্গে শরিক করে না,
অল্লাযীনা ইয়ুতূনা মা য় আ-তাও অকুলূবুহুম্ অজ্বিলাতুন্ আন্নাহুম্ ইলা-রব্বিহিম্ রা-জ্বি'ঊন্।
এবং তাদেরকে যা দান করা হয়েছে, তাদের প্রভুর কাছে ফিরে আসতে হবে এই বিশ্বাসে তা থেকে দান করে ভীত কম্পিত মনে,
আর যারা প্রদান করে যা দেবার আছে, আর তাদের হৃদয় ভীত - কম্পিত যেহেতু তারা তাদের প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, - -
উলা-য়িকা ইয়ুসা-রি'ঊনা ফীল্ খইর-তি অহুম্ লাহা-সা-বিকুন্।
এরাই তৎপর কল্যাণকর কাজে এবং এরাই তাতে অগ্রগামী।
এরাই মঙ্গল সাধনে প্রতিযোগিতা করে, আর এরাই তো এতে অগ্রগামী হয়।
অলা-নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্'আহা-অ লাদাইনা-কিতা-বুঁই ইয়ান্ত্বিকু বিল্হাক্বক্বি অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
আমরা কোনো ব্যক্তির উপরই তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্বের বোঝা চাপাইনা। আমাদের কাছে রয়েছে একটি কিতাব যা সত্য বলে দেয়। আর তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
আর আমরা কোনো সত্ত্বাকে তার ক্ষমতার অতিরিক্ত কষ্ট দিই না, আর আমাদের কাছে আছে একটি গ্রন্থ যা হক কথা বলে দেয়, আর তাদের অন্যায় করা হয় না।
বাল্ কুলূবুহুম্ ফী গম্রতিম্ মিন্ হা-যা-অলাহুম্ আ'মালুম্ মিন্ দূনি যা-লিকা হুম্ লাহা-'আ-মিলূন্।
বরং এ বিষয়ে তাদের কলবগুলো হয়ে রয়েছে অজ্ঞতায় আচ্ছন্ন। এ ছাড়া তাদের আরো অনেক (মন্দ) কাজ আছে, সেগুলো তারা করে থাকে,
কিন্ত তাদের হৃদয় এ ব্যাপারে তালগোল পাকানো অবস্থায় রয়েছে, আর এ ছাড়াও তাদের জন্য রয়েছে অন্যান্য কীর্তিকলাপ যে - সবে তারা করিতকর্মা।
হাত্তা য় ইযায় আখয্না-মুত্রফীহিম্ বিল্'আযা-বি ইযা-হুম্ ইয়াজ্ব ্য়ারূন্।
যতোদিন না আমরা তাদের বিলাসী প্রতিপত্তিশালীদেরকে আযাবের আঘাতে পাকড়াও করি। যখন তা করি তখন তারা আর্তনাদ করতে থাকে।
যে পর্যন্ত না আমরা তাদের মধ্যের সমৃদ্ধিশালী লোকদের শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করি তখনই তারা আর্তনাদ ক’রে ওঠে।
লা- তাজ্ব য়ারুল্ ইয়াওমা ইন্নাকুম্ মিন্না-লা-তুন্ছোয়ারূন্।
(কিয়ামতের দিন তাদের বলা হবে:) আজ আর্তনাদ করোনা। তোমরা কিছুতেই আজ আমাদের সাহায্য পাবেনা।
''আজ আর্তনাদ করো না, নিঃসন্দেহ তোমাদের ক্ষেত্রে - - আমাদের থেকে তোমাদের সাহায্য করা হবে না।
ক্বদ্ কা-নাত্ আ-ইয়া-তী তুত্লা-'আলাইকুম্ ফাকুন্তুম্ 'আলা য় আ'ক্ব-বিকুম্ তান্কিছূন্।
তোমাদের কাছে তো আমাদের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো, তখন তোমরা পেছনে ফিরে কেটে পড়তে,
তোমাদের কাছে আমার বাণীসমূহ অবশ্যই পাঠ করা হত, কিন্ত তোমরা তোমাদের গোড়ালির উপরে মোড় ফিরে চলে যেতে - -
মুস্তাক্বিরীনা বিহী সা-মিরান্ তাহ্জুরূন্।
দাম্ভিকের মতো - এ সম্পর্কে রাত্রে নিরর্থক কল্পকথা বলতে বলতে।
''অহংকারের সাথে, এ ব্যাপারে সারারাত আবোল - তাবোল গল্পগুজব করতে করতে।’’
আফালাম্ ইয়াদ্দাব্বারুল্ ক্বওলা আম্ জ্বা-য়াহুম্ মা-লাম্ ইয়াতি আ-বা-য়াহুমুল্ আউওয়ালীন্।
তারা কি এ বাণী অনুধাবন করার চেষ্টা করেনা, না কি তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?
তবে কি তারা চিন্তা করে না এ বাণী সন্বন্ধে? অথবা তাদের কাছে কি এমন কিছু এসেছে যা তাদের পূর্ববর্তী বাপদাদাদের কাছে আসে নি?
আম্ লাম্ ইয়া'রিফূ রসূলাহুম্ ফাহুম্ লাহূ মুন্কিরূন্।
না কি তারা তাদের রসূলকে চিনতে পারেনা বলে তাকে অস্বীকার করে?
অথবা তারা কি তাদের রসূলকে চিনতে পারছে না যেজন্য তারা তাঁর প্রতি বিমুখ রয়েছে?
আম্ ইয়াকুলূনা বিহী জ্বিন্নাহ্ বাল্ জ্বা-য়া হুম্ বিল্হাকুকি অআক্ছারুহুম্ লিল্হাক্বক্বি কা-রিহূন্।
না কি তারা বলে: ‘সে তো একজন জিনে ধরা লোক?’ না, বরং সে তাদের কাছে ‘হক’ (মহাসত্য) নিয়ে এসেছে এবং তাদের অধিকাংশ লোকই সত্যকে অপছন্দ করে।
অথবা তারা কি বলে যে তাঁকে জিন - ভূতে ধরেছে? বস্তুতঃ তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছেন, কিন্ত তাদের অধিকাংশই সত্য - সন্বন্ধে উদাসীন।
অলা ওয়িত্তাবা'আল্ হাককু আহ্ওয়া-য়াহুম্ লাফাসাদাতিস্ সামাওয়া-তু অল্ র্আদু অমান্ ফীহিন্ বাল্ আতাইনা-হুম্ বিযিক্রি হিম্ ফাহুম্ 'আন্ যিক্রি হিম্ মু'রিদ্বুন্।
সত্য যদি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতো, তাহলে মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে সর্বত্র ফাসাদ সৃষ্টি হয়ে যেতো। বরং আমরা তাদের কাছে পাঠিয়েছি তাদের উপদেশ, আর তারা তাদের উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
আর যদি সত্য তাদের কামনার অনুসরণ করত তবে মহাকাশ - মন্ডলী ও পৃথিবী এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। পক্ষান্তরে আমরা তাদের কাছে তাদের স্মরণীয় বার্তা নিয়ে এসেছি, কিন্ত তারা তাদের স্মারক - গ্রন্থ থেকে বিমুখ থাকে।
আম্ তাস্য়ালুহুম্ র্খাজ্বান্ ফাখর-জু রব্বিকা খাইরুঁও অ হুঅ খাইর্রু র-যিক্বীন্।
তুমি কি তাদের কাছে পারিশ্রমিক চাইছো? তোমার প্রভুর প্রতিদানই তোমার জন্যে উত্তম। তিনিই সর্বোত্তম রিযিকদাতা।
অথবা তুমি কি তাদের কাছ থেকে কোনো প্রতিদান চাইছ। বস্তুতঃ তোমার প্রভুর প্রতিদানই সর্বোত্তম, আর রিযেক - দাতাদের মধ্যে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।
অ ইন্নাকা লাতাদ্'ঊহুম্ ইলা-সির-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
তুমি তো তাদের আহবান করছো সিরাতুল মুস্তাকিমের দিকে।
আর নিঃসন্দেহ তুমি তো তাদের আহ্বান করছ সহজ - সঠিক পথের দিকে।
অ ইন্নাল্ লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা বিল্আ-খিরতি 'আনিছ্ ছির-ত্বি লানাকিবূন্।
যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান আনেনা তারা সেই সিরাত (পথ) থেকে বিচ্যুত।
আর যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা নিঃসন্দেহ পথ থেকে তো বিপথগামী।
অলাও রহিম্না-হুম্ অ কাশাফ্না-মা-বিহিম্ মিন্ দ্বররিল্লালাজ্জু ফী তুগইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।
আমরা যদি তাদের প্রতি রহমত করতাম এবং তাদের দুঃখ দুর্দশাও দূর করে দিতাম, তবু তারা তাদের অবাধ্যতা নিয়েই বিভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতো।
আর আমরা যদি তাদের প্রতি দয়া করি ও দুঃখ - দৈন্যের যা কিছু তাদের রয়েছে তা দূর করে দিই তথাপি তারা তাদের বিভ্রান্তিতে লেগে থাকবে অন্ধ - চক্কর দিতে দিতে।
অলাক্বদ্ আখয্না-হুম্ বিল্'আযা-বি ফামাস্ তাকা-নূ লিববিহিম্ অমা-ইয়াতাদ্বোর্য়ারা'ঊ।
আমরা তাদের আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছি, কিন্তু তখনো তারা তাদের প্রভুর প্রতি বিনত হয়নি এবং বিনয়ের সাথে ফরিয়াদও করেনি তাঁর কাছে।
আর আমরা ইতিপূর্বেই তাদের শাস্তিদ্বারা পাকড়াও করেছি, তথাপি তারা তাদের প্রভুর কাছে বিনত হ’ল না, আর তারা কাকুতি - মিনতিও করল না।
হাত্তা য় ইযা- ফাতাহ্না-'আলাইহিম্ বা-বান্ যা-'আযা-বিন্ শাদীদিন্ ইযা-হুম্ ফীহি মুব্লিসূন্।
অবশেষে যখন আমরা তাদের জন্যে কঠিন আযাবের দুয়ার খুলে দেই, তখন তাতে তারা হতাশ হয়ে পড়ে থাকে।
শেষ পর্যন্ত যখন আমরা তাদের উপরে খুলে দিই কঠিন কঠিন শাস্তি থাকা দরজা তখন তারা হতাশ হয়ে পড়ে।
অ হুওয়াল্লাযী আন্শায়ালাকুমুস্ সাম'আ অল্ আব্ছোয়া-রা অল্ আফ্য়িদাহ্ ক্বলীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।
তিনিই তো তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করে দিয়েছেন কান, চোখ এবং হৃদয়। কিন্তু তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করো।
আর তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের জন্য কান ও চোখ ও অন্তঃকরণ বানিয়ে দিয়েছেন। কিন্ত তোমরা তো অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
অ হুওয়াল্লাযী যারায়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি অ ইলাইহি তুহ্শারূন্।
তিনিই পৃথিবীতে তোমাদের বংশ বিস্তার করে দিয়েছেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদের হাশর (সমবেত) করা হবে।
আর তিনিই সেইজন যিনি পৃথিবীতে তোমাদের বহুগুণিত করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।
অহুওয়াল্লাযী ইয়ুহয়ী অইয়ুমীতু অলাহুখ্তিলা-ফুল্ লাইলি অন্নাহার্- আফালা-তা'ক্বিলূন্।
তিনিই তো হায়াত দান করেন এবং মউত ঘটান। রাত এবং দিনের আবর্তন তাঁরই কর্তৃত্বে। তবু কি তোমরা আকল খাটাবেনা?
আর তিনিই সেইজন যিনি জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর রাত ও দিনের বিবর্তন তাঁরই অধীনে রয়েছে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
বাল্ ক্ব-লূ মিছ্লা মা-ক্ব-লাল্ আউওয়ালূন্।
বরং তারা সে রকমই বলে, যে রকম বলেছে তাদের আগেকার লোকেরা।
এতদসত্ত্বে পূর্ববর্তীরা যেমন বলত তেমনি এরাও বলাবলি করে।
ক্ব-লূ-আইযা-মিত্না-অকুন্না-তুর-বাঁও অ 'ইজোয়া-মান্ আইন্না-লামাব্'ঊছূন্।
তারা বলে: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনর্জীবিত করা হবে?
তারা বললে - - ''কি! আমরা যখন মরে যাই এবং ধুলো - মাটি ও হাড় - পাঁজরাতে পরিণত হই, তখন কি আমরা ঠিকঠিকই পুনরুত্থিত হব?
লাক্বদ্ উ'ইদ্না-নাহ্নু অ আ-বা-য়ুনা-হা-যা-মিন্ ক্বব্লু ইন্ হা-যা য় ইল্লা য় আসা-ত্বীরুল্ আউওয়ালীন্।
আমাদেরকে তো এর ওয়াদা দেয়া হয়েছে এবং এর আগে দেয়া হয়েছে আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও। আসলে এতো সেকালের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।’’
''অবশ্যই এর আগে এটি আমাদের ওয়াদা করা হয়েছিল - - আমাদের কাছে ও আমাদের বাপদাদাদের কাছে। নিঃসন্দেহ এটি সেকালের উপকথা বৈ তো নয়।’’
কুল্ লিমানিল্ র্আদু অমান্ ফীহা য় ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
হে নবী! তাদের জিজ্ঞাসা করো! পৃথিবী এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলো কার, যদি তোমরা জানো, তবে বলো?
তুমি বলো - - ''এই পৃথিবী ও এতে যারা আছে তারা কার, - - যদি তোমরা জানো?’’
সাইয়াকুলূ না লিল্লা-হ্ কুল্ আফালা-তাযাক্কারূন্।
অবশ্যি তারা বলবে: ‘আল্লাহর।’ বলো: ‘তবে কেন শিক্ষা গ্রহণ করোনা?’
তারা তখন বলবে - - ''র!’’ তুমি বল - - ''কেন তবে তোমরা মনোনিবেশ করো না?’’
কুল্ র্মা রব্বুস্ সামা-ওয়া-তিস্ সাব্'ঈ অ রব্বুল্ 'র্আশিল্ 'আজ্বীম্।
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘সাত আকাশ এবং আরশে আযিমের রব কে?’
বল - - ''কে সাত আসমানের প্রভু ও কে আরশের অধিপতি?’’
সাইয়াকুলূনা লিল্লা-হ্ কুল্ আফালা তাত্তাকুন্।
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘ ।’ বলো: ‘তবে কেন তোমরা সতর্ক হওনা?’
তারা সঙ্গে সঙ্গে বলবে - - ''র।’’ তুমি বল - - ''তবে কেন তোমরা ভক্তিশ্রদ্ধা কর না?’’
কুল্ মাম্ বিইয়াদিহী মালাকূতু কুল্লি শাইয়িঁও অহুঅ ইয়ুজ্বীরু অলা-ইয়ুজ্বা-রু 'আলাইহি ইন্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: কার মুষ্টিবদ্ধ রয়েছে সবকিছুর কর্তৃত্ব, যিনি সবাইকে আশ্রয় দেন এবং যাঁর উপর কোনো আশ্রয়দাতা নেই? যদি তোমরা জানো, বলো।
বল - - ''কে তিনি যাঁর হাতে সব - কিছুর কর্তৃত্ব রয়েছে, আর কে নিরাপত্তা প্রদান করেন অথচ তাঁকে নিরাপত্তা প্রদান করতে হয় না, যদি তোমরা জানো?’’
সাইয়াকুলূনা লিল্লা-হ্ কুল্ ফাআন্না-তুস্হারূন্।
অবিলম্বেই তারা বলবে: ‘।’ বলো: ‘তবে কোন্ দিকে তোমরা মোহগ্রস্ত হচ্ছো?’
তারা সঙ্গে সঙ্গে বলবে - - ''র।’’ তুমি বল - - ''তবে কেমন ক’রে তোমাদের সম্মোহন করা হচ্ছে?’’
বাল্ আতাইনা-হুম্ বিল্হাক্বক্বি অইন্নাহুম্ লাকা-যিবূন্।
বরং আমরা তাদের কাছে সত্য পৌঁছে দিয়েছি, কিন্তু তারা অবশ্য অবশ্যি মিথ্যাবাদী।
বস্তুতঃ আমরা তাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছি, কিন্ত তারা তো নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
মাত্ তাখযাল্লা-হু মিওঁ অলাদিঁও অমা-কা-না মা'আহূ মিন্ ইলা-হিন্ ইযাল্লা যাহাবা কুল্লু ইলা-হিম্ বিমা-খলাক্ব অ লা'আলা-বা'দুহুম্ 'আলা-বা'দ্ব্ সুব্হা-না ল্লা-হি 'আম্মা-ইয়াছিফূন্।
কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, তাঁর সাথে আর কোনো ইলাহ্ও নেই। যদি থাকতোই, তবে তো প্রত্যেক ইলাহ্ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে আলাদা হয়ে যেতো এবং তারা একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তারে উঠে পড়ে লাগতো। তারা যা আরোপ করে, তা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহান।
কোনো সন্তান গ্রহণ করেন নি, আর তাঁর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যও নেই, যদি থাকত তবে প্রত্যেক উপাস্য আলবৎ নিয়ে যেত যা - কিছু সে সৃষ্টি করেছে, আর তাদের কেউ - কেউ অন্যদের উপরে প্রাধান্য বিস্তার করত। সকল মহিমা র, তারা যা আরোপ করে তা থেকে তিনি উর্ধ্বে, - -
'আলিমিল্ গইবি অশ্শাহা-দাতি ফাতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।
তিনি গায়েবের জ্ঞানী এবং দৃশ্যেরও। তারা তাঁর সাথে যা শরিক করে তিনি তা থেকে অনেক উপরে।
তিনি ও দৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত, কাজেই তারা যা শরিক করে তিনি সে - সবের বহু উর্ধ্বে?
ক্বর রব্বি ইম্মা-তুরিয়ান্নী মা-ইয়ূ'আদূ ন্।
(হে নবী!) বলো: ‘‘আমার প্রভু! যে (আযাবের) বিষয়ে তাদের ওয়াদা দেয়া হচ্ছে, তা যদি তুমি আমার জীবদ্দশায় সংঘটিত করো,
বলো - - ''আমার প্রভু! যদি তুমি আমাকে দেখতে দাও যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছে, - -
রব্বি ফালা-তাজ্ব্'আল্নী ফিল্ ক্বওমিজ্ জোয়া-লিমীন্।
তবে, হে প্রভু! আমাকে যালিম লোকদের অন্তরভুক্ত করোনা।’’
''আমার প্রভু! তাহলে আমাকে তুমি অত্যাচারী জাতির সঙ্গে স্থাপন করো না।’’
অইন্না-'আলা য় আন্ নুরিয়াকা মা -না'ঈদুহুম্ লাক্ব-দিরূন্।
আমরা তাদের যে বিষয়ের ওয়াদা দিচ্ছি, তা (তোমার জীবদ্দশায়ই) তোমাকে দেখাতে অবশ্যি আমরা সক্ষম।
আর নিঃসন্দেহ তাদের আমরা যা ওয়াদা করেছি তা তোমাকে দেখাতে আমরা অবশ্যই সক্ষম।
ইদ্ফা বিল্লাতী হিয়া আহ্সানুস্ সাইয়িয়াহ্ নাহ্নু আ'লামু বিমা-ইয়াছিফূন্।
মন্দের মুকাবেলায় তাই করো যা সর্বোত্তম। তারা যা আরোপ করে সে বিষয়ে আমরা অধিক জানি।
যা শ্রেষ্ঠ তাই দিয়ে মন্দ বিষয় প্রতিরোধ করো। আমরা ভাল জানি যা তারা আরোপ করে।
অক্বর রব্বি আ'ঊযুবিকা মিন্ হামাযা -তিশ্ শাইয়া-ত্বীন্।
হে নবী! বলো: ‘‘আমার প্রভু! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে।
আর বল - - ''আমার প্রভু! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাইছি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে,
অ আ'ঊ যুবিকা রব্বি আইঁ ইয়াহ্দ্বুরূন্।
আমি তোমার কাছে আরো পানাহ্ চাই আমার কাছে তাদের (শয়তানদের) হাজির হওয়া থেকে।’’
''আর আমার প্রভু! তোমারই কাছে আমি আশ্রয় নিচ্ছি পাছে তারা আমার কাছে হাজির হয়।’’
হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়া আহাদাহুমুল্ মাওতু ক্ব-লা রর্ব্বি জ্বি'ঊন্।
যখন তাদের কারো মউতের সময় এসে পড়ে, তখন সে বলে: ‘‘প্রভু! আমাকে পুনরায় (পৃথিবীতে) পাঠাও।
যে পর্যন্ত না তাদের কারোর কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন সে বলে - - ''আমার প্রভু! আমাকে ফেরত পাঠাও - -
লা'আল্লী য় আ'মালু ছোয়া-লিহান্ ফীমা-তারাক্তু কাল্লা-ইন্নাহা-কালিমাতুন্
যাতে আমি ভালো কাজ করতে পারি, যা আমি আগে করিনি।’’ কখনো নয়, এতো কথার কথা মাত্র। আর তাদের সামনেই আছে বরযখ পুনরুত্থান কাল পর্যন্ত।
''যেন আমি সৎকর্ম করতে পারি সেইখানে যা আমি ছেড়ে এসেছি।’’ কখনোই না! এ তো শুধু একটি মুখের কথা যা সে বলছে। আর তার সামনে রয়েছে 'বরযখ’ সেইদিন পর্যন্ত যখন তাদের পুনরুত্থান করা হবে।
ফাইযা-নুফিখ ফিছ্ ছূরি ফালা য় আন্সা-বা বাইনাহুম্ ইয়াওমায়িযিঁও অলা-ইয়াতাসা-য়ালূন্।
যখন ফুঁ দেয়া হবে শিঙ্গায়, সেদিন তাদের মাঝে আর কোনো বংশীয় বন্ধন থাকবেনা এবং কেউ কারো কথা জিজ্ঞাসাও করবেনা।
তারপর যখন শিঙায় ফুকে দেঁওয়া হবে, তখন তাদের মধ্যে সেইদিন কোনো আত্মীয়তার বন্ধন থাকবে না, আর তারা খোঁজ - খবরও নেবে না।
ফামান্ ছাকুলাত্ মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
তখন ভারি হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারাই হবে সাফল্য অর্জনকারী।
কাজেই যাদের পাল্লা ভারী হবে তারা নিজেরাই তবে হচ্ছে ।
অমান্ খফ্ফাত্ মাওয়াযীনুহূ ফাউলা-য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ ফী জ্বাহান্নামা খ-লিদূন্।
এবং হালকা হবে যাদের (নেকীর) পাল্লা, তারা হলো সেইসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে, চিরকাল থাকবে তারা জাহান্নামে।
আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে এরাই তবে তারা যারা নিজেদের ক্ষতিসাধন করেছে, তারা জাহান্নামে থাকবে দীর্ঘকাল।
তাল্ফাখু উজ্বূ হাহুমুন্না-রু অহুম্ ফীহা-কা-লিহূন।
আগুন দগ্ধ করতে থাকবে তাদের চেহারা এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারা নিয়ে।
আগুন তাদের মুখ পুড়িয়ে দেবে। আর তারা সেখানে হবে বিকৃত - বীভৎস।
আলাম্ তাকুন আ-ইয়া-তী তুত্লা- 'আলাইকুম ফাকুন্তুম্ তুকায্যিবূন্।
(তাদের বলা হবে:) ‘তোমাদের কাছে কি আমাদের আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হতোনা? এবং তোমরা সেটাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতে না?’
''তোমরা কি এমন যে আমার বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পাঠ করা হয় নি, যে - জন্যে তোমরা সে - সব প্রত্যাখ্যান করতে?’’
ক্ব-লূ রব্বানা-গলাবাত্ 'আলাইনা শিক্বওয়াতুনা-অকুন্না- ক্বওমান্ দ্বোয়া-য়ালীন্।
তারা বলবে: ‘‘আমাদের প্রভু! আমাদের বদ নসিব আমাদের উপর বিজয়ী হয়েছে আর মূলতই আমরা ছিলাম একটি বিপথগামী কওম।
তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! আমাদের দুর্দশা আমাদের উপরে প্রভাব বিস্তার করেছিল, এবং আমরা পথভ্রষ্ট জাতি হয়ে গিয়েছিলাম।
রব্বানা য় আখ্রিজ্ব না-মিন্হা-ফাইন্ 'উদ্না- ফাইন্না-জোয়া-লিমূন্।
আমাদের প্রভু! এখন আমাদেরকে এখান থেকে বের করে দাও। এরপরও যদি আমরা কুফুরিতে ফিরে যাই, তবে অবশ্যি আমরা যালিম হিসেবেই গণ্য হবো।’’
''আমাদের প্রভু! এখান থেকে আমাদের বের করে দাও, তখন যদি আমরা ফিরি তাহলে আমরা নিশ্চয়ই অন্যায়কারী হব।’’
ক্ব-লাখ্ সায়ূ ফীহা-অলা-তুকাল্লিমূন্।
তিনি বলবেন: ‘তোমরা এখানেই নিকৃষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকো এবং আমার সাথে তোমরা আর কথা বলোনা।’
তিনি বললেন - - ''এর মধ্যেই তোমরা ঢোকে থাক। আর আমার সঙ্গে কথা বল না।
ইন্নাহূ কা-না ফারীকুম্ মিন্ ই'বা-দী ইয়াকুলূনা রব্বানা য় আ-মান্না- ফার্গ্ফিলানা-র্অহাম্না-অআন্তা খইর্রু র-হিমীন্।
আমার একদল বান্দা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, তাই তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের প্রতি রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’
''নিঃসন্দেহ আমার বান্দাদের মধ্যের একটি দল ছিল যারা বলত, 'আমার প্রভু! আমরা ঈমান এনেছি, কাজেই আমাদের পরিত্রাণ করো, যেহেতু তুমিই তো করুণাময়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ!’
ফাত্তাখয্তুমূহুম্ সিখ্রিয়্যান্ হাত্তা য় আন্সাওকুম্ যিক্রী অকুন্তুম্ মিন্হুম্ তাদ্ব্হাকূন্।
কিন্তু তোমরা তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করতে আর সেই বিদ্রুপ তোমাদেরকে আমার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল। তোমরা তো তাদের নিয়ে হাসি ঠাট্টাই করছিলে।
''কিন্ত তোমরা তাদের হাসি - ঠাট্টার পাত্ররূপে গ্রহণ করেছিলে যে পর্যন্ত না এ - সব তোমাদের ভুলিয়ে দিয়েছিল আমাকে স্মরণ করা, আর তোমরা তাদের নিয়ে উপহাস করে চলেছ।
ইন্নী জ্বাযাইতুহুমুল্ ইয়াওমা বিমা-ছবারূ য় আন্নাহুম্ হুমুল্ ফা-য়িযূন্।
তাদের সবর অবলম্বনের কারণে আমি তাদের এমন জেযা (প্রতিদান) দিয়েছি যে, আজ তারাই ।
''নিঃসন্দেহ তারা যা অধ্যবসায় করত সেজন্য আজকের দিনে আমি তাদের পুরস্কার দান করছি, আর তারা তো নিজেরাই হচ্ছে ।’’
ক্ব-লা কাম্ লাবিছ্তুম্ ফীল্ র্আদ্বি 'আদাদা সিনীন্।
তিনি জিজ্ঞেস করবেন: ‘তোমরা পৃথিবীতে কয় বছর অবস্থান করেছিলে?’
তিনি বলবেন - - ''তোমরা পৃথিবীতে বছর গুনতিতে কতকাল অবস্থান করেছিলে?’’
ক্ব-লূ লাবিছ্না- ইয়াওমান্ আও বা'দ্বোয়া ইয়াওমিন্ ফাস্য়ালিল্ 'আ-দ্দীন্।
তারা বলবে: ‘আমরা সেখানে অবস্থান করেছিলাম একদিন কিংবা দিনের কিছু অংশ। গণনাকারীদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন।’
তারা বলবে - - ''আমরা অবস্থান করেছিলাম একটি দিন বা দিনের কিছু অংশ, আপনি না হয় জিজ্ঞাসা করুন গণনাকারীদের।’’
ক্ব-লা ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা-ক্বলীলা ল্লাওঁ আন্নাকুম্ কুন্তুম্ তা'লামূন্।
তিনি বলবেন: তোমরা অল্পকালই সেখানে অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে!
তিনি বলবেন - - ''তোমরা মাত্র অল্পকালই অবস্থান করেছিলে - - যদি তোমরা জানতে পারতে!’’
আফাহাসিব্তুম্ আন্নামা-খলাক্বনা-কুম্ 'আবাছাঁও অআন্নাকুম্ ইলাইনা-লা-র্তুজ্বা'ঊন্।
তোমরা কি ধরে নিয়েছিলে যে, আমরা বিনা কারণেই তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম? আর তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবেনা ?
''তোমরা কি তবে মনে করেছিলে যে আমরা তোমাদের অনর্থক সৃষ্টি করেছি, এবং আমাদের কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে না?’’
ফাতা'আ-লাল্লা-হুল্ মালিকুল্ হাককুলা য় ইলা-হা ইল্লা-হু অ রব্বুল্ 'আরশিল্ ক্বরীম্।
অতীব মহান প্রকৃত সম্রাট, কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সম্মানিত আরশের তিনি মালিক।
বস্তুতঃ মহিমান্নিত, মহারাজাধিরাজ, চিরন্তন সত্য, তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই, সম্মানিত আরশের অধিপতি তিনি।
অ মাইঁ ইয়াদ্'উ মা'আল্লা-হি ইলা-হান্ আ-খর লা-র্বুহা-না লাহূ বিহী ফাইন্নামা-হিসা-বু-হূ 'ইন্দা রব্বিহ্' ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ কা-ফিরূন্।
যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ইলাহ্ ডাকে, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো সত্যায়নপত্র নেই। তার হিসাব হবে তার প্রভুর কাছে। কাফিররা কখনো সফলতা অর্জন করেনা।
আর যে কেউ র সঙ্গে অন্য উপাস্যকে ডাকে, - - যার জন্য তার কাছে কোনো সনদ নেই, - - তার হিসাবপত্র তবে নিশ্চয়ই তার প্রভুর কাছে রয়েছে। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসীদের করা হয় না।
অক্বর রব্বিগ্ র্ফি র্অহাম্ অআন্তা খইর্রু র-হিমীন্।
হে নবী! তুমি বলো: ‘আমার প্রভু!, ক্ষমা করো এবং রহম করো, আর তুমিই তো সর্বোত্তম রহমওয়ালা।’
বলো - - ''আমার প্রভু! পরিত্রাণ করো, আর দয়া করো, কেননা তুমিই তো করুণাময়দের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’