Kitab

আল আ’রাফ

Chapter 7, 206 verses

  • বাংলা উচ্চারণ
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • জহুরুল হক
বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ছোয়া-দ্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আলিফ লাম মিম সোয়াদ।

জহুরুল হক

আলিফ, লাম, মীম, স্বাদ।

বাংলা উচ্চারণ

কিতা-বুন্ উন্যিলা ইলাইকা ফালা-ইয়াকুন্ ফী ছোয়াদ্রিকা হারাজুম্ মিন্হু লিতুন্যিরা বিহী অযিক্রা-লিল্মু”মিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি একটি কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করা হচ্ছে। সুতরাং এর ব্যাপারে যেনো তোমার মনে কোনো প্রকার সংকোচ না থাকে। এটি নাযিল করার উদ্দেশ্য হলো, তুমি এর মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করবে আর এটি একটি উপদেশ মুমিনদের জন্যে।

জহুরুল হক

তোমার কাছে অবতীর্ণ একটি গ্রন্থ, - - অতএব তোমার বক্ষে এর জন্য কোন সংকোচ না থাকুক - - যেন তুমি এর দ্বারা সতর্ক করতে পারো, এবং মুমিনদের জন্য একটি স্মারক।

বাংলা উচ্চারণ

ইত্তাবি'ঊ মা য় উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ অলা-তাত্তাবি'উ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া - আ ক্বালীলাম্ মা-তাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হচ্ছে তোমরা কেবল তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো। তাঁকে (আল্লাহকে) ছাড়া অন্য অলিদের অনুসরণ করোনা। তবে তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।

জহুরুল হক

''তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অনুসরণ করো আর তাঁকে বাদ দিয়ে অভিভাবকদের অনুসরণ করো না। অল্পই যা তোমরা মনে রাখো।’’

বাংলা উচ্চারণ

অকাম্ মিন্ র্ক্বাইয়াতিন্ আহ্লাক্না-হা-ফাজ্বা - য়াহা-বা'সুনা-বাইয়া-তান্ আও হুম্ ক্বা - য়িলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কতো যে জনপদ আমরা হালাক করে দিয়েছি। আমাদের শাস্তি সে জনপদে এসে পড়েছিল রাতের বেলা অথবা দুপুরে যখন তারা ছিলো বিশ্রামরত।

জহুরুল হক

আর জনবসতির মধ্যের কতটা যে আমরা ধ্বংস করেছি, তাই আমাদের শাস্তি তাতে এসেছিল নিশাকালে, অথবা তারা যখন দুপুরবেলায় ঘুম দিচ্ছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ফামা-কা-না দা'ওয়া-হুম্ ইয্ জ্বা - য়াহুম্ বা'সুনা য় ইল্লা য় আন্ ক্বা-লূ য় ইন্না-কুন্না-জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের শাস্তি যখন তাদের উপর এসে পড়েছিল, তখন তাদের মুখে শুধু একটি কথাই ছিলো: ‘অবশ্যি আমরা যালিম।’

জহুরুল হক

কাজেই তাদের কাছে যখন আমাদের শাস্তি এসে পড়েছিল তখন তাদের অজুহাত আর কিছু ছিল না এই বলা ছাড়া - - ''নিঃসন্দেহ আমরা ছিলাম অন্যায়কারী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফালানাস্য়ালান্নাল্লাযীনা র্উসিলা ইলাইহিম্ অলানাস্য়ালান্নাল্ র্মুসালীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের কাছে রসূল পাঠানো হয়েছে তাদেরকে অবশ্যি আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করবো এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবো রসূলদেরও।

জহুরুল হক

আমরা তখন তাদের অবশ্যই প্রশ্ন করবো যাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল, আর আমরা নিশ্চয়ই প্রেরিত - পুরুষগণকেও জিজ্ঞাসা করবো।

বাংলা উচ্চারণ

ফালানাকুছ্ছোয়ান্না 'আলাইহিম্ বি'ইল্মিওঁ অমা-কুন্না-গা - য়িবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে তাদের কর্মকান্ডের বিবরণ তাদের সামনে তুলে ধরবো, আমরা তো আর (তাদের থেকে) ছিলাম না।

জহুরুল হক

তখন আমরা নিশ্চয়ই তাদের কাছে বর্ণনা করবো জ্ঞানের সাথে, আর আমরা তো অনুপস্থিত ছিলাম না।

বাংলা উচ্চারণ

অল্অয্নু ইয়াওমায়িযিনিল্ হাক্ব কু ফামান্ ছাকুলাত্ মাওয়া-যীনুহূ ফাউলা - য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিনকার ওজন (ন্যায়বিচার) মহাসত্য ও বাস্তব। তারপর যাদের (নেক আমলের) পাল্লা ভারি হবে তারাই হবে ।

জহুরুল হক

আর সেদিন ওজন হবে সঠিকভাবে। কাজেই যার পাল্লা ভারী হবে তারাই তবে হবে ।

বাংলা উচ্চারণ

অমান্ খাফ্ফাত্ মাওয়া-যীনুহু ফাউলা - য়িকাল্লাযীনা খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ বিমা-কা-নূ-বিআ-ইয়া-তিনা-ইয়াজ্লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যাদের (ভালো কাজের) পাল্লা হবে হালকা, তারা হবে ঐসব লোক যারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আমাদের আয়াতের প্রতি যুলুম করার মাধ্যমে।

জহুরুল হক

আর যার পাল্লা হাল্কা হবে এরাই তবে তারা যারা তাদের আ‌ত্মার ক্ষতি সাধন করেছে, কেননা তারা আমাদের নির্দেশাবলীর প্রতি অন্যায় করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ মাক্কান্না-কুম্ ফিল্ র্আদ্বি অজ্বা'আল্না-লাকুম্ ফীহা-মা'আ-য়িশ্ ক্বালীলাম্ মা-তাশ্কুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের এই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি আর এখানেই তোমাদের জন্যে ব্যবস্থা করে দিয়েছি জীবিকার। খুব কমই তোমরা শোকর আদায় করো।

জহুরুল হক

আর আমরা তো পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছি, আর তোমাদের জন্য তাতে করেছি জীবিকার ব্যবস্থা। অল্পই সেইটুকু যা কৃতজ্ঞতা তোমার জ্ঞাপন করো।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ খালাকনা-কুম্ ছুম্মা ছোয়াওর্য়্যানা-কুম্ ছুম্মা কুল্না-লিল্মালা - য়িকাতিস্ জুদূ লিআ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্ লাম্ ইয়াকুম্ মিনাস্ সা-জ্বিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, তারপর ফেরেশতাদের বলেছি, সাজদা করো আদমের প্রতি। তখন তারা সবাই সাজদা করেছিল ইবলিস ছাড়া। সে সাজদাকারীদের সাথে শামিল হয়নি।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তারপর তোমাদের রূপদান করেছি, তারপর ফিরিশ্‌তাদের বললাম - - ''আদমের প্রতি সিজদা করো।’’ কাজেই তারা সিজদা করলো, কিন্তু ইবলীস করলো না সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলো না।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা মা-মানা'আকা আল্লা-তাস্জুদা ইয্ আর্মাতুক্ ক্বা-লা আনা-খাইরুম্ মিন্হু খালাক্বতানী মিন্ না-রিওঁ অখলাকতাহূ মিন্ ত্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘আমার নির্দেশ সত্ত্বেও কোন্ জিনিস তোমাকে বিরত রাখলো সাজদা করা থেকে?’ সে জবাব দেয়: ‘আমি তার (আদমের) চাইতে উত্তম। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছো আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছো মাটি থেকে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''কি তোমাকে বাধা দিয়েছিল যেজন্য তুমি সিজদা করলে না যখন আমি তোমাকে আদেশ করেছিলাম?’’ সে বললে - - ''আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ, আমাকে তুমি আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছ, আর তাকে তুমি সৃষ্টি করেছ কাদা দিয়ে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ফাহ্বিত্ব মিন্হা-ফামা-ইয়াকূনু লাকা আন্ তাতাকাব্বারা ফীহা-ফাখ্রুজ ইন্নাকা মিনাছ্ ছোয়া-গিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘বেরিয়ে যা এখান থেকে। এখানে থেকে অহংকার করার কোনো অধিকার তোর নেই। বেরিয়ে যা, নিশ্চয়ই তুই নিচু ও হীনদের একজন।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তবে এখানে থেকে রসাতলে যাও, তোমার জন্য নয় যে তুমি এখানে অহংকার করবে। কাজেই বেরিয়ে যাও, তুমি আলবৎ অধমদের মধ্যেকার।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা আর্ন্জিনী য় ইলা-ইয়াওমি ইয়ুব্'আছূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমাকে পুনরুত্থানকাল পর্যন্ত অবকাশ দিন।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''আমাকে সময় দাও সেইদিন পর্যন্ত যখন তারা পুনরুত্থিত হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ইন্নাকা মিনাল্ মুন্জোয়ারীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘যা, তুই অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''বেশ, তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের মধ্যেকার।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা ফাবিমা য় আগ্ওয়াইতানী লাআক'উদান্না লাহুম্ ছিরা-ত্বোয়াকাল্ মুস্তাক্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বললো: ‘‘যেহেতু তুমি আমাকে বিপথগামী করলে, তাই আমি তাদের (আদম সন্তানদের বিপথগামী করার) জন্যে তোমার সরল সঠিক পথে ওঁৎ পেতে থাকবো।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তবে তুমি যেমন আমাকে বিপথে যেতে দিয়েছ, আমিও তেমনি ওত পেতে থাকবো তাদের জন্য তোমার সহজ - সঠিক পথে।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা লাআ-তিয়ান্নাহুম্ মিম্ বাইনি আইদীহিম্ অমিন্ খাল্ফিহিম্ অ'আন্ আইমা-নিহিম্ অ আন্ শামা - য়িলিহিম্ অলা-তাজ্বিদু আক্ছারাহুম্ শা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমি আসবো তাদের সামনে থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডানে থেকে এবং তাদের বামে থেকে। ফলে তুমি তাদের অধিকাংশকেই পাবেনা শোকর গুজার।’’

জহুরুল হক

''তারপর আমি আলবৎ তাদের উপরে এসে পড়বো তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে, আর তাদের ডাইনে থেকে ও তাদের বামে থেকে, আর তাদের অনেককেই তুমি কৃতজ্ঞ পাবে না।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লাখ্ রুজ মিন্হা- মায্ঊমাম্ মাদ্হূরা- লামান্ তাবি'আকা মিন্হুম্ লাআম্লায়ান্না জ্বাহান্নামা মিন্কুম্ আজমা'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘‘তুই বেরিয়ে যা ওখান থেকে ধিকৃত ও বিতাড়িত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর অনুসরণ করবে, আমি অবশ্যি তোদের সবাইকে দিয়ে পূর্ণ করবো জাহান্নাম।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''বেরোও এখান থেকে, বেহায়া, বিতাড়িত! তাদের মধ্যের যে কেউ তোমার অনুসরণ করবে, - - আমি নিশ্চয় জাহান্নাম ভর্তি করবো তোমাদের মধ্যের সবকে দিয়ে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অ ইয়া য় আ-দামুস্কুন্ আন্তা অযাওজুকাল্ জ্বান্নাতা ফাকুলা-মিন্ হাইছূ শিতুমা অলা-তাকরবা- হা-যিহিশ্ শাজ্বারাতা ফাতাকূনা-মিনাজ্জোয়া-লিমীন্

আবদুস শহীদ নাসিম

আর হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী বসবাস করো জান্নাতে। খাও যেখান থেকে ইচ্ছা। তবে তোমরা এই গাছটির কাছেও যেয়োনা, গেলে তোমরা যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বে।’’

জহুরুল হক

আর - - ''হে আদম! তুমি ও তোমার সঙ্গিনী এই বাগানে বসবাস করো, আর যেখান থেকে তোমরা চাও আহার করো, কিন্তু এই বৃক্ষের ধারেকাছেও যেও না, তাহলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাঅস্অসা লাহুমাশ্ শাইত্বোয়া-নু লিইয়ুব্দিয়া লাহুমা- মা-ঊরিয়া 'আন্ হুমা- মিন্ সাওআ-তিহিমা-অক্বা-লা মা- নাহা-কুমা- রব্বুকুমা-'আন্ হা-যিহিশ্ শাজ্বারতি ইল্লা য় আন্ তাকূনা- মালাকাইনি আও তাকূনা-মিনাল্ খা-লিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর শয়তান অস্অসা দিলো তাদের দুজনকে যাতে করে তাদের লজ্জাস্থান যা গোপন রাখা হয়েছিল তাদের কাছে, তা তাদের জন্যে প্রকাশ হয়ে পড়ে। সে তাদের বললো: ‘তোমাদের প্রভু যে তোমাদেরকে এই গাছের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন তার কারণ, পাছে তোমরা ফেরেশতা হয়ে না পড়ো, কিংবা তোমরা (এখানে) স্থায়ী হয়ে না যাও।’

জহুরুল হক

তারপর শয়তান তাদের কুমন্ত্রণা দিলে যেন সে তাদের কাছে প্রকাশ করতে পারে তাদের লজ্জার বিষয়ের যা তাদের কাছে গোপন ছিল, তাই সে বললে - - ''তোমাদের প্রভু এই গাছের থেকে তোমাদের নিষেধ করেন নি এই জন্য ছাড়া যে তোমরা ফিরিশ্‌তা হয়ে যাবে কিংবা তোমরা হবে চিরজীবীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-সামাহুমা য় ইন্নী লাকুমা- লামিনান্ না-ছিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তাদের কাছে কসম খেয়ে বললো: ‘অবশ্যি আমি তোমাদের একজন কল্যাণকামী।’

জহুরুল হক

আর সে তাদের কাছে কসম খেলো - - ''নিঃসন্দেহ আমি তো তোমাদের জন্য সদুপদেশদাতাদের মধ্যেকার।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাদাল্লা-হুমা-বিগুরূরিন্ ফালাম্মা- যা-ক্বাশ্ শাজ্বারতা বাদাত্ লাহুমা- সাওআ-তুহুমা-অ ত্বোয়াফিক্বা-ইয়াখ্ছিফা-নি 'আলাইহিমা- মিওঁ অরাক্বিল্ জান্নাহ্ অ না-দা-হুমা- রব্বুহুমা য় আলাম্ আন্হাকুমা- 'আন্ তিল্কুমাশ্ শাজ্বারতি অআকুল্ লাকুমা য় ইন্নাশ্ শাইত্বোয়া-না লাকুমা-'আদুওয়্যুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবে সে তাদের প্রতারিত করে অধপতিত করলো। তারপর যখন তারা সেই গাছের (ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং জান্নাতের পাতা দিয়ে তারা নিজেদের ঢেকে নিতে থাকলো। এসময় তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে এই গাছটির কাছে যেতে নিষেধ করিনি? আমি কি বলিনি শয়তান তোমাদের সুস্পষ্ট দুশমন?’

জহুরুল হক

এভাবে সে তাদের বিপথে চালালো প্রতারণার দ্বারা, অতঃপর তারা যখন বৃক্ষের আস্বাদ গ্রহণ করলো, তখন তাদের লজ্জা তাদের কাছে প্রকাশ পেলো, আর তারা তাদের আবৃত করতে লাগলো সেই বাগানের পাতা দিয়ে। আর তাদের প্রভু তাদের ডেকে বললেন - - ''আমি কি তোমাদের নিষেধ করি নি ঐ বৃক্ষ সন্বন্ধে, আর তোমাদের তো আমি বলেইছি যে শয়তান তোমাদের জন্য প্রকাশ্য শত্রু?’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা-রব্বানা- জোয়ালাম্না- আন্ফুসানা- অইল্লাম্ তার্গ্ফিলানা-অর্তাহাম্না-লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা ফরিয়াদ করলো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা নিজেদের প্রতি যুলুম করেছি। এখন তুমি যদি আমাদের ক্ষমা না করো এবং আমাদের দয়া না করো, তাহলে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শামিল হয়ে পড়বো।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমাদের প্রভু! আমরা আমাদের নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, আর যদি তুমি আমাদের পরিত্রাণ না করো ও আমাদের তুমি দয়া করো তাহলে আমরা নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাহ্বিত্বুবা'দ্বুকুম্ লিবা'দ্বিন্ 'আদুওয়্যুন্ অলাকুম্ ফিল্র্আদ্বি মুস্তার্ক্বারুওঁ অমাতা-'উন্ ইলা-হীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘নেমে যাও, তোমরা পরস্পরের শত্রু। পৃথিবীতে একটা নির্দিষ্টকাল তোমরা অবস্থান করবে এবং ওখানেই তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - '' তোমরা অধঃপাতে যাও। তোমাদের কেউ কেউ অন্য কারোর শত্রু। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে রয়েছে জিরানোর স্থান ও কিছু সময়ের জন্য সংস্থান।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ফীহা-তাহ্ইয়াওনা অফীহা-তামূতূনা অমিন্হা-তুখ্রজুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি আরো বললেন: ‘সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে এবং সেখানেই তোমাদের মৃত্যু হবে আর সেখান থেকেই তোমাদের খারিজ (বের) করে আনা হবে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এইখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে, আর এতেই তোমরা মৃত্যু বরণ করবে, আর এরই মধ্য থেকে তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানী য় আ-দামা ক্বাদ্ আন্যাল্না- 'আলাইকুম্ লিবা-সাইঁ ইয়ুওয়া-রী সাও আ-তিকুম্ অরীশা- অ লিবা-সুত্তাক্বাওয়া- যা-লিকা খার্ই যা-লিকা মিন্ আ-ইয়া-তিল্লা-হি লা'আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আদম সন্তান! আমরা তোমাদের জন্যে এক ধরণের পোশাক নাযিল করেছি তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার জন্যে আচ্ছাদন হিসেবে এবং শোভাবর্ধক হিসেবে, আর রয়েছে ‘তাকওয়ার পোশাক’, এ পোশাকই উত্তম। এ হলো আল্লাহর আয়াত, যাতে করে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানগণ! আমরা তোমাদের জন্য নিশ্চয়ই পোশাক পাঠিয়েছি তোমাদের লজ্জা ঢাকবার ও বেশভূষার জন্য। আর ধর্মপরায়ণতার পোশাক - - তাই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ হচ্ছে ‌র নির্দেশাবলী থেকে, যেন তারা মনে রাখে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানী য় আ-দামা লা- ইয়াফ্তিনান্নাকুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু কামায় আখ্রজ্বা আবাওয়াইকুম্ মিনাল্ জ্বান্নাতি ইয়ান্যি'উ 'আন্হুমা-লিবা-সাহুমা-লিইয়ুরিয়াহুমা- সাওআ-তিহিমা- ইন্নাহূ ইয়ার-কুম্ হুঅ অক্বাবীলুহূ মিন্ হাইছু লা- তারাওনাহুম্ ইন্না- জ্বা'আল্নাশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া - য়া লিল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি আদম! শয়তান যেনো তোমাদের ফিতনায় না ফেলে যেভাবে (ফিতনায় ফেলে) তোমাদের (আদি) পিতা মাতাকে বের করে দিয়েছিল জান্নাত থেকে। সে তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্যে তাদের লেবাস খসিয়ে দিয়েছিল। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে এমনভাবে দেখে, যেভাবে তোমরা তাদের দেখোনা। যারা ঈমান আনেনা তাদের জন্যে আমরা অলি বানিয়ে দিয়েছি শয়তানদের।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই প্রলোভিত না করে, যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে বের করে দিয়েছিল এই বাগান থেকে, তাদের থেকে তাদের পোশাক ছিন্ন ক’রে, যেন সে তাদের দেখাতে পারে তাদের লজ্জা। নিঃসন্দেহ সে তোমাদের দেখে - - সে ও তার কাফেলা, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না। নিঃসন্দেহ আমরা শয়তানকে বানিয়েছি তাদের অভিভাবক যারা বিশ্বাস করে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা- ফা'আলূ ফা-হিশাতান্ ক্বা-লূ অজ্বাদ্না-'আলাইহা য় আ-বা - য়ানা অল্লা-হু আমারানা- বিহা-কুল ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ামুরু বিল্ ফাহ্শা - ই আতাকুলূনা 'আলাল্লা-হি মা-লা- তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন কোনো ফাহেশা কাজ করে, তখন বলে: ‘আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এরকম করতে দেখেছি। আল্লাহ্ই আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।’ বলো: ‘ ফাহেশা কাজের নির্দেশ দেননা। কেন তোমরা আল্লাহর প্রতি এমন কথা আরোপ করছো যা তোমরা জানোনা?’

জহুরুল হক

আর যখন তারা কোনো অশ্লীল আচরণ করে তখন বলে - - ''আমরা আমাদের পিতৃপুরুষকে এতে পেয়েছি, আর আমাদের এতে আদেশ করেছেন।’’ বলো - - ''নিঃসন্দেহ অশ্লীলতাতে আদেশ করেন না। তোমরা কি ‌র বিরুদ্ধে বলো যা তোমরা জানো না?’’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ আমারা রব্বী বিল্কি¦স্্তি অ আক্বীমূ উজুহাকুম্ 'ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অদ্'ঊহু মুখ্লিছীনা লাহুদ দীন্ কামা- বাদায়াকুম্ তা'ঊদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: আমার প্রভু ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেক মসজিদে (সালাতে) তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির করবে এবং আল্লাহর জন্যে আনুগত্য একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকবে। তিনি তোমাদের প্রথম যেভাবে সৃষ্টি করেছেন, তোমরা ঠিক সেভাবেই ফিরে আসবে।

জহুরুল হক

তুমি বলো - - ''আমার প্রভু আদেশ দেন ন্যায় বিচারের, আর তোমাদের মুখ সোজা দাঁড় করো প্রত্যেক সিজদাস্থলে, আর তাঁকে ডাকো তাঁর প্রতি ধর্মে একনিষ্ঠভাবে।’’ যেমন তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলেন তোমরা সেভাবে ফিরে আসবে।

বাংলা উচ্চারণ

ফারীক্বান্ হাদা- অফারীক্বান্ হাকক্বা 'আলাইহিমুদ¦ দোয়ালা-লাহ্ ইন্নাহুমুত্ তাখাযুশ্ শাইয়া-ত্বীনা আওলিয়া - য়া মিন্ দূনি ল্লা-হি অইয়াহ্সাবূনা আন্নামহুম্ মুহ্তাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

একদলকে তিনি হিদায়াত দান করেছেন, আরেক দলের উপর গোমরাহি নির্ধারিত হয়ে গেছে। কারণ, তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানদের অলি বানিয়ে নিয়েছে এবং ধারণা করছে তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত।

জহুরুল হক

একদলকে তিনি সুপথগামী করেছেন, আর আরেক দলের পথভ্রান্তি তাদের উপরে সংগত হয়েছে। নিঃসন্দেহ তারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে শয়তানদের গ্রহণ করেছিল অভিভাবকরূপে, আর তারা মনে করত যে তারা অবশ্যই সুপথে চালিত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া -বানী য় আ-দামা খুযূ যীনাতাকুম্ 'ইন্দা কুল্লি মাস্জ্বিদিওঁ অকুলূ অশ্রাবূ অলা-তুস্রিফূ ইন্নাহূ লাইয়ুহিব্বুল্ মুস্রিফীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে আদম সন্তান! প্রত্যেক মসজিদের (সালাতের) সময় তোমরা তোমাদের সুন্দর পোশাক পরবে। আর আহার করবে, পান করবে, কিন্তু অপচয় করবেনা, কারণ তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেননা।

জহুরুল হক

হে আদম - সন্তানরা! তোমাদের বেশভূষা গ্রহণ করো প্রত্যেক সিজদাস্থলে, আর খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না, নিঃসন্দেহ তিনি অমিতব্যয়ীদের ভালোবাসেন না।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ মান্ র্হারামা যীনাতাল্লা-হিল্লাতী য় আখরাজ্বা লি'ইবা-দিহী অত্ত্বাইয়িবা-তি মির্না রিয্ক্ব কুল্ হিয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ ফিল্ হাইয়া- তিদ্দুন্য়া-খা-লিছোয়াতাইঁ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ কাযা-লিকা নুফাছছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়া' লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: ‘ তাঁর বান্দাদের জন্যে যেসব সুন্দর বস্ত্ত আর উত্তম জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, সেগুলো হারাম করলো কে?’ বলো: ‘সেগুলো তো মুমিনদেরই জন্যে এই দুনিয়ার জীবনে, বিশেষ করে কিয়ামত কালে।’ এভাবেই আমরা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করি আয়াত যারা জ্ঞান রাখে তাদের জন্যে।

জহুরুল হক

বলো - - ''কে নিষিদ্ধ করেছে ‌র শোভা, - - যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আর জীবিকা থেকে বিশুদ্ধ বস্তুসমূহ?’’ বলো - - ''এ - সব এই দুনিয়ার জীবনে তাদের জন্য যারা ঈমান এনেছে, - - পুনর্জাগরণের দিনে বিশেষভাবে।’’ এইভাবে আমরা আমাদের নির্দেশাবলী বিশদভাবে ব্যাখ্যা করি তেমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা জানে।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইন্নামা- র্হারামা রব্বিয়াল্ ফাওয়া-হিশা মা-জোয়াহারা মিন্হা-অমা-বাত্বোয়ানা অল্ইছ্মি অল্বাগ্ইয়া বিগাইরিল্ হাকক্বি অআন্ তুশ্রিকূ বিল্লা-হি মা-লাম্ ইয়ুনায্যিল্ বিহী সুল্ত্বোয়া-নাওঁ অআন্ তাকুলূ 'আলাল্লা-হি মা-লা-তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমার প্রভু হারাম করে দিয়েছেন গোপন ও প্রকাশ্য ফাহেশা (অশ্লীল) কাজ, পাপকাজ, না হক বিদ্রোহ, তোমাদের আল্লাহর সাথে শিরক করা যার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নাযিল করেননি, এবং না জেনে বুঝে তোমাদের আল্লাহর সম্পর্কে কথা বলা।

জহুরুল হক

বলো - - ''নিঃসন্দেহ আমার প্রভু নিষিদ্ধ করেছেন অশ্লীলতা - - তার যা প্রকাশ পায় ও যা গোপন থাকে, আর পাপাচার, আর ন্যায়বিরুদ্ধ বিদ্রোহাচরণ, আর ‌র সঙ্গে তোমরা যা শরিক করো যার জন্য কোনো দলিল তিনি অবতীর্ণ করেন নি, আর যেন তোমরা ‌র বিরুদ্ধে বলো যা তোমরা জানো না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অলিকুল্লি উম্মাতিন্ আজ্বালুন্ ফাইযা-জ্বা - য়া আজ্বালুহুম্ লা-ইয়াস্তা' খিরূনা সা-'আতাওঁ অলা- ইয়াস্তাকদিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রত্যেক উম্মতের একটি কাল - সীমা রয়েছে, যখন তাদের সেই সময়টি এসে পড়বে, তখন তারা মুহূর্তকাল বিলম্বও করতে পারবেনা এবং তার পূর্বেও সে কালটি শেষ করতে পারবেনা।

জহুরুল হক

আর প্রত্যেক জাতির জন্য রয়েছে একটি নির্ধারিত কাল, কাজেই যখন তাদের নির্ধারিত কাল এসে পড়ে তখন তারা দেরি করতে পারবে না ঘন্টাখানেকের জন্যে, আর তারা এগিয়েও আনতে পারবে না।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া-বানী য় আ-দামা ইম্মা- ইয়া তিয়ান্নাকুম্ রুসূলুম্ মিন্কুম্ ইয়াকুছ্ছূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তী ফামানিত্তাক্বা- অআছ্লাহা ফালা-খাওফুন্ 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি আদম! যখন তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে রসূলরা এসে আমার আয়াত পেশ করবে, তখন যারা সতর্ক হবে এবং নিজেদের এসলাহ (সংশোধন) করে নেবে, তাদের কোনো ভয় ভীতিও থাকবেনা, দুঃখ দুশ্চিন্তাও থাকবেনা।

জহুরুল হক

হে আদমের বংশধরগণ! যখন তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্যে থেকে রসূলগণ আসেন তোমাদের কাছে আমার নির্দেশাবলী বর্ণনা করেন, তখন যে কেউ ভয় - ভক্তি করে ও সৎকর্ম করে, তাদের জন্য তবে থাকবে না ভয়ভীতি, আর তারা করবেও না অনুতাপ।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অস্তাক্বারূ 'আন্হা য় উলা - য়িকা আছ্হা-বুন্ না-রি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা প্রত্যাখ্যান করবে আমার আয়াত এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশ করবে দাম্ভিকতা, তারা হবে আগুনের অধিবাসী এবং চিরকাল থাকবে তারা সেখানে।

জহুরুল হক

আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে মিথ্যারোপ করে আর সে - সব থেকে গর্ববোধ করে, তারাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তারা তাতে থাকবে দীর্ঘকাল।

বাংলা উচ্চারণ

ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্ তারা-'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্য়াবা বিআ-ইয়া-তিহ্উলা - য়িকা ইয়ানা-লুহুম্ নাছীবুহুম্ মিনাল্ কিতা-ব্ হাত্তা য় ইযা-জ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুনা-ইয়াতাঅফ্ফাওনাহুম্ ক্বা-লূ য় আইনা মা- কুন্তুম্ তাদ্'ঊনা মিন দূনিল্লা-হ্ক্বা-লূ দ্বোয়াল্লূ 'আন্না-অশাহিদূ 'আলায় আন্ফুসিহিম্ আন্নাহুম্ কা-নূ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, কিংবা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? তাদের নসিবে যা লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌঁছুবেই। অবশেষে তাদের কাছে পৌঁছে যাবে আমাদের নির্দেশ বাহকরা (ফেরেশতারা) তাদেরকে ওফাত (মৃত্যু) দেয়ার জন্যে। তারা তাদের জিজ্ঞাসা করবে: ‘তোমরা ছাড়া যাদের ডাকতে তারা কোথায়? তারা বলবে: ‘ওরা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।’ তখন তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যি ছিলো।

জহুরুল হক

অতএব তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে? এরাই, - - এদের কাছে পৌঁছুবে কিতাব থেকে তাদের ভাগ। শেষ পর্যন্ত যখন আমাদের দূতরা তাদের কাছে আসবে তখন তারা তাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারা বলবে - - ''কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা আহ্বান করতে ‌কে ছেড়ে দিয়ে?’’ তারা বলবে - - ''তারা আমাদের থেকে চলে গেছে । আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী ছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লাদ্ খুলূ ফী য় উমামিন্ ক্বাদ্ খালাত্ মিন্ ক্বাব্লিকুম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি ফিন্না-র কুল্লামা- দাখালাত্ উম্মাতুল্ লা'আনাত্ উখ্ত্াহা হাত্তায় ইযাদ্দা-রাকূ ফীহা-জ্বামী'আন্ ক্বা-লাত্ উখ্রা-হুম্ লিঊয় লা-হুম্ রব্বানা- হা য় উলা - য়ি অদ্বোয়াল্লূনা- ফাআ-তিহিম্ 'আযা-বান্ দ্বি'ফাম্ মিনান্ না-র ক্বা-লা লিকুল্লি দ্বি'ফুওঁ অলা-কিল্লা-তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলবেন: ‘তোমাদের আগে যেসব জিন ও মানব সম্প্রদায় গত হয়েছে, তাদের সাথে জাহান্নামে দাখিল হও।’ যখনই একটি দল তাতে প্রবেশ করবে তখনই অপর দলকে তারা লানত দেবে। যখন সবাই তাতে একত্র হবে, তখন পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের বলবে: ‘আমাদের প্রভু! এরাই আমাদের গোমরাহ করেছিল, সুতরাং তাদের আগুনের আযাব দ্বিগুণ করে দাও।’ তিনি বলবেন: ‘প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে দ্বিগুণ, তবে তোমরা তা জানোনা।’

জহুরুল হক

তিনি বলবেন - - ''তোমরা প্রবেশ করো আগুনের মধ্যে দলগতভাবে যারা তোমাদের আগে গত হয়ে গেছে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে। যখনি একটি দল প্রবেশ করবে সে অভিশাপ দেবে তার ভগিনীকে। তারপর যখন তারা সবে মিলে তাতে এসে পড়বে, তাদের পশ্চাদগামীরা তাদের অগ্রগামীদের সন্বন্ধে বলবে - - ''আমাদের প্রভু! এরা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল, সেজন্য তাদের দাও আগুন দ্বারা দ্বিগুণ শাস্তি।’’ তিনি বলবেন - - ''প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি, কিন্তু তোমরা জানো না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-লাত্ ঊলা-হুম্ লিউখ্রা-হুম্ ফামা-কা-না লাকুম্'আলাইনা- মিন্ ফাদ্ব্লিন্ ফাযূকুল্ 'আযা-বা বিমা-কুনতুম্ তাক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের বলবে: ‘আমাদের উপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সুতরাং তোমরা তোমাদের অর্জনের জন্যে স্বাদ গ্রহণ করো আযাবের।’

জহুরুল হক

আর তাদের অগ্রগামীরা তাদের পশ্চাদগামীদের বলবে - - ''তাহলে তোমাদের কারণে আমাদের উপরে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, অতএব তোমরা যা অর্জন করে যাচ্ছিলে তার জন্য শাস্তি আস্বাদন করো।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অস্তাক্বারূ 'আন্হা- লা-তুফাত্তাহু লাহুম্ আব্ওয়া-বুস্ সামা - য়ি অলা- ইয়াদ্খুলূনাল্ জ্বান্নাতা হাত্তা-ইয়ালিজ্বাল্ জ্বামালু ফী সাম্মিল্ খিয়া-ত্ব অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুজরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের আয়াতের প্রতি মিথ্যারোপ করে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তার বিরুদ্ধে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আসমানের দুয়ার খোলা হবেনা এবং সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ না করা পর্যন্ত তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা। এরকম প্রতিফলই আমরা অপরাধীদের দিয়ে থাকি।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে আর সে - সব থেকে হামবড়াই করে, তাদের জন্য মহাকাশের দ্বার উন্নুক্ত করা হবে না আর তারা বেহেশতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না উট প্রবেশ করে সূচের ছিদ্র দিয়ে। আর এইভাবে আমরা অপরাধীদের প্রতিফল দিই।

বাংলা উচ্চারণ

লাহুম্ মিন্ জ্বাহান্নামা মিহা-দুঁও অমিন্ ফাওক্বিহিম্ গাওয়া-শ্ অকাযা-লিকা নাজযিজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামই হবে তাদের নিচের শয্যা এবং তাদের উপরের আচ্ছাদন। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি যালিমদের।

জহুরুল হক

তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের শয্যা আর তাদের উপরে রয়েছে আবরণ। আর এইভাবে আমরা প্রতিফল দিই অন্যায় - কারীদের।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লা- নুকাল্লিফু নাফ্সান্ ইল্লা-উস্'আহা য় উলা-য়িকা আছ্হা-বুল্ জ্বান্নাতি হুম্ ফীহা- খা-লিদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। আমরা কাউকেও তার সাধ্যের বাইরে বোঝা অর্পণ করিনা।

জহুরুল হক

আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করছে - - আমরা কোনো সত্ত্বাকে ভারাক্রান্ত করি না তার ক্ষমতার অতিরিক্ত, - - এরাই হচ্ছে জান্নাতের বাসিন্দা, তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।

বাংলা উচ্চারণ

অনাযা'না- মা- ফী ছুদূরিহিম্ মিন্ গিল্লিন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহিমুল্ আন্হা-রু অক-লুল্ হামদু লিল্লা-হিল্লাযী হাদা-না- লিহা-যা- অমা- কুন্না- লিনাহ্তাদিয়া লাওলা য় আন্ হাদা-নাল্লা-হু লাক্বাদ্ জ্বা-য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক অনূ দূ য় আন্ তিল্কুমুল্ জ্বান্নাতু ঊরিছ্তুমূহা-বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা দূর করে দেবো তাদের অন্তরের সব ঈর্ষা। তাদের নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ নদী নহর। তারা বলবে: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের এই জান্নাতের পথ দেখিয়েছেন। আমাদের পথ না দেখালে আমরা কখনো (জান্নাতের) পথ পেতাম না। আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’ তখন তাদের ডেকে বলা হবে: ‘তোমাদের আমলের কারণেই তোমাদের এই জান্নাতের ওয়ারিশ বানানো হয়েছে।

জহুরুল হক

আর আমরা দূর করে দেবো মনোমালিন্যের যা - কিছু আছে তাদের বুকে, - - তাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলবে ঝরনারাজি, আর তারা বলবে - - ''সমুদয় প্রশংসা ‌রই যিনি আমাদের পথ দেখিয়েছেন এই দিকে, আর আমরা নিজেরা সুপথ পেতাম না যদি আমাদের পথ না দেখাতেন, নিশ্চয়ই আমাদের প্রভুর রসূলগণ সত্য নিয়ে এসেছিলেন।’’ আর তাদের কাছে ঘোষণা করা হবে - - ''দেখো! এই বেহেশত তোমাদের সামনে, তোমরা এ উত্তরাধিকার করলে তোমরা যা করতে তার জন্য।’’

বাংলা উচ্চারণ

অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ জান্নাতি আছহা-বান্না-রি আন্ ক্বাদ্ অজ্বাদ্না- মা- অ'আদানা-রব্বুনা- হাক্বক্বান্ ফাহাল্ অজ্বাত্তুম্ মা- অ'আদা রব্বুকুম্ হাকক্বা- ক্ব-লূ না'আম্ ফাআয্যানা মুয়ায্যিনুম্ বাইনাহুম্ আল্লা'নাতুল্লা-হি 'আলাজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদের ডেকে বলবে: ‘আমাদের প্রভু আমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন আমরা তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রভু তোমাদের যে ওয়াদা দিয়েছিলেন তোমরা কি তা সত্য পেয়েছো?’ তারা বলবে: ‘হ্যাঁ।’ তখন একজন ঘোষণাকারী তাদের মাঝে ঘোষণা করবে: ‘‘যালিমদের উপর আল্লাহর লানত,

জহুরুল হক

আর জান্নাতবাসীরা আগুনের বাসিন্দাদের ডেকে বলবে - - ''আমরা নিশ্চয়ই পেয়েছি আমাদের প্রভু আমাদের কাছে যা ওয়াদা করেছিলেন তা সত্য, তোমরাও কি তবে তোমাদের প্রভু যা ওয়াদা করেছিলেন তা সত্য পেয়েছ?’’ তারা বলবে - - ''হাঁ।’’ তখন জনৈক মুওজ্জিন তাদের মধ্যে ঘোষণা করবে - - ''‌র ধিক্কার হোক দুরাচারীদের উপরে - -

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়াছুদ্দূনা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি অ ইয়াব্গূনাহা- ই'ওয়াজ্বান্ অহুম্ বিল্আ-খিরাতি কা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করতো এবং তাতে বক্রতা খুঁজে বেড়াতো এবং তারা আখিরাতের প্রতি ছিলো অবিশ্বাসী - ।’’

জহুরুল হক

''যারা ‌র পথ থেকে সরিয়ে দেয় আর তাকে কুটিল করতে চেষ্টা করে, আর তারা আখেরাতের সন্বন্ধে অবিশ্বাসী।’’

বাংলা উচ্চারণ

অবাইনাহুমা- হিজ্বা-বুন্ অ 'আলাল্ আ'রা-ফি রিজ্বা-লুঁই ইয়া'রিফূনা কুল্লাম্ বিসীমা-হুম অনা-দাও আছ্হা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ সালা-মুন্ 'আলাইকুম লাম্ ইয়াদ্খুলূহা-অহুম্ ইয়াত্বমা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(জান্নাত ও জাহান্নাম) উভয়ের মাঝে থাকবে একটি হিজাব (পর্দা), আর কিছু লোক থাকবে আ’রাফে। তারা সবাইকে চিনবে তাদের লক্ষণ দেখেই। তারা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলে: আপনাদের প্রতি সালাম। তারা তখনো জান্নাতে দাখিল হয়নি, তবে প্রত্যাশা করবে।

জহুরুল হক

আর এই দুয়ের মধ্যে থাকবে একটি পর্দা। আর উঁচু স্থানসমূহে থাকবে কিছু লোক যাঁরা সবাইকে চেনেন তাদের চিহ্নের দ্বারা। আর তাঁরা বেহেশতের আগন্তক বাসিন্দাদের ডেকে বলবেন - - ''সালামুন আলাইকুম।’’ তারা এখনও তাতে প্রবেশ করে নি, তবে তারা আশা রাখে।

বাংলা উচ্চারণ

অ ইযা-ছুরিফাত্ আব্ছোয়া-রুহুম্ তিল্কা- য়া আছ্হা-বিন্ না-রি ক্ব-লূ রব্বানা- লা-তাজু'আল্না- মা'আল্ ক্বাওমিজ্জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যখন তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া হবে জাহান্নামবাসীদের প্রতি, তখন তারা বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের সাথি করোনা।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের দৃষ্টি ফেরানো হবে তখন তা নকরবাসীদের সাক্ষাৎ পাবে, তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! অন্যায়কারী দলের সঙ্গে আমাদের ফেলে দিও না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অনা-দা য় আছ্হা-বুল্ ' আ'রা-ফি রিজ্বা-লাইঁ ইয়া'রিফূনাহুম্ বিসীমা-হুম্ ক্বা-লূ মা য় আগ্না- 'আন্কুম্ জ্বাম্'উকুম্ অমা-কুন্তুম্ তাস্তাক্রিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আরাফবাসী (জাহান্নামের) যেসব লোককে লক্ষণ দেখে চিনবে তাদের ডেকে বলবে: ‘তোমাদের দল এবং তোমাদের অহংকার তোমাদের কোনো কাজে এলোনা।’

জহুরুল হক

আর উঁচুস্থানসমূহের বাসিন্দারা ডাকবেন সেইসব লোকদের যাদের তাঁরা চিনতে পারবেন ওদের চিহ্নের দ্বারা, তাঁরা বলবেন - - ''তোমাদের কোনো কাজে এলো না তোমাদের সঞ্চয় আর যা নিয়ে তোমরা হামবড়াই করতে!

বাংলা উচ্চারণ

আ হা য় উলা - য়িল্লাযীনা আকসাম্তুম্ লা-ইয়ানা-লুহুমুল্লা-হু বিরহ্মাহ্ উদ্খুলুল্ জ্বান্নাতা লা-খাওফুন্ 'আলাইকুম্ অলা য় আন্তুম্ তাহ্যানূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা কি তারা নয় যাদের সম্পর্কে তোমরা শপথ করে বলতে, এদের প্রতি দয়া করবেন না। অথচ তাদেরকেই বলা হয়েছে: ‘তোমরা দাখিল হও জান্নাতে, তোমাদের কোনো ভয়ভীতিও নেই আর দুঃখ দুশ্চিন্তাও নেই।’

জহুরুল হক

''এরাই কি! তারা যাদের সন্বন্ধে তোমরা কসম খেয়েছিলে যে তাদের প্রতি করুণা প্রদর্শন করবেন না?’’ ''বেহেশতে প্রবেশ করো, তোমাদের উপরে কোনো ভয় নেই, আর তোমরা অনুতাপও করবে না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অনা-দা য় আছ্হা-বুন্না-রি আছহা-বাল্ জ্বান্নাতি আন্ আফীদ্বূ 'আলাইনা- মিনাল্ মা - য়ি আও মিম্মা- রাযাক্বাকুমুল্লা-হ্ ক্বা-লূ য় ইন্নাল্লা-হা র্হারামাহুমা- 'আলাল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে: ‘আমাদের দিকে কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে কিছু দাও।’ তখন তারা বলবে: ‘‘ এদুটি জিনিসই হারাম করে দিয়েছেন কাফিরদের জন্যে,

জহুরুল হক

আর নরকবাসীরা জান্নাতবাসীদের ডেকে বলবে - - ''আমাদের উপরে পানি কিছুটা ঢেলে দাও, অথবা তোমাদের যা খাওয়াচ্ছেন তা থেকে।’’ তারা বলবে - - ''নিঃসন্দেহ এ দুটোই নিষেধ করেছেন অবিশ্বাসীদের জন্য - -

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনাত্ তাখাযূ দীনাহুম্ লাহ্ওয়াওঁ অলা'ইবাওঁ অর্গারাত্হুমুল্ হাইয়া-তুদ্দুন্ইয়া - ফাল্ইয়াওমা নান্সা-হুম্ কামা-নাসূ লিক্বা - য়া ইয়াওমিহিম্ হা-যা- অমা কা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা তাদের দীনকে খেল তামাশা হিসেবে গ্রহণ করেছিল এবং দুনিয়ার জীবন যাদেরকে প্রতারিত করে রেখেছিল।’’ সুতরাং আজ আমরা তাদের ভুলে থাকবো, যেভাবে তারা (দুনিয়ার জীবনে) তাদের এই দিনের সাক্ষাতকে ভুলে থেকেছিল এবং যেভাবে তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

জহুরুল হক

''যারা তাদের ধর্মকে গ্রহণ করেছিল খেলা ও কৌতুকরূপে, আর এই দুনিয়ার জীবন যাদের ভুলিয়েছিল।’’ সুতরাং আজ আমরা তাদের পরিত্যাগ করেছি যেমন তারা অবহেলা করেছিল তাদের এই দিনটির সঙ্গে মিলিত হওয়ার ব্যাপারে, আর যেহেতু তারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বাদ্ জ্বি'না-হুম্ বিকিতা-বিন্ ফাছ্ছোয়াল্না-হু 'আলা-'ইল্মিন্ হুদাওঁ অরহ্মাতাল লিক্বাওমিইঁঁ ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের এমন একটি কিতাব পৌঁছিয়েছিলাম, যা ছিলো পূর্ণ জ্ঞানের বিশদ ব্যাখ্যা এবং হিদায়াত ও রহমত বিশ্বাসীদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর নিশ্চয়ই আমরা তাদের জন্য নিয়ে এসেছি একখানা কিতাব যাতে বিশদ ব্যাখ্যা করেছি জ্ঞান দ্বারা, - - এক পথনির্দেশ ও করুণা যারা বিশ্বাস করে তেমন লোকের জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

হাল্ ইয়ান্জুরূনা ইল্লা- তাওয়ীলাহ্ ইয়াওমা ইয়াতী তাওয়ীলূহূ ইয়াকুলুল্লাযীনা নাসূহু মিন্ ক্বাব্লু ক্বাদ্ জ্বা - য়াত্ রুসুলু রব্বিনা- বিল্হাক ফাহাল্ লানা-মিন্ শুফা'আ - য়া ফাইয়াশ্ফা'উ লানা য় আও নুরাদ্দু ফানা'মালা গাইরাল্লাযী কুন্না-না'মাল্ ক্বাদ্ খাসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি এর পরিণামের অপেক্ষায় আছে? যেদিন তার পরিণামকাল এসে উপস্থিত হবে সেদিন সেটিকে ভুলে থাকা লোকেরা বলবে: ‘আমাদের কাছে আমাদের প্রভুর রসূলরা সত্যবার্তা নিয়ে এসেছিলেন, এখন শাফায়াতকারী পাওয়া যাবে কি, যারা আমাদের জন্যে শাফায়াত করবে? অথবা আমাদের দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হোক। আমরা অবশ্যি এতোদিন যা আমল করতাম তার চাইতে ভিন্নতর আমল করবো।’ এরা নিজেরাই নিজেদেরকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করে এসেছে এবং তারা যেসব মিথ্যা রচনা করেছিল সবই উধাও হয়ে গেছে।

জহুরুল হক

তারা কি আর কিছুর অপেক্ষা করে ওর পরিণাম ছাড়া? যেদিন এর পরিণাম আসবে, যারা এর আগে এটি অবহেলা করেছিল তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভুর রসূলগণ নিশ্চয়ই সত্য নিয়ে এসেছিলেন। আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে কি? তারা তবে আমাদের জন্য সুপারিশ করুক, অথবা আমরা কি প্রত্যাবৃত্ত হতে পারি যেন আমরা যা করতাম তার বিপরীত কিছু করতে পারি?’’ তারা আলবৎ তাদের অন্তরা‌ত্মা হারিয়েছে, আর তাদের থেকে বিদায় নিয়েছে সেইসব যাদের তারা উদ্ভাবন করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না রব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ আরদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্ তাওয়া-'আলাল্ 'র্আশি ইয়ুগ্শিল্ লাইলান্ নাহা-রা ইয়াত্বলুবুহূ হাছীছাওঁ অশ্শাম্সা অল্ক্বামারা অন্নুজুমা মুসাখ্খারা-তিম্ বিআম্রিহ্ আলা-লাহুল্ খাল্ক্ব অল্ আর্ম তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভু তো তিনি, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে, অতপর সমাসীন হয়েছেন আরশের উপর। তিনি দিনকে ঢেকে দেন রাত দিয়ে। তারা পরস্পরকে অবিরামভাবে দ্রুত অনুসরণ করে। সূর্য, চাঁদ এবং তারকারাজি তাঁরই নির্দেশের অধীন। সাবধান, সৃষ্টিও তাঁর, নির্দেশও তাঁর। মহাকল্যাণের মালিক আল্লাহ্ই মহাজগতের প্রভু।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমাদের প্রভু হচ্ছেন যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী ছয় দিনে, তখন তিনি আরশে অধিষ্ঠিত হন। তিনি দিনকে আবৃত করেন রাত্রি দিয়ে, - - যা দ্রতগতিতে তার অনুসরণ করে। আর সূর্য ও চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজি তাঁর হুকুমের আজ্ঞাধীন। সৃষ্টি করা ও নির্দেশ দান কি তাঁর অধিকারভুক্ত নয়? মহিমাময় - - বিশ্বজগতের প্রভু!

বাংলা উচ্চারণ

উদ্'উ রব্বাকুম তাদ্বোর্য়ারু'আওঁ অখুফ্ইয়াহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুহিব্বুল্ মু'তাদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রভুকে ডাকো বিনয়ের সাথে এবং গোপনে। সীমালংঘনকারীদের তিনি পছন্দ করেন না।

জহুরুল হক

তোমাদের প্রভুকে ডাকো বিনীতভাবে ও গোপনতার সাথে। নিঃসন্দেহ তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অলা- তুফসিদূ ফিল্ আরদ্বি বা'দা ইছ্লা-হিহা- অদ্'ঊহু খাওফাওঁ অত্বোয়ামা'আ- ইন্না রহ্মাতাল্লা-হি ক্বারীবুম্ মিনাল্ মুহ্সিনীন্

আবদুস শহীদ নাসিম

এসলাহের পর পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করোনা। তাঁকে ডাকো ভয় এবং আশা নিয়ে। অবশ্যি আল্লাহর রহমত কল্যাণপরায়ণদের খুব নিকটে।

জহুরুল হক

আর দুনিয়াতে গন্ডগোল সৃষ্টি করো না তার মধ্যে শান্তিপ্রতিষ্ঠার পরে, আর তাঁকে ডাকো ভয়ে ও আশায়। নিঃসন্দেহ ‌র অনুগ্রহ সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

বাংলা উচ্চারণ

অহুঅল্লাযী ইর্য়ুসির্লু রিয়া-হা বুশ্রাম্ বাইনা ইয়াদাই রহ্মাতিহ্ হাত্তা য় ইযা য় আক্বাল্লাত্ সাহা-বান্ ছিক্বা-লান্ সুকনা-হু লিবালাদিম্ মাইয়্যিতিন্ ফাআন্যাল্না- বিহিল মা - য়া ফাআখ্ রাজনা-বিহী মিন্ কুল্লিছ্ ছামারা-ত্ কাযা-লিকা নুখ্রিজুল মাওতা- লা'আল্লাকুম্ তাযাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাঁর রহমত বর্ষণের আগে সুসংবাদ বাহক হিসেবে বাতাস পাঠান, অতপর তা যখন ঘন মেঘ বইয়ে আনে, তখন আমরা তা মরা শুকনো জমিনের দিকে পাঠাই এবং সেখানে আমরা নাযিল করি (আমাদের রহমতের) পানি (বৃষ্টি)। অতপর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি সব ধরণের ফল - ফসল। এভাবেই আমরা জীবন দান করে বের করে আনবো মৃতদেরকে। আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।

জহুরুল হক

আর তিনিই সেইজন যিনি মলয়বায়ুপ্রবাহ পাঠান তাঁর অনুগ্রহের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহীরূপে। শেষ পর্যন্ত যখন তারা সঘন মেঘমালা বহন ক’রে আনে, আমরা তখন তা মৃত ভূখন্ডের দিকে পাঠাই, তারপর আমরা তাতে পানি বর্ষণ করি, তারপরে এর সাহায্যে উৎপাদন করি সব রকমের ফলফসল। এইভাবে আমরা মৃতকে বের করে আনি, যেন তোমরা স্মরণ করতে পারো।

বাংলা উচ্চারণ

অল্ বালাদুত্ব ত্বোয়াইয়্যিবু ইয়াখ্রুজু নাবা-তুহূ বিইয্নি রব্বিহী অল্লাযী খাবুছা লা-ইয়াখ্রুজু ইল্লা- নাকিদা- কাযা-লিকা নুছোর্য়ারিফুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বাওমিইঁ ইয়াশ্কুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

উত্তম ভূমি থেকে তার প্রভুর অনুমতিক্রমে ফসল উৎপন্ন হয়, আর নিকৃষ্ট ভূমিতে প্রচন্ড পরিশ্রম ছাড়া কিছুই জন্মায়না। এভাবেই শোকরগুজার লোকদের জন্যে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেন তাঁর আয়াত।

জহুরুল হক

আর ভালো জমি - - এর গাছপালা গজায় তার প্রভুর অনুমতিক্রমে, আর যা মন্দ - - কিছুই গজায় না অল্পস্বল্প ছাড়া। এই ভাবে আমরা নির্দেশসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তেমন লোকের জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

লাক্বাদ্ আরসাল্না- নূহান্ ইলা-ক্বাওমিহী ফাক্ব-লা ইয়া-ক্বাওমি'বুদুল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন গাইরুহ্ ইন্নী য় আখা-ফু 'আলাইকুম্ 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা নূহকে পাঠিয়েছিলাম তার কওমের কাছে। সে তাদের বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর দাসত্ব করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। আমি তোমাদের উপর এক মহাদিনের আযাবের আশংকা করছি।

জহুরুল হক

আমরা অবশ্যই নূহকে পাঠিয়েছিলাম তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে। তিনি তখন বলেছিলেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য উপাস্য নেই। নিঃসন্দেহ আমি তোমাদের জন্য আশংকা করছি এক ভয়ংকর দিনের শাস্তি।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বাওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তার কওমের নেতারা বলেছিল: ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, তুমি সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছো।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা তো তোমাকে দেখছি স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী দ্বোয়ালা-লাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের একজন রসূল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে আমার জনগণ! আমার মধ্যে কোনো পথভ্রান্তি নেই, বরং আমি হচ্ছি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল।

বাংলা উচ্চারণ

উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অ আন্ছোয়াহু লাকুম্ অআ'লামু মিনাল্লা-হি মা-লা-তা'-লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি আমার প্রভুর বার্তা। আমি তোমাদের কল্যাণকামী। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে সেসব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা।

জহুরুল হক

''আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই আমার প্রভুর বাণীসমূহ এবং আমি তোমাদের সদুপদেশ দিই, কারণ আমি ‌র কাছ থেকে জানি যা তোমরা জানো না।

বাংলা উচ্চারণ

আঅ 'আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা - য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্ অলিতাত্তাকু অলা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে এবং যেনো তোমরা সতর্ক হও আর যেনো তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও?’’

জহুরুল হক

''আচ্ছা, তোমরা কি বিস্মিত হচ্ছো যে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে উপদেশ এসেছে তোমাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষের মাধ্যমে যেন তিনি তোমাদের সতর্ক করেন, আর যেন তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো, আর যেন তোমাদের করুণা প্রদর্শন করা হয়?

বাংলা উচ্চারণ

ফাকায্যাবূহু ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা'আহূ ফিল্ফুল্কি অআগ্রাকনাল্ লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইন্নাহুম্ কা-নূ ক্বাওমান্ 'আমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা তাকে মিথ্যা আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে আমরা তাকে আর তার সাথে যারা নৌযানে উঠেছিল তাদেরকে নাজাত দেই, আর ডুবিয়ে দেই তাদেরকে যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। মূলত, তারা ছিলো একটি অন্ধ কওম।

জহুরুল হক

কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যারোপ করলো, তাই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম জাহাজে, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তাদের যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল। নিঃসন্দেহ তারা ছিল এক অন্ধ সম্প্রদায়।

বাংলা উচ্চারণ

অইলা- 'আ-দিন্ আখা-হুম্ হূদা- ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা-হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ আফালা-তাত্তাকুন্ ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদেরই ভাই হুদকে। সে তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমরা কি সতর্ক হবেনা?’

জহুরুল হক

আর 'আদ জাতির কাছে তাদের ভাই হূদকে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই। তোমরা কি তবে ধর্মভীরুতা অবলন্বন করবে না?’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ কওমিহী য় ইন্না-লানারা-কা ফী সাফা-হাতিওঁ অইন্না-লানাজুন্ন ুকা মিনাল্ কা-যিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার জাতির প্রধানরা যারা ছিলো তারা বলেছিল: ‘আমাদের মতে তুমি অবশ্যি বোকামিতে নিমজ্জিত রয়েছো এবং আমাদের ধারণা, তুমি একজন মিথ্যাবাদী।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে থেকে যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমরা তো তোমাকে দেখছি অকাট - বোকামিতে, আর আমরা আলবৎ তোমাকে মিথ্যাবাদীদের মধ্যে গণ্য করি।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাইসা বী সাফা-হাতুওঁ অলা-কিন্নী রাসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো বোকামি নেই, বরং আমি রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে একজন রসূল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে আমার লোকেরা! আমার মধ্যে কোনো মূর্খতা নেই, বরং আমি হচ্ছি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল।

বাংলা উচ্চারণ

উবাল্লিগুকুম্ রিসা-লাতি রব্বী অ আনা লাকুম্ না-ছিহুন্ আমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তো তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।

জহুরুল হক

''আমি তোমাদের কাছে পৌঁছে দিই আমার প্রভুর বাণীসমূহ, আর আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত উপদেষ্টা।

বাংলা উচ্চারণ

আঅ'আজ্বিব্তুম্ আন্ জ্বা - য়াকুম্ যিক্রুম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আলা-রাজুলিম্ মিন্কুম্ লিইয়ুন্যিরাকুম্ অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা'আলাকুম্ খুলাফা - য়া মিম্ বা'দ্বি ক্বওমি নূহিওঁ অযা-দাকুম্ ফিল্ খাল্ক্বি বাছ্ত্বোয়াতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা - য়াল্লা-হি লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে, তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে একটি উপদেশ এসেছে - যাতে করে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে? স্মরণ করো যখন নূহের কওমকে (ধ্বংস করার) পর তিনি তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং দৈহিক গঠনে তোমাদেরকে অধিক হৃষ্টপুষ্ট ও বলিষ্ঠ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের কথা স্মরণ করো, যাতে করে তোমরা সফলতা অর্জন করো।’’

জহুরুল হক

''আচ্ছা, তোমরা কি তাজ্জব হচ্ছো যে তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে উপদেশ এসেছে তোমাদেরই মধ্যেকার একজন মানুষের মাধ্যমে যেন তিনি তোমাদের সতর্ক করেন? আর স্মরণ করো, কেমন ক’রে তিনি তোমাদের নূহ্‌ - এর সম্প্রদায়ের পরবর্তীকালে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন, আর তোমাদের বর্ধিত করেছেন আকৃতির বৈশিষ্ট্যে। সুতরাং তোমরা ‌র অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো যেন তোমরা সফল হতে পারো।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় আজ্বিতানা-লিনা'বুদাল্লা-হা অহ্দাহূ অ নাযারা মা- কা-না ইয়া'বুদু আ-বা - উনা- ফা'তিনা- বিমা- তা'ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলেছিল: ‘তুমি কি আমাদের কাছে এজন্যে এসেছো যে, আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত - আনুগত্য করবো আর আমাদের পূর্ব পুরুষরা যাদের ইবাদত করতো তাদের পরিত্যাগ করবো? সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে আমাদেরকে যে জিনিসের ওয়াদা দিচ্ছো তা এনে দেখাও।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ যেন আমরা একমাত্র ‌র উপাসনা করি, আর বর্জন করি আমাদের পিতৃপুরুষরা যার উপাসনা করতো? অতএব নিয়ে এসো আমাদের উপরে যার দ্বারা তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ক্বদ্ অক্বা'আ 'আলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ রিজসুওঁ অগাদ্বোয়াব্ আতুজ্বা-দিলূনানী ফী য় আস্মা - য়িন্ সাম্মাইতুমূহা য় আন্তুম্ অ আ-বা - উকুম্ মা-নায্যালাল্লা-হু বিহা-মিন্ সুলত্বোয়া-ন্ ফান্তাজিরূ য় ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘তোমাদের উপর তোমাদের প্রভুর শাস্তি এবং গজব আপতিত হবেই। তোমরা কি আমার সাথে এমন কতগুলো নাম সম্পর্কে বিবাদ করছো, যে নামগুলো রেখেছো তোমরা এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষরা? তো সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাঠাননি। সুতরাং অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের উপরে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে শাস্তি ও ক্রোধ তো হাজির হয়েই আছে। তোমরা কি আমার সঙ্গে বচসা করো কতকগুলি নাম সন্বন্ধে যে - সব নাম দিয়েছ - - তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা, যার জন্যে কোনো সনদ পাঠান নি? অতএব অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষাকারীদের মধ্যে রয়েছি।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআন্জ্বাইনা-হু অল্লাযীনা মা'আহূ বিরহ্মাতিম্ মিন্না-অক্বাত্বোয়া'না- দা-বিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা- অমা-কা-নূ মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অবশেষে আমরা তাকে (হুদকে) এবং তার সাথিদেরকে আমাদের রহমতে নাজাত দিয়েছি, আর শেকড় কেটে দিয়েছি তাদের, যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত এবং যারা ছিলনা।

জহুরুল হক

কাজে কাজেই তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম আমাদের থেকে অনুগ্রহ বশতঃ, আর কেটে দিয়েছিলাম তাদের শিকড় যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল ও যারা ছিল না।

বাংলা উচ্চারণ

অইলা-ছামূদা আখা-হুম্ ছোয়া-লিহা-। ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদু ল্লা-হা মা-লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ ক্বদ্ জ্বা - য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ হা-যিহী না-ক্বাতুল্লা-হি লাকুম্ আ-ইয়াতান্ ফাযারূহা-তাকুল্ ফী য় র্আদ্বিল্লা-হি অলা- তামাস্সূহা-বিস্সূ - য়িন্ ফাইয়াখুযাকুম্ 'আযা-বুন্ আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা সামুদ জাতির কাছে পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই সালেহ্কে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করো। তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। আল্লাহর এই উটনি তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন। এটিকে আল্লাহর জমিনে চরে খেতে দাও। কোনো বদ নিয়্যতে এটিকে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে বেদনাদায়ক আযাব।

জহুরুল হক

আর ছামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহ্‌কে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। আলবৎ তোমাদের জন্য তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে এসেছে স্পষ্ট প্রমাণ। এটি হচ্ছে ‌র উষ্টী, - - তোমাদের জন্য একটি নিদর্শন, অতএব এটিকে ছেড়ে দাও ‌র মাটিতে চরে খেতে, আর তাকে কোনো ক্ষতিতে ক্ষতি করো না, পাছে মর্মন্তুদ শাস্তি তোমাদের পাকড়াও করে।

বাংলা উচ্চারণ

অয্কুরূ য় ইয্ জ্বা'আলাকুম্ খুলাফা - য়া মিম্ বা'দি 'আ-দিওঁ অ বাওয়্যায়াকুম্ ফিল্ র্আদ্বি তাত্তাখিযূনা মিন্ সুহূলিহা-কুছূরাওঁ অতান্হিতূনাল্ জ্বিবা-লা বুইয়ূতান্ ফায্কুরূ য় আ-লা - য়াল্লা-হি অলা-তা'ছাও ফিল্ র্আদ্বি মুফ্সিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আদ জাতির পরে তিনি তোমাদেরকে (তাদের) স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং এমনভাবে তোমাদেরকে ভূ - খন্ডে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ নির্মাণ করছো। আর পাহাড় কেটে বানাচ্ছো ঘর। অতএব তোমরা (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো এবং ভূ - খন্ডে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়োনা।’’

জহুরুল হক

''আর স্মরণ করো! কেমন ক’রে তিনি তোমাদের 'আদ - এর পরবর্তীকালে প্রতিনিধি বানিয়েছিলেন, আর তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পৃথিবীতে - - যার সমতলক্ষেত্রে তোমরা প্রাসাদ গড়েছিলে আর পাহাড় কেটে বানালে বাড়িঘর। সেজন্য তোমরা স্মরণ করো ‌র অনুগ্রহসমূহ, আর দেশে গর্হিত আচরণ করো না গন্ডগোল সৃষ্টিকারী হয়ে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লাল্ মালাউল্ লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লিল্লাযীনাস্ তুদ্ব্'ইফূ লিমান্ আ-মানা মিন্ হুম্ আতা'লামূনা আন্না ছোয়া-লিহাম্ র্মুসালুম্ র্মি রব্বিহ্ ক্বা-লূ য় ইন্না- বিমা য় র্উসিলা বিহী- মু'মিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কওমের দাম্ভিক নেতারা দুর্বল করে রাখা ঈমানদারদের বলেছিল: ‘তোমরা কি এটা জানো যে, সালেহ তার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রেরিত?’ তারা বলেছিল: ‘হ্যাঁ, তাঁকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে, আমরা তাতে ।’

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা গর্ব করেছিল তাদের প্রধানরা বললে ওদের যারা দুর্বলতা বোধ করতো - - ওদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল তাদের - - ''তোমরা কি জানো যে সালিহ্ তার প্রভুর কাছ থেকে একজন প্রেরিত - পুরুষ?’’ তারা বললে - - ''নিঃসন্দেহ তাঁকে দিয়ে যা পাঠানো হয়েছে তাতে আমরা ।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্লাযীনাস্ তাক্বারূ য় ইন্না- বিল্লাযী য় আ-মান্তুম্ বিহী ক্বা-ফিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন দাম্ভিকরা বলেছিল: ‘তোমরা যা বিশ্বাস করো, আমরা তা অস্বীকার করি।’

জহুরুল হক

যারা গর্ববোধ করতো তারা বললে - - ''তোমরা যে - সব বিষয়ে বিশ্বাস করো তাতে আমরা নিশ্চয়ই অবিশ্বাসী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফা'আক্বারুন্ না-ক্বাতা অ'আতাও 'আন্ আম্রি রব্বিহিম্ অক্বা-লূ ইয়া-ছোয়া-লিহুতিনা-বিমা-তা'ইদুনা য় ইন্ কুন্তা মিনাল্ র্মুসালীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতপর তারা সেই উটনিকে হত্যা করে, আর অবাধ্য হয় আল্লাহর আদেশের এবং বলে: ‘হে সালেহ্! তুমি যদি একজন রসূলই হয়ে থাকো, তবে যে শাস্তির ভয় আমাদের দেখিয়েছো তা নিয়ে আসো।’

জহুরুল হক

অতঃপর তারা উষ্টী হত্যা করলে, আর অমান্য করলে তাদের প্রভুর নির্দেশ ও বললে - - ''হে সালিহ্‌! এনো তো আমাদের জন্য যা দিয়ে তুমি আমাদের ভয় দেখাচ্ছ, যদি তুমি রসূলদের একজন হও।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহিম্ জ্বা-ছিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের পাকড়াও করল ভূমিকম্প, কাজেই তারা হয়ে গেল আপন বাড়িঘরেই নিথরদেহী।

বাংলা উচ্চারণ

ফাতাঅল্লা 'আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বাদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লাতা রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্ অলা-কিল্ লা-তুহিব্বূনান্ না-ছিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে (সালেহ্) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণকর নসিহত করেছিলাম, কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদের পছন্দ করোনা।’

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাদের থেকে ফিরে গেলেন আর বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বাণীসমূহ নিশ্চয়ই পৌঁছে দিয়েছিলাম, আর তোমাদের সদুপদেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু তোমরা উপদেষ্টাদের পছন্দ করলে না। ’’

বাংলা উচ্চারণ

অলূত্বোয়ান্ ইয্ ক্ব-লা লিক্বাওমিহী য় আতাতূ নাল্ ফা-হিশাতা মা- সাবাক্বাকুম্ বিহা-মিন্ আহাদিম্ মিনাল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর লুতকেও (আমরা পাঠিয়েছিলাম একটি জাতির কাছে)। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা কি এমন কুকর্মেই লিপ্ত থাকবে, যে কর্মে তোমাদের আগে জগতের কোনো লোকই লিপ্ত হয়নি?

জহুরুল হক

আর লূত। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বললেন - - ''তোমরা কি এমন অশ্লীলতা করছো যা তোমাদের পূর্বে জগদ্বাসীদের আর কেউ চালু করে নি?

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাকুম্ লাতা”তূর্না রিজ্বা-লা শাহ্অতাম্ মিন্ দূনিন্ নিসা - ই বাল্ আন্তুম্ ক্বাওমুম্ মুস্রিফূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাচ্ছো। তোমরা তো এক চরম সীমালংঘনকারী জাতি।’’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তোমরা তো কামাতুর হয়ে কামিনীদের ছেড়ে দিয়ে পুরুষদের কাছে আস। না, তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী লোক।’’

বাংলা উচ্চারণ

অমা- কা-না জ্বাঅ-বা ক্বওমিহী য় ইল্লা য় আন্ ক্ব-লূ য় আখ্রিজুহুম্ মিন্ র্ক্বইয়াতিকুম্ ইন্নাহুম্ উনা-সুইঁ ইয়াতাত্বোয়াহ্হারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তার কওম কেবল একথাই বলেছিল: ‘এদেরকে তোমাদের জনবসতি থেকে বের করে দাও, এরা বড় পাক পবিত্র থাকতে চায়।’

জহুরুল হক

আর তাঁর লোকদের উত্তর এ ভিন্ন অন্য কিছু ছিল না যে তারা বললে - - ''তোমাদের জনপদ থেকে এদের বের করে দাও। এরা তো এমন লোক যারা পবিত্র হতে চায়!’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআন্জ্বাইনা-হু অআহ্লাহূ য় ইল্লাম্রায়াতাহূ কা-নাত্ মিনাল্ গা-বিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরিণতিতে আমরা তাকে (লুতকে) এবং তার পরিবার পরিজনকে নাজাত দেই তার স্ত্রীকে ছাড়া, কারণ সে (মহিলা) ছিলো পেছনে থাকাদেরই একজন।

জহুরুল হক

কাজেই আমরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে উদ্ধার করেছিলাম - - তাঁর স্ত্রী ব্যতীত, সে ছিল পেছনে - পড়ে - থাকাদের অন্তর্ভুক্ত।

বাংলা উচ্চারণ

অআম্ত্বোর্য়ানা 'আলাইহিম্ মাত্বোয়ারা- ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুজরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তাদের উপর আমরা (পাথর) বর্ষণ করেছিলাম ভীষণ বর্ষণ। ফলে অপরাধীদের পরিণতি কী রকম হয়েছিল লক্ষ্য করে দেখো।

জহুরুল হক

আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বর্ষণ। অতএব দেখো, অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?

বাংলা উচ্চারণ

অইলা-মাদ্ইয়ানা আখা-হুম্ শু'আইবা-ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি'বুদুল্লা- হা মা- লাকুম্ মিন্ ইলা-হিন্ গাইরুহ্ ক্বাদ্ জ্বা - য়াত্কুম্ বাইয়্যিনাতুম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআওফুল্ কাইলা অল্ মীযা-না অলা-তাব্খাসুন্না-সা আশ্ইয়া - য়াহুম্ অলা-তুফ্সিদূ ফিল্ আরদ্বি বা'দা ইছ্লা-হিহা- যা-লিকুম্ খাইরুল্লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ মুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর মাদায়ানের অধিবাসীদের কাছে আমরা পাঠিয়েছিলাম তাদের ভাই শুয়াইবকে। সে তাদের বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত করো, তোমাদের জন্যে তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে, অতএব মাপ ও ওজন ঠিকঠিকভাবে পূর্ণ করে দেবে। মানুষকে তাদের প্রাপ্য জিনিস কম দেবেনা এবং শান্তি শৃংখলা প্রতিষ্ঠিত হবার পর দেশে ফাসাদ (বিশৃংখলা) সৃষ্টি করবেনা। এটাই তোমাদের জন্যে কল্যাণের পথ যদি তোমরা হও।

জহুরুল হক

আর মাদয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শোআইবকে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! ‌র উপাসনা করো, তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত অন্য উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে নিশ্চয়ই এসেছে স্পষ্ট প্রমাণ। কাজেই পুরো মাপ ও ওজন দেবে, আর কোন লোককে বঞ্চিত করো না তাদের বিষয়বস্তুতে, আর পৃথিবীতে গন্ডগোল সৃষ্টি করো না তাতে সুব্যবস্থা আনয়নের পরে এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা হও।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাক'উদূ বিকুল্লি ছিরা-ত্বিন্ তূ'ইদূনা অতাছুদ্দূনা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি মান্্ আ-মানা বিহী অতাবগূনাহা-'ইওয়াজ্বান্ অয্কুরূ য় ইয্ কুন্তুম্ ক্বলীলান্ ফাকাছ্ছারাকুম্ অন্জুরূ কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি ত্রাস সৃষ্টি করার জন্যে তোমরা পথে পথে বসে থেকোনা, তাদেরকে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করোনা এবং তাতে বক্রতা সন্ধান করোনা। স্মরণ করো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে গুটি কয়েক, তারপর তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দিয়েছিলেন। আরো লক্ষ্য করে দেখো, অতীতে ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের কী পরিণতি হয়েছিল?

জহুরুল হক

''আর প্রত্যেক রাস্তায় ওত পেতে থেকো না ভয় দেখিয়ে, আর ‌র পথ থেকে তাকে ফিরিয়ে নিতে যে তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, আর তাকে কুটিল করতে যেও না। আর স্মরণ করো - - যখন তোমরা অল্প ছিলে, তখন তিনি তোমাদের বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। অতএব দেখো, কি হয়েছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম!

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ কা-না ত্বোয়া - য়িফাতুম্ মিন্কুম্ আ-মানূ বিল্লাযী য় র্উসিল্তু বিহী-অত্বোয়া - রিফাতুল্ লাম্ ইয়ুমিনূ ফাছ্বিরূ হাত্তা-ইয়াহ্কুমাল্লা-হু বাইনানা-অহুঅ খাইরুল্ হা-কিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি যদি তোমাদের একটি দল ঈমান আনে এবং আরেকটি দল যদি ঈমান না এনে থাকে, তবে অপেক্ষা করো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে না দেয়া পর্যন্ত। প্রকৃতপক্ষে তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’

জহুরুল হক

''আর যদি তোমাদের একদলও বিশ্বাস করে আমাকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তাতে, আর একদল বিশ্বাস করে না, তখন ধৈর্য ধরো যে পর্যন্ত না আমাদের উভয়ের মধ্যে মীমাংসা করে দেন, আর তিনিই বিচারকর্তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনাস্ তাক্বারূ মিন্ ক্বওমিহী লানুখ্রিজ্বান্নাকা ইয়া-শু'আইবু অল্লাযীনা আ-মানূ মা'আকা মিন্ র্ক্বইয়াতিনা য় আও লাতা'উদুন্না ফী মিল্লাতিনা- ক্ব-লা আঅ লাও কুন্না-কা-রিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার বক্তব্যের জবাবে) তার কওমের অহংকারী নেতারা বলেছিল: ‘হে শুয়াইব! আমরা তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবো, অথবা তোমাদের ফিরিয়ে আনবো আমাদের আদর্শে।’ সে (শুয়াইব) বলেছিল: ‘‘আমরা যদি এটাকে ঘৃণা করি, তবু?

জহুরুল হক

তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা গর্ব করেছিল তাদের প্রধানরা বললে, ''আমরা নিশ্চয়ই তোমাকে তাড়িয়ে দেবো, হে শোআইব! আর যারা তোমার সঙ্গে ঈমান এনেছে তাদেরও, আমাদের জনপদ থেকে, অথবা আমাদের ধর্মমতে তোমাদের ফিরে আসতেই হবে।’’ তিনি বললেন, ''কি! যদিও আমরা ঘৃণা করি?

বাংলা উচ্চারণ

ক্বদিফ্তারাইনা-'আলাল্লা-হি কাযিবান্ ইন্ 'উদ্না-ফী মিল্লাতিকুম্ বা'দা ইয্ নাজ্জ্বা-নাল্লা-হু মিন্হা- অমা-ইয়াকূনূ লানা য় আন্না'ঊদা ফী হা য় ইল্লা য় আইঁ ইয়াশা - য়াল্লা-হু রব্বুনা- অসি'আ রব্বুনা-কুল্লা শাইয়িন্ 'ইল্মা- 'আলাল্লা-হি তাওয়াক্কাল্না- রব্বানাফ্তাহ্ বাইনানা- অবাইনা ক্বওমিনা-বিল্হাকক্বি অআন্তা খাইরুল্ ফা-তিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের ধর্মের আদর্শ থেকে আমাদের নাজাত দেয়ার পর আবার যদি আমরা তাতে ফিরে যাই, তবে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করবো। আমরা তাতে ফিরে যেতে পারিনা, তবে আমাদের প্রভু চাইলে ভিন্ন কথা। আমাদের প্রভুর জ্ঞান সব কিছু পরিব্যাপ্ত। আমরা তাওয়াক্কুল করেছি আল্লাহর উপর। হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের ও আমাদের কওমের মাঝে হকভাবে ফায়সালা করে দাও, তুমিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।’’

জহুরুল হক

''আমরা নিশ্চয়ই ‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা সৃষ্টি করবো যদি আমরা ফিরে যাই তোমাদের ধর্মমতে তা থেকে আমাদের উদ্ধার করার পরেও, আর এটি আমাদের সমীচীন হবে না যে আমরা ওতে ফিরে যাই, যদি না আমাদের প্রভু ইচ্ছে করেন। আমাদের প্রভু জ্ঞানে সব - কিছুতে ব্যাপকতা রাখেন। ‌র উপরেই আমরা নির্ভর করি - - 'আমাদের প্রভু! আমাদের মধ্যে ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ন্যায্যভাবে নিস্পত্তি করে দাও, আর তুমিই নিস্পত্তিকারীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্ মালাউল্লাযীনা কাফারূ মিন্ ক্বওমিহী লায়িনিত্ তাবা'তুম্ শু'আইবান্ ইন্নাকুম ইযাল্লাখা-সিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার কওমের নেতারা (জনগণকে) বলেছিল: ‘তোমরা যদি শুয়াইবের অনুসরণ করো, তবে অবশ্যি তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

জহুরুল হক

আর তাঁর লোকদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস করেছিল তাদের প্রধানরা বললে - - ''যদি তোমরা শোআইবকে অনুসরণ কর তবে তোমরা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ফাআছ্বাহূ ফী দা-রিহীম জ্বা-ছিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব তাদের পাকড়াও করে এক প্রচন্ড ভূমিকম্প। ফলে তাদের সকাল হয় নিজেদের ঘরে উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায়।

জহুরুল হক

তারপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়ালো, ফলে তারা হয়ে গেল আপন বাড়িঘরেই নিথরদেহী।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা কায্যাবূ শু'আইবান্ কাআল লাম্ ইয়াগ্নাও ফীহা-আল্লাযীনা কায্যাবূ শু'আইবান্ কা-নূ হুমুল খা-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা যেনো কখনো সেখানে বসবাসই করেনি। যারা শুয়াইবকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

যারা শোআইবকে মিথ্যারোপ করেছিল তাদের দশা হলো - - তারা যেন কখনো সেখানে বসবাস করে নি, যারা শোআইবকে মিথ্যারোপ করেছিল তারা নিজেরাই হলো ক্ষতিগ্রস্ত!

বাংলা উচ্চারণ

ফাতাওয়াল্লা-'আন্হুম্ অক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি লাক্বদ্ আব্লাগ্তুকুম্ রিসা-লা-তি রব্বী অনাছোয়াহ্তু লাকুম্ ফাকাইফা আ-সা- 'আলা-ক্বওমিন্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সে (শুয়াইব) তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে: ‘হে আমার কওম! আমি তোমাদের কাছে আমার প্রভুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণের নসিহত করেছি। সুতরাং এখন আমি কেমন করে কুফুরিকে আঁকড়ে ধরে থাকা লোকদের জন্যে আক্ষেপ করি?’

জহুরুল হক

এর পর তিনি তাদের থেকে ফিরে দাঁড়ালেন ও বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো অবশ্যই তোমাদের কাছে আমার প্রভুর নির্দেশসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলাম আর তোমাদের সদুপদেশ দিয়েছিলাম, সুতরাং কেনই বা আমি দুঃখ করবো এক অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য!’’

বাংলা উচ্চারণ

অমা য় র্আসাল্না- ফী র্ক্বইয়াতিম্ মিন্ নাবিয়্যিন ইল্লা য় আখায্না য়আহ্লাহা-বিল্বা'সা-য়ি অদ্ব দ্বোর্য়ারা-য়ি লা'আল্লাহুম্ ইয়াদ্ব দ্বোর্য়ারা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখনই কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠিয়েছি, সেখানকার অধিবাসীদের দারিদ্র ও দুঃখ কষ্টে ফেলেছি, যাতে করে তারা বিনয়াবনত হয়।

জহুরুল হক

আর আমরা কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠাইনি তাদের বাসিন্দাদের দুঃখ ও দুর্দশা দিয়ে পাকড়াও না - ক’বে, যেন তারা নিজেরা বিনয়াবনত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা বাদ্দাল্না-মাকা-নাস্ সাইয়িয়াতিল্ হাসানাতা হাত্তা- 'আফাও অক্ব-লূ ক্বদ্ মাস্সা আ-বা - য়ানাদ্ব্ দ্বোর্য়ারা - উ অর্স্সারা - উ ফাআখায্না-হুম্ বাগ্তাতাওঁ অহুম্ লা-ইয়াশ্'উরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর আমরা দুরাবস্থাকে ভালো অবস্থায় বদল করে দেই, এমনকি তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয় এবং বলে: ‘আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক কষ্ট ও স্বাচ্ছন্দ্য ভোগ করেছিল।’ তখন আকস্মিক আমরা তাদের পাকড়াও করি এবং তারা টেরও পায়না।

জহুরুল হক

তারপর আমরা দুঃখকষ্টের অবস্থা বদলে দিলাম ভালো দিয়ে, যে পর্যন্ত না তারা ফেঁপে উঠলো ও বললে - - ''আমাদের পিতৃপুরুষদেরও দুঃখদুর্দশা ও আমোদ - আহ্লাদ স্পর্শ করেছিল।’’ কাজেই আমরা তাদের পাকড়াও করলাম অতর্কিতে, আর তারা টেরও পেলো না।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও আন্না আহ্লাল্ কুর য় আ-মানূ অত্তাক্বও লাফাতাহ্না-'আলাইহিম্ বারাকা-তিম্ মিনাস্ সামা - য়ি অল্র্আদ্বি অলা-কিন্ কায্যাবূ ফাআখায্না-হুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনপদবাসী যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তাহলে অবশ্যি আমরা তাদের জন্যে খুলে দিতাম আসমান ও জমিনের বরকতের দ্বার। কিন্তু তারা (নবীদের শিক্ষা) প্রত্যাখ্যান করে এবং আমরাও তাদের কর্মকান্ডের জন্যে তাদের পাকড়াও করি।

জহুরুল হক

আর যদি জনপদসমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনতো ও ধর্ম - ভীরুতা অবলন্বন করতো তবে আমরা নিশ্চয়ই তাদের জন্য উন্নুক্ত করতাম মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবী থেকে আশীর্বাদসমূহ, কিন্তু তারা তো অবিশ্বাস করেছিল, তাই আমরা তাদের পাকড়াও করলাম যা তারা অর্জন করেছিল তার জন্যে।

বাংলা উচ্চারণ

আফাআমিনা আহ্লুল্ কুরা য় আইঁ ইয়াতিয়াহুম্ বাসুনা বাইয়া-তাওঁ অহুম্ না - য়িমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জনপদের অধিবাসীরা কি এই ভয় রাখেনা যে, আমার শাস্তি তাদের উপর এসে পড়তে পারে রাত্রে যখন তারা থাকবে ঘুমন্ত?

জহুরুল হক

তবে কি জনপদের বাসিন্দারা নিরাপদ বোধ করছে তাদের উপরে আমাদের বিপর্যয় এসে পড়া সম্পর্কে রাত্রির আক্রমণরূপে, যখন তারা থাকে নিদ্রামগ্ন?

বাংলা উচ্চারণ

আওয়া আমিনা আহলুল্ কুর য় আইঁ ইয়া তিয়াহুম্ বাসুনা- দ্বুহাওঁ অহুম্ ইয়াল্'আবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথবা শহরবাসীরা কি এই ভয়ও রাখেনা যে, তাদের উপর আমার শাস্তি এসে পড়বে সকাল বেলা আর তারা থাকবে খেলায় নিরত?

জহুরুল হক

অথবা জনপদের বাসিন্দারা কি নিরাপদ ভাবে তাদের উপরে আমাদের বিপর্যয় এসে পড়া সম্পর্কে সকাল বেলায় যখন তারা থাকে খেলায় রত?

বাংলা উচ্চারণ

আফাআমিনূ মাক্রল্লা-হি ফালা-ইয়ামানু মাক্রল্লা-হি ইল্লাল্ ক্বওমুল্ খা-সিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি ভয় পায়না আল্লাহর কৌশলকে? আল্লাহর কৌশলকে কেউই নিরাপদ মনে করেনা ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া।

জহুরুল হক

তারা কি তবে নিরাপদ বোধ করে ‌র পরিকল্পনা থেকে? আর ‌র পরিকল্পনা থেকে কেউ নিরাপদ থাকতে পারে না ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত।

বাংলা উচ্চারণ

আঅলাম্ ইয়াহ্দি লিল্লাযীনা ইয়ারিছুনাল্ র্আদ্বোয়া মিম্ বা'দ্বি আহ্লিহা য় আল্লাও নাশা - উ আছোয়াব্না-হুম্ বিযুনূবিহিম্ অনাত্ববা'উ 'আলা-কুলূবিহিম্ ফাহুম্ লা-ইয়াস্মা'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কোনো জনপদে তার অধিবাসীদের ধ্বংস হবার পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তারা কি এই দিশাটাও পায়না যে, আমরা চাইলে তাদের পাপের জন্যে তাদের শাস্তি দিতে পারি? অথবা মোহর মেরে দিতে পারি তাদের অন্তরে, যার ফলে তারা আর শুনবেনা?

জহুরুল হক

এটি কি নির্দেশা‌ত্মক নয় তাদের জন্য যারা দেশের উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত হয় তার বাসিন্দাদের পরে, যে যদি আমরা ইচ্ছা করি তবে তাদেরও আমরা আঘাত হানতে পারি তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের হৃদয়ের উপরে সিল এঁটে দিতে পারি, ফলে তারা শুনবে না?

বাংলা উচ্চারণ

তিল্কাল্ কুরা- নাকুছ্ছু 'আলাইকা মিন্ 'আম্বা - য়িহা- অলাক্বদ্ জ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি ফামা-কা-নূ লিইয়ুমিনু বিমা-কায্যাবূ মিন্ ক্বব্ল্ কাযা-লিকা ইয়াত্ববা'উল্লা-হু 'আলা-কুলূবিল্ কা-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেই সব জনপদের কিছু সংবাদ আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করেছি। মূলত, তাদের কাছে এসেছিল তাদের রসূলরা সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে, কিন্তু যা তারা আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল তার প্রতি আর তারা ঈমান আনার ছিলনা। এভাবেই মোহর মেরে দেন কাফিরদের হৃদয়ে।

জহুরুল হক

এই জনবসতিগুলো - - তাদের কাহিনী থেকে কিছুটা আমরা তোমার কাছে বর্ণনা করছি। আর নিশ্চয়ই তাদের কাছে তাদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, কিন্তু তাদের বিশ্বাস করবার অবস্থা ছিল না তাতে যা তারা ইতিপূর্বে অবিশ্বাস করেছিল। এইভাবে মোহর মেরে দেন অবিশ্বাসীদের হৃদয়ের উপরে।

বাংলা উচ্চারণ

অমা- অজ্বাদ্না- লিআক্ছারিহিম্ মিন্ 'আহদিন্ অইওঁ ওয়াজ্বাদ্না য় আক্ছারাহুম্ লাফা-সিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা অধিকাংশকেই অংগীকার পালনকারী পাইনি। আমরা তাদের অধিকাংশকেই পেয়েছি ফাসিক (সীমালংঘনকারী পাপাচারী)।

জহুরুল হক

আর তাদের বেশিরভাগের মধ্যে আমরা প্রতি‌শ্রুতি পালনের কিছুই পাই নি, বরং তাদের অধিকাংশকে অবশ্যই পেয়েছি ডাহা অসৎকর্মা।

বাংলা উচ্চারণ

ছুম্মা বা'আছ্না-মিম্ বা'দিহিম্ মূসা-বিআ-ইয়া-তিনা য় ইলা-র্ফি'আউনা অমালায়িহী ফাজোয়ালামূ বিহা-ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুফ্সিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে ফেরাউন এবং তার পারিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করে। এখন দেখো, সেসব ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কী হয়েছিল?

জহুরুল হক

অবশেষে তাদের পরে আমরা মূসাকে নিযুক্ত করেছিলাম ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে আমাদের নির্দেশাবলী সঙ্গে দিয়ে, কিন্তু তারা এগুলোর প্রতি অবিচার করেছিল, অতএব দেখো কেমন হয়েছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম!

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লা মূসা-ইয়া-র্ফি'আউনু ইন্নী রসূলুম্ র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বলেছিল: ‘‘হে ফেরাউন! আমি মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে একজন রসূল।

জহুরুল হক

আর মূসা বললেন - - ''হে ফিরআউন, নিঃসন্দেহ আমি বিশ্বজগতের প্রভুর তরফ থেকে একজন রসূল, - -

বাংলা উচ্চারণ

হাক্বীকুন্ 'আলা য় আল্লা য় আকুলা 'আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাক ক্বাদ্ জ্বি” তুকুম্ বিবাইয়্যিনাতিম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআরসিল্ মা'ই ইয়া বানী য় ইস্রা-ঈল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সত্যকথা হলো, আমি আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া বলবোনা। আমি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছি, সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমার সাথে যেতে দাও।’’

জহুরুল হক

''স্থিরনিশ্চিত যে সন্বন্ধে আমি সত্য ছাড়া বলবো না। আমি তোমাদের কাছে এসেছি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে স্পষ্ট প্রমাণাবলী নিয়ে, সুতরাং আমার সঙ্গে পাঠিয়ে দাও ইসরাইলবংশীয় লোকদের।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইন্ কুন্তা জিতা বিআ-ইয়াতিন্ ফাতি বিহা য় ইন্ কুন্তা মিনাছ্ ছোয়া-দ্বিকীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলেছিল: ‘তুমি কোনো নিদর্শন যদি এনেই থাকো, সত্যবাদী হলে তা প্রমাণ করো।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''যদি তুমি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো তবে তা উপস্থাপিত করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের মধ্যেকার হও।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাআল্ক্বা-'আছোয়া-হু ফাইযা-হিয়া ছু'বা-নুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) তখন তার লাঠি নিক্ষেপ করে, আর সাথে সাথে তা জাজ্জ্বল্যমান অজগর হয়ে যায়।

জহুরুল হক

কাজেই তিনি তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন, তখন আশ্চর্য! তা হলো এক স্পষ্ট সাপ।

বাংলা উচ্চারণ

অনাযা'আ ইয়াদাহূ ফাইযা-হিয়া বাইদ্বোয়া-উ লিন্না-জিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর সে তার (বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করলো, তক্ষুনি তা দর্শকদের জন্যে ধবধবে সাদা হয়ে গেলো।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর হাত বের করলেন, তখন আশ্চর্য! তা হলো দর্শকদের কাছে সাদা।

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি র্ফি'আউনা ইন্না হা-যা- লাসা-হিরুন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের কওম প্রধানরা বললো: ‘‘এতো অবশ্যি এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।

জহুরুল হক

ফিরআউনের লোকদের প্রধানরা বললে - - ''নিঃসন্দেহ এ একজন বিজ্ঞ জাদুকর।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুরীদু আইঁ ইয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিন্ র্আদ্বিকুম্ ফামা-যা- তামুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে চায় তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে খারিজ করে (তাড়িয়ে) দিতে। এখন বলো, তোমরা কী পরামর্শ দিচ্ছো?’’

জহুরুল হক

''সে চায় তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বের করে দিতে, কাজেই তোমরা কি পরামর্শ দাও?’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় র্আজ্বিহ্ অআখা-হু অর্আসিল্ ফিল্ মাদা - য়িনি হা-শিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘তাকে এবং তার ভাইকে সামান্য অবকাশ দিন আর এদিকে (ম্যাজেসিয়ানদের ডেকে আনতে) শহর গুলোতে লোক পাঠিয়ে দিন।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''তাকে ও তার ভাইকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দাও, আর শহরে - নগরে পাঠাও তলবকারীদের - -

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াতূকা বিকুল্লি সা-হিরিন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের আপনার কাছে এনে হাজির করবে।’’

জহুরুল হক

''তোমার কাছে তারা নিয়ে আসুক প্রত্যেক ঝানু জাদুকর।’’

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা - য়াস সাহারাতু র্ফি'আউনা ক্ব-লূ য় ইন্না লানা-লাআজরান্ ইন্ কুন্না নাহ্নুল্ গ-লিবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ম্যাজেসিয়ানরা ফেরাউনের কাছে এসেই বললো: ‘আমরা যদি জয়ী হই আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’

জহুরুল হক

আর জাদুকররা ফিরআউনের কাছে এলো। তারা বললে - - ''আমাদের পুরস্কার থাকা চাই যদি আমরা নিজেরা বিজেতা হই।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা না'আম্ অইন্নাকুম্ লামিনাল্ মুর্ক্বারবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: হ্যাঁ (অবশ্যি থাকবে) তাছাড়া তোমরা আমার নিকটের লোকদের অন্তরভুক্ত হবে।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''হাঁ আর আলবৎ তোমরা হবে নিকটবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ ইয়া-মূসা য় ইম্মা য় আন্ তুল্ক্বিয়া অইম্মা য় আন্ নাকূনা নাহ্নুল্ মুল্ক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘মূসা! আপনি আগে নিক্ষেপ করবেন, নাকি আমরাই হবো পয়লা নিক্ষেপকারী?’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে মূসা! তুমি কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই হবো নিক্ষেপকারী?

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা আল্ক্ব ফালাম্মা য় আল্ক্বও সাহারূ য় আ'ইয়ুনান্ না-সি অর্স্তাহাবূহুম্ অজ্বা - ঊ বিসিহ্রিন্ 'আজ্বীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তোমরাই (আগে) নিক্ষেপ করো।’ তারপর তারা (দড়ি এবং লাঠি) নিক্ষেপ করলো, লোকদের চোখে ধাঁধাঁ সৃষ্টি করলো এবং তাদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে দিলো। আসলেই তারা বড় রকমের ম্যাজিক দেখিয়েছিল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরাই ফেলো।’’ অতঃপর যখন তারা ফেললো তখন লোকদের চোখে ধাঁধাঁ লাগিয়ে দিল আর তাদের ভয়াতুর করলো, আর তারা নিয়ে এলো এক বড় রকমের জাদু!

বাংলা উচ্চারণ

অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় আন্ আল্ক্বি 'আছোয়া-কা ফাইযা-হিয়া তাল্ক্বফু মা- ইয়া ফিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা মূসার কাছে অহি করলাম: ‘তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’ সাথে সাথে সেটি তাদের মিথ্যা সৃষ্টিগুলো গিলে ফেলতে থাকলো।

জহুরুল হক

তখন আমরা মূসাকে প্রত্যাদেশ দিলাম যে - - ''তোমার লাঠি নিক্ষেপ করো।’’ তখন কি আশ্চর্য! তা গ্রাস করতে লাগলো যা তারা রচনা করেছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ফাঅক্বা'আল্ হাককু অবাত্বোয়ালা মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো এবং বাতিল প্রমাণিত হয়ে গেলো তাদের কর্মকান্ড।

জহুরুল হক

কাজেই সত্য প্রতিষ্ঠা লাভ করলো এবং তারা যা করছিল তা বাতিল হয়ে গেল।

বাংলা উচ্চারণ

ফাগুলিবূ হুনা-লিকা অন্ক্বালাবূ ছোয়া-গিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানেই তারা পরাস্ত হয়ে গেলো এবং হয়ে গেলো অধ:পতিত লাঞ্ছিত।

জহুরুল হক

সুতরাং তারা সেইখানেই পরাভূত হলো, আর তারা মোড় ফেরালো ছোট হয়ে।

বাংলা উচ্চারণ

অ উল্ক্বিয়াস্ সাহারাতু সা-জ্বিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় লুটিয়ে পড়লো।

জহুরুল হক

আর জাদুকররা লুটিয়ে পড়লো সিজদারত অবস্থায়।

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লূ য় আ-মান্না-বিরব্বিল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: আমরা ঈমান আনলাম রাববুল আলামিনের প্রতি,

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা ঈমান আনলাম বিশ্বজগতের প্রভুর প্রতি - -

বাংলা উচ্চারণ

রব্বি মূসা-অহারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যিনি মূসা এবং হারূণের রব।

জহুরুল হক

''মূসা ও হারূনের প্রভু।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্বা-লা র্ফি'আউনু আ-মান্তুম বিহী ক্বব্লা আন্ আ-যানা লাকুম্ ইন্না হা-যা-লামাক্রুম্ মার্কাতুমূহু ফিল্ মাদীনাতি লিতুখ্রিজু মিন্হা য় আহ্লাহা- ফাসাওফা তা'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন বললো: ‘‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? আসলে এটা একটা ষড়যন্ত্র। তোমরা (উভয় পক্ষ মিলে) এই ষড়যন্ত্র এঁটেছো নগরবাসীকে তাদের নগর থেকে বের করে দেয়ার জন্যে। অচিরেই তোমরা এ কাজের পরিণাম দেখতে পাবে।

জহুরুল হক

ফিরআউন বললে - - ''তোমরা তাতে বিশ্বাস করছ আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই! নিশ্চয় এটি এক চক্রান্ত যা তোমরা এ শহরে ফেদেছঁ যেন তোমরা এ থেকে এর লোকদের বার করে দিতে পারো। বেশ, শীঘ্রই তোমরা টের পাবে!

বাংলা উচ্চারণ

লাউক্বাত্ত্বি'আন্না আইদিয়াকুম্ অর্আজুলাকুম্ মিন্ খিলা-ফিন্ ছুম্মা লাউছোয়াল্লিবান্নাকুম্ আজমা'ঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত ও পা কেটে দেবো, তারপর তোমাদের সবাইকে করবো শূলবিদ্ধ।’’

জহুরুল হক

''আমি আলবৎ তোমাদের হাত ও তোমাদের পা উল্টো - পাল্টা কেটে দেবো, তারপর তোমাদের নিশ্চয়ই শূলে চড়াবো একসঙ্গে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় ইন্না য় ইলা-রব্বিনা-মুন্ক্বলিবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন তারা বলেছিল: ‘‘আমরা অবশ্যি ফিরে যাবো আমাদের প্রভুর কাছে।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''নিঃসন্দেহ আমাদের প্রভুর কাছেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-তানক্বিমু মিন্না য় ইল্লা য় আন্ আ-মান্না- বিআ-ইয়া-তি রব্বিনা-লাম্মা-জ্বা - য়াত্না- রব্বানা য় আফ্রিগ্ 'আলাইনা- ছব্বাওঁ অতাওয়াফ্ফানা-মুস্লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি তো কেবল একারণেই আমাদের থেকে প্রতিশোধ নিচ্ছো যে, আমরা আমাদের প্রভুর নির্দেশের প্রতি ঈমান এনেছি, যখন তা আমাদের সামনে প্রমাণিত হয়েছে।’’ (তারা দোয়া করেছিল:) ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে সবর করার শক্তি দাও এবং আমাদের ওফাত দান করো মুসলিম হিসেবে।’

জহুরুল হক

''আর তুমি আমাদের উপরে প্রতিহিংসা নিচ্ছ না শুধু এজন্য ছাড়া যে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আমাদের প্রভুর নির্দেশাবলীতে যখন সে - সব আমাদের কাছে এসেছিল। 'আমাদের প্রভু! আমাদের উপরে ধৈর্য বর্ষণ করো, আর আমাদের মৃত্যু ঘটাও মুসলিমরূপে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লাল্ মালাউ মিন্ ক্বওমি ফির'আউনা আতাযারু মূসা- অক্বওমাহূ লিইয়ুফ্সিদূ ফিল্ র্আদ্বি অইয়াযারাকা অআ-লিহাতাক্ ক্ব-লা সানুক্বত্তিলু আব্না-য়াহুম্ আনাস্তাহ্য়ী নিসা - আহুম্ অইন্না ফাওক্বাহুম্ ক্বা-হিরূ-ন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন কওমের প্রধানরা বললো: ‘(হে ফেরাউন!) আপনি কি মূসা এবং তার কওমকে দেশে ফাসাদ সৃষ্টির আর আপনাকে ও আপনার ইলাহ্দের ত্যাগ করার জন্যে সুযোগ দিয়ে রাখবেন?’ সে বললো: ‘অচিরেই আমরা কতল করবো তাদের পুত্রদেরকে আর জীবিত রাখবো কন্যা সন্তানদের। আমরা তাদের উপর প্রবল শক্তিধর।’

জহুরুল হক

আর ফিরআউনের লোকদের প্রধানরা বললে - - ''আপনি কি মূসাকে ও তার লোকদের ছেড়ে দেবেন দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে এবং আপনাকে এবং আপনার দেবতাদের পরিত্যাগ করতে?’’ সে বললে - - ''আমরা তাদের পুত্রদের অবশ্যই হত্যা করবো আর তাদের কন্যাদের বাঁচতে দেবো, আর আমরা আলবৎ তাদের উপরে প্রতাপশালী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা মূসা-লিক্বওমিহিস্ তা'ঈনূ বিল্লা-হি অছ্বিরূ ইন্নাল্ আরদ্বোয়া লিল্লা-হি ইয়ূরিছুহা- মাইঁ ইয়াশা - উ মিন্ 'ইবা-দিহ্ অল্ 'আ-ক্বিবাতু লিল্মুত্তাক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তার কওমকে বললো: ‘তোমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো এবং সবর করো। নিশ্চয়ই এ বিশ্বের মালিক আল্লাহ্ই। তিনি তাঁর দাসদের যাকে চাইবেন এর উত্তরাধিকারী করবেন। শুভ পরিণাম তো মুত্তাকিদের জন্যেই।’

জহুরুল হক

মূসা তাঁর লোকদের বললেন - - ''‌র কাছে সাহায্য চাও ও ধৈর্য ধারণ করো, নিঃসন্দেহ পৃথিবী তো ‌র, তিনি তার উত্তরাধিকার দেবেন তাঁর বান্দাদের মধ্যের যাদের তিনি পছন্দ করেন। আর পরিণাম হচ্ছে ধর্মপরায়ণদেরই জন্যে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লূ য় ঊযীনা- মিন্ ক্বব্লি আন্ তাতিয়ানা-অমিম্ বা'দি মা-জ্বিতানা- ক্ব-লা 'আসা- রব্বুকুম্ আঁই ইয়ুহ্লিকা 'আদুওয়্যাকুম্ অইয়াস্তাখ্লিফাকুম্ ফিল্ র্আদ্বি ফাইয়ান্জুরা কাইফা তা'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘তুমি আমাদের কাছে আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তুমি আসার পরেও।’ সে বললো: ‘অচিরেই তোমাদের প্রভু তোমাদের দুশমনকে হালাক করে দেবেন এবং পৃথিবীতে তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তারপর দেখবেন, তোমরা কেমন আমল করো।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা অত্যাচারিত হয়েছি আমাদের কাছে তোমার আগমনের আগে এবং আমাদের কাছে তোমার আসার পরেও।’’ তিনি বললেন - - ''হতে পারে তোমাদের প্রভু তোমাদের শত্রুদের ধ্বংস করবেন, আর অচিরেই তোমাদের তিনি প্রতিনিধি ঠাওরাবেন দেশের মধ্যে, যেন তিনি দেখতে পারেন কেমনভাবে তোমরা কাজ করো।’’

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্ আখায্না য় আ-লা ফির'আউনা বিস্সিনীনা অনাকছিম্ মিনাছ্ ছামার-তি লা'আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা ফেরাউনের অনুসারীদের দুর্ভিক্ষ আর ফসল হানির মাধ্যমে শাস্তি দিয়েছি যাতে করে তারা উপলব্ধি করে।

জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয়ই ফিরআউনের লোকদের পাকড়াও করেছিলাম বহুবৎসরের খরা আর ফল - ফসলের ক্ষতি দিয়ে, যেন তারা অনুধাবন করে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইযা-জ্বা - য়াত্হুমুল্ হাসানাতু ক্ব-লূ লানা-হা-যিহী অইন্ তুছিব্হুম্ সাইয়িয়াতুইঁ ইয়াত্ত্বোইয়্যারূ বিমূসা- অমাম্ মা'আহ্ আলা য় ইন্নামা- ত্বোয়া - য়িরুহুম্ 'ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের কল্যাণ হতো তারা বলতো, আমরা এরই হকদার। আর যখনই তাদের স্পর্শ করতো কোনো অকল্যাণ, তখনই মূসা ও তার সাথিদেরকে তারা অলক্ষুণে গণ্য করতো। তাদের অকল্যাণ তো আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝ - জ্ঞান রাখেনা।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তাদের কাছে ভালো অবস্থা আসতো, তারা বলতো - - ''এ - সব আমাদের জন্য।’’ আর যখন মন্দ অবস্থা তাদের উপরে ঘটতো তারা আরোপ করতো মূসার ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের উপরে। একি নয় যে নিঃসন্দেহ তাদের ক্রিয়াকলাপ ‌র কাছে রয়েছে? কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।

বাংলা উচ্চারণ

অক্ব-লূ মাহ্মা-তাতিনা- বিহী মিন্ আ-ইয়াতিল্ লিতাস্হারানা-বিহা-ফামা-নাহ্নু লাকা বিমুমিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলতো, আমাদের জাদু করার জন্যে তুমি যে নিদর্শনই দেখাওনা কেন, আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।

জহুরুল হক

আর তারা বললে - - ''তুমি নিদর্শন থেকে যে কোনোটাই আমাদের কাছে আনো না কেন তা দিয়ে আমাদের জাদু করতে, আমরা কিন্তু তোমাতে বিশ্বাস স্থাপনকারী হবো না।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফার্আসালনা- 'আলাইহিমুত্তুফা-না অল্ জ্বার-দা অল্ কুম্মালা অদ্ব্দ্বোয়াফা-দি'আ অদ্দামা আ-ইয়া-তিম্ মুফাছ্ছলা-তিন ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বওমাম্ মুজরিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের প্রতি (নিদর্শন হিসেবে) পাঠিয়েছিলাম তুফান (প্লাবন), পঙ্গপাল, উকুন, ব্যঙ এবং রক্ত। এগুলো ছিলো বিস্তারিত ও স্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তারা অহংকার করে। মূলত তারা ছিলো এক অপরাধী কওম।

জহুরুল হক

তারপর আমরা তাদের উপরে পাঠালাম সুদূর প্রসারিত মৃত্যু, আর পঙ্গপাল ও উকুন, আর বেঙ ও রক্ত - - বিশদভাবে বর্ণিত নিদর্শনাবলী, কিন্তু তারা অহংকার করেছিল এবং তারা ছিল একটি অপরাধী সম্প্রদায়।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-অক্বা'আ 'আলাইহির্মু রিজযু ক্ব-লূ ইয়া-মূসাদ্'উ লানা- রব্বাকা বিমা-'আহিদা 'ইন্দাকা লায়িন্ কাশাফ্তা 'আর্ন্না রিজযা লানুমিনান্না লাকা অলার্নুসিলান্না মা'আকা বানী য় ইস্রা-ঈল্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই তাদের উপর এর কোনো একটি শাস্তি আসতো, তারা বলতো: ‘হে মূসা! তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্যে দোয়া করো, তিনি তোমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (ঈমান আনলে আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করার), এখন যদি সে অনুযায়ী তিনি আমাদের থেকে আযাব অপসারণ করেন, তবে অবশ্যি আমরা ঈমান আনবো এবং বনি ইসরাঈলকে তোমার সাথে যেতে দেবো।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের উপরে মড়কের আবির্ভাব হলো তারা বললে - - ''হে মূসা! তোমার প্রভুর কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করো যেমন তিনি তোমার কাছে ওয়াদা করেছেন, তুমি যদি আমাদের কাছ থেকে মহামারী অপসারিত করে দাও তবে আমরা নিশ্চয়ই তোমাতে ঈমান আনবো আর তোমার সঙ্গে অবশ্যই ইসরাইলবংশীয়দের পাঠিয়ে দেবো।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- কাশাফ্না- আন্হুর্মু রিজযা ইলা য় আজ্বালিন্ হুম্ বা-লিগূহু ইযা-হুম্ ইয়ান্কুছূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখনই আমরা তাদেরকে তাদের জন্যে নির্ধারিত কোনো একটি আযাব দূরীভূত করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে, তখনই তারা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন আমরা তাদের থেকে মহামারী দূর করলাম নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যাতে তারা পৌঁছুল, দেখো! তারা ভঙ্গ করলো!

বাংলা উচ্চারণ

ফান্তাক্বাম্না- মিন্হুম্ ফাআগ্রাকনা-হুম ফিল্ইয়াম্মি বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অ কা-নূ-'আন্হা গ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, আমরা তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি এবং তাদের ডুবিয়ে দিয়েছি গভীর সমুদ্রে। কারণ, তারা আমাদের নিদর্শন সমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তা থেকে তারা ছিলো গাফিল।

জহুরুল হক

সেজন্য আমরা তাদের থেকে শেষপরিণতি নিলাম, আর তাদের আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম সাগরের জলে যেহেতু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের নির্দেশসমূহ, আর এতে তারা ছিল অমনোযোগী।

বাংলা উচ্চারণ

অআওরাছ্নাল্ ক্বওমাল্লাযীনা কা-নূ ইয়ুস্তাদ্ব্'আফূনা মাশা-রিক্বাল্ র্আদ্বি অ মাগ-রিবাহাল্ লাতী বা-রাক্না-ফীহা- অতাম্মাত্ কালিমাতু রব্বিকাল্ হুস্না- 'আলা- বানী য় ইস্রা - ঈলা বিমা-ছাবারূ অদার্ম্মানা- মা-কা-না ইয়াছ্না'উ র্ফি'আউনু অক্বওমুহূ অমা- কা-নূ ইয়া'রিশূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সেই লোকদেরকে আমরা আমাদের বরকতপ্রাপ্ত ভূমির পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাদেরকে রাখা হয়েছিল দূর্বল করে। আর এভাবেই বনি ইসরাঈল সম্পর্কে তোমার প্রভুর শুভ বাণী পূর্ণতা লাভ করে, কারণ তারা সবর অবলম্বন করেছিল। পক্ষান্তরে ফেরাউন ও তার কওম যেসব শিল্প ও স্থাপত্য নির্মাণ করেছিল, সেগুলো আমরা করে দিয়েছিলাম ধ্বংস।

জহুরুল হক

আর আমরা উত্তরাধিকার দিয়েছিলাম সেই লোকদের যাদের দুর্বল গণ্য করা হয়েছিল, - - দেশের পূর্ব্বাঞ্চলসমূহ ও তার পশ্চিমাঞ্চল সমূহ - - যাতে আমরা সমৃদ্ধি অর্পণ করেছিলাম। আর তোমার প্রভুর মনোরম বাণী পরিপূর্ণ হয়েছিল ইসরাইলের বংশধরদের ক্ষেত্রে যেহেতু তারা ধৈর্য ধরেছিল। আর আমরা ভেঙ্গে ফেলেছিলাম ফিরআউন ও তার লোকেরা যা গড়ে ছিল, আর যে - সব তারা বানিয়েছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অজ্বা-অয্না-বিবানী য় ইস্রা - ঈ লাল্ বাহ্রা ফাআতাও 'আলা ক্বওমিইঁ ইয়া'কুফূনা 'আলা য় আছ্না-মিল্ লাহুম্ ক্ব-লূ ইয়া-মূসাজ'আল্ লানা য় ইলা-হান্ কামা- লাহুম্ আ-লিহাহ্ ক্ব-লা ইন্নাকুম্ ক্বওমুন্ তাজহালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বনি ইসরাঈলকে আমরা সমুদ্র পার করিয়ে দেই। পথিমধ্যে মূর্তিপূজায় নিরত একটি জাতির কাছে এসে তারা উপনীত হয়। তখন তারা মূসাকে বলে: ‘হে মূসা! আমাদেরকেও এদের ইলাহ্র (দেবতার) মতো ইলাহ্ বানিয়ে দাও।’ সে বললো: ‘তোমরা একটি জাহিল কওম।’

জহুরুল হক

আর আমরা ইসরাইল বংশীয় লোকদের সমূদ্র পার করিয়ে দিই, তারপর তারা এল এক জাতির সংস্পর্শে যারা তাদের অবশিষ্ট প্রতিমাগুলোর প্রতি আসক্ত ছিল। তারা বললে - - ''হে মূসা! আমাদের জন্য একটি দেবতা গড়ে দাও যেমন তাদের দেবতারা রয়েছে ।’’ তিনি বললেন - - ''তোমরা নিঃসন্দেহ এমন এক সম্প্রদায় যারা বোকামো করছো।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না হা য় উলা - য়ি মুতাব্বারুম্ মা-হুম ফীহি অবা-ত্বিলুম্ মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(মূসা আরো বললো:) ‘এসব লোক যেসব কাজে জড়িত রয়েছে তা তো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবেই আর তারা যা করছে সবই বাতিল।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ এদের ব্যাপারে - - যাতে তারা লিপ্ত রয়েছে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হতে যাচ্ছে, আর বৃথা যা তারা করে চলেছে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা আগইরল্লা-হি আব্গীকুম্ ইলা-হাওঁ অহুঅ ফাদ্ব্দ্বোয়ালাকুম্ 'আলাল্ 'আ-লামীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে আরো বলেছিল: ‘আমি কি তোমাদের জন্যে ছাড়া অন্য ইলাহ্ খুঁজবো, অথচ তিনি তোমাদের মর্যাদাবান করেছেন জগতবাসীর উপর?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমি কি ছাড়া তোমাদের জন্য অন্য উপাস্য খুঁজবো, অথচ তিনি তোমাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন সমস্ত বিশ্বজগতের উপরে?’’

বাংলা উচ্চারণ

অইয আন্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ আ-লি র্ফি'আউনা ইয়াসূমূনাকুম্ সু - য়াল্ 'আযা-বি ইয়ুক্বত্তিলূনা আব্না - য়াকুম্ অ ইয়াস্তাহ্ইয়ূনা নিসা -য়াকুম অ ফী যা-লিকুম্ বালা - উম্ র্মি রব্বিকুম্ 'আজীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা তোমাদের নাজাত দিয়েছিলাম ফেরাউনের অনুসারীদের থেকে। তারা তোমাদের নির্যাতন করতো নিকৃষ্ট আযাব দিয়ে। তারা হত্যা করতো তোমাদের পুত্র সন্তানদের, আর জীবিত রাখতো তোমাদের নারীদের। তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে এতে তোমাদের জন্যে ছিলো এক বিরাট পরীক্ষা।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো, আমরা তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম ফিরআউনের লোকদের থেকে, তারা তোমাদের অত্যাচার করেছিল মর্মান্তিক শাস্তি দিয়ে, - - তারা তোমাদের পুত্রসন্তানদের হত্যা করতো ও বাচঁতে দিত তোমাদের কন্যাদের। আর এতে ছিল তোমাদের জন্য তোমাদের প্রভুর তরফ থেকে এক বিরাট সঙ্কট।

বাংলা উচ্চারণ

অ অ'আদ্না-মূসা-ছালা-ছীনা লাইলাতাওঁ অআত্মাম্না-হা-বি'আশ্রিন্ ফাতাম্মা মীক্ব-তু রব্বিহী য় র্আবা'ঈনা লাইলাতান্ অক্ব-লা মূসা-লিআখীহি হা-রূনাখ্ লুফ্নী ফী ক্বওমী অ আছ্লিহ্ অলা-তাত্তাবি' সাবীলাল্ মুফ্সিদীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা মূসাকে ত্রিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম এবং আরো দশ বাড়িয়ে দিয়ে তা পূর্ণ করেছিলাম। এভাবে তোমার প্রভুর নির্ধারিত সময়কাল তিনি চল্লিশ রাতে পূর্ণ করেন। মূসা বলেছিল তার ভাই হারূণকে: ‘আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার কওমে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করবেনা।’

জহুরুল হক

আর আমরা মূসার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলাম ত্রিশ রাত্রি, আর তা পূর্ণ করি দশ দিয়ে - - তাতে পূর্ণ হলো তাঁর প্রভুর নির্ধারিত চল্লিশ রাত্রি। আর মূসা তাঁর ভাই হারূনকে বললেন - - ''আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে ও ভালোভাবে চলবে, আর গন্ডগোল সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-জ্বা - য়া মূসা-লিমীক্ব-তিনা-অকাল্লামাহূ রব্বুহূ ক্ব-লা রব্বি আরিনী য় আর্ন্জু ইলাইক্ ক্ব-লা লান্ তারা-নী অলা-কিনিন্ জুর ইলাল্ জ্বাবালি ফায়িনিস্ তার্ক্বরা মাকা- নাহূ ফাসাওফা তারা-নী 'ফালাম্মা- তাজ্বাল্লা-রব্বুহূ লিল্জ্বাবালি জ্বা'আলাহূ দাক্কাঁও অ র্খারা মূসা-ছোয়া'ইক্বান্ ফালাম্মা য় আফা-ক্বা ক্ব-লা সুব্হা-নাকা তুব্তু ইলাইকা অ'আনা আও ওয়ালুল্ মু”মিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন আমার মিকাতে (নির্ধারিত সময় ও স্থানে) উপস্থিত হয়েছিল, এবং তার প্রভু তার সাথে কথা বলেছিলেন, তখন সে বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে দেখা দাও, আমি তোমাকে দেখবো।’ তিনি বললেন: ‘তুমি কখনো আমাকে দেখতে পাবেনা। তবে তুমি পাহাড়ের প্রতি তাকাও, পাহাড় যদি তার স্বস্থানে অটল থাকে, তাহলেই তুমি আমাকে দেখবে।’ তারপর তোমার প্রভু যখন পাহাড়ের দিকে তাজাল্লি (জ্যোতি) প্রকাশ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিলো এবং মূসা পড়ে গেলো সংজ্ঞাহীন হয়ে। তারপর যখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেলো, তখন বললো: ‘মহাপবিত্র ত্রুটিমুক্ত তুমি, আমি অনুতপ্ত হয়ে তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করলাম এবং আমিই বিশ্বাসীদের প্রথম।’

জহুরুল হক

আর যখন মূসা আমাদের নির্ধারিত - স্থলে এসে পৌঁছুলেন এবং তাঁর প্রভু তাঁর সাথে কথা বললেন, তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে দর্শন দাও, আমি তোমাকে দেখবো।’’ তিনি বললেন - - ''তুমি কখনই আমাকে দেখতে পাবে না, বরং পাহাড়টির দিকে তাকাও, যদি তা তার জায়গায় স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখবে।’’ তারপর যখন তাঁর প্রভু পাহাড়টিতে জ্যোতিষ্মান হলেন তখন তিনি তাকে চূর্ণ - বিচূর্ণ করলেন, আর মূসা পড়ে গেলেন সংজ্ঞাহীন হয়ে। তারপর যখন তিনি চেতনা পেলেন, তিনি বললেন - - ''তোমারই সব মহিমা! আমি তোমারই দিকে ফিরছি, আর আমি হব মুমিনদের মধ্যে অগ্রণী।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা ইয়া-মূসা য় ইন্নিছ্ ত্বোয়াফাইতুকা 'আলান্ না-সি বিরিসা-লা-তী অবিকালা-মী ফাখুয্ মা য় আ-তাইতুকা অকুম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘হে মূসা! আমি তোমাকে মানব সমাজের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি আমার রিসালাত প্রদান করে এবং তোমার সাথে আমার কথা বলার মাধ্যমে। সুতরাং আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা আঁকড়ে ধরো এবং শোকরগুজারদের অন্তরভুক্ত হও।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে মূসা! নিঃসন্দেহ আমি তোমাকে নির্বাচন করেছি জনগণের উপরে আমার বাণী প্রেরণের দ্বারা ও আমার বাক্যালাপের দ্বারা, কাজেই তুমি ধারণ করো যা বিধান আমি তোমাকে দিয়েছি, আর কৃতজ্ঞদের মধ্যেকার হও।’’

বাংলা উচ্চারণ

অকাতাব্না-লাহূ ফিল্ আল্ওয়া-হি মিন্ কুল্লি শাইয়িম্ মাও 'ইজোয়াতাঁও অতাফ্ছীলাল্ লিকুল্লি শাইয়্যিন্ ফাখুয্হা-বিকুওআতিঁও অ”র্মু ক্বওমাকা ইয়াখুযূ বিআহ্সানিহা- সাঊরীকুম্ দা-রল্ ফা-সিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তার জন্যে ফলকে সব বিষয়ের উপদেশ এবং সব বিষয়ের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি। সুতরাং এগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং তোমার কওমকে এগুলোর উত্তম নির্দেশাবলি গ্রহণ করার নির্দেশ দাও। আমি অচিরেই তোমাদেরকে ফাসিকদের আবাস দেখাবো।

জহুরুল হক

আর আমরা তাঁর জন্য লিপিবদ্ধ করেছিলাম ফলকগুলোতে হরেক রকমের উপদেশ আর সব - কিছুর ব্যাখ্যা, - - ''এ - সব তাহলে শক্তভাবে ধারণ করো, আর তোমার লোকদের নির্দেশ দাও শ্রেষ্ঠগুলো গ্রহণ করতে। আমি অচিরেই তোমাদের দেখাবো সত্যত্যাগীদের বাসস্থান।’’

বাংলা উচ্চারণ

সাআস্রিফু 'আন্ আ-ইয়া-তিয়াল্লাযীনা ইয়াতাকাব্বারূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক অইঁ ইয়ারাও কুল্লা আ-ইয়াতিল্ লা-ইয়ু”মিনূ বিহা- অইঁ ইয়ারাও সাবীর্লা রুশ্দি লা-ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলান্ অইঁ ইয়ারাও সাবীলাল্ গাইয়্যি ইয়াত্তাখিযূহু সাবীলা- যা-লিকা বিআন্নাহুম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অকা-নূ 'আন্হা-গ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করে বেড়ায় আমি অচিরেই আমার আয়াত থেকে তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেবো। তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখলেও তাতে বিশ্বাস করবেনা, তারা সঠিক পথ দেখলেও সেটিকে (নিজেদের পথ) হিসেবে গ্রহণ করবেনা। কিন্তু ভ্রান্ত পথ দেখলেই সেটাকে চলার পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এর কারণ তারা আমাদের আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সে ব্যাপারে তারা গাফিল।

জহুরুল হক

অচিরেই আমার নির্দেশাবলী থেকে আমি ফিরিয়ে দেবো তাদের যারা দেশের মধ্যে অন্যায়ভাবে অহংকার করে। আর যদিও তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখতে পায় তবু তারা ওতে বিশ্বাস করবে না, আর যদি তারা ভ্রান্ত পথের দেখা পায় তবে তাকে তারা পথ বলে গ্রহণ করে। এটি এজন্য যে তারা আমাদের নির্দেশ - সমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আর তাতে তারা উদাসীন হয়েছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তি-না অলিক্ব - য়িল্ আ-খিরাতি হাবিত্বোয়াত্ আ'মা-লুহুম্ হাল্ ইয়ুজযাওনা ইল্লা-মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা আমাদের আয়াত এবং আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে, নিষ্ফল হয়ে গেছে তাদের সমস্ত আমল। তারা যা করে তার বাইরে তাদেরকে কোনো প্রতিফল (শাস্তি) দেয়া হবেনা।

জহুরুল হক

আর যারা মিথ্যারোপ করেছিল আমাদের নির্দেশাবলীতে ও পরকালের মুলাকাতের সন্বন্ধে, তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃথা হয়েছে। তাদের কি প্রতিফল দেয়া হবে যা তারা করে যাচ্ছিল তার বিপরীতে?

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাখাযা ক্বওমু মূসা-মিম্ বা'দিহী মিন্ হুলিয়্যিহিম্ 'ইজলান্ জ্বাসাদাল্ লাহূ খুওয়ার্- আলাম্ ইয়ারাও আন্নাহূ লাইয়ুকাল্লিমুহুম্ অলা-ইয়াহ্দীহিম্ সাবীলা-। ইত্তাখাযূহু অকা-নূ জোয়া-লিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসার কওম তার অনুপস্থিতিতে তাদের অলংকার দিয়ে একটি গো - বাছুরের দেহাবয়ব তৈরি করে, যার থেকে হাম্বা ধ্বনি বের হতো। তারা কি দেখেনি যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলেনা এবং তাদের পথও দেখায়না? তারা সেটিকে (দেবতা হিসেবে) গ্রহণ করে। আসলে তারা ছিলো যালিম।

জহুরুল হক

আর মূসার লোকেরা তাঁর পরে গ্রহণ করলো তাদের অলংকার দিয়ে একটি গোবৎসকে - - একটি দেহ, যাতে ফোকলা আওয়াজ হতো। তারা কি দেখলো না যে এটি তো তাদের সঙ্গে কথা বলে না আর তাদের পথে পরিচালিতও করে না? তারা এটিকে গ্রহণ করলো, আর তারা ছিল অন্যায়কারী।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা-সুক্বিত্বোয়া ফী য় আইদীহিম্ অরাআও আন্নাহুম্ ক্বদ্ দ্বোয়াল্লূ ক্ব-লূ লায়িল্লাম্ ইর্য়াহাম্না- রব্বুনা-অইয়ার্গ্ফি লানা- লানাকূনান্না মিনাল্ খা-সিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যখন অনুতপ্ত হলো এবং দেখলো যে, তারা বিপথগামী হয়ে গেছে, তখন তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু যদি আমাদের প্রতি রহম না করেন এবং আমাদের ক্ষমা করে না দেন, তবে অবশ্যি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বো।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের হাতে কামড় পড়লো আর দেখলো যে তারা বিপথে চলে গেছে, তারা বললে - - ''যদি না আমাদের প্রভু আমাদের প্রতি করুণা করেন ও আমাদের পরিত্রাণ করেন তবে আমরা আলবৎ ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবো।’’

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা রজ্বা'আ মূসা য় ইলা- ক্বওমিহী গদ্ব্বা-না আসিফান্ ক্ব-লা-বি”সামা খালাফ্তুমূনী মিম্ বা'দী আ'আজ্বিল্তুম্ আম্রা রব্বিকুম্ অআল্ক্বল্ আল্ওয়া-হা অআখাযা বিরা”সি আখীহি ইয়াজ্বর্ ুরুহূ য় ইলাইহ্ ক্ব-লাব্না উম্মা ইন্নাল্ ক্বওমাস্ তাদ্ব'আফূনী অকা-দূ ইয়াকতুলূনানী ফালা-তুশ্মিত্ বিয়াল্ 'আদা - য়া অলা-তাজআল্নী মা'আল ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা যখন ক্ষুদ্ধ হয়ে তার কওমের কাছে ফিরে এলো, বললো: ‘তোমরা আমার অনুপস্থিতিতে আমার চরম নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করেছো। তোমাদের প্রভুর আদেশের আগেই তোমরা তাড়াহুড়া করলে?’ এবং সে ফলকগুলো ফেলে দেয় এবং তার ভাইয়ের চুল ধরে নিজের দিকে টেনে আনে। সে (তার ভাই হারূণ) বললো: ‘হে আমার সহোদর! লোকেরা আমাকে দুর্বল করে রেখেছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যাই করে ফেলেছিল। তুমি আমার সাথে এমন আচরণ করোনা যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিম কওমের অন্তরভুক্ত করোনা।’

জহুরুল হক

আর যখন মূসা ফিরে এলেন তাঁর লোকদের কাছে ক্ষুদ্ধ ও ত্রুদ্ধ হয়ে, তিনি বললেন - - ''আমার পরে তোমরা আমার স্থলে যা কারেছ তা জঘন্য! তোমরা কি তোমাদের প্রভুর বিচার এগিয়ে আনতে চাও?’’ আর তিনি ফলকগুলো ফেলে দিলেন, আর তাঁর ভাইয়ের মাথা ধরলেন তাঁর দিকে তাঁকে টেনে আনতে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সহোদর! নিঃসন্দেহ লোকেরা আমাকে দুর্বল ঠাওরেছিল ও আমাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। সুতরাং আমার দশায় শত্রুদের পুলকিত করো না, আর, আমাকে পাপিষ্ঠ লোকদের দলভুক্ত করো না।’’

বাংলা উচ্চারণ

ক্ব-লা রব্বির্গ্ফিলী অলিআখী অআদ্খিল্না- ফী রহ্মাতিকা অ আন্তা র্আহার্মু র-হিমীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মূসা) বললো: ‘আমার প্রভু! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার ভাইকেও, আর আমাদের দাখিল করো তোমরা রহমতের মধ্যে। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ রহমওয়ালা।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমাকে ও আমার ভাইকে পরিত্রাণ করো, আর আমাদের দাখিল করো তোমার অনুগ্রহের মধ্যে, কেননা তুমিই দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ করুণাময়।’’

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্ লাযীনাত্ তাখাযুল্ 'ইজলা সাইয়ানা-লুহুম্ গাদ্বোয়াবুম্ র্মি রব্বিহিম্ অযিল্লাতুন্ ফিল্ হা ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- অকাযা-লিকা নাজযিল্ মুফ্তারীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা গো - বাছুরকে দেবতা হিসাবে গ্রহণ করেছে তাদের উপর এই দুনিয়ার জীবনেই তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আপতিত হবে গজব আর যিল্লতি। এভাবেই আমরা শাস্তি দিয়ে থাকি মিথ্যা রচনাকারীদের।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা গো - বৎসকে গ্রহণ করেছিল তাদের পাকড়াও করবে তাদের প্রভুর ক্রোধ ও লাঞ্ছনা এই দুনিয়ার জীবনে। আর এইভাবেই আমরা প্রতিফল দিই মিথ্যারচনাকারীদের।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা 'আমিলুস্ সাইয়িয়া-তি ছুম্মা তা-বূ মিম্ বা'দিহা- অআ-মানূ য় ইন্না রব্বাকা মিম্ বা'দিহা- লাগফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা মন্দ কাজ করার পর অনুতপ্ত হয়ে ফিরে আসে (তওবা করে) এবং ঈমানের ভিত্তিতে জীবন যাপন করে, নিশ্চয়ই তোমার প্রভু এরপরও পরম ক্ষমাশীল দয়াময়।

জহুরুল হক

আর যারা অসদাচরণ করে আর তারপরে ফেরে ও বিশ্বাস করে, - - নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তো এর পরে পরম ক্ষমাশীল, অফুরন্ত ফলদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অলাম্মা- সাকাতা 'আম্ মূসাল্ গদ্বোয়াবু আখাযাল্ আল্ওয়া-হা অফী নুস্খাতিহা-হুদাঁও অরহ্মাতুল্ লিল্লাযীনা হুম্ লিরব্বিহিম্ ইর্য়াহাবূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন থেমে গেলো মূসার রাগ, তখন সে তুলে নিলো ফলকগুলো। যারা তাদের প্রভুর জন্যে একমুখী হয়ে যায় তাদের জন্যে সেই নোস্খাগুলোতে লিখিত ছিলো হিদায়াত ও রহমত।

জহুরুল হক

আর মূসা থেকে ক্রোধ যখন প্রশমিত হলো তিনি তখন ফলকগুলো তুলে নিলেন, সে - সবের লেখনে ছিল পথনির্দেশ ও করুণা, তাদের জন্য যারা তাদের প্রভুর প্রতি ভয় করে।

বাংলা উচ্চারণ

অখ্তা-রা মূসা- ক্বওমাহূ সাব্'ঈনা রাজুলাল্ লিমীক্ব-তিনা- ফালাম্মা য় আখাযাত্হুর্মু রাজফাতু ক্ব-লা রব্বি লাও শি”তা আহ্লাক্তাহুম্ মিন্ ক্বব্লু অ ইয়্যা-ইয়া আতুহ্লিকুনা- বিমা-ফা'আলাস্ সুফাহা - য়ু মিন্না- ইন্ হিয়া ইল্লা- ফিত্নাতুক্ তুদ্ধিল্লু বিহা-মান্ তাশা - য়ু অতাহ্দী মান্ তাশা - য়ু আন্তা অলিয়্যুনা-ফার্গ্ফিলানা-র্অহাম্না- অআন্তা খাইরুল্ গ-ফিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তার কওম থেকে সত্তর ব্যক্তিকে আমার নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসার জন্যে মনোনীত করে। যখন সেখানে তাদেরকে প্রচন্ড ভূমিকম্প পাকড়াও করলো, মূসা ফরিয়াদ করলো: ‘‘আমার প্রভু! তুমি চাইলে (তো) এখানে আসার আগেই তাদের মেরে ফেলতে পারতে এবং আমাকেও। আমাদের মধ্যকার নির্বোধ লোকদের কর্মকান্ডের জন্যে কি তুমি আমাদের ধ্বংস করে দেবে? এটা তো তোমার একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। এর দ্বারা তুমি যাকে চাও গোমরাহ করে দাও আর যাকে চাও সঠিক পথ দেখাও। তুমিই আমাদের অলি। তাই আমাদের ক্ষমা করে দাও এবং রহম করো আমাদের প্রতি। তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল।

জহুরুল হক

আর মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে সত্তর জন লোককে বাছাই করলেন আমাদের নির্ধারিত স্থলের জন্য, কাজেই যখন ভূমিকম্প তাদের পাকড়ালো, তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! তুমি যদি ইচ্ছা করতে তবে এর আগেই তো তুমি তাদের ধ্বংস করতে পারতে, আর আমাকেও। তুমি কি আমাদের ধ্বংস করবে আমাদের মধ্যের নির্বোধরা যা করেছে তার জন্যে? এ তোমার পরীক্ষা বৈ তো নয়। এর দ্বারা তুমি বিপথগামী করো যাদের তুমি ইচ্ছা করো, আর সৎপথে চালাও যাদের তুমি ইচ্ছা করো। তুমিই আমাদের অভিভাবক, অতএব আমাদের পরিত্রাণ করো ও আমাদের প্রতি করুণা করো, কারণ তুমিই পরিত্রাণকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম।

বাংলা উচ্চারণ

অক্তুব্ লানা-ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া- হাসানাতাঁও অফিল্ আ-খারতি ইন্না-হুদ্না য় ইলাইক্ ক্ব-লা 'আযা-বী য় উছীবু বিহী মান্ আশা - য়ু অরহ্মাতী অসি'আত্ কুল্লা শাইয়িন্ ফাসাআক্তুবুহা- লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুনা অইয়ুতূনায্ যাকা-তা অল্লাযীনা হুম্ বিআ-ইয়া-তিনা ইয়ু”মিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের জন্যে এই দুনিয়াতে কল্যাণ লিখে দাও এবং আখিরাতেও। আমরা তোমার দিকেই পথ ধরলাম।’’ তার প্রভু বললেন: আমার শাস্তি যাকে আমি চাই দিয়ে থাকি, কিন্তু আমার রহমত সব কিছুর উপর পরিব্যাপ্ত। তা আমি বিশেষভাবে লিখে দেবো সেইসব লোকদের জন্যে, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, যাকাত পরিশোধ করে দেয় এবং যারা ঈমান রাখে আমার আয়াতের প্রতি।

জহুরুল হক

''আর আমাদের জন্য বিধান করো এই দুনিয়াতেই কল্যাণ এবং পরকালেও, আমরা নিঃসন্দেহ তোমার দিকেই ফিরছি।’’ তিনি বললেন - - ''আমার শাস্তি - - তা দিয়ে আমি আঘাত হানবো যাকে ইচ্ছা করবো, কিন্তু আমার করুণা - - তা সব - কিছুই পরিবেষ্ঠন করে। সুতরাং আমি তা বিধান করবো তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে, আর যাকাত আদায় করে, আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস করে, - -

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়াত্তাবিঊ'র্না রসূলান্ নাবিইয়্যাল্ উম্মিইয়্যাল্ লাযী ইয়াজ্বিদূনাহূ মাক্তূবান্ 'ইন্দাহুম্ ফিত্তাওরা-তি অল্ ইনজ্বীল্ ইয়া”মুরুহুম্ বিল্মা'রূফি অইয়ান্হা-হুম্ 'আনিল মুন্কারি অইয়ুহিল্লু লাহুমুত্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি অইয়ুর্হারিমু 'আলাইহিমুল্ খাবা - য়িছা অইয়াদ্বোয়া'উ 'আন্হুম্ ইছ্রাহুম্ অল্ আগ্লা-লাল্লাতী কা-নাত্ 'আলাইহিম্ ফাল্লাযীনা আ-মানূ বিহী অ'আয্যারূহু অনাছোয়ারূহু অত্তাবা'উন্ নূরাল্লাযী য় উন্যিলা মা'আহূ য় উলা- য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ইত্তেবা (অনুসরণ) করবে আমার এই রসূল উম্মি নবীর, যার উল্লেখ তারা লিপিবদ্ধ পায় তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত এবং ইনজিলে, সে তাদেরকে ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বারণ করে, তাদের জন্যে সব ভালো জিনিস হালাল করে, সব নোংরা অপবিত্র জিনিস হারাম করে এবং তাদেরকে মুক্ত করে সেইসব গুরুভার ও শৃংখল থেকে, যেগুলো তাদের উপর বোঝা হয়ে চেপেছিল। অতএব যারা তার প্রতি ঈমান আনবে, তাকে সম্মান প্রদর্শন করবে, তাকে সাহায্য করবে এবং সেই নূর (কুরআন) - এর ইত্তেবা করবে, যা নাযিল করা হয়েছে তার সাথে, তারাই হবে ।

জহুরুল হক

''যারা অনুসরণ করে সেই রসূলকে - - নবী, উম্মী, যাঁকে তারা পায় উল্লিখিত রয়েছে তাদের কাছের তওরাতে ও ইঞ্জীলে, আর যিনি তাদের নির্দেশ দেন সৎকাজের ও তাদের নিষেধ করেন অসৎকাজ থেকে, আর তাদের জন্য বৈধ করেন ভালো বিষয়বস্তু ও তাদের জন্য নিষেধ করেন মন্দ জিনিসগুলো, আর যিনি তাদের থেকে দূর করে দেন তাদের বোঝা ও বন্ধন যা তাদের উপরে ছিল। অতএব যারা তাঁতে বিশ্বাস করে ও তাঁকে মান্য করে ও তাঁকে সাহায্য করে আর অনুসরণ করে সেই আলো যা তাঁর সঙ্গে অবতীর্ণ হয়েছে, - - এরা নিজেরাই হচ্ছে ।’’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ইন্নী রসূলু ল্লা-হি ইলাইকুম্ জ্বামী'আনি ল্লাযী লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুঅ ইয়ুহ্য়ী অইয়ুমীতু ফাআ-মিনূ বিল্লা-হি অরসূলিহিন্ নাবিয়্যিল্ উম্মিয়্যিল্লাযী ইয়ু”মিনূ বিল্লা-হি অকালিমা-তিহী অত্তাবিঊ'হু লা'আল্লাকুম্ তাহ্তাদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে মুহাম্মদ!) বলো: ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই মহান আল্লাহর রসূল, যিনি মহাকাশ এবং এই পৃথিবীর কর্তৃত্বের মালিক। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু। সুতরাং তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর উম্মি নবীর প্রতি, যে ঈমান রাখে আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর বাণীর প্রতি। তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, অবশ্যি সঠিক পথ পাবে।’

জহুরুল হক

বলো - - ''ওহে জনগণ! আমি নিশ্চয়ই ‌র রসূল তোমাদের সবার কাছে, - - মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব যাঁর সেইজনেরই, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। সেজন্য ‌তে বিশ্বাস করো ও তাঁর রসূলের প্রতি - - উম্মী নবী, যিনি ঈমান এনেছেন আল্লাহতে ও তাঁর বাণীসমূহে, আর তোমরাও তাঁর অনুসরণ করো যেন তোমরা সৎপথপ্রাপ্ত হতে পারো।’’

বাংলা উচ্চারণ

অমিন্ ক্বওমি মূসা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিলহাকক্বি অবিহী ইয়া'দিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসার কওমের মধ্যে এমন একদল লোকও আছে যারা অন্যদেরকে সত্যের ভিত্তিতে পথ দেখায় এবং তার ভিত্তিতেই বিচার করে।

জহুরুল হক

আর মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যেও একটি দল রয়েছে যারা পথ দেখায় সত্যের দ্বারা ও তার দ্বারা ন্যায়বিচার করে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বাত্ত্বোয়া'না- হুমুছ্নাতাই 'আশ্রাতা আস্বা-ত্বোয়ান্ উমামা- অআওহাইনা য় ইলা-মূসা য় ইযিস্ তাস্ক্ব-হু ক্বওমুহূ য় আনিদ্ব্রিব্ বি'আছোয়া-কাল্ হাজ্বারা ফাম্বাজ্বাসাত্ মিন্হুছ্ নাতা-'আশ্রাতা 'আইনা-ক্বদ্ 'আলিমা কুল্লু উনা-সিম্ মাশ্রাবাহুম্ অজোয়াল্লাল্না-'আলাইহিমুল্ গমা-মা অআন্যাল্না-'আলাইহিমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া-কুলূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-রযাকনা-কুম অমা-জোয়ালামূনা-অলা-কিন্ কা-নূ য় আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বিভক্ত করেছি বারো গোত্রে। মূসার কওম যখন তার কাছে পানি সমস্যার সমাধান করার আবেদন করেছিল, আমরা তাকে অহি করে নির্দেশ দিলাম, এই পাথরটিতে তোমার লাঠি দিয়ে আঘাত করো। ফলে (তার আঘাতের সাথে সাথে) তা থেকে বারোটি ঝরণাধারা উৎসারিত হয়ে গেলো। প্রত্যেক গোত্রের লোকেরা তাদের নিজ নিজ পানির জায়গা চিনে নিলো। তাছাড়া আমরা মেঘমালা দিয়ে তাদের উপর ছায়া বিস্তার করেছিলাম এবং তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম মান্না এবং সালওয়া। (তাদের বলেছিলাম:) আমরা তোমাদের যে ভালো জীবিকা দিয়েছি তা থেকে খাও। কিন্তু, তারা আমাদের প্রতি যুলুম করেনি, যুলুম করেছিল তাদের নিজেদের প্রতিই।

জহুরুল হক

আর আমরা তাদের বিভক্ত করেছিলাম বারোটি গোত্রে দলে। আর মূসার কাছে আমরা প্রেরণা দিলাম যখন তাঁর লোকেরা তাঁর কাছে পানি চাইল, এই বলে - - ''তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।’’ তখন তা থেকে বারোটি ঝরনা প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র আপন জলপান - স্থান চিনে নিলো। আর তাদের উপরে আমরা মেঘ দিয়ে আচ্ছাদান করেছিলাম, আর তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম 'মান্না’ ও 'সালওয়া’, - - ''তোমাদের যা জীবিকা দিয়েছি তার ভালো ভালো জিনিস থেকে আহার করো।’’ কিন্তু তারা আমাদের কোনো অনিষ্ট করে নি, বরং তারা তাদের নিজেদের প্রতি অনিষ্ট করছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্বীলা লাহুমুস্ কুনূ হা-যিহিল্ ক্বারইয়াতা অকুলূ মিন্হা-হাইছু শি”তুম্ অকূলূ হিত্ত্বোয়াতুঁও অদ্খুলুল্ বা-বা সুজ্জ্বাদান্ নার্গ্ফিলাকুম্ খাত্বী - য়া-তিকুম্ সানাযীদুল্ মুহ্সিনীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বলা হয়েছিল: তোমরা এই বসতিতে বসবাস করো, সেখানে যেখান থেকে ইচ্ছা খাও এবং বলো, হিত্তাতুন (আমাদের ক্ষমা করো) আর নত শিরে দাখিল হও (সদর) গেইট দিয়ে, তাহলে আমরা তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেবো। কল্যাণপরায়ণদের আমরা অচিরেই আরো অধিক দান করবো।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তাদের বলা হয়েছিল - - ''এ জনবসতিতে বসবাস করো, আর এ থেকে আহার করো যখন - যেখানে ইচ্ছা করো, আর বলো 'হিৎতাতুন’, আর সদর - দরজা দিয়ে প্রবেশ করো নতমস্তকে, তোমাদের সমস্ত ভুলভ্রান্তি আমরা তোমাদের থেকে ক্ষমা করে দেবো। উপরন্তু আমরা বাড়িয়ে দেবো শুভকর্মীদের জন্য।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফাবাদ্দালাল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্হুম্ ক্বওলান্ গইরাল্ লাযী ক্বীলা লাহুম্ ফাআরসাল্না-'আলাইহিম্ রিজযাম্ মিনাস্ সামা-য়ি বিমা-কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যুলুম করেছিল, তাদের যা বলা হয়েছিল সেকথা বদল করে তারা অন্য কথা বললো। ফলে আমরা আসমান থেকে তাদের জন্যে নাযিল করেছিলাম শাস্তি তাদের যুলুমের কারণে।

জহুরুল হক

কিন্তু তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেছিল তারা তাদের যা বলা হয়েছিল তার বিপরীত কথায় তা বদলে দিল, সেজন্য তাদের উপরে আমরা আকাশ থেকে পাঠালাম মহামারী, যেহেতু তারা অন্যায় ক’রে চলছিল।

বাংলা উচ্চারণ

অস্য়াল্হুম্ 'আনিল্ র্ক্বইয়াতিল্ লাতী কা-নাত্ হা-দ্বিরাতাল্ বাহ্র্। ইয্ ইয়া'দূনা ফিস্ সাব্তি ইয্ তা”তীহিম্ হীতা-নুহুম্ ইয়াওমা সাব্তিহিম্ র্শুরা'আঁও অইয়াওমা লা-ইয়াস্বিতূনা লা-তা'তীহিম্্ কাযা-লিকা নাব্লূহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই বসতি সম্পর্কে যাদের অবস্থান ছিলো সাগরের পাড়েই। সেখানে তারা শনিবারে সীমালংঘন করতো। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানির উপরিভাগে ভেসে তাদের কাছে আসতো। যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতো না, সেদিন তারা তাদের কাছে আসতোনা। এভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা করেছিলাম তাদের ফাসেকির কারণে।

জহুরুল হক

আর তাদের জিজ্ঞাসা করো সেই জনবসতি সন্বন্ধে যারা ছিল সমুদ্রের কিনারে। স্মরণ করো! তারা সব্বাতের উল্লঙ্ঘন করেছিল, কারণ তাদের মাছগুলো তাদের কাছে আসতো তাদের সাব্বাতের দিনে ঝাঁকে - ঝাঁকে, আর যেদিন তারা সব্বাত পালন করতো না তারা তাদের কাছে আসতো না। এইভাবে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত করেছিলাম, কেননা তারা পাপাচার করে চলতো।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্ব-লাত্ উম্মাতুম্ মিন্হুম্ লিমা তা'ইজূনা ক্বওমা-নি ল্লা-হু মুহ্লিকুহুম্ আও মু'আয্যিবুহুম্ 'আযা-বান্ শাদী-দা- ক্ব-লূ মা'যিরাতান্ ইলা-রব্বিকুম্ অলা'আল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাদের একদল বলেছিল, তোমরা এমন লোকদের কেন উপদেশ দাও যাদের ধ্বংস করে দেবেন, কিংবা কঠিন আযাব দেবেন? তারা বলেছিল: ‘তোমাদের প্রভুর কাছে দায়িত্ব মুক্তি লাভের জন্যে এবং যাতে করে তারা সতর্ক হয়।’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের মধ্যের একটি দল বললে - - ''কেন তোমরা সেই লোকদের উপদেশ দিচ্ছ যাদের ধ্বংস করতে যাচ্ছেন অথবা কঠোর শাস্তিতে শাস্তি দিতে যাচ্ছেন’’? তাঁরা বললেন - - ''তোমাদের প্রভুর কাছে দোষমুক্ত হবার জন্য, আর যাতে তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা- না-সূ মা- যুক্কিরূ বিহী য় আন্জ্বাইনাল্লাযীনা ইয়ান্হাওনা-'আনিস্ সূ - য়ি আখায্নাল্লাযীনা জোয়ালামূ বি'আযা-বিম্ বায়ীসিম্ বিমা-কা-নূ ইয়াফ্সুকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গিয়েছিল, তখন আমরা তাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলাম যারা মন্দ কাজ থেকে বারণ করতো। আর কঠিন আযাব দিয়ে পাকড়াও করেছিলাম তাদেরকে যারা যুলুম করেছিল এবং ফাসেকিতে লিপ্ত ছিলো।

জহুরুল হক

কিন্তু যখন তারা বিস্মৃত হলো যা তাদের স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছিল, আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাদের যারা নিষেধ করতো অসৎকাজ থেকে, আর যারা অন্যায় করে তাদের আমরা পাকড়াও করলাম কঠিন শাস্তিতে, যেহেতু তারা পাপাচার করতো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাল্লাম্মা-'আতাও 'আম্মা-নুহূ 'আন্হু কুল্না-লাহুম্ কূনূ ক্বিরাদাতান্ খা-সিঈন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তারা তখন ঔদ্ধত্যের সাথে নিষেধ করা কাজ করতে শুরু করেছিল, তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: ‘নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।’

জহুরুল হক

তারপর যখন তারা তাচ্ছিল্য করলো তাতে যা করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল তখন আমরা তাদের বললাম - - ''তোমরা ঘৃণ্য বানর হয়ে যাও।’’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ তায়ায্যানা রব্বুকা লাইয়াব্'আছান্না 'আলাইহিম্ ইলা- ইয়াওমিল্ ক্বিয়া-মাতি মাঁই ইয়াসূমুহুম্ সূ - য়াল্ 'আযা-ব্ ইন্না রব্বিকা লাসারী'উল্ 'ইক্ব-বি অইন্নাহূ লাগাফূর্রু রহীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু তাদের বলেছিলেন, তিনি কিয়ামত পর্যন্ত তাদের উপর এমন লোকদের পাঠাবেন, যারা তাদের কঠিন আযাব দিতে থাকবে। তোমার প্রভু অবশ্যি শাস্তি প্রদানে তৎপর এবং অবশ্যি তিনি পরম ক্ষমাশীল দয়াময়ও।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু ঘোষণা করলেন যে তিনি তাদের বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত নিযুক্ত করবেন যারা তাদের পীড়ন করবে কঠিন নিপীড়নে। নিশ্চয় তোমার প্রভু তো প্রতিফল - দানে তৎপর এবং তিনি তো নিশ্চয়ই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বত্ত্বোয়া'না-হুম্ ফিল্ র্আদ্বি উমামান মিন্ হুমুছ্ ছোয়া-লিহূনা অমিনহুম্ দূনা যা-লিকা অবালাওনা-হুম্ বিল্হাসানা-তি অস্সাইয়্যিয়া- তি লা'আল্লাহুম্ ইর্য়াজ্বি'ঊন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে বিশ্বময় বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে ছড়িয়ে রেখেছি। তাদের মধ্যে কিছু ভালো লোকও আছে, আবার ভিন্ন রকমও আছে। আমরা তাদের কল্যাণ এবং অকল্যাণ দুটো দিয়েই পরীক্ষা করেছি, যাতে করে তারা (মন্দ কাজ থেকে) ফিরে আসে।

জহুরুল হক

আর আমরা পৃথিবীতে তাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন দলে, তাদের মধ্যে কেউ - কেউ সৎপথাবলন্বী, আর তাদের কতক এর বিপরীত। আর আমরা তাদের নিয়ন্ত্রিত করেছি ভালো দিয়ে ও মন্দ দিয়ে, যেন তারা ফিরে আসে।

বাংলা উচ্চারণ

ফাখালাফা মিম্ বা'দ্বিহিম্ খাল্ফুঁও অরিছুল্ কিতা-বা ইয়াখুযূনা 'আরাদ্বোয়া হা-যাল্ আদ্না-অইয়াকুলূনা সাইয়ুগ্ফারু লানা -অইঁ ইয়াতিহিম্ 'আরাদ্বুম্ মিছ্লুহূ ইয়া”খুযূহ আলাম্ ইয়ু”খায্ 'আলাইহিম্ মীছাকুল্ কিতা-বি আল্লা-ইয়াকুলূ 'আলাল্লা-হি ইল্লাল্ হাকক্বা অদারাসূ মা-ফীহ্ অদ্দা-রুল্ আ-খিরাতু খইরুল্ লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকুন্ আফালা-তা'ক্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরপর অযোগ্য উত্তরসূরীরা একের পর এক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিতাবের ওয়ারিশ হয়। তারা (কিতাবের বিনিময়ে) তুচ্ছ দুনিয়ার সামগ্রী গ্রহণ করে এবং বলে, আমাদের ক্ষমা করা হবে। কিন্তু পরক্ষণে অনুরূপ সামগ্রী তাদের সামনে এলেই তারা তা আবার গ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে কি কিতাবের অংগীকার নেয়া হয়নি যে, তারা সত্য ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলবেনা। কিতাবে যা আছে তারা তো তা পাঠ করেই। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম, তোমরা কি অনুধাবন করবেনা ?

জহুরুল হক

অতঃপর তাদের পরে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল এক উত্তরপুরুষ যারা গ্রন্থ উত্তরাধিকার করেছিল, তারা আঁকড়ে ধরেছিল এই সাধারণ জীবনের তুচ্ছ - বস্তুসব আর বলতো - - ''আমাদের তো মাফ করে দেয়া হবে।’’ আর যদি তাদের কাছে তার মতো বস্তুগুলো আসে তবে তারা তা গ্রহণ করে। তাদের কাছ থেকে কি গ্রন্থের অঙ্গীকার নেওয়া হয় নি যে তারা সন্বন্ধে সত্য ছাড়া আর কিছু বলবে না, আর তারা পাঠও করেছে যা তাতে রয়েছে? আর পরকালের বাসস্থানই শ্রেয় তাদের জন্য যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে। তোমরা কি তবে বুঝো না?

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা ইয়ুমাস্সিকূনা বিল্কিতা-বি অ আক্ব-মুছ্ ছলা-হ ইন্না-লা-নুদ্বীউ' আজরাল্ মুছ্লিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে এবং কায়েম করবে, আমরা এসব পুন্যবানদের কর্মফল বিনষ্ট করিনা।

জহুরুল হক

আর যারা কিতাব শক্তভাবে ধারণ করে ও কায়েম করে - - আমরা নিশ্চয় সৎকর্মশীলদের কর্মফল বিনষ্ট করি না।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ নাতাকনাল্ জ্বাবালা ফাওক্বহুম্ কাআন্নাহূ জুল্লাতুঁও ওয়াজোয়ান্নূ য় আন্নাহূ অ কি'উম্ বিহিম্ খুযূ মা য় আ-তাইনা-কুম্ বিকুও অতিঁও অয্কুরূ মা-ফীহি লা'আল্লাকুম্ তাত্তাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, আমরা তাদের উপর পর্বত তুলে ধরেছিলাম, সেটা ছিলো যেনো একটি ছাতা। তারা মনে করছিল, সেটি তাদের উপর ধপ করে পড়বে। তখন আমরা তাদের বলেছিলাম: আমরা তোমাদের যা (যে কিতাব) দিয়েছি, সেটি মজবুত করে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা আছে তা চর্চা করো, আশা করা যায় তোমরা তাকওয়াবান হবে।

জহুরুল হক

আরোও স্মরণ করো! আমরা তাদের উপরে পর্বতকে কম্পিত করলাম তা যেন হয়েছিল একটি আচ্ছাদন, আর তারা ভেবেছিল যে এ নিশ্চয়ই তাদের উপরে ভেঙ্গে পড়েছে, ''আমরা তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরো, আর তাতে যা রয়েছে তা স্মরণ রেখো, যাতে তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো’’।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ আখাযা রব্বুকা মিম্ বানী য় আ-দামা মিন্ জুহূরিহিম্ র্যুরিয়্যাতাহুম্ অআশ্হাদাহুম্ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ আলাস্তু বিরব্বিকুম ক্ব-লূ বালা- শাহিদ্না-আন্ তাকুলূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ইন্না-কুন্না-'আন্ হা-যা- গ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমার প্রভু বনি আদমের পিঠ থেকে তাদের বংশধরদের বের করেছিলেন এবং তাদের নিজেদের উপর নিজেদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেছিলেন: ‘আমি কি তোমাদের রব নই?’ তারা বলেছিল: ‘হাঁ অবশ্যি, আমরা সাক্ষী থাকলাম।’ এটা এজন্যে করেছিলাম যেনো কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পারো যে ‘আমরা এ বিষয়ে গাফিল ছিলাম।’

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো! তোমার প্রভু আদমের বংশধরদের থেকে - - তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে - - তাদের সন্তান - সন্ততি এনেছিলেন, আর তাদের নিজেদের সন্বন্ধে তাদের সাক্ষ্য দিইয়েছিলেন - - ''আমি কি তোমাদের প্রভু নই?’’ তারা বলেছিল - - ''হাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি।’’ এজন্য যে পাছে তোমরা কিয়ামতের দিনে বলো - - ''আমরা তো এ বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলাম,’’ - -

বাংলা উচ্চারণ

আও তাকুলূ য় ইন্নামা য় আশ্রাকা আ-বা - য়ুনা-মিন্ ক্বাব্লু অকুন্না- যুররিয়্যাতাম্ মিম্ বা'দিহিম্ আফাতুহ্লিকুনা-বিমা-ফা'আলাল্ মুব্ত্বিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিংবা যেনো একথা বলতে না পারো যে: ‘আমাদের পূর্ব পুরুষরাই তো আমাদের আগে শিরক করেছে, আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর। তুমি কি বাতিল পথ অবলম্বনকারীদের জন্যে আমাদের হালাক করবে?’

জহুরুল হক

অথবা তোমরা বলো - - ''আসল ব্যাপার হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষরা এর আগেই অংশীদার ঠাওরেছিল, আর আমরা তাদের পরবর্তীকালে বংশধরই ছিলাম। তুমি কি তবে আমাদের ধ্বংস করবে ভ্রষ্টাচারীরা যা করেছিল সেজন্য?

বাংলা উচ্চারণ

অকাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি অলা'আল্লাহুম্ ইয়ারজ্বিঊ'ন।

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করি আমাদের আয়াত, যাতে করে তারা (হিদায়াতের পথে) ফিরে আসে।

জহুরুল হক

আর এইভাবে আমাদের নির্দেশাবলী আমরা ব্যাখ্যা করি যেন তারা ফিরে আসে।

বাংলা উচ্চারণ

অত্লু 'আলাইহিম্ নাবায়াল্লাযী য় আ-তাইনা-হু আ-ইয়া-তিনা-ফান্সালাখা মিন্হা-ফাআত্বা'আহুশ্ শাইত্বোয়া-নু ফাকা-না মিনাল্ গা-ওয়ীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো ঐ ব্যক্তির সংবাদ যাকে আমরা দিয়েছিলাম আমাদের আয়াত। কিন্তু সে তা থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং শয়তান তার পেছনে লাগে, আর সে হয়ে যায় পথভ্রষ্টদের একজন।

জহুরুল হক

আর তাদের কাছে পাঠ করো ওর বৃত্তান্ত যাকে আমরা আমাদের নির্দেশাবলী প্রদান করেছিলাম, কিন্তু সে সে - সব থেকে গুটিয়ে নেয়, সেজন্য শয়তান তার পিছু নেয়, কাজেই সে বিপথ - গামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও শিনা লারাফা'না-হু বিহা-অলা-কিন্নাহূ য় আখ্লাদা ইলাল্ আরদ্বি অত্তাবা'আ হাওয়া-হু ফামাছালুহূ কামাছালিল্ কাল্বি ইন্ তাহ্মিল্ 'আলাইহি ইয়াল্হাছ্ আও তাত্রুক্হু ইয়াল্হাছ্ যা-লিকা মাছালুল্ ক্বাওমিল্লাযীনা কাযযাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফাক্ছুছিল্ ক্বাছোয়াছোয়া লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাফাক্কারূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা চাইলে এ (কিতাব) দিয়ে তাকে অনেক উপরে উঠাতে পারতাম, কিন্তু সে জমিনকে আঁকড়ে ধরে থাকলো এবং অনুসরণ করলো নিজের কামনা বাসনার। ফলে তার উপমা হলো কুকুর, যার উপর বোঝা চাপালেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপায়, আর বোঝা না চাপালেও জিহ্বা বের করে হাঁপায়। এটা হলো ঐ লোকদের উপমা, যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত। তুমি এই কাহিনীটি তাদের শুনাও যাতে করে তারা চিন্তাভাবনা করে।

জহুরুল হক

আর যদি আমরা ইচ্ছা করতাম তবে নিশ্চয়ই এর দ্বারা তাকে আমরা উন্নীত করতাম, কিন্তু সে মাটি আকঁড়ে ধরলো, আর সে তার হীন - কামনার অনুসরণ করে চললো। সুতরাং তার উপমা হচ্ছে কুকুরের দৃষ্টান্তের মতো - - ওকে যদি তুমি তাড়া করো, সে জিব বের ক’রে হাঁপাবে, আর যদি তুমি তাকে এড়িয়ে চলো সে জিব বার করে হাঁপাবে। এই হচ্ছে সে - সব লোকের দৃষ্টান্ত যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করে। তুমি ইতিবৃত্ত বিবৃত করো যেন তারা চিন্তা করতে পারে।

বাংলা উচ্চারণ

সা - য়া মাছালা-নিল্ ক্বাওমুল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-অআন্ফুসাহুম্ কা-নূ ইয়াজ্লিমূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ঐ লোকদের উপমা যে কতো নিকৃষ্ট যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত এবং যুলুম করে তাদের নিজেদের প্রতি!

জহুরুল হক

মন্দের দৃষ্টান্ত সেই লোকেরা যারা আমাদের বাণীসমূহে মিথ্যারোপ করে, আর তাদের অন্তরা‌ত্মার প্রতিই তারা অত্যাচার করে চলে!

বাংলা উচ্চারণ

মাইঁ ইয়াহ্দি ল্লা-হু ফাহুঅল্ মুহ্তাদী অমাঁই ইয়্যুদ্ব্লিল্ ফায়ুলা - য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাকে সঠিক পথ দেখান, সে - ই পায় সঠিক পথ। আর তিনি যাদের বিপথগামী করেন তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।

জহুরুল হক

যাকে পথ দেখান সে - ই তবে সৎপথে চালিত, আর যাকে তিনি বিপথে চলতে দেন, তাহলে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অলাক্বদ্যারা”না-লিজ্বাহান্নামা কাছীরাম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্সি লাহুম্ কুলূবুল্ লা-ইয়াফ্ক্বহূনা বিহা-অলাহুম্ আ'ইয়ুনুল্ লা-ইয়ুব্ছিরূনা বিহা- অলাহুম্ আ-যা-নুল্ লা-ইয়াস্মা'ঊনা বিহা- উলা - য়িকা কাল্আন্'আ-মি বাল্ হুম্ আদ্বোয়াল্ উলা - য়িকা হুমুল্ গ-ফিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা জাহান্নামের জন্যেই তৈরি করেছি জিন ও ইনসানের অনেককে। তাদের অন্তর আছে, তবে তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করেনা। তাদের চোখ আছে, তবে তা দিয়ে তারা দেখেনা। তাদের কান আছে, তবে তা দিয়ে তারা শুনেনা। এরা হলো পশুর মতো, বরং তারা আরো অধিক বিভ্রান্ত এবং তারা অচেতন।

জহুরুল হক

আর আমরা জাহান্নামের জন্য নিশ্চয়ই ছড়িয়ে দিয়েছি জিন ও মানুষের মধ্যের অনেককে, - - তাদের হৃদয় আছে তা দিয়ে তারা বুঝে না, আর তাদের চোখ আছে তা দিয়ে তারা দেখে না, আর তাদের কান আছে তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি - পশুর ন্যায়, বরং তারা আরো পথভ্রষ্ট। তারা নিজেরাই হচ্ছে উদাসীন।

বাংলা উচ্চারণ

অলিল্লা-হিল্ আস্মা - য়ুল্ হুস্না- ফাদ্'ঊহু বিহা-অযারুল্লাযীনা ইয়ুল্হিদূনা ফী য় আস্মা - য়িহ্ সাইয়ুজযাওনা মা- কা-নূ ইয়া'মালূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুন্দরতম নামসমূহ আল্লাহর, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো। যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের ত্যাগ করো। অচিরেই তাদেরকে তাদের কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে।

জহুরুল হক

আর ‌রই হচ্ছে সবচাইতে ভালো নামাবলী, কাজেই তাঁকে ডাকো সেই সবের দ্বারা, আর তাদের ছেড়ে দাও যারা তাঁর নামাবলী নিয়ে বিকৃতি করে। অচিরেই তাদের প্রতিফল দেয়া হবে তারা যা করে যাচ্ছে তার জন্য।

বাংলা উচ্চারণ

অমিম্মান্ খলাকনা য় উম্মাতুঁই ইয়াহ্দূনা বিল্হাকক্বি অবিহী ইয়া'দিলূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন লোকেরাও আছে যারা সত্যের ভিত্তিতে (মানুষকে) সঠিক পথ দেখায়, এবং তার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার করে।

জহুরুল হক

আর যাদের আমরা সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে আছে একটি দল যারা পথ দেখায় সত্যের দ্বারা, আর তার দ্বারা তারা ন্যায়পরায়ণতা করে।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-য়া-তিনা সানাস্তাদ্রিজুহুম্ মিন্ হাইছু লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা প্রত্যাখ্যান করে আমাদের আয়াত, আমরা ক্রমান্বয়ে তাদেরকে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো যে, তারা তা জানতেও পারবেনা।

জহুরুল হক

আর যারা আমাদের বাণীসমূহে মিথ্যারোপ করে তাদের আমরা ক্রমাগত টেনে নিয়ে যাই, - - কোথা থেকে তা তারা জানে না।

বাংলা উচ্চারণ

অউম্লী লাহুম্ ইন্না কাইদী মাতীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তাদের অবকাশ দেই, জেনে রাখো, আমার কৌশল অত্যন্ত মজবুত।

জহুরুল হক

আর আমি তাদের অবসর দিই, নিঃসন্দেহ আমার ব্যবস্থা অত্যন্ত বলিষ্ঠ।

বাংলা উচ্চারণ

আওয়ালাম্ ইয়াতাফাক্কারূ মা-বিছোয়া-হিবিহিম্ মিন্ জ্বিন্নাহ্ ইন্ হুঅ ইল্লা- নাযীরুম্ মুবীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি চিন্তা - ফিকির করে দেখেনা যে, তাদের সাথি (মুহাম্মদ) কোনো উন্মাদ ব্যক্তি নয়। সে তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী!

জহুরুল হক

তারা কি চিন্তা করে না? তাদের সহচরের মধ্যে কোনো পাগলামি নেই। বাস্তবে তিনি তো এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।

বাংলা উচ্চারণ

আওয়ালাম্ ইয়ান্জুরূ ফী মালাকূতিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি অমা-খলাক্বাল্লা-হু মিন্ শাইয়িঁও অআন্ 'আসা য় আঁই ইয়াকূনা ক্বাদিক তারাবা আজ্বালুহুম্ ফাবিআইয়্যি হাদীছিম্ বা'দাহূ ইউমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি নজর করে দেখেনা মহাকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্বের প্রতি, আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রতিটি বস্ত্তর প্রতি এবং এটার প্রতি যে, হয়তো তাদের নির্ধারিত সময়টি নিকটবর্তী হয়েছে! এরপরে আর কোন্ কথাটির প্রতি তারা ঈমান আনবে?

জহুরুল হক

তারা কি তাকায় না মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সাম্রাজ্যের প্রতি আর যা - কিছু সৃষ্টি করেছেন, আর হতে পারে তাদের নির্ধারিত কাল ঘনিয়ে এসেছে? এর পরে আর কোন পর্যালোচনার দ্বারা তারা তবে বিশ্বাস করবে?

বাংলা উচ্চারণ

মাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফালা-হা-দিয়া-লাহ্ অ ইয়াযারুহুম্ ফী ত্ব ুগ্ইয়া-নি হম্ ইয়া'মাহূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাদের বিপথে পরিচালিত করেন, তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করার আর কেউ নেই এবং তিনি তাদেরকে তার অবাধ্যতার মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়াতে সুযোগ দেন।

জহুরুল হক

যাকে বিপথে যেতে দেন তার জন্যে তবে কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আর তাদের তিনি ছেড়ে দেন তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তভাবে ঘুরপাক খেতে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়াস্য়ালূনাকা 'আনিস্ সা-আ'তি আইইয়া-না র্মুসা-হা- কুল্ ইন্নামা- 'ইলমুহা-'ইন্দা রব্বী লা-ইউজ্বাল্লীহা- লিওয়াকতিহা য় ইল্লা- হুঅ ছাকুলাত্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ লা-তা”তীকুম্ ইল্লা-বাগ্তাহ্ ইয়াস্য়ালূনাকা কাআন্নাকা হাফিইয়ুন্ 'আন্হা- কুল্ ইন্নামা-'ইল্মুহা-'ইন্দাল্লা-হি অলা-কিন্না আক্ছারান্ না-সি লা-ইয়া'লামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে জানতে চাইছে, কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে কবে? তুমি বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান কেবল আমার প্রভুর কাছেই রয়েছে। কেবল তিনিই সময় মতো তা প্রকাশ করবেন। সেটা হবে মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা। সেটা তোমাদের কাছে আসবে একেবারেই আকস্মিক।’ তারা এমনভাবে তোমাকে প্রশ্ন করছে যেনো এ বিষয়ে তুমি জানো। তুমি বলো: এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহর কাছে। তবে অধিকাংশ মানুষই জানেনা।

জহুরুল হক

তারা তোমাকে ঘড়িঘন্টা সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করছে - - কখন তা ঘটবে। বলো - - ''এর জ্ঞান অবশ্যই রয়েছে আমার প্রভুর কাছে, এর সময় সন্বন্ধে তা প্রকাশ করতে পারে না তিনি ছাড়া কেউ। এ অতি গুরুতর ব্যাপার মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে, এ এসে পড়বে না তোমাদের উপরে অতর্কিতে ছাড়া।’’ তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করছে যেন তুমিই এ বিষয়ে আগ্রহী। বলো - - ''এর জ্ঞান আলবৎ ‌র কাছে, কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানে না।’’

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লা য় আম্লিকু লিনাফ্সী নাফ্'আঁও অলা-দ্বোর্য়ারান্ ইল্লা-মা-শা - য়াল্লা-হ্ অলাও কুন্তু আ'লামুল্ গইবা লাস্তার্ক্ছাতু মিনাল্ খার্ই অমা- মাস্সানিয়াস্ সূ - য়ু ইন্ আনা-ইল্লা-নাযীরুঁও অবাশীরুল্ লিক্বওমিইঁ ইয়ুমিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

বলো: ‘আমার নিজের ভালো মন্দের ব্যাপারেও আমার কোনো হাত নেই, তবে যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া। আমি যদি জানতামই, তবে তো বেশি বেশি আমার নিজের কল্যাণ করতাম এবং কোনো অনিষ্টই আমাকে স্পর্শ করতোনা। আমি তো লোকদের জন্যে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা ছাড়া আর কিছুই নই।’

জহুরুল হক

বলো - - ''আমার কোনো অধিকার নেই আমার নিজেরই কোনো লাভ বা ক্ষতি করবার - - যা চান তা - ব্যতীত। আর যদি আমি অদৃশ্যের সম্যক্ জ্ঞান রাখতাম তবে কল্যাণের প্রাচুর্য বানিয়ে নিতাম, আর কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করতো না। আমি তো একজন সতর্ককারী বই নই, আর একজন সুসংবাদদাতা সেই লোকদের জন্য যারা ঈমান এনেছে।

বাংলা উচ্চারণ

হুঅ ল্লাযী খালাক্বাকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া- হিদাতিঁও অজা'আলা মিন্হা- যাওজ্বাহা- লিইয়াস্কুনা ইলাইহা-ফালাম্মা- তাগাশ্শা-হা-হামালাত্ হাম্লান্ খাফীফান্ ফার্মারাত বিহী ফালাম্মা য় আছ্ক্বলাদ্ দা'আঅল্লা-হা রব্বাহুমা- লায়িন্ আ-তাইতানা-ছোয়া-লিহাল্ লানাকূনান্না মিনশ্ শা -কিরীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তোমাদের একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে যেনো সে তার কাছে শান্তি পায়। অতপর যখন সে তাকে ঝাপটে ধরে (সংগম করে) তখন সে হালকা গর্ভধারণ করে এবং তা নিয়েই চলা ফেরা করে। গর্ভ যখন ভারি হয়, তখন দুজনেই তাদের প্রভুর কাছে দোয়া করে: প্রভু! যদি আমাদেরকে একটি সালেহ্ (সৎ ও যোগ্য) সন্তান দান করো, তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হয়ে থাকবো।

জহুরুল হক

তিনিই সেইজন যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই নফস থেকে, আর তা থেকে তিনি তৈরি করেছেন তার সঙ্গিনী যেন সে তার মধ্যে শান্তি পেতে পারে। অতএব যখন সে তাতে উপগত হয় সে তখন একটি হাল্কা বোঝা ধারণ করে আর তা নিয়ে চলাফেরা করে, তারপর যখন তা ভারী হয়ে উঠে তখন উভয়ে আহ্বান করে তাদের প্রভু ‌কে - - ''যদি তুমি আমাদের সুষ্ঠু একটি দাও আমরা তবে নিশ্চয়ই হবো কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।’’

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্মা য় আ-তা-হুমা-। ছোয়া-লিহান্ জ্বা'আলা- লাহূ শুরাকা - য়া ফীমা য় আ-তা-হুমা-ফাতা'আলাল্লা-হু 'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি যখন তাদের যোগ্য সন্তান দান করেন, তারা তাদেরকে যা দেয়া হয় সে সম্পর্কে আল্লাহর সাথে শরিক করে। কিন্তু তারা আল্লাহর সাথে যাদের শরিক করে, তিনি তাদের চাইতে অনেক উর্ধ্বে।

জহুরুল হক

কিন্তু তিনি যখন তাদের সুষ্ঠু একটি দান করলেন তারা তাঁর সঙ্গে দাঁড় করালো অংশীদার তিনি তাদের যা দিয়েছেন তার সন্বন্ধে। কিন্তু বহু উচ্চে অবস্থিত তারা যা অংশী বানায় সে - সব থেকে।

বাংলা উচ্চারণ

আইয়ুশ্রিকূনা মা-লা- ইয়াখ্লুকু শাইয়াঁও অহুম্ ইয়ুখ্লাকুন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা কি আল্লাহর সাথে এমন বস্ত্তকে শরিক করে যারা কিছু সৃষ্টি করেনা, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট?

জহুরুল হক

তারা কি অংশীদার বসায় তাকে যে কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তাদেরই সৃষ্টি করা হয়েছে?

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়াস্তাত্বীঊ'না লাহুম্ নাছ্রাঁও অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা না তাদেরকে সাহায্য করতে পারে, আর না নিজেদেরকে সাহায্য করতে পারে।

জহুরুল হক

আর ওরা কোনো ক্ষমতা রাখে না তাদের সাহায্য করার, আর তারা তাদের নিজেদেরও সাহায্য করতে পারে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ তাদ্'ঊহুম্ ইলাল্ হুদা- লা ইয়াত্তাবি'ঊকুম্ সাত্তয়া - য়ুন্ 'আলাইকুম্ আদ্'আওতুমূহুম আম্ আন্তুম্ ছোয়া-মিতূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদেরকে হিদায়াতের দিকে দাওয়াত দিলে তারা তোমাদের অনুসরণ করেনা। আসলে তাদের দাওয়াত দাও, আর না দিয়ে চুপ থাকো, দুটোই সমান।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা তাদের আহ্বান করো সৎপথের প্রতি, তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তোমরা তাদের আহ্বান করো অথবা তোমরা চুপচাপ থাকো, তোমাদের জন্যে সমান।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না ল্লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি 'ইবা-দুন্ আম্ছা-লুকুম্ ফাদ্'ঊহুম্ ফাল্ ইয়াস্তাজ্বীবূ লাকুম্ ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া যাদেরকে ডাকো তারা তো তোমাদের মতোই (আল্লাহর) দাস। সুতরাং তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তাদের ডাকো আর তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিক তো!

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ তোমরা ‌কে ছেড়ে দিয়ে যাদের আহ্বান কর তারা তোমাদেরই ন্যায় দাস, সুতরাং তাদের ডাকো, তোমাদের প্রতি তারা তবে সাড়া দিক, - - যদি তোমরা সত্যবাদী হও।

বাংলা উচ্চারণ

আলাহুম্ র্আজুলুঁই ইয়াম্শূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আইদিঁই ইয়াব্ত্বিশূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ'ইয়ুনুঁই ইয়ুব্ছিরূনা বিহা য় আম্ লাহুম্ আ -যা-নুঁই ইয়াস্মা'ঊনা বিহা- কুলিদ্'ঊ শুরাকা - য়াকুম্ ছুম্মা কীদূনি ফালা-তুন্জিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কি পা আছে, যা দিয়ে তারা চলে? নাকি তাদের হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরে? কিংবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? আর নাকি তাদের কান আছে যা দিয়ে তারা শুনে? বলো: ‘‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিকদার বানিয়েছো তাদের ডাকো, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো এবং আমাকে অবকাশ দিয়োনা।

জহুরুল হক

তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলতে পারে, অথবা তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে ধরতে পারে, অথবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে দেখতে পারে, অথবা তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? বলো - - ''ডাকো তোমাদের অংশীদারদের, তারপর আমার বিরুদ্ধে ফন্দি আটোঁ, আর আমাকে অবকাশ দিও না!

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না অলিয়্যিয়া ল্লা-হু ল্লাযী নায্যালাল্ কিতা-বা অহুঅ ইয়াতাওয়াল্লাছ্ ছোয়া-লিহীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, আমার অলি হলেন , যিনি কিতাব নাযিল করেছেন আর তিনি তো কেবল পুণ্যবানদের অলি হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেন।’’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমার অভিভাবক হচ্ছেন যিনি কিতাব অবতারণ করেছেন, আর তিনিই অভিভাবকত্ব করেন সৎপথা - বলন্বীদের।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিহী লা- ইয়াস্তাত্বী'ঊনা নাছ্রাকুম্ অলা য় আন্ফুসাহুম্ ইয়ান্ছুরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ছাড়া যাদের ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার সামর্থ রাখেনা, এমনকি তারা নিজেদেরকেও নিজেরা সাহায্য করতে পারেনা।

জহুরুল হক

''আর যাদের তোমরা আহ্বান কর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে, তারা কোনো ক্ষমতা রাখে না তোমাদের সাহায্য করার, আর তাদের নিজেদেরও তারা সাহায্য করতে পারে না।’’

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ তাদ্'ঊহুম্ ইলাল্ হুদা-লা-ইয়াস্মা'ঊ অতা-রাহুম্ ইয়ান্জুরূনা ইলাইকা অহুম্ লা- ইয়ুব্ছিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহবান করো, তারা কিছুই শুনবেনা। তুমি দেখবে তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, অথচ তারা কিছুই দেখেনা।

জহুরুল হক

আর যদি তোমরা তাদের আহ্বান কর সৎপথের প্রতি, তারা শোনে না। আর তুমি তাদের দেখতে পাও তারা তোমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু তারা দেখতে পাবে না।

বাংলা উচ্চারণ

খুযিল্ 'আফ্ওয়া ওয়া”র্মু বিল্'র্উফি অ'আরিদ্ব্ 'আনিল্ জ্বা-হিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করো, উত্তম কাজের আদেশ দাও এবং যালিমদের উপেক্ষা করে চলো।

জহুরুল হক

ক্ষমা অবলন্বন করো আর সদয়তার নির্দেশ দাও, আর অজ্ঞদের পরিহার করে চলো।

বাংলা উচ্চারণ

অইম্মা-ইয়ান্যাগান্নাকা মিনাশ্ শাইত্বোয়া-নি নায্গুন্ ফাস্তাই'য্ বিল্লা-হ্ইন্নাহূ সামী'ঊন্ 'আলীম্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি শয়তানের কোনো কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

জহুরুল হক

আর যদি শয়তানের থেকে খোঁচাখুচি তোমাকে আহত করে তবে ‌র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনাত্ তাক্বাও ইযা-মাস্সাহুম্ ত্বোয়া - য়িফুম্ মিনাশ্ শাইত্বো-নি তাযাক্কারূ ফাইযা-হুম্ মুব্ছিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকওয়া (সতর্কতা) অবলম্বনকারী লোকদের শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং সাথে সাথে তাদের চোখ খুলে যায়।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে, যখন শয়তানের আক্রমণ তাদের স্পর্শ করে তারা স্মরণ করে, - - তাহলে দেখো! তারাই হয় দৃষ্টিশক্তিমান!

বাংলা উচ্চারণ

অইখওয়া-নুহুম্ ইয়ামুদ্দূনাহুম্ ফিল্ গইয়্যি ছুম্মা লা- ইয়ুকছিরূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

অথচ তাদের সংগি সাথিরা তাদের টেনে নেয় বিপথগামীতার দিকে এবং তারা কোনো প্রকার কসুর করেনা।

জহুরুল হক

আর তাদের ভাইয়েরা, - - তারা এদের টেনে নেয় ভ্রান্তির মধ্যে, আর তারা থামে না।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-লাম্ তা”তিহিম্ বিআ-ইয়াতিন্ ক্ব-লূ লাওলাজতাবাইতাহা- কুল্ ইন্নামা য় আত্তাবিউ' মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা র্মি রব্বী হা-যা-বাছোয়া - য়িরু র্মি রব্বিকুম্ অহুদাঁও অ রহ্মাতুল্ লিকওমিঁই ইয়ু”মিনূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যখন তাদের সামনে কোনো নিদর্শন পেশ করছোনা, তখন তারা বলে, তুমি নিজেই কেন একটি নিদর্শন বাছাই করে নিচ্ছনা? তুমি বলো: আমি কেবল তারই অনুসরণ করি, যা আমার প্রভুর পক্ষ থেকে আমাকে অহি করা হয়। এই (কুরআন) তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে একটি অন্তরদৃষ্টির আলো, একটি হিদায়াত এবং একটি রহমত লোকদের জন্যে।

জহুরুল হক

আর যখন তুমি তাদের কাছে কোনো আয়াত আনো না, তারা বলে - - ''কেন তুমি তা বেছে নাও না?’’ তুমি বলো - - ''আমি শুধু তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে আমার প্রভুর কাছ থেকে, এটি হচ্ছে তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে দৃষ্টিদায়ক, আর পথনির্দেশক, আর হচ্ছে করুণা সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।’’

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-কুরিয়াল্ ক্বর্আ-নু ফাস্তামি'ঊ লাহূ অ 'আন্ছিতূ লা'আল্লাকুম্ র্তুহামূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তার দিকে মনোযোগ আরোপ করে শুনো এবং নীরবতা অবলম্বন করো, যাতে করে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।

জহুরুল হক

আর যখন কুরআন পঠিত হয় তখন তা শোনো, আর চুপ করে থেকো, যেন তোমাদের প্রতি করুণা বর্ষিত হয়।

বাংলা উচ্চারণ

অর্য্কু রব্বাকা ফী নাফ্সিকা তাদ্বোর্য়ারুআঁও অখীফাতাঁও অদূনাল্ জ্বাহ্রি মিনাল্ ক্বওলি বিল্গুদুওয়্যি অল্ আ-ছোয়া-লি অলা-তাকুম্ মিনাল্ গ-ফিলীন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুকে স্মরণ করো মনে মনে, বিনয়ের সাথে, অন্তরে ভয় নিয়ে, অনুচ্চ স্বরে, সকালে এবং সন্ধ্যায়। আর তুমি (এ ব্যাপারে) উদাসীনদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।

জহুরুল হক

আর স্মরণ করো তোমার প্রভুকে নিজের অন্তরে সবিনয়ে ও সভয়ে ও অনুচ্চস্বরে, প্রাতে ও অপরাহ্নে, আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা 'ইন্দা রব্বিকা লা-ইয়াস্তাক্বিরূনা 'আন্ 'ইবা-দাতিহী অইয়ুসাব্বিহূনাহূ অলাহূ ইয়াস্জুদূন্।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর কাছাকাছি যারা রয়েছে তারা তাঁর আনুগত্য ও দাসত্ব করার ব্যাপারে কোনো প্রকার অহংকার করেনা। তারা তাঁর তসবিহ্ করে এবং তাঁরই জন্যে সাজদা - অবনত থাকে।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর উপাসনায় অহংকার দেখায় না, আর তারা তাঁরই মহিমা কীর্তন করে, আর তাঁরই প্রতি সিজদা প্রদান করে।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme