বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বা-ফ্ অল্কুরআ-নিল্ মাজ্বীদ্।
কাফ, কুরআন মজিদের শপথ।
Chapter 50, 45 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ক্বা-ফ্ অল্কুরআ-নিল্ মাজ্বীদ্।
কাফ, কুরআন মজিদের শপথ।
বাল্ 'আজ্বিবূ য় আন্ জ্বা-য়াহুম্ মুন্যিরুম্ মিন্হুম্ ফাক্ব-লাল্ কা-ফিরূনা হা-যা- শাইয়ুন্ 'আজ্বীব।
বরং তারা বিস্মিত হচ্ছে এ কারণে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এসেছে একজন সতর্ককারী। কাফিররা বলে: ‘‘এতো এক আজব ব্যাপার!
আইযা-মিত্না-অকুন্না-তুর-বান্ যা-লিকা রাজ্ব 'উম্ বা'ঈদ্।
আমাদের যখন মৃত্যু ঘটবে এবং আমরা যখন মাটিতে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে? সেই প্রত্যাবর্তন এক অবাস্তব ব্যাপার।’’
ক্বদ্ 'আলিম্না-মা-তান্কুছুল্ র্আদু মিন্হুম্ অ'ইন্দানা-কিতা-বুন্ হাফীজ্।
মাটি তাদের কতোটুকু ক্ষয় করে তা আমরা জানি। আমাদের কাছে রয়েছে এক সুরক্ষিত কিতাব।
বাল্ কায্যাবূ বিল্হাক্ব ক্বি লাম্মা- জ্বা-য়াহুম্ ফাহুম্ ফী য় আম্রীম্ মারীজ্ব ।
তাদের কাছে সত্য আসার পর তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তারা সন্দেহে দোদুল্যমান।
আফালাম্ ইয়ান্জুরূ য় ইলাস্ সামা-য়ি ফাওক্বহুম্ কাইফা বানাইনা-হা- অযাইয়্যান্না-হা- অমা- লাহা- মিন্ ফুরূজ্ব ।
তারা কি উপরে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেনা, আমরা কিভাবে সেটাকে বানিয়েছি এবং সুশোভিত করেছি। আর তাতে নেই কোনো ফাটল।
অল্ র্আদ্বোয়া মাদাদ্না-হা- ওয়া আল্ক্বইনা-ফীহা-রাওয়া-সিয়া অআম্বাত্না-ফীহা-মিন্ কুল্লি যাওজ্বিম্ বাহীজ্ব ।
আর জমিনকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি এবং তাতে স্থাপন করে দিয়েছি পাহাড় পর্বত আর তাতে উদগত করেছি সব ধরণের নয়নাভিরাম উদ্ভিদ।
তাব্ছিরতাঁও যিক্র-লিকুল্লি 'আব্দিম্ মুনীব্।
এসবই ভেবে দেখার বিষয় এবং উপদেশ প্রত্যেক অভিমুখী বান্দার জন্যে।
অনায্যাল্না- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়াম্ মুবা-রকান্ ফাআম্বাত্না-বিহী জ্বান্না-তিঁও অহাব্বাল্ হাছীদ্।
আমরা আসমান থেকে নাযিল করি মুবারক (কল্যাণময়) পানি। অত:পর তা দিয়ে উৎপাদন করি বাগবাগিচা আর পরিপক্ক শস্য সম্ভার,
অন্নাখ্লা বা-সিক্ব-তিল্ লাহা-ত্বোয়াল্'উন্নাদ্বীদ্।
আরো উৎপাদন করি সমুন্নত খেজুর গাছ, তাতে থাকে ছড়ায় ছড়ায় খেজুর,
রিয্ক্বল্ লিল্'ইবা-দি অআহ্ইয়াইনা-বিহী বাল্দাতাম্ মাইতা- কাযা-লিকাল্ খুরূজ্ব ।
আমার বান্দাদের জীবিকা হিসেবে। তাছাড়া সেই পানি দিয়ে আমরা জীবিত করি মৃত জমিনকে। এভাবেই ঘটানো হবে (মানুষের) পুনরুত্থান।
কায্যাবাত্ ক্বব্লাহুম্ ক্বওমু নূহিঁও অআছ্হা-র্বু রস্সি অছামূদ্।
তাদের আগেও নূহের কওম (রসূলদের) প্রত্যাখান করেছিল এবং রাস্ আর সামুদ সম্প্রদায়ও,
অ'আদুঁও অর্ফি'আউনু অইখ্ওয়া-নু লূত্ব ।
আদ, ফেরাউন এবং লুত সম্প্রদায়ও,
অআছ্হা-বুল্ আইকাতি অ ক্বওমু তুব্বা' কুল্লুন্ কায্যার্বা রুসুলা ফাহাক্ব ক্বা অ'ঈদ্।
আইকাবাসী আর তুববা সম্প্রদায়ও। এরা প্রত্যেকেই রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল, ফলে তাদের উপর অনিবার্য হয়ে পড়েছিল আমার ওয়াদা বাস্তবায়ন।
আফা'আয়ীনা বিল্ খল্ক্বিল্ আওয়্যাল্ বাল্হুম্ ফী লাব্সিম্ মিন্ খল্ক্বিন্ জ্বাদীদ্।
প্রথমবারের সৃষ্টিই কি আমাদের ক্লান্ত করে ফেলেছে? বরং পুনসৃষ্টির ব্যাপারে তারা রয়েছে সন্দেহে নিমজ্জিত।
অ লাক্বদ্ খলাক্ব নাল্ ইন্সা-না অনা'লামু মা-তুওয়াস্ ওয়িসু বিহী নাফ্সুহূ অনাহ্নু আক্ব রাবু ইলাইহি মিন্ হাব্লিল্ অরীদ্।
আমরাই সৃষ্টি করেছি মানুষকে এবং তার প্রবৃত্তি তাকে কী কুমন্ত্রণা দেয় তা আমরা জানি। আমরা তার গলার ধমনীর চেয়েও তার অধিকতর নিকটতর।
ইয্ ইয়াতালাক্ব ক্বল্ মুতালাক্ব ক্বিইয়া-নি 'আনিল্ ইয়ামীনি অ'আনিশ্ শিমা-লি ক্বা'ঈদ্।
মনে রেখো, দুই গ্রহণকারী ফেরেশতা তার ডানে এবং বামে বসে রেকর্ড করে।
মা-ইয়াল্ফিজু মিন্ ক্বওলিন্ ইল্লা-লাদাইহি রাক্বীবুন্ 'আতীদ্।
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা রেকর্ড করার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন প্রহরী তার কাছেই রয়েছে।
অজ্বা-য়াত্ সাক্রতুল্ মাওতি বিল্হাক্ব যা-লিকা মা-কুন্তা মিন্হু তাহীদ্।
মৃত্যু যন্ত্রণা সত্য সত্যি আসবে। এ থেকেই তোমরা অব্যাহতি চেয়ে আসছো।
অনুফিখা ফিছ্ র্ছূ যা-লিকা ইয়াওমুল্ অঈ'দ্।
আর শিঙায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং সেটাই হবে শাস্তির দিন।
অজ্বা-য়াত্ কুল্লুনাফ্সিম্ মা'আহা-সা-য়িকু অশাহীদ্।
সেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই উপস্থিত হবে। তার সাথে থাকবে একজন চৌকিদার এবং একজন সাক্ষী।
লাক্বদ্ কুন্তা ফী গফ্লাতিম্ মিন্ হা-যা- ফাকাশাফ্না- 'আন্কা গিত্বোয়া-য়াকা ফাবাছোয়ারুকাল্ ইয়াওমা হাদীদ্।
(তার সাথি ফেরেশতা বলবে:) এই দিনটি সম্পর্কেই তুমি ছিলে গাফলতির মধ্যে। এখন আমরা তোমার সামনে থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছি। আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর ও তীক্ষ্ণ।
অক্ব-লা ক্বরীনুহূ হা-যা-মা-লাদাইয়্যা আ'তীদ্।
তার সাথি বলবে: এই তো আমার কাছে তোমার আমলের রেকর্ড প্রস্ত্তত।
আল্ক্বিয়া-ফী জ্বাহান্নামা কুল্লা কাফ্ফা-রিন্ 'আনীদ্।
নির্দেশ দেয়া হবে: তোমরা দু’জনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করো প্রত্যেক দাম্ভিক কাফিরকে,
মান্না-ই'ল্ লিল্খইরি মু'তাদিম্ মুরীবিন্।
যে ভালো কাজে প্রচন্ড বাধাদানকারী এবং সীমালংঘনকারী ও সন্দেহপরায়ণ,
আল্লাযী জ্বা'আলা মা'আল্লা-হি ইলা-হান আ-খর ফাআল্ক্বিয়া-হু ফিল্ 'আযা-বিশ্ শাদীদ্।
যে আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহ্ গ্রহণ করতো। তাকে নিক্ষেপ করো কঠোর আযাবে।
ক্ব-লা ক্বরীনুহূ রব্বানা-মা য় আত্ব গাইতুহূ অলা-কিন্ কা-না ফী দ্বোয়ালা-লিম্ বা'ঈদ্।
তার সাথি (শয়তান) বলবে: ‘আমাদের প্রভু! আমি তাকে অবাধ্য বানাইনি। বরং সে নিজেই ছিলো ঘোরতর গোমরাহিতে নিমজ্জিত।’
ক্ব-লা লা-তাখ্তাছিমূ লাদাইয়্যা অক্বদ্ ক্বদ্দাম্তু ইলাইকুম্ বিল্ অ'ঈদ্।
বলবেন: ‘তোমরা আমার সামনে বিবাদ বিতর্ক করোনা। আমি তো আগেই তোমাদের সতর্ক করেছি।
মা-ইয়ুবাদ্দালুল্ ক্বওলু লাদাইয়্যা অমা য় আনা বিজোয়াল্লা-মিল্ লিল্'আবীদ্।
আমার কথার রদবদল হয়না, আর আমি বান্দাদের প্রতি যালিমও নই।
ইয়াওমা নাক্ব লু লিজ্বাহান্নামা হালিম্ তালাতি অ তাক্ূলু হাল্ মিম্ মাযীদ্।
সেদিন আমরা জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করবো: ‘তুমি কি পরিপূর্ণ হয়েছো?’ সে বলবে: ‘আরো আছে কি?’
অউয্লিফাতিল্ জ্বান্নাতু লিল্মুত্তাক্বীনা গইরা বা'ঈদ্ ।
আর জান্নাতকে মু্ত্তাকিদের নিকটে আনা হবে, মোটেই দূরে রাখা হবেনা।
হা-যা-মা তূ'আদূনা লিকুল্লি আওয়্যা-বিন্ হাফীজ্।
এর ওয়াদাই তোমাদের দেয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহমুখী হিফাযতকারীর জন্যে
মান্ খাশির্য়া রহ্মা-না বিল্গইবি অজ্বা-য়া বিক্বল্বিম্ মুনীব।
যারা না দেখেও রহমানকে ভয় করে এবং হাজির হয় বিনয়ী হৃদয় নিয়ে।
নিদ্খুলূহা- বিসালা- ম্ যা-লিকা ইয়াওমুল্ খুলূদ্ ।
তাদের বলা হবে: শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে দাখিল হও (জান্নাতে)। এটা চিরন্তন জীবনের দিন।
লাহুম্ মা-ইয়াশা-য়ূনা ফীহা- ওয়ালাদাইনা- মাযীদ্।
সেখানে তারা সবই পাবে যা তারা চাইবে এবং আমাদের কাছে রয়েছে আরো অনেক।
অকাম্ আহ্লাক্না- ক্ব্ব্লাহুম্ মিন্ র্ক্বানিন্ হুম্ আশাদ্দু মিন্হুম্ বাতশান্ ফানাক্ব্ক্ববূ ফিল্ বিলা-দ্ হাল্ মিম্ মাহীছ্।
আমরা তাদের আগে কতো যে মানব প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছি, ওরা ছিলো এদের চাইতেও প্রবলতর শক্তিশালী। তারা বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতো। তাদের পালাবার কোনো জাগায়ই ছিলোনা।
ইন্না ফী যা-লিকা লাযিক্র-লিমান্ কা-না লাহূ ক্বল্বুন্ আও আল্ক্বস্ সাম্'আ অহুওয়া শাহীদ্।
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে উপদেশ তার জন্যে, যে অন্তরের অধিকারী, কিংবা যে মনোযোগ দিয়ে শুনে নিবিষ্ট চিত্তে।
অলাক্বদ্ খলাক্ব নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া অমা-বাইনাহুমা-ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিঁও অমা-মাস্ সানা-মিল্ লুগূব্।
আমরা মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু সৃষ্টি করেছি ছয়টি কালে। কোনো ক্লান্তি আমাদের স্পর্শ করেনি।
ফার্ছ্বি 'আলা-মা-ইয়াক্ব ূলূনা অসাব্বিহ্ বিহাম্দি রব্বিকা ক্বব্লা তুলূ'ইশ্ শাম্সি অক্বব্লাল্ গুরূব্।
ওরা যা বলে তাতে তুমি সবর অবলম্বন করো, আর তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগে।
অমিনাল্ লাইলি ফাসাব্বিহ্হু অআদ্বা-রাস্ সুজ্ব ূদ্।
আর রাতের বেলায়ও তাঁর তসবিহ করো এবং সাজদার (সালাতের) পরে।
অস্তামি' ইয়াওমা ইয়ুনা-দিল্ মুনা-দি মিম্ মাকা-নিন্ ক্বরীব্।
মনোযোগ দিয়ে শুনো, যেদিন এক ঘোষণাকারী খুব কাছে থেকে ঘোষণা দেবে,
ইয়াওমা ইয়াস্মা'ঊনাছ্ ছোয়াইহাতা বিল্হাক্ব ্ যা-লিকা ইয়াওমুল্ খুরূজ্ব্ ্।
সেদিন অবশ্যি মানুষ শুনতে পাবে এক মহাবিকট শব্দ সত্যিকারভাবে। সেটাই হবে মাটির নিচে থেকে বেরিয়ে আসার দিন।
ইন্না-নাহ্নু নুহ্য়ী অনুমীতু অইলাইনাল্ মাছীর ।
আমরাই হায়াত দান করি এবং আমরাই মউত ঘটাই, আর আমাদের কাছেই হবে সবার প্রত্যাবর্তন।
ইয়াওমা তাশাক্ব ক্বক্ব ল্ র্আদ্বু 'আন্হুম্ সির-'আ- যা-লিকা হাশ্রুন্ 'আলাইনা- ইয়ার্সী।
সেদিন তাদের উপরস্থ জমিন ফেটে যাবে এবং তারা ব্যস্ত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসবে। এই হাশর (সমবেত) করা আমাদের জন্যে একেবারেই সহজ।
নাহ্নু আ'লামু বিমা- ইয়াকুলূনা অমা য় আন্তা 'আলাইহিম্ বিজ্বব্বা-রিন্ ফাযার্ক্কি বিল্ কুরআ-নি মাইঁ ইয়াখ-ফু অ'ঈদ্।
তারা কী বলে, তা আমরা জানি। তুমি তাদের উপর শক্তি প্রয়োগকারী নও। যারা আমার শাস্তিকে ভয় করে তাদের উপদেশ দিয়ে যাও এই কুরআনের সাহায্যে।