বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্।
আলিফ - লাম - মীম।
আলিফ লাম মিম।
Chapter 31, 34 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম্ মী-ম্।
আলিফ - লাম - মীম।
আলিফ লাম মিম।
তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।
এগুলো প্রজ্ঞাময় কিতাবের আয়াত।
এগুলো কিতাবুল হাকিম - এর (বিজ্ঞানময় কিতাব আল কুরআনের) আয়াত।
হুদাঁও অরহ্মাতাল্ লিল্মুহ্সিনীন্।
হেদায়েত ও রহমত সৎকর্মপরায়ণদের জন্য।
এগুলো হিদায়াত এবং রহমত কল্যাণপরায়ণদের জন্যে,
আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাছ্ ছলা-তা অ ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম্ বিল্ আ-খিরতি হুম্ ইয়ূক্বিনূন্।
যারা কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আখেরাত সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
যারা কায়েম করে , প্রদান করে যাকাত এবং আখিরাতের প্রতি তারা রাখে একীন।
উলা-য়িকা 'আলা-হুদাম্ র্মি রব্বিহিম অউলা-য়িকা হুমুল্ মুফ্লিহূন্।
এসব লোকই তাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে আগত হেদায়েতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এরাই ।
তারাই রয়েছে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে হিদায়াতের উপর এবং তারাই হবে ।
অমিনান্না-সি মাইঁ ইয়াশ্তারী লাহ্ওয়াল্ হাদীছি লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিওঁ অইয়াত্তাখিযাহা- হুযুওয়া- উলা-য়িকা লাহুম্ 'আযা-বুম্ মুহীন্।
একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা - বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।
কোনো কোনো ব্যক্তি এলেম ছাড়াই মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করার উদ্দেশ্যে অসার কাহিনী কিনে আনে এবং আল্লাহর পথ সম্পর্কে বিদ্রুপ করে। এদের জন্যে রয়েছে অপমানকর আযাব।
অইযা-তুত্লা 'আলাইহি আ-ইয়াতুনা-অল্লা-মুস্তাক্বিরন্ কাআ ল্লাম্ ইয়াস্মা'হা-কাআন্না ফী য় উযুনাইহি অক্ব্ রান্ ফাবার্শ্শিহু বি'আযা-বিন্ আলীম্।
যখন ওদের সামনে আমার আয়তসমূহ পাঠ করা হয়, তখন ওরা দম্ভের সাথে এমনভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন ওরা তা শুনতেই পায়নি অথবা যেন ওদের দু’কান বধির। সুতরাং ওদেরকে কষ্টদায়ক আযাবের সংবাদ দাও।
যখন তার কাছে আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করা হয়, সে হঠকারিতা প্রদর্শন করে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেনো সে তা শুনতেই পায়নি। তার কান দুটিও যেনো বধির। এ ব্যক্তিকে সংবাদ দাও বেদনাদায়ক আযাবের।
ইন্নাল্ লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ জ্বান্না-তুন্ না'ঈম্।
যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নেয়ামতে ভরা জান্নাত।
যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে রয়েছে জান্নাতুন নায়ীম।
খ-লিদ্বীনা ফীহা- ওয়া'দাল্লা-হি হাক্ব্ক্ব- অহুওয়াল্ 'আযীযুল্ হাকীম্।
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর ওয়াদা যথার্থ। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনি মহাশক্তিধর, মহাপ্রজ্ঞাবান।
খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি বিগইরি 'আমাদিন্ তারওনাহা-অআল্ক্ব-ফিল্ র্আদ্বি রওয়া-সিয়া আন্ তামীদা বিকুম্ অবাছ্ছা-ফীহা-মিন্ কুল্লি দা-ব্বাহ্ অআন্যাল্না- মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাআম্বাত্না-ফীহা-মিন্ কুল্লি যাওজ্বিন্ কারীম্।
তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন; তোমরা তা দেখছ। তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, যাতে পৃথিবী তোমাদেরকে নিয়ে ঢলে না পড়ে এবং এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সর্বপ্রকার জন্তু। আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি, অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্বপ্রকার কল্যাণকর উদ্ভিদরাজি।
তিনি মহাকাশ সৃষ্টি করেছেন খুঁটি ছাড়াই, তাতো তোমরা দেখতেই পাচ্ছো। আর পৃথিবীতে তিনি স্থাপন করে দিয়েছেন পাহাড় পর্বত, যাতে করে পৃথিবী তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে। তাছাড়া পৃথিবীতে তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন সব ধরনের জীব জানোয়ার। এছাড়া আমরা আসমান থেকে নাযিল করি পানি আর তা দিয়ে আমরা উৎপন্ন করি সব ধরনের উপকারী উদ্ভিদ।
হা-যা- খল্ক্ব ল্লা-হি ফাআরূনী মা-যা-খলাক্বল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্ বালিজ্ জোয়া-লিমূনা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
এটা আল্লাহর সৃষ্টি; অতঃপর তিনি ব্যতীত অন্যেরা যা সৃষ্টি করেছে, তা আমাকে দেখাও। বরং জালেমরা সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।
এ হলো আল্লাহর সৃষ্টি। এখন আমাকে দেখাও, ছাড়া যাদেরকে তোমরা ইলাহ্ মানো, তারা কী সৃষ্টি করেছে? বরং যালিমরা রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায়।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা-লুকমা-নাল্ হিক্মাতা আনিশ র্কু লিল্লা-হ্ অমাইঁইয়ার্শ্কু ফাইন্নামা ইয়াশ্কুরু লিনাফ্সিহী অ মান্ কাফারা ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ হামীদ্।
আমি লোকমানকে প্রজ্ঞা দান করেছি এই মর্মে যে, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। যে কৃতজ্ঞ হয়, সে তো কেবল নিজ কল্যানের জন্যই কৃতজ্ঞ হয়। আর যে অকৃতজ্ঞ হয়, অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
আমরা লুকমানকে দান করেছিলাম হিকমাহ (প্রজ্ঞা) এবং তাকে বলেছিলাম: শোকর আদায় করো আল্লাহর। যে কেউ শোকর আদায় করে, সে তো শোকর আদায় করে নিজের কল্যাণের জন্যেই। আর যে কেউ অকৃতজ্ঞ হয়, তার জেনে রাখা উচিত মুখাপেক্ষাহীন সপ্রশংসিত।
অইয্ ক্ব-লা লুককমা-নু লিব্নিহী অ হুওয়া ইয়া'ইজুহূ ইয়া-বুনাইয়্যা লা-তুশ্রিক্ বিল্লা-হ ইন্নাশ্ র্শিকা লাজুল্মুন্ 'আজীম্।
যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললঃ হে বৎস, আল্লাহর সাথে শরীক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সাথে শরীক করা মহা অন্যায়।
স্মরণ করো, লুকমান তার ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিল: ‘‘হে আমার পুত্র! শিরক করোনা আল্লাহর সাথে। কারণ, শিরক তো একটা বিরাট যুলুম।’’
অঅছ্ ছোয়াইনাল্ ইন্সা-না বিওয়া- লিদাইহি হামালাত্হু উম্মুহূ অহ্নান্ 'আলা-অহ্নিঁও অফিছোয়া-লুহূ ফী 'আ-মাইনি আনিশ্ র্কুলী অলি ওয়া-লি দাইক্ ইলাইয়্যাল্ মার্ছী।
আর আমি মানুষকে তার পিতা - মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা - মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।
আমরা মানুষকে অসিয়ত (নির্দেশ) করেছি তার বাবা - মার সাথে উত্তম আচরণ করতে। কারণ, তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট স্বীকার করে গর্ভে ধারণ করে এবং তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং শোকরগুজার হও আমার প্রতি, আর তোমার বাবা - মার প্রতি। তোমাদের ফিরে আসতে তো হবে আমারই কাছে।
অইন্ জ্বা-হাদা-কা 'আলা য় আন্ তুশ্রিকা বীমা-লাইসা লাকা বিহী 'ইল্মুন্ ফালা-তুত্বি'হুমা- অছোয়া-হিব্হুমা- ফিদ্দুন্ইয়া-মা'রূফাঁও অত্তাবি' সাবীলা মান্ আনাবা ইলাইয়্যা ছুম্মা ইলাইয়্যা র্মাজ্বি'উকুম্ ফাউনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্।
পিতা - মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।
তোমার বাবা - মা যদি তোমাকে আমার সাথে শরিক করতে পীড়াপীড়ি করে, যে ব্যাপারে তোমার কোনো এলেম নেই, সেক্ষেত্রে তুমি তাদের আনুগত্য করোনা। তবে তাদের সাথে বসবাস করো সুন্দরভাবে, আর ইত্তেবা (অনুসরণ) করো তার পথের, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে তো আমারই কাছে, অত:পর আমি তোমাদের সংবাদ দেবো তোমরা যা আমল করতে।
ইয়া-বুনাইয়্যা ইন্নাহা য় ইন্ তাকু মিছ্ক্ব-লা হাব্বাতিম্ মিন্ র্খদালিন্ ফাতাকুন্ ফী ছোয়াখ্রতিন্ আও ফিস্ সামা-ওয়া-তি আও ফিল্ র্আদ্বি ইয়াতি বিহাল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা লাত্বীফুন্ খর্বী।
হে বৎস, কোন বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় অতঃপর তা যদি থাকে প্রস্তর গর্ভে অথবা আকাশে অথবা ভূ - গর্ভে, তবে তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয় গোপন ভেদ জানেন, সবকিছুর খবর রাখেন।
(লুকমান আরো বলেছিল:) ‘‘হে আমার পুত্র! কোনো ক্ষুদ্র বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় আর তা যদি থাকে কোনো পাথর খন্ডের ভেতরে, কিংবা যদি থাকে মহাকাশে, অথবা যদি থাকে ভূ - গর্ভে, তাও এনে হাজির করবেন। নিশ্চয়ই অতীব সূক্ষ্মদর্শী, গভীরভাবে অবহিত।
ইয়া-বুনাইয়্যা আক্বিমিছ্ ছলা-তা অর্মু বিল্ মা'রূফি ওয়ান্হা 'আনিল্ মুন্কারি অর্ছ্বি 'আলা-মা য় আছোয়া-বাক্ইন্না যা-লিকা মিন্ 'আয্মিল্ উর্মূ।
হে বৎস, কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।
হে আমার পুত্র! কায়েম করবে , আদেশ করবে ভালো কাজের, নিষেধ করবে মন্দ কাজ করতে এবং ধৈর্য ধারণ করবে বিপদ - মসিবতে। নিশ্চয়ই এটা মজবুত সংকল্পের কাজ।
অলা-তুছোয়া'র্ই খদ্দাকা লিন্না-সি অলা-তাম্শি ফিল্ র্আদ্বি মারহা- ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুহিব্বু কুল্লা মুখ্তা-লিন্ ফার্খূ।
অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণ করো না। নিশ্চয় কোন দাম্ভিক অহংকারীকে পছন্দ করেন না।
দম্ভ করে মানুষকে অবজ্ঞা করবেনা, জমিনে ঔদ্ধত্যের সাথে চলাফেরা করবেনা, কারণ উদ্ধত দাম্ভিকদের পছন্দ করেননা।
অক্ব্ ছিদ্ ফী মাশ্য়িকা অগ্দ্বুদ্ব্ মিন্ ছোয়াওতিক্ ইন্না আন্কারল্ আছ্ওয়া-তি লাছোয়াওতুল্ হার্মী।
পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন কর এবং কন্ঠস্বর নীচু কর। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।
চলাফেরায় মধ্যপন্থা অবলম্বন করবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর রাখবে সংযত। নিশ্চয়ই সবচাইতে অস্বস্তিকর আওয়ায হলো গাধার ধ্বনি।’’
আলাম্ তারাও আন্নাল্লা-হা সাখ্খর লাকুম্ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি অআস্বাগ 'আলাইকুম্ নি'আমাহূ জোয়া-হিরতাঁও অবা-ত্বিনাহ্ অমিনান্ না-সি মাইঁ ইয়ুজ্বা-দিলু ফিল্লা-হি বিগইরি 'ইল্মিঁও অলা-হুদাঁও অলা-কিতা-বিম্ মূর্নী।
তোমরা কি দেখ না নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলে যাকিছু আছে, সবই তোমাদের কাজে নিয়োজিত করে দিয়েছেন এবং তোমাদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ পরিপূর্ন করে দিয়েছেন? এমন লোক ও আছে; যারা জ্ঞান, পথনির্দেশ ও উজ্জল কিতাব ছাড়াই সম্পর্কে বাকবিতন্ডা করে।
তোমরা কি দেখছো না, তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই এবং তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করেছেন তাঁর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সব নিয়ামত। কিছু লোক এলেম ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের না আছে সঠিকজ্ঞান, আর না আছে দেদীপ্যমান কিতাব।
অইযা-ক্বীলা লাহুমুত্তাবি'ঊ মা য় আন্যালাল্লা-হু ক্ব-লূ বাল্ নাত্তাবি'উ মা-অজ্বাদ্না- 'আলাইহি আ-বা-য়ানা- আওয়ালাও কা-নাশ্ শাইত্বোয়া-নু ইয়াদ্'ঊ হুম্ ইলা- 'আযা-বিস্ সা'র্ঈ।
তাদেরকে যখন বলা হয়, যা নাযিল করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর, তখন তারা বলে, বরং আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে যে বিষয়ের উপর পেয়েছি, তারই অনুসরণ করব। শয়তান যদি তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে দাওয়াত দেয়, তবুও কি?
তাদের যখন বলা হয়: ‘তোমরা ইত্তেবা করো যা অবতীর্ণ করেছে সেটার,’ তখন তারা বলে: ‘আমরা বরং ইত্তেবা করবো সেটার, যার উপর পেয়েছি আমাদের পূর্বপুরুষদের।’ শয়তান যদি তাদের জ্বলন্ত আগুনের আযাবের দিকে ডাকে তবু কি (তারা তাই করবে)?
অমাইঁ ইয়ুস্লিম্ অজ্ব্ হাহূ য় ইলাল্লা-হি অহুওয়া মুহ্সিনুন্ ফাক্বদিস্ তাম্সাকা বিল্'উরওয়াতিল্ উছ্ক্ব- অইলাল্লা-হি 'আ-ক্বিবাতুল্ উর্মূ।
যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে অভিমূখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে।
যে কেউ আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করে এবং কল্যাণপরায়ণ হয়, সে তো আঁকড়ে ধরে এক মজবুত হাতল। সব কাজের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারে।
অমান্ কাফার ফালা-ইয়াহ্যুন্কা কুফ্রুহ্ ইলাইনা-র্মাজ্বি'ঊহুম্ ফানুনাব্বিয়ুহুম্ বিমা- 'আমিলূ ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।
যে ব্যক্তি করে তার যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। আমারই দিকে তাদের প্রত্যাবর্তন, অতঃপর আমি তাদের কর্ম সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করব। অন্তরে যা কিছু রয়েছে, সে সম্পর্কে সবিশেষ পরিজ্ঞাত।
আর যে কেউ কুফুরি করে, তার কুফুরি যেনো তোমাকে চিন্তিত না করে। তাদের প্রত্যাবর্তন তো হবে আমারই কাছে। তখন আমরা তাদের অবহিত করবো তারা কী আমল করছিল? নিশ্চয়ই অবগত আছেন অন্তরের খবর।
নুমাত্তি'উহুম্ ক্বলীলান্ ছুম্মা নাদ্ব্ত্বোর্য়ারু হুম্ ইলা-'আযা-বিন্ গলীজ্।
আমি তাদেরকে স্বল্পকালের জন্যে ভোগবিলাস করতে দেব, অতঃপর তাদেরকে বাধ্য করব গুরুতর শাস্তি ভোগ করতে।
আমরা কিছুকাল তাদের সুযোগ দেবো ভোগবিলাসের, তারপর আমরা তাদের বাধ্য করবো ভোগ করতে কঠোর আযাব।
অলায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াক্বলুন্না ল্লা-হ্ ক্বলিল্ হাম্দু লিল্লা-হ্ বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডল কে সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে, । বলুন, সকল প্রশংসাই আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই জ্ঞান রাখে না।
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো, মহাকাশ ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন? জবাবে তারা অবশ্যি বলবে: ‘।’ বলো: ‘আলহামদুলিল্লাহ্’। বরং তাদের অধিকাংশই জানেনা।
লিল্লা-হি মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ ইন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ গনিয়্যুল্ হামীদ্।
নভোমন্ডল ও ভূ - মন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। অভাবমুক্ত, প্রশংসিত।
মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। নিশ্চয়ই মুখাপেক্ষাহীন, সপ্রশংসিত।
অলাও আন্না মা-ফিল্ র্আদ্বি মিন্ শাজ্বারতিন্ আক্ব্ লা-মুঁও অল্ বাহ্রু ইয়ামুদ্দ ুহূ মিম্ বা'দিহী সাব্'আতু আব্হুরিম মা-নাফিদাত্ কালিমা-তুল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা 'আযীযুন্ হাকীম্।
পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে, সবই যদি কলম হয় এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও তাঁর বাক্যাবলী লিখে শেষ করা যাবে না। নিশ্চয় পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
পৃথিবীর সমস্ত গাছ যদি কলম হয়, আর সমস্ত সমুদ্র যদি হয় কালি এবং এর সাথে যদি আরো যুক্ত করা হয় সাত সমুদ্র, তবু আল্লাহর (প্রশংসার) বাণী লিখে শেষ করা যাবেনা। নিশ্চয়ই পরাক্রমশালী, বিজ্ঞানময়।
মা- খল্ক্ব কুম্ অলা-বা'ছুকুম্ ইল্লা-কানাফ্সিওঁ ওয়া -হিদাহ্ ইন্নাল্লা -হা সামী উ'ম্ বার্ছী
তোমাদের সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানের সমান বৈ নয়। নিশ্চয় সব কিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।
তোমাদের সবার সৃষ্টি এবং পুনরুত্থান এক ব্যক্তির সৃষ্টি আর পুনরুত্থানেরই মতো। নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব দেখেন।
আলাম্তার আন্নাল্লা-হা ইয়ূলিজ্ব ল্ লাইলা ফিন্নাহা-রি অ ইয়ূলিজ্ব ন্ নাহা-রা ফিল্লাইলি অ সাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বমার কুল্লুঁই ইয়াজ্ব রী য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মাঁও অআন্নাল্লা-হা-বিমা-তা'মালূনা খর্বী।
তুমি কি দেখ না যে, রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করেন এবং দিবসকে রাত্রিতে প্রবিষ্ট করেন? তিনি চন্দ্র ও সূর্যকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত পরিভ্রমণ করে। তুমি কি আরও দেখ না যে, তোমরা যা কর, তার খবর রাখেন?
তুমি কি দেখোনা, রাতকে দিনের এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন এবং তিনি সূর্য আর চাঁদকে তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করে রেখেছেন? প্রত্যেকেই চলছে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। আর তোমরা যা আমল করো, তা খবর রাখেন।
যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ হাক্ব্ক্ব অআন্না মা-ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিহিল্ বা-ত্বিলু অআন্নাল্লা-হা হুওয়াল্ 'আলিয়্যুল্ কার্বী।
এটাই প্রমাণ যে, - ই সত্য এবং ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে সব মিথ্যা। সর্বোচ্চ, মহান।
এগুলো (প্রমাণ করে যে) মহাসত্য এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকে তারা মিথ্যা। নিশ্চয়ই অতীব উঁচু, অতীব মহান।
আলাম্ তার আন্নাল্ ফুল্কা তাজ্ব রী ফিল্ বাহ্রি বিনি'মাতিল্লা-হি লিইয়ুরিয়াকুম্ মিন্ আ-ইয়া-তিহ্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিকুল্লি ছোয়াব্বা-রিন্ শার্কূ।
তুমি কি দেখ না যে, আল্লাহর অনুগ্রহে জাহাজ সমুদ্রে চলাচল করে, যাতে তিনি তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করেন? নিশ্চয় এতে প্রত্যেক সহনশীল, কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
তোমরা কি দেখোনা, আল্লাহর অনুগ্রহে নৌযানগুলো জারি হয় সমুদ্রে। এর মাধ্যমে তোমাদের দেখাতে চান তাঁর কিছু নিদর্শন। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে নিদর্শন প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।
অ ইযা-গশিয়াহুম্ মাওজ্ব ন্ কাজ্জুলালি দা'আয়ুল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা ফালাম্মা- নাজ্জ্বা-হুম্ ইলাল্ র্বারি ফামিন্হুম্ মুক্ব তাছিদ্ অমা-ইয়াজ্ব হাদু বিআ-ইয়া-তিনা য় ইল্লা-কুল্ল খাত্তা-রিন্ কার্ফূ।
যখন তাদেরকে মেঘমালা সদৃশ তরংগ আচ্ছাদিত করে নেয়, তখন তারা খাঁটি মনে আল্লাহকে ডাকতে থাকে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্থলভাগের দিকে উদ্ধার করে আনেন, তখন তাদের কেউ কেউ সরল পথে চলে। কেবল মিথ্যাচারী, অকৃতজ্ঞ ব্যক্তিই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।
যখন মেঘমালার মতো (বিক্ষুব্ধ) তরঙ্গ সেগুলোকে আচ্ছন্ন করে নেয়, তখন তারা আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তাঁকে ডাকতে থাকে। আর যখনই তিনি তাদের নাজাত দেন কূলে পৌঁছে দিয়ে, তখন তাদের কিছু লোক (ঈমান ও কুফরের) মধ্য পথ অবলম্বন করে। কেবল বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞরাই অস্বীকার করে আমাদের আয়াত।
ইয়া য় আইঁইয়্যুহান্ না-সুত্তাক্ব রব্বাকুম্ অখ্শাও ইয়াওমাল্ লা-ইয়াজ্ব্ যী ওয়া-লিদুন্ আঁও অলাদিহী অলা-মাওলূদুন্ হুয়া জ্বা-যিন্ আঁও ওয়া-লিদিহী শাইয়া- ইন্না ওয়া'দাল্লা-হি হাক্ব ক্ব ফালা- তার্গুরন্নাকুমুল্ হাইয়া-তুদ্ দুন্ইয়া-অলা-ইয়ার্গুরন্নাকুম্ বিল্লা-হিল্ গর্রূ।
হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে।
হে মানুষ! তোমরা ভয় করো তোমাদের প্রভুকে। আরো ভয় করো সেই দিনটিকে, যেদিন বাপ সন্তানের কোনো উপকারে আসবেনা, আর সন্তানও কোনো উপকারে আসবেনা তার বাপের। আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যি সত্য। সুতরাং দুনিয়ার হায়াত যেনো তোমাদের প্রতারিত না করে এবং তোমাদেরকে কিছুতেই যেনো আল্লাহর ব্যাপারে প্রতারিত না করে মহাপ্রতারক (শয়তান)।
ইন্নাল্লা-হা 'ইন্দাহূ 'ইল্মুস্ সা-'আতি অইয়ুনায্যিলুল্ গইছা অ ইয়া'লামূ মা-ফিল্ র্আহা-ম্ অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ মা-যা তাক্সিবু গদাহ্ অমা-তাদ্রী নাফ্সুম্ বিআইয়ি র্আদ্বিন্ তামূত্ ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুন্ খর্বী।
নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কেয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং গর্ভাশয়ে যা থাকে, তিনি তা জানেন। কেউ জানে না আগামীকল্য সে কি উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে সে মৃত্যুবরণ করবে। সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
অবশ্যি কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে কেবল আল্লাহর কাছে। তিনিই নাযিল করেন বৃষ্টি। তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কী (ধরনের সন্তান) আছে? কোনো ব্যক্তিই জানেনা আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কোনো ব্যক্তি জানেনা কোন্ স্থানে হবে তার মরণ। নিশ্চয়ই জ্ঞানী এবং সব বিষয়ে অবহিত।