Kitab

আল আনফাল

Chapter 8, 75 verses

  • বাংলা উচ্চারণ
  • মুহিউদ্দীন খান
  • আবদুস শহীদ নাসিম
বাংলা উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ইয়াস্য়ালূনাকা 'আনিল্ আন্ফা-লকুলিল্ আন্ফা-লু লিল্লা-হি র্অরসূলি ফাত্তকুল্লা-হা অ আছ্লিহূ যা-তা বাইনিকুম্ অ আত্বী'উল্লা-হা অরসূলাহূ য় ইন্ কুন্তুম্ মু”মিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, গনীমতের হুকুম। বলে দিন, গণীমতের মাল হল আল্লাহর এবং রসূলের। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং নিজেদের অবস্থা সংশোধন করে নাও। আর এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য কর, যদি হয়ে থাক।

আবদুস শহীদ নাসিম

লোকেরা তোমার কাছে জানতে চাইছে আনফাল সম্পর্কে। তুমি বলো, আনফাল হলো আল্লাহর এবং রসূলের জন্যে। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সংশোধন করে নাও তোমাদের অবস্থা। আর আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের, যদি তোমরা হয়ে থাকো।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নামাল্ মু”মিনূনা ল্লাযীনা ইযা-যুকিরাল্লা-হু অজ্বিলাত্ কুলূবুহুম্ অ ইযা-তুলিয়াত্ 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুহূ যা-দাত্হুম্ ঈমা-নাঁও অ'আলা-রব্বিহিম্ ইয়াতাঅক্কালূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যারা , তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, প্রকৃত হলো তারা, আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে যাদের অন্তর কেঁপে উঠে, আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে শুনানো হলে যাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং যারা তাদের প্রভুর উপর তাওয়াক্কুল করে।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা ইয়ুক্বীমূনাছ্ ছলা-তা অ মিম্মা-রযাকনা হুম্ ইয়ুন্ফিকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

সে সমস্ত লোক যারা প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা হলো সেইসব লোক যারা কায়েম করে এবং আমরা তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে।

বাংলা উচ্চারণ

উলা - য়িকা হুমুল্ মু”মিনূনা হাকক্বা- লাহুম্ দারাজ্বা-তুন্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ অমাগ্ফিরাতুঁও অরিয্ক্বুন্ কারীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তারাই হল সত্যিকার ! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রুযী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারাই হক (প্রকৃত) । তাদের প্রভুর কাছে তাদের জন্যে রয়েছে অনেক মর্যাদা, মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিযিক।

বাংলা উচ্চারণ

কামা - আখ্রাজ্বাকা রব্বুকা মিম্ বাইতিকা বিল্হাকক্বি অইন্না ফারীকাম্ মিনাল্ মুমিনীনা লাকা-রিহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যেমন করে তোমাকে তোমার পরওয়ারদেগার ঘর থেকে বের করেছেন ন্যায় ও সৎকাজের জন্য, অথচ ঈমানদারদের একটি দল (তাতে) সম্মত ছিল না।

আবদুস শহীদ নাসিম

যেমন, তোমার প্রভু তোমাকে বের করেছেন তোমার ঘর থেকে সত্যের ভিত্তিতে। কিন্তু মুমিনদের মধ্যে কিছু লোক তা পছন্দ করেনি।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়ুজ্বা-দিলূনাকা ফিল্হাকক্বি বা'দা মা-তাবাইয়্যানা কাআন্নামা-ইয়ুসা-কুনা ইলাল্ মাওতি অহুম্ ইয়ান্জুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

তারা তোমার সাথে বিবাদ করছিল সত্য ও ন্যায় বিষয়ে, তা প্রকাশিত হবার পর; তারা যেন মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে দেখতে দেখতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার সাথে বিতর্ক করছিল সত্য বিষয় নিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে যাবার পরও, যেনো তাদেরকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আর তারা তা তাকিয়ে দেখছি

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ইয়া'ইদুকুমুল্লা-হু ইহ্দাত্বত্বোয়া-য়িফাতাইনি আন্নাহা-লাকুম্ অতাওয়াদ্দূনা আন্না গাইরা যা-তিশ্ শাওকাতি তাকূনু লাকুম্ অইয়ুরীদুল্লা-হু আঁই ইয়ুহিকক্বাল্ হাকক্বা বিকালিমা-তিহী অইয়াকত্বোয়া'আ দা-বিরাল্ কা-ফিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন দু’টি দলের একটির ব্যাপারে তোমাদের সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, সেটি তোমাদের হস্তগত হবে, আর তোমরা কামনা করছিলে যাতে কোন রকম কন্টক নেই, তাই তোমাদের ভাগে আসুক; অথচ চাইতেন সত্যকে স্বীয় কালামের মাধ্যমে সত্যে পরিণত করতে এবং কাফেরদের মূল কর্তন করে দিতে,

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমাদের ওয়াদা দিয়েছিলেন, দুটি দলের একটি দল তোমাদের আয়ত্তে আসবে, অথচ তোমরা চাইছিলে নিষ্কণ্টক দলটি তোমাদের আয়ত্তে আসুক। কিন্তু চাইছিলেন তাঁর বাণীর মাধ্যমে সত্যকে বাস্তবায়িত করবেন এবং কেটে দেবেন কাফিরদের শেকড়।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়ুহিকক্বাল্ হাক্ক্বা অইয়ুব্ত্বিলাল্ বা-ত্বিলা অলাও কারিহাল্ মুজ্বরিমূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও পাপীরা অসন্তুষ্ট হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তিনি সত্যকে সত্য হিসেবে আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে প্রমাণিত করে দেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করছিল।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ তাস্তাগীছূনা রব্বাকুম্ ফাস্তাজ্বা-বা লাকুম্ আন্নী মুমিদ্দুকুম্ বিআল্ফিম্ মিনাল্ মালা - য়িকাতি র্মুদিফীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছিলে, তখন তিনি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করে বলেছিলেন: ‘আমি তোমাদের সাহায্য করবো এক হাজার ফেরেশতা দিয়ে, তারা যাবে একের পর এক।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-জ্বা'আলাহুল্লা-হু ইল্লা-বুশ্রা- অলিতাত্বমায়িন্না বিহী কুলূবুকুম্ অমান্নাছ্রু ইল্লা-মিন্ 'ইনদিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা 'আযীযুন্ হাকীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তো শুধু সুসংবাদ দান করলেন যাতে তোমাদের মন আশ্বস্ত হতে পারে। আর সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতে পারে না। নিঃসন্দেহে মহাশক্তির অধিকারী হেকমত ওয়ালা।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ ব্যবস্থা করেন একটি শুভ সংবাদ হিসেবে এবং এর ফলে যেনো তোমাদের মন প্রশান্তি লাভ করে। আসলে সাহায্য তো আল্লাহর কাছ থেকেই আসে। নিশ্চয়ই মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয ইয়ুগাশ্শীকুমুন্ নু'আ- সা আমানাতাম্ মিন্হু অইয়ুনায্যিলু 'আলাইকুম্ মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়াল্ লিইয়ুত্বোয়াহ্হিরাকুম্ বিহী অইয়ুয্হিবা 'আন্কুম্ রিজ্বযাশ্ শাইত্বোয়া-নি অলিইর্য়াবিত্বোয়া 'আলা- কুলূ বিকুম্ অইয়ুছাব্বিতা বিহিল্ আক্বদা-ম্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তিনি আরোপ করেন তোমাদের উপর তন্দ্রাচ্ছন্ন তা নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রশান্তির জন্য এবং তোমাদের উপর আকাশ থেকে পানি অবতরণ করেন, যাতে তোমাদিগকে পবিত্র করে দেন এবং যাতে তোমাদের থেকে অপসারিত করে দেন শয়তানের অপবিত্রতা। আর যাতে করে সুরক্ষিত করে দিতে পারেন তোমাদের অন্তরসমূহকে এবং তাতে যেন সুদৃঢ় করে দিতে পারেন তোমাদের পা গুলো।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের স্বস্তির জন্যে তোমাদেরকে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করেছিলেন এবং আসমান থেকে তোমাদের উপর পানি বর্ষণ করেছিলেন, যাতে করে তা দিয়ে তোমাদের পবিত্র করে দেন, তোমাদের থেকে শয়তানের কুমন্ত্রণা দূর করে দেন এবং তোমাদের অন্তরসমূহকে সংহত ও মজবুত করে দেন আর তোমাদের কদমকে করে দেন মজবুত।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ইয়ূহী রব্বুকা ইলাল্ মালা - য়িকাতি আন্নী মা'আকুম্ ফাছাব্বিতুল্ লাযীনা আ-মানূ সাউল্ক্বী ফী কুলূবিল্ লাযীনা কাফার্রু রু'বা ফাদ্ব্রিবূ ফাওক্বাল্ আ'না-ক্বি ওয়াদ্বরিবূ মিন্হুম্ কুল্লা বানা-ন্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমাদের প্রভু ফেরেশতাদের প্রতি অহি করে বলেছিলেন: আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা মুমিনদের অবিচল রাখো। অচিরেই আমি কাফিরদের অন্তরে সঞ্চার করে দেবো ভয় আর আতঙ্ক। অতএব তোমরা আঘাত করো তাদের গর্দানে আর আঘাত করো তাদের জোড়ায় জোড়ায়।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাহুম্ শা - ককুল্ লা-হা অ রসূলাহূ অমাই ইয়ুশা-ক্বিক্বি ল্লা-হা অ রসূলাহূ ফাইন্নাল্লা-হা শাদীদুল্ ই'ক্বা-ব্।

মুহিউদ্দীন খান

যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তাঁর রসূলের, সেজন্য এই নির্দেশ। বস্তুতঃ যে লোক ও রসূলের অবাধ্য হয়, নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, তারা ও তাঁর রসূলের বিরোধিতা করেছে, আর যে কেউ এবং তাঁর রসূলের বিরোধিতা করে, সে জেনে রাখুক, কঠোর শাস্তিদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকুম্ ফাযূকুহু অ আন্না লিল্কাফিরীনা 'আযা-বান্নার্-।

মুহিউদ্দীন খান

আপাততঃ বর্তমান এ শাস্তি তোমরা আস্বাদন করে নাও এবং জেনে রাখ যে, কাফেরদের জন্য রয়েছে দোযখের আযাব।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এরি উপযুক্ত, সুতরাং আস্বাদন করো। এ ছাড়াও কাফিরদের জন্যে রয়েছে আগুনের আযাব।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আ ইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ য় ইযা-লাক্বীতুমুল্ লাযীনা কাফারূ যাহ্ফান্ ফালা-তুওয়াল্লূ হুমুল্ আদ্বার্-।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কাফেরদের সাথে মুখোমুখী হবে, তখন পশ্চাদপসরণ করবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যখনই তোমরা বাহিনীর সম্মুখীন হবে, তখন কিছুতেই পিছু হটবে না,

বাংলা উচ্চারণ

অমাইঁ ইয়ুওয়াল্লিহিম্ ইয়াওমায়িযিন্ দুবুরাহূ য় ইল্লা- মুতার্হারিফাল্ লিক্বিতা-লিন্ আও মুতাহাইয়্যিযান্ ইলা-ফিয়াতিন্ ফাক্বদ্ বা- য়া বিগাদ্বোয়াবিম্ মিনাল্লা-হি অমা'ওয়া-হু জ্বাহান্নাম্ অবিসাল্ মাছীর।

মুহিউদ্দীন খান

আর যে লোক সেদিন তাদের থেকে পশ্চাদপসরণ করবে, অবশ্য যে লড়াইয়ের কৌশল পরিবর্তনকল্পে কিংবা যে নিজ সৈন্যদের নিকট আশ্রয় নিতে আসে সে ব্যতীত অন্যরা আল্লাহর গযব সাথে নিয়ে প্রত্যাবর্তন করবে। আর তার ঠিকানা হল জাহান্নাম। বস্তুতঃ সেটা হল নিকৃষ্ট অবস্থান।

আবদুস শহীদ নাসিম

যুদ্ধের কৌশল কিংবা নিজেদের দলের সাথে মিলিত হবার উদ্দেশ্য ছাড়া। সেদিন যে কেউ বাহিনী থেকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, সে আল্লাহর গজবে নিপতিত হবে এবং তার আশ্রয় হবে জাহান্নাম, আর সেটা খুবই নিকৃষ্ট ধরনের ফিরে যাবার জায়গা।

বাংলা উচ্চারণ

ফালাম্ তাকতুলূহুম্ অলা-কিন্না ল্লা-হা ক্বাতালাহুম্ অমা-রমাইতা ইয্ রমাইতা অলা-কিন্না ল্লা-হা রমা-অলিইয়ুব্লিয়াল্ মু”মিনীনা মিন্হু বালা-য়ান্ হাসানা- ইন্নাল্লা-হা সামী'উন্ 'আলীম্ ।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তোমরা তাদেরকে হত্যা করনি, বরং আল্লাহই তাদেরকে হত্যা করেছেন। আর তুমি মাটির মুষ্ঠি নিক্ষেপ করনি, যখন তা নিক্ষেপ করেছিলে, বরং তা নিক্ষেপ করেছিলেন স্বয়ং যেন ঈমানদারদের প্রতি এহসান করতে পারেন যথার্থভাবে। নিঃসন্দেহে শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের হত্যা করোনি, বরং তাদের হত্যা করেছেন । আর তুমি যখন (তাদের দিকে কংকর) নিক্ষেপ করেছিলে তখন তুমি নিক্ষেপ করোনি, বরং আল্লাহ্ই নিক্ষেপ করেছিলেন, যাতে করে মুমিনদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে উত্তমভাবে পরীক্ষা করা যায়। নিশ্চয় সব শুনেন, সব জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকুম্ অআন্নাল্লা-হা মূহিনু কাইদিল্ কা-ফিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এটাতো গেল, আর জেনে রেখো, নস্যাৎ করে দেবেন কাফেরদের সমস্ত কলা - কৌশল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা ছিলো তোমাদেরই জন্যে, আর অবশ্যি কাফিরদের চক্রান্তকে করে দেন অকেজো।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্ তাস্তাফ্তিহূ ফাক্বদ্ জ্বা - য়াকুমুল্ ফাত্হু অইন্ তান্তাহূ ফাহুওয়া খইরুল্লাকুম্ অইন্ তা'ঊদূ না'উদ্অলান্ তুগ্নিয়া 'আন্কুম্ ফিয়াতুকুম্ শাইয়াঁও অলাও কাছুরাত অআন্নাল্লা-হা মা'আল্ মু”মিনীন্

মুহিউদ্দীন খান

তোমরা যদি মীমাংসা কামনা কর, তাহলে তোমাদের নিকট মীমাংসা পৌছে গেছে। আর যদি তোমরা প্রত্যাবর্তন কর, তবে তা তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমরা যদি তাই কর, তবে আমি ও তেমনি করব। বস্তুতঃ তোমাদের কোনই কাজে আসবে না তোমাদের দল - বল, তা যত বেশীই হোক। জেনে রেখ রয়েছেন ঈমানদারদের সাথে।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে কাফিররা!) তোমরা তো ফায়সালা চেয়েছিলে। এখন ফায়সালা তোমরা পেয়ে গেছো। যদি তোমরা (যুদ্ধ সন্ত্রাস ও নির্যাতন করা থেকে) বিরত হও, তবে সেটা তোমাদের জন্যেই উত্তম। কিন্তু তোমরা যদি পুনরায় করো, তাহলে আমরাও পুনরায় শাস্তি দেবো এবং তোমাদের বাহিনী সংখ্যায় অনেক বেশি হলেও তা তোমাদের কোনো কাজেই আসবে না। অবশ্যি মুমিনদের সাথে রয়েছেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়াহাল্ লাযীনা আ-মানূ য় আত্বী'উল্লা-হা- অ রসূলাহূ অলা-তাওয়াল্লাও 'আন্হু অআন্তুম্ তাস্মা'ঊন।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর এবং শোনার পর তা থেকে বিমুখ হয়ো না।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের। আর তোমরা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়োনা, অথচ তোমরা তার কথা শুনছো।

বাংলা উচ্চারণ

লা-তাকূনূ কাল্লাযীনা ক্ব-লূ সামি'না- অহুম্ লা-ইয়াস্মা'ঊন।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা বলে যে, আমরা শুনেছি, অথচ তারা শোনেনা।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঐসব লোকের মতো হয়োনা, যারা বলে, ‘আমরা শুনেছি’, অথচ তারা শুনেনি।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না র্শারা দ্দাওয়া-ব্বি 'ইন্দা ল্লা-হিছ্ ছুম্মুল্ বুক্মুল্লাযীনা লা-ইয়া'ক্বিলূন্।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে তা’আলার নিকট সমস্ত প্রাণীর তুলনায় তারাই মূক ও বধির, যারা উপলদ্ধি করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে নিকৃষ্ট জীব হলো সেই বধির ও বোবা লোকেরা - যারা বেআকল।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও 'আলিমাল্লা-হু ফীহিম্ খাইরাল্ লাআস্মা'আহুম্অলাও আস্মা'আহুম্ লাতাওয়াল্লাও অহুম্ মু'রিদ্বুন্।

মুহিউদ্দীন খান

বস্তুতঃ যদি তাদের মধ্যে কিছুমাত্র শুভ চিন্তা জানতেন, তবে তাদেরকে শুনিয়ে দিতেন। আর এখনই যদি তাদের শুনিয়ে দেন, তবে তারা মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে যাবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যদি তাদের মধ্যে ভালো কিছু আছে বলে জানতেন, তাহলে অবশ্যি তাদের শুনাতেন। তবে তাদের শুনালেও তারা উপেক্ষা করে মুখ ফিরিয়ে নিতো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহা ল্লাযীনা আ-মানুস্ তাজ্বীবূ লিল্লা-অর্লিরসূলি ইযা-দা'আ-কুম্ লিমা-ইয়ুহ্য়ীকুম্ অ'লামূ য় আন্না ল্লা-হা ইয়াহূলু বাইনাল্ মার্-য়ি অক্বল্বিহী অআন্নাহূ য় ইলাইহি তুহ্শারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, ও তাঁর রসূলের নির্দেশ মান্য কর, যখন তোমাদের সে কাজের প্রতি আহবান করা হয়, যাতে রয়েছে তোমাদের জীবন। জেনে রেখো, মানুষের এবং তার অন্তরের মাঝে অন্তরায় হয়ে যান। বস্তুতঃ তোমরা সবাই তাঁরই নিকট সমবেত হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! রসূল যখন তোমাদেরকে এমন কোনো বিষয়ের দিকে ডাকে, যা তোমাদের প্রাণবন্তু করবে, তখন তোমরা ও রসূলের আহবানে সাড়া দেবে। জেনে রাখো, ব্যক্তি ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী হয়ে থাকেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদের হাশর করা হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অত্তাকু ফিত্নাতাল্ লা-তুছীবান্নাল্ লাযীনা জ্বোয়ালামূ মিন্কুম্ খা-ছ্ছোয়াতান্ অ'লামূ য় আন্নাল্লা-হা শাদীদুল্ ই'ক্বা-ব্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তোমরা এমন ফাসাদ থেকে বেঁচে থাক যা বিশেষতঃ শুধু তাদের উপর পতিত হবে না যারা তোমাদের মধ্যে জালেম এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠোর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা সেই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা করো, যা শুধুমাত্র তোমাদের মধ্যকার যালিমদেরই আক্রান্ত করবে না। জেনে রাখো কঠিন শাস্তিদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

অয্কুরূ য় ইয্ আন্তুম্ ক্বালীলুম্ মুস্তাদ্ব্'আফূনা ফিল্ র্আদ্বি তাখা-ফূনা আই ইয়াতাখাত্ত্বোয়াফাকুমুন্ না-সু ফাআ-ওয়া-কুম্ অ আইয়্যাদাকুম্ বিনাছ্রিহী অ রযাক্বাকুম্ মিনাত্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি লা'আল্লাকুম্ তাশ্কুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে অল্প, পরাজিত অবস্থায় পড়েছিলে দেশে; ভীত - সস্ত্রস্ত্র ছিলে যে, তোমাদের না অন্যেরা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তোমাদিগকে আশ্রয়ের ঠিকানা দিয়েছেন, স্বীয় সাহায্যের দ্বারা তোমাদিগকে শক্তি দান করেছেন এবং পরিচ্ছন্ন জীবিকা দিয়েছেন যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, তোমরা ছিলে কয়েকজন মাত্র। দেশে তোমাদের দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। তোমরা আশংকা করছিলে লোকেরা তোমাদের ছোঁ মেরে ধরে ফেলবে। সে অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তোমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, নিজ সাহায্যের মাধ্যমে তোমাদের শক্তিশালী করেছেন এবং উত্তম জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন, যাতে তোমরা শোকর আদায় করো।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা অ-মানূ লা- তাখূনুল্লা-হা র্অরসূলা অতাখূনূ য় আমা-না-তিকুম্ অ আন্তুম্ তা'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, খেয়ানত করোনা আল্লাহর সাথে ও রসূলের সাথে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে - শুনে।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা জেনে শুনে এবং রসূলের খিয়ানত করোনা এবং তোমাদের পরস্পরের আমানতেরও খিয়ানত করোনা।

বাংলা উচ্চারণ

অ'লামূ য় অন্নামা য় 'আম্ওয়া-লুকুম্ অ 'আওলা-দুকুম্ ফিত্নাতুঁও অআন্না ল্লা-হা 'ইন্দাহূয় আজ্বরুন্ 'আজীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন - সম্পদ ও সন্তান - সন্ততি অকল্যাণের সম্মুখীনকারী। বস্তুতঃ আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা সওয়াব।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে রাখো, তোমাদের মাল - সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি একটি পরীক্ষা, আর বড় পুরস্কার তো মূলত আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্লাযীনা আ-মানূয় ইন্ তাত্তাকুল্লা-হা ইয়াজ্ব'আল্ লাকুম্ র্ফুক্ব-নাও অইয়ুকার্ফ্ফি 'আন্কুম্ সাইয়িয়া-তিকুম্ ইয়ার্গ্ফিলাকুম্ অল্লা-হু যুল্ফাদ্ব্লিল্ 'আজ্বীম্ ।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করতে থাক, তবে তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন এবং তোমাদের থেকে তোমাদের পাপকে সরিয়ে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। বস্তুতঃ আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করো, তাহলে তিনি তোমাদেরকে ভালো - মন্দের মধ্যে পার্থক্য করার একটি মানদন্ড দেবেন এবং তোমাদের থেকে মুছে দেবেন তোমাদের পাপগুলো আর ক্ষমা করে দেবেন তোমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি। তো মহা অনুগ্রহের মালিক।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ইয়াম্কুরু বিকাল্লাযীনা কাফারূ লিইয়ুছ্বিতূকা আও ইয়াকতুলূকা আও ইয়ুখ্রিজ্ব ূক্ অ ইয়াম্কুরূনা অ ইয়াম্কুরুল্লা-হ্ অল্লা-হু খাইরুল্ মা-কিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কাফেরেরা যখন প্রতারণা করত আপনাকে বন্দী অথবা হত্যা করার উদ্দেশ্যে কিংবা আপনাকে বের করে দেয়ার জন্য তখন তারা যেমন ছলনা করত তেমনি, আল্লাহও ছলনা করতেন। বস্তুতঃ আল্লাহর ছলনা সবচেয়ে উত্তম।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা যখন তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছিল তোমাকে বন্দী করার, কিংবা হত্যা করার, অথবা দেশ থেকে বের করে দেয়ার; তারা চক্রান্ত করছিল আর আল্লাহ্ও কৌশল করছিলেন, আর আল্লাহ্ই সর্বোত্তম কৌশলী।

বাংলা উচ্চারণ

অইযা-তুত্লা- 'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা-ক্ব-লূ ক্বদ্ সামি'না লাও নাশা - য়ু লাকুল্না- মিছ্লা হা-যা য় ইন্ হা-যা য় ইল্লা য় আসা-ত্বীরুল্ আওওয়ালীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তী ইতিকথা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের কাছে আমাদের আয়াত শুনানো হয়, তারা বলে: ‘আমরা শুনলাম, ইচ্ছা করলে আমরাও এর মতো বলতে পারি। এতো সেকালের লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছু নয়।’

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ক্ব-লুল্লা-হুম্মা ইন্ কা-না- হা-যা- হুঅল্ হাকক্বা মিন্ 'ইন্দিকা ফাআর্ম্ত্বি 'আলাইনা- হিজ্বা-রাতাম্ মিনাস্ সামা - য়ি আওয়িতিনা-বি'আযা-বিন্ আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তাছাড়া তারা যখন বলতে আরম্ভ করে যে, ইয়া , এই যদি তোমার পক্ষ থেকে (আগত) সত্য হয়ে থাকে, তবে আমাদের উপর আকাশ থেকে প্রস্তর বর্ষণ কর কিংবা আমাদের উপর বেদনাদায়ক আযাব নাযিল কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তারা বলেছিল: ‘হে ! এ (দীন, এ কুরআন) যদি তোমার পক্ষ থেকে সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের উপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করো, অথবা আমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাবে নিমজ্জিত করো।’

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা- নাল্লা-হু লিইয়ু'আযযিবাহুম্ অ'আন্তা ফীহিম্ অমা-কানা ল্লা-হু মু'আয্যিবাহুম্ অহুম্ ইয়াস্তাগ্ফিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

অথচ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

(হে নবী!) তুমি তাদের মধ্যে থাকবে আর তাদের শাস্তি দেবেন এমনটি করবেন না। আর যতো দিন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে, ততোদিন তাদের শাস্তি দেয়া আল্লাহর নীতি নয়।

বাংলা উচ্চারণ

অমা লাহুম্ আল্লা-ইয়ু'আয্যিবাহুমুল্লা-হু অহুম্ ইয়াছুদ্দূনা 'আনিল্ মাস্জ্বিদিল্ হারা-মি অমা-কানূ য় আওলিয়া - য়াহ্ ইন্ আওলিয়া - য়ুহূ য় ইল্লাল্ মুত্তাকুনা অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মধ্যে এমন কি বিষয় রয়েছে, যার ফলে তাদের উপর আযাব দান করবেন না। অথচ তারা মসজিদে - হারামে যেতে বাধাদান করে, অথচ তাদের সে অধিকার নেই। এর অধিকার তো তাদেরই রয়েছে যারা । কিন্তু তাদের অধিকাংশই সে বিষয়ে অবহিত নয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের কী বলার আছে, কেন তাদের শাস্তি দেবেন না, যখন তারা মসজিদুল হারাম থেকে (মুমিনদের) বাধা দেয়। তারা তো এই মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) নয়, শুধু মুত্তাকিরাই হতে পারে এর মুতাওয়াল্লি, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অমা-কা-না ছলা-তুহুম্ 'ইন্দাল্ বাইতি ইল্লা- মুকা - য়াঁও অতাছ্দিয়াহ ফাযূকুল্ 'আযা-বা বিমা-কুন্তুম্ তাক্ফুরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কা’বার নিকট তাদের বলতে শিস দেয়া আর তালি বাজানো ছাড়া অন্য কোন কিছুই ছিল না। অতএব, এবার নিজেদের কৃত কুফরীর আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

কা’বা ঘরের ওখানে তাদের তো হলো শুধু শিস দেয়া আর তালি দেয়া। সুতরাং তোমরা আযাবের স্বাদ ভোগ করো তোমাদের কুফুরির কারণে।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূ ইয়ুন্ফিকুনা আমওয়া-লাহুম্ লিইয়াছুদ্দূ 'আন্ সাবীলিল্লা-হ্ ফাসাইয়ুন্ফিকুনাহা- ছুম্মা তাকূনু 'আলাইহিম হাস্রাতান্ ছুম্মা ইয়ুগ্লাবূন্ অল্লাযীনা কাফারূ য় ইলা-জ্বাহান্নামা ইয়ুহশারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

নিঃসন্দেহে যেসব লোক , তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন - সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরির পথ অবলম্বন করেছে তারা তাদের অর্থ - সম্পদ ব্যয় করে মানুষকে আল্লাহর পথে বাধা দেয়ার জন্যে। তারা তাদের সম্পদ ব্যয় করেই যাবে এবং এটা তাদের হতাশার কারণ হবে। অবশেষে তারা পরাজিত হবে। যারা কুফুরি করে তাদেরকে শেষ পর্যন্ত জাহান্নামে হাশর (সমবেত) করা হবে।

বাংলা উচ্চারণ

লিইয়ামীযাল্লা-হুল্ খাবীছা মিনাত ত্বোয়াইয়্যিবি অইয়াজ্ব'আলাল্ খবীছা বা'দ্বোয়াহূ 'আলা- বা'দ্বিন্ ফাইর্য়াকুমাহূ জ্বামীআন্ ফাইয়াজ্ব'আলাহূ ফী জ্বাহান্নাম্উলা - য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।

মুহিউদ্দীন খান

যাতে পৃথক করে দেন অপবিত্র ও না - পাককে পবিত্র ও পাক থেকে। আর যাতে একটির পর একটিকে স্থাপন করে সমবেত স্তুপে পরিণত করেন এবং পরে দোযখে নিক্ষেপ করেন। এরাই হল ক্ষতিগ্রস্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

এমনটি করার কারণ হলো, মন্দকে ভালো থেকে আলাদা করে দিতে চান এবং মন্দদের কাউকেও কারো উপর স্থান দিতে চান, তারপর তাদের সবাইকে জমা করে নিক্ষেপ করবেন জাহান্নামে। আর তারাই হবে আসল ক্ষতিগ্রস্ত।

বাংলা উচ্চারণ

কুল্ লিল্লাযীনা কাফারূ য় ইঁ ইয়ান্তাহূ ইয়ুর্গ্ফালাহুম্ মা-ক্বাদ্ সালাফা অইঁ ইয়া'ঊদূ ফাক্বদ্ মাদ্বোয়াত্ সুন্নাতুল্ আওঅলীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তুমি বলে দাও, কাফেরদেরকে যে, তারা যদি বিরত হয়ে যায়, তবে যা কিছু ঘটে গেছে ক্ষমা হবে যাবে। পক্ষান্তরে আবারও যদি তাই করে, তবে পুর্ববর্তীদের পথ নির্ধারিত হয়ে গেছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা কুফুরি করে তাদের বলো, তারা যদি বিরত হয় তবে অতীতের কর্মের জন্যে তাদের ক্ষমা করা হবে, কিন্তু তারা যদি পুনরাবৃত্তি করে, তবে আগেকার লোকদের (করুণ) দৃষ্টান্ত তো তাদের সামনেই রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অক্বা-তিলূ হুম্ হাত্তা-লা-তাকূনা ফিত্নাতুঁও অইয়াকূনাদ্ দীনু কুল্লুহূ লিল্লা-হি ফাইনিন্তাহাও ফাইন্নাল্লা-হা বিমা-ইয়া'মালূনা বার্ছী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাক যতক্ষণ না ভ্রান্তি শেষ হয়ে যায়; এবং আল্লাহর সমস্ত হুকুম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। তারপর যদি তারা বিরত হয়ে যায়, তবে তাদের কার্যকলাপ লক্ষ্য করেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাও, যতোক্ষণ না ফিতনা দূর হয়ে যায় এবং দীন পুরোপুরি আল্লাহর জন্যে হয়ে যায়। তারা যদি (ফিতনা থেকে) বিরত হয়, তবে তারা যা করবে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ তাঅল্লাও ফা'লামূ য় আন্নাল্লা-হা মাওলা-কুম্ নি'মাল্ মাওলা- অনি'মান্ নার্ছী।

মুহিউদ্দীন খান

আর তারা যদি না মানে, তবে জেনে রাখ, তোমাদের সমর্থক; এবং কতই না চমৎকার সাহায্যকারী।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখো, তোমাদের মাওলা (অভিভাবক) তো । তিনিই উত্তম মাওলা এবং উত্তম সাহায্যকারী।

বাংলা উচ্চারণ

অ'লামূ য় আন্নামা-গনিম্তুম্ মিন্ শাইয়িন্ ফাআন্না লিল্লা-হি খুমুসাহূ অর্লিরসূলি অলিযিল্ ক্বর্ বা- অল্ইয়াতা-মা- অল্মাসা-কীনি অব্নিস্ সাবীলি ইন্ কুন্তুম্ আ-মান্তুম্ বিল্লা-হি অমা য় আন্যাল্না-'আলা-আব্দিনা-ইয়াওমাল্ র্ফুক্বা-নি ইয়াওমাল্ তাক্বাল্ জ্বাম্'আ-ন্ অল্লা-হু 'আলা- কুল্লি শাইয়িন্ ক্বার্দী।

মুহিউদ্দীন খান

আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু - সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয় - স্বজনের জন্য এবং এতীম - অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।

আবদুস শহীদ নাসিম

জেনে নাও, তোমরা যে গনিমত লাভ করেছো, তার পাঁচ ভাগের একভাগ আল্লাহর, রসূলের, রসূলের নিকটাত্মীয়দের, এতিমদের, মিসকিনদের এবং পথিকদের জন্যে নির্ধারন করা হলো। যদি তোমরা ঈমান রাখো আল্লাহর প্রতি এবং সেই বিষয়ের প্রতি যা আমরা নাযিল করেছি আমাদের দাসের প্রতি মীমাংসার দিন, যেদিন দুই দল পরস্পরের মোকাবেলা করেছিল। সব বিষয়ে শক্তিমান।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ আন্তুম্ বিল্উ'দ্ অতিদ্ দুন্ইয়া- অহুম বিল্উ'দ্অতিল্ কুছ্ওয়া-অররাক্বু আস্ফালা মিন্কুম্ অলাও তাওয়া-'আত্তুম্ লাখ্ তালাফ্তুম্ ফীল্ মী'আ-দি অলাকিল্ লিইয়াকদ্বিয়াল্লা-হু আম্রান্ কা-না মাফ্ঊ'লাল্ লিইয়াহ্লিকা মান্ হালাকা 'আম্ বাইয়্যিনাতিঁও অইয়াহ্ইয়া-মান্ হাইয়্যা আম্ বাইয়্যিনাহ্ অইন্নাল্লা-হা লাসামীউ'ন্ 'আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমরা ছিলে সমরাঙ্গনের এ প্রান্তে আর তারা ছিল সে প্রান্তে অথচ কাফেলা তোমাদের থেকে নীচে নেমে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় যদি তোমরা পারস্পরিক অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে, তবে তোমরা এক সঙ্গে সে ওয়াদা পালন করতে পারতে না। কিন্তু তা’আলা এমন এক কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল যাতে সে সব লোক নিহত হওয়ার ছিল, প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর এবং যাদের বাঁচার ছিল, তারা বেঁচে থাকে প্রমাণ প্রতিষ্ঠার পর। আর নিশ্চিতই শ্রবণকারী, বিজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, (বদর প্রান্তরে) তোমরা ছিলে উপত্যকার নিকট প্রান্তে, তারা ছিলো দূরপ্রান্তে আর আরোহী কাফেলা দল ছিলো অপেক্ষাকৃত নিম্নাঞ্চলে। তোমরা যদি পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধের (অবস্থান) সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে চাইতে, তবে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতবিরোধ ঘটতো। কিন্তু যা করার তা করে দিলেন। ফলে যারা হালাক হবার তারা যেনো সত্য প্রকাশের পর হালাক হয়, আর যারা জীবিত থাকবে তারাও যেনো সত্য প্রকাশের পর জীবিত থাকে। নিশ্চয়ই সব শুনেন, সব জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ইয়ুরীকাহুমু ল্লা-হু ফী মানা-মিকা ক্বালীলা- অলাও আরা-কাহুম্ কাছীরাল্ লাফাশিল্তুম্ অলাতানা-যা'তুম্ ফিল্ আম্রি অলা-কিন্না ল্লা-হা সাল্লাম্ ইন্নাহূ 'আলীমুম্ বিযা-তিছ্ ছুর্দূ।

মুহিউদ্দীন খান

যখন তোমাকে স্বপ্নে সেসব কাফেরের পরিমাণ অল্প করে দেখালেন; বেশী করে দেখালে তোমরা কাপুরুষতা অবলম্বন করতে এবং কাজের বেলায় বিপদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু বাঁচিয়ে দিয়েছেন। তিনি অতি উত্তমভাবেই জানেন; যা কিছু অন্তরে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, (বদর প্রান্তরে) তোমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তারা সংখ্যায় অল্প। তিনি যদি তোমাকে দেখাতেন তারা সংখ্যায় অনেক, তাহলে তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলতে এবং যুদ্ধের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করতে। কিন্তু তোমাদের রক্ষা করেছেন। নিশ্চয়ই অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে তিনি অবগত।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ ইয়ুরীকুমূহুম্ ইযিল্ তাক্বাইতুম্ ফী য় আ'ইয়ুনিকুম্ কালীলাঁও অইয়ুক্বাল্লিলুকুম্ ফী য় আ'ইয়ুনিহিম্ লিইয়াক্ব দ্বিয়া ল্লা-হু আম্রান্ কা-না মাফ্ঊ'লা- অ ইলাল্লা-হি র্তুজ্বাউ'ল্ উর্মূ।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, যুদ্ধের ময়দানে তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে অল্প সংখ্যক দেখিয়েছেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছেন, যা ঘটার ছিলো তা সম্পন্ন করার জন্যে। সব বিষয় শেষ পর্যন্ত আল্লাহর দিকেই রুজু হয়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহাল্ লাযীনা আ-মানূ য় ইযা-লাক্বীতুম্ ফিয়াতান্ ফাছ্বুতূ অয্কুরুল্লা-হা কাছীরাল্ লা'আল্লাকুম্ তুফ্লিহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোন বাহিনীর সাথে সংঘাতে লিপ্ত হও, তখন সুদৃঢ় থাক এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর যাতে তোমরা উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে পার।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে লোকেরা! যখনই তোমরা কোনো সৈন্যদলের সাথে যুদ্ধের সম্মুখীন হবে, তখন অবশ্যি অটল অবিচল থাকবে, এবং আল্লাহকে অধিক অধিক স্মরণ করবে, তাহলে অবশ্যি তোমরা সফল হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অ আত্বীউ'ল্লা-হা অ রাসূলাহূ অলা- তানা-যাঊ' ফাতাফ্শালূ অতায্হাবা রীহুকুম্ অছ্বিরূ ইন্না ল্লা-হা মা'আছ্ ছোয়া-বিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তাঁর রসূলের। আর তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত হয়োনা। তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এর ফলে তোমাদের প্রতিপত্তি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং সবর করো। নিশ্চয়ই সবর অবলম্বনকারীদের সাথেই রয়েছেন।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-তাকূনূ কাল্লাযীনা খারাজূ মিন্ দিয়া-রিহিম্ বাত্বোয়ারাঁও অরিয়া - য়া ন্না-সি অ ইয়াছুদ্দূনা 'আন সাবীলি ল্লা-হ্ অল্লা-হু বিমা- ইয়া'মালূনা মুহীত্ব।

মুহিউদ্দীন খান

আর তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে গর্বিতভাবে এবং লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে। আর আল্লাহর পথে তারা বাধা দান করত। বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে সে সমস্ত বিষয় যা তারা করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা ঐসব লোকদের মতো হয়োনা যারা দাম্ভিকতা প্রদর্শন ও লোক দেখানোর জন্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল এবং যারা মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে বাধা সৃষ্টি করে। তারা যা করে তা পরিবেষ্টন করে আছেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইয্ যাইয়্যানা লাহুমুশ্ শাইত্বোয়া-নু আ'মা- লাহুম্ অক্ব-লা লা-গ-লিবা লাকুমুল্ ইয়াওমা মিনান্না-সি অইন্নী জ্বা-রুল্ লাকুম্ ফালাম্মা-তার - য়াতিল্ ফিয়াতা-নি নাকাছোয়া 'আলা- 'আক্বিবাইহি অক্ব-লা ইন্নী বারী - য়ুম্ মিন্কুম্ ইন্নীয় আরা- মা- লা-তারাওনা ইন্নী য় আখা-ফুল্লা-হ্ অল্লা-হু শাদীদুল্ ই'ক্বা-ব্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যখন সুদৃশ্য করে দিল শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কার্যকলাপকে এবং বলল যে, আজকের দিনে কোন মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না আর আমি হলাম তোমাদের সমর্থক, অতঃপর যখন সামনাসামনী হল উভয় বাহিনী তখন সে অতি দ্রুত পায়ে পেছনে দিকে পালিয়ে গেল এবং বলল, আমি তোমাদের সাথে না - আমি দেখছি, যা তোমরা দেখছ না; আমি ভয় করি আল্লাহকে। আর আল্লাহর আযাব অত্যন্ত কঠিন।

আবদুস শহীদ নাসিম

স্মরণ করো, শয়তান তাদের দৃষ্টিতে তাদের কর্মকান্ডকে চাকচিক্যময় করে রেখেছিল এবং বলেছিল: ‘আজ কোনো মানুষই তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না, আমি তোমাদের পাশেই আছি।’ তারপর উভয় দল যখন মুখোমুখি হলো, তখন সে পেছন থেকে কেটে পড়লো এবং বললো: ‘তোমাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি এমন কিছু দেখছি, যা তোমরা দেখছোনা। আমি আল্লাহকে ভয় পাই। কঠিন শাস্তিদাতা।’

বাংলা উচ্চারণ

ইয্ ইয়াকুলুল্ মুনাফিকুনা অল্লাযীনা ফী কুলূ বিহিম্ মারাদ্বুন্ র্গরা হা য় য়ুলা - য়ি দীনুহুম্ অমাইঁ ইয়াতাওয়াক্কাল্ 'আলা ল্লা-হি ফাইন্না ল্লা-হা 'আযীযুন্ হাক্বীম্।

মুহিউদ্দীন খান

যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন মুনাফিকরা এবং যাদের মনে রোগ ছিলো তারা বলছিল: ‘এদের দীন এদেরকে বিভ্রান্ত করেছে।’ যে কেউ আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, সে জেনে রাখুক, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

অলাও তারা য় ইয্ ইয়াতাওয়াফ্ ফাল্লাযীনা কাফারুল্ মালা - য়িকাতু ইয়াদ্ব্রিবূনা উজ্ব ূহাহুম্ অআদ্বা-রাহুম্ অযূকু 'আযা-বাল্ হারীক।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তুমি দেখ, যখন ফেরেশতারা কাফেরদের জান কবজ করে; প্রহার করে, তাদের মুখে এবং তাদের পশ্চাদদেশে আর বলে, জ্বলন্ত আযাবের স্বাদ গ্রহণ কর।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি দেখতে, ফেরেশতারা যখন কাফিরদের ওফাত (মৃত্যু) দিতে আসে তাদের চেহারা ও পিঠে আঘাত করতে থাকে এবং বলে, স্বাদ গ্রহণ করো দহন যন্ত্রণার।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিমা-কাদ্দামাত্ আইদীকুম্ অআন্নাল্লা-হা লাইসা বিজোয়াল্লা-মিল্ লিল্'আবীদ্।

মুহিউদ্দীন খান

এই হলো সে সবের বিনিময় যা তোমরা তোমাদের পূর্বে পাঠিয়েছ নিজের হাতে। বস্তুতঃ এটি এ জন্য যে, বান্দার উপর যুলুম করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ তো সেই জিনিস যা তোমাদের দুই হাত কামাই করে আগেই পাঠিয়েছে। আর তাঁর বান্দাদের প্রতি বিন্দুমাত্র যুলুম করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

কাদা”বি আ-লি ফির'আউনা অল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিহিম্ কাফারূ বিআ-ইয়া-তি ল্লা-হি ফাআখাযাহুমু ল্লা-হু বিযুনূবিহিম্ ইন্না ল্লা-হা ক্বওওয়িয়ুন্ শাদীদুল্ 'ইক্ব-ব্।

মুহিউদ্দীন খান

যেমন, রীতি রয়েছে ফেরাউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের ব্যাপারে যে, এরা আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং সেজন্য তা’আলা তাদের পাকড়াও করেছেন তাদেরই পাপের দরুন। নিঃসন্দেহে মহাশক্তিশালী, কঠিন শাস্তিদাতা।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের অনুসারীদের এবং তাদের পূর্ববর্তীদের মতোই এরা অস্বীকার করেছে আল্লাহর আয়াত। ফলে তাদের পাপের জন্যে তাদের শাস্তি প্রদান করেন। নিশ্চয়ই শক্তিমান, কঠোর শাস্তিদাতা।

বাংলা উচ্চারণ

যা-লিকা বিআন্নাল্লা-হা লাম্ ইয়াকু মুগইয়্যিরাঁন্ নি'মাতান্ আন্'আমাহা-'আলা-ক্বওমিন্ হাত্তা-ইয়ুগইয়িরূ মা- বিআন্ফুসিহিম্ অ আন্না ল্লা-হা সামীঊ'ন্ 'আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

তার কারণ এই যে, কখনও পরিবর্তন করেন না, সে সব নেয়ামত, যা তিনি কোন জাতিকে দান করেছিলেন, যতক্ষণ না সে জাতি নিজেই পরিবর্তিত করে দেয় নিজের জন্য নির্ধারিত বিষয়। বস্তুতঃ শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ আল্লাহর নীতি হলো, তিনি কোনো জনগোষ্ঠীকে যে নিয়ামত দান করেন, তা ততোক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন না করে। সব শুনেন, সব জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

কাদা”বি আ-লি ফির'আউনা অল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিহিম্ কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ ফাআহ্ লাক্না-হুম্ বিযুনূবিহিম্ অ আগ্রাকনা য় আ-লা র্ফি'আউনা অকুল্লুন্ কা-নূ জোয়া-লিমীন্।

মুহিউদ্দীন খান

যেমন ছিল রীতি ফেরাউনের বংশধর এবং যারা তাদের পূর্বে ছিল, তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনসমূহকে। অতঃপর আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি তাদের পাপের দরুন এবং ডুবিয়ে মেরেছি ফেরাউনের বংশধরদেরকে। বস্তুতঃ এরা সবাই ছিল যালেম।

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউনের অনুসারীদের মতো এবং তাদের পূর্ববর্তীদের মতো এরাও আল্লাহর আয়াত প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তাদের পাপের জন্যে আমরা তাদের হালাক করেছি আর ফেরাউনের অনুসারীদেরও আমরা ডুবিয়ে মেরেছিলাম। এরা সবাই ছিলো যালিম।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্না র্শারাদ্ দাওয়া – ব্বি 'ইন্দা ল্লা-হিল্ লাযীনা কাফারূ ফাহুম্ লা-ইয়ু”মিনূন্।

মুহিউদ্দীন খান

সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর কাছে সবচে’ নিকৃষ্ট জীব হলো তারা, যারা কুফুরি করে এবং ঈমান আনেনা।

বাংলা উচ্চারণ

আল্লাযীনা 'আ-হাত্তা মিন্হুম্ ছুম্মা ইয়ান্ক্বুদ্বূনা 'আহ্দাহুম্ ফী কুল্লি র্মারাতিঁও অহুম্ লা- ইয়াত্তাকুন্।

মুহিউদ্দীন খান

যাদের সাথে তুমি চুক্তি করেছ তাদের মধ্য থেকে অতঃপর প্রতিবার তারা নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন করে এবং ভয় করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের মধ্যে তুমি যাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ, তারা চুক্তি করার পর প্রত্যেকবার তাদের চুক্তি ভেঙ্গে ফেলে এবং তারা সতর্ক হয়না।

বাংলা উচ্চারণ

ফাইঁম্মা- তাছ্ক্বাফান্নাহুম্ ফির্ল্হাবি ফার্শারিদ্ বিহিম্ মান্ খল্ফাহুম্ লা'আল্লাহুম্ ইয়ায্যাক্কারূন্।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং যদি কখনো তুমি তাদেরকে যুদ্ধে পেয়ে যাও, তবে তাদের এমন শাস্তি দাও, যেন তাদের উত্তরসূরিরা তাই দেখে পালিয়ে যায়; তাদেরও যেন শিক্ষা হয়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা যদি যুদ্ধে তাদেরকে বাগে পাও, তাহলে তাদের উত্তরসূরীদের থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে এমনভাবে বিধ্বস্ত করবে, যাতে করে তারা শিক্ষা লাভ করে।

বাংলা উচ্চারণ

অইম্মা-তাখ-ফান্না মিন্ ক্বওমিন্ খিয়া-নাতান্ ফাম্বিয্ ইলাইহিম্ 'আলা-সাওয়া - য়্ ইন্নাল্লাহা লা-ইয়ুহিব্বুল্ খ - য়িনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

তবে কোন সম্প্রদায়ের ধোঁকা দেয়ার ব্যাপারে যদি তোমাদের ভয় থাকে, তবে তাদের চুক্তি তাদের দিকেই ছুঁড়ে ফেলে দাও এমনভাবে যেন হয়ে যাও তোমরাও তারা সমান। নিশ্চয়ই ধোকাবাজ, প্রতারককে পছন্দ করেন না।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যদি তোমরা কোনো সম্প্রদায় থেকে চুক্তি ভঙ্গের আশংকা করো, সে ক্ষেত্রে তোমার চুক্তি তুমি ঠিক সেভাবেই বাতিল করবে, কারণ খিয়ানতকারীদের পছন্দ করেন না।

বাংলা উচ্চারণ

অলা-ইয়াহ্সাবান্নাল্লাযীনা কাফারূ সাবাকু ইন্নাহুম্ লা-ইয়ু'জ্বিযূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর কাফেররা যেন একা যা মনে না করে যে, তারা বেঁচে গেছে; কখনও এরা আমাকে পরিশ্রান্ত করতে পারবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফিররা যেনো মনে করেনা যে, তারা পার পেয়ে গেছে। তারা নিশ্চয়ই মুমিনদের দুর্বল করতে পারবে না।

বাংলা উচ্চারণ

অআ'ইদ্দূ লাহুম্ মাস্তাত্বোয়া'তুম্ মিন্ কুওয়্যাতিঁও অর্মি রিবা-ত্বিল্ খইলি র্তুহিবূনা বিহী 'আদুঅল্লা-হি অ'আদুওয়্যাকুম্ অআ-খরীনা মিন্ দূনিহিম্লা-তা'লামূনাহুম্ আল্লা-হু ইয়া'লামুহুম্ অমা-তুন্ফিকু মিন্ শাইয়িন্ ফী সাবীলিল্লা-হি ইয়ুওয়াফ্ফা ইলাইকুম্ অ আন্তুম্ লা-তুজ্লামূন্।

মুহিউদ্দীন খান

আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তাদের সাথে মোকাবেলার জন্যে সাধ্যমতো শক্তি ও অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে, যা দিয়ে তোমরা আল্লাহর দুশমন ও তোমাদের দুশমনদের আতংকিত করে রাখবে। তাছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জানোনা। তাদের জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা - ই খরচ করো না কেন, তার পুরো প্রতিদান তোমাদের দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।

বাংলা উচ্চারণ

অইন্ জ্বানাহূ লিস্সাল্মি ফাজ্বনাহ্ লাহা-অতাওয়াক্কাল্ 'আলা ল্লা-হ্ ইন্নাহূ হুওয়াস্সামী ঊ'ল্ 'আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তারা সন্ধি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে তুমিও সে দিকেই আগ্রহী হও এবং আল্লাহর উপর ভরসা কর। নিঃসন্দেহে তিনি শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি সন্ধির জন্য হাত বাড়ায়, তুমিও সন্ধির জন্যে হাত বাড়িয়ে দেবে এবং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করবে, নিশ্চয়ই তিনি সব শুনেন, সব জানেন।

বাংলা উচ্চারণ

অইঁ ইয়ুরীদূ য় আঁই ইয়াখ্দা'উকা ফাইন্না হাস্বাকাল্লা-হ্ হুওয়াল্লাযী য় আইয়্যাদাকা বিনাছ্রিহী অবিল্ মু”মিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

পক্ষান্তরে তারা যদি তোমাকে প্রতারণা করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই তোমাকে শক্তি যুগিয়েছেন স্বীয় সাহায্যে ও মুসলমানদের মাধ্যমে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমাকে ধোকা দিতে চায়, সে ক্ষেত্রে আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট। তিনি তো তোমাকে তাঁর নিজ সাহায্য আর মুমিনদের দিয়ে শক্তিশালী করেছেন।

বাংলা উচ্চারণ

অআল্লাফা বাইনা কুলূবিহিম্ লাও আন্ফাকতা মা- ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আম্ মা য় আল্লাফ্তা বাইনা কুলূবিহিম্ অলা-কিন্নাল্লা-হা আল্লাফা বাইনাহুম্ ইন্নাহূ 'আযীযুন্ হাকীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর প্রীতি সঞ্চার করেছেন তাদের অন্তরে। যদি তুমি সেসব কিছু ব্যয় করে ফেলতে, যা কিছু যমীনের বুকে রয়েছে, তাদের মনে প্রীতি সঞ্চার করতে পারতে না। কিন্তু তাদের মনে প্রীতি সঞ্চার করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাদের অন্তরে সম্প্রীতি স্থাপন করে দিয়েছেন। তুমি যদি পৃথিবীর সমস্ত সম্পদও ব্যয় করতে, তাদের অন্তরে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করতে পারতে না। কিন্তু তাদের অন্তরে সম্প্রীতির বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছেন, তিনি মহাক্ষমতাশালী, বিজ্ঞানময়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহা ন্নাবিয়্যু হাস্বুকাল্লা-হু অমানিত্তাবা'আকা মিনাল্ মু”মিনীন্।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী, আপনার জন্য এবং যেসব মুসলমান আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য যথেষ্ট।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তোমার জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট এবং মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে তারা।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান্ নাবিয়্যু র্হারিদ্বিল্ মু”মিনীনা 'আলাল্ ক্বিতা-ল্ ইঁয় ইয়াকুম্ মিন্কুম্ 'ইশ্রূনা ছোয়া-বিরূনা ইয়াগ্লিবূ মিয়াতাইনি অইঁ ইয়াকুম্ মিন্কুম্ মিয়াতুঁই ইয়াগ্লিবূ য় আল্ফাম্ মিনাল্লাযীনা কাফারূ বিআন্নাহুম্ ক্বওমুল্ লা-ইয়াফ্ক্বাহূন্।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী, আপনি মুসলমানগণকে উৎসাহিত করুন জেহাদের জন্য। তোমাদের মধ্যে যদি বিশ জন দৃঢ়পদ ব্যক্তি থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর মোকাবেলায়। আর যদি তোমাদের মধ্যে থাকে একশ লোক, তবে জয়ী হবে হাজার কাফেরের উপর থেকে তার কারণ ওরা জ্ঞানহীন।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! মুমিনদের উদ্বুদ্ধ করো যুদ্ধের জন্যে। তোমাদের মধ্যে যদি বিশজন অবিচল ব্যক্তি থাকে, তারা বিজয়ী হবে দুইশ জনের উপর। আর তোমাদের মধ্যে যদি একশজন থাকে, তারা বিজয়ী হবে এক হাজার কাফিরের উপর। কারণ তারা নির্বোধ লোক।

বাংলা উচ্চারণ

আল্য়া-না খফ্ফাফাল্লা-হু আ'ন্কুম্ অ'আলিমা আন্না ফীকুম্ দ্বোয়া'ফা- ফাইঁ ইয়াকুম্ মিন্কুম্ মিয়াতুন্ ছোয়া-বিরাতুঁই ইয়াগ্লিবূ মিয়াতাইনি অইঁ ইয়াকুম্ মিন্কুম্ আল্ফুইঁ ইয়াগ্লিবূ য় আল্ফাইনি বিইয্নিল্লা-হ্ অল্লা-হু মা'আছ্ ছোয়া-বিরীন্।

মুহিউদ্দীন খান

এখন বোঝা হালকা করে দিয়েছেন তা’আলা তোমাদের উপর এবং তিনি জেনে নিয়েছেন যে, তোমাদের মধ্য দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যদি দৃঢ়চিত্ত একশ লোক বিদ্যমান থাকে, তবে জয়ী হবে দু’শর উপর। আর যদি তোমরা এক হাজার হও তবে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী জয়ী হবে দু’হাজারের উপর আর রয়েছেন দৃঢ়চিত্ত লোকদের সাথে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এখন তোমাদের ভার লাঘব করেছেন। তিনি জানেন তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে। এখন যদি তোমাদের একশ অবিচল ব্যক্তি থাকে, তারা দু’শ জনের উপর বিজয়ী হবে। তোমাদের যদি এক হাজার থাকে তারা বিজয়ী হবে দুই হাজারের উপর আল্লাহর অনুমতিক্রমে। অবিচল লোকদের সাথেই আছেন।

বাংলা উচ্চারণ

মা- কা-না লিনাবিয়্যিন্ আঁই ইয়াকূনা লাহূ য় আস্রা- হাত্তা- ইয়ুছ্খিনা ফিল্ র্আদ্ব তুরীদূনা 'আরাদ্বোয়াদ্ দুন্ইয়া- অল্লা-হু ইয়ুরীদুল্ আ-খিরাহ্ অল্লা-হু 'আযীযুন্ হাকীম্।

মুহিউদ্দীন খান

নবীর পক্ষে উচিত নয় বন্দীদিগকে নিজের কাছে রাখা, যতক্ষণ না দেশময় প্রচুর রক্তপাত ঘটাবে। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর, অথচ চান আখেরাত। আর হচ্ছেন পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা।

আবদুস শহীদ নাসিম

দেশে শত্রুদেরকে ব্যাপকভাবে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোনো নবীর জন্যে উচিত নয়। তোমরা চাইছো দুনিয়ার সম্পদ, আর চান । ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাবান।

বাংলা উচ্চারণ

লাওলা-কিতাবুম্ মিনাল্লা-হি সাবাক্বা লামাস্সাকুম্ ফীমা য় আখায্তুম্ 'আযা-বুন্ 'আজীম্।

মুহিউদ্দীন খান

যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব থেকেই লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌছাত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছো সেটার জন্যে তোমাদের উপর বড় ধরনের আযাব আপতিত হতো।

বাংলা উচ্চারণ

ফাকুলূ মিম্মা- গনিম্তুম্ হালালান্ ত্বোয়াইয়্যিবাঁও অত্তাকু ল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা গফূর্রু রহীম্।

মুহিউদ্দীন খান

সুতরাং তোমরা খাও গনীমত হিসাবে তোমরা যে পরিচ্ছন্ন ও হালাল বস্তু অর্জন করেছ তা থেকে। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক। নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল, মেহেরবান।

আবদুস শহীদ নাসিম

যুদ্ধে তোমরা যে হালাল ও উত্তম গণিমত পেয়েছো, তা খাও আর আল্লাহকে ভয় করো, নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

ইয়া য় আইয়্যুহান্ নাবিয়্যু কুল্ লিমান্ ফী য় আইদীকুম্ মিনাল্ আস্রা য় ইঁইয়া'লামি ল্লা-হু ফী কুলূবিকুম্ খাইরাঁই ইয়ু'তিকুম্ খাইরাম্ মিম্মা য় উখিযা মিন্কুম্ অইয়ার্গ্ফি লাকুম অল্লা-হু গফূর্রু রহীম্।

মুহিউদ্দীন খান

হে নবী, তাদেরকে বলে দাও, যারা তোমার হাতে বন্দী হয়ে আছে যে, যদি তোমাদের অন্তরে কোন রকম মঙ্গলচিন্তা রয়েছে বলে জানেন, তবে তোমাদেরকে তার চেয়ে বহুগুণ বেশী দান করবেন যা তোমাদের কাছ থেকে বিনিময়ে নেয়া হয়েছে। তাছাড়া তোমাদেরকে তিনি ক্ষমা করে দিবেন। বস্তুতঃ ক্ষমাশীল, করুণাময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! তোমার হাতে যেসব বন্দী আছে তাদের বলো, যদি তোমাদের মধ্যে ভালো কিছু আছে বলে দেখেন, তাহলে তোমাদের থেকে যা কিছু নেয়া হয়েছে, তোমাদেরকে তার চাইতে উত্তম কিছু দান করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন। বড়ই ক্ষমাশীল, দয়াময়।

বাংলা উচ্চারণ

অইঁ ইয়ুরীদূ খিয়া-নাতাকা ফাক্বদ্ খা-নুল্লা-হা মিন্ ক্বাব্লু ফাআম্কানা মিন্হুম্ অল্লা-হু 'আলীমুন্ হাকীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যদি তারা তোমার সাথে প্রতারণা করতে চায় - বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সাথেও ইতিপূর্বে প্রতারণা করেছে, অতঃপর তিনি তাদেরকে ধরিয়ে দিয়েছেন। আর সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত, সুকৌশলী।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যদি তোমার সাথে খেয়ানত (বিশ্বাস ভঙ্গ) করতে চায়, তবে ইতোপূর্বে তো তারা আল্লাহর সাথেও খেয়ানত করেছে। তারপর তিনি তোমাদেরকে তাদের উপর শক্তিশালী করেছেন। অবশ্যি জ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।

বাংলা উচ্চারণ

ইন্নাল্লাযীনা আ-মা-নূ অহা-জ্বারূ অ জ্বা-হাদূ বিআমওয়া-লিহিম্ অ আন্ফুসিহিম্ ফী সাবীলিল্লা-হি অল্লাযীনা আ-ওয়াও অ নাছোয়ারূ য় উলা - য়িকা বা'দ্বুহুম্ আওলিয়া - য়ু বা'দ্ব্ অল্লাযীনা আ-মানূ অলাম্ ইয়ুহা-জ্বিরূ মা-লাকুম্ মিওঁ অলা-ইয়াতিহিম্ মিন্ শাইয়িন্ হাত্তা-ইয়ুহা-জ্বিরূ অইনিস্ তান্ছোয়ারূ কুম্ ফিদ্দীনি ফা'আলাইকুমুন্ নাছ্রূ ইল্লা-'আলা-ক্বওমিম্ বাইনাকুম্ অবাইনাহুম্ মীছা-ক অল্লা-হু বিমা- তা'মালূনা বার্ছী।

মুহিউদ্দীন খান

এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যারা ঈমান এনেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, স্বীয় জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা একে অপরের সহায়ক। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু দেশ ত্যাগ করেনি তাদের বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই যতক্ষণ না তারা দেশত্যাগ করে। অবশ্য যদি তারা ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা করে, তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু তোমাদের সাথে যাদের সহযোগী চুক্তি বিদ্যমান রয়েছে, তাদের মোকাবেলায় নয়। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু কর, সেসবই দেখেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে, নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে আর যারা (তাদেরকে) আশ্রয় দিয়েছে এবং সাহায্য করেছে, তারা পরস্পরের অলি। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরত করেনি, হিজরত না করা পর্যন্ত তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমার উপর নেই। তারা যদি দীনের ব্যাপারে তোমাদের কাছে সাহায্য চায়, সাহায্য করা তোমাদের কর্তব্য। তবে যদি তোমাদের এবং কোনো কওমের মধ্যে চুক্তি থাকে, সে চুক্তি ভঙ্গ করবে না। তোমরা যা আমল করো তা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা কাফারূ বা'দ্বুহুম্ আওলিয়া য় য়ু বা'দ্ব্ ইল্লা-তাফ্'আলূহু তাকুন্ ফিত্নাতুন্ ফিল্ র্আদ্বি অফাসা-দুন্ কার্বী।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা তারা পারস্পরিক সহযোগী, বন্ধু। তোমরা যদি এমন ব্যবস্থা না কর, তবে দাঙ্গা - হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং দেশময় বড়ই অকল্যাণ হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা কুফুরি করে তারা পরস্পরের অলি। তোমরা যদি তা না করো তবে দেশে ফিতনা ও বড় ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি হবে।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা আ-মানূ অহা-জ্বারূ অজ্বা-হাদূ ফী সাবীলিল্লা-হি অল্লাযীনা আ-ওয়াওঁ অ নাছোয়ারূ য় উলা - য়িকা হুমুল্ মু”মিনূনা হাকক্বা- লাহুম্ মাগ্ফিরাতুঁও অরিয্ক্বুন্ কারীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর - বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য - সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে তারাই সত্যিকার । তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত ও সম্মানজনক রিযিক।

বাংলা উচ্চারণ

অল্লাযীনা আ-মানূ মিম্ বা'দু অহা-জ্বারূ অ জ্বা-হাদূ মা'আকুম্ ফাউলা - য়িকা মিন্কুম্ অউলুল্ র্আহা-মি বা'দ্বু হুম্ আওলা- বিবা'দ্বিন্ ফী কিতা-বিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন্ 'আলীম্।

মুহিউদ্দীন খান

আর যারা ঈমান এনেছে পরবর্তী পর্যায়ে এবং ঘর - বাড়ী ছেড়েছে এবং তোমাদের সাথে সম্মিলিত হয়ে জেহাদ করেছে, তারাও তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। বস্তুতঃ যারা আত্নীয়, আল্লাহর বিধান মতে তারা পরস্পর বেশী হকদার। নিশ্চয়ই যাবতীয় বিষয়ে সক্ষম ও অবগত।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা পরে ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং তোমাদের সাথে জিহাদে শরিক হয়েছে, তারাও তোমাদের অন্তরভুক্ত। আর আত্মীয়রা আল্লাহর বিধানে একজন অন্যজন অপেক্ষা বেশি হকদার। অবশ্যি সব বিষয়ে জ্ঞানী।

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme