বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এ গ্রন্থের অবতারণ র কাছে থেকে, মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
এই কিতাব তোমার কাছে নাযিল হচ্ছে সত্যিকারভাবে মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়ের পক্ষ থেকে।
Chapter 39, 75 verses
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম তান্যীলুল্ কিতা-বি মিনাল্লা-হিল্ 'আযীযিল্ হাকীম্।
এ গ্রন্থের অবতারণ র কাছে থেকে, মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।
এই কিতাব তোমার কাছে নাযিল হচ্ছে সত্যিকারভাবে মহাপরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়ের পক্ষ থেকে।
ইন্না য় আন্যাল্না য় ইলাইকাল্ কিতা-বা বিল্হাকক্বি ফা'বুদিল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমার কাছে গ্রন্থখানা অবতারণ করেছি সত্যের সাথে, কাজেই র এবাদত করো তাঁর প্রতি ধর্মে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে।
আমরা তোমার কাছে এই কিতাব নাযিল করছি সত্যসহ। অতএব কেবল আল্লাহরই ইবাদত করো নিজের আনুগত্যকে তাঁর জন্যে একনিষ্ঠ করে।
আলা-লিল্লা-হিদ্ দীনুল্ খ-লিছ্ অল্ লাযীনাত তাখাযূ মিন্ দূনিহী য় আওলিয়া-য়্। মা-না'বুদুহুম্ ইল্লা-লিইয়ুর্ক্বরিবূনা য় ইলাল্লা-হি যুল্ফা- ইন্নাল্লা-হা ইয়াহ্কুমু বাইনাহুম্ ফী মা-হুম্ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহ্দী মান্ হুওয়া কা-যিবুন্ কাফ্ফার্-।
খাঁটি ধর্ম কি রই জন্য নয়? আর যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে - - ''আমরা তাদের উপাসনা করি না শুধু এজন্য ছাড়া যে তারা আমাদের র নিকটবর্তী অবস্থায় এনে দেবে।’’ নিঃসন্দেহ তাদের মধ্যে বিচার করবেন সেই বিষয়ে যাতে তারা মতভেদ করছিল। নিঃসন্দেহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন না যে খোদ মিথ্যাবাদী অবিশ্বাসী।
একনিষ্ঠ আনুগত্য কেবল আল্লাহর জন্যে। যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা বলে: ‘আমরা তো তাদের ইবাদত করি কেবল এ জন্যে যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে।’ অবশ্যি তারা যা নিয়ে মতভেদ করছে (কিয়ামতের দিন) সে বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন। মিথ্যাবাদী কাফিরদের সঠিক পথ দেখান না।
লাও আর-দাল্লা-হু আইঁ ইয়াত্তাখিযা অলাদাল্ লাছ্ত্বোয়াফা- মিম্মা-ইয়াখ্লুকু মা-ইয়াশা-য়ু সুব্হা-নাহ্ হুওয়া ল্লা-হুল্ ওয়া-হিদুল্ ক্বহ্হার্-।
যদি কোনো সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন তাহলে তিনি যাদের সৃষ্টি করেছেন তাদের থেকে যাকে তিনি ইচ্ছা করেন তাকেই তো তিনি পছন্দ করতে পারতেন। সকল মহিমা তাঁরই। তিনিই , - - একক, সর্ববিজয়ী।
যদি সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেনই, তবে তাঁর সৃষ্টির মাঝে যাকে ইচ্ছা বাছাই করে নিতেন। কিন্তু সন্তান গ্রহণ থেকে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র ও মুক্ত। তো এক এবং মহাপরাক্রমশালী।
খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বোয়া বিল্হাকক্বি ইয়ুক্বওয়্যিরুল্লাইলা 'আলান নাহা-রি অইয়ুক্বওয়্যিরুন্ নাহা-র 'আলাল্লাইলি অসাখ্খরশ্ শাম্সা অল্ ক্বর্মা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজ্বালিম্ মুসাম্মা আলা-হুওয়াল্ 'আযীযুল্ গাফ্ফার্-।
তিনিই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সত্যের সাথে। তিনি রাতকে দিয়ে দিনের উপরে ছাউনি বানান আর দিনকে ছাউনি বানান রাতের উপরে, এবং সূর্য ও চন্দ্রকে তিনি বশীভূত করেছেন, - - প্রত্যেকেই নির্ধারিত গতিপথে ধাবিত হচ্ছে। তিনিই কি মহাশক্তিশালী পরম ক্ষমাশীল নন?
তিনি বাস্তবভাবে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ ও পৃথিবী। তিনি রাতকে দিয়ে দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং দিনকে দিয়ে আচ্ছাদিত করেন রাতকে। তিনি সূর্য এবং চাঁদকে নিয়মের অধীন করেছেন। এরা প্রত্যেকেই ভ্রমণ করে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত। জেনে রাখো তিনি মহাক্ষমতাধর, অতীব ক্ষমাশীল।
খলাক্বকুম্ মিন্ নাফ্সিঁও ওয়া-হিদাতিন্ ছুম্মা জ্বা'আলা মিন্হা-যাওজ্বাহা-অ আন্যালা লাকুম্ মিনাল্ আন্'আ-মি ছামা-নিয়াতা আয্ওয়া-জ ইয়াখ্লুকুকুম্ ফী বুতুনি উম্মাহা-তিকুম্ খল্ক্বম্ মিম্ বা'দি খল্ক্বিন্ ফী জুলুমা-তিন্ ছালা-ছ্ যা-লিকুমু ল্লা-হু রব্বুকুম্ লাহুল্ মুল্ক্লা য় ইলা-হা ইল্লা- হুওয়া ফাআন্না-তুছ্রফূন্।
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একই সত্ত্বা থেকে, তারপর তা থেকে তিনি বানিয়েছেন তার সঙ্গিনী। আর তিনি তোমাদের জন্য পাঠিয়েছেন গবাদি - পশুর মধ্যে আটটি জোড়ায় জোড়ায়। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মায়েদের পেট থেকে - - এক সৃষ্টির পরে অন্য সৃষ্টির মাধ্যমে, - - তিন স্তর অন্ধকারে। ইনিই হচ্ছেন , তোমাদের প্রভু, তাঁরই হচ্ছে সার্বভৌমত্ব তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, সুতরাং কোথা থেকে তোমরা ফিরে যাচ্ছ?
তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে, তারপর তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে। তিনি তোমাদের দিয়েছেন আট জোড়া (প্রজাতির) গবাদি পশু। তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন তোমাদের মাতৃগর্ভে তিনটি অন্ধকার স্তর পার করে। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সমস্ত কর্তৃত্ব তাঁরই। কোনো ইলাহ্ নেই তিনি ছাড়া। সুতরাং তোমরা মুখ ফিরিয়ে চলেছো কোথায়?
ইন্ তাক্ফুরূ ফাইন্না ল্লা-হা গনিয়্যুন্ 'আনকুম্ অলা-ইর্য়াদ্বোয়া- লিই'বা-দিহিল্ কুফ্রা অ ইন্ তাশ্কুরূ ইর্য়াদ্বোয়াহু লাকুম্ অলা-তাযিরু ওয়া-যিরাতুঁও ওয়িয্রা উখ্রা- ছুম্মা ইলা-রব্বিকুম্ র্মাজ্বি'উকুম্ ফাইয়ুনাব্বিয়ুকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন্ ইন্নাহূ 'আলীমুম্ বিযা-তিস্ সুর্দূ।
তোমরা যদি অকৃতজ্ঞতা দেখাও, তবে নিশ্চয়ই তোমাদের সম্পর্কে অনন্যনির্ভর। কিন্তু তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য অকৃতজ্ঞতা পছন্দ করেন না। আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তবে তাতে তিনি তোমাদের প্রতি প্রসন্ন হবেন। আর কোনো ভারবাহী অন্যের বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের প্রভুর নিকটেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন তিনি তোমাদের জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করে যাচ্ছিলে। নিঃসন্দেহ বুকের ভেতরে যা আছে সে - সন্বন্ধে তিনি সম্যক অবগত।
তোমরা যদি কুফুরি করো, তবে জেনে রাখো, তোমাদের মুখাপেক্ষী নন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্যে কুফুরি পছন্দ করেন না। তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তিনি সেটাই পছন্দ করেন তোমাদের জন্যে। কেউই অপরের (পাপের) বোঝা বহন করবে না। অত:পর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদের অবহিত করবেন তোমরা কী আমল করেছিলে? মনে কী আছে সে বিষয়েও তিনি অবগত।
অইযা-মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন্ দা'আ রব্বাহূ মুনীবান্ ইলাইহি ছুম্মা ইযা-খাওয়্যালাহূ নি'মাতাম্ মিন্হু নাসিয়া মা-কা-না ইয়াদ্'ঊ য় ইলাইহি মিন্ ক্ব্ব্লু অজ্বা'আলা লিল্লা-হি আন্দা-দাল্ লিইয়ুদ্বিল্লা 'আন্ সাবীলিহ্ কুল্ তামাত্তা' বিকুফ্রিকা ক্বলীলান্ ইন্নাকা মিন্ আছ্হা-বিন্ নার্-।
আর যখন মানুষকে দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে সে তখন তার প্রভুকে ডাকে তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে, তারপর যখন তিনি তাকে তাঁর থেকে অনুগ্রহ প্রদান করেন, সে তখন ভুলে যায় যার জন্য সে ইতিপূর্বে তাঁকে ডেকেছিল, আর সে র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করায় যেন সে তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। বলো - - ''তোমার অকৃতজ্ঞতার মাঝে কিছুকাল সুখভোগ করে নাও, তুমি তো আগুনের বাসিন্দাদের দলভুক্ত।’’
মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে তার প্রভুকে ডাকে একনিষ্ঠ মনোভাব নিয়ে। অত:পর যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন সে ভুলে যায় আগে যে সে তাঁকে একনিষ্ঠভাবে ডেকেছিল। সে আল্লাহর শরিক দাঁড় করায় যেনো সে তাকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলো: কুফুরি নিয়ে জীবনটাকে ক’টা দিন ভোগ করো। জেনে রাখো তুমি জাহান্নামী।
আম্মান্ হুওয়া ক্ব-নিতুন্ আ-না-য়াল্ লাইলি সা-জ্বিদাঁও অ ক্ব-য়িমাইঁ ইয়াহ্যারুল্ আ-খিরতা অ ইর্য়াজু রহ্মাতা রব্বিহ্ কুল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়িল্ লাযীনা ইয়া'লামূনা অল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্ ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারূ ঊলুল্ আল্বা-ব্।
সে কি যে রাতের প্রহরগুলোতে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য করে, পরকাল সন্বন্ধে সাবধানতা অবলন্বন করে এবং তার প্রভুর অনুগ্রহ কামনা করে? বলো - - ''যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি একসমান? নিঃসন্দেহ বোধশক্তিসম্পন্ন লোকেরাই শুধু মনোযোগ দেয়।
যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন অংশে সাজদা করে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার প্রভুর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রভুর রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যে এসব করেনা? বলো: জ্ঞানীরা আর অজ্ঞরা কি সমান? উপদেশ গ্রহণ করে তো বুদ্ধিমান লোকেরাই।
কুল্ ইয়া-'ইবা-দিল্লাযীনা আ-মানুত্তাকু রব্বাকুম্ লিল্লাযীনা আহ্সানূ ফী হা-যিহিদ্ দুন্ইয়া-হাসানাহ্অ র্আদুল্লা-হি ওয়া- সি'আহ্ইন্নামা ইয়ুওয়াফ্ফাছ্ ছোয়া-বিরূনা আজরহুম্ বিগইরি হিসা-ব্।
তুমি বলে দাও - - ''হে আমার বান্দারা যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের প্রভুকে ভয়ভক্তি করো। যারা এই দুনিয়াতে ভালো কাজ করে তাদের জন্য ভাল রয়েছে। আর র পৃথিবী সুপ্রসারিত। নিঃসন্দেহ অধ্যবসায়ীদের তাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে হিসাবপত্র ব্যতিরেকে।’’
(হে নবী! আমার পক্ষ থেকে) বলে দাও: ‘হে আমার দাসেরা, যারা ঈমান এনেছো, তোমাদের প্রভুকে ভয় করো। যারা এই দুনিয়ায় কল্যাণের কাজ করে, তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ। আল্লাহর জমিন তো প্রশস্ত। ধৈর্যশীলদেরকে তাদের প্রতিদান দেয়া হবে অফুরন্ত।’
কুল্ ইন্নী য় উর্মিতু আন্ আ'বুদা ল্লা-হা মুখ্লিছোয়াল্ লাহুদ্ দীন্।
বলো - - ''নিঃসন্দেহ আমাকে আদেশ করা হয়েছে আমি যেন র উপাসনা করি তাঁর প্রতি ধর্মকে পূতপবিত্র করে,
বলো: ‘‘আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি।
অ উর্মিতু লিআন্ আকূনা আউয়্যালাল্ মুস্লিমীন্।
''আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি আত্ম - সমর্পণকারীদের অগ্রণী হতে পারি।’’
আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো হই মুসলিমদের (আত্মসমর্পনকারীদের) প্রথম।’’
কুল্ ইন্নী য় আখ-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বী 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম্।
তুমি বলো - - ''আমি আলবৎ ভয় করি, যদি আমি আমার প্রভুর অবাধ্যাচরণ করি তবে এক কঠিন দিনের শাস্তি।’’
বলো: ‘আমি যদি আমার প্রভুর অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহাদিবসের আযাবের আশংকা করি।’
কুলিল্লা-হা আ'বুদু মুখ্লিছোয়াল্ লাহূ দ্বীনী।
বলো - - ''আমি রই আরাধনা করি তাঁর প্রতি আমার ধর্ম বিশুদ্ধ করে।
বলো: ‘আমি কেবল আল্লাহরই ইবাদত করি তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে।’
ফা'বুদূ মা-শিতুম্ মিন্ দূনিহ্ কুল্ ইন্নাল্ খ-সিরীনাল্ লাযীনা খসিরূ য় আন্ফুসাহুম্ অআহ্লীহিম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ আলা-যা-লিকা হুওয়াল্ খুস্র-নুল্ মুবীন্।
''অতএব তাঁকে বাদ দিয়ে তোমরা যাকে ইচ্ছা কর, তার উপাসনা কর।’’ বলো - - ''নিঃসন্দেহ ক্ষতিগ্রস্ত তারা যারা কিয়ামতের দিনে ক্ষতিসাধন করেছে তাদের নিজেদের ও তাদের পরিজনদের। এটিই কি খোদ স্পষ্ট ক্ষতি নয়?”
তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইচ্ছা ইবাদত করো। বলো: ‘প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত লোক তারাই, যারা কিয়ামতের দিন ক্ষতিগ্রস্ত করবে নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার পরিজনকে। সাবধান, সেটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’
লাহুম্ মিন্ ফাওক্বিহিম্ জুলালুম্ মিনান্না-রি অমিন্ তাহ্তিহিম্ জুলাল্ যা-লিকা ইয়ুখওয়্যিফুল্লা-হু বিহী 'ইবা-দাহ্ ইয়া-'ইবা-দি ফাত্তাকুন্।
তাদের জন্য তাদের উপর থেকে থাকবে আগুনের আচ্ছাদনী আর তাদের নীচে থেকে থাকবে এক আবরণী। এইভাবে তাঁর বান্দাদের এর দ্বারা ভয় দেখান, অতএব আমাকে ভয়ভক্তি করো, হে আমার বান্দারা!
তাদের জন্যে থাকবে তাদের উপরে আগুনের আচ্ছাদন এবং নিচেও আগুনের বিছানা। এর মাধ্যমে তার বান্দাদের সতর্ক করেন। হে আমার দাসেরা! তোমরা সতর্ক হও, আমাকে ভয় করো।
অল্লাযীনা জতানাবূতত্বোয়া-গূতা আইঁ ইয়া'বুদূহা-অআনা-বূ য় ইলাল্লা-হি লাহুমুল্ বুশ্রা-ফাবার্শ্শি 'ইবা-দ্।
আর যারা তাগুতকে এড়িয়ে চলে তাদের পূজাঅর্চনা থেকে, আর র দিকে অনুগত হয় তাদেরই জন্য রয়েছে সুসংবাদ, সেজন্য সুসংবাদ দাও আমার বান্দাদের - -
যারা তাগুতের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, আনুগত্য) থেকে বিরত থাকবে এবং আল্লাহর অভিমুখী হবে, তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ। সুতরাং আমার দাসদের সুসংবাদ দাও,
আল্লাযীনা ইয়াস্তামি'ঊ নাল্ ক্বওলা ফাইয়াত্তাবি'ঊনা আহ্সানাহ্ উলা-য়িকাল্ লাযীনা হাদা-হুমুল্লা-হু অ উলা- য়িকাহুম্ ঊলুল্ আল্বা-ব্।
যারা বক্তব্য শোনে এবং তার ভালগুলোর অনুসরণ করে - - এরাই তারা যাদের সৎপথে পরিচালিত করেছেন, আর এরাই স্বয়ং বোধশক্তিসম্পন্ন।
যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শুনে এবং তাতে যা উত্তম তা গ্রহণ করে। এরাই সেইসব লোক, যাদের হিদায়াত করেছেন এবং তারাই বুদ্ধিমান লোক।
আফামান্ হাকক্ব 'আলাইহি কালিমাতুল্ 'আযা-ব্ আফায়ান্তা তুন্ক্বিযু মান্ ফিন্নার্-।
তবে কি যার উপরে শাস্তির রায় সাব্যস্ত হয়েছে? তুমি কি তবে তাকে উদ্ধার করতে পার যে আগুনের মধ্যে রয়েছে?
ঐ ব্যক্তিকে রক্ষা করবে কে, যার জন্যে আযাবের আদেশ অবধারিত হয়ে গেছে? তুমি কি সেই ব্যক্তিকে রক্ষা করতে পারবে যে রয়েছে জাহান্নামে?
লা-কিনিল্ লাযীনাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ লাহুম্ গুরাফুম্ মিন্ ফাওক্বিহা-গুরাফুম্ মাব্নিয়্যাতুন্ তাজরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হার্- ওয়া'দাল্লা-হ্ লা-ইয়ুখ্লিফুল্লা-হুল্ মী'আ-দ্।
পক্ষান্তরে যারা তাদের প্রভুকে ভয় - ভক্তি করে তাদের জন্য রয়েছে উঁচু আবাসস্থল, তাদের উপরে উঁচু আবাসস্থল সুপ্রতিষ্ঠিত, তাদের নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝরনারাজি। র ওয়াদা, ওয়াদার খেলাপ করেন না।
তবে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রাসাদ, তার উপরে আরো প্রাসাদ, তার নিচে দিয়ে রয়েছে বহমান নদ নদী নহর। এটা আল্লাহর ওয়াদা। তাঁর ওয়াদার বরখেলাফ করেন না।
আলাম্ তারা আন্নাল্লা-হা আন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য়ান্ ফাসালাকাহূ ইয়ানা-বী'আ ফিল্ র্আদ্বি ছুম্মা ইয়ুখ্রিজু বিহী র্যা'আম্ মুখ্তালিফান্ আল্ওয়া- নুহূ ছুম্মা ইয়াহীজু ফাতার-হু মুর্ছ্ফারান্ ছুম্মা ইয়াজ্ব্ 'আলুহূ হুত্বোয়া-মা- ইন্না ফী যা-লিকা লাযিক্রা- লিঊলিল্ আল্বা-ব্।
তুমি কি দেখ না যে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তারপর তাকে মাটিতে স্রোতরূপে প্রবাহিত করেন, তারপর তার দ্বারা তিনি উৎপাদন করেন গাছপালা যাদের বর্ণ বিবিধ ধরনের, তারপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তুমি তাকে হলদে হয়ে যেতে দেখতে পাও, তারপর তিনি তাকে খড় কুটো বানিয়ে ফেলেন। নিঃসন্দেহ এতে তো উপদেশ রয়েছে বোধশক্তি - সম্পন্নদের জন্য।
তুমি কি দেখোনা, নাযিল করেন আসমান থেকে পানি, তারপর তিনি তা নির্ঝরের মতো প্রবাহিত করেন জমিনে। তা থেকে উৎপন্ন করেন শস্য নানা বর্ণের, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা দেখতে পাও হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। অবশেষে তিনি তা খড়কুটায় পরিণত করেন। এতে অবশ্যি রয়েছে উপদেশ বুঝবুদ্ধি সম্পন্ন লোকদের জন্যে।
আফামান্ শারহাল্লা-হু ছোয়াদ্রহূ লিল্ইস্লা-মি ফাহুওয়া 'আলা-নূরিম্ র্মি রব্বিহ ফাওয়াইলুল্লিল্ ক্ব-সিয়াতি কুলূবুহুম্ মিন্ যিকরিল্লা-হ্ উলা-য়িকা ফী দ্বোয়ালা-লিম্ মুবীন্।
যার বুক ইসলামের প্রতি প্রশস্ত করেছেন, ফলে সে তার প্রভুর কাছ থেকে এক আলোকে রয়েছে, সে কি - - ? সুতরাং ধিক্ তাদের জন্য যাদের হৃদয় র স্মরণে সুকঠিন! এরাই রয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।
যার বক্ষ খুলে দেন ইসলামের জন্যে এবং যে রয়েছে তার প্রভুর প্রদত্ত আলোতে, সে কি ঐ ব্যক্তির সমতুল্য যার অবস্থা এ রকম নয়? ধ্বংস সেইসব কঠোর হৃদয় লোকদের জন্যে যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ। এরা রয়েছে সুস্পষ্ট বিপথগামিতায়।
আল্লা-হু নায্যালা আহ্স্নাল্ হাদীছি কিতা-বাম্ মুতাশা-বিহাম্ মাছা-নিয়া তাক্ব্শ্ইর্'রু মিন্হু জুলূ দুল্লাযীনা ইয়াখ্শাওনা রব্বাহুম্ ছুম্মা তালীনু জুলূদুহুম্ অকুলূবুহুম্ ইলা-যিক্রিল্লা-হ্ যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহ্দী বিহী মাইঁ ইয়াশা-য়্ অমাইঁ ইয়ুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।
অবতারণ করেছেন শ্রেষ্ঠ বিবৃতি - - একখানা গ্রন্থ, সুবিন্যস্ত, পুনরাবৃত্তিময়, এতে যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে তাদের চামড়া শিউরে ওঠে, তারপর তাদের ছাল ও তাদের দিল নরম হয় র স্মরণে। এটিই র পথ - নির্দেশ, এর দ্বারা তিনি পথ দেখিয়ে থাকেন যাকে তিনি ইচ্ছা করেন। যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন, তার জন্য তবে হেদায়তকারীদের কেউ নেই।
নাযিল করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব, যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বার বার পাঠ করা হয়। যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে, এর (পাঠে এবং শ্রবনে) তাদের চর্ম রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে, তারপর তাদের দেহমন কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হুদা (জ্ঞান ও জীবন পদ্ধতি), তিনি যাকে ইচ্ছা এর দ্বারা পথ দেখান। যাকে বিপথগামী করে দেন, তার কোনো পথ প্রদর্শক নেই।
আফামাইঁ ইয়াত্তাক্বী বিঅজ্ব্হিহী সূ-য়াল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অক্বীলা লিজ জোয়া-লিমীনা যূকুমা-কুন্তুম্ তাক্সিবূন্।
যে তার মুখ দিয়ে ঠেকাতে চাইবে কিয়ামতের দিনের কঠোর শাস্তি সে কি - - ? আর অন্যায়কারীদের বলা হবে - - ''তোমরা যা অর্জন করেছিলে তা আস্বাদন করো।’’
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল দিয়ে কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে, সে কি তার সমতুল্য, যে এ থেকে নিরাপদ? যালিমদের বলা হবে: তোমাদের উপার্জনের স্বাদ গ্রহণ করো।
কায্যাবাল লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফাআতা-হুমুল্ 'আযা-বু মিন্ হাইছু লা-ইয়াশ্ 'ঊরূন্।
তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেজন্য শাস্তি তাদের কাছে এসে পড়েছিল এমন দিক থেকে যা তারা বুঝতে পারে নি।
এদের আগেকার লোকেরাও (রসূলদের) প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারপর তাদের গ্রাস করেছিল আযাব এমনভাবে, যা তারা ধারণাও করতে পারেনি।
ফাআযা-ক্বাহুমু ল্লা-হুল্ খিয্ইয়া-ফিল্ হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আকর্বা। লাও কা-নূ ইয়া'লামূন্।
ফলে তাদের এই দুনিয়ার জীবনেই লাঞ্ছনা আস্বাদ করিয়েছিলেন, আর পরকালের শাস্তি তো আরো বিরাট। তারা যদি জানতো!
ফলে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাও ভোগ করান, আর তাদের আখিরাতের আযাব হবে কঠিনতর। যদি তারা জানতো!
অলাক্বদ্ দ্বোয়ারব্না-লিন্না-সি ফী হা-যাল্ ক্বর্ ুআ-নি মিন্ কুল্লি মাছালিল্ লা'আল্লাহুম্ ইয়াতাযাক্কারূন্।
আর আমরা অবশ্যই এই কুরআনে মানুষের জন্য হরেক রকমের দৃষ্টান্ত ছোঁড়ে মেরেছি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে, - -
এই কুরআনে আমরা মানুষের জন্যে সব ধরনের উপমা উপস্থাপন করেছি যাতে করে তারা গ্রহণ করে উপদেশ।
ক্বর্ আ-নান্ 'আরাবিয়্যান্ গইর যী 'ইওয়াজ্বিল্লা'আল্লা-হুম্ ইয়াত্তাকূূন্।
আরবী কুরআন, কোনো জটিলতা বিহীন, যেন তারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করতে পারে।
আরবি ভাষার এ কুরআন সম্পূর্ণ বক্রতামুক্ত, যাতে করে তারা সতর্কতা অবলম্বন করে।
দ্বোয়ারাবাল্লা-হু মাছার্লা রাজুলান্ ফীহি শুরকা-য়ু মুতাশা-কিসূনা অরজুলান্ সালামাল্লি রজু ল্ হাল্ ইয়াস্তাওয়্যিইয়া-নি মাছালা- আল্হাম্দু লিল্লা-হি বাল্ আক্ছারুহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
একটি দৃষ্টান্ত ছোড়ে মারছেন - - একজন লোক, তার সঙ্গে রয়েছে অনেক অংশী - দেবতা, পরস্পরের সঙ্গে বিবাদ - রত, আর একজন লোক, একজনের সঙ্গেই অনুরক্ত। এদের দু’জন কি অবস্থার ক্ষেত্রে একসমান? সমস্ত প্রশংসা র, কিন্তু তাদের অনেকেই জানে না।
একটি দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন: এক ব্যক্তির প্রভু অনেক, তারা পরস্পর বিরোধী মনোভাবের। আরেক ব্যক্তির প্রভু শুধুমাত্র একজন। এই দুইজনের অবস্থা কি সমান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, কিন্তু তাদের অধিকাংশই তা জানেনা।
ইন্নাকা মাইয়্যিতুঁও অইন্নাহুম্ মাইয়্যিতূন্।
তুমি তো নিশ্চয় মৃত্যুবরণ করবে, আর তারাও নিশ্চয়ই মৃত্যুমুখে পড়বে।
তুমিও মরণশীল এবং তারাও মরণশীল।
ছুম্মা ইন্নাকুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি 'ইন্দা রব্বিকুম্ তাখ্তাসিমূন্।
তারপর কিয়ামতের দিনে নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভুর সামনে তোমরা একেঅন্যে বাকবিতন্ডা করবে।
তারপর কিয়ামতের দিন তোমরা তোমাদের প্রভুর সামনে নিজ নিজ অভিযোগ পেশ করবে।
ফামান্ আজ্লামু মিম্মান্ কাযাবা আলা ল্লা-হি অকায্যাবা বিছ্ছিদ্ক্বি ইয্ জ্বা-য়াহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাছ্ওয়া ল্লিল্ কা-ফিরীন্।
তবে তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে র বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে এবং সত্য প্রত্যাখ্যান করে যখন তা তার কাছে আসে? জাহান্নামে কি অবিশ্বাসীদের জন্য একটি আবাসস্থল নেই?
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করে এবং সত্য আসার পর সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে। কাফিরদের আবাসস্থল কি জাহান্নাম নয়?
অল্লাযী জ্বা-য়া বিছ্ছিদ্ক্বি অছোয়াদ্দাক্বা বিহী য়উলা-য়িকা হুমুল্ মুত্তাকুন্।
আর যারা সত্য নিয়ে এসেছে ও একে সত্য বলে স্বীকার করেছে এরাই খোদ ।
যে সত্য (কুরআন) নিয়ে এসেছে এবং (যারা) সত্যকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তারাই ।
লাহুম্ মা-ইয়াশা-য়ূনা 'ইন্দা রব্বিহিম্ যা- লিকা জ্বাযা-য়ুল্ মুহ্সিনীন্।
তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে তারা যা চায় তাই। এটিই হচ্ছে সৎকর্মীদের পুরস্কার, - -
তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে সবই তারা যা চাইবে। এটাই পুণ্যবানদের পুরস্কার।
লিইয় কাফ্ফিরাল্লা-হু 'আন্হুম্ আস্ওয়া আল্লাযী 'আমিলূ ওয়াইয়াজযিয়াহুম্ আজরহুম্ বি আহ্সানিল্ লাযী কা-নূ ইয়া'মালূন্।
কাজেই তারা যা করেছিল তার মন্দতম তাদের থেকে মুছে দেবেন, আর তারা যা করে চলেছে তার জন্য তিনি তাদের পারিশ্রমিক শ্রেষ্ঠতমভাবে তাদের প্রদান করবেন।
যাতে করে তারা যেসব মন্দ কাজ করেছিল তা ক্ষমা করে দেন এবং তাদেরকে তাদের উত্তম আমলের জন্যে প্রদান করেন পুরস্কার।
আলাইসাল্লা-হু বিকা-ফিন্ 'আব্দাহ্ অ ইয়ুখাওয়্যিফূনাকা বিল্লাযীনা মিন্ দূনিহ্ অমাইঁ ইয়্যুদ্ব্লিলিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিন্ হা-দ্।
কি তাঁর বান্দাদের জন্য যথেষ্ট নন? তথাপি তারা তোমাকে ভয় দেখাতে চায় তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের দ্বারা। আর যাকে পথভ্রষ্ট হতে দেন তার জন্য তবে হেদায়তকারী কেউ নেই।
কি তার বান্দার জন্যে যথেষ্ট নন? অথচ তারা তোমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ভয় দেখায়। যাকে গোমরাহ করে দেন, তার জন্যে কোনো পথ প্রদর্শক নেই।
অ মাই ইয়াহ্দিল্লা-হু ফামা-লাহূ মিম্ মুদ্বিল্ আলাইসা ল্লা-হু বি 'আযীযিন্ যিন্ তিক্ব-ম্।
আর যাকে পথ দেখান তার জন্য তবে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই। কি মহাশক্তিশালী, শেষ - পরিণতির অধিকর্তা নন?
আর যাকে সঠিক পথ দেখান, তাকে বিপথগামী করারও কেউ নেই। কি মহাপরাক্রমশালী এবং প্রতিশোধ গ্রহণে ক্ষমতাবান নন?
অ লায়িন্ সায়াল্তাহুম্ মান্ খলাক্বস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া লাইয়াকু লুন্না ল্লা-হ্ কুল্ আফারয়াইতুম্ মা-তাদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ আর-দানিয়াল্লা-হু বিদ্বর্ রিন্ হাল্ হুন্না কা-শিফা-তু র্দুরিহী য় আও আর-দানী বিরহ্মাতিন্ হাল্ হুন্না মুম্সিকা-তু রহ্মাতিহ্ কুল্ হাস্বিয়াল্লা-হ্ 'আলাইহি ইয়াতাওয়াক্কালুল্ মুতাওয়াক্কিলূন্।
আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস কর 'কে মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,’ তারা নিশ্চয়ই বলবে '’। তুমি বলো - - ''তোমরা কি তবে ভেবে দেখেছ - - তোমরা কে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করছ, যদি আমার জন্য দুঃখকষ্ট চেয়ে থাকেন তবে কি তারা তাঁর কষ্ট দূর করতে পারবে, অথবা তিনি যদি আমার জন্য করুণা চেয়ে থাকেন তবে কি তারা তাঁর অনুগ্রহকে রোধ করতে পারবে? বলো - - ''ই আমার জন্য যথেষ্ট। তাঁরই উপরে নির্ভর করুক নির্ভরশীল সব।’’
তুমি যদি তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী?’ তারা অবশ্যি বলবে: ‘’। বলো: ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, আমার কোনো অনিষ্ট করতে চাইলে, তারা কি আমার সেই অনিষ্ট দূর করে দিতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করতে চান, তারা কি সেই অনুগ্রহ প্রতিরোধ করতে পারবে?’ বলো: ‘আল্লাহ্ই আমার জন্যে যথেষ্ট, তাওয়াক্কুলকারীরা তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে।’
কুল্ ইয়া-ক্বওমি'মালূ 'আলা-মাকা-নাতিকুম্ ইন্নী 'আমিলুন্ ফাসাওফা তা'লামূন্।
বলো - - ''হে আমার লোকদল! তোমাদের স্থানে কাজ করে যাও, আমিও নিঃসন্দেহ কাজ করে যাচ্ছি। সুতরাং শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে - -
বলো: ‘‘হে আমার কওম! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করতে থাকো, আমিও আমার কাজ করে যাচ্ছি, অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে
মাইঁইয়াতীহি আযা বুইঁইয়ুখ্যীহি অ ইয়াহিল্লু 'আলাইহি 'আযা-বুম্ মুক্বীম্।
''কে সে যার কাছে আসছে শাস্তি যা তাকে লাঞ্ছিত করবে, আর কার উপরে বিধেয় হয়েছে স্থায়ী শাস্তি।’’
কার উপর এসে পড়ে অপমানকর আযাব এবং কার জন্যে বৈধ হয়ে যাবে স্থায়ী আযাব?’’
ইন্না য় আন্যাল্না- 'আলাইকাল্ কিতা-বা লিন্না-সি বিল্হাকক্বি ফামানিহ্ তাদা-ফালিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু 'আলাইহা- অমা য় আন্তা 'আলাইহিম্ বিঅকীল্।
নিঃসন্দেহ আমরা তোমার কাছে গ্রন্থখানা অবতারণ করেছি মানবজাতির জন্য সত্যের সাথে, সুতরাং যে - কেউ সৎপথ অবলন্বন করে সে তো তবে তার নিজের জন্যে, এবং যে কেউ ভ্রান্ত পথে চলে, সে তো বিভ্রান্ত হয় তার নিজেরই বিরুদ্ধে। আর তুমি তো তাদের উপরে কর্ণধার নও।
আমরা মানবজাতির জন্যে বাস্তবতার ভিত্তিতে তোমার প্রতি নাযিল করেছি আল কিতাব (আল কুরআন), এখন যে কেউ সঠিক পথ গ্রহণ করবে, তাতে তারই কল্যাণ হবে, আর যে কেউ বিপথগামী হবে, সে ডেকে আনবে নিজেরই ধ্বংস। তুমি তাদের উকিল নও।
আল্লা-হু ইয়াতাওয়াফ্ফাল্ আন্ফুসা হীনা মাওতিহা-অল্লাতী লাম্ তামুত্ ফী মানা-মিহা-ফাইয়ুম্সিকুল্ লাতী ক্বাদ্বোয়া- 'আলাইহাল্ মাওতা অইর্য়ুসিলুল্ উখ্র য় ইলা য় আজ্বালিম্ মুসাম্মা ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিঁই ইয়া তাফাক্কারূন্।
আত্মাগুলো গ্রহণ করেন তাদের মৃত্যুর সময়ে, আর যারা মরে না তাদের ঘুমের মধ্যে, তারপর তিনি রেখে দেন তাদের ক্ষেত্রে যাদের উপরে মৃত্যু অবধারিত করেছেন, আর অন্যগুলো ফেরত পাঠান একটি নির্ধারিত কাল পর্যন্ত। নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।
সমস্ত প্রাণীর ওফাত ঘটান তাদের মৃত্যুর সময় এবং যাদের মৃত্যু এখনো আসেনি তাদের প্রাণও নিদ্রার সময়। তারপর তিনি যার জন্যে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত করেন, তার প্রাণ তিনি ধরে রাখেন আর অন্যদের প্রাণ ফেরত দেন একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। এতে রয়েছে নিদর্শন, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
আমিত্তাখযূ মিন্ দূনিল্লা-হি শুফা'আ-য়্ কুল্ আওয়ালাও কা-নূ লা-ইয়াম্লিকূনা শাইয়াঁও অলা-ইয়া'ক্বিলূন্।
অথবা তারা কি কে বাদ দিয়ে সুপারিশকারীদের ধরেছে? তুমি বলো - - ''কি! যদিও তারা হচ্ছে এমন যে তারা কোনো - কিছুতেই কোনো ক্ষমতা রাখে না আর কোনো জ্ঞানবুদ্ধিও রাখে না?’’
তারা কি আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের সুপারিশকারী ধরেছে? তাদের বলো: ‘তাদের কোনো ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা কোনো কিছু না বুঝলেও কি (তারা সুপারিশ করবে)?’
কুল্ লিল্লা-হিশ্ শাফা- 'আতু জ্বামী'আন লাহূ মুল্কুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ ছুম্মা ইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন।
বলো - - ''সুপারিশ সর্বতোভাবে রই জন্যে। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’’
বলো: ‘সমস্ত শাফায়াত (সুপারিশ) আল্লাহর এখতিয়ারে, মহাকাশ এবং পৃথিবীর কর্তৃত্ব তাঁরই। তোমাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে তাঁর দিকেই।’
অইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াহ্দাহুশ্ মায়ায্যাত্ কুলূবুল্ লাযীনা লা-ইযুমিনূনা বিল্আ-খিরতি অইযা-যুকিরাল্ লাযীনা মিন্ দূনিহী য় ইযা-হুম্ ইয়াস্তাব্শিরূন্।
আর যখন র, তাঁর একত্বের উল্লেখ করা হয় তখন, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের হৃদয় সংকূচিত হয়, পক্ষান্তরে যখন তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয় তখন দেখো! তারা উল্লাস করে।
শুধু এক এবং একমাত্র আল্লাহর কথা বলা হলে আখিরাতে অবিশ্বাসীদের অন্তর বিরাগ বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়ে যায়। আল্লাহর পরিবর্তে দেবতাগুলোকে উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠে।
কুলি ল্লা-হুম্মা ফা-ত্বিরস্ সামা-ওয়া-তি অল্র্আদ্বি 'আ-লিমাল্ গইবি অশ্শাহা-দাতি আন্তা তাহ্কুমু বাইনা 'ইবা-দিকা ফী মা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।
তুমি বলো - - ''হে ! মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি - স্রষ্টা! ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমি বিচার করে দাও সেই বিষয়ে যাতে তারা মতবিরোধ করছিল।’’
বলো: ‘আয় ! মহাকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও গায়েবের জ্ঞানী, তোমার বান্দারা যে বিষয়ে এখতেলাফ (মতবিরোধ) করছে, তুমিই তার ফায়সালা করে দেবে।’
অলাও আন্না লিল্লাযীনা জোয়ালামূ মা-ফিল্ র্আদ্বি জ্বামী'আঁও অমিছ্লাহূ মা'আহূ লাফ্তাদাও বিহী মিন্ সূ-য়িল্ 'আযা-বি ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ অ বাদা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মা-লাম্ ইয়াকূনূ ইয়াহ্তাসিবূন্।
আর যারা অন্যায়াচরণ করছিল তাদের জন্য যদি পৃথিবীতে যা আছে সে - সবটাই থাকত এবং তার সঙ্গে এর সমান আরও, তারা এর দ্বারা পরিত্রাণ পেতে চাইত কিয়ামতের দিনের শাস্তির ভীষণতা থেকে। আর র কাছ থেকে এমন তাদের সামনে পরিস্ফুট হবে যা তারা কখনো হিসেব করে দেখে নি।
যারা যুলুম করে, পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলো এবং আরো সমপরিমাণ সম্পদও যদি তাদের থাকে, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব থেকে বাঁচার জন্যে মুক্তিপণ হিসেবে তারা সবই দিয়ে দেবে। আর তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট থেকে এমন কিছু প্রকাশ হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি।
অবাদা-লাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অহা-ক্বা বিহিম্ িমা-কা-নূ বিহী ইয়াস্তাহ্যিয়ূন্।
আর তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে, আর যা নিয়ে তারা বিদ্রূপ করত তা তাদের ঘিরে ফেলবে।
তাদের কৃতকর্মের নিকৃষ্ট পরিণাম তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং তারা যে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো, তা তাদেরকে পরিবেষ্টন করে নেবে।
ফাইযা মাস্সাল্ ইন্সা-না র্দ্বুরুন দা'আ-না- ছুম্মা ইযা-খাওয়্যাল্না-হু নি'মাতাম্ মিন্না-ক্ব-লা ইন্নামা য় ঊতীতুহূ 'আলা-'ইল্ম্ বাল্ হিয়া ফিত্নাতুঁও অলা-কিন্না আক্ছারহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
কিন্তু যখন কোনো দুঃখকষ্ট মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে আমাদের ডাকে, তারপর যখন আমরা তাকে আমাদের থেকে অনুগ্রহ প্রদান করি, সে বলে - - ''আমাকে তো এ দেওয়া হয়েছে জ্ঞানের দরুন।’’ বস্তুতঃ এ এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন তারা আমাদেরকে ডাকে, কিন্তু যখনই তাদেরকে আমরা কোনো নিয়ামত দিয়ে অনুগ্রহ করি, তখন সে বলে: ‘আমি তো এটা লাভ করেছি আমার বিশেষ জ্ঞানের কারণে।’ বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু অধিকাংশ লোকই তা জানেনা।
ক্বদ্ ক্ব-লাহাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিহিম্ ফামা য় আগ্না- 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
তাদের আগে যারা ছিল তারাও এটাই বলে থাকত, কিন্তু তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের কোনো কাজে আসে নি।
তাদের আগেকার লোকেরাও এ রকমই বলতো, কিন্তু তাদের যাবতীয় অর্জন তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
ফাআছোয়া-বাহুম্ সাইয়িয়া-তু মা-কাসাবূ অল্লাযীনা জোয়ালামূ মিন্ হা য় উলা-য়ি সাইয়ুছীবুহুম্ সাইয়িয়া-তু মা- কাসাবূ অমা-হুম্ বিমু'জ্বিযীন্।
কাজেই তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ তাদের পাকড়াও করল। আর এদের মধ্যে যারা অন্যায়াচরণ করছে তাদের উপরেও তারা যা অর্জন করেছে তার মন্দ অচিরেই আপতিত হবে, আর তারা এড়িয়ে যাবার পাত্র নয়।
তাদের উপর আপতিত হয়েছিল তাদের সমস্ত মন্দ অর্জন আর মন্দ কৃতকর্ম। (এখনকার) এদের মধ্যেও যারা যুলুম করে তাদের উপরও তাদের মন্দ কৃতকর্মের ফল আপতিত হবে, এবং তারা তা ঠেকাতে পারবে না।
আওয়া লাম্ ইয়া'লামূ য় আন্নাল্লা-হা ইয়াব্সুত্বর্ রিয্ক্বা লিমাইঁ ইয়াশা-য়ু অইয়াক্বর্ ্দি ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বাওমিঁই ইয়ু'মিনূন্।
তারা কি জানে না যে রিযেক বাড়িয়ে দেন যার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন এবং মেপে - জোখেও দেন। নিশ্চয় এতে তো নিদর্শনাবলী রয়েছে ঈমান আনে এমন লোকদের জন্য।
তারা কি জানেনা, যাকে চান রিযিক প্রশস্ত করে দেন, আর যাকে চান সীমিত করে দেন? অবশ্যি লোকদের জন্যে এতে রয়েছে নিদর্শন।
কুল্ ইয়া-'ইবাদিয়াল্ লাযীনা আস্রাফূ 'আলা য় আন্ফুসিহিম্ লা-তাকনাতু র্মি রহ্মাতিল্লা-হ্ ইন্নাল্লা-হা ইয়াগ্ফিরুয্ যুনূবা জামী'আ ইন্নাহূ হুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।
তুমি বলে দাও - - ''হে আমার বান্দারা যারা নিজেদের বিরুদ্ধে অমিতাচার করেছ! তোমরা র করুণা হতে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করেও দেন। নিঃসন্দেহ তিনি নিজেই পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
(হে নবী! লোকদেরকে আমার একথা) বলে দাও: ‘‘হে আমার দাসেরা! যারা নিজেদের প্রতি যুলুম - অবিচার করেছো, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা, সমস্ত পাপই ক্ষমা করে দেবেন, কারণ তিনি তো পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়াবান।
অ আনীবূ য় ইলা-রব্বিকুম্ অআস্লিমূ লাহূ মিন্ ক্বব্লি আঁই ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু ছুম্মা লা-তুন্ছোয়ারূন্।
''আর তোমাদের প্রভুর দিকে ফেরো এবং তোমাদের উপরে শাস্তি আসার আগেভাগে তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করো, তখন আর তোমাদের সাহায্য করা হবে না।
(ক্ষমা লাভের উপায় হলো) তোমরা তোমাদের প্রভুর অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো তোমাদের উপর আযাব এসে যাবার আগেই, তখন কিন্তু তোমাদের আর সাহায্য করা হবেনা।
অত্তাবি'ঊ য় আহ্সানা মা য়উন্যিলা ইলাইকুম্ র্মি রব্বিকুম্ মিন্ ক্বাব্লি আইঁ ইয়াতিয়াকুমুল্ 'আযা-বু বাগ্তাতাঁও অআন্তুম্ লা-তাশ্ঊ'রূন্।
''আর তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে তোমাদের নিকট যা শ্রেষ্ঠ অবতীর্ণ হয়েছে তার অনুসরণ করো তোমাদের উপরে অতর্কিতভাবে শাস্তি এসে পড়ার আগেই, যখন তোমরা খেয়াল করছ না - -
তোমরা অনুসরণ করো তোমাদের প্রভুর নিকট থেকে যে উত্তম (কিতাব) নাযিল হয়েছে সেটিকে, তোমাদের প্রতি হঠাৎ তোমাদের বুঝে উঠার আগেই আযাব এসে যাবার পূর্বে,
আন্ তাক্বূ লা নাফ্সুঁই ইয়া-হাস্রতা- 'আলা- মা-র্ফারত্ তু ফী জ্বাম্বি ল্লা-হি অইন্ কুন্তু লামিনাস্ সা-খিরীন্।
''পাছে কোনো সত্ত্বাকে বলতে হয় - - 'হায় আফসোস আমার জন্য যে র প্রতি কর্তব্যে আমি অবহেলা করছিলাম! আর আমি তো ছিলাম বিদ্রূপকারীদের দলের’,
তখন যাতে কাউকেও বলতে না হয়: ‘হায়, আল্লাহর প্রতি কর্তব্য পালনে আমি যে গাফলতি করেছি তার জন্যে আফসুস্! আমি তো বিদ্রুপকারীদেরই একজন ছিলাম।’
আও তাকুলা লাও আন্নাল্লা-হা হাদা-নী লাকুন্তু মিনাল্ মুত্তাক্বীন্।
'অথবা তাকে বলতে হয় - - - ' যদি আমাকে সৎপথ দেখাতেন তাহলে আমি নিশ্চয়ই ধর্মভীরুদের মধ্যেকার হতাম’,
কিংবা একথা বলতে না হয়: ‘ যদি আমাকে হিদায়াত করতেন, তবে অবশ্যি আমি মুত্তাকিদের অন্তরভুক্ত হতাম।’
আও তাকুলা হীনা তারল্ 'আযা-বা লাও আন্না লী র্কারতান্ ফাআকূনা মিনাল্ মুহ্সিনীন্।
''অথবা বলতে হয় যখন সে শাস্তি প্রত্যক্ষ করে - - 'যদি আমার জন্য আরেকটা সুযোগ হতো তাহলে আমি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম’।’’
কিংবা আযাব দেখার পর একথা বলতে না হয়: ‘হায়, আমাকে যদি একবার পৃথিবীতে ফিরে যাবার সুযোগ দেয়া হতো, তাহলে অবশ্যি আমি পুণ্যবানদের অন্তরভুক্ত হতাম।’’
বালা-ক্বদ্ জ্বা-য়াত্কা আ-ইয়া-তী ফাকায্যাব্তা বিহা-অস্তার্ক্বাতা অকুন্তা মিনাল্ কা-ফিরীন্।
''না, তোমার কাছে তো আমার বাণীসমূহ এসেই ছিল, কিন্তু তুমি সে - সব প্রত্যাখ্যান করেছিলে আর তুমি হামবড়াই করেছিলে, আর তুমি হয়েছিলে অবিশ্বাসীদের একজন।’’
হাঁ, তোমার কাছে তো আমার আয়াত এসেই ছিলো, কিন্তু তুমি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলে এবং হঠকারিতা প্রদর্শন করেছিলে এবং কাফিরদের অন্তরভুক্ত হয়েছিলে।
অইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি তারল্ লাযীনা কাযাবূ 'আলাল্লা-হি উজু হুহুম্ মুস্ওয়াদ্দাহ্ আলাইসা ফী জ্বাহান্নামা মাসওয়াল্ লিল্মুতাকাব্বিরীন্।
আর কিয়ামতের দিনে তুমি দেখতে পাবে তাদের যারা কে প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাদের মুখমন্ডল কালিমাচ্ছন্ন। জাহান্নামে কি গর্বিতদের জন্য আবাসস্থল নেই?
কিয়ামতের দিন আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপকারীদের চেহারা দেখবে কালো! দাম্ভিকদের (উপযুক্ত) আবাস কি জাহান্নামই নয়?
অইয়ুনাজ্জ্বিল্লা হুল্-লাযীনাত্ তাক্বও বিমাফা-যাতিহিম্ লা-ইয়ামাস্সুহুমুস্ সূ-য়ু অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
আর যারা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করে তাদের উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যময় স্থানসমূহে, মন্দ তাদের স্পর্শ করবে না, আর তারা দুঃখও করবে না।
তাকওয়া অবলম্বনকারীদের সেদিন উদ্ধার করবেন তাদের সাফল্যসহ। তাদেরকে স্পর্শ করবেনা অমঙ্গল আর তারা কোনো দুঃখ - দুশ্চিন্তায়ও থাকবে না।
আল্লা-হু খ-লিকু কুল্লি শাইয়ি্যঁও অহুঅ 'আলা-কুল্লি শাইয়্যিঁও অকীল্।
সব - কিছুর স্রষ্টা, আর তিনি সব - কিছুর উপরে কর্ণধার।
প্রতিটি বস্ত্তর স্রষ্টা । তিনিই প্রতিটি বস্তুর উকিল (কর্মসম্পাদক)।
লাহূ মাক্ব-লীদুস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অল্লাযীনা কাফারূবিআ-ইয়া-তিল্লা-হি উলা য় য়িকা হুমুল্ খ-সিরূন্।
মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর চাবিকাঠি তাঁরই নিকট। আর যারা র নির্দেশসমূহে অবিশ্বাস করে তারাই স্বয়ং ক্ষতিগ্রস্ত।
মহাকাশ এবং পৃথিবীর চাবির মালিক তিনিই। যারা আল্লাহর আয়াতের প্রতি কুফুরি করে তারাই আসল ক্ষতিগ্রস্ত।
কুল্ আফাগাইরল্লা-হি তামুরূ-ন্নী য় আ'বুদু আইয়ুহাল্ জ্বা-হিলূন্ ।
তুমি বলো - - ''তবে কি তোমরা আমাকে আদেশ করছ যে আমি ছাড়া অন্যের উপাসনা করি, ওহে মূর্খজনেরা!’’
হে নবী! বলো: ‘হে জাহিলরা! তোমরা কি আমাকে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইবাদত করতে বলছো?’
অলাক্বদ্ ঊহিয়া ইলাইকা অ ইলাল্লাযীনা মিন্ ক্বব্লিকা লায়িন্ আশ্রক্তা লাইয়াহ্বাত্বোয়ান্না 'আমালুকা অলাতাকূনান্না-মিনাল্ খ-সিরীন্।
আর তোমার কাছে ও তোমার আগে যারা ছিলেন তাঁদের কাছে নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে - - ''যদি তুমি শরিক কর তাহলে তোমার কাজকর্ম নিশ্চয়ই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি নিশ্চয়ই হয়ে যাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার।’’
তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তী (রসূলদের) প্রতি এই অহিই করা হয়েছে: ‘তুমি যদি আল্লাহর সাথে শরিক সাব্যস্ত করো, তোমার সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যি অন্তরভুক্ত হবে ক্ষতিগ্রস্তদের।’
বালিল্লা-হা ফা'বুদ্ অকুঁম্ মিনাশ্ শা-কিরীন্।
না, তুমি সতত রই উপাসনা করবে, আর কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত রইবে।
‘বরং আল্লাহরই ইবাদত করো এবং অন্তরভুক্ত হও শোকর গুজারদের।’
অমা-ক্বদারুল্লা-হা হাকক্বা ক্বদ্রিহী অল্আরদু জ্বামী'আন্ ক্বাব্দ্বোয়াতুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অস্সামা-ওয়া-তু মাত্ব্ওয়িয়্যা-তুম্ বিইয়ামীনিহ্ সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা-ইয়ুশ্রিকূন্।
আর তারা কে সম্মান করে না তাঁর যথোচিত সম্মানের দ্বারা, অথচ সমস্ত পৃথিবীটাই তাঁর মুঠোয় থাকবে কিয়ামতের দিনে, আর মহাকাশমন্ডলীটা গুটিয়ে নেয়া হবে তাঁর ডান হাতে। সকল মহিমা তাঁরই আর তারা যেসব অংশী দাঁড় করায় তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
তারা আল্লাহকে তাঁর যথার্থ মর্যাদা দেয়না। কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর মুষ্টিতে, আর মহাকাশ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে, তিনি অতীব পবিত্র ও মহান তারা যাদের শরিক করে তাদের থেকে।
অনুফিখ ফিছ্ ছূরি ফাছোয়া'ইক্ব মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্বি ইল্লা-মান্ শা-য়াল্লা-হ্ ছুম্মা নুফিখ ফীহি উখ্র-ফাইযা-হুম্ ক্বিয়া-মুইঁ ইয়ান্জুরূন্।
আর শিঙায় ফুঁকা হবে, ফলে মহাকাশমন্ডলীতে যারা আছে ও পৃথিবীতে যারা রয়েছে তারা মূর্চ্ছা যাবে - - তারা ব্যতীত যাদের সন্বন্ধে ইচ্ছা করেন। তারপর তাতে পুনরায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন দেখো! তারা উঠে দাঁড়াবে বিস্ফরিত নয়নে।
আর শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে, সাথে সাথে আসমান ও জমিনে যারাই আছে সবাই মরে পড়ে যাবে। তবে যাদের (জীবিত রাখতে) চাইবেন, তাদের কথা ভিন্ন। তারপর শিংগায় আরেকটি ফুৎকার দেয়া হবে। তখন সাথে সাথে সবাই জীবিত হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং তাকাতে থাকবে (অথবা, অপেক্ষা করতে থাকবে)।
অ আশ্রক্বতিল্ র্আদু বিনূরির্ ব্বিহা-অউদ্বি'আল্ কিতা-বূ অজ্বী-য়া বিন্নাবিয়্যীনা অশ্শুহাদা-য়ি অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অহুম্ লা -ইয়ুজ্লামূন্।
আর পৃথিবী উদ্ভাসিত হবে তার প্রভুর জ্যোতিতে, আর গ্রন্থ উপস্থাপিত করা হবে, আর নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে নিয়ে আসা হবে, আর তাদের মধ্যে বিচার - মীমাংসা করা হবে সততার সঙ্গে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।
পৃথিবী উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে তার প্রভুর নূরে। কিতাব (আমলের রেকর্ড) এনে হাজির করা হবে এবং নবীদের ও সাক্ষীদের এনে হাজির করা হবে। আর তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে হক ফায়সালা এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করা হবেনা।
অউফ্ফিয়াত্ কুল্লু নাফ্সিম্ মা-'আমিলাত্ অহুওয়া আ'লামু বিমা-ইয়াফ্'আলূন্।
আর প্রত্যেক সত্ত্বাকে সে যা করেছে তার পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে, আর তিনি ভাল জানেন তারা যা করে সে - সম্পর্কে।
প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে পুরোপুরি। আর মানুষ যা করে তা তো তিনিই (আল্লাহ্ই) সর্বাধিক জানেন।
অসীক্বল্লাযীনা কাফারূ য় ইলা-জ্বাহান্নামা যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ূহা-ফুতিহাত্ আব্ওয়া বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খযানাতুহা য় আলাম্ ইয়াতিকুম্ রুসুলুম্ মিন্কুম্ ইয়াত্লূনা 'আলাইকুম্ আ-ইয়া-তি রব্বিকুম্ অইয়ুন্যিরূনাকুম্ লিক্ব-য়া ইয়াওমিকুম্ হা-যা- ক্ব-লূ বালা-অলা-কিন্ হাক্ব্ক্বত কালিমাতুল্ আযা-বি 'আলাল্ কা-ফিরীন্।
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে দলবদ্ধভাবে। যেতে যেতে যখন তারা তার কাছে আসবে তখন এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে আর তার রক্ষকরা তাদের বলবে - - ''তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্যে থেকে রসূলগণ আসেন নি যাঁরা তোমাদের কাছে বিবৃত করতেন তোমাদের প্রভুর বাণীসমূহ এবং তোমাদের সাবধান করে দিতেন তোমাদের এই দিনটির সাক্ষাৎ পাওয়া সন্বন্ধে?’’ তারা বলবে - - ''হ্যাঁ।’’ আর বস্তুতঃ অবিশ্বাসীদের উপর শাস্তিদানের রায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
(বিচার ফায়সালার পর) যারা কুফুরি করেছে (বলে প্রমাণিত হবে), তাদের দলে দলে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হবে এবং এর ব্যবস্থাপকরা তাদের জিজ্ঞেস করবে: ‘তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে রসূলরা (আল্লাহর বার্তা বাহকরা) আসেননি? তারা কি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রভুর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেননি এবং তোমাদের সতর্ক করেননি যে, তোমাদেরকে একদিন এই দিনটির সম্মুখীন হতে হবে?’ তারা বলবে: ‘হাঁ, তাঁরা এসেছিলেন, কিন্তু আযাবের সিদ্ধান্ত কাফিরদের জন্যে অবধারিত হয়ে গেছে।
ক্বীলাদ্ খুলূ য় আব্ওয়া-বা জ্বাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা-ফাবিসা মাছ্ওয়াল্ মুতাকাব্বিরীন্।
বলা হবে - - ''তোমরা জাহান্নামের দরজাগুলো দিয়ে ঢুকে পড় সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থানের জন্য। সুতরাং কত মন্দ গর্বিতদের এই অবস্থানস্থল!’’
বলা হবে: ‘দাখিল হও জাহান্নামের দরজাসমূহ দিয়ে। চিরকাল তোমরা সেখানেই থাকবে। কতো যে নিকৃষ্ট অহংকারীদের আবাস।’
অসীক্বল্ লাযী নাত্ তাক্বও রব্বাহুম্ ইলাল্ জ্বান্নাতি যুমারা- হাত্তা য় ইযা-জ্বা-য়ুহা-অফুতিহাত্ আব্ওয়া-বুহা-অক্ব-লা লাহুম্ খাযানাতুহা-সালা-মুন্ 'আলাইকুম্ ত্বিব্তুম্ ফাদ্খুলূহা-খা-লিদীন্।
আর যারা তাদের প্রভুকে ভয়ভক্তি করে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে দলবদ্ধভাবে জান্নাতের দিকে। যেতে যেতে যখন তারা তার কাছে আসবে ও এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে তখন তার রক্ষীরা তাদের বলবে, ''সালাম তোমাদের উপরে! তোমরা পবিত্র - চরিত্র, সুতরাং তোমরা এতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো।’’
যারা তাদের প্রভুর অবাধ্য হওয়া থেকে আত্মরক্ষা করে জীবন যাপন করেছে, তাদের দলে দলে নিয়ে যাওয়া হবে জান্নাতের অভিমুখে। যখন তারা সেখানে পৌঁছুবে, খুলে দেয়া হবে জান্নাতের সব দরজা। সেখানকার ব্যবস্থাপকরা
অক্ব-লুল্ হাম্দু লিল্লা-হিল্ লাযী ছদাক্বানা ওয়া'দাহূ অ আওরছানাল্ র্আদ্বোয়া নাতাবাওয়্যায়ু মিনাল্ জ্বান্নাতি হাইছু নাশা-য়ু ফানি'মা আজরুল্ 'আ-মিলীন্।
আর তারা বলবে - - ''সকল প্রশংসা র যিনি তাঁর ওয়াদা আমাদের কাছে পরিপূর্ণ করেছেন, আর তিনি পৃথিবীটা আমাদের উত্তরাধিকার করতে দিয়েছেন, আমরা এই জান্নাতে বসবাস করব যেখানে আমরা চাইব।’’ সুতরাং কর্মীদের এই পারিশ্রমিক কত উত্তম!
তারা বলবে: ‘সমস্ত শুকরিয়া আল্লাহর, তিনি আমাদেরকে দেয়া ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে ওয়ারিশ বানিয়েছেন এই পৃথিবীর। এখন জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা আমরা আবাস বানাবো। পুণ্যকর্মীদের পুরস্কার কতো যে উত্তম!’
অ তারল্ মালা-য়িকাতা হা-ফ্ফীনা মিন্ হাওলিল্ 'র্আশি ইয়ুসাব্বিহূনা বিহাম্দি রব্বিহিম্ অকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ হাকক্বি অক্বীলাল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ আ-লামীন্।
আর তুমি দেখতে পাবে যে ফিরিশ্তারা আরশের চতুর্দিক ঘিরে রয়েছে, তাদের প্রভুর প্রশংসায় জপতপ করে চলেছে, আর তাদের মধ্যে বিচার - মীমাংসা করা হবে সততার সাথে, আর বলা হবে - - ''সকল প্রশংসা রই জন্য যিনি বিশ্বজগতের প্রভু।’’
আর তুমি দেখতে পাবে, ফেরেশতারা আরশের চারপাশে বৃত্ত বানিয়ে ঘোষণা করছে তাদের প্রভুর প্রশংসার তসবিহ্। এভাবেই নিখাদ ন্যায্যভাবে ফায়সালা করে দেয়া হবে মানুষের মাঝে, আর ঘোষণা করা হবে: ‘সমস্ত প্রশংসা রাববুল আলামিনের।’