بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ
আমি কসম করছি কিয়ামতের দিনের!
Chapter 75, 40 verses
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ
আমি কসম করছি কিয়ামতের দিনের!
وَلَا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ
আমি আরো কসম করছি আত্ম-ভৎর্সনাকারী আত্মার!
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُ
মানুষ কি মনে করে যে, আমি কখনই তার অস্থিসমূহ একত্র করব না?
بَلَىٰ قَادِرِينَ عَلَىٰ أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ
হ্যাঁ, আমি তার আংগুলের অগ্রভাগসমূহও পুনর্বিন্যস্ত করতে সক্ষম।
بَلْ يُرِيدُ الْإِنسَانُ لِيَفْجُرَ أَمَامَهُ
বরং মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে।
يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ
সে প্রশ্ন করে, ‘কবে কিয়ামতের দিন’?
فَإِذَا بَرِقَ الْبَصَرُ
যখন চক্ষু হতচকিত হবে।
وَخَسَفَ الْقَمَرُ
আর চাঁদ কিরণহীন হবে,
وَجُمِعَ الشَّمْسُ وَالْقَمَرُ
আর চাঁদ ও সূর্যকে একত্র করা হবে।
يَقُولُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ أَيْنَ الْمَفَرُّ
সেদিন মানুষ বলবে, ‘পালাবার স্থান কোথায়’?
كَلَّا لَا وَزَرَ
না, কোন আশ্রয়স্থল নেই।
إِلَىٰ رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمُسْتَقَرُّ
ঠাঁই শুধু সেদিন তোমার রবের নিকট।
يُنَبَّأُ الْإِنسَانُ يَوْمَئِذٍ بِمَا قَدَّمَ وَأَخَّرَ
সেদিন মানুষকে অবহিত করা হবে কী সে অগ্রে পাঠিয়েছিল এবং পশ্চাতে পাঠিয়েছিল।
بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ
বরং মানুষ তার নিজের উপর দৃষ্টিমান।
وَلَوْ أَلْقَىٰ مَعَاذِيرَهُ
যদিও সে নানা অজুহাত পেশ করে থাকে।
لَا تُحَرِّكْ بِهِ لِسَانَكَ لِتَعْجَلَ بِهِ
কুরআন তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করার উদ্দেশ্যে তুমি তোমার জিহবাকে দ্রুত আন্দোলিত করো না।
إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ
নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ আমার দায়িত্বে।
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ
অতঃপর যখন আমি তা পাঠ করি তখন তুমি তার পাঠের অনুসরণ কর।
ثُمَّ إِنَّ عَلَيْنَا بَيَانَهُ
তারপর তার বর্ণনার দায়িত্ব আমারই।
كَلَّا بَلْ تُحِبُّونَ الْعَاجِلَةَ
কখনো না, বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে ভালবাস।
وَتَذَرُونَ الْآخِرَةَ
আর তোমরা ছেড়ে দিচ্ছ আখিরাতকে।
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ
সেদিন কতক মুখমন্ডল হবে হাস্যোজ্জ্বল।
إِلَىٰ رَبِّهَا نَاظِرَةٌ
তাদের রবের প্রতি দৃষ্টিনিক্ষেপকারী।
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ بَاسِرَةٌ
আর সেদিন অনেক মুখমন্ডল হবে বিবর্ণ-বিষন্ন।
تَظُنُّ أَن يُفْعَلَ بِهَا فَاقِرَةٌ
তারা ধারণা করবে যে, এক বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত করা হবে।
كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ
কখনই না, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে।
وَقِيلَ مَنْ ۜ رَاقٍ
আর বলা হবে, ‘কে তাকে বাঁচাবে’?
وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ
আর সে মনে করবে, এটিই বিদায়ক্ষণ।
وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ
আর পায়ের গোছার সংগে পায়ের গোছা জড়িয়ে যাবে।
إِلَىٰ رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ
সেদিন তোমার রবের কাছেই সকলকে হাঁকিয়ে নেয়া হবে।
فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّىٰ
সুতরাং সে বিশ্বাসও করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি।
وَلَٰكِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ
বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ফিরে গিয়েছিল।
ثُمَّ ذَهَبَ إِلَىٰ أَهْلِهِ يَتَمَطَّىٰ
তারপর সে দম্ভভরে পরিবার-পরিজনের কাছে চলে গিয়েছিল।
أَوْلَىٰ لَكَ فَأَوْلَىٰ
দুর্ভোগ তোমার জন্য এবং দুর্ভোগ!
ثُمَّ أَوْلَىٰ لَكَ فَأَوْلَىٰ
তারপরও দুর্ভোগ তোমার জন্য এবং দুর্ভোগ!
أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَن يُتْرَكَ سُدًى
মানুষ কি মনে করে যে, তাকে এমনি ছেড়ে দেয়া হবে?
أَلَمْ يَكُ نُطْفَةً مِّن مَّنِيٍّ يُمْنَىٰ
সে কি বীর্যের শুক্রবিন্দু ছিল না যা স্খলিত হয়?
ثُمَّ كَانَ عَلَقَةً فَخَلَقَ فَسَوَّىٰ
অতঃপর সে ‘আলাকায় পরিণত হয়। তারপর তাকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন এবং সুবিন্যস্ত করেছেন।
فَجَعَلَ مِنْهُ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ
অতঃপর তিনি তা থেকে সৃষ্টি করেন জোড়ায় জোড়ায় পুরুষ ও নারী।
أَلَيْسَ ذَٰلِكَ بِقَادِرٍ عَلَىٰ أَن يُحْيِيَ الْمَوْتَىٰ
তিনি কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন?