Kitab

طه

Chapter 20, 135 verses

  • Arabic, with marks
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • সমকালীন বাংলা
  • জহুরুল হক
Arabic, with marks

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ طه

আবদুস শহীদ নাসিম

তোয়াহা!

সমকালীন বাংলা

পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; তা - হা,

জহুরুল হক

ত্বা, হা।

Arabic, with marks

مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি দুর্দশাগ্রস্ত হবে এ জন্যে আমরা তোমার প্রতি এই কুরআন নাযিল করিনি।

সমকালীন বাংলা

তুমি ক্লেশ পাইবে এইজন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করি নাই,

জহুরুল হক

আমরা তোমার কাছে কুরআন অবতারণ করি নি যে তুমি বিপন্ন বোধ করবে, - -

Arabic, with marks

إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

বরং এটি একটি উপদেশবার্তা তার জন্যে, যে ভয় করে।

সমকালীন বাংলা

বরং যে ভয় করে কেবল তাহার উপদেশার্থে,

জহুরুল হক

যে ভয় করে তাকে স্মরণ করে দেবার জন্যে ছাড়া,

Arabic, with marks

تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى

আবদুস শহীদ নাসিম

এটি নাযিল হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবী এবং সুউঁচু মহাকাশ।

সমকালীন বাংলা

যিনি পৃথিবী ও সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার নিকট হইতে ইহা অবতীর্ণ।

জহুরুল হক

এ একটি অবতারণ তাঁর কাছ থেকে যিনি সৃষ্টি করেছেন পৃথিবী ও সমুচ্চ মহাকাশমন্ডলী।

Arabic, with marks

الرَّحْمَٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি দয়াময় - রহমান, আরশে সমাসীন।

সমকালীন বাংলা

দয়াময় আরশে সমাসীন।

জহুরুল হক

পরম করুণাময় আরশের উপরে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছেন।

Arabic, with marks

لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সবকিছুর মালিকই তিনি, যা কিছু আছে মহাকাশে, পৃথিবীতে এবং এ দুটির মধ্যবর্তী স্থানে, আর যা কিছু আছে মাটির নিচে।

সমকালীন বাংলা

যাহা আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে, এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তাহা তাঁহারই।

জহুরুল হক

যা কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যা কিছু এ দুইয়ের মধ্যে রয়েছে আর যা রয়েছে মাটির নিচে সে - সবই তাঁর।

Arabic, with marks

وَإِن تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি যদি উঁচু স্বরে কথা বলো, তবে (জেনে রাখো) তিনি যা গোপন এবং যা অব্যক্ত সবই জানেন।

সমকালীন বাংলা

যদি তুমি উচ্চকণ্ঠে কথা বল, তবে তিনি তো যাহা গুপ্ত ও অব্যক্ত সকলই জানেন।

জহুরুল হক

আর যদি তুমি বক্তব্য প্রকাশ কর তবে তো তিনি গোপন জানেন আর যা আরও লুকোনো।

Arabic, with marks

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই।

সমকালীন বাংলা

তিনি ব্যতিত অন্য অন্য কোন নাই, সুন্দর সুন্দর নাম তাহারই।

জহুরুল হক

‌, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই। তাঁরই হচ্ছে সব সুন্দর সুন্দর নামাবলী।

Arabic, with marks

وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কাছে মূসার সংবাদ এসেছে কি?

সমকালীন বাংলা

মূসার বৃত্তান্ত তোমার নিকট পৌঁছিয়াছে কি?

জহুরুল হক

আর মূসার কাহিনী কি তোমার কাছে এসে পৌঁছেছে?

Arabic, with marks

إِذْ رَأَىٰ نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন আগুন দেখেছিল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘তোমরা এখানে থাকো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে আমি তোমাদের জন্যে কিছু জ্বলন্ত অংগার আনতে পারবো, অথবা আগুনের কাছে গেলে পথের দিশা পাবো।’

সমকালীন বাংলা

সে যখন আগুন দেখিল তখন তাহার পরিবারবর্গকে বলিল, ‘তোমরা এখানে থাক আমি আগুন দেখিয়াছি। সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য উহা হইতে কিছু জ্বলন্তঅঙ্গার আনিতে পারিব অথবা আমি আগুনের নিকটে কোন পথনির্দেশ পাইব।’

জহুরুল হক

স্মরণ করো! তিনি দেখতে পেলেন একটি আগুন, তাই তিনি তাঁর পরিবারবর্গকে বললেন - - ''দাঁড়াও, আমি নিঃসন্দেহ একটি আগুন দেখছি, সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য সেখান থেকে আমি জ্বলন্ত আঙটা আনতে পারব অথবা আগুনের কাছ থেকে কোনো পথনির্দেশ পেয়ে যাব।’’

Arabic, with marks

فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর সে যখন আগুনের কাছে এলো, তখন তাকে ডাক দিয়ে বলা হলো: ‘‘হে মূসা!

সমকালীন বাংলা

অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসিল তখন আহ্বান করিয়া বলা হইল, ‘হে মূসা!

জহুরুল হক

তারপর যখন তিনি সেখানে এলেন তখন ডাকা হ’ল - - ''হে মূসা!

Arabic, with marks

إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমার রব। তোমার জুতা খুলে ফেলো। তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যাকায় রয়েছো।

সমকালীন বাংলা

আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তোমার পাদুকা খুলিয়া ফেল, কারণ তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রহিয়াছ।

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমি, আমিই তোমার প্রভু, অতএব তোমার জুতো খুলে ফেল, তুমি অবশ্য পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে রয়েছ।

Arabic, with marks

وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা অহি করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনো।

সমকালীন বাংলা

‘এবং আমি তোমাকে মনোনীত করিয়াছি। অতএব যাহা ওহী প্রেরণ করা হইতেছে তুমি তাহা মনোযোগের সঙ্গে শ্রবণ কর।

জহুরুল হক

''আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, তাই শোনো যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে।

Arabic, with marks

إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই আমি , আমি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। অতএব কেবল আমারই ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে কায়েম করো ।

সমকালীন বাংলা

‘আমিই আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নাই। অতএব আমার ‘ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে কায়েম কর।

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমি, আমিই ‌, আমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, সেজন্য আমার উপাসনা করো, আর আমাকে মনে রাখার জন্যে কায়েম করো।

Arabic, with marks

إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তার সময়কাল আমি গোপন রাখবো। (কিয়ামত এ জন্যে হবে) যাতে করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী দেয়া যায় প্রতিদান।

সমকালীন বাংলা

‘কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি ইহা গোপন রাখিতে চাহি যাহাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করিতে পারে।

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ ঘড়িঘন্টা এসেই যাচ্ছে, আমি চাই এ গোপন রাখতে, যেন প্রত্যেক জীবকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে তাই দিয়ে যার জন্য সে চেষ্টা করে।

Arabic, with marks

فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَن لَّا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং যারা কিয়ামতে ঈমান রাখেনা আর নিজ কামনা বাসনার অনুসরণ করে, তারা যেনো তোমাকে কিয়ামতের প্রতি ঈমান থেকে ফেরাতে না পারে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।

সমকালীন বাংলা

‘সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে উহাতে বিশ্বাস স্থাপনে নিবৃত্ত না করে, নিবৃত্ত হইলে তুমি ধ্বংস হইয়া যাইবে।

জহুরুল হক

''সেজন্য তোমাকে এ থেকে সে যেন না ফেরায় যে এতে বিশ্বাস করে না আর যে তার কামনার অনুবর্তী হয়, পাছে তুমি ধ্বংস হয়ে যাও।’’

Arabic, with marks

وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার ডান হাতে ওটা কী হে মূসা?’’

সমকালীন বাংলা

‘হে মূসা! তোমার দক্ষিণ হস্তে উহা কী?’

জহুরুল হক

''তোমার ডান হাতে ঐটি কি, হে মূসা?’’

Arabic, with marks

قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘এটি আমার লাঠি। এতে আমি ভর দেই। এটি দিয়ে আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্যে গাছের পাতা ফেলি এবং এটি দিয়ে আমি অন্যান্য কাজও করে থাকি।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘উহা আমার লাঠি; আমি ইহাতে ভর দেই এবং ইহা দ্বারা আঘাত করিয়া আমি আমার মেষপালের জন্য বৃক্ষপত্র ফেলিয়া থাকি এবং ইহা আমার অন্যান্য কাজেও লাগে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এটি আমার লাঠি, আমি এর উপরে ভর দিই, আর এ দিয়ে আমার মেষপালের জন্য আমি গাছের পাতা পেড়ে থাকি, আর আমার জন্য এতে অন্যান্য কাজও হয়।’’

Arabic, with marks

قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

() বললেন: ‘ হে মূসা, লাঠিটি নিক্ষেপ করো।’

সমকালীন বাংলা

বলিলেন হে মুসা তুমি ইহা নিক্ষেপ কর।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এটি ছুঁড়ে মার, হে মূসা!’’

Arabic, with marks

فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে সেটি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে তা সাপ হয়ে দৌড়াতে থাকলো।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর সে উহা নিক্ষেপ করিল, সঙ্গে সঙ্গে উহা সাপ হইয়া ছুটিতে লাগিল,

জহুরুল হক

সুতরাং তিনি এটি ছুঁড়ে মারলেন, তখন দেখো! এটি হয়ে গেল একটি সাপ - - ছুটতে লাগল।

Arabic, with marks

قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ ۖ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘তুমি এটিকে ধরো, ভয় পেয়োনা। আমরা এটিকে এটির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেবো।’

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘তুমি ইহাকে ধর, ভয় করিও না, আমি ইহাকে ইহার পূর্বরূপে ফিরাইয়া দিব।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''এটিকে ধর, আর ভয় করো না, এটিকে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ফিরিয়ে নেব তার আগের অবস্থায়।

Arabic, with marks

وَاضْمُمْ يَدَكَ إِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ آيَةً أُخْرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তোমার হাত তোমার বগলে রাখো। এটি বের হয়ে আসবে অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। এটি আরেকটি নিদর্শন।

সমকালীন বাংলা

‘এবং তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ইহা বাহির হইয়া আসিবে নির্মল উজ্জ্বল হইয়া অপর এক নিদর্শনস্বরূপ।

জহুরুল হক

আর তোমার হাত তোমার বগলের মধ্যে চেপে ধর, তা সাদা হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনো দোষত্রুটি ছাড়া, - - এ আরেকটি নিদর্শন।

Arabic, with marks

لِنُرِيَكَ مِنْ آيَاتِنَا الْكُبْرَى

আবদুস শহীদ নাসিম

এর কারণ, আমরা তোমাকে দেখাবো আমাদের মহা নিদর্শনগুলোর কয়েকটি।

সমকালীন বাংলা

‘ইহা এইজন্য যে, আমি তোমাকে দেখাইব আমার মহানিদর্শনগুলির কিছু।

জহুরুল হক

এই জন্য যে আমরা তোমাকে আমাদের আরো বড় নিদর্শন দেখাতে পারি।

Arabic, with marks

اذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে তাগুত হয়েছে (সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে)।

সমকালীন বাংলা

‘ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে।’

জহুরুল হক

ফিরআউনের কাছে যাও, নিঃসন্দেহ সে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।’’

Arabic, with marks

قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও।

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার বুক আমার জন্য প্রসারিত করো,

Arabic, with marks

وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার কাজ (দায়িত্ব পালন) আমার জন্যে সহজ করে দাও।

সমকালীন বাংলা

এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও।

জহুরুল হক

''আর আমার কাজ আমার জন্য সহজ করে দাও,

Arabic, with marks

وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার যবানের বন্ধন (জড়তা) দূর করে দাও,

সমকালীন বাংলা

আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও।

জহুরুল হক

''আর আমার জিহ্বা থেকে জড়তা তুমি খুলে দাও,

Arabic, with marks

يَفْقَهُوا قَوْلِي

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।

সমকালীন বাংলা

যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে।

জহুরুল হক

''যেন তারা আমার বক্তব্য বুঝতে পারে।

Arabic, with marks

وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার পরিবারের একজনকে আমার উযির বানিয়ে দাও,

সমকালীন বাংলা

আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে;

জহুরুল হক

''আর আমার স্বজনদের মধ্যে থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিয়োগ করে দাও - -

Arabic, with marks

هَارُونَ أَخِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার ভাই হারূণকে দাও,

সমকালীন বাংলা

আমার ভ্রাতা হারূনকে;

জহুরুল হক

''আমার ভাই হারূনকে,

Arabic, with marks

اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

তাকে দিয়ে আমার শক্তিকে মজবুত করে দাও।

সমকালীন বাংলা

তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর,

জহুরুল হক

''তাকে দিয়ে আমার কোমর মজবুত করে দাও,

Arabic, with marks

وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাকে আমার দায়িত্বের অংশীদার বানিয়ে দাও,

সমকালীন বাংলা

ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর,

জহুরুল হক

''এবং তাকে জুড়ে দাও আমার কাজে,

Arabic, with marks

كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যাতে করে আমরা তোমার বেশি বেশি তসবিহ করতে পারি,

সমকালীন বাংলা

যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর;

জহুরুল হক

''যাতে আমরা তোমার মহিমা কীর্তন করতে পারি প্রচুরভাবে,

Arabic, with marks

وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং বেশি বেশি তোমাকে যিকির করতে পারি

সমকালীন বাংলা

এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক।

জহুরুল হক

''আর তোমার গুণগান করতে পারি বহুলভাবে।

Arabic, with marks

إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তুমি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দাতা।’’

সমকালীন বাংলা

‘তুমি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তুমি - - তুমিই আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’’

Arabic, with marks

قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

বললেন: ‘‘মূসা! যা চেয়েছো সবই তোমাকে দেয়া হলো।

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ তাহা তোমাকে দেওয়া হইল।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমার আরজি অবশ্য তোমাকে মঞ্জুর করা হ’ল, হে মূসা!

Arabic, with marks

وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

এর আগেও একবার আমরা তোমার প্রতি ইহসান করেছি।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি তো তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করিয়াছিলাম;

জহুরুল হক

''আর আমরা তো তোমার প্রতি আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম, - -

Arabic, with marks

إِذْ أَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّكَ مَا يُوحَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন আমরা তোমার মাকে অহি (ইশারা) করেছিলাম যা অহি করার:

সমকালীন বাংলা

যখন আমি তোমার মাতাকে জানাইয়াছিলাম যাহা ছিল জানাইবার,

জহুরুল হক

''চেয়ে দেখো! আমরা তোমার মাতাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলাম যা অনুপ্রাণিত করার ছিল।

Arabic, with marks

أَنِ اقْذِفِيهِ فِي التَّابُوتِ فَاقْذِفِيهِ فِي الْيَمِّ فَلْيُلْقِهِ الْيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَأْخُذْهُ عَدُوٌّ لِّي وَعَدُوٌّ لَّهُ ۚ وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِّنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَىٰ عَيْنِي

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাকে ইশারায় বলেছিলাম:) তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, তারপর তাকে দরিযায় (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও, যাতে করে দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তখন তাকে আমার দুশমন এবং তার দুশমন ঘরে তুলে নেবে। আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি মহববত ঢেলে দিয়েছিলাম, আর (এমন ব্যবস্থা করেছিলাম) যেনো তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’

সমকালীন বাংলা

‘যে, তুমি তাহাকে সিন্দুকের মধ্যে রাখ, অতঃপর উহা দরিয়ায় ভাসাইয়া দাও যাহাতে দরিয়া উহাকে তীরে ঠেলিয়া দেয়, উহাকে আমার শত্রু ও উহার শত্রু লইয়া যাইবে। আমি আমার নিকট হইতে তোমার উপর ভালবাসা ঢালিয়া দিয়াছিলাম, যাহাতে তুমি আমার তত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’

জহুরুল হক

''এই বলেঃ 'তাকে একটি সিন্দুকের মধ্যে রাখ, তারপর এটিকে পানিতে ভাসিয়ে দাও, তারপর নদী তাকে তীরে ভেড়াবে, তাকে নিয়ে যাবে আমার এক শত্রু ও তারও শত্রু।’’ আর আমি তোমার উপরে আমার তরফ থেকে ভালবাসা অর্পণ করেছিলাম, আর যেন তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হতে পার।

Arabic, with marks

إِذْ تَمْشِي أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ مَن يَكْفُلُهُ ۖ فَرَجَعْنَاكَ إِلَىٰ أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ ۚ وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا ۚ فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَىٰ قَدَرٍ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তোমার বোন এসে তাদের বললো: আমি কি আপনাদের বলবো, কে ওকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারবে? তখন আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে করে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। তারপর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, তখনো আমরা তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমার থেকে আরো অনেকগুলো পরীক্ষা নিয়েছি। এরপর কয়েক বছর তুমি মাদায়েনবাসীদের মধ্যে ছিলে। তারপর নির্ধারিত সময়ই তুমি (এখানে) উপস্থিত হয়েছো হে মূসা!

সমকালীন বাংলা

‘যখন তোমার ভগ্নী আসিয়া বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিয়া দিব কে এই শিশুর ভার লইবে?’ তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরাইয়া দিলাম যাহাতে তাহার চক্ষু জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়; এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হইতে মুক্তি দেই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করিয়াছি। অতঃপর তুমি কয়েক বৎসর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মূসা! ইহার পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হইলে।

জহুরুল হক

''চেয়ে দেখো! তোমার ভগিনী হেটে চলেছিল, তখন সে বললে - - 'আমি কি আপনাদের জন্য দেখিয়ে দেব তাকে যে এর ভার নিতে পারে?’’ ফলে তোমাকে আমরা ফিরিয়ে দিলাম তোমার মায়ের কাছে যেন তার চোখ জুড়ায় আর সে যেন পরিতাপ না করে। আর তুমি একটি লোককে মেরে ফেলেছিলে, তারপর আমরা তোমাকে মনঃপীড়া থেকে উদ্ধার করেছিলাম, আর আমরা তোমাকে পরীক্ষা করেছিলাম বহু পরীক্ষায়। এরপর তুমি বহু বৎসর অবস্থান করেছিলে মাদিয়ানবাসীদের সঙ্গে, তারপর, হে মূসা, তুমি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসে পৌঁছেছ।

Arabic, with marks

وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্যে তৈরি করে নিয়েছি।

সমকালীন বাংলা

‘এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য প্রস্তুত করিয়া লইয়াছি।

জহুরুল হক

''আর আমি তোমাকে নির্বাচন করেছি আমার নিজের জন্য।

Arabic, with marks

اذْهَبْ أَنتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি এবং তোমার ভাই আমার দেয়া নিদর্শনগুলো নিয়ে (ফেরাউনের কাছে) যাও, আর তোমরা আমার যিকির - এ (আমার কথা উচ্চারণে) গাফলতি করোনা।

সমকালীন বাংলা

‘তুমি ও তোমার ভ্রাতা আমার নিদর্শনসহ যাত্রা কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করিও না,

জহুরুল হক

''তুমি ও তোমার ভাই আমার নির্দেশাবলী নিয়ে যাও, আর আমার নাম - কীর্তনে শিথিল হয়ো না।

Arabic, with marks

اذْهَبَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা দুজনেই যাও ফেরাউনের কাছে, সে সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে।

সমকালীন বাংলা

‘তোমরা উভয়ে ফির‘আওনের নিকট যাও, সে তো সীমা - লংঘন করিয়াছে।

জহুরুল হক

''তোমার দুজনে ফিরআউনের কাছে যাও, নিঃসন্দেহ সে সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

Arabic, with marks

فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, নয়তো ভয় পাবে।’’

সমকালীন বাংলা

‘তোমরা তাহার সঙ্গে নম্র কথা বলিবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে অথবা ভয় করিবে।’

জহুরুল হক

''আর তার কাছে তোমরা বল সুরুচিসম্পন্ন কথা, হয়ত বা সে অনুধাবন করবে, অথবা সে ভয় করবে।’’

Arabic, with marks

قَالَا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَن يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَن يَطْغَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আশংকা করছি, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে, কিংবা বিরুদ্ধাচরণে সীমালঙ্ঘন করবে।’

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো আশংকা করি সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করিবে অথবা অন্যায় আচরণে সীমালংঘন করিবে।’

জহুরুল হক

তাঁরা বললেন - - ''আমাদের প্রভু! আমরা অবশ্য আশংকা করছি পাছে সে আমাদের প্রতি আগবেড়ে আক্রমণ করে, অথবা সে সীমা ছাড়িয়ে যায়।’’

Arabic, with marks

قَالَ لَا تَخَافَا ۖ إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: ‘তোমরা ভয় পেয়োনা। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি, শুনছি এবং দেখছি।’

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘তোমরা ভয় করিও না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা দুজনে ভয় করো না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে রয়েছি, আমি শুনছি ও দেখছি।

Arabic, with marks

فَأْتِيَاهُ فَقُولَا إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ ۖ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكَ ۖ وَالسَّلَامُ عَلَىٰ مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তার কাছে যাও এবং বলো: ‘‘আমরা দুজন তোমার প্রভুর রসূল। সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও। তাদের আর শাস্তি দিওনা। আমরা তোমার প্রভুর নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। যারা সঠিক পথের অনুসরণ করে তাদের প্রতি সালাম - শান্তি।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং তোমরা তাহার নিকট যাও এবং বল, ‘আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল, সুতরাং আমাদের সঙ্গে বনী ইস্রাঈলকে যাইতে দাও এবং তাহাদেরকে কষ্ট দিও না, আমরা তো তোমার নিকট আনিয়াছি তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে নিদর্শন এবং শান্তিতাহাদের প্রতি যাহারা অনুসরণ করে সৎপথ।

জহুরুল হক

''সুতরাং তোমরা উভয়ে তার কাছে যাও এবং বলো - - 'আমরা তোমার প্রভুর বার্তাবাহক, তাই আমাদের সঙ্গে ইসরাইলের বংশধরদের পাঠিয়ে দাও, আর তাদের অত্যাচার করো না। আমরা নিশ্চয়ই তোমার কাছে এসেছি তোমার প্রভুর কাছ থেকে নির্দেশ নিয়ে। আর শান্তি তার উপরে যে পথনির্দেশ অনুসরণ করে।

Arabic, with marks

إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদেরকে অহি করে জানানো হয়েছে, আযাব তাদের জন্যে, যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।’’

সমকালীন বাংলা

‘আমাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হইয়াছে যে, শাস্তিতো তাহার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরাইয়া নেয়।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমাদের কাছে অবশ্য প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে যে নিশ্চয় শাস্তি এসে পড়বে তার উপরে যে প্রত্যাখ্যান করে ও ফিরে যায়।’’

Arabic, with marks

قَالَ فَمَن رَّبُّكُمَا يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ফেরাউন) বললো: ‘তোমাদের দুজনের রব কে, হে মূসা?’

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন বলিল, ‘হে মূসা! কে তোমাদের প্রতিপালক?’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তবে কে তোমাদের প্রভু, হে মূসা?’’

Arabic, with marks

قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে তার সৃষ্টিগত আকৃতি দান করেছেন এবং চলার পথ নির্দেশ করেছেন।’

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘আমাদের প্রতিপালক তিনি, যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তাহার আকৃতি দান করিয়াছেন, অতঃপর পথনির্দেশ করিয়াছেন।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমাদের প্রভু তিনি যিনি সব - কিছুকে দিয়েছেন তার সৃষ্টি, তারপর চালিত করেছেন।’’

Arabic, with marks

قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী ?’

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন বলিল, ‘তাহা হইলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী?’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তাহলে পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থা কি হবে?’’

Arabic, with marks

قَالَ عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي فِي كِتَابٍ ۖ لَّا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন না, ভুলেও যাননা।’

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘ইহার জ্ঞান আমার প্রতিপালকের নিকট কিতাবে রহিয়াছে, আমার প্রতিপালক ভুল করেন না এবং বিস্মৃতও হন না।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তার জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে একটি গ্রন্থে রয়েছে, আমার প্রভু ভুল করেন না এবং ভুলেও যান না, - -

Arabic, with marks

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ مَهْدًا وَسَلَكَ لَكُمْ فِيهَا سُبُلًا وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّن نَّبَاتٍ شَتَّىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানার মতো সমতল করে দিয়েছেন, তাতে তোমাদের চলাচলের জন্যে পথ করে দিয়েছেন এবং সেখানে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, আর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ।

সমকালীন বাংলা

‘যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করিয়াছেন বিছানা এবং উহাতে করিয়া দিয়াছেন তোমাদের চলিবার পথ, তিনি আকাশ হইতে বারি বর্ষণ করেন।’ এবং আমি উহা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।

জহুরুল হক

''যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীটাকে করেছেন একটি বিছানা, আর তোমাদের জন্য এতে ছড়িয়ে দিয়েছেন পথসমূহ, আর তিনি আকাশ থেকে পাঠান পানি।’’ তারপর এর দ্বারা আমরা উৎপাদন করি জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন ধরনের গাছপালা।

Arabic, with marks

كُلُوا وَارْعَوْا أَنْعَامَكُمْ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّأُولِي النُّهَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা তা থেকে খাও এবং তাতে তোমাদের গবাদি পশু চরাও। বুদ্ধি - বিবেক সম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।

সমকালীন বাংলা

তোমরা আহার কর ও তোমাদের গবাদিপশু চরাও; অবশ্যই ইহাতে নিদর্শন আছে বিবেকসম্পনবানদের জন্য।

জহুরুল হক

তোমরা খাও আর তোমাদের পশুদের চরাও। নিঃসন্দেহ এই গুলোতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে বিবেকবুদ্ধিসম্পন্নদের জন্য।

Arabic, with marks

۞ مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তা (মাটি) থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফেরত দেবো এবং তা থেকেই তোমাদের পুনরায় খারিজ (বের) করে আনবো।

সমকালীন বাংলা

আমি মৃত্তিকা হইতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, উহাতেই তোমাদেরকে ফিরাইয়া দিব এবং উহা হইতে পুনর্বার তোমাদেরকে বাহির করিব।

জহুরুল হক

''এ থেকে আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, আর এতেই তোমাদের ফিরিয়ে নেব, আর এ থেকেই আমরা তোমাদের বের করে আনব দ্বিতীয় দফায়।’’

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَرَيْنَاهُ آيَاتِنَا كُلَّهَا فَكَذَّبَ وَأَبَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে (ফেরাউনকে) আমাদের সব নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে (সেগুলোকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে।

সমকালীন বাংলা

আমি তো তাহাকে আমার সমস্তনিদর্শন দেখাইয়াছিলাম; কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করিয়াছে ও অমান্য করিয়াছে।

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই তাকে দেখিয়েছিলাম আমাদের নিদর্শনাবলী - - তাদের সব ক’টি, কিন্তু সে প্রত্যাখ্যান করল ও অমান্য করল।

Arabic, with marks

قَالَ أَجِئْتَنَا لِتُخْرِجَنَا مِنْ أَرْضِنَا بِسِحْرِكَ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘হে মূসা! তুমি কি তোমার ম্যাজিকের সাহায্যে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্যে এসেছো?

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘হে মূসা! তুমি কি আমাদের নিকট আসিয়াছ তোমার জাদু দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ হইতে বহিষ্কার করিয়া দিবার জন্য?

জহুরুল হক

সে বললে - - ''হে মূসা! তুমি কি আমাদের কাছে এসেছ তোমার জাদুর দ্বারা আমাদের দেশ থেকে আমাদের বিতাড়িত করতে?

Arabic, with marks

فَلَنَأْتِيَنَّكَ بِسِحْرٍ مِّثْلِهِ فَاجْعَلْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ مَوْعِدًا لَّا نُخْلِفُهُ نَحْنُ وَلَا أَنتَ مَكَانًا سُوًى

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাও অনুরূপ ম্যাজিক উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের এবং তোমার মাঝে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করো, যেটি আমরাও লঙ্ঘন করবোনা, তুমিও লঙ্ঘন করবেনা। সেটি হতে হবে মধ্যবর্তী স্থান।’’

সমকালীন বাংলা

‘আমরাও অবশ্যই তোমার নিকট উপস্থিত করিব ইহার অনুরূপ জাদু, সুতরাং আমাদের ও তোমার মধ্যে নির্ধারণ কর এক নির্দিষ্ট সময় এক মধ্যবর্তী স্থানে, যাহার ব্যতিক্রম আমরাও করিব না এবং তুমিও করিবে না।’

জহুরুল হক

তাহলে আমরাও আলবৎ তোমার কাছে নিয়ে আসছি এরই মতো জাদু, সুতরাং আমাদের মধ্যে ও তোমার মধ্যে একটি স্থানকাল ধার্য হোক যা আমরা ভাঙব না, - - আমরাও না আর তুমিও না, - - এক মধ্যস্থ জায়গায়।’’

Arabic, with marks

قَالَ مَوْعِدُكُمْ يَوْمُ الزِّينَةِ وَأَن يُحْشَرَ النَّاسُ ضُحًى

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘সেই প্রতিশ্রুত সময়টি হলো উৎসবের দিন এবং সেদিন পূর্বা‎হ্ন থেকেই জনগণকে সমবেত করা হবে।’

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘তোমাদের নির্ধারিত সময় উৎসবের দিন এবং যেই দিন পূর্বাহেড়ব জনগণকে সমবেত করা হইবে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমাদের নির্ধারিত দিনক্ষণ হোক উৎসবের দিন, আর লোকজন যেন জমায়েৎ হয় সকালের দিকে।’’

Arabic, with marks

فَتَوَلَّىٰ فِرْعَوْنُ فَجَمَعَ كَيْدَهُ ثُمَّ أَتَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন (একথার উপর) উঠে গেলো, তার সমস্ত কৌশল (ম্যাজিক ও ম্যাজেসিয়ানকে) জমা করলো। তারপর (নির্ধারিত দিনে) হাজির হলো।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ফির‘আওন উঠিয়া গেল এবং পরে তাহার কৌশলসমূহ একত্র করিল, অতঃপর আসিল।

জহুরুল হক

তারপর ফিরআউন উঠে গেল এবং তার ফন্দি আটঁলো, তারপর সে ফিরে এল।

Arabic, with marks

قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ وَيْلَكُمْ لَا تَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا فَيُسْحِتَكُم بِعَذَابٍ ۖ وَقَدْ خَابَ مَنِ افْتَرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা তাদের বললো: ‘ধ্বংস হও তোমরা, তোমরা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করোনা, তা করলে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। (এ যাবত) যারাই মিথ্যা রচনা করেছে, তারাই ব্যর্থকাম হয়েছে।’

সমকালীন বাংলা

মূসা উহাদেরকে বলিল, ‘দুর্ভোগ তোমাদের! তোমরা প্রতি মিথ্যা আরোপ করিও না। করিলে, তিনি তোমাদেরকে শাস্তিদ্বারা সমূলে ধ্বংস করিবেন। যে মিথ্যা উদ্ভাবন করিয়াছে সে - ই ব্যর্থ হইয়াছে।’

জহুরুল হক

মূসা তাদের বললেন - - ''ধিক্ তোমাদের! ‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না, পাছে তিনি তোমাদের শাস্তি দিয়ে ধ্বংস করেন, আর যে মিথ্যা রচনা করে সে আলবৎ ব্যর্থ হয়।’’

Arabic, with marks

فَتَنَازَعُوا أَمْرَهُم بَيْنَهُمْ وَأَسَرُّوا النَّجْوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

(একথা শুনে) তারা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং গোপনে পরামর্শ করে।

সমকালীন বাংলা

উহারা নিজেদের মধ্যে নিজেদের কর্ম সম্বন্ধে বিতর্ক করিল এবং উহারা গোপনে পরামর্শ করিল।

জহুরুল হক

তারপর তারা তাদের নিজেদের মধ্যে তাদের কর্তব্য সন্বন্ধে পর্যালোচনা করল, আর সেই আলোচনাটা গোপন রাখল।

Arabic, with marks

قَالُوا إِنْ هَٰذَانِ لَسَاحِرَانِ يُرِيدَانِ أَن يُخْرِجَاكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيقَتِكُمُ الْمُثْلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ জনগণের উদ্দেশ্যে) বললো: ‘‘এরা দুই ভাই দুই পাক্কা ম্যাজেসিয়ান। তারা তাদের ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তোমাদের অনুকরণীয় জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে চায়।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘এই দুইজন অবশ্যই জাদুকর, তাহারা চাহে তাহাদের জাদু দ্বারা তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হইতে বহিষ্কার করিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন - ব্যবস্থা ধ্বংস করিতে।

জহুরুল হক

তারা বলাবলি করলে - - ''এ দুজন নিশ্চয়ই তো দুই জাদুকর যারা চাইছে তাদের জাদু দিয়ে তোমাদের দেশ থেকে তোমাদের বিতাড়িত করতে, আর তোমাদের উৎকৃষ্ট আচার - অনুষ্ঠানকে বিনাশ করতে।

Arabic, with marks

فَأَجْمِعُوا كَيْدَكُمْ ثُمَّ ائْتُوا صَفًّا ۚ وَقَدْ أَفْلَحَ الْيَوْمَ مَنِ اسْتَعْلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

অতএব (হে ম্যাজেসিয়ানরা!) তোমরা তোমাদের সমস্ত কৌশল জমা করো, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। আজ যে জয়ী হবে, সে - ই হবে সফল।’’

সমকালীন বাংলা

‘অতএব তোমরা তোমাদের জাদু ক্রিয়া সংহত কর, অতঃপর সারিবদ্ধ হইয়া উপস্থিত হও এবং যে আজ জয়ী হইবে সে - ই সফল হইবে।’

জহুরুল হক

''সুতরাং তোমাদের ফন্দি - ফিকির ঠিক করে নাও, তারপর চলে এস সারি বেঁধে, আর সেই আজ বিজয় লাভ করবে যে উপর - হাত হতে পারবে।’’

Arabic, with marks

قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِمَّا أَن تُلْقِيَ وَإِمَّا أَن نَّكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা (ম্যাজেসিয়ানরা) বললো: ‘হে মূসা! হয় আপনি নিক্ষেপ করুন, নয়তো পয়লা আমরাই নিক্ষেপ করি।’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা প্রথমে আমরাই নিক্ষেপ করি।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''হে মূসা! তুমিই কি ছুড়ঁবে, না আমরাই হব প্রথমকার যে ছুড়ঁবে?’’

Arabic, with marks

قَالَ بَلْ أَلْقُوا ۖ فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِن سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো।’ তাদের ম্যাজিকের প্রভাবে মূসার খেয়াল (মনে) হলো, তাদের সব দড়ি এবং লাঠি ছুটাছুটি করছে।

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।’ উহাদের জাদু - প্রভাবে অকস্মাৎ মূসার মনে হইল উহাদের দড়ি ও লাঠিগুলি ছুটাছুটি করিতেছে।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''না, তোমরাই ছোঁড়ো।’’ তখন দেখো! তাদের দড়িদড়া ও তাদের লাঠি - লগুড় তাদের সম্মোহনের ফলে তাঁর কাছে মনে হচ্ছিল যে সেগুলো ঠিকঠিকই দৌড়চ্ছে।

Arabic, with marks

فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُّوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে, মূসা তার মনে কিছুটা ভয় অনুভব করলো।

সমকালীন বাংলা

মূসা তাহার অন্তরে কিছু ভীতি অনুভব করিল।

জহুরুল হক

ফলে মূসা তাঁর অন্তরে ভীতি অনুভব করলেন।

Arabic, with marks

قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা বললাম: ‘‘ভয় পেয়োনা, তুমিই থাকবে উপরে।

সমকালীন বাংলা

আমি বলিলাম, ‘ভয় করিও না, তুমিই প্রবল।’

জহুরুল হক

আমরা বললাম - - ''ভয় করো না, তুমি নিজেই হবে উপরহাত।

Arabic, with marks

وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا ۖ إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ ۖ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার ডান হাতে যা আছে সেটি নিক্ষেপ করো, তারা যা করেছে সেটি সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে সেটা তো ম্যাজিসিয়ানদের কৌশলমাত্র। ম্যাজেসিয়ানরা যা - ই উপস্থাপন করুক, সফল হয়না।’’

সমকালীন বাংলা

‘তোমার দক্ষিণ হস্তে যাহা আছে তাহা নিক্ষেপ কর, ইহা উহারা যাহা করিয়াছে তাহা গ্রাস করিয়া ফেলিবে। উহারা যাহা করিয়াছে তাহা তো কেবল জাদুকরের কৌশল। জাদুকর যেখানেই আসুক, সফল হইবে না।’

জহুরুল হক

''আর তোমার ডান হাতে যা আছে তা ছোঁড়ো, এটি খেয়ে ফেলবে তারা যা বানিয়েছে। নিঃসন্দেহ তারা বানিয়েছে জাদুকরের ভেলকিবাজি। আর জাদুকর কখনো সফল হবে না যেখান থেকেই সে আসুক।’’

Arabic, with marks

فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ هَارُونَ وَمُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

(তাদের সমস্ত জাদুক্রিয়া নিষ্ক্রীয় হয়ে যেতে দেখে) ম্যাজিসিয়ানরা সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়লো। তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম হারূণ এবং মূসার প্রভুর প্রতি।’

সমকালীন বাংলা

অতঃপর জাদুকরেরা সিজ্দাবনত হইল ও বলিল, ‘আমরা হারূন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিলাম।’

জহুরুল হক

তারপর জাদুকররা লুটিয়ে পড়ল সিজদাবনত হয়ে, তারা বললেন - - ''আমরা ঈমান আনলাম হারূন ও মূসার প্রভুর প্রতি।’’

Arabic, with marks

قَالَ آمَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ ۖ فَلَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ وَلَتَعْلَمُنَّ أَيُّنَا أَشَدُّ عَذَابًا وَأَبْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

(ফেরাউন) বললো: ‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোরা মূসার প্রতি ঈমান এনেছিস? বুঝতে পেরেছি, সে তোদের গুরু, সে - ই তোদের ম্যাজিক শিখিয়েছে। আমি তোদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো এবং খেজুর গাছের কান্ডে তোদের শূলবিদ্ধ করবো, তখন তোরা জানতে পারবি, আমাদের দুইজনের (আমার আর মূসার) মধ্যে কে কঠোর এবং স্থায়ী শাস্তিদাতা?’

সমকালীন বাংলা

ফির‘আওন বলিল, ‘কী, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়ার পূর্বেই তোমরা মূসাতে বিশ্বাস স্থাপন করিলে! দেখিতেছি, সে তো তোমাদের প্রধান, সে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়াছে। সুতরাং আমি তো তোমাদের হস্তপদ বিপরীত দিক হইতে কর্তন করিবই এবং আমি তোমাদেরকে খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ডে শূলবিদ্ধ করিবই এবং তোমরা অবশ্যই জানিতে পারিবে আমাদের মধ্যে কাহার শাস্তি কঠোরতর ও অধিক স্থায়ী।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''তোমরা তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলে আমি তোমাদের অনুমতি দেবার আগেই? সে - ই দেখছি তবে তোমাদের জাদুবিদ্যা শিখিয়েছে। কাজেই আমি নিশ্চয় তোমাদের হাত ও তোমাদের পা আড়াআড়িভাবে কেটে ফেলবই, আর আমি অবশ্যই তোমাদের শূলে চড়াব খেজুর গাছের কান্ডে, আর তোমরা অবশ্যই জানতে পারবে আমাদের মধ্যে কার দেওয়া শাস্তি বেশী কঠোর ও দীর্ঘস্থায়ী।’’

Arabic, with marks

قَالُوا لَن نُّؤْثِرَكَ عَلَىٰ مَا جَاءَنَا مِنَ الْبَيِّنَاتِ وَالَّذِي فَطَرَنَا ۖ فَاقْضِ مَا أَنتَ قَاضٍ ۖ إِنَّمَا تَقْضِي هَٰذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘আমাদের কাছে যেসব স্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ হয়েছে এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারিনা। তুমি যে ফায়সালা করতে চাও করো। তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের উপরই ফায়সালা করতে পারবে।

সমকালীন বাংলা

তাহারা বলিল, ‘আমাদের নিকট যে স্পষ্ট নিদর্শন আসিয়াছে তাহার উপর এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন তাঁহার উপর তোমাকে আমরা কিছুতেই প্রাধান্য দিব না। সুতরাং তুমি কর যাহা তুমি করিতে চাও। তুমি তো কেবল এই পার্থিব জীবনের উপর কর্তৃত্ব করিতে পার।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা কখনই তোমাকে অধিকতর গুরুত্ব দেব না সুস্পষ্ট প্রমাণের যা আমাদের কাছে এসেছে ও যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন সে - সবের উপরে, কাজেই রায় দাও তুমি যা রায় দিতে চাও। তুমি তো রায় দিতে পার কেবল এই দুনিয়ার জীবন সন্বন্ধে।

Arabic, with marks

إِنَّا آمَنَّا بِرَبِّنَا لِيَغْفِرَ لَنَا خَطَايَانَا وَمَا أَكْرَهْتَنَا عَلَيْهِ مِنَ السِّحْرِ ۗ وَاللَّهُ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে করে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন আর তুমি আমাদেরকে যে ম্যাজিক দেখাতে বাধ্য করেছো সেই অপরাধও। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।’’

সমকালীন বাংলা

‘আমরা নিশ্চয়ই আমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিয়াছি যাহাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধ এবং তুমি আমাদেরকে যে জাদু করিতে বাধ্য করিয়াছ তাহা। আর শ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।’

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি, যাতে তিনি ক্ষমা করেন আমাদের অপরাধসমূহ আব যেসব জাদুর প্রতি তুমি আমাদের বাধ্য করেছিলে। আর ‌ই সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী।’’

Arabic, with marks

إِنَّهُ مَن يَأْتِ رَبَّهُ مُجْرِمًا فَإِنَّ لَهُ جَهَنَّمَ لَا يَمُوتُ فِيهَا وَلَا يَحْيَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে কেউ তার প্রভুর কাছে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে, তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, আর (বাঁচার মতো) বাঁচবেওনা।

সমকালীন বাংলা

যে তাহার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হইয়া উপস্থিত হইবে তাহার জন্য তো আছে জাহান্নাম, সেখানে সে মরিবেও না, বাঁচিবেও না।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যে কেউ তার প্রভুর কাছে আসে অপরাধী হয়ে তার জন্য তবে তো রয়েছে জাহান্নাম। সে সেখানে মরবে না, আর সে বাঁচবেও না।

Arabic, with marks

وَمَن يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَٰئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যে কেউ তাঁর কাছে উপস্থিত হবে হিসেবে আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে নির্ধারিত আছে উঁচু মর্যাদাসমূহ,

সমকালীন বাংলা

এবং যাহারা তাঁহার নিকট উপস্থিত হইবে মু’মিনঅবস্থায় সৎকর্ম করিয়া, তাহাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদা -

জহুরুল হক

আর যে কেউ তাঁর কাছে আসে হয়ে সে সৎকাজও করেছে, তাহলে এরাই - - এদের জন্যেই রয়েছে অত্যুচ্চ মর্যাদা -

Arabic, with marks

جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ مَن تَزَكَّىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার নীচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। যারা আত্মোন্নয়ন - আত্মশুদ্ধি করবে, এ পুরস্কার পাবে তারাই।

সমকালীন বাংলা

স্থায়ী জান্নাত, যাহার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাহারা স্থায়ী হইবে এবং এই পুরস্কার তাহাদেরই, যাহারা পবিত্র।

জহুরুল হক

নন্দন কানন, তার নিচ দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। আর এটিই হচ্ছে পুরস্কার তার জন্য যে পবিত্র করেছে।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ أَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَسْرِ بِعِبَادِي فَاضْرِبْ لَهُمْ طَرِيقًا فِي الْبَحْرِ يَبَسًا لَّا تَخَافُ دَرَكًا وَلَا تَخْشَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা মূসাকে অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমার দাসদের নিয়ে তুমি রাতের বেলায় বের হবে এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে একটি শুকনো পথ তৈরি করে নেবে। পেছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে - এই আশংকা করোনা এবং (সাগর পার হতে গিয়ে) ভয়ও পেয়োনা।

সমকালীন বাংলা

আমি অবশ্যই মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ করিয়াছিলাম এই মর্মে যে, আমার বান্দাদেরকে লইয়া রজনীযোগে বহির্গত হও এবং তাহাদের জন্য সমুদ্রের মধ্য দিয়া এক শুষ্ক পথ নির্মাণ কর। পশ্চাৎ হইতে আসিয়া তোমাকে ধরিয়া ফেলা হইবে - এই আশংকা করিও না এবং ভয়ও করিও না।

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই মূসার প্রতি প্রত্যাদেশ দিয়েছিলাম এই বলে - - ''আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে চলে যাও, আর তাদের জন্য সাগরের মধ্য দিয়ে একটি শুকনো পথ ভেঙ্গে চল, ধরা পড়ার আশংকা করো না, আর ভয় করো না।’’

Arabic, with marks

فَأَتْبَعَهُمْ فِرْعَوْنُ بِجُنُودِهِ فَغَشِيَهُم مِّنَ الْيَمِّ مَا غَشِيَهُمْ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে, তারপর সমুদ্র তাদের ডুবিয়ে নেয় পুরোপুরি।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর ফির‘আওন তাহার সৈন্যবাহিনীসহ তাহাদের পশ্চাদ্ধাবন করিল, অতঃপর সমুদ্র উহাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করিল।

জহুরুল হক

অতঃপব ফিরআউন তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে তাদের পশ্চাদ্বাবন করল, তখন সাগর থেকে তাদের ডুবিয়ে দিল যা তাদের ডুবিয়েছিল।

Arabic, with marks

وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَهُ وَمَا هَدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফেরাউন তার কওমকে বিপথগামী করে দিয়েছিল এবং সঠিক পথ দেখায়নি।

সমকালীন বাংলা

আর ফির‘আওন তাহার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করিয়াছিল এবং সৎপথ দেখায় নাই।

জহুরুল হক

আর ফিরআউন তার লোকজনকে পথভ্রান্ত করেছিল, আর সে সৎপথে চালায় নি।

Arabic, with marks

يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ قَدْ أَنجَيْنَاكُم مِّنْ عَدُوِّكُمْ وَوَاعَدْنَاكُمْ جَانِبَ الطُّورِ الْأَيْمَنَ وَنَزَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে বনি ইসরাঈল! তোমাদের দুশমনদের কবল থেকে আমরাই তোমাদের নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তুর পাহাড়ের ডান পাশে আর তোমাদের প্রতি আমরা নাযিল করেছি মান্না এবং সালওয়া।

সমকালীন বাংলা

হে বনী ইসরাঈল! আমি তো তোমাদেরকে শত্রু হইতে উদ্ধার করিয়াছিলাম, আমি তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ পার্শ্বে এবং তোমাদের নিকট মান্না ও সাল্ওয়া প্রেরণ করিয়াছিলাম,

জহুরুল হক

হে ইসরাইলের বংশধরগণ! আমরা নিশ্চয় তোমাদের উদ্ধার করেছিলাম তোমাদের শত্রুদের থেকে, আর আমরা তোমাদের সঙ্গে একটি ওয়াদা করেছিলাম পর্বতের ডান পার্শ্বে, আর তোমাদের নিকট আমরা পাঠিয়েছিলাম মান্না ও সালওয়া - -

Arabic, with marks

كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَلَا تَطْغَوْا فِيهِ فَيَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبِي ۖ وَمَن يَحْلِلْ عَلَيْهِ غَضَبِي فَقَدْ هَوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

(আমরা তোমাদের বলেছি:) আমাদের দেয়া উত্তম জীবিকা তোমরা খাও এবং এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করোনা, করলে তোমাদের প্রতি আমার গজব নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যার প্রতিই আমার গজব নিশ্চিত হয়ে পড়ে, সে তো হয়ে যায় ধ্বংস।

সমকালীন বাংলা

তোমাদেরকে যাহা দান করিয়াছি তাহা হইতে ভাল ভাল বস্তু আহার কর এবং এই বিষয়ে সীমালংঘন করিও না, করিলে তোমাদের উপর আমার ক্রোধ অবধারিত এবং যাহার উপর আমার ক্রোধ অবধারিত সে তো ধ্বংস হইয়া যায়।

জহুরুল হক

''আমরা তোমাদের যা রিযেক দান করেছি তা থেকে ভাল ভাল বস্তু খাওয়া - দাওয়া করো, আর এতে সীমা ছাড়িয়ে যেও না, পাছে আমার ক্রোধ তোমাদের উপরে অবধারিত হয়ে যায়, আর যার উপরে আমার ক্রোধ অবধারিত হয় সে তো তাহলে ধ্বংস হয়ে যায়।

Arabic, with marks

وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِّمَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

যে তওবা করে, ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে এবং হিদায়াতের পথে চলে অবশ্যি আমি তার জন্যে অনন্ত ক্ষমাশীল।

সমকালীন বাংলা

এবং আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তাহার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচলিত থাকে।

জহুরুল হক

''আর নিঃসন্দেহ আমি তো পরম পরিত্রাণকারী তার জন্য যে ফেরে ও বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম কবে, তারপব সঠিক পথে চলে।’’

Arabic, with marks

۞ وَمَا أَعْجَلَكَ عَن قَوْمِكَ يَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার কওমকে সাথে আনার ক্ষেত্রে তোমাকে তাড়াহুড়ায় ফেললো কোন্ জিনিস হে মূসা?

সমকালীন বাংলা

হে মূসা! তোমার সম্প্রদায়কে পশ্চাতে ফেলিয়া তোমাকে ত্বরা করিতে বাধ্য করিল কিসে?

জহুরুল হক

''আর হে মূসা, কি তোমাকে তোমার লোকদের থেকে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসেছে?’’

Arabic, with marks

قَالَ هُمْ أُولَاءِ عَلَىٰ أَثَرِي وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তারা পেছনেই আছে আর আমি তাড়াহুড়া করে এসেছি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে হে প্রভু!’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘এই তো উহারা আমার পশ্চাতে এবং হে আমার প্রতিপালক! আমি ত্বরায় তোমার নিকট আসিলাম, তুমি সন্তুষ্ট হইবে এইজন্য।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''ঐ তো তারা আমার অনুসরণে রয়েছে, আর হে প্রভু! আমি তাড়াতাড়ি তোমার কাছে এসেছি, যেন তুমি সন্তষ্ট হও।’’

Arabic, with marks

قَالَ فَإِنَّا قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِن بَعْدِكَ وَأَضَلَّهُمُ السَّامِرِيُّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বললেন: আমরা তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর। আর তাদের বিপথগামী করেছে সামেরি।

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘আমি তো তোমার সম্প্রদায়কে পরীক্ষায় ফেলিয়াছি তোমার চলিয়া আসার পর এবং সামিরী উহাদেরকে পথভ্রষ্ট করিয়াছে।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমরা কিন্তু তোমার পরে তোমার লোকদের তো সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছি, কারণ সামিরী তাদের বিপথে নিয়েছে।’’

Arabic, with marks

فَرَجَعَ مُوسَىٰ إِلَىٰ قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا ۚ أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ الْعَهْدُ أَمْ أَرَدتُّمْ أَن يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُم مَّوْعِدِي

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন মূসা তার কওমের কাছে ফিরে এলো ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে। এসে তাদের বললো: ‘হে আমার কওম! তোমাদের প্রভু কি তোমাদের একটি উত্তম ওয়াদা দেননি? ওয়াদার সময়কাল কি তোমাদের কাছে সুদীর্ঘ হয়েছে, নাকি তোমরা চাও তোমাদের প্রভুর গজব (ক্রোধ) তোমাদের উপর হালাল হয়ে যাক? আর সে কারণেই কি তোমরা আমার প্রতি দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করলে?’

সমকালীন বাংলা

অতঃপর মূসা তাহার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরিয়া গেল ক্রোধান্নিত ও ক্ষুব্ধ হইয়া। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেন নাই? তবে কি প্রতিশ্রুতিকাল তোমাদের নিকট সুদীর্ঘ হইয়াছে, না তোমরা চাহিয়াছ তোমাদের প্রতি আপতিত হউক তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ, যে কারণে তোমরা আমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করিলে?’

জহুরুল হক

তখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলেন ত্রুদ্ধ ও ক্ষুদ্ধ হয়ে। তিনি বললেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রভু কি তোমাদের সাথে ওয়াদা করেন নি এক উৎকৃষ্ট ওয়াদা? তবে কি প্রতি‌শ্রুত সময় তোমাদের জন্য দীর্ঘ মনে হয়েছিল, না তোমরা চেয়েছিলে যে তোমাদের প্রভুর শাস্তি তোমাদের উপরে অবধারিত হোক, যার জন্য তোমরা আমাকে দেওয়া ওয়াদার খেলাফ করেছ?’’

Arabic, with marks

قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا وَلَٰكِنَّا حُمِّلْنَا أَوْزَارًا مِّن زِينَةِ الْقَوْمِ فَقَذَفْنَاهَا فَكَذَٰلِكَ أَلْقَى السَّامِرِيُّ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বললো: ‘‘আমরা তোমার প্রতি দেয়া ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি। বরং আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কওমের অলংকারের বোঝা। তখন আমরা সেগুলো অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করি। একইভাবে সামেরিও নিক্ষেপ করে।

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিল, ‘আমরা তোমার প্রতি প্রদত্ত অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করি নাই ; তবে আমাদের উপর চাপাইয়া দেওয়া হইয়াছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা উহা অগ্নিকুন্ড নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামিরীও নিক্ষেপ করে।

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা নিজেদের থেকে তোমাকে দেওয়া ওয়াদার খেলাফ করি নি, কিন্তু আমাদের উপরে লোকেদের অলংকারের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল আমরা সে - সব ফেলে দিই, আর এভাবেই সামিরী বাতলেছিল।’’

Arabic, with marks

فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَٰذَا إِلَٰهُكُمْ وَإِلَٰهُ مُوسَىٰ فَنَسِيَ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে (সামেরি) তাদের জন্যে গড়ে নিলো একটি গো - বাছুরের অবয়ব যা হাম্বা করছিল। তখন তারা বললো: ‘‘এটাই তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু সে (মূসা) ভুলে গেছে (তার এই ইলাহকে)।’’

সমকালীন বাংলা

‘অতঃপর সে উহাদের জন্য গড়িল এক গো - বৎস, এক অবয়ব, যাহা হাম্বা রব করিত।’ উহারা বলিল, ‘ইহা তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু মূসা ভুলিয়া গিয়াছে।’

জহুরুল হক

তারপর সে তাদের জন্য এক গরুর গঠন করল - - এক কায়া মাত্র, ফাঁকা আওয়াজ ছিল তার, আর তারা বলেছিল - - ''এটিই তোমাদের খোদা ও মূসারও খোদা, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন!’’

Arabic, with marks

أَفَلَا يَرَوْنَ أَلَّا يَرْجِعُ إِلَيْهِمْ قَوْلًا وَلَا يَمْلِكُ لَهُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, সেটা তাদের কথায় সাড়া দেয়না এবং তাদের কোনো ক্ষতি কিংবা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেনা।

সমকালীন বাংলা

তবে কি উহারা ভাবিয়া দেখে না যে, উহা তাহাদের কথায় সাড়া দেয় না এবং তাহাদের কোন ক্ষতি অথবা উপকার করিবার ক্ষমতা রাখে না?

জহুরুল হক

তারা কি তবে দেখে নি যে এটি তাদের প্রতি কথার জবাব দিত না, আর তার কোনো ক্ষমতা ছিল না তাদের ক্ষতি করবার, আর ছিল না উপকার করবাব?

Arabic, with marks

وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِن قَبْلُ يَا قَوْمِ إِنَّمَا فُتِنتُم بِهِ ۖ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَٰنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে হারূণও তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! এই গো - বাছুরের মাধ্যমে তো তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু পরম দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ পালন করো।’

সমকালীন বাংলা

হারূন উহাদেরকে পূর্বেই বলিয়াছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! ইহা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হইয়াছে। তোমাদের প্রতিপালক তো দয়াময়; সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মানিয়া চল।’

জহুরুল হক

আর অবশ্য হারূন এর আগে তাদের বলেছিলেন - - ''হে আমার সম্প্রদায়! নিঃসন্দেহ তোমরা এর দ্বারা সংকটের মধ্যে পড়েছ, আর তোমাদের প্রভু তো পরম করুণাময়, সেজন্য আমার অনুসরণ করো এবং আমার নির্দেশ পালন করো।’’

Arabic, with marks

قَالُوا لَن نَّبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّىٰ يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

জবাবে তারা বলেছিল: ‘মূসা আমাদের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এটিকে পূজা করা থেকে কিছুতেই বিরত হবোনা।’

সমকালীন বাংলা

উহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের নিকট মূসা ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত আমরা ইহার পূজা হইতে কিছুতেই বিরত হইব না।’

জহুরুল হক

তারা বললে - - ''আমরা কিছুতেই একে ঘিরে বসে থাকা ছেড়ে দেব না যে পর্যন্ত না মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসেন।’’

Arabic, with marks

قَالَ يَا هَارُونُ مَا مَنَعَكَ إِذْ رَأَيْتَهُمْ ضَلُّوا

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘হে হারূণ! তাদেরকে বিপথগামী হতে দেখা সত্ত্বেও কিসে আপনাকে বিরত রাখলো

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘হে হারূন! তুমি যখন দেখিলে উহারা পথভ্রষ্ট হইয়াছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করিল -

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে হারূন! কিসে তোমাকে নিষেধ করেছিল যখন তাদের দেখলে তারা বিপথে যাচ্ছে - -

Arabic, with marks

أَلَّا تَتَّبِعَنِ ۖ أَفَعَصَيْتَ أَمْرِي

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার অনুসরণ করা থেকে? তবে কি আপনি আমার আদেশ অমান্য করলেন?’’

সমকালীন বাংলা

‘আমার অনুসরণ করা হইতে? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করিলে?’

জহুরুল হক

''যে জন্যে তুমি আমার অনুসরণ করো না? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করলে?’’

Arabic, with marks

قَالَ يَا ابْنَ أُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي ۖ إِنِّي خَشِيتُ أَن تَقُولَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِي

আবদুস শহীদ নাসিম

হারূণ বললো: ‘হে আমার মায়ের পেটের ভাই! তুমি আমার দাড়ি এবং চুল ধরোনা। আমি আশংকা করেছিলাম, তুমি বলবে: তুমি বনি ইসরাঈলিদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’

সমকালীন বাংলা

হারূন বলিল, ‘হে আমার সহোদর! আমার শ্মশ্রু ও কেশ ধরিও না। আমি আশংকা করিয়াছিলাম যে, তুমি বলিবে, ‘তুমি বনী ইসরাঈলদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়াছ ও তুমি আমার বাক্য পালনে যত্নবান হও নাই।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''হে আমার সহোদর! আমার দাড়ি পাকড়ো না আর আমার মাথাও না, নিঃসন্দেহ আমি ভয় করেছিলাম পাছে তুমি বলো - - 'ইসরাইলের বংশধরদের মধ্যে তুমি বিভেদ ঘটিয়েছ এবং আমার কথার অপেক্ষা করো নি’।’’

Arabic, with marks

قَالَ فَمَا خَطْبُكَ يَا سَامِرِيُّ

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘সামেরি! তোমার ব্যাপারটা কী?’

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘হে সামিরী! তোমার ব্যাপার কী?’

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তবে তোমার কি বক্তব্য, হে সামিরী?’’

Arabic, with marks

قَالَ بَصُرْتُ بِمَا لَمْ يَبْصُرُوا بِهِ فَقَبَضْتُ قَبْضَةً مِّنْ أَثَرِ الرَّسُولِ فَنَبَذْتُهَا وَكَذَٰلِكَ سَوَّلَتْ لِي نَفْسِي

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা তারা দেখেনি। তখন আমি সেই রসূলের (জিবরিলের) পদচি‎হ্ন থেকে এক মুষ্টি (ধূলো) নিয়েছিলাম এবং তা নিক্ষেপ করেছিলাম, এ কাজটির জন্যে আমার নফস আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’

সমকালীন বাংলা

সে বলিল, ‘আমি দেখিয়াছিলাম যাহা উহারা দেখে নাই, অতঃপর আমি সেই দূতের পদচিহ্ন হইতে একমুষ্টি লইয়াছিলাম এবং আমি উহা নিক্ষেপ করিয়াছিলাম; আমার মন আমার জন্য শোভন করিয়াছিল এইরূপ করা।’

জহুরুল হক

সে বললে - - ''আমি দেখেছিলাম যা তারা দেখতে পায় নি, তাই আমি রসূলের পদচিহ্ন থেকে মুষ্টি - পরিমাণ মুঠোয় ধরেছিলাম, কিন্তু আমি তা বিসর্জন দিয়েছিলাম, আর আমার মন আমার জন্য এইভাবে করাটাই উপযুক্ত ঠাওরেছিল।’’

Arabic, with marks

قَالَ فَاذْهَبْ فَإِنَّ لَكَ فِي الْحَيَاةِ أَن تَقُولَ لَا مِسَاسَ ۖ وَإِنَّ لَكَ مَوْعِدًا لَّن تُخْلَفَهُ ۖ وَانظُرْ إِلَىٰ إِلَٰهِكَ الَّذِي ظَلْتَ عَلَيْهِ عَاكِفًا ۖ لَّنُحَرِّقَنَّهُ ثُمَّ لَنَنسِفَنَّهُ فِي الْيَمِّ نَسْفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

মূসা বললো: ‘‘যাও, তোমার জন্যে জীবদ্দশায় এই শাস্তি নির্ধারিত হলো যে, তুমি সব সময় বলতে থাকবে: ‘আমাকে স্পর্শ করোনা,’ তোমার জন্যে নির্ধারিত হলো একটি নির্দিষ্টকাল, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবেনা। তোমার ইলাহ্টির (দেবতাটির) প্রতি তাকাও, তুমি যার পূজা করতে, আমরা অবশ্যি সেটিকে পুড়ে ফেলবো এবং বিক্ষিপ্ত করে সেটিকে নিক্ষেপ করবো সাগরে।

সমকালীন বাংলা

মূসা বলিল, ‘দূর হও; তোমার জীবদ্দশায় তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি বলিবে, ‘আমি অস্পৃশ্য’, এবং তোমার জন্য রহিল এক নির্দিষ্ট কাল, তোমার বেলায় যাহার ব্যতিক্রম হইবে না এবং তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যাহার পূজায় তুমি রত ছিলে; আমরা উহাকে জ্বালাইয়া দিবই, অতঃপর উহাকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাগরে নিক্ষেপ করিবই।’

জহুরুল হক

তিনি বললেন, ''তবে দূর হও, নিঃসন্দেহ তোমার জীবদ্দশায় তবে এটিই রইল যে তুমি বলবে, 'ছুয়াঁছুঁয়ি নেই।’ আর নিঃসন্দেহ তোমার জন্য রয়েছে একটি ওয়াদা - - তোমাদের জন্য কখনো তার খেলাফ হবে না। আর তোমার উপাস্যের দিকে তাকাও যাকে ঘিরে বসে থেকে তুমি পূজো করতে। আমরা অবশ্যই এটি পুড়ে ফেলব, তারপর নিশ্চয়ই এটিকে ছিটিয়ে দেব সাগরে ছুঁড়ে ছুঁড়ে।’’

Arabic, with marks

إِنَّمَا إِلَٰهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ্ একমাত্র যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত।’’

সমকালীন বাংলা

তোমাদের ইলাহ্ তো কেবল যিনি ব্যতীত অন্য কোন নাই, তাঁহার জ্ঞান সর্ববিষয়ে ব্যাপ্ত।

জহুরুল হক

তোমাদের উপাস্য তো কেবল ‌, তিনিই তো, তিনি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই। তিনি সবকিছু বেষ্টন করে আছেন জ্ঞানের দ্বারা।

Arabic, with marks

كَذَٰلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ ۚ وَقَدْ آتَيْنَاكَ مِن لَّدُنَّا ذِكْرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই আমরা তোমাকে অতীত সংবাদের বিবরণ দিচ্ছি, আর এ উদ্দেশ্যে আমরা তোমাকে দিয়েছি একটি যিকির (কুরআন)।

সমকালীন বাংলা

পূর্বে যাহা ঘটিয়াছে তাহার সংবাদ আমি এইভাবে তোমার নিকট বিবৃত করি এবং আমি আমার নিকট হইতে তোমাকে দান করিয়াছি উপদেশ,

জহুরুল হক

এইভাবেই আমরা তোমার কাছে বিবৃত করি যা ইতিপূর্বে ঘটছে তার সংবাদ, আর আমরা নিশ্চয় তোমাকে দিয়েছি আমাদের কাছ থেকে এক স্মারক - গ্রন্থ।

Arabic, with marks

مَّنْ أَعْرَضَ عَنْهُ فَإِنَّهُ يَحْمِلُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وِزْرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যে এ গ্রন্থ থেকে মুখ ফেরাবে, সে কিয়ামতের দিন বহন করবে এক বিশাল বোঝা।

সমকালীন বাংলা

ইহা হইতে যে বিমুখ হইবে সে অবশ্যই কিয়ামতের দিন মহাভার বহন করিবে।

জহুরুল হক

যে কেউ এ থেকে বিমুখ হবে সে - ই তো তবে কিয়ামতের দিনে বহন করবে বোঝা,

Arabic, with marks

خَالِدِينَ فِيهِ ۖ وَسَاءَ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حِمْلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

চিরদিন তারা তাতেই থাকবে, কিয়ামতকালের এই বোঝা তাদের জন্যে হবে কতো যে নিকৃষ্ট বোঝা!

সমকালীন বাংলা

উহাতে উহারা স্থায়ী হইবে এবং কিয়ামতের দিন এই বোঝা উহাদের জন্য হইবে কত মন্দ!

জহুরুল হক

এর তলায় সে অবস্থান করে রইবে। আর কিয়ামতের দিনে তাদের জন্য এ বোঝা বড়ই মন্দ!

Arabic, with marks

يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ ۚ وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقًا

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং যেদিন আমরা অপরাধীদের দৃষ্টিহীন করে হাশর করবো,

সমকালীন বাংলা

যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে এবং যেই দিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করিব।

জহুরুল হক

সেইদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, আর আমরা অপরাধীদের সেই দিনে সমবেত করব চোখ নীলাকার করে, - -

Arabic, with marks

يَتَخَافَتُونَ بَيْنَهُمْ إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا عَشْرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা নিজেরা নিজেরা চুপিসারে বলাবলি করবে: ‘তোমরা তো (পৃথিবীতে) মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।’

সমকালীন বাংলা

সেই দিন উহারা নিজেদের মধ্যে চুপিচুপি বলাবলি করিবে, ‘তোমরা মাত্র দশ দিন অবস্থান করিয়াছিলে।’

জহুরুল হক

তারা তাদের নিজেদের মধ্যে চুপিচুপি বলাবলি করবে - - ''তোমরা তো অবস্থান করেছ মাত্র দশেক।’’

Arabic, with marks

نَّحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذْ يَقُولُ أَمْثَلُهُمْ طَرِيقَةً إِن لَّبِثْتُمْ إِلَّا يَوْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা কী বলবে সেটা আমরা অধিক জানি, সেদিন তাদের সর্বাধিক উন্নত বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তি বলবে: ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’

সমকালীন বাংলা

আমি ভাল জানি উহারা কি বলিবে, উহাদের মধ্যে যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল সে বলিবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করিয়াছিলে।’

জহুরুল হক

আমরা ভাল জানি কি তারা বলাবলি করে যখন তাদের মধ্যে চালচলনে দক্ষ ব্যক্তি বলবেন - - ''তোমরা তো একদিন মাত্র অবস্থান করেছিলে।’’

Arabic, with marks

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْجِبَالِ فَقُلْ يَنسِفُهَا رَبِّي نَسْفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা তোমার কাছে পর্বতমালা সম্পর্কে জানতে চাইছে। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু সেগুলোকে সমূলে উঠিয়ে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।’

সমকালীন বাংলা

উহারা তোমাকে পর্বতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘আমার প্রতিপালক উহাদেরকে সমূলে উৎপাটন করিয়া বিক্ষিপ্ত করিয়া দিবেন।

জহুরুল হক

আর তারা তোমাকে পাহাড়গুলো সন্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে। কাজেই বলো - - ''আমার প্রভু তাদের ছড়িয়ে দেবেন ছিটিয়ে ছিটিয়ে।’’

Arabic, with marks

فَيَذَرُهَا قَاعًا صَفْصَفًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তিনি সেগুলোকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল মাঠে।

সমকালীন বাংলা

‘অতঃপর তিনি উহাকে পরিণত করিবেন মসৃণ সমতল ময়দানে,

জহুরুল হক

তখন তকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল - ভূমিতে,

Arabic, with marks

لَّا تَرَىٰ فِيهَا عِوَجًا وَلَا أَمْتًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাতে তুমি কোনো প্রকার বক্রতা কিংবা উঁচু (নিচু) দেখবেনা।

সমকালীন বাংলা

‘যাহাতে তুমি বক্রতা ও উচ্চতা দেখিবে না।’

জহুরুল হক

সেখানে তুমি দেখতে পাবে না কোনো আঁকানো - বাঁকানো আর না কোনো উঁচু - নিচু।

Arabic, with marks

يَوْمَئِذٍ يَتَّبِعُونَ الدَّاعِيَ لَا عِوَجَ لَهُ ۖ وَخَشَعَتِ الْأَصْوَاتُ لِلرَّحْمَٰنِ فَلَا تَسْمَعُ إِلَّا هَمْسًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন তারা ঘোষণাকারীকে অনুসরণ করবে (ঘোষণাকারীর দিকে দৌড়াবে), কোনো প্রকার এদিক সেদিক করতে পারবেনা। রহমানের সামনে সমস্ত আওয়ায স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি আর কিছুই শুনতে পাবেনা।

সমকালীন বাংলা

সেই দিন উহারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করিবে, এই ব্যাপারে এদিক - ওদিক করিতে পারিবে না। দয়াময়ের সম্মুখে সকল শব্দ স্তব্ধ হইয়া যাইবে; সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ব্যতীত তুমি কিছুই শুনিবে না।

জহুরুল হক

সেইদিন তারা আহানকারীর অনুসরণ করবে, তাঁর মধ্যে কোনো আঁকানো - বাঁকানো নেই, আর গলার আওয়াজ হবে ক্ষীণ পরম করুণাময়ের সামনে, তারফলে তুমি মৃদু গুন ছাড়া আর কিছুই শুনবে না।

Arabic, with marks

يَوْمَئِذٍ لَّا تَنفَعُ الشَّفَاعَةُ إِلَّا مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَٰنُ وَرَضِيَ لَهُ قَوْلًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন শাফায়াতে কোনো কাজ হবেনা, তবে রহমান যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা শুনতে রাজি হবেন তার বিষয়টি আলাদা।

সমকালীন বাংলা

দয়াময় যাহাকে অনুমতি দিবেন ও যাহার কথা তিনি পসন্দ করিবেন সে ব্যতীত কাহারও সুপারিশ সেই দিন কোন কাজে আসিবে না।

জহুরুল হক

সেইদিন কোনো সুপারিশে কাজ হবে না তাঁর ব্যতীত যাঁকে পরম করুণাময় অনুমতি দিয়েছেন, আর যার কথায় তিনি সন্তষ্ট হবেন।

Arabic, with marks

يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের সামনে পিছে যা কিছু আছে সবই তাঁর এলেমে আছে, কিন্তু তাদের এলেম তাঁকে আয়ত্ত করতে পারেনা।

সমকালীন বাংলা

তাহাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যাহা কিছু আছে তাহা তিনি অবগত, কিন্তু উহারা জ্ঞান দ্বারা তাঁহাকে আয়ত্ত করিতে পারে না।

জহুরুল হক

তিনি জানেন কি আছে তাদের সামনে আর কি রয়েছে তাদের পেছনে, আর তারা এটি জ্ঞানের দ্বারা ধারণা করতে পারে না।

Arabic, with marks

۞ وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ ۖ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন চিরঞ্জীব, সর্ববস্ত্তর ধারকের উদ্দেশ্যে সবাই হবে নতশির। সেদিন ব্যর্থ হবে সে, যে বইয়ে আনবে যুলুম।

সমকালীন বাংলা

চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারকের নিকট সকলেই হইবে অধোবদন এবং সে - ই ব্যর্থ হইবে, যে জুলুমের ভার বহন করিবে।

জহুরুল হক

আর চেহারাগুলো বিনয়াবনত হবে তাঁর কাছে যিনি চিরীব, সদা - বিদ্যমান। আর সে তো নিশ্চয় ব্যর্থ হবে যে অন্যায়াচরণের বোঝা বহন করবে।

Arabic, with marks

وَمَن يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخَافُ ظُلْمًا وَلَا هَضْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

অবস্থায় যে কেউ আমলে সালেহ্ করবে, তার কোনোই আশংকা থাকবেনা অন্যায় বিচার কিংবা কোনো প্রকার ক্ষতির।

সমকালীন বাংলা

এবং যে সৎকর্ম করে হইয়া, তাহার কোন আশংকা নাই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।

জহুরুল হক

আর যে কেউ সৎকর্ম থেকে কাজ করে যায় আর সে হয়, সে তবে আশঙ্কা করবে না কোনো অবিচারের, আর না কোনো ক্ষতি হবার।

Arabic, with marks

وَكَذَٰلِكَ أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا وَصَرَّفْنَا فِيهِ مِنَ الْوَعِيدِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ أَوْ يُحْدِثُ لَهُمْ ذِكْرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

এভাবেই, আমরা এটিকে নাযিল করেছি একটি আরবি কুরআন হিসেবে এবং বিভিন্নভাবে তাতে বর্ণনা করেছি সতর্ক বার্তা, যাতে করে তারা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে অথবা এটি যেনো হয় তাদের জন্যে একটি উপদেশ।

সমকালীন বাংলা

এইরূপেই আমি কুরআনকে অবতীর্ণ করিয়াছি আরবী ভাষায় এবং উহাতে বিশদভাবে বিবৃত করিয়াছি সতর্কবাণী যাহাতে উহারা ভয় করে অথবা ইহা হয় উহাদের জন্য উপদেশ।

জহুরুল হক

আর এইভাবেই আমরা এটি অবতারণ করেছি - - একখানি আরবী কুরআন, আর তাতে বিশদভাবে বিবৃত করেছি সতর্কবাণী - গুলো থেকে যেন তারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে, অথবা এটি যেন গুণকীর্তনে তাদের উপদেশ দান করে।

Arabic, with marks

فَتَعَالَى اللَّهُ الْمَلِكُ الْحَقُّ ۗ وَلَا تَعْجَلْ بِالْقُرْآنِ مِن قَبْلِ أَن يُقْضَىٰ إِلَيْكَ وَحْيُهُ ۖ وَقُل رَّبِّ زِدْنِي عِلْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

অতীব মহান, প্রকৃত সম্রাট তিনিই। তোমার প্রতি অহি সম্পূর্ণ হবার আগেই তুমি তাড়াহুড়া করে কুরআন পাঠ করোনা। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সমৃদ্ধ করো জ্ঞানে।’

সমকালীন বাংলা

অতি মহান, প্রকৃত অধিপতি। তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হইবার পূর্বে কুরআন পাঠে তুমি ত্বরা করিও না এবং বল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর।’

জহুরুল হক

কাজেই অতি মহান, রাজাধিরাজ, চিরন্তন সত্য, আর কুরআন নিয়ে তুমি তাড়াতাড়ি করো না তোমার কাছে এর প্রত্যাদেশ সম্পূর্ণ হওয়ার আগে, বরং বলো - - ''আমার প্রভু! আমাকে জ্ঞান - বিজ্ঞান তুমি বাড়িয়ে দাও’’।

Arabic, with marks

وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَىٰ آدَمَ مِن قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا

আবদুস শহীদ নাসিম

ইতোপূর্বে আমরা আদমকে একটি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমরা তাকে পাইনি মজবুত সংকল্পের অধিকারী।

সমকালীন বাংলা

আমি তো ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দান করিয়াছিলাম, কিন্তু সে ভুলিয়া গিয়াছিল; আমি তাহাকে সংকল্পে দৃঢ় পাই নাই।

জহুরুল হক

আর আমরা অবশ্যই ইতিপূর্বে আদমের প্রতি অঙ্গীকার আরোপ করেছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল, আর আমরা তার মধ্যে কোনো উদ্দেশ্য পাই নি।

Arabic, with marks

وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা সাজদা করো আদমকে, তখন তারা সাজদা করলো, কিন্তু করেনি শুধু ইবলিস। সে অস্বীকার করলো (সাজদা করতে)।

সমকালীন বাংলা

স্মরণ কর, যখন ফিরিশ্তাগণকে বলিলাম, ‘আদমের প্রতি সিজ্দা কর,’ তখন ইবলীস ব্যতীত সকলেই সিজদা করিল, সে অমান্য করিল।

জহুরুল হক

আর আমরা যখন ফিরিশ্‌তাদের বললাম - - ''আদমকে সিজদা করো’’, তখন তারা সিজদা করল, কিন্তু ইবলিস করল না, সে অমান্য করল।

Arabic, with marks

فَقُلْنَا يَا آدَمُ إِنَّ هَٰذَا عَدُوٌّ لَّكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন আমরা বলেছিলাম, হে আদম! নিশ্চয়ই এ (ইবলিস) তোমার এবং তোমার স্ত্রীর শত্রু। সে যেনো তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা পড়বে দুর্ভোগে।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর আমি বলিলাম, ‘হে আদম! নিশ্চয়ই এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত হইতে বাহির করিয়া না দেয়, দিলে তোমরা দুঃখ - কষ্ট পাইবে।

জহুরুল হক

সুতরাং আমরা বললাম - - ''হে আদম! নিঃসন্দেহ এ তোমার প্রতি ও তোমার সঙ্গিনীর প্রতি একজন শত্রু, সে যেন বাগান থেকে তোমাদের বের করে না দেয়, তেমন হলে তুমি দুঃখকষ্ট ভোগ করবে।

Arabic, with marks

إِنَّ لَكَ أَلَّا تَجُوعَ فِيهَا وَلَا تَعْرَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার জন্যে নিয়ম করে দেয়া হলো, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হবেনা বিবস্ত্রও হবেনা।

সমকালীন বাংলা

‘তোমার জন্য ইহাই রহিল যে, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হইবে না ও নগ্নও হইবে না;

জহুরুল হক

''নিঃসন্দেহ তোমার জন্য এটি যে তুমি সেখানে ক্ষুধা বোধ করবে না, আর তুমি নগ্নও হবে না।

Arabic, with marks

وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি সেখানে পিপাসার্তও হবেনা, রোদেও পুড়বেনা।

সমকালীন বাংলা

এবং সেখানে পিপাসার্ত হইবে না এবং রৌদ্র - ক্লিষ্টও হইবে না।’

জহুরুল হক

''আর তুমি নিশ্চয়ই সেখানে পিপাসার্ত হবে না অথবা রোদেও পুড়বে না।’’

Arabic, with marks

فَوَسْوَسَ إِلَيْهِ الشَّيْطَانُ قَالَ يَا آدَمُ هَلْ أَدُلُّكَ عَلَىٰ شَجَرَةِ الْخُلْدِ وَمُلْكٍ لَّا يَبْلَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন শয়তান তাকে অস্অসা দিলো। সে বললো: ‘হে আদম! আমি কি আপনাকে সংবাদ দেবো এক অমর গাছের এবং এক অক্ষয় সাম্রাজ্যের?’

সমকালীন বাংলা

অতঃপর শয়তান তাহাকে কুমন্ত্রণা দিল; সে বলিল, ‘হে আদম! আমি কি তোমাকে বলিয়া দিব অনন্ত জীবনপ্রদ বৃক্ষের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা?’

জহুরুল হক

অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, সে বললে - - ''হে আদম! আমি কি তোমাকে চালিয়ে নিয়ে যাব অনন্ত - জীবনদায়ক গাছের দিকে ও এক রাজত্বের দিকে যার ক্ষয় নেই?’’

Arabic, with marks

فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ ۚ وَعَصَىٰ آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

ফলে তারা দুজনে সেই গাছের ফল খেলো। তখন তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের পত্রপল্লব দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে থাকলো। এভাবে আদম তার প্রভুর আদেশ অমান্য করলো এবং বিপথগামী হলো।

সমকালীন বাংলা

অতঃপর তাহারা উভয়ে উহা হইতে ভক্ষণ করিল; তখন তাহাদের লজ্জাস্থান তাহাদের নিকট প্রকাশ হইয়া পড়িল এবং তাহারা জান্নাতের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করিতে লাগিল। আদম তাহার প্রতিপালকের হুকুম অমান্য করিল, ফলে সে ভ্রমে পতিত হইল।

জহুরুল হক

কাজেই এ থেকে তারা খেল, সুতরাং তাদের লজ্জাস্থানগুলো তাদের কাছে প্রকাশ পেলো, তখন তারা নিজেদের ঢাকতে আরম্ভ করল সেই বাগানের পাতা দিয়ে। আর আদম তার প্রভুর অবাধ্য হয়েছিল, সেজন্য সে ভ্রান্তপথ ধরল।

Arabic, with marks

ثُمَّ اجْتَبَاهُ رَبُّهُ فَتَابَ عَلَيْهِ وَهَدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে প্রদান করেন সঠিক জীবন পদ্ধতি।

সমকালীন বাংলা

ইহার পর তাহার প্রতিপালক তাহাকে মনোনীত করিলেন, তাহার তওবা কবুল করিলেন ও তাহাকে পথনির্দেশ করিলেন।

জহুরুল হক

এরপর তার প্রভু তাকে নির্বাচিত করলেন আর তার প্রতি ফিরলেন এবং তাকে পথনির্দেশ দিলেন।

Arabic, with marks

قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلَا يَضِلُّ وَلَا يَشْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাদের বললেন: ‘‘তোমরা উভয়ে (আদম ও শয়তান) এক সাথে এখান থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হুদা (জীবন পদ্ধতি এবং নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যে আমার হুদার অনুসরণ করবে, সে বিপথগামীও হবেনা, দুর্ভাগাও হবেনা।

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিলেন, ‘তোমরা উভয়ে একই সঙ্গে জান্নাত হইতে নামিয়া যাও। তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু। পরে আমার পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট সৎপথের নির্দেশ আসিলে যে আমার পথ অনুসরণ করিবে সে বিপথগামী হইবে না ও দুঃখ - কষ্ট পাইবে না।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''তোমরা উভয়ে এখান থেকে চলে যাও - - সব ক’জন মিলে, তোমাদের কেউ কেউ অপরদের শত্রু। পরে তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে অবশ্যই পথনির্দেশ আসবে, তখন যে আমার পথনির্দেশ অনুসরণ করবে সে তবে বিপথে যাবে না ও দুঃখ - কষ্ট ভোগবে না।

Arabic, with marks

وَمَنْ أَعْرَضَ عَن ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

কিন্তু যে আমার যিকির (কিতাব) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবন যাপন পদ্ধতি হয়ে পড়বে সংকুচিত আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে হাশর করবো অন্ধ করে।’’

সমকালীন বাংলা

‘যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকিবে, অবশ্য তাহার জীবন - যাপন হইবে সংকুচিত এবং আমি তাহাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করিব অন্ধ অবস্থায় ।’

জহুরুল হক

''আর যেইজন আমার স্মরণ থেকে ফিরে যাবে তার জন্যে তবে নিশ্চয়ই রয়েছে সংকুচিত জীবিকানির্বাহের উপায়, আর কিয়ামতের দিনে আমরা তাকে তুলব অন্ধ অবস্থায়।’’

Arabic, with marks

قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَىٰ وَقَدْ كُنتُ بَصِيرًا

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে বলবে: ‘প্রভু! আমাকে অন্ধ করে কেন হাশর করেছো, আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তির অধিকারী?’

সমকালীন বাংলা

সে বলিবে, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেন আমাকে অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করিলে? আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান।’

জহুরুল হক

সে বলবে - - ''আমার প্রভু! কেন তুমি আমাকে অন্ধ করে তুলেছ, অথচ আমি তো ছিলাম চক্ষুষ্মান?’’

Arabic, with marks

قَالَ كَذَٰلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا ۖ وَكَذَٰلِكَ الْيَوْمَ تُنسَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি বলবেন: ‘এভাবেই, তোমার কাছে এসেছিল আমাদের আয়াত, কিন্তু তুমি তা ভুলে থেকেছিলে, একইভাবে তুমিও বিস্মৃত হলে।’

সমকালীন বাংলা

তিনি বলিবেন, ‘এইরূপই আমার নিদর্শনাবলী তোমার নিকট আসিয়াছিল, কিন্তু তুমি উহা ভুলিয়া গিয়াছিলে এবং সেইভাবে আজ তুমিও বিস্মৃত হইলে।’

জহুরুল হক

তিনি বলবেন - - ''এইভাবেই আমাদের নির্দেশাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তা অবহেলা করেছিলে, সুতরাং সেইভাবেই আজকের দিনে তুমি অবহেলিত হলে।’’

Arabic, with marks

وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِن بِآيَاتِ رَبِّهِ ۚ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদেরকে এরকমই প্রতিফল দিয়ে থাকি যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যি আরো অধিক কঠোর এবং স্থায়ী।

সমকালীন বাংলা

এবং এইভাবেই আমি প্রতিফল দেই তাহাকে, যে বাড়াবাড়ি করে ও তাহার প্রতিপালকের নিদর্শনে বিশ্বাস স্থাপন করে না। পরকালের শাস্তি তো অবশ্যই কঠিনতর ও অধিক স্থায়ী।

জহুরুল হক

আর এইভাবেই আমরা প্রতিদান দিই তাকে যে বাড়াবাড়ি করে ও তার প্রভুর নির্দেশাবলীতে বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর পরকালের শাস্তি তো বড় কঠোর আর আরো স্থায়ী।

Arabic, with marks

أَفَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُم مِّنَ الْقُرُونِ يَمْشُونَ فِي مَسَاكِنِهِمْ ۗ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّأُولِي النُّهَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের পথে আনতে পারলোনা যে, তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, তারাও তাদের বাসস্থানে চলাফেরা করতো। নিশ্চয়ই এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা বুদ্ধি বিবেকওয়ালা লোক।

সমকালীন বাংলা

ইহাও কি তাহাদেরকে সৎপথ দেখাইল না যে, আমি ইহাদের পূর্বে ধ্বংস করিয়াছি কত মানবগোষ্ঠী যাহাদের বাসভূমিতে ইহারা বিচরণ করিয়া থাকে? অবশ্যই ইহাতে বিবেকসম্পনবানদের জন্য আছে নিদর্শন।

জহুরুল হক

এটি কি তাদের সৎপথ দেখায় না যে তাদের পূর্বে আমরা ধ্বংস করেছি কত জনপদকে যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করছে? নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শন রয়েছে বিবেক - বুদ্ধিসম্পন্নদের জন্য।

Arabic, with marks

وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ لَكَانَ لِزَامًا وَأَجَلٌ مُّسَمًّى

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর পূর্ব বাণী এবং সময় নির্দিষ্ট করা না থাকলে তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেয়া আবশ্যক হয়ে যেতো।

সমকালীন বাংলা

তোমার প্রতিপালকের পূর্বসিদ্ধান্ত ও একটা কাল নির্ধারিত না থাকিলে অবশ্যম্ভাবী হইত আশু শাস্তি।

জহুরুল হক

আর যদি ঘোষণাটি তোমার প্রভুর তরফ থেকে আগেই সাব্যস্ত না হতো তবে এটি অবশ্যাবী হতো, কিন্তু একটি নির্ধারিত কাল রয়েছে।

Arabic, with marks

فَاصْبِرْ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا ۖ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ لَعَلَّكَ تَرْضَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তারা যা বলে, সে সম্পর্কে তুমি সবর অবলম্বন করো এবং তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যাস্তের আগে। এছাড়া রাত্রিকালে তাঁর তসবিহ করো আর দিনের দুইপ্রান্তে। আশা করা যায় এর ফলে (তুমি তোমার প্রভুর অনুগ্রহ লাভ করবে) এবং হয়ে যাবে সন্তুষ্ট।

সমকালীন বাংলা

সুতরাং উহারা যাহা বলে, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং রাত্রিকালে পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর, এবং দিবসের প্রান্তসমূহেও, যাহাতে তুমি সন্তুষ্ট হইতে পার।

জহুরুল হক

সেজন্য অধ্যবসায় অবলন্বন করো তারা যা বলে তাতে, আর তোমার প্রভুর প্রশংসার দ্বারা মহিমা জপে থাকো সূর্য উদয়ের আগে ও তার অস্ত যাবার আগে, আর রাত্রির কিছু সময়েও তবে জপতপ করো, আর দিনের বেলায়, যাতে তুমি সন্তষ্টি লাভ করতে পারো।

Arabic, with marks

وَلَا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إِلَىٰ مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ ۚ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীর লোককে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের জন্যে যেসব সামগ্রী দিয়েছি তাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে, তুমি সেদিকে চোখ তুলেও তাকিয়োনা। তোমার প্রভুর দেয়া রিযিকই উত্তম এবং স্থায়ী।

সমকালীন বাংলা

তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনও প্রসারিত করিও না উহার প্রতি, যাহা আমি তাহাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসাবে দিয়াছি, তদ্দারা তাহাদেরকে পরীক্ষা করিবার জন্য। তোমার প্রতিপালক - প্রদত্ত জীবনোপকরণ উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।

জহুরুল হক

আর তোমার চোখ টাটিয়ো না তার প্রতি যা দিয়ে তাদের মধ্যেকার কোনো কোনো দম্পতিকে আমরা আপ্যায়িত করেছি - - দুনিয়ার জীবনের আড়ন্বর, যেন তার দ্বারা আমরা তাদের পরীক্ষা করতে পারি। আর তোমার প্রভুপ্রদত্ত রিযেক অধিকতর ভালো ও বেশী স্থায়ী।

Arabic, with marks

وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ ۗ وَالْعَاقِبَةُ لِلتَّقْوَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো, আমরা তোমার কাছে রিযিক চাইনা। আমরাই তোমাকে রিযিক দেই। পরিণামের শুভ ফল তো তাকওয়াবানদের জন্যেই।

সমকালীন বাংলা

এবং তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের আদেশ দাও ও উহাতে অবিচলিত থাক, আমি তোমার নিকট কোন জীবনোপকরণ চাই না; আমিই তোমাকে জীবনোপকরণ দেই এবং শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।

জহুরুল হক

আর তোমার পরিবারবর্গকে নামাযের নির্দেশ দাও আর তাতে লেগে থাকো। আমরা তোমার কাছ থেকে কোনো রিযেক চাই না, আমরাই তোমাকে রিযেক দান করি। আর শুভ পরিণাম তো ধর্মপরায়ণতার জন্য।

Arabic, with marks

وَقَالُوا لَوْلَا يَأْتِينَا بِآيَةٍ مِّن رَّبِّهِ ۚ أَوَلَمْ تَأْتِهِم بَيِّنَةُ مَا فِي الصُّحُفِ الْأُولَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেনা কেন?’ তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি, যা রয়েছে আগেকার কিতাবসমূহে?

সমকালীন বাংলা

উহারা বলে, ‘সে তাহার প্রতিপালকের নিকট হইতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন?’ উহাদের নিকট কি আসে নাই সুস্পষ্ট প্রমাণ যাহা আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে?

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''কেন সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের জন্য একটি নিদর্শন নিয়ে আসে না?’’ কী! তাদের কাছে কি পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোয় যা আছে সে সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে নি?

Arabic, with marks

وَلَوْ أَنَّا أَهْلَكْنَاهُم بِعَذَابٍ مِّن قَبْلِهِ لَقَالُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ مِن قَبْلِ أَن نَّذِلَّ وَنَخْزَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা যদি (তাকে পাঠাবার) পূর্বেই তাদেরকে আযাব দিয়ে হালাক করে দিতাম, তবে অবশ্যি তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালে না কেন? পাঠালে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমাণিত হবার আগেই তোমার আয়াতের অনুসরণ করতাম।’

সমকালীন বাংলা

যদি আমি উহাদেরকে ইতিপূর্বে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করিতাম তবে উহারা বলিত, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করিলে না কেন? করিলে আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হইবার পূর্বে তোমার নিদর্শন মানিয়া চলিতাম।’

জহুরুল হক

আর আমরা যদি এর আগে তাদের ধ্বংস করতাম শাস্তি দিয়ে তবে তারা বলতে পারত - - ''আমাদের প্রভু! তুমি কেন আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠাও নি, তাহলে তো আমরা তোমার নির্দেশাবলী অনুসরণ করতে পারতাম আমাদের লাঞ্ছনা ভোগ করবার ও আমাদের অপমান অনুভবের আগেভাগেই?’’

Arabic, with marks

قُلْ كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ فَتَرَبَّصُوا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ أَصْحَابُ الصِّرَاطِ السَّوِيِّ وَمَنِ اهْتَدَىٰ

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: প্রত্যেকেই প্রতীক্ষায় আছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা করো। তারপরই তোমরা জানতে পারবে কারা সরল সঠিক পথে আছে আর কারা প্রতিষ্ঠিত হিদায়াতের উপর?

সমকালীন বাংলা

বল, ‘প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করিতেছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর। অতঃপর তোমরা জানিতে পারিবে কাহারা রহিয়াছে সরল পথে এবং কাহারা সৎপথ অবলম্বন করিয়াছে।’

জহুরুল হক

তুমি বলো - - '' প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর, তাহলে অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের লোক এবং কারা সৎপথে চলেছে।’’

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme