بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
إِذَا وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
Chapter 56, 96 verses
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
যখন ঘটনা (কিয়ামত) সংঘটিত হবে,
إِذَا وَقَعَتِ ٱلْوَاقِعَةُ
لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ
ইহার সংঘটন অস্বীকার করিবার কেহ থাকিবে না।
তখন সেই ঘটনাকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।
لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ
خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ
ইহা কাহাকেও করিবে নীচ, কাহাকেও করিবে সম্মুন্নত ;
সেটা কাউকে নামাবে নিচে, কাউকেও উঠাবে উপরে।
خَافِضَةٌ رَّافِعَةٌ
إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا
যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হইবে পৃথিবী,
যখন পৃথিবী কেঁপে উঠবে প্রচন্ড রকম।
إِذَا رُجَّتِ ٱلْأَرْضُ رَجًّا
وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا
এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া পড়িবে,
যখন চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে পাহাড় পর্বত,
وَبُسَّتِ ٱلْجِبَالُ بَسًّا
فَكَانَتْ هَبَاءً مُّنبَثًّا
ফলে উহা পর্যবসিত হইবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়;
ফলে সেগুলো পরিণত হবে ছুঁড়ে মারা ধুলোবালির মতো।
فَكَانَتْ هَبَآءً مُّنۢبَثًّا
وَكُنتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً
এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণীতে -
তখন তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন ভাগে।
وَكُنتُمْ أَزْوَٰجًا ثَلَٰثَةً
فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ
ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
একটি হবে ডানদিকের দল। কী যে ভাগ্যবান হবে ডানদিকের দল!
فَأَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَيْمَنَةِ
وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ
এবং বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
একটি হবে বামদিকের দল। কী যে দুর্ভাগা হবে বামদিকের দল!
وَأَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْمَشْـَٔمَةِ
وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী,
আরেকটি হবে অগ্রগামী দল। তারা তো থাকবে অগ্রগামীই।
وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلسَّٰبِقُونَ
أُولَٰئِكَ الْمُقَرَّبُونَ
উহারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত -
তারা হবে সান্নিধ্য প্রাপ্ত,
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلْمُقَرَّبُونَ
فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ
নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে;
থাকবে জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ
বহুসংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে;
তাদের বেশিরভাগই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
ثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
وَقَلِيلٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
স্বল্প সংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
وَقَلِيلٌ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ
عَلَىٰ سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ
স্বর্ণখচিত আসনে
তারা থাকবে সোনা ও মনিমুক্তা খচিত আসনে।
عَلَىٰ سُرُرٍ مَّوْضُونَةٍ
مُّتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ
উহারা হেলান দিয়া বসিবে, পরস্পর মুখোমুখি হইয়া।
তাতে তারা হেলান দিয়ে বসবে মুখোমুখি হয়ে।
مُّتَّكِـِٔينَ عَلَيْهَا مُتَقَٰبِلِينَ
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُّخَلَّدُونَ
তাহাদের সেবায় ঘোরাফেরা করিবে চির - কিশোরেরা
তাদের (সেবায়) তাওয়াফ করতে থাকবে চির বালকেরা,
يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَٰنٌ مُّخَلَّدُونَ
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ - নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।
পানপাত্র, কুঁজা এবং বহমান ঝর্ণা থেকে নেয়া সুরার পাত্র নিয়ে।
بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍ
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
সেই সুরা পানে তাহাদের শিরঃপীড়া হইবে না, তাহারা জ্ঞানহারাও হইবে না -
সেই সুরা পানে তাদের মাথাব্যথাও হবেনা এবং তারা জ্ঞান হারিয়ে মাতালও হবেনা।
لَّا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنزِفُونَ
وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ
এবং তাহাদের পসন্দমত ফলমূল,
থাকবে বিপুল ফলফলারি বেছে বেছে পছন্দসইটি গ্রহণ করার,
وَفَٰكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ
وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখির গোশ্ত লইয়া,
থাকবে পাখির গোশ্ত যেটা তাদের মন চাইবে,
وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ
وَحُورٌ عِينٌ
আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হূর,
থাকবে আয়তলোচনা হুর (সুন্দরী নারীকুল)
وَحُورٌ عِينٌ
كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ
সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,
(ঝিনুকের মধ্যে) লুকানো মুক্তার মতো,
كَأَمْثَٰلِ ٱللُّؤْلُؤِ ٱلْمَكْنُونِ
جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাহাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ।
তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে।
جَزَآءًۢ بِمَا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا
সেখানে তাহারা শুনিবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য,
তারা সেখানে শুনবেনা কোনো অর্থহীন কথা কিংবা পাপালাপ।
لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا
إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا
‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।
শুনবে কেবল সালাম আর সালাম।
إِلَّا قِيلًا سَلَٰمًا سَلَٰمًا
وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
আর ডানদিকের দল, কী যে ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
وَأَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلْيَمِينِ
فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ
তাহারা থাকিবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ,
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুল বাগানে,
فِى سِدْرٍ مَّخْضُودٍ
وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ
কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ,
কাঁদিভরা কলার বাগানে,
وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
সম্প্রসারিত ছায়া,
বিস্তীর্ণ ছায়ার মাঝে,
وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ
وَمَاءٍ مَّسْكُوبٍ
সদা প্রবহমান পানি,
সদা বহমান পানির মধ্যে,
وَمَآءٍ مَّسْكُوبٍ
وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
ও প্রচুর ফলমূল,
এবং বিপুল ফলমূলের মাঝে,
وَفَٰكِهَةٍ كَثِيرَةٍ
لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ
যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।
যা কখনো শেষও হবেনা, নিষিদ্ধও হবেনা।
لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ
وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ
আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;
তারা থাকবে উঁচু উঁচু শয্যায়,
وَفُرُشٍ مَّرْفُوعَةٍ
إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءً
উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে -
আমরা তাদের (পৃথিবীর জান্নাতি স্ত্রীদের) সৃষ্টি করবো অপরূপ সৃষ্টিতে,
إِنَّآ أَنشَأْنَٰهُنَّ إِنشَآءً
فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا
উহাদেরকে করিয়াছি কুমারী,
তাদের বানিয়ে দেবো কুমারী,
فَجَعَلْنَٰهُنَّ أَبْكَارًا
عُرُبًا أَتْرَابًا
সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,
স্বামীগত প্রাণ এবং সমবয়স্কা,
عُرُبًا أَتْرَابًا
لِّأَصْحَابِ الْيَمِينِ
ডানদিকের লোকদের জন্য।
ডানদিকের লোকদের জন্যে।
لِّأَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
ثُلَّةٌ مِّنَ الْأَوَّلِينَ
তাহাদের অনেকে হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে,
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তী লোকদের থেকে,
ثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
وَثُلَّةٌ مِّنَ الْآخِرِينَ
এবং অনেকে হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
এবং অনেকেই হবে পরবর্তী লোকদের থেকে।
وَثُلَّةٌ مِّنَ ٱلْءَاخِرِينَ
وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ
আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
আর বামদিকের লোকেরা, কী যে হতভাগ্য বামদিকের লোকেরা!
وَأَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ مَآ أَصْحَٰبُ ٱلشِّمَالِ
فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ
উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,
তারা থাকবে প্রচন্ড গরম বাতাস আর টগবগে ফুটন্ত গরম পানির মধ্যে,
فِى سَمُومٍ وَحَمِيمٍ
وَظِلٍّ مِّن يَحْمُومٍ
কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,
থাকবে কালো ধুঁয়ার ছায়ায়,
وَظِلٍّ مِّن يَحْمُومٍ
لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ
যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।
তা ঠান্ডাও হবেনা, আরামদায়কও হবেনা।
لَّا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ
إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَٰلِكَ مُتْرَفِينَ
ইতিপূর্বে উহারা তো মগ্ন ছিল ভোগ - বিলাসে
ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা তো মত্ত ছিলো ভোগ বিলাসে
إِنَّهُمْ كَانُوا۟ قَبْلَ ذَٰلِكَ مُتْرَفِينَ
وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنثِ الْعَظِيمِ
এবং উহারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
এবং তারা অবিরাম লিপ্ত ছিলো গুরুতর পাপ কাজে।
وَكَانُوا۟ يُصِرُّونَ عَلَى ٱلْحِنثِ ٱلْعَظِيمِ
وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَإِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
আর উহারা বলিত, ‘মরিয়া অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হইলেও কি উত্থিত হইব আমরা?
তারা বলতো: ‘‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি আর হাড়ে পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
وَكَانُوا۟ يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ
‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও?’
আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ
বল, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তিগণ ও পরবর্তিগণ -
বলো: পূর্বের এবং পরের সবাইকে,
قُلْ إِنَّ ٱلْأَوَّلِينَ وَٱلْءَاخِرِينَ
لَمَجْمُوعُونَ إِلَىٰ مِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
সকলকে একত্র করা হইবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
একত্র করা হবে একটি নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে,
لَمَجْمُوعُونَ إِلَىٰ مِيقَٰتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ
অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
তারপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا ٱلضَّآلُّونَ ٱلْمُكَذِّبُونَ
لَآكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُّومٍ
তোমরা অবশ্যই আহার করিবে যাক্কূম বৃক্ষ হইতে,
তোমরা অবশ্যি খাবে যাক্কুম গাছ থেকে,
لَءَاكِلُونَ مِن شَجَرٍ مِّن زَقُّومٍ
فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ
এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করিবে,
এবং তা দিয়ে পূর্ণ করবে তোমাদের উদর!
فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ
পরে তোমরা পান করিবে উহার উপর অত্যুষ্ণ পানি -
তার উপর পান করবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি।
فَشَٰرِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ ٱلْحَمِيمِ
فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ
আর পান করিবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।
আর তা তোমরা পান করবে তৃষার্ত উটের মতো।
فَشَٰرِبُونَ شُرْبَ ٱلْهِيمِ
هَٰذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ
কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদের আপ্যায়ন।
প্রতিদান দিবসে এটাই হবে তাদের আপ্যায়ন।
هَٰذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ ٱلدِّينِ
نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করিতেছ না?
আমরাই তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, কেন তোমরা তা স্বীকার করছো না?
نَحْنُ خَلَقْنَٰكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ
أَفَرَأَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে?
তোমরা যে বীর্যপাত করো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تُمْنُونَ
أَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ
উহা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
তা কি তোমরা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
ءَأَنتُمْ تَخْلُقُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلْخَٰلِقُونَ
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করিয়াছি এবং আমি অক্ষম নই -
আমরা তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করে রেখেছি মউত এবং আমরা অক্ষম নই
نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ ٱلْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ
عَلَىٰ أَن نُّبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ
তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করিতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করিতে যাহা তোমরা জান না।
তোমাদের বদল করে তোমাদের স্থলে তোমাদের অনুরূপ অন্যদের নিয়ে আসতে এবং তোমাদের এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জানো না।
عَلَىٰٓ أَن نُّبَدِّلَ أَمْثَٰلَكُمْ وَنُنشِئَكُمْ فِى مَا لَا تَعْلَمُونَ
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَىٰ فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ
তোমরা তো অবগত হইয়াছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
তোমরা তো কেবল প্রথম সৃষ্টির কথাই জানো। তবে কেন তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করোনা?
وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ ٱلنَّشْأَةَ ٱلْأُولَىٰ فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ
أَفَرَأَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ
তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করিয়াছ কি?
তোমরা যে (ক্ষেত খামারে) বীজ বপন করে আসো, সে বিষয়ে তোমরা ভেবে দেখেছো কি?
أَفَرَءَيْتُم مَّا تَحْرُثُونَ
أَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ
তোমরা কি উহাকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
সেটি অংকুরিত করো কি তোমরা, নাকি আমরাই অংকুর সৃষ্টিকারী?
ءَأَنتُمْ تَزْرَعُونَهُۥٓ أَمْ نَحْنُ ٱلزَّٰرِعُونَ
لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ
আমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে খড় - কুটায় পরিণত করিতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে তোমরা;
আমরা ইচ্ছা করলে তা খড় কুটায় পরিণত করে দিতে পারি, তাতে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে (এবং বলবে:)
لَوْ نَشَآءُ لَجَعَلْنَٰهُ حُطَٰمًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ
إِنَّا لَمُغْرَمُونَ
‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি’,
‘‘আমরা তো দেউলিয়া হয়ে পড়েছি।
إِنَّا لَمُغْرَمُونَ
بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ
বরং ‘আমরা হৃতসর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছি।’
বরং আমরা বঞ্চিত হয়ে গেছি।’’
بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ
أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ
তোমরা যে পানি পান কর তাহা সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করিয়াছ?
তোমরা যে পানি পান করো সে বিষয়ে ভেবে দেখেছো কি?
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلْمَآءَ ٱلَّذِى تَشْرَبُونَ
أَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنزِلُونَ
তোমরা কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?
মেঘ থেকে তা কি তোমরা নাযিল করো, নাকি আমরা নামিয়ে আনি?
ءَأَنتُمْ أَنزَلْتُمُوهُ مِنَ ٱلْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنزِلُونَ
لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ
আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবণাক্ত করিয়া দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
আমরা ইচ্ছা করলে তা লোনা লবণাক্ত রেখে দিতে পারি, তবু কেন তোমরা শোকর আদায় করোনা?
لَوْ نَشَآءُ جَعَلْنَٰهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ
أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ
তোমরা যে অগ্নি কর তাহা লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছ কি?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও, তার প্রতি লক্ষ্য করে দেখেছো কি?
أَفَرَءَيْتُمُ ٱلنَّارَ ٱلَّتِى تُورُونَ
أَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنشِئُونَ
তোমরাই কি উহার বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
তোমরাই কি তার জ্বালানি সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই তার স্রষ্টা?
ءَأَنتُمْ أَنشَأْتُمْ شَجَرَتَهَآ أَمْ نَحْنُ ٱلْمُنشِـُٔونَ
نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِّلْمُقْوِينَ
আমি ইহাকে করিয়াছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।
আমরা এটাকে করেছি একটি নিদর্শন এবং মরুচারীদের জন্যে অতীব প্রয়োজনীয়।
نَحْنُ جَعَلْنَٰهَا تَذْكِرَةً وَمَتَٰعًا لِّلْمُقْوِينَ
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রভুর নাম নিয়ে তসবিহ করো।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ
۞ فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ
আমি শপথ করিতেছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
আমি শপথ করছি নক্ষত্র রাজির অস্তাচলের,
فَلَآ أُقْسِمُ بِمَوَٰقِعِ ٱلنُّجُومِ
وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ
অবশ্যই ইহা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানিতে -
অবশ্যি এটা একটা বড় শপথ, যদি তোমরা এর গুরুত্ব বুঝতে!
وَإِنَّهُۥ لَقَسَمٌ لَّوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ
إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয়ই ইহা সম্মানিত কুরআন,
নিশ্চয়ই এটি একটি সম্মানিত কুরআন।
إِنَّهُۥ لَقُرْءَانٌ كَرِيمٌ
فِي كِتَابٍ مَّكْنُونٍ
যাহা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
এটি রয়েছে সুরক্ষিত কিতাবে (উম্মুল কিতাবে)।
فِى كِتَٰبٍ مَّكْنُونٍ
لَّا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ
যাহারা পূত - পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না।
পবিত্ররা (ফেরেশতারা) ছাড়া কেউ এটি স্পর্শ করেনা (নবীর কাছে বহন করে আনেনা)।
لَّا يَمَسُّهُۥٓ إِلَّا ٱلْمُطَهَّرُونَ
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।
এটি নাযিল হচ্ছে রাববুল আলামিনের পক্ষ থেকে।
تَنزِيلٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
أَفَبِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَنتُم مُّدْهِنُونَ
তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?
এই মহাবাণীকে তোমরা তুচ্ছ মনে করছো?
أَفَبِهَٰذَا ٱلْحَدِيثِ أَنتُم مُّدْهِنُونَ
وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ
এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছ !
আর মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করাকেই কি তোমরা বানিয়ে নিয়েছো তোমাদের উপজীব্য?
وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ
فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ
পরন্তু কেন নয় - প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়
যখন তোমাদের প্রাণ এসে পড়বে কণ্ঠনালীতে,
فَلَوْلَآ إِذَا بَلَغَتِ ٱلْحُلْقُومَ
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক,
তখন তোমরা তাকিয়ে থাকবে এক দৃষ্টিতে,
وَأَنتُمْ حِينَئِذٍ تَنظُرُونَ
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَٰكِن لَّا تُبْصِرُونَ
আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।
আর আমরা তোমাদের চাইতেও তার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা।
وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنكُمْ وَلَٰكِن لَّا تُبْصِرُونَ
فَلَوْلَا إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ
তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও!
তোমরা যদি পুনরুত্থান ও প্রতিদান দিবসকে মেনে না নাও,
فَلَوْلَآ إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ
تَرْجِعُونَهَا إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
তবে তোমরা তা (জীবন) ফিরাও না কেন তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে?
تَرْجِعُونَهَآ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
فَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ
যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
সে যদি সান্নিধ্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
فَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُقَرَّبِينَ
فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ
তবে তাহার জন্য রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান;
তবে তখন তার জন্যে থাকবে সুরভিত এবং ফুলেল উদ্যান আর জান্নাতুন নায়ীম (নিয়ামতে ভরা জান্নাত)।
فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ
وَأَمَّا إِن كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
আর যদি সে ডানদিকের একজন হয়,
আর সে যদি হয় ডানদিকের লোকদের একজন,
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
فَسَلَامٌ لَّكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ
তবে তাহাকে বলা হইবে, ‘হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।’
তাহলে তাকে বলা হবে: ‘হে ডান পাশবর্তী! তোমার প্রতি সালাম।’
فَسَلَٰمٌ لَّكَ مِنْ أَصْحَٰبِ ٱلْيَمِينِ
وَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ
কিন্তু সে যদি সত্য অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তদের অন্যতম হয়,
আর সে যদি হয় বিভ্রান্ত মিথ্যাবাদীদের একজন,
وَأَمَّآ إِن كَانَ مِنَ ٱلْمُكَذِّبِينَ ٱلضَّآلِّينَ
فَنُزُلٌ مِّنْ حَمِيمٍ
তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ণ পানির দ্বারা,
তাহলে তার আতিথ্য হবে টগবগে ফুটন্ত গরম পানি,
فَنُزُلٌ مِّنْ حَمِيمٍ
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
এবং দহন জাহান্নামের;
আর জাহান্নামের দহন।
وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ
ইহা তো ধ্রুব সত্য।
এ এক নিশ্চিত সত্য বিষয়।
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ حَقُّ ٱلْيَقِينِ
فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
অতএব, তুমি তসবিহ্ করো তোমার মহান প্রভুর নামের।
فَسَبِّحْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلْعَظِيمِ