ত্ব-সীন-মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
তোয়া সিন মিম।
Chapter 26, 227 verses
ত্ব-সীন-মীম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
তোয়া সিন মিম।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
تلك آيات الكتاب المبين
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
তারা হবে না বলে হয়ত তুমি আত্মবিনাশী হয়ে পড়বে।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
আমি ইচ্ছা করলে আসমান থেকে তাদের উপর এমন নিদর্শন অবতীর্ণ করতাম ফলে তার প্রতি তাদের ঘাড়গুলো নত হয়ে যেত।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
আর যখনই তাদের কাছে পরম করুণাময়ের পক্ষ থেকে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা থেকে বিমুখ হয়।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
অতএব অবশ্যই তারা অস্বীকার করেছে। কাজেই তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তার সংবাদ অচিরেই তাদের কাছে এসে পড়বে।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
তারা কি যমীনের প্রতি লক্ষ করেনি? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের বহু উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদগত করেছি।
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
নিশ্চয় এতে আছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহা পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, ‘তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কাছে যাও’।
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
‘ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কাছে। তারা কি ভয় করবে না’?
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
মূসা বলল, ‘হে আমার রব, আমি অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে’।
قال رب إني أخاف أن يكذبون
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
‘আর আমার বক্ষ সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে। আমার জিহবা চলছে না। সুতরাং আপনি হারুনের প্রতি ওহী পাঠান’।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
‘আর আমার বিরুদ্ধে তাদের কাছে একটি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করে ফেলবে’।
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
বললেন, ‘কখনো নয়। তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনাদিসহ যাও। অবশ্যই আমি আছি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী’।
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
‘সুতরাং তোমরা উভয়ে ফির‘আউনের কাছে গিয়ে বল, নিশ্চয় আমরা বিশ্বজগতের রবের রাসূল’।
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
‘যাতে তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও’।
أن أرسل معنا بني إسرائيل
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
ফির‘আউন বলল, ‘আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মাঝে লালন পালন করিনি? আর তুমি তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে অবস্থান করেছ’।
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
‘আর তুমি তোমার কর্ম যা করার তা করেছ এবং তুমি অকৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত’।
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
মূসা বলল, ‘আমি এটি তখন করেছিলাম, যখন আমি ছিলাম বিভ্রান্ত’।
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
‘অতঃপর যখন আমি তোমাদেরকে ভয় করলাম, তখন আমি তোমাদের থেকে পালিয়ে গেলাম। তারপর আমার রব আমাকে প্রজ্ঞা দান করলেন এবং আমাকে রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত করলেন’।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
‘আর এই তো সে অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ যে, তুমি বনী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছ’।
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
ফির‘আউন বলল, ‘সৃষ্টিকুলের রব কে?’
قال فرعون وما رب العالمين
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
মূসা বলল, ‘আসমানসমূহ ও যমীন এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা নিশ্চিত হয়ে থাক।’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
ফির‘আউন তার আশেপাশে যারা ছিল তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি মনোযোগসহ শুনছ না’?
قال لمن حوله ألا تستمعون
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
মূসা বলল, ‘তিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পিতৃপুরুষদেরও রব’।
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
ফির‘আউন বলল, ‘তোমাদের কাছে প্রেরিত তোমাদের এই রাসূল নিশ্চয়ই পাগল’।
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
মূসা বলল, ‘তিনি পূর্ব ও পশ্চিম এবং এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, যদি তোমরা বুঝে থাক’।
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
ফির‘আউন বলল, ‘যদি তুমি আমাকে ছাড়া কাউকে ইলাহরূপে গ্রহণ কর, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাকে কয়েদীদের অন্তর্ভুক্ত করব’।
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
মূসা বলল, ‘যদি আমি তোমার কাছে স্পষ্ট কোন বিষয় নিয়ে আসি, তবুও’?
قال أولو جئتك بشيء مبين
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
ফির‘আউন বলল, ‘তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে তা নিয়ে এসো’।
قال فأت به إن كنت من الصادقين
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
অতঃপর সে তার লাঠি ফেলে দিল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা একটি স্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
আর সে তার হাত বের করল, ফলে তা তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে উজ্জ্বল-সাদা হয়ে দেখা দিল।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
ফির‘আউন তার আশপাশের পারিষদদের উদ্দেশ্যে বলল, ‘এ তো এক বিজ্ঞ যাদুকর।’
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
‘সে তোমাদেরকে তার যাদুর মাধ্যমে তোমাদের দেশ থেকে বের করতে চায়। অতএব, তোমরা আমাকে কী পরামর্শ দাও?’
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
তারা বলল, ‘তাকে ও তার ভাইকে কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আর সংগ্রহকারীদেরকে নগরে-নগরে পাঠিয়ে দাও।’
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
‘তারা তোমার নিকট প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরকে নিয়ে আসুক’।
يأتوك بكل سحار عليم
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্র করা হল।
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
আর লোকদের বলা হল, ‘তোমরা কি সমবেত হবে?’
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
‘যাতে আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়’।
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
অতঃপর যখন যাদুকররা আসল,তারা ফির‘আউনকে বলল,‘যদি আমরাই বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্য কি সত্যিই পুরস্কার আছে?’
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
সে বলল, ‘হ্যাঁ এবং নিশ্চয় তোমরা তখন আমার ঘনিষ্টজনদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
মূসা তাদের বলল, ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার তা নিক্ষেপ কর’।
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ‘ফির‘আউনের মর্যাদার কসম! অবশ্যই আমরা বিজয়ী হব।’
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
তারপর মূসা তার লাঠি ফেলল, ফলে তৎক্ষণাৎ তা তাদের মিথ্যা প্রদর্শনীগুলো গ্রাস করে ফেলল।
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
ফলে যাদুকররা সিজদাবনত হয়ে পড়ল।
فألقي السحرة ساجدين
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
তারা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম সকল সৃষ্টির রবের প্রতি’।
قالوا آمنا برب العالمين
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
‘মূসা ও হারুনের রব’।
رب موسى وهارون
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
ফির‘আউন বলল, ‘আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে তোমাদের গুরু যে তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে। অতএব অচিরেই তোমরা জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাতসমূহ ও তোমাদের পাসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং অবশ্যই তোমাদের সকলকে
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
তারা বলল, ‘কোন ক্ষতি নেই তাতে। অবশ্যই আমরা তো আমাদের রবের দিকেই ফিরে যাব।’
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
‘আমরা আশা করি যে, আমাদের রব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা মুমিনদের মধ্যে প্রথম।’
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
আর আমি মূসার প্রতি এ মর্মে ওহী পাঠিয়েছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদের নিয়ে রাত্রিকালে যাত্রা শুরু কর, নিশ্চয়ই তোমাদের পিছু নেয়া হবে।’
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
অতঃপর ফির‘আউন নগরে- নগরে একত্রকারীদেরকে পাঠাল।
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
‘নিশ্চয়ই এরা তো ক্ষুদ্র একটি দল।’
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
‘আর এরা অবশ্যই আমাদের ক্রোধের উদ্রেক ঘটিয়েছে।’
وإنهم لنا لغائظون
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
‘আর আমরা সবাই তো যথেষ্ট সতর্ক।’
وإنا لجميع حاذرون
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
তারপর আমি তাদেরকে উদ্যানমালা ও ঝর্ণাধারাসমূহ থেকে বের করে আনলাম।
فأخرجناهم من جنات وعيون
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
আর ধনভান্ডার ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান থেকে।
وكنوز ومقام كريم
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
এরূপই এবং আমি বনী ইসরাঈলকে এসবের ওয়ারিস বানিয়েছিলাম।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
তারপর তারা সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে তাদের পিছু নিল।
فأتبعوهم مشرقين
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
অতঃপর যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সাথীরা বলল, অবশ্যই ‘আমরা ধরা পড়ে গেলাম!’
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
মূসা বলল, ‘কক্ষনো নয়; আমার সাথে আমার রব রয়েছেন। নিশ্চয় অচিরেই তিনি আমাকে পথনির্দেশ দেবেন’।
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
অতঃপর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল। তারপর প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়সদৃশ হয়ে গেল।
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
আর আমি অপর দলটিকে সেই জায়গায় নিকটবর্তী করলাম,
وأزلفنا ثم الآخرين
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
আর আমি মূসা ও তার সাথে যারা ছিল সকলকে উদ্ধার করলাম,
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
তারপর অপর দলটিকে ডুবিয়ে দিলাম।
ثم أغرقنا الآخرين
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
আর নিশ্চয় তোমার রব তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
আর তুমি তাদের নিকট ইবরাহীমের ঘটনা বর্ণনা কর,
واتل عليهم نبأ إبراهيم
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদাত কর?’
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
তারা বলল, ‘আমরা মূর্তির পূজা করি। অতঃপর এগুলোর পূজায় আমরা নিষ্ঠার সাথে রত থাকি’।
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
সে বলল, ‘যখন তোমরা ডাক তখন তারা কি তোমাদের সে ডাক শুনতে পায়?’
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
‘অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে’?
أو ينفعونكم أو يضرون
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’।
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
ইবরাহীম বলল, ‘তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, তোমরা যাদের পূজা কর’।
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
‘তোমরা এবং তোমাদের অতীত পিতৃপুরুষেরা?’
أنتم وآباؤكم الأقدمون
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
‘সকল সৃষ্টির রব ছাড়া অবশ্যই তারা আমার শত্রু’।
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
‘যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনিই আমাকে হিদায়াত দিয়েছেন।’
الذي خلقني فهو يهدين
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
‘আর যিনি আমাকে খাওয়ান এবং পান করান’।
والذي هو يطعمني ويسقين
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
‘আর যখন আমি অসুস্থ হই, তখন যিনি আমাকে আরোগ্য করেন’।
وإذا مرضت فهو يشفين
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
‘আর যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন তারপর আমাকে জীবিত করবেন’।
والذي يميتني ثم يحيين
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
‘আর যিনি আশা করি, বিচার দিবসে আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দেবেন’।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
‘হে আমার রব, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন’।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
‘এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুনাম-সুখ্যাতি অব্যাহত রাখুন’,
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
‘আর আপনি আমাকে সুখময় জান্নাতের ওয়ারিসদের অন্তর্ভুক্ত করুন’।
واجعلني من ورثة جنة النعيم
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
‘আর আমার পিতাকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয় সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত ছিল’।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
‘আর যেদিন পুনরুত্থিত করা হবে সেদিন আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না’।
ولا تخزني يوم يبعثون
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
‘যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন উপকারে আসবে না’।
يوم لا ينفع مال ولا بنون
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
‘তবে যে আল্লাহর কাছে আসবে সুস্থ অন্তরে’।
إلا من أتى الله بقلب سليم
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
আর মুত্তাকীদের জন্য জান্নাত নিকটবর্তী করা হবে,
وأزلفت الجنة للمتقين
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
এবং পথভ্রষ্টকারীদের জন্য জাহান্নাম উন্মোচিত করা হবে।
وبرزت الجحيم للغاوين
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
আর তাদেরকে বলা হবে, ‘তারা কোথায় যাদের তোমরা ইবাদাত করতে’?
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
ছাড়া? তারা কি তোমাদেরকে সাহায্য করছে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারছে?
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে,
فكبكبوا فيها هم والغاوون
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
আর ইবলীসের সকল সৈন্যবাহিনীকে।
وجنود إبليس أجمعون
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
সেখানে পরস্পর ঝগড়া করতে গিয়ে তারা বলবে,
قالوا وهم فيها يختصمون
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
আল্লাহর কসম! আমরা তো সুস্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিলাম',
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
‘যখন আমরা তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির রবের সমকক্ষ বানাতাম’।
إذ نسويكم برب العالمين
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
‘আর অপরাধীরাই শুধু আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল’;
وما أضلنا إلا المجرمون
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
‘অতএব, আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই’।
فما لنا من شافعين
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
‘এবং কোন অন্তরঙ্গ বন্ধুও নেই’।
ولا صديق حميم
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
‘হায়, আমাদের যদি আরেকটি সুযোগ হত, তবে আমরা মুমিনদের অর্ন্তভুক্ত হতাম’।
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশ নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
নূহ-এর কওম রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كذبت قوم نوح المرسلين
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যখন তাদের ভাই নূহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান শুধু সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
‘তারা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে’?
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
নূহ বলল, ‘তারা কি করে তা আমার কী প্রয়োজন’?
قال وما علمي بما كانوا يعملون
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
‘তাদের হিসাব গ্রহণ তো কেবল আমার রবের দায়িত্বে, যদি তোমরা জানতে’।
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
‘আর আমি তো মুমিনদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার নই’।
وما أنا بطارد المؤمنين
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
‘আমি তো কেবল সুস্পষ্ট সতর্ককারী’।
إن أنا إلا نذير مبين
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
তারা বলল, ‘হে নূহ, তুমি যদি বিরত না হও তবে অবশ্যই তুমি প্রস্তরাঘাতে নিহতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
নূহ বলল, ‘হে আমার রব, আমার কওম আমাকে অস্বীকার করেছে’;
قال رب إن قومي كذبون
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
‘সুতরাং আপনি আমার ও তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিন আর আমাকে ও আমার সাথে যেসব , আছে তাদেরকে রক্ষা করুন’।
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
অতঃপর আমি তাকে এবং তার সাথে যারা বোঝাই নৌকায় ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম।
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
তারপর বাকীদের ডুবিয়ে দিলাম।
ثم أغرقنا بعد الباقين
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের বেশীর ভাগ ছিল না।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
‘আদ জাতি রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,
كذبت عاد المرسلين
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
যখন তাদের ভাই হূদ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘তোমরা কি প্রতিটি উঁচু স্থানে বেহুদা স্তম্ভ নির্মাণ করছ’?
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
‘আর তোমরা সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা স্থায়ী হবে’।
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
‘আর তোমরা যখন কাউকে পাকড়াও কর, পাকড়াও কর স্বেচ্ছাচারী হয়ে’।
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
‘সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অনুসরণ কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
আর তাঁকে ভয় কর যিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন এমন কিছু দিয়ে, যা তোমরা জান'।
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
‘তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন চতুষ্পদ জন্তু ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা’,
أمدكم بأنعام وبنين
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
‘আর উদ্যান ও ঝর্ণা দ্বারা’।
وجنات وعيون
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উপর এক মহাদিবসের আযাবের ভয় করছি’।
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
তারা বলল, ‘তুমি আমাদের উপদেশ দাও অথবা না দাও, উভয়ই আমাদের জন্য সমান’।
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
‘এটি তো পূর্ববর্তীদেরই চরিত্র,।
إن هذا إلا خلق الأولين
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
‘আর আমরা আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হব না’।
وما نحن بمعذبين
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে তাদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম; নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
সামূদ জাতি রাসুলদেরকে অস্বীকার করেছিল,
كذبت ثمود المرسلين
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যখন তাদের ভাই সালিহ তাদেরকে বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’;
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘আর এর উপর আমি তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না; আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘তোমাদেরকে কি এখানে যা আছে তাতে নিরাপদে ছেড়ে দেয়া হবে’?
أتتركون في ما هاهنا آمنين
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
‘উদ্যান ও ঝর্ণায়’,
في جنات وعيون
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
‘আর ক্ষেত-খামার ও কোমল শীষবিশিষ্ট খেজুর বাগানে’?
وزروع ونخل طلعها هضيم
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
‘আর তোমরা নৈপুণ্যের সাথে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মাণ করছ’।
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
‘সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘এবং সীমালংঘনকারীদের নির্দেশের আনুগত্য করো না’-
ولا تطيعوا أمر المسرفين
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
‘যারা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না’।
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
তারা বলল, ‘তুমিতো যাদুগ্রস্তদের একজন।
قالوا إنما أنت من المسحرين
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
‘তুমি তো কেবল আমাদের মত মানুষ, সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে কোন নিদর্শন নিয়ে এসো’।
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
সালিহ বলল, ‘এটি একটি উষ্ট্রী; তার জন্য পানি পানের পালা একদিন আর তোমাদের পানি পানের পালা আরেক নির্দিষ্ট দিনে’।
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
‘আর তোমরা তাকে কোন অনিষ্ট কিছু করো না; যদি কর তবে এক মহাদিবসের আযাব তোমাদেরকে পেয়ে বসবে’।
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
অতঃপর তারা সেটি জবেহ করল; ফলে তারা অনুতপ্ত হল।
فعقروها فأصبحوا نادمين
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
অতএব আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল, নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে, আর তাদের অধিকাংশ ছিল না।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু্।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
লূতের সম্প্রদায় রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كذبت قوم لوط المرسلين
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যখন তাদেরকে তাদের ভাই লূত বলেছিল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে তোমরা কি কেবল পুরুষদের সাথে উপগত হও’?
أتأتون الذكران من العالمين
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
‘আর তোমাদের রব তোমাদের জন্য যে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন তাদেরকে তোমরা ত্যাগ কর, বরং তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়’।
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
তারা বলল, ‘হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে তুমি অবশ্যই বহিস্কৃতদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
লূত বলল, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজকে ঘৃণা করি’।
قال إني لعملكم من القالين
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
‘হে আমার রব, তারা যা করছে, তা থেকে আমাকে ও আমার পরিবার-পরিজনকে তুমি রক্ষা কর’।
رب نجني وأهلي مما يعملون
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
অতঃপর আমি তাকে ও তার পরিবার-পরিজন সবাইকে রক্ষা করলাম।
فنجيناه وأهله أجمعين
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
পেছনে অবস্থানকারিণী এক বৃদ্ধা ছাড়া।
إلا عجوزا في الغابرين
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
তারপর অন্যদেরকে আমি ধ্বংস করে দিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
আর আমি তাদের উপর শিলাবৃষ্টি বর্ষণ করলাম। সুতরাং সেই বৃষ্টি ভয় প্রদর্শিতদের জন্য কতইনা মন্দ ছিল!
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
নিশ্চয় এতে এক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
আইকার অধিবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
যখন শু‘আইব তাদেরকে বলল, ‘তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না’?
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল’।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
‘সুতরাং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
‘মাপ পূর্ণ করে দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
‘আর সঠিক দাঁড়ি পাল্লায় ওজন কর’।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
আর লোকদেরকে তাদের প্রাপ্যবস্তু কম দিও না এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করো না'।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
‘যিনি তোমাদেরকে ও পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহকে সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তাকওয়া অবলম্বন কর’।
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত’।
قالوا إنما أنت من المسحرين
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
‘তুমি কেবল আমাদের মত একজন মানুষ। আর আমরা তোমাকে অবশ্যই মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করি’।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আসমান থেকে এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও’।
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
সে বলল, ‘তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার রব অধিক জ্ঞাত’।
قال ربي أعلم بما تعملون
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল। ফলে তাদেরকে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। অবশ্যই তা ছিল এক মহা দিবসের আযাব।
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই ছিল না।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
আর নিশ্চয় তোমার রব তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।
وإنه لتنزيل رب العالمين
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
বিশ্বস্ত আত্মা* এটা নিয়ে অবতরণ করেছে। * এখানে 'বিশ্বস্ত আত্মা'দ্বারা জিবরীল (আ:) কে বুঝানো হয়েছে।
نزل به الروح الأمين
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
তোমার হৃদয়ে, যাতে তুমি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
على قلبك لتكون من المنذرين
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
بلسان عربي مبين
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
আর অবশ্যই তা রয়েছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
وإنه لفي زبر الأولين
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
এটা কি তাদের জন্য একটি নিদর্শন নয় যে, বনী ইসরাঈলের পন্ডিতগণ তা জানে?
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
আর আমি যদি এটাকে কোন অনারবের প্রতি নাযিল করতাম।
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত। তবুও তারা এতে হত না।
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
এভাবেই আমি বিষয়টি অপরাধীদের অন্তরে সঞ্চার করেছি।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এতে ঈমান আনবে না।
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
সুতরাং তা আকস্মিকভাবে তাদের নিকট এসে পড়বে, অথচ তারা উপলদ্ধি করতে পারবে না।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
তখন তারা বলবে, ‘আমাদেরকে কি অবকাশ দেয়া হবে?’
فيقولوا هل نحن منظرون
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
তাহলে কি তারা আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
أفبعذابنا يستعجلون
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
তুমি কি লক্ষ্য করেছ, আমি যদি তাদেরকে দীর্ঘকাল ভোগ-বিলাসের সুযোগ দিতাম।
أفرأيت إن متعناهم سنين
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
অতঃপর তাদেরকে যে বিষয়ে ওয়াদা করা হয়েছে, তা তাদের নিকট এসে পড়ত,
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
তখন যা তাদের ভোগ-বিলাসের জন্য দেয়া হয়েছিল, তা তাদের কোনই কাজে আসত না।
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
আর আমি এমন কোন জনপদকে ধ্বংস করিনি, যাতে কোন সতর্ককারী আসেনি।
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
এটা উপদেশস্বরূপ; আর আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।
ذكرى وما كنا ظالمين
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
আর শয়তানরা তা নিয়ে অবতরণ করেনি।
وما تنزلت به الشياطين
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
আর এটা তাদের জন্য উচিৎ নয় এবং তারা এর ক্ষমতাও রাখে না।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
নিশ্চয়ই তাদেরকে এর শ্রবণ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছে।
إنهم عن السمع لمعزولون
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
অতএব, তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহকে ডেকো না, তাহলে তুমি আযাবপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
আর তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক কর।
وأنذر عشيرتك الأقربين
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তুমি তোমার বাহুকে অবনত কর।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, ‘তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত’।
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
‘আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালুর উপর তাওয়াক্কুল কর,
وتوكل على العزيز الرحيم
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
‘যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দন্ডায়মান হও’
الذي يراك حين تقوم
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
‘এবং সিজদাকারীদের মধ্যে তোমার উঠাবসা’।
وتقلبك في الساجدين
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
‘নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী’।
إنه هو السميع العليم
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
‘আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব, কার নিকট শয়তানরা অবতীর্ণ হয়’?
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও পাপীর নিকট।
تنزل على كل أفاك أثيم
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
আর বিভ্রান্তরাই কবিদের অনুসরণ করে।
والشعراء يتبعهم الغاوون
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
তুমি কি লক্ষ্য করো নি যে, তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়?
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
আর নিশ্চয় তারা এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
তবে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আর আল্লাহকে অনেক স্মরণ করেছে। আর তারা নির্যাতিত হওয়ার পর প্রতিশোধ নেয়। আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন্ প্রত্যাবর্তন স্থলে তারা প্রত্যাবর্তন করবে।
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?