হা-মীম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্।
হা মীম!
Chapter 41, 54 verses
হা-মীম।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম হা-মী-ম্।
হা মীম!
(এ গ্রন্থ) পরম করুণাময় অসীম দয়ালুর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
তান্যী লুম্ মির্না রহমা-নির রহীম্।
পরম করুণাময় অফুরন্ত ফলদাতার কাছ থেকে এ এক অবতারণ - -
এমন এক কিতাব, যার আয়াতগুলো জ্ঞানী কওমের জন্য বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, কুরআনরূপে আরবী ভাষায়।
কিতাবুন্ ফুছ্ছিলাত্ আ-ইয়া-তুহূ কর্আ-নান্ 'আরবিয়্যাল্ লিক্বওমিইঁ ইয়া'লামূ ন্।
একটি গ্রন্থ যার আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বিবৃত, আরবী কুরআন সেই লোকদের জন্য যারা জানে - -
সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। অতঃপর তাদের অধিকাংশই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অতএব তারা শুনবে না।
বাশীরাঁও অ নাযীরান্ ফা'আরদ্বোয়া আক্ছারুহুম্ ফাহুম্ লা-ইয়াস্ মা'ঊন্।
সুসংবাদবাহক ও সতর্ককারী; কিন্ত তাদের অনেকেই সরে যায়, কাজেই তারা শোনে না।
আর তারা বলে, ‘তুমি আমাদেরকে যার প্রতি আহবান করছ সে বিষয়ে আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত, আমাদের কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা আর তোমার ও আমাদের মধ্যে রয়েছে অন্তরায়। অতএব তুমি (তোমার) কাজ কর, নিশ্চয় আমরা (আমাদের) কাজ করব।
অক্ব-লূ কুলূবুনা ফী য় আকিন্নাতিম্ মিম্মা-তাদ্ঊ'না য় ইলাইহি অফী য় আ-যা-নিনা অকরুঁও অ মিম্ বাইনিনা-অ বাইনিকা হিজ্বা-বুন্ ফা'মাল্ ইন্নানা- 'আ-মিলূন্।
আর তারা বলে - - ''তুমি যার প্রতি আমাদের ডাকছ তা থেকে আমাদের হৃদয় ঢাকনির ভেতরে রয়েছে, আর আমাদের কানে রয়েছে বধিরতা, আর আমাদের মধ্যে ও তোমার মধ্যে রয়েছে একটি পর্দা কাজ করে যাও, আমরাও অবশ্য কাজ করে চলেছি।’’
বল, ‘আমি কেবল তোমাদের মত একজন মানুষ। আমার কাছে ওহী পাঠানো হয় যে, তোমাদের কেবলমাত্র এক । অতএব তোমরা তাঁর পথে দৃঢ়ভাবে অটল থাক এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও’। আর মুশরিকদের জন্য ধ্বংস,
কুল্ ইন্নামা য় আনা বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা য় ইলাইয়া আন্নামা য় ইলা-হুকুম্ ইলা-হুঁও ওযা- হিদুন্ ফাস্তাক্বীমূ য় ইলাইহি অস্তাগ্ফিরূহ্ অ ওয়াইলু ল্লিল্ মুশ্রিকীন্।
বলো, ''আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষ মাত্র, আমার কাছে প্রত্যাদেশ হয়েছে যে তোমাদের উপাস্য নিশ্চয়ই একক উপাস্য, সুতরাং তাঁর দিকে সোজাসুজি পথ ধরো, আর তাঁরই কাছে পরিত্রাণ খোঁজো।’’ আর ধিক্ বহুখোদাবাদীদের প্রতি - -
যারা যাকাত দেয় না। আর তারাই আখিরাতের অস্বীকারকারী।
আল্লাযীনা লা-ইয়ুতূনায্ যাকা-তা অহুম্ বিল্ আ-খিরতি হুম্ কা-ফিরূন্।
যারা যাকাত প্রদান করে না, আর আখেরাত সম্পর্কে তারা স্বয়ং অবিশ্বাসী।
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান।
ইন্নাল্ লাযীনা আ-মানূ অ 'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি লাহুম্ আজরুন্ গইরু মাম্নূন্।
পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বাধাহীন প্রতিদান।
বল, ‘তোমরা কি তাঁকে অস্বীকার করবে যিনি দু’দিনে যমীন সৃষ্টি করেছেন? আর তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ বানাতে চাচ্ছ? তিনিই সৃষ্টিকুলের রব’।
কুল্ আয়িন্নাকুম্ লাতাক্ফুরূনা বিল্লাযী খলাক্বল্ র্আদ্বোয়া ফী ইয়াওমাইনি অতাজ'আলূনা লাহূ য় আন্দা-দা যা- লিকা রব্বুল্ 'আ-লামীন্।
বলো - - ''তোমরা কি ঠিকঠিকই তাঁকে অস্বীকার করছ যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুই দিনে, আর তোমরা কি তাঁর সঙ্গে সমকক্ষ দাঁড় করাও? এমনজনই হচ্ছেন বিশ্বজগতের প্রভু।’’
আর তার উপরিভাগে তিনি দৃঢ় পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন, আর তাতে চারদিনে প্রার্থীদের জন্য সমভাবে খাদ্য নিরূপণ করে দিয়েছেন।
অ জ্বা'আলা ফীহা-রাওয়া- সিয়া মিন্ ফাওক্বিহা- অ বা-রকা ফীহা-অক্বদ্দারা ফীহা য় আকঅ ওয়া- তাহা-ফী য় র্আবা'আতি আইয়্যা-ম্ সাওয়া-য়াল্ লিস্সা-য়িলীন্।
আর তার মধ্যে তার বহির্ভাগে তিনি স্থাপন করেছেন পর্বতমালা, আর তাতে তিনি অনুগ্রহ অর্পণ করেছেন, আর তাতে তিনি ব্যবস্থা করেছেন এর খাদ্যসামগ্রী - - চার দিনে। অনুসন্ধানকারীদের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।
তারপর তিনি আসমানের দিকে মনোনিবেশ করেন। তা ছিল ধোঁয়া। তারপর তিনি আসমান ও যমীনকে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় আস’। তারা উভয়ে বলল, ‘আমরা অনুগত হয়ে আসলাম’।
ছুম্মাস্ তাওয়া য় ইলাস্ সামা-য়ি অহিয়া দুখা-নুন্ ফাক্ব-লা লাহা-অলিল্ র্আদ্বি তিইয়া- ত্বোয়াও'আন্ আও র্কাহা- ক্ব-লাতা য় আতাইনা- ত্বোয়া-য়ি'ঈন্।
তারপর তিনি ফিরলেন আকাশের দিকে আর সেটি ছিল এক ধূম্রজাল। অনন্তর তিনি এটিকে ও পৃথিবীকে বললেন - - ''তোমরা উভয়ে এসো স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়।’’ তারা বললে - - ''আমরা আসছি অনুগত হয়ে।’’
তারপর তিনি দু’দিনে আসমানসমূহকে সাত আসমানে পরিণত করলেন। আর প্রত্যেক আসমানে তার কার্যাবলী ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন। আর আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালার দ্বারা সুসজ্জিত করেছি আর সুরক্ষিত করেছি। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞের নির্ধারণ।
ফাক্বাদ্বোয়া-হুন্না সাব্'আ সামা-ওয়া-তিন্ ফী ইওয়ামাইনি অআওহা-ফী কুল্লি সামা-য়িন্ আম্রহা- অযাইয়্যান্নাস্ সামা-য়াদ্ দুন্ইয়া-বিমাছোয়া-বীহা অহিফ্জোয়া- যা- লিকা তাক্দীরুল্ 'আযীযিল্ 'আলীম্।
তারপর তিনি তাদের সম্পূর্ণ করলেন সাত আসমানে, দুই দিনে, আর প্রত্যেক আকাশে তিনি আদেশ করেছেন তার করণীয়। আর আমরা নিকটবর্তী আকাশকে শোভিত করেছি প্রদীপমালা দিয়ে, আর সুরক্ষিত অবস্থায়। এটিই মহাশক্তিশালী সর্বজ্ঞাতার বিধান।
তবুও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তুমি বলে দাও, ‘আদ ও সামূদের ধ্বংসের মতই এক মহাধ্বংস সম্পর্কে আমি তোমাদেরকে সতর্ক করছি’।
ফাইন্ আ'রাদু ফাকুল্ আর্ন্যাতুকুম্ ছোয়া-'ইক্বতাম্ মিছ্লা ছোয়া-'ইক্বতি 'আ-দিঁও অছামূদ্।
এর পরেও তারা যদি ফিরে যায় তাহলে তুমি বলো - - ''আমি তোমাদের হুশিয়াঁর করে দিচ্ছি 'আদ ও ছামূদের বজ্রাঘাতের ন্যায় এক বজ্রাঘাত সন্বন্ধে।’’
যখন তাদের অগ্র ও পশ্চাৎ থেকে রাসূলগণ তাদের কাছে এসে বলেছিল যে, ‘তোমরা ছাড়া কারো ইবাদাত করো না’। তারা বলেছিল, ‘যদি আমাদের রব ইচ্ছা করতেন তাহলে অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। অতএব, তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে নিশ্চয় আমরা তা প্রত্যাখ্যান করলাম।
ইয্ জ্বা-য়াত্হুর্মু রুসুলূ মিম্ বাইনি আইদীহিম্ অমিন্ খল্ফিহিম্ আল্লা তা'বুদূ য় ইল্লাল্লা-হ্ ক্ব-লূ লাও শা-য়া রব্বুনা-লাআন্যালা মালা-য়িকাতান্ ফাইন্না বিমা য় র্উসিল্তুম্ বিহী কা-ফিরূন্।
স্মরণ করো! রসূলগণ তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এই বলে - - '' ব্যতীত কারো উপাসনা করো না।’’ তারা বলেছিল - - ''আমাদের প্রভু যদি ইচ্ছা করতেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্তাদের পাঠাতে পারতেন, সেজন্য তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা আলবৎ তাতে অবিশ্বাসী।’’
আর ‘আদ সম্প্রদায়, তারা যমীনে অযথা অহঙ্কার করত এবং বলত, ‘আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী কে আছে’? তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, নিশ্চয় যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী? আর তারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করত।
ফাআম্মা- 'আদুন্ ফাস্তাক্বারূ ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাকক্বি অক্ব-লূ মান্ আশাদ্দু মিন্না-কুওয়্যাহ্ আওয়ালাম্ ইয়ারাও আন্নাল্লা-হাল্ লাযী খলাক্বহুম্ হুওয়া আশাদ্দু মিন্হুম্ কুওয়্যাহ্ অকা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন্।
বস্তুতঃ 'আদ - এর ক্ষেত্রে - - তারা তখন পৃথিবীতে যুক্তি ব্যতিরেকে অহঙ্কার করত, আর বলত - - ''আমাদের চেয়ে বলবিক্রমে বেশী শক্তিশালী কে আছে?’’ তারা কি তবে দেখতে পায় নি যে, যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি তাদের চেয়ে বলবিক্রমে অধিক বলীয়ান? আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে বাদ - প্রতিবাদ করত।
তারপর আমি তাদের উপর অশুভ দিনগুলোতে ঝঞ্ঝাবায়ু পাঠালাম যাতে তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব আস্বাদন করাতে পারি। আর আখিরাতের আযাব তো অধিকতর লাঞ্ছনাদায়ক এবং তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
ফার্আসাল্না- 'আলাইহিম্ রীহান্ ছোর্য়া ছোয়ারান্ ফী য় আইয়্যা- মিন্ নাহিসাতিল্ লিনুযীক্বহুম্ 'আযা-বাল্ খিয্ইয়ি ফীল্হাইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- অ লা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আখ্যা-অহুম্ লা-ইয়ুন্ছোয়ারূন্
সেজন্য আমরা তাদের উপরে পাঠিয়েছিলাম এক ভয়ংকর ঝড়তুফান অশুভ দিনে, যেন আমরা পার্থিব জীবনেই তাদের আস্বাদন করাতে পারি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। আর আখেরাতের শাস্তি নিশ্চয়ই আরো বেশী লাঞ্ছনাদায়ক, আর তাদের সাহায্য করা হবে না।
আর সামূদ সম্প্রদায়, আমি তাদেরকে সঠিক পথের নির্দেশনা দিয়েছিলাম; কিন্তু তারা সঠিক পথে চলার পরিবর্তে অন্ধ পথে চলাই পছন্দ করেছিল। ফলে তাদের অর্জনের কারণেই লাঞ্ছনাদায়ক আযাবের বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল।
অ আম্মা-ছামূদু ফাহাদাইনা-হুম্ ফাস্তাহাব্বুল্ 'আমা-'আলাল্ হুদা-ফাআখাযাত্হুম্ ছোয়া-'ইক্বতুল্ 'আযা-বিল্ হূনি বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
আর ছামূদের ক্ষেত্রে - - আমরা তো তাদের পথ দেখিয়েছিলাম কিন্ত তারা পথ দেখার পরিবর্তে অন্ধত্ব ভালবেসেছিল, কাজেই তারা যা অর্জন করেছিল সেজন্য এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির বজ্রাঘাত তাদের পাকড়াও করেছিল।
আর আমি তাদেরকে রক্ষা করলাম যারা ঈমান এনেছিল এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।
অ নাজ্জ্বাইনাল্ লাযীনা আ-মানূ অকা-নূ ইয়াত্তাকুন্।
আর আমরা উদ্ধার করেছিলাম তাদের যারা বিশ্বাস করেছিল এবং ভয়ভক্তি পোষণ করত।
আর যেদিন আল্লাহর দুশমনদেরকে আগুনের দিকে সমবেত করা হবে তখন তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিন্যস্ত করা হবে।
অ ইয়াওমা ইয়ুহ্শারু আ-দা-য়ু ল্লা- হি ইলান্নারি ফাহুম্ ইয়ূযা'ঊন্।
আর সেই দিন যখন র শত্রুদের সমবেত করা হবে আগুনের দিকে, ফলে ওদের দল বাঁধা হবে, - -
অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে পৌঁছবে, তখন তাদের কান, তাদের চোখ ও তাদের চামড়া তাদের বিরুদ্ধে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে।
হাত্তা য় ইযা -মা-জ্বা-য়ূহা-শাহিদা 'আলাইহিম্ সাম্'উহুম্ অআব্ছোয়া-রুহুম্ অ জুলূদুহুম্ বিমা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।
পরিশেষে যখন তারা এর কাছে আসবে তখন তাদের কান ও তাদের চোখ ও তাদের ছাল - চামড়া তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তারা যা করত সে - সন্বন্ধে।
আর তারা তাদের চামড়াগুলোকে বলবে, ‘কেন তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে’? তারা বলবে, ‘ আমাদের বাকশক্তি দিয়েছেন যিনি সবকিছুকে বাকশক্তি দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁরই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।’
অ ক্ব-লূ লিজুলূদিহিম্ লিমা-শাহিত্তুম্ 'আলাইনা- ক্ব-লূ য় আন্ত্বোয়াক্বনা ল্লা- হুল্ লাযী য় আন্ত্বোয়াক্ব কুল্লা শাইয়িঁও অহুওয়া খলাক্বকুম্ আওয়্যালা র্মারতিঁও অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন্।
আর তারা নিজেদের ছাল - চামড়াকে বলবে - - ''তোমরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে?’’ তারা বলবে - - যিনি সব - কিছুকে কথা বলান, তিনিই আমাদের কথা বলিয়েছেন।’’ আর তিনি তোমাদের প্রথমবারে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
তোমরা কিছুই গোপন করতে না এই বিশ্বাসে যে, তোমাদের কান, চোখসমূহ ও চামড়াসমূহ তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে না, বরং তোমরা মনে করেছিলে যে, তোমরা যা কিছু করতে তার অনেক কিছুই জানেন না।
অমা-কুন্তুম্ তাস্তাতিরূনা আইঁ ইয়াশ্হাদা 'আলাইকুম্ সাম্উ'কুম্ অলা য় আব্ছোয়া-রুকুম্ অলা- জুলূদুকুম্ অলা- কিন্ জোয়ানান্তুম্ আন্না ল্লা-হা লা-ইয়া'লামু কাছীরাম্ মিম্মা-তা'মালূন্।
আর তোমাদের কান তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার ব্যাপারে তোমরা কিছুই গোপন রাখতে না, আর তোমাদের চোখের থেকেও নয়, আর তোমাদের ছাল - চামড়া থেকেও নয়, উপরন্তু তোমরা মনে করতে যে তোমরা যা করেছিলে তার অধিকাংশই জানেন না।
আর তোমাদের এ ধারণা যা তোমরা তোমাদের রব সম্পর্কে পোষণ করতে, তাই তোমাদের ধ্বংস করেছে। ফলে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে।
অ যা-লিকুম্ জোয়ান্নু কুমুল্লাযী জোয়ানান্তুম্ বিরব্বিকুম্ র্আদা-কুম্ ফাআছ্বাহ্তুম্ মিনাল্ খ-সিরীন্
আর তোমাদের এমনতর ভাবনাটাই যা তোমরা ভাবতে তোমাদের প্রভু সন্বন্ধে তা - ই তোমাদের ধ্বংস করেছে, ফলে সকালসকালই তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছ।
অতঃপর যদি তারা ধৈর্যধারণ করে তবে আগুনই হবে তাদের আবাস এবং যদি তারা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, তবুও তারা আল্লাহর সন্তোষপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
ফাইঁ ইয়াছ্বিরু ফান্না-রু মাছ্ওয়াল্ লাহুম্ অইঁ ইয়াস্তা'তিবূ ফামা-হুম্ মিনাল্ মু'তাবীন্।
কাজেই তারা যদি অধ্যবসায় করে তাহলে আগুনই হবে তাদের অবস্থানস্থল, আর যদি তারা সদয়তা চায় তাহলে তারা নুগ্রহপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।
আর আমি তাদের জন্য মন্দ সহচরবৃন্দ নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, যারা তাদের সামনে ও পিছনে যা আছে তা তাদের দৃষ্টিতে চাকচিক্যময় করে দিয়েছিল। আর তাদের উপরে আযাবের বাণী সত্যে পরিণত হল, তাদের পূর্বে গত হওয়া জিন ও মানুষের বিভিন্ন জাতির ন্যায়, নিশ্চয় এরা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত
অ ক্বইইয়াদ্ব্না-লাহুম্ কুরনা-য়া ফাযাইয়ানূ লাহুম্ মা- বাইনা আইদীহিম্ অমা- খল্ফাহুম্ অহাকক্ব 'আলাইহিমুল্ ক্বওলু ফী য় উমামিন্ ক্বদ্ খলাত্ মিন্ ক্বব্লিহিম্ মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ ইন্সি ইন্নাহুম্ কা-নূ খ-সিরীন্।
আর আমরা তাদের জন্য সঙ্গী বানিয়েছিলাম, তাই তাদের জন্য তারা চিত্তাকর্ষক করেছিল যা তাদের সম্মুখে ছিল আর যা তাদের পশ্চাতে ছিল, আর তাদের বিরুদ্ধে বাণী সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে, - - জিনদের ও মানুষদের মধ্যের যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে সেই সম্প্রদায়ের মধ্যে, নিঃসন্দেহ তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।
আর কাফিররা বলে, ‘তোমরা এ কুরআনের নির্দেশ শুন না এবং এর আবৃত্তি কালে শোরগোল সৃষ্টি কর, যেন তোমরা জয়ী হতে পার।’
অ ক্ব- লাল্ লাযীনা কাফারূ লা-তাস্মা'ঊ লিহা-যাল্ ক্বর্ আ-নি অল্গও ফীহি লা'আল্লাকুম্ তাগ্লিবূন্।
আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলে - - ''এই কুরআন শুনো না, আর এতে শোরগোল করো, যাতে তোমরা দমন করতে পারো।’’
সুতরাং আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব এবং আমি অবশ্যই তাদের কাজের নিকৃষ্টতম প্রতিদান দেব।
ফালানুযী ক্বান্না ল্ লাযীনা কাফারূ 'আযা-বান্ শাদীদাঁও অলা-নাজযিইয়ান্নাহুম্ আস্ওয়াল্ লাযী কা-নূ ইয়া'মালূন্।
সেজন্য যারা অবিশ্বাস করে তাদের আমরা অবশ্যই কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব, আর তাদের অবশ্যই প্রতিদান দেব তারা যা গর্হিত কাজ করত তাই দিয়ে।
এই আগুন, আল্লাহর দুশমনদের প্রতিদান। সেখানে থাকবে তাদের জন্য স্থায়ী নিবাস তারা যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত তারই প্রতিফলস্বরূপ।
যা-লিকা জ্বাযা-য়ু আ'দা-য়ি ল্লা-হিন্ না- রু লাহুম্ ফীহা-দারুল্ খুল্দ জ্বাযা-য়াম্ বিমা- কা-নূ বিআ-ইয়া-তিনা- ইয়াজহাদূন্।
এই হচ্ছে র শত্রুদের পরিণাম - - আগুন, তাদের জন্য এখানে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী আবাস। আমাদের নির্দেশাবলী তারা অস্বীকার করত বলেই এটি হচ্ছে প্রতিফল।
আর কাফিররা বলবে, ‘হে আমাদের রব, জিন ও মানুষের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে তাদেরকে আমাদের দেখিয়ে দিন। আমরা তাদের উভয়কে আমাদের পায়ের নীচে রাখব, যাতে তারা নিকৃষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
অক্ব-লাল্লাযীনা কাফারূ রব্বানা য় আরিনাল্ লাযাইনি আদ্বোয়াল্লা-না- মিনাল্ জ্বিন্নি অল্ইন্সি না'জ্ব্আল্হুমা-তাহ্তা আক্ব্দা-মিনা- লিইয়াকূনা মিনাল্ আস্ফালীন্।
আর যারা অবিশ্বাস করে তারা বলবে - - ''আমাদের প্রভু! জিন ও মানুষদের যারা আমাদের বিপথে চালিয়েছিল তাদের আমাদের দেখিয়ে দাও, আমাদের পায়ের তলায় আমরা তাদের মাড়াবো, যাতে তারা অধমদের অন্তর্ভুক্ত হয়।’’
নিশ্চয় যারা বলে, ‘আল্লাহই আমাদের রব’ অতঃপর অবিচল থাকে, ফেরেশতারা তাদের কাছে নাযিল হয় (এবং বলে,) ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, দুশ্চিন্তা করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ কর তোমাদেরকে যার ওয়াদা দেয়া হয়েছিল’।
ইন্নাল্ লাযীনা ক্ব-লূ রব্বুনাল্লা-হু ছুম্মাস্ তাক্ব-মূ তাতানায্যালু 'আলাইহিমুল্ মালা-য়িকাতু আল্লা-তাখ -ফূ অলা-তাহ্যানূ অআব্শিরূ বিল্জ্বান্নাতিল্লাতী কুন্তুম্ তূ আ'দূ ন্।
পক্ষান্তরে যারা বলে - - ''আমাদের প্রভু ’’, তারপর তারা কায়েম থাকে, তাদের নিকট ফিরিশ্তারা অবতরণ করে এই বলে - - ''ভয় করো না আর দুঃখ করো না, বরঞ্চ সুসংবাদ শুনো জান্নাতের যার জন্য তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
‘আমরা দুনিয়ার জীবনে তোমাদের বন্ধু এবং আখিরাতেও। সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য আরো থাকবে যা তোমরা দাবী করবে।
নাহ্নু আও লিয়া-য়ুকুম্ ফীল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অ ফীল আ- খিরতি অলাকুম্ ফীহা-মা-তাশ্তাহী য় আন্ফুসুকুম্ অলাকুম্ ফীহা- মা-তাদ্দা'ঊন্
''আমরা তোমাদের বন্ধু এই দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে, আর তোমাদের জন্য এতে রয়েছে তোমাদের অন্তর যা - কিছু কামনা করে তাই, আর তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে যা তোমরা চেয়ে পাঠাও।
পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে আপ্যায়নস্বরূপ।
নুযুলাম্ মিন্ গফূর্রি রহীম্।
''পরিত্রাণকারী অফুরন্ত ফলদাতার তরফ থেকে এক আপ্যায়ন।’’
আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?
অমান্ আহ্সানু ক্বওলাম্ মিম্মান্ দা'আ য় ইলাল্লা-হি অ'আমিলা ছোয়া- লিহাঁও অ ক্ব-লা ইন্নানী মিনাল্ মুস্লিমীন্।
আর কে তার চাইতে কথাবার্তায় বেশী ভাল যে র প্রতি আহ্বান করে এবং সৎকর্ম করে আর বলে - - ''আমি তো নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যেকার?’’
আর ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর তা দ্বারা যা উৎকৃষ্টতর, ফলে তোমার ও যার মধ্যে শত্রুতা রয়েছে সে যেন হয়ে যাবে তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু।
অলা-তাস্কাওয়িল্ হাসানাতু অলাস্ সাইয়্যিয়াহ্ ইদ্ফা' বিল্লাতী হিয়া আহ্সানু ফাইযাল্ লাযী বাইনাকা অবাইনাহূ 'আদা-ওয়াতুন্ কায়ান্নাহূ অলিয়্যুন হামীম্।
আর ভাল জিনিস ও মন্দ জিনিস একসমান হতে পারে না। প্রতিহত করো তাই দিয়ে যা অধিকতর উৎকৃষ্ট, ফলে দেখো! তোমার মধ্যে ও তার মধ্যে শত্রুতা থাকলেও সে যেন ছিল অন্তরঙ্গ বন্ধু।
আর এটি তারাই প্রাপ্ত হবে যারা ধৈর্যধারণ করবে, আর এর অধিকারী কেবল তারাই হয় যারা মহাভাগ্যবান।
অমা-ইয়ুলাকক্ব-হা য় ইল্লাল্ লাযীনা ছবারূ অমা- ইয়ুলাক্বক্ব্-হা য় ইল্লা-যূ হাজ্জিন্ 'আজীম্।
আর কেউ এটি পেতে পারে না তারা ব্যতীত যারা অধ্যবসায় করে, আর কেউ এটি পেতে পারে না মহান সৌভাগ্যবান ব্যতীত।
আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা কখনো তোমাকে প্ররোচিত করে, তাহলে তুমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাত।
অ ইম্মা-ইয়ান্যাগন্নাকা মিনাশ্ শাইত্বোয়া-নি নায্গুন্ ফাস্তা'ইয্ বিল্লা-হ্ ইন্নাহূ হুওয়াস্ সামী'উল্ 'আলীম্।
আর শয়তান থেকে কোনো খোঁচা যদি তোমাকে খোঁচা দেয় তাহলে তুমি র কাছে আশ্রয় চাও। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ । তোমরা না সূর্যকে সিজদা করবে, না চাঁদকে। আর তোমরা আল্লাহকে সিজদা কর যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদাত কর।
অ মিন্ আ-ইয়া-তিহি ল্লাইলু অন্নাহা-রু অশ্ শাম্সু অল্ ক্বর্মা লা- তাস্জ্বুদূ লিশ্শাম্সি অলা-লিল্ক্বমারি অস্জ্বুদূ লিল্লা-হিল্ লাযী খলাক্বহুন্না ইন্ কুন্তুম্ ইয়্যা-হু তা'বুদূন্।
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন আর সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যের প্রতি সিজদা করো না আর চন্দ্রের প্রতিও নয়, বরং তোমরা সিজ্দা করো র প্রতি যিনি এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা তাঁকেই উপাসনা করতে চাও।
অতঃপর যদি এরা অহঙ্কার করেও তবে যারা তোমার রবের নিকটে রয়েছে তারা দিন-রাত তাঁরই তাসবীহ পাঠ করছে এবং তারা ক্লান্তি বোধ করে না।[সাজদাহ]
ফায়িনিস্ তাক্বারূ ফাল্লাযীনা 'ইন্দা রব্বিকা ইয়ুসাব্বিহূনা লাহূ বিল্লাইলি অন্নাহা-রি অহুম্ লা-ইয়াস্য়ামূন্।
কিন্ত যদি তারা গর্ববোধ করে, বস্তুতঃ যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে রয়েছে তারা তাঁর জপতপ করছে দিন ও রাতভর, আর তারা ক্লান্তিবোধ করে না।
তাঁর আরেকটি নিদর্শন হল এই যে, তুমি যমীনকে দেখতে পাও শুষ্ক-অনুর্বর, অতঃপর যখন আমি তার উপর পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয়ই যিনি যমীনকে জীবিত করেন তিনি মৃতদেরও জীবিতকারী। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
অমিন্ আ-ইয়া-তিহী য় আন্নাকা তারল্ র্আদ্বোয়া খ-শি'আতান্ ফাইযা য় আন্যাল্না-'আলাইহাল্ মা-য়াহ্ তায্যাত্ অ রবাত্ ইন্নাল লাযী য় আহ্ইয়া-হা -লামুহ্য়িল্ মাওতা- ইন্নাহূ 'আ লা-কুল্লি শাইয়িন্ ক্বর্দী।
আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে হচ্ছে যে, তুমি পৃথিবীটাকে দেখতে পাচ্ছ শুকনো, তারপর যখন তার উপরে আমরা বর্ষণ করি বৃষ্টি তখন তা চঞ্চল হয় ও ফেঁপে ওঠে। নিঃসন্দেহ যিনি এটিকে জীবনদান করেন তিনিই তো মৃতের প্রাণদাতা। তিনি নিশ্চয়ই সব - কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহ বিকৃত করে তারা আমার অগোচরে নয়। যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি উত্তম, না যে কিয়ামত দিবসে নিরাপদভাবে উপস্থিত হবে? তোমাদের যা ইচ্ছা আমল কর। নিশ্চয় তোমরা যা আমল কর তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।
ইন্নাল্লাযীনা ইয়ুল্হিদূনা ফী য় আ-ইয়া-তিনা-লা-ইয়াখ্ফাওনা 'আলাইনা- আফামাইঁ ইয়ুল্ক্ব-ফী ন্না-রি খইরুন্ আম্ মাইঁ ইয়াতী য় আ- মিনাইঁ ইয়াওমাল্ কিয়া-মাহ্ 'ইমালূ মা- শিতুম্ ইন্নাহূ বিমা- তা'মালূনা বার্ছী।
নিঃসন্দেহ যারা বেঁকে বসে আমাদের নির্দেশাবলীসন্বন্ধে তারা আমাদের থেকে লুকিয়ে থাকা নয়। তবে কি যাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে সে অধিকতর ভাল, না সে, যে কিয়ামতের দিনে নিরাপত্তার সাথে হাজির হবে? তোমরা যা চাও করে যাও, নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছ সে - সন্বন্ধে তিনি সর্বদ্রষ্টা।
নিশ্চয় যারা উপদেশ [কুরআন] আসার পরও তা অস্বীকার করে [ তাদেরকে অবশ্যই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে]। আর এটি নিশ্চয় এক সম্মানিত গ্রন্থ।
ইন্নাল্ লাযীনা কাফারূ বিয্যিক্রি লাম্মা জ্বা-য়া হুম্ অইন্নাহূ লাকিতা-বুন্ 'আযীয্।
নিঃসন্দেহ যারা স্মারকগ্রন্থকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের কাছে তা আসার পরে। আর এটি তো নিশ্চয়ই এক সুমহান গ্রন্থ, - -
বাতিল এতে অনুপ্রবেশ করতে পারে না, না সামনে থেকে, না পিছন থেকে। এটি প্রজ্ঞাময়, সপ্রশংসিতের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত।
লা-ইয়াতীহিল্ বা-ত্বিলু মিম্ বাইনি ইয়াদাইহি অলা-মিন্ খল্ফিহ্ তান্যীলুম্ মিন্ হাকীমিন্ হামীদ্।
এতে মিথ্যা কথা আসতে পারবে না এর সামনে থেকে, আর এর পেছন থেকেও নয়। এ হচ্ছে একটি অবতারণ মহাজ্ঞানী পরম প্রশংসিতের কাছ থেকে।
তোমাকে যা বলা হচ্ছে, তোমার পূর্ববর্তী রাসূলদেরকেও তাই বলা হয়েছিল। নিশ্চয় তোমার রব একান্তই ক্ষমাশীল এবং যন্ত্রণাদায়ক আযাব দাতা।
মা-ইয়ুক্ব-লু লাকা-ইল্লা-মা-ক্বদ্ ক্বীলা র্লিরুসুলি মিন্ ক্বব্লিক ইন্না রব্বাকা লাযূ মাগ্ফিরাতিঁও অযূ 'ইক্ব-বিন্ আলীম্।
তোমার প্রতি এমন কিছু বলা হয়নি তা ব্যতীত যা বলা হতো তোমার পূর্ববর্তী রসূলগণের সন্বন্ধে। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু নিশ্চয়ই পরিত্রাণে ক্ষমতাবান, এবং কঠোর প্রতিফল দিতে সক্ষম।
আর আমি যদি এটাকে অনারবী ভাষার কুরআন বানাতাম তবে তারা নিশ্চিতভাবেই বলত, ‘এর আয়াতসমূহ বিশদভাষায় বর্ণিত হয়নি কেন’? এটি অনারবী ভাষায় আর রাসূল আরবী ভাষী! বল, ‘এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও প্রতিষেধক। আর যারা ঈমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা আর কুরআন তাদের জন্
অলাওজ্বা'আল্না -হু ক্বর্ আ-নান্ আ'জ্বামিয়্যাল্ লাক্ব-লূ লাও লা-ফুছ্ছিলাত্ আ-ইয়াতুহ্ আ আ'জ্বামিইয়ুঁও অ 'আরাবী কুল্ হুঅ লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাঁও অ শিফা-য়্ অল্লাযীনা লা-ইয়ুমিনূনা ফী য় আ-যা-নিহিম্ অকরুঁও অহুওয়া 'আলাইহিম্ 'আমা উলা-য়িকা ইয়ুনা -দাওনা মিম্ মাকা-নিম্ বা'ঈদ্।
আর যদি আমরা এটিকে একটি আ'জমী ভাষণ বানাতাম তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলত - - ''এর আয়াতগুলো কেন পরিস্কারভাবে বলা হয় নি? কী! একটি আ'জমী এবং একজন আরবীয়!’’ বলো - - ''যারা বিশ্বাস করে তাদের জন্য এটি এক পথনির্দেশ ও এক আরোগ্য - বিধান।’’ আর যারা বিশ্বাস করে না তাদের কানের মধ্যে রয়েছে বধিরতা, আর তাদের জন্য এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। এরা - - এদের ডাকা হয় বহু দূরের জায়গা থেকে।
আর অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। অতঃপর তাতে মতভেদ করা হয়। আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে একটি বাণী পূর্বেই না হত, তবে এদের মধ্যে ফয়সালা হয়ে যেত। আর এরা নিশ্চয় সে সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংশয়েই লিপ্ত রয়েছে।
অলাক্বদ্ আ-তাইনা- মূসাল্ কিতা-বা ফাখ্তুলিফা ফীহ্ অলাওলা-কালিমাতুন্ সাবাক্বত্ র্মি রব্বিকা লাকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ অইন্নাহুম্ লাফী শাক্কিম্ মিন্হু মুরী।
আর আমরা তো ইতিপূর্বে মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম, কিন্ত এতে মতভেদ ঘটানো হয়েছিল। আর যদি না তোমার প্রভুর কাছ থেকে একটি বাণী ইতিপূর্বে ধার্য হয়ে থাকত তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত। আর নিঃসন্দেহ এ - সন্বন্ধে তা রা এক অস্বস্তিকর সন্দেহের মাঝে রয়েছে।
যে সৎকর্ম করে সে তার নিজের জন্যই তা করে। আর যে অসৎকর্ম করে তা তার উপরই বর্তাবে। তোমার রব তাঁর বান্দাদের প্রতি মোটেই যালিম নন।
মান্ 'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ফালিনাফ্সিহী অ মান্ আসা-য়া ফা'আলাইহা- অমা- রব্বুকা বিজোয়াল্লা- মিল্ লিল্'আবীদ্।
যে কেউ সৎকর্ম করে থাকে, সেটি তো তার নিজের জন্যেই, আর যে কেউ মন্দকাজ করে সেটি তো তারই বিরুদ্ধে। আর তোমার প্রভু দাসদের প্রতি আদৌ অন্যায়কারী নন।
কিয়ামতের জ্ঞান তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়। তাঁর অজ্ঞাতসারে আবরণ হতে ফলসমূহ বের হয় না, কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসবও করে না এবং সেদিন যখন তিনি তাদেরকে আহবান করে বলবেন, ‘আমার শরীকরা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘আমরা আপনাকে জানাচ্ছি যে, এ ব্যাপারে আমাদে
ইলাইহি ইয়ুরাদ্দু 'ইল্মুস্ সা-আ'হ্ অমা- তাখ্রুজু মিন্ ছামার-তিম্ মিন্ আক্মা-মিহা-অমা- তাহ্মিলু মিন্ উন্ছা-অলা-তাদ্বোয়া'উ ইল্লা-বি'ইল্মিহ্ অইয়াওমা ইয়ুনা-দীহিম্ আইনা শুরাকা-য়ী ক্ব-লূ য় আ-যান্না-কা মা-মিন্না-মিন্ শাহীদ্।
তাঁর কাছেই হাওয়ালা দেওয়া হয় ঘড়িঘন্টার জ্ঞান সন্বন্ধে। আর ফল - ফসলের কোনোটিই তার থোড়ের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসে না, আর নারীদের কেউ গর্ভধারণ করে না ও সন্তান প্রসবও করে না তাঁর জ্ঞানের বাইরে। আর সেইদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন - - ''কোথায় আমার শরিকান?’’ তারা বলবে - - ''আমরা তোমার কাছে ঘোষণা করছি, আমাদের মধ্যে কেউই সাক্ষী নই।’’
আর পূর্বে যাদেরকে তারা ডাকত তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে যাবে এবং তারা বিশ্বাস করবে, তাদের পলায়নের কোন জায়গা নেই।
অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াদ্'ঊনা মিন্ ক্বব্লু অজোয়ান্নূ মা-লাহুম্ মিম্ মাহীছ্।
আর এর আগে যাদের তারা ডাকত তারা তাদের থেকে হয়ে যাবে, আর তারা বুঝবে যে তাদের জন্য কোনো আশ্রয় নেই।
কল্যাণ প্রার্থনায় মানুষ বিরক্ত হয় না; আর যদি অকল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তাহলে সে নিরাশ ও হতাশ হয়ে পড়ে।
লা-ইয়াস্য়ামুল্ ইন্সা-নু মিন্ দু'আ-য়িল্ খইরি অইম্ মাস্সাহুশ্ র্শারু ফাইয়ায়ূসুন্ ক্ব-নূত্ব ।
মানুষ ভালর জন্যে প্রার্থনায় ক্লান্তি বোধ করে না, কিন্ত যদি দুঃখকষ্ট তাকে স্পর্শ করে সে তখন ধৈর্যহারা হয়ে যায়।
আবার আমি যদি তাকে আপতিত অকল্যাণের পর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, ‘এটি আমার প্রাপ্য, আমার মনে হয় না কিয়ামত হবে, আমাকে যদি আমার রবের কাছে ফিরিয়েও নেয়া হয় তবুও তার কাছে আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।’ ( বলেন) ‘আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে তাদে
অলায়িন্ আযাকনা-হু রহ্মাতাম্ মিন্না-মিম্ বা'দি দ্বোর্য়ার-য়া মাস্সাত্হু লাইয়াকুলান্না হা-যা-লী অমা য় আযুন্নূস্ সা-'আতা ক্ব-য়িমাতাঁও অ লার্য়ি রুজ্বিতু ইলা-রব্বী য় ইন্না লী 'ইন্দাহূ লাল্হুস্না- ফালানুনাব্বিয়ান্নাল্ লাযীনা কাফারূ বিমা-'আমিলূ অলানুযীক্বান্নাহুম্ মিন্ 'আযা-বিন্ গলীজ্।
আর দুঃখদুর্দশা তাকে স্পর্শ করার পরে আমরা যদি তাকে আমাদের থেকে করুণা আস্বাদ করাই, সে নিশ্চয়ই বলবে - - ''এটি আমারই জন্যে, আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা কায়েম হবে, আর যদিই বা আমাকে আমার প্রভুর কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তবে আমার জন্য তাঁর কাছে কল্যাণই থাকবে।’’ কিন্ত যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের আমরা অবশ্যই জানিয়ে দেব কী তারা করেছিল এবং তাদের আমরা অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি থেকে।
আর যখন আমি মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করি তখন সে বিমুখ হয় এবং দূরে সরে যায়; আর যখন অকল্যাণ তাকে স্পর্শ করে তখন সে দীর্ঘ দোআকারী হয়।
অইযা য় আন্'আম্না-'আলাল্ ইন্সা-নি আ'রাদ্বোয়া অনায়া-বিজ্বা-নিবিহী অইযা-মাস্সাহুশ্ র্শারু ফাযূ দু'আ-য়িন্ 'আরীদ্ব্ ।
আর যখন আমরা মানুষের উপরে অনুগ্রহ বর্ষণ করি সে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও এর আশপাশ থেকে দূরে সরে যায়, কিন্ত যখন দুঃখকষ্ট তাকে স্পর্শ করে তখন দেখো! সে দীর্ঘ প্রার্থনায় রত হয়।
বল, ‘তোমরা কি লক্ষ্য করেছ, তা যদি (কুরআন) আল্লাহর কাছ থেকে এসে থাকে আর তোমরা তা অস্বীকার কর, তবে যে ব্যক্তি ঘোর বিরোধিতায় লিপ্ত তার চেয়ে অধিক ভ্রষ্ট আর কে’?
কুল্ আরয়াইতুম্ ইন্ কা-না মিন্ 'ইন্দিল্লা-হি ছুম্মা কার্ফাতুম্ বিহী মান্ আদ্বোয়াল্ল ূ মিম্মান্ হুঅ ফী শিক্ব-ক্বিম্ বা'ঈদ্।
তুমি বলো - - ''তোমরা কি ভেবে দেখেছ, যদি এটি র কাছ থেকে হ’য়ে থাকে এবং তোমরা এতে অবিশ্বাস কর, তাহলে তার চাইতে কে বেশী পথভ্রান্ত যে সুদূরব্যাপী বিরুদ্ধাচরণে রয়েছে?’’
বিশ্বজগতে ও তাদের নিজদের মধ্যে আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলী দেখাব যাতে তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয় যে, এটি (কুরআন) সত্য; তোমার রবের জন্য এটাই যথেষ্ট নয় কি যে, তিনি সকল বিষয়ে সাক্ষী?
সানুরী হিম্ আ-ইয়া-তিনা-ফিল্ আ-ফা-ক্বি অফী য় আন্ফুসিহিম্ হাত্তা-ইয়াতাবাইয়্যানা লাহুম্ আন্নাহুল্ হাক্ব্ আওয়ালাম্ ইয়াক্ফি বিরব্বিকা আন্নাহূ 'আলা-কুল্লি শাইয়িন্ শাহীদ্।
আমরা অচিরেই তাদের দেখাব আমাদের নিদর্শনাবলী দিগদিগন্তে এবং তাদের নিজেদের মধ্যেও, যে পর্যন্ত না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটি নিঃসন্দেহ ধ্রুবসত্য। এটি কি যথেষ্ট নয় যে তোমার প্রভু - - তিনিই তো সব - কিছুর উপরে সাক্ষী রয়েছেন?
জেনে রাখ, নিশ্চয় তারা তাদের রবের সাক্ষাতের বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে; জেনে রাখ, নিশ্চয় তিনি সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।
আলা য় ইন্নাহুম্ ফী র্মিইয়াতিম্ মিল্লিক্ব-য়ি রব্বিহিম্ আলা য় ইন্নাহূ বিকুল্লি শাইয়িম্ মুহীত্ব।
এটি কি নয় যে তারা আলবৎ সন্দেহের মাঝে রয়েছে তাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাৎকার সন্বন্ধে? এটি কি নয় যে তিনি নিশ্চয় সব - কিছুরই পরিবেষ্টনকারী?