সে* ভ্রকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। *মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ عَبَسَ وَتَوَلَّىٰ
তিনি ভ্রকুটি করলেন এবং ফিরে বসলেন,
Chapter 80, 42 verses
সে* ভ্রকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল। *মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ عَبَسَ وَتَوَلَّىٰ
তিনি ভ্রকুটি করলেন এবং ফিরে বসলেন,
কারণ তার কাছে অন্ধ লোকটি* আগমন করেছিল। * আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম
أَن جَاءَهُ الْأَعْمَىٰ
কেননা একজন অন্ধ তাঁর কাছে এসেছিল।
আর কিসে তোমাকে জানাবে যে, সে হয়ত পরিশুদ্ধ হত।
وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّهُ يَزَّكَّىٰ
আর কী তোমাকে বুঝতে দেবে যে সে হয়ত পবিত্র হতে চেয়েছিল,
অথবা উপদেশ গ্রহণ করত, ফলে সে উপদেশ তার উপকারে আসত।
أَوْ يَذَّكَّرُ فَتَنفَعَهُ الذِّكْرَىٰ
অথবা সে মনোনিবেশ করত, ফলে স্মারকবাণী তার উপকারে আসত?
আর যে বেপরোয়া হয়েছে,
أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَىٰ
আর তার ক্ষেত্রে যে নিজেকে সমৃদ্ধ ভাবে,
তুমি তার প্রতি মনোযোগ দিচ্ছ।
فَأَنتَ لَهُ تَصَدَّىٰ
তুমি তো তার প্রতিই মনোযোগ দেখাচ্ছ।
অথচ সে পরিশুদ্ধ না হলে তোমার কোন দায়িত্ব বর্তাবে না।
وَمَا عَلَيْكَ أَلَّا يَزَّكَّىٰ
অথচ তোমার উপরে নেই যদি সে নিজেকে পবিত্র না করে।
পক্ষান্তরে যে তোমার কাছে ছুটে আসল,
وَأَمَّا مَن جَاءَكَ يَسْعَىٰ
আর তার ক্ষেত্রে যে তোমার কাছে এসেছিল আগ্রহ নিয়ে,
আর সে ভয়ও করে,
وَهُوَ يَخْشَىٰ
আর সে ভয় করছিল,
অথচ তুমি তার প্রতি উদাসীন হলে।
فَأَنتَ عَنْهُ تَلَهَّىٰ
কিন্ত তুমি তার প্রতি অবহেলা দেখালে।
কখনো নয়, নিশ্চয় এটা উপদেশ বাণী।
كَلَّا إِنَّهَا تَذْكِرَةٌ
কদাচ না! নিঃসন্দেহ এ এক স্মরণীয় বার্তা,
কাজেই যে ইচ্ছা করবে, সে তা স্মরণ রাখবে।
فَمَن شَاءَ ذَكَرَهُ
অতএব যে ইচ্ছা করে সে তা স্মরণ রাখুক।
এটা আছে সম্মানিত সহীফাসমূহে।* *অর্থাৎ লওহে মাহফুজে।
فِي صُحُفٍ مُّكَرَّمَةٍ
সম্মানিত পৃষ্ঠাগুলোয় - -
সমুন্নত, পবিত্র,
مَّرْفُوعَةٍ مُّطَهَّرَةٍ
সুউন্নত, সুপবিত্র,
লেখকদের হাতে,
بِأَيْدِي سَفَرَةٍ
লেখকদের হস্তাক্ষরে,
যারা মহাসম্মানিত, অনুগত।
كِرَامٍ بَرَرَةٍ
সম্মানিত, গুণান্নিত।
মানুষ ধ্বংস হোক, সে কতইনা অকৃতজ্ঞ!
قُتِلَ الْإِنسَانُ مَا أَكْفَرَهُ
যা তাকে অকৃতজ্ঞ বানিয়েছে সেজন্য মানুষকে ধ্বংস করা হোক।
তিনি তাকে কোন বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছেন?
مِنْ أَيِّ شَيْءٍ خَلَقَهُ
কী জিনিস থেকে তাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন?
শুক্র বিন্দু থেকে তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে সুগঠিত করেছেন।
مِن نُّطْفَةٍ خَلَقَهُ فَقَدَّرَهُ
এক শুক্রকীট থেকে! তিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তাকে সুসমঞ্জস করেছেন,
তারপর তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।
ثُمَّ السَّبِيلَ يَسَّرَهُ
তারপর তার জন্য পথ সহজ করে দিয়েছেন,
তারপর তিনি তাকে মৃত্যু দেন এবং তাকে কবরস্থ করেন।
ثُمَّ أَمَاتَهُ فَأَقْبَرَهُ
তারপর তিনি তার মৃত্যু ঘটান, এবং তাকে কবরস্থ করেন,
তারপর যখন তিনি ইচ্ছা করবেন, তাকে পুনর্জীবিত করবেন।
ثُمَّ إِذَا شَاءَ أَنشَرَهُ
তারপর যখন তিনি চাইবেন তখন তাকে পুনর্জীবিত করবেন।
কখনো নয়, তিনি তাকে যে আদেশ দিয়েছিলেন, সে এখনো তা পূর্ণ করেনি।
كَلَّا لَمَّا يَقْضِ مَا أَمَرَهُ
না, তাকে তিনি যা আদেশ করেছিলেন তা সে পালন করে নি।
কাজেই মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক।
فَلْيَنظُرِ الْإِنسَانُ إِلَىٰ طَعَامِهِ
অতএব মানুষ তার খাদ্যের দিকে ভেবে দেখুক - -
নিশ্চয় আমি প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করি।
أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا
কেমন ক’রে আমরা বৃষ্টি বর্ষণ করি বর্ষণধারায়,
তারপর যমীনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করি।
ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا
তারপর আমরা মাটিকে ফাটিয়ে দিই চৌচির ক’রে,
অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি শস্য,
فَأَنبَتْنَا فِيهَا حَبًّا
তারপর তাতে আমরা জন্মাই শস্য,
আঙ্গুর ও শাক-সবজি,
وَعِنَبًا وَقَضْبًا
আর আঙ্গুর ও শাকসবজি,
যায়তূন ও খেজুর বন,
وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا
আর জলপাই ও খেজুর,
ঘনবৃক্ষ শোভিত বাগ-বাগিচা,
وَحَدَائِقَ غُلْبًا
আর ঘন গাছপালাময় বাগান,
আর ফল ও তৃণগুল্ম।
وَفَاكِهَةً وَأَبًّا
আর ফলফসল ও তৃণলতা, - -
তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।
مَّتَاعًا لَّكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ
তোমাদের জন্য খাদ্যভান্ডার ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্যেও।
অতঃপর যখন বিকট আওয়াজ* আসবে, *কিয়ামত দিবসের আওয়ায।
فَإِذَا جَاءَتِ الصَّاخَّةُ
তারপর যেদিন কান - ফাটানো আওয়াজ আসবে - -
সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে,
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ
সেইদিন মানুষ তার ভাইকে ছেড়ে পালাবে,
তার মা ও তার বাবা থেকে,
وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ
আর তার মাকে ও তার বাবাকে,
তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে।
وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ
আর তার পতিপত্নীকে ও তার সন্তানসন্ততিকে।
সেদিন তাদের প্রত্যেকেরই একটি গুরুতর অবস্থা থাকবে, যা তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।
لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ
সেদিন তাদের মধ্যের প্রত্যেক লোকেরই এত ব্যস্ততা থাকবে যে তাকে বেখেয়াল করে দেবে।
সেদিন কিছু কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে।
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ مُّسْفِرَةٌ
অনেক মুখ সেইদিন হবে উজ্জ্বল,
সহাস্য, প্রফুল্ল।
ضَاحِكَةٌ مُّسْتَبْشِرَةٌ
হাসিমাখা, আনন্দমুখর,
আর কিছু কিছু চেহারার উপর সেদিন থাকবে মলিনতা।
وَوُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ عَلَيْهَا غَبَرَةٌ
আর সেইদিন অনেক মুখ - - তাদের উপরে ধূলো - বালি,
কালিমা সেগুলোকে আচ্ছন্ন করবে।
تَرْهَقُهَا قَتَرَةٌ
কালো - আঁধার তাদের ঢেকে ফেলবে।
তারাই , পাপাচারী।
أُولَٰئِكَ هُمُ الْكَفَرَةُ الْفَجَرَةُ
এরা নিজেরাই সত্যপ্রত্যাখ্যানকারী, দুষ্কৃতিকারী।