কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের) যারা সফে (সারিতে) দাঁড়ানো।
بسم الله الرحمن الرحيم والصافات صفا
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّا
Chapter 37, 182 verses
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের) যারা সফে (সারিতে) দাঁড়ানো।
بسم الله الرحمن الرحيم والصافات صفا
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّا
অতঃপর (মেঘমালা) সুচারুরূপে পরিচালনাকারীদের,
শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের) যারা মেঘমালা পরিচালনাকারী।
فالزاجرات زجرا
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًا
আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;
শপথ সেইসব (ফেরেশতাদের), যারা তিলাওয়াত করে বা বহন করে আনে আল কুরআন (আল্লাহর নিকট থেকে)।
فالتاليات ذكرا
فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكْرًا
নিশ্চয় তোমাদের এক;
নিশ্চয়ই তোমাদের এক ও একক।
إن إلهكم لواحد
إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ
তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।
তিনিই মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর, আর তিনিই মালিক উদয়াচলের।
رب السماوات والأرض وما بينهما ورب المشارق
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَٰرِقِ
নিশ্চয় আমি কাছের আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি।
আমরা দুনিয়ার আকাশকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি নক্ষত্ররাজি দিয়ে,
إنا زينا السماء الدنيا بزينة الكواكب
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ
আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।
এবং রক্ষা করেছি প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে।
وحفظا من كل شيطان مارد
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَٰنٍ مَّارِدٍ
তারা ঊর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পারে না, কারণ প্রত্যেক দিক থেকে তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)।
ফলে তারা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শুনতে পায়না এবং তাদের আঘাত করা হয় সবদিক থেকে
لا يسمعون إلى الملإ الأعلى ويقذفون من كل جانب
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
তাড়ানোর জন্য, আর তাদের জন্য আছে অব্যাহত আযাব।
তাদের তাড়ানোর জন্যে। আর তাদের জন্যে রয়েছে অবিরাম আযাব।
دحورا ۖ ولهم عذاب واصب
دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
তবে কেউ সন্তর্পণে কিছু শুনে নিলে তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড।
তবে হঠাৎ কেউ কিছু শুনে ফেললে তার পেছনে ছুটে যায় জ্বলন্ত উল্কা পিন্ড।
إلا من خطف الخطفة فأتبعه شهاب ثاقب
إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।
তাদের (কাফিরদের) জিজ্ঞেস করো, তারাই কি মজবুত সৃষ্টি, নাকি আমরা অন্য যাদের সৃষ্টি করেছি তারা? এদেরকে তো আমরা সৃষ্টি করেছি আঠাল মাটি দিয়ে।
فاستفتهم أهم أشد خلقا أم من خلقنا ۚ إنا خلقناهم من طين لازب
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآ إِنَّا خَلَقْنَٰهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍۭ
বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছ আর ওরা বিদ্রূপ করছে।
তুমি তো বিস্ময়বোধ করছো, অথচ তারা করছে বিদ্রূপ।
بل عجبت ويسخرون
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ
আর যখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা স্মরণ করে না।
তাদের যখন উপদেশ দেয়া হয়, তারা সেদিকে মনোযোগ দেয়না।
وإذا ذكروا لا يذكرون
وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا يَذْكُرُونَ
আর যখন তারা কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
যখনই তারা কোনো নিদর্শন দেখে, উপহাস করে।
وإذا رأوا آية يستسخرون
وَإِذَا رَأَوْا۟ ءَايَةً يَسْتَسْخِرُونَ
আর বলে, ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’!
তারা বলে: ‘‘এ তো এক পরিষ্কার ম্যাজিক ছাড়া কিছু নয়।
وقالوا إن هذا إلا سحر مبين
وَقَالُوٓا۟ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব’?
আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হবো, তখন কি আমাদের পুনরায় উঠানো হবে?
أإذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمبعوثون
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?
আমাদের পূর্ব পুরুষদেরকেও?’’
أوآباؤنا الأولون
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
বলো: ‘হ্যাঁ, আর তখন তোমরা হবে লাঞ্ছিত।’
قل نعم وأنتم داخرون
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ
তা হবে কেবল এক আওয়াজ আর তৎক্ষণাৎ তারা দেখতে পাবে।
সেটা হবে একটা প্রচন্ড শব্দ, আর তখনই তারা তা দেখতে পাবে।
فإنما هي زجرة واحدة فإذا هم ينظرون
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ
আর তারা বলবে, ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এ তো প্রতিদান দিবস’!
তারা আরো বলবে: ‘হায় ধ্বংস আমাদের, এটা তো প্রতিফল দিবস।’
وقالوا يا ويلنا هذا يوم الدين
وَقَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَا هَٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ
এটি ফয়সালা করার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।
(তখন তাদের বলা হবে:) ‘এটা হলো ফায়সালার দিন, যে দিনটিকে তোমরা করছিলে অস্বীকার।’
هذا يوم الفصل الذي كنتم به تكذبون
هَٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।
(ফেরেশতাদের বলা হবে:) এনে জমা করো যালিমদের, তাদের সাথি সংগিদের এবং তাদের উপাস্যদের, যাদের তারা ইবাদত করতো
۞ احشروا الذين ظلموا وأزواجهم وما كانوا يعبدون
ٱحْشُرُوا۟ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَعْبُدُونَ
‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও’।
আল্লাহর পরিবর্তে। তাদের পরিচালিত করো জাহান্নামের দিকে।
من دون الله فاهدوهم إلى صراط الجحيم
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ
‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে’।
তবে তাদের থামাও, কারণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
وقفوهم ۖ إنهم مسئولون
وَقِفُوهُمْ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা পরস্পরকে সাহায্য করছো না কেন?
ما لكم لا تناصرون
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।
বরং তারা সেদিন আত্মসমর্পণ করে দেবে।
بل هم اليوم مستسلمون
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
তারা একে অপরের সামনা সামনি হয়ে পরস্পরকে প্রশ্ন করবে,
وأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
তারা বলবে: ‘তোমরা তো ডান দিক থেকে (তোমাদের শক্তি দেখিয়ে) আমাদের কাছে আসতে।’
قالوا إنكم كنتم تأتوننا عن اليمين
قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ
জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো ছিলে না’।
তারা জবাবে বলবে: ‘‘তোমরা তো নিজেরাই ছিলে না,
قالوا بل لم تكونوا مؤمنين
قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
আর তোমাদের উপর আমাদের কোনো কর্তৃত্বও ছিলনা। বরং তোমরা ছিলে আল্লাদ্রোহী লোক।
وما كان لنا عليكم من سلطان ۖ بل كنتم قوما طاغين
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَٰنٍۭ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَٰغِينَ
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।
তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রভুর কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যি শাস্তি ভোগ করতে হবে।
فحق علينا قول ربنا ۖ إنا لذائقون
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ إِنَّا لَذَآئِقُونَ
‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।
আমরা তোমাদের বিপথগামী করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও ছিলাম বিপথগামী।’’
فأغويناكم إنا كنا غاوين
فَأَغْوَيْنَٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَٰوِينَ
নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।
সেদিন তারা সবাই শরিকদার হবে আযাবের।
فإنهم يومئذ في العذاب مشتركون
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
আমরা অপরাধীদের সাথে এ রকমই আচরণ করি।
إنا كذلك نفعل بالمجرمين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ
তাদেরকে যখন বলা হত, ‘ ছাড়া কোন (সত্য) নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।
তাদের যখন বলা হতো: ‘কোনো নেই ছাড়া’, তখন তারা হঠকারিতা প্রদর্শন করতো।
إنهم كانوا إذا قيل لهم لا إله إلا الله يستكبرون
إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’
তারা বলতো: ‘আমরা কি একজন পাগল কবির জন্যে আমাদের ইলাহদের পরিত্যাগ করবো?’
ويقولون أئنا لتاركو آلهتنا لشاعر مجنون
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ
বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
বরং সে তো সত্য নিয়ে এসেছে এবং (অতীত) রসূলদের সত্য বলে মেনে নিয়েছে।
بل جاء بالحق وصدق المرسلين
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ
অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।
তোমরা অবশ্যি আস্বাদন করবে বেদনাদায়ক আযাব।
إنكم لذائقو العذاب الأليم
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ
আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
এবং তোমরা যেসব কর্মকান্ড করতে সেগুলোরই প্রতিদান পাবে।
وما تجزون إلا ما كنتم تعملون
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা দাস।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,
তাদের জন্যে রয়েছে পরিচিত রিযিক।
أولئك لهم رزق معلوم
أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,
রয়েছে ফলফলারি, আর তারা হবে সম্মানিত,
فواكه ۖ وهم مكرمون
فَوَٰكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ
নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,
জান্নাতুন নায়ীমে (নিয়ামতে ভরা জান্নাতে)।
في جنات النعيم
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
মুখোমুখি পালঙ্কে।
সেখানে তারা উপবেশন করবে মুখোমুখি আসনে।
على سرر متقابلين
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَٰبِلِينَ
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,
তাদের ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে (মদের) পেয়ালা বহমান ঝরণা থেকে
يطاف عليهم بكأس من معين
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍۭ
সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
শুভ্র সাদা শরাব, যা হবে পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
بيضاء لذة للشاربين
بَيْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشَّٰرِبِينَ
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
তাতে ক্ষতিকর কিছু থাকবে না এবং তাতে মাতালও হবেনা কেউ।
لا فيها غول ولا هم عنها ينزفون
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
তাদের কাছে থাকবে আনত নয়না এবং আয়তলোচনা নারীরা।
وعندهم قاصرات الطرف عين
وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌ
তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।
সেসব নারীরা হবে যেনো সযত্নে লালিত সাদা ডিম।
كأنهن بيض مكنون
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।
তারা পরস্পরের সামনাসামনি হয়ে প্রশ্ন করবে।
فأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
তাদের কেউ কেউ বলবে: (দুনিয়ায়) আমার ছিলো এক সাথি,
قال قائل منهم إني كان لي قرين
قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌ
সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।
সে বলতো তুমি কি একথায় যে:
يقول أإنك لمن المصدقين
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ
‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?
‘আমরা যখন মরে যাবো এবং মাটি ও অস্থিমজ্জায় পরিণত হবো, তখন কি আমাদের প্রতিফল দেয়া হবে?’
أإذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمدينون
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ
বলবেন, ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?’
কেউ একজন বলবে: তোমরা কি দেখতে চাও সে এখন কোথায়?
قال هل أنتم مطلعون
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
তখন সে ঝুঁকে পড়ে দেখবে এবং তাকে দেখতে পাবে জাহান্নামের মাঝ বরাবর।
فاطلع فرآه في سواء الجحيم
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ
সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে’।
সে তাকে বলবে: ‘আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
قال تالله إن كدت لتردين
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ
‘আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম’।
যদি আমার প্রভুর অনুগ্রহ না হতো, তাহলে তো আমিও (জাহান্নামে) হাজির করা লোকদের অন্তরভুক্ত হতাম।’
ولولا نعمة ربي لكنت من المحضرين
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ
(জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?
সে বলবে: ‘তাহলে কি আমাদের আর মৃত্যু হবেনা
أفما نحن بميتين
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না’?
প্রথম মৃত্যুর পর এবং আমাদের কি আযাবও দেয়া হবেনা?’
إلا موتتنا الأولى وما نحن بمعذبين
إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’
নিশ্চয়ই এ হলো মহাসাফল্য।
إن هذا لهو الفوز العظيم
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ
এরূপ সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের আমল করা উচিত।
এ রকম সাফল্যের জন্যেই কর্মীদের কাজ করা উচিত।
لمثل هذا فليعمل العاملون
لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَٰمِلُونَ
আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কূম* বৃক্ষ? * অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।
আতিথ্য হিসেবে এটা ভালো, নাকি যাক্কুম গাছ?
أذلك خير نزلا أم شجرة الزقوم
أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ
নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা।
যালিমদের জন্যে আমরা এ গাছটি সৃষ্টি করেছি ফিতনা হিসেবে।
إنا جعلناها فتنة للظالمين
إِنَّا جَعَلْنَٰهَا فِتْنَةً لِّلظَّٰلِمِينَ
নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।
সেটি এমন একটি গাছ, যা উৎপন্ন হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে।
إنها شجرة تخرج في أصل الجحيم
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ
এর ফল যেন শয়তানের মাথা;
সেটার মোচা দেখতে যেনো শয়তানের মাথা।
طلعها كأنه رءوس الشياطين
طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ
নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
তারা অবশ্যি তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে ভর্তি করবে পেট।
فإنهم لآكلون منها فمالئون منها البطون
فَإِنَّهُمْ لَءَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
তার উপর তাদের জন্যে থাকবে পুঁজ মিশ্রিত টগবগে ফুটন্ত পানি।
ثم إن لهم عليها لشوبا من حميم
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।
তাদের গন্তব্য পথ হবে অবশ্যি জাহান্নামের দিকে।
ثم إن مرجعهم لإلى الجحيم
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ
নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;
সেখানে তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের দেখতে পাবে বিপথগামী,
إنهم ألفوا آباءهم ضالين
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا۟ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ
ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।
এবং তারা তাদের পদাংক অনুসরণ করে চলেছিল।
فهم على آثارهم يهرعون
فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ
আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশীরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
তাদের আগেও আগেকার অধিকাংশ লোকই বিপথগামী হয়েছিল।
ولقد ضل قبلهم أكثر الأولين
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ
আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;
আমরা তাদের মাঝে পাঠিয়েছিলাম সতর্ককারী।
ولقد أرسلنا فيهم منذرين
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ
সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!
সুতরাং চেয়ে দেখো, যাদের সতর্ক করা হয়েছিল, কী জঘন্য পরিণতি হয়েছে তাদের?
فانظر كيف كان عاقبة المنذرين
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া।
তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
নূহ আমাদের ডেকেছিল, আর আমরা ডাকে কতোইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
ولقد نادانا نوح فلنعم المجيبون
وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ
আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
আমরা তাকে এবং তার পরিবার পরিজনকে উদ্ধার করেছিলাম মহাসংকট থেকে।
ونجيناه وأهله من الكرب العظيم
وَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,
তার বংশধরদেরই আমরা অবশিষ্ট রেখেছি (প্রজন্মের পর প্রজন্ম)।
وجعلنا ذريته هم الباقين
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ
আর পরবর্তীদের মধ্যে তার জন্য (সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।
আমরা তার (সুনাম) স্মরণীয় করে রেখেছি পরবর্তীদের মাঝে।
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
শান্তি বর্ষিত হোক নূহের উপর সকল সৃষ্টির মধ্যে।
সমগ্র জগতের মধ্যে নূহের প্রতি ‘সালাম’ (শান্তি বর্ষিত হোক)।
سلام على نوح في العالمين
سَلَٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَٰلَمِينَ
নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করে থাকি কল্যাণপরায়ণদের।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের একজন।
সে ছিলো আমার বান্দাদের একজন।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
তারপর আমি অন্যদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
ثم أغرقنا الآخرين
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আর তার অনুগামীদেরই একজন ছিলো ইবরাহিম।
۞ وإن من شيعته لإبراهيم
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ
যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।
সে তার প্রভুর কাছে উপস্থিত হয়েছিল প্রশান্ত হৃদয় নিয়ে।
إذ جاء ربه بقلب سليم
إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর’?
সে তার পিতা এবং তার কওমকে বলেছিল: ‘‘আপনারা কিসের ইবাদত (উপাসনা) করছেন?
إذ قال لأبيه وقومه ماذا تعبدون
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ
‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে চাও’?
আপনারা কি আল্লাহর পরিবর্তে মনগড়া ইলাহদের চান?
أئفكا آلهة دون الله تريدون
أَئِفْكًا ءَالِهَةً دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ
‘তাহলে সকল সৃষ্টির রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী’?
‘রাববুল আলামিনের’ (বিশ্বজগতের প্রভুর) ব্যাপারে আপনাদের ধারণা কী?’’
فما ظنكم برب العالمين
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অতঃপর সে তারকারাজির মধ্যে একবার দৃষ্টি দিল।
অত:পর সে একবার তারকারাজির দিকে তাকালো
فنظر نظرة في النجوم
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِى ٱلنُّجُومِ
তারপর বলল, ‘আমি তো অসুস্থ’।
এবং বললো: ‘আমি অসুস্থ।’
فقال إني سقيم
فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌ
অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।
তখন তারা তাকে ফেলে চলে গেলো।
فتولوا عنه مدبرين
فَتَوَلَّوْا۟ عَنْهُ مُدْبِرِينَ
তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
অত:পর সে সতর্কভাবে তাদের (দেবতা) গুলোর কাছে গেলো। তাদের বললো: ‘তোমরা কি খাবেনা?’
فراغ إلى آلهتهم فقال ألا تأكلون
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না’?
‘তোমাদের কী হয়েছে, তোমরা কথা বলোনা কেন?’
ما لكم لا تنطقون
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ
অতঃপর সে তাদের উপর সজোরে আঘাত হানল।
তারপর সে তাদের আঘাত হানলো শক্তভাবে।
فراغ عليهم ضربا باليمين
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ
তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে আসল।
তখন লোকেরা ছুটে এলো তার দিকে।
فأقبلوا إليه يزفون
فَأَقْبَلُوٓا۟ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ
সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলো বানাও, তোমরা কি সেগুলোর উপাসনা কর’,
সে বললো: ‘‘তোমরা নিজেরা যেগুলোকে খোদাই করে তৈয়ার করো, তোমরা কি সেগুলোরই পূজা করো?
قال أتعبدون ما تنحتون
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ
‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন’?
অথচ তোমাদের তো সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা তৈরি করো সেগুলোকেও।’’
والله خلقكم وما تعملون
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ
তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।
তারা বললো: ‘তার জন্যে ঘেরাও করা প্রাচীরের একটা ইমারত নির্মাণ করো। অতপর তাকে সেই অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করো।’
قالوا ابنوا له بنيانا فألقوه في الجحيم
قَالُوا۟ ٱبْنُوا۟ لَهُۥ بُنْيَٰنًا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ
আর তারা তার ব্যাপারে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে দিলাম।
তখন তারা তার বিরুদ্ধে এক চরম চক্রান্ত করে, কিন্তু আমরা তাদের নিচু করে দিয়েছি।
فأرادوا به كيدا فجعلناهم الأسفلين
فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًا فَجَعَلْنَٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ
আর সে বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।
সে বলেছিল: ‘‘আমি আমার প্রভুর দিকে চললাম, তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।
وقال إني ذاهب إلى ربي سيهدين
وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ
‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।
আমার প্রভু! আমাকে একটি যোগ্য সন্তান দান করো।’’
رب هب لي من الصالحين
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।
তখন আমরা তাকে সুসংবাদ দিলাম এক স্থির বুদ্ধিসম্পন্ন পুত্র সন্তানের।
فبشرناه بغلام حليم
فَبَشَّرْنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٍ
অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর
যখন সে তার পিতার সাথে কাজ করার বয়েসে উপনীত হয়, তখন সে (ইবরাহিম) বলেছিল: ‘আমার পুত্র! আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি তোমাকে যবেহ্ করছি। এখন তুমি বলো এ বিষয়ে তোমার অভিমত কী?’ সে বলেছিল: ‘আব্বু! আপনাকে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে আপনি তাই করুন। ইনশাল্লাহ ( চাইলে) আপনি আমাকে পাবেন ধৈর্যশীল।’
فلما بلغ معه السعي قال يا بني إني أرى في المنام أني أذبحك فانظر ماذا ترى ۚ قال يا أبت افعل ما تؤمر ۖ ستجدني إن شاء الله من الصابرين
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِ
অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিল * ইসমাঈলকে
যখন তারা দুজনই আত্মসমর্পণ করলো এবং ইবরাহিম তার পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিলো,
فلما أسلما وتله للجبين
فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ
তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,
তখন আমরা তাকে ডেকে বললাম: ‘হে ইবরাহিম!
وناديناه أن يا إبراهيم
وَنَٰدَيْنَٰهُ أَن يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ
‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।
অবশ্যি তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছো। আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি পুণ্যবানদের।
قد صدقت الرؤيا ۚ إنا كذلك نجزي المحسنين
قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’।
নিশ্চয়ই এটা ছিলো একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
إن هذا لهو البلاء المبين
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَٰٓؤُا۟ ٱلْمُبِينُ
আর আমি এক মহান যবেহের* বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। * তা ছিল একটি জান্নাতী দুম্বা।
অত:পর আমরা তাকে মুক্ত করেছিলাম এক মহাকুরবানির বিনিময়ে।
وفديناه بذبح عظيم
وَفَدَيْنَٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
আর আমরা পরবর্তীদের মধ্যেও এই কুরবানির রীতি চালু রেখেছি।
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
ইবরাহীমের প্রতি সালাম।
সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক) ইবরাহিমের প্রতি।
سلام على إبراهيم
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
পুণ্যবানদের আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করি।
كذلك نجزي المحسنين
كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
সে ছিলো আমাদের দাসদের একজন।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম, সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হিসেবে,
তারপর আমরা তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম (পুত্র) ইসহাকের। সেও ছিলো একজন যোগ্য নবী।
وبشرناه بإسحاق نبيا من الصالحين
وَبَشَّرْنَٰهُ بِإِسْحَٰقَ نَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছিলাম, আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল সৎকর্মশীল এবং কেউ নিজের প্রতি স্পষ্ট যালিম।
আমরা বরকত দান করেছিলাম তাকে এবং ইসহাককেও। তাদের বংশধরদের মধ্যে কিছু কল্যাণপরায়ণ লোকও আছে, আর কিছু আছে নিজেদের প্রতি সুস্পষ্ট যুলুমকারীও।
وباركنا عليه وعلى إسحاق ۚ ومن ذريتهما محسن وظالم لنفسه مبين
وَبَٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَٰقَ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌ
আর আমি নিশ্চয় হারূন ও মূসার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,
আমরা ইহসান করেছিলাম মূসা এবং হারূণের প্রতি,
ولقد مننا على موسى وهارون
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।
এবং আমরা নাজাত দিয়েছিলাম তাদেরকে এবং তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে।
ونجيناهما وقومهما من الكرب العظيم
وَنَجَّيْنَٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
আমরা তাদের সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই হয়েছিল বিজয়ী।
ونصرناهم فكانوا هم الغالبين
وَنَصَرْنَٰهُمْ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ
আর আমি উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম।
আমরা তাদের উভয়কে দিয়েছিলাম সুবিস্তারিত কিতাব।
وآتيناهما الكتاب المستبين
وَءَاتَيْنَٰهُمَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ
আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
উভয়কেই পরিচালিত করেছিলাম সিরাতুল মুসতাকিমে (সরল সঠিক পথে)।
وهديناهما الصراط المستقيم
وَهَدَيْنَٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ
আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
পরবর্তীদের মাঝে তাদের খ্যাতি সংরক্ষণ করেছি।
وتركنا عليهما في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْءَاخِرِينَ
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম।
সালাম মূসা এবং হারূণের প্রতি।
سلام على موسى وهارون
سَلَٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
আমরা এভাবেই পুরস্কৃত করি পুণ্যবানদের।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
তারা উভয়েই ছিলো আমাদের দাসদের অন্তরভুক্ত।
إنهما من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
নিশ্চয়ই ইলিয়াসও ছিলো রসূলদের একজন।
وإن إلياس لمن المرسلين
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?
স্মরণ করো, সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لقومه ألا تتقون
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ
তোমরা কি ‘বা’ল’ কে* ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা- * بعل একটি দেবতার নাম, যার উপাসনা তারা করত।
তোমরা কি বা’আল (দেবতা) - কেই ডাকবে, আর পরিত্যাগ করবে সর্বশ্রেষ্ঠ স্রষ্টা
أتدعون بعلا وتذرون أحسن الخالقين
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَٰلِقِينَ
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব’?
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব?’’
الله ربكم ورب آبائكم الأولين
ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (আযাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে।
কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং তাদেরকে অবশ্যি (শাস্তির জন্যে) হাজির করা হবে।
فكذبوه فإنهم لمحضرون
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।
তবে আমাদের মুখলিস (নিষ্ঠাবান) বান্দাদের কথা ভিন্ন।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
আমরা তাকে স্মরণীয় করে রেখেছি পরবর্তীদের মাঝে।
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
ইলইয়াসের প্রতি সালাম।
সালাম ইলয়াসিনের (ইলিয়াসের) প্রতি।
سلام على إل ياسين
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ
নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
এভাবেই আমরা পুরস্কৃত করি কল্যাণপরায়ণদের।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
সে ছিলো আমাদের দাসদের একজন।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।
নিশ্চয়ই লুতও ছিলো রসূলদের একজন।
وإن لوطا لمن المرسلين
وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে নাজাত দিয়েছিলাম-
আমরা তাকে এবং তার পরিবার পরিজন সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
إذ نجيناه وأهله أجمعين
إِذْ نَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া ।
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া। সে ছিলো পেছনে পড়াদের একজন।
إلا عجوزا في الغابرين
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ
অতঃপর আমি অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
(তাদের নাজাত দিয়ে) বাকিদের আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আর তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-
তোমরা তাদের ধ্বংসাবশেষগুলো অতিক্রম করো সকালে
وإنكم لتمرون عليهم مصبحين
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
ও রাতে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
এবং রাত্রে। তবু কি তোমরা আকল খাটাবেনা?
وبالليل ۗ أفلا تعقلون
وَبِٱلَّيْلِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
ইউনুস অবশ্যি রসূলদের একজন।
وإن يونس لمن المرسلين
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।
স্মরণ করো, যখন সে পালিয়ে এসে বোঝাই করা নৌযানের কাছে পৌঁছালো।
إذ أبق إلى الفلك المشحون
إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
অতঃপর সে লটারীতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।
তারপর সে লটারিতে যোগ দিলো এবং পরাজিত হলো।
فساهم فكان من المدحضين
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ
তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।
(ফলে তারা তাকে ফেলে দিলো দরিয়ায়) এবং একটা বিশাল মাছ তাকে গিলে ফেললো। তখন সে নিজেকে তিরস্কার করতে থাকলো।
فالتقمه الحوت وهو مليم
فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,
সে যদি আল্লাহর তসবিহ ঘোষণাকারী না হতো,
فلولا أنه كان من المسبحين
فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ
তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।
তাহলে তাকে তার পেটেই থাকতে হতো পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত।
للبث في بطنه إلى يوم يبعثون
لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।
তখন আমরা তাকে নিক্ষেপ করলাম এক তরুলতাবিহীন প্রান্তরে এবং তখন ভীষণ অসুস্থ ছিলো সে।
۞ فنبذناه بالعراء وهو سقيم
فَنَبَذْنَٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
আর আমি একটি ইয়াকতীন* গাছ তার উপর উদগত করলাম। * শসা, কাঁকড় ও লাউ জাতীয় গাছকে ইয়কতীন বলে। যা কান্ডের উপর দাঁড়াতে পারে না। তার জন্য মাচা তৈরী করতে হয়।
আমরা তার উপর উদগত করে দিলাম একটি লাউ গাছ।
وأنبتنا عليه شجرة من يقطين
وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
এবং তাকে আমি এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী লোকের কাছে পাঠালাম।
তারপর আমরা তাকে পুনরায় পাঠালাম এক লাখ বা তার চাইতে বেশি লোকের জনপদে।
وأرسلناه إلى مائة ألف أو يزيدون
وَأَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত উপভোগ করতে দিলাম।
তখন তারা ঈমান আনলো, ফলে আমরা তাদেরকে কিছু কালের জন্যে জীবন ভোগ করতে দিয়েছিলাম।
فآمنوا فمتعناهم إلى حين
فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعْنَٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?
এখন তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো: সব কন্যা সন্তান কি তোমার প্রভুর জন্যে, আর তাদের জন্যে কি সব পুত্র সন্তান?
فاستفتهم ألربك البنات ولهم البنون
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ
অথবা আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
নাকি আমরা ফেরেশতাদের নারী করে সৃষ্টি করেছি এবং এ ব্যাপারে তারা ছিলো প্রত্যক্ষদর্শী?
أم خلقنا الملائكة إناثا وهم شاهدون
أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِنَٰثًا وَهُمْ شَٰهِدُونَ
জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
সাবধান, তারা কথা রচনা করে বলে:
ألا إنهم من إفكهم ليقولون
أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
‘ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
‘ সন্তান জন্ম দিয়েছেন।’ আসলে তারা চরম মিথ্যাবাদী।
ولد الله وإنهم لكاذبون
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ
তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
তিনি কি পুত্র সন্তানের পরিবর্তে কন্যা সন্তান বেছে নিয়েছেন?
أصطفى البنات على البنين
أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ
তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!
তোমাদের হয়েছে কী, তোমাদের এ কেমন বিচার?
ما لكم كيف تحكمون
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?
أفلا تذكرون
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?
নাকি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে?
أم لكم سلطان مبين
أَمْ لَكُمْ سُلْطَٰنٌ مُّبِينٌ
অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।
তবে তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আসো।
فأتوا بكتابكم إن كنتم صادقين
فَأْتُوا۟ بِكِتَٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
আর তারা ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।
তারা এবং জিনদের মাঝেও আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করে। অথচ জিনরা জানে, অবশ্যি তাদেরকে হাজির করা হবে বিচারের জন্যে।
وجعلوا بينه وبين الجنة نسبا ۚ ولقد علمت الجنة إنهم لمحضرون
وَجَعَلُوا۟ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًا وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
সে সব থেকে অতিপবিত্র ও মহান, যা তারা আরোপ করে,
তারা আল্লাহর প্রতি যা আরোপ করে তিনি তা থেকে পবিত্র, মহান।
سبحان الله عما يصفون
سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
তবে আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) নির্বাচিত বান্দাগণ ছাড়া।
তবে আল্লাহর মুখলিস (একনিষ্ঠ) বান্দারা তা করে না।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর তারা-
জেনে রাখো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের ইবাদত (পূজা, উপাসনা) করো, তারা (সবাই মিলে)
فإنكم وما تعبدون
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ
তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে (মুমিনদের) কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
তোমরা কাউকেও আল্লাহর ব্যাপারে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
ما أنتم عليه بفاتنين
مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَٰتِنِينَ
জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া।
কেবল জাহিমে (জাহান্নামে) প্রবেশকারীকে ছাড়া।
إلا من هو صال الجحيم
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ
আমাদের* প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিতস্থান** রয়েছে। *এটা ফেরেশতাদের বক্তব্য।
(ফেরেশতারা বলে:)! ‘‘আমাদের প্রত্যেকের জন্যেই রয়েছে নির্ধারিত স্থান।
وما منا إلا له مقام معلوم
وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
আর অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধ ।
আমরা অবশ্যি সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান।
وإنا لنحن الصافون
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ
আর আমরা অবশ্যই তাসবীহ পাঠকারী।
আমরা অবশ্যি আল্লাহর তসবিহ্ (পবিত্রতা ও শ্রেষ্ঠত্ব) ঘোষণাকারী।’’
وإنا لنحن المسبحون
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ
আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলত,
তারা তো বলে আসছে:
وإن كانوا ليقولون
وَإِن كَانُوا۟ لَيَقُولُونَ
‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,
‘‘আগেকার কিতাবের মতো কোনো কিতাব যদি আমাদের কাছে থাকতো,
لو أن عندنا ذكرا من الأولين
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম’।
তবে অবশ্যি আমরা আল্লাহর মুখলিস (নিষ্ঠাবান) বান্দা হয়ে যেতাম।’’
لكنا عباد الله المخلصين
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
কিন্তু তারা সেটির (কুরআনের) প্রতি কুফুরি করলো, এখন অচিরেই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
فكفروا به ۖ فسوف يعلمون
فَكَفَرُوا۟ بِهِۦ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
আমার রসূলদের ব্যাপারে আমার এই ফায়সালা পূর্ব থেকেই স্থির হয়ে আছে যে,
ولقد سبقت كلمتنا لعبادنا المرسلين
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ
‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।
তারা অবশ্যি সাহায্যপ্রাপ্ত হবে,
إنهم لهم المنصورون
إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ
আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।
এবং আমাদের বাহিনীই হবে বিজয়ী।
وإن جندنا لهم الغالبون
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ
অতএব কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
সুতরাং কিছুকালের জন্যে তুমি তাদের উপেক্ষা করে চলো।
فتول عنهم حتى حين
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম) ।
এবং তাদের পর্যবেক্ষণ করতে থাকো, শীঘ্রি তারা দেখতে পাবে।
وأبصرهم فسوف يبصرون
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তারা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
তারা কি আমাদের আযাব দ্রুত করার কামনা করে?
أفبعذابنا يستعجلون
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
আর যখন তা তাদের আঙিনায় নেমে আসবে তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!
তাদের আঙিনায় যখন আযাব নেমে আসবে, তখন তারা দেখতে পাবে, যাদের সতর্ক করা হয়েছে তাদের সকাল বেলাটা কতো নিকৃষ্ট!
فإذا نزل بساحتهم فساء صباح المنذرين
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ
আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
সুতরাং কিছু কালের জন্যে তাদের উপেক্ষা করো।
وتول عنهم حتى حين
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম)।
এবং পর্যবেক্ষণ করো। অচিরেই তারা দেখতে পাবে (তাদের পরিণতি)।
وأبصر فسوف يبصرون
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।
তারা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে, তা থেকে তোমার প্রভু পবিত্র ও মহান এবং সকল ক্ষমতার অধিকারী।
سبحان ربك رب العزة عما يصفون
سُبْحَٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
আর রাসূলদের প্রতি সালাম।
এবং সালাম রসূলদের প্রতি।
وسلام على المرسلين
وَسَلَٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
আর সমস্ত প্রশংসা রাববুল আলামিনের জন্যে।
والحمد لله رب العالمين
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ