আলিফ্-লাম-রা। এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত।
আলিফ লাম রা! এগুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম-র তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।
Chapter 10, 109 verses
আলিফ্-লাম-রা। এগুলো প্রজ্ঞাপূর্ণ কিতাবের আয়াত।
আলিফ লাম রা! এগুলো বিজ্ঞানময় কিতাবের আয়াত।
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম আলিফ্ লা-ম-র তিল্কা আ-ইয়া-তুল্ কিতা-বিল্ হাকীম্।
এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির নিকট ওহী প্রেরণ করেছি যে, তুমি মানুষকে সতর্ক কর এবং মুমিনদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর যে, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা। কাফিররা বলে, ‘এ তো স্পষ্ট যাদুকর’।
এটা কি মানুষের জন্য কোনো তাজ্জবের বিষয় যে, আমি তাদেরই এক ব্যক্তির কাছে এই নির্দেশ দিয়ে অহি পাঠিয়েছি: ‘তুমি মানুষকে সতর্ক করো এবং মুমিনদের এই সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে মর্যাদার আসন।’ কাফিররা বলে: ‘নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি একজন সুস্পষ্ট ম্যাজিসিয়ান।’
আকা-না লিন্না-সি 'আজ্বাবান্ আন্ আওহাইনায় ইলা-রাজ্বুলিম্ মিনহুম্ আন্ আন্যিরিন্না-সা অবাশ্শিরিল্লাযীনা আ-মানূ য় আন্না লাহুম ক্বাদামা ছিদ্ক্বিন্ 'ইন্দা রব্বিহিম্ ক্ব-লাল্ কা-ফিরূনা ইন্না হা-যা-লাসা-হিরুম্ মুবীন্।
নিশ্চয় তোমাদের রব । যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন ছয় দিনে, তারপর আরশে উঠেছেন। তিনি সব বিষয় পরিচালনা করেন। তার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই , তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। তারপরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
তোমাদের প্রভু হচ্ছেন , যিনি মহাকাশ ও এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন ছয়টি কালে। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশে। সব বিষয় তিনিই পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনো শাফায়াতকারী শাফায়াত করতে পারবেনা। তিনিই , তোমাদের প্রভু। সুতরাং তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবেনা?
ইন্না রব্বাকুমুল্লা-হুল্ লাযী খলাক্বাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া ফী সিত্তাতি আইয়্যা-মিন্ ছুম্মাস্তাওয়া- 'আলাল্ 'র্আশি ইয়ুদাব্বিরূল্ আম্র্ মা-মিন্ শাফী'ইন্ ইল্লা-মিম্ বা'দ্বি ইয্নিহ্ যা-লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুম্ ফা'বুদূহ্ আফালা-তাযাক্কারূন্।
তাঁরই কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন। তারপর তার পুনরাবর্তন ঘটান। যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিদান দেয়ার জন্য। আর যারা করেছে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তপ্ত পানীয় এবং বেদনাদায়ক
তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন হবে তাঁরই কাছে। আল্লাহর ওয়াদা হক। তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তিনিই পুন: সৃষ্টি করবেন যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে তাদেরকে ইনসাফের সাথে তাদের কর্মফল দেয়ার জন্যে। আর যারা কুফুরি করে, তাদের জন্যে রয়েছে প্রচন্ড গরম পানির শরবত আর বেদনাদায়ক আযাব, তাদের কুফুরির কারণে।
ইলাইহি র্মাজ্বি'উকুম্ জ্বামী'আ- অ'দাল্লা-হি হাক্বক্বা- ইন্নাহূ ইয়াব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ লিইয়াজ্ব যিয়াল্ লাযীনা আ-মানূ অ'আ-মিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি বিল্ক্বিস্ত্ব অল্লাযীনা কাফারূ লাহুম্ শারা-বুঁম্ মিন্ হামীমিওঁ অ'আযা-বুন্ আলীমুম্ বিমা-কা-নূ ইয়াক্ফুরূন্।
তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিময় এবং চাঁদকে আলোময় আর তার জন্য নির্ধারণ করেছেন বিভিন্ন মনযিল, যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা এবং (সময়ের) হিসাব। এগুলো অবশ্যই যথার্থভাবে সৃষ্টি করেছেন। জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য তিনি আয়াতসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেন।
তিনিই সূর্যকে বানিয়েছেন আলোদানকারী এবং চাঁদকে করেছেন আলোকিত, আর তার মনযিল ঠিক করে দিয়েছেন যাতে করে তোমরা বছর গুণতে পারো এবং হিসাব করতে পারো। বাস্তব কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া এগুলো সৃষ্টি করেননি। তিনি জ্ঞানীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেন আয়াত সমূহ।
হুঅল্লাযী জ্বা'আলাশ্ শাম্সা দ্বিয়া - আওঁ অল্ক্বমারা নূরাওঁ অক্বদ্দারাহূ মানা-যিলা লিতা'লামূ 'আদাদাস্ সিনীনা অল্ হিসা-ব মা-খলাক্বাল্লা-হু যা-লিকা ইল্লা-বিল্হাক্বক্বি ইয়ুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিইঁ ইয়া'লামূন্।
নিশ্চয় রাত ও দিবসের বিবর্তনে এবং আসমানসমূহ ও যমীনে যা সৃষ্টি করেছেন, তাতে বহু নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে।
নিশ্চয়ই দিন ও রাতের পরিবর্তন এবং মহাকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টির মধ্যে রয়েছে সতর্ক লোকদের জন্যে নিদর্শন।
ইন্না ফিখ্তিলা-ফিল্ লাইলি অন্নাহা-রি অমা-খলাক্বল্লা-হু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বি লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিইঁ ইয়াত্তাকুন্।
নিশ্চয় যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না এবং দুনিয়ার জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট আছে ও তা নিয়ে পরিতৃপ্ত রয়েছে। আর যারা আমার নিদর্শনাবলী হতে গাফেল ।
যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা এবং দুনিয়ার জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট আর তাতেই পরিতৃপ্ত এবং যারা আমাদের আয়াত সম্পর্কেও গাফিল,
ইন্নাল্ লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্বা - য়ানা-আরাদ্বূ বিল্হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-ওয়াত্বমাআন্ন বিহা- অল্লাযীনা হুম্ 'আন্ আ-ইয়া-তিনা-গ -ফিলূন্।
তারা যা উপার্জন করত, তার কারণে আগুনই হবে তাদের ঠিকানা।
তাদেরই আবাস হবে জাহান্নাম তাদের (মন্দ) কৃতকর্মের কারণে।
উলা - য়িকা মাওয়া-হুমুন্না-রু বিমা-কা-নূ ইয়াক্সিবূন্।
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, তাদের রব ঈমানের কারণে তাদেরকে পথ দেখাবেন, আরামদায়ক জান্নাতসমূহে যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত।
নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের প্রতিপালক তাদের সুখকর বাগানে নেবেন যার নীচে প্রবাহমান নদী।
ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ'আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি ইয়াহ্দীহিম্ রব্বুহুম্ বিঈমা-নিহিম্ তা জ্বরী মিন্ তাহতিহিমুল্ আন্হা-রু ফী জান্না-তিন্না'ঈম্।
সেখানে তাদের কথা হবে, ‘হে , তুমি পবিত্র মহান’ এবং তাদের অভিবাদন হবে, ‘সালাম’। আর তাদের শেষ কথা হবে যে, ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল সৃষ্টির রব’।
সেখানে তাদের দোয়া হবে: ‘হে ! তুমি সকল ত্রুটির উর্ধ্বে, অতীব পবিত্র, অতি মহান!’ আর সেখানে তাদের অভিবাদন হবে ‘সালাম।’ সেখানে তাদের শেষ দোয়া হবে: ‘আল হামদুলিল্লাহি রাবিবল আলামিন - সব প্রশংসা মহাজগতের প্রভু আল্লাহর।’
দা'ওয়া-হুম্ ফীহা-সুব্হা-নাকাল্লা-হুম্মা অতাহিয়্যাতুহুম্ ফীহা-সালা-মুন্ অ আ-খিরু দা'ওয়া-হুম্ 'আনিল্ হাম্দু লিল্লা-হি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
আর যদি মানুষের অকল্যাণ (প্রার্থনায় সাড়া দিতে) তাড়াতাড়ি করতেন যেভাবে তিনি তাদের কল্যাণ (প্রার্থনায় সাড়া দিতে) তাড়াতাড়ি করেন, তাহলে অবশ্যই তাদের সময় ফুরিয়ে যেত। সুতরাং যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে ঘুরতে ছে
যদি মানুষের ক্ষতির বিষয়টা দ্রুত করতেন, যেভাবে তারা তাদের কল্যাণের বিষয়টা দ্রুত করে, তাহলে তাদের মরণ হয়ে যেতো। সুতরাং যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা, আমরা তাদেরকে তাদের বিদ্রোহ ও অবাধ্যতা নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেই।
অলাও ইয়ু'আজ্জ্বিলুল্লা-হু লিন্না-সিশ্ র্শারাস্ তি'জ্বা-লাহুম্ বিল্খইরি লাকুদ্বিয়া ইলাইহিম্ আজ্বালুহুম্ ফানাযারুল্লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্ব - য়ানা ফী তুগ্ইয়া-নিহিম্ ইয়া'মাহূন্।
আর যখন মানুষকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। অতঃপর আমি যখন তার বিপদ দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলতে থাকে মনে হয় যেন তাকে কোন বিপদ স্পর্শ করার কারণে সে আমাকে ডাকেনি। এভাবেই সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য তারা যা আমল করত তা শোভিত করে দেয়া
মানুষকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করে, তখন সে আমাদের ডাকে শুয়ে, বসে, কিংবা দাঁড়িয়ে। কিন্তু আমরা যখনই তার দুঃখ - দুর্দশা দূর করে দেই, তখন সে এমনভাবে চলে যেনো তাকে যখন দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করেছিল, তখন সে আমাকে ডাকেনি। এভাবে সীমালংঘনকারীদের কর্মকান্ড তাদের কাছে শোভনীয় করে দেয়া হয়েছে।
অইযা- মাস্সাল্ ইন্সা-নাদ্ব্ দ্বর্ রু দা'আ-না- লিজ্বাম্বিহী য় আও ক-'ইদান্ আও ক্ব - য়িমান্ ফালাম্মা-কাশাফ্না-'আন্হু র্দ্বুরাহূ র্মারা কাআল্লাম্ ইয়াদ্'উনা য় ইলা-র্দ্বুরিম্ মাস্সাহ্ কাযা-লিকা যুইয়্যিনা লিল্মুসরিফীনা মা-কা-নূ ইয়া'মালূন্।
আর অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা যুলম করেছে। আর তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিল, কিন্তু তারা ঈমান আনার ছিল না। এভাবে আমি অপরাধী কওমকে শাস্তি প্রদান করি।
তোমাদের আগেকার বহু মানব প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি যখন তারা যুলুম করেছিল। তাদের কাছে তাদের রসূলরা এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা ঈমান আনার জন্যে এগিয়ে আসেনি। এভাবেই আমরা অপরাধী লোকদেরকে তাদের কাজের প্রতিফল দিয়ে থাকি।
অলাক্বদ্ আহ্লাক্নাল্ কুরূনা মিন্ ক্বব্লিকুম্ লাম্মা-জোয়ালামূ অজ্বা - য়াত্হুম্ রুসুলুহুম্ বিল্বাইয়্যিনা-তি অমা-কা-নূ লিইয়ুমিনূ কাযা-লিকা না জ্বযিল্ ক্বওমাল্ মু জ্বরিমীন্।
তারপর আমি তোমাদেরকে যমীনে তাদের পরে স্থলাভিষিক্ত করেছি, যাতে আমি দেখি তোমরা কেমন আমল কর।
তাদের পরে আমরা পৃথিবীতে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছি তোমাদেরকে। কারণ, আমরা দেখতে চাই তোমরা কেমন আমল করো।
ছুম্মাজ্বা'আল্না-কুম্ খলা - য়িফা ফিল্ র্আদ্বি মিম্ বা'দিহিম্ লিনান্জুরা কাইফা তা'মালূন্।
আর যখন তাদের সামনে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন, যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, তারা বলে, ‘এটি ছাড়া অন্য কুরআন নিয়ে এসো। অথবা একে বদলাও’। বল, ‘আমার নিজের পক্ষ থেকে এতে কোন পরিবর্তনের অধিকার নেই। আমিতো শুধু আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহীর অনুসরণ কর
যখন তাদেরকে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত শুনানো হয়, তখন যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা তারা বলে: ‘এটির পরিবর্তে অন্য একটি কুরআন আনো, অথবা এটি রদবদল করো।’ হে নবী! বলো: ‘আমার নিজ থেকে এটিতে রদবদল করা আমার কাজ নয়। আমি তো কেবল তারই অনুসরণ করি যা আমার কাছে অহি করা হয়। আমি যদি আমার প্রভুর নির্দেশের অবাধ্য হই, তবে আমি এক মহা ভয়াবহ দিনের আযাবের আশংকা করি।’
অ ইযা-তুত্লা-'আলাইহিম্ আ-ইয়া-তুনা-বাইয়্যিনা-তিন্ ক্ব-লাল্লাযীনা লা-ইর্য়াজুনা লিক্ব- য়ানা তি বিক্বরুআ-নিন্ গইরি হা-যা য় আও বাদ্দিল্হু কুল্ মা-ইয়াকূনূ লী য় আন্ উবাদ্দিলাহূ মিন্ তিল্ক্বা - য়ি নাফ্সী ইন্ আত্তাবি'উ ইল্লা-মা-ইয়ূহা য় ইলাইয়্যা ইন্নী য় আখা-ফু ইন্ 'আছোয়াইতু রব্বি 'আযা-বা ইয়াওমিন্ 'আজীম।
বল, ‘যদি চাইতেন, আমি তোমাদের উপর তা পাঠ করতাম না। আর তিনি তোমাদেরকে এ সম্পর্কে অবহিত করতেন না। কেননা, ইতঃপূর্বে আমি তোমাদের মধ্যে দীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করেছি। তবে কি তোমরা বুঝ না’?
হে নবী! বলো: ‘ চাইলে আমি এটি তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনিও এ বিষয়ে তোমাদের অবহিত করতেন না। আমি তো আমার একটা দীর্ঘ বয়সকাল তোমাদেরই মাঝে কাটিয়েছি, তবু কি তোমরা আকল খাটাবে না?’
কুল্ লাও শা - য়াল্লা-হু মা-তালাওতুহূ 'আলাইকুম্ অলা য় আদ্র-কুম্ বিহী ফাক্বদ্ লাবিছ্তু ফীকুম্ 'উমুরাম্ মিন্ ক্বব্লিহ্ আফালা-তা'ক্বিলূন্।
অতএব যে আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তার চেয়ে বড় যালিম কে ? নিশ্চয় অপরাধীরা সফল হবে না।
ঐ ব্যক্তির চাইতে বড় যালিম আর কে হতে পারে, যে মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর প্রতি আরোপ করে, কিংবা প্রত্যাখ্যান করে তাঁর আয়াতকে? নিশ্চয়ই অপরাধিরা হয়না।
ফামান্ আজ্লামু মিম্মানিফ্তারা- 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ আও কায্যাবা বিআ-ইয়া-তিহ্ ইন্নাহূ লা-ইয়ুফ্লিহুল্ মু জ্বরিমূন।
আর তারা ছাড়া এমন কিছুর ইবাদত করছে, যা তাদের ক্ষতি করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। আর তারা বলে, ‘এরা আল্লাহর নিকট আমাদের সুপারিশকারী’। বল, ‘তোমরা কি আল্লাহকে আসমানসমূহ ও যমীনে থাকা এমন বিষয়ে সংবাদ দিচ্ছ যা তিনি অবগত নন’? তিনি পবিত্র মহান এবং ত
তারা ছাড়া যে সবের ইবাদত (পূজা, উপাসনা, প্রার্থনা) করে, সেগুলো না তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারে, আর না কোনো উপকার। তারা বলে: ‘এরা আল্লাহর কাছে আমাদের শাফায়াতকারী।’ হে নবী! বলো: ‘তোমরা কি আল্লাহকে এমন বিষয় অবহিত করতে চাও, মহাকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে যে বিষয়ে তিনি জানেন না?’ তিনি ত্রুটিমুক্ত পবিত্র এবং সেসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে যাদেরকে তোমরা শরিক করছো তাঁর সাথে।
অইয়া'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়াদ্বরুরুহুম্ অলা- ইয়ান্ফা'উহুম্ অইয়াকুলূনা হা য় উলা - য়ি শুফা'আ - উনা- 'ইন্দাল্লা-হ্ কুল্ আতুনাব্বিঊনা ল্লা-হা বিমা-লা-ইয়া'লামু ফিস্ সামা-ওয়া-তি অলা-ফিল্ র্আদ্ব সুব্হা-নাহূ অতা'আ-লা-'আম্মা- ইয়ুশ্রিকূন্।
আর মানুষ তো এক উম্মতই ছিল। পরে তারা বিভক্ত হয়ে পড়ল। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে বাণী বিগত না হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে।
মানুষ তো প্রথমে এক উম্মতই ছিলো। পরে তারা ইখতেলাফ (বিভেদ সৃষ্টি) করে। তোমার প্রভুর পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে ইখতেলাফ করছে তার ফায়সালা হয়ে যেতো।
অমা-কা-নান্ না-সু ইল্লা য় উস্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতান্ ফাখ্তালাফূ অলাওলা-কালিমাতুন্ সাবাক্বাত্ র্মি রব্বিকা লাকুদ্বিয়া বাইনাহুম্ ফীমা-ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।
আর তারা বলে, ‘তাঁর রবের পক্ষ থেকে তার উপর কোন নিদর্শন কেন নাযিল করা হয় না’? বল, ‘গায়েবের জ্ঞান তো কেবল আল্লাহরই। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রয়েছি’।
তারা বলে: ‘তার প্রভুর পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো নিদর্শন নাযিল হলো না কেন?’ তুমি বলো: ‘ তো কেবল আল্লাহ্ই জানেন। সুতরাং তোমরা এনতেযার (অপেক্ষা) করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’
অইয়াকুলূনা লাওলা য় উন্যিলা 'আলাইহি আ-ইয়াতুম্ র্মি রব্বিহী ফাকুল্ ইন্নামাল্ গইবু লিল্লা-হি ফান্তাজিরূ ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্।
আর যখন আমি মানুষকে দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়। বল, ‘ কৌশলকারী হিসেবে অধিক দ্রুত’। নিশ্চয় আমার ফেরেশতারা তোমাদের কুট-কৌশল লিখে রাখে।
দুঃখ - দুর্দশা স্পর্শ করার পর যখনই আমরা মানুষকে আমাদের রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখনই তারা আমাদের আয়াতের বিরুদ্ধে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। বলো: ‘কৌশল প্রয়োগে সবচেয়ে দ্রুত।’ আমাদের রসূলরা (ফেরেশতারা) রেকর্ড করে রাখছে তোমাদের সব চক্রান্ত।
অইযা য় আযাক্বনান না-সা রহ্মাতাম্ মিম্ বা'দি দ্বোর্য়ারা - য়া মাস্সাতহুম্ ইযা-লাহুম্ মাক্রুন্ ফী য় আ-ইয়া-তিনা- কুলিল্লা-হু আস্রা'উ মাক্রা- ইন্না রুসুলানা-ইয়াক্তুবূনা মা-তাম্কুরূন্।
তিনিই তোমাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে ভ্রমণ করান। এমনকি যখন তোমরা নৌকায় থাক, আর তা তাদেরকে নিয়ে চলতে থাকে অনুকুল হাওয়ায় এবং তারা তা নিয়ে আনন্দিত হয়, (এ সময়) তাকে পেয়ে বসে ঝড়ো হাওয়া, আর চারদিক থেকে ধেয়ে আসে তরঙ্গ এবং তাদের নিশ্চিত ধারণা হয় যে, তাদেরকে পরিবেষ্টন
তিনিই তোমাদের ভ্রমণ করান স্থলভাগে এবং সমুদ্রে। এভাবে তোমরা যখন নৌযানে ভ্রমণ করো এবং সেগুলো আরোহীদের নিয়ে অনুকূল বাতাসে এগিয়ে চলে এবং তাতে তারা আনন্দিত হয়। অত:পর যখন দমকা হাওয়া এবং সবদিক থেকে আগত উত্তাল তরঙ্গমালা সেগুলোকে আক্রমণ করে এবং তারা মনে করে যে, তারা ঘেরাও হয়ে পড়েছে, তখন আল্লাহর জন্যে আনুগত্যকে একনিষ্ঠ করে তারা কেবল তাঁকেই ডাকতে থাকে। তারা তখন তাঁকে বলে: ‘তুমি যদি আমাদের উদ্ধার করো তাহলে অবশ্যি আমরা শোকরগুজার হবো।’
হুঅল্লাযী ইয়ুসাইয়্যিরুকুম্ ফিল্ র্বারি অল্ বাহ্র্ হাত্তা য় ইযা- কুন্তুম্ ফিল্ফুল্কি অজ্বারাইনা বিহিম বিরীহিন্ ত্বোয়াইয়্যিবাতিওঁ অফারিহূ বিহা-জ্বা - য়াত্হা- রীহুন্ 'আ-ছিফুওঁ অজ্বা - য়াহুমুল্ মাওজ্বু মিন্ কুল্লি মাকা-নিওঁ অজোয়ান্ন য় আন্নাহুম্ উহীতোয়া বিহিম্ দা'আ'উল্লা-হা মুখ্লিছীনা লাহুদ্দীনা লায়িন্ আন্জ্বাইতানা-মিন্ হা-যিহী লানাকূনান্না মিনাশ্ শা-কিরীন্।
অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে নাজাত দেন, তখন তারা অন্যায়ভাবে যমীনে সীমালঙ্ঘন করে। হে মানুষ, তোমাদের সীমালঙ্ঘন তোমাদের বিরুদ্ধেই, এ সব কিছু দুনিয়ার ভোগ। অতঃপর আমার নিকটই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। সুতরাং তখন আমি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানাব।
কিন্তু যখন তিনি তাদের বিপদ থেকে নাজাত দেন, তখন তারা না - হকভাবে দেশে সীমালংঘন করতে থাকে। হে মানুষ! তোমাদের সীমালংঘন তোমাদেরই ধ্বংসের কারণ হয়। দুনিয়ার জীবনে কিছুটা ভোগবিলাস করে নাও, তারপর আমাদের কাছেই হবে তোমাদের প্রত্যাবর্তন, তখন আমরা তোমাদের অবহিত করবো তোমরা কী সব কান্ড কারবার করছিলে।
ফালাম্মা য় আন্জ্বা-হুম্ ইযা-হুম্ ইয়াব্গূনা ফিল্ র্আদ্বি বিগইরিল্ হাক্ব ইয়া য় আইয়্যুহান্ না-সু ইন্নামা-বাগ্ইয়ুকুম্ 'আলা য় আন্ফুসিকুম্ মাতা-'আল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-ছুম্মা ইলাইনা-র্মাজ্বি'উকুম্ ফানুনাব্বিউকুম্ বিমা-কুন্তুম্ তা'মালূন।
নিশ্চয় দুনিয়ার জীবনের তুলনা তো পানির ন্যায় যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি, অতঃপর তার সাথে যমীনের উদ্ভিদের মিশ্রণ ঘটে, যা মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু ভোগ করে। অবশেষে যখন যমীন শোভিত ও সজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা মনে করে যমীনে উৎপন্ন ফসল করায়ত্ব করতে তারা সক্ষম, তখন ত
দুনিয়ার জীবনের উপমা হলো (বৃষ্টির) পানি, যা আমরা আকাশ থেকে নাযিল করি। তা থেকে গজিয়ে উঠে ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন নিবিড় হয়ে। তা থেকেই আহার করে মানুষ এবং জীব - জানোয়ার। তারপর জমিন যখন তার শোভা ধারন করে এবং চাকচিক্যময় হয়ে উঠে আর তার অধিবাসীরা মনে করে, সেগুলো তাদের আয়ত্তাধীন, তখন আমাদের নির্দেশ এসে পড়ে রাতে কিংবা দিনে এবং আমরা সেগুলো এমনভাবে ধ্বংস করে দেই, যেনো গতকালও সেখানে কিছু ছিলনা। এভাবেই আমরা বিশদ বিবরণ দেই আমাদের আয়াতের, চিন্তাশীল লোকদের জন্যে।
ইন্নামা-মাছালুল্ হা ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-কামা - য়িন্ আন্যাল্না-হু মিনাস্ সামা - য়ি ফাখ্তালাত্বোয়া বিহী নাবা-তুল্ র্আদ্বি মিম্মা- ইয়াকুলুন্না-সু অল্ আন'আ-ম্ হাত্তা য় ইযা য় আখাযাতিল্ র্আদ্ব ু যুখ্রুফাহা- অয্যাইয়্যানাত্ অজোয়ান্না আহ্লুহা য় আন্নাহুম্ ক্বা-দ্বিরূনা 'আলাইহা য় আতা-হা য় আম্রুনা- লাইলান্ আও নাহা-রন্ ফাজ্বা'আল্না-হা- হাছীদান্ কাআল্লাম্ তাগ্না বিল্আম্স্ কাযা-লিকা নুফাছ্ছিলুল্ আ-ইয়া-তি লিক্বওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন্।
আর শান্তির আবাসের দিকে আহবান করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন সরল পথের দিকে।
দাওয়াত দিচ্ছেন দারুস সালামের (শান্তি নিবাসের) দিকে এবং তিনি যাকে চান পরিচালিত করেন সিরাতুল মুস্তাকিমে (সঠিক সুদৃঢ় পথে)।
অল্লা-হু ইয়াদ্'ঊ - ইলা-দা-রিস্ সালা-ম্ অইয়াহ্দী মাইঁ ইয়াশা - য়ু ইলা-ছিরা-ত্বিম্ মুস্তাক্বীম্।
যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরও বেশি। আর ধূলোমলিনতা ও লাঞ্ছনা তাদের চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতবাসী। তারা তাতে স্থায়ী হবে।
যারা কল্যাণের কাজ করে তাদের জন্যে রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অধিক। তাদের চেহারাকে আচ্ছন্ন করবেনা কালিমা কিংবা জিল্লতি। তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।
লিল্লাযীনা আহ্সানুল্ হুস্না-অযিইয়া-দাহ্ অলা-ইর্য়াহাকু উজুহাহুম্ ক্বাতারুওঁ অলা-যিল্লাহ্ উলা - য়িকা আছ্হা-বুল্ জান্নাতি হুম্ ফীহা-খা-লিদূন্।
আর যারা মন্দ উপার্জন করবে, প্রতিটি মন্দের প্রতিদান হবে তারই অনুরূপ; আর লাঞ্ছনা তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের কোন রক্ষাকারী নেই। যেন অন্ধকার রাতের এক অংশ দিয়ে তাদের চেহারাগুলো ঢেকে দেয়া হয়েছে। তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা তাতে স্থায়ী হবে।
আর যারা কামাই করবে মন্দ কর্ম, তাদের প্রতিফলও হবে অনুরূপ মন্দ। তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে জিল্লতি। তাদেরকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে রক্ষা করার কেউ হবেনা। তাদের চেহারা হবে (কালো) যেনো রাতের অন্ধকার আবরণে আচ্ছন্ন। তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী। সেখানেই থাকবে তারা চিরকাল।
অল্লাযীনা কাসাবুস্ সাইয়্যিয়া-তি জ্বাযা য় উ সাইয়্যিয়াতিম্ বিমিছ্লিহা-অর্তাহাক্বহুম্ যিল্লাহ্ মা-লাহুম্ মিনাল্লা-হি মিন্ 'আ-ছিমিন্ কাআন্নামা য় উগ্শিয়াত্ উজুহুহুম্ ক্বিতোয়া'আম্ মিনাল্লাইলি মুজ্লিমা- উলা - য়িকা আছ্হা-বুন্না-রি হুম্ ফীহা-খ-লিদূন্।
আর যেদিন আমি তাদের সকলকে একত্র করব, অতঃপর যারা শিরক করেছে, তাদেরকে বলব, ‘থাম, তোমরা ও তোমাদের শরীকরা’। অতঃপর আমি তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাব। আর তাদের শরীকরা’ বলবে, ‘তোমরা তো আমাদের ইবাদাত করতে না’।
যেদিন আমরা তাদের সবাইকে হাশর (সমবেত) করবো এবং মুশরিকদের বলবো: ‘তোমাদের নিজ নিজ জায়গায় অবস্থান করো, তোমরা নিজেরা এবং তোমরা যাদের শরিক করেছিলে তারা। তারপর আমরা তাদেরকে পরস্পর থেকে আলাদা করে দেবো। তখন তারা যাদের শরিক করেছিল তারা বলবে: ‘‘তোমরা তো আমাদের ইবাদত করতে না।
অইয়াওমা নাহ্শুরুহুম্ জ্বামী'আন ছুম্মা নাকুলু লিল্লাযীনা আশ্রাকূ মাকা-নাকুম্ আনতুম্ অশুরাকা - উকুম্ ফাযাইয়্যাল্না-বাইনাহুম্ অক্ব-লা শুরাকা - উহুম্ মা- কুন্তুম্ ইয়্যা-না-তা'বুদূন্।
‘সুতরাং আল্লাহই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। আমরা নিশ্চয় তোমাদের ইবাদাত সম্পর্কে গাফেল ছিলাম’।
আমাদের এবং তোমাদের মাঝে আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। (তোমরা যে বলছো তোমরা আমাদের ইবাদত করতে) আমরা তো তোমাদের ইবাদত সম্পর্কে একেবারেই গাফিল ছিলাম।’’
ফাকাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম্ বাইনানা-অবাইনাকুম্ ইন্ কুন্না-'আন্ 'ইবা-দাতিকুম্ লাগ-ফিলীন্।
এখানে প্রত্যেকে ইতিপূর্বে যা করেছে, সে সম্পর্কে জানতে পারবে। আর তাদেরকে তাদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং তারা যা মিথ্যা রটাতো তা তাদের থেকে হারিয়ে যাবে।
সেখানেই তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নেবে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রকৃত মাওলা (মনিব) আল্লাহর দিকে, আর তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে তাদের মনগড়া (সুপারিশকারীরা)।
হুনা-লিকা তাব্লূ কুল্লু নাফ্সিম্ মা য় আস্লাফাত্ অরুদ্দূ য় ইলাল্লা-হি মাওলা-হুমুল্ হাক্বক্বি অদ্বোয়াল্লা 'আন্হুম্ মা-কা-নূ ইয়াফ্তারূন্।
বল, ‘আসমান ও যমীন থেকে কে তোমাদের রিয্ক দেন? অথবা কে (তোমাদের) শ্রবণ ও দৃষ্টিসমূহের মালিক? আর কে মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন আর জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন? কে সব বিষয় পরিচালনা করেন’? তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘’। সুতরাং, তুমি বল, ‘তারপরও কি তোমরা তাকওয়া অব
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘কে তোমাদের রিযিক দেন আসমান ও জমিন থেকে? কিংবা শ্রবণ শক্তি ও দৃষ্টি শক্তির কর্তৃত্ব কার? কে বের করেন মৃত থেকে জীবিতকে? কে বের করেন জীবিত থেকে মৃতকে? কে পরিচালনা করেন সমস্ত বিষয়?’ এসব প্রশ্নের জবাবে তারা বলবে: ‘’। বলো: ‘তাহলে কেন তোমরা সতর্ক হওনা (আল্লাহর আযাব সম্পর্কে)?’
কুল্ মাইঁ ইর্য়াযুকুকুম্ মিনাস্ সামা - য়ি অল্ র্আদ্বি আম্মাইঁ ইয়াম্লিকুস্ সাম্'আ অল্ আব্ছোয়া-রা অমাইঁ ইয়ুখ্রিজ্বুল্ হাইয়্যা মিনাল্ মাইয়্যিতি অইয়ুখ্রিজ্বুল্ মাইয়্যিতা মিনাল্ হাইয়্যি অমাইঁ ইয়ুদাব্বিরুল্ আম্র্ ফাসাইয়াকুলূনাল্লা-হু ফাক্বলুআফালা-তাত্তাকুন্।
অতএব, তিনিই , তোমাদের প্রকৃত রব। অতঃপর সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া কী থাকে? অতএব কোথায় তোমাদেরকে ঘুরানো হচ্ছে?
তিনিই , তোমাদের প্রকৃত প্রভু। সত্য ত্যাগ করলে গোমরাহি ছাড়া আর কী থাকে? তাহলে তোমরা ঘুরে ফিরে কোন্ দিকে যাচ্ছো?
ফাযা-লিকুমুল্লা-হু রব্বুকুমুল্ হাক্বকু ফামা-যা-বা'দাল্ হাক্বক্বি ইল্লাদ্দোয়ালা-লু ফাআন্না-তুছ্রাফূন্।
এমনিভাবে তোমার রবের বাণী সত্য বলে সাব্যস্ত হয়েছে তাদের উপর, যারা অবাধ্য হয়েছে, যে তারা ঈমান আনবে না।
এভাবেই ফাসিকদের উপর তোমার প্রভুর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না।
কাযা-লিকা হাক্বক্বাত্ কালিমাতু রব্বিকা 'আলাল্লাযীনা ফাসাকুয় আন্নাহুম্ লা-ইয়ুমিনূন্।
বল, ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে প্রথম সৃষ্টি করবে, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে’? বল, ‘আল্লাহই প্রথম সৃষ্টি করেন অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটান’। অতএব তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?
বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরিক বানাও, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সৃষ্টির অস্তিত্ব দেয়, পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটায়? বলো: আল্লাহ্ই সৃষ্টির অস্তিত্ব দেন এবং পরে তার পুনরাবৃত্তি ঘটান। ফলে তোমরা কী করে সত্য ত্যাগ করে দূরে সরে যাচ্ছো?
কুল্ হাল্ মিন্ শুরাকা - য়িকুম্ মাইঁ ইয়্ব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহ্ কুলিল্লা-হু ইয়াব্দাউল্ খল্ক্ব ছুম্মা ইয়ু'ঈদুহূ ফাআন্না-তুফাকূন্।
বল, ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে সত্যের পথ দেখাবে’? বল, ‘আল্লাহই সত্যের পথ দেখান। যিনি সত্যের পথ দেখান, তিনিই কি অনুসরণ করার অধিক হকদার, নাকি সে, যে পথ দেখানো ছাড়া পথ পায় না। সুতরাং তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন বিচার করছ’।
বলো: তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক বানাচ্ছো, তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে সত্যের দিকে পথ দেখায়? বলো: সত্যের দিকে পথ দেখান তো কেবল । যিনি সত্যের দিকে পথ দেখান তিনি আনুগত্য লাভের অধিক হকদার? নাকি সে, যাকে পথ না দেখালে সে নিজেই পথ পায়না? তোমাদের হয়েছে কী? কিভাবে তোমরা ফায়সালা গ্রহণ করো?
কুল্ হাল্ মিন্ শুরাকা - য়িকুম্ মাইঁ ইয়াহ্দী য় ইলাল্ হাক্ব কুলিল্লা-হু ইয়াহ্দী লিল্হাক্ব আফামাইঁ ইয়াহ্দী য় ইলাল্ হাক্বক্বি আহাক্বকু আইঁ ইয়ুত্তাবা'আ আম্মাল লা-ইয়াহিদ্দী য় ইল্লা য় আইঁ ইয়ুহ্দা- ফামা-লাকুম্ কাইফা তাহ্কুমূন্।
আর তাদের অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোন কার্যকারিতা রাখে না । নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।
তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুরই অনুসরণ করেনা। নিশ্চয়ই অনুমান সত্যে উপনীত হবার ব্যাপারে কোনো কাজেই আসেনা। তারা যা করে সে বিষয়ে পূর্ণ অবহিত।
অমা-ইয়াত্তাবি'উ আক্ছারুহুম্ ইল্লা-জোয়ান্না-ইন্নাজ জোয়ান্না লা-ইয়ুগ্নী মিনাল্ হাক্বক্বি শাইয়া- ইন্নাল্লা-হা 'আলীমুম্ বিমা-ইয়াফ্'আলূন্।
এ কুরআন তো এমন নয় যে, ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি যা তার সামনে রয়েছে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে।
এ কুরআন ছাড়া আর কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। বরং এটি এর পূর্বে যেসব (কিতাব) অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলোর সত্যায়নকারী এবং বিধানসমূহের বিশদ বিবরণ। এতে সন্দেহের কোনোই অবকাশ নেই যে, এটি নাযিল হয়েছে মহাজগতের প্রভুর পক্ষ থেকে।
অমা-কা-না হা-যাল্ ক্বরুআ-নু আইঁ ইয়ুফ্তারা- মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-কিন্ তাছ্দীক্বল্লাযী বাইনা ইয়াদাইহি অতাফ্ছীলাল্ কিতা-বি লা-রাইবা ফীহি র্মি রব্বিল্ 'আ-লামীন্।
নাকি তারা বলে, ‘সে তা বানিয়েছে’? বল, ‘তবে তোমরা তার মত একটি সূরা (বানিয়ে) নিয়ে আস এবং ছাড়া যাকে পারো ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
নাকি তারা বলে: এটি সে (মুহাম্মদ) রচনা করে নিয়েছে? তুমি বলো: তাহলে তোমরা এর অনুরূপ একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এসো এবং ছাড়া আর যাদেরকে পারো (সহযোগিতার) জন্যে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।
আম্ ইয়াকুলূনাফ্ তারাহ্ কুল্ ফাতূ বিসূরাতিম্ মিছ্লিহী অদ্'ঊ মানিস্ তাত্বোয়া'তুম্ মিন্ দূনিল্লা-হি ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দিক্বীন্।
বরং তারা যে ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান লাভ করেনি, তা তারা অস্বীকার করেছে এবং এখনও তার পরিণতি তাদের কাছে আসেনি। এভাবেই তারা অস্বীকার করেছিল, যারা ছিল তাদের পূর্বে। সুতরাং তুমি লক্ষ্য কর, কেমন ছিল যালিমদের পরিণাম।
বরং তারা এমন বিষয় অস্বীকার করছে, যে বিষয়ে জ্ঞান তারা আয়ত্ত করেনি এবং যার তা’বিলও তাদের কাছে আসেনি। তাদের পূর্ববর্তী (কাফিররাও) এভাবেই সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন তাকিয়ে দেখো, যালিমদের কী পরিণতি হয়েছিল!
বাল্ কায্যাবূ বিমা-লাম্ ইয়ুহীত্ব বি'ইল্মিহী অলাম্মা-ইয়াতিহিম্ তাওয়ী লুহ্ কাযা-লিকা কায্যাবাল্লাযীনা মিন্ ক্বাব্লিহিম্ ফার্ন্জু কাইফা কা-না'আ-ক্বিবাতুজ্জোয়া-লিমীন্।
আর তাদের মধ্যে কেউ এর প্রতি ঈমান আনে এবং কেউ তাতে ঈমান আনে না। আর তোমার রব ফাসাদকারীদের ব্যাপারে অধিক জ্ঞাত।
তাদের মধ্যে কিছু লোক তার প্রতি ঈমান রাখে আর কিছু লোক ঈমান রাখেনা। তোমার প্রভু ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সবচে’ ভালো করে জানেন।
অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়ুমিনু বিহী অমিন্হুম্ মাল্লা-ইয়ুমিনু বিহ্ অরব্বুকা আ'লামু বিল্ মুফ্সিদীন্।
আর তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তুমি বল, ‘আমার কর্ম আমার, আর তোমাদের কর্ম তোমাদের। আমি যা আমল করি তোমরা তা থেকে মুক্ত এবং তোমরা যা আমল কর আমি তা থেকে মুক্ত’।
তারা যদি তোমাকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে, তুমি তাদের বলো: ‘আমার কাজের দায়িত্ব আমার, আর তোমাদের কাজের দায়িত্ব তোমাদের। আমি যে কাজ করি তোমরা তার দায়মুক্ত। আর তোমরা যে কাজ করছো আমিও তার দায়মুক্ত।’
অইন্ কায্যাবূকা ফাকুল্লী 'আমালী অলাকুম্ 'আমালুকুম্ আন্তুম্ বারী - য়ূনা মিম্মা য় আ'মালু অআনা বারী - উম্ মিম্মা-তা'মালূন্।
আর তাদের মধ্যে কিছু আছে, যারা তোমার প্রতি মনোযোগ দিয়ে শুনে। তবে কি তুমি বধিরকে শোনাবে, তারা না বুঝলেও?
তাদের কিছু লোক তোমার কথা শুনে। কিন্তু তারা বুঝতে না পারলেও তুমি কি বধিরদের শুনাবে?
অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়াস্তামি'ঊনা ইলাইক্ আফা আন্তা তুস্মি'উছ্ ছুম্মা অলাও কা-নূ লা-ইয়া'ক্বিলূন্।
আর তাদের মধ্যে কেউ আছে এমন, যে তোমার দিকে তাকায়। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?
তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাকে দেখে । কিন্তু তুমি কি অন্ধদের পথ দেখাবে তারা না দেখলেও?
অমিন্হুম্ মাইঁ ইয়ান্জুরু ইলাইক্ আফা আন্তা তাহ্দিল 'উম্ইয়া অলাও কা-নূ লা-ইয়ুছরূন্।
নিশ্চয় মানুষের প্রতি কিছুমাত্র যুলম করেন না; বরং মানুষই নিজদের উপর যুলম করে।
মানুষের প্রতি কোনো প্রকার যুলুম করেন না, বরঞ্চ মানুষই নিজেরা নিজেদের প্রতি যুলুম করে।
ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াজ্লিমুন্ না-সা শাইয়াওঁ অর-কিন্নান্না-সা আন্ফুসাহুম্ ইয়াজ্লিমূন্।
আর যেদিন তিনি তাদেরকে একত্র করবেন, যেন তারা দিবসের মুহূর্তকালমাত্র অবস্থান করেছে। তারা একে অপরকে চিনতে পারবে। তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকার করেছে, আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না।
যেদিন তিনি তাদের হাশর করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে (পৃথিবীতে) তারা অবস্থান করেছিল দিনের কিছুক্ষণ মাত্র। তারা পরস্পরকে চিনবে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেইসব লোক যারা আল্লাহর সাক্ষাত অস্বীকার করেছে এবং তারা সঠিক পথেও ছিলনা।
অ ইয়াওমা ইয়াহ্শুরুহুম্ কাআল্ লাম্ ইয়াল্বাছূ য় ইল্লা-সা-'আতাম্ মিনান্নাহা-রি ইয়াতা'আ-রাফূনা বাইনাহুম্ ক্বদ্ খাসিরাল্লাযীনা কায্যাবূ বিলিক্বা - য়িল্লা-হি অমা-কা-নূ মুহ্তাদীন্।
আর আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, অথবা তোমাকে মৃত্যু দেই, তবে আমার কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তারা যা করে তার সাক্ষী।
আমরা তাদেরকে যে ভয় দেখাচ্ছি, তার কিছুটা যদি তোমার জীবনকালে দেখিয়ে দেই, কিংবা তোমার জীবনকাল যদি পূর্ণ করে দেই, শেষ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবর্তন তো আমাদের কাছেই হবে। তারপর আল্লাহ্ই তো তাদের কর্মকান্ডের সাক্ষী।
অইম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা'দ্বোয়াল্লাযী না'ইদুহুম্ আওনাতাঅফ্ফাইন্নাকা ফাইলাইনা-র্মাজ্বি'উহুম্ ছুম্মাল্লা-হু শাহীদুন্ 'আলা-মা-ইয়াফ্'আলূন্।
আর প্রত্যেক উম্মতের জন্য রয়েছে রাসূল। তারপর যখন তাদের রাসূল আসে, তাদের মধ্যে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হয় এবং তাদের যুলম করা হয় না।
প্রত্যেক উম্মতের জন্যেই ছিলো একজন রসূল। যখনই তাদের কাছে তাদের রসূল এসেছিল, তখন ইনসাফের সাথে তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়া হয়েছে। তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হয়নি।
অলিকুল্লি উম্মার্তি রাসূলুন্ ফাইযা-জ্বা - আ রসূলুহুম্ কুদ্বিয়া বাইনাহুম্ বিল্ক্বিস্ত্বি অহুম্লা-ইয়ুজ্লামূন্।
আর তারা বলে, ‘কখন এই প্রতিশ্রুতি (পূর্ণ হবে), যদি তোমরা সত্যবাদী হও’?
তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো, তোমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া সেই সময়টি কখন আসবে?’
অইয়াকুলূনা মাতা-হা-যাল্ অ'দু ইন্ কুন্তুম্ ছোয়া-দ্বিক্বীন।
বল, ‘আমি নিজের ক্ষতি বা উপকারের অধিকার রাখি না, তবে যা ইচ্ছা করেন’। প্রত্যেক উম্মতের রয়েছে নির্দিষ্ট একটি সময়। যখন এসে যায় তাদের সময়, তখন এক মুহূর্ত পিছাতে পারে না এবং এগোতেও পারে না।
হে নবী! বলো: আমার নিজের লাভ ক্ষতির উপরও আমার কোনো অধিকার নেই, তবে কিছু চাইলে ভিন্ন কথা। প্রত্যেক উম্মতেরই একটি নির্ধারিত সময় আছে। যখন তার সেই নির্ধারিত সময়টি আসবে, তখন কিছুক্ষণ সময়ও আগপর হবেনা।
কুল্ লা য় আম্লিকু লিনাফ্সী দ্বোর্য়ারাওঁ অলা-নাফ্'আন্ ইল্লা-মা-শা - আল্লা-হ্ লিকুল্লি উম্মাতিন্ আজ্বাল্ ইযা-জ্বা - আ আজ্বালুহুম্ ফালা-ইয়াস্তাখিরূনা সা-'আতাওঁ অলা-ইয়াস্তাক্বাদিমূন্।
বল, ‘তোমাদের কি মনে হয় যে, যদি তোমাদের নিকট তাঁর আযাব রাতে কিংবা দিনে এসে পড়ে, তবে অপরাধীরা তার কোন্ অংশটি তাড়াতাড়ি চায়’?
হে নবী! বলো: ‘তোমাদের রায় কী; আল্লাহর আযাব তো রাত বা দিনে তোমাদের উপর এসেই পড়তে পারে। তারপরও অপরাধীরা সেটার জন্যে তাড়াহুড়া করে কেন?’
কুল্ আরআইতুম্ ইন্ আতা-কুম্ 'আযা বুহূ-বাইয়া-তান্ আও নাহা-রাম্ মা-যা-ইয়াস্তা'জ্বিলু মিন্হুল্ মু জ্বরিমূন্।
তবে কি যখন তা ঘটবে, তখন তোমরা তাতে ঈমান আনবে? এখন? অথচ তোমরা এর জন্যই তাড়াহুড়া করতে।
সেটা (কিয়ামত) ঘটে যাবার পরই কি তোমরা ঈমান আনবে? এখন (ঈমান আনবেনা)? তোমরাই তো এর জন্যে তাড়াহুড়া করছিলে।
আছুম্মা ইযা-মা-অক্বা'আ আ-মান্তুম্ বিহ্ আ -ল্আ-না অক্বাদ্ কুন্তুম্ বিহী তাস্তাজ্বিলূন।
তারপর যারা যুলম করেছে তাদের বলা হবে, স্থায়ী আযাব আস্বাদন কর। তোমরা যা অর্জন করতে তোমাদেরকে কেবল তারই প্রতিদান দেয়া হচ্ছে।
তারপর যালিমদের বলা হবে, চিরস্থায়ী আযাবের স্বাদ গ্রহণ করো। তোমরা যা কামাই করে এসেছো সেটার ছাড়া অন্য কিসের প্রতিফল তোমাদের দেয়া হবে?
ছূম্মা ক্বীলা লিল্লাযীনা জোয়ালামূ যূকু 'আযা-বাল্ খুল্দি হাল্ তু জ্বযাওনা ইল্লা-বিমা-কুন্তুম্ তাক্সিবূন।
আর তারা তোমার কাছে জানতে চায়, ‘তা কি সত্য’? বল, ‘হ্যাঁ, আমার রবের কসম! নিশ্চয় তা সত্য এবং তোমরা পরাস্তকারী নও’।
(হে নবী!) তারা তোমার কাছে জানতে চায়, সেটা (পুনরুত্থান দিবস) কি সত্য? বলো: ‘হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ সেটা অবশ্যি সত্য। তোমরা সেটার আগমন ঠেকাতে পারবে না।’
অ ইয়াস্তাম্বিঊনাকা আহাক্বকুন্ হুঅ কুল্ ঈ অরব্বী য় ইন্নাহূ লাহাক্ব অমা য় আন্তুম্ বিমু'জ্বিযীন্।
আর যমীনে যা রয়েছে, তা যদি যুলম করেছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির হয়ে যায়, তবে তা সে মুক্তিপণ হিসেবে দিয়ে দেবে এবং তারা লজ্জা গোপন করবে, যখন তারা আযাব দেখবে। আর তাদের মধ্যে ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করা হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।
আর যদি প্রত্যেক অন্যায়কারী পৃথিবীর সবকিছুর মালিকও হয়, তবে সে (কিয়ামতের দিন) মুক্তির বিনিময়ে সবকিছু দিয়ে দিতে চাইবে। আযাব দেখতে পেলে সে অনুতাপ লুকাবার চেষ্টা করবে। সেদিন ইনসাফের সাথে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো প্রকার অবিচার করা হবেনা।
অলাও আন্না লিকুল্লি নাফ্সিন্ জোয়ালামাত্ মা-ফিল্ র্আদ্বি লাফ্তাদাত্ বিহ অআর্সারুন্ নাদা-মাতা লাম্মা- রাআউল্ 'আযা-বা অকুদ্বিয়া-বাইনাহুম্ বিল্ ক্বিস্ত্বি অহুম্ লা-ইয়ুজ্লামূন্।
জেনে রাখ, নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে, তা আল্লাহরই। জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য, কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
সাবধান, জেনে রাখো, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর। সাবধান, জেনে রাখো আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।
আলা য় ইন্না লিল্লা-হি মা-ফিস সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব আলা য় ইন্না অ'দাল্লা-হি হাক্বকুওঁ অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়া'লামূন্।
তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে।
তিনি জীবন দান করেন এবং তিনি মরণ দিয়ে থাকেন এবং সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে।
হুঅ ইয়ুহ্য়ী অ ইয়ুমীতু অইলাইহি র্তুজ্বা'ঊন।
হে মানুষ, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরসমূহে যা থাকে তার শিফা, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।
হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছ এসেছে একটি উপদেশ এবং তোমাদের কলবে (অন্তরে) যা আছে তার নিরাময়, আর হিদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্যে।
ইঁয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ক্বদ্ জ্বা - আত্কুম্ মাও'ইজোয়াতুম্ র্মি রব্বিকুম্ অশিফা - উল্ লিমা ফিছ্ ছুদূরি অহুদাওঁ অরহ্মাতুল্লিল্ মুমিনীন্
বল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে। সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশি হয়’। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম।
হে নবী! বলো: ‘এই (কুরআন এসেছে) আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাঁর দয়ায়। সুতরাং এর জন্যে তারা উৎফুল্ল ও আনন্দিত হোক।’ তারা যা জমা করে এটি তার চাইতে উত্তম।
কুল্ বিফাদ্ব্লিল্লা-হি অ বিরহ্মাতিহী ফাবিযা-লিকা ফাল্ ইয়াফ্রাহূ হুওয়া খাইরুম্ মিম্মা- ইয়া জ্বমা'ঊন্।
বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমাদের জন্য যে রিয্ক নাযিল করেছেন, পরে তোমরা তার কিছু বানিয়েছ হারাম ও হালাল’। বল, ‘ কি তোমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন, নাকি আল্লাহর উপর তোমরা মিথ্যা রটাচ্ছ’?
হে নবী! বলো: তোমরা ভেবে দেখেছো কি, তোমাদের জন্যে যে রিযিক নাযিল করেছেন, তারপর তোমরা যে সেগুলোর কিছু হালাল আর কিছু হারাম বানিয়ে নিয়েছো - হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো, তোমাদের এ নির্দেশ কি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করছো?
কুল্ আরায়াইতুম্ মা য় আন্যালাল্লা-হু লাকুম্ র্মি রিয্ক্বিন্ ফাজ্ব'আল্তুম্ মিনহু হারা-মাওঁ অহালা-লা- কুল্ আ - ল্লা-হু আযিনা লাকুম্ আম্ 'আলাল্লা-হি তাফ্তারূন্।
আর যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটাচ্ছে, তাদের কী ধারণা, কিয়ামতের দিন (তাদের পরিণতি) সম্পর্কে? নিশ্চয় মানুষের উপর অনুগ্রহশীল; কিন্তু তাদের অধিকাংশ শোকর করে না।
যারা আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, কিয়ামতকাল সম্পর্কে তাদের ধারণা কী? নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি বড়ই অনুগ্রহওয়ালা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শোকর আদায় করেনা।
অমা-জোয়ান্ন ুল্লাযীনা ইয়াফ্তারূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাহ্ ইন্নাল্লা-হা লাযূ ফাদ্ব্লিন্ 'আলান্না-সি অলা-কিন্না আক্ছারাহুম্ লা-ইয়াশ্কুরূন্।
আর তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন আর যা কিছু তিলাওয়াত কর না কেন আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআন থেকে এবং তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা
(হে মুহাম্মদ!) তুমি যে অবস্থায়ই থাকো এবং কুরআন থেকে যা - ই তিলাওয়াত করোনা কেন আর (হে মানুষ!) তোমরা যা - ই করোনা কেন, আমরা তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি যখন তোমরা তাতে আত্মনিয়োগ করো। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে একটি অণু পরিমাণ কিছুও তাঁর অগোচরে নেই এবং তার চাইতে ক্ষুদ্রতম কিংবা বৃহত্তর কিছুই নেই, যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা নেই।
অমা-তাকূনু ফী শানিওঁ অমা-তাত্লূ মিন্হু মিন্ ক্বরুআ-নিওঁ অলা-তা'মালূনা ম্নি 'আমালিন্ ইল্লা-কুন্না-'আলাইকুম্ শুহূদান্ ইয্ তুফীদ্বূনা ফীহ্ অমা-ইয়া'যুবু 'র্আ রব্বিকা মিম্ মিছ্ক্বা-লি র্যারতিন্ ফিল্ আরদ্বি অলা-ফিস্সামা - য়ি অলা য় আছ্গরা মিন্ যা-লিকা অলা য় আক্বারা ইল্লা-ফী কিতা-বিম্ মুবীন্।
শুনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই, আর তারা পেরেশানও হবে না।
জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিদের কোনো ভয় নেই এবং দুঃখ - দুশ্চিন্তাও নেই।
আলা য় ইন্না আওলিয়া - আল্লা-হি লা-খওফুন 'আলাইহিম্ অলা-হুম্ ইয়াহ্যানূন্।
যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।
(তারা হলো সেইসব লোক) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে।
আল্লাযীনা আ-মানূ অকা-নূ ইয়াত্তাকুন্।
তাদের জন্যই সুসংবাদ দুনিয়াবী জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই। এটিই মহাসফলতা।
তাদের জন্যে রয়েছে সুসংবাদ দুনিয়ার জীবনে এবং আখিরাতে। আল্লাহর বাণীর কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই মহাসাফল্য।
লাহুমুল্ বুশ্রা-ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অফিল্ আ-খিরাহ্ লা-তাব্দীলা লিকালিমা-তিল্ লা-হ্ যা-লিকা হুঅল্ ফাওযুল্ 'আজীম্।
আর তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। নিশ্চয় সকল মর্যাদা আল্লাহর। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
(হে নবী! এরা তোমাকে যা কিছু বলছে) তাদের কথা যেনো তোমাকে দুঃখ না দেয়। সমস্ত ইয্যত ও শক্তির মালিক তো । তিনি সব শুনেন, সব জানেন।
অলা-ইয়াহ্যুন্কা ক্বাওলুহুম্ ইন্নাল্ 'ইয্যাতা লিল্লা-হি জ্বামী'আ-হুঅস্ সামী'উল্ 'আলীম।
জেনে রাখ, নিশ্চয় আসমানসমূহে যারা আছে এবং যমীনে যারা আছে সব আল্লাহরই এবং যারা ছাড়া অন্যদের ডাকে, তারা মূলত শরীকদের অনুসরণ করে না, তারা তো কেবল ধারণার অনুসরণ করে। তারা তো শুধু মিথ্যাই বলে।
সাবধান, মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারা আছে সবাই আল্লাহর। যারা ছাড়া অন্যদেরকে আল্লাহর শরিক বানিয়ে ডাকে, তারা কিসের অনুসরণ করে? তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে এবং তারা কেবল মিথ্যাই বলে।
আলা য় ইন্না লিল্লা-হি মান্ ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমান্ ফিল্ র্আদ্ব অমা-ইয়াত্তাবি'উল্ লাযীনা ইয়াদ্'ঊনা মিন্ দূনিল্লা-হি শুরাকা - আ ইঁ ইয়াত্তাবি'ঊনা ইল্লাজ্জোয়ান্না অইন্ হুম্ ইল্লা-ইয়াখ্রুছূন্।
তিনিই সে সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নাও এবং দিনকে করেছেন আলোকময়। নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শনাবলি এমন কওমের জন্য যারা শুনে।
তিনিই তোমাদের জন্যে রাত বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্যে আর দিন বানিয়েছেন দেখার জন্যে। যারা (উপদেশ) শুনে এতে তাদের জন্যে রয়েছে নিদর্শন।
হুঅল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ লাইলা লিতাস্কুনূ ফীহি অন্নাহা-রা মুব্ছিরা- ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিক্বওমিইঁ ইয়াসমা'ঊন্।
তারা বলে, ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন’। তিনি পবিত্র মহান। তিনি অমুখাপেক্ষী। আসমানসমূহ ও যমীনে যা রয়েছে তা তাঁরই। তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ নেই। তোমরা কি আল্লাহর উপর এমন কিছু বলছ, যা তোমরা জান না?
তারা বলে: ‘ সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি (এ থেকে) পবিত্র মহান। তিনি অভাবমুক্ত। মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর। (তোমরা যা বলছো) সে বিষয়ে তোমাদের কাছে কোনো সার্টিফিকেট নেই। তোমরা কি আল্লাহর উপর এমন কথা আরোপ করছো, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই?
ক্ব-লুত্তাখযাল্লা-হু অলাদান্ সুব্হা-নাহ্- হুঅল্ গনিয়্যু লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্ব ইন্ 'ইন্দাকুম্ মিন্ সুল্ত্বোয়া-নিম্ বিহা-যা- 'আতাকুলূনা 'আলাল্লা-হি মা-লা- তা'লামূন্।
বল, ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না’।
হে নবী! বলো: যারা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করে, তারা সফল হবেনা।
কুল্ ইন্নাল্লাযীনা ইয়াফ্তারূনা 'আলাল্লা-হিল্ কাযিবা লা-ইয়ুফ্লিহূন্।
(তাদের জন্য) দুনিয়াতে রয়েছে ভোগসামগ্রী। অতঃপর আমারই কাছে তাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর আমি তাদেরকে কঠিন আযাব আস্বাদন করাব, তারা যে করত তার কারণে ।
পৃথিবীতে তাদের জন্যে রয়েছে কিছু ভোগ বিলাস। তারপর আমাদের কাছেই হবে তাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমরা তাদের স্বাদ গ্রহণ করাবো কঠিন আযাবের, তাদের কুফুরির কারণে।
মাতা-'ঊন্ ফিদ্দুন্ইয়া-ছুম্মা ইলাইনা-মারজ্বি'উহুম্ ছুম্মা নুযীকুহুমুল্ 'আযা-বাশ্ শাদীদা বিমা- কা-নূ ইয়াক্ফুরূন্।
আর তাদেরকে নূহের সংবাদ পড়ে শুনাও, যখন সে তার কওমকে বলল, ‘হে আমার কওম, আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের কাছে ভারী মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। সুতরাং তোমরা অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর এবং (সাথে নাও) তোম
তাদের প্রতি তিলাওয়াত করো নূহের সংবাদ। সে তার কওমকে বলেছিল: ‘‘হে আমার কওম! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতের ভিত্তিতে আমার উপদেশ যদি তোমাদের অসহনীয় হয়, তবে আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলাম। তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরিক করছো তাদেরকে সাথে নিয়ে তোমাদের চক্রান্ত ঠিক করে নাও, পরে যেনো তোমাদের চক্রান্তের বিষয়ে তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে। তারপর আমার বিরুদ্ধে তোমাদের ফায়সালা ঠিক করে নাও এবং আমাকে কোনো অবকাশ দিও না।
অত্লু 'আলাইহিম্ নাবাআ নূহ্। ইয্ ক্ব-লা লিক্বওমিহী ইয়া-ক্বওমি ইন্ কা-না কাবুরা 'আলাইকুম্ মাক্ব-মী অতায্কীরী বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ফা'আলাল্লা-হি তাঅক্কাল্তু ফাআ জ্বমি'ঊ য় আম্রাকুম্ অশুরাকা - আকুম্ ছুম্মা লা-ইয়াকুন্ আম্রুকুম্ 'আলাইকুম্ গুম্মাতান্ ছুম্মাক্বদ্বূ য় ইলাইয়্যা অলা-তুন্যিরূন্।
‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার’।
তারপরও যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও নিতে পারো। আমি তো এ কাজের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব আল্লাহর উপর। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, আমি যেনো আত্মসমর্পণকারীদের অন্তরভুক্ত হই।’’
ফাইন্ তাঅল্লাইতুম্ ফামা-সাআল্তুকুম্ মিন্ আ জ্বর্ ইন্ আ জ্বরিয়া ইল্লা-'আলা ল্লা-হি অউর্মিতু আন্ আকূনা মিনাল্ মুস্লিমীন্।
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলল। তাই আমি তাকে ও নৌকাতে যারা তার সাথে ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম এবং আমি তাদেরকে করেছি স্থলাভিষিক্ত। আর ডুবিয়ে দিলাম তাদেরকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব দেখ, কেমন ছিল তাদের পরিণতি যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত তারা তাকে (নূহকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে। তখন আমরা তাকে এবং তার সাথে যারা নৌযানে আরোহণ করেছিল তাদেরকে নাজাত দেই এবং তাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করি আর ডুবিয়ে দেই সেইসব লোকদের যারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের আয়াত। চেয়ে দেখো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, কী করুণ পরিণতি হয়েছিল তাদের!
ফাকায্যাবূহু ফানাজ্জ্বাইনা-হু অমাম্ মা'আহূ ফিল্ ফুল্কি অজ্বা'আল্না-হুম্ খলা - য়িফা অআগ্রাক্বনাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিনা-ফার্ন্জু কাইফা কা-না 'আ-ক্বিবাতুল্ মুন্যারীন্।
অতঃপর আমি তাঁর পরে অনেক রাসূলকে তাদের কওমের নিকট পাঠিয়েছি এবং তারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিল; কিন্তু তারা ইতঃপূর্বে অস্বীকার করার কারণে ঈমান আনার ছিল না। এমনিভাবে আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তরে মোহর এঁটে দেই।
তার (নূহের) পরেও আমরা আরো অনেক রসূল পাঠিয়েছিলাম তাদের কওমের কাছে। তারা তাদের কাছে এসেছিল সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে। কিন্তু তারা আগে যা প্রত্যাখ্যান করেছে তার প্রতি আর ঈমান আনতে প্রস্ত্তত হয়নি। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারীদের অন্তর সীলগালা করে দেই।
ছূম্মা বা'আছ্না মিম্ বা'দিহী রুসুলান্ ইলা- ক্বাওমিহিম্ ফাজ্বা - ঊহুম্ বিল্ বাইয়্যিনা-তি ফামা-কা-নূ লিইয়ুমিনূ বিমা-কায্যাবূ বিহী মিন্ কাব্ল্ কাযা-লিকা নাত্বা'উ 'আলা-কুলূবিল্ মু'তাদীন।
অতঃপর তাদের পরে আমি মূসা ও হারূনকে ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে আমার আয়াতসমূহ দিয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা অহঙ্কার করেছে। আর তারা ছিল অপরাধী কওম।
তাদের পরে আমরা পাঠিয়েছি মূসা এবং হারূণকে ফেরাউন আর তার নেতৃবৃন্দের কাছে আমাদের নিদর্শন নিয়ে। কিন্তু তারা দাম্ভিকতা প্রকাশ করে। আসলে তারা ছিলো একটি অপরাধী কওম।
ছুম্মা বা'আছ্না- মিম্ বা'দিহিম্ মূসা-অহা-রূনা ইলা-র্ফি'আওনা অমালায়িহী বিআ-ইয়া-তিনা-ফাস্তাক্বারূ অকা-নূ ক্বাওমাম্ মু জ্বরিমীন।
অতঃপর যখন তাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে সত্য এল, তারা বলল, ‘নিশ্চয় এটি সুস্পষ্ট যাদু’।
অত:পর তাদের কাছে যখন আমাদের পক্ষ থেকে সত্য প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তারা বললো: ‘এতো এক সুস্পষ্ট ম্যাজিক।’
ফালাম্মা-জ্বা - আহুমুল্ হাক্বকু মিন্ 'ইন্দিনা-ক্ব-লূ য় ইন্না হা-যা- লাসিহ্রুম্ মুবীন্।
মূসা বলল, ‘তোমরা কি সত্যকে এ রকম (যাদু) বলছ, যখন তা তোমাদের কাছে এল? এ কি যাদু? অথচ যাদুকররা সফল হয় না’।
মূসা বললো: ‘তোমাদের কাছে যখন সত্য এসে গেছে, তখন সে সম্পর্কে তোমরা এমনটি বলছো? এ কি ম্যাজিক? ম্যাজেসিয়ানরা কখনো সফল হয়না।’
ক্ব-লা মূসা য় আতাকুলূনা লিল্হাক্বক্বি লাম্মা- জ্বা - আকুম্ আসিহ্রুন্ হা-যা- অলা-ইয়ুফ্ লিহুস্ সা-হিরূন্।
তারা বলল, ‘তুমি কি এসেছ আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি তা থেকে আমাদেরকে ফেরাতে এবং যেন যমীনে তোমাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়? আর আমরা তো তোমাদের প্রতি নই’।
তারা বললো: ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের যে ধর্মের উপর পেয়েছি তুমি কি আমাদেরকে তা থেকে বিচ্যুত করার জন্যে এসেছো এবং দেশে যেনো তোমার প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে যায় সে জন্যে এসেছো? আমরা তোমাদের দু’জনের প্রতি নই।’
ক্ব-লূ য় আজি'তানা-লিতাল্ফিতানা-'আম্মা-অজ্বাদ্না-'আলাইহি আ-বা - আনা-অতাকূনা লাকুমাল্ কিব্রিয়া - উ ফিল্ আরদ্ব্ অমা-নাহ্নু লাকুমা-বিমুমিনীন্।
এবং ফির‘আউন বলল, ‘তোমরা প্রত্যেক বিজ্ঞ যাদুকরদেরকে আমার কাছে নিয়ে আস’।
ফেরাউন (তার পারিষদকে) বললো: ‘তোমরা সব দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের খুঁজে আমার কাছে নিয়ে আসো।’
অক্ব-লা ফির'আউনুতূনী বিকুল্লি সা-হিরিন্ 'আলীম্।
অতঃপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বলল, ‘তোমরা যা ফেলবার ফেল’।
তারপর ম্যাজেসিয়ানরা সবাই যখন এসে উপস্থিত হলো: মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করতে চাও নিক্ষেপ করো।’
ফালাম্মা য় জ্বা - আস্ সাহারাতু ক্ব-লা লাহুম্ মূসা য় আল্ক্ব মা য় আন্তুম্ মুল্ক্ব ন্।
অতঃপর যখন তারা (তাদের রশি ও লাঠি) ফেলল, তখন মূসা বলল, ‘তোমরা যা আনলে, তা যাদু। নিশ্চয় তা বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয় ফাসাদকারীদের আমল পরিশুদ্ধ করেন না’।
তারা যখন নিক্ষেপ করলো, মূসা বললো: ‘‘তোমরা যা নিয়ে এসেছো তা তো ম্যাজিক! অবশ্যি এ জিনিসকে বাতিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের সংশোধন করেননা।
ফালাম্মা য় আল্ক্বও ক্ব-লা মূসা-মা-জ্বি তুম্ বিহিস্ সিহ্র্ ইন্নাল্লা-হা সাইয়ুব্ ত্বিলুহ্ ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়ুছ্লিহু 'আমালাল্ মুফ্সিদীন্।
আর তাঁর বাণীসমূহের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে।
তাঁর বাণীর সাহায্যে সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, যদিও অপরাধীরা তা পছন্দ করেনা।’’
অইয়ুহিক্ব্ কুল্লা-হুল্ হাক্বক্ব বিকালিমা-তিহী অলাও কারিহাল্ মু জ্বরিমূন্।
বস্তুতঃ মূসার প্রতি তার স্বগোত্রীয় লোকদের মধ্যে (প্রথমে) শুধু অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনল, তাও ফির‘আউন ও তার প্রধানবর্গের এই ভয়ে যে, তারা তাদেরকে নির্যাতন করে; আর বাস্তবিক পক্ষে ফির‘আউন সেই দেশে (রাজ্য) ক্ষমতা রাখত, আর এটাও ছিল যে, সে (ন্যায়ের) সীমাতিক্রম ক
ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ নির্যাতন করবে এই ভয়ে মূসার কওমের কিছু যুবক ছাড়া আর কেউই তার প্রতি ঈমান আনেনি। ফেরাউন ছিলো দেশে এক উদ্ধত উচ্চাভিলাসী এবং সে ছিলো সীমালংঘনকারী।
ফামা য় আ-মানা লিমূসা য় ইল্লা- র্য়ুরিয়্যাতুম্ মিন্ ক্বওমিহী 'আলা-খওফিঁম্ মিন্ ফির'আওনা অমালায়িহিম্ আইয়্যাফ্তিনাহুম্ অইন্না ফির'আউনা লা'আ-লিন্ ফিল্ আরদ্বি অইন্নাহূ লামিনাল্ মুস্রিফীন্।
আর মূসা বলল, ‘হে আমার কওম, তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাক, তবে তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল কর, যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাক’।
মূসা বলেছিল: ‘হে আমার কওম! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তাহলে তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করো যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকে।’
অক্বা-লা মূসা-ইয়াক্বওমি ইন্ কুন্তুম্ আ-মান্তুম্ বিল্লা-হি ফা'আলাইহি তাঅক্কালূ য় ইন্ কুন্তুম মুস্লিমীন্।
তখন তারা বলল, ‘আমরা আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে যালিম কওমের ফিতনার পাত্র বানাবেন না’।
তারা বলেছিল: ‘‘আমরা আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুল করলাম, হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এই যালিম লোকদের নির্যাতনের পাত্র বানিয়োনা।
ফাক্ব-লূ 'আলাল্লা-হি তাঅক্কাল্না- রব্বানা-লা-তা জ্ব'আল্না-ফিত্নাতাল্ লিল্ক্বওমিজ্জোয়া-লিমীন্।
‘আর আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহে কওম থেকে নাজাত দিন’।
আর তোমার দয়ায় আমাদেরকে এ কওমের কবল থেকে নাজাত দাও।’’
অনাজ্জি¦না-বিরহ্মাতিকা মিনাল্ ক্বওমিল্ কা-ফিরীন্।
আর আমি মূসা ও তার ভাইয়ের কাছে ওহী পাঠালাম যে, ‘তোমরা তোমাদের কওমের জন্য মিসরে গৃহ তৈরী কর এবং তোমাদের গৃহগুলোকে কিবলা বানাও আর কায়েম কর এবং মুমিনদের সুসংবাদ দাও’।
আমরা মূসা এবং তার ভাইকে অহির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছিলাম: ‘তোমাদের কওমের জন্যে মিসরে ঘর নির্মাণ করো আর তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলা (ইবাদতের স্থান) বানিয়ে নাও, কায়েম করো আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’
অআওহাইনা য় ইলা- মূসা- অআখীহি আন্ তাবাওয়্যাআ-লিক্বওমিকুমা-বিমিছ্রা বুইয়ূতাওঁ অ জ্ব'আলূ বুইয়ূতাকুম্ কিব্লাতাওঁ অ আক্বীমুছ্ ছলা-হ্ অবাশ্শিরিল্ মুমিনীন্।
আর মূসা বলল, ‘হে আমাদের রব, আপনি ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গকে দুনিয়াবী জীবনে সৌন্দর্য ও ধন-সম্পদ দান করেছেন। হে আমাদের রব, যাতে তারা আপনার পথ থেকে গোমরাহ করতে পারে। হে আমাদের রব, তাদের ধন-সম্পদ নিশ্চিহ্ন করে দিন, তাদের অন্তরসমূহকে কঠোর করে দিন। ফলে তারা ঈম
মূসা বলেছিল: ‘আমাদের প্রভু! তুমি ফেরাউন আর তার পারিষদবর্গকে দুনিয়ার জীবনে চাকচিক্য আর সম্পদ দান করেছো। আমাদের প্রভু! তারা সেগুলো দিয়ে মানুষকে তোমার পথ থেকে বিপথগামী করে। আমাদের প্রভু! তাদের মাল - সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের হৃদয়গুলো কঠিন করে দাও। তারা বেদনাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত ঈমান আনবে না।’
অক্ব-লা মূসা-রব্বানা য় ইন্নাকা আ-তাইতা ফির'আউনা অমালায়াহূ যীনাতাওঁ অআম্ওয়া-লান্ ফিল্ হা-ইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-রব্বানা-লিইয়ুদ্বিল্ল আন্ সাবীলিকা রব্বানাত্বমিস্ 'আলা য় আম্ওয়া-লিহিম্ অশ্দুদ্ 'আলা-কুলূবিহিম্ ফালা-ইয়ুমিনূ হাত্তা-ইয়ারাউল্ 'আযা-বাল্ আলীম্।
তিনি বললেন, ‘তোমাদের দো‘আ কবূল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং যারা জানে না তাদের পথ অনুসরণ করো না’।
তিনি বলেছিলেন: তোমাদের দোয়া কবুল করা হলো, সুতরাং তোমরা অটল অবিচল থাকো, আর তোমরা অজ্ঞদের পথের অনুসরণ করোনা।
ক্ব-লা ক্বদ্ উজ্বীবাত্ দা'অতুকুমা-ফাস্তাক্বীমা-অলা-তাত্তাবি'আ - ন্নি সাবীলাল্লাযীনা লা-ইয়া'লামূন্।
আর আমি বনী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিলাম। আর ফির‘আউন ও তার সৈন্যবাহিনী ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও সীমালঙ্ঘনকারী হয়ে তাদের পিছু নিল। অবশেষে যখন সে ডুবে যেতে লাগল, তখন বলল, ‘আমি ঈমান এনেছি যে, সে সত্তা ছাড়া কোন নেই, যার প্রতি বনী ইসরাঈল ঈমান এনেছে। আর আমি মুসল
আমরা বনি ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে নিয়েছিলাম আর ফেরাউন ও তার সেনাবাহিনী ঔদ্ধত্যের সাথে সীমালংঘন করে তাদের পিছু ধাওয়া করে। তারপর যখন সে পানিতে ডুবতে থাকলো, বললো: ‘আমি (একথার প্রতি) ঈমান আনলাম যে, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই, যার প্রতি ঈমান এনেছে বনি ইসরাঈল এবং আমি মুসলিমদের অন্তরভুক্ত হলাম।’
অজ্বা-অয্না- বিবানী য় ইস্রা - ঈলাল্ বাহ্রা ফাআত্বা'আহুম্ ফির'আউনু অজ্বুনূদুহূ বাগ্ইয়াওঁ অ'আদ্ওয়া-হাত্তা য় ইযা য় আদ্রকাহুল্ গবাকু ক্ব-লা আ-মান্তু আন্নাহূ লা য় ইলা-হা ইল্লাল্লাযী য় আ-মানাত্ বিহী বানূয় ইস্রা য় ঈলা অ আনা মিনাল্ মুস্লিমীন্।
‘এখন অথচ ইতঃপূর্বে তুমি নাফরমানী করেছ, আর তুমি ছিলে ফাসাদকারীদের অন্তর্ভুক্ত’।
এখন! অথচ ইতোপূর্বে তুমি অমান্য করেছিলে এবং তুমি ছিলে একজন ফাসাদ সৃষ্টিকারী।
আল্আ - না অক্বদ্ আ'ছোয়াইতা ক্বব্লু অকুন্তা মিনাল্ মুফসিদীন।
‘সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফেল’।
আজ আমরা তোমার দেহটা রক্ষা করবো, যাতে করে তুমি পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাকো। অনেক মানুষই আমাদের নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল।
ফাল্ইয়াওমা নুনাজ্জ্বীকা বিবাদানিকা লিতাকূনা লিমান্ খল্ফাকা আ-ইয়াহ্ অইন্না কাছীরাম মিনান্ না-সি 'আন্ আ-ইয়া-তিনা- লাগ-ফিলূন্।
আর অবশ্যই আমি বনী ইসরাঈলকে উত্তম বাসভূমিতে আবাস দিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিয্ক দিলাম। অতঃপর তারা মতবিরোধ করেনি, যতক্ষণ না তাদের নিকট জ্ঞান এল। নিশ্চয় তোমার রব কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে ফয়সালা করবেন যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করত।
আমরা বনি ইসরাঈলকে উৎকৃষ্ট মানের আবাসভূমিতে বসবাস করিয়েছি এবং তাদের দিয়েছি উত্তম জীবন। তারপর তাদের কাছে এলেম আসার পর তারা বিভেদে লিপ্ত হয়। তোমার প্রভু কিয়ামতের দিন তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবেন, যে বিষয়ে তারা বিভেদ সৃষ্টি করেছিল।
অলাক্বদ্ বাওয়্যয়ানা-বানীয় ইস্রা - ঈলা মুবাওয়্যা আছিদ্ক্বিওঁ অরাযাক্বনা-হুম্ মিনাত্ব ত্বোইয়্যিবা-তি ফামাখ্ তালাফূ হাত্তা-জ্বা-আ হুমুল্ 'ইল্ম্ ইন্না রব্বাকা ইয়াক্বদ্বী বাইনাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ফী মা-কা-নূ ফীহি ইয়াখ্তালিফূন্।
সুতরাং আমি তোমার নিকট যা নাযিল করেছি, তা নিয়ে তুমি যদি সন্দেহে থাক, তাহলে যারা তোমার পূর্ব থেকেই কিতাব পাঠ করছে তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর। অবশ্যই তোমার নিকট তোমার রবের পক্ষ থেকে সত্য এসেছে। সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
আমরা তোমার কাছে যা নাযিল করেছি সে বিষয়ে যদি তোমার সন্দেহ থাকে, তাহলে তোমার পূর্বের কিতাব যারা পাঠ করে তাদের জিজ্ঞাসা করে দেখো। অবশ্যি তোমার কাছে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে সত্য এসেছে, সুতরাং তুমি কোনো অবস্থাতেই সন্দেহে পড়ে থাকা লোকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
ফাইন্ কুন্তা ফী শাক্কিম্ মিম্মা য় আন্যাল্না য় ইলাইকা ফাস্আলিল্লাযীনা ইয়াক্বরাঊনাল্ কিতা-বা মিন্ ক্বব্লিকা লাক্বদ্ জ্বা - আকাল্ হাক্বকু র্মি রব্বিকা ফালা- তাকূনান্না মিনাল্ মুম্তারীন্।
আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে। তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তুমি সেইসব লোকদেরও অন্তরভুক্ত হয়োনা যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আল্লাহর আয়াতকে, তাহলে তুমি শামিল হয়ে পড়বে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে,
অলা-তাকূনান্না মিনাল্লাযীনা কায্যাবূ বিআ-ইয়া-তিল্লা-হি ফাতাকূনা মিনাল খ-সিরীন।
নিশ্চয় যাদের উপর তোমার রবের বাণী সত্য হয়েছে, তারা ঈমান আনবে না;
যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।
ইন্নাল্লাযীনা হাক্বক্বাত 'আলাইহিম্ কালিমাতু রব্বিকা লা-ইয়ুমিনূন্।
যদিও তাদের নিকট সকল নিদর্শন এসে উপস্থিত হয়, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে।
এমন কি তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এলেও তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেখার আগ পর্যন্ত (ঈমান আনবে না)।
অলাও জ্বা - আতহুম্ কুল্লু আ-ইয়াতিন্ হাত্তা- ইয়ারাউল্ 'আযা-বাল্ আলীম্।
সুতরাং কেন হল না এমন এক জনপদ, যে ঈমান এনেছে এবং তার ঈমান তার উপকারে এসেছে? তবে ইউনুসের কওম ছাড়া যখন তারা ঈমান আনল, তখন আমি তাদের থেকে দুনিয়ার জীবনের লাঞ্ছনাকর আযাব সরিয়ে দিলাম এবং আমি তাদেরকে একটি সময় পর্যন্ত ভোগ করতে দিলাম।
তবে ইউনুসের কওমের কথা ভিন্ন। তারা ছাড়া কোনো জনপদের অধিবাসীরা কেন এমন হলো না যে, তারা ঈমান আনতো এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে আসতো? তারা যখন ঈমান এনেছিল আমরা তাদের থেকে লাঞ্ছনাকর আযাব দূর করে দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে কিছুকালের জন্যে ভোগ বিলাসের সামগ্রী সরবরাহ করেছিলাম।
ফালাওলা-কা-নাত্ র্ক্বাইয়াতুন্ আ-মানাত্ ফানাফা'আহা য় ঈমা-নুহা য় ইল্লা-ক্বওমা ইয়ূনুস লাম্মা য় আ-মানূ কাশাফ্না-'আন্হুম 'আযা-বাল্ খিয্ইয়ি ফিল্ হাইয়া-তিদ্দুন্ইয়া-অমাত্তা'না-হুম্ ইলা-হীন্।
আর যদি তোমার রব চাইতেন, তবে যমীনের সকলেই ঈমান আনত। তবে কি তুমি মানুষকে বাধ্য করবে, যাতে তারা হয় ?
তোমার প্রভু চাইলে বিশ্বে যারা আছে অবশ্যি সবাই ঈমান আনতো। তবে কি তুমি মানুষকে ঈমান আনার জন্যে বাধ্য করবে?
অলাও শা - আ রব্বুকা লাআ-মানা মান্ ফিল্ র্আদ্বি কুল্লুহুম্ জ্বামী'আ- আফাআন্তা তুক্রিহুন না-সা হাত্তা-ইয়াকূনু মুমিনীন্।
আর কারও পক্ষে সম্ভব নয় যে, আললাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনবে এবং যারা বুঝে না তিনি আযাব চাপিয়ে দেবেন তাদের উপর।
আল্লাহর অনুমিত ছাড়া কোনো ব্যক্তির পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব নয়। যারা আকল খাটায় না তাদের কালিমা লিপ্ত করেন।
অমা-কা-না লিনাফ্সিন্ আন তুমিনা ইল্লা-বিইয্নিল্লা-হ অইয়াজ্ব'আর্লু রি জ্বসা 'আলাল্লাযীনা লা-ইয়া'ক্বিলূন্।
বল, ‘আসমানসমূহ ও যমীনে কী আছে তা তাকিয়ে দেখ। আর নিদর্শনসমূহ ও সতর্ককারীগণ এমন কওমের কাজে আসে না, যারা ঈমান আনে না’।
বলো: ‘মহাকাশ আর পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য করো। যারা ঈমান আনে না, নিদর্শন এবং সতর্কবাণী তাদের কোনো উপকারে আসেনা।
কুলিন্জুরূ মা-যা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্ব্ অমা-তুগ্নিল্ আ-ইয়া-তু অন্ নুযুরু আন্ ক্বাওমিল্ লা-ইয়ু'মিনূন্।
তবে কি তারা কেবল তাদের পূর্বে বিগত লোকদের অনুরূপ দিনগুলোরই অপেক্ষা করছে? বল, ‘তবে তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান’।
তারা কি তাদের আগেকার লোকদের উপর যা ঘটেছিল সেটার অপেক্ষা করছে। বলো: ‘তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’
ফাহাল্ ইয়ান্তাজিরূনা ইল্লা-মিছ্লা আইয়্যা-মিল্লাযীনা খালাও মিন্ ক্বব্লিহিম্ কুল্ ফান্তাজিরূ য় ইন্নী মা'আকুম্ মিনাল্ মুন্তাজিরীন্
তারপর আমি নাজাত দেই আমার রাসূলদেরকে এবং তাদেরকেও যারা ঈমান এনেছে। এটা আমার দায়িত্ব যে, মুমিনদের নাজাত দেই।
তারপর আমরা নাজাত দেবো আমাদের রসূলদেরকে আর ঈমানদারদেরকে। এভাবেই আমাদের দায়িত্ব মুমিনদের নাজাত দেয়া।
ছুম্মা নুনাজ্জ্বী রুসুলানা-অল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা হাক্বক্বান্ 'আলাইনা-নুন্জ্বিল্ মু'মিনীন্।
বল, ‘হে মানুষ, তোমরা যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থাক, তবে ছাড়া তোমরা যার ইবাদাত কর আমি তার ইবাদাত করি না, বরং আমি ইবাদাত করি আল্লাহর, যিনি তোমাদের মৃত্যু দেন। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার’।
বলো: ‘হে মানুষ! তোমরা এখনো যদি আমার দীনের ব্যাপারে সন্দেহে থেকে থাকো, তবে জেনে রাখো, তোমরা ছাড়া যাদের ইবাদত করো আমি তাদের ইবাদত করিনা। আমি ইবাদত করি একমাত্র আল্লাহর যিনি তোমাদের ওফাত ঘটান। আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমি যেনো মুমিনদের অন্তরভুক্ত থাকি।’
কুল ইয়া-আইয়্যুহান্না-সু ইন্ কুন্তুম্ ফী শাক্কিম্ মিন্ দীনী ফালা য় আ'বুদুল্লাযীনা তা'বুদূনা মিন্ দূনিল্লা-হি অলা-কিন্ আ'বুদুল্লাহাল্লাযী ইয়া তাওয়াফ্ফা-কুম্ অউর্মিতু আন্ আকূনা মিনাল্ মুমিনীন্।
আর (এ নির্দেশ) যে, ‘তুমি নিজেকে দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ একনিষ্ঠভাবে এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’।
আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে: ‘‘তুমি একনিষ্ঠভাবে আদ - দীনের উপর কায়েম থাকো এবং কিছুতেই মুশরিকদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
অআন্ আক্বিম্ অ জ্বহাকা লিদ্দীনি হানীফান্ অলা-তাকূনান্না মিনাল্ মুশ্রিকীন্।
‘আর ছাড়া এমন কিছুকে ডেকো না, যা তোমার উপকার করতে পারে না এবং তোমার ক্ষতিও করতে পারে না। অতএব তুমি যদি কর, তাহলে নিশ্চয় তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আর ছাড়া অন্যদের ডাকবেনা, যারা তোমার লাভক্ষতি কিছুই করতে পারেনা। তুমি যদি এমনটি করো তাহলে যালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।’’
অলা-তাদ্'উ মিন্ দূনিল্লা-হি মা-লা-ইয়ান্ফা'উকা অলা-ইয়াদ্বরুরুকা ফাইন্ ফা'আল্তা ফাইন্নাকা ইযাম্ মিনাজ্ জোয়া-লিমীন।
‘আর যদি তোমাকে কোন ক্ষতি পৌঁছান, তবে তিনি ছাড়া তা দূর করার কেউ নেই। আর তিনি যদি তোমার কল্যাণ চান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন প্রতিরোধকারী নেই। তিনি তার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা তাকে তা দেন। আর তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু’।
তোমাকে কোনো অকল্যাণ দিলে তিনি ছাড়া তা দূর করার আর কেউই নেই। তিনি যদি তোমাকে কোনো কল্যাণ দান করেন, তবে তাঁর অনুগ্রহ রদ করারও কেউ নেই। তিনি তাঁর দাসদের যাঁকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করেন। তিনি মহা ক্ষমাশীল মহাদয়াময়।
অ ইঁ ইয়াম্সাস্কাল্লা-হু বিদ্বুররিন্ ফালা-কা-শিফা লাহূ য় ইল্লা-হুঅ অইঁ ইয়ুরিদ্কা বিখইরিন্ ফালা-র - দ্দা লিফাদ্ব্লিহ্ ইয়ুছীবু বিহী মাইঁ ইয়াশা - উ মিন্ 'ইবা-দিহ অহুওয়াল্ গফূর্রু রহীম্।
বল, ‘হে মানুষ’, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট সত্য এসেছে। সুতরাং যে হিদায়াত গ্রহণ করবে, সে নিজের জন্যই হিদায়াত গ্রহণ করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজের ক্ষতির জন্য পথভ্রষ্ট হবে। আর আমি তোমাদের অভিভাবক নই।
হে নবী! বলো: ‘হে মানুষ! তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে সত্য এসেছে, সুতরাং যে কেউ সঠিক পথে চলবে, সে তো নিজেরই কল্যাণ করবে, আর যে কেউ বিপথে চলবে সে নিজেরই অকল্যাণ করবে। আমি তোমাদের উকিল (কর্মসম্পাদক) নই।’
কুল্ ইয়া য় আইয়্যুহান্না-সু ক্বাদ্ জ্বা - আকুমুল্ হাক্বক্কু র্মি রব্বিকুম্ ফামানিহ্ তাদা- ফাইন্নামা- ইয়াহ্তাদী লিনাফ্সিহী অমান্ দ্বোয়াল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদ্বিল্লু 'আলাইহা- অমা য় আনা 'আলাইকুম্ বিওয়াকীল্।
আর তোমার নিকট যে ওহী পাঠানো হচ্ছে, তুমি তার অনুসরণ কর এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন। আর তিনিই উত্তম ফয়সালাকারী।
তোমার প্রতি যে অহি নাযিল হচ্ছে তুমি তারই ইত্তেবা (অনুসরণ) করো, আর সবর অবলম্বন করো যতোক্ষণ না আল্লাহর ফায়সালা আসে। তিনিই সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।
অত্তাবি' মা- ইয়ূহা য় ইলাইকা অর্ছ্বি হাত্তা-ইয়াহ্কুমাল্লা-হু অহুঅ খইরুল্ হা-কিমীন্।