ত্ব-হা
তোয়াহা!
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-হা-।
Chapter 20, 135 verses
ত্ব-হা
তোয়াহা!
বিসমিল্লাহির রাহমা-নির রাহি-ম ত্বোয়া-হা-।
আমি তোমার প্রতি আল-কুরআন এজন্য নাযিল করিনি যে, তুমি দুর্ভোগ পোহাবে
তুমি দুর্দশাগ্রস্ত হবে এ জন্যে আমরা তোমার প্রতি এই কুরআন নাযিল করিনি।
মা য় আন্যাল্না- 'আলাইকাল্ ক্বর্আ-না লিতাশ্ক্ব য় ।
বরং যে ভয় করে তার জন্য উপদেশ স্বরূপ।
বরং এটি একটি উপদেশবার্তা তার জন্যে, যে ভয় করে।
ইল্লা-তায্কিরতাল্ লিমাইঁ ইয়াখ্শা-।
যিনি যমীন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন তাঁর নিকট থেকে অবতীর্ণ।
এটি নাযিল হয়েছে তাঁর পক্ষ থেকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন এই পৃথিবী এবং সুউঁচু মহাকাশ।
তান্যীলাম্ মিম্মান খলাক্বল্ র্আদ্বোয়া অস্সামা-ওয়া-তিল্ 'উলা-।
পরম করুণাময় আরশের ওপর উঠেছেন* । * এ আয়াতে আল্লাহর একটি ক্রিয়াবাচক গুণ সাব্যস্ত করা হয়েছে। সেটি হচ্ছে استواء বা আরশের উপর উঠা। ইমাম মালেককে এ গুণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, استواء এর অর্থ আছে। তবে তার ধরন (كيفيت) নেই। এর প্রতি ঈমান রাখ
তিনি দয়াময় - রহমান, আরশে সমাসীন।
র্আরহমানু 'আলাল্ 'র্আশিস্ তাওয়া-।
যা আছে আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যবর্তী স্থানে এবং যা আছে মাটির নিচে সব তাঁরই।
সবকিছুর মালিকই তিনি, যা কিছু আছে মহাকাশে, পৃথিবীতে এবং এ দুটির মধ্যবর্তী স্থানে, আর যা কিছু আছে মাটির নিচে।
লাহূ মা-ফিস্ সামা-ওয়া-তি অমা-ফিল্ র্আদ্বি অমা-বাইনাহুমা-অমা-তাহ্তাছ্ ছার-।
আর যদি তুমি উচ্চস্বরে কথা বল তবে তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন।
তুমি যদি উঁচু স্বরে কথা বলো, তবে (জেনে রাখো) তিনি যা গোপন এবং যা অব্যক্ত সবই জানেন।
অ ইন্ তাজ্বর্হা বিল্ক্বওলি ফাইন্নাহূ ইয়া'লামুস্ র্সির অআখ্ফা-।
, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) নেই; সুন্দর নামসমূহ তাঁরই।
তিনি , তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই।
আল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা-হূ লাহুল্ আস্মা-য়ুল্ হুস্না-।
আর তোমার কাছে কি মূসার কথা পৌঁছেছে?
তোমার কাছে মূসার সংবাদ এসেছে কি?
অহাল্ আতা-কা হাদীছু মূসা-।
যখন সে আগুন দেখল, তখন নিজ পরিবারকে বলল, ‘তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখতে পেয়েছি, আশা করি আমি তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু জ্বলন্ত আঙ্গার নিয়ে আসতে পারব অথবা আগুনের নিকট পথনির্দেশ পাব।’
সে যখন আগুন দেখেছিল, তখন তার পরিবারবর্গকে বলেছিল: ‘তোমরা এখানে থাকো, আমি আগুন দেখেছি, হয়তো সেখান থেকে আমি তোমাদের জন্যে কিছু জ্বলন্ত অংগার আনতে পারবো, অথবা আগুনের কাছে গেলে পথের দিশা পাবো।’
ইয্ রয়া-না-রন্ ফাক্ব-লা লিআহ্লিহিম্কুছূ য় ইন্নী য় আ-নাস্তু না-রল্লা'আল্লী য় আ-তীকুম্ মিন্হা- বিক্ববাসিন্ আও আজ্বিদু 'আলান্না-রি হুদা-।
যখন সে আগুনের কাছে আসল তখন তাকে আহবান করা হল, ‘হে মূসা’
তারপর সে যখন আগুনের কাছে এলো, তখন তাকে ডাক দিয়ে বলা হলো: ‘‘হে মূসা!
ফালাম্মা য় আতা-হা- নূদিয়া ইয়া-মূসা-।
নিশ্চয় আমি তোমার রব; সুতরাং তোমার জুতা জোড়া খুলে ফেল, নিশ্চয় তুমি পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় রয়েছ’।
আমি তোমার রব। তোমার জুতা খুলে ফেলো। তুমি পবিত্র তুয়া উপত্যাকায় রয়েছো।
ইন্নী য় আনা রব্বুকা ফাখ্লা' না'লাইকা ইন্নাকা বিল্ওয়া-দিল্ মুক্বাদ্দাসি ত্বঅ-।
‘আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা ওহীরূপে পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুন’।
আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা অহি করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনো।
অ আনাখ্ র্তাতুকা ফাস্তামি' লিমা- ইয়ূহা-।
‘নিশ্চয় আমি , আমি ছাড়া কোন (সত্য) নেই; সুতরাং আমার ইবাদাত কর এবং আমার স্মরণার্থে কায়েম কর’।
নিশ্চয়ই আমি , আমি ছাড়া কোনো ইলাহ্ নেই। অতএব কেবল আমারই ইবাদত করো এবং আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে কায়েম করো ।
ইন্নানী য় আনাল্লা-হু লা য় ইলা-হা ইল্লা য় আনা ফা'বুদ্নী অআক্বিমিছ্ ছলা-তা লিযিক্রী।
‘নিশ্চয় কিয়ামত আসবে; আমি তা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেককে স্বীয় চেষ্টা-সাধনা অনুযায়ী প্রতিদান দেয়া যায়’।
কিয়ামত অবশ্যি আসবে, তার সময়কাল আমি গোপন রাখবো। (কিয়ামত এ জন্যে হবে) যাতে করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রচেষ্টা অনুযায়ী দেয়া যায় প্রতিদান।
ইন্নাস্ সা'আতা আ-তিয়াতুন্ আকা-দু উখ্ফীহা-লিতুজ্বযা-কুল্ল নাফ্সিম্ বিমা-তাস্'আ-।
অতএব যে ব্যক্তি তার প্রতি ঈমান রাখে না এবং স্বীয় প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে যেন কিছুতেই তাতে ঈমান আনয়নে তোমাকে বাধা দিতে না পারে; অন্যথায় তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
সুতরাং যারা কিয়ামতে ঈমান রাখেনা আর নিজ কামনা বাসনার অনুসরণ করে, তারা যেনো তোমাকে কিয়ামতের প্রতি ঈমান থেকে ফেরাতে না পারে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
ফালা-ইয়াছুদ্দান্নাকা 'আন্হা-মাল্লা-ইয়ুমিনু বিহা-অত্তাবা'আ হাওয়া-হু ফার্তাদা-।
আর ‘হে মূসা, তোমার ডান হাতে ওটা কি’?
তোমার ডান হাতে ওটা কী হে মূসা?’’
অমা-তিল্কা বিইয়ামীনিকা ইয়া-মূসা-।
সে বলল, ‘এটি আমার লাঠি; আমি এর ওপর ভর করি, এটি দিয়ে আমি আমার মেষপালের জন্য গাছের পাতা পাড়ি এবং এটি আমার আরো অনেক কাজে লাগে।’
সে বললো: ‘এটি আমার লাঠি। এতে আমি ভর দেই। এটি দিয়ে আঘাত করে আমি আমার মেষপালের জন্যে গাছের পাতা ফেলি এবং এটি দিয়ে আমি অন্যান্য কাজও করে থাকি।’
ক্ব-লা হিয়া 'আছোয়া-ইয়া আতাওয়াক্বয়ু 'আলাইহা-অআহুশ্শু বিহা-'আলা-গনামী অলিয়া ফীহা- মা-আ-রিবু উখ্র-।
তিনি বললেন, ‘হে মূসা! ওটা ফেলে দাও।’
() বললেন: ‘ হে মূসা, লাঠিটি নিক্ষেপ করো।’
ক্ব-লা আল্ক্বিহা-ইয়া-মূসা-।
অতঃপর সে তা ফেলে দিল; অমনি তা সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।
সে সেটি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে তা সাপ হয়ে দৌড়াতে থাকলো।
ফাআল্ক্ব-হা- ফাইযা-হিয়া হাইয়্যাতুন্ তাস্'আ-।
তিনি বললেন, ‘ওটা ধর এবং ভয় করো না, আমি ওকে ওর পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেব’।
বললেন: ‘তুমি এটিকে ধরো, ভয় পেয়োনা। আমরা এটিকে এটির পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেবো।’
ক্ব-লা খুয্হা-অলা- তাখাফ্ সানু'ঈদুহা-সীরতাহাল্ ঊলা-।
‘আর তোমার হাত তোমার বগলের সাথে মিলাও, তাহলে তা উজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে কোনরূপ ত্রুটি ছাড়া; আরেকটি নিদর্শনরূপে’।
আর তোমার হাত তোমার বগলে রাখো। এটি বের হয়ে আসবে অনাবিল উজ্জ্বল হয়ে কোনো ক্ষতি ছাড়াই। এটি আরেকটি নিদর্শন।
ওয়াদ্ব্মুম্ ইয়াদাকা ইলা-জ্বানা-হিকা তাখ্রুজ বাইদ্বো-য়া মিন্ গইরি সূ-য়িন আ-ইয়াতান্ উখ্র।
এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নিদর্শনসমূহের কিছু দেখাব।
এর কারণ, আমরা তোমাকে দেখাবো আমাদের মহা নিদর্শনগুলোর কয়েকটি।
লিনুরিয়াকা মিন্ আ-ইয়া-তিনাল্ কুব্র-।
‘ফির‘আউনের কাছে যাও; নিশ্চয় সে সীমালঙ্ঘন করেছে’।
তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে তাগুত হয়েছে (সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে)।
ইয্হাব্ ইলা-ফির'আঊনা ইন্নাহূ ত্বগ-।
সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার বুক প্রশস্ত করে দিন’
সে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার বুক প্রশস্ত করে দাও।
ক্ব-লা রব্বিশ্ রহ্লী ছোয়াদ্রী।
‘এবং আমার কাজ সহজ করে দিন,
আমার কাজ (দায়িত্ব পালন) আমার জন্যে সহজ করে দাও।
অ ইয়ার্স্সিলী য় আম্রী।
‘আর আমার জিহবার জড়তা দূর করে দিন-
আমার যবানের বন্ধন (জড়তা) দূর করে দাও,
ওয়াহ্লুল্ 'উক্ব্দাতাম্ মিল্লিসা-নী।
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে’।
যাতে করে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
ইয়াফ্ক্বাহূ ক্বওলী।
‘আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন।
আমার পরিবারের একজনকে আমার উযির বানিয়ে দাও,
অজ্ব্'আল্লী অযীরাম্ মিন্ আহ্লী।
আমার ভাই হারূনকে’
আমার ভাই হারূণকে দাও,
হারূনা আখী
‘তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন
তাকে দিয়ে আমার শক্তিকে মজবুত করে দাও।
শ্দুদ্ বিহী য় আয্রী।
এবং তাকে আমার কাজে শরীক করুন’।
এবং তাকে আমার দায়িত্বের অংশীদার বানিয়ে দাও,
অ আশ্রিক্হু ফী য় আম্রী।
‘যাতে আমরা বেশী করে আপনার তাসবীহ পাঠ করতে পারি’,
যাতে করে আমরা তোমার বেশি বেশি তসবিহ করতে পারি,
কাই নুসাব্বিহাকা কাছীর-।
এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি।
এবং বেশি বেশি তোমাকে যিকির করতে পারি
অ নায্ কুরকা কাছীর-
‘আপনিই তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা’।
নিশ্চয়ই তুমি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দাতা।’’
ইন্নাকা কুন্তা বিনা-বাছীর-।
তিনি বললেন, ‘হে মূসা, তুমি যা চেয়েছ তা তোমাকে দেয়া হল’।
বললেন: ‘‘মূসা! যা চেয়েছো সবই তোমাকে দেয়া হলো।
ক্ব-লা ক্বদ্ ঊতীতা সু'লাকা ইয়া-মূসা-।
‘আর আমি আরো একবার তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম’।
এর আগেও একবার আমরা তোমার প্রতি ইহসান করেছি।
অ লাক্বদ্ মানান্না- 'আলাইকা র্মারতান্ উখ্র য় ।
‘যখন আমি তোমার মাতাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যা জানাবার ছিল,
যখন আমরা তোমার মাকে অহি (ইশারা) করেছিলাম যা অহি করার:
ইয্ আওহাইনা য় ইলা য় উম্মিকা মা-ইয়ূহা য় ।
‘যে, তুমি তাঁকে সিন্ধুকের মধ্যে রেখে দাও। তারপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও। যেন দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। ফলে তাকে আমার শত্রু ও তার শত্রু নিয়ে নেবে। আর আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও’।
(তাকে ইশারায় বলেছিলাম:) তুমি তাকে (মূসাকে) সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, তারপর তাকে দরিযায় (নীলনদে) ভাসিয়ে দাও, যাতে করে দরিয়া তাকে তীরে ঠেলে দেয়। তখন তাকে আমার দুশমন এবং তার দুশমন ঘরে তুলে নেবে। আমি আমার পক্ষ থেকে তোমার প্রতি মহববত ঢেলে দিয়েছিলাম, আর (এমন ব্যবস্থা করেছিলাম) যেনো তুমি আমার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হও।’
আনিক্বযি ফীহি ফিত তা-বূতি ফাক্বযি ফীহি ফিল্ ইয়াম্মি ফাল্ইয়ুল্ক্বিহিল্ ইয়াম্মু বিস্সা-হিলি ইয়া'খুয্হু 'আদুওউল্লী ওয়া'আদুওউল লা-হ্ অআল্ক্বইতু 'আলাইকা মাহাব্বাতাম্ মিন্নী অলিতুছ্না'আ 'আলা-আইনী।
যখন তোমার বোন (সিন্দুকের সাথে সাথে) চলছিল। অতঃপর সে গিয়ে বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন একজনের সন্ধান দেব, যে এর দায়িত্বভার নিতে পারবে’? অতঃপর আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম; যাতে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুঃখ না পায়। আর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে।
যখন তোমার বোন এসে তাদের বললো: আমি কি আপনাদের বলবো, কে ওকে সঠিকভাবে লালন পালন করতে পারবে? তখন আমরা তোমাকে তোমার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিলাম, যাতে করে তার চোখ জুড়ায় এবং সে দুশ্চিন্তায় না থাকে। তারপর তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে, তখনো আমরা তোমাকে দুশ্চিন্তা থেকে নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমার থেকে আরো অনেকগুলো পরীক্ষা নিয়েছি। এরপর কয়েক বছর তুমি মাদায়েনবাসীদের মধ্যে ছিলে। তারপর নির্ধারিত সময়ই তুমি (এখানে) উপস্থিত হয়েছো হে মূসা!
ইয্ তাম্শী য় উখ্তুকা ফাতাকু লু হাল্ আদুল্লুকুম্ 'আলা-মাইঁ ইয়াক্ফুলুহ্ ফারাজ্বা'না-কা ইলা য় উম্মিকা কাই তার্ক্বর 'আইনুহা-অলা-তাহ্যান্ অ ক্বতাল্তা নাফ্সান্ ফানাজ্জ্বাইনা-কা মিনাল্ গম্মি অফাতান্না-কা-ফুতূনা- ফালাবিছ্তা সিনীনা ফী য় আহ্লি মাদ্ইয়ানা ছুম্মা জ্বিতা 'আলা- ক্বদারিঁই ইয়া-মূসা-।
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের জন্য মনোনীত করেছি।
আর আমি তোমাকে আমার নিজের (রিসালাত প্রদানের) জন্যে তৈরি করে নিয়েছি।
অছ্ত্বোয়ানা'তুকা লিনাফ্সী।
তুমি ও তোমার ভাই আমার আয়াতসমূহ নিয়ে যাও এবং আমাকে স্মরণ করার ক্ষেত্রে কোনরূপ অলসতা করো না।
তুমি এবং তোমার ভাই আমার দেয়া নিদর্শনগুলো নিয়ে (ফেরাউনের কাছে) যাও, আর তোমরা আমার যিকির - এ (আমার কথা উচ্চারণে) গাফলতি করোনা।
ইয্হাব্ আন্তা অআখূকা বিআ-ইয়া-তী অলা-তানিয়া-ফী যিক্রী।
তোমরা দু’জন ফির‘আউনের নিকট যাও, কেননা সে তো সীমালংঘন করেছে।
তোমরা দুজনেই যাও ফেরাউনের কাছে, সে সীমালঙ্ঘন ও বিদ্রোহ করেছে।
ইয্হাবা য় ইলা-ফির'আউনা ইন্নাহূ ত্বোয়াগ-।
তোমরা তার সাথে নরম কথা বলবে। হয়তোবা সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে।
তোমরা তার সাথে কোমল ভাষায় কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, নয়তো ভয় পাবে।’’
ফাকু লা লাহূ ক্বওলাল্ লাইয়্যিনা ল্লা'আল্লাহূ ইয়াতাযাক্কারু আও ইয়াখ্শা-।
তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমরা তো আশংকা করছি যে, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে অথবা সীমালঙ্ঘন করবে’।
তারা বললো: ‘আমাদের প্রভু! আমরা আশংকা করছি, সে আমাদের উপর বাড়াবাড়ি করবে, কিংবা বিরুদ্ধাচরণে সীমালঙ্ঘন করবে।’
ক্ব-লা রব্বানা য় ইন্নানা-নাখা-ফু আইঁ ইয়াফ্রুত্বোয়া 'আলাইনা য় আও আইঁ ইয়াত¦গ-।
তিনি বললেন, ‘তোমরা ভয় করো না। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি। আমি সবকিছু শুনি ও দেখি’।
তিনি বললেন: ‘তোমরা ভয় পেয়োনা। আমি তো তোমাদের সাথেই আছি, শুনছি এবং দেখছি।’
ক্ব-লা লা-তাখ-ফা য় ইন্নানী মা 'আকুমা য় আস্মা'উ আআর-।
সুতরাং তোমরা দু’জন তার কাছে যাও অতঃপর বল, ‘আমরা তোমার রবের দু’জন রাসূল। সুতরাং তুমি বনী ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও এবং তাদেরকে নির্যাতন করো না। আমরা তোমার কাছে এসেছি তোমার রবের আয়াত নিয়ে। আর যারা সৎ পথ অনুসরণ করে, তাদের প্রতি শান্তি’।
তোমরা তার কাছে যাও এবং বলো: ‘‘আমরা দুজন তোমার প্রভুর রসূল। সুতরাং বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে পাঠাও। তাদের আর শাস্তি দিওনা। আমরা তোমার প্রভুর নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। যারা সঠিক পথের অনুসরণ করে তাদের প্রতি সালাম - শান্তি।
ফাতিয়া-হু ফাকু লা য় ইন্না রসূলা-রব্বিকা ফার্আসিল্ মা 'আনা বানী য় ইস্রা-ঈলা অলা-তু'আয্যিব্হুম্ ক্বদ্ জ্বি''না-কা বিআ-ইয়াতিম্ র্মি রব্বিক্ অস্সালা-মু 'আলা-মানিত্তাবা'আ ল্ হুদা-।
নিশ্চয় আমাদের নিকট ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, আযাবতো তার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।
আমাদেরকে অহি করে জানানো হয়েছে, আযাব তাদের জন্যে, যারা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়।’’
ইন্না-ক্বদ্ ঊহিয়া ইলাইনা য় আন্নাল্ 'আযা-বা 'আলা-মান্ কায্যাবা অ তাওয়াল্লা- ।
ফির‘আউন বলল, ‘হে মূসা, তাহলে কে তোমাদের রব’?
সে (ফেরাউন) বললো: ‘তোমাদের দুজনের রব কে, হে মূসা?’
ক্ব-লা ফার্মা রব্বুকুমা- ইয়া-মূসা-।
মূসা বলল, ‘আমাদের রব তিনি, যিনি সকল বস্তুকে তার আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর সঠিক পথ নির্দেশ করেছেন’।
মূসা বললো: ‘আমাদের রব তিনি, যিনি প্রতিটি বস্ত্তকে তার সৃষ্টিগত আকৃতি দান করেছেন এবং চলার পথ নির্দেশ করেছেন।’
ক্ব-লা রব্বুনাল্লাযী য় 'আত্বো য়া-কুল্লা শাইয়িন্ খল্ক্বহূ ছুম্মা হাদা-।
ফির‘আউন বলল, ‘তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী’?
সে বললো: ‘তাহলে অতীত হয়ে যাওয়া লোকদের অবস্থা কী ?’
ক্ব-লা ফামা-বা-লুল্ ক্বরূ নিল্ ঊলা-।
মূসা বলল, ‘এর জ্ঞান আমার রবের নিকট কিতাবে আছে। আমার রব বিভ্রান্ত হন না এবং ভুলেও যান না’।
মূসা বললো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আমার প্রভুর কাছে কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তিনি ভুলও করেন না, ভুলেও যাননা।’
ক্ব-লা 'ইল্মুহা 'ইন্দা রব্বী ফী কিতা-বিন্ লা-ইয়াদ্বিল্ল রব্বী অলা-ইয়ান্সা-।
‘যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে বিছানা বানিয়েছেন এবং তাতে তোমাদের জন্য চলার পথ করে দিয়েছেন। আর আসমান থেকে তিনি পানি বর্ষণ করেন’; অতঃপর তা দিয়ে আমি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি।
তিনি পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বিছানার মতো সমতল করে দিয়েছেন, তাতে তোমাদের চলাচলের জন্যে পথ করে দিয়েছেন এবং সেখানে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, আর তা থেকে আমরা উৎপন্ন করি বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ।
আল্লাযী জ্বা'আলা লাকুমুল্ র্আদ্বোয়া মাহ্দাঁও অ সালাকা লাকুম্ ফীহা-সুবুলাঁও অ আন্যালা মিনাস্ সামা-য়ি মা-য় ফাআখ্রাজ্বনা-বিহী য় আয্ওয়া জ্বাম্ মিন্ নাবা-তিন্ শাত্তা-।
তোমরা নিজেরা খাও এবং তোমাদের গবাদি পশু চরাও। অবশ্যই এতে বিবেকসম্পন্ন লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
তোমরা তা থেকে খাও এবং তাতে তোমাদের গবাদি পশু চরাও। বুদ্ধি - বিবেক সম্পন্ন লোকদের জন্যে এতে রয়েছে অনেক নিদর্শন।
কুলূ র্অ'আও আন্'আ-মাকুম্ ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-ইয়া-তিল্ লিউলিন্নুহা-।
মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেব এবং মাটি থেকেই তোমাদেরকে পুনরায় বের করে আনব।
আমরা তা (মাটি) থেকেই তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফেরত দেবো এবং তা থেকেই তোমাদের পুনরায় খারিজ (বের) করে আনবো।
মিন্হা খালাক্ব্না-কুম্ অ ফীহা নু'ঈদুকুম্ অ মিন্হা- নুখ্রিজ্বকুম্ তা-রাতান্ উখ্র-।
আমি তাকে আমার সকল নিদর্শন দেখিয়েছিলাম, কিন্তু সে মিথ্যা আরোপ করেছে এবং অমান্য করেছে।
আমরা তাকে (ফেরাউনকে) আমাদের সব নিদর্শন দেখিয়েছিলাম। কিন্তু সে (সেগুলোকে) মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং (ঈমান আনতে) অস্বীকার করে।
অ লাক্বদ্ আরইনা-হু আ-ইয়া-তিনা- কুল্লাহা-ফাকায্যাবা অ আবা-।
সে বলল, ‘হে মূসা, তুমি কি আমাদের কাছে এজন্য এসেছ যে, তোমার যাদুর দ্বারা আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেবে’?
সে বলেছিল: ‘‘হে মূসা! তুমি কি তোমার ম্যাজিকের সাহায্যে আমাদেরকে আমাদের দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্যে এসেছো?
ক্ব-লা আজ্বিতানা-লিতুখ্ রিজ্বানা- মিন্ র্আদ্বিনা-বিসিহ্রিকা ইয়া-মূসা-।
‘তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার নিকট অনুরূপ যাদু নিয়ে আসব। সুতরাং একটা মধ্যবর্তী স্থানে আমাদের ও তোমার মিলিত হওয়ার জন্য একটি সময় নির্ধারণ কর, যা আমরাও লঙ্ঘন করব না, তুমিও করবে না’।
আমরাও অনুরূপ ম্যাজিক উপস্থিত করবো। সুতরাং আমাদের এবং তোমার মাঝে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্ধারণ করো, যেটি আমরাও লঙ্ঘন করবোনা, তুমিও লঙ্ঘন করবেনা। সেটি হতে হবে মধ্যবর্তী স্থান।’’
ফালানা তিয়ান্নাকা বিসিহ্রিম্ মিছ্লিহী ফাজ্ব্'আল্ বাইনানা-অ বাইনাকা মাও'ইদাল্ লা- নুখ্লিফুহূ নাহ্নু অলা য় আন্তা মাকা-নান্ সুওয়া-।
মূসা বলল, ‘তোমাদের নির্ধারিত সময় হল উৎসবের দিন। আর সেদিন পূর্বাহ্নেই যেন লোকজনকে সমবেত করা হয়’।
মূসা বললো: ‘সেই প্রতিশ্রুত সময়টি হলো উৎসবের দিন এবং সেদিন পূর্বাহ্ন থেকেই জনগণকে সমবেত করা হবে।’
ক্ব-লা মাও'ইদু কুম্ ইয়াওমুয্ যীনাতি অআইঁ ইয়ুহ্শারান্না-সু দ্বুহা-।
অতঃপর ফির‘আউন উঠে গেল। তারপর সে তার কৌশল একত্র করল, তারপর সে আসল।
ফেরাউন (একথার উপর) উঠে গেলো, তার সমস্ত কৌশল (ম্যাজিক ও ম্যাজেসিয়ানকে) জমা করলো। তারপর (নির্ধারিত দিনে) হাজির হলো।
ফাতাওয়াল্লা-র্ফি'আউনু ফাজ্বামা'আ কাইদাহূ ছুম্মা আতা-।
মূসা তাদেরকে বলল, ‘তোমাদের দুর্ভাগ্য! তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না। করলে তিনি আযাব দ্বারা তোমাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে, সে-ই ব্যর্থ হয়।
মূসা তাদের বললো: ‘ধ্বংস হও তোমরা, তোমরা মিথ্যা রচনা করে আল্লাহর উপর আরোপ করোনা, তা করলে তিনি তোমাদের আযাব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেবেন। (এ যাবত) যারাই মিথ্যা রচনা করেছে, তারাই ব্যর্থকাম হয়েছে।’
ক্বা- লা লাহুম্ মূসা- অইলাকুম্ লা-তাফ্তারূ 'আলাল্লা-হি কাযিবান্ ফাইয়ুস্হিতাকুম্ বি'আযা-বিন্ অক্বদ্ খ-বা মানিফ্ তার-।
তখন তারা নিজদের মধ্যে তাদের কর্ম সম্বন্ধে বাক-বিতন্ডা করল এবং তারা গোপনে পরামর্শ করল।
(একথা শুনে) তারা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং গোপনে পরামর্শ করে।
ফাতানা-যা'উ য় আমরহুম্ বাইনাহুম্ অ আসাররুন্ নাজ্বওয়া-।
তারা বলল, ‘এ দু’জন অবশ্যই যাদুকর। তারা চায় তাদের যাদুর মাধ্যমে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে এবং তোমাদের উৎকৃষ্ট জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে’।
তারা (ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গ জনগণের উদ্দেশ্যে) বললো: ‘‘এরা দুই ভাই দুই পাক্কা ম্যাজেসিয়ান। তারা তাদের ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায় এবং তোমাদের অনুকরণীয় জীবন পদ্ধতি ধ্বংস করে দিতে চায়।
ক্ব-লূ য় ইন্ হা-যা-নি লাসা-হির-নি ইয়ুরীদা-নি আইঁ ইঁয়ুখ্রিজ্বাকুম্ মিন্ র্আদ্বিকুম্ বিসিহ্রিহিমা-অইয়ায্হাবা- বিত্বোয়ারীক্বতিকুমুল্ মুছ্লা-।
‘কাজেই তোমরা তোমাদের কলা-কৌশল জমা কর। তারপর তোমরা সবাই সারিবদ্ধভাবে আস। আর আজ যে বিজয়ী হবে, সে-ই সফল হবে’।
অতএব (হে ম্যাজেসিয়ানরা!) তোমরা তোমাদের সমস্ত কৌশল জমা করো, তারপর সারিবদ্ধ হয়ে উপস্থিত হও। আজ যে জয়ী হবে, সে - ই হবে সফল।’’
ফাআজ্বমিঊ' কাইদাকুম্ ছুম্মাতূ ছফ্ফান্ অ-ক্বদ আফলাহাল্ ইয়াওমা মানিস্ তা'লা-।
তারা বলল, হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি।
তারা (ম্যাজেসিয়ানরা) বললো: ‘হে মূসা! হয় আপনি নিক্ষেপ করুন, নয়তো পয়লা আমরাই নিক্ষেপ করি।’
ক্ব-লূ ইয়া মূসা য় ইম্মা য় আন্ তুল্ক্বিয়া অইম্মা য় আন্ নাকূনা আওঅলা মান্ আল্ক্ব-।
মূসা বলল, ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর। অতঃপর তাদের যাদুর প্রভাবে মূসার কাছে মনে হল যেন তাদের রশি ও লাঠিগুলো ছুটোছুটি করছে।
মূসা বললো: ‘বরং তোমরাই নিক্ষেপ করো।’ তাদের ম্যাজিকের প্রভাবে মূসার খেয়াল (মনে) হলো, তাদের সব দড়ি এবং লাঠি ছুটাছুটি করছে।
ক্ব-লা বাল্ আল্ক্ব ফাইযা-হিবা-লুহুম্ অ 'ইছিয়্যুহুম্ ইয়ুখইয়্যালু ইলাইহি মিন্ সিহ্রিহিম্ আন্নাহা-তাস্'আ।
তখন মূসা তার অন্তরে কিছুটা ভীতি অনুভব করল।
ফলে, মূসা তার মনে কিছুটা ভয় অনুভব করলো।
ফাআওজ্বাসা ফী নাফ্সিহী খীফাতাম্ মূসা-।
আমি বললাম, ‘তুমি ভয় পেয়ো না, নিশ্চয় তুমিই বিজয়ী হবে’।
আমরা বললাম: ‘‘ভয় পেয়োনা, তুমিই থাকবে উপরে।
ক্বুল্না-লা-তাখাফ্ ইন্নাকা আন্তাল্ 'আলা-।
‘আর তোমার ডান হাতে যা আছে, তা ফেলে দাও। তারা যা করেছে, এটা সেগুলো গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে, তাতো কেবল যাদুকরের কৌশল। আর যাদুকর যেখানেই আসুক না কেন, সে সফল হবে না’।
তোমার ডান হাতে যা আছে সেটি নিক্ষেপ করো, তারা যা করেছে সেটি সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে সেটা তো ম্যাজিসিয়ানদের কৌশলমাত্র। ম্যাজেসিয়ানরা যা - ই উপস্থাপন করুক, সফল হয়না।’’
অ আল্ক্বি মা-ফী ইয়ামীনিকা তাল্ক্বফ্ মা-ছোয়ানা'ঊ ইন্নামা- ছোয়ানা'উ কাইদু সা-র্হি অলা -ইয়ুফ্লিহুস্ সা- হিরু হাইছু আতা-।
অতঃপর যাদুকরেরা সিজদায় লুটিয়ে পড়ল। তারা বলল, ‘আমরা হারূন ও মূসার রবের প্রতি ঈমান আনলাম’।
(তাদের সমস্ত জাদুক্রিয়া নিষ্ক্রীয় হয়ে যেতে দেখে) ম্যাজিসিয়ানরা সবাই সাজদায় লুটিয়ে পড়লো। তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম হারূণ এবং মূসার প্রভুর প্রতি।’
ফাউল্ক্বিয়াস্ সাহারতু সুজ্জ্বাদান্ ক্ব-লূ য় আ-মান্না -বিরব্বি হা-রূনা অমূসা-।
ফির‘আউন বলল, ‘কী, আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয় সে-ই তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে যাদু শিখিয়েছে। সুতরাং আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলব এবং আমি তোমাদেরকে খেজুর গাছের কান্ডে শূলিবিদ্ধ করবই। আর তোমরা
(ফেরাউন) বললো: ‘আমার অনুমতি ছাড়াই তোরা মূসার প্রতি ঈমান এনেছিস? বুঝতে পেরেছি, সে তোদের গুরু, সে - ই তোদের ম্যাজিক শিখিয়েছে। আমি তোদের হাত পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেবো এবং খেজুর গাছের কান্ডে তোদের শূলবিদ্ধ করবো, তখন তোরা জানতে পারবি, আমাদের দুইজনের (আমার আর মূসার) মধ্যে কে কঠোর এবং স্থায়ী শাস্তিদাতা?’
ক্ব-লা আ-মান্তুম্ লাহূ ক্বব্লা আন্ আ-যানা লাকুম্ ইন্নাহূ লাকাবী রুকুমুল্লাযী 'আল্লামাকুমুস্ সিহ্র ফালাউক্বত্ত্বি'আন্না আইদিয়াকুম্ অর্আজ্বলাকুম্ মিন্ খিলা-ফিঁও অ লায়ুছোয়াল্লিবান্নাকুম্ ফী জ্বযূ 'ইন্নাখ্লি অলা-তা'লামুন্না আইয়্যুনা য় আশাদ্দু 'আযা-বাঁও অআব্ক্বা-।
তারা বলল, ‘আমাদের নিকট যে সকল স্পষ্ট নিদর্শন এসেছে এবং যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে কিছুতেই প্রাধান্য দেব না। সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করতে চাও, তাই করো। তুমিতো কেবল এ দুনিয়ার জীবনের উপর কর্তৃত্ব করতে পার’।
তারা বললো: ‘‘আমাদের কাছে যেসব স্পষ্ট নিদর্শন প্রকাশ হয়েছে এবং যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার উপর আমরা তোমাকে প্রাধান্য দিতে পারিনা। তুমি যে ফায়সালা করতে চাও করো। তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের উপরই ফায়সালা করতে পারবে।
ক্ব-লূ লান্ নু'ছিরকা 'আলা-মা -জ্বা-য়ানা মিনাল্ বাইয়্যিনা -তি অল্লাযী ফাত্বোয়ারনা ফাক্বদ্বি মা য় আন্তা ক্ব-দ্ব্ ইন্নামা- তাক্বদী হা-যিহিল্ হা-ইয়াতাদ্দুন্ইয়া-।
‘নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে তিনি আমাদের অপরাধসমূহ এবং যে যাদু তুমি আমাদেরকে করতে বাধ্য করেছ, তা ক্ষমা করে দেন। আর সর্বশ্রেষ্ঠ ও চিরস্থায়ী’।
আমরা আমাদের প্রভুর প্রতি ঈমান এনেছি, যাতে করে তিনি আমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দেন আর তুমি আমাদেরকে যে ম্যাজিক দেখাতে বাধ্য করেছো সেই অপরাধও। আল্লাহ্ই সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।’’
ইন্না য় আ-মান্না -বিরব্বিনা- লিইয়াগ্ফিরলানা-খাত্বোয়া-ইয়া -না অমা য় আক্রহ্তানা 'আলাইহি মিনাস্ সিহ্র্ অল্লা-হু খইরুঁও অ আব্ক্ব-
যে তার রবের নিকট অপরাধী অবস্থায় আসবে, তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, বাঁচবেও না।
যে কেউ তার প্রভুর কাছে অপরাধী হিসেবে উপস্থিত হবে, তার জন্যে নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম। সেখানে সে মরবেও না, আর (বাঁচার মতো) বাঁচবেওনা।
ইন্নাহূ মাইঁ ইয়াতি রব্বাহূ মুজ্বরমান্ ফাইন্না লাহূ জ্বাহান্নাম্ লা -ইয়ামূতু ফীহা -অলা- ইয়াহ্ইয়া-।
আর যারা তাঁর নিকট আসবে অবস্থায়, সৎকর্ম করে তাদের জন্যই রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা।
আর যে কেউ তাঁর কাছে উপস্থিত হবে হিসেবে আমলে সালেহ্ করে, তাদের জন্যে নির্ধারিত আছে উঁচু মর্যাদাসমূহ,
অমাইঁ ইয়াতিহী মুমিনান্ ক্বাদ্ 'আমিলাছ্ ছোয়া-লিহা-তি ফাউলা-য়িকা লাহুমুদ্দারাজ্বা-তুল্ 'উলা-।
স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, তারা সেখানে স্থায়ী হবে। আর এটা হল যারা পরিশুদ্ধ হয় তাদের পুরষ্কার।
চিরস্থায়ী জান্নাতে, যার নীচে দিয়ে বহমান রয়েছে নদ - নদী - নহর। চিরকাল থাকবে তারা সেখানে। যারা আত্মোন্নয়ন - আত্মশুদ্ধি করবে, এ পুরস্কার পাবে তারাই।
জ্বান্না-তু 'আদ্নিন্ তাজ্বরী মিন্ তাহ্তিহাল্ আন্হা-রু খ-লিদীনা ফীহা- অযা-লিকা জ্বাযা-য়ু মান্ তাযাক্কা-।
আর আমি অবশ্যই মূসার কাছে ওহী প্রেরণ করেছিলাম যে, ‘আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাতের বেলায় রওয়ানা হও। অতঃপর সজোরে আঘাত করে তাদের জন্য শুকনো রাস্তা বানাও। পেছন থেকে ধরে ফেলার আশংকা করো না এবং ভয়ও করো না’।
আমরা মূসাকে অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম, আমার দাসদের নিয়ে তুমি রাতের বেলায় বের হবে এবং তাদের জন্যে সমুদ্রে একটি শুকনো পথ তৈরি করে নেবে। পেছন থেকে এসে তোমাকে ধরে ফেলবে - এই আশংকা করোনা এবং (সাগর পার হতে গিয়ে) ভয়ও পেয়োনা।
অলাক্বদ্ আওহাইনা য় ইলা -মূসা য় আন্ আস্রি বি'ইবা-দী ফাদ্ব্রিব্ লাহুম্ ত্বোয়ারীক্বান্ ফিল্ বাহ্রি ইয়াবাসা ল্লা-তাখা-ফু দারকাঁও অলা-তাখ্শা-।
তারপর ফির‘আউন তার সেনাবাহিনী সহ তাদের পিছু নিল। অতঃপর সমুদ্র তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে নিমজ্জিত করল।
ফেরাউন তার বাহিনী নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করে, তারপর সমুদ্র তাদের ডুবিয়ে নেয় পুরোপুরি।
ফাআত্বা'আহুম্ র্ফি'আউনু বিজ্বনূদিহী ফাগশিয়াহুম্ মিনাল্ ইয়াম্মি মা-গশিয়াহুম্।
আর ফির‘আউন তার কওমকে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সে সঠিক পথ দেখায়নি।
ফেরাউন তার কওমকে বিপথগামী করে দিয়েছিল এবং সঠিক পথ দেখায়নি।
অ আদ্বোয়াল্লা র্ফি'আউনু ক্বওমাহূ অমা-হাদা-।
হে বনী ইসরাঈল, আমিই তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু থেকে নাজাত দিয়েছি। আর তোমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলাম তূর পাহাড়ের ডান পাশের* এবং আমি তোমাদের জন্য অবতরণ করেছিলাম ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’। * তারা তূর পাহাড়ের ডানপার্শ্বে উপস্থিত হলে তা‘আলা তাদেরকে তাওরাত কিতাব প্রদ
হে বনি ইসরাঈল! তোমাদের দুশমনদের কবল থেকে আমরাই তোমাদের নাজাত দিয়েছি এবং আমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তুর পাহাড়ের ডান পাশে আর তোমাদের প্রতি আমরা নাযিল করেছি মান্না এবং সালওয়া।
ইয়া-বানী য় ইস্রা-ঈলা ক্বদ্ আন্জ্বাইনা-কুম্ মিন্ 'আদুওয়্যিকুম্ অওয়া-'আদ্না-কুম্ জ্বা-নিবাত্ব্ত্বুরিল্ আইমানা অনায্যাল্না- 'আলাইকুমুল্ মান্না অস্সাল্ওয়া।
আমি তোমাদেরকে যে রিয্ক দান করেছি তা থেকে ভালগুলো খাও এবং এতে সীমালংঘন করো না। করলে তোমাদের উপর আমার গযব পতিত হবে। আর যার উপর আমার গযব পতিত হয় সে অবশ্যই ধ্বংস হয়।
(আমরা তোমাদের বলেছি:) আমাদের দেয়া উত্তম জীবিকা তোমরা খাও এবং এক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করোনা, করলে তোমাদের প্রতি আমার গজব নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর যার প্রতিই আমার গজব নিশ্চিত হয়ে পড়ে, সে তো হয়ে যায় ধ্বংস।
কুলূ মিন্ ত্বোয়াইয়্যিবা-তি মা-রযাক্বনা-কুম্ অলা-তাত্বগও ফীহি ফাইয়াহিল্লা 'আলাইকুম্ গদ্বোয়াবী অমাইঁ ইয়াহ্লিল্ 'আলাইহি গদ্বোয়াবী ফাক্বদ্ হাওয়া-।
আর অবশ্যই আমি তার প্রতি ক্ষমাশীল, যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে অতঃপর সৎ পথে চলতে থাকে।
যে তওবা করে, ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে এবং হিদায়াতের পথে চলে অবশ্যি আমি তার জন্যে অনন্ত ক্ষমাশীল।
অইন্নী লাগফ্ফা-রুল্লিমান্ তা-বা অআ-মানা অ'আমিলা ছোয়া-লিহান্ ছুম্মাহ্তাদা-।
হে মূসা, কিসে তাড়াতাড়ি নিয়ে এসেছে তোমাকে, তোমার কওমকে পেছনে ফেলে?
তোমার কওমকে সাথে আনার ক্ষেত্রে তোমাকে তাড়াহুড়ায় ফেললো কোন্ জিনিস হে মূসা?
অমা য় আ'জ্বালাকা 'আন্ ক্বওমিকা ইয়া-মূসা-।
মূসা বলল, ‘এই তো তারা আমার পিছনে। হে আমার রব, আমি তাড়াতাড়ি করে আপনার নিকট এসেছি, যাতে আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট হন’।
সে বললো: ‘তারা পেছনেই আছে আর আমি তাড়াহুড়া করে এসেছি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্যে হে প্রভু!’
ক্ব-লা হুম্ উলা-য়ি 'আলা য় আছারী অআজ্বিল্তু ইলাইকা রব্বি লির্তাদ্বোয়া-।
বললেন, ‘তোমার চলে আসার পর আমি তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলে দিয়েছি। আর সামেরী তাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছে’।
তিনি বললেন: আমরা তো তোমার কওমকে পরীক্ষায় ফেলেছি তোমার চলে আসার পর। আর তাদের বিপথগামী করেছে সামেরি।
ক্ব-লা ফাইন্না-ক্বদ্ ফাতান্না-ক্বওমাকা মিম্ বা'দিকা অআদ্বোয়াল্লাহুমুস্ সা-মিরী।
তারপর মূসা ক্রোধ ও দুঃখভরে তার কওমের কাছে ফিরে গেল। সে বলল, ‘হে কওম, তোমাদের রব কি তোমাদের সাথে এক উত্তম ওয়াদা করেননি? তোমাদের কাছে কি সেই ওয়াদার সময় দীর্ঘ হয়ে গেছে? নাকি তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের রবের গযব পতিত হোক? তাই তোমরা আমার সাথে কৃত ওয়াদা
তখন মূসা তার কওমের কাছে ফিরে এলো ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়ে। এসে তাদের বললো: ‘হে আমার কওম! তোমাদের প্রভু কি তোমাদের একটি উত্তম ওয়াদা দেননি? ওয়াদার সময়কাল কি তোমাদের কাছে সুদীর্ঘ হয়েছে, নাকি তোমরা চাও তোমাদের প্রভুর গজব (ক্রোধ) তোমাদের উপর হালাল হয়ে যাক? আর সে কারণেই কি তোমরা আমার প্রতি দেয়া ওয়াদা ভঙ্গ করলে?’
ফারজ্বা'আ মূসা য় ইলা-ক্বওমিহী গাদ্ব্বা-না আসিফান্ ক্ব-লা ইয়া-ক্বওমি আলাম্ ইয়া'ইদ্কুম্ রব্বুকুম্ ওয়া'দান্ হাসানা- আফাত্বোয়া-লা 'আলাইকুমুল্ 'আহ্দু আম্ আরত্তুম্ আইঁ ইয়াহিল্লা 'আলাইকুম্ গদ্বোয়াবুম্ র্মি রব্বিকুম্ ফাআখ্লাফ্তুম্ মাও'ইদী।
তারা বলল, ‘আমরা তো স্বেচ্ছায় আপনার সাথে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করিনি, বরং কওমের অলংকারের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই আমরা তা (আগুনে) নিক্ষেপ করেছি, অনুরূপভাবে সামেরীও ফেলে দিয়েছে’।
তারা বললো: ‘‘আমরা তোমার প্রতি দেয়া ওয়াদা স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি। বরং আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল কওমের অলংকারের বোঝা। তখন আমরা সেগুলো অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করি। একইভাবে সামেরিও নিক্ষেপ করে।
ক্ব-লূ মা য় আখ্লাফ্না-মাও'ইদাকা বিমাল্কিনা-অলা-কিন্না-হুম্মিল্না য় আওযা-রাম্ মিন্যীনাতিল্ ক্বওমি ফাক্বযাফ্না-হা-ফাকাযা-লিকা আল্ক্বস্ সা-মিরী।
তারপর সে তাদের জন্য একটা গো বাছুরের প্রতিকৃতি বের করে আনল, যার ছিল আওয়াজ। তখন তারা বলল, ‘এটাই তোমাদের এবং মূসারও ; কিন্তু সে এ কথা ভুলে গেছে’।
তখন সে (সামেরি) তাদের জন্যে গড়ে নিলো একটি গো - বাছুরের অবয়ব যা হাম্বা করছিল। তখন তারা বললো: ‘‘এটাই তোমাদের ইলাহ্ এবং মূসারও ইলাহ্, কিন্তু সে (মূসা) ভুলে গেছে (তার এই ইলাহকে)।’’
ফাআখ্রজ্বা লাহুম্ 'ইজ্বলান্ জসাদাল্ লাহূ খুওয়া-রুন্ ফাক্ব-লূ হা-যা য় ইলা-হুকুম্ অইলা-হু মূসা- ফানাসী।
তারা কি দেখে না যে, এটা তাদের কোন কথার জবাব দিতে পারে না, আর তাদের কোন ক্ষতি বা উপকার করার ক্ষমতাও রাখে না?
তবে কি তারা লক্ষ্য করেনি যে, সেটা তাদের কথায় সাড়া দেয়না এবং তাদের কোনো ক্ষতি কিংবা কল্যাণ করার ক্ষমতা রাখেনা।
আফালা- ইয়ারওনা আল্লা-ইর্য়াজ্বি'উ ইলাইহিম্ ক্বওলাঁও অলা-ইয়াম্লিকু লাহুম্ দ্বোর্য়ারাঁও অলা-নাফ্'আ-।
আর হারূন পূর্বেই তাদেরকে বলেছিল, ‘হে আমার কওম, এটা দ্বারা তো কেবল তোমাদেরকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। আর তোমাদের রব তো পরম করুণাময়। তাই তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল’।
ইতোপূর্বে হারূণও তাদের বলেছিল: ‘হে আমার কওম! এই গো - বাছুরের মাধ্যমে তো তোমাদের পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে। নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু পরম দয়াময়, সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো এবং আমার আদেশ পালন করো।’
অলাক্বদ্ ক্ব-লা লাহুম্ হারূনু মিন্ ক্বব্লু ইয়া-ক্বওমি ইন্নামা-ফুতিন্তুম্ বিহী অ ইন্না রব্বাকুর্মু রহ্মানু ফাত্তাবি'ঊনী অ আত্বী'ঊ য় আম্রী।
তারা বলল, ‘আমরা এর উপরই অবিচল থাকব যতক্ষণ না মূসা আমাদের কাছে ফিরে আসে’।
জবাবে তারা বলেছিল: ‘মূসা আমাদের কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এটিকে পূজা করা থেকে কিছুতেই বিরত হবোনা।’
ক্ব-লূ লান্ নাব্রহা 'আলাইহি 'আ-কিফীনা হাত্তা-ইর্য়াজ্বি'আ ইলাইনা- মূসা-।
মূসা বলল, ‘হে হারূন! তুমি যখন দেখলে যে, তারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে তখন তোমাকে কিসে বিরত রাখল’
মূসা বললো: ‘‘হে হারূণ! তাদেরকে বিপথগামী হতে দেখা সত্ত্বেও কিসে আপনাকে বিরত রাখলো
ক্ব-লা ইয়া-হা-রূনু মা-মানা'আকা ইয্ রয়াইতাহুম্ দ্বোয়াল্লু য় ।
যে তুমি আমার অনুসরণ করলে না? তাহলে তুমিও কি আমার আদেশ অমান্য করেছ’?
আমার অনুসরণ করা থেকে? তবে কি আপনি আমার আদেশ অমান্য করলেন?’’
আল্লা-তাত্তাবি'আন্ আফা'আছোয়াইতা আম্রী।
সে বলল, ‘হে আমার সহোদর! আমার দাড়িও ধরো না, মাথার চুলও ধরো না। আমি আশংকা করেছিলাম যে, তুমি বলবে, তুমি বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছ এবং আমার কথা রক্ষা করনি’।
হারূণ বললো: ‘হে আমার মায়ের পেটের ভাই! তুমি আমার দাড়ি এবং চুল ধরোনা। আমি আশংকা করেছিলাম, তুমি বলবে: তুমি বনি ইসরাঈলিদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছো এবং আমার কথা রক্ষা করোনি।’
ক্ব-লা ইয়াব্নায়ুম্মা লা-তা'খুয্ বিলিহ্ইয়াতী অলা-বিরাসী ইন্নী খাশীতু আন্ তাকুলা র্ফারাক্বতা বাইনা বানী য় ইস্রা-ঈলা অলাম্ র্তাক্বব্ ক্বওলী।
মূসা বলল, ‘হে সামেরী! তোমার কী অবস্থা’?
মূসা বললো: ‘সামেরি! তোমার ব্যাপারটা কী?’
ক্ব-লা ফামা-খাত্ববুকা ইয়া-সা মিরীয়্যু ।
সে বলল, ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা ওরা দেখেনি। তারপর আমি দূতের (জিবরীলের) পায়ের চিহ্ন থেকে এক মুষ্টি মাটি নিয়েছিলাম। অতঃপর তা নিক্ষেপ করেছিলাম। আর আমার মন আমার জন্য এরূপ করাটা শোভন করেছিল’।
সে বললো: ‘আমি এমন কিছু দেখেছি যা তারা দেখেনি। তখন আমি সেই রসূলের (জিবরিলের) পদচিহ্ন থেকে এক মুষ্টি (ধূলো) নিয়েছিলাম এবং তা নিক্ষেপ করেছিলাম, এ কাজটির জন্যে আমার নফস আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’
ক্ব-লা বার্ছুতু বিমা-লাম্ ইয়াব্ছুরূ বিহী ফাক্ববাদ্ব্তু ক্বাদ্বোয়াতাম্ মিন্ আছার্রি রাসূলি ফানাবায্তুহা-অকাযা-লিকা সাওঅলাত্লী নাফ্সী।
মূসা বলল, ‘যাও, তোমার শাস্তি হল, জীবদ্দশায় তুমি বলতে থাকবে, ‘আমি অস্পৃশ্য’। আর তোমার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় রইল যার কখনো ব্যতিক্রম হবে না। আর তুমি তোমার ইলাহের প্রতি চেয়ে দেখ, যার পূজায় তুমি রত ছিলে, আমরা তা অবশ্যই জ্বালিয়ে দেব। তারপর বিক্ষিপ্ত করে তা সা
মূসা বললো: ‘‘যাও, তোমার জন্যে জীবদ্দশায় এই শাস্তি নির্ধারিত হলো যে, তুমি সব সময় বলতে থাকবে: ‘আমাকে স্পর্শ করোনা,’ তোমার জন্যে নির্ধারিত হলো একটি নির্দিষ্টকাল, তোমার বেলায় যার ব্যতিক্রম হবেনা। তোমার ইলাহ্টির (দেবতাটির) প্রতি তাকাও, তুমি যার পূজা করতে, আমরা অবশ্যি সেটিকে পুড়ে ফেলবো এবং বিক্ষিপ্ত করে সেটিকে নিক্ষেপ করবো সাগরে।
ক্ব-লা ফায্হাব্ ফাইন্না লাকা ফিল্ হাইয়াতি আন্ তাকুলা লা-মিসা-সা অইন্না লাকা মাও'ঈদাল্লান্ তুখ্লাফাহূ অর্ন্জু ইলা য় হিকাল্লাযী জোয়াল্তা 'আলাইহি 'আ-কিফা- লানুর্হারিক্বন্নাহূ ছুম্মা- লানান্সিফান্নাহূ ফিল্ ইয়াম্মি নাস্ফা-।
‘তোমাদের তো কেবল আল্লাহই। তিনি ছাড়া তোমাদের কোন নেই। সকল বিষয়েই তার জ্ঞান পরিব্যাপ্ত’।
নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ্ একমাত্র যিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ্ নেই। সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরিব্যাপ্ত।’’
ইন্নামা য় ইলাহুকুমুল্লা-হুল্লাযী লা য় ইলা- হা ইল্লা-হু অসি'আ কুল্লা শাইয়িন্ 'ইল্মা-।
পূর্বে যা ঘটে গেছে তার কিছু সংবাদ এভাবেই আমি তোমার কাছে বর্ণনা করি। আর আমি তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উপদেশ দান করেছি।
এভাবেই আমরা তোমাকে অতীত সংবাদের বিবরণ দিচ্ছি, আর এ উদ্দেশ্যে আমরা তোমাকে দিয়েছি একটি যিকির (কুরআন)।
কাযা-লিকা নাক্বছ্ছু 'আলাইকা মিন্ আম্বা-য়ি মা-ক্বদ্ সাবাক্ব অক্বদ্ আ-তাইনা- কামিল্লাদুন্না-যিক্র- ।
তা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।
যে এ গ্রন্থ থেকে মুখ ফেরাবে, সে কিয়ামতের দিন বহন করবে এক বিশাল বোঝা।
মান্ আ'রদ্বোয়া 'আন্হু ফাইন্নাহূ ইয়াহ্মিলূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি ওয়িযর-।
সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং কিয়ামতের দিন এটা তাদের জন্য বোঝা হিসেবে কতই না মন্দ হবে!
চিরদিন তারা তাতেই থাকবে, কিয়ামতকালের এই বোঝা তাদের জন্যে হবে কতো যে নিকৃষ্ট বোঝা!
খ-লিদীনা ফীহ্ অ সা-য়া লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি হিম্লা-।
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, আর সেদিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করব।
যেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং যেদিন আমরা অপরাধীদের দৃষ্টিহীন করে হাশর করবো,
ইয়াওমা ইয়ুন্ফাখু ফিছ্ ছুরি অনাহ্শুরুল্ মুজ্বরিমীনা ইয়াওমায়িযিন্ র্যুক্বা-।
সেদিন তারা চুপে চুপে নিজদের মধ্যে বলাবলি করবে, ‘তোমরা মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে’।
সেদিন তারা নিজেরা নিজেরা চুপিসারে বলাবলি করবে: ‘তোমরা তো (পৃথিবীতে) মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।’
ইয়াতাখ-ফাতূনা বাইনাহুম্ ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা-'আশর-।
আমি ভালভাবেই জানি তারা কী বলবে, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত সৎপথে ছিল যে লোকটি সে বলবে, ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে’!
সেদিন তারা কী বলবে সেটা আমরা অধিক জানি, সেদিন তাদের সর্বাধিক উন্নত বুদ্ধির অধিকারী ব্যক্তি বলবে: ‘তোমরা মাত্র একদিন অবস্থান করেছিলে।’
নাহ্নু 'আলামু বিমা- ইয়াকুলূনা ইয্ ইয়াকুলু আম্ছালুহুম্ ত্বোয়ারীক্বতান্ ইল্লাবিছ্তুম্ ইল্লা- ইয়াওমা-।
আর তারা তোমাকে পাহাড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, ‘আমার রব এগুলোকে সমূলে উৎপাটন করে বিক্ষিপ্ত করে দিবেন’।
তারা তোমার কাছে পর্বতমালা সম্পর্কে জানতে চাইছে। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু সেগুলোকে সমূলে উঠিয়ে বিক্ষিপ্ত করে দেবেন।’
অইয়াস্য়ালূ নাকা 'আনিল্ জ্বিবা-লি ফাক্বল্ ইয়ান্সিফুহা- রব্বী নাস্ফা-।
‘তারপর তিনি তাকে মসৃণ সমতলভূমি করে দিবেন’।
তারপর তিনি সেগুলোকে পরিণত করবেন মসৃণ সমতল মাঠে।
ফাইয়াযারুহা-ক্ব-'আন্ ছোয়াফ্ছোয়াফা-।
‘তাতে তুমি কোন বক্রতা ও উচ্চতা দেখবে না’।
তাতে তুমি কোনো প্রকার বক্রতা কিংবা উঁচু (নিচু) দেখবেনা।
লা- তারা-ফীহা 'ই অজ্বাঁও অলা য় আম্তা-।
সেদিন তারা আহবানকারীর (ফেরেশতার) অনুসরণ করবে। এর কোন এদিক সেদিক হবে না এবং পরম করুণাময়ের সামনে সকল আওয়াজ নিচু হয়ে যাবে। তাই মৃদু আওয়াজ ছাড়া তুমি কিছুই শুনতে পাবে না।
সেদিন তারা ঘোষণাকারীকে অনুসরণ করবে (ঘোষণাকারীর দিকে দৌড়াবে), কোনো প্রকার এদিক সেদিক করতে পারবেনা। রহমানের সামনে সমস্ত আওয়ায স্তব্ধ হয়ে যাবে। ফলে মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি আর কিছুই শুনতে পাবেনা।
ইয়াওমায়িযিঁই ইয়াত্তাবি'ঊনাদ্দা'ইয়া লা-'ইওয়াজ্বা লাহূ অখশা'আতিল্ আছ্ওয়া-তু র্লিরহ্মা- নি ফালা- তাস্মা'উ ইল্লা- হাম্সা-।
সেদিন পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দিবেন আর যার কথায় তিনি সন্তুষ্ট হবেন তার সুপারিশ ছাড়া কারো সুপারিশ কোন কাজে আসবে না।
সেদিন শাফায়াতে কোনো কাজ হবেনা, তবে রহমান যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা শুনতে রাজি হবেন তার বিষয়টি আলাদা।
ইয়াওমায়িযিল্লা- তান্ফা'উশ্ শাফা-'আতু ইল্লা-মান্ আযিনা লার্হু রহ্মা-নু অ রদ্বিয়া লাহূ ক্বওলা।
তিনি তাদের আগের ও পরের সব কিছুই জানেন, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে বেষ্টন করতে পারবে না।
তাদের সামনে পিছে যা কিছু আছে সবই তাঁর এলেমে আছে, কিন্তু তাদের এলেম তাঁকে আয়ত্ত করতে পারেনা।
ইয়া'লামু মা-বাইনা আইদীহিম্ অমা-খল্ফাহুম্ অলা-ইয়ুহীত্ব ূনা বিহী 'ইল্মা-।
আর চিরঞ্জীব, চিরপ্রতিষ্ঠিত সত্তার সামনে সকলেই অবনত হবে। আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হবে যে যুলম বহন করবে।
সেদিন চিরঞ্জীব, সর্ববস্ত্তর ধারকের উদ্দেশ্যে সবাই হবে নতশির। সেদিন ব্যর্থ হবে সে, যে বইয়ে আনবে যুলুম।
অ 'আনাতিল্ উজুহু লিল্হাইয়্যিল্ ক্বাইয়্যূম্ অক্বদ্ খ-বা মান্ হামালা জুল্মা-।
এবং যে অবস্থায় ভাল কাজ করবে সে কোন যুলম বা ক্ষতির আশংকা করবে না।
অবস্থায় যে কেউ আমলে সালেহ্ করবে, তার কোনোই আশংকা থাকবেনা অন্যায় বিচার কিংবা কোনো প্রকার ক্ষতির।
অমাইঁ ইয়া'মাল্ মিনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি অহুঅ মু'মিনুন্ ফালা-ইয়াখ-ফু জুল্মাঁও অলা- হাদ্ব্মা-।
আর এভাবেই আমি আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি এবং তাতে বিভিন্ন সতর্কবাণী বর্ণনা করেছি, যাতে তারা হতে পারে অথবা তা হয় তাদের জন্য উপদেশ।
এভাবেই, আমরা এটিকে নাযিল করেছি একটি আরবি কুরআন হিসেবে এবং বিভিন্নভাবে তাতে বর্ণনা করেছি সতর্ক বার্তা, যাতে করে তারা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করে অথবা এটি যেনো হয় তাদের জন্যে একটি উপদেশ।
অকাযা-লিকা আন্যাল্না-হু ক্বর্আ-নান্ 'আরবিয়্যাঁও অছোর্য়া রফ্না-ফীহি মিনাল্ অ'ঈদি লাআল্লাহুম্ ইয়াত্তাকুনা আও ইয়ুহ্দিছু লাহুম্ যিক্র-।
সুতরাং মহান যিনি সত্যিকার অধিপতি; তোমার প্রতি ওহী সম্পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তুমি কুরআন পাঠে তাড়াহুড়া করো না এবং তুমি বল, ‘হে আমার রব, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।’
অতীব মহান, প্রকৃত সম্রাট তিনিই। তোমার প্রতি অহি সম্পূর্ণ হবার আগেই তুমি তাড়াহুড়া করে কুরআন পাঠ করোনা। তুমি বলো: ‘আমার প্রভু! আমাকে সমৃদ্ধ করো জ্ঞানে।’
ফাতা 'আলাল্লা-হুল্ মালিকুল্ হাক্বক্বঅলা-তা'জ্বাল্ বিল্ক্বর্আ-নি মিন্ ক্বব্লি আইঁ ইয়ুক্বদ্বোয়া য় ইলাইকা অহ্ইয়ুহূ অক্বর্ রব্বি যিদ্নী 'ইল্মা-।
আর আমি ইতিপূর্বে আদমের প্রতি নির্দেশ দিয়েছিলাম; কিন্তু সে তা ভুলে গিয়েছিল এবং আমি তার মধ্যে সংকল্পে দৃঢ়তা পাইনি।
ইতোপূর্বে আমরা আদমকে একটি নির্দেশ দিয়েছিলাম, কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমরা তাকে পাইনি মজবুত সংকল্পের অধিকারী।
অ লাক্বদ্ 'আহিদ্না য় ইলা য় আ-দামা মিন্ ক্বব্লু ফানাসিয়া অলাম্ নাজ্বিদ্ লাহূ 'আয্মা-।
আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর,’ তখন ইবলীস ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অমান্য করল।
আমরা যখন ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা সাজদা করো আদমকে, তখন তারা সাজদা করলো, কিন্তু করেনি শুধু ইবলিস। সে অস্বীকার করলো (সাজদা করতে)।
অ ইয্ক্বল্না-লিল্ মালা-য়িকাতিস্ জ্বদূ লি আ-দামা ফাসাজ্বাদূ য় ইল্লা য় ইব্লীস্ আবা-।
অতঃপর আমি বললাম, ‘হে আদম, নিশ্চয় এ তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। সুতরাং সে যেন তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে কিছুতেই বের করে না দেয়, তাহলে তোমরা দুর্ভোগ পোহাবে’।
তখন আমরা বলেছিলাম, হে আদম! নিশ্চয়ই এ (ইবলিস) তোমার এবং তোমার স্ত্রীর শত্রু। সে যেনো তোমাদের জান্নাত থেকে বের করে না দেয়। দিলে তোমরা পড়বে দুর্ভোগে।
ফাক্বল্না-ইয়া য় আ-দামু ইন্না হা-যা- 'আদুওয়ুল্লাকা অলিযাওজ্বিকা ফালা-ইয়ুখ্রিজ্বান্নাকুমা-মিনাল্ জ্বান্নাতি ফাতাশ্ক্ব-।
‘নিশ্চয় তোমার জন্য এ ব্যবস্থা যে, তুমি সেখানে ক্ষুধার্তও হবে না এবং বস্ত্রহীনও হবে না’।
তোমার জন্যে নিয়ম করে দেয়া হলো, তুমি জান্নাতে ক্ষুধার্তও হবেনা বিবস্ত্রও হবেনা।
ইন্না লাকা আল্লা-তাজু 'আ ফীহা-অলা-তা'রা-।
‘আর সেখানে তুমি পিপাসার্তও হবে না এবং রৌদ্রদগ্ধও হবে না’।
তুমি সেখানে পিপাসার্তও হবেনা, রোদেও পুড়বেনা।
অ আন্নাকা লা-তাজ্মায়ূ ফীহা- অলা-তাদ্ব্হা-।
অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল, বলল, ‘হে আদম, আমি কি তোমাকে বলে দিব অনন্ত জীবনপ্রদ গাছ এবং অক্ষয় রাজত্ব সম্পর্কে?’
তখন শয়তান তাকে অস্অসা দিলো। সে বললো: ‘হে আদম! আমি কি আপনাকে সংবাদ দেবো এক অমর গাছের এবং এক অক্ষয় সাম্রাজ্যের?’
ফা অস্অসা ইলাইহিশ্ শাইতোয়া-নু ক্ব-লা ইয়া য় আ-দামু হাল্ আদুল্লুকা 'আলা-শাজ্বারতিল্ খুল্দি অমুল্কিল্ লা-ইয়াব্লা-।
অতঃপর তারা উভয়েই সে গাছ থেকে খেল। তখন তাদের উভয়ের সতর তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজদেরকে আবৃত করতে লাগল এবং আদম তার রবের হুকুম অমান্য করল; ফলে সে বিভ্রান্ত হল।
ফলে তারা দুজনে সেই গাছের ফল খেলো। তখন তাদের লজ্জাস্থান পরস্পরের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং তারা জান্নাতের পত্রপল্লব দিয়ে নিজেদের আবৃত করতে থাকলো। এভাবে আদম তার প্রভুর আদেশ অমান্য করলো এবং বিপথগামী হলো।
ফা আকালা-মিন্হা-ফাবাদাত্ লাহুমা-সাত-তুহুমা-অত্বোয়াফিক্ব-ইয়াখ্ছিফা-নি 'আলাইহিমা-মিওঁ অরক্বিল্ জ্বান্না-তি অ'আছোয়া য় আ-দামু রব্বাহূ ফাগওয়া-।
এরপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবূল করলেন এবং তাকে পথনির্দেশ করলেন।
তারপর তার প্রভু তাকে মনোনীত করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং তাকে প্রদান করেন সঠিক জীবন পদ্ধতি।
ছুম্মাজ্বতাবা-হু রব্বুহূ ফাতা-বা 'আলাইহি অহাদা-।
তিনি বললেন, ‘তোমরা উভয়েই জান্নাত হতে এক সাথে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। অতঃপর যখন তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে হিদায়াত আসবে, তখন যে আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে সে বিপথগামী হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না’।
তিনি তাদের বললেন: ‘‘তোমরা উভয়ে (আদম ও শয়তান) এক সাথে এখান থেকে নেমে যাও। তোমরা একে অপরের শত্রু। আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হুদা (জীবন পদ্ধতি এবং নবী ও কিতাব) আসবে, তখন যে আমার হুদার অনুসরণ করবে, সে বিপথগামীও হবেনা, দুর্ভাগাও হবেনা।
ক্ব-লাহ্ বিত্বোয়া-মিন্হা-জামী'আম্ বা'দ্বকুম্ লিবা'দ্বিন্ 'আদুওয়্যুন্ ফাইম্মা-ইয়াতিয়ান্নাকুম্ মিন্নী হুদান্ ফামানি ত্তাবা'আ হুদা-ইয়া ফালা-ইয়াদিল্ল অলা-ইয়াশ্ক্ব-।
‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে নিশ্চয় এক সংকুচিত জীবন এবং আমি তাকে কিয়ামত দিবসে উঠাবো অন্ধ অবস্থায়।
কিন্তু যে আমার যিকির (কিতাব) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে তার জীবন যাপন পদ্ধতি হয়ে পড়বে সংকুচিত আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে হাশর করবো অন্ধ করে।’’
অমান্ 'আরদ্বোয়া আন্ যিক্রী ফাইন্না লাহূ মা'ঈশাতান্ দ্বোয়ান্কঁও অনাহ্শুরুহূ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি আমা-।
সে বলবে, ‘হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন’?
তখন সে বলবে: ‘প্রভু! আমাকে অন্ধ করে কেন হাশর করেছো, আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তির অধিকারী?’
ক্ব-লা রব্বি লিমা হার্শাতানী য় আ'মা- অক্বদ্ কুন্তু বাছীরা-।
তিনি বলবেন, ‘এমনিভাবেই তোমার নিকট আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে এবং সেভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হল’।
তিনি বলবেন: ‘এভাবেই, তোমার কাছে এসেছিল আমাদের আয়াত, কিন্তু তুমি তা ভুলে থেকেছিলে, একইভাবে তুমিও বিস্মৃত হলে।’
ক্ব-লা কাযা-লিকা আতাত্কা আ-ইয়া-তুনা ফানাসী তাহা- অ কাযা-লিকাল্ ইয়াওমা তুন্সা-।
আর এভাবেই আমি প্রতিফল দান করি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের নিদর্শনাবলীতে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যই কঠোরতর ও অধিকতর স্থায়ী।
আমরা তাদেরকে এরকমই প্রতিফল দিয়ে থাকি যারা সীমালঙ্ঘন করে এবং তাদের প্রভুর আয়াতের প্রতি ঈমান আনেনা। আর আখিরাতের আযাব তো অবশ্যি আরো অধিক কঠোর এবং স্থায়ী।
অ কাযা-লিকা নাজ্বযী মান্ আস্রফা অলাম ইয়ুমিম্ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহ্ অলা'আযা-বুল্ আ-খিরতি আশাদ্দু অআব্ক্ব-
এটি কি তাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না যে, আমি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে? নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন।
এ বিষয়টিও কি তাদেরকে হিদায়াতের পথে আনতে পারলোনা যে, তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, তারাও তাদের বাসস্থানে চলাফেরা করতো। নিশ্চয়ই এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে তাদের জন্যে যারা বুদ্ধি বিবেকওয়ালা লোক।
আফালাম্ ইয়াহ্দি লাহুম্ কাম্ আহ্লাক্না-ক্বব্লাহুম্ মিনাল্ ক্বরূনি ইয়াম্শূনা ফী মাসা-কিনিহিম্ ইন্না ফী যা-লিকা লা-আ-ইয়া-তিল্লি উলিন্ নুহা-।
আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত ও একটি কাল নির্ধারিত হয়ে না থাকত, তবে আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হত।
তোমার প্রভুর পূর্ব বাণী এবং সময় নির্দিষ্ট করা না থাকলে তাদেরকে দ্রুত শাস্তি দেয়া আবশ্যক হয়ে যেতো।
অলাও লা-কালিমাতুন্ সাবাক্বত্ র্মি রব্বিকা লাকা-না লিযা-মাঁও অ আজ্বালুম্ মুসাম্মা।
সুতরাং এরা যা বলে তার উপর ধৈর্য ধারণ কর এবং তাসবীহ পাঠ কর তোমার রবের প্রশংসা বর্ণনার মাধ্যমে, সূর্যোদয়ের পূর্বে, সূর্যাস্তের পূর্বে এবং তাসবীহ পাঠ কর রাতের কিছু অংশে ও দিনের প্রান্তসমূহে, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার।
সুতরাং তারা যা বলে, সে সম্পর্কে তুমি সবর অবলম্বন করো এবং তোমার প্রভুর হামদসহ তসবিহ করো সূর্যোদয়ের আগে আর সূর্যাস্তের আগে। এছাড়া রাত্রিকালে তাঁর তসবিহ করো আর দিনের দুইপ্রান্তে। আশা করা যায় এর ফলে (তুমি তোমার প্রভুর অনুগ্রহ লাভ করবে) এবং হয়ে যাবে সন্তুষ্ট।
ফার্ছ্বি 'আলা-মা-ইয়াকুলূনা অসাব্বিহ্ বিহাম্দি রব্বিকা ক্বব্লা ত্বলূইশ্ শাম্সি অক্বব্লা গুরূবিহা-অমিন্ আ-না-য়ি ল্লাইলি ফাসাব্বিহ্ অআত্বর-ফান্ নাহা-রি লা'আল্লাকা র্তাদ্বোয়া-।
আর তুমি কখনো প্রসারিত করো না তোমার দু’চোখ সে সবের প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণীকে দুনিয়ার জীবনের জাঁক-জমকস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি। যাতে আমি সে বিষয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করে নিতে পারি। আর তোমার রবের প্রদত্ত রিয্ক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী।
আমরা তাদের বিভিন্ন শ্রেণীর লোককে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য ও ভোগবিলাসের জন্যে যেসব সামগ্রী দিয়েছি তাদের পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে, তুমি সেদিকে চোখ তুলেও তাকিয়োনা। তোমার প্রভুর দেয়া রিযিকই উত্তম এবং স্থায়ী।
অলা-তামুদ্দান্না 'আইনাইকা ইলা-মা-মাত্তা'না-বিহী য় আয্ওয়া-জ্বাম্ মিন্হুম্ যাহ্রতাল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া- লিনাফ্তিনাহুম্ ফীহ্ অ রিয্ক্ব রব্বিকা খইরুঁও অআব্ক্ব-।
আর তোমার পরিবার-পরিজনকে আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক। আমি তোমার কাছে কোন রিয্ক চাই না। আমিই তোমাকে রিয্ক দেই আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।
তোমার পরিবারবর্গকে সালাতের নির্দেশ দাও এবং তার উপর অবিচল থাকো, আমরা তোমার কাছে রিযিক চাইনা। আমরাই তোমাকে রিযিক দেই। পরিণামের শুভ ফল তো তাকওয়াবানদের জন্যেই।
অর্মু আহ্লাকা বিছ ছ্লা-তি অছ্ত্বোয়ার্বি 'আলাইহা- লা-নাস্য়ালুকা রিয্ক্ব- নাহ্নু র্নাযুক্বক্ব অল্ 'আ-ক্বিবাতু লিত্তাক্ব্ওয়া-।
আর তারা বলে, ‘সে তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন’? পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে তা কি তাদের কাছে আসেনি?
তারা বলে: ‘সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন নিয়ে আসেনা কেন?’ তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি, যা রয়েছে আগেকার কিতাবসমূহে?
অক্ব-লূ লাওলা ইয়াতীনা-বিআ-ইয়াতিম্ র্মি রব্বিহ্ আওয়ালাম্ তাতিহিম্ বাইয়্যিনাতু মা-ফিছ্ ছুহুফিল্ ঊলা-।
আর যদি আমি তাদেরকে ইতঃপূর্বে কোন আযাব দ্বারা ধ্বংস করতাম তবে অবশ্যই, তারা বলত, ‘হে আমাদের রব, আপনি আমাদের কাছে কোন রাসূল পাঠালেন না কেন? তাহলে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হওয়ার পূর্বে আপনার নিদর্শনাবলী অনুসরণ করতাম’।
আমরা যদি (তাকে পাঠাবার) পূর্বেই তাদেরকে আযাব দিয়ে হালাক করে দিতাম, তবে অবশ্যি তারা বলতো: ‘আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের কাছে একজন রসূল পাঠালে না কেন? পাঠালে তো আমরা লাঞ্ছিত ও অপমাণিত হবার আগেই তোমার আয়াতের অনুসরণ করতাম।’
অলাও আন্না য় আহ্লাক্না-হুম বি 'আযা-বিম্ মিন্ ক্বব্লিহী লাক্ব-লূ রব্বানা-লাওলা য় র্আসাল্তা ইলাইনা-রসূলান্ ফানাত্তাবি'আ আ-ইয়া-তিকা মিন্ ক্বব্লি আন্ নাযিল্লা অনাখ্যা-।
বল, ‘প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করছে, অতএব তোমরাও প্রতীক্ষায় থাক। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে কারা সঠিক পথের উপর রয়েছে এবং কারা হিদায়াতপ্রাপ্ত’।
হে নবী! বলো: প্রত্যেকেই প্রতীক্ষায় আছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা করো। তারপরই তোমরা জানতে পারবে কারা সরল সঠিক পথে আছে আর কারা প্রতিষ্ঠিত হিদায়াতের উপর?
ক্বল্ কুল্লম্ মুতারব্বিছুন্ ফাতারব্বাছূ ফাসাতা'লামূনা মান্ আছ্হা-বুছ্ ছির-ত্বিস্ সাওয়্যি অমানিহ্ তাদা-।