কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।
কিয়ামত করিব (নিকটবর্তী) হয়েছে এবং দ্বিখন্ডিত হয়েছে চাঁদ।
কিয়ামত নিকটবর্তী হইয়াছে, আর চন্দ্র বিদীর্ণ হইয়াছে,
ٱقْتَرَبَتِ ٱلسَّاعَةُ وَٱنشَقَّ ٱلْقَمَرُ
Chapter 54, 55 verses
কিয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।
কিয়ামত করিব (নিকটবর্তী) হয়েছে এবং দ্বিখন্ডিত হয়েছে চাঁদ।
কিয়ামত নিকটবর্তী হইয়াছে, আর চন্দ্র বিদীর্ণ হইয়াছে,
ٱقْتَرَبَتِ ٱلسَّاعَةُ وَٱنشَقَّ ٱلْقَمَرُ
আর তারা কোন নিদর্শন দেখলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, ‘চলমান যাদু’।
তারা যখন কোনো নিদর্শন দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে: ‘এতো আগে থেকে চলে আসা ম্যাজিক।’
উহারা কোন নিদর্শন দেখিলে মুখ ফিরাইয়া নেয় এবং বলে, ‘ইহা তো চিরাচরিত জাদু।’
وَإِن يَرَوْا۟ ءَايَةً يُعْرِضُوا۟ وَيَقُولُوا۟ سِحْرٌ مُّسْتَمِرٌّ
আর তারা অস্বীকার করে এবং নিজ নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। অথচ প্রতিটি বিষয় (শেষ সীমায়) স্থির হবে।
তারা প্রত্যাখ্যান করে সত্যকে এবং অনুগামী হয় খেয়াল খুশির। প্রতিটি বিষয় অবশ্যি লক্ষ্যে পৌঁছুবে।
উহারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং নিজ খেয়াল - খুশির অনুসরণ করে, আর প্রত্যেক ব্যাপারই লক্ষ্যে পৌঁছিবে।
وَكَذَّبُوا۟ وَٱتَّبَعُوٓا۟ أَهْوَآءَهُمْ وَكُلُّ أَمْرٍ مُّسْتَقِرٌّ
আর তাদের কাছে তো সংবাদসমূহ এসেছে, যাতে রয়েছে উপদেশবাণী,
তাদের কাছে এসেছে এক মহাসংবাদ যাতে রয়েছে সতর্কবাণী।
উহাদের নিকট আসিয়াছে সুসংবাদ, যাহাতে আছে সাবধান বাণী;
وَلَقَدْ جَآءَهُم مِّنَ ٱلْأَنۢبَآءِ مَا فِيهِ مُزْدَجَرٌ
পরিপূর্ণ হিকমাত। তবে সতর্কবাণী তাদের কোন উপকারে আসেনি।
এ এক পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান (আল কুরআন)। তবে (আহবানকারীদের) সতর্কবাণী তাদের কোনো উপকারে আসেনি।
ইহা পরিপূর্ণ জ্ঞান, তবে এই সতর্কবাণী উহাদের কোন উপকারে আসে নাই।
حِكْمَةٌۢ بَٰلِغَةٌ فَمَا تُغْنِ ٱلنُّذُرُ
অতএব তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, সেদিন আহবানকারী আহবান করবে এক বিভীষিকাময় বিষয়ের দিকে,
সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো। যেদিন আহবানকারী আহবান করবে এক অপছন্দনীয় জিনিসের দিকে।
অতএব তুমি উহাদের উপেক্ষা কর। যেদিন আহবানকারী আহ্বান করিবে এক ভয়াবহ পরিণামের দিকে,
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ يَوْمَ يَدْعُ ٱلدَّاعِ إِلَىٰ شَىْءٍ نُّكُرٍ
তারা তাদের দৃষ্টি অবনত অবস্থায় কবর থেকে বের হয়ে আসবে। মনে হবে যেন তারা বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল।
অপমানে চোখ নিচু করে তারা সেদিন কবর থেকে বের হয়ে আসবে বিক্ষিপ্ত ফড়িং - এর মতো।
অপমানে অবনমিত নেত্রে সেদিন উহারা কবর হইতে বাহির হইবে বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের ন্যায়,
خُشَّعًا أَبْصَٰرُهُمْ يَخْرُجُونَ مِنَ ٱلْأَجْدَاثِ كَأَنَّهُمْ جَرَادٌ مُّنتَشِرٌ
তারা আহবানকারীর দিকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে, ‘এটি বড়ই কঠিন দিন’।
তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আহবানকারীর দিকে ছুটে আসবে। কাফিররা বলবে: ‘আজ এক ভয়াবহ কঠিন দিন।’
উহারা আহ্বানকারীর দিকে ছুটিয়া আসিবে ভীত - বিহ্বল হইয়া। কাফিররা বলিবে, ‘কঠিন এই দিন।’
مُّهْطِعِينَ إِلَى ٱلدَّاعِ يَقُولُ ٱلْكَٰفِرُونَ هَٰذَا يَوْمٌ عَسِرٌ
তাদের পূর্বে নূহের কওমও অস্বীকার করেছিল। তারা আমার বান্দাকে অস্বীকার করেছিল এবং বলেছিল, ‘পাগল’। আর তাকে হুমকি দেয়া হয়েছিল।
তাদের আগে নূহের জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল (তাদের রসূলকে), তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল আমাদের দাসকে এবং বলেছিল: ‘এ এক তিরস্কৃত ও ধমক খাওয়া পাগল।’
ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়ও অস্বীকার করিয়াছিল - অস্বীকার করিয়াছিল আমার বান্দাকে আর বলিয়াছিল, ‘এ তো এক পাগল।’ আর তাহাকে ভীতি প্রদর্শন করা হইয়াছিল।
كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ فَكَذَّبُوا۟ عَبْدَنَا وَقَالُوا۟ مَجْنُونٌ وَٱزْدُجِرَ
অতঃপর সে তার রবকে আহবান করল যে, ‘নিশ্চয় আমি পরাজিত, অতএব তুমিই প্রতিশোধ গ্রহণ কর’।
তখন সে তার প্রভুর কাছে দোয়া করে বলেছিল: ‘আমি পরাস্ত হয়েছি, আমাকে সাহায্য করো।’
তখন সে তাহার প্রতিপালককে আহ্বান করিয়া বলিয়াছিল, ‘আমি তো অসহায়, অতএব তুমি প্রতিবিধান কর।’
فَدَعَا رَبَّهُۥٓ أَنِّى مَغْلُوبٌ فَٱنتَصِرْ
ফলে আমি বর্ষণশীল বারিধারার মাধ্যমে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দিলাম।
ফলে আমরা প্রবল পানি বর্ষণের জন্যে খুলে দিয়েছিলাম আসমানের দুয়ার।
ফলে আমি উন্মুক্ত করিয়া দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারি বর্ষণে,
فَفَتَحْنَآ أَبْوَٰبَ ٱلسَّمَآءِ بِمَآءٍ مُّنْهَمِرٍ
আর ভূমিতে আমি ঝর্না উৎসারিত করলাম। ফলে সকল পানি মিলিত হল নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসারে।
এবং জমিন থেকে উৎসারিত করে দিয়েছিলাম বিপুল প্রস্রবন। তারপর সব পানি মিলে গেলো এক নির্দিষ্ট পরিকল্পনা মাফিক।
এবং মৃত্তিকা হইতে উৎসারিত করিলাম প্রস্রবণ; অতঃপর সকল পানি মিলিত হইল এক পরিকল্পনা অনুসারে।
وَفَجَّرْنَا ٱلْأَرْضَ عُيُونًا فَٱلْتَقَى ٱلْمَآءُ عَلَىٰٓ أَمْرٍ قَدْ قُدِرَ
আর আমি তাকে (নূহকে) কাঠ ও পেরেক নির্মিত নৌযানে আরোহণ করালাম।
তখন আমরা নূহকে আরোহণ করিয়ে নিয়েছিলাম পাত ও পেরেক দিয়ে তৈরি করা নৌযানে।
তখন নূহকে আরোহণ করাইলাম কাষ্ঠ ও কীলক নির্মিত এক নৌযানে,
وَحَمَلْنَٰهُ عَلَىٰ ذَاتِ أَلْوَٰحٍ وَدُسُرٍ
যা আমার চাক্ষুস তত্ত্বাবধানে চলত, তার জন্য পুরস্কারস্বরূপ, যাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
সেটি চলছিল আমাদের তত্ত্বাবধানে, যারা কুফুরি করেছিল, তাদের প্রতিফল দেয়ার জন্যে।
যাহা চলিত আমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে; ইহা পুরস্কার তাহার জন্য, যে প্রত্যাখ্যাত হইয়াছিল।
تَجْرِى بِأَعْيُنِنَا جَزَآءً لِّمَن كَانَ كُفِرَ
আর আমি তাকে নিদর্শন হিসেবে রেখেছি। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা সেটাকে রেখে দিয়েছি একটি নিদর্শন হিসেবে। উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?
আমি তো ইহাকে রাখিয়া দিয়াছি এক নিদর্শনরূপে; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَد تَّرَكْنَٰهَآ ءَايَةً فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
অতএব আমার আযাব ও ভয় প্রদর্শন কেমন ছিল?
এবার ভেবে দেখো, কী যে কঠোর ছিলো আমার আযাব এবং সতর্কবাণী!
কী কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী!
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ
আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা কুরআনকে বুঝার ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
কুরআন আমি সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
‘আদ জাতি অস্বীকার করেছিল, অতএব আমার আযাব ও ভয় প্রদর্শন কিরূপ হয়েছিল?
আদ জাতিও (রসূলকে) প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর ফলে কেমন ছিলো আমার আযাব আর সতর্কবাণী?
‘আদ সম্প্রদায় সত্য অস্বীকার করিয়াছিল, ফলে কিরূপ ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী!
كَذَّبَتْ عَادٌ فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ
নিশ্চয় আমি তাদের ওপর পাঠিয়েছিলাম প্রচন্ড শীতল ঝড়ো হাওয়া, অব্যাহত এক অমঙ্গল দিনে।
আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম ঝড়ো বায়ু এক বিরামহীন দুর্ভাগ্যের দিনে,
উহাদের উপর আমি প্রেরণ করিয়াছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে,
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا صَرْصَرًا فِى يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ
তা মানুষকে উৎখাত করেছিল। যেন তারা উৎপাটিত খেজুরগাছের কান্ড।
সে ঝড় মানুষকে উৎখাত করে রেখে দিয়েছিল সমূলে উৎপাটিত খেজুর গাছের কান্ডের মতো।
মানুষকে উহা উৎখাত করিয়াছিল উন্মুলিত খর্জুর - কাণ্ডের ন্যায়।
تَنزِعُ ٱلنَّاسَ كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُّنقَعِرٍ
অতএব আমার আযাব ও ভয় প্রদর্শন কিরূপ হয়েছিল?
ফলে কেমন ছিলো আমার আযাব আর সতর্কবাণী?
কী কঠোর আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী!
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ
আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা কুরআনকে বুঝা ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করে দিয়েছি, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
কুরআন আমি সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
সামূদ জাতিও সতর্ককারীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
সামুদ জাতিও সতর্কবাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল।
সামূদ সম্প্রদায় সতর্ককারীদেরকে অস্বীকার করিয়াছিল,
كَذَّبَتْ ثَمُودُ بِٱلنُّذُرِ
অতঃপর তারা বলেছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই মধ্য থেকে এক ব্যক্তির অনুসরণ করব? তাহলে নিশ্চয় আমরা পথভ্রষ্টতা ও উম্মত্ততার মধ্যে পড়ব’।
তারা বলেছিল: ‘‘একজন মানুষকে? আমাদেরই এক ব্যক্তিকে আমরা অনুসরণ করবো? তাহলে তো আমরা পথভ্রষ্ট এবং উন্মাতাল হয়ে পড়বো।
তাহারা বলিয়াছিল, ‘আমরা কি আমাদেরই এক ব্যক্তির অনুসরণ করিব? তবে তো আমরা পথভ্রষ্টতায় এবং উন্মত্ততায় পতিত হইব।
فَقَالُوٓا۟ أَبَشَرًا مِّنَّا وَٰحِدًا نَّتَّبِعُهُۥٓ إِنَّآ إِذًا لَّفِى ضَلَٰلٍ وَسُعُرٍ
‘আমাদের মধ্য থেকে কি তার ওপরই উপদেশবাণী পাঠানো হয়েছে ? বরং সে চরম মিথ্যাবাদী অহঙ্কারী’।
আমাদের মধ্যে কি কেবল তার প্রতি যিকির (অহি) নাযিল হলো? বরং সে এক উদ্ধত মিথ্যাবাদী।’’
‘আমাদের মধ্যে কি উহারই প্রতি প্রত্যাদেশ হইয়াছে? না, সে তো একজন মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।’
أَءُلْقِىَ ٱلذِّكْرُ عَلَيْهِ مِنۢ بَيْنِنَا بَلْ هُوَ كَذَّابٌ أَشِرٌ
আগামী দিন তারা জানতে পারবে, কে চরম মিথ্যাবাদী, অহঙ্কারী।
কালই তারা জানতে পারবে কে উদ্ধত মিথ্যাবাদী?
আগামীকল্য উহারা জানিবে, কে মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।
سَيَعْلَمُونَ غَدًا مَّنِ ٱلْكَذَّابُ ٱلْأَشِرُ
নিশ্চয় আমি তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ উষ্ট্রী পাঠাচ্ছি। অতএব তুমি তাদের ব্যাপারে অপেক্ষা কর এবং ধৈর্যধারণ কর।
আমরা তাদের পরীক্ষার জন্যে পাঠালাম এই উটনী। সুতরাং তুমি এর ব্যাপারে তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করো এবং সবর করো।
আমি উহাদের পরীক্ষার জন্য পাঠাইয়াছি এক উষ্ট্রী, অতএব তুমি উহাদের আচরণ লক্ষ্য কর এবং ধৈর্যশীল হও।
إِنَّا مُرْسِلُوا۟ ٱلنَّاقَةِ فِتْنَةً لَّهُمْ فَٱرْتَقِبْهُمْ وَٱصْطَبِرْ
আর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন সুনির্দিষ্ট। প্রত্যেকেই (পালাক্রমে) পানির অংশে উপস্থিত হবে।
তাদের তুমি সংবাদ দাও, তাদের মধ্যে পানি বণ্টন নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। নিজ নিজ ভাগের পানির জন্যে প্রত্যেকে উপস্থিত হবে পালাক্রমে।
এবং উহাদেরকে জানাইয়া দাও যে, উহাদের মধ্যে পানি বণ্টন নির্ধারিত এবং পানির অংশের জন্য প্রত্যেকে উপস্থিত হইবে পালাক্রমে।
وَنَبِّئْهُمْ أَنَّ ٱلْمَآءَ قِسْمَةٌۢ بَيْنَهُمْ كُلُّ شِرْبٍ مُّحْتَضَرٌ
অতঃপর তারা তাদের সাথীকে ডেকে আনল। তখন সে উষ্ট্রীকে ধরল, তারপর হত্যা করল।
তারপর তারা তাদের এক সাথিকে ডাকলো, সে দায়িত্ব গ্রহণ করলো এবং ওটিকে হত্যা করে ফেললো।
অতঃপর উহারা উহাদের এক সঙ্গীকে আহ্বান করিল, সে উহাকে ধরিয়া হত্যা করিল।
فَنَادَوْا۟ صَاحِبَهُمْ فَتَعَاطَىٰ فَعَقَرَ
অতএব আমার আযাব ও ভয় প্রদর্শন কিরূপ হয়েছিল?
এবার দেখো, কী কঠোর ছিলো আমার আযাব এবং আমার সতর্কবাণী!
কিরূপ কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী।
فَكَيْفَ كَانَ عَذَابِى وَنُذُرِ
নিশ্চয় আমি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম এক বিকট আওয়াজ, ফলে তারা খোয়াড় প্রস্তুতকারীর খন্ডিত শুষ্ক খড়ের মত হয়ে গেল।
আমরা তাদের প্রতি পাঠিয়েছিলাম এক প্রচন্ড শব্দের আযাব, তাতেই তারা হয়ে পড়লো শুকনো মোড়ানো খড়ের কাঁদির মতো।
আমি উহাদেরকে আঘাত হানিয়াছিলাম এক মহানাদ দ্বারা; ফলে উহারা হইয়া গেল খোঁয়াড় প্রস্তুতকারীর বিখণ্ডিত শুষ্ক শাখা - প্রশাখার ন্যায়।
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ صَيْحَةً وَٰحِدَةً فَكَانُوا۟ كَهَشِيمِ ٱلْمُحْتَظِرِ
আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা কুরআনকে বুঝা ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করেছি, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
আমি কুরআন সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
লূতের কওম সতর্ককারীদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল।
লুতের কওমও সতর্কবাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল,
লূত সম্প্রদায় অস্বীকার করিয়াছিল সতর্ককারীদেরকে,
كَذَّبَتْ قَوْمُ لُوطٍۭ بِٱلنُّذُرِ
নিশ্চয় আমি তাদের উপর কংকর-ঝড় পাঠিয়েছিলাম, তবে লূত পরিবারের উপর নয়। আমি তাদেরকে শেষ রাতে নাজাত দিয়েছিলাম,
আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম পাথর বহনকারী প্রচন্ড ঝড়, তবে লুত পরিবারকে রক্ষা করেছিলাম। তাদের আমরা উদ্ধার করেছিলাম সেহেরীর সময় (শেষ রাত),
আমি উহাদের উপর প্রেরণ করিয়াছিলাম প্রস্তর বহনকারী প্রচণ্ড ঝটিকা, কিন্তু লূত পরিবারের উপর নয় ; তাহাদেরকে আমি উদ্ধার করিয়াছিলাম রাত্রির শেষাংশে
إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ حَاصِبًا إِلَّآ ءَالَ لُوطٍ نَّجَّيْنَٰهُم بِسَحَرٍ
আমার কাছ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ। এভাবেই আমি তাকে প্রতিদান দেই, যে কৃতজ্ঞ হয়।
আমাদের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে। যারা শোকর আদায় করে, আমরা এভাবেই তাদের পুরস্কৃত করি।
আমার বিশেষ অনুগ্রহস্বরূপ; যাহারা কৃতজ্ঞ, আমি এইভাবেই তাহাদেরকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি।
نِّعْمَةً مِّنْ عِندِنَا كَذَٰلِكَ نَجْزِى مَن شَكَرَ
আর লূত তো তাদেরকে আমার কঠিন পাকড়াও সম্পর্কে সাবধান করেছিল, তারপরও তারা সাবধান বাণী সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করেছিল।
সে (লুত) তাদের সতর্ক করে দিয়েছিল আমাদের কঠোর শাস্তি সম্পর্কে। কিন্তু তারা সতর্কবাণী নিয়ে সন্দেহ করে এবং হয় বিতর্কে লিপ্ত।
লূত উহাদেরকে সতর্ক করিয়াছিল আমার কঠোর শাস্তি সম্পর্কে; কিন্তু উহারা সতর্কবাণী সম্বন্ধে বিতণ্ডা শুরু করিল।
وَلَقَدْ أَنذَرَهُم بَطْشَتَنَا فَتَمَارَوْا۟ بِٱلنُّذُرِ
আর তারা তার কাছে তার মেহমানদেরকে (অসদুদ্দেশ্যে) দাবী করল। তখন আমি তাদের চোখগুলোকে অন্ধ করে দিলাম। (আর বললাম) আমার আযাব ও সাবধানবাণীর পরিণাম আস্বাদন কর।
তারা লুতের কাছে তার মেহমানদের দাবি করে অসৎ উদ্দেশ্যে। তখন আমরা তাদের দৃষ্টিশক্তি লোপ করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম: স্বাদ গ্রহণ করো আমার আযাবের এবং সতর্কবাণী (অমান্য করার) পরিণতির।
উহারা লূতের নিকট হইতে তাহার মেহমানদেরকে অসদুদ্দেশ্যে দাবি করিল, তখন আমি উহাদের দৃষ্টিশক্তি লোপ করিয়া দিলাম এবং আমি বলিলাম, ‘আস্বাদন কর আমার শাস্তি এবং সতর্ক - বাণীর পরিণাম।
وَلَقَدْ رَٰوَدُوهُ عَن ضَيْفِهِۦ فَطَمَسْنَآ أَعْيُنَهُمْ فَذُوقُوا۟ عَذَابِى وَنُذُرِ
আর সকাল বেলা তাদের উপর অবিরত আযাব নেমে আসল।
একেবারে বেন বেলায়ই তাদের আঘাত করে এক অপ্রতিরোধ্য আযাব।
প্রত্যূষে বিরামহীন শাস্তি তাহাদেরকে আঘাত করিল।
وَلَقَدْ صَبَّحَهُم بُكْرَةً عَذَابٌ مُّسْتَقِرٌّ
‘আর আমার আযাব ও সাবধানবাণীর পরিণাম আস্বাদন কর’।
‘স্বাদ গ্রহণ করো আমার আযাব আর সতর্ক বাণী (অমান্য করার) পরিণতির।’
এবং আমি বলিলাম, ‘আস্বাদন কর আমার শাস্তি এবং সতর্কবাণীর পরিণাম।’
فَذُوقُوا۟ عَذَابِى وَنُذُرِ
আর আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, উপদেশ গ্রহণের জন্য। অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা কুরআনকে বুঝা ও উপদেশ গ্রহণ করার জন্যে সহজ করেছি, অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেউ আছে কি?
আমি কুরআন সহজ করিয়া দিয়াছি উপদেশ গ্রহণের জন্য; অতএব উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا ٱلْقُرْءَانَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
ফির‘আউন গোষ্ঠীর কাছেও তো সাবধানবাণী এসেছিল।
ফেরাউন সম্প্রদায়ের কাছেও এসেছিল আমাদের সতর্কবাণী।
ফির‘আওন সম্প্রদায়ের নিকটও আসিয়াছিল সতর্ককারী;
وَلَقَدْ جَآءَ ءَالَ فِرْعَوْنَ ٱلنُّذُرُ
তারা আমার সকল নিদর্শনকে অস্বীকার করল, অতএব আমি মহাপরাক্রমশালী, সর্বশক্তিমানের মতই তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
তারা আমাদের সবগুলো নিদর্শনই প্রত্যাখ্যান করেছিল, তখন আমরা তাদের পাকড়াও করি পরাক্রমশালী শক্তিধরের পাকড়াও।
কিন্তু উহারা আমার সকল নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করিল, অতঃপর পরাক্রম - শালী ও সর্বশক্তিমানরূপে আমি উহাদেরকে সুকঠিন শাস্তি দিলাম।
كَذَّبُوا۟ بِـَٔايَٰتِنَا كُلِّهَا فَأَخَذْنَٰهُمْ أَخْذَ عَزِيزٍ مُّقْتَدِرٍ
তোমাদের (মক্কার) কাফিররা কি তাদের চেয়ে ভাল? না কি তোমাদের জন্য মুক্তির কোন ঘোষণা রয়েছে (আসমানী) কিতাবসমূহের মধ্যে?
তোমাদের কাফিররা কি তাদের চেয়ে উত্তম? নাকি পূর্ববর্তী কিতাবে তোমাদের অব্যাহতি লাভের কোনো সময় আছে?
তোমাদের মধ্যকার কাফিররা কি উহাদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ? না কি তোমাদের অব্যাহতির কোন সনদ রহিয়াছে পূর্ববর্তী কিতাবে?
أَكُفَّارُكُمْ خَيْرٌ مِّنْ أُو۟لَٰٓئِكُمْ أَمْ لَكُم بَرَآءَةٌ فِى ٱلزُّبُرِ
না কি তারা বলে, ‘আমরা সংঘবদ্ধ বিজয়ী দল’?
নাকি তারা বলে: ‘আমরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাজেয় দল?’
ইহারা কি বলে, ‘আমরা এক সঙ্ঘবদ্ধ অপরাজেয় দল?’
أَمْ يَقُولُونَ نَحْنُ جَمِيعٌ مُّنتَصِرٌ
সংঘবদ্ধ দলটি শীঘ্রই পরাজিত হবে এবং পিঠ দেখিয়ে পালাবে।
এই সংঘবদ্ধ দল তো শীঘ্রি পরাজিত হবে এবং পেছনে ফিরে পালাবে।
এই দল তো শীঘ্রই পরাজিত হইবে এবং পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে,
سَيُهْزَمُ ٱلْجَمْعُ وَيُوَلُّونَ ٱلدُّبُرَ
বরং কিয়ামত তাদের প্রতিশ্রুত সময়। আর কিয়ামত অতি ভয়ঙ্কর ও তিক্ততর।
তাদের আসল শাস্তির প্রতিশ্রুত সময় হলো কিয়ামত। কিয়ামত হবে অধিকতর কঠিন এবং অধিকতর তিক্ত।
অধিকন্তু কিয়ামত উহাদের শাস্তির নির্ধারিত কাল এবং কিয়ামত হইবে কঠিনতর ও তিক্ততর;
بَلِ ٱلسَّاعَةُ مَوْعِدُهُمْ وَٱلسَّاعَةُ أَدْهَىٰ وَأَمَرُّ
নিশ্চয় অপরাধীরা রয়েছে পথভ্রষ্টতা ও (পরকালে) প্রজ্জ্বলিত আগুনে।
নিশ্চয়ই অপরাধীরা রয়েছে বিভ্রান্তিতে এবং উন্মাতাল অবস্থায়।
নিশ্চয়ই অপরাধীরা বিভ্রান্ত ও বিকারগ্রস্ত।
إِنَّ ٱلْمُجْرِمِينَ فِى ضَلَٰلٍ وَسُعُرٍ
সেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামে নেয়া হবে। (বলা হবে) জাহান্নামের ছোঁয়া আস্বাদন কর।
যেদিন তাদের উপুড় করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামে, সেদিন তাদের বলা হবে: স্বাদ গ্রহণ করো জাহান্নামের যন্ত্রণার।
যেদিন উহাদের উপুড় করিয়া টানিয়া লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের দিকে; সেই দিন বলা হইবে, ‘জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর।’
يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِى ٱلنَّارِ عَلَىٰ وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا۟ مَسَّ سَقَرَ
নিশ্চয় আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী।
আমরা প্রতিটি বস্ত্ত সৃষ্টি করেছি পরিমাণ মাফিক।
আমি সকল কিছু সৃষ্টি করিয়াছি নির্ধারিত পরিমাপে,
إِنَّا كُلَّ شَىْءٍ خَلَقْنَٰهُ بِقَدَرٍ
আর আমার আদেশ তো কেবল একটি কথা, চোখের পলকের মত।
আমাদের নির্দেশ তো এক কথায়ই সম্পন্ন হয়ে যায় চোখের পলকের মতো।
আমার আদেশ তো একটি কথায় নিষ্পন্ন, চক্ষুর পলকের মত।
وَمَآ أَمْرُنَآ إِلَّا وَٰحِدَةٌ كَلَمْحٍۭ بِٱلْبَصَرِ
আর আমি তো তোমাদের মত অনেককে ধ্বংস করে দিয়েছি, অতএব কোন উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি?
আমরা (ইতোপূর্বে) তোমাদের অনুরূপ দলগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছি। (সুতরাং) উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?
আমি ধ্বংস করিয়াছি তোমাদের মত দলগুলিকে; অতএব উহা হইতে উপদেশ গ্রহণকারী কেহ আছে কি?
وَلَقَدْ أَهْلَكْنَآ أَشْيَاعَكُمْ فَهَلْ مِن مُّدَّكِرٍ
আর তারা যা করেছে, সব কিছুই ‘আমলনামায়’ রয়েছে।
তারা যা করছে প্রতিটি জিনিসই রয়েছে রেকর্ডে,
উহাদের সমস্ত কার্যকলাপ আছে আমলনামায়,
وَكُلُّ شَىْءٍ فَعَلُوهُ فِى ٱلزُّبُرِ
আর ছোট বড় সব কিছুই লিখিত আছে।
প্রতিটি ক্ষুদ্র এবং বৃহৎ (বিষয়ই) রেকর্ড করা রয়েছে।
আছে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ।
وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُّسْتَطَرٌ
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাধারার মধ্যে।
নিশ্চয়ই মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাত এবং নদ নদী নহরে,
মুত্তাকীরা থাকিবে স্রোতস্বিনী বিধৌত জান্নাতে,
إِنَّ ٱلْمُتَّقِينَ فِى جَنَّٰتٍ وَنَهَرٍ
যথাযোগ্য আসনে, সর্বশক্তিমান মহাঅধিপতির নিকটে।
যথাযোগ্য আসনে মহাশক্তিধর সর্বময় কর্তৃত্বের মালিকের কাছে।
যোগ্য আসনে, সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী র সান্নিধ্যে।
فِى مَقْعَدِ صِدْقٍ عِندَ مَلِيكٍ مُّقْتَدِرٍۭ