বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
মহা বরকতময় সেই সত্তা, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে। আর সব কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান।
Chapter 67, 30 verses
বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।
মহা বরকতময় সেই সত্তা, সর্বময় কর্তৃত্ব যাঁর হাতে। আর সব কিছুর উপর তিনি সর্বশক্তিমান।
যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।
তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সৃষ্টি করেছেন মউত এবং হায়াত তোমাদের এই পরীক্ষা করার জন্যে যে, তোমাদের মাঝে আমলের দিক দিয়ে কে উত্তম? তিনি মহাশক্তিমান, অতীব ক্ষমাশীল,
যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি?
যিনি সৃষ্টি করেছেন তবকায় তবকায় সাত আস্মান। দয়াময় - রহমানের সৃষ্টিতে কোনো খুঁত তুমি দেখতে পাবেনা। আবার তাকিয়ে দেখো, দেখতে পাও কি কোনো খুঁত?
অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।
তারপর বার বার নজর করে দেখো, সেই নজর ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসবে তোমার দিকে।
আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপুঞ্জ দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
আমরা দুনিয়ার আসমানকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি অনেক প্রদীপ দিয়ে এবং সেগুলোকে বানিয়েছি শয়তানদের দিকে নিক্ষেপের হাতিয়ার, আর তাদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব।
আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল!
যারা তাদের প্রভুর প্রতি কুফুরি করে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের আযাব; আর তা ফিরে যাবার কতো যে মন্দ জায়গা!
যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে।
তাদেরকে যখন তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তারা তখন শুনতে পাবে তার উত্থান পতনের বিকট শব্দ।
ক্রোধে তা ছিন্ন-ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি’?
যেনো সে (জাহান্নাম) ক্রোধে ফেটে পড়বে। যখনই তাতে নিক্ষেপ করা হবে কোনো দলকে, তখনই তার রক্ষীরা তাদের প্রশ্ন করবে: তোমাদের কাছে কি আসেনি কোনো সতর্ককারী?
তারা বলবে, ‘হ্যাঁ, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’।
তারা বলবে: ‘হ্যাঁ, আমাদের কাছে একজন সতর্ককারী এসেছিল, কিন্তু আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম তাকে। আমরা বলেছিলাম: কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা মহাভুল পথে আছো।’
আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’।
তারা আরো বলবে: ‘আমরা যদি (তাদের আহবান - উপদেশ) শুনতাম এবং আকল খাটাতাম, তাহলে আজ আমরা সায়ীরের (জাহান্নামের) অধিবাসী হতাম না।’
অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য।
এভাবেই তারা স্বীকার করবে তাদের অপরাধ। ধ্বংস সায়ীরের অধিবাসীদের জন্যে।
নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান।
নিশ্চয়ই যারা না দেখেও তাদের প্রভুকে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে মাগফিরাত আর মহাপুরস্কার।
আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত।
তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বলো, কিংবা প্রকাশ্যে, নিশ্চয়ই তিনি বিশেষভাবে জ্ঞাত অন্তরের খবর।
যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত।
যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি কি জানবেন না? অথচ তিনি হলেন সুক্ষ্মদর্শী, সব অবগত।
তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।
তিনিই সেই সত্তা, যিনি এই পৃথিবীকে তোমাদের জন্যে বানিয়ে দিয়েছেন চলাচলের উপযোগী, সুতরাং তোমরা দিক দিগন্তে চলাচল করো এবং তাঁর দেয়া জীবিকা থেকে খাও। আর তাঁরই কাছে হবে হাশর - নশর।
যিনি আসমানে আছেন,* তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? *‘যিনি আসমানে আছেন’ দ্বারা আল্লাহকে বুঝানো হয়েছে। এর দ্বারা যে আসমানে আছেন, তা প্রমাণিত হয়।
যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের নিয়ে পৃথিবীকে ধসিয়ে দেবেন আর তা আকস্মিক থর থর করে কেঁপে উঠবে - এ থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছো?
যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী?
নাকি আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের উপর কংকরবর্ষী তুফান পাঠাবেন - সে ব্যাপারে তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছো? অচিরেই জানতে পারবে কেমন ছিলো সতর্কবাণী।
আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)?
এদের পূর্বের লোকেরাও প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের শাস্তিটাও হয়েছিল কেমন (কঠোর)?
তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা।
তারা কি তাদের উপরে পাখিদের প্রতি লক্ষ্য করেনা? তারা ডানা বিস্তার করে আবার গুটিয়ে নেয়। দয়াময় - রহমানই তাদের স্থির রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রতিটি বিষয়ে দৃষ্টিবান।
পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোন সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে ? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত।
দয়াময় - রহমান ছাড়া তোমাদের কোনো সেনাবাহিনী আছে কি, যারা তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবে? আসলে কাফিররা রয়েছে প্রতারণার মধ্যে।
অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিয্ক দান করবে যদি তাঁর রিয্ক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে।
এমন কে আছে যে তোমাদের রিযিক সরবরাহ করবে - যদি তিনি তাঁর রিযিক (সরবরাহ) বন্ধ করে দেন? বরং তারা অবাধ্যতা ও সত্য থেকে পালানোর উপর অবিচল রয়েছে।
যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে ?
যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে - ই কি ঠিক পথে চলে, নাকি ঐ ব্যক্তি, যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?
বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’।
হে নবী! বলো: ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি এবং হৃদয়। তবে তোমরা খুব কমই শোকর আদায় করে থাকো।’
বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’।
হে নবী! বলো: ‘তিনিই তোমাদের পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে করা হবে তোমাদের হাশর (একত্র)’।
আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।
তারা বলে: ‘তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকলে বলো কখন আসবে এই ওয়াদা করা সময়টি?’
বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’।
হে নবী! তুমি বলো: ‘এর এলেম আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমি তো একজন স্পষ্ট সাবধানকারী মাত্র।’
অতঃপর তারা যখন তা* আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হল তা, যা তোমরা দাবী করছিলে’। *কিয়ামতের শাস্তি।
তারা যখন দেখবে তা (কিয়ামত) সম্মুখে উপস্থিত, তখন চেহারা ম্লান হয়ে যাবে কাফিরদের। তাদের বলা হবে: ‘এটাই সেই জিনিস যা তোমরা দাবি করে আসছিলে।
বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আমাকে এবং আমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে কে রক্ষা করবে’?
হে নবী ! তাদের বলো: তোমরা কি চিন্তা করে দেখেছো, যদি আমাকে এবং আমার সাথিদেরকে হালাক করে দেন, অথবা আমাদের প্রতি রহম করেন, কিন্তু কাফিরদের রক্ষা করবে কে বেদনাদায়ক আযাব থেকে?
বল, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’?
বলো: ‘তিনি দয়াময় - রহমান, আমরা তাঁরই প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁরই উপর তাওয়াক্কুল করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কে নিমজ্জিত স্পষ্ট গোমরাহিতে?
বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’ ?
হে নবী! তাদের জিজ্ঞেস করো: ‘তোমরা কি চিন্তা করে দেখছো, ভূ - গর্ভের পানি যদি তোমাদের নাগালের বাইরে চলে যায়, তখন কে এনে দেবে তোমাদের বহমান পানি?’