কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
Chapter 53, 62 verses
কসম নক্ষত্রের, যখন তা অস্ত যায়।
শপথ নক্ষত্রের, যখন উহা হয় অস্তমিত,
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ
তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হয়নি এবং বিপথগামীও হয়নি।
তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয়,
مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَىٰ
আর সে মনগড়া কথা বলে না।
এবং সে মনগড়া কথাও বলে না।
وَمَا يَنطِقُ عَنِ الْهَوَىٰ
তাতো কেবল ওহী, যা তার প্রতি ওহীরূপে প্রেরণ করা হয়।
ইহা তো ওহী, যাহা তাহার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়,
إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَىٰ
তাকে শিক্ষা দিয়েছে প্রবল শক্তিধর,
তাহাকে শিক্ষা দান করে শক্তিশালী,
عَلَّمَهُ شَدِيدُ الْقُوَىٰ
প্রজ্ঞার অধিকারী*। অতঃপর সে স্থির হয়েছিল, * জিবরীল।
প্রজ্ঞাসম্পন্ন, সে নিজ আকৃতিতে স্থির হইয়াছিল,
ذُو مِرَّةٍ فَاسْتَوَىٰ
তখন সে ঊর্ধ্ব দিগন্তে।
তখন সে ঊর্ধ্বদিগন্তে,
وَهُوَ بِالْأُفُقِ الْأَعْلَىٰ
তারপর সে নিকটবর্তী হল, অতঃপর আরো কাছে এল।
অতঃপর সে তাহার নিকটবর্তী হইল, অতি নিকটবর্তী,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ
তখন সে নৈকট্য ছিল দু’ ধনুকের পরিমাণ, অথবা তারও কম।
ফলে তাহাদের মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রহিল অথবা উহারও কম।
فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ
অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন।
তখন তাঁহার বান্দার প্রতি যাহা ওহী করিবার তাহা ওহী করিলেন।
فَأَوْحَىٰ إِلَىٰ عَبْدِهِ مَا أَوْحَىٰ
সে যা দেখেছে, অন্তকরণ সে সম্পর্কে মিথ্যা বলেনি।
যাহা সে দেখিয়াছে, তাহার অন্তঃকরণ তাহা অস্বীকার করে নাই;
مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأَىٰ
সে যা দেখেছে, সে সম্পর্কে তোমরা কি তার সাথে বিতর্ক করবে?
সে যাহা দেখিয়াছে তোমরা কি সে বিষয়ে তাহার সঙ্গে বিতর্ক করিবে?
أَفَتُمَارُونَهُ عَلَىٰ مَا يَرَىٰ
আর সে তো তাকে* আরেকবার** দেখেছিল। * জিবরীলকে।
নিশ্চয়ই সে তাহাকে আরেকবার দেখিয়াছিল
وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ
সিদরাতুল মুনতাহার* নিকট। * সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন।
প্রান্তবর্তী বদরী বৃক্ষের নিকট,
عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ
যার কাছে জান্নাতুল মা’ওয়া* অবস্থিত। * ফেরেশতা, শহীদদের রূহ ও মুত্তাকীদের অবস্থানস্থল।
যাহার নিকট অবস্থিত বাসোদ্যান।
عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ
যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল।
যখন বৃক্ষটি, যদ্দ্বারা আচ্ছাদিত হইবার তদ্দ্বারা ছিল আচ্ছাদিত,
إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ
তার দৃষ্টি এদিক-সেদিক যায়নি এবং সীমাও অতিক্রম করেনি।
তাহার দৃষ্টিবিভ্রম হয় নাই, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয় নাই।
مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ
নিশ্চয় সে তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে।
সে তো তাহার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখিয়াছিল;
لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَىٰ
তোমরা লাত ও ‘উযযা সম্পর্কে আমাকে বল’?
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ ‘লাত’ ও ‘উয্যা’ সম্বন্ধে
أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّىٰ
আর মানাত সম্পর্কে, যা তৃতীয় আরেকটি?
এবং তৃতীয় আরেকটি ‘মানাত’ সম্বন্ধে?
وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَىٰ
তোমাদের জন্য কি পুত্র আর আল্লাহর জন্য কন্যা?
তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র সন্তান এবং র জন্য কন্যা সন্তান ?
أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَىٰ
এটাতো তাহলে এক অসঙ্গত বণ্টন!
এই প্রকার বণ্টন তো অসংগত।
تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيزَىٰ
এগুলো কেবল কতিপয় নাম, যে নামগুলো তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষেরা রেখেছ। এ ব্যাপারে কোন দলীল-প্রমাণ নাযিল করেননি। তারা তো কেবল অনুমান এবং নিজেরা যা চায়, তার অনুসরণ করে। অথচ তাদের কাছে তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াত এসেছে।
এইগুলি কতক নামমাত্র যাহা তোমাদের পূর্বপুরুষগণ ও তোমরা রাখিয়াছ, যাহার সমর্থনে কোন দলীল প্রেরণ করেন নাই। তাহারা তো অনুমান এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে, অথচ তাহাদের নিকট তাহাদের প্রতিপালকের পথনির্দেশ আসিয়াছে।
إِنْ هِيَ إِلَّا أَسْمَاءٌ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنفُسُ ۖ وَلَقَدْ جَاءَهُم مِّن رَّبِّهِمُ الْهُدَىٰ
মানুষের জন্য তা কি হয়, যা সে চায়?
মানুষ যাহা চায় তাহাই কি সে পায়?
أَمْ لِلْإِنسَانِ مَا تَمَنَّىٰ
বস্তুতঃ পরকাল ও ইহকাল তো আল্লাহরই।
বস্তুত ইহকাল ও পরকাল রই।
فَلِلَّهِ الْآخِرَةُ وَالْأُولَىٰ
আর আসমানসমূহে অনেক ফেরেশতা রয়েছে, তাদের সুপারিশ কোনই কাজে আসবে না। তবে যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট, তার ব্যাপারে অনুমতি দেয়ার পর।
আকাশে কত ফিরিশ্তা রহিয়াছে ; উহাদের সুপারিশ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হইবে না, তবে র অনুমতির পর ; যাহার জন্য তিনি ইচ্ছা করেন ও যাহার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।
۞ وَكَم مِّن مَّلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِن بَعْدِ أَن يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَن يَشَاءُ وَيَرْضَىٰ
নিশ্চয় যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তারাই ফেরেশতাদেরকে নারীবাচক নামে নামকরণ করে থাকে।
যাহারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাহারাই নারীবাচক নাম দিয়া থাকে ফিরিশ্তাদেরকে;
إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ لَيُسَمُّونَ الْمَلَائِكَةَ تَسْمِيَةَ الْأُنثَىٰ
অথচ এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞানই নেই। তারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে। আর নিশ্চয় অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোনই কাজে আসে না।
অথচ এই বিষয়ে উহাদের কোন জ্ঞান নাই, উহারা তো কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে; কিন্তু সত্যের মুকাবিলায় অনুমানের কোনই মূল্য নাই।
وَمَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ ۖ وَإِنَّ الظَّنَّ لَا يُغْنِي مِنَ الْحَقِّ شَيْئًا
অতএব তুমি তাকে উপেক্ষা করে চল, যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হয় এবং কেবল দুনিয়ার জীবনই কামনা করে।
অতএব যে আমার স্মরণে বিমুখ তুমি তাহাকে উপেক্ষা করিয়া চল; সে তো কেবল পার্থিব জীবনই কামনা করে।
فَأَعْرِضْ عَن مَّن تَوَلَّىٰ عَن ذِكْرِنَا وَلَمْ يُرِدْ إِلَّا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا
এটাই তাদের জ্ঞানের শেষসীমা। নিশ্চয় তোমার রবই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে তার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনিই সবচেয়ে ভাল জানেন তার সম্পর্কে, যে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে।
উহাদের জ্ঞানের দৌড় এই পর্যন্ত। তোমার প্রতিপালকই ভাল জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত, তিনিই ভাল জানেন কে সৎপথপ্রাপ্ত।
ذَٰلِكَ مَبْلَغُهُم مِّنَ الْعِلْمِ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اهْتَدَىٰ
আর আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, তা আল্লাহরই। যাতে তিনি তাদের কাজের প্রতিফল দিতে পারেন যারা মন্দ কাজ করে এবং তাদেরকে তিনি উত্তম পুরস্কার দিতে পারেন যারা সৎকর্ম করে ।
আকাশমণ্ডলীতে যাহা কিছু আছে ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে তাহা রই। যাহারা মন্দ কর্ম করে তাহাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যাহারা সৎকর্ম করে তাহাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার।
وَلِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ أَسَاءُوا بِمَا عَمِلُوا وَيَجْزِيَ الَّذِينَ أَحْسَنُوا بِالْحُسْنَى
যারা ছোট খাট দোষ-ত্রুটি ছাড়া বড় বড় পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকে, নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমার ব্যাপারে উদার, তিনি তোমাদের ব্যাপারে সম্যক অবগত। যখন তিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যখন তোমরা তোমাদের মাতৃগর্ভে ভ্রূণরূপে ছিলে। কাজেই তোমরা আত্মপ্
উহারাই বিরত থাকে গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্য হইতে, ছোটখাট অপরাধ করিলেও। তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম ; তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত - যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছিলেন মৃত্তিকা হইতে এবং যখন তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করিও না, তিনিই সম্যক জানেন কে।
الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ ۚ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ ۖ فَلَا تُزَكُّوا أَنفُسَكُمْ ۖ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَىٰ
তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ, যে মুখ ফিরিয়ে নেয়?
তুমি কি দেখিয়াছ সেই ব্যক্তিকে যে মুখ ফিরাইয়া নেয়;
أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّىٰ
আর সামান্য দান করে, তারপর বন্ধ করে দেয়?
এবং দান করে সামান্যই, পরে বন্ধ করিয়া দেয়?
وَأَعْطَىٰ قَلِيلًا وَأَكْدَىٰ
তার কাছে কি আছে গায়েবের জ্ঞান যে, সে দেখছে?
তাহার কি অদৃশ্যের জ্ঞান আছে যে, সে প্রত্যক্ষ করে?
أَعِندَهُ عِلْمُ الْغَيْبِ فَهُوَ يَرَىٰ
নাকি মূসার কিতাবে যা আছে, সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়নি ?
তাহাকে কি অবগত করা হয় নাই যাহা আছে মূসার কিতাবে,
أَمْ لَمْ يُنَبَّأْ بِمَا فِي صُحُفِ مُوسَىٰ
আর ইবরাহীমের কিতাবে, যে (নির্দেশ) পূর্ণ করেছিল।
এবং ইব্রাহীমের কিতাবে, যে পালন করিয়াছিল তাহার দায়িত্ব?
وَإِبْرَاهِيمَ الَّذِي وَفَّىٰ
তা এই যে, কোন বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না।
উহা এই যে, কোন বহনকারী অপরের বোঝা বহন করিবে না,
أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।
আর এই যে, মানুষ তাহাই পায় যাহা সে করে,
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَانِ إِلَّا مَا سَعَىٰ
আর এই যে, তার প্রচেষ্টার ফল শীঘ্রই তাকে দেখানো হবে।
আর এই যে, তাহার কর্ম অচিরেই দেখান হইবে -
وَأَنَّ سَعْيَهُ سَوْفَ يُرَىٰ
তারপর তাকে পূর্ণ প্রতিফল প্রদান করা হবে।
অতঃপর তাহাকে দেওয়া হইবে পূর্ণ প্রতিদান,
ثُمَّ يُجْزَاهُ الْجَزَاءَ الْأَوْفَىٰ
আর নিশ্চয় তোমার রবের নিকটই হলো শেষ গন্তব্য।
আর এই যে, সমস্ত কিছুর সমাপ্তি তো তোমার প্রতিপালকের নিকট,
وَأَنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الْمُنتَهَىٰ
আর নিশ্চয় তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।
আর এই যে, তিনিই হাসান, তিনিই কাঁদান,
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَىٰ
আর নিশ্চয় তিনিই মৃত্যু দেন এবং তিনিই জীবন দেন।
আর এই যে, তিনিই মারেন, তিনিই বাঁচান,
وَأَنَّهُ هُوَ أَمَاتَ وَأَحْيَا
আর তিনিই যুগল সৃষ্টি করেন- পুরুষ ও নারী।
আর এই যে, তিনিই সৃষ্টি করেন যুগল - পুরুষ ও নারী
وَأَنَّهُ خَلَقَ الزَّوْجَيْنِ الذَّكَرَ وَالْأُنثَىٰ
শুক্রবিন্দু থেকে যখন তা নিক্ষিপ্ত হয়।
শুক্রবিন্দু হইতে, যখন উহা স্খলিত হয়,
مِن نُّطْفَةٍ إِذَا تُمْنَىٰ
আর নিশ্চয় পুনরায় সৃষ্টির দায়িত্ব তাঁর উপরই।
আর এই যে, পুনরুত্থান ঘটাইবার দায়িত্ব তাঁহারই,
وَأَنَّ عَلَيْهِ النَّشْأَةَ الْأُخْرَىٰ
আর তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন।
আর এই যে, তিনিই অভাবমুক্ত করেন ও সম্পদ দান করেন,
وَأَنَّهُ هُوَ أَغْنَىٰ وَأَقْنَىٰ
আর তিনিই শিরার* রব। * একটি নক্ষত্রের নাম।
আর এই যে, তিনি শি‘রা নক্ষত্রের মালিক।
وَأَنَّهُ هُوَ رَبُّ الشِّعْرَىٰ
আর তিনিই প্রাচীন ‘আদ জাতিকে ধ্বংস করেছেন।
আর এই যে, তিনিই প্রাচীন ‘আদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করিয়াছিলেন
وَأَنَّهُ أَهْلَكَ عَادًا الْأُولَىٰ
আর সামূদ জাতিকেও। কাউকে তিনি অবশিষ্ট রাখেন নি।
এবং সামূদ সম্প্রদায়কেও; কাহাকেও তিনি বাকি রাখেন নাই
وَثَمُودَ فَمَا أَبْقَىٰ
আর পূর্বে নূহের কওমকেও। নিশ্চয় তারা ছিল অতিশয় যালিম ও চরম অবাধ্য।
আর ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কেও, উহারা ছিল অতিশয় ও অবাধ্য।
وَقَوْمَ نُوحٍ مِّن قَبْلُ ۖ إِنَّهُمْ كَانُوا هُمْ أَظْلَمَ وَأَطْغَىٰ
আর তিনি উল্টানো আবাসভূমিকে* নিক্ষেপ করেছিলেন। * সামূদ সম্প্রদায়ের জনপদ।
উল্টানো আবাসভূমিকে নিক্ষেপ করিয়াছিলেন,
وَالْمُؤْتَفِكَةَ أَهْوَىٰ
অতঃপর সেটাকে আচ্ছন্ন করেছিল, যা আচ্ছন্ন করার ছিল।
উহাকে আচ্ছন্ন করিল কী সর্বগ্রাসী শাস্তি!
فَغَشَّاهَا مَا غَشَّىٰ
তাহলে তুমি তোমার রবের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে?
তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করিবে?
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكَ تَتَمَارَىٰ
অতীত সতর্ককারীদের মত এই নবীও একজন সতর্ককারী।
অতীতের সতর্ককারীদের ন্যায় এই নবীও এক সতর্ককারী।
هَٰذَا نَذِيرٌ مِّنَ النُّذُرِ الْأُولَىٰ
কিয়ামত নিকটবর্তী।
কিয়ামত আসন্ন,
أَزِفَتِ الْآزِفَةُ
ছাড়া কেউই তা প্রকাশ করতে সক্ষম নয়।
ব্যতীত কেহই ইহা ব্যক্ত করিতে সক্ষম নয়।
لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ كَاشِفَةٌ
তোমরা কি এ কথায় বিস্ময় বোধ করছ?
তোমরা কি এই কথায় বিস্ময় বোধ করিতেছ!
أَفَمِنْ هَٰذَا الْحَدِيثِ تَعْجَبُونَ
আর হাসছ এবং কাঁদছ না?
এবং হাসিঠাট্টা করিতেছ! ক্রন্দন করিতেছ না?
وَتَضْحَكُونَ وَلَا تَبْكُونَ
আর তোমরা তো গাফিল।
তোমরা তো উদাসীন,
وَأَنتُمْ سَامِدُونَ
সুতরাং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা কর এবং ইবাদাত কর।[সাজদাহ]
অতএব কে সিজ্দা কর এবং তাঁহারই ‘ইবাদত কর।
فَاسْجُدُوا لِلَّهِ وَاعْبُدُوا ۩