হে বস্ত্রাবৃত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত !
بسم الله الرحمن الرحيم يا أيها المدثر
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ
Chapter 74, 56 verses
হে বস্ত্রাবৃত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত!
হে বস্ত্রাচ্ছাদিত !
بسم الله الرحمن الرحيم يا أيها المدثر
يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ
উঠ, অতঃপর সতর্ক কর।
উঠ, আর সতর্ক কর,
উঠো, (মানুষকে) সতর্ক করো।
قم فأنذر
قُمْ فَأَنذِرْ
আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর।
তোমার রব - এর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো।
وربك فكبر
وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ
আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র কর।
তোমার পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ,
তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো।
وثيابك فطهر
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ
আর অপবিত্রতা বর্জন কর।
পৌত্তলিকতা পরিহার করিয়া চল,
আবিলতা (শিরকের অপবিত্রতা) পরিত্যাগ করো।
والرجز فاهجر
وَٱلرُّجْزَ فَٱهْجُرْ
আর অধিক পাওয়ার আশায় দান করো না।
অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় দান করিও না।
বেশি পাওয়ার আশায় উপকার করোনা।
ولا تمنن تستكثر
وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ
আর তোমার রবের জন্যই ধৈর্যধারণ কর।
এবং তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে ধৈর্য ধারণ কর।
আর তোমার প্রভুর উদ্দেশ্যে সবর অবলম্বন করো।
ولربك فاصبر
وَلِرَبِّكَ فَٱصْبِرْ
অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে,
যেদিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হইবে
যখন ফুৎকার দেয়া হবে শিংগায়,
فإذا نقر في الناقور
فَإِذَا نُقِرَ فِى ٱلنَّاقُورِ
আর সেদিন হবে কঠিন দিন।
সেই দিন হইবে এক সংকটের দিন -
সেদিনটি হবে এক কঠিন দিন।
فذلك يومئذ يوم عسير
فَذَٰلِكَ يَوْمَئِذٍ يَوْمٌ عَسِيرٌ
কাফিরদের জন্য সহজ নয়।
যাহা কাফিরদের জন্য সহজ নয়।
সেটি সহজ হবেনা কাফিরদের জন্যে।
على الكافرين غير يسير
عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍ
আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি তাকে একাকী ছেড়ে দাও।
ছাড়িয়া দাও আমাকে এবং যাহাকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি একাকী।
আমাকে ছেড়ে দাও আর যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাই।
ذرني ومن خلقت وحيدا
ذَرْنِى وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا
আর আমি তাকে দিয়েছি অঢেল সম্পদ,
আমি তাহাকে দিয়াছি বিপুল ধন - সম্পদ
আমি তাকে দিয়েছি বিপুল মাল - সম্পদ।
وجعلت له مالا ممدودا
وَجَعَلْتُ لَهُۥ مَالًا مَّمْدُودًا
আর উপস্থিত অনেক পুত্র।
এবং নিত্য সঙ্গী পুত্রগণ,
দিয়েছি সংগে উপস্থিত থাকা পুত্রদের।
وبنين شهودا
وَبَنِينَ شُهُودًا
আর তার জন্য (জীবনকে) সুগম স্বাচ্ছন্দ্যময় করেছি।
এবং তাহাকে দিয়াছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ -
সরবরাহ করেছি স্বচ্ছন্দ জীবনের প্রচুর উপকরণ।
ومهدت له تمهيدا
وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمْهِيدًا
এসবের পরেও সে আকাংখা করে যে, আমি আরো বাড়িয়ে দেই।
ইহার পরও সে কামনা করে যে, আমি তাহাকে আরও অধিক দেই।
তারপরেও সে লোভ করে আমি যেনো তাকে আরো বেশি করে দেই।
ثم يطمع أن أزيد
ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ
কখনো নয়, নিশ্চয় সে ছিল আমার নিদর্শনাবলীর বিরুদ্ধাচারী।
না, তাহা হইবে না, সে তো আমার নিদর্শনসমূহের উদ্ধত বিরুদ্ধাচারী।
কখনো নয়, সে তো আমাদের আয়াতের উগ্র বিরোধিতাকারী।
كلا ۖ إنه كان لآياتنا عنيدا
كَلَّآ إِنَّهُۥ كَانَ لِءَايَٰتِنَا عَنِيدًا
অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের পিচ্ছিল পাথরে আরোহণ করতে বাধ্য করব।
আমি অচিরেই তাহাকে চড়াইব শাস্তির পাহাড়ে।
অচিরেই আমি তাকে চড়াবো এক কঠিন স্থানে (জাহান্নামের পাহাড়ে)।
سأرهقه صعودا
سَأُرْهِقُهُۥ صَعُودًا
নিশ্চয় সে চিন্তা ভাবনা করল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।
সে তো চিন্তা করিল এবং সিদ্ধান্ত করিল।
সে চিন্তা করেছে এবং একটা চক্রান্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
إنه فكر وقدر
إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ
অতঃপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?
অভিশপ্ত হউক সে ! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্ত করিল!
সে ধ্বংস হোক, কী করে সে এ সিদ্ধান্ত নিলো?
فقتل كيف قدر
فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
তারপর সে ধ্বংস হোক! কীভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল?
আরও অভিশপ্ত হউক সে! কেমন করিয়া সে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হইল!
সে আবারো ধ্বংস হোক, কী করে নিলো সে এ সিদ্ধান্ত!
ثم قتل كيف قدر
ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ
তারপর সে তাকাল।
সে আবার চাহিয়া দেখিল।
সে নজর করে দেখেছে।
ثم نظر
ثُمَّ نَظَرَ
তারপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ বিকৃত করল।
অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করিল ও মুখ বিকৃত করিল।
তারপর ভ্রুকুঞ্চিত করে মুখ বিকৃত করেছে।
ثم عبس وبسر
ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ
তারপর সে পিছনে ফিরল এবং অহংকার করল।
অতঃপর সে পিছন ফিরিল এবং দম্ভ প্রকাশ করিল।
তারপর পেছনে গিয়ে দাম্ভিকতা প্রকাশ করেছে।
ثم أدبر واستكبر
ثُمَّ أَدْبَرَ وَٱسْتَكْبَرَ
অতঃপর সে বলল, ‘এ তো লোক পরম্পরায়প্রাপ্ত যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’।
এবং ঘোষণা করিল, ‘ইহা তো লোক পরম্পরায় প্রাপ্ত জাদু ভিন্ন আর কিছু নয়,
সে বলেছে: ‘‘এ তো সমাজে চলে আসা প্রচলিত ম্যাজিক ছাড়া আর কিছু নয়।
فقال إن هذا إلا سحر يؤثر
فَقَالَ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَرُ
‘এটা তো মানুষের কথামাত্র’।
‘ইহা তো মানুষেরই কথা।’
এতো মানুষের কথা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’’
إن هذا إلا قول البشر
إِنْ هَٰذَآ إِلَّا قَوْلُ ٱلْبَشَرِ
অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাব।
আমি তাহাকে নিক্ষেপ করিব সাকার - এ,
অচিরেই আমি তাকে নিক্ষেপ করবো সাকারে।
سأصليه سقر
سَأُصْلِيهِ سَقَرَ
কিসে তোমাকে জানাবে জাহান্নামের আগুন কী?
তুমি কি জান সাকার কী?
কিভাবে জানবে তুমি - সাকার কী?
وما أدراك ما سقر
وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سَقَرُ
এটা অবশিষ্টও রাখবে না এবং ছেড়েও দেবে না।
উহা উহাদেরকে জীবিতাবস্থায় রাখিবে না এবং মৃত অবস্থায়ও ছাড়িয়া দিবে না।
(সেটা এমন জিনিস) যা বাকিও রাখেনা, ছেড়েও দেয়না।
لا تبقي ولا تذر
لَا تُبْقِى وَلَا تَذَرُ
চামড়াকে দগ্ধ করে কালো করে দেবে।
ইহা তো গাত্রচর্ম দগ্ধ করিবে,
সেটা মানুষের (গায়ের চামড়া) দগ্ধকারী।
لواحة للبشر
لَوَّاحَةٌ لِّلْبَشَرِ
তার উপর রয়েছে ঊনিশজন (প্রহরী)।
সাকার - এর তত্ত্বাবধানে রহিয়াছে উনিশজন প্রহরী।
সেটার তত্ত্বাবধানে আছে ঊনিশজন (ফেরেশতা)।
عليها تسعة عشر
عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ
আর আমি ফেরেশতাদেরকেই জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছি। আর কাফিরদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ আমি তাদের সংখ্যা নির্ধারণ করেছি। যাতে কিতাবপ্রাপ্তরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে; আর মুমিনদের ঈমান বেড়ে যায় এবং কিতাবপ্রাপ্তরা ও মুমিনরা সন্দেহ পোষণ না করে। আর যেন যাদের অন্তরে
আমি ফিরিশ্তাদেরকে করিয়াছি জাহান্নামের প্রহরী; কাফিরদের পরীক্ষাস্বরূপই আমি উহাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করিয়াছি যাহাতে কিতাবীদের দৃঢ় প্রত্যয় জন্মে, বিশ্বাসীদের বিশ্বাস বর্ধিত হয় এবং বিশ্বাসীগণ ও কিতাবীগণ সন্দেহ পোষণ না করে। ইহার ফলে, যাহাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাহারা ও কাফিররা বলিবে, ‘ এই অভিনব উক্তি দ্বারা কি বুঝাইতে চাহিয়াছেন?’ এইভাবে যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথনির্দেশ করেন। তোমার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন। জাহান্নামের এই বর্ণনা তো মানুষের জন্য সাবধান বাণী।
আমরা জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করেছি ফেরেশতাদের। আমরা কাফিরদের পরীক্ষার জন্যেই তাদের এই সংখ্যা উল্লেখ করেছি, যাতে করে ইতোপূর্বে যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের একীন জন্মে এবং যেনো ঈমানদারদের ঈমান বেড়ে যায় আর কিতাবীরা এবং মুমিনরা যেনো সন্দেহে না পড়ে। আর যাদের মনে রোগ (মুনাফিকি) আছে তারা এবং কাফিররা যেনো বলে: ‘ এই কথার মাধ্যমে কী বুঝাতে চেয়েছেন?’ এভাবেই যাকে চান বিপথগামী করেন এবং যাকে চান সঠিক পথ দেখান। তোমার প্রভুর বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনি ছাড়া কেউই জানেনা। জাহান্নামের এই তথ্য মানুষের জন্যে একটি সতর্কবাণী।
وما جعلنا أصحاب النار إلا ملائكة ۙ وما جعلنا عدتهم إلا فتنة للذين كفروا ليستيقن الذين أوتوا الكتاب ويزداد الذين آمنوا إيمانا ۙ ولا يرتاب الذين أوتوا الكتاب والمؤمنون ۙ وليقول الذين في قلوبهم مرض والكافرون ماذا أراد الله بهذا مثلا ۚ كذلك يضل الله من يشاء ويهدي من يشاء ۚ وما يعلم جنود ربك إلا هو ۚ وما هي إلا ذكرى للبشر
وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةً وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَٰنًا وَ
কখনো নয়, চাঁদের কসম!
কখনই না, চন্দ্রের শপথ,
কখনো নয়, শপথ চাঁদের,
كلا والقمر
كَلَّا وَٱلْقَمَرِ
রাতের কসম, যখন তা সরে চলে যায়,
শপথ রাত্রির, যখন উহার অবসান ঘটে;
শপথ রাতের যখন তা পেছনে ফিরে (চলে) যায়,
والليل إذ أدبر
وَٱلَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ
প্রভাতের কসম, যখন তা উদ্ভাসিত হয়।
শপথ প্রভাতকালের, যখন উহা হয় আলোকোজ্জ্বল -
শপথ ভোর বেলার যখন তা আলোকিত হয়ে উঠে,
والصبح إذا أسفر
وَٱلصُّبْحِ إِذَآ أَسْفَرَ
নিশ্চয় জাহান্নাম মহাবিপদসমূহের অন্যতম।
এই জাহান্নাম ভয়াবহ বিপদসমূহের অন্যতম,
নিশ্চয়ই এ (জাহান্নাম) গুরুতর বিপদ সমূহের একটি,
إنها لإحدى الكبر
إِنَّهَا لَإِحْدَى ٱلْكُبَرِ
মানুষের জন্য সতর্ককারীস্বরূপ।
মানুষের জন্য সতর্ককারী -
মানুষের জন্যে সতর্ককারী।
نذيرا للبشر
نَذِيرًا لِّلْبَشَرِ
তোমাদের মধ্যে যে চায় অগ্রসর হতে অথবা পিছিয়ে থাকতে, তার জন্য।
তোমাদের মধ্যে যে অগ্রসর হইতে চায় কিংবা যে পিছাইয়া পড়িতে চায় তাহার জন্য।
তোমাদের মধ্যে যে এগিয়ে আসতে চায় কিংবা যে পিছিয়ে পড়তে চায় তার জন্যে।
لمن شاء منكم أن يتقدم أو يتأخر
لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ
প্রতিটি প্রাণ নিজ অর্জনের কারণে দায়বদ্ধ।
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ,
প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের অর্জনের কাছে আবদ্ধ।
كل نفس بما كسبت رهينة
كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ
কিন্তু ডান দিকের লোকেরা নয়,
তবে দক্ষিণ পার্শ্বস্থ ব্যক্তিগণ নয়,
তবে ডান পাশের লোকেরা নয়।
إلا أصحاب اليمين
إِلَّآ أَصْحَٰبَ ٱلْيَمِينِ
বাগ-বাগিচার মধ্যে তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করবে,
তাহারা থাকিবে উদ্যানে এবং তাহারা জিজ্ঞাসা - বাদ করিবে -
তারা থাকবে উদ্যানসমূহে, তারা প্রশ্ন করবে
في جنات يتساءلون
فِى جَنَّٰتٍ يَتَسَآءَلُونَ
অপরাধীদের সম্পর্কে,
অপরাধীদের সম্পর্কে,
অপরাধীদের বিষয়ে:
عن المجرمين
عَنِ ٱلْمُجْرِمِينَ
কিসে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাল?
‘তোমাদেরকে কিসে সাকার - এ নিক্ষেপ করিয়াছে?’
‘কোন্ জিনিস তোমাদের নিক্ষেপ করেছে সাকারে?’
ما سلككم في سقر
مَا سَلَكَكُمْ فِى سَقَرَ
তারা বলবে, ‘আমরা আদায়কারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না’।
উহারা বলিবে, ‘আমরা মুসুল্লীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না,
তারা বলবে: ‘‘আমরা মুসল্লিদের মধ্যে ছিলাম না,
قالوا لم نك من المصلين
قَالُوا۟ لَمْ نَكُ مِنَ ٱلْمُصَلِّينَ
‘আর আমরা অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করতাম না’।
‘আমরা অভাবগ্রস্তকে আহার্য দান করিতাম না,
আর আমরা মিসকিনদের (অভাবীদের) খাবার দিতামনা,
ولم نك نطعم المسكين
وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ ٱلْمِسْكِينَ
‘আর আমরা অনর্থক আলাপকারীদের সাথে (বেহুদা আলাপে) মগ্ন থাকতাম’।
‘এবং আমরা বিভ্রান্ত আলোচনাকারীদের সঙ্গে বিভ্রান্তিমূলক আলোচনায় নিমগ্ন থাকিতাম।
আমরা মিথ্যা রটনাকারীদের সাথে মিথ্যা রটনা করতাম,
وكنا نخوض مع الخائضين
وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلْخَآئِضِينَ
‘আর আমরা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করতাম’।
‘আমরা কর্মফল দিবস অস্বীকার করিতাম,
এবং আমরা প্রত্যাখ্যান করতাম প্রতিদান দিবসকে,
وكنا نكذب بيوم الدين
وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ
অবশেষে আমাদের কাছে মৃত্যু আগমন করে'।
‘আমাদের নিকট মৃত্যুর আগমন পর্যন্ত।’
আমাদের কাছে একীন (মৃত্যু) এসে পৌছা পর্যন্ত।’’
حتى أتانا اليقين
حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلْيَقِينُ
অতএব সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকার করবে না।
ফলে সুপারিশকারীদের সুপারিশ উহাদের কোন কাজে আসিবে না।
অতএব শাফায়াতকারীদের শাফায়াত তাদের কোনো কাজে আসবেনা।
فما تنفعهم شفاعة الشافعين
فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَٰعَةُ ٱلشَّٰفِعِينَ
আর তাদের কী হয়েছে যে, তারা উপদেশ বাণী হতে বিমুখ?
উহাদের কী হইয়াছে যে, উহারা মুখ ফিরাইয়া নেয় উপদেশ হইতে?
তাদের কী হয়েছে, কেন তারা উপদেশ বাণী (কুরআন) থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?
فما لهم عن التذكرة معرضين
فَمَا لَهُمْ عَنِ ٱلتَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ
তারা যেন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পলায়নরত বন্য গাধা।
উহারা যেন ভীত - ত্রস্ত গর্দভ -
এরা যেনো পলায়নপর গাধার দল,
كأنهم حمر مستنفرة
كَأَنَّهُمْ حُمُرٌ مُّسْتَنفِرَةٌ
যারা সিংহের ভয়ে পলায়ন করেছে।
যাহা সিংহের সম্মুখ হইতে পলায়নপর।
যারা দ্রুত পালাচ্ছে সিংহের সামনে থেকে।
فرت من قسورة
فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍۭ
বরং তাদের মধ্যকার প্রত্যেক ব্যক্তিই কামনা করে যে তাকে উন্মুক্ত গ্রন্থ প্রদান করা হোক।
বস্তুত উহাদের প্রত্যেকেই কামনা করে যে, তাহাকে একটি উন্মুক্ত গ্রন্থ দেওয়া হউক।
বরং তারা প্রত্যেকে চায়, তাকে একটি উন্মুক্ত সহিফা (বই) দেয়া হোক।
بل يريد كل امرئ منهم أن يؤتى صحفا منشرة
بَلْ يُرِيدُ كُلُّ ٱمْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَىٰ صُحُفًا مُّنَشَّرَةً
কখনও নয়! বরং তারা আখিরাতকে ভয় করে না।
না, ইহা হইবার নয়; বরং উহারা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না।
কখনো নয়, বরং তারা আখিরাতকেই ভয় পায়না।
كلا ۖ بل لا يخافون الآخرة
كَلَّا بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلْءَاخِرَةَ
কখনও নয়! এটিতো উপদেশ মাত্র।
না, ইহা হইবার নয়, কুরআনই সকলের জন্য উপদেশবাণী।
না, তা হবার নয়। নিশ্চয়ই এ কুরআন এক উপদেশ বাণী।
كلا إنه تذكرة
كَلَّآ إِنَّهُۥ تَذْكِرَةٌ
অতএব যার ইচ্ছা সে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
অতএব যাহার ইচ্ছা সে ইহা হইতে উপদেশ গ্রহণ করুক।
সুতরাং যার ইচ্ছা, সে এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করুক।
فمن شاء ذكره
فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ
আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউ উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।
র ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেহ উপদেশ গ্রহণ করিবে না, একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করিবার অধিকারী।
তবে তারা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া উপদেশ গ্রহণ করবেনা। একমাত্র তিনিই উপযুক্ত যাকে ভয় করা উচিত এবং একমাত্র তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী।
وما يذكرون إلا أن يشاء الله ۚ هو أهل التقوى وأهل المغفرة
وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ هُوَ أَهْلُ ٱلتَّقْوَىٰ وَأَهْلُ ٱلْمَغْفِرَةِ