যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, ইউসুফ তাহার পিতাকে বলিয়াছিল, ‘হে আমার পিতা! আমি তো দেখিয়াছি একাদশ নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রকে; দেখিয়াছি উহাদেরকে আমার প্রতি সিজ্দাবনত অবস্থায়।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(ঘটনার শুরু তখন থেকে) যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিল: ‘আব্বু! আমি স্বপ্ন দেখেছি: এগারটি গ্রহ এবং সূর্য আর চাঁদ। আমি দেখলাম, তারা সবাই আমাকে সাজদা করছে (আমার প্রতি অবনত হয়ে আছে)।’
সে বলল, ‘হে আমার পুত্র, তুমি তোমার ভাইদের নিকট তোমার স্বপ্নের বর্ণনা দিও না, তাহলে তারা তোমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘হে আমার বৎস! তোমার স্বপ্ন - বৃত্তান্ত তোমার ভ্রাতাদের নিকট বর্ণনা করিও না; করিলে তাহারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করিবে। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(স্বপ্নের বিবরণ শুনে তার পিতা ইয়াকুব বললো): ‘‘পুত্র আমার! তোমার এ স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদের বলোনা। তাহলে তারা তোমার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। আর শয়তান তো অবশ্যি মানুষের সুস্পষ্ট দুশমন (হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে)।
আর এভাবে তোমার রব তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেবেন। আর তোমার উপর ও ইয়াকূবের পরিবারের উপর তাঁর নিআমত পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি তা পূর্বে পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের উপর, নিশ্চয় তোমার রব সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করিবেন এবং তোমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন এবং তোমার প্রতি ও ইয়া‘কূবের পরিবার - পরিজনের প্রতি তাঁহার অনুগ্রহ পূর্ণ করিবেন, যেভাবে তিনি ইহা পূর্বে পূর্ণ করিয়াছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম ও ইসহাকের প্রতি। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
আবদুস শহীদ নাসিম
এমনটিই হবে, তোমার প্রভু তোমাকে (নবুয়্যতের) জন্যে উপযুক্ত করবেন, বক্তব্যের তাৎপর্য উপলব্ধির শিক্ষা দান করবেন এবং তোমার প্রতি আর ইয়াকুবের উত্তর পুরুষদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন, যেভাবে তা পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতামহ ইবরাহিম ও ইসহাকের প্রতি। অবশ্যি তোমার প্রভু সব বিষয়ে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’’
যখন তারা বলেছিল, ‘নিশ্চয় ইউসুফ ও তার ভাই আমাদের পিতার নিকট আমাদের চেয়ে অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একই দল। নিশ্চয় আমাদের পিতা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই আছে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্মরণ কর, উহারা বলিয়াছিল, ‘আমাদের পিতার নিকট ইউসুফ এবং তাহার ভ্রাতাই আমাদের অপেক্ষা অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল; আমাদের পিতা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই আছে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(সেই ঘটনার সূচনা হয় এভাবে যে,) ইউসুফের (সৎ) ভাইয়েরা নিজেরা নিজেরা বলাবলি করছিল: ‘‘আমাদের বাবার কাছে ইউসুফ আর তার সহোদর ভাইটি (বিনইয়ামিন) আমাদের চেয়ে বেশি প্রিয়। অথচ আমরা হলাম (দশ ভাইয়ের) একটি সংঘবদ্ধ (শক্তিশালী) দল। আসলে আমাদের পিতা (ইউসুফ আর তার ভাইকে আমাদের উপর প্রাধান্য দিয়ে) সুস্পষ্ট ভুল করছেন।
‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাকে কোন যমীনে ফেলে আস, তাহলে তোমাদের পিতার আনুকূল্য কেবল তোমাদের জন্য থাকবে এবং তোমরা সৎ লোক হয়ে যাবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা ইউসুফকে হত্যা কর অথবা তাহাকে কোন স্থানে ফেলিয়া আস, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হইবে এবং তাহার পর তোমরা ভাল লোক হইয়া যাইবে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
চলো, ইউসুফকে মেরে ফেলো, কিংবা কোথাও ফেলে রেখে আসো। তবেই তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু কেবল তোমাদের প্রতি নিবদ্ধ হবে। এই (অপরাধের) কাজটি সেরে ফেলার পর তোমরা ভালো মানুষ হয়ে যেয়ো।’’
তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, ‘তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না, আর যদি কিছু করই, তাহলে তাকে কোন কূপের গভীরে ফেলে দাও, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের মধ্যে একজন বলিল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করিও না এবং যদি কিছু করিতেই চাও তবে তাহাকে কোন কূপের গভীরে নিক্ষেপ কর, যাত্রীদলের কেহ তাহাকে তুলিয়া লইয়া যাইবে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এ সময় তাদের একজন বললো: ‘ইউসুফকে একেবারে জানে মেরে ফেলোনা, বরং যদি কিছু করতেই হয়, তবে কোনো কুয়ার তলায় ফেলে আসো, তাতে করে কোনো পথিক দল তাকে তুলে (দূর দেশে) নিয়ে যাবে।’
সে বলল, ‘নিশ্চয় এটা আমাকে কষ্ট দেবে যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি আশঙ্কা করি, নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলবে, যখন তোমরা তার ব্যাপারে গাফিল থাকবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘ইহা আমাকে অবশ্যই কষ্ট দিবে যে, তোমরা তাহাকে লইয়া যাইবে এবং আমি আশংকা করি তাহাকে নেকড়ে বাঘ খাইয়া ফেলিবে, আর তোমরা তাহার প্রতি অমনোযোগী থাকিবে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের পিতা বললো: ‘আমার আশংকা হয়, তোমরা তাকে নিয়ে গিয়ে তার ব্যাপারে অমনোযোগী হয়ে পড়বে আর সে সুযোগে নেকড়ে এসে তাকে খেয়ে ফেলবে, এই ভাবনাটাই বিষন্ন করে তুলছে আমাকে।’
অতঃপর যখন তারা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে কূপের গভীরে ফেলে দিতে একমত হল (তখন তারা তাই করল) এবং আমি তার নিকট ওহী প্রেরণ করলাম এই মর্মে যে,‘অবশ্যই তুমি তাদেরকে (ভবিষ্যতে) তাদের এই কর্ম সম্পর্কে জানাবে, এমতাবস্থায় যে, তারা উপলব্ধি করতে পারবে না’।* * অর্থাৎ এ অন
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উহারা যখন তাহাকে লইয়া গেল এবং তাহাকে কূপের গভীরে নিক্ষেপ করিতে একমত হইল, এমতাবস্থায় আমি তাহাকে জানাইয়া দিলাম, ‘তুমি উহাদেরকে উহাদের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলিয়া দিবে যখন উহারা তোমাকে চিনিবে না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবে (পিতার উপর একটা মানসিক চাপ প্রয়োগ করে) তারা যখন তাকে নিয়ে গেলো এবং তাকে কূপের তলায় নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিলো (এবং নিক্ষেপ করলো)। তখন আমরা তার কাছে অহি (বার্তা) প্রেরণ করলাম: ‘এমন একদিন অবশ্যি আসবে, যখন তুমি তাদের এই অপকর্মের কথা তাদের সামনে তুলে ধরবে, অথচ তারা তোমার পরিচয় বুঝতে পারবেনা।’
আর তারা রাতের প্রথম ভাগে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা রাত্রির প্রথম প্রহরে কাঁদিতে কাঁদিতে উহাদের পিতার নিকট আসিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা এশার সময় কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার কাছে এসে উপস্থিত হয়।
Arabic, with marks
وَجَاءُوا أَبَاهُمْ عِشَاءً يَبْكُونَ
Word by word
وَجَآءُوٓ أَبَاهُمْ عِشَآءً يَبْكُونَ
বয়ান ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা, আমরা প্রতিযোগিতা করতে গিয়েছিলাম আর ইউসুফকে রেখে গিয়েছিলাম আমাদের মালপত্রের নিকট, অতঃপর নেকড়ে তাকে খেয়ে ফেলেছে। আর আপনি আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড়ের প্রতিযোগিতা করিতেছিলাম এবং ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের নিকট রাখিয়া গিয়াছিলাম, অতঃপর নেকড়ে বাঘ তাহাকে খাইয়া ফেলিয়াছে; কিন্তু তুমি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করিবে না, যদিও আমরা সত্যবাদী।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বলে: ‘আমরা তো সত্য বললেও আপনি কখনো আমাদের কথা বিশ্বাস করবেন না, (আমরা সত্যই বলছি) ইউসুফকে আমাদের মালপত্রের কাছে রেখে আমরা দৌড় প্রতিযোগিতা করছিলাম, এই ফাঁকে নেকড়ে এসে ওকে খেয়ে ফেলেছে।’
আর তারা তার জামায় মিথ্যা রক্ত লাগিয়ে নিয়ে এসেছিল। সে বলল, ‘বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্য একটি গল্প সাজিয়েছে। সুতরাং (আমার করণীয় হচ্ছে) সুন্দর ধৈর্য। আর তোমরা যা বর্ণনা করছ সে বিষয়ে আল্লাহই সাহায্যস্থল’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা তাহার জামায় মিথ্যা রক্ত লেপন করিয়া আনিয়াছিল। সে বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে। সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যাহা বলিতেছ সে বিষয়ে একমাত্র ই আমার সাহায্যস্থল।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা (পিতার কাছে নিজেদেরকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্যে) ইউসুফের জামায় মিথ্যা রক্ত মেখে নিয়ে এসেছিল। তাদের পিতা বললো: ‘(না, তা নয়) বরং তোমাদের মন তোমাদেরকে একটা কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে। আর আমার জন্যে ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। তোমরা যে (মিথ্যা) কাহিনী সাজিয়েছো, তার মোকাবেলায় একমাত্র আল্লাহ্ই (আমার) সাহায্যের মালিক।’
আর একটি যাত্রীদল আসল এবং তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে প্রেরণ করল অতঃপর সে তার বালতি ফেলল। সে বলে উঠলো, ‘কী সুখবর! এ যে একটি বালক’ এবং তারা তাকে পণ্যদ্রব্য হিসেবে গোপন করে ফেলল। আর তারা যা কিছু করছিল সে বিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এক যাত্রীদল আসিল, উহারা উহাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করিল। সে তাহার পানির ডোল নামাইয়া দিল। সে বলিয়া উঠিল, ‘কী সুখবর! এ যে এক কিশোর!’ অতঃপর উহারা তাহাকে পণ্যরূপে লুকাইয়া রাখিল। উহারা যাহা করিতেছিল সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত ছিলেন।
আবদুস শহীদ নাসিম
এদিকে (ইউসুফকে নিক্ষেপ করা কূপের নিকট) এসে থামলো একদল পথিক। তারা তাদের পানি সংগ্রহকারীকে (পানির জন্যে কূপের দিকে) পাঠিয়ে দেয়। সে গিয়ে তার বালতি (bucket) ফেলে কুয়োতে। (ইউসুফকে দেখে) সে বিস্ময়ে বলে উঠে: ‘দারুণ সুখবর, (দেখে যান) এখানে এক বালক!’ তারপর তারা তাকে একটি পণ্য বিক্রয়ের মাল (দাস) হিসেবে লুকিয়ে রাখে। তারা (তাকে নিয়ে) যা কিছু করছিল, সে বিষয়ে ভালোভাবেই অবহিত ছিলেন।
আর মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বলল, ‘এর থাকার সুন্দর সম্মানজনক ব্যবস্থা কর। আশা করা যায়, সে আমাদের উপকার করবে অথবা আমরা তাকে পুত্ররূপে গ্রহণ করব’ এবং এভাবেই আমি যমীনে ইউসুফকে প্রতিষ্ঠিত করলাম এবং যেন আমি তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মিসরের যে ব্যক্তি তাহাকে ক্রয় করিয়াছিল, সে তাহার স্ত্রীকে বলিল, ‘ইহার থাকিবার সম্মানজনক ব্যবস্থা কর, সম্ভবত সে আমাদের উপকারে আসিবে অথবা আমরা ইহাকে পুত্ররূপেও গ্রহণ করিতে পারি।’ এবং এইভাবে আমি ইউসুফকে সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম তাহাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবার জন্য। তাঁহার কার্য সম্পাদনে অপ্রতিহত; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
মিশরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করে নেয়, সে তার স্ত্রীকে বলেছিল: ‘একে সুন্দর ও সম্মানজনকভাবে রাখো, সে আমাদের জন্যে উপকারী হবার সম্ভাবনা আছে, অথবা আমরা তাকে আমাদের ছেলেই বানিয়ে নেবো।’ এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশে প্রতিষ্ঠিত হবার জায়গা করে দেই এবং যাবতীয় পরিস্থিতি ও ঘটনাবলির তাৎপর্য উপলব্ধি করার ব্যবস্থা করি। তাঁর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই থাকেন। তবে অধিকাংশ মানুষ তা জানেনা।
আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি ইহসানকারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হইল তখন আমি তাহাকে হিক্মত ও জ্ঞান দান করিলাম এবং এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করি।
আবদুস শহীদ নাসিম
সে (ইউসুফ) যখন পূর্ণ যৌবনে, পূর্ণ বয়সে (full manhood - এ) উপনীত হয়, আমি তাকে প্রদান করি প্রজ্ঞা এবং জ্ঞান (নবুয়্যত)। আর এভাবেই আমি উপকারী পুণ্যবান লোকদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
আর যে মহিলার ঘরে সে ছিল, সে তাকে কুপ্ররোচনা দিল এবং দরজাগুলো বন্ধ করে দিল আর বলল, ‘এসো’। সে বলল, আল্লাহর আশ্রয় (চাই)। নিশ্চয় তিনি আমার মনিব, তিনি আমার থাকার সুন্দর ব্যবস্থা করেছেন। নিশ্চয় যালিমগণ সফল হয় না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিল সে তাহা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিল এবং দরজাগুলি বন্ধ করিয়া দিল ও বলিল, ‘আস।’ সে বলিল, ‘আমি র শরণ লইতেছি, তিনি আমার প্রভু; তিনি আমার থাকিবার সুন্দর ব্যবস্থা করিয়াছেন। নিশ্চয়ই সীমালংঘনকারীরা হয় না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
এদিকে যে মেয়ে লোকটির ঘরে সে (ইউসুফ) অবস্থান করছিল, সে তাকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করার পথ অবলম্বন করে। একদিন তো সে ঘরের সব দরজা বন্ধ করে দিয়েই (ইউসুফকে) আহবান জানায়: ‘ওহে, এসো।’ সে (ইউসুফ) বললো: ‘আমি (এমন কর্ম থেকে) আল্লাহর আশ্রয় চাই। তিনিই আমার প্রভু। অতি উত্তম মর্যাদা তিনি আমাকে দান করেছেন (একাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব)। আর অন্যায়কারীরা তো কিছুতেই সাফল্য অর্জন করেনা।’
আর সে মহিলা তার প্রতি আসক্ত হল, আর সেও তার প্রতি আসক্ত হত, যদি না তার রবের স্পষ্ট প্রমাণ* প্রত্যক্ষ করত। এভাবেই, যাতে আমি তার থেকে অনিষ্ট ও অশ্লীলতা দূর করে দেই। নিশ্চয় সে আমার খালেস বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। * برهان অর্থ উজ্জ্বল প্রমাণ এখানে নিদর্শন অর্থে
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সেই রমণী তো তাহার প্রতি আসক্ত হইয়াছিল এবং সেও উহার প্রতি আসক্ত হইয়া পড়িত যদি না সে তাহার প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করিত। আমি তাহাকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা হইতে বিরত রাখিবার জন্য এইভাবে নিদর্শন দেখাইয়াছিলাম। সে তো ছিল আমার বিশুদ্ধচিত্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
আবদুস শহীদ নাসিম
মেয়েলোকটি তো তার প্রতি আসক্ত হয়েই ছিলো, আর সেও তার প্রতি আসক্তিতে জড়িয়ে পড়তো, যদি তার প্রভুর স্পষ্ট প্রমাণ (evidence) তার দৃষ্টি পথে না থাকতো। এটা করা হয়েছে এজন্যে, যেনো এ পন্থায় আমি তার থেকে অন্যায় ও অশ্লীলতা দূর করে দিতে পারি। অবশ্যি সে ছিলো আমার নির্বাচিত দাসদের একজন।
আর তারা উভয়ে দরজার দিকে দৌড়ে গেল এবং মহিলা পেছন হতে তার জামা ছিঁড়ে ফেলল। আর তারা মহিলার স্বামীকে দরজার কাছে পেল। মহিলা বলল, ‘যে লোক তোমার পরিবারের সাথে মন্দকর্ম করতে চেয়েছে, তাকে কারাবন্দি করা বা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কী দন্ড হতে পারে’?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা উভয়ে দৌড়াইয়া দরজার দিকে গেল এবং স্ত্রীলোকটি পিছন হইতে তাহার জামা ছিঁড়িয়া ফেলিল, তাহারা স্ত্রীলোকটির স্বামীকে দরজার নিকট পাইল। স্ত্রীলোকটি বলিল, ‘যে তোমার পরিবারের সঙ্গে কুকর্ম কামনা করে তাহার জন্য কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন মর্মন্তুদ শাস্তি ব্যতীত আর কী দণ্ড হইতে পারে?’
আবদুস শহীদ নাসিম
সুতরাং তারা একজন আরেকজনের পেছনে দরজার দিকে দৌড়ায়, আর মেয়েলোকটি পেছন থেকে ইউসুফের জামা টেনে ধরে ছিড়েঁই ফেলে এবং (দৌড়ে এসে দরজায় পৌঁছুতেই) তারা তার কর্তাকে (স্বামীকে) দরজায় দেখতে পায়। তাকে দেখে মেয়েলোকটি বলে উঠে: ‘যে তোমার স্ত্রীর প্রতি অসৎ কর্মের ইচ্ছা পোষণ করে, কারাগারে নিক্ষেপ করা কিংবা কঠিন শাস্তি দেয়া ছাড়া তার আর কী প্রতিবিধান হতে পারে?’
সে বলল, ‘সে-ই আমাকে কুপ্ররোচনা দিয়েছে’। আর মহিলার পরিবার থেকে এক সাক্ষ্যদাতা সাক্ষ্য প্রদান করল, ‘যদি তার জামা সামনের দিক থেকে ছেঁড়া হয় তাহলে সে (মহিলা) সত্য বলেছে এবং সে (পুরুষ) মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ বলিল, ‘সে - ই আমা হইতে অসৎকর্ম কামনা করিয়াছিল।’ স্ত্রীলোকটির পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল, ‘যদি উহার জামার সম্মুখ দিক ছিন্ন করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রীলোকটি সত্য কথা বলিয়াছে এবং পুরুষটি মিথ্যাবাদী,
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন ইউসুফ বললো: ‘উনি আমাকে অসৎ কর্মে জড়িত করার চেষ্টা করেছেন।’ (দুইজনের দুই রকম কথার প্রেক্ষিতে) মেয়েলোকটির পরিবারেরই একজন এ বিষয়ে সাক্ষ্য (ফায়সালা) দেয়: ‘‘ইউসুফের জামা যদি সামনের দিকে ছিড়ে গিয়ে থাকে তবে আপনার স্ত্রীর কথাই ঠিক এবং ইউসুফের বক্তব্য অসত্য।
অতঃপর যখন সে দেখল, তার জামা পেছন থেকে ছেঁড়া তখন বলল, ‘নিশ্চয় এটি তোমাদের ষড়যন্ত্র। নিশ্চয় তোমাদের ষড়যন্ত্র ভয়ানক’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গৃহস্বামী যখন দেখিল যে, তাহার জামা পিছন দিক হইতে ছিন্ন করা হইয়াছে তখন সে বলিল, ‘নিশ্চয়ই ইহা তোমাদের নারীদের ছলনা, তোমাদের ছলনা তো ভীষণ।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তার স্বামী যখন দেখলো, ইউসুফের জামা পেছন দিকে ছেঁড়া, তখন সে বলে উঠলো: ‘‘অবশ্যি এটা তোমাদের নারীদেরই ষড়যন্ত্র। নি:সন্দেহে তোমাদের নারীদের ছলনা - চক্রান্ত ভীষণ ব্যাপার।’
আর নগরীতে মহিলারা বলাবলি করল, ‘আযীয পত্নী স্বীয় যুবককে কুপ্ররোচনা দিচ্ছে। (যুবকের প্রতি) গভীর প্রেম তাকে আসক্ত করে ফেলেছে, নিশ্চয় আমরা তাকে প্রকাশ্য ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নগরে কতিপয় নারী বলিল, ‘আযীযের স্ত্রী তাহার যুবক দাস হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিতেছে, প্রেম তাহাকে উন্মত্ত করিয়াছে, আমরা তো তাহাকে দেখিতেছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(এ ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে) নগরীতে একদল নারী বলাবলি করতে থাকে: ‘আযীযের স্ত্রী তার যুবক দাসের প্রতি আসক্ত হয়েছে! প্রেম তাকে পাগল করে ছেড়েছে। আমাদের মতে সে পরিষ্কার ভুল পথে পা বাড়িয়েছে।’
অতঃপর যখন সে তাদের কূটকৌশলের কথা শুনতে পেল, তখন তাদেরকে ডেকে পাঠাল এবং তাদের জন্য আসন প্রস্তুত করল, আর তাদের প্রত্যেককে একটি করে ছুরি প্রদান করল এবং ইউসুফকে বলল, ‘তাদের সামনে বেরিয়ে আস’। অতঃপর তারা যখন তাকে দেখল, তখন তাকে বিশাল সৌন্দর্যের অধিকারী মনে করল
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
স্ত্রীলোকটি যখন উহাদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনিল, তখন সে উহাদেরকে ডাকিয়া পাঠাইল, উহাদের জন্য আসন প্রস্তুত করিল, উহাদের প্রত্যেককে একটি করিয়া ছুরি দিল এবং ইউসুফকে বলিল, ‘উহাদের সম্মুখে বাহির হও।’ অতঃপর উহারা যখন তাহাকে দেখিল তখন উহারা তাহার গরিমায় অভিভূত হইল এবং নিজেদের হাত কাটিয়া ফেলিল। উহারা বলিল, ‘অদ্ভুত র মহাত্ম্য! এ তো মানুষ নয়, এ তো এক মহিমান্বিত ফিরিশতা!’
আবদুস শহীদ নাসিম
(আযীযের স্ত্রী) যখন তাদের এই অভিযোগ শুনতে পায়, সে তাদের ডেকে পাঠায় এবং তাদের জন্যে একটি ভোজ উৎসব - এর আয়োজন করে। (খাবার সামগ্রী কেটে খাবার জন্যে) সে প্রত্যেকের সামনে একটি করে ছুরি রেখে দেয়। (অতপর তারা কেটে কেটে খেতে আরম্ভ করলে) সে ইউসুফকে বলে: ‘এদের সামনে বেরিয়ে এসো।’ তারা যখন ইউসুফকে দেখলো, তাকে অতি উচ্চ, মহিমান্বিত পেয়ে অভিভূত ও উত্তেজিত (exalted) হয়ে পড়ে এবং নিজেদের হাত কেটে ফেলে! তারা বলে উঠে: ‘হায় , এ - তো মানুষ নয়, এ - তো এক সম্ভ্রান্ত (noble) ফেরেশতা!’
সে বলল, ‘এ-ই সে, যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে ভৎর্সনা করেছিলে। আর আমিই তাকে কুপ্ররোচনা দিয়েছি; কিন্তু সে বিরত থেকেছে এবং আমি তাকে যা আদেশ করছি সে যদি তা না করে তবে অবশ্যই সে কারারুদ্ধ হবে এবং নিশ্চয় সে অপদস্থদের অন্তর্ভুক্ত হবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘এ - ই সে যাহার সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করিয়াছ। আমি তো তাহা হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছি। কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রাখিয়াছে; আমি তাহাকে যাহা আদেশ করিয়াছি সে যদি তাহা না করে, তবে সে কারারুদ্ধ হইবেই এবং হীনদের অন্তর্ভুক্ত হইবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(এবার আযীযের স্ত্রী বলে উঠে: ‘এ হলো সেই যুবক, যার ব্যাপারে তোমরা আমাকে তিরস্কার করছিলে। হ্যাঁ, একেই আমি আমার কামনায় জড়িত করতে চাইছি, কিন্তু সে আমার আহবান প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। এরপরও যদি সে আমি যা করতে বলি তা না করে, তবে অবশ্যি তাকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হবে এবং তখন হবে সে চরম লাঞ্ছিত - অপদস্ত।’
সে (ইউসুফ) বলল, ‘হে আমার রব, তারা আমাকে যে কাজের প্রতি আহবান করছে তা থেকে কারাগারই আমার নিকট অধিক প্রিয়। আর যদি আপনি আমার থেকে তাদের চক্রান্ত প্রতিহত না করেন তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব এবং আমি মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! এই নারীগণ আমাকে যাহার প্রতি আহ্বান করিতেছে তাহা অপেক্ষা কারাগার আমার নিকট অধিক প্রিয়। আপনি যদি উহাদের ছলনা হইতে আমাকে রক্ষা না করেন তবে আমি উহাদের প্রতি আকৃষ্ট হইয়া পড়িব এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হইব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
ইউসুফ (মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে) বললো: ‘আমার প্রভু! এই নারীরা আমাকে যে কাজের দিকে ডাকছে, তা থেকে কারাগারই আমার অধিক প্রিয়। (প্রভু!) তুমি যদি এদের ছলনা - চক্রান্ত আমার থেকে সরিয়ে না নাও, তবে তো আমি এদের ছলনার ফাঁদে ফেসে যাবো আর অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বো জাহিলদের!’
তারপর নিদর্শনসমূহ দেখার পরে তাদের কাছে স্পষ্ট হল, কিছু কাল পর্যন্ত অবশ্যই তারা তাকে কারারুদ্ধ করে রাখবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিদর্শনাবলী দেখিবার পর উহাদের মনে হইল যে, তাহাকে কিছু কালের জন্য কারারুদ্ধ করিতেই হইবে।
আবদুস শহীদ নাসিম
(ইউসুফের নিষ্কলুষতা আর নিজেদের নারীদের ছিনালি ও অসতিপনার) পরিস্থিতি ও প্রামাণাদি দেখার পর তারা ভাবে, কিছুকালের জন্যে অবশ্যি ইউসুফকে জেলে রাখতে হবে (এবং তারা তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়)।
আর কারাগারে তার সাথে প্রবেশ করল দু’জন যুবক। তাদের একজন বলল, ‘আমি স্বপ্নে আমাকে দেখতে পেলাম যে, আমি মদ নিংড়াচ্ছি’। আর অপর জন বলল, ‘আমি স্বপ্নে আমাকে দেখেছি যে, আমি আমার মাথার উপর রুটি বহন করছি তা থেকে পাখি খাচ্ছে। আপনি আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা অবহিত করুন। নিশ্
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাহার সঙ্গে দুইজন যুবক কারাগারে প্রবেশ করিল। উহাদের একজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আংগুর নিংড়াইয়া রস বাহির করিতেছি’, এবং অপরজন বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, আমি আমার মস্তকে রুটি বহন করিতেছি এবং পাখি উহা হইতে খাইতেছে। আমাদেরকে তুমি ইহার তাৎপর্য জানাইয়া দাও, আমরা তো তোমাকে সৎকর্মপরায়ণ দেখিতেছি।’
আবদুস শহীদ নাসিম
আর তার সাথে কারাগারে প্রবেশ করে দুই যুবক (রাজ কর্মচারি)। একদিন (তারা ইউসুফের কাছে আসে এবং) তাদের একজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমি মদ তৈরি করছি।’ আর অপরজন বলে: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, আমার মাথায় রুটি বহন করছি আর তা থেকে (ঠোকর মেরে মেরে) খাচ্ছে পাখিরা।’ (দুজনেই বললো:) ‘আমাদেরকে এর তা’বির (তাৎপর্য) বলে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন অতি উত্তম মানুষ।’
সে বলল, ‘তোমাদেরকে যে খাদ্য দেয়া হয় তা তোমাদের কাছে আসার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। সেটি এমন জ্ঞান থেকেই বলব যা আমার রব আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আমি পরিত্যাগ করেছি সে কওমের ধর্ম যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না এবং যারা আখিরাতক
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ বলিল, ‘তোমাদেরকে যে খাদ্য দেওয়া হয় তাহা আসিবার পূর্বেই আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের তাৎপর্য জানাইয়া দিব। আমি যাহা তোমাদেরকে বলিব তাহা, আমার প্রতিপালক আমাকে যাহা শিক্ষা দিয়াছেন তাহা হইতে বলিব। যে সম্প্রদায় আল্লাহে বিশ্বাস করে না ও আখিরাতে অবিশ্বাসী আমি তাহাদের মতবাদ বর্জন করিয়াছি।
আবদুস শহীদ নাসিম
ইউসুফ (তাদের কথা শুনে) বললো: ‘‘তোমাদের যে খাবার এখানে দেয়া হয়, তা আসার আগেই আমি তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দেবো। (তাই এর মধ্যে তোমরা কয়েকটি জরুরি কথা শুনো), আমি যে কথাগুলো তোমাদের বলবো, সেগুলো আমার প্রভু () আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বর্জন করেছি সেইসব লোকদের মত ও পথ, যারা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখেনা এবং আখিরাতের প্রতি অবিশ্বাসী।’’
‘আর আমি অনুসরণ করেছি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়াকূবের ধর্ম। আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা আমাদের জন্য সঙ্গত নয়। এটি আমাদের ও সকল মানুষের উপর আল্লাহর অনুগ্রহ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইস্হাক এবং ইয়া‘কূবের মতবাদ অনুসরণ করি। র সঙ্গে কোন বস্তুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয়। ইহা আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি র অনুগ্রহ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘আমি অনুসরণ করছি আমার পিতৃপুরুষ ইবরাহিম, ইসহাক, ও ইয়াকুবের মতাদর্শ। (সেই আদর্শ হলো:) আমরা আল্লাহর সাথে কারো কোনো অংশিদারিত্ব আরোপ করতে পারিনা। আসলে এটা আমাদের এবং গোটা মানবজাতির প্রতি আল্লাহর এক বিরাট অনুগ্রহ (যে, তিনি মানুষকে একমাত্র তাঁর ছাড়া আর কারো দাস হিসেবে সৃষ্টি করেননি।) তা সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষই তাঁর শোকর আদায় করেনা।’’
‘তোমরা তাঁকে বাদ দিয়ে নিছক কতগুলো নামের ইবাদাত করছ, যাদের নামকরণ তোমরা ও তোমাদের পিতৃপুরুষরা করেছ, যাদের ব্যাপারে প্রমাণ নাযিল করেননি। বিধান একমাত্র আল্লাহরই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তাঁকে ছাড়া আর কারো ইবাদাত করো না’। এটিই সঠিক দীন, কিন্তু অধিকাং
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তাঁহাকে ছাড়িয়া তোমরা কেবল কতকগুলি নামের ‘ইবাদত করিতেছ, যেই নামগুলি তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রাখিয়াছ; এইগুলির কোন প্রমাণ পাঠান নাই। বিধান দিবার অধিকার কেবল রই। তিনি আদেশ দিয়াছেন অন্য কাহারও ‘ইবাদত না করিতে, কেবল তাঁহার ব্যতীত; ইহাই শাশ্বত দীন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘তাঁকে ছাড়া তোমরা যাদের ইবাদত - উপাসনা করছো, তারা তো তোমাদের আর তোমাদের পিতৃপুরুষদের আরোপিত কতোগুলো নাম ছাড়া আর কিছু নয়। এদের (খোদা হবার) পক্ষে তো কোনো অনুমতি - অধিকার প্রদান করেননি। আল্লাহর ছাড়া আর কারো কোনো কর্তৃত্ব নেই। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন: তোমরা তাঁর ছাড়া আর কারো ইবাদত (আনুগত্য, দাসত্ব ও উপাসনা) করোনা। এটাই জীবন যাপনের সরল সঠিক পথ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বিষয়টি জানেনা।’’
‘হে আমার কারা সঙ্গীদ্বয়, তোমাদের একজন স্বীয় মনিবকে মদপান করাবে। আর অন্যজনকে শূলে চড়ানো হবে, অতঃপর পাখি তার মাথা থেকে আহার করবে। যে বিষয়ে তোমরা জানতে চাচ্ছ তার সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে কারা - সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের দুইজনের একজন তাহার প্রভুকে মদ্য পান করাইবে এবং অপরজন শূলবিদ্ধ হইবে; অতঃপর তাহার মস্তক হইতে পাখি আহার করিবে। যে বিষয়ে তোমরা জানিতে চাহিয়াছ তাহার সিদ্ধান্ত হইয়া গিয়াছে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘হে আমার কারা - সাথিরা! (তোমাদের স্বপ্নের তাৎপর্য হলো:) তোমাদের একজন (চাকুরিতে ফিরে গিয়ে) নিজের মনিবকে মদ্যপান করাবে, আর অপরজনকে শুলবিদ্ধ করা হবে এবং পাখিরা তার মাথা ঠুকরে ঠুকরে খাবে। - তোমরা যা জানতে চেয়েছিলে এ হলো তার ফায়সালা।’’
আর তাদের দু’জনের মধ্যে যে মুক্তি পাবে বলে সে ধারণা করল তাকে বলল, ‘তোমার মনিবের কাছে আমার কথা উল্লেখ করবে’। কিন্তু শয়তান তাকে স্বীয় মনিবের নিকট উল্লেখ করার বিষয়টি ভুলিয়ে দিল। ফলে সে কয়েক বছর কারাগারে অবস্থান করল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ উহাদের মধ্যে যে মুক্তি পাইবে মনে করিল, তাহাকে বলিল, ‘তোমার প্রভুর নিকট আমার কথা বলিও’, কিন্তু শয়তান উহাকে উহার প্রভুর নিকট তাহার বিষয় বলিবার কথা ভুলাইয়া দিল; সুতরাং ইউসুফ কয়েক বৎসর কারাগারে রহিল।
আবদুস শহীদ নাসিম
দুই কারা সাথির মধ্যে যে মুক্তি পেয়ে যাবে বলে ইউসুফ মনে করলো, সে তাকে বললো: ‘তোমার মনিবের (রাজার) সাথে আমার কথা আলোচনা ক’রো।’ কিন্তু শয়তান তার মনিবের কাছে তার সম্পর্কে বলতে ভুলিয়ে দেয়। ফলে ইউসুফ কারাগারে আরো ক’বছর পড়ে থাকে।
আর বাদশাহ বলল, ‘আমি স্বপ্নে দেখছি, সাতটি মোটা তাজা গাভী, তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি ক্ষীণকায় গাভী এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক। হে পারিষদবর্গ, তোমরা আমাকে আমার স্বপ্ন সম্বন্ধে ব্যাখ্যা দাও যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে থাক’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রাজা বলিল, ‘আমি স্বপ্নে দেখিলাম, সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং দেখিলাম সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক। হে প্রধানগণ! যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করিতে পার তবে আমার স্বপ্ন সম্বন্ধে অভিমত দাও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
একদিন রাজা (তার সভাসদদের) বললো: ‘আমি স্বপ্ন দেখেছি, সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। (আরো দেখেছি, ফসলের) সবুজ সাতটি শীষ আর শুকনো সাতটি শীষ। - হে আমার সভাসদেরা! তোমরা যদি স্বপ্নের তা’বির জানো, তবে আমার স্বপ্নের তাৎপর্য বলো।’
আর সে দু’জনের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, সে বলল এবং দীর্ঘ দিন পর তার স্মরণ হল, ‘আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দিচ্ছি, অতএব তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
দুইজন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পাইয়াছিল এবং দীর্ঘকাল পরে যাহার স্মরণ হইল সে বলিল, ‘আমি ইহার তাৎপর্য তোমাদেরকে জানাইয়া দিব। সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠাও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
ইউসুফের কারা সাথিদের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, দীর্ঘকাল পর এ সময় তার (ইউসুফের) কথা স্মরণ হলো। সে (রাজ সভায়) বললো: ‘আমি এ স্বপ্নের তাৎপর্য আপনাদের বলে দেবো, আমাকে (কারাগারে) পাঠান।’
‘হে ইউসুফ, হে সত্যবাদী, আপনি আমাদের ব্যাখ্যা দিন, সাতটি মোটা তাজা গাভী সম্বন্ধে, যাদের খাচ্ছে সাতটি ক্ষীণকায় গাভী এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্পর্কে, যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি যেন তারা জানতে পারে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘হে ইউসুফ! হে সত্যবাদী! সাতটি স্থূলকায় গাভী, উহাদেরকে সাতটি শীর্ণকায় গাভী ভক্ষণ করিতেছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্বন্ধে তুমি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দাও, যাহাতে আমি লোকদের নিকট ফিরিয়া যাইতে পারি ও যাহাতে তাহারা অবগত হইতে পারে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(সে কারাগারে এসে ইউসুফকে বললো:) হে ইউসুফ! হে সত্যবাদীতার প্রতীক! এই স্বপ্নের তাৎপর্য আমাদের বলে দিন: ‘সাতটি মোটাতাজা গরু। তাদের খেয়ে ফেলছে সাতটি শুকনো গরু। আর ফসলের সবুজ সাতটি শীষ এবং শুকনো সাতটি শীষ।’ এর তাৎপর্য বলে দিন, যাতে করে আমি ফিরে গিয়ে লোকদের বলতে পারি এবং তারা যেনো (আপনার সম্পর্কে) জানতে পারে।’
সে বলল, ‘তোমরা সাত বছর একাধারে চাষাবাদ করবে অতঃপর যে শস্য কেটে ঘরে তুলবে তার মধ্য থেকে যে সামান্য পরিমাণ খাবে সেগুলো ছাড়া সব শীষের মধ্যে রেখে দেবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ বলিল, ‘তোমরা সাত বৎসর একাদিক্রমে চাষ করিবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য কর্তন করিবে উহার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত সমস্ত শীষসমেত রাখিয়া দিবে;
আবদুস শহীদ নাসিম
ইউসুফ স্বপ্নের এই তাৎপর্য বলে দিলো: ‘‘তোমরা সাত বছর লাগাতার চাষাবাদ করে যাবে। এ (সাত বছর) সময় তোমরা যে ফসল কাটবে সেগুলো শীষ সমেত রেখে দেবে, তবে শুধুমাত্র তোমাদের আহারের জন্যে যে পরিমাণ দরকার, কেবল তাই শীষ থেকে ছাড়িয়ে নেবে।’’
‘তারপর আসবে সাতটি কঠিন বছর। এর জন্য তোমরা পূর্বে যা সঞ্চয় করে রেখে দেবে এরা (ঐ সময়ের লোকেরা) সেগুলো খেয়ে ফেলবে, সামান্য কিছু ছাড়া যা তোমরা সংরক্ষণ করে রাখবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘ইহার পর আসিবে সাতটি কঠিন বৎসর, এই সাত বৎসর, যাহা পূর্বে সঞ্চয় করিয়া রাখিবে, লোকে তাহা খাইবে; কেবল সামান্য কিছু যাহা তোমরা সংরক্ষণ করিবে, তাহা ব্যতীত।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘তারপর আসবে কঠিন (দুর্ভিক্ষের) সাত বছর। এসময় জনগণ তোমাদের পূর্ব মওজুদকৃত ফসল খাবে। তবে এ থেকে তোমরা সঞ্চয়ে রাখলে সামান্যই রাখতে পারবে।’’
আর বাদশাহ বলল, ‘তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আস’। অতঃপর যখন দূত তার কাছে আসল তখন, সে বলল, তুমি তোমার মনিবের নিকট ফিরে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা কর, যে সব মহিলা নিজ নিজ হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী? নিশ্চয় আমার রব তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রাজা বলিল, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস।’ যখন দূত তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন সে বলিল, ‘তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরিয়া যাও এবং তাহাকে জিজ্ঞাসা কর, যে নারীগণ হাত কাটিয়া ফেলিয়াছিল তাহাদের অবস্থা কী! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তাহাদের ছলনা সম্যক অবগত।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(স্বপ্নের এই তা’বির শোনার পর রাজা ব্যতিব্যস্ত হয়ে) বললো: ‘তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে আসো।’ রাজার দূত (ইউসুফের কাছে) উপস্থিত হলে সে বললো: ‘ফিরে যাও তোমার মনিবের (রাজার) কাছে। তাকে জিজ্ঞেস করো, যে নারীরা নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল, তাদের (চক্রান্তের) ব্যাপারে কী (ফায়সালা) করা হয়েছে? আমার প্রভু ( তায়ালা) তো তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছেন।’
বাদশাহ বলল, ‘তোমরা যখন ইউসুফকে কুপ্ররোচনা দিয়েছিলে তখন তোমাদের কী হয়েছিল’? তারা বলল, ‘মহিমা আল্লাহর! আমরা তার ব্যাপারে খারাপ কিছু জানি না’। আযীয পত্নী বলল, ‘এখন সত্য প্রকাশ পেয়েছে, আমিই তাকে কুপ্ররোচনা দিয়েছি। আর নিশ্চয় সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রাজা নারীগণকে বলিল, ‘যখন তোমরা ইউসুফ হইতে অসৎ কর্ম কামনা করিয়াছিলে, তখন তোমাদের কী হইয়াছিল?’ তাহারা বলিল, ‘অদ্ভুত র মহাত্ম্য! আমরা উহার মধ্যে কোন দোষ দেখি নাই।’ ‘আযীযের স্ত্রী বলিল, ‘এক্ষণে সত্য প্রকাশ হইল, আমিই তাহাকে ফুসলাইয়াছিলাম, নিশ্চয়ই সে তো সত্যবাদী।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তখন রাজা তাদের ডেকে জিজ্ঞেস করলো: ‘হে নারীরা! তোমরা যখন ইউসুফকে অসৎ কর্মে ফাঁসাতে চেয়েছিলে, তোমাদের তখনকার ব্যাপারটা কী ছিলো?’ তারা বললো: ‘আল্লাহর কী মহিমা! আমরা তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অসৎ প্রবণতা দেখিনি।’ (এবার) আযীযের স্ত্রী বলে উঠলো: ‘এখন (সবার কাছে) সত্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। মূলত, আমিই তাকে অসৎ কাজে ফাঁসাতে চেষ্টা করেছিলাম। আর সে অবশ্য অবশ্যি সত্যবাদী।’
এটি এ জন্য যে, যাতে সে জানতে পারে, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। আর অবশ্যই বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্ত লক্ষ্যে পৌঁছতে দেন না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা এইজন্য যে, যাহাতে সে জানিতে পারে, তাহার অনুপস্থিতিতে আমি তাহার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করি নাই এবং নিশ্চয়ই বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্র সফল করেন না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(সত্য প্রকাশিত হওয়ায় ইউসুফ বললো:) ‘‘আমি এ জন্যে বিষয়টি তদন্ত (inquiry) করতে বলেছি, যাতে করে তিনি (আযীয মিশর) জানতে পারেন, আমি তার অনুপস্থিতিতে তার খেয়ানত করিনি। আর তো কিছুতেই খিয়ানতকারীদের ষড়যন্ত্র সফলতায় পৌঁছান না।’’
‘আর আমি আমার নাফ্সকে পবিত্র মনে করি না, নিশ্চয় নাফ্স মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, আমার রব যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। নিশ্চয় আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যাহার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। আমার প্রতিপালক তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘আমি আমার নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইছিনা, মানুষের নফস তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করেই, তবে আমার প্রভু যদি কারো প্রতি দয়া করেন, সে - ই কেবল (এ প্ররোচনা থেকে) বাঁচতে পারে। অবশ্যি আমার প্রভু বড় ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।’’
আর বাদশাহ বলল, ‘তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আস, আমি তাকে নিজের জন্য আপন করে নেব’। অতঃপর যখন সে তার সাথে কথা বলল, তখন বলল, ‘নিশ্চয় আজ তুমি আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও আস্থাভাজন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
রাজা বলিল, ‘ইউসুফকে আমার নিকট লইয়া আস; আমি তাহাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করিব।’ অতঃপর রাজা যখন তাহার সঙ্গে কথা বলিল, তখন রাজা বলিল, ‘আজ তুমি তো আমাদের নিকট মর্যাদাশীল, বিশ্বাসভাজন হইলে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
রাজা বললো: ‘এবার ওকে আমার কাছে নিয়ে আসো। আমি তাকে নিজের জন্যে (ব্যক্তিগত সহকারি বা উপদেষ্টা) নিযুক্ত করবো।’ অতপর সে (রাজা) যখন তার সাথে কথা বললো, তখন (তার যোগ্যতায় বিমুগ্ধ হয়ে) বলে উঠলো: ‘(ইউসুফ) আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে উচ্চ মর্যাদাশীল (high in rank) এবং পূর্ণ আস্থাভাজন (fully trusted)।’
আর এমনিভাবে আমি ইউসুফকে যমীনে কর্তৃত্ব প্রদান করেছি, সে তার যেখানে ইচ্ছা অবস্থান করতে পারত। আমি যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমত দান করি, আর আমি সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এইভাবে ইউসুফকে আমি সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করিলাম; সে সেই দেশে যথা ইচ্ছা অবস্থান করিতে পারিত। আমি যাহাকে ইচ্ছা তাহার প্রতি দয়া করি; আমি সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করি না।
আবদুস শহীদ নাসিম
এভাবে আমরা ইউসুফকে সে দেশের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রদান করলাম, যাতে করে সারা দেশের যেখানে যখন ইচ্ছা সে অবস্থান করতে পারে। মূলত যাকে ইচ্ছা আমরা আমার করুণাসিক্ত করে থাকি। আর আমরা উত্তম - পুণ্যবান লোকদের পুরস্কৃত করতে কসুর করিনা।
আর ইউসুফের ভাইয়েরা আসল এবং তার কাছে প্রবেশ করল। অতঃপর সে তাদেরকে চিনল, অথচ তারা তাকে চিনতে পারল না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফের ভ্রাতাগণ আসিল এবং তাহার নিকট উপস্থিত হইল। সে উহাদেরকে চিনিল, কিন্তু উহারা তাহাকে চিনিতে পারিল না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(পরবর্তী সময়ের কথা,) ইউসুফের ভাইয়েরা (খাদ্য শস্যের জন্যে) মিশরে আসে এবং ইউসুফের কাছে উপস্থিত হয়। ইউসুফ তাদের (দেখেই) চিনে ফেলে, কিন্তু তারা তাকে চিনতে পারেনি।
আর সে যখন তাদেরকে তাদের রসদসামগ্রী প্রস্তুত করে দিল, তখন বলল, ‘তোমরা তোমাদের পিতার পক্ষ হতে তোমাদের এক ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আস, তোমরা কি দেখ না, আমি পরিমাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ?
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল তখন সে বলিল, ‘তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভ্রাতাকে লইয়া আস। তোমরা কি দেখিতেছ না যে, আমি মাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ।
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর সে যখন তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সাজিয়ে দিলো, তখন (যাত্রার প্রাক্কালে তাদের) বললো: ‘‘তোমরা (আবার আসার সময়) তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাই (বিনইয়ামিন) কে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা দেখছোনা আমি পাত্র ভরে মেপে দিই, আর আমি একজন উত্তম অতিথি পরায়ণ?’’
আর সে তার যুবক কর্মচারীদেরকে বলল, ‘তাদের পণ্যমূল্য তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে পরিবারের নিকট ফিরে গিয়ে তারা তা চিনতে পারে। আশা করি তারা ফিরে আসবে’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইউসুফ তাহার ভৃত্য - গণকে বলিল, ‘উহারা যে পণ্যমূল্য দিয়াছে তাহা উহাদের মালপত্রের মধ্যে রাখিয়া দাও - যাহাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর উহারা তাহা চিনিতে পারে, তাহা হইলে উহারা পুনরায় আসিতে পারে।’
আবদুস শহীদ নাসিম
ইউসুফ তার কর্মচারিদের বললো: ‘তারা খাদ্য শস্যের যে দাম দিয়েছে, সে অর্থ (গোপনে) তাদের পণ্য সামগ্রীর মধ্যেই রেখে দাও। এতে করে তারা নিজেদের পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে (যখন পণ্য সামগ্রী খুলবে, তখন আমরা যে দ্রব্যমূল্য ফেরত দিয়েছি, তা) জানতে পারবে এবং আমাদের দানশীলতা সম্পর্কেও জানতে পারবে। ফলে আশা করা যায় তারা আবার ফিরে আসবে।’
অতঃপর যখন তারা তাদের বাবার কাছে ফিরে আসল, তখন বলল, ‘হে আমাদের পিতা, আমাদের জন্য পরিমাপকৃত রসদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতএব আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে পাঠান, যেন আমরা পরিমাপ করে রসদ আনতে পারি। আর অবশ্যই আমরা তার হেফাযত করব’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উহারা যখন উহাদের পিতার নিকট ফিরিয়া আসিল, তখন উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমাদের জন্য বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হইয়াছে। সুতরাং আমাদের ভ্রাতাকে আমাদের সঙ্গে পাঠাইয়া দিন যাহাতে আমরা রসদ পাইতে পারি। আমরা অবশ্যই তাহার রক্ষণা - বেক্ষণ করিব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর তারা যখন তাদের পিতার কাছে ফিরে এলো, তাকে বললো: ‘বাবা! আমাদের জন্যে খাদ্য শস্যের বরাদ্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই আমাদের ভাইকে এবার আমাদের সাথে পাঠান, যাতে করে আমরা খাদ্য শস্যের বরাদ্দ পাই। আমরা অবশ্যি তার হিফাযত করবো।’
সে বলল, ‘তোমাদেরকে কি আমি তার ব্যাপারে নিরাপদ মনে করব, যেমন নিরাপদ মনে করেছিলাম ইতঃপূর্বে তার ভাইয়ের ব্যাপারে? তবে উত্তম হেফাযতকারী এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে উহার সম্বন্ধে সেইরূপ বিশ্বাস করিব, যেরূপ বিশ্বাস পূর্বে তোমাদেরকে করিয়া - ছিলাম উহার ভ্রাতা সম্বন্ধে? ই রক্ষণাবেক্ষণে শ্রেষ্ঠ এবং তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের বাপ (ইয়াকুব) বললো: ‘ওর ব্যাপারে আমি তোমাদের প্রতি কি সেরকম আস্থা রাখবো, যেরকম আস্থা রেখেছিলাম ইতোপূর্বে ওর ভাইয়ের (ইউসুফের) ব্যাপারে? আল্লাহই সর্বোত্তম হিফাযতকারী এবং তিনিই সব দয়ালুর বড় দয়ালু।’
আর যখন তারা তাদের মাল-পত্র খুলল, তখন তারা দেখতে পেল তাদের পণ্যমূল্য তাদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা, আমরা আর কী চাই? এই আমাদের পণ্যমূল্য, তা আমাদেরকে ফেরৎ দেয়া হয়েছে। আর আমরা আমাদের পরিবারবর্গের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসব, আমাদের ভাই
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহারা উহাদের মালপত্র খুলিল তখন উহারা দেখিতে পাইল উহাদের পণ্যমূল্য উহাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। উহারা বলিল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করিতে পারি? ইহা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, আমাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হইয়াছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য - সামগ্রী আনিয়া দিব এবং আমরা আমাদের ভ্রাতার রক্ষণাবেক্ষণ করিব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উষ্ট্রবোঝাই পণ্য আনিব; যাহা আনিয়াছি তাহা পরিমাণে অল্প।’
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর তারা যখন তাদের পণ্য সামগ্রীর (বস্তা) খুললো, দেখতে পেলো, তাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। তখন তারা (আনন্দে চিৎকার করে) বলে উঠলো: ‘বাবা! আমরা আর কী চাই! এই যে দেখুন, আমাদের অর্থকড়ি ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আমাদের পরিজনকে (আরো) খাদ্যশস্য এনে দিতে পারবো। আমরা অবশ্যি আমাদের ভাইয়ের হিফাযত করবো এবং অতিরিক্ত এক উট (বিনইয়ামিনের উট) বোঝাই করে খাদ্য শস্য আনবো। এই পরিমাণ অধিক শস্য দেয়া (মিশর শাসকের জন্যে) খুবই সহজ।
সে বলল, ‘আমি তোমাদের সাথে তাকে কখনো পাঠাব না, যতক্ষণ না তোমরা আমাকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার প্রদান কর যে, তাকে অবশ্যই আমার কাছে নিয়ে আসবে। তবে তোমরা (শত্রু বা বিপদ দ্বারা) বেষ্টিত হলে ভিন্ন কথা’। অতঃপর যখন তারা তাকে প্রতিশ্রুতি দিল, তখন সে বলল, ‘আমরা যা বলছ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পিতা বলিল, ‘আমি উহাকে কখনই তোমাদের সঙ্গে পাঠাইব না যতক্ষণ না তোমরা র নামে অঙ্গীকার কর যে, তোমরা উহাকে আমার নিকট লইয়া আসিবেই, অবশ্য যদি তোমরা একান্ত অসহায় হইয়া না পড়।’ অতঃপর যখন উহারা তাহার নিকট প্রতিজ্ঞা করিল তখন সে বলিল, ‘আমরা যে বিষয়ে কথা বলিতেছি, তাহার বিধায়ক।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের পিতা বললো: ‘আমি ওকে কখনো তোমাদের সাথে পাঠাবোনা, যতোক্ষণ না তোমরা এই মর্মে আল্লাহর কসম খেয়ে আমাকে কথা দেবে যে, তোমরা অবশ্যি তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবে। তবে তোমরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে পড়লে ভিন্ন কথা।’ অতপর তারা যখন এই মর্মে শপথ করে তাকে কথা দিলো, তখন সে বললো: ‘দেখো, আমরা যে বিষয়ে কথা স্থির করলাম, তার সাক্ষী স্বয়ং ।’
সে বলল, ‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ কর এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিপরীতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হুকুম একমাত্র আল্লাহরই। তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করছি এবং তাঁরই উপর যেন সকল তাওয়াক্কুলকারী ত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দ্বার দিয়া প্রবেশ করিও না, ভিন্ন ভিন্ন দ্বার দিয়া প্রবেশ করিবে। র বিধানের বিরুদ্ধে আমি তোমাদের জন্য কিছু করিতে পারি না। বিধান রই। আমি তাঁহারই উপর নির্ভর করি এবং যাহারা নির্ভর করিতে চাহে তাহারা রই উপর নির্ভর করুক।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে (তাদের পিতা) আরো বললো: ‘হে আমার সন্তানেরা! তোমরা এক গেইট দিয়ে (এক পথে শহরে) প্রবেশ করোনা, বিভিন্ন প্রবেশ দ্বার দিয়ে প্রবেশ করবে। (তোমরা এভাবে সতর্ক হয়ে প্রবেশ করবে) তবে আল্লাহর ইচ্ছা থেকে আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারবোনা। সর্বময় কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। আমি নিজেকে তাঁর কাছেই ন্যস্ত করতে চাই, তাঁর কাছেই ন্যস্ত করা উচিত।’
আর যখন তারা প্রবেশ করল, যেভাবে তাদের পিতা তাদেরকে আদেশ করেছিল, তা আল্লাহর হুকুমের বিপরীতে তাদের কোন উপকারে আসেনি, তবে তা ছিল ইয়া‘কূবের মনের একটি ইচ্ছা, যা সে ব্যক্ত করেছিল। আর সে ছিল জ্ঞানী, কারণ আমি তাকে শিখিয়েছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন তাহারা, তাহাদের পিতা তাহাদেরকে যেভাবে আদেশ করিয়াছিল, সেইভাবেই প্রবেশ করিল, তখন র বিধানের বিরুদ্ধে উহা তাহাদের কোন কাজে আসিল না; ইয়া‘কূব কেবল তাহার মনের একটি অভিপ্রায় পূর্ণ করিয়াছিল এবং সে অবশ্যই জ্ঞানী ছিল, কারণ আমি তাহাকে শিক্ষা দিয়াছিলাম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ ইহা অবগত নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যখন তাদের পিতার নির্দেশ মতো (বিভিন্ন প্রবেশ পথে শহরে) প্রবেশ করলো, এ (সতর্কতামূলক) ব্যবস্থা আল্লাহর ইচ্ছার মোকাবেলায় তাদের কোনো কাজে আসেনি। তবে ইয়াকুবের মনে এ ব্যবস্থার সুফল সম্পর্কে যে চিন্তার উদ্রেক হয়েছিল, এর ফলে তার সে ভাবনাটা পূর্ণ হয়েছে। অবশ্যি সে আমার প্রদত্ত শিক্ষায় জ্ঞানবান ছিলো। তবে অনেক মানুষই এ বিষয়ে অবগত নয়।
আর যখন তারা ইউসুফের নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তার ভাইকে নিজের কাছে স্থান দিল এবং বলল, ‘আমি তোমার ভাই, কাজেই ইতঃপূর্বে তারা যা করত, তাতে তুমি দুঃখ পেয়ো না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা যখন ইউসুফের সম্মুখে উপস্থিত হইল, তখন ইউসুফ তাহার সহোদরকে নিজের কাছে রাখিল এবং বলিল, ‘নিশ্চয়ই আমিই তোমার সহোদর, সুতরাং উহারা যাহা করিত তাহার জন্য দুঃখ করিও না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা যখন ইউসুফের কাছে (কার্যালয়ে) পৌঁছে, ইউসুফ তার ভাই (বিনইয়ামিন) - কে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। সে তাকে বলে: ‘আমি তোমার (হারানো) ভাই ইউসুফ। এরা যা কিছু (আমাদের সাথে) করে আসছে সে জন্যে এখন আর দুঃখ করোনা।’
অতঃপর সে যখন তাদেরকে তাদের রসদপত্র প্রস্তুত করে দিল, তখন তার ভাইয়ের মালপত্রে পানপাত্রটি রেখে দিল। তারপর একজন ঘোষক ঘোষণা করল, ‘ওহে কাফেলার লোকজন, নিশ্চয় তোমরা চোর’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে যখন উহাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করিয়া দিল, তখন সে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্র রাখিয়া দিল। অতঃপর এক আহ্বায়ক চিৎকার করিয়া বলিল, ‘হে যাত্রীদল! তোমরা নিশ্চয়ই চোর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর ইউসুফ যখন তাদের জন্যে পণ্যসামগ্রী প্রস্তুত করে (করায়) তখন তাদের পণ্যসামগ্রীর মধ্যে পানপাত্র রেখে দেয়। তারপর (তারা যাত্রা করলে) একজন ঘোষক চিৎকার করে ঘোষণা করে: ‘হে কাফেলার লোকেরা! তোমরা চোর।’
তারা বলল, ‘তার শাস্তি হবে, যার মালপত্রের ভিতর ওটি পাওয়া যাবে, সে-ই হবে তার বিনিময়। এভাবেই আমরা যালেমদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘ইহার শাস্তি যাহার মালপত্রের মধ্যে পাত্রটি পাওয়া যাইবে, সে - ই তাহার বিনিময়।’ এইভাবে আমরা সীমালংঘনকারীদেরকে শাস্তি দিয়া থাকি।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা জবাব দিলো: ‘(আমাদের আইনে) এর শাস্তি হলো যার পণ্য সামগ্রীর মধ্যে পান পাত্রটি পাওয়া যাবে, সে - ই এর বিনিময় (হিসেবে গ্রেফতার) হবে। আমাদের দেশে আমরা অন্যায়কারীদের এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।’
তারপর সে তার ভাইয়ের পাত্রের পূর্বে তাদের পাত্রগুলো দিয়ে (তল্লাশী) শুরু করল, তারপর সেটি তার ভাইয়ের পাত্র থেকে বের করল, এভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করলাম। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া বাদশাহ্র আইনে সে তার ভাইকে রেখে দিতে পারত না, আমি যাকে ইচ্ছা তার মর্যাদা উঁচু করে দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর সে তাহার সহোদরের মালপত্র তল্লাশির পূর্বে উহাদের মালপত্র তল্লাশি করিতে লাগিল, পরে তাহার সহোদরের মালপত্রের মধ্য হইতে পাত্রটি বাহির করিল। এইভাবে আমি ইউসুফের জন্য কৌশল করিয়াছিলাম। রাজার আইনে তাহার সহোদরকে সে আটক করিতে পারিত না, ইচ্ছা না করিলে। আমি যাহাকে ইচ্ছা মর্যাদায় উন্নীত করি। প্রত্যেক জ্ঞানবান ব্যক্তির উপর আছেন সর্বজ্ঞানী।
আবদুস শহীদ নাসিম
তারপর সে ইউসুফের সহোদরের মালপত্রের পূর্বে তার সৎ ভাইদের মালপত্রের তল্লাশি শুরু করে। পরে তার সহোদরের পণ্যসামগ্রীর মধ্য থেকে পাত্রটি বের করে। এভাবে আমি ইউসুফের জন্যে কৌশল ঠিক করেছিলাম। মিশর রাজের প্রচলিত আইনে তার ভাইকে নিজের কাছে রেখে দেয়া সম্ভব ছিলনা। তবে চাইলে ভিন্ন কথা। যাকে ইচ্ছা আমি মর্যাদা উঁচু করে দিই। আর প্রত্যেক জ্ঞান ওয়ালার উপরই সর্বজ্ঞানী () আছেন।
তারা বলল, ‘যদি সে চুরি করে থাকে, তবে ইতঃপূর্বে তার এক ভাই চুরি করেছিল’। ইউসুফ বিষয়টি নিজের কাছে গোপন রাখল, তাদের কাছে প্রকাশ করল না, সে (মনে মনে) বলল, ‘তোমাদের অবস্থান তো নিকৃষ্টতর, তোমরা যা বলছ, সে সম্পর্কে ভালভাবেই অবগত’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘সে যদি চুরি করিয়া থাকে তবে তাহার সহোদরও তো পূর্বে চুরি করিয়াছিল।’ কিন্তু ইউসুফ প্রকৃত ব্যাপার নিজের মনে গোপন রাখিল এবং উহাদের নিকট প্রকাশ করিল না; সে মনে মনে বলিল, ‘তোমাদের অবস্থা তো হীনতর এবং তোমরা যাহা বলিতেছ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(ইউসুফের সহোদরের বস্তায় পানপাত্রটি পাওয়ায় তার সৎ ভাইয়েরা) বলে উঠলো: ‘এ যদি আজ চুরি করে থাকে, তবে (এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ) ইতোপূর্বে তার এক সহোদরও (ইউসুফও) চুরি করেছিল।’ ইউসুফ (তাদের এই জঘন্য মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া) নিজের মনের মধ্যে হজম করে নিলো, তাদের সামনে প্রকাশ হতে দিলনা। (শুধু মনে মনে) বললো: ‘একেবারে নিকৃষ্ট পর্যায়ে গিয়ে পৌছেছো তোমরা। যে জঘন্য দোষ তোমরা আমার প্রতি আরোপ করলে সে বিষয়ে আল্লাহই সর্বাধিক অবহিত আছেন।’
তারা বলল, ‘হে আযীয, তার পিতা বড় বৃদ্ধ, আপনি তার স্থলে আমাদের একজনকে নিন, আমরা তো আপনাকে দেখছি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘হে ‘আযীয! ইহার পিতা তো অতিশয় বৃদ্ধ; সুতরাং ইহার স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখিতেছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বললো: ‘হে আযীয ! এর একজন অতিশয় বৃদ্ধ পিতা আছেন। তাই আপনি ওর স্থলে আমাদের কোনো একজনকে রেখে দিন। আমাদের দৃষ্টিতে আপনি একজন মহানুভব - পরোপকারী ব্যক্তি।’
সে বলল, ‘যার কাছে আমাদের মাল পেয়েছি তাকে ছাড়া অন্যকে পাকড়াও করা হতে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি, এমন করলে আমরা হয়ে যাব নিশ্চিত যালিম’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে বলিল, ‘যাহার নিকট আমরা আমাদের মাল পাইয়াছি, তাহাকে ছাড়া অন্যকে রাখার অপরাধ হইতে আমরা র শরণ লইতেছি। এইরূপ করিলে আমরা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হইব।’
আবদুস শহীদ নাসিম
সে (ইউসুফ) বললো: যার কাছে আমাদের জিনিস পেয়েছি, তাকে ছাড়া অন্য কাউকেও আঁটকানোর (মতো অন্যায়) কাজ থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। এমন কাজ করলে তো আমরা যালিম বলে গণ্য হবো।
তারপর যখন তারা তার ব্যাপারে নিরাশ হল, তখন তারা পরামর্শ করতে একান্তে মিলিত হল। তাদের বড়জন বলল, ‘তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের কাছ থেকে আল্লাহর নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন, আর ইতঃপূর্বে তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে যে অন্যায় করেছ? সুতরাং যতক্ষণ না আমার পিতা
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহারা তাহার নিকট হইতে সম্পূর্ণ নিরাশ হইল, তখন উহারা নির্জনে গিয়া পরামর্শ করিতে লাগিল। উহাদের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি বলিল, ‘তোমরা কি জান না যে, তোমাদের পিতা তোমাদের নিকট হইতে র নামে অঙ্গীকার লইয়াছেন এবং পূর্বেও তোমরা ইউসুফের ব্যাপারে ত্রুটি করিয়াছিলে? সুতরাং আমি কিছুতেই এই দেশ ত্যাগ করিব না, যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন অথবা আমার জন্য কোন ব্যবস্থা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বিচারক।
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছ থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হলো, তখন নির্জনে গিয়ে পরামর্শ করতে বসলো। তাদের বড়জন (বড়ভাই) বললো: ‘‘তোমাদের নলেজে কি নেই, তোমাদের পিতা আল্লাহর নামে তোমাদের কাছ থেকে একথার অংগীকার আদায় করেছেন (যে, তোমরা বিনইয়ামিনকে তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেবে)? ইতোপূর্বে তোমরা ইউসুফের ব্যাপারেও (পিতাকে কথা দিয়ে) কথা রাখতে পারোনি। তাই আমি (সিদ্ধান্ত নিয়েছি) আববার অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এ দেশ ত্যাগ করবোনা, যতোক্ষণ না নিজেই (বিনইয়ামিনকে মুক্ত করে) আমার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন। কারণ, তিনিই তো সর্বোত্তম বিচারক।’’
‘তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরে যাও এবং বল, হে আমাদের পিতা, আপনার ছেলে তো চুরি করেছে, আর আমরা যা জানি তাঁরই সাক্ষ্য দিয়েছি এবং আমরা সংরক্ষণকারী নই’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরিয়া যাও এবং বল, ‘হে আমাদের পিতা! আপনার পুত্র তো চুরি করিয়াছে এবং আমরা যাহা জানি তাহারই প্রত্যক্ষ বিবরণ দিলাম। আর অজানা ব্যাপারে আমরা সংরক্ষণকারী নই।
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘তোমরা বাবার কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বলো: বাবা! তোমার ছেলে চুরি করেছে। আমরা (ওকে চুরি করতে) দেখিনি, তবে যা জেনেছি তাই তোমাকে বলছি। আর না দেখা বিষয় তো আমরা হিফাযত করতে পারিনা।’’
সে বলল, ‘বরং তোমাদের নাফ্স তোমাদের জন্য একটি গল্প সাজিয়েছে, সুতরাং (আমার করণীয় হচ্ছে) সুন্দর ধৈর্য। আশা করি, তাদের সকলকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনবেন, নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইয়া‘কূব বলিল, ‘না, তোমাদের মন তোমাদের জন্য একটি কাহিনী সাজাইয়া দিয়াছে, সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়; হয়তো উহাদেরকে একসঙ্গে আমার নিকট আনিয়া দিবেন। অবশ্য তিনিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(তাদের বক্তব্য শুনে তাদের পিতা) ইয়াকুব বললো: ‘না, বরং তোমাদের নফস তোমাদের জন্যে একটা কাজকে সহজ করে দিয়েছে। সুতরাং ধৈর্য ধারণ করাই আমার জন্যে যথোপযুক্ত কাজ। হয়তো ওদের সবাইকে একত্রে আমার সাথে মিলিত করে দেবেন। অবশ্যি তিনি সর্বময় জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মালিক।’
আর তাদের থেকে সে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘ইউসুফের জন্য আফসোস’! আর দুঃখে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে গেল, কিন্তু সে তো সংবরণকারী।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে উহাদের হইতে মুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘আফসোস ইউসুফের জন্য।’ শোকে তাহার চক্ষুদ্বয় সাদা হইয়া গিয়াছিল এবং সে ছিল অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট।
আবদুস শহীদ নাসিম
সে তাদের সাথে কথা না বাড়িয়ে আত্মমগ্ন হয় এবং স্বগতোক্তি করে: ‘ইউসুফের জন্যে আমি শোকাভিভূত!’ এভাবে দুঃখ ও শোকে তার চক্ষুদ্বয় সাদা হয়ে যায়। আর মনোবেদনায় সে পীড়িত হয়ে পড়ে।
‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ খবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাহার সহোদরের অনুসন্ধান কর এবং র আশিস হইতে তোমরা নিরাশ হইও না। কারণ র আশিস্ হইতে কেহই নিরাশ হয় না, সম্প্রদায় ব্যতীত।’
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘হে আমার পুত্ররা! তোমরা যাও, গিয়ে ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান করো। আল্লাহর রহমত (mercy) থেকে নিরাশ হয়োনা। কাফিররা ছাড়া আর কেউই নিরাশ হয়না আল্লাহর রহমত থেকে।’’
অতঃপর যখন তারা ইউসুফের কাছে প্রবেশ করল, তখন বলল, ‘হে আযীয, অভাব-অনটন আমাদেরকে ও আমাদের পরিবারকে স্পর্শ করেছে, আর আমরা তুচ্ছ পুঁজি নিয়ে এসেছি। অতএব, আমাদেরকে মাপে পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন, নিশ্চয় অনুগ্রহকারীদের প্রতিদান দেন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইল তখন বলিল, ‘হে ‘আযীয! আমরা ও আমাদের পরিবার - পরিজন বিপন্ন হইয়া পড়িয়াছি এবং আমরা তুচ্ছ পুঁজি লইয়া আসিয়াছি; আপনি আমাদের রসদ পূর্ণমাত্রায় দিন এবং আমাদেরকে দান করুন; অবশ্যই দাতাগণকে পুরস্কৃত করিয়া থাকেন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
পুনরায় যখন তারা তার (ইউসুফের) কাছে উপস্থিত হলো, বললো: ‘হে আযীয! আমরা এবং আমাদের পরিবার পরিজন যারপর নাই বিপদের মধ্যে পড়েছি, আর সামান্য পূজি আমরা নিয়ে এসেছি। আপনি আমাদের পূর্ণ বরাদ্দ প্রদান করুন এবং আমাদের প্রতি দানের হাত বাড়িয়ে দিন! অবশ্যি দানশীলদের পুরস্কৃত করে থাকেন।’
তারা বলল, ‘তুমি কি সত্যিই ইউসুফ’? সে বলল, আমি ইউসুফ, আর এ আমার সহোদর। আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয় যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং সবর করে, তবে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহারা বলিল, ‘তবে কি তুমিই ইউসুফ?’ সে বলিল, ‘আমিই ইউসুফ এবং এই আমার সহোদর; তো আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি এবং ধৈর্যশীল, তো সেইরূপ সৎকর্মপরায়ণদের শ্রমফল নষ্ট করেন না।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তারা বললো: ‘তবে কি তুমি - তুমিই ইউসুফ?’ সে বললো: ‘আমিই ইউসুফ আর এ আমার সহোদর! আমাদের প্রতি ইহ্সান করেছেন। যারা তাকওয়া আর সবর অবলম্বন করে, নিশ্চয়ই সেইসব মুহসিনদের কর্মফল বৃথা যেতে দেন না।’
‘তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও, অতঃপর সেটি আমার পিতার চেহারায় ফেল। এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমরা তোমাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে আমার কাছে চলে আস’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমরা আমার এই জামাটি লইয়া যাও এবং ইহা আমার পিতার মুখমণ্ডলের উপর রাখিও; তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইবেন। আর তোমাদের পরিবারের সকলকেই আমার নিকট লইয়া আসিও।’
আবদুস শহীদ নাসিম
‘‘তোমরা আমার এই জামাটি নিয়ে আববাজানের কাছে যাও এবং এটি তাঁর মুখমন্ডলে লাগাও, এতে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন। আর তোমাদের পরিবার পরিজন সবাইকে নিয়ে আমার এখানে চলে আসো।’’
আর যখন কাফেলা বের হল, তাদের পিতা বলল, ‘নিশ্চয় আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাচ্ছি, যদি তোমরা আমাকে নির্বোধবৃদ্ধ মনে না কর’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যাত্রীদল যখন বাহির হইয়া পড়িল তখন উহাদের পিতা বলিল, ‘তোমরা যদি আমাকে অপ্রকৃতিস্থ মনে না কর তবে বলি, আমি ইউসুফের ঘ্রাণ পাইতেছি।’
আবদুস শহীদ নাসিম
তাদের কাফেলা যখন (মিশর থেকে) যাত্রা শুরু করলো, তখন তাদের পিতা পরিবারের লোকদের বলতে লাগলো: ‘তোমরা যদি আমাকে বৃদ্ধ বয়সের মতিভ্রম মনে না করো, তবে শুনো! অবশ্যি আমি ইউসুফের সুবাস পাচ্ছি।’
অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা এল, তখন সে জামাটি তার চেহারায় ফেলল। এতে সে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেল, বলল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি, নিশ্চয় আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা জানি তোমরা তা জান না’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন সুসংবাদবাহক উপস্থিত হইল এবং তাহার মুখমণ্ডলের উপর জামাটি রাখিল তখন সে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়া পাইল। সে বলিল, ‘আমি কি তোমাদেরকে বলি নাই যে, আমি র নিকট হইতে জানি যাহা তোমরা জান না?’
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর যখন আনন্দ সংবাদের বাহক এসে উপস্থিত হয়, সে ইউসুফের জামা ইয়াকুবের মুখমন্ডলে রাখে, আর সাথে সাথে সে দৃষ্টি শক্তি ফিরে পায়। সে বলে: ‘আমি কি তোমাদের বলিনি, আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন সব বিষয় জানি, যা তোমরা জানোনা?’
অতঃপর যখন তারা ইউসুফের নিকট প্রবেশ করল, তখন সে তার পিতামাতাকে নিজের কাছে স্থান করে দিল এবং বলল, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় আপনারা নিরাপদে মিসরে প্রবেশ করুন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর উহারা যখন ইউসুফের নিকট উপস্থিত হইল, তখন সে তাহার পিতা - মাতাকে আলিংগন করিল এবং বলিল, ‘আপনারা র ইচ্ছায় নিরাপদে মিশরে প্রবেশ করুন।’
আবদুস শহীদ নাসিম
অতপর তারা (মিশরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে) যখন ইউসুফের কাছে (সীমানায়) এসে পৌঁছে, ইউসুফ (তাদের অভ্যর্থনা জানাবার জন্যে এগিয়ে যায়), নিজের আববা আম্মাকে নিজের সাথে নিয়ে নেয় এবং (সবাইকে) বলে: ‘ইনশাল্লাহ, আপনারা নিরাপদ নিশ্চিন্তে মিশরে প্রবেশ করুন।’
আর সে তার পিতামাতাকে রাজাসনে উঠাল এবং তারা সকলে তার সামনে সেজদায় লুটিয়ে পড়ল এবং সে বলল, ‘হে আমার পিতা, এই হল আমার ইতঃপূর্বের স্বপ্নের ব্যাখ্যা, আমার রব তা বাস্তবে পরিণত করেছেন আর তিনি আমার উপর এহসান করেছেন, যখন আমাকে জেলখানা থেকে বের করেছেন এবং তোমাদেরকে
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং ইউসুফ তাহার মাতা - পিতাকে উচ্চাসনে বসাইল এবং উহারা সকলে তাহার সম্মানে সিজ্দায় লুটাইয়া পড়িল। সে বলিল, ‘হে আমার পিতা! ইহাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা; আমার প্রতিপালক উহা সত্যে পরিণত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে কারাগার হইতে মুক্ত করিয়া এবং শয়তান আমার ও আমার ভ্রাতাদের সম্পর্ক নষ্ট করিবার পরও আপনাদেরকে মরু অঞ্চল হইতে এখানে আনিয়া দিয়া আমার প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন। আমার প্রতিপালক যাহা ইচ্ছা তাহা নিপুণতার সঙ্গে করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’
আবদুস শহীদ নাসিম
আর সে নিজের পিতা মাতাকে উচ্চাসনে উঠিয়ে নেয়। তখন তারা সবাই ইউসুফের প্রতি সাজদায় অবনত হয়। আর ইউসুফ তার পিতাকে বলে: ‘আববাজান! ইতোপূর্বে (ছোটবেলায়) আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, এটাই সে স্বপ্নের তা’বিল (তাৎপর্য)। আমার প্রভু সেই স্বপ্নটিকে সত্যে পরিণত করেছেন। তাছাড়া আমার মহান প্রভু আমাকে কারাগার থেকে বের করে এনে এবং শয়তান আমার ও আমার ভাইদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে দেয়ার পরও আপনাদের সবাইকে মরু অঞ্চল থেকে এখানে এনে আমার সাথে মিলিত করে দিয়ে আমার প্রতি বিরাট ইহ্সান করেছেন। আসলে আমার প্রভু যার প্রতি ইচ্ছা করেন, খুবই কোমল - দয়ালু হয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞানী - প্রজ্ঞাময়।’’
‘হে আমার রব, আপনি আমাকে কিছু রাজত্ব দান করেছেন এবং স্বপ্নের কিছু ব্যাখ্যা শিখিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে আপনিই আমার অভিভাবক, আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং নেককারদের সাথে আমাকে যুক্ত করুন’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে রাজ্য দান করিয়াছ এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়াছ। হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! তুমিই ইহলোক ও পরলোকে আমার অভিভাবক। তুমি আমাকে মুসলিম হিসাবে মৃত্যু দাও এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত কর।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(ইউসুফ এসময় বিনয়ের সাথে দোয়া করে। দোয়ায়) সে বলে: ‘‘আমার প্রভু! তুমি আমাকে রাষ্ট্র ক্ষমতা দান করেছো এবং আমাকে সকল কথার (কিংবা সকল বিষয়ের, অথবা স্বপ্নের) তাৎপর্য উপলব্ধি করার শিক্ষা দান করেছো! মহাবিশ্ব আর এই পৃথিবীর (একমাত্র স্রষ্টা তুমি! এই পৃথিবীর জীবনে এবং আখিরাতে তুমিই আমার অভিভাবক! তোমার প্রতি আত্মসমর্পণকারী হিসেবে আমাকে মৃত্যু দান করো, আর আমাকে সাথি বানিয়ে দাও সালেহ্ লোকদের।’’
এগুলো গায়েবের সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে ওহী করছি। তুমি তো তাদের নিকট ছিলে না যখন তারা তাদের সিদ্ধান্তে একমত হয়েছিল অথচ তারা ষড়যন্ত্র করছিল।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
ইহা অদৃশ্যলোকের সংবাদ যাহা তোমাকে আমি ওহী দ্বারা অবহিত করিতেছি; ষড়যন্ত্রকালে যখন উহারা মতৈক্যে পৌঁছিয়াছিল, তখন তুমি উহাদের সঙ্গে ছিলে না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুহাম্মদ! এতোক্ষণ যে ইতিহাস তোমাকে জানানো হলো) সেটা একটা সংবাদ, যা অহির মাধ্যমে আমরা তোমাকে জানালাম। নতুবা তুমি তো আর সে সময় তাদের ওখানে উপস্থিত ছিলেনা, যখন তারা (ইউসুফের ভাইয়েরা ইউসুফের বিরুদ্ধে) একজোট হয়ে ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিল।
আর তুমি এর উপর তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও না, এ তো (কুরআন) সমগ্র সৃষ্টির জন্য উপদেশমাত্র।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
এবং তুমি তাহাদের নিকট ইহার জন্য কোন পারিশ্রমিক দাবি করিতেছ না। ইহা তো বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ ব্যতীত কিছু নয়।
আবদুস শহীদ নাসিম
অথচ তুমি তো (আল্লাহর দিকে আহবান করার) একাজের বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক দাবি করছোনা। এ (কুরআন) তো বিশ্ববাসীর জন্যে (মহাকল্যাণের) এক উপদেশ ছাড়া আর কিছুই নয়।
বল, ‘এটা আমার পথ। আমি জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেই এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও। আর পবিত্র মহান এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘ইহাই আমার পথ : র প্রতি মানুষকে আমি আহ্বান করি সজ্ঞানে - আমি এবং আমার অনুসারিগণও। মহিমান্বিত এবং যাহারা র শরীক করে আমি তাহাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুহাম্মদ!) তুমি তাদের বলে দাও: ‘এটাই আমার পথ, আমি তোমাদের আল্লাহর দিকে ডাকছি দীপ্ত জ্ঞানের পূর্ণ আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে - আমি এবং আমার সাথিরা। আর পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তরভুক্ত নই।’
আর আমি তোমার পূর্বে জনপদবাসী থেকে পুরুষদেরকেই কেবল রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি, যাদের উপর আমি ওহী নাযিল করতাম। তারা কি যমীনে বিচরণ করে না। তাহলে দেখত, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণতি কিরূপ হয়েছে? আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখিরাতের আবাসনই উত্ত
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তোমার পূর্বেও জনপদবাসীদের মধ্য হইতে পুরুষগণকেই প্রেরণ করিয়াছিলাম, যাহাদের নিকট ওহী পাঠাইতাম। তাহারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে নাই এবং তাহাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হইয়াছিল তাহা কি দেখে নাই? যাহারা তাহাদের জন্য পরলোকই শ্রেয়; তোমরা কি বুঝ না?
আবদুস শহীদ নাসিম
(হে মুহাম্মদ!) তোমার আগেও আমি মানুষ ছাড়া আর কাউকেও রসূল বানিয়ে পাঠাইনি। তারাও জনপদেরই ছিলো বাসিন্দা, তাদের প্রতি আমি অহি পাঠিয়েছি। এরা কি পৃথিবী ভ্রমণ করে দেখতে পারেনা, তাদের আগেকার (যারা আমার নবীদের অমান্য করেছিল, সেইসব) লোকদের কী (করুণ) পরিণতি হয়েছিল? যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপন করে, তাদের জন্যে আখিরাতের ঘরই উত্তম। এরপরও কি তোমাদের বোধোদয় হবেনা?
অবশেষে যখন রাসূলগণ (কওমের ঈমান থেকে) নিরাশ হয়ে গেল এবং তারা* মনে করল তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য আসল, অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা নাজাত দেই, আর অপরাধী কওম থেকে আমার শাস্তি ফেরানো হয় না। * (ক) এখানে ‘তারা’ বলতে রাসূলদের অনুসারীদের বু
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হইল এবং লোকে ভাবিল যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হইয়াছে তখন তাহাদের নিকট আমার সাহায্য আসিল। এইভাবে আমি যাহাকে ইচ্ছা করি সে উদ্ধার পায়। অপরাধী সম্প্রদায় হইতে আমার শাস্তি রদ করা যায় না।
আবদুস শহীদ নাসিম
(তাদের ধ্বংস করে দেয়ার কাজটি ততোক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়েছিল) যতোক্ষণ না রসূলেরা সম্পূর্ণ নিরাশ হয়েছে এবং ফায়সালায় উপনীত হয়েছে যে, তাদেরকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তারপর (যখন সে অবস্থা সৃষ্টি হয় তখন) রসূলদের পক্ষে আমার সাহায্য গিয়ে হাজির হয়। অতপর আমি যাকে চাই, তাকে বাঁচাই। কিন্তু অপরাধীদের উপর থেকে আমার শাস্তি প্রতিরোধ করার আর কেউই থাকেনা।
তাদের এ কাহিনীগুলোতে অবশ্যই বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষা, এটা কোন বানানো গল্প নয়, বরং তাদের পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যায়নকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ। আর হিদায়াত ও রহমত ঐ কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন
উহাদের বৃত্তান্তে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা। ইহা এমন বাণী যাহা মিথ্যা রচনা নয়। কিন্তু মু’মিনদের জন্য ইহা পূর্বগ্রন্থে যাহা আছে তাহার প্রত্যয়ন এবং সমস্ত কিছুর বিশদ বিবরণ, হিদায়াত ও রহমত।
আবদুস শহীদ নাসিম
আগেকার লোকদের (এসব করুণ) কাহিনীতে বুঝ - বুদ্ধি ওয়ালা লোকদের জন্যে রয়েছে এক বড় শিক্ষা (lesson)। (এই কুরআন) কোনো বানোয়াট বিবৃতি নয়। বরঞ্চ এটা হলো সেই শাশ্বত গ্রন্থ যা তার পূর্বে পাঠানো কিতাবের বক্তব্যকে সমর্থন করে এবং সকল বিষয়ের বিশদ বিবরণ প্রদান করে। তাছাড়া যারা (কুফরের পথ ত্যাগ করে) ঈমানের পথে আসে, এ কিতাব তাদের জন্যে পথ প্রদর্শক আর করুণাধারা।