কসম ধূলিঝড়ের,
শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
শপথ অণু ঝড়ের,
Chapter 51, 60 verses
কসম ধূলিঝড়ের,
শপথ ধূলিঝঞ্ঝার,
কসম ঝঞ্ঝাবায়ুর।
শপথ অণু ঝড়ের,
অতঃপর, পানির বোঝা বহনকারী মেঘমালার,
শপথ বোঝা বহনকারী মেঘপুঞ্জের,
অতঃপর বোঝা বহনকারী মেঘের।
শপথ ভারি পানি বহনকারী মেঘমালার,
অতঃপর মৃদুগতিতে চলমান নৌযানসমূহের,
শপথ স্বচ্ছন্দগতি নৌযানের,
অতঃপর মৃদু চলমান জলযানের,
শপথ সহজ গতির নৌযানের,
অতঃপর [আল্লাহর] নির্দেশ বণ্টনকারী ফেরেশতাগণের।
শপথ কর্ম বণ্টনকারী ফিরিশ্তাগণের -
অতঃপর কর্ম বন্টনকারী ফেরেশতাগণের,
শপথ কাজ বণ্টনকারী (ফেরেশতা)দের,
তোমরা যে ওয়াদাপ্রাপ্ত হয়েছ তা অবশ্যই সত্য।
তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অবশ্যই সত্য।
তোমাদের প্রদত্ত ওয়াদা অবশ্যই সত্য।
তোমাদের যে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্য অবশ্যি সত্য।
নিশ্চয় প্রতিদান অবশ্যম্ভাবী।
কর্মফল দিবস অবশ্যম্ভাবী।
ইনসাফ অবশ্যম্ভাবী।
প্রতিফল দিবস অবশ্যি সংঘটিত হবে।
কসম সৌন্দর্যমন্ডিত আকাশের
শপথ বহু পথবিশিষ্ট আকাশের,
পথবিশিষ্ট আকাশের কসম,
শপথ অনেক পথ বিশিষ্ট আসমানের,
নিশ্চয় তোমরা মতবিরোধপূর্ণ কথায় লিপ্ত।
তোমরা তো পরস্পর বিরোধী কথায় লিপ্ত।
তোমরা তো বিরোধপূর্ণ কথা বলছ।
নিশ্চয়ই তোমরা লিপ্ত (আল্লাহর রসূল ও কুরআন সম্পর্কে) পরস্পর বিরোধী কথাবার্তায়।
যে পথভ্রষ্ট হয়েছে তাকেই তা থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
যে ব্যক্তি সত্যভ্রষ্ট সে - ই উহা পরিত্যাগ করে,
যে ভ্রষ্ট, সেই এ থেকে মুখ ফিরায়,
তা থেকে (কুরআন থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় তো ঐ ব্যক্তি যে সত্যভ্রষ্ট।
মিথ্যাচারীরা ধ্বংস হোক!
অভিশপ্ত হউক মিথ্যাচারীরা,
অনুমানকারীরা ধ্বংস হোক,
মিথ্যাবাদীরা মারা পড়েছে,
যারা সন্দেহ-সংশয়ে নিপতিত, উদাসীন।
যাহারা অজ্ঞ ও উদাসীন!
যারা উদাসীন, ভ্রান্ত।
যারা নিমজ্জিত অজ্ঞতা আর উদাসীনতায়।
তারা জিজ্ঞাসা করে, ‘প্রতিদান দিবস’ কবে’?
উহারা জিজ্ঞাসা করে, ‘কর্মফল দিবস কবে হইবে?’
তারা জিজ্ঞাসা করে, কেয়ামত কবে হবে?
তারা তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, কবে আসবে প্রতিদান দিবস?
‘যে দিন তারা অগ্নিতে সাজাপ্রাপ্ত হবে’।
বল, ‘সেই দিন যখন উহাদেরকে শাস্তি দেওয়া হইবে অগ্নিতে।’
যেদিন তারা অগ্নিতে পতিত হবে,
সেদিন আসবে প্রতিদান দিবস, যেদিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে জাহান্নামে।
বলা হবে, ‘তোমাদের আযাব আস্বাদন কর, এটিতো ‘তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিলে।’
‘তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর, তোমরা এই শাস্তিই ত্বরান্বিত করিতে চাহিয়াছিলে।’
তোমরা তোমাদের শাস্তি আস্বাদন কর। তোমরা একেই ত্বরান্বিত করতে চেয়েছিল।
তোমরা আস্বাদন করো তোমাদের শাস্তি। এই আযাবই তোমরা দ্রুত চেয়েছিলে।
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতসমূহে ও ঝর্ণাধারায়,
সেদিন নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকিবে প্রস্রবণ - বিশিষ্ট জান্নাতে,
খোদাভীরুরা জান্নাতে ও প্রস্রবণে থাকবে।
মুত্তাকিরা থাকবে জান্নাতে আর ঝরণা ধারায়,
তাদের রব তাদের যা দিবেন তা তারা খুশীতে গ্রহণকারী হবে। ইতঃপূর্বে এরাই ছিল সৎকর্মশীল।
উপভোগ করিবে তাহা যাহা তাহাদের প্রতিপালক তাহাদেরকে দিবেন; কারণ পার্থিব জীবনে তাহারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
এমতাবস্থায় যে, তারা গ্রহণ করবে যা তাদের পালনকর্তা তাদেরকে দেবেন। নিশ্চয় ইতিপূর্বে তারা ছিল সৎকর্মপরায়ণ,
তারা সেখানে উপভোগ করবে তাদের প্রভুর দেয়া নিয়ামতরাজি। কারণ ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তারা ছিলো কল্যাণপরায়ণ পুণ্যবান।
রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাতো।
তাহারা রাত্রির সামান্য অংশই অতিবাহিত করিত নিদ্রায়,
তারা রাত্রির সামান্য অংশেই নিদ্রা যেত,
তারা রাতের সামান্য অংশই ব্যয় করতো নিদ্রায়,
আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত।
রাত্রির শেষ প্রহরে তাহারা ক্ষমা প্রার্থনা করিত,
রাতের শেষ প্রহরে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত,
শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো,
আর তাদের ধনসম্পদে রয়েছে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক।
এবং তাহাদের ধন - সম্পদে রহিয়াছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।
এবং তাদের ধন - সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের হক ছিল।
তাদের অর্থ - সম্পদে ছিলো অধিকার সাহায্যপ্রার্থী এবং বঞ্চিতদের।
সুনিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য যমীনে অনেক নিদর্শন রয়েছে।
নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে ধরিত্রীতে
বিশ্বাসকারীদের জন্যে পৃথিবীতে নিদর্শনাবলী রয়েছে,
পৃথিবীতেই রয়েছে নিদর্শন বিশ্বাসীদের জন্যে,
তোমাদের নিজদের মধ্যেও। তোমরা কি চক্ষুষ্মান হবে না?
এবং তোমাদের মধ্যেও। তোমরা কি অনুধাবন করিবে না?
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও, তোমরা কি অনুধাবন করবে না?
এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও। তোমরা কি ভেবে দেখবে না?
আকাশে রয়েছে তোমাদের রিয্ক ও প্রতিশ্রুত সব কিছু।
আকাশে রহিয়াছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুতি সমস্ত কিছু।
আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।
আর তোমাদের জীবিকা রয়েছে আসমানে এবং তোমাদের যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে সেগুলোও।
অতএব আসমান ও যমীনের রবের কসম, তোমরা যে কথা বলে থাক তার মতই এটি সত্য।
আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ! অবশ্যই তোমাদের বাক্স্ফূর্তির মতই এই সকল সত্য।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তার কসম, তোমাদের কথাবার্তার মতই এটা সত্য।
আকাশ ও পৃথিবীর প্রভুর শপথ, তোমাদের পারস্পরিক কথাবার্তার মতোই এ (কুরআন) এক মহাসত্য।
তোমার কাছে কি ইবরাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে?
তোমার নিকট ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত আসিয়াছে কি?
আপনার কাছে ইব্রাহীমের সম্মানিত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?
তোমার কাছে কি এসেছে ইবরাহিমের সম্মানিত মেহমানদের ঘটনা?
যখন তারা তার কাছে আসল এবং বলল, ‘সালাম’, উত্তরে সেও বলল, ‘সালাম’। এরা তো অপরিচিত লোক।
যখন উহারা তাহার নিকট উপস্থিত হইয়া বলিল, ‘সালাম’। উত্তরে সে বলিল,‘সালাম’। ইহারা তো অপরিচিত লোক।
যখন তারা তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বললঃ সালাম, তখন সে বললঃ সালাম। এরা তো অপরিচিত লোক।
তারা যখন তার ঘরে প্রবেশ করেছিল, বলেছিল: ‘সালাম।’ জবাবে সেও বলেছিল: ‘সালাম।’ সে আরো বলেছিল: আপনারা তো অপরিচিত লোক!’
অতঃপর সে দ্রুত চুপিসারে নিজ পরিবারবর্গের কাছে গেল এবং একটি মোটা-তাজা গো- (ভাজা) নিয়ে আসল।
অতঃপর ইব্রাহীম তাহার স্ত্রীর নিকট গেল এবং একটি মাংসল গো - বৎস ভাজা লইয়া আসিল
অতঃপর সে গ্রহে গেল এবং একটি ঘৃতেপক্ক মোটা গোবৎস নিয়ে হাযির হল।
তখন সে তার পরিবারের (স্ত্রীর) কাছে ছুটে গেলো এবং একটি মাংসল গো - ভুনা করে নিয়ে এলো।
অতঃপর সে তা তাদের সামনে পেশ করল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
ও তাহাদের সামনে রাখিল এবং বলিল, ‘তোমরা খাইতেছ না কেন?’
সে গোবৎসটি তাদের সামনে রেখে বললঃ তোমরা আহার করছ না কেন?
সেটি তাদের কাছে রাখলো। তারপর বললো: ‘আপনারা খাচ্ছেন না যে?’
এতে তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হল। তারা বলল, ‘ভয় পেয়োনা, তারা তাকে এক বিদ্বান পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল’।
ইহাতে উহাদের সম্পর্কে তাহার মনে ভীতির সঞ্চার হইল। উহারা বলিল, ‘ভীত হইও না।’ অতঃপর উহারা তাহাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
অতঃপর তাদের সম্পর্কে সে মনে মনে ভীত হলঃ তারা বললঃ ভীত হবেন না। তারা তাঁকে একট জ্ঞানীগুণী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিল।
এতে করে তাদের ব্যাপারে তার মনে ভয়ের সঞ্চার হয়। তখন তারা বললো: ‘আপনি ভয় পাবেন না।’ তারা তাকে সুসংবাদ দিলো এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের।
তখন তার স্ত্রী চিৎকার করতে করতে এগিয়ে আসল এবং নিজ মুখ চাপড়িয়ে বলল, ‘বৃদ্ধা-বন্ধ্যা’।
তখন তাহার স্ত্রী চিৎকার করিতে করিতে সম্মুখে আসিল এবং গাল চাপড়াইয়া বলিল, ‘এই বৃদ্ধ - বন্ধ্যার সন্তান হইবে!’
অতঃপর তাঁর স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এল এবং মুখ চাপড়িয়ে বললঃ আমি তো বৃদ্ধা, বন্ধ্যা।
তখন তার স্ত্রী চীৎকার করতে করতে সামনে এগিয়ে এলো এবং গাল চাপড়িয়ে বললো: ‘এই বৃদ্ধার সন্তান হবে?’
তারা বলল, ‘তোমার রব এরূপই বলেছেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ’।
তাহারা বলিল, ‘তোমার প্রতিপালক এইরূপই বলিয়াছেন ; তিনিই প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।’
তারা বললঃ তোমার পালনকর্তা এরূপই বলেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
তারা বললো: ‘আপনার প্রভু একথাই বলেছেন, তিনি প্রজ্ঞাবান সর্বজ্ঞানী।’
ইবরাহীম বলল, ‘হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কী?
ইব্রাহীম বলিল, ‘হে ফিরিশ্তাগণ! তোমাদের বিশেষ কাজ কী?’
ইব্রাহীম বললঃ হে প্রেরিত ফেরেশতাগণ, তোমাদের উদ্দেশ্য কি?
ইবরাহিম বললো: ‘হে প্রেরিত ফেরেশতারা! আপনারা বিশেষ কী দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন?’
তারা বলল, ‘আমরা এক অপরাধী কওমের প্রতি প্রেরিত হয়েছি’।
উহারা বলিল, ‘আমাদেরকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরণ করা হইয়াছে।
তারা বললঃ আমরা এক অপরাধী সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি,
তারা বললো: ‘‘আমাদের পাঠানো হয়েছে অপরাধী (লুত) সম্প্রদায়ের প্রতি
‘যাতে তাদের উপর মাটির শক্ত ঢেলা নিক্ষেপ করি’।
‘উহাদের উপর নিক্ষেপ করিবার জন্য মাটির শক্ত ঢেলা,
যাতে তাদের উপর মাটির ঢিলা নিক্ষেপ করি।
তাদের উপর পোড়া মাটির ঢিল নিক্ষেপ করার জন্যে,
‘যা তোমার রবের পক্ষ থেকে চিহ্নিত সীমালংঘনকারীদের জন্য’।
‘যাহা সীমালংঘনকারীদের জন্য চিহ্নিত তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে।’
যা সীমাতিক্রমকারীদের জন্যে আপনার পালনকর্তার কাছে চিহ্নিত আছে।
সেগুলো সীমালংঘনকারীদের জন্যে চিহ্নিত আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে।
অতঃপর সেখানে যেসব ছিল আমি তাদেরকে বের করে নিয়ে আসলাম।
সেখানে যেসব ছিল আমি তাহাদেরকে উদ্ধার করিয়াছিলাম,
অতঃপর সেখানে যারা ছিল, আমি তাদেরকে উদ্ধার করলাম।
সেখানে যারা ছিলো তাদেরকে আমরা বের করে এনেছিলাম,
তবে আমি সেখানে একটি বাড়ী ছাড়া কোন মুসলমান পাইনি।
আর সেখানে আমি একটি পরিবার ব্যতীত কোন আত্মসর্মপণকারী পাই নাই।
এবং সেখানে একটি গৃহ ব্যতীত কোন মুসলমান আমি পাইনি।
আর সেখানে আমরা একটির বেশি মুসলিম পরিবার পাইনি।’’
আর আমি তাদের জন্য সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে ।
যাহারা মর্মন্তুদ শাস্তিকে ভয় করে আমি তাহাদের জন্য উহাতে একটি নিদর্শন রাখিয়াছি।
যারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করে, আমি তাদের জন্যে সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাবকে ভয় করে, তাদের জন্যে আমরা সেখানে একটি নিদর্শন রেখেছি।
আর মূসার কাহিনীতেও নিদর্শন রয়েছে, যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফির‘আউনের কাছে পাঠিয়েছিলাম।
এবং নিদর্শন রাখিয়াছি মূসার বৃত্তান্তে, যখন আমি তাহাকে স্পষ্ট প্রমাণসহ ফির‘আওনের নিকট প্রেরণ করিয়া - ছিলাম,
এবং নিদর্শন রয়েছে মূসার বৃত্তান্তে; যখন আমি তাকে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফেরাউনের কাছে প্রেরণ করেছিলাম।
নিদর্শন রেখেছি আমরা মূসার ঘটনাতেও, যখন আমরা তাকে পাঠিয়েছিলাম ফেরাউনের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে।
কিন্তু সে তার দলবলসহ মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বলল, ‘এ ব্যক্তি যাদুকর অথবা উম্মাদ।’
তখন সে ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরাইয়া লইল এবং বলিল, ‘এই ব্যক্তি হয় এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ।
অতঃপর সে শক্তিবলে মুখ ফিরিয়ে নিল এবং বললঃ সে হয় যাদুকর, না হয় পাগল।
তখন সে (ফেরাউন) ক্ষমতার দম্ভে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলেছিল: ‘এতো একজন ম্যাজেসিয়ান, কিংবা পাগল।’
ফলে আমি তাকে ও তার সৈন্য-সামন্তকে পাকড়াও করলাম। অতঃপর তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে তো ছিল তিরস্কৃত।
সুতরাং আমি তাহাকে ও তাহার দলবলকে শাস্তি দিলাম এবং উহাদের সমুদ্রে নিক্ষেপ করিলাম, সে তো ছিল তিরস্কারযোগ্য।
অতঃপর আমি তাকে ও তার সেনাবাহিনীকে পাকড়াও করলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। সে ছিল অভিযুক্ত।
ফলে আমরা পাকড়াও করেছিলাম তাকে এবং তার বাহিনীকে এবং তাদের নিক্ষেপ করেছিলাম সমুদ্রে। সে এক তিরস্কারযোগ্য ব্যক্তি।
আর ‘আদ জাতির ঘটনায়ও (নিদর্শন রয়েছে), যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অমঙ্গলজনক বায়ু।
এবং নিদর্শন রহিয়াছে ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাহাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলাম অকল্যাণকর বায়ু ;
এবং নিদর্শন রয়েছে তাদের কাহিনীতে; যখন আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম অশুভ বায়ু।
নিদর্শন রয়েছে আদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও। আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক বন্ধ্যা ঝড়।
ঐ বায়ু যার উপরে এসেছিল তাকে রেখে যায়নি, বরং সবকিছুকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।
ইহা যাহা কিছুর উপর দিয়া বহিয়া গিয়াছিল তাহাকেই চূর্ণ - বিচূর্ণ করিয়া দিয়াছিল,
এই বায়ু যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিলঃ তাকেই চুর্ণ - বিচুর্ণ করে দিয়েছিল।
তা যা কিছুর উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল, সবই ধূলিস্যাত করে দিয়েছিল।
আর সামূদ জাতির ঘটনায়ও (নিদর্শন রয়েছে)। যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ‘একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত ভোগ করে নাও’।
আরও নিদর্শন রহিয়াছে সামূদের বৃত্তান্তে, যখন তাহাদেরকে বলা হইয়াছিল, ‘ভোগ করিয়া নাও স্বল্পকাল।’
আরও নিদর্শন রয়েছে সামূদের ঘটনায়; যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, কিছুকাল মজা লুটে নাও।
সামুদ সম্প্রদায়ের ঘটনাতেও রয়েছে নিদর্শন। তাদের বলা হয়েছিল: ‘সামান্য ক’দিন ভোগ করে নাও।’
অতঃপর তারা তাদের রবের আদেশ সম্পর্কে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করল। ফলে বজ্রাঘাত তাদেরকে পাকড়াও করল, আর তারা তা দেখছিল।
কিন্তু উহারা উহাদের প্রতিপালকের আদেশ অমান্য করিল ; ফলে উহাদের প্রতি বজ্রাঘাত হইল এবং উহারা উহা দেখিতেছিল।
অতঃপর তারা তাদের পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল এবং তাদের প্রতি বজ্রঘাত হল এমতাবস্থায় যে, তারা তা দেখেছিল।
কিন্তু তারা অমান্য করে তাদের প্রভুর নির্দেশ। ফলে তাদের পাকড়াও করে প্রচন্ড বজ্রাঘাত এবং তারা তা দেখছিল।
অতঃপর তারা উঠে দাঁড়াতে পারল না এবং প্রতিরোধও করতে পারল না।
উহারা উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিল না এবং উহা প্রতিরোধ করিতেও পারিল না।
অতঃপর তারা দাঁড়াতে সক্ষম হল না এবং কোন প্রতিকারও করতে পারল না।
তারা উঠেও দাঁড়াতে পারেনি এবং প্রতিরোধও করতে পারেনি।
আর ইতঃপূর্বে নূহের কওমকেও (আমি ধ্বংস করে দিয়েছিলাম)। নিশ্চয় তারা ছিল ফাসিক কওম।
আমি ধ্বংস করিয়াছিলাম ইহাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে, ইহারা তো ছিল সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।
আমি ইতিপূর্বে নূহের সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি। নিশ্চিতই তারা ছিল পাপাচারী সম্প্রদায়।
আরো আগে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম নূহের জাতিকেও। তারা ছিলো এক ফাসিক (সীমালংঘনকারী সত্যত্যাগী) জাতি।
আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।
আমি আকাশ নির্মাণ করিয়াছি আমার ক্ষমতাবলে এবং আমি অবশ্যই মহা - সম্প্রসারণকারী।
আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
আমরা আকাশ বানিয়েছি শক্ত হাতে এবং নিশ্চয়ই আমরা এর বিস্তৃতি সম্প্রসারণ করতে সক্ষম।
আর আমি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কতইনা সুন্দর বিছানা প্রস্তুতকারী!
আর ভূমি, আমি উহাকে বিছাইয়া দিয়াছি, আমি কত সুন্দর প্রসারণকারী!
আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
আর পৃথিবীকে আমরা বিছিয়ে দিয়েছি, কতো যে উত্তম প্রসারণকারী আমরা!
আর প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।
আর প্রত্যেক বস্তু আমি সৃষ্টি করিয়াছি জোড়ায় জোড়ায়, যাহাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।
আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।
প্রতিটি বস্ত্তকে আমরা সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করো।
অতএব তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তো তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
অতএব তোমরা র দিকে ধাবিত হও, আমি তো তোমাদের প্রতি - প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।
অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
অতএব তোমরা দৌড়াও আল্লাহর দিকে, আমি তোমাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
আর তোমরা আল্লাহর সাথে কোন নির্ধারণ করো না; আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এক স্পষ্ট সতর্ককারী।
তোমরা র সঙ্গে কোন ইলাহ্ স্থির করিও না; আমি তোমাদের প্রতি - প্রেরিত স্পষ্ট সতর্ককারী।
তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
তোমরা আল্লাহর সাথে অপর কোনো ইলাহ্ সাব্যস্ত করোনা। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্যে এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
এভাবে তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে যে রাসূলই এসেছে, তারা বলেছে, ‘এ তো একজন যাদুকর অথবা উন্মাদ।’
এইভাবে উহাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছে উহারা তাহাকে বলিয়াছে, ‘তুমি তো এক জাদুকর, না হয় এক উন্মাদ!’
এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল আগমন করেছে, তারা বলছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ।
এভাবে তাদের আগেকার লোকদের কাছেও যখনই কোনো রসূল এসেছিল, তারা তাকে বলেছিল: ‘তুমি একজন ম্যাজেসিয়ান কিংবা পাগল।’
তারা কি একে অন্যকে এ বিষয়ে ওসিয়াত করেছে? বরং তারা সীমালংঘনকারী কওম।
উহারা কি একে অপরকে এই যন্ত্রণাই দিয়া আসিয়াছে? বস্তুত উহারা সীমা - লংঘনকারী সম্প্রদায়।
তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে গেছে? বস্তুতঃ ওরা দুষ্ট সম্প্রদায়।
তারা কি একে অপরকে (ধারাবাহিকভাবে) এই অসিয়তই করে আসছে? আসলে তারা একটি সীমালংঘনকারী কওম।
অতএব, তুমি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, এতে তুমি তিরস্কৃত হবে না।
অতএব তুমি উহাদেরকে উপেক্ষা কর, ইহাতে তুমি অভিযুক্ত হইবে না।
অতএব, আপনি ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন। এতে আপনি অপরাধী হবেন না।
সুতরাং তুমি তাদের উপেক্ষা করো। এর জন্যে তুমি তিরস্কৃত হবেনা।
এবং উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ মু’মিনদেরই উপকারে আসে।
এবং বোঝাতে থাকুন; কেননা, বোঝানো মুমিনদের উপকারে আসবে।
তুমি উপদেশ দিতে থাকো। কারণ, উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।
আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।
আমি সৃষ্টি করিয়াছি জিন এবং মানুষকে এইজন্য যে, তাহারা আমারই ‘ইবাদত করিবে।
আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।
আমরা জিন এবং ইনসানকে এজন্যেই সৃষ্টি করেছি যে, তারা একমাত্র আমারই ইবাদত করবে।
আমি তাদের কাছে কোন রিয্ক চাই না; আর আমি চাই না যে, তারা আমাকে খাবার দিবে।
আমি উহাদের নিকট হইতে জীবিকা চাহি না এবং ইহাও চাহি না যে, উহারা আমার আহার্য যোগাইবে।
আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে।
আমি তো তাদের কাছে রিযিক চাইনা এবং এটাও চাইনা যে, তারা আমাকে খাবার খাওয়াবে।
নিশ্চয় আল্লাহই রিয্কদাতা, তিনি শক্তিধর, পরাক্রমশালী।
ই তো রিযিক দান করেন এবং তিনি প্রবল, পরাক্রান্ত।
তা’আলাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।
নিশ্চয়ই রাজজাক (রিযিক সরবরাহকারী) তো হলেন এবং তিনি মহাশক্তিধর, প্রবল পরাক্রান্ত।
যারা যুলম করেছে তাদের জন্য রয়েছে তাদের সমমনাদের অনুরূপ আযাব; সুতরাং তারা যেন আমার কাছে (আযাবের) তাড়াহুড়া না করে।
জালিমদের প্রাপ্য তাহাই যাহা অতীতে উহাদের সমমতাবলম্বীরা ভোগ করিয়াছে। সুতরাং উহারা ইহার জন্য আমার নিকট যেন ত্বরা না করে।
অতএব, এই যালেমদের প্রাপ্য তাই, যা ওদের অতীত সহচরদের প্রাপ্য ছিল। কাজেই ওরা যেন আমার কাছে তা তাড়াতাড়ি না চায়।
যালিমদের ভাগ্যে তাই রয়েছে, অতীতে তাদের সমমতের লোকেরা যা ভোগ করেছিল। ফলে তারা যেনো তাড়াহুড়া না করে।
অতএব, যারা করে তাদের জন্য ধ্বংস সেদিনের যেদিনের ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
কাফিরদের জন্য দুর্ভোগ তাহাদের সেই দিনের, যেই দিনের বিষয়ে উহাদেরকে সতর্ক করা হইয়াছে।
অতএব, কাফেরদের জন্যে দুর্ভোগ সেই দিনের, যেদিনের প্রতিশ্রুতি ওদেরকে দেয়া হয়েছে।
কাফিরদের জন্যে রয়েছে সেই দিনের দুর্ভোগ, যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছে।