কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
بسم الله الرحمن الرحيم والصافات صفا
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّا
Chapter 37, 182 verses
কসম সারিবদ্ধ ফেরেশতাদের,
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
بسم الله الرحمن الرحيم والصافات صفا
وَٱلصَّٰٓفَّٰتِ صَفًّا
অতঃপর (মেঘমালা) সুচারুরূপে পরিচালনাকারীদের,
অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
فالزاجرات زجرا
فَٱلزَّٰجِرَٰتِ زَجْرًا
আর উপদেশ গ্রন্থ (আসমানী কিতাব) তিলাওয়াতকারীদের;
অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের -
فالتاليات ذكرا
فَٱلتَّٰلِيَٰتِ ذِكْرًا
নিশ্চয় তোমাদের এক;
নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
إن إلهكم لواحد
إِنَّ إِلَٰهَكُمْ لَوَٰحِدٌ
তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার রব এবং রব উদয়স্থলসমূহের।
তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
رب السماوات والأرض وما بينهما ورب المشارق
رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ ٱلْمَشَٰرِقِ
নিশ্চয় আমি কাছের আসমানকে তারকারাজির সৌন্দর্যে সুশোভিত করেছি।
নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
إنا زينا السماء الدنيا بزينة الكواكب
إِنَّا زَيَّنَّا ٱلسَّمَآءَ ٱلدُّنْيَا بِزِينَةٍ ٱلْكَوَاكِبِ
আর প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান থেকে হিফাযত করেছি।
এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
وحفظا من كل شيطان مارد
وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَٰنٍ مَّارِدٍ
তারা ঊর্ধ্বজগতের কিছু শুনতে পারে না, কারণ প্রত্যেক দিক থেকে তাদের দিকে নিক্ষেপ করা হয় (উল্কাপিন্ড)।
ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
لا يسمعون إلى الملإ الأعلى ويقذفون من كل جانب
لَّا يَسَّمَّعُونَ إِلَى ٱلْمَلَإِ ٱلْأَعْلَىٰ وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
তাড়ানোর জন্য, আর তাদের জন্য আছে অব্যাহত আযাব।
ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
دحورا ۖ ولهم عذاب واصب
دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
তবে কেউ সন্তর্পণে কিছু শুনে নিলে তাকে পিছু তাড়া করে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড।
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
إلا من خطف الخطفة فأتبعه شهاب ثاقب
إِلَّا مَنْ خَطِفَ ٱلْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُۥ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
অতঃপর তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘সৃষ্টি হিসেবে তারা বেশি শক্তিশালী, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি তা’? নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠালো মাটি থেকে।
আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তাদেরকে সৃষ্টি করা কঠিনতর, না আমি অন্য যা সৃষ্টি করেছি? আমিই তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এঁটেল মাটি থেকে।
فاستفتهم أهم أشد خلقا أم من خلقنا ۚ إنا خلقناهم من طين لازب
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَهُمْ أَشَدُّ خَلْقًا أَم مَّنْ خَلَقْنَآ إِنَّا خَلَقْنَٰهُم مِّن طِينٍ لَّازِبٍۭ
বরং তুমি বিস্মিত হচ্ছ আর ওরা বিদ্রূপ করছে।
বরং আপনি বিস্ময় বোধ করেন আর তারা বিদ্রুপ করে।
بل عجبت ويسخرون
بَلْ عَجِبْتَ وَيَسْخَرُونَ
আর যখন তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা স্মরণ করে না।
যখন তাদেরকে বোঝানো হয়, তখন তারা বোঝে না।
وإذا ذكروا لا يذكرون
وَإِذَا ذُكِّرُوا۟ لَا يَذْكُرُونَ
আর যখন তারা কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
তারা যখন কোন নিদর্শন দেখে তখন বিদ্রূপ করে।
وإذا رأوا آية يستسخرون
وَإِذَا رَأَوْا۟ ءَايَةً يَسْتَسْخِرُونَ
আর বলে, ‘এতো স্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়’!
এবং বলে, কিছুই নয়, এযে স্পষ্ট যাদু।
وقالوا إن هذا إلا سحر مبين
وَقَالُوٓا۟ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
‘আমরা যখন মারা যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব’?
আমরা যখন মরে যাব, এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?
أإذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمبعوثون
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَبْعُوثُونَ
‘আর আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষগণও’?
আমাদের পিতৃপুরুষগণও কি?
أوآباؤنا الأولون
أَوَءَابَآؤُنَا ٱلْأَوَّلُونَ
বল, ‘হ্যাঁ, আর তোমরা অপমানিত-লাঞ্ছিত হবে।’
বলুন, হ্যাঁ এবং তোমরা হবে লাঞ্ছিত।
قل نعم وأنتم داخرون
قُلْ نَعَمْ وَأَنتُمْ دَٰخِرُونَ
তা হবে কেবল এক আওয়াজ আর তৎক্ষণাৎ তারা দেখতে পাবে।
বস্তুতঃ সে উত্থান হবে একটি বিকট শব্দ মাত্র - যখন তারা প্রত্যক্ষ করতে থাকবে।
فإنما هي زجرة واحدة فإذا هم ينظرون
فَإِنَّمَا هِىَ زَجْرَةٌ وَٰحِدَةٌ فَإِذَا هُمْ يَنظُرُونَ
আর তারা বলবে, ‘হায় আমাদের ধ্বংস, এ তো প্রতিদান দিবস’!
এবং বলবে, দুর্ভাগ্য আমাদের! এটাই তো প্রতিফল দিবস।
وقالوا يا ويلنا هذا يوم الدين
وَقَالُوا۟ يَٰوَيْلَنَا هَٰذَا يَوْمُ ٱلدِّينِ
এটি ফয়সালা করার দিন যা তোমরা অস্বীকার করতে।
বলা হবে, এটাই ফয়সালার দিন, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে।
هذا يوم الفصل الذي كنتم به تكذبون
هَٰذَا يَوْمُ ٱلْفَصْلِ ٱلَّذِى كُنتُم بِهِۦ تُكَذِّبُونَ
(ফেরেশতাদেরকে বলা হবে) ‘একত্র কর যালিম ও তাদের সঙ্গী-সাথীদেরকে এবং যাদের ইবাদাত তারা করত তাদেরকে।
একত্রিত কর গোনাহগারদেরকে, তাদের দোসরদেরকে এবং যাদের এবাদত তারা করত।
۞ احشروا الذين ظلموا وأزواجهم وما كانوا يعبدون
ٱحْشُرُوا۟ ٱلَّذِينَ ظَلَمُوا۟ وَأَزْوَٰجَهُمْ وَمَا كَانُوا۟ يَعْبُدُونَ
‘আল্লাহকে বাদ দিয়ে, আর তাদেরকে আগুনের পথে নিয়ে যাও’।
ব্যতীত। অতঃপর তাদেরকে পরিচালিত কর জাহান্নামের পথে,
من دون الله فاهدوهم إلى صراط الجحيم
مِن دُونِ ٱللَّهِ فَٱهْدُوهُمْ إِلَىٰ صِرَٰطِ ٱلْجَحِيمِ
‘আর তাদেরকে থামাও, অবশ্যই তারা জিজ্ঞাসিত হবে’।
এবং তাদেরকে থামাও, তারা জিজ্ঞাসিত হবে;
وقفوهم ۖ إنهم مسئولون
وَقِفُوهُمْ إِنَّهُم مَّسْـُٔولُونَ
‘তোমাদের কী হল, তোমরা একে অপরকে সাহায্য করছ না?’
তোমাদের কি হল যে, তোমরা একে অপরের সাহায্য করছ না?
ما لكم لا تناصرون
مَا لَكُمْ لَا تَنَاصَرُونَ
বরং তারা হবে আজ আত্মসমর্পণকারী।
বরং তারা আজকের দিনে আত্নসমর্পণকারী।
بل هم اليوم مستسلمون
بَلْ هُمُ ٱلْيَوْمَ مُسْتَسْلِمُونَ
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
তারা একে অপরের দিকে মুখ করে পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
وأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
وَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
তারা বলবে, ‘তোমরাই তো আমাদের কাছে আসতে ধর্মীয় দিক থেকে’।* * এ আয়াতে اليمين বলতে দীন বুঝানো হয়েছে। কারো কারো মতে এ দ্বারা শক্তি-সামর্থ্য বা কল্যাণ-স্বাচ্ছন্দ্য বুঝানো হয়েছে।
বলবে, তোমরা তো আমাদের কাছে ডান দিক থেকে আসতে।
قالوا إنكم كنتم تأتوننا عن اليمين
قَالُوٓا۟ إِنَّكُمْ كُنتُمْ تَأْتُونَنَا عَنِ ٱلْيَمِينِ
জবাবে তারা (নেতৃস্থানীয় কাফিররা) বলবে, ‘বরং তোমরা তো ছিলে না’।
তারা বলবে, বরং তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না।
قالوا بل لم تكونوا مؤمنين
قَالُوا۟ بَل لَّمْ تَكُونُوا۟ مُؤْمِنِينَ
আর তোমাদের উপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না, বরং তোমরা ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
এবং তোমাদের উপর আমাদের কোন কতৃত্ব ছিল না, বরং তোমরাই ছিলে সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
وما كان لنا عليكم من سلطان ۖ بل كنتم قوما طاغين
وَمَا كَانَ لَنَا عَلَيْكُم مِّن سُلْطَٰنٍۭ بَلْ كُنتُمْ قَوْمًا طَٰغِينَ
‘তাই আমাদের বিরুদ্ধে আমাদের রবের বাণী সত্য হয়েছে; নিশ্চয় আমরা আস্বাদন করব (আযাব)’।
আমাদের বিপক্ষে আমাদের পালনকর্তার উক্তিই সত্য হয়েছে। আমাদেরকে অবশই স্বাদ আস্বাদন করতে হবে।
فحق علينا قول ربنا ۖ إنا لذائقون
فَحَقَّ عَلَيْنَا قَوْلُ رَبِّنَآ إِنَّا لَذَآئِقُونَ
‘আর আমরা তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছি, কারণ আমরা নিজেরাই ছিলাম বিভ্রান্ত’।
আমরা তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলাম। কারণ আমরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট ছিলাম।
فأغويناكم إنا كنا غاوين
فَأَغْوَيْنَٰكُمْ إِنَّا كُنَّا غَٰوِينَ
নিশ্চয় তারা সেদিন আযাবে অংশীদার হবে।
তারা সবাই সেদিন শান্তিতে শরীক হবে।
فإنهم يومئذ في العذاب مشتركون
فَإِنَّهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى ٱلْعَذَابِ مُشْتَرِكُونَ
অপরাধীদের সাথে আমি এমন আচরণই করে থাকি।
অপরাধীদের সাথে আমি এমনি ব্যবহার করে থাকি।
إنا كذلك نفعل بالمجرمين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَفْعَلُ بِٱلْمُجْرِمِينَ
তাদেরকে যখন বলা হত, ‘ ছাড়া কোন (সত্য) নেই’, তখন নিশ্চয় তারা অহঙ্কার করত।
তাদের যখন বলা হত, ব্যতীত কোন উপাস্য েনই, তখন তারা ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করত।
إنهم كانوا إذا قيل لهم لا إله إلا الله يستكبرون
إِنَّهُمْ كَانُوٓا۟ إِذَا قِيلَ لَهُمْ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّهُ يَسْتَكْبِرُونَ
আর বলত, ‘আমরা কি এক পাগল কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের ছেড়ে দেব?’
এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব।
ويقولون أئنا لتاركو آلهتنا لشاعر مجنون
وَيَقُولُونَ أَئِنَّا لَتَارِكُوٓا۟ ءَالِهَتِنَا لِشَاعِرٍ مَّجْنُونٍۭ
বরং সে সত্য নিয়ে এসেছিল এবং সে রাসূলদেরকে সত্য বলে ঘোষণা দিয়েছিল।
না, তিনি সত্যসহ আগমন করেছেন এবং রসূলগণের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
بل جاء بالحق وصدق المرسلين
بَلْ جَآءَ بِٱلْحَقِّ وَصَدَّقَ ٱلْمُرْسَلِينَ
অবশ্যই তোমরা যন্ত্রণাদায়ক আযাব আস্বাদন করবে।
তোমরা অবশ্যই বেদনাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করবে।
إنكم لذائقو العذاب الأليم
إِنَّكُمْ لَذَآئِقُوا۟ ٱلْعَذَابِ ٱلْأَلِيمِ
আর তোমরা যে আমল করতে শুধু তারই প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে।
তোমরা যা করতে, তারই প্রতিফল পাবে।
وما تجزون إلا ما كنتم تعملون
وَمَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া;
তবে তারা নয়, যারা আল্লাহর বাছাই করা বান্দা।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
তাদের জন্য থাকবে নির্ধারিত রিয্ক,
তাদের জন্যে রয়েছে নির্ধারিত রুযি।
أولئك لهم رزق معلوم
أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَّعْلُومٌ
ফলমূল; আর তারা হবে সম্মানিত,
ফল - মূল এবং তারা সম্মানিত।
فواكه ۖ وهم مكرمون
فَوَٰكِهُ وَهُم مُّكْرَمُونَ
নি‘আমত-ভরা জান্নাতে,
নেয়ামতের উদ্যানসমূহ।
في جنات النعيم
فِى جَنَّٰتِ ٱلنَّعِيمِ
মুখোমুখি পালঙ্কে।
মুখোমুখি হয়ে আসনে আসীন।
على سرر متقابلين
عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَٰبِلِينَ
তাদের চারপাশে ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হবে বিশুদ্ধ সুরাপাত্র,
তাদেরকে ঘুরে ফিরে পরিবেশন করা হবে স্বচ্ছ পানপাত্র।
يطاف عليهم بكأس من معين
يُطَافُ عَلَيْهِم بِكَأْسٍ مِّن مَّعِينٍۭ
সাদা, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।
সুশুভ্র, যা পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু।
بيضاء لذة للشاربين
بَيْضَآءَ لَذَّةٍ لِّلشَّٰرِبِينَ
তাতে থাকবে না ক্ষতিকর কিছু* এবং তারা এগুলো দ্বারা মাতালও হবে না। * غول অর্থ নেশা, মাতলামি, মাথাব্যথা ও পেটের পীড়া।
তাতে মাথা ব্যথার উপাদান নেই এবং তারা তা পান করে মাতালও হবে না।
لا فيها غول ولا هم عنها ينزفون
لَا فِيهَا غَوْلٌ وَلَا هُمْ عَنْهَا يُنزَفُونَ
তাদের কাছে থাকবে আনতনয়না, ডাগরচোখা।
তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ।
وعندهم قاصرات الطرف عين
وَعِندَهُمْ قَٰصِرَٰتُ ٱلطَّرْفِ عِينٌ
তারা যেন আচ্ছাদিত ডিম।
যেন তারা সুরক্ষিত ডিম।
كأنهن بيض مكنون
كَأَنَّهُنَّ بَيْضٌ مَّكْنُونٌ
অতঃপর তারা মুখোমুখি হয়ে পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করবে।
অতঃপর তারা একে অপরের দিকে মুখ করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
فأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَىٰ بَعْضٍ يَتَسَآءَلُونَ
তাদের একজন বলবে, (‘পৃথিবীতে) আমার এক সঙ্গী ছিল’,
তাদের একজন বলবে, আমার এক সঙ্গী ছিল।
قال قائل منهم إني كان لي قرين
قَالَ قَآئِلٌ مِّنْهُمْ إِنِّى كَانَ لِى قَرِينٌ
সে বলত, ‘তুমি কি সে লোকদের অন্তর্ভুক্ত যারা বিশ্বাস করে’।
সে বলত, তুমি কি বিশ্বাস কর যে,
يقول أإنك لمن المصدقين
يَقُولُ أَءِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُصَدِّقِينَ
‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে’?
আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব, তখনও কি আমরা প্রতিফল প্রাপ্ত হব?
أإذا متنا وكنا ترابا وعظاما أإنا لمدينون
أَءِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَٰمًا أَءِنَّا لَمَدِينُونَ
বলবেন, ‘তোমরা কি উঁকি দিয়ে দেখবে?’
বলবেন, তোমরা কি তাকে উকি দিয়ে দেখতে চাও?
قال هل أنتم مطلعون
قَالَ هَلْ أَنتُم مُّطَّلِعُونَ
অতঃপর সে উঁকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে (পৃথিবীর সঙ্গীকে) দেখবে জাহান্নামের মধ্যস্থলে।
অপর সে উকি দিয়ে দেখবে এবং তাকে জাহান্নামের মাঝখানে দেখতে পাবে।
فاطلع فرآه في سواء الجحيم
فَٱطَّلَعَ فَرَءَاهُ فِى سَوَآءِ ٱلْجَحِيمِ
সে বলবে, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছিলে’।
সে বলবে, আল্লাহর কসম, তুমি তো আমাকে প্রায় ধ্বংসই করে দিয়েছিলে।
قال تالله إن كدت لتردين
قَالَ تَٱللَّهِ إِن كِدتَّ لَتُرْدِينِ
‘আমার রবের অনুগ্রহ না থাকলে আমিও তো (জাহান্নামে) হাযিরকৃতদের একজন হতাম’।
আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ না হলে আমিও যে গ্রেফতারকৃতদের সাথেই উপস্থিত হতাম।
ولولا نعمة ربي لكنت من المحضرين
وَلَوْلَا نِعْمَةُ رَبِّى لَكُنتُ مِنَ ٱلْمُحْضَرِينَ
(জান্নাতবাসী ব্যক্তি বলবে) ‘তাহলে আমরা কি আর মরব না’?
এখন আমাদের আর মৃত্যু হবে না।
أفما نحن بميتين
أَفَمَا نَحْنُ بِمَيِّتِينَ
‘আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া, আর আমরা কি আযাবপ্রাপ্ত হব না’?
আমাদের প্রথম মৃত্যু ছাড়া এবং আমরা শাস্তি প্রাপ্তও হব না।
إلا موتتنا الأولى وما نحن بمعذبين
إِلَّا مَوْتَتَنَا ٱلْأُولَىٰ وَمَا نَحْنُ بِمُعَذَّبِينَ
‘নিশ্চয় এটি মহাসাফল্য!’
নিশ্চয় এই মহা সাফল্য।
إن هذا لهو الفوز العظيم
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ
এরূপ সাফল্যের জন্যই ‘আমলকারীদের আমল করা উচিত।
এমন সাফল্যের জন্যে পরিশ্রমীদের পরিশ্রম করা উচিত।
لمثل هذا فليعمل العاملون
لِمِثْلِ هَٰذَا فَلْيَعْمَلِ ٱلْعَٰمِلُونَ
আপ্যায়নের জন্য এগুলো উত্তম না যাক্কূম* বৃক্ষ? * অতি তিক্ত স্বাদযুক্ত জাহান্নামের এক গাছ।
এই কি উত্তম আপ্যায়ন, না যাক্কুম বৃক্ষ?
أذلك خير نزلا أم شجرة الزقوم
أَذَٰلِكَ خَيْرٌ نُّزُلًا أَمْ شَجَرَةُ ٱلزَّقُّومِ
নিশ্চয় আমি তাকে যালিমদের জন্য করে দিয়েছি পরীক্ষা।
আমি যালেমদের জন্যে একে বিপদ করেছি।
إنا جعلناها فتنة للظالمين
إِنَّا جَعَلْنَٰهَا فِتْنَةً لِّلظَّٰلِمِينَ
নিশ্চয় এ গাছটি জাহান্নামের তলদেশ থেকে বের হয়।
এটি একটি বৃক্ষ, যা উদগত হয় জাহান্নামের মূলে।
إنها شجرة تخرج في أصل الجحيم
إِنَّهَا شَجَرَةٌ تَخْرُجُ فِىٓ أَصْلِ ٱلْجَحِيمِ
এর ফল যেন শয়তানের মাথা;
এর গুচ্ছ শয়তানের মস্তকের মত।
طلعها كأنه رءوس الشياطين
طَلْعُهَا كَأَنَّهُۥ رُءُوسُ ٱلشَّيَٰطِينِ
নিশ্চয় তারা তা থেকে খাবে এবং তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
কাফেররা একে ভক্ষণ করবে এবং এর দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।
فإنهم لآكلون منها فمالئون منها البطون
فَإِنَّهُمْ لَءَاكِلُونَ مِنْهَا فَمَالِـُٔونَ مِنْهَا ٱلْبُطُونَ
তদুপরি তাদের জন্য থাকবে ফুটন্ত পানির মিশ্রণ।
তদুপরি তাদেরকে দেয়া হবে। ফুটন্ত পানির মিশ্রণ,
ثم إن لهم عليها لشوبا من حميم
ثُمَّ إِنَّ لَهُمْ عَلَيْهَا لَشَوْبًا مِّنْ حَمِيمٍ
তারপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের আগুনে।
অতঃপর তাদের প্রত্যাবর্তন হবে জাহান্নামের দিকে।
ثم إن مرجعهم لإلى الجحيم
ثُمَّ إِنَّ مَرْجِعَهُمْ لَإِلَى ٱلْجَحِيمِ
নিশ্চয় এরা নিজদের পিতৃপুরুষদেরকে পথভ্রষ্ট পেয়েছিল;
তারা তাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছিল বিপথগামী।
إنهم ألفوا آباءهم ضالين
إِنَّهُمْ أَلْفَوْا۟ ءَابَآءَهُمْ ضَآلِّينَ
ফলে তারাও তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে দ্রুত ছুটেছে।
অতঃপর তারা তদের পদাংক অনুসরণে তৎপর ছিল।
فهم على آثارهم يهرعون
فَهُمْ عَلَىٰٓ ءَاثَٰرِهِمْ يُهْرَعُونَ
আর নিশ্চয় এদের পূর্বে প্রাথমিক যুগের মানুষের বেশীরভাগই পথভ্রষ্ট হয়েছিল।
তাদের পূর্বেও অগ্রবর্তীদের অধিকাংশ বিপথগামী হয়েছিল।
ولقد ضل قبلهم أكثر الأولين
وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ ٱلْأَوَّلِينَ
আর অবশ্যই তাদের কাছে আমি সতর্ককারীদেরকে পাঠিয়েছিলাম;
আমি তাদের মধ্যে ভীতি প্রদর্শনকারী প্রেরণ করেছিলাম।
ولقد أرسلنا فيهم منذرين
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا فِيهِم مُّنذِرِينَ
সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের পরিণতি কী হয়েছিল!
অতএব লক্ষ্য করুন, যাদেরকে ভীতিপ্রদর্শণ করা হয়েছিল, তাদের পরিণতি কি হয়েছে।
فانظر كيف كان عاقبة المنذرين
فَٱنظُرْ كَيْفَ كَانَ عَٰقِبَةُ ٱلْمُنذَرِينَ
অবশ্য আল্লাহর মনোনীত বান্দারা ছাড়া।
তবে আল্লাহর বাছাই করা বান্দাদের কথা ভিন্ন।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আর নিশ্চয় নূহ আমাকে ডেকেছিল, আর আমি কতইনা উত্তম সাড়াদানকারী!
আর নূহ আমাকে ডেকেছিল। আর কি চমৎকারভাবে আমি তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম।
ولقد نادانا نوح فلنعم المجيبون
وَلَقَدْ نَادَىٰنَا نُوحٌ فَلَنِعْمَ ٱلْمُجِيبُونَ
আর তাকে ও তার পরিজনকে আমি মহাবিপদ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।
আমি তাকে ও তার পরিবারবর্গকে এক মহাসংকট থেকে রক্ষা করেছিলাম।
ونجيناه وأهله من الكرب العظيم
وَنَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥ مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম,
এবং তার বংশধরদেরকেই আমি অবশিষ্ট রেখেছিলাম।
وجعلنا ذريته هم الباقين
وَجَعَلْنَا ذُرِّيَّتَهُۥ هُمُ ٱلْبَاقِينَ
আর পরবর্তীদের মধ্যে তার জন্য (সুখ্যাতি) রেখে দিয়েছিলাম।
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
শান্তি বর্ষিত হোক নূহের উপর সকল সৃষ্টির মধ্যে।
বিশ্ববাসীর মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক।
سلام على نوح في العالمين
سَلَٰمٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِى ٱلْعَٰلَمِينَ
নিশ্চয় এভাবে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
আমি এভাবেই সৎকর্ম পরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের একজন।
সে ছিল আমার বান্দাদের অন্যতম।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
তারপর আমি অন্যদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।
অতঃপর আমি অপরাপর সবাইকে নিমজ্জত করেছিলাম।
ثم أغرقنا الآخرين
ثُمَّ أَغْرَقْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আর নিশ্চয় ইবরাহীম তার দীনের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আর নূহ পন্থীদেরই একজন ছিল ইব্রাহীম।
۞ وإن من شيعته لإبراهيم
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِۦ لَإِبْرَٰهِيمَ
যখন সে বিশুদ্ধচিত্তে তার রবের নিকট উপস্থিত হয়েছিল।
যখন সে তার পালনকর্তার নিকট সুষ্ঠু চিত্তে উপস্থিত হয়েছিল,
إذ جاء ربه بقلب سليم
إِذْ جَآءَ رَبَّهُۥ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
যখন সে তার পিতা ও তার কওমকে বলেছিল, ‘তোমরা কিসের ইবাদত কর’?
যখন সে তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কিসের উপাসনা করছ?
إذ قال لأبيه وقومه ماذا تعبدون
إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِۦ مَاذَا تَعْبُدُونَ
‘তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যগুলোকে চাও’?
তোমরা কি ব্যতীত মিথ্যা উপাস্য কামনা করছ?
أئفكا آلهة دون الله تريدون
أَئِفْكًا ءَالِهَةً دُونَ ٱللَّهِ تُرِيدُونَ
‘তাহলে সকল সৃষ্টির রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী’?
বিশ্বজগতের পালনকর্তা সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি?
فما ظنكم برب العالمين
فَمَا ظَنُّكُم بِرَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ
অতঃপর সে তারকারাজির মধ্যে একবার দৃষ্টি দিল।
অতঃপর সে একবার তারকাদের প্রতি লক্ষ্য করল।
فنظر نظرة في النجوم
فَنَظَرَ نَظْرَةً فِى ٱلنُّجُومِ
তারপর বলল, ‘আমি তো অসুস্থ’।
এবং বললঃ আমি পীড়িত।
فقال إني سقيم
فَقَالَ إِنِّى سَقِيمٌ
অতঃপর তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে তার কাছ থেকে চলে গেল।
অতঃপর তারা তার প্রতি পিঠ ফিরিয়ে চলে গেল।
فتولوا عنه مدبرين
فَتَوَلَّوْا۟ عَنْهُ مُدْبِرِينَ
তারপর চুপে চুপে সে তাদের দেবতাদের কাছে গেল এবং বলল, ‘তোমরা কি খাবে না?’
অতঃপর সে তাদের দেবালয়ে, গিয়ে ঢুকল এবং বললঃ তোমরা খাচ্ছ না কেন?
فراغ إلى آلهتهم فقال ألا تأكلون
فَرَاغَ إِلَىٰٓ ءَالِهَتِهِمْ فَقَالَ أَلَا تَأْكُلُونَ
‘তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কথা বলছ না’?
তোমাদের কি হল যে, কথা বলছ না?
ما لكم لا تنطقون
مَا لَكُمْ لَا تَنطِقُونَ
অতঃপর সে তাদের উপর সজোরে আঘাত হানল।
অতঃপর সে প্রবল আঘাতে তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
فراغ عليهم ضربا باليمين
فَرَاغَ عَلَيْهِمْ ضَرْبًۢا بِٱلْيَمِينِ
তখন লোকেরা তার দিকে ছুটে আসল।
তখন লোকজন তার দিকে ছুটে এলো ভীত - সন্ত্রস্ত পদে।
فأقبلوا إليه يزفون
فَأَقْبَلُوٓا۟ إِلَيْهِ يَزِفُّونَ
সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা খোদাই করে যেগুলো বানাও, তোমরা কি সেগুলোর উপাসনা কর’,
সে বললঃ তোমরা স্বহস্ত নির্মিত পাথরের পূজা কর কেন?
قال أتعبدون ما تنحتون
قَالَ أَتَعْبُدُونَ مَا تَنْحِتُونَ
‘অথচ আল্লাহই তোমাদেরকে এবং তোমরা যা কর তা সৃষ্টি করেছেন’?
অথচ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা নির্মাণ করছ সবাইকে সৃষ্টি করেছেন।
والله خلقكم وما تعملون
وَٱللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ
তারা বলল, ‘তার জন্য একটি স্থাপনা তৈরী কর, তারপর তাকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ কর’।
তারা বললঃ এর জন্যে একটি ভিত নির্মাণ কর এবং অতঃপর তাকে আগুনের স্তুপে নিক্ষেপ কর।
قالوا ابنوا له بنيانا فألقوه في الجحيم
قَالُوا۟ ٱبْنُوا۟ لَهُۥ بُنْيَٰنًا فَأَلْقُوهُ فِى ٱلْجَحِيمِ
আর তারা তার ব্যাপারে একটা ষড়যন্ত্র করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাদেরকে সম্পূর্ণ পরাভূত করে দিলাম।
তারপর তারা তার বিরুদ্ধে মহা ষড়যন্ত্র আঁটতে চাইল, কিন্তু আমি তাদেরকেই পরাভূত করে দিলাম।
فأرادوا به كيدا فجعلناهم الأسفلين
فَأَرَادُوا۟ بِهِۦ كَيْدًا فَجَعَلْنَٰهُمُ ٱلْأَسْفَلِينَ
আর সে বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে যাচ্ছি, তিনি অবশ্যই আমাকে হিদায়াত করবেন।
সে বললঃ আমি আমার পালনকর্তার দিকে চললাম, তিনি আমাকে পথপ্রদর্শন করবেন।
وقال إني ذاهب إلى ربي سيهدين
وَقَالَ إِنِّى ذَاهِبٌ إِلَىٰ رَبِّى سَيَهْدِينِ
‘হে আমার রব, আমাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন’।
হে আমার পরওয়ারদেগার! আমাকে এক সৎপুত্র দান কর।
رب هب لي من الصالحين
رَبِّ هَبْ لِى مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
অতঃপর তাকে আমি পরম ধৈর্যশীল একজন পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিলাম।
সুতরাং আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দান করলাম।
فبشرناه بغلام حليم
فَبَشَّرْنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٍ
অতঃপর যখন সে তার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন সে বলল, ‘হে প্রিয় বৎস, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ করছি, অতএব দেখ তোমার কী অভিমত’; সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, আপনি তাই করুন। আমাকে ইনশাআল্লাহ আপনি অবশ্যই ধৈর্যশীলদের অন্তর
অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।
فلما بلغ معه السعي قال يا بني إني أرى في المنام أني أذبحك فانظر ماذا ترى ۚ قال يا أبت افعل ما تؤمر ۖ ستجدني إن شاء الله من الصابرين
فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعْىَ قَالَ يَٰبُنَىَّ إِنِّىٓ أَرَىٰ فِى ٱلْمَنَامِ أَنِّىٓ أَذْبَحُكَ فَٱنظُرْ مَاذَا تَرَىٰ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِىٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِ
অতঃপর তারা উভয়ে যখন আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে* কাত করে শুইয়ে দিল * ইসমাঈলকে
যখন পিতা - পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে যবেহ করার জন্যে শায়িত করল।
فلما أسلما وتله للجبين
فَلَمَّآ أَسْلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلْجَبِينِ
তখন আমি তাকে আহবান করে বললাম, ‘হে ইবরাহীম,
তখন আমি তাকে ডেকে বললামঃ হে ইব্রাহীম,
وناديناه أن يا إبراهيم
وَنَٰدَيْنَٰهُ أَن يَٰٓإِبْرَٰهِيمُ
‘তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি’।
তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
قد صدقت الرؤيا ۚ إنا كذلك نجزي المحسنين
قَدْ صَدَّقْتَ ٱلرُّءْيَآ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
‘নিশ্চয় এটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা’।
নিশ্চয় এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।
إن هذا لهو البلاء المبين
إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلْبَلَٰٓؤُا۟ ٱلْمُبِينُ
আর আমি এক মহান যবেহের* বিনিময়ে তাকে মুক্ত করলাম। * তা ছিল একটি জান্নাতী দুম্বা।
আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু।
وفديناه بذبح عظيم
وَفَدَيْنَٰهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আর তার জন্য আমি পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি যে,
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
ইবরাহীমের প্রতি সালাম।
ইব্রাহীমের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
سلام على إبراهيم
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبْرَٰهِيمَ
এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
এমনিভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
كذلك نجزي المحسنين
كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
সে ছিল আমার বান্দাদের একজন।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর আমি তাকে ইসহাকের সুসংবাদ দিয়েছিলাম, সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত একজন নবী হিসেবে,
আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছি ইসহাকের, সে সৎকর্মীদের মধ্য থেকে একজন নবী।
وبشرناه بإسحاق نبيا من الصالحين
وَبَشَّرْنَٰهُ بِإِسْحَٰقَ نَبِيًّا مِّنَ ٱلصَّٰلِحِينَ
আর আমি তাকে ও ইসহাককে বরকত দান করেছিলাম, আর তাদের বংশধরদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল সৎকর্মশীল এবং কেউ নিজের প্রতি স্পষ্ট যালিম।
তাকে এবং ইসহাককে আমি বরকত দান করেছি। তাদের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মী এবং কতক নিজেদের উপর স্পষ্ট জুলুমকারী।
وباركنا عليه وعلى إسحاق ۚ ومن ذريتهما محسن وظالم لنفسه مبين
وَبَٰرَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰٓ إِسْحَٰقَ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِۦ مُبِينٌ
আর আমি নিশ্চয় হারূন ও মূসার প্রতি অনুগ্রহ করেছিলাম,
আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা ও হারুনের প্রতি।
ولقد مننا على موسى وهارون
وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
আর আমি তাদেরকে ও তাদের কওমকে মহাসংকট থেকে নাজাত দিয়েছিলাম।
তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে উদ্ধার করেছি মহা সংকট থেকে।
ونجيناهما وقومهما من الكرب العظيم
وَنَجَّيْنَٰهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ ٱلْكَرْبِ ٱلْعَظِيمِ
আর আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
আমি তাদেরকে সাহায্য করেছিলাম, ফলে তারাই ছিল বিজয়ী।
ونصرناهم فكانوا هم الغالبين
وَنَصَرْنَٰهُمْ فَكَانُوا۟ هُمُ ٱلْغَٰلِبِينَ
আর আমি উভয়কে সুস্পষ্ট কিতাব দান করেছিলাম।
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট কিতাব।
وآتيناهما الكتاب المستبين
وَءَاتَيْنَٰهُمَا ٱلْكِتَٰبَ ٱلْمُسْتَبِينَ
আর আমি দু’জনকেই সরল সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম।
এবং তাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করেছিলাম।
وهديناهما الصراط المستقيم
وَهَدَيْنَٰهُمَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ
আর আমি তাদের জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
আমি তাদের জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয় রেখে দিয়েছি যে,
وتركنا عليهما في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِى ٱلْءَاخِرِينَ
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম।
মূসা ও হারুনের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
سلام على موسى وهارون
سَلَٰمٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَٰرُونَ
আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
এভাবে আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় তারা দু’জনই ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
তারা উভয়েই ছিল আমার বান্দাদের অন্যতম।
إنهما من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
নিশ্চয়ই ইলিয়াস ছিল রসূল।
وإن إلياس لمن المرسلين
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন সে তার কওমকে বলেছিল ‘তোমরা কি (আল্লাহকে) ভয় করবে না’?
যখন সে তার সম্প্রদায়কে বললঃ তোমরা কি ভয় কর না ?
إذ قال لقومه ألا تتقون
إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِۦٓ أَلَا تَتَّقُونَ
তোমরা কি ‘বা’ল’ কে* ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা- * بعل একটি দেবতার নাম, যার উপাসনা তারা করত।
তোমরা কি বা’আল দেবতার এবাদত করবে এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে পরিত্যাগ করবে।
أتدعون بعلا وتذرون أحسن الخالقين
أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ ٱلْخَٰلِقِينَ
আল্লাহকে, যিনি তোমাদের রব এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদেরও রব’?
যিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদের পালনকর্তা?
الله ربكم ورب آبائكم الأولين
ٱللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ ءَابَآئِكُمُ ٱلْأَوَّلِينَ
কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল, ফলে তাদেরকে অবশ্যই (আযাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে।
অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। অতএব তারা অবশ্যই গ্রেফতার হয়ে আসবে।
فكذبوه فإنهم لمحضرون
فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) মনোনীত বান্দাগণ ছাড়া ।
কিন্তু তা’আলার খাঁটি বান্দাগণ নয়।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
আর আমি তার জন্য পরবর্তীদের মধ্যে সুনাম সুখ্যাতি রেখে দিয়েছি।
আমি তার জন্যে পরবর্তীদের মধ্যে এ বিষয়ে রেখে দিয়েছি যে,
وتركنا عليه في الآخرين
وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِى ٱلْءَاخِرِينَ
ইলইয়াসের প্রতি সালাম।
ইলিয়াসের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক!
سلام على إل ياسين
سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِلْ يَاسِينَ
নিশ্চয় আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি।
এভাবেই আমি সৎকর্মীদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
إنا كذلك نجزي المحسنين
إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِى ٱلْمُحْسِنِينَ
নিশ্চয় সে ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
সে ছিল আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত।
إنه من عبادنا المؤمنين
إِنَّهُۥ مِنْ عِبَادِنَا ٱلْمُؤْمِنِينَ
আর নিশ্চয় লূতও ছিল রাসূলদেরই একজন।
নিশ্চয় লূত ছিলেন রসূলগণের একজন।
وإن لوطا لمن المرسلين
وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন আমি তাকে ও তার পরিবার পরিজন সকলকে নাজাত দিয়েছিলাম-
যখন আমি তাকেও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম;
إذ نجيناه وأهله أجمعين
إِذْ نَجَّيْنَٰهُ وَأَهْلَهُۥٓ أَجْمَعِينَ
পিছনে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত এক বৃদ্ধা ছাড়া ।
কিন্তু এক বৃদ্ধাকে ছাড়া; সে অন্যান্যদের সঙ্গে থেকে গিয়েছিল।
إلا عجوزا في الغابرين
إِلَّا عَجُوزًا فِى ٱلْغَٰبِرِينَ
অতঃপর আমি অবশিষ্টদেরকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সমূলে উৎপাটিত করেছিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
ثُمَّ دَمَّرْنَا ٱلْءَاخَرِينَ
আর তোমরা নিশ্চয় তাদের (ধ্বংসাবশেষের) উপর দিয়ে অতিক্রম করে থাক সকালে-
তোমরা তোমাদের ধ্বংস স্তুপের উপর দিয়ে গমন কর ভোর বেলায়
وإنكم لتمرون عليهم مصبحين
وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
ও রাতে। তবুও কি তোমরা বুঝবে না?
এবং সন্ধ্যায়, তার পরেও কি তোমরা বোঝ না?
وبالليل ۗ أفلا تعقلون
وَبِٱلَّيْلِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
আর নিশ্চয় ইউনুসও ছিল রাসূলদের একজন।
আর ইউনুসও ছিলেন পয়গম্বরগণের একজন।
وإن يونس لمن المرسلين
وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
যখন সে একটি বোঝাই নৌযানের দিকে পালিয়ে গিয়েছিল।
যখন পালিয়ে তিনি বোঝাই নৌকায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
إذ أبق إلى الفلك المشحون
إِذْ أَبَقَ إِلَى ٱلْفُلْكِ ٱلْمَشْحُونِ
অতঃপর সে লটারীতে অংশগ্রহণ করল এবং তাতে সে হেরে গেল।
অতঃপর লটারী (সুরতি) করালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন।
فساهم فكان من المدحضين
فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ ٱلْمُدْحَضِينَ
তারপর বড় মাছ তাকে গিলে ফেলল। আর সে (নিজেকে) ধিক্কার দিচ্ছিল।
অতঃপর একটি মাছ তাঁকে গিলে ফেলল, তখন তিনি অপরাধী গণ্য হয়েছিলেন।
فالتقمه الحوت وهو مليم
فَٱلْتَقَمَهُ ٱلْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
আর সে যদি (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হত,
যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন,
فلولا أنه كان من المسبحين
فَلَوْلَآ أَنَّهُۥ كَانَ مِنَ ٱلْمُسَبِّحِينَ
তাহলে সে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার পেটেই থেকে যেত।
তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।
للبث في بطنه إلى يوم يبعثون
لَلَبِثَ فِى بَطْنِهِۦٓ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
অতঃপর আমি তাকে তৃণলতাহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এবং সে ছিল অসুস্থ।
অতঃপর আমি তাঁকে এক বিস্তীর্ণ - বিজন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম, তখন তিনি ছিলেন রুগ্ন।
۞ فنبذناه بالعراء وهو سقيم
فَنَبَذْنَٰهُ بِٱلْعَرَآءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
আর আমি একটি ইয়াকতীন* গাছ তার উপর উদগত করলাম। * শসা, কাঁকড় ও লাউ জাতীয় গাছকে ইয়কতীন বলে। যা কান্ডের উপর দাঁড়াতে পারে না। তার জন্য মাচা তৈরী করতে হয়।
আমি তাঁর উপর এক লতাবিশিষ্ট বৃক্ষ উদগত করলাম।
وأنبتنا عليه شجرة من يقطين
وَأَنۢبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
এবং তাকে আমি এক লক্ষ বা তার চেয়েও বেশী লোকের কাছে পাঠালাম।
এবং তাঁকে, লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করলাম।
وأرسلناه إلى مائة ألف أو يزيدون
وَأَرْسَلْنَٰهُ إِلَىٰ مِا۟ئَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
অতঃপর তারা ঈমান আনল, ফলে আমি তাদেরকে কিছুকাল পর্যন্ত উপভোগ করতে দিলাম।
তারা বিশ্বাস স্থাপন করল অতঃপর আমি তাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
فآمنوا فمتعناهم إلى حين
فَـَٔامَنُوا۟ فَمَتَّعْنَٰهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?
এবার তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, তোমার পালনকর্তার জন্যে কি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তাদের জন্যে কি পুত্র - সন্তান।
فاستفتهم ألربك البنات ولهم البنون
فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ
অথবা আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?
না কি আমি তাদের উপস্থিতিতে ফেরেশতাগণকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি?
أم خلقنا الملائكة إناثا وهم شاهدون
أَمْ خَلَقْنَا ٱلْمَلَٰٓئِكَةَ إِنَٰثًا وَهُمْ شَٰهِدُونَ
জেনে রাখ, তারা অবশ্যই তাদের মনগড়া কথা বলে যে,
জেনো, তারা মনগড়া উক্তি করে যে,
ألا إنهم من إفكهم ليقولون
أَلَآ إِنَّهُم مِّنْ إِفْكِهِمْ لَيَقُولُونَ
‘ সন্তান জন্ম দিয়েছেন’ আর তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী।
ولد الله وإنهم لكاذبون
وَلَدَ ٱللَّهُ وَإِنَّهُمْ لَكَٰذِبُونَ
তিনি কি পুত্রসন্তানদের উপর কন্যা সন্তানদের বেছে নিয়েছেন?
তিনি কি পুত্র - সন্তানের স্থলে কন্যা - সন্তান পছন্দ করেছেন?
أصطفى البنات على البنين
أَصْطَفَى ٱلْبَنَاتِ عَلَى ٱلْبَنِينَ
তোমাদের কী হল? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ!
তোমাদের কি হল? তোমাদের এ কেমন সিন্ধান্ত?
ما لكم كيف تحكمون
مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ
তাহলে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
তোমরা কি অনুধাবন কর না?
أفلا تذكرون
أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
নাকি তোমাদের কোন সুস্পষ্ট দলীল- প্রমাণ আছে?
না কি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোন দলীল রয়েছে?
أم لكم سلطان مبين
أَمْ لَكُمْ سُلْطَٰنٌ مُّبِينٌ
অতএব তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব নিয়ে আস।
তোমরা সত্যবাদী হলে তোমাদের কিতাব আন।
فأتوا بكتابكم إن كنتم صادقين
فَأْتُوا۟ بِكِتَٰبِكُمْ إِن كُنتُمْ صَٰدِقِينَ
আর তারা ও জিন জাতির মধ্যে একটা বংশসম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জিন জাতি জানে যে, নিশ্চয় তাদেরকেও উপস্থিত করা হবে।
তারা ও জ্বিনদের মধ্যে সম্পর্ক সাব্যস্ত করেছে, অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে।
وجعلوا بينه وبين الجنة نسبا ۚ ولقد علمت الجنة إنهم لمحضرون
وَجَعَلُوا۟ بَيْنَهُۥ وَبَيْنَ ٱلْجِنَّةِ نَسَبًا وَلَقَدْ عَلِمَتِ ٱلْجِنَّةُ إِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
সে সব থেকে অতিপবিত্র ও মহান, যা তারা আরোপ করে,
তারা যা বলে তা থেকে পবিত্র।
سبحان الله عما يصفون
سُبْحَٰنَ ٱللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ
তবে আল্লাহর (আনুগত্যের জন্য) নির্বাচিত বান্দাগণ ছাড়া।
তবে যারা আল্লাহর নিষ্ঠাবান বান্দা, তারা গ্রেফতার হয়ে আসবে না।
إلا عباد الله المخلصين
إِلَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
নিশ্চয় তোমরা এবং তোমরা যাদের ইবাদাত কর তারা-
অতএব তোমরা এবং তোমরা যাদের উপাসনা কর,
فإنكم وما تعبدون
فَإِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ
তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে (মুমিনদের) কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
তাদের কাউকেই তোমরা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
ما أنتم عليه بفاتنين
مَآ أَنتُمْ عَلَيْهِ بِفَٰتِنِينَ
জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশকারী ছাড়া।
শুধুমাত্র তাদের ছাড়া যারা জাহান্নামে পৌছাবে।
إلا من هو صال الجحيم
إِلَّا مَنْ هُوَ صَالِ ٱلْجَحِيمِ
আমাদের* প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্ধারিতস্থান** রয়েছে। *এটা ফেরেশতাদের বক্তব্য।
আমাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট স্থান।
وما منا إلا له مقام معلوم
وَمَا مِنَّآ إِلَّا لَهُۥ مَقَامٌ مَّعْلُومٌ
আর অবশ্যই আমরা সারিবদ্ধ ।
এবং আমরাই সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান থাকি।
وإنا لنحن الصافون
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلصَّآفُّونَ
আর আমরা অবশ্যই তাসবীহ পাঠকারী।
এবং আমরাই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।
وإنا لنحن المسبحون
وَإِنَّا لَنَحْنُ ٱلْمُسَبِّحُونَ
আর তারা (মক্কাবাসীরা) বলত,
তারা তো বলতঃ
وإن كانوا ليقولون
وَإِن كَانُوا۟ لَيَقُولُونَ
‘যদি আমাদের কাছে পূর্বর্তীদের মত কোন উপদেশ (কিতাব) থাকত,
যদি আমাদের কাছে পূর্ববর্তীদের কোন উপদেশ থাকত,
لو أن عندنا ذكرا من الأولين
لَوْ أَنَّ عِندَنَا ذِكْرًا مِّنَ ٱلْأَوَّلِينَ
তাহলে অবশ্যই আমরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম’।
তবে আমরা অবশ্যই আল্লাহর মনোনীত বান্দা হতাম।
لكنا عباد الله المخلصين
لَكُنَّا عِبَادَ ٱللَّهِ ٱلْمُخْلَصِينَ
অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল অতএব শীঘ্রই তারা জানতে পারবে (এর পরিণাম)।
বস্তুতঃ তারা এই কোরআনকে অস্বীকার করেছে। এখন শীঘ্রই তারা জেনে নিতে পারবে,
فكفروا به ۖ فسوف يعلمون
فَكَفَرُوا۟ بِهِۦ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
আমার রাসূল ও বান্দাগণের ব্যাপারে আমার এই বাক্য সত্য হয়েছে যে,
ولقد سبقت كلمتنا لعبادنا المرسلين
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ
‘অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে’।
অবশ্যই তারা সাহায্য প্রাপ্ত হয়।
إنهم لهم المنصورون
إِنَّهُمْ لَهُمُ ٱلْمَنصُورُونَ
আর নিশ্চয় আমার বাহিনীই বিজয়ী হবে।
আর আমার বাহিনীই হয় বিজয়ী।
وإن جندنا لهم الغالبون
وَإِنَّ جُندَنَا لَهُمُ ٱلْغَٰلِبُونَ
অতএব কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
অতএব আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
فتول عنهم حتى حين
فَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম) ।
এবং তাদেরকে দেখতে থাকুন। শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
وأبصرهم فسوف يبصرون
وَأَبْصِرْهُمْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তারা কি আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায়?
আমার আযাব কি তারা দ্রুত কামনা করে?
أفبعذابنا يستعجلون
أَفَبِعَذَابِنَا يَسْتَعْجِلُونَ
আর যখন তা তাদের আঙিনায় নেমে আসবে তখন সতর্ককৃতদের সকাল কতই না মন্দ হবে!
অতঃপর যখন তাদের আঙ্গিনায় আযাব নাযিল হবে, তখন যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের সকাল বেলাটি হবে খুবই মন্দ।
فإذا نزل بساحتهم فساء صباح المنذرين
فَإِذَا نَزَلَ بِسَاحَتِهِمْ فَسَآءَ صَبَاحُ ٱلْمُنذَرِينَ
আরো কিছু কাল পর্যন্ত তুমি তাদের থেকে ফিরে থাক।
আপনি কিছুকালের জন্যে তাদেরকে উপেক্ষা করুন।
وتول عنهم حتى حين
وَتَوَلَّ عَنْهُمْ حَتَّىٰ حِينٍ
আর তাদেরকে পর্যবেক্ষণ কর, অচিরেই তারা দেখবে (এর পরিণাম)।
এবং দেখতে থাকুন, শীঘ্রই তারাও এর পরিণাম দেখে নেবে।
وأبصر فسوف يبصرون
وَأَبْصِرْ فَسَوْفَ يُبْصِرُونَ
তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।
পবিত্র আপনার পরওয়ারদেগারের সত্তা, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র যা তারা বর্ণনা করে তা থেকে।
سبحان ربك رب العزة عما يصفون
سُبْحَٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ
আর রাসূলদের প্রতি সালাম।
পয়গম্বরগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক।
وسلام على المرسلين
وَسَلَٰمٌ عَلَى ٱلْمُرْسَلِينَ
আর সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপালক আল্লাহর নিমিত্ত।
والحمد لله رب العالمين
وَٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ