নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি;
নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট।
নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বিজয় দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।
بسم الله الرحمن الرحيم إنا فتحنا لك فتحا مبينا
Chapter 48, 29 verses
নিশ্চয় আমি তোমাকে সুস্পষ্ট বিজয় দিয়েছি;
নিশ্চয় আমি আপনার জন্যে এমন একটা ফয়সালা করে দিয়েছি, যা সুস্পষ্ট।
নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বিজয় দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।
بسم الله الرحمن الرحيم إنا فتحنا لك فتحا مبينا
যেন তোমার পূর্বের ও পরের পাপ ক্ষমা করেন, তোমার উপর তাঁর নিআমত পূর্ণ করেন আর তোমাকে সরল পথের হিদায়াত দেন।
যাতে আপনার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন ও আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
যেনো ক্ষমা করে দেন তোমার অতীত ও ভবিষ্যত ত্রুটিসমূহ, যেনো তোমার প্রতি পূর্ণ করেন তাঁর নিয়ামতসমূহ আর পরিচালিত করেন তোমাকে সিরাতুল মুস্তাকিমের উপর।
ليغفر لك الله ما تقدم من ذنبك وما تأخر ويتم نعمته عليك ويهديك صراطا مستقيما
এবং তোমাকে প্রবল সাহায্য দান করেন।
এবং আপনাকে দান করেন বলিষ্ঠ সাহায্য।
এবং যেনো তোমাদের সাহায্য করেন অপ্রতিরোধ্য সাহায্য।
وينصرك الله نصرا عزيزا
তিনিই মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেছিলেন যেন তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি পায়; এবং আসমানসমূহ ও যমীনের বাহিনীগুলো আল্লাহরই; আর হলেন সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তিনিই মুমিনদের অন্তরে নাযিল করেন প্রশান্তি, যাতে করে তারা তাদের ঈমানের সাথে ঈমান বৃদ্ধি করে নেয়। মহাকাশ ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহর। আর সর্বজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান।
هو الذي أنزل السكينة في قلوب المؤمنين ليزدادوا إيمانا مع إيمانهم ۗ ولله جنود السماوات والأرض ۚ وكان الله عليما حكيما
যেন তিনি নারী ও পুরুষকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার নিচ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত; সেখানে তারা স্থায়ী হবে; আর তিনি তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন; আর এটি ছিল আল্লাহর নিকট এক মহাসাফল্য।
ঈমান এজন্যে বেড়ে যায়, যাতে তিনি পুরুষ ও নারীদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেথায় তারা চিরকাল বসবাস করবে এবং যাতে তিনি তাদের পাপ মোচন করেন। এটাই আল্লাহর কাছে মহাসাফল্য।
যেনো তিনি পুরুষ ও নারীদের দাখিল করেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। চিরদিন থাকবে তারা সেখানে এবং যেনো তিনি মোচন করে দেন তাদের পাপসমূহ, আর আল্লাহর দৃষ্টিতে এটাই মহাসাফল্য।
ليدخل المؤمنين والمؤمنات جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ويكفر عنهم سيئاتهم ۚ وكان ذلك عند الله فوزا عظيما
আর যেন তিনি শাস্তি দিতে পারেন মুনাফিক নারী-পুরুষ ও মুশরিক নারী-পুরুষকে যারা সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষণ করে; তাদের উপরই অনিষ্টতা আপতিত হয়। আর তাদের উপর রাগ করেছেন এবং তাদেরকে লা‘নত করেছেন, আর তাদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জাহান্নাম; এবং গন্তব্য হি
এবং যাতে তিনি কপট পুরুষ ও কপট বিশ্বাসিনী নারী এবং অংশীবাদী পুরুষ ও অংশীবাদিনী নারীদেরকে শাস্তি দেন, যারা সম্পর্কে মন্দ ধারণা পোষন করে। তাদের জন্য মন্দ পরিনাম। তাদের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন, তাদেরকে অভিশপ্ত করেছেন। এবং তাহাদের জন্যে জাহান্নাম প্রস্তুত রেখেছেন। তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল অত্যন্ত মন্দ।
আর তিনি শাস্তি দেবেন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীদের, মুশরিক পুরুষ ও মুশরিক নারীদের, কারণ তারা আল্লাহর ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণকারী। তাদের ঘেরাও করে রেখেছে দুষ্ট চক্র (vicious circle)। তাদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন, তিনি তাদের লানত করেছেন এবং তাদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন জাহান্নাম, আর আবাস হিসেবে সেটা কতো যে মন্দ!
ويعذب المنافقين والمنافقات والمشركين والمشركات الظانين بالله ظن السوء ۚ عليهم دائرة السوء ۖ وغضب الله عليهم ولعنهم وأعد لهم جهنم ۖ وساءت مصيرا
আর আল্লাহরই জন্য আসমানসমূহ ও যমীনের যাবতীয় সৈন্যবাহিনী; এবং মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
মহাকাশ ও পৃথিবীর বাহিনীসমূহ আল্লাহর। আর মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞাবান।
ولله جنود السماوات والأرض ۚ وكان الله عزيزا حكيما
নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে।
আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি অবস্থা ব্যক্তকারীরূপে, সুসংবাদদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারীরূপে।
হে নবী! আমরা তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে।
إنا أرسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا
যাতে তোমরা ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আন, তাকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ পাঠ কর।
যাতে তোমরা ও রসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁকে সাহায্য ও সম্মান কর এবং সকাল - সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর।
যাতে করে তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রসূলের প্রতি, আর যেনো রসূলকে সাহায্য করো এবং তাকে সম্মান করো। এছাড়া যেনো আল্লাহর তসবিহ ঘোষণা করো সকাল - সন্ধ্যায়।
لتؤمنوا بالله ورسوله وتعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة وأصيلا
আর যারা তোমার কাছে বাই‘য়াত গ্রহণ করে, তারা শুধু আল্লাহরই কাছে বাই‘য়াত গ্রহণ করে; আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর; অতঃপর যে কেউ ওয়াদা ভঙ্গ করলে তার ওয়াদা ভঙ্গের পরিণাম বর্তাবে তারই উপর। আর যে আল্লাহকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করবে অচিরেই তাকে মহা পুরস্কার দেবেন।
যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন।
যারা তোমার কাছে বায়াত করেছে, তারা মূলত আল্লাহর কাছেই বায়াত করেছে। আল্লাহর হাত ছিলো তাদের হাতের উপর। অত:পর যে তা ভঙ্গ করবে, ভঙ্গ করার পরিণতি তার উপরই বর্তাবে। যে কেউ আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তাকে প্রদান করবেন মহাপুরস্কার।
إن الذين يبايعونك إنما يبايعون الله يد الله فوق أيديهم ۚ فمن نكث فإنما ينكث على نفسه ۖ ومن أوفى بما عاهد عليه الله فسيؤتيه أجرا عظيما
পিছনে পড়ে থাকা বেদুঈনরা তোমাকে অচিরেই বলবে, ‘আমাদের ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজন আমাদেরকে ব্যস্ত রেখেছিল; অতএব আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তারা মুখে তা বলে যা তাদের অন্তরে নেই। বল, ‘ যদি তোমাদের কোন ক্ষতি করতে চান কিংবা কোন উপকার করতে চান, তবে কে
মরুবাসীদের মধ্যে যারা গৃহে বসে রয়েছে, তারা আপনাকে বলবেঃ আমরা আমাদের ধন - সম্পদ ও পরিবার - পরিজনের কাজে ব্যস্ত ছিলাম। অতএব, আমাদের পাপ মার্জনা করান। তারা মুখে এমন কথা বলবে, যা তাদের অন্তরে নেই। বলুনঃ তোমাদের ক্ষতি অথবা উপকার সাধনের ইচ্ছা করলে কে তাকে বিরত রাখতে পারে? বরং তোমরা যা কর, সে বিষয় পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
যেসব মরুবাসী পেছনে রয়ে গেছে, তারা তোমাকে বলবে: ‘আমাদের মাল - সম্পদ এবং পরিবার - পরিজন আমাদের ব্যস্ত রেখেছে, আমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।’ তারা মুখে যা বলে, তা তাদের অন্তরে নেই। তুমি বলো: ‘‘ তোমাদের কারো কোনো ক্ষতি কিংবা উপকার করতে চাইলে কে তাঁকে প্রতিরোধ করতে পারবে? তোমরা যা করো সে বিষয়ে অবহিত।
سيقول لك المخلفون من الأعراب شغلتنا أموالنا وأهلونا فاستغفر لنا ۚ يقولون بألسنتهم ما ليس في قلوبهم ۚ قل فمن يملك لكم من الله شيئا إن أراد بكم ضرا أو أراد بكم نفعا ۚ بل كان الله بما تعملون خبيرا
বরং তোমরা মনে করেছিলে রাসূল ও মুমিনরা তাদের পরিবারের কাছে কখনো ফিরে আসবে না; আর এটি তোমাদের অন্তরে শোভিত করে দেয়া হয়েছিল; আর তোমরা মন্দ ধারণা করেছিলে এবং তোমরা ছিলে ধংসোম্মুখ কওম ।
বরং তোমরা ধারণ করেছিলে যে, রসূল ও মুমিনগণ তাদের বাড়ী - ঘরে কিছুতেই ফিরে আসতে পারবে না এবং এই ধারণা তোমাদের জন্যে খুবই সুখকর ছিল। তোমরা মন্দ ধারণার বশবর্তী হয়েছিলে। তোমরা ছিলে ধ্বংসমুখী এক সম্প্রদায়।
বরং তোমরা তো মনে করেছিলে রসূল এবং মুমিনরা আর কখনো তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে আসতে পারবে না। এই ধারণা তোমাদের অন্তরে চমৎকার মনে হয়েছিল। তোমরা চরম নিকৃষ্ট ধারণা করেছিলে। আসলে তোমরা একটি বুরা (ধ্বংসমুখী) কওম।
بل ظننتم أن لن ينقلب الرسول والمؤمنون إلى أهليهم أبدا وزين ذلك في قلوبكم وظننتم ظن السوء وكنتم قوما بورا
আর যে কেউ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনে না তবে নিশ্চয় আমি কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করেছি জ্বলন্ত আগুন।
যারা ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস করে না, আমি সেসব কাফেরের জন্যে জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত রেখেছি।
যারা এবং তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনেনা, আমরা সেইসব কাফিরদের জন্যে তৈরি করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুন।
ومن لم يؤمن بالله ورسوله فإنا أعتدنا للكافرين سعيرا
আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব আল্লাহর; তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। আর অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।
মহাকাশ এবং পৃথিবীর সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর। যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দেন এবং যাকে ইচ্ছা আযাব দেন। পরম ক্ষমাশীল করুণাময়।
ولله ملك السماوات والأرض ۚ يغفر لمن يشاء ويعذب من يشاء ۚ وكان الله غفورا رحيما
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সংগ্রহে উদ্যোগী হবে তখন পিছনে যারা পড়েছিল অচিরেই তারা বলবে, ‘আমাদেরকে তোমাদের অনুসরণ করতে দাও।’ তারা আল্লাহর বাণী পরিবর্তন করতে চায়। বল, ‘তোমরা কখনো আমাদের অনুসরণ করবে না; আগেই এমনটি বলেছেন।’ অতঃপর অচিরেই তারা বলবে, ‘বরং ত
তোমরা যখন যুদ্ধলব্ধ ধন - সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাবে, তখন যারা পশ্চাতে থেকে গিয়েছিল, তারা বলবেঃ আমাদেরকেও তোমাদের সঙ্গে যেতে দাও। তারা আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করতে চায়। বলুনঃ তোমরা কখনও আমাদের সঙ্গে যেতে পারবে না। পূর্ব থেকেই এরূপ বলে দিয়েছেন। তারা বলবেঃ বরং তোমরা আমাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছ। পরন্তু তারা সামান্যই বোঝে।
তোমরা যখন গণিমতের মাল সংগ্রহের জন্যে যাবে, তখন পেছনে পড়ে থাকা লোকেরা বলবে: ‘ছেড়ে দাও, আমরা তোমাদের সাথে যাবো।’ তারা আল্লাহর ফায়সালা পরিবর্তন করতে চায়। বলো: ‘তোমরা কখনো আমাদের সাথি হতে পারবে না। আগেই এ রকম ঘোষণা দিয়েছেন।’ তখন তারা অবশ্যি বলবে: ‘তোমরা তো আমাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করছো।’ আসল কথা হলো, কথা বুঝার যোগ্যতাই ওদের সামান্য।
سيقول المخلفون إذا انطلقتم إلى مغانم لتأخذوها ذرونا نتبعكم ۖ يريدون أن يبدلوا كلام الله ۚ قل لن تتبعونا كذلكم قال الله من قبل ۖ فسيقولون بل تحسدوننا ۚ بل كانوا لا يفقهون إلا قليلا
পেছনে পড়ে থাকা বেদুঈনদেরকে বল, ‘এক কঠোর যোদ্ধা জাতির বিরুদ্ধে শীঘ্রই তোমাদেরকে ডাকা হবে; তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অথবা তারা আত্মসমর্পণ করবে। অতঃপর তোমরা যদি আনুগত্য কর তবে তোমাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন। আর পূর্বে তোমরা যেমন ফিরে গিয়েছিলে তে
গৃহে অবস্থানকারী মরুবাসীদেরকে বলে দিনঃ আগামীতে তোমরা এক প্রবল পরাক্রান্ত জাতির সাথে যুদ্ধ করতে আহুত হবে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে, যতক্ষণ না তারা মুসলমান হয়ে যায়। তখন যদি তোমরা নির্দেশ পালন কর, তবে তোমাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিবেন। আর যদি পৃষ্ঠপ্রদর্শন কর যেমন ইতিপূর্বে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছ, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি দিবেন।
পিছে পড়া মরুবাসী বেদুঈনদের বলো: ‘তোমাদের ডাকা হবে প্রবল যোদ্ধা এক জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে। তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করে যাবে যতোক্ষণ না তারা আত্মসমর্পণ করে। তোমরা যদি একথা মেনে নাও, তবে তোমাদের উত্তম পুরস্কার দেবেন, আর যদি তোমরা আগের মতোই পেছনে হটে যাও, তোমাদের আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব।’
قل للمخلفين من الأعراب ستدعون إلى قوم أولي بأس شديد تقاتلونهم أو يسلمون ۖ فإن تطيعوا يؤتكم الله أجرا حسنا ۖ وإن تتولوا كما توليتم من قبل يعذبكم عذابا أليما
অন্ধের কোন অপরাধ নেই, লেংড়ার কোন অপরাধ নেই, অসুস্থের কোন অপরাধ নেই। যে ব্যক্তি ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করাবেন যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। আর যে ব্যক্তি পিছনে ফিরে যাবে তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।
অন্ধের জন্যে, খঞ্জের জন্যে ও রুগ্নের জন্যে কোন অপরাধ নাই এবং যে কেউ ও তাঁর রসূলের অনুগত্য করবে তাকে তিনি জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত হয়। পক্ষান্তরে যে, ব্যক্তি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।
অন্ধদের কোনো দোষ হবেনা, পঙ্গুদের কোনো দোষ হবেনা এবং রোগীদেরও কোনো দোষ হবেনা (যদি তারা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে)। যে কেউ আল্লাহর এবং তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার নিচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। আর কেউ যদি পিছে হটে যায়, তিনি তাকে আযাব দেবেন এক বেদনাদায়ক আযাব।
ليس على الأعمى حرج ولا على الأعرج حرج ولا على المريض حرج ۗ ومن يطع الله ورسوله يدخله جنات تجري من تحتها الأنهار ۖ ومن يتول يعذبه عذابا أليما
অবশ্যই মুমিনদের উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা গাছের নিচে আপনার হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছিল; অতঃপর তিনি তাদের অন্তরে কী ছিল তা জেনে নিয়েছেন, ফলে তাদের উপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে পুরস্কৃত করলেন নিকটবর্তী বিজয় দিয়ে।
মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।
মুমিনদের প্রতি রাজি হয়েছেন যখন তারা গাছের নিচে তোমার কাছে বায়াত গ্রহণ করেছিল। তাদের অন্তরে যা ছিলো তিনি তা অবহিত ছিলেন। ফলে তিনি তাদের প্রতি নাযিল করলেন প্রশান্তি এবং তাদের পুরস্কার দিলেন এক নিকটবর্তী বিজয়।
۞ لقد رضي الله عن المؤمنين إذ يبايعونك تحت الشجرة فعلم ما في قلوبهم فأنزل السكينة عليهم وأثابهم فتحا قريبا
আর বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দিয়ে যা তারা গ্রহণ করবে; আর হলেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
এবং বিপুল পরিমাণে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, যা তারা লাভ করবে। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
আর বিপুল পরিমাণ গণিমতের মাল যা তারা হস্তগত করবে। সর্বশক্তিমান, মহাপ্রজ্ঞাবান।
ومغانم كثيرة يأخذونها ۗ وكان الله عزيزا حكيما
তোমাদেরকে প্রভূত গনীমতের ওয়াদা দিয়েছেন যা তোমরা গ্রহণ করবে; অতঃপর এগুলি আগে দিয়েছেন; আর মানুষের হাত তোমাদের থেকে ফিরিয়ে রেখেছেন এবং যাতে এটি মুমিনদের জন্য একটি নিদর্শন হয়, আর তিনি তোমাদেরকে সরল পথ দেখান।
তোমাদেরকে বিপুল পরিমাণ যুদ্ধলব্ধ সম্পদের ওয়াদা দিয়েছেন, যা তোমরা লাভ করবে। তিনি তা তোমাদের জন্যে ত্বরান্বিত করবেন। তিনি তোমাদের থেকে শত্রুদের স্তব্দ করে দিয়েছেন - যাতে এটা মুমিনদের জন্যে এক নিদর্শন হয় এবং তোমাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।
তোমাদের ওয়াদা দিয়েছেন তোমরা বিপুল পরিমাণ গণিমতের মালের অধিকারী হবে। তিনি এটা তোমাদের জন্যে জল্দি করছেন এবং তোমাদের থেকে মানুষের হাত গুটিয়ে দিয়েছেন যেনো এটা হয় মুমিনদের জন্যে একটি নিদর্শন এবং তোমাদের পরিচালিত করেন সরল সঠিক পথে।
وعدكم الله مغانم كثيرة تأخذونها فعجل لكم هذه وكف أيدي الناس عنكم ولتكون آية للمؤمنين ويهديكم صراطا مستقيما
আর আরেকটি এখনো তোমরা যা অর্জন করতে সক্ষম হওনি। কিন্তু তা বেষ্টন করে রেখেছেন। আর সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আর ও একটি বিজয় রয়েছে যা এখনও তোমাদের অধিকারে আসেনি, তা বেষ্টন করে আছেন। সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।
এছাড়া তোমাদের জন্যে রয়েছে আরো অনেক পুরস্কার যা এখনো তোমাদের আয়ত্তে আসেনি। সেগুলো পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। প্রতিটি বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
وأخرى لم تقدروا عليها قد أحاط الله بها ۚ وكان الله على كل شيء قديرا
আর যারা করেছে তারা যদি তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে অবশ্যই তারা পিঠ দেখিয়ে পালাবে। তারপর তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
যদি কাফেররা তোমাদের মোকাবেলা করত, তবে অবশ্যই তারা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করত। তখন তারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পেত না।
কাফিররা যদি তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই, তবে তারা পেছনে ফিরে পালাবে এবং তারা কোনো অলি (বন্ধু) এবং সাহায্যকারী পাবেনা।
ولو قاتلكم الذين كفروا لولوا الأدبار ثم لا يجدون وليا ولا نصيرا
তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের ব্যাপারে এটি আল্লাহর নিয়ম; আর তুমি আল্লাহর নিয়মে কোন পরিবর্তন পাবে না।
এটাই আল্লাহর রীতি, যা পূর্ব থেকে চালু আছে। তুমি আল্লাহর রীতিতে কোন পরিবর্তন পাবে না।
এটাই আল্লাহর সুন্নত (নিয়ম), প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। তুমি আল্লাহর সুন্নতে কোনো পরিবর্তন পাবেনা।
سنة الله التي قد خلت من قبل ۖ ولن تجد لسنة الله تبديلا
আর তিনিই মক্কা উপত্যকায় তোমাদেরকে তাদের উপর বিজয়ী করার পর তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে ফিরায়ে রেখেছেন। আর তোমরা যা আমল কর, হলেন তার সম্যক দ্রষ্টা।
তিনি মক্কা শহরে তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে নিবারিত করেছেন তাদের উপর তোমাদেরকে বিজয়ী করার পর। তোমরা যা কিছু কর, তা দেখেন।
তিনি মক্কা উপত্যকায় তাদের হাত তোমাদের থেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এবং তোমাদের হাত গুটিয়ে রেখেছিলেন তাদের থেকে তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর। তোমরা যা করো তার প্রতি দৃষ্টিবান।
وهو الذي كف أيديهم عنكم وأيديكم عنهم ببطن مكة من بعد أن أظفركم عليهم ۚ وكان الله بما تعملون بصيرا
তারাইতো করেছিল এবং তোমাদেরকে আল-মাসজিদুল হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল আর কুরবানীর পশুগুলোকে কুরবানীর স্থানে পৌঁছতে বাধা দিয়েছিল। যদি পুরুষরা ও নারীরা না থাকত, যাদের সম্পর্কে তোমরা জান না যে, তোমরা অজ্ঞাতসারে তাদেরকে পদদলিত করবে, ফলে তাদের কার
তারাই তো করেছে এবং বাধা দিয়েছে তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে এবং অবস্থানরত কোরবানীর জন্তুদেরকে যথাস্থানে পৌছতে। যদি মক্কায় কিছুসংখ্যক পুরুষ ও নারী না থাকত, যাদেরকে তোমরা জানতে না। অর্থাৎ তাদের পিষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, অতঃপর তাদের কারণে তোমরা অজ্ঞাতসারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে, তবে সব কিছু চুকিয়ে দেয়া হত; কিন্তু এ কারণে চুকানো হয়নি, যাতে তা’আলা যাকে ইচ্ছা স্বীয় রহমতে দাখিল করে নেন। যদি তারা সরে যেত, তবে আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে যারা তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শস্তি দিতাম।
তারাই তো কুফুরি করেছিল এবং তোমাদেরকে মসজিদুল হারামে যেতে বাধা দিয়েছিল এবং কুরবানির পশুগুলো যথাস্থানে পৌঁছাতেও। তোমাদেরকে যুদ্ধের আদেশ দেয়া হতো যদি পুরুষ ও নারীরা সেখানে না থাকতো। তোমরা তাদের জানোনা। তখন তোমরা অজ্ঞাতসারে তাদের পদদলিত করতে, ফলে তাদের জন্যে তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে। যুদ্ধের নির্দেশ দেয়া হয়নি এ কারণে যে, তিনি যাকে ইচ্ছা নিজ অনুগ্রহ দান করবেন। যদি তারা পৃথক হতো তবে তাদের মধ্যকার কাফিরদের আমরা এক বেদনাদায়ক শাস্তি দিতাম।
هم الذين كفروا وصدوكم عن المسجد الحرام والهدي معكوفا أن يبلغ محله ۚ ولولا رجال مؤمنون ونساء مؤمنات لم تعلموهم أن تطئوهم فتصيبكم منهم معرة بغير علم ۖ ليدخل الله في رحمته من يشاء ۚ لو تزيلوا لعذبنا الذين كفروا منهم عذابا أليما
যখন কাফিররা তাদের অন্তরে আত্ম-অহমিকা পোষণ করেছিল, জাহিলী যুগের আহমিকা। তখন তাঁর রাসূলের উপর ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাকওয়ার বাণী তাদের জন্য অপরিহার্য করলেন, আর তারাই ছিল এর সর্বাধিক উপযুক্ত ও এর অধিকারী। আর হলেন প্রত্য
কেননা, কাফেররা তাদের অন্তরে মূর্খতাযুগের জেদ পোষণ করত। অতঃপর তাঁর রসূল ও মুমিনদের উপর স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের জন্যে সংযমের দায়িত্ব অপরিহার্য করে দিলেন। বস্তুতঃ তারাই ছিল এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।
যখন কাফিররা তাদের অন্তরে দম্ভ পোষণ করতো জাহেলি যুগের দম্ভ, তখন তাঁর রসূল ও মুমিনদের প্রতি নাযিল করলেন নিজের থেকে প্রশান্তি, আর তাদের মজবুত করলেন তাকওয়ার বাক্যে। কারণ, তারাই ছিলো এর অধিকতর যোগ্য ও উপযুক্ত। প্রতিটি বিষয়ে জ্ঞানী।
إذ جعل الذين كفروا في قلوبهم الحمية حمية الجاهلية فأنزل الله سكينته على رسوله وعلى المؤمنين وألزمهم كلمة التقوى وكانوا أحق بها وأهلها ۚ وكان الله بكل شيء عليما
অবশ্যই তাঁর রাসূলকে স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করে দিয়েছেন। তোমরা ইনশাআল্লাহ নিরাপদে তোমাদের মাথা মুন্ডন করে এবং চুল ছেঁটে নির্ভয়ে আল-মাসজিদুল হারামে অবশ্যই প্রবেশ করবে। অতঃপর জেনেছেন যা তোমরা জানতে না। সুতরাং এ ছাড়াও তিনি দিলেন এক নিকটব
তাঁর রসূলকে সত্য স্বপ্ন দেখিয়েছেন। চাহেন তো তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদে মস্তকমুন্ডিত অবস্থায় এবং কেশ কর্তিত অবস্থায়। তোমরা কাউকে ভয় করবে না। অতঃপর তিনি জানেন যা তোমরা জান না। এছাড়াও তিনি দিয়েছেন তোমাদেরকে একটি আসন্ন বিজয়।
নিশ্চয়ই তাঁর রসূলের দেখা স্বপ্নটি যথাযথভাবে সত্যে পরিণত করেছেন। ইনশাল্লাহ ( চাইলে) তোমরা অবশ্যি মসজিদুল হারামে দাখিল হবে নিরাপদে মাথা কামিয়ে এবং চুল ছেঁটে। তোমরা কাউকেও ভয় পাবেনা। জানেন তোমরা যা জানো না। এছাড়াও তিনি তোমাদের দেবেন এক নিকটবর্তী বিজয়।
لقد صدق الله رسوله الرؤيا بالحق ۖ لتدخلن المسجد الحرام إن شاء الله آمنين محلقين رءوسكم ومقصرين لا تخافون ۖ فعلم ما لم تعلموا فجعل من دون ذلك فتحا قريبا
তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি এটাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করতে পারেন। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।
তিনিই তাঁর রসূলকে হেদায়েত ও সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে একে অন্য সমস্ত ধর্মের উপর জয়যুক্ত করেন। সত্য প্রতিষ্ঠাতারূপে যথেষ্ট।
তাঁর রসূলকে পাঠিয়েছেন হিদায়াত এবং সত্য দীন নিয়ে, যাতে করে সে এটিকে বিজয়ী করে অন্য সব দীনের উপর। আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ্ই যথেষ্ট।
هو الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ۚ وكفى بالله شهيدا
মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তার সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়, তুমি তাদেরকে রুকূকারী, সিজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন থাকে। এটা
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন । তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে - চাষীকে আনন্দে অভিভুত করে - যাতে তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন।
মুহাম্মদ আল্লাহর রসূল, আর যারা তার সাথে রয়েছে, তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রতি পরম দয়াবান। তুমি লক্ষ্য করছো, তারা রুকু ও সাজদায় অবনত হয়ে কামনা করছে আল্লাহর অনুগ্রহ এবং সন্তুষ্টি। তাদের লক্ষণ হলো, তাদের মুখমন্ডলে পরিস্ফুট দেখবে সাজদার প্রভাব। তাওরাতেও তাদের এ বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে এবং ইনজিলেও তাদের এই বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের দৃষ্টান্ত হলো: একটি চারাগাছ। তা থেকে বের হয় কিশলয়, তারপর তা হয় শক্ত ও পুষ্ট, অত:পর সেটি দাঁড়ায় তার কান্ডের উপর মজবুত হয়ে, যা আনন্দিত করে তোলে চাষীকে। এভাবে মুমিনদের ক্রমবৃদ্ধিও সৃষ্টি করে কাফিরদের অন্তরজ্বালা। যারা ঈমান আনে এবং আমলে সালেহ্ করে, তাদের ওয়াদা দিয়েছেন মাগফিরাতের (ক্ষমা করে দেয়ার) এবং এক মহাপুরস্কারের।
محمد رسول الله ۚ والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم ۖ تراهم ركعا سجدا يبتغون فضلا من الله ورضوانا ۖ سيماهم في وجوههم من أثر السجود ۚ ذلك مثلهم في التوراة ۚ ومثلهم في الإنجيل كزرع أخرج شطأه فآزره فاستغلظ فاستوى على سوقه يعجب الزراع ليغيظ بهم الكفار ۗ وعد الله الذين آمنوا وعملوا الصالحات منهم مغفرة وأجرا عظيما