কোন্ বিষয় সম্পর্কে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে ?
তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
কি সন্বন্ধে তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
Chapter 78, 40 verses
কোন্ বিষয় সম্পর্কে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে ?
তারা পরস্পরে কি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
কি সন্বন্ধে তারা পরস্পরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?
মহাসংবাদটি সম্পর্কে,
মহা সংবাদ সম্পর্কে,
সেই মহাসংবাদ সন্বন্ধে - -
যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে।
যে সম্পর্কে তারা মতানৈক্য করে।
যে বিষয়ে তারা মতানৈক্যের মধ্যে রয়েছে।
কখনো না, অচিরেই তারা জানতে পারবে।
না, সত্ত্বরই তারা জানতে পারবে,
না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।
তারপর কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে।
অতঃপর না, সত্বর তারা জানতে পারবে।
পুনশ্চ, না, তারা অতিশীঘ্রই জানতে পারবে।
আমি কি বানাইনি যমীনকে শয্যা?
আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা
আমরা কি পৃথিবীটাকে পাতানো - বিছানারূপে বানাই নি,
আর পর্বতসমূহকে পেরেক?
এবং পর্বতমালাকে পেরেক?
আর পাহাড় - পর্বতকে খুটিরূঁপে?
আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।
আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি,
আর আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি জোড়ায় - জোড়ায়;
আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম।
তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী,
আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম,
আর আমি রাতকে করেছি আবরণ।
রাত্রিকে করেছি আবরণ।
আর রাতকে করেছি পোশাকস্বরূপ;
আর আমি দিনকে করেছি জীবিকার্জনের সময়।
দিনকে করেছি জীবিকা অর্জনের সময়,
আর দিনকে করেছি জীবিকার সংস্থান।
আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ।
নির্মান করেছি তোমাদের মাথার উপর মজবুত সপ্ত - আকাশ।
আর তোমাদের উপরে আমরা বানিয়েছি সাত মজবুত জিনিস,
আর আমি সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল একটি প্রদীপ।
এবং একটি উজ্জ্বল প্রদীপ সৃষ্টি করেছি।
আর তৈরি করেছি একটি অত্যুজ্জ্বল প্রদীপ,
আর আমি মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করেছি।
আমি জলধর মেঘমালা থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত করি,
আর ঝরন্ত - মেঘ থেকে আমরা বর্ষণ করি প্রচুর বৃষ্টি,
যাতে তা দিয়ে আমি শস্য ও উদ্ভিদ উৎপন্ন করতে পারি।
যাতে তদ্দ্বারা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ।
যেন তার দ্বারা গজাতে পারি শস্য ও গাছপালা,
আর ঘন উদ্যানসমূহ।
ও পাতাঘন উদ্যান।
আর ঘনসন্নিবিষ্ট বাগানসমূহ।
নিশ্চয় ফয়সালার দিন নির্ধারিত আছে।
নিশ্চয় বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।
নিশ্চয় ফয়সালা করার দিনের এক নির্ধারিত সময়কাল আছে - -
সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে।
যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে সমাগত হবে।
সেইদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন তোমরা আসবে দলে - দলে,
আর আসমান খুলে দেয়া হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বারবিশিষ্ট।
আকাশ বিদীর্ণ হয়ে; তাতে বহু দরজা সৃষ্টি হবে।
আর আকাশকে বিদীর্ণ করা হবে, সুতরাং তা হবে বহু - দরজা - বিশিষ্ট।
আর পর্বতসমূহকে চলমান করা হবে, ফলে সেগুলো মরীচিকা হয়ে যাবে।
এবং পর্বতমালা চালিত হয়ে মরীচিকা হয়ে যাবে।
আর পাহাড়গুলো ধসে পড়বে, ফলে তা হবে বালুময় - মরীচিকা।
নিশ্চয় জাহান্নাম গোপন ফাঁদ।
নিশ্চয় জাহান্নাম প্রতীক্ষায় থাকবে,
নিঃসন্দেহ জাহান্নাম - - তা প্রতীক্ষায় রয়েছে - -
সীমালঙ্ঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তন স্থল।
সীমালংঘনকারীদের আশ্রয়স্থলরূপে।
সীমালংঘনকারীদের জন্য প্রত্যাবর্তনস্থল; - -
সেখানে তারা যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে।
তারা তথায় শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে।
সেখানে তারা অবস্থান করবে যুগ যুগ ধরে।
সেখানে তারা কোন শীতলতা আস্বাদন করবে না এবং না কোন পানীয়।
তথায় তারা কোন শীতল এবং পানীয় আস্বাদন করবে না;
তারা সেখানে স্বাদ গ্রহণ করবে না শীতলতার, না কোনো পানীয়ের - -
ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ছাড়া।
কিন্তু ফুটন্ত পানি ও পূঁজ পাবে।
শুধু ফুটন্ত জল ও হিমশীতল পানীয় ব্যতীত, - -
উপযুক্ত প্রতিফলস্বরূপ।
পরিপূর্ণ প্রতিফল হিসেবে।
এক যথাযথ প্রতিদান।
নিশ্চয় তারা হিসাবের আশা করত না।
নিশ্চয় তারা হিসাব - নিকাশ আশা করত না।
নিঃসন্দেহ তারা হিসাবের কথা ভাবে নি,
আর তারা আমার আয়াতসমূহকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছিল।
এবং আমার আয়াতসমূহে পুরোপুরি মিথ্যারোপ করত।
আর আমাদের বাণীসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল জোর প্রত্যাখ্যানে।
আর সব কিছুই আমি লিখিতভাবে সংরক্ষণ করেছি।
আমি সবকিছুই লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষিত করেছি।
আর সব - কিছুই - - আমরা তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করছি,
সুতরাং তোমরা স্বাদ গ্রহণ কর। আর আমি তো কেবল তোমাদের আযাবই বৃদ্ধি করব।
অতএব, তোমরা আস্বাদন কর, আমি কেবল তোমাদের শাস্তিই বৃদ্ধি করব।
সুতরাং স্বাদ গ্রহণ করো, আমরা তোমাদের বাড়িয়ে দেবো না শাস্তি ব্যতীত।
নিশ্চয় মুত্তাকীদের জন্য রয়েছে সফলতা।
পরহেযগারদের জন্যে রয়েছে সাফল্য।
ধর্মভীরুদের জন্য নিশ্চয়ই রয়েছে মহাসাফল্য - -
উদ্যানসমূহ ও আঙ্গুরসমূহ।
উদ্যান, আঙ্গুর,
ফলের বাগান ও আঙুর,
আর সমবয়স্কা উদ্ভিন্ন যৌবনা তরুণী।
সমবয়স্কা, পূর্ণযৌবনা তরুণী।
আর সমবয়স্ক ফুটফুটে কিশোর,
আর পরিপূর্ণ পানপাত্র।
এবং পূর্ণ পানপাত্র।
আর পরিপূর্ণ পানপাত্র।
তারা সেখানে কোন অসার ও মিথ্যা কথা শুনবে না।
তারা তথায় অসার ও মিথ্যা বাক্য শুনবে না।
তারা সেখানে খেলো কথা শুনবে না, আর মিথ্যাকথাও নয়।
তোমার রবের পক্ষ থেকে প্রতিফল, যথোচিত দানস্বরূপ।
এটা আপনার পালনকর্তার তরফ থেকে যথোচিত দান,
তোমার প্রভুর কাছ থেকে প্রতিফল, - - হিসাবমতো পুরস্কার, - -
যিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর রব, পরম করুণাময়। তারা তাঁর সামনে কথা বলার সামর্থ্য রাখবে না।
যিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা, দয়াময়, কেউ তাঁর সাথে কথার অধিকারী হবে না।
মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর এবং তাদের মধ্যে যা - কিছু আছে তার প্রভু, পরম করুণাময়, তাঁর কাছে বক্তব্য রাখার কোনো ক্ষমতা তারা রাখে না।
সেদিন রূহ* ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে, যাকে পরম করুণাময় অনুমতি দেবেন সে ছাড়া অন্যরা কোন কথা বলবে না। আর সে সঠিক কথাই বলবে। *হযরত জিবরীল (আঃ)।
যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতিত কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্যকথা বলবে।
সেইদিন আর - রূহ ও ফিরিশ্তাগণ সারবেঁধে দাঁড়াবে, পরম করুণাময় যাকে অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত তাদের কেউ কথা বলতে পারবে না, আর সে সঠিক কথা বলবে।
ঐ দিনটি সত্য। অতএব যে চায়, সে তার রবের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করুক।
এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক।
এইটাই মহাসত্যের দিন। অতএব যে কেউ চায় সে তার প্রভুর কাছে আশ্রয়স্থল খুঁজুক।
নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে একটি নিকটবর্তী আযাব সম্পর্কে সতর্ক করলাম। যেদিন মানুষ দেখতে পাবে, তার দু’হাত কী অগ্রে প্রেরণ করেছে এবং বলবে ‘হায়, আমি যদি মাটি হতাম’!
আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং বলবেঃ হায়, আফসোস - আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।
নিশ্চয় আমরা তোমাদের সতর্ক করছি এক নিকটবর্তী শাস্তি সন্বন্ধে, - - যেদিন মানুষ দেখতে পাবে তার হাত দুখানা কী আগবাড়িয়েছে, আর অবিশ্বাসী ব্যক্তি বলবে - - ''হায় আমার আফসোস! আমি যদি ধুলো হয়ে যেতাম!’’