Kitab

মারইয়াম (নবী ঈসা আঃ এর মায়ের নাম)

Chapter 19, 98 verses

  • বয়ান ফাউন্ডেশন
  • জহুরুল হক
  • আবদুস শহীদ নাসিম
  • ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বয়ান ফাউন্ডেশন

কাফ-হা-ইয়া-‘আঈন-সোয়াদ।

জহুরুল হক

কাফ - হা - ইয়া - 'আইন - স্বাদ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কাফ হা ইয়া আঈন সোয়াদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কাফ্ - হা - ইয়া - আইন - সোয়াদ ;

বয়ান ফাউন্ডেশন

এটা তোমার রবের রহমতের বিবরণ তাঁর বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি।

জহুরুল হক

এ তাঁর বান্দা যাকারিয়ার প্রতি তোমার প্রভুর অনুগ্রহের বিবরণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

এটা তোমার প্রভুর রহমতের যিকির (বিবরণ), যা তিনি করেছিলেন তাঁর দাস যাকারিয়ার প্রতি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের বিবরণ তাঁহার বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি,

বয়ান ফাউন্ডেশন

যখন সে তার রবকে গোপনে ডেকেছিল।

জহুরুল হক

স্মরণ করো, তিনি তাঁর প্রভুর প্রতি মৃদু স্বরে আহ্বান করলেন - -

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন সে ফরিয়াদ করেছিল তার প্রভুর কাছে নীরবে নিভৃতে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন সে তাহার প্রতিপালককে আহ্বান করিয়াছিল নিভৃতে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলেছিল, ‘হে আমার রব! আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে এবং বার্ধক্যবশতঃ আমার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে গেছে। হে আমার রব, আপনার নিকট দো‘আ করে আমি কখনো ব্যর্থ হইনি’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার ভেতরের হাড় - গোড় জিরজিরে হয়ে গেছে আর মাথাটি হয়ে গেছে জড়ভরত পাকাচুল বিশিষ্ট, আর আমার প্রভু! আমি তো তোমার কাছে আমার প্রার্থনায় কখনো নিরাশ হই নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বলেছিল: ‘‘আমার প্রভু! আমার হাড়গোড় দুর্বল হয়ে গেছে, বার্ধক্যে আমার মাথার চুল শুভ্র - সাদা হয়ে গেছে। আমার প্রভু! তোমার কাছে ফরিয়াদ করে আমি কখনো খালি হাতে ফিরিনি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিয়াছিল, ‘হে আমার রব! আমার অস্থি দুর্বল হইয়াছে, বার্ধক্যে আমার মস্তক শুভ্রোজ্জ্বল হইয়াছে; হে আমার প্রতিপালক! তোমাকে আহ্‌বান করিয়া আমি কখনও ব্যর্থকাম হই নাই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমার পরে স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে আমি আশংকাবোধ করছি। আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন’।

জহুরুল হক

''আর আমি অবশ্য আশংকা করছি আমার পরে আমার জ্ঞাতিগোষ্ঠীদের, আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা, সেজন্য তোমার কাছ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী প্রদান করো, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি আমার পরে আমার উত্তরাধিকারী সম্পর্কে আশংকা করছি। এ দিকে আমার স্ত্রীও বন্ধ্যা। অতএব, তোমার পক্ষ থেকে তুমি আমাকে এমন একজন উত্তরাধিকারী দান করো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি আশংকা করি আমার পর আমার স্বগোত্রীয়দের সম্পর্কে; আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। সুতরাং তুমি তোমার নিকট হইতে আমাকে দান কর উত্তরাধিকারী,

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকূবের বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার রব, আপনি তাকে পছন্দনীয় বানিয়ে দিন’।

জহুরুল হক

''যে আমাকে উত্তরাধিকার করবে এবং ইয়াকুবের বংশধরদের উত্তরাধিকার করবে, আর আমার প্রভু, তাকে সন্তোষভাজন বানিয়ো।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করবে এবং ইয়াকুবের বংশেরও উত্তরাধিকারিত্ব করবে, আর হে প্রভু! তুমি তাকে বানাবে সন্তোষভাজন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যে আমার উত্তরাধিকারিত্ব করিবে এবং উত্তরাধিকারিত্ব করিবে ইয়া‘কূবের বংশের এবং হে আমার প্রতিপালক! তাহাকে করিও সন্তোষভাজন’।

বয়ান ফাউন্ডেশন

( বললেন) ‘হে যাকারিয়্যা, আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে কাউকে আমি এ নাম দেইনি’।

জহুরুল হক

''হে যাকারিয়া, নিঃসন্দেহ আমরা তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছি একটি বেটা - ছেলের, তার নাম হবে ইয়াহ্‌য়া, এর আগে কাউকেও আমরা তার নামধর বানাই নি।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(তার দোয়া কবুল করে বললেন:) ‘হে যাকারিয়া! আমরা তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, তার নাম হবে ইয়াহিয়া। আগে আমরা এই নামে কারো নামকরণ করিনি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘ হে যাকারিয়্যা! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি, তাহার নাম হইবে ইয়াহ্ইয়া; এই নামে পূর্বে আমি কাহারও নামকরণ করি নাই।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছি’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! কেমন ক’রে আমার ছেলে হবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা আর আমিও বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি!

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘প্রভু! কেমন করে হবে আমার পুত্র, আমার স্ত্রী তো বন্ধ্যা, আর আমিও তো বার্ধক্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! কেমন করিয়া আমার পুত্র হইবে যখন আমার স্ত্রী বন্ধ্যা ও আমি বার্ধক্যের শেষ সীমায় উপনীত।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে (ফেরেশতা) বলল, ‘এভাবেই’। তোমার রব বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য সহজ। আমি তো ইতঃপূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করেছি, তখন তুমি কিছুই ছিলে না’।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''এমনটাই হবে যেমন তুমি ভাব, তোমার প্রভু বলেছেন - - 'এটি আমার জন্য সহজসাধ্য, আর আমি তো তোমাকে এর আগে সৃষ্টি করেছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি (দূতের মাধ্যমে) বললেন: তুমি ঠিকই বলেছো। তবে তোমার প্রভু বলছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে একেবারেই সহজ। ইতোপূর্বে তো আমি তোমাকেও সৃষ্টি করেছি, অথচ তোমার কোনো অস্তিত্বই ছিলনা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি বলিলেন, ‘এইরূপই হইবে।’ তোমার প্রতিপালক বলিলেন, ‘ইহা আমার জন্য সহজসাধ্য ; আমি তো পূর্বে তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছি যখন তুমি কিছুই ছিলে না।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে আমার রব, আমার জন্য একটি নিদর্শন ঠিক করে দিন’। তিনি বললেন, ‘তোমার জন্য এটাই নিদর্শন যে, তুমি সুস্থ থেকেও তিন রাত কারো সাথে কথা বলবে না’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''আমার প্রভু! আমার জন্য একটি নিদর্শন স্থাপন করো।’’ তিনি বললেন, ''তোমার নিদর্শন হচ্ছে - - তুমি লোকের সাথে কথা বলবে না তিন রাত্রি পর্যন্ত সুস্থাবস্থায় থেকে।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘প্রভু! (এর জন্যে) আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বললেন, তোমার নিদর্শন হলো: ‘তুমি শারীরিক সুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিন দিন কারো সাথে কোনো কথা বলবেনা।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাকারিয়্যা বলিল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দাও।’ তিনি বলিলেন, ‘তোমার নিদর্শন এই যে, তুমি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও কাহারও সঙ্গে তিন দিন বাক্যালাপ করিবে না।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে মিহরাব হতে বেরিয়ে তার লোকদের সামনে আসল এবং ইশারায় তাদেরকে বলল যে, ‘তোমরা সকাল ও সন্ধ্যায় তাসবীহ পাঠ কর’।

জহুরুল হক

তারপর তিনি উপাসনার কামরা থেকে তাঁর লোকদের কাছে বেরুলেন এবং তাদের প্রতি ঘোষণা করলেন - - ''মহিমা কীর্তন করো সকালে ও সন্ধ্যায়।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর সে মেহরাব (কক্ষ) থেকে বের হয়ে তার কওমের কাছে এলো এবং ইশারা করে তাদের বললো: ‘তোমরা সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তসবিহ্ করো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে কক্ষ হইতে বাহির হইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল এবং ইঙ্গিতে তাহাদেরকে সকাল সন্ধায় ‌র পবিত্রতা ঘোষণা করিতে বলিল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে ইয়াহইয়া, তুমি কিতাবটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর’। আমি তাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা* দান করেছি। * এখানে ‘হুকম’ বলতে হিকমাত বা প্রজ্ঞা বুঝানো হয়েছে। কারো মতে, তা হল ইলম ও আমল। কেউ বলেছেন, নবুওয়াত বা আকল। ইমাম শওকানী বলেন, উল্লেখিত প্রতিটি বিষয় ‘হুকম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হ

জহুরুল হক

''হে ইয়াহ্‌য়া, ধর্মগ্রন্থ শক্ত ক’রে ধারণ করো।’’ আর আমরা তাঁকে জ্ঞানদান করেছিলাম শৈশবেই,

আবদুস শহীদ নাসিম

(বলা হলো:) ‘হে ইয়াহিয়া! এই (তাওরাত) কিতাবকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো।’ আর আমরা তাকে শৈশবেই দান করেছিলাম জ্ঞান ও প্রজ্ঞা,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে ইয়াহ্ইয়া! এই কিতাব দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ কর।’ আমি তাহাকে শৈশবেই দান করিয়াছিলাম জ্ঞান,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমার পক্ষ থেকে তাকে স্নেহ-মমতা ও পবিত্রতা দান করেছি এবং সে ছিল।

জহুরুল হক

আর আমাদের তরফ থেকে সহৃদয়তা ও পবিত্রতা। আর তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ,

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমরা তাকে দিয়েছিলাম আমাদের পক্ষ থেকে কোমলতা - নম্রতা আর পবিত্রতা এবং সে ছিলো তাকওয়ার অধিকারী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমার নিকট হইতে হৃদয়ের কোমলতা ও পবিত্রতা; সে ছিল ,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে ছিল তার পিতা-মাতার সাথে সদাচারী, আর ছিল না অহংকারী, অবাধ্য।

জহুরুল হক

আর তাঁর পিতামাতার প্রতি অনুগত, আর তিনি ছিলেন না উদ্ধত, অবাধ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ছিলো পিতা - মাতার প্রতি অনুগত। সে উদ্ধতও ছিলনা, অবাধ্যও ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পিতা - মাতার অনুগত এবং সে ছিল না উদ্ধত ও অবাধ্য।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তার উপর শান্তি, যেদিন সে জন্মেছে এবং যেদিন সে মারা যাবে আর যেদিন তাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে।

জহুরুল হক

আর শান্তি তাঁর উপরে যেদিন তাঁর জন্ম হয়েছিল ও যেদিন তিনি মারা গিয়েছিলেন আর যেদিন তাঁকে পুরুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তার প্রতি সালাম যেদিন তার জন্ম হয়েছিল, যেদিন তার মৃত্যু হবে এবং যেদিন সে পুনরুত্থিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্মলাভ করে, যেদিন তাহার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় উত্থিত হইবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর এই কিতাবে মারইয়ামকে যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের কোন এক স্থানে চলে গেল।

জহুরুল হক

আর গ্রন্থখানাতে মরিয়মের কথা স্মরণ করো - - যখন তিনি তাঁর পরিবারবর্গ থেকে সরে গিয়েছিলেন পুবদিকের এক জায়গায়,

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাবের বর্ণনা অনুসারে মরিয়মের কথা যিকির (আলোচনা) করো। সে যখন তার পরিবার পরিজন থেকে আলাদা হয়ে পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিলো,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বর্ণনা কর এই কিতাবে উল্লিখিত মার্‌ইয়ামের কথা, যখন সে তাহার পরিবারবর্গ হইতে পৃথক হইয়া নিরালায় পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় লইল,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে তাদের নিকট থেকে (নিজকে) আড়াল করল। তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল।

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাদের থেকে পর্দা অবলন্বন করলেন, তখন আমরা তাঁর কাছে পাঠালাম আমাদের দূতকে, কাজেই তাঁর কাছে সে এক পুরোপুরি মানুষের অনুরূপে দেখা দিল।

আবদুস শহীদ নাসিম

এবং তাদের থেকে সে হিজাব (আড়াল) গ্রহণ করলো, তখন আমরা তার কাছে পাঠালাম আমাদের রূহকে (জিবরিলকে)। সে এসে তার কাছে পূর্ণ মানব আকৃতিতে নিজেকে প্রকাশ করলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর উহাদের হইতে সে পর্দা করিল। অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহ্কে পাঠাইলাম, সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করিল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি হও’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''নিঃসন্দেহ আমি তোমার থেকে আশ্রয় খুজঁছি পরম করুণাময়ের কাছে, যদি তুমি ধর্মভীরু হও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (মরিয়ম) বললো: ‘আমি তোমার থেকে - রহমানের আশ্রয় চাচ্ছি যদি তুমি হয়ে থাকো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মার্‌ইয়াম বলিল, ‌কে ভয় কর যদি তুমি ‘ হও’, আমি তোমা হইতে দয়াময়ের শরণ লইতেছি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি’।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''আমি তো শুধু তোমার প্রভুর বাণীবাহক - - 'যে আমি তোমাকে দান করব এক নিখুঁত ছেলে’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘(তোমার ভয়ের কোনো কারণ নেই) আমি তোমার প্রভুর রসূল (বার্তা বাহক), তোমাকে একটি পবিত্র পুত্র সন্তান দান করার (সংবাদ দেয়ার) জন্যে এসেছি।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি তো তোমার প্রতিপালক - প্রেরিত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করিবার জন্য।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

মারইয়াম বলল, ‘কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''কেমন ক’রে আমার ছেলে হবে, যেহেতু আমাকে পুরুষ - মানুষ স্পর্শ করে নি এবং আমি অসতীও নই?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘কী করে পুত্র হবে আমার, আমাকে তো কখনো কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মার্‌ইয়াম বলিল, ‘কেমন করিয়া আমার পুত্র হইবে যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘এভাবেই। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়’।

জহুরুল হক

সে বললে - - ''মনটা হবে! তোমার প্রভু বলেছেন - - 'এটি আমার জন্য সহজ - সাধ্য। আর যেন আমরা তাঁকে লোকদের জন্য একটি নিদর্শন বানাতে পারি, আর আমাদের থেকে এক করুণা, আর এ তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে বললো: ‘তুমি ঠিকই বলেছো।’ তবে তোমার প্রভু বলেছেন: ‘এ কাজ আমার জন্যে খুবই সহজ এবং তাকে আমরা এ জন্যে সৃষ্টি করবো যেনো সে হয় মানুষের জন্যে একটি নিদর্শন, আর সে হবে আমাদের পক্ষ থেকে একটি রহমত, আর এ বিষয়টির ফায়সালা হয়েই আছে।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘এইরূপই হইবে।’ তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন, ‘ইহা আমার জন্য সহজসাধ্য এবং আমি উহাকে এইজন্য সৃষ্টি করিব যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার নিকট হইতে এক অনুগ্রহ; ইহা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর সে তাকে গর্ভে ধারণ করল এবং তা নিয়ে দূরবর্তী একটি স্থানে চলে গেল।

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাঁকে গর্ভে ধারণ করলেন, এবং তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে সরে গেলেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে তাকে গর্ভ ধারণ করে। পরে তাকে গর্ভে নিয়ে সে একটি দূরবর্তী স্থানে চলে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তৎপর সে গর্ভে উহাকে ধারণ করিল; অতঃপর তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেল;

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর প্রসব-বেদনা তাকে খেজুর গাছের কান্ডের কাছে নিয়ে এলো। সে বলল, ‘হায়! এর আগেই যদি আমি মরে যেতাম এবং সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হতাম’!

জহুরুল হক

তখন প্রসব - বেদনা তাঁকে এক খেজুর গাছের গুড়িতে নিয়ে এল। তিনি বললেন - - ''হায় আমার দুর্ভোগ! এর আগে যদি আমি মরেই যেতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃতিতে বিস্মৃত হতাম!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

প্রসব বেদনা তাকে একটি খেজুর গাছের নীচে নিয়ে আসে। এ সময় (অপবাদের ভয়ে) সে বলে: ‘হায়, এর আগেই যদি আমার মৃত্যু হতো এবং আমি যদি মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যেতাম!’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

প্রসব - বেদনা তাহাকে এক খর্জুর - বৃক্ষতলে আশ্রয় লইতে বাধ্য করিল। সে বলিল, ‘হায়, ইহার পূর্বে আমি যদি মরিয়া যাইতাম ও লোকের স্মৃতি হইতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হইতাম!’

বয়ান ফাউন্ডেশন

তখন তার নিচ থেকে সে তাকে ডেকে বলল যে, ‘তুমি চিন্তা করো না। তোমার রব তোমার নিচে একটি ঝর্ণা সৃষ্টি করেছেন’।

জহুরুল হক

তখন তাঁর নিচে থেকে তাঁকে ডেকে বললে - - ''দুঃখ করো না, তোমার প্রভু অবশ্য তোমার নিচে দিয়ে একটি জলধারা রেখেছেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তখন সে তাকে নীচ থেকে ডেকে বললো: ‘‘দুঃখ করোনা, তোমার নীচে দিয়ে তোমার প্রভু একটি নহর সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ফিরিশ্‌তা তাহার নিম্নপার্শ্ব হইতে আহ্বান করিয়া তাহাকে বলিল, ‘তুমি দুঃখ করিও না, তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করিয়াছেন;

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর তুমি খেজুর গাছের কান্ড ধরে তোমার দিকে নাড়া দাও, তাহলে তা তোমার উপর তাজা-পাকা খেজুর ফেলবে’।

জহুরুল হক

''আর খেজুর গাছের কান্ডটি তোমার দিকে টানতে থাক, এটি তোমার উপরে টাটকা - পাকা খেজুর ফেলবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কান্ড নাড়া দাও, সেটি তোমার জন্যে তাজা পাকা খেজুর ফেলবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘তুমি তোমার দিকে খর্জুর - বৃক্ষের কাণ্ডে নাড়া দাও, উহা তোমাকে সুপক্ব তাজা খর্জুর দান করিবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘অতঃপর তুমি খাও, পান কর এবং চোখ জুড়াও। আর যদি তুমি কোন লোককে দেখতে পাও তাহলে বলে দিও, ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য চুপ থাকার মানত করেছি। অতএব আজ আমি কোন মানুষের সাথে কিছুতেই কথা বলব না’।

জহুরুল হক

''সুতরাং খাও ও পান করো এবং চোখ জুড়াও। আর লোকজনের কাউকে যদি দেখতে পাও তবে বলো - - 'আমি পরম করুণাময়ের জন্য রোযা রাখার মানত করেছি, কাজেই আমি আজ কোনো লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলব না’।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তা খাও আর পান করো এবং তোমার চক্ষু শীতল করো। কোনো মানুষ দেখতে পেলে বলবে: ‘আমি আজ রহমানের উদ্দেশ্যে চুপ থাকার সাওম পালনের মানত করেছি, তাই আজ আমি কারো সাথে কথা বলবোনা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং আহার কর, পান কর ও চক্ষু জুড়াও। মানুষের মধ্যে কাহাকেও যদি তুমি দেখ তখন বলিও, ‘আমি দয়াময়ের উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের মানত করিয়াছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সঙ্গে বাক্যালাপ করিব না।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর সে তাকে কোলে নিয়ে নিজ কওমের নিকট আসল। তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভূত বিষয় নিয়ে এসেছ’!

জহুরুল হক

তারপর তিনি তাঁকে নিয়ে এলেন তাঁর লোকদের কাছে তাঁকে চড়িয়ে। তারা বললে - - ''হে মরিয়ম! তুমি আলবৎ এক অদ্ভুত ফেসাদ নিয়ে এসেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

অত:পর সে (মরিয়ম) তাকে (ছেলেটিকে) কোলে নিয়ে তার কওমের কাছে এলো। তারা বললো: ‘‘হে মরিয়ম। তুমি তো এক মহাকান্ড ঘটিয়ে এসেছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে সন্তানকে লইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হইল; উহারা বলিল, ‘হে মার্‌ইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত কাণ্ড করিয়া বসিয়াছ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে হারূনের বোন! তোমার পিতা তো খারাপ লোক ছিল না। আর তোমার মা-ও ছিল না ব্যভিচারিণী’।

জহুরুল হক

''হে হারূনের ভগিনী! তোমার বাপ তো খারাপ লোক ছিল না এবং তোমার মা’ও পাপিষ্ঠা নয়!’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে হারূণের বোন, তোমার পিতা তো কোনো খারাপ লোক ছিলেন না, তোমার মাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে হারূন - ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

তখন সে শিশুটির দিকে ইশারা করল। তারা বলল, ‘যে কোলের শিশু আমরা কিভাবে তার সাথে কথা বলব’?

জহুরুল হক

তখন তিনি তাঁর দিকে ইশারা করলেন। তারা বললে - - ''আমরা কেমন ক’রে কথা বলব তার সঙ্গে যে দোলনার শিশু?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মরিয়ম ছেলের প্রতি ইঙ্গিত করে (তাদেরকে ছেলের সাথে কথা বলতে বললো)। তারা বললো: ‘আমরা এতোটুকুন কোলের বাচ্চার সাথে কথা বলবো কিভাবে?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর মার্‌ইয়াম সন্তানের প্রতি ইঙ্গিত করিল। উহারা বলিল, ‘যে কোলের শিশু তাহার সঙ্গে আমরা কেমন করিয়া কথা বলিব?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

শিশুটি বলল, ‘আমি তো আল্লাহর বান্দা; তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন - - ''নিঃসন্দেহ আমি ‌র একজন বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী বানিয়েছেন,

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (কোলের শিশু ঈসা) বললো: ‘‘আমি আল্লাহর দাস, তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী বানিয়েছেন,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে বলিল, ‘আমি তো ‌র বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়াছেন, আমাকে নবী করিয়াছেন,

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন এবং যতদিন আমি জীবিত থাকি তিনি আমাকে ও যাকাত আদায় করতে আদেশ করেছেন’।

জহুরুল হক

''আর তিনি আমাকে মঙ্গলময় করেছেন যেখানেই আমি থাকি না কেন, আর তিনি আমার প্রতি বিধান দিয়েছেন পড়তে ও যাকাত দিতে যতদিন আমি জীবিত অবস্থায় অবস্থান করি,

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি যেখানেই থাকিনা কেন, তিনি আমাকে কল্যাণময় বানিয়েছেন এবং তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতোদিন বেঁচে থাকি, আমি যেনো আদায় করি এবং যাকাত প্রদান করি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করিয়াছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়াছেন যত দিন জীবিত থাকি তত দিন ও যাকাত আদায় করিতে -

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমাকে মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে অহঙ্কারী, অবাধ্য করেননি’।

জহুরুল হক

''আর আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে, আর তিনি আমাকে বিদ্রোহীভাবাপন্ন হতভাগ্য করেন নি।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি আমাকে আরো নির্দেশ দিয়েছেন আমার মায়ের প্রতি অনুগত থাকতে। তিনি আমাকে স্বৈরাচারি এবং হতভাগা বানাননি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমাকে আমার মাতার প্রতি অনুগত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে করেন নাই উদ্ধত ও হতভাগ্য;

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমার উপর শান্তি, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে জীবিত অবস্থায় উঠানো হবে’।

জহুরুল হক

''আর শান্তি আমার উপরে যেদিন আমার জন্ম হয়েছিল, আর যেদিন আমি মারা যাব আর যেদিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে জীবিত অবস্থায়।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমার প্রতি সালাম, যেদিন আমি জন্ম নিয়েছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন আমাকে পুনরুত্থিত করা হবে।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি উত্থিত হইব।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

এই হচ্ছে মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটাই সঠিক বক্তব্য, যে বিষয়ে লোকেরা সন্দেহ পোষণ করছে।

জহুরুল হক

এই হচ্ছে মরিয়মপুত্র ঈসা, সত্য বিবৃতি যে - সন্বন্ধে তারা বিতর্ক করে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এ - ই হলো ঈসা ইবনে মরিয়ম। তার বিষয়ে এই হলো সত্য কথা, যা নিয়ে তোমরা সন্দেহ করছো

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই - ই মার্‌ইয়াম - তনয় ‘ঈসা। আমি বলিলাম সত্য কথা, যে বিষয়ে উহারা বিতর্ক করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহর কাজ নয়। তিনি পবিত্র-মহান। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তখন তদুদ্দেশ্যে শুধু বলেন, ‘হও’, অমনি তা হয়ে যায়।

জহুরুল হক

এ ‌র জন্য নয় যে তিনি এক সন্তান গ্রহণ করবেন। তাঁরই সব মহিমা! তিনি যখন কোনো - কিছু সিদ্ধান্ত করেন তখন সেজন্য তিনি শুধু বলেন - - 'হও’, আর তা হয়ে যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সন্তান গ্রহণ করা তো আল্লাহর কাজ নয়, এ থেকে তিনি মুক্ত পবিত্র। তিনি যখন কোনো বিষয়ের ফায়সালা করেন, তখন বলেন: ‘হও’, সাথে সাথে তা হয়ে যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সন্তান গ্রহণ করা ‌র কাজ নহে, তিনি পবিত্র মহিমময়। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন সেই সম্পর্কে বলেন ‘হও’ এবং উহা হইয়া যায়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় আমার রব এবং তোমাদের রব। সুতরাং তোমরা তাঁর ইবাদাত কর। এটাই সরল পথ।

জহুরুল হক

''আর নিশ্চয় আমার প্রভু ও তোমাদেরও প্রভু, অতএব তাঁরই এবাদত করো। এটিই সহজ - সঠিক পথ।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

(ঈসা তাদের আরো বলেছিল:) ‘আল্লাহ্ই আমার প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করো, এটাই সিরাতুল মুস্তাকিম - সরল সঠিক পথ।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‌ই আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক ; সুতরাং তোমরা তাঁহার ‘ইবাদত কর, ইহাই সরল পথ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরপর তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দল মতভেদ করল। কাজেই মহাদিবস প্রত্যক্ষকালে কাফিরদের ধ্বংস অনিবার্য।

জহুরুল হক

কিন্তু গোত্রেরা তাদের পরস্পরের মধ্য মতানৈক্য সৃষ্টি করল, সুতরাং ধিক্ তাদের প্রতি যারা অবিশ্বাস পোষণ করে সেই ভয়ঙ্কর দিনে হাজিরাদানের কারণে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর বিভিন্ন দল (ঈসার বিষয়ে) মতানৈক্য সৃষ্টি করে। সুতরাং কাফিরদের জন্যে দুর্ভোগ মহাদিবসে উপস্থিতির দিন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর দলগুলি নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি করিল, সুতরাং দুর্ভোগ কাফিরদের জন্য মহাদিবস আগমনকালে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কতই না স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে এবং দেখতে পাবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে রয়েছে।

জহুরুল হক

কত স্পষ্টভাবে তারা শুনবে ও দেখবে সেইদিন যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে! কিন্তু অন্যায়কারীরা আজ স্পষ্ট ভুলের মধ্যে রয়েছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা যেদিন আমাদের কাছে উপস্থিত হবে, সেদিন সব কিছুই ঠিকভাবে শুনবে এবং দেখবে। কিন্তু আজ যালিমরা সুস্পষ্ট গোমরাহিতে নিমজ্জিত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহারা যেদিন আমার নিকট আসিবে সেই দিন উহারা কত স্পষ্ট শুনিবে ও দেখিবে! কিন্তু জালিমরা আজ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তাদেরকে সতর্ক করে দাও পরিতাপ দিবস সম্পর্কে যখন সব বিষয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে, অথচ তারা রয়েছে উদাসীনতায় বিভোর এবং তারা ঈমান আনছে না।

জহুরুল হক

আর তাদের সতর্ক করে দাও সেই দারুণ পরিতাপের দিন সন্বন্ধে যখন ব্যাপারের সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। আর তারা তো গাফিলতিতে রয়েছে, আর তারা বিশ্বাসও করে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদেরকে দুঃখ ও অনুতাপের দিনটি সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, সেদিন সব বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যাবে। অথচ আজ তারা গাফলতির মধ্যে পড়ে আছে এবং ঈমান আনেনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদেরকে সতর্ক করিয়া দাও পরিতাপ দিবস সম্বন্ধে, যখন সকল সিদ্ধান্ত হইয়া যাইবে। এখন উহারা গাফিল এবং উহারা বিশ্বাস করে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় আমি যমীন ও এর উপরে যা রয়েছে তার চূড়ান্ত মালিক হব* এবং আমারই নিকট তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। * চূড়ান্ত ওয়ারিস বলতে বুঝানো হয়েছে চূড়ান্ত মালিক অর্থাৎ সব কিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর একমাত্র আল্লাহই থাকবেন এবং সবকিছু থাকবে তাঁর মালিকানাধীন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ আমরা নিজেরাই পৃথিবী ও তার উপরে যারা আছে সে - সমস্তের উত্তরাধিকারী, আর আমাদের কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরাই মালিক পৃথিবীর এবং পৃথিবীর উপর যারা আছে সবার এবং আমাদের কাছেই তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিশ্চয়ই পৃথিবীর ও উহার উপর যাহারা আছে তাহাদের চূড়ান্ত মালিকানা আমারই রহিবে এবং উহারা আমারই নিকট প্রত্যানীত হইবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইবরাহীমকে। নিশ্চয় সে ছিল পরম সত্যবাদী, নবী।

জহুরুল হক

আর গ্রন্থখানার মধ্যে ইব্রাহীমের কথা স্মরণ করো। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন সত্য - পরায়ণ, একজন নবী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী ইবরাহিমের কথা আলোচনা করো। সে ছিলো একজন সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, এই কিতাবে উল্লিখিত ইব্‌রাহীমের কথা; সে ছিলো সত্যনিষ্ঠ, নবী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যখন সে তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, তুমি কেন তার ইবাদাত কর যে না শুনতে পায়, না দেখতে পায় এবং না তোমার কোন উপকারে আসতে পারে’?

জহুরুল হক

দেখো! তিনি তাঁর পিতৃপুরুষকে বললেন - - ''হে আমার বাপা! তুমি কেন তার উপাসনা কর যে শোনে না ও দেখে না এবং তোমাকে কোনো কিছুতেই সমৃদ্ধ করে না?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তার পিতাকে বলেছিল: ‘‘বাবা! আপনি কেন এমন জিনিসের ইবাদত করেন যেগুলো দেখেওনা, শুনেওনা এবং আপনার কোনো উপকারেও আসেনা?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন সে তাহার পিতাকে বলিল, ‘হে আমার পিতা! তুমি তাহার ‘ইবাদত কর কেন যে শুনে না, দেখে না এবং তোমার কোনই কাজে আসে না?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা! আমার কাছে এমন জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসেনি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, তাহলে আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাব’।

জহুরুল হক

''হে আমার আব্বু! নিঃসন্দেহ আমার কাছে অবশ্যই জ্ঞান এসেছে যা তোমার কাছে আসে নি, সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করব।

আবদুস শহীদ নাসিম

বাবা! আমার কাছে প্রকৃত জ্ঞান এসেছে, যা আপনার কাছে আসেনি। সুতরাং আপনি আমার অনুসরণ করুন, আমি আপনাকে সঠিক পথ দেখাবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা! আমার নিকট তো আসিয়াছে জ্ঞান যাহা তোমার নিকট আসে নাই; সুতরাং আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাকে সঠিক পথ দেখাইব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা, তুমি শয়তানের ইবাদাত করো না। নিশ্চয় শয়তান হল পরম করুণাময়ের অবাধ্য’।

জহুরুল হক

''হে আমার বাপা! শয়তানের উপাসনা করো না। নিশ্চয়ই শয়তান পরম করুণাময়ের অবাধ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

বাবা! শয়তানের ইবাদত করবেন না। শয়তান তো রহমানের চরম অবাধ্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা! শয়তানের ‘ইবাদত করিও না। শয়তান তো দয়াময়ের অবাধ্য।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা, আমি আশংকা করছি যে, পরম করুণাময়ের (পক্ষ থেকে) তোমাকে আযাব স্পর্শ করবে, ফলে তুমি শয়তানের সঙ্গী হয়ে যাবে।’

জহুরুল হক

''হে আমার বাপুজি! আমি আলবৎ আশঙ্কা করি যে পরম করুণাময়ের কাছ থেকে শাস্তি তোমাকে স্পর্শ করবে, ফলে তুমি হয়ে পড়বে শয়তানের সঙ্গিসাথী।’

আবদুস শহীদ নাসিম

বাবা! আমি আশংকা করছি, আপনাকে রহমানের আযাব স্পর্শ করবে, তাতে আপনি শয়তানের অলি হয়ে পড়বেন।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার পিতা! আমি তো আশংকা করি যে, তোমাকে দয়াময়ের শাস্তি স্পর্শ করিবে, তখন তুমি হইয়া পড়িবে শয়তানের বন্ধু।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে বলল, ‘হে ইবরাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও, তবে অবশ্যই আমি তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করব। আর তুমি চিরতরে আমাকে ছেড়ে যাও’।* * ইবনে আব্বাসের মতে এ আয়াতের অর্থ হল তুমি আমার কাছ থেকে নিরাপদে সরে যাও। কেউ কেউ এ আয়াতের অর্থে বলেছে

জহুরুল হক

সে বললে - - ''হে ইব্রাহীম, তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বীতশ্রদ্ধ? তুমি যদি না থামো তবে তোমাকে আমি নিশ্চিত পাথর ছুঁড়ে তাড়া করব, আর তুমি আমার থেকে এই মুহূর্তে দূর হয়ে যাও।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

সে (ইবরাহিমের পিতা) বললো: ‘ইবরাহিম! তুমি কি আমার ইলাহ্দের (দেব দেবীদের) থেকে বিমুখ? তুমি যদি বিরত না হও, তাহলে আমি পাথর মেরে তোমাকে হত্যা করবো। তুমি চিরদিনের জন্যে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাও।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পিতা বলিল, ‘হে ইব্‌রাহীম! তুমি কি আমার দেব - দেবী হইতে বিমুখ? যদি তুমি নিবৃত্ত না হও তবে আমি প্রস্তরাঘাতে তোমার প্রাণ নাশ করিবই; তুমি চিরদিনের জন্য আমার নিকট হইতে দূর হইয়া যাও।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

ইবরাহীম বলল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার রবের কাছে তোমার জন্য ক্ষমা চাইব। নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি বড়ই অনুগ্রহশীল’।

জহুরুল হক

তিনি বললেন, ''তোমার উপরে শান্তি, আমি অবশ্য আমার প্রভুর কাছে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব। নিঃসন্দেহ তিনি আমার প্রতি পরম স্নেহময়।

আবদুস শহীদ নাসিম

ইবরাহিম বললো: ‘‘আপনার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রভুর কাছে আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবো, নিশ্চয়ই তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহশীল।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইব্‌রাহীম বলিল, ‘তোমার প্রতি সালাম। আমি আমার প্রতিপালকের নিকট তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করিব, নিশ্চয় তিনি আমার প্রতি অতিশয় অনুগ্রহশীল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

‘আর আমি তোমাদের ও ছাড়া যাদের ইবাদাত তোমরা কর তাদের পরিত্যাগ করছি এবং আমি আমার রবের ইবাদাত করছি। আশা করি আমার রবের ইবাদাত করে আমি ব্যর্থ হব না’।

জহুরুল হক

''আর আমি সরে যাচ্ছি তোমাদের থেকে ও আল্লাহকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের ডাকো ওদের থেকে, আর আমি আমার প্রভুকেই ডাকব, হতে পারে যে আমার প্রভুকে ডেকে আমি করুণাবঞ্চিত হব না।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

আমি আপনাদের থেকে এবং আপনারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকেন তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু আমার প্রভুকেই ডাকবো। আমি আশা করি আমার প্রভুকে ডেকে আমি ব্যর্থকাম হবোনা।’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমি তোমাদের হইতে ও তোমরা ‌ ব্যতীত যাহাদের ‘ইবাদত কর তাহাদের হইতে পৃথক হইতেছি; আমি আমার প্রতিপালককে আহ্বান করি; আশা করি, আমার প্রতিপালককে আহ্বান করিয়া আমি ব্যর্থকাম হইব না।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতঃপর যখন সে তাদেরকে এবং ছাড়া যাদের তারা ইবাদাত করত তাদের সবাইকে পরিত্যাগ করল, তখন আমি তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং তাদের প্রত্যেককে নবী করলাম।

জহুরুল হক

তারপর যখন তিনি সরে গেলেন তাদের থেকে ও ‌কে ছেড়ে দিয়ে তারা যাদের ডাকত ওদের থেকে, আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম ইসহাককে ও ইয়াকুবকে। আর আমরা প্রত্যেককেই বানিয়েছিলাম নবী।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যখন তাদের থেকে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ইবাদত করতো তাদের থেকে পৃথক হয়ে গেলো, তখন আমি তাকে দান করলাম (পুত্র) ইসহাক এবং (নাতি) ইয়াকুবকে। আর তাদের প্রত্যেককেই বানিয়েছিলাম নবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর সে যখন তাহাদের হইতে ও তাহারা ‌ ব্যতীত যাহাদের ‘ইবাদত করিত সেই সকল হইতে পৃথক হইয়া গেল তখন আমি তাহাকে দান করিলাম ইসহাক ও ইয়া‘কূব এবং প্রত্যেককে নবী করিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি তাদেরকে আমার অনুগ্রহ দান করলাম আর তাদের সুনাম সুখ্যাতিকে সমুচ্চ করলাম।

জহুরুল হক

আর তাঁদের আমরা দান করেছিলাম আমাদের করুণা থেকে, আর আমরা তাঁদের জন্য নির্ধারণ করেছিলাম সমুচ্চ সুখ্যাতি।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর আমি তাদের দান করলাম আমার অনুগ্রহ এবং উঁচু করে দিলাম তাদের প্রশংসনীয় যশ - খ্যাতি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তাহাদেরকে আমি দান করিলাম আমার অনুগ্রহ ও তাহাদের নাম - যশ সমুচ্চ করিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসাকে। অবশ্যই সে ছিল মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী।

জহুরুল হক

আর গ্রন্থখানাতে মূসার কথা স্মরণ করো। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন প্রিয়প্রাত্র, আর তিনি ছিলেন একজন নবী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাবে মূসার কথা আলোচনা করো। সে ছিলো বিশেষভাবে মনোনীত এবং ছিলো একজন রসূল নবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, এই কিতাবে মূসার কথা, সে ছিল বিশেষ মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আমি তাকে তূর পর্বতের ডান দিক থেকে ডেকেছিলাম এবং অন্তরঙ্গ আলাপের উদ্দেশ্যে তাকে আমার নিকটবর্তী করেছিলাম।

জহুরুল হক

আর আমরা তাঁকে ডেকেছিলাম পাহাড়ের ডান দিক থেকে, এবং আমরা তাঁকে নিকটে এনেছিলাম যোগাযোগে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে ডেকেছিলাম তুর পাহাড়ের দক্ষিণ পাশ থেকে এবং নিভৃত আলোচনায় আমরা তাকে দিয়েছিলাম নৈকট্য।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাকে আমি আহ্বান করিয়াছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ দিক হইতে এবং আমি অন্তরঙ্গ আলাপে তাহাকে নৈকট্য দান করিয়াছিলাম।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি স্বীয় অনুগ্রহে তার জন্য তার ভাই হারূনকে নবীরূপে দান করলাম।

জহুরুল হক

আর আমাদের করুণা বশত আমরা তাঁকে দিয়েছিলাম তাঁর ভাই হারুনকে নবীরূপে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমাদের অনুগ্রহে আমরা তাকে (সাহায্যকারী) দিয়েছিলাম তার ভাই হারূণকে নবী হিসেবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে দিলাম তাহার ভ্রাতা হারূনকে নবীরূপে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইসমাঈলকে। সে ছিল সত্যিকারের ওয়াদা পালনকারী এবং সে ছিল রাসূল, নবী।

জহুরুল হক

আর কিতাবখানাতে স্মরণ করো ইসমাইলের কথা। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন ওয়াদাতে সত্যপরায়ণ, আর তিনি ছিলেন একজন রসূল, একজন নবী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাবে স্মরণ করো ইসমাঈলের কথা। সে ছিলো প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যনিষ্ঠ এবং ছিলো একজন রসূল নবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, এই কিতাবে ইসমাঈলের কথা, সে তো ছিল প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী এবং সে ছিল রাসূল, নবী;

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে তার পরিবার-পরিজনকে ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তার রবের সন্তোষপ্রাপ্ত।

জহুরুল হক

আর তিনি তাঁর পরিজনবর্গকে নামাযের ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর তাঁর প্রভুর কাছে তিনি ছিলেন সন্তোষভাজন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে তার পরিবার - পরিজনকে নির্দেশ দিতো কায়েম এবং যাকাত প্রদানের আর সে তার প্রভুর কাছে ছিলো সন্তোষভাজন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে তাহার পরিজনবর্গকে ও যাকাতের নির্দেশ দিত এবং সে ছিল তাহার প্রতিপালকের সন্তোষভাজন।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর এই কিতাবে ইদরীসকে। সে ছিল পরম সত্যনিষ্ঠ নবী।

জহুরুল হক

আর কিতাবখানাতে ইদ্‌রীসের কথা স্মরণ করো। নিঃসন্দেহ তিনি ছিলেন সত্যপরায়ণ, একজন নবী।

আবদুস শহীদ নাসিম

এই কিতাবে আলোচনা করো ইদরিসের কথা। সে ছিলো সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ) নবী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, এই কিতাবে ইদ্‌রীসের কথা, সে ছিল সত্যনিষ্ঠ, নবী;

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।

জহুরুল হক

আর আমরা তাঁকে উন্নীত করেছিলাম অত্যুচ্চ পর্যায়ে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তাকে উঠিয়ে ছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমি তাহাকে উন্নীত করিয়াছিলাম উচ্চ মর্যাদায়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

এরাই সে সব নবী, আদম সন্তানের মধ্য থেকে যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন এবং যাদের আমি নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত এবং যাদেরকে আমি পথ প্রদর্শন করেছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে পরম করুণাময়ের আয়াতসমূহ পাঠ করা হ

জহুরুল হক

এরাই তাঁরা যাঁদের উপরে অনুগ্রহ করেছিলেন, - - আদমসন্তানদের থেকে নবীদের মধ্যেকার, আর যাদের আমরা নূহের সাথে বহন করেছিলাম তাদের মধ্যেকার, আর ইব্রাহীম ও ইসমাইলের বংশধরদের মধ্যের এবং যাদের আমরা সৎপথে চালিয়েছিলাম ও মনোনীত করেছিলাম তাদের মধ্যেকার। যখনি পরম করুণাময়ের বাণী তাদের কাছে পাঠ করা হতো তারা লুটিয়ে পড়ত সিজদারত হয়ে ও অ‌শ্রুমোচন করতে করতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

এরা হলো সেইসব লোক, যাদের প্রতি অনুগ্রহ দান করেছেন আদমের বংশধর নবীদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা আরোহন করিয়েছিলাম নূহের সাথে। এছাড়া ইবরাহিম ও ইসরাঈলের বংশধরদের থেকে এবং তাদের থেকে যাদেরকে আমরা হিদায়াত করেছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম। তাদের প্রতি যখন রহমানের আয়াত তিলাওয়াত করা হতো তারা কাঁদতে কাঁদতে সাজদায় লুটিয়ে পড়তো। (সাজাদা)

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহারাই তাহারা, নবীদের মধ্যে যাহাদেরকে ‌ অনুগ্রহ করিয়াছেন, আদমের বংশ হইতে ও যাহাদেরকে আমি নূহের সঙ্গে নৌকায় আরোহণ করাইয়াছিলাম এবং ইব্‌রাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত ও যাহাদেরকে আমি পথনির্দেশ করিয়াছিলাম ও মনোনীত করিয়াছিলাম; তাহাদের নিকট দয়াময়ের আয়াত আবৃত্তি করা হইলে তাহারা সিজ্‌দায় লুটাইয়া পড়িত ক্রন্দন করিতে করিতে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।

জহুরুল হক

তারপর তাদের পরে এল পরবর্তিদল যারা বাদ দিল ও কামনা - লালসার অনুসরণ করল, সেজন্য তারা অচিরেই দেখতে পাবে বঞ্চনা, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের পরে আসলো এমন একটি উত্তর প্রজন্ম যারা বিনষ্ট করে দেয় এবং অনুগামী হয় কামনা - লালসার। তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি ভোগ করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের পরে আসিল অপদার্থ পরবর্তীরা, তাহারা নষ্ট করিল ও লালসা - পরবশ হইল। সুতরাং উহারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করিবে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।

জহুরুল হক

তারা ছাড়া যে তওবা করে ও ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই তবে বেহেশতে প্রবেশ করবে, আর তাদের প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না, - -

আবদুস শহীদ নাসিম

তবে যারা তওবা করেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, তাদেরকে দাখিল করা হবে জান্নাতে এবং তাদের প্রতি করা হবেনা কোনো যুলুম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কিন্তু উহারা নহে - যাহারা তওবা করিয়াছে, ঈমান আনিয়াছে ও সৎকর্ম করিয়াছে। উহারা তো জান্নাতে প্রবেশ করিবে। উহাদের প্রতি কোন জুলুম করা হইবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তা চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন গায়েবের সাথে। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদাকৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।

জহুরুল হক

নন্দন কানন যা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের জন্য ওয়াদা করেছেন জগতে। নিঃসন্দেহ তাঁর প্রতি‌শ্রুতি সদাসর্বদা এসেই থাকে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের দেয়া হবে সেই স্থায়ী জান্নাত, যে (জান্নাতের) ওয়াদা দয়াময় রহমান তাঁর দাসদের দিয়েছেন। তাঁর ওয়াদা অবশ্যি বাস্তবায়িত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ইহা স্থায়ী জান্নাত, যে বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দয়াময় তাঁহার বান্দাদেরকে দিয়াছেন। তাঁহার প্রতিশ্রুত বিষয় অবশ্যম্ভাবী।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারা সেখানে ‘শান্তি’ ছাড়া কোন অর্থহীন কথা শুনবে না এবং সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় তাদের জন্য থাকবে তাদের রিয্ক।

জহুরুল হক

তারা সেখানে শুনবে না কোনো খেলো কথা 'সালাম’ ব্যতীত। আর তাদের জন্য সেখানে রয়েছে তাদের রিযেক সকালে ও সন্ধ্যায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেখানে ‘সালাম’ ছাড়া কোনো অর্থহীন কথাই তারা শুনবেনা। সেখানে সকাল সন্ধ্যাব্যাপী (অর্থাৎ সর্বক্ষণ) তারা পেতে থাকবে তাদের জীবিকা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে তাহারা ‘শান্তি’ ব্যতীত কোন অসার বাক্য শুনিবে না এবং সেখানে সকাল - সন্ধ্যা তাহাদের জন্য থাকিবে জীবনোপকরণ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

সেই জান্নাত, আমি যার উত্তরাধিকারী বানাব আমার বান্দাদের মধ্যে তাদেরকে যারা ।

জহুরুল হক

এই সেই বেহেশত যেটি আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে দিয়েছি আমাদের বান্দাদের মধ্যের তাদের যারা ধর্মপরায়ণ।

আবদুস শহীদ নাসিম

ওটা হলো সেই জান্নাত, আমরা যার ওয়ারিশ বানাবো আমাদের সেইসব দাসকে, যারা অবলম্বন করে তাকওয়া।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এই সেই জান্নাত, যাহার অধিকারী করিব আমার বান্দাদের মধ্যে মুত্তাকীদেরকে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

(জিবরীল বলল) ‘আর আমরা আপনার রবের নির্দেশ ছাড়া অবতরণ করি না। যা আমাদের সামনে আছে, আর যা আছে আমাদের পিছনে এবং যা রয়েছে এতদোভয়ের মধ্যে, সব তাঁরই মালিকানাধীন। আর আপনার রব ভুলে যান না।

জহুরুল হক

আর - - ''আমরা অবতরণ করি না তোমার প্রভুর নির্দেশ ব্যতীত, যা কিছু আমাদের সামনে রয়েছে ও যা কিছু আমাদের পেছনে আর যা কিছু রয়েছে এই দুইয়ের মধ্যে সে সমস্ত তাঁরই, আর তোমার প্রভু ভুলো নন।

আবদুস শহীদ নাসিম

‘‘আমরা আপনার প্রভুর নির্দেশ ছাড়া নাযিল হইনা। আমাদের সামনে ও পেছনে যা আছে এবং এ দুয়ের মাঝে যা আছে সবই তাঁর। আপনার প্রভু কখনো ভুলেন না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আমরা আপনার প্রতিপালকের আদেশ ব্যতীত অবতরণ করি না; যাহা আমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে আছে ও যাহা এই দুই - এর অন্তর্বর্তী তাহা তাঁহারই এবং আপনার প্রতিপালক ভুলিবার নন।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনি আসমানসমূহ, যমীন ও এতদোভয়ের মধ্যে যা আছে তার রব। সুতরাং তাঁর ইবাদাত কর এবং তাঁরই ইবাদাতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁর সমতুল্য কাউকে জান?

জহুরুল হক

''তিনি মহাকাশমন্ডল ও পৃথিবীর এবং এ দুইয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার প্রতিপালক প্রভু। সুতরাং তাঁকেই উপাসনা কর এবং তাঁর উপাসনায় অবিরাম সাধনা কর। তুমি কি কাউকে তাঁর সমকক্ষ জ্ঞান কর?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি মহাকাশ, পৃথিবী এবং এ দুয়ের মধ্যবর্তী সবকিছু রব (মালিক)। সুতরাং তাঁরই ইবাদত করুন এবং তাঁর ইবাদতে জমে থাকুন। আপনি কি তাঁর সমান গুণাবলি সম্পন্ন কাউকে জানেন?’’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও তাহাদের অন্তর্বর্তী যাহা কিছু, তাহার প্রতিপালক। সুতরাং তাঁহারই ‘ইবাদত কর এবং তাঁহার ‘ইবাদতে ধৈর্যশীল থাক। তুমি কি তাঁহার সমগুণসম্পন্ন কাহাকেও জান?

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর মানুষ বলে, ‘আমার মৃত্যু হলে আমাকে কি জীবিত অবস্থায় উত্থিত করা হবে?’

জহুরুল হক

আর লোকে বলে - - ''কি! আমি যখন মরে যাব তখন কি আমাকে বের করে আনা হবে জীবিত অবস্থায়?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ বলে: ‘আমি যখন মরে যাবো, তখন কি আমি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হবো?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষ বলে, ‘আমার মৃত্যু হইলে আমি কি জীবিত অবস্থায় উত্থিত হইব?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাকে পূর্বে সৃষ্টি করেছি অথচ সে কিছুই ছিল না?

জহুরুল হক

কি? মানুষ কি স্মরণ করে না যে আমরা তাকে ইতিপূর্বে সৃষ্টি করেছিলাম যখন সে কিছুই ছিল না?

আবদুস শহীদ নাসিম

মানুষ কি স্মরণ করেনা, আমরা তো ইতোপূর্বেও তাকে সৃষ্টি করেছি, যখন সে কিছুই ছিলনা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মানুষ কি স্মরণ করে না যে, আমি তাহাকে পূর্বে সৃষ্টি করিয়াছি যখন সে কিছুই ছিল না?

বয়ান ফাউন্ডেশন

অতএব তোমার রবের কসম, আমি অবশ্যই তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করব, অতঃপর জাহান্নামের চারপাশে নতজানু অবস্থায় তাদেরকে হাযির করব।

জহুরুল হক

কাজেই তোমার প্রভুর কসম, আমরা অতি অবশ্য তাদের সমবেত করব, আর শয়তানদেরও, তারপর আমরা অবশ্যই তাদের হাজির করব জাহান্নামের চারিদিকে নতজানু অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমার প্রভুর শপথ! আমরা অবশ্যি তাদেরকে এবং শয়তানদেরকে হাশর করবো, তারপর নতজানু করে জাহান্নামের চারদিকে হাজির করবোই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের। আমি তো উহাদেরকে এবং শয়তানদেরকেসহ একত্র সমবেত করিবই ও পরে আমি উহাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করিবই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর প্রত্যেক দল থেকে পরম করুণাময়ের বিরুদ্ধে সর্বাধিক অবাধ্যকে আমি টেনে বের করবই।

জহুরুল হক

তারপর আমরা নিশ্চয় বের করে আনব প্রত্যেক দল থেকে তাদের মধ্যের ওকে যে পরম করুণাময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর প্রত্যেক গোষ্ঠী থেকে যে দয়াময়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি অবাধ্য ছিলো, তাকে খুঁজে বের করবোই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য আমি তাহাকে টানিয়া বাহির করিবই।

বয়ান ফাউন্ডেশন

উপরন্তু আমি সর্বাধিক ভাল জানি তাদের সম্পর্কে, যারা জাহান্নামে দগ্ধীভূত হবার অধিকতর যোগ্য।

জহুরুল হক

আর আমরা নিশ্চয় ভাল জানি তাদের যারা নিজেরাই সেখানে দগ্ধ হবার জন্যে সব চাইতে যোগ্য।

আবদুস শহীদ নাসিম

তারপর তাদের মধ্যে জাহান্নামে প্রবেশের কে বেশি উপযুক্ত, তাকে তো আমরা জানিই।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং আমি তো উহাদের মধ্যে যাহারা জাহান্নামে প্রবেশের অধিকতর যোগ্য তাহাদের বিষয় ভাল জানি।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তোমাদের প্রত্যেককেই তা অতিক্রম করতে হবে, এটি তোমার রবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

জহুরুল হক

আর তোমাদের মধ্যে এমন একজনও নেই যে সেখানে না আসবে, - - এটি তোমার প্রভুর জন্যে এক অনিবার্য সিদ্ধান্ত।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমাদের প্রত্যেককেই তা (জাহান্নামের উপর স্থাপিত পুলসিরাত) অতিক্রম করতে হবে। এটা তোমার প্রভুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং তোমাদের প্রত্যেকেই উহা অতিক্রম করিবে; ইহা তোমার প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তারপর আমি এদেরকে মুক্তি দেব যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে। আর যালিমদেরকে আমি সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।

জহুরুল হক

আর আমরা উদ্ধার করব তাদের যারা ধর্মপরায়ণতা অবলন্বন করে, আর অন্যায়কারীদের সেখানে রেখে দেব নতজানু অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

পরে আমরা মুত্তাকিদের নাজাত দেবো এবং যালিমদের সেখানে (জাহান্নামে) নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

পরে আমি মুত্তাকীদেরকে উদ্ধার করিব এবং জালিমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় রাখিয়া দিব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যখন তাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ সুস্পষ্টরূপে পাঠ করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মজলিস হিসেবে উত্তম?’

জহুরুল হক

আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট বাণীসমূহ পড়া হয় তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে যারা বিশ্বাস করেছে তাদের - - ''দুই দলের মধ্যে কোনটি প্রতিষ্ঠার দিকে শ্রেষ্ঠতর ও জাঁকজমকে গুলজার?’’

আবদুস শহীদ নাসিম

যখন তাদের প্রতি আমাদের সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন কাফিররা ঈমানদারদের বলে: ‘উভয় দলের মধ্যে কোন্টি মর্যাদার দিক থেকে শ্রেষ্ঠ এবং মজলিসের দিক থেকে উত্তম?’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের নিকট আমার স্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্ত হইলে কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘দুই দলের মধ্যে কোন্‌টি মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর ও মজলিস হিসাবে উত্তম?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্ম ধ্বংস করে দিয়েছি যারা সাজ-সরঞ্জাম ও বাহ্যদৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ছিল!

জহুরুল হক

আর তাদের আগে কত মানবগোষ্ঠীকে আমরা ধ্বংস করেছি যারা ধনসম্পদে ও বাগাড়ন্বরে জমজমাট ছিল!

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগে আমরা কতো মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি, অথচ তারা ছিলো সম্পদে এবং বাহ্য দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

উহাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিয়াছি - যাহারা উহাদের অপেক্ষা সম্পদ ও বাহ্যদৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ ছিল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

বল, ‘যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে তাকে পরম করুণাময় প্রচুর অবকাশ দেবেন, যতক্ষণ না তারা যে বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা প্রত্যক্ষ করবে, চাই তা আযাব হোক অথবা কিয়ামত। তখন তারা জানতে পারবে কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও দলবলে দুর্বল।

জহুরুল হক

বলো - - ''যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে পরম করুণাময় তার জন্য ঢিলে দিয়ে লন্বা করে দেন যে পর্যন্ত না তারা দেখতে পায় যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছিল - - হয় শাস্তি নয়তো ঘড়িঘন্টা, তখন তারা জানতে পারবে কে হচ্ছে অবস্থানে বেশী নিকৃষ্ট এবং শক্তিসামর্থের বেশী দুর্বল।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

হে নবী! বলো: যারা গোমরাহিতে আছে, দয়াময় রহমান তাদের অনেক অনেক ঢিল দিয়ে রাখেন, এমনকি তাদের যে বিষয়ে ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা আসা পর্যন্ত, চাই তা শাস্তি হোক, কিংবা কিয়ামত। তখনই তারা জানতে পারবে কার মর্যাদা নিকৃষ্ট, আর কার দলবল অতিশয় দুর্বল?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘যাহারা বিভ্রান্তিতে আছে, দয়াময় তাহাদেরকে প্রচুর ঢিল দিবেন যতক্ষণ না তাহারা, যে বিষয়ে তাহাদেরকে সতর্ক করা হইতেছে তাহা প্রত্যক্ষ করিবে, উহা শাস্তি হউক অথবা কিয়ামতই হউক। অতঃপর তাহারা জানিতে পারিবে, কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট ও কে দলবলে দুর্বল।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর যারা সঠিক পথে চলে তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করেন আর স্থায়ী সৎকর্মসমূহ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির দিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ এবং পরিণতি হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।

জহুরুল হক

আর যারা সৎপথে চলে তাদের সুগতি বাড়িয়ে দেন, আর স্থায়ী সৎকর্ম তোমার প্রভুর কাছে পুরস্কার প্রদানের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আর সুফল ফলনের জন্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর যারা হিদায়াতের পথে চলে, তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দেন। আর স্থায়ী পুণ্যের কাজই তোমার প্রভুর সওয়াব (পুরস্কার) লাভের জন্যে শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসেবেও শ্রেষ্ঠ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং যাহারা সৎপথে চলে ‌ তাহাদেরকে অধিক হিদায়াত দান করেন; এবং স্থায়ী সৎকর্ম তোমার প্রতিপালকের পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং প্রতিদান হিসাবেও শ্রেষ্ঠ।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি কি সেই ব্যক্তিকে দেখেছ* যে আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে এবং বলে, ‘আমাকে অবশ্যই ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে।’ * উল্লিখিত আয়াত ক’টি ‘আস ইবন ওয়ায়েল সম্পর্কে নাযিল হয়। তাঁর কাছে খাববাব ইবনুল আরাত (রা.)এর কিছু ঋণ পাওনা ছিল। তা চাইতে গেলে সে তা প্রত্য

জহুরুল হক

তুমি কি তাকে দেখেছ যে আমাদের বাণীসমূহ অবিশ্বাস করে ও বলে - - ''আমাকে আলবৎ ধনদৌলত ও সন্তানসন্ততি দেয়া হবে’’?

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি ঐ ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য করেছো, যে আমাদের আয়াতের প্রতি কুফুরি করেছে এবং সে বলে: ‘অবশ্য অবশ্যি আমাকে অনেক অনেক মাল সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেয়া হবে (যদি আমাকে পুনরুত্থিত করা হয়)।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য করিয়াছ সেই ব্যক্তিকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করিয়াছে এবং সে বলে, ‘আমাকে ধনসম্পদ ও সন্তান - সন্ততি দেওয়া হইবেই?’

বয়ান ফাউন্ডেশন

সে কি সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, না পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোন প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে?

জহুরুল হক

সে কি সন্বন্ধে জেনে গেছে, না কি সে পরম করুণাময়ের কাছ থেকে কোনো চুক্তি আদায় করেছে?

আবদুস শহীদ নাসিম

সে কি অবগত হয়েছে, নাকি সে রহমানের নিকট থেকে অঙ্গীকার লাভ করেছে?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে কি সম্বন্ধে অবহিত হইয়াছে অথবা দয়াময়ের নিকট হইতে প্রতিশ্রুতি লাভ করিয়াছে?

বয়ান ফাউন্ডেশন

কখনো নয়, সে যা বলে আমি তা লিখে রাখব এবং তার আযাব বাড়াতেই থাকব।

জহুরুল হক

নিশ্চয়ই না! সে যা বলে তা সঙ্গে সঙ্গে আমরা লিখে রাখব, আর তার জন্য আমরা লম্বা করে দেব শাস্তির লম্বাই।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, সে যা বলে তা তো আমরা লিখেই রাখছি এবং আমরা তার আযাব দীর্ঘ করতেই থাকবো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনই নহে, তাহারা যাহা বলে আমি তাহা লিখিয়া রাখিব এবং তাহাদের শাস্তি বৃদ্ধি করিতে থাকিব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর সে যা বলে আমি তার অধিকারী হব এবং আমার কাছে সে একাকী আসবে।

জহুরুল হক

আর সে যা বলে সে ব্যাপারে আমরা তাকে উত্তরাধিকার করব, আর আমাদের কাছে সে আসবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে যে বিষয়ের কথা বলে তার মালিক তো আমরা। সে আমাদের কাছে আসবে সম্পূর্ণ একাকী।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে যে বিষয়ের কথা বলে তাহা থাকিবে আমার অধিকারে এবং সে আমার নিকট আসিবে একা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা ছাড়া বহু ‘’ গ্রহণ করেছে, যাতে ওরা তাদের সাহায্যকারী হতে পারে।

জহুরুল হক

আর তারা ‌কে ছেড়ে দিয়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করেছে যেন তারা তাদের জন্য হতে পারে এক সহায় সন্বল।

আবদুস শহীদ নাসিম

সে ছাড়া অন্যদেরকে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করে, যাতে করে তারা তাদের জন্যে মর্যাদার কারণ হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা ‌ ব্যতিত অন্য ইলাহ্‌ গ্রহন করে এইজন্য, যাহাতে উহারা তাদের সহায় হয় ;

বয়ান ফাউন্ডেশন

কখনো নয়, এরা তাদের ইবাদাতের কথা অস্বীকার করবে এবং তাদের বিপক্ষ হয়ে যাবে।

জহুরুল হক

কখনোই না! তারা শীঘ্রই তাদের বন্দনা অস্বীকার করবে। আর তারা হবে এদের বিরোধিপক্ষ।

আবদুস শহীদ নাসিম

কখনো নয়, বরং তারা তাদের ইবাদত করেছে বলে অস্বীকার করবে, আর (সেদিন) তারা তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনই নহে; উহারা তো তাহাদের ‘ইবাদত অস্বীকার করিবে এবং তাহাদের বিরোধী হইয়া যাইবে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য করনি যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছেড়ে দিয়েছি; ওরা তাদেরকে বিশেষভাবে প্ররোচিত করে?

জহুরুল হক

তুমি কি লক্ষ্য কর নি যে আমরা শয়তানদের পাঠিয়েছি অবিশ্বাসীদের নিকটে বিশেষ উসকানিতে উসকানি দিতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তুমি কি লক্ষ্য করছোনা, আমরা কাফিরদের কাছে শয়তানদের পাঠিয়ে থাকি তাদেরকে মন্দ কাজে সুড়সুড়ি দেয়ার জন্যে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি কি লক্ষ্য কর নাই যে, আমি কাফিরদের জন্য শয়তানদেরকে ছাড়িয়া রাখিয়াছি উহাদেরকে মন্দ কর্মে বিশেষভাবে প্রলুব্ধ করিবার জন্য?

বয়ান ফাউন্ডেশন

সুতরাং তাদের ব্যাপারে তুমি তাড়াহুড়া করো না; আমি তো কেবল তাদের জন্য নির্ধারিত কাল গণনা করছি,

জহুরুল হক

সুতরাং তাদের জন্য ব্যস্ত হয়ো না। আমরা তো তাদের জন্য সংখ্যা গণনা করছি।

আবদুস শহীদ নাসিম

সুতরাং তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়া করোনা। আমরা তো তাদের জন্যে নির্ধারিত সময়কাল (বা সংখ্যা) গুণে রাখছি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সুতরাং তাহাদের বিষয়ে তুমি তাড়াতাড়ি করিও না। আমি তো গণনা করিতেছি উহাদের নির্ধারিত কাল,

বয়ান ফাউন্ডেশন

যেদিন পরম করুণাময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করব,

জহুরুল হক

সেদিন ধর্মপরায়ণদের আমরা সমবেত করব পরম করুণাময়ের কাছে রাজদূতরূপে,

আবদুস শহীদ নাসিম

যেদিন আমরা দয়াময় রহমানের কাছে মুত্তাকিদের হাশর করবো মেহমান হিসেবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেদিন দয়াময়ের নিকট মুত্তাকীদেরকে সম্মানিত মেহমানরূপে সমবেত করিব,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর অপরাধীদেরকে তৃষ্ণার্ত অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাব।

জহুরুল হক

আর অপরাধীদের আমরা তাড়িয়ে নেব জাহান্নামের দিকে তৃষ্ণাতুর অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

আর অপরাধীদের পিপাসার্ত অবস্থায় তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং অপরাধীদেরকে তৃষ্ণাতুর অবস্থায় জাহান্নামের দিকে হাঁকাইয়া লইয়া যাইব।

বয়ান ফাউন্ডেশন

যারা পরম করুণাময়ের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে তারা ছাড়া অন্য কেউ সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে না।

জহুরুল হক

পরম করুণাময়ের নিকট থেকে যে কোনো কড়ার লাভ করেছে সে ব্যতীত কারোর সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না।

আবদুস শহীদ নাসিম

সেদিন সুপারিশে কোনো কাজ হবেনা, তবে যে রহমানের নিকট অঙ্গীকার লাভ করেছে, তার কথা আলাদা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে দয়াময়ের নিকট প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করিয়াছে, সে ব্যতীত অন্য কাহারও সুপারিশ করিবার ক্ষমতা থাকিবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’

জহুরুল হক

আর তারা বলে - - ''পরম করুণাময় একটি সন্তান গ্রহণ করেছেন।’’

আবদুস শহীদ নাসিম

তারা বলে: ‘রহমান সন্তান গ্রহণ করেছেন।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন।’

বয়ান ফাউন্ডেশন

অবশ্যই তোমরা এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করেছ।

জহুরুল হক

তোমরা অবশ্যই এক বিকট ব্যপার অবতারণা করেছ।

আবদুস শহীদ নাসিম

তোমরা এক জঘন্য বিষয় (রচনা করে) নিয়ে এসেছো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমরা তো এমন এক জঘন্য বিষয়ের অবতারণা করিয়াছ;

বয়ান ফাউন্ডেশন

এতে আসমানসমূহ ফেটে পড়ার, যমীন বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে।

জহুরুল হক

এর দ্বারা মহাকাশমন্ডল বিদীর্ণ হয়ে যাবার উপক্রম করছে আর পৃথিবী চূর্ণ - বিচূর্ণ হতে চলছে আর পাহাড়পর্বত খন্ডবিখন্ড হয়ে ভেঙ্গে পড়ছে - -

আবদুস শহীদ নাসিম

এর ফলে মহাকাশ বিদীর্ণ হযে যাবে, পৃথিবী খন্ড বিখন্ড হয়ে পড়বে এবং পাহাড় পর্বত চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে পতিত হবে,

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহাতে আকাশমণ্ডলী বিদীর্ণ হইয়া যাইবে, পৃথিবী খণ্ড - বিখণ্ড হইবে ও পর্বতমণ্ডলী চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া আপতিত হইবে,

বয়ান ফাউন্ডেশন

কারণ তারা পরম করুণাময়ের সন্তান আছে বলে দাবী করে।

জহুরুল হক

যেহেতু তারা পরম করুণাময়ের প্রতি সন্তান দাবি করছে।

আবদুস শহীদ নাসিম

কারণ তারা রহমানের প্রতি সন্তান আরোপ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যেহেতু তাহারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।

জহুরুল হক

আর পরম করুণাময়ের পক্ষে এটি সমীচীন নয় যে তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন।

আবদুস শহীদ নাসিম

সন্তান গ্রহণ করা রহমানের জন্যে শোভনীয় নয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভন নহে।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই, যে বান্দা হিসেবে পরম করুণাময়ের কাছে হাযির হবে না।

জহুরুল হক

মহাকাশমন্ডলে ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে পরম করুণাময়ের কাছে আসবে বান্দারূপে ছাড়া।

আবদুস শহীদ নাসিম

মহাকাশ এবং পৃথিবীতে যারাই আছে, তারা রহমানের কাছে দাস হিসেবেই উপস্থিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেহ নাই, যে দয়াময়ের নিকট বান্দারূপে উপস্থিত হইবে না।

বয়ান ফাউন্ডেশন

তিনি তাদের সংখ্যা জানেন এবং তাদেরকে যথাযথভাবে গণনা করে রেখেছেন।

জহুরুল হক

তিনি অবশ্যই তাদের হিসেব রেখেছেন, আর তিনি তাদের গণনা করছেন গুনতিতে।

আবদুস শহীদ নাসিম

তিনি তাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং নিখুঁতভাবে গুণে রাখছেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তিনি তাহাদেরকে পরিবেষ্টন করিয়া রাখিয়াছেন এবং তিনি তাহাদেরকে বিশেষভাবে গণনা করিয়াছেন,

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর কিয়ামতের দিন তাদের সকলেই তাঁর কাছে আসবে একাকী।

জহুরুল হক

আর তাদের সবকয়জনকেই কিয়ামতের দিনে তাঁর কাছে আসতে হবে নিঃসঙ্গ অবস্থায়।

আবদুস শহীদ নাসিম

কিয়ামতের দিন তারা সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হবে একা একা।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

এবং কিয়ামত দিবসে উহাদের সকলেই তাঁহার নিকট আসিবে একাকী অবস্থায়।

বয়ান ফাউন্ডেশন

নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য (বান্দাদের হৃদয়ে) ভালবাসা সৃষ্টি করবেন।

জহুরুল হক

নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য পরম করুণাময় এখনি যোগান ধরবেন প্রেম।

আবদুস শহীদ নাসিম

যারা ঈমান এনেছে এবং আমলে সালেহ্ করেছে, দয়াময় রহমান অচিরেই জনগণের মনে তাদের জন্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে দয়াময় অবশ্যই তাহাদের জন্য সৃষ্টি করিবেন ভালবাসা।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি, যাতে তুমি এর দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং কলহপ্রিয় কওমকে তদ্বারা সতর্ক করতে পার।

জহুরুল হক

সুতরাং আমরা তো এটিকে তোমার মাতৃভাষায় সহজবোধ্য করে দিয়েছি যেন এর দ্বারা তুমি ধর্মপরায়ণদের সুসংবাদ দিতে পার আর এর দ্বারা সাবধান করে দিতে পার বিতর্কপ্রিয় সম্প্রদায়কে।

আবদুস শহীদ নাসিম

আমরা তোমার যবানে কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি এ উদ্দেশ্যে যে, তুমি এর মাধ্যমে সচেতন লোকদের সুসংবাদ দেবে এবং বিবাদপ্রিয় লোকদের সতর্ক করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি তো তোমার ভাষায় কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি যাহাতে তুমি উহা দ্বারা মুত্তাকীদেরকে সুসংবাদ দিতে পার এবং বিতণ্ডাপ্রবণ সম্প্রদায়কে উহা দ্বারা সতর্ক করিতে পার।

বয়ান ফাউন্ডেশন

আর তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে আমি ধ্বংস করেছি! তুমি কি তাদের কাউকে দেখতে পাও, কিংবা শুনতে পাও তাদের কোন ক্ষীণ আওয়াজ?

জহুরুল হক

আর তাদের আগে আমরা কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করেছি! তুমি কি তাদের মধ্যের একজনকেও দেখতে পাও অথবা তাদের থেকে গুনগুনানি শুনতে পাও?

আবদুস শহীদ নাসিম

তাদের আগে আমরা বহু মানব প্রজন্মকে হালাক করে দিয়েছি। তুমি কি তাদের কাউকেও দেখতে পাচ্ছো, কিংবা তাদের কোনো ক্ষীণতম আওয়াযও শুনতে পাচ্ছো?

ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাহাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করিয়াছি! তুমি কি তাহাদের কাহাকেও দেখিতে পাও অথবা ক্ষীণতম শব্দও শুনিতে পাও?

Recitation

Reciters

Ticked reciters play one after another for each verse.

Repeat
Speed
Listen offline

Save this chapter’s recitation by the ticked reciters on this device.

Add a book to compare

It opens next to the books you’re reading, at the same verse.

Verse

Chapters

Dictionary

Suggest a translation

Log in to suggest a better translation. Admins review every suggestion before it changes the text.

Log in Create an account

Suggested translations

Your note

Ask AI about this chapter

Display

Theme