কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* * ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড - প্রচেষ্টার কথা;
Chapter 79, 46 verses
কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।* * ১-৫ নং আয়াতে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ফেরেশতাদের কসম করা হয়েছে।
ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড - প্রচেষ্টার কথা;
আর কসম সহজভাবে বন্ধনমুক্তকারীদের।
আর ক্ষিপ্রগামীদের ত্বরিত এগুনোয়,
আর কসম দ্রুতগতিতে সন্তরণকারীদের।
আর সন্তরণকারীদের দ্রত সন্তরণে,
আর দ্রুতবেগে অগ্রসরমানদের।
আর অগ্রগামীরা এগিয়েই চলেছে,
অতঃপর কসম সকল কার্যনির্বাহকারীদের।
তারপর ঘটনানিয়ন্ত্রণকারীদের কথা!
সেদিন কম্পনকারী* প্রকম্পিত করবে। *অর্থাৎ প্রথম শিংগাধ্বনি।
সেদিন স্পন্দিত হবে বিরাট স্পন্দনে,
তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী কম্পনকারী।* *দ্বিতীয় শিংগাধ্বনি।
পরবর্তী ঘটনা তাকে অনুসরণ করবেই।
সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-সন্ত্রস্ত হবে।
হৃদয় সেদিন সন্ত্রস্ত হবে,
তাদের দৃষ্টিসমূহ নত হবে।
তাদের চোখ হবে অবনত।
তারা বলে, ‘আমরা কি পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হবই,
তারা বলছে - - ''আমরা কি সত্যিই প্রথমাবস্থায় প্রত্যাবর্তিত হব?
যখন আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ হাড় হয়ে যাব’?
''যখন আমরা গলা - পচা হাড্ডি হয়ে যাব তখনও?’’
তারা বলে, ‘তাহলে তা তো এক ক্ষতিকর প্রত্যাবর্তন’।
তারা বলে - - ''তাই যদি হয় তবে এ হবে সর্বনাশা প্রত্যাবর্তন।’’
আর ওটা তো কেবল এক বিকট আওয়াজ।
কিন্ত এটি নিশ্চয়ই হবে একটি মহাগর্জন,
তৎক্ষনাৎ তারা ভূ-পৃষ্ঠে উপস্থিত হবে।
তখন দেখো! তারা হবে জাগ্রত।
মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
তোমার কাছে মূসার কাহিনী পৌঁছেছে কি? - -
যখন তার রব তাকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় ডেকেছিলেন,
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে আহ্বান করেছিলেন পবিত্র উপত্যকা 'তুওয়া’তে - -
‘ফির‘আউনের কাছে যাও, নিশ্চয় সে সীমালংঘন করেছে’।
''ফিরআউনের কাছে যাও, সে নিশ্চয়ই বিদ্রোহ করেছে - -
অতঃপর বল ‘তোমার কি ইচ্ছা আছে যে, তুমি পবিত্র হবে’?
''তারপর বলো - - 'তোমার কি আগ্রহ আছে যে তুমি পবিত্র হও?’
‘আর আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ দেখাব, যাতে তুমি তাঁকে ভয় কর?’
''আমি তাহলে তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে পরিচালিত করব যেন তুমি ভয় করো’।’’
অতঃপর মূসা তাকে বিরাট নিদর্শন দেখাল।
তারপর তিনি তাকে দেখালেন একটি বিরাট নিদর্শন।
কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং অমান্য করল।
কিন্ত সে মিথ্যা আরোপ করল ও অবাধ্য হল।
তারপর সে ফাসাদ করার চেষ্টায় প্রস্থান করল।
অতঃপর ফিরে গেলো চেষ্টা করতে;
অতঃপর সে লোকদেরকে একত্র করে ঘোষণা দিল।
অতঃপর সে সমবেত করল এবং ঘোষণা করল,
আর বলল, ‘আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব’।
এবং বলল, “আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ প্রতিপালক।”
অবশেষে তাকে ও দুনিয়ার আযাবে পাকড়াও করলেন।
সেজন্য তাকে পাকড়াও করলেন পরকালের ও পূর্বের জীবনের দৃষ্টান্ত বানিয়ে।
নিশ্চয় যে ভয় করে তার জন্য এতে শিক্ষা রয়েছে।
নিঃসন্দেহ এতে বাস্তব শিক্ষা রয়েছে তার জন্য যে ভয় করে।
তোমাদেরকে সৃষ্টি করা অধিক কঠিন, না আসমান সৃষ্টি? তিনি তা বানিয়েছেন।
তোমরা কি সৃষ্টিতে কঠিনতর, না মহাকাশ? তিনিই এ - সব বানিয়েছেন।
তিনি এর ছাদকে উচ্চ করেছেন এবং তাকে সুসম্পন্ন করেছেন।
তিনি এর উচ্চতা উন্নীত করেছেন, আর তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন,
আর তিনি এর রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং এর দিবালোক প্রকাশ করেছেন।
আর এর রাতকে তিনি অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন, আর বের করে এনেছেন এর দিবালোক।
এরপর তিনি যমীনকে বিস্তীর্ণ করেছেন।
আর পৃথিবী - - এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।
তিনি তার ভিতর থেকে বের করেছেন তার পানি ও তার তৃণভূমি।
এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।
আর পর্বতগুলোকে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আর পাহাড় - পর্বত - - তিনি তাদের মজবুতভাবে বসিয়ে দিয়েছেন, - -
তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।
তোমাদের জন্য ও তোমাদের গবাদি - পশুর জন্য খাদ্যের আয়োজন।
অতঃপর যখন মহাপ্রলয় আসবে।
তারপর যখন ভীষণ দুর্বিপাক আসবে,
সেদিন মানুষ স্মরণ করবে তা, যা সে চেষ্টা করেছে।
সেইদিন মানুষ স্মরণ করবে যার জন্য সে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল,
আর জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে তার জন্য যে দেখতে পায়।
আর ভয়ংকর আগুন দৃষ্টিগোচর করানো হবে যে দেখে তার জন্য।
সুতরাং যে সীমালঙ্ঘন করে।
তাছাড়া তার ক্ষেত্রে যে সীমালংঘন করেছে,
আর দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দেয়,
এবং দুনিয়ার জীবনকেই বেছে নিয়েছে,
নিশ্চয় জাহান্নাম হবে তার আবাসস্থল।
সেক্ষেত্রে অবশ্য ভয়ংকর আগুন, - - সেটাই তো বাসস্থান।
আর যে স্বীয় রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজকে বিরত রাখে,
পক্ষান্তরে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করে এবং আত্মাকে কামনা - বাসনা থেকে নিবৃত্ত রাখে - -
নিশ্চয় জান্নাত হবে তার আবাসস্থল।
সেক্ষেত্রে অবশ্য জান্নাত, - - সেটাই তো বাসস্থান।
তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, ‘তা কখন ঘটবে’?
তারা ঘড়ি - ঘান্টা সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে - - কখন তার আগমন হবে?’’
তা উল্লেখ করার কি জ্ঞান তোমার আছে?
এ - সন্বন্ধে বলবার মতো তোমার কী আছে?
এর প্রকৃত জ্ঞান তোমার রবের কাছেই।
এর চরম সীমা রয়েছে তোমার প্রভুর নিকট।
তুমিতো কেবল তাকেই সতর্ককারী, যে একে ভয় করে ।
তুমি তো শুধু সতর্ককারী তার জন্য যে এ - সন্বন্ধে ভয় করে।
যেদিন তারা তা দেখবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায়) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশী অবস্থান করেনি।
যেদিন তারা একে দেখবে সেদিন যেন তারা মাত্র এক সন্ধ্যাবেলা বা তার প্রভাতকাল ব্যতীত অবস্থান করে নি।