কসম তূর পর্বতের,
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ তূরের।
Note
শপথ তুর (পাহাড়) - এর।
بسم الله الرحمن الرحيم والطور
Chapter 52, 49 verses
কসম তূর পর্বতের,
পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল আল্লাহর নামে; শপথ তূরের।
শপথ তুর (পাহাড়) - এর।
بسم الله الرحمن الرحيم والطور
আর কসম কিতাবের যা লিপিবদ্ধ আছে।
শপথ লিখিত কিতাবের।
শপথ সেই কিতাবের যা ছত্রে ছত্রে লিখিত
وكتاب مسطور
উন্মুক্ত পাতায়।
খোলা পাতায়।
খোলা পৃষ্ঠায়।
في رق منشور
কসম আবাদ গৃহের,* * আবাদ গৃহ বলতে সপ্তাকাশের বায়তুল মা‘মূরকে বুঝানো হয়েছে। অগণিত ফেরেশতা নিরবচ্ছিন্ন ইবাদাতে যা আবাদ রেখেছে।
শপথ বায়তুল মা‘মূরের,
শপথ বাইতুল মামুরের।
والبيت المعمور
আর সমুন্নত আকাশের;
শপথ সুউচ্চ ছাদের।
শপথ উঁচু ছাদের (আকাশের),
والسقف المرفوع
কসম তরঙ্গ-বিক্ষুব্ধ সাগরের,* * অন্য তাফসীর মতে-আগুনের সাগর যা দুনিয়াতে হতে পারে, অথবা কিয়ামতে।
শপথ উত্তাল সমুদ্রের।
শপথ উত্তাল সাগরের।
والبحر المسجور
নিশ্চয় তোমার রবের আযাব অবশ্যম্ভাবী।
নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তার শাস্তি অবশ্যই ঘটবে।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভুর আযাব সংঘটিত হবেই।
إن عذاب ربك لواقع
যার কোন প্রতিরোধকারী নেই।
তা প্রতিহত করার কেউ নেই।
তা প্রতিরোধ করার কেউ নেই।
ما له من دافع
যেদিন তীব্রভাবে আকাশ প্রকম্পিত হবে,
যেদিন আকাশ প্রবলভাবে কেঁপে উঠবে।
যেদিন আসমান চলতে থাকবে প্রচন্ড গতিতে,
يوم تمور السماء مورا
আর পর্বতমালা দ্রুত পরিভ্রমণ করবে,
আর পাহাড়গুলো চলতে থাকবে।
(ভয়ংকর) তীব্র গতিতে চলতে থাকবে পাহাড় পর্বত,
وتسير الجبال سيرا
অতএব মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস,
সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।
সেদিন হবে চরম দুর্ভোগ প্রত্যাখ্যানকারীদের,
فويل يومئذ للمكذبين
যারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকে।
যারা অর্থহীন কথায় মেতে থেকে খেলাধুলা করে।
যারা খেল তামাশার অসার কাজে লিপ্ত।
الذين هم في خوض يلعبون
সেদিন তাদেরকে জাহান্নামের আগুনের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
যেদিন উহাদেরকে ধাক্কা মারিতে মারিতে লইয়া যাওয়া হইবে জাহান্নামের অগ্নির দিকে
সেদিন তাদের ধাক্কা মারতে মারতে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে।
يوم يدعون إلى نار جهنم دعا
‘এটি সেই জাহান্নাম যা তোমরা অস্বীকার করতে।’
এটাই সেই আগুন, যা তোমরা অস্বীকার করতে।
(বলা হবে:) এই সেই জাহান্নাম, যাকে তোমরা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে।
هذه النار التي كنتم بها تكذبون
‘এটি কি যাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না!’
তবে কি এটি জাদু, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছো না?
এটা কি ম্যাজিক, নাকি তোমরা দেখছো না?
أفسحر هذا أم أنتم لا تبصرون
তোমরা আগুনে প্রবেশ কর*, তারপর তোমরা ধৈর্যধারণ কর বা না কর, উভয়ই তোমাদের জন্য সমান; তোমাদেরকে তো কেবল তোমাদের আমলের প্রতিফল দেয়া হচ্ছে। * অন্য তাফসীর মতে- ‘‘তোমরা এর উত্তাপ ভোগ কর’’।
এতে প্রবেশ করো। অতঃপর ধৈর্য ধরো বা ধৈর্য না ধরো, তোমাদের জন্য উভয়ই সমান। তোমরা যা করতে, তারই প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হচ্ছে।
এতে প্রবেশ করো, এর আযাব তোমরা সহ্য করতে পারো বা না পারো দুটোই সমান। তোমাদেরকে তো তোমাদেরই কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হয়েছে।
اصلوها فاصبروا أو لا تصبروا سواء عليكم ۖ إنما تجزون ما كنتم تعملون
নিশ্চয় মুত্তাকীরা (থাকবে) জান্নাতে ও প্রাচুর্যে।
নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা বেহেশতসমূহে ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে থাকবে।
নিশ্চয়ই মুত্তাকিদের জন্যে রয়েছে জান্নাত আর নিয়ামতরাজি।
إن المتقين في جنات ونعيم
তাদের রব তাদেরকে যা দিয়েছেন তা উপভোগ করবে, আর তাদের রব তাদেরকে বাঁচাবেন জ্বলন্ত আগুনের আযাব থেকে।
তাদের পালনকর্তা তাদের যা দিয়েছেন, তাতে তারা আনন্দিত থাকবে; আর তাদের পালনকর্তা তাদের জাহিমের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
তাদের প্রভু তাদের যেসব পুরস্কার দেবেন তারা সেসব ভোগ করতে থাকবে এবং তাদের প্রভু তাদের রক্ষা করবেন জাহিমের (জাহান্নামের) আযাব থেকে।
فاكهين بما آتاهم ربهم ووقاهم ربهم عذاب الجحيم
তোমরা তৃপ্তি সহকারে খাও ও পান কর, তোমরা যে আমল করতে তার বিনিময়ে।
তোমরা যা করতে, তার কারণে তৃপ্তিসহ খাও এবং পান করো।
(তাদের বলা হবে:) ‘তোমরা খাও এবং পান করো তৃপ্তি সহকারে তোমাদের নেক আমলের ফল।
كلوا واشربوا هنيئا بما كنتم تعملون
সারিবদ্ধ পালঙ্কে তারা হেলান দিয়ে বসবে; আর আমি তাদেরকে মিলায়ে দেব ডাগরচোখা হূর-এর সাথে।
সারিবদ্ধ আসনসমূহে হেলান দিয়ে বসে থাকবে। আর আমরা তাদের বিয়ে দিবো আয়তলোচনা হুরদের সঙ্গে।
আয়তলোচনা = বড়ো চোখের মেয়ে
তারা সেখানে আসন গ্রহণ করবে হেলান দিয়ে সারিবদ্ধভাবে। আমরা তাদের জুড়ি হিসেবে দেবো আয়াতলোচনা হুরদের।
متكئين على سرر مصفوفة ۖ وزوجناهم بحور عين
আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানের সাথে তাদের অনুসরণ করে, আমরা তাদের সাথে তাদের সন্তানদের মিলন ঘটাব এবং তাদের কর্মের কোন অংশই কমাব না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার কামাইয়ের ব্যাপারে দায়ী থাকবে।
আর যারা বিশ্বাস করেছে এবং তাদের বংশধররা বিশ্বাসের সঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছে, আমরা তাদের বংশধরদের তাদের সঙ্গে মিলিত করব। আর তাদের কাজের প্রতিদান থেকে কোনো কিছুই আমরা কমাবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি তার অর্জনের জন্য দায়বদ্ধ।
আর যারা নিজেরা ঈমান এনেছে এবং তাদের সন্তানরাও ঈমানের পথে তাদের অনুগামী হয়েছে, আমরা তাদের সন্তানদেরকে তাদের সাথে একত্র করে দেবো এবং তাদের আমলের প্রতিদান কিছুমাত্র হ্রাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্যে দায়ী।
والذين آمنوا واتبعتهم ذريتهم بإيمان ألحقنا بهم ذريتهم وما ألتناهم من عملهم من شيء ۚ كل امرئ بما كسب رهين
আর আমি তাদেরকে অতিরিক্ত দেব ফলমূল ও গোশত যা তারা কামনা করবে।
আর তারা যা কামনা করবে, তা থেকে ফলমূল ও মাংস দিয়ে, আমরা তাদের আরও দেবো।
আমরা তাদের সহযোগিতা করবো ফলফলারি এবং গোশত দিয়ে, যা - ই তারা পছন্দ করবে।
وأمددناهم بفاكهة ولحم مما يشتهون
তারা পরস্পরের মধ্যে পানপাত্র বিনিময় করবে; সেখানে থাকবে না কোন বেহুদা কথাবার্তা এবং কোন পাপকাজ।
তারা একে অপরের কাছ থেকে পানপাত্র গ্রহণ করবে, সেখানে কোনো মন্দ কথা থাকবে না এবং কোনো পাপও নয়।
তারা সেখানে পরস্পরের মধ্যে আদান প্রদান করতে থাকবে পানপাত্র, যা থেকে পান করলে কেউ অর্থহীন কথাবার্তাও বলবে না এবং কোনো প্রকার পাপ কাজেও লিপ্ত হবেনা।
يتنازعون فيها كأسا لا لغو فيها ولا تأثيم
আর তাদের সেবায় চারপাশে ঘুরবে বালকদল; তারা যেন সুরক্ষিত মুক্তা।
আর তাদের সেবায় ঘুরে বেড়াবে তাদের জন্য নিয়োজিত কিশোরেরা, যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা।
তাদের সেবায় ঘোরাঘুরি করতে থাকবে কিশোরেরা যারা নিয়োজিত থাকবে কেবল তাদেরই সেবায় এবং তারা দেখতে যেনো সুরক্ষিত মুক্তা।
۞ ويطوف عليهم غلمان لهم كأنهم لؤلؤ مكنون
আর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে,
আর তারা মুখোমুখি হয়ে একে অপরের কথা জানতে চাইবে।
তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসা করবে,
وأقبل بعضهم على بعض يتساءلون
তারা বলবে, ‘পূর্বে আমরা আমাদের পরিবারের মধ্যে শঙ্কিত ছিলাম।’
তারা বলবে, “নিশ্চয়ই আমরা আগে আমাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বিগ্ন ছিলাম।”
বলবে: ‘‘ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) আমরা তো পরিবার পরিজনের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে ভীত ছিলাম।
قالوا إنا كنا قبل في أهلنا مشفقين
‘অতঃপর আমাদের প্রতি দয়া করেছেন এবং আগুনের আযাব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেছেন।’
অতঃপর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদেরকে উত্তপ্ত বাতাসের শাস্তি থেকে রক্ষা করেছেন।
ফলে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের রক্ষা করেছেন অগ্নি বায়ুর আযাব থেকে।
فمن الله علينا ووقانا عذاب السموم
নিশ্চয় পূর্বে আমরা তাঁকে ডাকতাম; নিশ্চয় তিনি ইহসানকারী, পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই আমরা এর আগে তাঁকে ডাকতাম। নিশ্চয়ই তিনিই পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়ালু।
আমরা ইতোপূর্বে (পৃথিবীর জীবনে) তাঁকেই ডাকতাম, নিশ্চয়ই তিনি পরম অনুগ্রহশীল, পরম দয়াবান।’’
إنا كنا من قبل ندعوه ۖ إنه هو البر الرحيم
অতএব, তুমি উপদেশ দিতে থাক; কারণ তোমার রবের অনুগ্রহে তুমি গণক নও এবং উন্মাদও নও।
অতএব তুমি স্মরণ করিয়ে দাও। তোমার পালনকর্তার অনুগ্রহে তুমি কোনো গণক নও এবং পাগলও নও।
অতএব, তুমি উপদেশ দিয়ে যাও, তোমার প্রভুর অনুগ্রহে তুমি গণকও নও, পাগলও নও।
فذكر فما أنت بنعمت ربك بكاهن ولا مجنون
তারা কি বলছে, ‘সে (মুহাম্মাদ) একজন কবি? আমরা তার মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছি।’
নাকি তারা বলে, “সে একজন কবি; আমরা তার ব্যাপারে সময়ের বিপর্যয়ের অপেক্ষা করছি”?
নাকি তারা বলে: ‘সে একজন কবি? আমরা তার জন্যে সময়ের আবর্তনের অপেক্ষা করছি।’
أم يقولون شاعر نتربص به ريب المنون
বল, ‘তোমরা অপেক্ষায় থাক! আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারীদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’
বলো, “তোমরা অপেক্ষা করো; আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষাকারীদের একজন।”
তুমি বলো: ‘তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় থাকলাম।’
قل تربصوا فإني معكم من المتربصين
তাদের বিবেক কি তাদেরকে এ আদেশ দেয়, না তারা সীমালংঘনকারী কওম?
নাকি তাদের বুদ্ধি তাদের এসবের নির্দেশ দেয়, নাকি তারা সীমালঙ্ঘনকারী এক সম্প্রদায়?
নাকি তাদের বুদ্ধি তাদেরকে এর জন্যে প্রলুব্ধ করে? আর নাকি তারা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়?
أم تأمرهم أحلامهم بهذا ۚ أم هم قوم طاغون
তারা কি বলে, ‘সে এটা বানিয়ে বলছে?’ বরং তারা ঈমান আনে না।
নাকি তারা বলে, “সে এটি নিজে বানিয়ে নিয়েছে”? বরং তারা বিশ্বাস করে না।
নাকি তারা বলে: ‘এ কুরআন সে নিজে রচনা করে নিয়েছে?’ আসল কথা হলো, তারা বিশ্বাসই রাখেনা।
أم يقولون تقوله ۚ بل لا يؤمنون
অতএব, তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে তার অনুরূপ বাণী নিয়ে আসুক।
তাহলে তারা এর মতো কোনো বাণী নিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যবাদী হয়।
তারা সত্যবাদী হয়ে থাকলে এ কুরআনের মতো কোনো বাণী উপস্থিত করুক।
فليأتوا بحديث مثله إن كانوا صادقين
তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারাই স্রষ্টা?
তারা কি কোনো কিছু ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারাই স্রষ্টা?
নাকি তারা স্রষ্টা ছাড়াই সৃষ্টি হয়েছে? আর নাকি তারা নিজেরাই স্রষ্টা?
أم خلقوا من غير شيء أم هم الخالقون
তারা কি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।
নাকি তারা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছে? বরং তারা দৃঢ় বিশ্বাস করে না।
নাকি মহাকাশ এবং পৃথিবী তারা নিজেরাই সৃষ্টি করেছে? বরং তারা একীনই রাখেনা।
أم خلقوا السماوات والأرض ۚ بل لا يوقنون
তোমার রবের গুপ্তভান্ডার কি তাদের কাছে আছে, না তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণকারী?
নাকি তোমার পালনকর্তার ভাণ্ডারসমূহ তাদের কাছে আছে, নাকি তারাই নিয়ন্ত্রণকারী?
নাকি তোমার প্রভুর ভান্ডার তাদের কাছে রয়েছে? আর নাকি তারা এসব কিছুর পাহারাদার?
أم عندهم خزائن ربك أم هم المصيطرون
নাকি তাদের আছে সিঁড়ি, যাতে চড়ে তারা (ঊর্ধ্বলোকের কথা) শুনতে পায়; তাদের শ্রোতা স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক না?
নাকি তাদের কোনো সিঁড়ি আছে, যাতে তারা উঠে শোনে? তাহলে তাদের শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসুক।
নাকি তাদের কাছে (আকাশে) আরোহণ করার সিঁড়ি আছে যা দিয়ে উঠে কথা শুনে? থাকলে তাদের সেই শ্রোতা সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করুক।
أم لهم سلم يستمعون فيه ۖ فليأت مستمعهم بسلطان مبين
তবে কি কন্যাসন্তান তাঁর; আর পুত্রসন্তান তোমাদের?
নাকি তাঁর জন্য কন্যাসন্তান, আর তোমাদের জন্য পুত্রসন্তান?
নাকি কন্যা সন্তান আল্লাহর, আর সব পুত্র সন্তান তোমাদের ?
أم له البنات ولكم البنون
তবে কি তুমি তাদের কাছে প্রতিদান চাও যে, তারা তা ভারী জরিমানা মনে করে?
নাকি তুমি তাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাও, ফলে তারা ঋণের বোঝায় ভারাক্রান্ত?
নাকি তুমি তাদের কাছে (তাদের উপদেশ দেয়ার জন্যে) পারিশ্রমিক চাইছো, আর তারা সেটাকে তাদের জন্যে বোঝা মনে করছে?
أم تسألهم أجرا فهم من مغرم مثقلون
নাকি তাদের কাছে আছে গায়েবের জ্ঞান, যা তারা লিখছে?
নাকি তাদের কাছে অদৃশ্যের জ্ঞান আছে, ফলে তারা তা লিখে রাখে?
নাকি তারা জানে এবং তা তারা লিখে রাখছে?
أم عندهم الغيب فهم يكتبون
নাকি তারা ষড়যন্ত্র করতে চায়? অতএব যারা করে তারাই হবে ষড়যন্ত্রের শিকার।
নাকি তারা কোনো ষড়যন্ত্র করতে চায়? অথচ যারা অবিশ্বাস করেছে, তারাই ষড়যন্ত্রের শিকার হবে।
নাকি তারা কোনো চক্রান্ত করছে? জেনে রেখো, চক্রান্তের শিকার হয় কাফিররা নিজেরাই।
أم يريدون كيدا ۖ فالذين كفروا هم المكيدون
নাকি তাদের জন্য ছাড়া অন্য আছে? তারা যে শিরক করে তা থেকে পবিত্র।
নাকি ছাড়া তাদের অন্য কোনো উপাস্য আছে? তারা যাদের শরিক করে, তা থেকে পবিত্র।
নাকি আল্লাহর পরিবর্তে তাদের কোনো ইলাহ্ আছে? তাদের কৃত শিরক থেকে পবিত্র ও মহান।
أم لهم إله غير الله ۚ سبحان الله عما يشركون
আর কোন আকাশখন্ড ভেঙ্গে পড়তে দেখলে তারা বলবে, ‘এটি তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ’!
উহারা আকাশের কোন খণ্ড ভাঙ্গিয়া পড়িতে দেখিলে বলিবে, ‘ইহা তো এক পুঞ্জীভূত মেঘ।’
তারা আকাশ থেকে কোনো টুকরা ভেঙ্গে পড়তে দেখলে বলবে: ‘এতো মেঘপুঞ্জ।’
وإن يروا كسفا من السماء ساقطا يقولوا سحاب مركوم
অতএব, তাদেরকে ছেড়ে দাও সেদিন পর্যন্ত যেদিন তারা ধ্বংস হবে।
উহাদের উপেক্ষা করিয়া চল সেই দিন পর্যন্ত যেদিন উহারা বজ্রাঘাতে হতচেতন হইবে।
সুতরাং তাদের উপেক্ষা করো - যতোদিন না তারা সেই দিনটির সাক্ষাত লাভ করে যেদিন বজ্রের আঘাতে তারা হতচকিত হয়ে উঠবে।
فذرهم حتى يلاقوا يومهم الذي فيه يصعقون
যেদিন তাদের পক্ষ থেকে কৃত তাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।
সেদিন উহাদের ষড়যন্ত্র কোন কাজে আসিবে না এবং উহাদেরকে সাহায্যও করা হইবে না।
সেদিন তাদের চক্রান্ত তাদের কোনো কাজেই আসবেনা এবং সেদিন তাদের কোনো সাহায্যও করা হবেনা।
يوم لا يغني عنهم كيدهم شيئا ولا هم ينصرون
আর নিশ্চয় যারা যুলম করবে তাদের জন্য থাকবে এছাড়া আরো আযাব; কিন্তু তাদের বেশীরভাগই জানে না।
ইহা ছাড়া আরও শাস্তি রহিয়াছে জালিমদের জন্য। কিন্তু উহাদের অধিকাংশই তাহা জানে না।
যালিমদের জন্যে এছাড়াও আরো আযাব রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ লোকই জানেনা।
وإن للذين ظلموا عذابا دون ذلك ولكن أكثرهم لا يعلمون
আর তোমাদের রবের সিদ্ধান্তের জন্য ধৈর্যধারণ কর; কারণ তুমি আমার চোখের সামনেই আছ, তুমি যখন জেগে ওঠ তখন তোমার রবের সপ্রশংস তাসবীহ পাঠ কর।
ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়; তুমি আমার চক্ষুর সামনেই রহিয়াছ। তুমি তোমার প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর যখন তুমি শয্যা ত্যাগ কর,
তুমি তোমার প্রভুর নির্দেশের অপেক্ষায় সবর অবলম্বন করো। তুমি আমাদের দৃষ্টি পথেই রয়েছো। আর তোমার প্রভুর হামদসহ তাঁর তসবিহ করতে থাকো যখন শয্যা ত্যাগ করে উঠবে
واصبر لحكم ربك فإنك بأعيننا ۖ وسبح بحمد ربك حين تقوم
আর রাতের কিছু অংশে এবং নক্ষত্রের অস্ত যাবার পর তার তাসবীহ পাঠ কর।
এবং তাঁহার পবিত্রতা ঘোষণা কর রাত্রিকালে ও তারকার অস্তগমনের পর।
এবং রাত্রিবেলায়, আর তাঁর তসবিহ করতে থাকো তারকারাজির অস্তগমনের পর।
ومن الليل فسبحه وإدبار النجوم