যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
Chapter 56, 96 verses
যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে।
আল্লাহর নামে শুরু করছি, পরম করুণাময় পরম দয়ালু; যখন সেই ঘটনা ঘটবে,
যখন কিয়ামত ঘটিবে,
তার সংঘটনের কোনই অস্বীকারকারী থাকবে না।
থাকবে না ঘটনার অস্বীকারকারী।
ইহার সংঘটন অস্বীকার করিবার কেহ থাকিবে না।
তা কাউকে ভূলুণ্ঠিত করবে এবং কাউকে করবে সমুন্নত।
তা কাউকে নিচু করবে এবং কাউকে উচ্চ করবে।
ইহা কাহাকেও করিবে নীচ, কাহাকেও করিবে সম্মুন্নত ;
যখন যমীন প্রকম্পিত হবে প্রবল প্রকম্পনে।
যখন পৃথিবী প্রবলভাবে কাঁপানো হবে,
যখন প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হইবে পৃথিবী,
আর পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে।
পাহাড়গুলোকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে,
এবং পর্বতমালা চূর্ণ - বিচূর্ণ হইয়া পড়িবে,
অতঃপর তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে।
অতঃপর সেগুলো ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণা হবে।
ফলে উহা পর্যবসিত হইবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়;
আর তোমরা বিভক্ত হয়ে পড়বে তিন দলে।
আর তোমরা তিন দলে ভাগ হয়ে যাবে।
এবং তোমরা বিভক্ত হইয়া পড়িবে তিন শ্রেণীতে -
সুতরাং ডান পার্শ্বের দল, ডান পার্শ্বের দলটি কত সৌভাগ্যবান!
অতঃপর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
আর বাম পার্শ্বের দল, বাম পার্শ্বের দলটি কত হতভাগ্য!
আর বামদিকের লোকগুলো, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
এবং বাম দিকের দল; কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
আর অগ্রগামীরাই অগ্রগামী।
আর অগ্রবর্তীরাই তো অগ্রবর্তী।
আর অগ্রবর্তীগণই তো অগ্রবর্তী,
তারাই সান্নিধ্যপ্রাপ্ত।
তারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত,
উহারাই নৈকট্যপ্রাপ্ত -
তারা থাকবে নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে ।
সুখময় বেহেস্তসমূহে।
নিয়ামতপূর্ণ উদ্যানে;
বহুসংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
বহুসংখ্যক হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে;
আর অল্পসংখ্যক হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
আর অল্পসংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অল্পসংখ্যক হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
স্বর্ণ ও দামী পাথরখচিত আসনে!
নকশা করা আসনের উপর,
স্বর্ণখচিত আসনে
তারা সেখানে হেলান দিয়ে আসীন থাকবে মুখোমুখি অবস্থায়।
তার উপর মুখোমুখি হেলান দিয়ে।
উহারা হেলান দিয়া বসিবে, পরস্পর মুখোমুখি হইয়া।
তাদের আশ-পাশে ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা,
তাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াবে চিরস্থায়ী কিশোরগণ,
তাহাদের সেবায় ঘোরাফেরা করিবে চির - কিশোরেরা
পানপাত্র, জগ ও প্রবাহিত ঝর্ণার শরাবপূর্ণ পেয়ালা নিয়ে,
কলসীসমূহ এবং জগ এবং প্রবাহিত পানীয়ের পেয়ালা নিয়ে,
পানপাত্র, কুঁজা ও প্রস্রবণ - নিঃসৃত সুরাপূর্ণ পেয়ালা লইয়া।
তা পানে না তাদের মাথা ব্যথা করবে, আর না তারা মাতাল হবে।
যাতে তাদের মাথাব্যথা হবে না এবং তারা মাতালও হবে না।
সেই সুরা পানে তাহাদের শিরঃপীড়া হইবে না, তাহারা জ্ঞানহারাও হইবে না -
আর (ঘোরাফেরা করবে) তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে।
আর তারা পছন্দমতো ফলমূল পাবে,
এবং তাহাদের পসন্দমত ফলমূল,
আর পাখির গোশ্ত নিয়ে, যা তারা কামনা করবে।
এবং তাদের পছন্দমতো পাখির মাংস।
আর তাহাদের ঈপ্সিত পাখির গোশ্ত লইয়া,
আর থাকবে ডাগরচোখা হূর,
আর থাকবে বড় বড় চোখের হুরগণ,
হুরগণ= বেহেস্তের বিশেষ নারীরা
আর তাহাদের জন্য থাকিবে আয়তলোচনা হূর,
যেন তারা সুরক্ষিত মুক্তা,
যেন সুরক্ষিত মুক্তার মতো।
সুরক্ষিত মুক্তাসদৃশ,
তারা যে আমল করত তার প্রতিদানস্বরূপ।
তাদের কর্মের প্রতিদান হিসেবে।
তাহাদের কর্মের পুরস্কারস্বরূপ।
তারা সেখানে শুনতে পাবে না কোন বেহুদা কথা, এবং না পাপের কথা;
তারা সেখানে কোনো অনর্থক কথা বা পাপের কথা শুনবে না।
সেখানে তাহারা শুনিবে না কোন অসার অথবা পাপবাক্য,
শুধু এই বাণী ছাড়া, ‘সালাম, সালাম’
শুধু বলা হবে, “সালাম, সালাম।”
‘সালাম’ আর ‘সালাম’ বাণী ব্যতীত।
আর ডান দিকের দল; কত ভাগ্যবান ডান দিকের দল!
আর ডানদিকের লোকেরা, কী সৌভাগ্য ডানদিকের লোকদের!
আর ডানদিকের দল, কত ভাগ্যবান ডানদিকের দল!
তারা থাকবে কাঁটাবিহীন কুলগাছের নিচে,
কাঁটাবিহীন কুলবড়ই গাছের মধ্যে,
তাহারা থাকিবে এমন উদ্যানে, সেখানে আছে কণ্টকহীন কুলবৃক্ষ,
আর কাঁদিপূর্ণ কলাগাছের নিচে,
এবং স্তরে স্তরে সাজানো কলাগাছের মধ্যে,
কাঁদি ভরা কদলী বৃক্ষ,
আর বিস্তৃত ছায়ায়,
এবং প্রসারিত ছায়ায়,
সম্প্রসারিত ছায়া,
আর সদা প্রবাহিত পানির পাশে,
এবং প্রবাহমান পানি,
সদা প্রবহমান পানি,
আর প্রচুর ফলমূলে,
এবং প্রচুর ফলমূল,
ও প্রচুর ফলমূল,
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
যা শেষ হবে না এবং নিষিদ্ধও হবে না।
যাহা শেষ হইবে না ও যাহা নিষিদ্ধও হইবে না।
(তারা থাকবে) সুউচ্চ শয্যাসমূহে;
আর উঁচু বিছানাগুলোতে।
আর সমুচ্চ শয্যাসমূহ;
নিশ্চয় আমি হূরদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করব।
নিশ্চয়ই আমরা তাদেরকে বিশেষভাবে সৃষ্টি করেছি,
উহাদেরকে আমি সৃষ্টি করিয়াছি বিশেষরূপে -
অতঃপর তাদেরকে বানাব কুমারী,
অতঃপর তাদেরকে কুমারী করেছি,
উহাদেরকে করিয়াছি কুমারী,
সোহাগিনী ও সমবয়সী।
প্রেমময়ী এবং সমবয়সী,
সোহাগিনী ও সমবয়স্কা,
ডানদিকের লোকদের জন্য।
ডানদিকের লোকদের জন্য।
ডানদিকের লোকদের জন্য।
তাদের অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে।
তাদের অনেকেই হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে,
তাহাদের অনেকে হইবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হইতে,
আর অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অনেকেই পরবর্তীদের মধ্য থেকে।
এবং অনেকে হইবে পরবর্তীদের মধ্য হইতে।
আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
আর বামদিকের লোকেরা, কী দুর্ভাগ্য বামদিকের লোকদের!
আর বামদিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!
তারা থাকবে তীব্র গরম হাওয়া এবং প্রচন্ড উত্তপ্ত পানিতে,
তারা থাকবে উত্তপ্ত বাতাস ও ফুটন্ত পানির মধ্যে,
উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,
আর প্রচন্ড কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
এবং কালো ধোঁয়ার ছায়ায়,
কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,
যা শীতলও নয়, সুখকরও নয়।
যা ঠান্ডাও নয় এবং আরামদায়কও নয়।
যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।
নিশ্চয় তারা ইতঃপূর্বে বিলাসিতায় মগ্ন ছিল,
নিশ্চয়ই তারা এর আগে বিলাসিতায় মগ্ন ছিলো।
ইতিপূর্বে উহারা তো মগ্ন ছিল ভোগ - বিলাসে
আর তারা জঘন্য পাপে লেগে থাকত।
আর তারা মহাপাপের উপর অবিচল থাকতো।
এবং উহারা অবিরাম লিপ্ত ছিল ঘোরতর পাপকর্মে।
আর তারা বলত, ‘আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও হাড়ে পরিণত হব তখনও কি আমরা পুনরুত্থিত হব?’
আর তারা বলতো, “আমরা যখন মারা যাবো এবং মাটি ও হাড় হয়ে যাবো, তখনও কি আমাদের পুনরুত্থিত করা হবে?
আর উহারা বলিত, ‘মরিয়া অস্থি ও মৃত্তিকায় পরিণত হইলেও কি উত্থিত হইব আমরা?
‘আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষরাও?’
অথবা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও?
‘এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণও?’
বল, ‘নিশ্চয় পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
বলো, “নিশ্চয়ই পূর্ববর্তীরা ও পরবর্তীরা,
বল, ‘অবশ্যই পূর্ববর্তিগণ ও পরবর্তিগণ -
এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে অবশ্যই একত্র হবে’।
এক নির্ধারিত দিনের নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই সমবেত হবে।”
সকলকে একত্র করা হইবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।
তারপর হে পথভ্রষ্ট ও অস্বীকারকারীরা,
অতঃপর হে পথভ্রষ্ট, মিথ্যা প্রতিপন্ন কারীরা,
অতঃপর হে বিভ্রান্ত অস্বীকারকারীরা!
তোমরা অবশ্যই যাক্কূম গাছ থেকে খাবে,
তোমরা অবশ্যই যাক্কুম গাছ থেকে খাবে,
তোমরা অবশ্যই আহার করিবে যাক্কূম বৃক্ষ হইতে,
অতঃপর তা দিয়ে পেট ভর্তি করবে।
তারপর তা দিয়ে তোমরা পেট ভরবে,
এবং উহা দ্বারা তোমরা উদর পূর্ণ করিবে,
তদুপরি পান করবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি।
তারপর তার উপর ফুটন্ত পানি পান করবে,
পরে তোমরা পান করিবে উহার উপর অত্যুষ্ণ পানি -
অতঃপর তোমরা তা পান করবে তৃষ্ণাতুর উটের ন্যায়।
এবং তৃষ্ণার্ত উটের মতো পান করবে।
আর পান করিবে তৃষ্ণার্ত উষ্ট্রের ন্যায়।
প্রতিফল দিবসে এই হবে তাদের মেহমানদারী,
এটাই প্রতিদান দিবসে তাদের আপ্যায়ন।
কিয়ামতের দিন ইহাই হইবে উহাদের আপ্যায়ন।
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি: তাহলে কেন তোমরা তা বিশ্বাস করছ না?
আমরাই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তবে তোমরা কেন সত্য মেনে নাও না?
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছি, তবে কেন তোমরা বিশ্বাস করিতেছ না?
তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীর্যপাত করছ সে সম্পর্কে?
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা বীর্যপাত করো?
তোমরা কি ভাবিয়া দেখিয়াছ তোমাদের বীর্যপাত সম্বন্ধে?
তা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?
তোমরা কি তা সৃষ্টি করো, নাকি আমরাই সৃষ্টিকর্তা?
উহা কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারণ করেছি এবং আমাকে অক্ষম করা যাবে না,
আমরা তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে নির্ধারণ করেছি এবং আমরা অক্ষম নই
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যু নির্ধারিত করিয়াছি এবং আমি অক্ষম নই -
তোমাদের স্থানে তোমাদের বিকল্প আনয়ন করতে এবং তোমাদেরকে এমনভাবে সৃষ্টি করতে যা তোমরা জান না।
যে আমরা তোমাদের পরিবর্তে তোমাদের মতো অন্যদের নিয়ে আসি এবং তোমাদেরকে এমন জগতে পুনরায় সৃষ্টি করি যা তোমরা জানো না।
তোমাদের স্থলে তোমাদের সদৃশ আনয়ন করিতে এবং তোমাদেরকে এমন এক আকৃতিতে সৃষ্টি করিতে যাহা তোমরা জান না।
আর তোমরা তো প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছ, তবে কেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ করছ না?
আর অবশ্যই তোমরা প্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জেনেছো; তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ করো না?
তোমরা তো অবগত হইয়াছ প্রথম সৃষ্টি সম্বন্ধে, তবে তোমরা অনুধাবন কর না কেন?
তোমরা আমাকে বল, তোমরা যমীনে যা বপন কর সে ব্যাপারে,
তোমরা কি ভেবেছো, যা তোমরা চাষ করো?
তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা করিয়াছ কি?
তোমরা তা অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
তোমরা কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্ন করি?
তোমরা কি উহাকে অঙ্কুরিত কর, না আমি অঙ্কুরিত করি?
আমি চাইলে তা খড়-কুটায় পরিণত করতে পারি, তখন তোমরা পরিতাপ করতে থাকবে-
আমরা চাইলে অবশ্যই তা খড়কুটো করে দিতে পারি, তখন তোমরা বিস্মিত হয়ে বলবে,
আমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে খড় - কুটায় পরিণত করিতে পারি, তখন হতবুদ্ধি হইয়া পড়িবে তোমরা;
(এই বলে,) ‘নিশ্চয় আমরা দায়গ্রস্ত হয়ে গেলাম’।
“নিশ্চয়ই আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি;
‘আমরা তো দায়গ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছি’,
‘বরং আমরা মাহরূম হয়েছি’।
বরং আমরা বঞ্চিত হয়েছি।”
বরং ‘আমরা হৃতসর্বস্ব হইয়া পড়িয়াছি।’
তোমরা যে পানি পান কর সে ব্যাপারে আমাকে বল।
তোমরা কি ভেবেছো, যে পানি তোমরা পান করো?
তোমরা যে পানি পান কর তাহা সম্পর্কে কি তোমরা চিন্তা করিয়াছ?
বৃষ্টিভরা মেঘ থেকে তোমরা কি তা বর্ষণ কর, না আমি বৃষ্টি বর্ষণকারী?
তোমরা কি তা মেঘ থেকে নামাও, নাকি আমরাই নামাই?
তোমরা কি উহা মেঘ হইতে নামাইয়া আন, না আমি উহা বর্ষণ করি?
ইচ্ছা করলে আমি তা লবণাক্ত করে দিতে পারি: তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
আমরা চাইলে তা লবনাক্ত করে দিতে পারি। অতএব কেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও না?
আমি ইচ্ছা করিলে উহা লবণাক্ত করিয়া দিতে পারি। তবুও কেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?
তোমরা যে আগুন জ্বালাও সে ব্যাপারে আমাকে বল,
তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যে আগুন তোমরা জ্বালাও?
তোমরা যে অগ্নি কর তাহা লক্ষ্য করিয়া দেখিয়াছ কি?
তোমরাই কি এর (লাকড়ির গাছ) উৎপাদন কর, না আমি করি?
তোমরা কি তার গাছ সৃষ্টি করেছো, নাকি আমরাই সৃষ্টি করেছি?
তোমরাই কি উহার বৃক্ষ সৃষ্টি কর, না আমি সৃষ্টি করি?
একে আমি করেছি এক স্মারক ও মরুবাসীর প্রয়োজনীয় বস্তু।
আমরা এটিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার বিষয় এবং পথিকদের জন্য উপকার করেছি।
আমি ইহাকে করিয়াছি নিদর্শন এবং মরুচারীদের প্রয়োজনীয় বস্তু।
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
সুতরাং তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।
সুতরাং আমি কসম করছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
অতএব না, আমি নক্ষত্রসমূহের অবস্থানগুলোর শপথ করছি,
আমি শপথ করিতেছি নক্ষত্ররাজির অস্তাচলের,
আর নিশ্চয় এটি এক মহাকসম, যদি তোমরা জানতে,
আর নিশ্চয়ই এটি এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানতে।
অবশ্যই ইহা এক মহাশপথ, যদি তোমরা জানিতে -
নিশ্চয় এটি মহিমান্বিত কুরআন,
নিশ্চয়ই এটি সম্মানিত কুরআন,
নিশ্চয়ই ইহা সম্মানিত কুরআন,
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে,
যা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
যাহা আছে সুরক্ষিত কিতাবে।
কেউ তা স্পর্শ করবে না পবিত্রগণ ছাড়া।
পবিত্রকৃতরা ছাড়া কেউ তা স্পর্শ করে না।
যাহারা পূত - পবিত্র তাহারা ব্যতীত অন্য কেহ তাহা স্পর্শ করে না।
তা সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে নাযিলকৃত।
এটি সৃষ্টিজগতের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
ইহা জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হইতে অবতীর্ণ।
তবে কি তোমরা এই বাণী তুচ্ছ গণ্য করছ?
তাহলে কি তোমরা এই বাণীকে হালকা করে দেখছো?
তবুও কি তোমরা এই বাণীকে তুচ্ছ গণ্য করিবে?
আর তোমরা তোমাদের রিয্ক বানিয়ে নিয়েছ যে, তোমরা মিথ্যা আরোপ করবে।
আর তোমরা যে তোমাদের জীবিকাকে অস্বীকার করছো?
এবং তোমরা মিথ্যারোপকেই তোমাদের উপজীব্য করিয়া লইয়াছ !
সুতরাং কেন নয়- যখন রূহ কণ্ঠদেশে পৌঁছে যায়?
অতএব যখন প্রাণ কণ্ঠনালিতে পৌঁছে যায়,
পরন্তু কেন নয় - প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়
আর তখন তোমরা কেবল চেয়ে থাক।
আর তোমরা তখন তাকিয়ে থাকো,
এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক,
আর তোমাদের চাইতে আমি তার খুব কাছে; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
আর আমরা তার চেয়ে তোমাদের নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।
আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।
তোমাদের যদি প্রতিফল দেয়া না হয়, তাহলে তোমরা কেন
অতএব যদি তোমরা কারও অধীন না হও,
তোমরা যদি কর্তৃত্বাধীন না হও!
ফিরিয়ে আনছ না রূহকে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?
তবে সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
তবে তোমরা উহা ফিরাও না কেন? যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
অতঃপর সে যদি নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্যতম হয়,
অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়,
তবে তার জন্য থাকবে বিশ্রাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখময় জান্নাত।
তবে আরাম আর সুগন্ধি উদ্ভিদ আর সুখের বেহেস্ত।
তবে তাহার জন্য রহিয়াছে আরাম, উত্তম জীবনোপকরণ ও সুখদ উদ্যান;
আর সে যদি হয় ডানদিকের একজন,
আর যদি সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
আর যদি সে ডানদিকের একজন হয়,
তবে (তাকে বলা হবে), ‘তোমাকে সালাম, যেহেতু তুমি ডানদিকের একজন’।
তবে তোমার জন্য শান্তি, কারণ সে ডানদিকের লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
তবে তাহাকে বলা হইবে, ‘হে দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী! তোমার প্রতি শান্তি।’
আর সে যদি হয় অস্বীকারকারী ও পথভ্রষ্ট,
আর যদি সে মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়,
কিন্তু সে যদি সত্য অস্বীকারকারী ও বিভ্রান্তদের অন্যতম হয়,
তবে তার মেহমানদারী হবে প্রচন্ড উত্তপ্ত পানি দিয়ে,
তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে,
তবে রহিয়াছে আপ্যায়ন অত্যুষ্ণ পানির দ্বারা,
আর জ্বলন্ত আগুনে প্রজ্জ্বলনে।
এবং জাহিমে পোড়ানো।
এবং দহন জাহান্নামের;
নিশ্চয় এটি অবধারিত সত্য।
নিশ্চয়ই এটিই নিশ্চিত সত্য।
ইহা তো ধ্রুব সত্য।
অতএব তোমার মহান রবের নামে তাসবীহ পাঠ কর।
অতএব তোমার মহান প্রতিপালকের নামে পবিত্রতা ঘোষণা করো।
অতএব তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নামের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।