তোয়া সিন মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
Chapter 26, 227 verses
তোয়া সিন মিম।
بسم الله الرحمن الرحيم طسم
ত্বা, সীন, মীম।
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
تلك آيات الكتاب المبين
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
তারা হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো মনের দুঃখে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।
لعلك باخع نفسك ألا يكونوا مؤمنين
তারা বিশ্বাস করে না বলে আপনি হয়তো মর্মব্যথায় আত্নঘাতী হবেন।
আমরা চাইলে আসমান থেকে তাদের জন্যে একটি নিদর্শন নাযিল করতাম, তখন সেটার প্রতি তাদের গর্দান নুইয়ে পড়তো।
إن نشأ ننزل عليهم من السماء آية فظلت أعناقهم لها خاضعين
আমি যদি ইচ্ছা করি, তবে আকাশ থেকে তাদের কাছে কোন নিদর্শন নাযিল করতে পারি। অতঃপর তারা এর সামনে নত হয়ে যাবে।
যখনই তাদের কাছে রহমানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো যিকির (উপদেশ বার্তা) আসে, তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
وما يأتيهم من ذكر من الرحمن محدث إلا كانوا عنه معرضين
যখনই তাদের কাছে রহমান এর কোন নতুন উপদেশ আসে, তখনই তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
তারা তো অস্বীকার করেছে। সুতরাং তারা যা নিয়ে বিদ্রূপ করছে তার প্রকৃত খবর তাদের কাছে অচিরেই এসে পড়বে।
فقد كذبوا فسيأتيهم أنباء ما كانوا به يستهزئون
অতএব তারা তো মিথ্যারোপ করেছেই; সুতরাং যে বিষয় নিয়ে তারা ঠাট্টা - বিদ্রুপ করত, তার যথার্থ স্বরূপ শীঘ্রই তাদের কাছে পৌছবে।
তারা কি জমিনের দিকে তাকিয়ে দেখেনা? আমরা তাতে সব ধরনের কতো যে উত্তম উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি!
أولم يروا إلى الأرض كم أنبتنا فيها من كل زوج كريم
তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ - বস্তু কত উদগত করেছি।
অবশ্যি এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু মহাপরাক্রমশালী, পরম দরয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা তো পরাক্রমশালী পরম দয়ালু।
স্মরণ করো, তোমার প্রভু মূসাকে ডেকে বলেছিলেন, তুমি যালিম কওমের কাছে যাও,
وإذ نادى ربك موسى أن ائت القوم الظالمين
যখন আপনার পালনকর্তা মূসাকে ডেকে বললেনঃ তুমি পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের নিকট যাও;
ফেরাউনের কওমের কাছে। তাদের বলো: ‘তারা কি সতর্ক হবেনা?’
قوم فرعون ۚ ألا يتقون
ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?
তখন মূসা বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার আশংকা হয়, তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।
قال رب إني أخاف أن يكذبون
সে বলল, হে আমার পালনকর্তা, আমার আশংকা হচ্ছে যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে দেবে।
আমার মন ছোট হয়ে আসছে আর আমার যবানও সঞ্চালিত হচ্ছে না, সুতরাং তুমি হারূণকে রিসালাত দান করো।
ويضيق صدري ولا ينطلق لساني فأرسل إلى هارون
এবং আমার মন হতবল হয়ে পড়ে এবং আমার জিহবা অচল হয়ে যায়। সুতরাং হারুনের কাছে বার্তা প্রেরণ করুন।
আমার বিরুদ্ধে তাদের একটা অভিযোগও আছে, তাই আমি আশংকা করছি তারা আমাকে হত্যা করবে।’’
ولهم علي ذنب فأخاف أن يقتلون
আমার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ আছে। অতএব আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
বললেন: ‘কখনো নয়। সুতরাং তোমরা দু’জনই যাও আমাদের নিদর্শনসমূহ নিয়ে, আমরাও তোমাদের সাথে থাকবো, সব শুনবো।’
قال كلا ۖ فاذهبا بآياتنا ۖ إنا معكم مستمعون
বলেন, কখনই নয় তোমরা উভয়ে যাও আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে। আমি তোমাদের সাথে থেকে শোনব।
তোমরা ফেরাউনের কাছে যাও, তাকে বলো: ‘‘আমরা রাব্বুল আলামিনের রসূল।
فأتيا فرعون فقولا إنا رسول رب العالمين
অতএব তোমরা ফেরআউনের কাছে যাও এবং বল, আমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তার রসূল।
তুমি বনি ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।’’
أن أرسل معنا بني إسرائيل
যাতে তুমি বনী - ইসরাঈলকে আমাদের সাথে যেতে দাও।
ফেরাউন বললো: ‘‘আমরা কি শৈশবে তোমাকে আমাদের মধ্যে লালন পালন করিনি? তুমি তো তোমার জীবনের অনেক বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
قال ألم نربك فينا وليدا ولبثت فينا من عمرك سنين
ফেরাউন বলল, আমরা কি তোমাকে শিশু অবস্থায় আমাদের মধ্যে লালন - পালন করিনি? এবং তুমি আমাদের মধ্যে জীবনের বহু বছর কাটিয়েছ।
আর তুমি তোমার একটা কর্ম করেছিলে। তুমি এক অকৃতজ্ঞ।’’
وفعلت فعلتك التي فعلت وأنت من الكافرين
তুমি সেই - তোমরা অপরাধ যা করবার করেছ। তুমি হলে কৃতঘ্ন।
মূসা বললো: ‘‘আমি তো সে কাজটি করেছিলাম তখন, যখন আমি ছিলাম জ্ঞানহীন।
قال فعلتها إذا وأنا من الضالين
মূসা বলল, আমি সে অপরাধ তখন করেছি, যখন আমি ভ্রান্ত ছিলাম।
তখন তো আমি তোমাদের ভয়ে পালিয়ে চলে গিয়েছিলাম। তারপর আমার প্রভু আমাকে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন এবং আমাকে রসূলদের একজন মনোনীত করেন।
ففررت منكم لما خفتكم فوهب لي ربي حكما وجعلني من المرسلين
অতঃপর আমি ভীত হয়ে তোমাদের কাছ থেকে পলায়ন করলাম। এরপর আমার পালনকর্তা আমাকে প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং আমাকে পয়গম্বর করেছেন।
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তার কারণ তো হলো, তুমি বনি ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করে রেখেছো।’’
وتلك نعمة تمنها علي أن عبدت بني إسرائيل
আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা বলছ, তা এই যে, তুমি বনী - ইসলাঈলকে গোলাম বানিয়ে রেখেছ।
ফেরাউন বললো: ‘রাব্বুল আলামিন কে?’
قال فرعون وما رب العالمين
ফেরাউন বলল, বিশ্বজগতের পালনকর্তা আবার কি?
মূসা বললো: ‘তিনি হলেন মালিক মহাকাশ ও পৃথিবীর এবং এ দুয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে সবকিছুর যদি তোমরা একীন রাখো।’
قال رب السماوات والأرض وما بينهما ۖ إن كنتم موقنين
মূসা বলল, তিনি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা যদি তোমরা হও।
ফেরাউন তার পারিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললো: ‘(মূসা কী বলছে) তোমরা কি শুনছো না?’
قال لمن حوله ألا تستمعون
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, তোমরা কি শুনছ না?
মূসা বললো: ‘তিনি তোমাদেরও রব এবং তোমাদের পূর্ব পুরুষদেরও রব।’
قال ربكم ورب آبائكم الأولين
মূসা বলল, তিনি তোমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরও পালনকর্তা।
ফেরাউন বললো: ‘তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের এই রসূল তো একজন পাগল।’
قال إن رسولكم الذي أرسل إليكم لمجنون
ফেরাউন বলল, তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রসূলটি নিশ্চয়ই বদ্ধ পাগল।
মূসা বললো: ‘তিনি মাশরিক, মাগরিব এবং এই উভয়ের মাঝখানে যা কিছু আছে, সবকিছুর রব যদি তোমরা আকল রাখো।’
قال رب المشرق والمغرب وما بينهما ۖ إن كنتم تعقلون
মূসা বলল, তিনি পূর্ব, পশ্চিম ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সব কিছুর পালনকর্তা, যদি তোমরা বোঝ।
ফেরাউন বললো: ‘তুমি যদি আমাকে ছাড়া আর কাউকেও হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে অবশ্যি আমি তোমাকে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’
قال لئن اتخذت إلها غيري لأجعلنك من المسجونين
ফেরাউন বলল, তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর তবে আমি অবশ্যই তোমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করব।
মূসা বললো: ‘আমি যদি তোমার কাছে সুস্পষ্ট নির্দশন হাজির করি, তবু?’
قال أولو جئتك بشيء مبين
মূসা বলল, আমি তোমার কাছে কোন স্পষ্ট বিষয় নিয়ে আগমন করলেও কি?
ফেরাউন বললো: ‘তবে হাজির করো যদি সত্যবাদী হও।’
قال فأت به إن كنت من الصادقين
ফেরাউন বলল, তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।
তখন মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো আর সাথে সাথে তা সুস্পষ্ট অজগরে পরিণত হয়ে গেলো।
فألقى عصاه فإذا هي ثعبان مبين
অতঃপর তিনি লাঠি নিক্ষেপ করলে মুহূর্তের মধ্যে তা সুস্পষ্ট অজগর হয়ে গেল।
এরপর (মূসা তার বগলে হাত ঢুকিয়ে) হাত বের করে আনলো, সাথে সাথে তা দর্শকদের দৃষ্টিতে ধবধবে সাদা দেখাতে লাগলো।
ونزع يده فإذا هي بيضاء للناظرين
আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের কাছে সুশুভ্র প্রতিভাত হলো।
ফেরাউন তাকে পরিবেষ্টন করে থাকা তার পারিষদবর্গকে বললো: ‘এ - তো এক পন্ডিত ম্যাজেসিয়ান।
قال للملإ حوله إن هذا لساحر عليم
ফেরাউন তার পরিষদবর্গকে বলল, নিশ্চয় এ একজন সুদক্ষ জাদুকর।
সে তার ম্যাজিকের সাহায্যে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এখন তোমরা তার ব্যাপারে কী করতে বলো?’
يريد أن يخرجكم من أرضكم بسحره فماذا تأمرون
সে তার জাদু বলে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করতে চায়। অতএব তোমাদের মত কি?
তারা বললো: ‘তাকে আর তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং বিভিন্ন শহরে সংগ্রহকারীদের পাঠান।
قالوا أرجه وأخاه وابعث في المدائن حاشرين
তারা বলল, তাকে ও তার ভাইকে কিছু অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে ঘোষক প্রেরণ করুন।
তারা আপনার জন্যে দক্ষ ম্যাজেসিয়ানদের হাজির করবে।’
يأتوك بكل سحار عليم
তারা যেন আপনার কাছে প্রত্যেকটি দক্ষ জাদুকর কে উপস্থিত করে।
তারপর নির্দিষ্ট দিনে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ম্যাজেসিয়ানদের জমা করা হলো,
فجمع السحرة لميقات يوم معلوم
অতঃপর এক নির্দিষ্ট দিনে জাদুকরদেরকে একত্রিত করা হল।
জনগণকে বলা হলো: ‘তোমরাও কি জমায়েত হচ্ছো?’
وقيل للناس هل أنتم مجتمعون
এবং জনগণের মধ্যে ঘোষণা করা হল, তোমরাও সমবেত হও।
‘হয়তো আমরা ম্যাজেসিয়ানদের অনুসরণ করতে পারি যদি তারা বিজয়ী হয়।’
لعلنا نتبع السحرة إن كانوا هم الغالبين
যাতে আমরা জাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি - যদি তারাই বিজয়ী হয়।
ম্যাজেসিয়ানরা হাজির হলে তারা ফেরাউনকে বললো: ‘আমরা জয়ী হলে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?’
فلما جاء السحرة قالوا لفرعون أئن لنا لأجرا إن كنا نحن الغالبين
যখন যাদুকররা আগমণ করল, তখন ফেরআউনকে বলল, যদি আমরা বিজয়ী হই, তবে আমরা পুরস্কার পাব তো?
ফেরাউন বললো: ‘হ্যাঁ, তাছাড়া তোমরা আমার সভাসদদের অন্তরভুক্ত হবে।’
قال نعم وإنكم إذا لمن المقربين
ফেরাউন বলল, হঁ্যা এবং তখন তোমরা আমার নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
মূসা তাদের বললো: ‘তোমরা যা নিক্ষেপ করার নিক্ষেপ করো।’
قال لهم موسى ألقوا ما أنتم ملقون
মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেন, নিক্ষেপ কর তোমরা যা নিক্ষেপ করবে।
তারা তাদের সব রশি এবং লাঠি নিক্ষেপ করলো। তারা বললো: ‘ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই জয়ী হবো।’
فألقوا حبالهم وعصيهم وقالوا بعزة فرعون إنا لنحن الغالبون
অতঃপর তারা তাদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করল এবং বলল, ফেরাউনের ইযযতের কসম, আমরাই বিজয়ী হব।
অত:পর মূসা তার লাঠি নিক্ষেপ করলো। সাথে সাথে সেটি কৃত্রিম সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে থাকলো।
فألقى موسى عصاه فإذا هي تلقف ما يأفكون
অতঃপর মূসা তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করল, হঠাৎ তা তাদের অলীক কীর্তিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল।
তখন ম্যাজেসিয়ানরা সাজদায় আনত হয়ে পড়লো।
فألقي السحرة ساجدين
তখন জাদুকররা সেজদায় নত হয়ে গেল।
তারা বললো: ‘আমরা ঈমান আনলাম রাব্বুল আলামিনের প্রতি,
قالوا آمنا برب العالمين
তারা বলল, আমরা রাব্বুল আলামীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম।
যিনি হারূণ এবং মূসারও রব।’
رب موسى وهارون
যিনি মূসা ও হারুনের রব।
ফেরাউন বললো: ‘আমি তোমাদের অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনলে? নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রধান, সে - ই তোমাদের ম্যাজিক শিখিয়েছে, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে (এর পরিণতি)। আমি অবশ্যি বিপরীত দিক থেকে তোমাদের হাত পা কেটে দেবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করে ছাড়বো।’
قال آمنتم له قبل أن آذن لكم ۖ إنه لكبيركم الذي علمكم السحر فلسوف تعلمون ۚ لأقطعن أيديكم وأرجلكم من خلاف ولأصلبنكم أجمعين
ফেরাউন বলল, আমার অনুমতি দানের পূর্বেই তোমরা কি তাকে মেনে নিলে? নিশ্চয় সে তোমাদের প্রধান, যে তোমাদেরকে জাদু শিক্ষা দিয়েছে। শীঘ্রই তোমরা পরিণাম জানতে পারবে। আমি অবশ্যই তোমাদের হাত ও পা বিপরীত দিক থেকে কর্তন করব। এবং তোমাদের সবাইকে শূলে চড়াব।
তারা বললো: ‘‘ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবো।
قالوا لا ضير ۖ إنا إلى ربنا منقلبون
তারা বলল, কোন ক্ষতি নেই। আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তন করব।
আমরা আকাঙ্ক্ষা করি, আমাদের প্রভু আমাদের গুনাহ্ খাতা ক্ষমা করে দেবেন, কারণ আমরা সবার আগে হয়েছি।’’
إنا نطمع أن يغفر لنا ربنا خطايانا أن كنا أول المؤمنين
আমরা আশা করি, আমাদের পালনকর্তা আমাদের ক্রটি - বিচ্যুতি মার্জনা করবেন। কারণ, আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অগ্রণী।
আমরা মূসার প্রতি অহি করে নির্দেশ দিয়েছিলাম: আমার দাসদের নিয়ে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ো, তোমাদের কিন্তু পিছে থেকে ধাওয়া করা হবে।
۞ وأوحينا إلى موسى أن أسر بعبادي إنكم متبعون
আমি মূসাকে আদেশ করলাম যে, আমার বান্দাদেরকে নিয়ে রাত্রিযোগে বের হয়ে যাও, নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।
তারপর ফেরাউন শহরে শহরে লোক সংগ্রহকারী পাঠিয়ে দিলো,
فأرسل فرعون في المدائن حاشرين
অতঃপর ফেরাউন শহরে শহরে সংগ্রাহকদেরকে প্রেরণ করল,
এই বলে যে, এরা তো অল্প কিছু লোক,
إن هؤلاء لشرذمة قليلون
নিশ্চয় এরা (বনী - ইসরাঈলরা) ক্ষুদ্র একটি দল।
এবং তারা আমাদের ক্রোধ উদ্রেককারী।
وإنهم لنا لغائظون
এবং তারা আমাদের ক্রোধের উদ্রেক করেছে।
আর আমরা সবাই তো সদা সতর্ক।
وإنا لجميع حاذرون
এবং আমরা সবাই সদা শংকিত।
অত:পর আমরা তাদের (ফেরাউন এবং তার দলবলকে) বের করে এনেছি তাদের মনোরম উদ্যান আর ঝরণাধারাসমূহ থেকে,
فأخرجناهم من جنات وعيون
অতঃপর আমি ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ - বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম।
ধন - ভান্ডারসমূহ এবং বিলাসবহুল প্রাসাদসমূহ থেকে।
وكنوز ومقام كريم
এবং ধন - ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।
তাদের সাথে এমনটিই ঘটেছিল। অপরদিকে বনি ইসরাঈলকে আমরা সবকিছুর ওয়ারিশ বানিয়ে দিয়েছিলাম।
كذلك وأورثناها بني إسرائيل
এরূপই হয়েছিল এবং বনী - ইসলাঈলকে করে দিলাম এসবের মালিক।
তারা সূর্যোদয়ের সময় তাদের পেছনে এসে পড়েছিল।
فأتبعوهم مشرقين
অতঃপর সুর্যোদয়ের সময় তারা তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
তারপর দুইদল যখন একে অপরকে দেখলো, মূসার সাথিরা বলে উঠলো: ‘নিশ্চয়ই আমরা ধরা পড়ে যাচ্ছি।’
فلما تراءى الجمعان قال أصحاب موسى إنا لمدركون
যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সঙ্গীরা বলল, আমরা যে ধরা পড়ে গেলাম।
মূসা বললো: ‘না, কখনো নয়, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার প্রভু রয়েছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন।’
قال كلا ۖ إن معي ربي سيهدين
মূসা বলল, কখনই নয়, আমার সাথে আছেন আমার পালনকর্তা। তিনি আমাকে পথ বলে দেবেন।
তখন আমরা অহির মাধ্যমে মূসাকে নির্দেশ দিলাম: ‘তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত করো।’ সাথে সাথে তা বিভক্ত হয়ে গেলো এবং প্রত্যেক ভাগ বড় পর্বতের মতো হয়ে গেলো।
فأوحينا إلى موسى أن اضرب بعصاك البحر ۖ فانفلق فكان كل فرق كالطود العظيم
অতঃপর আমি মূসাকে আদেশ করলাম, তোমার লাঠি দ্বারা সমূদ্রকে আঘাত কর। ফলে, তা বিদীর্ণ হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পর্বতসদৃশ হয়ে গেল।
তারপর আমরা সেখানে এনে হাজির করলাম পরের দলটিকে।
وأزلفنا ثم الآخرين
আমি সেথায় অপর দলকে পৌঁছিয়ে দিলাম।
আমরা মূসা আর তার সাথিদের সবাইকে উদ্ধার করলাম,
وأنجينا موسى ومن معه أجمعين
এবং মূসা ও তাঁর সংগীদের সবাইকে বাঁচিয়ে দিলাম।
তারপর ডুবিয়ে মারলাম পরবর্তীদের।
ثم أغرقنا الآخرين
অতঃপর অপর দলটিকে নিমজ্জত কললাম।
নিশ্চয়ই এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, তবে তাদের অধিকাংশই নয়।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে একটি নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই ছিল না।
আর তোমার প্রভু অবশ্যি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা অবশ্যই পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
তাদের প্রতি ইবরাহিমের সংবাদ তিলাওয়াত করো।
واتل عليهم نبأ إبراهيم
আর তাদেরকে ইব্রাহীমের বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন।
যখন সে তার বাপ ও কওমকে বলেছিল: ‘তোমরা কোন্ জিনিসের ইবাদত করছো?’
إذ قال لأبيه وقومه ما تعبدون
যখন তাঁর পিতাকে এবং তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের এবাদত কর?
তারা বলেছিল: ‘আমরা ভাস্কর্যদের (মূর্তি দেবতাদের) পূজা করি এবং আমরা নিষ্ঠার সাথে তাদের প্রতি নত হই।’
قالوا نعبد أصناما فنظل لها عاكفين
তারা বলল, আমরা প্রতিমার পূজা করি এবং সারাদিন এদেরকেই নিষ্ঠার সাথে আঁকড়ে থাকি।
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা দোয়া করলে তারা কি তোমাদের দোয়া শুনে?
قال هل يسمعونكم إذ تدعون
ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, তোমরা যখন আহবান কর, তখন তারা শোনে কি?
তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?’’
أو ينفعونكم أو يضرون
অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে?
তারা বললো: ‘না, তবে আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এভাবে করতে দেখেছি।’
قالوا بل وجدنا آباءنا كذلك يفعلون
তারা বললঃ না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে পেয়েছি, তারা এরূপই করত।
ইবরাহিম বললো: ‘‘তোমরা কিসের পূজা উপাসনা করছো তা কি ভেবে দেখছোনা?
قال أفرأيتم ما كنتم تعبدون
ইব্রাহীম বললেন, তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ।
তোমরা এবং তোমাদের অতীত বাপ দাদারা?
أنتم وآباؤكم الأقدمون
তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা ?
তারা সবাই আমার দুশমন, রাব্বুল আলামিন ছাড়া।
فإنهم عدو لي إلا رب العالمين
বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।
কারণ, তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
الذي خلقني فهو يهدين
যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই আমাকে পথপ্রদর্শন করেন,
তিনি আমাকে খাওয়ান, পান করান।
والذي هو يطعمني ويسقين
যিনি আমাকে আহার এবং পানীয় দান করেন,
আমি রোগগ্রস্ত হলে তিনিই আমাকে নিরাময় করে দেন।
وإذا مرضت فهو يشفين
যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন।
তিনিই আমার মউত ঘটাবেন এবং পুনরায় হায়াত দেবেন।
والذي يميتني ثم يحيين
যিনি আমার মৃত্যু ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন।
তাঁর ব্যাপারে আমি আশা করি, তিনি আমাকে আমার গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন প্রতিদান দিবসে।
والذي أطمع أن يغفر لي خطيئتي يوم الدين
আমি আশা করি তিনিই বিচারের দিনে আমার ক্রটি - বিচ্যুতি মাফ করবেন।
আমার প্রভু! আমাকে প্রজ্ঞা দান করো এবং মিলিত করো সালেহ্ লোকদের সাথে।
رب هب لي حكما وألحقني بالصالحين
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত কর
পরবর্তী লোকদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি দান করো।
واجعل لي لسان صدق في الآخرين
এবং আমাকে পরবর্তীদের মধ্যে সত্যভাষী কর।
আমাকে জান্নাতুন নায়ীমের ওয়ারিশদের অন্তরভুক্ত করো।
واجعلني من ورثة جنة النعيم
এবং আমাকে নেয়ামত উদ্যানের অধিকারীদের অন্তর্ভূক্ত কর।
আমার বাবাকে ক্ষমা করে দাও, কারণ তিনি গোমরাহদেরই একজন।
واغفر لأبي إنه كان من الضالين
এবং আমার পিতাকে ক্ষমা কর। সে তো পথভ্রষ্টদের অন্যতম।
পুনরুত্থান দিবসে তুমি আমাকে অপমাণিত করোনা,
ولا تخزني يوم يبعثون
এবং পূনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করো না,
যেদিন মাল সম্পদ এবং সন্তান - সন্ততি কোনো উপকারে আসবেনা,
يوم لا ينفع مال ولا بنون
যে দিবসে ধন - সম্পদ ও সন্তান সন্ততি কোন উপকারে আসবে না;
তবে উপকার লাভ করবে সে, যে হাজির হবে শুদ্ধ শান্ত কলব নিয়ে।’’
إلا من أتى الله بقلب سليم
কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে।
সেদিন মুত্তাকিদের কাছেই নিয়ে আসা হবে জান্নাত।
وأزلفت الجنة للمتقين
জান্নাত আল্লাহভীরুদের নিকটবর্তী করা হবে।
আর বিভ্রান্তদের জন্যে খুলে দেয়া হবে জাহান্নাম।
وبرزت الجحيم للغاوين
এবং বিপথগামীদের সামনে উম্মোচিত করা হবে জাহান্নাম।
তাদের বলা হবে: ‘‘তারা এখন কোথায়, তোমরা যাদের ইবাদত (উপাসনা) করতে
وقيل لهم أين ما كنتم تعبدون
তাদেরকে বলা হবেঃ তারা কোথায়, তোমরা যাদের পূজা করতে।
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি এখন তোমাদের সাহায্য করতে পারবে, নাকি তারা আত্মরক্ষা করতে পারবে?’’
من دون الله هل ينصرونكم أو ينتصرون
আল্লাহর পরিবর্তে? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে পারে, অথবা তারা প্রতিশোধ নিতে পারে?
তারপর তাদের এবং বিপথগামীদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে মাথা নীচের দিকে দিয়ে।
فكبكبوا فيها هم والغاوون
অতঃপর তাদেরকে এবং পথভ্রষ্টদেরকে আধোমুখি করে নিক্ষেপ করা হবে জাহান্নামে।
এবং ইবলিস বাহিনীর সবাইকেও।
وجنود إبليس أجمعون
এবং ইবলীস বাহিনীর সকলকে।
তারা সেখানে তর্কাতর্কি করে বলবে:
قالوا وهم فيها يختصمون
তারা তথায় কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়ে বলবেঃ
আল্লাহর কসম, আমরা স্পষ্ট গোমরাহিতে লিপ্ত ছিলাম।
تالله إن كنا لفي ضلال مبين
আল্লাহর কসম, আমরা প্রকাশ্য বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিলাম।
যখন আমরা তোমাদেরকে রাব্বুল আলামিনের বরাবর মনে করতাম।
إذ نسويكم برب العالمين
যখন আমরা তোমাদেরকে বিশ্ব - পালনকর্তার সমতুল্য গন্য করতাম।
অপরাধীরাই আমাদের বিপথগামী করেছিল।
وما أضلنا إلا المجرمون
আমাদেরকে দুষ্টকর্মীরাই গোমরাহ করেছিল।
ফলে আজ আমাদের কোনো শাফায়াতকারী নেই,
فما لنا من شافعين
অতএব আমাদের কোন সুপারিশকারী নেই।
এবং কোনো প্রাণের বন্ধুও নেই।
ولا صديق حميم
এবং কোন সহৃদয় বন্ধু ও নেই।
আমরা যদি একবার সুযোগ পেতাম ফিরে যাবার, তাহলে অবশ্যি হয়ে যেতাম।
فلو أن لنا كرة فنكون من المؤمنين
হায়, যদি কোনরুপে আমরা পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতাম, তবে আমরা বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়ে যেতাম।
এর মধ্যে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়, এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নূহের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت قوم نوح المرسلين
নূহের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যারোপ করেছে।
স্মরণ করো, তাদের ভাই নূহ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لهم أخوهم نوح ألا تتقون
যখন তাদের ভ্রাতা নূহ তাদেরকে বললেন, তোমাদের কি ভয় নেই?
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের জন্য বিশ্বস্ত বার্তাবাহক।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
তোমাদের (সতর্ক করার) একাজ করার জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।’’
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো? তোমাকে অনুসরণ করে তো নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা।’
۞ قالوا أنؤمن لك واتبعك الأرذلون
তারা বলল, আমরা কি তোমাকে মেনে নেব যখন তোমার অনুসরণ করছে ইতরজনেরা?
নূহ বলেছিল: ‘‘তারা (আগে) কী করতো তা আমি জানিনা।
قال وما علمي بما كانوا يعملون
নূহ বললেন, তারা কি কাজ করছে, তা আমার কি দরকার?
তাদের হিসাব নেয়ার দায়িত্ব তো আল্লাহর, যদি তোমরা বুঝতে!
إن حسابهم إلا على ربي ۖ لو تشعرون
তাদের হিসাব নেয়া আমার পালনকর্তারই কাজ; যদি তোমরা বুঝতে!
মুমিনদের আমার কাছ থেকে তাড়িয়ে দেয়া আমার কাজ নয়।
وما أنا بطارد المؤمنين
আমি মুমিনগণকে তাড়িয়ে দেয়ার লোক নই।
আমি তো একজন স্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া আর কিছু নই।’’
إن أنا إلا نذير مبين
আমি তো শুধু একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
তখন তারা বলেছিল: ‘হে নূহ! তুমি যদি এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে যাদের মারা হয়েছে তুমিও তাদের অন্তরভুক্ত হবে।’
قالوا لئن لم تنته يا نوح لتكونن من المرجومين
তারা বলল, হে নূহ যদি তুমি বিরত না হও, তবে তুমি নিশ্চিতই প্রস্তরাঘাতে নিহত হবে।
নূহ ফরিয়াদ করে বললো: ‘‘আমার প্রভু! আমার কওম আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
قال رب إن قومي كذبون
নূহ বললেন, হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায় তো আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।
সুতরাং তুমি আমার ও তাদের মাঝে একটা চূড়ান্ত ফায়সালা করে দাও আর নাজাত দাও আমাকে এবং আমার সাথি মুমিনদের।’’
فافتح بيني وبينهم فتحا ونجني ومن معي من المؤمنين
অতএব, আমার ও তাদের মধ্যে কোন ফয়সালা করে দিন এবং আমাকে ও আমার সংগী মুমিনগণকে রক্ষা করুন।
তখন আমি তাকে এবং তার সাথিদেরকে নৌযানে বোঝাই করে রক্ষা করেছি,
فأنجيناه ومن معه في الفلك المشحون
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর সঙ্গিগণকে বোঝাই করা নৌকায় রক্ষা করলাম।
আর বাকি সবাইকে ডুবিয়ে দিয়েছি পানিতে।
ثم أغرقنا بعد الباقين
এরপর অবশিষ্ট সবাইকে নিমজ্জত করলাম।
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে এবং তাদের অধিকাংশই নয়।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, পরম দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আদ জাতিও প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের।
كذبت عاد المرسلين
আদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
স্মরণ করো, তাদের ভাই হুদ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لهم أخوهم هود ألا تتقون
তখন তাদের ভাই হুদ তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের কি ভয় নেই?
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত রসূল।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
আমি তো তোমাদের (সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, আমাকে প্রতিদান দেয়ার দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্যে প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো পালনকর্তা দেবেন।
তোমরা কেন প্রতিটি উঁচু স্থানে অনর্থক স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করছো?
أتبنون بكل ريع آية تعبثون
তোমরা কি প্রতিটি উচ্চস্থানে অযথা নিদর্শন নির্মান করছ?
তোমরা এমন সব শৈল্পিক প্রাসাদ নির্মাণ করছো যেনো তোমরা এখানে চিরস্থায়ী হবে!
وتتخذون مصانع لعلكم تخلدون
এবং বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করছ, যেন তোমরা চিরকাল থাকবে?
যখন তোমরা ক্ষমতা পাও, তখন স্বৈরাচারি ক্ষমতা প্রয়োগ করো।
وإذا بطشتم بطشتم جبارين
যখন তোমরা আঘাত হান, তখন জালেম ও নিষ্ঠুরের মত আঘাত হান।
সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
ভয় করো তাঁকে যিনি তোমাদের সব (উত্তম সামগ্রী) দিয়ে সাহায্য করেছেন যা তোমরা জানো।
واتقوا الذي أمدكم بما تعلمون
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে সেসব বস্তু দিয়েছেন, যা তোমরা জান।
তিনি তোমাদের সাহায্য করেছেন পশু সম্পদ এবং সন্তান সন্ততি দিয়ে,
أمدكم بأنعام وبنين
তোমাদেরকে দিয়েছেন চতুষ্পদ জন্তু ও পুত্র - সন্তান,
বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারা দিয়ে।
وجنات وعيون
এবং উদ্যান ও ঝরণা।
আমি আশংকা করছি তোমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় কোনো আযাব এসে পড়ার।’’
إني أخاف عليكم عذاب يوم عظيم
আমি তোমাদের জন্যে মহাদিবসের শাস্তি আশংকা করি।
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি আমাদের ওয়ায করো কিংবা না করো দুটোই সমান।
قالوا سواء علينا أوعظت أم لم تكن من الواعظين
তারা বলল, তুমি উপদেশ দাও অথবা উপদেশ নাই দাও, উভয়ই আমাদের জন্যে সমান।
আগেকার লোকদের এটাই (ওয়ায করা বা উপদেশ দেয়াটাই) স্বভাব।
إن هذا إلا خلق الأولين
এসব কথাবার্তা পূর্ববর্তী লোকদের অভ্যাস বৈ নয়।
যাদের শাস্তি দেয়া হবে আমরা তাদের অন্তরভুক্ত নই।’’
وما نحن بمعذبين
আমরা শাস্তিপ্রাপ্ত হব না।
এভাবে তারা তাকে (হুদকে) প্রত্যাখ্যান করে, ফলে আমরাও তাদের হালাক (ধ্বংস) করে দেই। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
فكذبوه فأهلكناهم ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
অতএব, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল এবং আমি তাদেরকে নিপাত করে দিলাম। এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর অতীব দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
এবং আপনার পালনকর্তা, তিনি তো প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
সামুদ জাতিও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت ثمود المرسلين
সামুদ সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
স্মরণ করো, তাদের ভাই সালেহ্ তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لهم أخوهم صالح ألا تتقون
যখন তাদের ভাই সালেহ, তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ কাজের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
তোমরা এখানে যে হালে আছো, তোমাদের কি এ রকম নিরাপদ ছেড়ে দেয়া হবে?
أتتركون في ما هاهنا آمنين
তোমাদেরকে কি এ জগতের ভোগ - বিলাসের মধ্যে নিরাপদে রেখে দেয়া হবে?
এসব বাগ - বাগিচা এবং ঝরণাধারার মধ্যে?
في جنات وعيون
উদ্যানসমূহের মধ্যে এবং ঝরণাসমূহের মধ্যে ?
এসব (সবুজ) শস্যক্ষেত আর সুকোমল ছড়া বিশিষ্ট খেজুরের বাগানে?
وزروع ونخل طلعها هضيم
শস্যক্ষেত্রের মধ্যে এবং মঞ্জুরিত খেজুর বাগানের মধ্যে ?
তোমরা তো দক্ষতার সাথে পাহাড় কেটে আবাস নির্মাণ করছো।
وتنحتون من الجبال بيوتا فارهين
তোমরা পাহাড় কেটে জাঁক জমকের গৃহ নির্মাণ করছ।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুগত্য কর।
সীমা লঙ্ঘনকারীদের হুকুম মতো চলোনা,
ولا تطيعوا أمر المسرفين
এবং সীমালংঘনকারীদের আদেশ মান্য কর না;
যারা দেশে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে এবং কোনো প্রকার সংশোধনের কাজ করছেনা।’’
الذين يفسدون في الأرض ولا يصلحون
যারা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে এবং শান্তি স্থাপন করে না;
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্থুরেদ একজন।
তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে (তোমার রসূল হবার) কোনো প্রমাণ হাজির করো।’’
ما أنت إلا بشر مثلنا فأت بآية إن كنت من الصادقين
তুমি তো আমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নও। সুতরাং যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে কোন নিদর্শন উপস্থিত কর।
তখন সে বলেছিল: ‘‘(প্রমাণ হলো) এই উটনী। কুয়ার পানি পানে এর জন্যেও পালা থাকবে, তোমাদের জন্যেও পালা থাকবে নির্দিষ্ট দিনে।
قال هذه ناقة لها شرب ولكم شرب يوم معلوم
সালেহ বললেন এই উষ্ট্রী, এর জন্যে আছে পানি পানের পালা এবং তোমাদের জন্যে আছে পানি পানের পালা নির্দিষ্ট এক - এক দিনের।
এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তোমরা একে স্পর্শও করোনা, করলে তোমাদের পাকড়াও করবে এক মহাদিবসের আযাব।’’
ولا تمسوها بسوء فيأخذكم عذاب يوم عظيم
তোমরা একে কোন কষ্ট দিও না। তাহলে তোমাদেরকে মহাদিবসের আযাব পাকড়াও করবে।
কিন্তু তারা সেটিকে হত্যা করলো। পরিণামে তারা হলো লাঞ্ছিত।
فعقروها فأصبحوا نادمين
তারা তাকে বধ করল ফলে, তারা অনুতপ্ত হয়ে গেল।
আর তাদের গ্রাস করলো আযাব। নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
فأخذهم العذاب ۗ إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
এরপর আযাব তাদেরকে পাকড়াও করল। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
নিশ্চয়ই তোমার প্রভু, তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
লুতের কওমও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذبت قوم لوط المرسلين
লূতের সম্প্রদায় পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
স্মরণ করো, তাদের ভাই লুত তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لهم أخوهم لوط ألا تتقون
যখন তাদের ভাই লূত তাদেরকে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না ?
আমি তোমাদের প্রতি একজন বিশ্বস্ত রসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তা দেবেন।
জগতের মধ্যে তোমরাই পুরুষদের সাথে যৌনকর্ম করছো,
أتأتون الذكران من العالمين
সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?
আর তোমরা বর্জন করছো তোমাদের স্ত্রীদের, যাদেরকে তোমাদের প্রভু তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। তোমরা এক চরম সীমালঙ্ঘনকারী কওম।’’
وتذرون ما خلق لكم ربكم من أزواجكم ۚ بل أنتم قوم عادون
এবং তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যে স্ত্রীগনকে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে বর্জন কর? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
(জবাবে) তারা বলেছিল: ‘হে লুত! তুমি যদি তোমার এ কাজ থেকে বিরত না হও, তাহলে অবশ্যি তোমাকে (এ দেশ থেকে) বের করে দেয়া হবে।’
قالوا لئن لم تنته يا لوط لتكونن من المخرجين
তারা বলল, হে লূত, তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তোমাকে বহিস্কৃত করা হবে।
লুত বলেছিল: ‘‘আমি তোমাদের এ কাজকে অবশ্যি ঘৃণা করি।
قال إني لعملكم من القالين
লূত বললেন, আমি তোমাদের এই কাজকে ঘৃণা করি।
হে আমার প্রভু! আমাকে এবং আমার পরিবার পরিজনকে তাদের এ কর্মকান্ড থেকে রক্ষা করো।’’
رب نجني وأهلي مما يعملون
হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এবং আমার পরিবারবর্গকে তারা যা করে, তা থেকে রক্ষা কর।
ফলে, আমরা তাকে এবং তার পরিবারের সবাইকে নাজাত দিয়েছিলাম
فنجيناه وأهله أجمعين
অতঃপর আমি তাঁকে ও তাঁর পরিবারবর্গকে রক্ষা করলাম।
এক বৃদ্ধাকে ছাড়া, সে হয়েছিল অবস্থানকারীদের অন্তরভুক্ত।
إلا عجوزا في الغابرين
এক বৃদ্ধা ব্যতীত, সে ছিল ধ্বংস প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত।
তারপর বাকি সবাইকে আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
ثم دمرنا الآخرين
এরপর অন্যদেরকে নিপাত করলাম।
আমরা তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম এক চূড়ান্ত বর্ষণ! যাদের সতর্ক করা হয়েছিল তাদের জন্যে এ বর্ষণ ছিলো কতো যে নিকৃষ্ট!
وأمطرنا عليهم مطرا ۖ فساء مطر المنذرين
তাদের উপর এক বিশেষ বৃষ্টি বর্ষণ করলাম। ভীতি - প্রদর্শিত দের জন্যে এই বৃষ্টি ছিল কত নিকৃষ্ট।
এর মধ্যেও রয়েছে একটি নিদর্শন। আর তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয়ই এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই নয়।
তোমার প্রভু, নিশ্চিতই তিনি মহাপরাক্রমশীল, অতীব দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
আইকাবাসীরাও রসূলদের প্রত্যাখ্যান করেছিল।
كذب أصحاب الأيكة المرسلين
বনের অধিবাসীরা পয়গম্বরগণকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
স্মরণ করো, শুয়াইব তাদের বলেছিল: ‘‘তোমরা কি সতর্ক হবেনা?
إذ قال لهم شعيب ألا تتقون
যখন শো’আয়ব তাদের কে বললেন, তোমরা কি ভয় কর না?
আমি তোমাদের জন্যে একজন বিশ্বস্ত রসূল।
إني لكم رسول أمين
আমি তোমাদের বিশ্বস্ত পয়গম্বর।
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
فاتقوا الله وأطيعون
অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর।
(তোমাদের সতর্ক করার) এ দায়িত্ব পালনের জন্যে আমি তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা। আমার প্রতিদানের দায়িত্ব রাব্বুল আলামিনের উপর।
وما أسألكم عليه من أجر ۖ إن أجري إلا على رب العالمين
আমি তোমাদের কাছে এর জন্য কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব - পালনকর্তাই দেবেন।
মাপ পূর্ণ করে দেবে। যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তরভুক্ত হয়োনা।
۞ أوفوا الكيل ولا تكونوا من المخسرين
মাপ পূর্ণ কর এবং যারা পরিমাপে কম দেয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
ওজন দেবে সঠিক দাঁড়িপাল্লায়।
وزنوا بالقسطاس المستقيم
সোজা দাঁড়ি - পাল্লায় ওজন কর।
মানুষকে তাদের জিনিসপত্র কম দিওনা এবং দেশে ফাসাদ সৃষ্টিকারী হয়োনা।
ولا تبخسوا الناس أشياءهم ولا تعثوا في الأرض مفسدين
মানুষকে তাদের বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করে ফিরো না।
সেই মহান সত্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আগে যারা বিগত হয়েছে তাদেরও সৃষ্টি করেছেন।’’
واتقوا الذي خلقكم والجبلة الأولين
ভয় কর তাঁকে, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তী লোক - সম্প্রদায়কে সৃষ্টি করেছেন।
তখন তারা বলেছিল: ‘‘তুমি তো একজন জাদুগ্রস্ত।
قالوا إنما أنت من المسحرين
তারা বলল, তুমি তো জাদুগ্রস্তদের অন্যতম।
তুমি তো আমাদেরই মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নও। আমরা তো মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
وما أنت إلا بشر مثلنا وإن نظنك لمن الكاذبين
তুমি আমাদের মত মানুষ বৈ তো নও। আমাদের ধারণা - তুমি মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।
তুমি সত্যবাদী হয়ে থাকলে আকাশ ভেঙ্গে তার একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলো।’’
فأسقط علينا كسفا من السماء إن كنت من الصادقين
অতএব, যদি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোন টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।
তখন সে বলেছিল: ‘তোমরা যা করছো আমার প্রভু তা ভালোভাবেই জানেন।’
قال ربي أعلم بما تعملون
শো’আয়ব বললেন, তোমরা যা কর, সে সম্পর্কে আমার পালনকর্তা ভালরূপে অবহিত।
এভাবে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে এক মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব তাদের গ্রাস করে নেয়। সেটা ছিলো এক ভয়াবহ দিনের আযাব।
فكذبوه فأخذهم عذاب يوم الظلة ۚ إنه كان عذاب يوم عظيم
অতঃপর তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে দিল। ফলে তাদেরকে মেঘাচ্ছন্ন দিবসের আযাব পাকড়াও করল। নিশ্চয় সেটা ছিল এক মহাদিবসের আযাব।
নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন। তাদের অধিকাংশই ছিলনা।
إن في ذلك لآية ۖ وما كان أكثرهم مؤمنين
নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে; কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
আর তোমার প্রভু, নিশ্চয়ই তিনি মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবান।
وإن ربك لهو العزيز الرحيم
নিশ্চয় আপনার পালনকর্তা প্রবল পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
নিশ্চয়ই এ কুরআন রাব্বুল আলামিনের নাযিলকৃত।
وإنه لتنزيل رب العالمين
এই কোরআন তো বিশ্ব - জাহানের পালনকর্তার নিকট থেকে অবতীর্ণ।
এটি নিয়ে নাযিল হয়েছে রুহুল আমিন (জিবরিল)
نزل به الروح الأمين
বিশ্বস্ত ফেরেশতা একে নিয়ে অবতরণ করেছে।
তোমার হৃদয়ে, যাতে করে তুমি হতে পারো একজন সতর্ককারী।
على قلبك لتكون من المنذرين
আপনার অন্তরে, যাতে আপনি ভীতি প্রদর্শণকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন,
(সেটি নাযিল করা হয়েছে) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়।
بلسان عربي مبين
সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়।
আগের কিতাবগুলোতেও এর উল্লেখ আছে।
وإنه لفي زبر الأولين
নিশ্চয় এর উল্লেখ আছে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে।
এটা কি তাদের জন্যে একটা নিদর্শন নয় যে, এ বিষয়ে অবগত রয়েছে বনি ইসরাঈলের আলেমরা?
أولم يكن لهم آية أن يعلمه علماء بني إسرائيل
তাদের জন্যে এটা কি নিদর্শন নয় যে, বনী - ইসরাঈলের আলেমগণ এটা অবগত আছে?
আমরা যদি এ (কুরআন) নাযিল করতাম কোনো অনারবের উপর,
ولو نزلناه على بعض الأعجمين
যদি আমি একে কোন ভিন্নভাষীর প্রতি অবতীর্ণ করতাম,
আর সে যদি এটি তাদের কাছে পাঠ করতো, তবে তারা এর প্রতি ঈমান আনতোনা।
فقرأه عليهم ما كانوا به مؤمنين
অতঃপর তিনি তা তাদের কাছে পাঠ করতেন, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না।
এভাবেই আমরা অপরাধীদের অন্তরে (অবিশ্বাস) সঞ্চার করে দিয়েছি।
كذلك سلكناه في قلوب المجرمين
এমনিভাবে আমি গোনাহগারদের অন্তরে অবিশ্বাস সঞ্চার করেছি।
তারা ঈমান আনবেনা যতোদিন না সচোক্ষে দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।
لا يؤمنون به حتى يروا العذاب الأليم
তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে না, যে পর্যন্ত প্রত্যক্ষ না করে মর্মন্তুদ আযাব।
হ্যাঁ, সেটা এসে পড়বে আকস্মিক এবং তারা টেরই পাবেনা।
فيأتيهم بغتة وهم لا يشعرون
অতঃপর তা আকস্মিকভাবে তাদের কাছে এসে পড়বে, তারা তা বুঝতে ও পারবে না।
তখন তারা বলবে: ‘আমাদের কি অবকাশ দেয়া হবে?’
فيقولوا هل نحن منظرون
তখন তারা বলবে, আমরা কি অবকাশ পাব না?
তারা কি দ্রুত আগমন চায় আমাদের আযাবের?
أفبعذابنا يستعجلون
তারা কি আমার শাস্তি দ্রুত কামনা করে?
তুমি কি দেখোনি, আমরা তো অনেক বছর তাদের ভোগ বিলাস করতে দিয়েছি।
أفرأيت إن متعناهم سنين
আপনি ভেবে দেখুন তো, যদি আমি তাদেরকে বছরের পর বছর ভোগ - বিলাস করতে দেই,
তার পরেই এসেছিল সেই জিনিস (তাদের ধ্বংস) যার ওয়াদা তাদের দেয়া হয়েছিল।
ثم جاءهم ما كانوا يوعدون
অতঃপর যে বিষয়ে তাদেরকে ওয়াদা দেয়া হত, তা তাদের কাছে এসে পড়ে।
তাদের ভোগ বিলাসের উপকরণসমূহ তাদের কোনো কাজেই আসেনি।
ما أغنى عنهم ما كانوا يمتعون
তখন তাদের ভোগ বিলাস তা তাদের কি কোন উপকারে আসবে?
আমরা এমন কোনো জনপদ হালাক করিনি যার জন্যে সতর্ককারীরা ছিলনা।
وما أهلكنا من قرية إلا لها منذرون
আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিনি; কিন্তু এমতাবস্থায় যে, তারা সতর্ককারী ছিল।
এটি একটি উপদেশ। (তাদের ব্যাপারে) আমরা অন্যায় আচরণ করিনি।
ذكرى وما كنا ظالمين
স্মরণ করানোর জন্যে, এবং আমার কাজ অন্যায়াচরণ নয়।
এ কুরআন নিয়ে শয়তানরা নাযিল হয়নি।
وما تنزلت به الشياطين
এই কোরআন শয়তানরা অবতীর্ণ করেনি।
এ কাজের তারা যোগ্যও নয় এবং এ কাজের সামর্থও তাদের নেই।
وما ينبغي لهم وما يستطيعون
তারা এ কাজের উপযুক্ত নয় এবং তারা এর সামর্থ্য রাখে না।
তাদেরকে তো এটা শোনার সুযোগ থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
إنهم عن السمع لمعزولون
তাদেরকে তো শ্রবণের জায়গা থেকে দূরে রাখা রয়েছে।
সুতরাং তুমি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহ্ ডেকোনা, ডাকলে দন্ডপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত হয়ে পড়বে।
فلا تدع مع الله إلها آخر فتكون من المعذبين
অতএব, আপনি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করবেন না। করলে শাস্তিতে পতিত হবেন।
তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করো।
وأنذر عشيرتك الأقربين
আপনি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দিন।
আর যারা তোমার অনুসরণ করে সেসব মুমিনদের প্রতি তুমি স্নেহ - মমতার ডানা অবনমিত করো।
واخفض جناحك لمن اتبعك من المؤمنين
এবং আপনার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হোন।
তারা যদি তোমার অবাধ্য হয়, তবে তুমি বলো: ‘তোমাদের কর্মকান্ড থেকে আমি দায়মুক্ত।’
فإن عصوك فقل إني بريء مما تعملون
যদি তারা আপনার অবাধ্য করে, তবে বলে দিন, তোমরা যা কর, তা থেকে আমি মুক্ত।
মহাশক্তিধর, অতীব দয়াবানের উপর তাওয়াক্কুল করো,
وتوكل على العزيز الرحيم
আপনি ভরসা করুন পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর উপর,
যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি দাঁড়াও (সালাতে)।
الذي يراك حين تقوم
যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি নামাযে দন্ডায়মান হন,
তাছাড়া সাজদাকারীদের সাথে তোমার উঠাবসাও তিনি দেখেন।
وتقلبك في الساجدين
এবং নামাযীদের সাথে উঠাবসা করেন।
তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
إنه هو السميع العليم
নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
(হে মানুষ!) তোমাদের সংবাদ দেবো কি, শয়তানরা কার ঘাড়ে সওয়ার হয়?
هل أنبئكم على من تنزل الشياطين
আমি আপনাকে বলব কি কার নিকট শয়তানরা অবতরণ করে?
তারা তো সওয়ার হয় প্রত্যেক কট্টর মিথ্যাবাদী পাপিষ্ঠের ঘাড়ে।
تنزل على كل أفاك أثيم
তারা অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক মিথ্যাবাদী, গোনাহগারের উপর।
তারা কান পেতে থাকে এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
يلقون السمع وأكثرهم كاذبون
তারা শ্রুত কথা এনে দেয় এবং তাদের অধিকাংশই মিথ্যাবাদী।
কবিদের অনুসরণ করে তো বিভ্রান্তরাই।
والشعراء يتبعهم الغاوون
বিভ্রান্ত লোকেরাই কবিদের অনুসরণ করে।
তুমি দেখোনা তারা উদ্ভ্রান্তের মতো প্রত্যেক উপত্যকায়ই ঘুমিয়ে পড়ে?
ألم تر أنهم في كل واد يهيمون
তুমি কি দেখ না যে, তারা প্রতি ময়দানেই উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে?
আর তারা তাই বলে, যা তারা করেনা।
وأنهم يقولون ما لا يفعلون
এবং এমন কথা বলে, যা তারা করে না।
তবে তারা নয়, যারা ঈমান আনে, আমলে সালেহ্ করে, আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে এবং অত্যাচারিত হবার পরই প্রতিশোধ গ্রহণ করে। যারা যুলুম করে তারা শীঘ্রি জানতে পারবে কোন্ ফিরে যাবার জায়গায় তারা ফিরে যাবে?
إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وذكروا الله كثيرا وانتصروا من بعد ما ظلموا ۗ وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون
তবে তাদের কথা ভিন্ন, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কে খুব স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে। নিপীড়নকারীরা শীঘ্রই জানতে পারবে তাদের গন্তব্যস্থল কিরূপ।