বড়ই বরকতওয়ালা সেই তিনি যিনি নাযিল করেছেন আল (আল কুরআন) তাঁর দাসের প্রতি, যাতে করে সে হতে পারে জগদ্বাসীর জন্যে একজন সতর্ককারী।
بسم الله الرحمن الرحيم تبارك الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرا
Chapter 25, 77 verses
বড়ই বরকতওয়ালা সেই তিনি যিনি নাযিল করেছেন আল (আল কুরআন) তাঁর দাসের প্রতি, যাতে করে সে হতে পারে জগদ্বাসীর জন্যে একজন সতর্ককারী।
بسم الله الرحمن الرحيم تبارك الذي نزل الفرقان على عبده ليكون للعالمين نذيرا
তিনি সেই সত্তা, মহাকাশ ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব যাঁর। তিনি গ্রহণ করেন না সন্তান। তাছাড়া তাঁর কর্তৃত্বেও কেউ নেই শরিক। তিনিই সৃষ্টি করেছেন প্রতিটি জিনিস এবং প্রত্যেকের জন্যে নির্ধারণ করেছেন যথোপযুক্ত নির্ধারণ।
الذي له ملك السماوات والأرض ولم يتخذ ولدا ولم يكن له شريك في الملك وخلق كل شيء فقدره تقديرا
অথচ তারা তাঁর পরিবর্তে ইলাহ্ হিসেবে গ্রহণ করেছে অন্যদের, যারা কিছুই সৃষ্টি করেনা, বরং তাদেরকেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া তারা নিজেদেরও ক্ষতি কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখেনা। এছাড়া তারা মউত, হায়াত কিংবা পুনরুত্থানের ক্ষমতা রাখেনা।
واتخذوا من دونه آلهة لا يخلقون شيئا وهم يخلقون ولا يملكون لأنفسهم ضرا ولا نفعا ولا يملكون موتا ولا حياة ولا نشورا
কাফিররা বলে: ‘এটা (এই কুরআন) একটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা সে (মুহাম্মদ সা.) নিজেই রচনা করে নিয়েছে এবং অন্য লোকেরা এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করেছে।’ এসব কথা বলে তারা চরম যুলম ও মিথ্যায় নিমজ্জিত হয়েছে।
وقال الذين كفروا إن هذا إلا إفك افتراه وأعانه عليه قوم آخرون ۖ فقد جاءوا ظلما وزورا
তারা বলে: ‘এ - তো সেকালের লোকদের কাহিনী যা সে লিখিয়ে নিয়েছে এবং সকাল সন্ধ্যায় এগুলো তার কাছে পাঠ করা হয়।’
وقالوا أساطير الأولين اكتتبها فهي تملى عليه بكرة وأصيلا
তুমি বলো: ‘এ (কুরআন) নাযিল করেছেন তিনি, যিনি জানেন মহাকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত রহস্য। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল দয়াবান।’
قل أنزله الذي يعلم السر في السماوات والأرض ۚ إنه كان غفورا رحيما
তারা আরো বলে: ‘‘এ কেমন রসূল, যে খাবারও খায় এবং হাট - বাজারেও চলাফেরা করে! তার কাছে কোনো ফেরেশতা কেন নাযিল করা হলো না, যে তার সাথে সতর্ককারী হিসেবে থাকতো?
وقالوا مال هذا الرسول يأكل الطعام ويمشي في الأسواق ۙ لولا أنزل إليه ملك فيكون معه نذيرا
অথবা তাকে কোনো ধন - ভান্ডার দেয়া হয়নি কেন, কিংবা তার একটি বাগান থাকলো না কেন যা থেকে সে নিজের আহার সংগ্রহ করতো?’’ যালিমরা আরো বলছে: ‘তোমরা তো একটা জাদুগ্রস্ত লোকের পেছনে ছুটছো।’
أو يلقى إليه كنز أو تكون له جنة يأكل منها ۚ وقال الظالمون إن تتبعون إلا رجلا مسحورا
দেখো, তারা তোমার কী উদ্ভট ধরনের দৃষ্টান্ত দিচ্ছে? তারা বিপথগামী হয়ে গেছে। সুতরাং তারা আর পথ খুঁজে পাবেনা।
انظر كيف ضربوا لك الأمثال فضلوا فلا يستطيعون سبيلا
বড়ই বরকতওয়ালা তিনি, যিনি চাইলে তোমাকে দিতে পারেন এর চাইতে উত্তম উদ্যানসমূহ, যেগুলোর নীচে দিয়ে বহমান থাকবে নদ - নদী - নহর। এছাড়া তিনি তোমাকে দিতে পারেন প্রাসাদসমূহ।
تبارك الذي إن شاء جعل لك خيرا من ذلك جنات تجري من تحتها الأنهار ويجعل لك قصورا
আসল কথা হলো, তারা কিয়ামতকেই অস্বীকার করছে, আর আমরা কিয়ামত অস্বীকারকারীদের জন্যে প্রস্তুত করে রেখেছি সায়ীর (জ্বলন্ত আগুন)।
بل كذبوا بالساعة ۖ وأعتدنا لمن كذب بالساعة سعيرا
তারা যখন দূর থেকে সেটাকে দেখবে, তখন তারা শুনতে পাবে সেটার ক্রুদ্ধ গর্জন এবং (সেখানকার) আর্তচিৎকার।
إذا رأتهم من مكان بعيد سمعوا لها تغيظا وزفيرا
যখন তাদেরকে শৃঙ্খলিত অবস্থায় সেটার কোনো এক সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা সেখানে মৃত্যুকে ডাকবে।
وإذا ألقوا منها مكانا ضيقا مقرنين دعوا هنالك ثبورا
তাদের বলা হবে: ‘আজ তোমরা একটি মৃত্যুকে ডেকোনা, ডাকো অনেক মৃত্যুকে।’
لا تدعوا اليوم ثبورا واحدا وادعوا ثبورا كثيرا
ওদের জিজ্ঞেস করো: ‘এটাই কি ভালো, নাকি চিরস্থায়ী জান্নাত যার ওয়াদা মুত্তাকিদের দেয়া হয়েছে?’ ওটাই হবে তাদের পুরস্কার এবং ফিরে যাবার জায়গা।
قل أذلك خير أم جنة الخلد التي وعد المتقون ۚ كانت لهم جزاء ومصيرا
চিরকাল তারা সেখানে যা চাইবে, তাই পাবে। এই ওয়াদা পালন করা তোমার প্রভুর দায়িত্ব।
لهم فيها ما يشاءون خالدين ۚ كان على ربك وعدا مسئولا
যেদিন তাদেরকে হাশর (সমবেত) করা হবে এবং তারা ছাড়া আর যাদের ইবাদত করতো তাদেরকেও, সেদিন তিনি তাদের জিজ্ঞেস করবেন: ‘তোমরাই কি আমার এই বান্দাদের বিপথগামী করেছো। নাকি তারা নিজেরাই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে?’
ويوم يحشرهم وما يعبدون من دون الله فيقول أأنتم أضللتم عبادي هؤلاء أم هم ضلوا السبيل
তারা বলবে: ‘তুমি পবিত্র ও মহান, আমরা তো তোমার পরিবর্তে অন্যদেরকে অলি হিসেবে গ্রহণ করতে পারিনা। তবে তুমিই তো তাদেরকে এবং তাদের বাপ দাদাদেরকে ভোগের সামগ্রী দিয়েছিলে; ফলে তারা আয্ যিকির (আল কিতাব) ভুলে গেছে এবং তারা পরিণত হয়েছে এক বুরা (ধ্বংস প্রাপ্ত) জাতিতে।
قالوا سبحانك ما كان ينبغي لنا أن نتخذ من دونك من أولياء ولكن متعتهم وآباءهم حتى نسوا الذكر وكانوا قوما بورا
( মুশরিকদের বলবেন:) তোমরা যা বলতে তারা (তোমাদের সেই অলিরা) তো তোমাদের সে কথা অস্বীকার করছে। সুতরাং তোমরা শাস্তি ফেরাতে পারবেনা এবং সাহায্যও পাবেনা। তোমাদের মধ্যে যে কেউ যুলুম করবে, তাকে আমরা আস্বাদন করাবো বড় আযাব।
فقد كذبوكم بما تقولون فما تستطيعون صرفا ولا نصرا ۚ ومن يظلم منكم نذقه عذابا كبيرا
তোমার আগে আমরা যতো রসূলই পাঠিয়েছি, তারা সবাই খাবার খেতো এবং হাট - বাজারে যাতায়াত করতো। আমরা তোমাদের পরস্পরকে পরস্পরের জন্যে বানিয়েছি ফিতনা। তোমরা কি সবর অবলম্বন করবে? তোমার প্রভু সর্বদ্রষ্টা।
وما أرسلنا قبلك من المرسلين إلا إنهم ليأكلون الطعام ويمشون في الأسواق ۗ وجعلنا بعضكم لبعض فتنة أتصبرون ۗ وكان ربك بصيرا
যারা আমাদের সাক্ষাতের আশা করেনা তারা বলে: আমাদের কাছে কেন ফেরেশতা নাযিল হয়না, কিংবা আমরা কেন আমাদের প্রভুকে দেখছিনা? তারা তাদের মনে পোষণ করে অহংকার, আর তারা সীমালঙ্ঘন করেছে বড় আকারের।
۞ وقال الذين لا يرجون لقاءنا لولا أنزل علينا الملائكة أو نرى ربنا ۗ لقد استكبروا في أنفسهم وعتوا عتوا كبيرا
যেদিন তারা ফেরেশতা দেখবে, সেদিন অপরাধীদের জন্যে কোনো সুসংবাদ থাকবেনা। সেদিন তারা বলবে: ‘এ - তো কঠিন অন্তরায়, রক্ষা করো, রক্ষা করো।’
يوم يرون الملائكة لا بشرى يومئذ للمجرمين ويقولون حجرا محجورا
তারা যে আমলই করুক না কেন আমরা তা লক্ষ্য রাখি, আমরা তাদের আমলকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবো (নিষ্ফল করে দেবো)।
وقدمنا إلى ما عملوا من عمل فجعلناه هباء منثورا
সেদিন জান্নাতবাসীদের আবাস হবে কল্যাণময়, আর তাদের বিশ্রামের জায়গা হবে অতীব মনোরম।
أصحاب الجنة يومئذ خير مستقرا وأحسن مقيلا
সেদিন মেঘমালাসহ বিদীর্ণ হয়ে পড়বে আকাশ, আর ক্রমান্বয়ে নাযিল করা হবে ফেরশতাদের।
ويوم تشقق السماء بالغمام ونزل الملائكة تنزيلا
সেদিন সমস্ত কর্তৃত্ব থাকবে বাস্তবিকই রহমানের মুষ্টিবদ্ধে। কাফিরদের জন্যে সেই দিনটি হবে বড়ই কঠিন।
الملك يومئذ الحق للرحمن ۚ وكان يوما على الكافرين عسيرا
যালিম সেদিন নিজের দু’হাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে: ‘‘হায় আমার ধ্বংস, আমি যদি রসূলের সাথে সঠিক পথ অবলম্বন করতাম!
ويوم يعض الظالم على يديه يقول يا ليتني اتخذت مع الرسول سبيلا
হায়, দুর্ভাগ্য আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করতাম!
يا ويلتى ليتني لم أتخذ فلانا خليلا
সে - ই তো আমাকে আয্ যিকির (আল কুরআন) থেকে বিভ্রান্ত করেছিল, আমার কাছে আয্ যিকির (আল কুরআন) পৌঁছার পর। বাস্তবিকই, শয়তান মানুষের জন্যে মহাপ্রতারক।’’
لقد أضلني عن الذكر بعد إذ جاءني ۗ وكان الشيطان للإنسان خذولا
আর রসূল বলবে: ‘হে প্রভু! আমার লোকেরাই এ কুরআনকে পরিত্যাগ করে রেখে দিয়েছিল।’
وقال الرسول يا رب إن قومي اتخذوا هذا القرآن مهجورا
এভাবেই আমরা প্রত্যেক নবীর পিছে শত্রু নিয়োগ করেছিলাম অপরাধীদের থেকে। হাদী (পথ প্রদর্শক) এবং নাসির (সাহায্যকারী) হিসেবে তোমার প্রভুই কাফী।
وكذلك جعلنا لكل نبي عدوا من المجرمين ۗ وكفى بربك هاديا ونصيرا
কাফিররা বলে: ‘সমগ্র কুরআন তার কাছে একবারে নাযিল করা হলো না কেন?’ (আমরা) এভাবেই করে থাকি এর মাধ্যমে তোমার অন্তরকে মজবুত করার জন্যে, আর এ কারণেই আমরা কুরআনকে তারতিলের
وقال الذين كفروا لولا نزل عليه القرآن جملة واحدة ۚ كذلك لنثبت به فؤادك ۖ ورتلناه ترتيلا
তারা তোমার কাছে এমন কোনো সমস্যা উত্থাপন করেনা যার বাস্তব সমাধান এবং উত্তম তফসির (ব্যাখ্যা) আমরা তোমাকে প্রদান করিনা।
ولا يأتونك بمثل إلا جئناك بالحق وأحسن تفسيرا
তাদেরকে উপুড় করে মুখের উপর ভর দিয়ে জাহান্নামে নিয়ে হাশর (সমবেত) করা হবে। তারা অতি নিকৃষ্ট স্থানের এবং অধিক পথভ্রষ্ট লোক।
الذين يحشرون على وجوههم إلى جهنم أولئك شر مكانا وأضل سبيلا
আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম এবং তার ভাই হারূণকে তার সাথে বানিয়ে দিয়েছিলাম উযির।
ولقد آتينا موسى الكتاب وجعلنا معه أخاه هارون وزيرا
তারপর আমরা তাদের বলেছিলাম: তোমরা দু’জন যাও সেই কওমের কাছে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে আমাদের আয়াতকে। তারপর আমরা তাদেরকে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলাম।
فقلنا اذهبا إلى القوم الذين كذبوا بآياتنا فدمرناهم تدميرا
আর নূহের কওমকেও, যখন তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল রসূলদের, তখন আমরা তাদের ডুবিয়ে দিয়েছিলাম আর তাদের বানিয়ে দিয়েছিলাম মানবজাতির জন্যে একটি নিদর্শন। আর আমরা যালিমদের জন্যে প্রস্ত্তত করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।
وقوم نوح لما كذبوا الرسل أغرقناهم وجعلناهم للناس آية ۖ وأعتدنا للظالمين عذابا أليما
এছাড়াও আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি আদ ও সামুদ জাতিকে, কূপওয়ালাদেরকে এবং এদের মধ্যবর্তী বহু প্রজন্মকে।
وعادا وثمود وأصحاب الرس وقرونا بين ذلك كثيرا
আমরা এদের প্রত্যেকের জন্যে শিক্ষামূলক দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছিলাম এবং এদের প্রত্যেককেই আমরা ধ্বংস করে দিয়েছিলাম।
وكلا ضربنا له الأمثال ۖ وكلا تبرنا تتبيرا
তারা তো সেই (বিরান) জনপদ দিয়েই যাতায়াত করে যার উপর বর্ষিত হয়েছিল নিকৃষ্ট ধরনের বৃষ্টি। তবে কি তারা তা দেখেনা? বরং তারা পুনরুত্থানেই বিশ্বাস রাখেনা।
ولقد أتوا على القرية التي أمطرت مطر السوء ۚ أفلم يكونوا يرونها ۚ بل كانوا لا يرجون نشورا
তারা যখন তোমাকে দেখে, তোমাকে কেবল বিদ্রূপের পাত্রই বানায়। তারা বলে: ‘‘এ ব্যক্তিকেই কি রসূল বানিয়েছেন?
وإذا رأوك إن يتخذونك إلا هزوا أهذا الذي بعث الله رسولا
সে তো আমাদেরকে আমাদের ইলাহ্দের (দেবদেবীর) থেকে দূরে সরিয়ে দিতো যদি আমরা তাদের আনুগত্যে অটল না থাকতাম।’’ যখন তারা আযাব দেখবে তখনই তারা জানতে পারবে কে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে চলে গেছে বহুদূর?
إن كاد ليضلنا عن آلهتنا لولا أن صبرنا عليها ۚ وسوف يعلمون حين يرون العذاب من أضل سبيلا
ঐ বক্তির ব্যাপারে তোমার রায় কি, যে তার কামনা বাসনাকে নিজের ইলাহ্ (উপাস্য) বানিয়ে নিয়েছে? তুমি কি হবে তার উকিল?
أرأيت من اتخذ إلهه هواه أفأنت تكون عليه وكيلا
তুমি কি মনে করো যে তাদের অধিকাংশ লোক শুনে এবং বুঝে? আসলে তারা তো হলো পশুর মতো বরং তার চাইতেও অধিক পথভ্রান্ত।
أم تحسب أن أكثرهم يسمعون أو يعقلون ۚ إن هم إلا كالأنعام ۖ بل هم أضل سبيلا
তুমি কি তোমার প্রভুর (অনুগ্রহের) প্রতি লক্ষ্য করোনা, কিভাবে তিনি ছায়াকে সম্প্রসারিত করেন? তিনি ইচ্ছা করলে তা স্থির করে রাখতে পারতেন। তারপর তিনি সূর্যকে বানিয়েছেন তার (ছায়ার) দলিল (গাইড, দিশারি, পথ প্রদর্শক)।
ألم تر إلى ربك كيف مد الظل ولو شاء لجعله ساكنا ثم جعلنا الشمس عليه دليلا
আর আমরা তাকে (ছায়াকে) আমাদের দিকে ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনি।
ثم قبضناه إلينا قبضا يسيرا
তিনিই তো তোমাদের জন্যে রাতকে বানিয়েছেন আবরণ, আর নিদ্রাকে বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্যে শান্তিময় এবং দিনকে বানিয়েছেন জীবন্তর হয়ে উঠার সময়।
وهو الذي جعل لكم الليل لباسا والنوم سباتا وجعل النهار نشورا
তিনিই তাঁর রহমত (বৃষ্টি) বর্ষণের আগে বাতাসকে পাঠান সুসংবাদের বাহক হিসেবে এবং (তখন) আমরাই নাযিল করি আসমান থেকে বিশুদ্ধ পানি।
وهو الذي أرسل الرياح بشرا بين يدي رحمته ۚ وأنزلنا من السماء ماء طهورا
তা দিয়ে আমরা জীবিত করে তুলি মৃত জমিনকে এবং তা আমরা পান করাই আমাদের সৃষ্টি করা বহু জীব জানোয়ার এবং মানুষকে।
لنحيي به بلدة ميتا ونسقيه مما خلقنا أنعاما وأناسي كثيرا
আমরা এই পানি তাদের মধ্যে বিভিন্নভাবে বিতরণ করি, যাতে করে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই অকৃতজ্ঞতার মাধ্যমে তা অস্বীকার করে।
ولقد صرفناه بينهم ليذكروا فأبى أكثر الناس إلا كفورا
আমরা চাইলে প্রত্যেক জনপদেই একজন সতর্ককারী (রসূল) পাঠাতে পারতাম।
ولو شئنا لبعثنا في كل قرية نذيرا
সুতরাং তুমি কাফিরদের আনুগত্য করোনা এবং তুমি এই (কুরআনের) সাহায্যে তাদের সাথে প্রচন্ড জিহাদ চালিয়ে যাও।
فلا تطع الكافرين وجاهدهم به جهادا كبيرا
তিনিই তো দুই দরিয়াকে মিলিতভাবে প্রবাহিত করেছেন, এটি মিষ্টি সুপেয়, আর ওটি লোনা, উভয়ের মাঝে তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছেন একটি অন্তরায়, একটি অলঙ্ঘনীয় ব্যবধান।
۞ وهو الذي مرج البحرين هذا عذب فرات وهذا ملح أجاج وجعل بينهما برزخا وحجرا محجورا
তিনিই সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে মানুষ, তারপর তাদের মাঝে বংশীয় এবং বৈবাহিক বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছেন। জেনে রাখো, তোমার প্রভু শক্তিমান।
وهو الذي خلق من الماء بشرا فجعله نسبا وصهرا ۗ وكان ربك قديرا
তারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদের ইবাদত করে, যারা তাদের না কোনো উপকার করতে পারে, আর না অপকার। কাফিররা তো তাদের প্রকৃত প্রভুর বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করে।
ويعبدون من دون الله ما لا ينفعهم ولا يضرهم ۗ وكان الكافر على ربه ظهيرا
(হে মুহাম্মদ!) আমরা তোমাকে সুসংবাদ দানকারী এবং সতর্ককারী হিসেবে ছাড়া অন্য কোনো দায়িত্ব দিয়ে পাঠাইনি।
وما أرسلناك إلا مبشرا ونذيرا
তুমি বলো: ‘আমি এ দায়িত্ব পালনের জন্যে তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চাইনা, তবে যে ইচ্ছা করে সে যেনো তার প্রভুর পথ অবলম্বন করে।
قل ما أسألكم عليه من أجر إلا من شاء أن يتخذ إلى ربه سبيلا
সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর তুমি তাওয়াক্কুল করো যাঁর কখনো মউত হবেনা এবং তাঁর প্রশংসার সাথে তসবিহ করো। নিজ বান্দাদের পাপের খবর রাখার জন্যে তিনিই কাফী (যথেষ্ট)।
وتوكل على الحي الذي لا يموت وسبح بحمده ۚ وكفى به بذنوب عباده خبيرا
তিনিই সৃষ্টি করেছেন মহাকাশ এবং পৃথিবী আর এ দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সবকিছু ছয়টি কালে। তারপর তিনি সমাসীন হয়েছেন আরশের উপর। তিনি আর রহমান - পরম দয়াবান, তাঁর সম্পর্কে যে খবর রাখে তাকে জিজ্ঞাসা করে দেখো।
الذي خلق السماوات والأرض وما بينهما في ستة أيام ثم استوى على العرش ۚ الرحمن فاسأل به خبيرا
তাদেরকে যখন বলা হয় রহমানকে সাজদা করো, তখন তারা বলে: ‘রহমান আবার কে? তুমি কাউকেও সাজদা করতে বললেই কি আমরা তাকে সাজদা করবো।’ এর ফলে তাদের পলায়নই বৃদ্ধি পায়। (সাজদা)
وإذا قيل لهم اسجدوا للرحمن قالوا وما الرحمن أنسجد لما تأمرنا وزادهم نفورا ۩
কতো যে বরকতওয়ালা তিনি, যিনি আকাশে তোমাদের জন্যে স্থাপন করেছেন বুরুজ (বিশাল বিশাল নক্ষত্ররাজি) এবং তার মধ্যে রেখেছেন একটি প্রদীপ (সূর্য) আর একটি আলোকিত চাঁদ।
تبارك الذي جعل في السماء بروجا وجعل فيها سراجا وقمرا منيرا
তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত আর দিন। তারা একে অপরের পেছনে আসে। এ ব্যবস্থা করেছেন তাদের জন্যে যারা শিক্ষা গ্রহণ করার এরাদা করে, কিংবা এরাদা করে শোকর আদায় করার।
وهو الذي جعل الليل والنهار خلفة لمن أراد أن يذكر أو أراد شكورا
রহমানের দাস তো তারাই যারা জমিনের উপর চলাফেরা করে বিনয়ী হয়ে। অজ্ঞ লোকেরা যখন তাদের সাথে বিতর্ক করতে চায়, তারা বলে: ‘সালাম।’
وعباد الرحمن الذين يمشون على الأرض هونا وإذا خاطبهم الجاهلون قالوا سلاما
তারা রাত কাটায় তাদের প্রভুর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সাজদা করে করে এবং দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে।
والذين يبيتون لربهم سجدا وقياما
তারা দোয়া করে (এভাবে:) ‘আমাদের প্রভু! আমাদের থেকে দূর করে দিও জাহান্নামের আযাব, কারণ তার আযাব তো সর্বগ্রাসী।
والذين يقولون ربنا اصرف عنا عذاب جهنم ۖ إن عذابها كان غراما
আর জাহানণাম তো নিশ্চিতই বাসস্থান এবং আশ্রয়স্থল হিসেবে অতীব নিকৃষ্ট।’
إنها ساءت مستقرا ومقاما
তারা যখন খরচ করে, তখন অপব্যয়ও করেনা, কার্পণ্যও করেনা। বরং এই দুইয়ের মাঝখানে অবলম্বন করে মধ্যপন্থা।
والذين إذا أنفقوا لم يسرفوا ولم يقتروا وكان بين ذلك قواما
তারা আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকেও ইলাহ্ (বানিয়ে নিয়ে) ডাকে না। যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন এমন কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করেনা, তবে যথার্থ কারণ থাকলে সঠিক পন্থায়। তারা জিনা করেনা। যে এগুলো করবে, সে অবশ্যি শাস্তি ভোগ করবে।
والذين لا يدعون مع الله إلها آخر ولا يقتلون النفس التي حرم الله إلا بالحق ولا يزنون ۚ ومن يفعل ذلك يلق أثاما
কিয়ামতের দিন তার দন্ড করা হবে দ্বিগুণ এবং সেখানে সে থাকবে স্থায়ীভাবে লাঞ্ছিত অবস্থায়।
يضاعف له العذاب يوم القيامة ويخلد فيه مهانا
তবে যারা তওবা করবে, ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, তিনি তাদের পাপ বদল করে দেবেন পুণ্যের মাধ্যমে। আর তো পরম ক্ষমাশীল ও দয়াময় আছেনই।
إلا من تاب وآمن وعمل عملا صالحا فأولئك يبدل الله سيئاتهم حسنات ۗ وكان الله غفورا رحيما
আর যে তওবা করবে এবং আমলে সালেহ্ করবে, সে তো অনুতপ্ত হয়ে পুরোপুরি আল্লাহর অভিমুখীই হবে।
ومن تاب وعمل صالحا فإنه يتوب إلى الله متابا
তারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না। তারা যখন অর্থহীন কার্যকলাপের সম্মুখীন হয়, তখন আত্মমর্যাদা রক্ষা করে চলে যায়।
والذين لا يشهدون الزور وإذا مروا باللغو مروا كراما
তাদেরকে যখন আল্লাহর আয়াত স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, তখন তারা অন্ধ ও বধিরের মতো পড়ে থাকে না।
والذين إذا ذكروا بآيات ربهم لم يخروا عليها صما وعميانا
তারা দোয়া করে এভাবে: আমাদের প্রভু! আমাদের স্ত্রী/স্বামী ও সন্তানদের আমাদের চক্ষু শীতলকারী বানাও। আর আমাদের বানাও মুত্তাকিদের অগ্রগামী।
والذين يقولون ربنا هب لنا من أزواجنا وذرياتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين إماما
এদেরই প্রতিদান হবে জান্নাতের বিলাস বহুল কক্ষসমূহ তাদের সবর অবলম্বনের কারণে, আর তাদেরকে সেখানে অভ্যর্থনা দেয়া হবে অভিবাদন এবং সালাম সহকারে।
أولئك يجزون الغرفة بما صبروا ويلقون فيها تحية وسلاما
সেখানে থাকবে তারা চিরকাল! কতো যে মনোরম আশ্রয়স্থান ও আবাস।
خالدين فيها ۚ حسنت مستقرا ومقاما
হে নবী! বলো: তোমরা আমার প্রভুকে না ডাকলে তাঁর কিছুই আসে যায় না। তোমরা তো প্রত্যাখ্যানই করেছো, এখন অচিরেই তোমাদের প্রতি নেমে আসবে অপরিহার্য আযাব।
قل ما يعبأ بكم ربي لولا دعاؤكم ۖ فقد كذبتم فسوف يكون لزاما