হা মিম।
Hameem
হা-মীম।
حمٓ
Chapter 42, 53 verses
হা মিম।
Hameem
হা-মীম।
حمٓ
আঈন সিন কাফ।
AAaynseenqaf
‘আইন-সীন-কাফ।
عٓسٓقٓ
(হে মুহাম্মদ!) এভাবেই মহাক্ষমতাবান মহাজ্ঞানী তোমার প্রতি এবং আগের (নবী রসূলদের) প্রতি অহি করে আসছেন।
Kathalika yoohee ilayka waila allatheena min qablika Allahu alAAazeezu alhakeemu
এমনিভাবে মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় তোমার কাছে ওহী প্রেরণ করেন এবং তোমার পূর্ববর্তীদের কাছেও।
كَذَٰلِكَ يُوحِىٓ إِلَيْكَ وَإِلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِكَ ٱللَّهُ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ
মহাবিশ্ব এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর। তিনি সর্বোচ্চ, অতি মহান।
Lahu ma fee alssamawati wama fee alardi wahuwa alAAaliyyu alAAatheemu
আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। তিনিই সমুন্নত, সুমহান।
لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ وَهُوَ ٱلْعَلِىُّ ٱلْعَظِيمُ
(এই মহান আল্লাহর সাথেই তারা শিরক করছে, যার ফলে) তাদের উপর আকাশ ভেংগে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ( এতোই মহান ও উদার যে,) তা সত্ত্বেও ফেরেশতারা তাদের প্রভুর প্রশংসার তসবিহ্ করার সাথে সাথে পৃথিবীর অধিবাসীদের জন্যেও ক্ষমা ভিক্ষা করছে। এখনো সতর্ক হয়ে যাও, নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল, অতীব দয়ালু।
Takadu alssamawatu yatafattarna min fawqihinna waalmalaikatu yusabbihoona bihamdi rabbihim wayastaghfiroona liman fee alardi ala inna Allaha huwa alghafooru alrraheemu
উপর থেকে আসমান ফেটে পড়ার উপক্রম হয়; আর ফেরেশতারা তাদের রবের প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করে এবং পৃথিবীতে যারা আছে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে; জেনে রেখ, , তিনি তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
تَكَادُ ٱلسَّمَٰوَٰتُ يَتَفَطَّرْنَ مِن فَوْقِهِنَّ وَٱلْمَلَٰٓئِكَةُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِمَن فِى ٱلْأَرْضِ أَلَآ إِنَّ ٱللَّهَ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ
যারা ছাড়া অন্যদেরকে অলি (বন্ধু, রক্ষক, প্রভু ও অভিভাবক) হিসেবে গ্রহণ করে, (তারা তো নিজেদের জন্যে অতি ঠুনকো ও নিকৃষ্ট অলি গ্রহণ করে), প্রকৃত পক্ষে আল্লাহই তাদের রক্ষক ও হিফাযতকারী। তুমি তাদের (কার্যক্রমের) জিম্মাদার নও।
Waallatheena ittakhathoo min doonihi awliyaa Allahu hafeethun AAalayhim wama anta AAalayhim biwakeelin
আর যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, তাদের প্রতি সম্যক দৃষ্টিদাতা এবং তুমি তাদের কর্মবিধায়ক নও।
وَٱلَّذِينَ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ ٱللَّهُ حَفِيظٌ عَلَيْهِمْ وَمَآ أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ
(হে মুহাম্মদ!) এভাবেই আমি তোমার প্রতি আরবি ভাষায় একটি কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যাতে করে তুমি সতর্ক করে দিতে পারো মানব বসতির কেন্দ্র (মক্কা) এবং তার চারপাশের লোকদের। যেনো তুমি সতর্ক করতে পারো, সেদিনটি সম্পর্কে যেদিন সবাইকে (বিচারের জন্যে) একত্র করা হবে এবং সেদিনটির আগমন সম্পর্কে কোনোই সন্দেহ নেই। সেদিন একদল লোককে থাকতে দেয়া হবে জান্নাতে, আরেক দলকে নিক্ষেপ করা হবে প্রজ্জ্বলিত আগুনে।
Wakathalika awhayna ilayka quranan AAarabiyyan litunthira omma alqura waman hawlaha watunthira yawma aljamAAi la rayba feehi fareequn fee aljannati wafareequn fee alssaAAeeri
আর এভাবেই আমি তোমার ওপর আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি যাতে তুমি মূল জনপদ ও তার আশপাশের বাসিন্দাদেরকে সতর্ক করতে পার, আর যাতে ‘একত্রিত হওয়ার দিন’ এর ব্যাপারে সতর্ক করতে পার, যাতে কোন সন্দেহ নেই, একদল থাকবে জান্নাতে আরেক দল জ্বলন্ত আগুনে।
وَكَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ قُرْءَانًا عَرَبِيًّا لِّتُنذِرَ أُمَّ ٱلْقُرَىٰ وَمَنْ حَوْلَهَا وَتُنذِرَ يَوْمَ ٱلْجَمْعِ لَا رَيْبَ فِيهِ فَرِيقٌ فِى ٱلْجَنَّةِ وَفَرِيقٌ فِى ٱلسَّعِيرِ
চাইলে তাদেরকে (মানুষকে) এক উম্মতে পরিণত করতে (এক আদর্শের অনুসারী জাতি বানাতে) পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেন না, বরং তিনি যাকে চান তাকে নিজ রহমতের মধ্যে শামিল করে নেন। আর যালিমদের না আছে কোনো অলি, আর না আছে কোনো সাহায্যকারী।
Walaw shaa Allahu lajaAAalahum ommatan wahidatan walakin yudkhilu man yashao fee rahmatihi waalththalimoona ma lahum min waliyyin wala naseerin
ইচ্ছা করলে তাদেরকে এক জাতিভুক্ত করতে পারতেন; কিন্তু তিনি যাকে চান তাঁর রহমতে প্রবেশ করান আর যালিমদের জন্য কোন অভিভাবক নেই, সাহায্যকারীও নেই।
وَلَوْ شَآءَ ٱللَّهُ لَجَعَلَهُمْ أُمَّةً وَٰحِدَةً وَلَٰكِن يُدْخِلُ مَن يَشَآءُ فِى رَحْمَتِهِۦ وَٱلظَّٰلِمُونَ مَا لَهُم مِّن وَلِىٍّ وَلَا نَصِيرٍ
নাকি এরা আল্লাহকে ছাড়া অন্যদের অলি বানিয়ে নিয়েছে? অথচ আল্লাহই তো একমাত্র অলি। তিনিই তো মৃতকে জীবিত করেন আর একমাত্র তিনিই তো সক্ষম সবকিছু করতে।
Ami ittakhathoo min doonihi awliyaa faAllahu huwa alwaliyyu wahuwa yuhyee almawta wahuwa AAala kulli shayin qadeerun
তারা কি তাঁকে বাদ দিয়ে বহু অভিভাবক গ্রহণ করেছে? কিন্তু , তিনিই হলেন প্রকৃত অভিভাবক; তিনিই মৃতকে জীবিত করেন আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বক্ষমতাবান।
أَمِ ٱتَّخَذُوا۟ مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ فَٱللَّهُ هُوَ ٱلْوَلِىُّ وَهُوَ يُحْىِ ٱلْمَوْتَىٰ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
তোমরা যে ব্যাপারেই মতভেদ করো না কেন, তার ফায়সালা দেয়ার মালিক তো একমাত্র । (হে মুহাম্মদ! ঘোষণা করে দাও) এই আল্লাহই আমার রব। তাঁর উপরই আমি আস্থা স্থাপন করেছি এবং (সকল ব্যাপারে) আমি কেবল তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি।
Wama ikhtalaftum feehi min shayin fahukmuhu ila Allahi thalikumu Allahu rabbee AAalayhi tawakkaltu wailayhi oneebu
আর যে কোন বিষয়েই তোমরা মতবিরোধ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে; তিনিই , আমার রব; তাঁরই উপর আমি তাওয়াক্কুল করেছি এবং আমি তাঁরই অভিমুখী হই।
وَمَا ٱخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِن شَىْءٍ فَحُكْمُهُۥٓ إِلَى ٱللَّهِ ذَٰلِكُمُ ٱللَّهُ رَبِّى عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ
মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর তিনিই সৃষ্টিকর্তা। তিনি তোমাদের থেকেই তোমাদের জোড়া (নারী - পুরুষ) সৃষ্টি করেছেন এবং অন্যান্য জীব - জানোয়ারেরও জোড়া সৃষ্টি করেছেন (তাদের প্রজাতি থেকেই)। এই (নারী - পুরুষ মিলন) প্রক্রিয়াতেই তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেন। কিছুই নেই তাঁর মতো, তাঁর সদৃশ। সর্বশ্রোতা তিনি, সর্বদ্রষ্টা তিনি।
Fatiru alssamawati waalardi jaAAala lakum min anfusikum azwajan wamina alanAAami azwajan yathraokum feehi laysa kamithlihi shayon wahuwa alssameeAAu albaseeru
তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা; তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া বানিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু থেকেও জোড়া বানিয়েছেন, (এভাবেই) তিনি তোমাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
فَاطِرُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَٰجًا وَمِنَ ٱلْأَنْعَٰمِ أَزْوَٰجًا يَذْرَؤُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِۦ شَىْءٌ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ
মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর (সমস্ত সম্পদ ভান্ডারের) চাবিকাঠি তাঁরই হাতে। তিনি যাকে ইচ্ছা জীবিকা প্রশস্ত করে দেন, আর সীমাবদ্ধ করে দেন (যাকে ইচ্ছা)। (কারণ) সকল বিষয়ে তিনি সর্বজ্ঞানী।
Lahu maqaleedu alssamawati waalardi yabsutu alrrizqa liman yashao wayaqdiru innahu bikulli shayin AAaleemun
আসমানসমূহ ও যমীনের চাবি তাঁর কাছে; যার জন্য ইচ্ছা তিনি রিয্ক প্রশস্ত করেন এবং নিয়ন্ত্রিত করেন; নিশ্চয় তিনি সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞাত।
لَهُۥ مَقَالِيدُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ يَبْسُطُ ٱلرِّزْقَ لِمَن يَشَآءُ وَيَقْدِرُ إِنَّهُۥ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ
তিনি তোমাদের জন্যে স্থির করে দিয়েছেন সেই একই দীন (জীবন - পদ্ধতি), যা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন নূহকে এবং যা এখন আমরা অহি করছি (হে মুহাম্মদ!) তোমাকে। এটাই সেই দীন (জীবন - পদ্ধতি) যা আমরা স্থির করে দিয়েছিলাম ইবরাহিম এবং মূসা ও ঈসাকে। (তাদের সবাইকে নির্দেশ দিয়েছিলাম:) এই দীনকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে কোনো বিভক্তি সৃষ্টি করোনা। (হে মুহাম্মদ!) মুশরিকদের জন্যে (এই দীন) বড়ই অসহনীয় - যার দিকে তুমি তাদের ডাকছো। যাকে ইচ্ছা নিজের জন্যে মনোনীত করেন এবং তিনি নিজের দিকে পথ দেখান সে ব্যক্তিকেই, যে (অনুশোচনা, আনুগত্য ও) বিনয়ের সাথে তাঁর প্রতি রুজু হয়।
SharaAAa lakum mina alddeeni ma wassa bihi noohan waallathee awhayna ilayka wama wassayna bihi ibraheema wamoosa waAAeesa an aqeemoo alddeena wala tatafarraqoo feehi kabura AAala almushrikeena ma tadAAoohum ilayhi Allahu yajtabee ilayhi man yashao wayahdee ilayhi man yuneebu
তিনি তোমাদের জন্য দীন বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম তা হল, তোমরা দীন কায়েম করবে এবং এতে বিচ্ছিন্ন হবে না। তুমি মুশরিকদেরকে যেদিকে আহবান করছ তা
شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحًا وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِۦٓ إِبْرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓ أَنْ أَقِيمُوا۟ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا۟ فِيهِ كَبُرَ عَلَ
প্রকৃত জ্ঞান আসার পরেই লোকেরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে নিজেদের মধ্যে পারস্পারিক (স্বার্থগত) বাড়াবাড়ির কারণে। তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ প্রদানের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে অবশ্যি তাদের এই (বিবাদ বিভক্তির) চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়া হতো। প্রথম দিকের লোকদের পরে যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা (আল্লাহর দীন ও কিতাব) সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে নিমজ্জিত রয়েছে।
Wama tafarraqoo illa min baAAdi ma jaahumu alAAilmu baghyan baynahum walawla kalimatun sabaqat min rabbika ila ajalin musamman laqudiya baynahum wainna allatheena oorithoo alkitaba min baAAdihim lafee shakkin minhu mureebin
আর তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা কেবল নিজদের মধ্যকার বিদ্বেষের কারণে মতভেদ করেছে; একটি নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত অবকাশ সম্পর্কে তোমার রবের পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যেত। আর তাদের পরে যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছিল, তারা সে সম্পর্কে বি
وَمَا تَفَرَّقُوٓا۟ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ ٱلْعِلْمُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ وَلَوْلَا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى لَّقُضِىَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ ٱلَّذِينَ أُورِثُوا۟ ٱلْكِتَٰب
এমতাবস্থায় তুমি সরাসরি কেবল আল্লাহর দীনের দিকেই মানুষকে আহবান করো এবং এর উপরই অটল অবিচল থাকো, যেভাবে তোমাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লোকেরা যা চায়, তা মেনে চলোনা; বরং তাদের বলো: ‘আমি তো আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছি (তাই আমি এ কিতাব বাদ দিয়ে মানুষের ইচ্ছার অনুসরণ করতে পারিনা), তাছাড়া তোমাদের মাঝে ন্যায়বিচার করার নির্দেশ আমাকে দেয়া হয়েছে। আল্লাহই আমাদের প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। আমাদের কর্ম আমাদের জন্যে আর তোমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে। আমাদের ও তোমাদের মাঝে কোনো বিতর্ক নেই। একদিন আমাদের সবাইকে একস্থানে জমায়েত করবেন আর শেষ পর্যন্ত সবাইকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে।’
Falithalika faodAAu waistaqim kama omirta wala tattabiAA ahwaahum waqul amantu bima anzala Allahu min kitabin waomirtu liaAAdila baynakum Allahu rabbuna warabbukum lana aAAmaluna walakum aAAmalukum la hujjata baynana wabaynakumu Allahu yajmaAAu baynana wailayhi almaseeru
এ কারণে তুমি আহবান কর এবং দৃঢ় থাক যেমন তুমি আদিষ্ট হয়েছ। আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না এবং বল, ‘ যে কিতাব নাযিল করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং তোমাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি। আমাদের রব এবং তোমাদের রব। আমাদের কর্ম আমা
فَلِذَٰلِكَ فَٱدْعُ وَٱسْتَقِمْ كَمَآ أُمِرْتَ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَآءَهُمْ وَقُلْ ءَامَنتُ بِمَآ أَنزَلَ ٱللَّهُ مِن كِتَٰبٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ ٱللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَآ أَعْمَٰلُنَا
আল্লাহর দেয়া দীন ও জীবন পদ্ধতি গ্রহণ করার পর যারা দীনের এই প্রকৃত অনুসারীদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের প্রভুর দৃষ্টিতে তাদের এই বিতর্ক অর্থহীন - বাতিল। তাদের উপর আপতিত হয় প্রচন্ড গজব। আর তাদের জন্যে রয়েছে দু:সহ আযাব।
Waallatheena yuhajjoona fee Allahi min baAAdi ma istujeeba lahu hujjatuhum dahidatun AAinda rabbihim waAAalayhim ghadabun walahum AAathabun shadeedun
আর আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয়ার পর সম্পর্কে যারা বিতর্ক করে, তাদের দলীল-প্রমাণ তাদের রবের নিকট অসার। তাদের উপর (আল্লাহর) গযব এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
وَٱلَّذِينَ يُحَآجُّونَ فِى ٱللَّهِ مِنۢ بَعْدِ مَا ٱسْتُجِيبَ لَهُۥ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَةٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ
, নিঃসন্দেহে তিনিই নাযিল করেছেন ‘আল কিতাব’ (আল কুরআন) এবং ‘আল মীযান’ (জীবন - যাপনের সুষম বিধান)। তুমি কী করে জানবে হয়তো কিয়ামত একেবারে সন্নিকটে?
Allahu allathee anzala alkitaba bialhaqqi waalmeezani wama yudreeka laAAalla alssaAAata qareebun
, যিনি সত্যসহ কিতাব ও মীযান* নাযিল করেছেন। আর কিসে তোমাকে জানাবে, হয়ত কিয়ামত খুবই নিকটবর্তী? * সনদ, ন্যায় বিচার, ইনসাফ, ইত্যাদি।
ٱللَّهُ ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ ٱلْكِتَٰبَ بِٱلْحَقِّ وَٱلْمِيزَانَ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ ٱلسَّاعَةَ قَرِيبٌ
যারা ঐ দিনটিকে বিশ্বাস করেনা, তারাই সে দিনটির জন্যে তাড়াহুড়া করে। আর যারা সে দিনটির প্রতি ঈমান এনেছে তারা তার ভয়ে ভীত। তারা জানে, সে দিনটি মহাসত্য। সাবধান! যারা সে দিনটির আগমন সম্পর্কে বিতর্ক করে, তারা নিমজ্জিত দুস্তর ভুলের মধ্যে।
YastaAAjilu biha allatheena la yuminoona biha waallatheena amanoo mushfiqoona minha wayaAAlamoona annaha alhaqqu ala inna allatheena yumaroona fee alssaAAati lafee dalalin baAAeedin
যারা এতে ঈমান আনে না, তারাই তা ত্বরান্বিত করতে চায়। আর যারা ঈমান এনেছে, তারা একে ভয় করে এবং তারা জানে যে, এটা অবশ্যই সত্য। জেনে রেখ, নিশ্চয় যারা কিয়ামত সম্পর্কে বাক-বিতন্ডা করে তারা সুদূর পথভ্রষ্টতায় নিপতিত।
يَسْتَعْجِلُ بِهَا ٱلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِهَا وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ مُشْفِقُونَ مِنْهَا وَيَعْلَمُونَ أَنَّهَا ٱلْحَقُّ أَلَآ إِنَّ ٱلَّذِينَ يُمَارُونَ فِى ٱلسَّاعَةِ لَفِى ضَلَٰلٍۭ بَعِيدٍ
তাঁর বান্দাদের প্রতি পরম দয়াবান। তিনি যাকে ইচ্ছা জীবিকার প্রাচুর্য দিয়ে থাকেন। তিনি সর্বশক্তিমান এবং সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
Allahu lateefun biAAibadihi yarzuqu man yashao wahuwa alqawiyyu alAAazeezu
তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিয্ক দান করেন। আর তিনি মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী।
ٱللَّهُ لَطِيفٌۢ بِعِبَادِهِۦ يَرْزُقُ مَن يَشَآءُ وَهُوَ ٱلْقَوِىُّ ٱلْعَزِيزُ
যে (নিজের কর্মের মাধ্যমে) আখিরাতের ফসল (পুরস্কার) কামনা করে, আমি প্রবৃদ্ধি দান করি তার সেই ফসলে। আর যে (নিজের কর্মের মাধ্যমে) পেতে চায় ইহজাগতিক ফসল (পুরস্কার), আমি তাকে সেখান থেকে কিছু অংশ দিয়ে থাকি। কিন্তু তার জন্যে কিছুই নেই আখিরাতে।
Man kana yureedu hartha alakhirati nazid lahu fee harthihi waman kana yureedu hartha alddunya nutihi minha wama lahu fee alakhirati min naseebin
যে আখিরাতের ফসল কামনা করে, আমি তার জন্য তার ফসলে প্রবৃদ্ধি দান করি, আর যে দুনিয়ার ফসল কামনা করে আমি তাকে তা থেকে কিছু দেই এবং আখিরাতে তার জন্য কোন অংশই থাকবে না।
مَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ ٱلْءَاخِرَةِ نَزِدْ لَهُۥ فِى حَرْثِهِۦ وَمَن كَانَ يُرِيدُ حَرْثَ ٱلدُّنْيَا نُؤْتِهِۦ مِنْهَا وَمَا لَهُۥ فِى ٱلْءَاخِرَةِ مِن نَّصِيبٍ
নাকি তারা আল্লাহর শরিকদার বানিয়ে নিয়েছে এবং সেই শরিকদাররা তাদের জন্যে এমন কোনো জীবন - বিধান প্রবর্তন করেছে, যার অনুমতি দেননি? (আখিরাতে) ফায়সালা করার ঘোষণা যদি দেয়া না থাকতো, তবে তাদের (এই বিরোধের) ফায়সালা (এখানেই) করে দেয়া হতো। আর এই যালিমদের জন্যে অবশ্যি রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
Am lahum shurakao sharaAAoo lahum mina alddeeni ma lam yathan bihi Allahu walawla kalimatu alfasli laqudiya baynahum wainna alththalimeena lahum AAathabun aleemun
তাদের জন্য কি এমন কিছু শরীক আছে, যারা তাদের জন্য দীনের বিধান দিয়েছে, যার অনুমতি দেননি? আর ফয়সালার ঘোষণা না থাকলে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েই যেত। আর নিশ্চয় যালিমদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
أَمْ لَهُمْ شُرَكَٰٓؤُا۟ شَرَعُوا۟ لَهُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنۢ بِهِ ٱللَّهُ وَلَوْلَا كَلِمَةُ ٱلْفَصْلِ لَقُضِىَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ ٱلظَّٰلِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তুমি দেখতে পাবে (বিচারের দিন) এই যালিমরা তাদের কৃতকর্মের জন্যে ভীত আতংকিত। অথচ তা (আল্লাহর আযাব) তাদের উপর আপতিত হবেই। পক্ষান্তরে যারা ‘ঈমান এনেছে’ এবং ‘আমলে সালেহ্’ করেছে, তারা বসবাস করবে জান্নাতের মনোরম বাগ - বাগিচায়। তারা যা যা ইচ্ছা করবে তাদের প্রভুর কাছে সবই পাবে। এ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ অনুগ্রহ (Supreme Grace)।
Tara alththalimeena mushfiqeena mimma kasaboo wahuwa waqiAAun bihim waallatheena amanoo waAAamiloo alssalihati fee rawdati aljannati lahum ma yashaoona AAinda rabbihim thalika huwa alfadlu alkabeeru
তুমি যালিমদেরকে তাদের কৃত কর্মের জন্য ভীত-সন্ত্রস্ত দেখতে পাবে। অথচ তা (তাদের কর্মের শাস্তি) তাদের উপর পতিত হবেই। আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তারা জান্নাতের উদ্যানসমূহে থাকবে। তারা যা চাইবে, তাদের রবের নিকট তাদের জন্য তাই থাকবে। এটাই তো মহাঅনুগ্রহ।
تَرَى ٱلظَّٰلِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا كَسَبُوا۟ وَهُوَ وَاقِعٌۢ بِهِمْ وَٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فِى رَوْضَاتِ ٱلْجَنَّاتِ لَهُم مَّا يَشَآءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ذَٰلِكَ هُوَ ٱلْفَضْلُ
এটাই সেই মহোত্তম পুরস্কার, এরই সুসংবাদ দিচ্ছেন তাঁর সেইসব দাসদের, যারা ‘ঈমান এনেছে’ এবং ‘আমলে সালেহ’ করেছে। হে মুহাম্মদ! (তোমার জ্ঞাতির লোকদের) বলো: ‘এর (এই দাওয়াত ও আহবানের) বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে আত্মীয়তার সৌজন্য ছাড়া আর কোনো প্রতিদান চাইনা।’ যে কল্যাণকর কাজ করে, আমি তাতে তার কল্যাণের মাত্রা বাড়িয়ে দিই। নিশ্চয়ই পরম ক্ষমাশীল এবং ভালো কাজের মর্যাদা দানকারী।
Thalika allathee yubashshiru Allahu AAibadahu allatheena amanoo waAAamiloo alssalihati qul la asalukum AAalayhi ajran illa almawaddata fee alqurba waman yaqtarif hasanatan nazid lahu feeha husnan inna Allaha ghafoorun shakoorun
এটা তাই, যার সুসংবাদ তার বান্দাদেরকে দেন- যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে। বল, ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে আত্মীয়তার সৌহার্দ ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না’। যে উত্তম কাজ করে, আমি তার জন্য তাতে কল্যাণ বাড়িয়ে দেই। নিশ্চয় অতি ক্ষমাশীল, বড়ই গুণগ্রাহী।
ذَٰلِكَ ٱلَّذِى يُبَشِّرُ ٱللَّهُ عِبَادَهُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ قُل لَّآ أَسْـَٔلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا ٱلْمَوَدَّةَ فِى ٱلْقُرْبَىٰ وَمَن يَقْتَرِفْ حَسَنَةً نَّزِدْ لَهُۥ ف
নাকি তারা বলে: ‘সে (মুহাম্মদ) আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা - মনগড়া কথা বলছে?’ চাইলে তোমার দিলে মোহর মেরে দিতে পারেন। আসলে তো মিথ্যাকেই মুছে (নির্মূল করে) দেন, আর নিজ বাণী (আল কুরআন) দিয়ে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করে দেন সত্যকে। অবশ্যি তিনি মানব মনের গোপন বিষয়ও ভালোভাবে অবগত।
Am yaqooloona iftara AAala Allahi kathiban fain yashai Allahu yakhtim AAala qalbika wayamhu Allahu albatila wayuhiqqu alhaqqa bikalimatihi innahu AAaleemun bithati alssudoori
তারা কি একথা বলে যে, সে সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে? অথচ যদি চাইতেন তোমার হৃদয়ে মোহর মেরে দিতেন। আর মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে, সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
أَمْ يَقُولُونَ ٱفْتَرَىٰ عَلَى ٱللَّهِ كَذِبًا فَإِن يَشَإِ ٱللَّهُ يَخْتِمْ عَلَىٰ قَلْبِكَ وَيَمْحُ ٱللَّهُ ٱلْبَٰطِلَ وَيُحِقُّ ٱلْحَقَّ بِكَلِمَٰتِهِۦٓ إِنَّهُۥ عَلِيمٌۢ بِذَاتِ ٱلصُّدُورِ
আর তিনিই সেই মহান সত্তা, যিনি নিজ বান্দাদের তওবা (অনুশোচনা) কবুল করেন এবং গুনাহ খাতা মাফ করেন। তিনি অবগত আছেন তোমরা যা করো।
Wahuwa allathee yaqbalu alttawbata AAan AAibadihi wayaAAfoo AAani alssayyiati wayaAAlamu ma tafAAaloona
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। আর তোমরা যা কর, তা তিনি জানেন।
وَهُوَ ٱلَّذِى يَقْبَلُ ٱلتَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِۦ وَيَعْفُوا۟ عَنِ ٱلسَّيِّـَٔاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
যারা ‘ঈমান আনে’ এবং ‘আমলে সালেহ্’ করে, তিনি তাদের দোয়া কবুল করেন এবং তাদের প্রতি বাড়িয়ে দেন নিজের অনুগ্রহ। অন্যদিকে রয়েছে কাফিররা, তাদের জন্যে রয়েছে শক্ত আযাব।
Wayastajeebu allatheena amanoo waAAamiloo alssalihati wayazeeduhum min fadlihi waalkafiroona lahum AAathabun shadeedun
আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আহবানে তিনি সাড়া দেন এবং তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ বৃদ্ধি করেন। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আযাব।
وَيَسْتَجِيبُ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَيَزِيدُهُم مِّن فَضْلِهِۦ وَٱلْكَٰفِرُونَ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ
যদি তাঁর সব বান্দাকেই অঢেল সম্পদ - সামগ্রী দান করতেন, তবে অবশ্যি তারা পৃথিবীতে বিদ্রোহ - বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হতো। বরং তিনি একটি পরিমাণ মতো নাযিল করেন - যা তিনি চান। নিজ বান্দাদের প্রতি তিনি পূর্ণ সতর্ক ও দৃষ্টিবান।
Walaw basata Allahu alrrizqa liAAibadihi labaghaw fee alardi walakin yunazzilu biqadarin ma yashao innahu biAAibadihi khabeerun baseerun
আর যদি তার বান্দাদের জন্য রিয্ক প্রশস্ত করে দিতেন, তাহলে তারা যমীনে অবশ্যই বিদ্রোহ করত। কিন্তু তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণে যা ইচ্ছা নাযিল করেন। নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ অবগত, সম্যক দ্রষ্টা।
وَلَوْ بَسَطَ ٱللَّهُ ٱلرِّزْقَ لِعِبَادِهِۦ لَبَغَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَلَٰكِن يُنَزِّلُ بِقَدَرٍ مَّا يَشَآءُ إِنَّهُۥ بِعِبَادِهِۦ خَبِيرٌۢ بَصِيرٌ
তিনিই সে মহীয়ান সত্তা, মানুষ নিরাশ হয়ে পড়ার পর যিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাদের প্রতি বিস্তার করেন নিজের করুণা। আর তিনিই সপ্রশংসিত প্রকৃত অভিভাবক।
Wahuwa allathee yunazzilu alghaytha min baAAdi ma qanatoo wayanshuru rahmatahu wahuwa alwaliyyu alhameedu
আর তারা নিরাশ হয়ে পড়লে তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। আর তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসিত।
وَهُوَ ٱلَّذِى يُنَزِّلُ ٱلْغَيْثَ مِنۢ بَعْدِ مَا قَنَطُوا۟ وَيَنشُرُ رَحْمَتَهُۥ وَهُوَ ٱلْوَلِىُّ ٱلْحَمِيدُ
মহাবিশ্ব আর এই পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এগুলোতে তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন যেসব প্রাণীকুল, তাতে রয়েছে তাঁর অন্যতম নিদর্শন। যখন চাইবেন, তখনই তিনি এদের সবাইকে একত্র জমায়েত করতে সক্ষম।
Wamin ayatihi khalqu alssamawati waalardi wama baththa feehima min dabbatin wahuwa AAala jamAAihim itha yashao qadeerun
আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং এতদোভয়ের মধ্যে তিনি যে সব জীব-জন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো। তিনি যখন ইচ্ছা তখনই এগুলোকে একত্র করতে সক্ষম।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِۦ خَلْقُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ وَمَا بَثَّ فِيهِمَا مِن دَآبَّةٍ وَهُوَ عَلَىٰ جَمْعِهِمْ إِذَا يَشَآءُ قَدِيرٌ
তোমাদের জীবনে যে দুর্দশা - দুর্ঘটনাই (misfortune) ঘটে, তা তোমাদেরই হাতের কামাই। আর অনেক অপরাধ তো তিনি ক্ষমাই করে দেন।
Wama asabakum min museebatin fabima kasabat aydeekum wayaAAfoo AAan katheerin
আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।
وَمَآ أَصَٰبَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُوا۟ عَن كَثِيرٍ
তোমরা পৃথিবীতে আল্লাহর পাকড়াও থেকে পলায়ন করতে পারবেনা। আর ছাড়া তোমাদের না আছে কোনো অলি (অভিভাবক) আর না আছে কোনো সাহায্যকারী।
Wama antum bimuAAjizeena fee alardi wama lakum min dooni Allahi min waliyyin wala naseerin
তোমরা যমীনে (আল্লাহর কর্ম পরিকল্পনাকে) ব্যর্থ করতে পারবে না। আর ছাড়া তোমাদের কোন অভিভাবক নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই।
وَمَآ أَنتُم بِمُعْجِزِينَ فِى ٱلْأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ مِن وَلِىٍّ وَلَا نَصِيرٍ
সমুদ্রে চলমান পর্বতমালার মতো নৌযানগুলোও তাঁর অন্যতম নিদর্শন।
Wamin ayatihi aljawari fee albahri kaalaAAlami
তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আরো রয়েছে সমুদ্রে চলাচলকারী পর্বতমালার মত জাহাজসমূহ।
وَمِنْ ءَايَٰتِهِ ٱلْجَوَارِ فِى ٱلْبَحْرِ كَٱلْأَعْلَٰمِ
তিনি চাইলে বাতাসকে থামিয়ে দিতে পারেন, তখন নৌযানগুলো দাঁড়িয়ে থাকবে সমুদ্রের পিঠে। অবশ্যি এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্যে।
In yasha yuskini alrreeha fayathlalna rawakida AAala thahrihi inna fee thalika laayatin likulli sabbarin shakoorin
তিনি যদি চান বাতাসকে থামিয়ে দিতে পারেন। ফলে জাহাজগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠে গতিহীন হয়ে পড়বে। নিশ্চয় এতে পরম ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।
إِن يَشَأْ يُسْكِنِ ٱلرِّيحَ فَيَظْلَلْنَ رَوَاكِدَ عَلَىٰ ظَهْرِهِۦٓ إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَءَايَٰتٍ لِّكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ
কিংবা তাদের কৃতকর্মের জন্যে তিনি সেগুলোকে ডুবিয়েও দিতে পারেন। আর অনেক (বা অনেকের) অপরাধ তো তিনিই ক্ষমা করে দেন।
Aw yoobiqhunna bima kasaboo wayaAAfu AAan katheerin
অথবা তাদের কৃতকর্মের জন্য সেগুলোকে তিনি ধ্বংস করে দিতে পারেন, আবার অনেককে তিনি ক্ষমাও করেন।
أَوْ يُوبِقْهُنَّ بِمَا كَسَبُوا۟ وَيَعْفُ عَن كَثِيرٍ
যারা আমাদের আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, (এতে করে) তারা যেনো জানতে পারে তাদের আশ্রয়ের কোনো জায়গা নেই।
WayaAAlama allatheena yujadiloona fee ayatina ma lahum min maheesin
আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে বাক বিতন্ডা করে তারা যেন জানতে পারে যে, তাদের কোন আশ্রয়স্থল নেই।
وَيَعْلَمَ ٱلَّذِينَ يُجَٰدِلُونَ فِىٓ ءَايَٰتِنَا مَا لَهُم مِّن مَّحِيصٍ
সুতরাং যা কিছু তোমাদের দেয়া হয়েছে, তা পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী ভোগের সামগ্রী মাত্র। অন্যদিকে আল্লাহর কাছে যা রয়েছে, সেগুলো যেমনি উত্তম, তেমনি চিরস্থায়ী সেইসব লোকদের জন্যে, যারা ঈমান আনে এবং তারা তাদের প্রভুর উপর তাওয়াক্কুল করে;
Fama ooteetum min shayin famataAAu alhayati alddunya wama AAinda Allahi khayrun waabqa lillatheena amanoo waAAala rabbihim yatawakkaloona
আর তোমাদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছে তা দুনিয়ার জীবনের ভোগ্য সামগ্রী মাত্র। আর আল্লাহর নিকট যা আছে তা উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী তাদের জন্য যারা ঈমান আনে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল করে।
فَمَآ أُوتِيتُم مِّن شَىْءٍ فَمَتَٰعُ ٱلْحَيَوٰةِ ٱلدُّنْيَا وَمَا عِندَ ٱللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
যারা কবিরা গুনাহ ও অশ্লীল কাজ পরিহার করে চলে, এবং ক্রোধান্বিত হলে ক্ষমা করে দেয়;
Waallatheena yajtaniboona kabaira alithmi waalfawahisha waitha ma ghadiboo hum yaghfiroona
আর যারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন রাগান্বিত হয় তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।
وَٱلَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَٰٓئِرَ ٱلْإِثْمِ وَٱلْفَوَٰحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا۟ هُمْ يَغْفِرُونَ
যারা তাদের প্রভুর আহবানে সাড়া দেয়, কায়েম করে, পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে নিজেদের বিষয়াদি পরিচালনা করে এবং আমার দেয়া রিযিক থেকে খরচ করে;
Waallatheena istajaboo lirabbihim waaqamoo alssalata waamruhum shoora baynahum wamimma razaqnahum yunfiqoona
আর যারা তাদের রবের আহবানে সাড়া দেয়, কায়েম করে, তাদের কার্যাবলী তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করে এবং আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।
وَٱلَّذِينَ ٱسْتَجَابُوا۟ لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا۟ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَٰهُمْ يُنفِقُونَ
আর (তাদের উপর) অন্যায় অত্যাচার করা হলে প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
Waallatheena itha asabahumu albaghyu hum yantasiroona
আর তাদের উপর অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা হলে তারা তার প্রতিবিধান করে।
وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَابَهُمُ ٱلْبَغْىُ هُمْ يَنتَصِرُونَ
মন্দের বিনিময় তো অনুরূপ মন্দ। তবে যে ক্ষমা করে দেয় এবং নিষ্পত্তি করে নেয়, তার পুরস্কার আল্লাহর জিম্মায়। তিনি অত্যাচারীদের মোটেও পছন্দ করেননা।
Wajazao sayyiatin sayyiatun mithluha faman AAafa waaslaha faajruhu AAala Allahi innahu la yuhibbu alththalimeena
আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ। অতঃপর যে ক্ষমা করে দেয় এবং আপোস নিস্পত্তি করে, তার পুরস্কার আল্লাহর নিকট রয়েছে। নিশ্চয় যালিমদের পছন্দ করেন না।
وَجَزَٰٓؤُا۟ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُۥ عَلَى ٱللَّهِ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلظَّٰلِمِينَ
তবে যারা অত্যাচারিত হবার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের অপরাধ ধরা হবেনা।
Walamani intasara baAAda thulmihi faolaika ma AAalayhim min sabeelin
তবে অত্যাচারিত হবার পর যারা প্রতিবিধান করে, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
وَلَمَنِ ٱنتَصَرَ بَعْدَ ظُلْمِهِۦ فَأُو۟لَٰٓئِكَ مَا عَلَيْهِم مِّن سَبِيلٍ
অপরাধী সাব্যস্ত করা হবে তদেরকে, যারা মানুষের উপর অত্যাচার করে এবং পৃথিবীতে অন্যায় বাড়াবাড়িতে লিপ্ত হয়। তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
Innama alssabeelu AAala allatheena yathlimoona alnnasa wayabghoona fee alardi bighayri alhaqqi olaika lahum AAathabun aleemun
কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যারা মানুষের উপর যুলম করে এবং যমীনে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করে বেড়ায়। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
إِنَّمَا ٱلسَّبِيلُ عَلَى ٱلَّذِينَ يَظْلِمُونَ ٱلنَّاسَ وَيَبْغُونَ فِى ٱلْأَرْضِ بِغَيْرِ ٱلْحَقِّ أُو۟لَٰٓئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যে সবর অবলম্বন করে এবং ক্ষমা করে দেয়, তার সে কাজ অবশ্যি আল্লাহর পছন্দনীয় মহোত্তম সংকল্পের কাজ।
Walaman sabara waghafara inna thalika lamin AAazmi alomoori
আর যে ধৈর্যধারণ করে এবং ক্ষমা করে, তা নিশ্চয় দৃঢ়সংকল্পেরই কাজ।
وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنْ عَزْمِ ٱلْأُمُورِ
যাকে পথভ্রষ্ট করে দেন, ছাড়া তার কোনো রক্ষাকারী নেই। এই যালিমরা যখন আযাবের সম্মুখীন হবে, তখন তুমি তাদের বলতে দেখবে: ‘(পৃথিবীতে) ফিরে যাবার কোনো পথ আছে কি?’
Waman yudlili Allahu fama lahu min waliyyin min baAAdihi watara alththalimeena lamma raawoo alAAathaba yaqooloona hal ila maraddin min sabeelin
আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তারপর তার জন্য কোন অভিভাবক নেই। আর তুমি যালিমদেরকে দেখবে, যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে তখন বলবে, ‘ফিরে যাওয়ার কোন পথ আছে কি’?
وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن وَلِىٍّ مِّنۢ بَعْدِهِۦ وَتَرَى ٱلظَّٰلِمِينَ لَمَّا رَأَوُا۟ ٱلْعَذَابَ يَقُولُونَ هَلْ إِلَىٰ مَرَدٍّ مِّن سَبِيلٍ
তুমি দেখতে পাবে, অবনত অপদস্থ করে এদের জাহান্নামে নেয়া হচ্ছে এবং নত চোখ বাঁকা করে তারা তাকে দেখছে। সেদিন মুমিনরা বলবে: ‘আসল ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা আজ নিজেদেরকে এবং নিজেদের পরিবার পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ করেছে।’ সাবধান, যালিমরা অবশ্যি থাকবে চিরস্থায়ী আযাবের মধ্যে।
Watarahum yuAAradoona AAalayha khashiAAeena mina alththulli yanthuroona min tarfin khafiyyin waqala allatheena amanoo inna alkhasireena allatheena khasiroo anfusahum waahleehim yawma alqiyamati ala inna alththalimeena fee AAathabin muqeemin
তুমি তাদেরকে আরো দেখবে যে, তাদেরকে অপমানে অবনত অবস্থায় জাহান্নামে উপস্থিত করা হচ্ছে, তারা আড় চোখে তাকাচ্ছে। আর কিয়ামতের দিন মুমিনগণ বলবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত যারা নিজদের ও পরিবার-পরিজনের ক্ষতি সাধন করেছে। সাবধান! যালিমরাই থাকবে স্থায়ী আযাবে।
وَتَرَىٰهُمْ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا خَٰشِعِينَ مِنَ ٱلذُّلِّ يَنظُرُونَ مِن طَرْفٍ خَفِىٍّ وَقَالَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِنَّ ٱلْخَٰسِرِينَ ٱلَّذِينَ خَسِرُوٓا۟ أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ أَلَآ
ছাড়া তাদের সাহায্য করার জন্যে তাদের আর কোনোই অলি - অভিভাবক থাকবেনা। যাকে পথভ্রষ্ট করে দেন, তার রক্ষা পাবার আর কোনো পথ থাকেনা।
Wama kana lahum min awliyaa yansuroonahum min dooni Allahi waman yudlili Allahu fama lahu min sabeelin
আর ছাড়া তাদেরকে সাহায্য করার জন্য তাদের কোন অভিভাবক থাকবে না। আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথ নেই।
وَمَا كَانَ لَهُم مِّنْ أَوْلِيَآءَ يَنصُرُونَهُم مِّن دُونِ ٱللَّهِ وَمَن يُضْلِلِ ٱللَّهُ فَمَا لَهُۥ مِن سَبِيلٍ
সুতরাং, তোমরা আল্লাহর আহবানে সাড়া দাও (তাঁর নির্দেশ মতো জীবন পরিচালনা করো) সেই দিনটি আসার আগেই, যার আগমন অপ্রতিরোধ্য। সেদিন তোমাদের কোনো আশ্রয়স্থল থাকবেনা এবং তোমাদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করারও কেউ থাকবেনা।
Istajeeboo lirabbikum min qabli an yatiya yawmun la maradda lahu mina Allahi ma lakum min maljain yawmaithin wama lakum min nakeerin
তোমরা তোমাদের রবের ডাকে সাড়া দাও, আল্লাহর পক্ষ থেকে সেদিন আসার পূর্বের্ই, যাকে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো উপায় নেই। সেদিন তোমাদের জন্য কোন আশ্রয়স্থল থাকবে না এবং তোমাদের জন্য প্রতিরোধকারীও থাকবে না।
ٱسْتَجِيبُوا۟ لِرَبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌ لَّا مَرَدَّ لَهُۥ مِنَ ٱللَّهِ مَا لَكُم مِّن مَّلْجَإٍ يَوْمَئِذٍ وَمَا لَكُم مِّن نَّكِيرٍ
এরপরও যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমরা তো তোমাকে তাদের রক্ষক বানিয়ে পাঠাইনি। বার্তা পৌঁছে দেয়া ছাড়া তোমার কোনো দায় দায়িত্ব নেই। মানুষের অবস্থা তো হলো এই যে, আমরা যখন তাকে আমাদের রহমতের স্বাদ গ্রহণ করাই, সে উল্লসিত হয়ে উঠে। আবার যখন তাদের কৃতকর্মের ফলে তাদের উপর দু:খ দুর্দশা চেপে বসে, তখন মানুষ হয়ে পড়ে চরম অকৃতজ্ঞ।
Fain aAAradoo fama arsalnaka AAalayhim hafeethan in AAalayka illa albalaghu wainna itha athaqna alinsana minna rahmatan fariha biha wain tusibhum sayyiatun bima qaddamat aydeehim fainna alinsana kafoorun
আর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে আমি তো তোমাকে তাদের রক্ষক হিসেবে পাঠাইনি। বাণী পৌঁছে দেয়াই তোমার দায়িত্ব। আর আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই তখন সে খুশি হয়। আর যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের উপর কোন বিপদ আসে তখন মানুষ বড়ই অকৃতজ্ঞ হয়।
فَإِنْ أَعْرَضُوا۟ فَمَآ أَرْسَلْنَٰكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا إِنْ عَلَيْكَ إِلَّا ٱلْبَلَٰغُ وَإِنَّآ إِذَآ أَذَقْنَا ٱلْإِنسَٰنَ مِنَّا رَحْمَةً فَرِحَ بِهَا وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۢ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْد
মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর শাসন - কর্তৃত্ব একমাত্র আল্লাহর। তিনি তাই সৃষ্টি করেন, যা তিনি চান। তিনি যাকে চান কন্যা সন্তান দান করেন, আর যাকে চান দান করেন পুত্র সন্তান।
Lillahi mulku alssamawati waalardi yakhluqu ma yashao yahabu liman yashao inathan wayahabu liman yashao alththukoora
আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা সন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান দান করেন।
لِّلَّهِ مُلْكُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَآءُ يَهَبُ لِمَن يَشَآءُ إِنَٰثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَآءُ ٱلذُّكُورَ
যাকে চান তিনি পুত্র - কন্যা উভয় সন্তানই দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা করে রাখেন বন্ধ্যা। তিনি সর্বজ্ঞানী এবং সর্বশক্তিমান।
Aw yuzawwijuhum thukranan wainathan wayajAAalu man yashao AAaqeeman innahu AAaleemun qadeerun
অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন। তিনি তো সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।
أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَٰثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَآءُ عَقِيمًا إِنَّهُۥ عَلِيمٌ قَدِيرٌ
কোনো মানুষকে এ মর্যাদা দেয়া হয়নি যে, তার সাথে (সরাসরি) কথা বলবেন। তিনি কারো সাথে কথা বললে বলে থাকেন অহির (সুক্ষ্ম ইংগিতের) মাধ্যমে, অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে, কিংবা তার কাছে বার্তাবাহক (ফেরেশতা) পাঠিয়ে দেন এবং সে তাঁর হুকুম মতো তিনি যা চান, তা অহি করে। নি:সন্দেহে তিনি অতি মহান ও মহাবিজ্ঞ।
Wama kana libasharin an yukallimahu Allahu illa wahyan aw min warai hijabin aw yursila rasoolan fayoohiya biithnihi ma yashao innahu AAaliyyun hakeemun
কোন মানুষের এ মর্যাদা নেই যে, তার সাথে সরাসরি কথা বলবেন, ওহীর মাধ্যম, পর্দার আড়াল অথবা কোন দূত পাঠানো ছাড়া। তারপর আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তিনি যা চান তাই ওহী প্রেরণ করেন। তিনি তো মহীয়ান, প্রজ্ঞাময়।
وَمَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُكَلِّمَهُ ٱللَّهُ إِلَّا وَحْيًا أَوْ مِن وَرَآئِ حِجَابٍ أَوْ يُرْسِلَ رَسُولًا فَيُوحِىَ بِإِذْنِهِۦ مَا يَشَآءُ إِنَّهُۥ عَلِىٌّ حَكِيمٌ
(হে মুহাম্মদ) এ পদ্ধতিতেই আমরা আমাদের নির্দেশ (Command) - এর একটি ‘রূহ’ তোমার কাছে অহি করেছি। তুমি তো কিছুই জানতে না, কিতাব কী? ঈমান কী? (আসল কথা হলো, আমরা তোমার কাছে প্রেরিত) সেই রূহটিকে (তোমার জন্যে) একটি আলোকবর্তিকা বানিয়ে দিয়েছি। এই আলোকবর্তিকা দিয়েই আমরা আমাদের দাসদের যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ দেখিয়ে থাকি। আর নি:সন্দেহে (হে মুহাম্মদ!) তুমি সিরাতুল মুস্তাকিমের (সঠিক পথের) দিকেই ডাকছো।
Wakathalika awhayna ilayka roohan min amrina ma kunta tadree ma alkitabu wala aleemanu walakin jaAAalnahu nooran nahdee bihi man nashao min AAibadina wainnaka latahdee ila siratin mustaqeemin
অনুরূপভাবে (উপরোক্ত তিনটি পদ্ধতিতে) আমি তোমার কাছে আমার নির্দেশ থেকে ‘রূহ’কে ওহী যোগে প্রেরণ করেছি। তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী? কিন্তু আমি একে আলো বানিয়েছি, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয় তুমি সরল পথের দ
وَكَذَٰلِكَ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ رُوحًا مِّنْ أَمْرِنَا مَا كُنتَ تَدْرِى مَا ٱلْكِتَٰبُ وَلَا ٱلْإِيمَٰنُ وَلَٰكِن جَعَلْنَٰهُ نُورًا نَّهْدِى بِهِۦ مَن نَّشَآءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِىٓ إِلَى
(তুমি মানুষকে) সেই মহান (আল্লাহর) পথের দিকেই ডাকছো, মহাবিশ্ব এবং এই পৃথিবীর সবকিছুর যিনি মালিক। সতর্ক হও, নি:সন্দেহে সমস্ত বিষয় (চূড়ান্ত ফায়সালার জন্যে) ফিরে যায় আল্লাহরই কাছে।
Sirati Allahi allathee lahu ma fee alssamawati wama fee alardi ala ila Allahi taseeru alomooru
সেই আল্লাহর পথ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তার মালিক। সাবধান! সব বিষয়ই আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে।
صِرَٰطِ ٱللَّهِ ٱلَّذِى لَهُۥ مَا فِى ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِى ٱلْأَرْضِ أَلَآ إِلَى ٱللَّهِ تَصِيرُ ٱلْأُمُورُ